Friday, June 23, 2017

কাতারের প্রতিবেশিরা চাইছে কাতার চরম মূল্য দিক

কাতার ''সন্ত্রাসবাদে'' মদত জোগাচ্ছে এই অভিযোগের জেরে এক বিতর্কের পটভূমিতে কাতারের প্রতিবেশি দেশগুলো কাতারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তা মেটাতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমীরাত, বাহারাইন আর মিশর উপসাগরীয় দেশ কাতারকে এক দাবিনামা পাঠিয়েছে এবং এসব দাবি মানার জন্য দেশটিকে ১০ দিনের সময় দিয়েছে।
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কাতারের প্রতিদ্বন্দ্বী চারটি দেশের মূল দাবিগুলোর মূল্যায়ন করেছেন বিবিসি আরবী বিভাগের আমীর রাওয়াশ।
কাতারের সংবাদমাধ্যম ভেঙে ফেলা
এই চারটি দেশের সঙ্গে কাতারী কর্তৃপক্ষের বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সংবাদমাধ্যমের বিষয়টি।
কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইটে একটি বিতর্কিত খবর প্রকাশের মধ্যে দিয়ে কার্যত এই সংকটের সূচনা।
কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ কাতারী অর্থায়নপুষ্ট আল জাজিরা সংবাদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশটির কর্তৃপক্ষ ''রাষ্ট্রদ্রোহ উস্কে'' দিচ্ছে। তারা বলছে এর মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরা তাদের মতাদর্শ তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে যে সংগঠনকে রিয়াদ, আবুধাবি আর কায়রো ''সন্ত্রাসী'' তকমা দিয়েছে।
২০১৪ সালেও এই চারটি দেশ ও কাতারের মধ্যে বিতর্কের কারণ হয়েছিল আল জাজিরা। ওই ঘটনার পর আল জাজিরা তাদের মিশরীয় চ্যানেল মুবাশের মিসির (লাইভ ইজিপ্ট) সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়। চারটি দেশ গত মাসে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়।
কাতার যদিও এখনও পর্যন্ত এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি তারা দাবি মানতে স্বীকৃতি জানায়, তাহলে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে কাতার নিজেকে তুলে ধরার জন্য তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রটি হারাবে। কাতারের জন্য একটা পরোক্ষ শক্তি হল আল জাজিরা।
তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে ফেলা
এমাসের গোড়ার দিকে দোহার ওপর যখন চাপ বাড়ছিল, তখন তুরস্ক এগিয়ে এসেছিল দেশটির সাহায্যে। তুরস্ক কাতারে তাদের সেনা মোতায়েন অনুমোদন করে আইন প্রণয়ন করেছিল।
এখন আরেকটি দাবি হল কাতারকে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হবে।
তুরস্কের এনটিভির খবর অনুযায়ী তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফিকরি ইসিক এই আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন।
সংকট শুরু হওয়ার পর তুরস্ক কাতারকে খাদ্য ও অন্যান্য সাহায্য দিচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান কাতারকে এই ''অমানবিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার'' প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সংকল্পবদ্ধ।
কাতারের আল- উবেইদে রয়েছে মধ্য প্রাচ্যে আমেরিকার সবেচয়ে বড় সামরিক বিমান ঘাঁটি।
তবে এই বিবাদে কাতার যেহেতু আমেরিকার কোনরকম সমর্থন কার্যত পাচ্ছে না, তাই তারা স্পষ্টতই এখন তাদের মিত্র তুরস্কের মুখাপেক্ষী হয়ে আছে।
মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার
২০১১-র পর থেকে কাতার এবং তার প্রতিবেশি দেশগুলো আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করে এসেছে।
যখন ২০১৩য় মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, তখন কাতার ছিল মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ।
২০১৪-য় প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সময় দোহা কর্তৃপক্ষ দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সেদেশ থেকে চলে যেতে বলেছিল।
তবে এসব পদক্ষেপের অর্থ এই ছিল না যে কাতার এ কারণে ইসলামপন্থীদের প্রতি তাদের সমর্থন ঢেলে দিয়েছে।
কাতারের বিরুদ্ধে অন্যান্য ''সন্ত্রাসবাদী'' গোষ্ঠিকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রিয়াদ, আবু ধাবি, মানামা এবং কায়রোতে কর্তৃপক্ষ দোহার সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন সন্ত্রাসী ব্যক্তি ও সংস্থার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
কাতার কোনরকম সন্ত্রাসের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
ইরানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা
সৌদি আরবের ইরানের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক বেশ স্পষ্ট । গত কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় টানাপোড়েন চলছে।
দুটি দেশই সিরিয়া আর ইয়েমেনে যুদ্ধরত পক্ষের সমর্থক।
সৌদিদের অভিযোগ দোহা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে শিয়া প্রধান এলাকা ''কাতিফে ইরানী সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসী দলগুলোর কার্যকলাপে মদত দিচ্ছে।'' এই অভিযোগ কাতার অস্বীকার করেছে।
কাতারের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ওই এলাকার অন্য প্রতিবেশিদের থেকে আলাদা।
ইরানও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে সৃষ্ট সংকটে কাতারকে সাহায্য করার জন্য বিমানভর্তি খাবারদাবার পাঠিয়েছে।
সৌদি আরব, বাহারাইন এবং সংযুক্ত আরব আমীরাতে কাতারকে তাদের আকাশসীমায় ঢোকার অনুমতি তুলে নেওয়ার পর কাতারী বিমান চলাচলের জন্য ইরান তার আকাশসীমাও উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
বিবিসি বাংলা

চতুর্মুখী চাপে অর্থমন্ত্রী: কেউ সন্তুষ্ট নন প্রস্তাবিত বাজেটে by আশরাফুল ইসলাম

আগামী অর্থবছরের (২০১৭-১৮) জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি এ পর্যন্ত ১১ বার বাজেট পেশ করেছেন। ৮৩ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটকে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তার এ ‘শ্রেষ্ঠ’ বাজেটে কেউ খুশি নন। সন্তুষ্ট না হয়ে তার নিজের দলের সংসদ সদস্যরা যেমন তাকে কড়া সমালোচনা করতে পিছপা হননি, তেমনি সমালোচনায় পিছপা হননি সংসদের বিরোধী দলের সদস্যরা। জাতীয় পার্টির একজন সংসদ সদস্য তো রীতিমতো অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। বাড়তি কর ও ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দেয়ায় যেমন সমালোচনা করেছেন দেশের ব্যবসায়ী সমাজ, তেমনি জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সমালোচনা করেছেন ভোক্তাসহ পেশাজীবীরা। এ যেন চতুর্র্মুখী চাপে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছিলেন ভ্যাটের হার কমাতে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাটের নতুন হার ১৫ শতাংশই বহাল রাখা হয়। শুধু এক বছরেই ভ্যাটের মাধ্যমে জনগণের পকেট থেকে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। ভ্যাটের এ নতুন হার নিয়ে ব্যবসায়ী সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কারণ নতুন এ হারে নিশ্চিতভাবে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কারণ বর্তমানে সঙ্কুচিত ভিত্তি মূল্য থাকায় বিভিন্ন হারে ভ্যাট আদায় করা হয়। যেমন বিদ্যুৎ বিলের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট নেয়া হয়। কিন্তু একক হার হওয়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাবে। নতুন এ ভ্যাট হার নিয়ে সর্বত্রই সমালোচনা শুরু হয়েছে। আর এ সমালোচনা সহ্য করতে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে। নতুন ভ্যাট হারের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন আবগারি শুল্ক নিয়ে। কারণ ব্যাংকে লাখ টাকা রাখলেই ৮০০ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে আমানতকারীকে। অর্থমন্ত্রী লাখ টাকার মালিকদের সম্পদশালী বলায় বেশি হারে সমালোচিত হন।
মোট দেড় শ’ পাতার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সরকারের নানা গুণগান ও উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরলেও দেশ থেকে টাকা পাচার ও পাচার প্রতিরোধে করণীয় কী তা কোথাও উল্লেখ করেননি। দেশের আর্থিক বা ব্যাংকিং খাতের বর্তমানে কী পরিস্থিতি; খেলাপি কেন বেড়ে চলেছে? তা কমানো যাবে কিভাবে? সরকারি ব্যাংকের অধপতনের নেপথ্যের কারণ কী? বাজেট বক্তৃতায় কোথাও তা উল্লেখ নেই।
আগামী দুই মাসের মধ্যে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হবে বলে গত ২ জুন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। গত ১৪ জুন বাজেটের ওপর বক্তৃতা দিতে গিয়ে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রীকে কড়া সমালোচনা করেন। সঞ্চয়পত্র সুদের হার কমানোর আগে আগামী জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রাখার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম। তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর আগে রাজনৈতিকভাবে এটা বিবেচনা করতে হবে। সব দিকে সুদের হার কমানোর আগে বিকল্প বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা উচিত। মনে রাখতে হবে ২০১৮ সালে তারা হবে আমাদের সম্মানিত ভোটার।’
মতাসীন দলের আরেক সদস্য হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘অল্প আয়ের মানুষের কথা চিন্তা না করে বেশি আয়ের মানুষের কাছ থেকে কর নেয়ার বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। শুধু খামোশ বা রাবিশ বলে দায় এড়ানো যাবে না। অর্থমন্ত্রী আর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আছে, সবাইকে বোঝাতে হবে, কর আরোপের ফলে কার তি হচ্ছে।’
ওই দিন জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ‘বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন। ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়ন আরো কঠিন। এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সমতা নেই। কী করে এত অর্থ আদায় করবে? অর্থমন্ত্রী সব মানুষের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন।’
একই দিনে জাতীয় পার্টির ইয়াহিয়া চৌধুরী ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক আরোপের সমালোচনা করে একে ‘পাপকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘সমাজের জন্য তিকারক জিনিসের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়। আমার প্রশ্ন হলোÑ আমার বৈধভাবে অর্জিত টাকা কিভাবে পাপকরের আওতায় আনা হলো?’ ‘এক লাখ টাকার মালিকদের সম্পদশালী বলে অর্থমন্ত্রী ােভের আগুনে ঘি ঢেলেছেন। মানুষকে উপহাস করেছেন।’
১৫ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী অর্থমন্ত্রীকে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক আমানতে বাড়তি আবগারি শুল্ক থেকে সরকার কত পাবে? আয় আসবে ২০০ কোটি টাকার মতো। এর জন্য বিপুল লোকের আয় কমিয়ে দেবো?’ তিনি বলেন, ‘পুরো প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিলে তি হবে ৩৫৫ কোটি টাকা। এটি অর্থমন্ত্রীর জন্য, আমাদের বাজেটের জন্য পিনাট। সেখানে কেন উনি (অর্থমন্ত্রী) হাত দিচ্ছেন?’
বাজেট আলোচনায় সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর বিরোধিতা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদ কমানো ঠিক হবে না। ১০ শতাংশ সুদ ধরলে হয়তো হবে এক হাজার কোটি টাকা। এর সুবিধা পাবে লাখ লাখ লোক। যাদের জন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প নেই। তারা ট্রাকের সামনে দাঁড়াতে পারেন না, হাত পাততে পারেন না। এদের অনেকে সিনিয়র সিটিজেন। নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক শ্রেণীর মানুষকে ভর্তুকি দেই, যারা প্রাপ্য নয়। তার চেয়ে বড় কথা, ঋণখেলাপিদের বিশাল? বোঝা নিতে পারলে আমরা কেন মধ্যবিত্ত, নিন্মবিত্তের সামান্য বোঝা নেবো না। প্রব্লেম একটাই, এদের প্রেসার গ্রুপ নেই, থাকলে লেজ গুটায়ে মেনে? নেয়া হতো।’
গত ২০ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সমালোচনা করে তিনি অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই সাথে তিনি অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ফৌজদারি অভিযোগ’ দায়ের করারও দাবি তোলেন। অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স পেয়ারের দুই হাজার কোটি টাকা উনি ব্যাংকিং খাতের ঘাটতি পূরণে দিচ্ছেন। মানুষের টাকা দিয়ে লুটপাটের টাকা পূরণ করছেন। এটা কোনো নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না। এটি অনৈতিক কাজ। উনি নৈতিকতা ও আইনবিরোধী প্রস্তাব কিভাবে করেন?’ ‘লুটের টাকার ঘাটতি’ পূরণে করদাতাদের দেয়া অর্থ খরচের অধিকার অর্থমন্ত্রীর নেই মন্তব্য করে বাবলু বলেন, ‘এর জন্য তো ওনাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অর্থমন্ত্রীকে এ জন্য আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ওনার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল চার্জ আনা উচিত বলে আমি মনে করি।’ মুহিতের উদ্দেশে বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনি বিদায় নিন। পদত্যাগ করুন। সম্মানের সাথে বিদায় নিন। আপনার অনেক বয়স হয়েছে। আপনাকে সম্মান করি। বিদায় নিয়ে ১৬ কোটি মানুষকে মুক্তি দিন।’
ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ এনে ওই দিন বাবলু আরো বলেন, ব্যাংকগুলোকে ‘অক্সিজেন দিয়ে’ রাখা হয়েছে। ‘ব্যাংকগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা হয়েছে। খেলাপি ঋণে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে আছে। এর মধ্যে ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। কার টাকা অবলোপন করছেন? মানুষের টাকা লুট হচ্ছে, বিদেশে পাচার হচ্ছে। এসব নিয়ে অর্থমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য নেই।’ খেলাপি ঋণ আদায় হলে ভ্যাট বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না বলেও মনে করেন বাবলু।
তিনি বলেন, ‘লুটপাট কারা করছে? এরা কি আপনাদের চেয়ে, সরকারের চেয়ে শক্তিশালী? কেন তাদের আইনের আওতায় আনবেন না? বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দুদক নাকি তার বিরুদ্ধে কিছু পায়নি।’ ‘বিচিত্র দেশের বিচিত্র মন্ত্রীর বিচিত্র বাজেট’ মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বাবলু বলেন, ‘আপনি কি উন্নয়নের মহাসড়কে নাকি দুর্যোগের মহাসড়কে আছেন সেটা বিবেচনার বিষয়।’
ব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি শুল্ক ভুল বার্তা দিচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এ শুল্কের নাম পরিবর্তন করবেন। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন রাখলেও কানা ছেলে কানাই থাকে।’
এর আগে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠন অর্থমন্ত্রীর আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর কড়া সমালোচনা করেন।
বাজেট নিয়ে ঘরে-বাইরে যখন অর্থমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা মুখে পড়েছেন, তখন নতুন ভ্যাট আইনের পরিবর্তন হওয়ার আভাস দিয়েছেন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী নিজেই। অর্থমন্ত্রী এর ইঙ্গিত দিয়েছেন গত ১৮ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে। ওই দিন সচিবালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০১৮ সালের বার্ষিক কর্মসম্পাদনা চুক্তি স্বার অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে ওই প্রস্তাব নিয়ে বাজারে ‘এত চিৎকার’ হচ্ছে যে, সবাইকে স্বস্তি দিতে তিনি সংসদে কথা বলার আগেই পরিবর্তনের বিষয়টি জানিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে বলেছি, এত চিৎকার যখন বাজারে আছে, সুতরাং এগুলো একটু সাম পরিবর্তন সেখানে হবে।’ কথাটা বললাম এ জন্য যে কথাটি পার্লামেন্টে বলতে আমার অনেক দেরি হবে। পার্লামেন্টে বলতে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলে যাবে। তার আগেই যাতে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস অনেকে ফেলতে পারে, সে জন্য কথাটা বললাম।

ভোজপুরি নায়িকার আত্মহত্যার তদন্ত চায় পরিবার

ভারতের ভোজপুরি জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জলি শ্রীবাস্তব আত্মহত্যা করতে পারেন না বলে দাবি করেছেন তার মা। তাই মেয়ের মৃত্যুর যথাযথ তদন্তের দাবি করেছেন অঞ্জলির মা।
বুধবার দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে এমনটাই জানা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার ভোজপুরি ছবির অত্যন্ত জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর আন্ধেরির নিজের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে মুম্বাই পুলিশ।
পুলিশকে অঞ্জলির মা বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমি মেয়ে মৃত্যুর তদন্ত চাই। ঘটনার একদিন আগেও তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি। অঞ্জলির গলা আমার কাছে স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল।
এমনকী মুম্বাইয়ে মেয়ের কাছে সময় কাটিয়ে গত ৫ জুন নিজের বাড়ি ফেরার আগেও অঞ্জলির মধ্যে কোনো অস্থিরতা লক্ষ্য করেননি নায়িকার মা। যাতে কিছুদিনের মধ্যে তার মেয়ে এ ধরনের চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নায়িকার মায়ের অভিযোগ, তার ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল না। কোনো সুইসাইড নোটও মেলেনি।
দীর্ঘক্ষণ ফোনে না পেয়ে ২৯ বছরের ভোজপুরি ছবির নায়িকা অঞ্জলির আত্মীয়রা তার বাড়িওয়ালার সাহায্যে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে এটা আত্মহত্যার মামলা বলেই প্রথমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মুম্বাইয়ের কুপার হাসপাতালে অঞ্জলির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

দৌলতদিয়ার যৌনপল্লীর নাচনেওয়ালি টয়া!

গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লী। টানা তিনদিন সেখানে কাটিয়েছেন অভিনেত্রী টয়া। এই তিনদিন তিনি সেখানকার বাসিন্দা হয়েই ছিলেন। নাচে, গানে মনোরঞ্জন করেছেন খদ্দেরের। সেখানকার নাচনেওয়ালি তিনি।
না পাঠক, অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি ঈদের বিশেষ ওয়েব সিরিজ ‘অ্যাডমিশন টেস্ট’র গল্প। অভিনয়ের স্বার্থে কত কিছুই না করতে হয় একজন অভিনেত্রীকে। ছোট পর্দার উঠতি অভিনেত্রী টয়াকে তেমনই এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হলো সম্প্রতি এই সিরিজে অভিনয় করতে গিয়ে।
তপু খানের রচনা ও পরিচালনায় এ ওয়েব সিরিজটি নির্মাণ হলো সিএমভি’র ব্যানারে মোশনরকের কারিগরি সহযোগিতায়।
এই ওয়েব সিরিজে টয়াকে দেখা যাবে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর জনপ্রিয় (ডিমান্ডিং) একজনের চরিত্রে। চিত্রনাট্যের দাবিতে যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করা ছাড়াও এতে টয়া রাতভর নেচেছেন সেখানকার দুই শতাধিক মানুষের সামনে। যেটাকে তিনি তার অভিনয় জীবনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বলে অভিহিত করছেন।
তার ভাষায়, ‘আমার চরিত্রটি হলো সেই ব্রোথেলের অনেক ডিমান্ডিং একজন যৌনকর্মীর চরিত্র। ফলে প্রথমদিন চরিত্রটি নিয়ে কাজ করতে বেশ বিব্রত লাগছিল। তাদের এক্সপ্রেশন রপ্ত করা বেশ কঠিন ছিল আমার জন্য। তবে তারচেয়েও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হলো সেই এলাকার শত শত মানুষের সামনে রাতভর নাচতে গিয়ে।’
‘অ্যাডমিশন টেস্ট’ নামের এই ওয়েব সিরিজে টয়া ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোভান, তামিম মৃধা ও জাকি।
সিরিজের গল্পে দেখা যাবে, তিন যুবক ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য রওনা হন। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে বাস ধর্মঘটে আটকে যান। পরে সেখানের এক হোটেলে অবস্থান শুরু করেন। যেহেতু পাশেই ‘যৌনপল্লী’ সেহেতু অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য তারা যান সেখানে। সেখানেই তিন বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় ঘটে টয়ার। একের পর এক ঘটতে থাকে নানা ঘটনা।
নির্মাতা তপু খান জানান, ওয়েব সিরিজটি ঈদের দিন থেকে টানা সাতদিন সাত পর্ব মুক্তি পাবে যৌথভাবে সিএমভি’র ইউটিউব চ্যানেল ও রবিস্ক্রিনে, প্রতিদিন রাত ৯টায়।

কোনোমতে লজ্জা ঢেকেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির যুবক-যুবতীরা

তারা প্রাচ্যের অভিজাত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। তাদেরকে ধরা হয় জাতির ভবিষ্যত নেতৃত্ব। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীরা এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেভাবে হাজির হলেন তাকে সবার চোখ আকাশে ওঠার অবস্থা। প্রকাশ্য রাস্তায় তারা অর্ধনগ্ন হয়ে উপস্থিত। কারো গায়ে সামান্য এক টুকরো কাপড়। কেউবা কোনোমতে লজ্জা ঢেকে রেখেছেন। তা করতে যে কাপড়টি ব্যবহার করেছেন তা কোনো সভ্য সমাজে চলে না। কেউবা গায়ে শুধু পেইন্ট দিয়ে রঙ করে নগ্নতাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতে কি নগ্নতা ঢাকে! স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শরীরের প্রতিটি ভাজ। স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো অনেকটাই অনাবৃত। ছেলে, মেয়ে সবারই এক অবস্থা। এ অবস্থায় সমালোচনা করে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনের অনলাইন দ্য সান। বলা হচ্ছে, ওইসব শিক্ষার্র্থী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট। ফলে তারা অপরিণত এমনটা বলার সুযোগ নেই। তারা যোগ দিয়েছিলেন পিয়ার্স গ্যাভেস্টন সোসাইটি সামার বল-এ। দ্য সান এ নিয়ে একগাদা ছবি প্রকাশ করেছে, যার সবগুলো সব স্থানে প্রকাশও করা যায় না। সান লিখেছে, তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় একটি বাস। আর এমন পোশাক পড়ে তাতে ওঠার জন্য অপেক্ষায় টপলেস যুবতীরা। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ছেলেরাও। এসব ছেলে বা যুবকরাও কেউ কেউ নারীদের মতো করে সেজেছে। এর আগে যেসব বল অনুষ্ঠান হয়েছে তাতে দেখা গেছে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের শো। মাদক সেবনের ছবি। আগন্তুকদের সঙ্গে তাদের অশালীন সম্পর্কও ধরা পড়েছে। বুধবার প্রতিজন ৯০ পাউন্ড করে দিয়ে এবারের বলে অংশ নিয়েছেন ৫০০ জন। তারা ৫ মাইল দূরে ক্যাসিংটনে এবারের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন। এমন কর্মকা-ে একজন মা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব শিক্ষার্থীর কলেজে থাকা উচিত।

হিজড়াদের প্রেম, বিয়ে by রুদ্র মিজান

সাধ-আহ্লাদ সবই আছে। আছে প্রবল ভালোবাসার অনুভূতি। ঘরবাঁধার স্বপ্নও দেখেন তারা। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালে তাদের রয়েছে সীমাবদ্ধতা। শারীরিকভাবে মিলিত হলেও সন্তানের মুখ দেখতে পান না তারা। তবু ঘর পাতেন। একসঙ্গে সংসার করেন। কিন্তু তাদের সংসার, ঘরবাঁধা ভিন্ন রকমের। তাদের মধ্যে আছে বৈচিত্র্যতা। প্রত্যেক হিজড়াই একজন পুরুষ সঙ্গী খোঁজেন। পুরুষ সঙ্গীরা তাদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এই বন্ধুকে ভালোবাসার বন্ধনে বেঁধে রাখতে চান তারা। হিজড়াদের কাছে এই বন্ধু ‘পারিক’ নামে পরিচিত। বেশ কয়েকজন হিজড়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের প্রেম, বিয়ে ও সংসার সম্পর্কে। তাদের জীবন হচ্ছে এক গোপন ট্র্যাজেডি।
৯০ দশকের কথা। পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডের তাড়িখানায় নিয়মিত নাচ করতেন রুপালি। তাড়িখানার আগতদের কাছে সুন্দরী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। নানাজনের কাছ থেকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব পান তিনি। তাকে বিয়ে করতে চান, সংসার করতে চান। অনেকের মতো পুরান ঢাকায় ওই সময়ে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আরমান নিয়মিত তাড়ি পান করতে যেতেন সেখানে। তাড়িখানায় রুপালির গান-নৃত্য মুগ্ধ করে তাকে। প্রেমে পড়ে যান আরমান। আর আরমানকেও ভালোবেসে পেলেন রুপালি। রুপালিও স্বপ্ন দেখেন আরমানকে নিয়ে। কিন্তু নিজের দুর্বলতার কথা ভেবে সাহস পান না। শেষ পর্যন্ত আরমান প্রস্তাব দিলে তিনি বলেন, ‘আমি তো হিজড়া’।
আরমান প্রথমে বিশ্বাস করেন না। পরবর্তীতে হিজড়া জেনেই রুপালির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক  গড়েন। ছুটিয়ে প্রেম করেন তারা। তাদের মধ্যে একটা চুক্তি হয়। এই চুক্তিকে ‘বিয়ে’ বলেন হিজড়ারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুপালি জানান, কয়েকজনকে সাক্ষী রেখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি চুক্তি করা হয়। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, দিনের বেলা তিনি নিজের স্ত্রী, সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। তবে রাতে রুপালির সঙ্গে থাকতে হবে। বিনিময়ে আরমানের সব ভরণ পোষণ রুপালি বহন করবেন। রুপালি জানান, আরমানকে তিনি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। তাকে কোনো কষ্ট করতে দেন না। তাকে নিয়ে দেশ-বিদেশে বেড়াতে গেছেন অনেকবার। তবে আরমান অন্য কোনো নারীর কাছে যাবেন তা সহ্য হয় না রুপালির। তাই ক্রমান্বয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে এনেছেন তাকে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই দিনে-রাতে রুপালির সঙ্গেই বসবাস করেন আরমান। তবে স্ত্রী-সন্তানকে টাকা পাঠান। সব  টাকা দেন রুপালি। আরমনাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বসবাস করছেন রুপালি।
আরেক পারিকের নাম রফিক। তিন বছর আগে রফিকের সঙ্গে ময়না হিজড়ার পরিচয়। ধোলাইপারে চাঁদা তুলতে গেলে ময়নার সঙ্গে পরিচয় রফিকের। ময়না হিজড়া দেখতে সুন্দরী। এতেই আকৃষ্ট হন রফিক। নানা গল্প করেন। একসঙ্গে রিকশায় ঘুরে বেড়ান। এভাবেই ভালো বন্ধুতা গড়ে ওঠে। একসময় ময়না হিজড়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যান। ময়নার শনিরআখড়ার বাসায় রাতযাপন করতেন রফিক। এরই মধ্যে রফিককে পারিক করে রাখার প্রস্তাব দেন ময়না। সারা জীবনের সঙ্গী করতে চান। রফিক অসম্মতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কলহ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যান রফিক। ফোন নম্বর পরিবর্তন করেন। অন্যদিকে হন্যে হয়ে রফিককে খুঁজতে থাকেন ময়না। এ বিষয়ে রফিকের চন্দনকোটা এলাকার এক ঘনিষ্ঠজন জানান, সম্প্রতি রফিককে খুঁজতে তার বাসায় যান ময়না। সেখানে গিয়ে রফিককে না পেয়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন। ময়না বলেছেন, রফিককে না এনে দিলে সকল হিজড়া মিলে তাকে অপদস্থ করবে। ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, রফিকের সঙ্গে কি সম্পর্ক জানতে চাইলে ময়না প্রথমে বলেন, ‘রফিক আমার বন্ধু।’ পরে বলেন, ‘রফিক আমার স্বামী।’ কাবিননামা আছে কিনা জানতে চাইলে ময়না বলেন, ‘আমাদের কোনো কাবিননামা লাগে না।’ তবে নোটারি করার বিষয়ে তিনি জানান, সময়ের অভাবে রফিকের সঙ্গে চুক্তিটা করা হয়নি। সূত্রমতে, ময়না হিজড়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রফিক।
বনানীর কড়াইল বস্তির হিজড়া মিষ্টি। ১০-১২ বছর বয়সেই নরসিংদীর বাড়ি ও মা-বাবাকে ছেড়ে ঢাকায় আসেন তিনি। থাকেন গুরুমার সঙ্গে। মিষ্টি জানান, সন্ধ্যার পর সেজেগুজে বের হন। হাতিরঝিল, বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেন। যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করেন। রাত শেষে টাকা নিয়ে বাসায় ফিরে তা তুলে দেন গুরুমার হাতে। বিনিময়ে গুরুমা তার থাকা, খাওয়া, নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। গুরুমা তার অভিভাবক। তবে পেশাদার যৌনকর্মের বাইরে একজন সঙ্গী বা পারিক খোঁজেন মিষ্টি। তিনি জানান, প্রত্যেক হিজড়াই নিজেকে নারী ভাবতে পছন্দ করেন। এজন্য একজন পুরুষ সঙ্গী খোঁজেন। সে রকম পারিক এখনো পাননি। তবে তার বান্ধবী জোছনার একজন পারিক আছেন। মিষ্টি বলেন, ওই পারিক অনেক ভালো। শিক্ষিত। প্রায় রাতেই জোছনাকে নিয়ে বাসায় রাতযাপন করেন। একজন পারিকের সঙ্গে একাধিক হিজড়ার সম্পর্ক হতে পারে কিনা জানতে চাইলে মিষ্টি জানান, তা হতে পারে না। যদি কখনো এরকম হয় তাহলে কঠিন বিচার করেন গুরুমা। এ অপরাধে ওই হিজড়ার জরিমানা হবে। অন্যদিকে পারিককে ভর্ৎসনা করা হবে বলে জানান তিনি।

সুমনের প্রতারণার ভয়ঙ্কর জাল by রুদ্র মিজান

চেহারায়, পোশাকে আভিজাত্য। কথা বলে ইংরেজি-বাংলার মিশ্রণে। নিজেকে বড় মাপের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফায়দা হাসিল করে। কখনও কখনও নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে। নিজের স্ত্রী গৃহিণী হলেও তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)’র কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া হয়। এভাবেই নানা পরিচয়ে চাকরি, বদলি, প্লট-ফ্ল্যাট দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ প্রতারক। প্রতারণার মাধ্যমে হতদরিদ্র পরিবারের এ ছেলেটি এখন আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে। রয়েছে গাড়ি, বাড়ি, বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি। দেশের বিভিন্ন এলাকার শ’ শ’ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কুখ্যাত এ প্রতারকের নাম নজরুল ইসলাম সুমন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে উত্তরা এলাকায় ডিবি অফিসার পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছিল নজরুল ইসলাম সুমন। গত ৯ই জুন দুপুরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের এক নম্বর সড়কে ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় অভিযান চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় সুমন ও তার সঙ্গী আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সঙ্গী  আরো চার-পাঁচজন পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের পর সুমনের ১২ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর বাসা থেকে দুটি ওয়াকিটকি, একটি লাল সিগন্যাল লাইট জব্দ করা হয়। ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা করার সময় ওয়াকিটকি ও সিগন্যাল লাইট ব্যবহার করে। অভিযান পরিচালনাকারী ডিবির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, অনেক মানুষের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। কখনও প্রধানমন্ত্রীর কাছের মানুষ, কখনও রাষ্ট্রপতির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে সে। তাকে গ্রেপ্তারের পর অনেকেই নানা অভিযোগ জানিয়েছেন। আমরা মামলা করতে পরামর্শ দিয়েছি তাদের। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যেতো। এজন্য সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছিল ডিবি। আদালত রিমান্ড না-মঞ্জুর করে তাকে জামিন দিয়েছে।
নজরুল ইসলাম সুমনের প্রতারণা সম্পর্কে ডিবি জানিয়েছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সুমন। নামাজ পড়লে সহজেই মানুষ বিশ্বাস করে। আস্থা রাখে। এর মাধ্যমে টার্গেটকৃত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন পরিচয়ে নিজেকে উপস্থাপন করে এ প্রতারক। রাষ্ট্রপতির কাছের আত্মীয়। এমন নানা কৌশনে মানুষের আস্থা অর্জন করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে জানতে চায়, ভাইজানের কী ঢাকায় প্লট-ফ্ল্যাট আছে? তারপরই কৌশলে প্রস্তাব।‘ কী বলেন ভাই, এত ব্যবসা-বাণিজ করেন অথচ কিছুই করতে পারলেন না। চেষ্টা করলেই হয়। চেষ্টা করেন পেয়ে যাবেন। আমি তো কিছুদিন আগেও একটা নিয়ে দিলাম ঘনিষ্ঠ জনকে।’ এভাবেই এগুতে থাকে প্রতারণার জাল। জালে আবদ্ধ হলেই লাখ লাখ টাকা আয় হয় তার।
রাষ্ট্রপতির আত্মীয় পরিচয়ে দীর্ঘদিন প্রতারণা করছিল সুমন। এ বিষয়ে গত বছরের ১৫ই সেপ্টেম্বর রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (৬৫৮) করেন তারেক নামে এক ব্যক্তি। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ‘দক্ষিণ বাড্ডার ইকো ভিলেজের ২০১/২,ট নম্বর বাসার নজরুল ইসলাম সুমন (৩৬) আমার স্বজন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে রাজউকে প্লট দেবে বলে টাকাপয়সা নিচ্ছে। স্থানীয় লোকজন আমাকে বিষয়টি জানালে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে সে আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।’ ওই জিডির তদন্ত করছিলেন রামপুরা থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে খিলগাঁও থানায় কর্মরত পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, নজরুল একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে এরকম অনেক অভিযোগ রয়েছে।
এরকম হুমকির অভিযোগ অনেক। মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পেয়ে হত্যার হুমকি দেয় যুব কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাচ্চুকে। এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানায় জিডি (নং-১০৭৩) করেছেন তিনি।
গ্রেপ্তারের পর নজরুল ইসলাম সুমন ডিবি পুলিশকে জানিয়েছে, আনন্দ মোহন কলেজ থেকে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করে ঢাকায় আসে। কোনো চাকরি বা ব্যবসা ছাড়াই ৭-৮ বছরের মধ্যেই হয়ে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক। গ্রামের লোকজন জানেন বঙ্গভবনে চাকরি করে সুমন। চাকরির সুবাধে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। ব্যবসা-বাণিজ্যের তো অভাব নেই। বড় ব্যবসায়ীর পরিচিতি রয়েছে তার ভিজিটিং কার্ডে। দেশ-বিদেশে ব্যবসা। কোটি টাকার ব্যাংক ড্রাফট থাকে তার পকেটে। যেকোনো চাকরি, বদলি, তদবির, অস্ত্রের লাইসেন্স ও বিদেশ পাঠানো মামুলি ব্যাপার তার কাছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের জামাল উদ্দিন চিশতী। তিনি কাপড়ের ব্যবসা করেন ঢাকার গুলশান-২ এ। রাজউকে প্লট দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নিয়েছে ৪ লক্ষাধিক টাকা। কিন্তু প্লট জুটেনি। টাকা ফেরত পাননি। একই উপজেলার চুন্টার ঘাগড়াজোড় গ্রামের দরিদ্র পরিবারের আবু সাঈদ মিয়ার ছেলে তাবারককে আনসার বিভাগে চাকরি দেয়ার কথা বলে সুমন নিয়েছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চাকরি ও টাকা কোনোটারই হদিস নেই। এ টাকার শোকে অসুস্থ হয়ে তাবারকের পিতার মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুরের বাবু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের পর সুমন তাকে জানায় অস্ট্রেলিয়ায় তার গার্মেন্টসের ব্যবসা রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে অষ্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখায় সুমন। বিশ্বাস যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য ঢাকায় এনে ডাচ্‌্‌-বাংলা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করানো হয়। ছবি উঠানো হয়। অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়া যাওয়া হয়নি বাবুর। শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত চাইলে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয় তাকে। বাবু জানান, অনেক ভোগান্তির পর তাকে ২ লাখ টাকার একটি চেক দেয় সুমন। ওই চেকটি চারবার ডিজ-অনার হয়।
একইভাবে সুমনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন ময়মনসিংহ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, রাজউকের প্লটের আবেদনের জন্য পে-অর্ডারের কথা বলে সুমন তার কাছ থেকে ৪ বছর আগে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে। তারপর থেকে সে লাপাত্তা। জমা স্লিপও দেয়া হয়। জিল্লুর রহমান বলেন, পরে বুঝতে পেরেছি এটি একটা ভুয়া স্লিপ। আমি সুমনকে খুঁজছি।
সূত্রমতে, রাজউকে প্লট দেয়ার নামে মহাখালীর মঞ্জুরুল আলমের কাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার, এলিফেন্ট রোডের ব্যবসায়ী নাছিরের কাছ থেকে ৬ লাখ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার হানিফ মিয়ার কাছ থেকে ৫ লাখ, কাপড় ব্যবসায়ী নাছির মিয়ার কাছ থেকে ২৫ লাখ, টাঙ্গাইলের ফখরুলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকাসহ আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে সুমন।
সূত্রমতে, বিভিন্ন ব্যাংকের নামে নিজের তৈরি ভুয়া পে-অর্ডারই নজরুল ইসলাম সুমনের প্রতারণার মূল হাতিয়ার। পেছনের তারিখের পে-অর্ডার থাকে তার সঙ্গে। এর অধিকাংশ পে-অর্ডারই জাল। প্লটের আবেদনের সময় শেষ। তাতে কোনো সমস্যা নেই। পেছনে তারিখের ভুয়া পে-অর্ডার দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নজরুল ইসলাম সুমন। তাদের একজন বিক্রমপুরের কবির মিয়া। তাকে ২০১৪ সালের ২০শে মার্চ রাজধানীর পান্থপথ শাখার একটি ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত (নং- ০২৩১৮৫২) একটি ভুয়া পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৫ লাখ নিয়ে গেছে।
এ রকম অনেক অভিযোগ ময়মনসিংহের চরলক্ষ্মীপুরের ট্রাকচালক আব্দুল মান্নানের ছেলে নজরুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে। কিন্তু অভিযোগ, মামলা কোনোকিছুই দমাতে পারেনি তাকে। নির্বিঘ্নে প্রতারণা করে যাচ্ছে নজরুল ইসলাম সুমন।

খাদ্য সংকট আর কলেরায় কঙ্কালসার ইয়েমেনের শিশুরা

বাতুল আলির বয়স মাত্র ছয় বছর। কিন্তু তার ভয়ার্ত চোখ আর রুগ্ন শরীর দেখে বয়সটা ঠিক অনুমান করা যায় না। তার ওজন ৩৫ পাউন্ডেরও কম। পেট মনে হয় যেন শরীরের সঙ্গে লেগে গেছে। ইয়েমেনে পুষ্টিহীনতায় ভোগা প্রায় ৫ লাখ শিশুর মধ্যে বাতুল একজন। শুধু বাতুল নয় ইয়েমেনের বহু শিশুই খাবার, পানি এবং পুষ্টিহীনতার অভাবে ঠিকমত দাঁড়াতে বা চলাফেরাও করতে পারে না।
বাতুলের মতই আর এক শিশু ইসরা। তার মা আলি আনহারি একটি হাসপাতালে ইসরার সঙ্গে বসে ছিলেন। ইসরার চোখ জোড়া কেমন চকচক করছে। তার হাতে আইভি ড্রিপ লাগানো। সে কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে। আলি আনহারি বলেন, আমি খুব ভয়ে আছি। আমার তিন সন্তানেরই কলেরা। সন্তানরাই তো আমার পৃথিবী। আমি প্রায় আট মাস যাবৎ কোনো বেতন পাচ্ছি না। সন্তানদের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। এজন্য টাকা যোগাড় করতে খুব হিমসিম খেতে হচ্ছে।
ইয়েমেনে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় কলেরা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু বিশ্বের কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রথম পাতায় বা লিড নিউজে এ ধরনের কোনো ঘটনাকে তুলে ধরা হয় না। ইয়েমেনের এমন কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো কেন এমন নীরবতা পালন করছে তা বোধগম্য নয়।
ইয়েমেনে প্রায় আড়াই বছর ধরে সংঘাত চলছে। হুথি বিদ্রোহী এবং সাবেক হাদি সরকারের সমর্থক সৌদি জোটের মধ্যে সংঘাত চলছে। এটাকে নীরব যুদ্ধ বলা হচ্ছে কারণ গণমাধ্যমের খুব কমই নজর কাড়তে পেরেছে এই সংঘাত।
ইয়েমেনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সিএনএনসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
শুধুমাত্র জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠনগুলোই সেখানে প্রবেশ করতে পারছে। বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাদি সরকার এবং এর মিত্র সৌদি জোট ওই এলাকায় কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের এক মানবাধিকার কর্মী জানিয়েছেন, যাদের ওই এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়ার কথা তারা সেটা করছেন না। এটা ইয়েমেনি সরকার এবং সৌদি জোটের সমর্থনেই করা হচ্ছে।
কাউকে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না কারণ বিশ্বের কাছে ওই এলাকার সঠিক চিত্র প্রকাশ করতে চায় না সৌদি জোট।
বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার হিসেব অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, কলেরা আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে খাদ্য সংকট। দেশটির প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে ৭০ লাখ মানুষই চরম বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন। সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এ বছরের শেষ নাগাদ দেশটি পুরোপুরি দুর্ভিগে পতিত হবে। কিন্তু এ নিয়ে ফলাও করে কোনো খবর প্রচার করা হচ্ছে না বা বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলো থেকেও সহায়তা আহ্বানের কোনো সুযোগ পাচ্ছে না ইয়েমেনবাসী।
একনজরে বর্তমান ইয়েমেন পরিস্থিতি:

ইউনিসেফসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার দেয়া তথ্যের আলোকে বর্তমানে ইয়েমেনে চলা মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র একনজরে তুলে ধরা হল-
##দুই বছরের চেয়ে বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার এবং জীবন ধারনের অন্যান্য উপাদান পাচ্ছেন না। আর তাদের মধ্যে ১ কোটি মানুষের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকট এটি।
## এই ক্ষুধার্ত ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের মধ্যে ৩০ লাখই শিশু, যাদের ১জন প্রতি ১০ মিনিটে খাদ্য ও চিকিৎসা অভাবে মারা যাচ্ছে।
## ইউনিসেফ: মে মাসের শুরু থেকে জুনের ২ তারিখ পর্যন্ত ৭০ হাজার লোক কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬০০ এর বেশি। জুনের মাঝামাঝি আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছার শঙ্কা।
## ১ জুন থেকে ৩ জুন মাত্র তিন দিনে ১০ হাজারের বেশি কলেরায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
## কলেরা মহামারি আকার ধারণ করায় ইতোমধ্যে অপুষ্টিতে ভোগা দেশটির প্রায় ১১ লাখ গর্ভবর্তী নারী মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন।
## কলেরা এমন ছড়িয়ে পড়ার মুহূর্তে ন্যুনতম চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন বেশিরভাগ রোগী। কারণ, গত দুই বছরে দেশটির অন্তত ২৭৪টি হাসপাতাল/ক্লিনিক বোমায় বিধ্বস্ত হয়ে আছে। যেগুলো অক্ষত আছে তার অর্ধেকের বেশি বন্ধ অথবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ভুগছে।
## জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইয়েমেনের ১ কোটি ৫০ লাখের মতো মানুষের একদম প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা পাওয়ারও সুযোগ নেই।
## জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর তথ্য মতে, ৩০ লাখ ইয়েমেনী যুদ্ধের কারণে তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন।

সূত্র: জাগো নিউজ

যমজদের স্বাগত জানালেন জেজি-বিয়ন্স

দুটি ছেলে, নাকি দুটি মেয়ে? নাকি একটি ছেলে আর একটি মেয়ে?—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর না মিললেও জানা গেছে, মার্কিন সংগীত তারকা দম্পতি জেজি ও বিয়ন্স স্বাগত জানিয়েছেন তাঁদের যমজ সন্তানদের। গতকাল রোববার বাবা দিবসে দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন র‍্যাপার জেজি। আর মায়ের খুশিটা নাহয় আড়ালেই থাক।
দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্র যমজ সন্তানের জন্ম হওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। শিশুদের নানা ও বিয়ন্সের বাবা ম্যাথিউ নোয়েলস টুইটারে নতুন অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যাতে লেখা, ‘যমজদের শুভ জন্মদিন, নানার পক্ষ থেকে ভালোবাসা।’ ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘তারা এখানে!’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নাম জানার জন্য ভক্তরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন—ছেলে না মেয়ে? আর অধীর হয়ে অপেক্ষা করছেন তাদের ছবি দেখার জন্য।
বিবিসি অনলাইন