Saturday, August 6, 2016

হিথ্রো বিমানবন্দর অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ফলে হিথ্রো ও নটিংহামসংলগ্ন এলাকার এম-৪ মোটর ওয়েতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অনেকেই তাদের ফ্লাইটও মিস করেছেন বলে জানা গেছে। ২০১১ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত লন্ডনের কৃষ্ণাঙ্গ ট্রাকচালক মার্ক দোগানের মৃত্যুর পঞ্চম বার্ষিকী স্মরণে এ বিক্ষোভ করছে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ নামের একটি সংগঠন। বিবিসির খবরে বলা হয়, ট্রলিচালিত মাল বহনকারী গাড়িও ওই এলাকা দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম এ বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না বিক্ষোভকারীরা।
‘দিস ইজ আ ক্রাইসিস’ লিখিত একটি কালো ব্যানার টানিয়ে রেখেছেন তারা। বিমানবন্দরের রাজপথে শুয়ে বিক্ষোভ করেছেন এসব বিক্ষোভকারী। আটকে দিয়েছেন সব ধরনের গাড়ি চলাচল। লন্ডনজুড়ে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ হিসেবে হিথ্রো বিমানবন্দরে বিক্ষোভ জোরালো করছেন বলে জানান ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের মুখপাত্র ওয়ালি কাসিম। এ ছাড়া ম্যানচেস্টারেও জোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় চারজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।

ওবামা-কন্যা সাশা এবার হোটেল পরিচারিকা

বয়স মাত্র ১৫। এর মধ্যে আট বছর কাটিয়েছেন হোয়াইট হাউসের বিলাসবহুল বাড়িতে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের মেয়ে তিনি। বাবার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হোটেল পরিচারিকার চাকরি নিলেন তিনি। মেয়েটি আর কেউ নন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছোট কন্যা সাশা ওবামা। বোস্টন হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফার্স্ট ডটার মালিয়া ওবামার ছোট বোন সাশা ওবামা নিজের মতো স্বাধীনভাবে টাকা উপার্জনের কথা ভাবছিলেন। অবশেষে তাকে চাকরির অনুমতি দেয়া হয় ম্যাসাচুসেটসের ন্যান্সি রেস্টুরেন্টে।
সেখানে তিনি ওয়েটারের কাজ করেন। কখনও টেবিল মুছে দেন আবার কখনও ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি হোটেলের সামনে এসে দাঁড়ানো গাড়িতেও খাবার পৌঁছে দেন। মার্থাস ভেনিয়ার্ড দ্বীপের এই রেস্টুরেন্টের মালিক জো মুজাবের বারাক ওবামার বন্ধু। গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে ওবামা পরিবার কয়েকবার এই রেস্টুরেন্টে এসেছেন। পড়ালেখার ফাঁকে গ্রীষ্মকালীন জব হিসেবে সাশাকে রেস্টুরেন্টে কাজের অনুমতি দিয়েছেন ওবামা দম্পতি। তবে হোটেলের আশপাশে সার্বক্ষণিক সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা সাশার নিরাপত্তায় নজর রাখছেন।

ট্রাম্পের কারচুপির আশংকা হাস্যকর : ওবামা

মার্কিন নির্বাচনে কারচুপির আশংকাকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কারচুপি করে জয় ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে- রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওবামা বলেন, ‘এটা খুবই হাস্যকর। তার কোনো সেন্স নেই।’ বৃহস্পতিবার পেন্টাগনে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবামা। পরে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওবামা বলেন, ‘নির্বাচনের দিন জরিপে যদি ট্রাম্প ১০-১৫ পয়েন্টে এগিয়ে থাকেন, আর যদি হেরে যান, তখন অভিযোগ করলে তবু শোনা যেত। আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তিনি একেবারেই অযোগ্য। পরমাণু শক্তিধর আমেরিকার নেতৃত্ব তার হাতে তুলে দেয়া আশংকার।’ সংবাদ সম্মেলনে মূলত ইরাক-সিরিয়া-লিবিয়ার পরিস্থিতি ও জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমন নিয়ে কথা বলেন ওবামা। তিনি বলেন, আইএস দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এখনও আশংকার কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের দখলে থাকা ভূমি হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গি সংগঠনটি বিদেশে হামলা চালাচ্ছে বলে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। একাকী বা ছোট ছোট দলে হামলা চালানোর বিষয়টি সত্য। ওবামা বলেন, স্বঘোষিত রাজধানী সিরিয়ার রাকা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে আইএস। ইরাকের মসুল থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাবে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন,
আইএস যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটো অংশীদারদের পরাজিত করতে পারবে না। তবে তিনি সতর্কবাণী করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা নির্বিচারে বেসামরিক লোকদের হত্যা ও যুক্তরাষ্ট্রে যারা ঢুকবে তাদের ধর্মীয় পরীক্ষা শুরু করার মতো ‘খারাপ’ সিদ্ধান্ত নিলে ওয়াশিংটন নিজেই পরাজিত হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছর জানুয়ারিতে মার্কিন নাগরিকের মুক্তিতে ইরানকে ৪০ কোটি মার্কিন ডলার দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওবামার কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে নতুন এক জরিপে জনপ্রিয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে ব্যাপক ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। বৃহস্পতিবার ম্যাকক্লার্থি/ ম্যারিস্ট প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ১৫ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর হিলারির এটিই সর্বোচ্চ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার ঘটনা। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়, হিলারিকে সমর্থন দিচ্ছেন ৪৮ ভাগ ভোটার আর ট্রাম্পকে ৩৩ ভাগ। জুলাই মাসেও হিলারির জনসমর্থন ছিল ৪২ ভাগ আর ট্রাম্পের ৩৯ ভাগ। হিলারির মনোনয়ন পাওয়ার পর কোনো জরিপেই ট্রাম্প তাকে পেছনে ফেলতে পারেননি। বরং প্রতিটি জরিপেই ট্রাম্পের জনসমর্থনে ধসের তথ্য আসছে। এদিকে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন নতুন বিতর্কের পাশাপাশি ট্রাম্প তার নিত্যনতুন বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে নিজ দলের বিভাজনকেও প্রকট করে তুলেছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয়ের আচ পেয়ে ট্রাম্প নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযানে উঠেপড়ে লেগেছেন।

মার্কিন নির্বাচন কি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নজিরবিহীন প্রশ্ন তুলেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন আগামী নির্বাচনে কারচুপি হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার দিকে তীক্ষè নজর রাখতে তিনি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি আমেরিকান নাগরিকদের মধ্যে গণঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারি নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্সের পরাজয় নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন তুলতেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের মতে, কারসাজি করে হিলারি ক্লিনটনকে জিতিয়ে দেয়া হয়েছে। দলটির সুপার ডেলিগেটদের তিনি ‘কারচুপিমূলক ব্যবস্থা’ বলতেন। পরবর্তীতে উইকিলিকসের ফাঁস করা ই-মেইল তথ্যে ডেমোক্রেটিক নেতৃত্বের পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মিলেছে।
গত সোমবার সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, তারা নির্বাচনী ব্যবস্থায় তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। কেননা এটা আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে।’ ট্রাম্পের এই প্রচারণায় প্রভাবিত হয়েছেন অন্তত কয়েক কোটি ভোটার। কারণ এর আগেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ‘ওয়াশিংটন স্টাবলিশমেন্ট’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মূলনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কেননা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও নির্বাচনে সবসময় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতা হতো। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মাইকেল হেনি বলেন, ‘কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ছাড়া এ ধরনের মন্তব্য নির্বাচনী ব্যবস্থার বৈধতাকে হুমকির মুখে ফেলে।’ গত এক দশক ধরে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মার্কিনিদের আস্থা কমে যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী ২০০৪ সালে ৪৮ শতাংশ ভোটার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, দেশের ভোট ব্যবস্থা নির্ভুল। ২০০৮ সালে তা কমে ৪৩ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১২ সালে মাত্র ৩১ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ভোট গণনা নির্ভুল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার তালিকা ও ভোট গণনায় প্রতারণার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ১৯৬০ সালে জন এফ কেনেডি ও রিচার্ড নিক্সনের লড়াইয়ে ভুয়া ভোটারের ভোট দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
কারণ ভোটার তালিকায় অনেক মৃত মানুষের নাম ছিল। রটজার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ‘দ্য মিথ অব ভোটার ফ্রড’ গ্রন্থের লেখক লরেন মিনিট বলেন, ‘আমাদের ৫০ রাজ্যে ৫০ রকম ভোট গ্রহণ পদ্ধতি। জাতীয়ভাবে একক কোনো পদ্ধতি নেই।’ তবে মার্কিন ইতিহাসে এমন নজির নেই যে, কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনের আগেই আশংকা করছেন ভোটে কারচুপি হবে। রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তারা প্রায়ই ভোটার নিবন্ধন আইন কড়াকড়ির জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। তবে হিলারি ক্লিনটনসহ ডেমোক্রেট কর্মকর্তারা বলছেন, রিপাবলিকানরা ডেমোক্রেট ভোটারদের বাধা দিতে কঠোর নিয়ম-কানুন চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। ২০০০ সালের নির্বাচনে ফ্লোরিডায় ভোট পুনর্গণনার দাবি উঠেছিল। তাতে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আল গোর জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি বা ফল প্রত্যাখ্যান করেননি। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব বক্তব্যের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের ভিত্তি তৈরি করছেন বলেই মনে করছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইলেকশ ল’ পড়ান অধ্যাপক ডান টোকাজি। তিনি বলেন, ‘কারচুপির অভিযোগে ট্রাম্প নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করলে জনগণের মধ্যে অস্থিরতা ও সহিংসতা তৈরি হতে পারে। মনে হচ্ছে, ট্রাম্প সহজে তার পরাজয় মেনে নেবেন না।’

ছাত্রলীগকে সামলানোর দায়িত্ব কার?

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হলের ভেতরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও কবি নজরুল হলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট, সংগঠনটির এক পক্ষের কর্মীদের কাছে অপর পক্ষের কর্মীরা মোটেও নিরাপদ নন। এর একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, ইতিপূর্বে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ্ মখদুম (এসএম) হলে খাবারের টোকেন বিতরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সভাপতি (তৎকালীন) সমর্থিত কর্মীদের দ্বারা সাধারণ সম্পাদকের (তৎকালীন) সমর্থিত কর্মী নাছরুল্লাহ্ নাসিমকে মারধর করে শাহ্ মখদুম হলের দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়া এবং শেষ পর্যন্ত নাসিমের মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে। ছাত্রলীগের উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীদের দ্বারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ফলে অনেক ছাত্রের প্রাণহানি ঘটাসহ অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন- ঠিক যেমনটি ঘটেছিল বিগত বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসীদের দ্বারা। আর এসব ঘটনায় বরাবরই যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু মূল্যবান সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সচেতন দেশবাসীর মনে থাকার কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৩১ আগস্ট ঢাকাস্থ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংগঠন করার পাশাপাশি লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে আহ্বান জানাচ্ছিলেন, ঠিক সেদিনই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর এতে কমপক্ষে ১৩ জন আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ইতিপূর্বে বর্তমান সরকারের অনেক এমপি-মন্ত্রীও ছাত্রলীগকে দেশ ও জাতি গঠনে ভালো ভালো সব কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন, দিয়েছেন অনেক ভালো পরামর্শ এবং সর্বোপরি বারবার বলেছেন নীতি ও আদর্শের কথা। কিন্তু কে শোনে কার কথা? কীভাবে টাকা কামাই করা যাবে, কীভাবে প্রভাব বিস্তার করা যাবে সেইদিকে মন থাকায় এসব নীতিকথা ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীর (বিশেষ করে যারা মাইগ্র্যান্ট ছাত্রলীগ, সুযোগ সন্ধানী ও নিজ স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত) এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বের হয়ে যায়। দলের মূল নেতৃত্ব থেকে ছাত্রলীগের প্রতি এসব আহ্বান জানানো ও পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারের পক্ষ হতে বলা হয়েছিল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে কেউ রেহাই পাবে না। বর্তমান সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও ইতিপূর্বে বলেছিলেন, ‘ছাত্র-রাজনীতির নামে গুণ্ডামি বন্ধ করতে হবে। এসব বন্ধ না করলে তিনি যে-ই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে’। কিন্তু ছাত্রলীগের উদ্দেশে করা এতসব আহ্বান, পরামর্শ ও সতর্কতা জারি করার ফলাফল যে শেষ পর্যন্ত শূন্যের কোটায় গিয়েছে এবং বর্তমানেও যাচ্ছে তা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘ছাত্রলীগ’ নামধারী উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীদের দ্বারা ‘কৃতকর্ম’ তথা বাস্তব অবস্থা দেখে সহজেই অনুমান করা যায়। একেই বুঝি বলে,
‘কথায় শুধু চিঁড়ে ভেজে না’। অনেক সময় দেখা যায়, ছাত্রলীগ নামধারী উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার পর তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পরে এও দেখা যায়, বহিষ্কৃতদের ‘ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়নের’ মতো আবারও সংগঠনে টেনে নেয়া হয় বা তারা তদবির করে সংগঠনে আবার স্থান পায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের বহিষ্কার করাটাই কি যথেষ্ট? ছাত্রলীগের উচ্ছৃংখল এসব নেতাকর্মীসহ ইতিপূর্বে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের যেসব সন্ত্রাসী শিক্ষাঙ্গনে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছিল; তাদের বিরুদ্ধে কি আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত নয়? দেশ-জাতিসহ সবার বৃহত্তর স্বার্থেই তা হওয়া উচিত। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সরকার কর্তৃক বিগত বছরগুলোতে দেশের অনেক উন্নয়ন-অগ্রগতি ও অর্জন হলেও তার অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে দেশব্যাপী ‘ছাত্রলীগ’ নামধারী উচ্ছৃংখল কিছু নেতাকর্মীর বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে। আর ছাত্রলীগ নামধারীদের এ ধরনের সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় যে বর্তমান সরকারের ঘাড়েই পড়বে তা বলা বাহুল্য। তাই এ বিষয়টিকে অবশ্যই সরকারের অতি গুরুত্বসহকারে আমলে নেয়া উচিত। এর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আবশ্যক। কারণ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেও ‘ছাত্রলীগ’ নামধারী এসব সন্ত্রাসী বারবার রেহাই পেয়ে যাচ্ছে এবং পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে।
এসব ঘটনার ফলে একদিকে যেমন দেশ-জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি শিক্ষাঙ্গনগুলোয় বারবার মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে লেখাপড়ার সুষ্ঠু-স্বাভাবিক পরিবেশ। সৃষ্টি হচ্ছে সেশনজট, শিক্ষার্থীদের পেছনে তাদের অভিভাবকদের ব্যয় করতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। দেশের উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, স্বার্থগত দ্বন্দ্ব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার কারণেই যে এসব সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটে চলছে তা সহজেই অনুমেয়। ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগে ঢুকে পড়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর এ কথা যদি সত্য হয়, তবে তা হবে বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা বাঁধারই নামান্তর। আর এ ক্ষেত্রে ঘোগ তাড়াতে নিশ্চয় বাঘকেই এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকার বা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের তাদের নিজেদের স্বার্থেই তথা দলের স্বার্থেই এগিয়ে এসে ছাত্রলীগের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ছাত্রশিবির কিংবা ছাত্রদলের চর বা সুবিধাভোগীদের বাছাই করে ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজানো উচিত। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখতে দেখতে দেশের সাধারণ মানুষ আজ রীতিমতো বিষিয়ে ও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে- ঠিক যেমনটি বিষিয়ে ও অতিষ্ঠ হয়েছিল বিগত বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। এ যেন এ দেশের জনগণের জন্য ভাগ্যদেবীর এক ‘আশীর্বাদ’। বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা কি অপ্রতিরোধ্য? এসব সন্ত্রাসীকে কি সামলানো সম্ভব নয়? আর যদি সামলানো সম্ভব হয়, তাহলে সামলানোর দায়িত্ব কার? বর্তমান সরকারের নাকি অন্য কারও?
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের দ্বারা বারবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলেও কেন তাদের সামলানো হচ্ছে না, এ প্রশ্ন তো খুবই যুক্তিসঙ্গত। আর এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিরাই বা কী ভূমিকা পালন করছেন? বলা বাহুল্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে জ্ঞানের আধার। স্বাভাবিকভাবেই উচ্চশিক্ষার এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে দেশ গঠন, জাতি ও সমাজ গঠনে তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার কথা। অতীতের ছাত্র রাজনীতির দিকে দৃষ্টিপাত করলে ঠিক এমনই সব ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান ছাত্র রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ছাত্র রাজনীতি করে যাদের দেশ ও জাতি গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার কথা, আজ তারাই হত্যা, হামলা, ভাংচুর, হল দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা ধরনের অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের মধ্য থেকে দেশগঠন ও জাতিগঠনের জন্য যোগ্য ও উপযুক্ত নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না, তেমনি এসব ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলেরই একটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা দরকার, কোনো রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন কর্তৃক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানো হলে সেই সংগঠনের ভাবমূর্তি বিশেষভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। তাছাড়া পরবর্তী সময় সরকার গঠনে বা নির্বাচনে ওই রাজনৈতিক দলের ওপর এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমান সরকারসহ সব রাজনৈতিক সংগঠনেরই উচিত হবে দেশ-জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা। এ ব্যাপারে যদি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন সম্মিলিতভাবে ছাত্র রাজনীতির ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়, তবে তা হবে সবার জন্যই মঙ্গলজনক। বর্তমান সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এমনটাই সবার প্রত্যাশা। সর্বোপরি, এ কথা সবারই ভালোভাবে স্মরণে রাখা প্রয়োজন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জনসহ অবৈধ নানা সুযোগ-সুবিধা অর্জনের পথ বন্ধ না করলে শুধু নীতি কথায় বা পরামর্শে কোনো কাজ হবে না।
ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু : বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা; অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদস্য
kekbabu@yahoo.com

তিনি আজ এতটাই প্রাসঙ্গিক

গতকাল ছিল শেখ কামালের জন্মদিন। আর এ মাসেরই ১৫ তারিখে তার মৃত্যুদিবস। ঘাতকদের পৈশাচিকতায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সপরিবারে নিহতের একজন তিনি। একদিন তমসাচ্ছন্ন সমাজে কুসংস্থার প্রোথিত হয়েছিল ব্যাপকভাবে। তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে অনির্বাণ শিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের কামাল ভাই। পাকিস্তানিদের দ্বারা সুকৌশলে ধর্মীয়ভাবে বিভাজিত সমাজে যারা ধর্মের আবরণে অধর্মের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে সেই সময় যে তরুণ শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন, তিনি আমাদের কামাল ভাই। অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতির গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখার নিত্য প্রয়াসে কামাল ভাই ছিলেন তৎপর, সচেতন। তার সেই ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা আজকের দিনে বড়ই প্রাসঙ্গিক। অসামান্য মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে পিতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কামাল ভাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশ গড়ার কাজে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। সব সময় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা দিতেন। দেশ, দেশের মানুষ, রাজনীতি নিয়ে তার ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা দেখে অবাক হতাম আর মনে মনে বলতাম, জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরি তিনি। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন এক কথায় অলরাউন্ডার। কোথায় ছিলেন না তিনি? ছিলেন রাজনীতির মাঠে, খেলার মাঠে, গানের আসরে, নাটকের মঞ্চে, সেতারের সুরে, মানবতায়-মহানুভবতায়।
এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতিতে তার অবদান অতুলনীয়। তার চেষ্টার ফলেই বদলে গিয়েছিল ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ বিভিন্ন খেলাধুলা। তিনি ভালো ক্রিকেট খেলতেন। ফাস্ট বোলার ছিলেন তিনি। আবার এসএম হল বাস্কেটবল টিমেরও ক্যাপ্টেন ছিলেন। আবাহনী ক্রীড়া চক্র তারই হাতে গড়া। শুধু কি খেলাধুলা, স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে তিনি বাংলা গানে নতুন ধারার সৃষ্টি করেছিলেন। দেশে পপ সঙ্গীতের সূচনা হয়েছিল তারই হাত ধরে। পাকিস্তান আমলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের গান-কবিতাকে হিন্দুয়ানির তকমা লাগিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কামাল ভাই এই নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে পারেননি। যার রক্তের মাঝে আছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, তিনি কীভাবে এরকম সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন? রবীন্দ্রসঙ্গীতের বিস্তারে তিনি শিল্পীদের নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। পাকিস্তানপন্থীরা এদেশ থেকে রবীন্দ্রনাথকে সরিয়ে দেয়ার যতই চেষ্টা চালিয়েছে, কামাল ভাইয়ের নেতৃত্বে রবীন্দ্রসঙ্গীত ততই মানুষের মননে আরও গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে। বাঙালি মানসে অসাম্প্রদায়িকতার সূর্যরশ্মিকে আরও তীক্ষ্ণভাবে বিচ্ছুরিত করা হয়েছে। কামাল ভাই গানে, কবিতায়, বিতর্কে, ভাষণে- সব ক্ষেত্রেই লালন করতেন অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা, ছড়িয়ে দিতেন তার বাণী। আজকের তরুণ সমাজের জন্য অনিন্দ্যসুন্দর জীবনপথের দিশারী হতে পারে সেই বাণী। ‘নাট্যচক্র’ নামের একটি মঞ্চনাটক সংগঠনের তিনি ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক। মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে গিয়েছিলেন কলকাতাতেও। এরকম আরও নানা ক্ষেত্রে বিচরণ ছিল কামাল ভাইয়ের। সব বিষয়েই তার অসামান্য দক্ষতার প্রদর্শন দেখে অবাক হয়ে ভাবতাম, একজন মানুষের পক্ষে কীভাবে এত কিছুতে পারদর্শী হওয়া সম্ভব? পরক্ষণেই মনে হতো, হ্যাঁ কেবল তার পক্ষেই সম্ভব। তিনি নিজে যেমন এসবের মাঝে যুক্ত ছিলেন, তেমনি আমাদেরও এসবের মাঝে জড়িয়েছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষকে মানবিক করে তোলে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ঋদ্ধ করে।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রবল আগ্রহ থাকলেও তিনি কখনও তারুণ্যের উচ্ছলতায় নিষিদ্ধ জগতে পা বাড়াননি, যদিও সেই বয়সে সেটা তেমন অস্বাভাবিক ছিল না। সামাজিক মূল্যবোধ, চেতনা তার অন্তরে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল। তাই তিনি কখনও ভুল পথে নিজেকে পরিচালিত করেননি। এর প্রমাণ আমরা দেখি পূর্ব জামানিতে এক সফরে। আমরা ছাত্রলীগের ১৫ সদস্যের একটি দল বিশ্ব যুব সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বার্লিনে গিয়েছিলাম। সেই দলের নেতা ছিলেন কামাল ভাই। আমরা যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের বলেছিলেন, ‘যে দেশে যাচ্ছিস, সেটা অবাধ বিচরণের দেশ। মদ ও নারী ওখানে অহরহ। তোরা আমার হাত ধরে প্রতিজ্ঞা কর যে তোরা এসবের কাছে যাবি না। তোদের সামাজিক মূল্যবোধ ওখানে গিয়ে নষ্ট করিস না। আর কামাল তুই ভুলে যাসনে তুই কার সন্তান।’ বঙ্গবন্ধুর কাছে করা সেই প্রতিজ্ঞা আমরা পালন করেছিলাম। কামাল ভাই এ বিষয়ে ছিলেন সদা সতর্ক। তিনি আমাদের বারবার বঙ্গবন্ধুর প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন। এরকম আরও অনেক ক্ষেত্রেই আমি কামাল ভাইয়ের মাঝে বাঙালির সামাজিক মূল্যবোধ, রীতিনীতি, নৈতিকতা খুঁজে পেয়েছিলাম। সাংস্কৃতিক উগ্রতা নয়, সাংস্কৃতিক সৌম্যের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পথ প্রশস্ত করে তুলেছিলেন কামাল ভাই।
তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক এক যোদ্ধা। পাকিস্তানি হানাদাররা যখন এদেশে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে নির্বিচারে মানুষ হত্যায় মেতে উঠেছিল, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করে রেখেছিল, তখন কামাল ভাই চুপচাপ নিরাপদ জীবন বেছে নেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুর সন্তান। তারই মতো দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শত্র“ হননের কাজে, দেশমাতৃকাকে পবিত্র রাখবেন বলে। তিনি বীরদর্পে সম্মুখ সমরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানীর এডিসি হিসেবে। সেই দেশপ্রেমিক যোদ্ধা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিলেন, পথ দেখিয়েছিলেন। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজকে। পাকিস্তানিরা আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে রুদ্ধ করে যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছিল, তাকেই নাকচ করে দিয়েছিলেন আমাদের কামাল ভাই। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করে সমাজকে প্রগতির পথে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আজ যখন বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটছে, ধর্মান্ধরা যখন মানুষ নিধনের খেলায় মত্ত হয়ে পুরো বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলছে, তখন আমাদের কামাল ভাইয়ের অসাম্প্রদায়িক সেই মানসকে ধারণ করা অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
বাহালুল মজনুন চুন্নু : সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

আর্জেন্টিনাকে ধাক্কা পর্তুগালের নেইমারের জন্য দুয়োধ্বনি

দুই বছর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে চূর্ণ হওয়ার দুঃস্মৃতি আজও তাড়া করে ব্রাজিলীয়দের। এবার ঘরের মাঠের অলিম্পিকে অধরা স্বর্ণপদকই শুধু পারে সেই দুঃস্বপ্ন ভুলিয়ে দিতে। কিন্তু অলিম্পিক ফুটবলে ব্রাজিলের সোনার স্বপ্নে শুরুতেই দুঃস্বপ্নের হানা। শাপমোচনের মঞ্চে জয়োধ্বনির বদলে উল্টো দুয়োধ্বনি শুনতে হল ব্রাজিলের সোনার ছেলে নেইমারকে! অলিম্পিক ফুটবলে অধরা সোনা জয়ের মিশনের শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে স্বাগতিকরা। বৃহস্পতিবার গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও জ্বলে উঠতে পারেননি নেইমাররা। প্রচণ্ড হতাশায় ঘরের ছেলেদের দুয়োধ্বনি দিতে বাধ্য হওয়া ব্রাজিলীয় দর্শকদের যা একটু তৃপ্তি দিয়েছে আর্জেন্টিনা! চিরশত্রুদের হার দেখে নিজেদের জ্বালা জুড়িয়েছে তারা। অলিম্পিক অভিযানের শুরুতে ব্রাজিলের চেয়েও বড় ধাক্কা খেয়েছে আর্জেন্টিনা। হেরে গেছে পর্তুগালের কাছে। রোনাল্ডোর উত্তরসূরিদের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে মেসির উত্তরসূরিরা। ছেলেদের ফুটবলের প্রথমদিনে কোনো পরাশক্তিই হাসিমুখে মাঠ ছাড়তে পারেনি।
গতবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো ২-২ গোলে ড্র করেছে জার্মানির সঙ্গে। ধারে-ভারে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ব্রাজিল। আক্রমণভাগে অধিনায়ক নেইমারের সঙ্গে রয়েছেন দুই উঠতি তারকা গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস। কিন্তু ব্রাজিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের আগুনে ত্রিফলা কার্যত কোনো ত্রাস ছড়াতে পারেনি। গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিলেন জেসুস। কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। নেইমারও দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন। ভাগ্য সহায় হলে শুরুতে উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকাই এগিয়ে যেতে পারত। ৫৯ মিনিটে ডিফেন্ডার মোথোবি এমভালা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু বাকি সময় একজন বেশি নিয়ে খেলেও কাক্সিক্ষত গোল করতে পারেনি ব্রাজিল। এ-গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইরাক ও ডেনমার্কও গোলশূন্য ড্র করেছে। ফলে চার দলেরই পয়েন্ট সমান। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৭টায় দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। অন্যদিকে রোববার রাত ৩টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে হারলে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় ঘণ্টা বেজে যেতে পারে তাদের। ডি-গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার মতো আলজেরিয়াও ৩-২ গোলে হেরেছে হন্ডুরাসের কাছে। আপতত গ্রুপের তলানিতে রয়েছে দু’বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাই ছিল ফেভারিট। ইউরোজয়ী দলের কোনো খেলোয়াড় নেই পর্তুগালের অলিম্পিক দলে। প্রথমার্ধে লড়াইটা সমানে সমান হলেও দ্বিতীয়ার্ধে মেসির উত্তরসূরিদের চমকে দেয় রোনাল্ডোর উত্তরসূরিরা। আর্জেন্টিনার একটি আক্রমণ ক্রসবারে প্রতিহত হওয়ার পর দু’গোল করে বসে পর্তুগাল। ৬৬ মিনিটে পাচিয়েনসিয়ার লক্ষ্যভেদের পর ৮৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন পিতে। গোলকিপার রুল্লির হাস্যকর ভুলই ডুবিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। সি-গ্রুপে দারুণ উপভোগ্য একটি ম্যাচ উপহার দিয়েছে মেক্সিকো ও জার্মানি। ড্র ম্যাচের চারটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথম তিনটি আবার ১০ মিনিটের মধ্যে! তবে সত্যিকারের গোল উৎসব হয়েছে সি-গ্রুপের আরেক ম্যাচে। রাইয়ুর হ্যাটট্রিকে পুঁচকে ফিজিকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বি-গ্রুপে নয় গোলের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে এতেবোর হ্যাটট্রিকে জাপানকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়েছে নাইজেরিয়া। এছাড়া সুইডেনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে কলম্বিয়া। এএফপি/ওয়েবসাইট।
একনজরে ফল
গ্রুপ-এ
ব্রাজিল ০ : ০ দক্ষিণ আফ্রিকা
ইরাক ০ : ০ ডেনমার্ক
গ্রুপ-বি
সুইডেন ২ : ২ কলম্বিয়া
নাইজেরিয়া ৫ : ৪ জাপান
গ্রুপ-সি
মেক্সিকো ২ : ২ জার্মানি
দক্ষিণ কোরিয়া ৮ : ০ ফিজি
গ্রুপ-ডি
পর্তুগাল ২ - ০ আর্জেন্টিনা
হন্ডুরাস ৩ - ২ আলজেরিয়া
পরের ম্যাচ
আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া
(রোববার রাত ৩টা)
ব্রাজিল ও ইরাক
(সোমবার সকাল ৭টা)

তিশা থেকে লাবণ্য হয়ে উঠেছিলাম

*রবীন্দ্রনাথের গল্পের নাটকে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন?
**সব অভিনয় শিল্পীরই রবি ঠাকুরের গল্পে কাজ করার স্বপ্ন থাকে। কারণ তার রচিত গল্পের নাটকে অভিনয় করার ব্যাপক জায়গা থাকে। এছাড়াও তার নাটকে অভিনয় করলে তাকেও অনুভব করার সুযোগ হয়। রবীন্দ্রনাথ আসলে কী ছিলেন, তার চিন্তা-চেতনা কেমন ছিল সেটা গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায়।
*রবীন্দ্রনাথের কী কী গল্পের চরিত্রে অভিনয় করেছেন?
**আমি তার হাতেগোনা কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি মাত্র। এরমধ্যে ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী, ‘একরাত্রি’র সুরবালা, ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্য আর ‘কৃঞ্চকলি’ কবিতার কৃঞ্চকলির পর ‘রবিবার’ নাটকের বিভা চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছি।
*এ চরিত্রগুলোর মধ্যে কোন চরিত্রটি সবচেয়ে ভালো লাগার?
**রবি ঠাকুরের সব গল্পই আমার কাছে ভালো লাগার। তাই প্রতিটি গল্পের চরিত্রই আমাদের কাছে অন্যরকম অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তবে সব ভালো লাগার মধ্যেও শেষের কবিতার লাবণ্য চরিত্রটির কারণে তিশাকে হারিয়ে নিজেই লাবণ্য হয়ে উঠেছিলাম। য় অনিন্দ্য মামুন