Tuesday, July 14, 2026

গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতায় অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল লিন্ডসে গ্রাহামের, পারমাণবিক বোমা ফেলারও যুক্তি দিয়েছিলেন

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে ২০২৪ সালে বিধ্বংসী হারিকেন হেলেন আঘাত হানার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সদ্য প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ফক্স নিউজে উপস্থিত হয়ে সাউথ ক্যারোলাইনায় দুর্যোগ–পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

সেখানে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে গ্রাহাম হারিকেন মোকাবিলায় তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তা নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এরপর হঠাৎ করেই এই সিনেটর সে প্রসঙ্গ থেকে সরে যান। নিজের অঙ্গরাজ্যে হারিকেন–পরবর্তী দুর্দশা নিয়ে কথা বলা বাদ দিয়ে গাজা যুদ্ধ নিয়ে তিনি কথা বলা শুরু করেন। অথচ সে সময় তাঁকে গাজা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি। ওই বক্তব্যে তিনি কেবল ইসরায়েলকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গেছেন।

গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘আমি সাউথ ক্যারোলাইনার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছি। বেশির ভাগ মানুষের মতো আমিও ঘুমাতে পারিনি। কিন্তু ইসরায়েলে কী ঘটেছে, সেটাও দেখুন।

কড়া ইসরায়েলপন্থী হিসেবে পরিচিত এই সিনেটর বলেন, ‘আমাদের বন্ধু ইসরায়েল এমন সব মানুষের দ্বারা পরিবেষ্টিত, যারা তাদের হত্যা করতে, ধ্বংস করতে চায়। দ্বিতীয় একটি হলোকাস্টের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, আর বাইডেন বলছেন, “সংযতভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান”। যাঁরা আপনাকে ও আপনার পরিবারকে হত্যা করতে চান, তাঁদের প্রতি সংযত প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে? ইসরায়েলে গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে। আমাদেরকে আমাদের বন্ধুদের সাহায্য করতে হবে।’

গত শনিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান যুদ্ধবাজ হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর কার্যালয় থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

লিন্ডসে গ্রাহাম সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর পররাষ্ট্রনীতির সমর্থন করে গেছেন এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অটল সমর্থনের দিকে মনোযোগ ধরে রাখার উপায় খুঁজে নিতেন।

কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত রাজনৈতিক জীবনে গ্রাহাম ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণকে সমর্থন করেছিলেন, রাশিয়া ও চীনের কট্টর বিরোধিতা করেছিলেন, ইসরায়েলের প্রতি অটল ও সীমাহীন সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অন্যতম সোচ্চার সমর্থক ছিলেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ থিংকট্যাঙ্কের যুক্তরাষ্ট্র কর্মসূচির পরিচালক মাইকেল হান্না বলেন, রাজনৈতিক জীবনের দুটি দিকই প্রয়াত এই সিনেটরের অবস্থানকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য যথেষ্ট। সেগুলো হলো সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে তাঁর অবস্থান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাঁর অটল সমর্থন।

ইরাক ও আফগানিস্তানে এক দশকের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজনীতিককে নিজেদের যুদ্ধপন্থী হিসেবে তুলে ধরা এড়িয়ে চলতে দেখা গেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শান্তির প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু লিন্ডসে গ্রাহাম কখনো তা করেননি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে তিনি অনড় অবস্থানে ছিলেন।

চলতি বছরের শুরুতে গ্রাহাম যখন লেবাননের ওপর ইসরায়েলের বোমা হামলায় মার্কিন বাহিনীকেও অংশ নিতে বলেন, তখন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টিম বারচেট সামরিক হামলার প্রতি সিনেটরের অতিরিক্ত আগ্রহকে কটাক্ষ করেছিলেন।

সম্পূর্ণরূপে ইরায়েলপন্থী

প্রয়াত এই রিপাবলিকান রাজনীতিক প্রায়ই ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্যে জোরালো অবস্থান নিতেন।

২০২১ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর গ্রাহাম ইসরায়েলে যান এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে ‘মোর ফর ইসরায়েল’ লেখা একটি সাইনের পাশে ছবি তোলেন।

এরপর এই ইসরায়েলপন্থী মার্কিন সিনেটর দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করেন।

গ্রাহামের মৃত্যুর খবর জানার পর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গত রোববার নেতানিয়াহু বলেন, রিপাবলিকান এই আইনপ্রণেতা প্রায়ই ইসরায়েলের জন্য তাঁর সরকারের চাওয়া বা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি মার্কিন সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করতেন।

নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে বলেন, ‘গ্রাহাম আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে তিনি এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বজায় রাখা, এমনকি তা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে লড়াই করেছিলেন।’

ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরসহ বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা গ্রাহামের মৃত্যুর পর শোক জানিয়েছেন এবং তাঁর প্রশংসা করেছেন।

কখনো কখনো গ্রাহামের ইসরায়েলপন্থী অবস্থান সরাসরি ফিলিস্তিনিদের প্রতি ক্ষোভ ও অমানবিক রূপ নিত। বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণকে নাৎসিদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করাও ন্যায্য হতে পারে।

অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ভিত্তি গঠনকারী অনেক চুক্তিই প্রণয়ন করা হয়েছিল, যাতে ওই যুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা ও পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের মতো নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি না হয়।

কিন্তু গ্রাহামের বক্তব্যে মনে হতো, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নির্যাতন–নিপীড়ন তিনি দেখতেই পান না।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধের শুরুতে গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘আমরা এখানে একটি ধর্মযুদ্ধে রয়েছি। আমি ইসরায়েলের পাশে আছি। নিজেদের রক্ষার জন্য যা করার দরকার, তা–ই করুন। পুরো জায়গাকে ধ্বংস করে দিন।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্যালেস্টিনিয়ান কমিউনিটি নেটওয়ার্কের (ইউএসপিসিএন) প্রধান হাতেম আবুদায়্যেহ প্রয়াত সিনেটর গ্রাহামকে ‘আরেকজন অপরাধী যুদ্ধবাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি বিশ্বজুড়ে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞকে সমর্থন করতে করতেই তাঁর পরিণতি বরণ করেছেন।

হাতেম আবুদায়্যেহ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘লিন্ডসে গ্রাহাম তাঁর রাজনৈতিক জীবনজুড়ে যুদ্ধ, দখলদারত্ব ও গণহত্যার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। ইতামার বেন–গভির ও নেতানিয়াহুর মতো গণহত্যাকারী ব্যক্তিরা তাঁর প্রশংসা করছেন—এটিই অনেক কিছু বলে দেয়।’

সদ্য প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম
সদ্য প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ফাইল ছবি: রয়টার্স

গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভালো লাগছে: ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

গাজা উপত্যকার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে নিজের ‘ভালো লাগছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। একই সঙ্গে গাজায় হুমকি দূর করার লক্ষ্যে এটি একটি ‘পরিকল্পিত নীতি’র ফসল বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি।

গত সোমবার ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ প্রচারিত এক প্রতিবেদনে কাৎজের এই মন্তব্য তুলে ধরা হয়।

গাজার ধ্বংসস্তূপ দেখে কেমন লাগছে—এমন প্রশ্নের জবাবে কাৎজ বলেন, ‘ভালো লাগছে, তাই না?’

তিনি দাবি করেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং হুমকি দূর করতে নেওয়া সুপরিকল্পিত নীতির ফল।

ইসরাইলের আগের সামরিক কৌশল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে আমরা গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আবার চলে আসতাম। এখন সেই নীতি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের সেনাবাহিনী ভেতরে অবস্থান করছে, সন্ত্রাসীরা বাইরে আছে এবং ঘরবাড়িগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।’

চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল উত্তর গাজায় স্থায়ীভাবে ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রস্তাব।

কাৎজ জানান, উত্তর গাজায় তিনটি ‘নাহাল আউটপোস্ট’ বা সামরিক ঘাঁটি-সংযুক্ত বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা ও বসতি প্রত্যাহারের আগে উত্তর গাজায় এই স্থানগুলোর অস্তিত্ব ছিল। ঐতিহাসিকভাবে, এই ‘নাহাল আউটপোস্ট’ বা সামরিক বসতিগুলোকে পরবর্তীতে বেসামরিক ইহুদি বসতিতে রূপান্তর করা হয়ে থাকে।

কাৎজ দাবি করেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ওই এলাকায় ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ এবং নিকটবর্তী এলাকাগুলোর প্রতিরক্ষা আরো শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের চালানো হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইসরাইলি হামলায় গাজা উপত্যকার প্রায় ৯১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভালো লাগছে: ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। ফাইল ছবি

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন: অং সান সু চি মারা গেছেন?

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে তার বিচার শেষ হওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি তার আইনজীবী, পরিবারের সদস্য বা বিদেশি কূটনীতিকদের কাউকেই তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

৮১ বছর বয়সী সু চির ছেলে কিম অ্যারিস সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে সফর করে বিশ্বনেতাদের কাছে তার মায়ের ‘প্রুফ অব লাইফ’ বা জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করার আহ্বান জানিয়েছেন। লন্ডনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রায় চার বছর ধরে তার পরিবারের কেউ সু চির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, তার মা এখন কোথায় আছেন এবং তিনি আদৌ জীবিত আছেন কি না।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার গত এপ্রিল মাসে দাবি করেছিল, সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও তাকে দেখতে চাওয়া বিদেশি কূটনীতিকদের অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সরকার শুধু বলছে, তিনি সুস্থ আছেন। কিন্তু তার অবস্থান, স্বাস্থ্য বা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

এপ্রিলে সামরিক সরকার সু চির একটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে তাকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ছবিটি কবে তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। কিম অ্যারিস ছবিটির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, যদি সত্যিই তার মা গৃহবন্দি থাকেন, তাহলে সেটি ইয়াঙ্গুনের পারিবারিক বাড়িতে নয়। কারণ রাজধানী নেপিডোতে তার সরকারি বাসভবন ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

মার্চে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের কাছে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ সু চির বিষয়ে জানতে চান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সু চির নাম উঠতেই মিন অং হ্লাইং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

এতে কিছু কূটনীতিকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সামরিক সরকার হয়তো সু চির জীবিত থাকার প্রমাণ দেখাতে পারছে না। তবে লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস মনে করেন, সু চি মারা গেলে বা গুরুতর অসুস্থ হলে সেটি এতদিন গোপন রাখা সামরিক সরকারের পক্ষে খুবই কঠিন হতো। তার মতে, সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিদ্বেষই সু চিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রধান কারণ হতে পারে।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সম্প্রতি মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কাছে সু চির অবস্থার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। গত ১২ জুলাই ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত বিদেশি কূটনীতিকদের তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিলে আসিয়ান ও জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। কারণ ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারকে আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে কার্যত দূরে রাখা হয়েছে।

তবে সু চিকে মুক্তি দিলে দেশের ভেতরে পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। এক বিদেশি কূটনীতিকের মতে, সু চি মুক্তি পেলে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বর্তমান ঐক্যে ভাঙন ধরতে পারে।

অন্যদিকে মরগান মাইকেলস মনে করেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকার সশস্ত্র প্রতিরোধের চেয়ে সু চির নেতৃত্বে আবারও কোনো শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন শুরু হওয়ার আশঙ্কাকেই বেশি ভয় পায়। তার মতে, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকলেও মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বামার জনগোষ্ঠীর কাছে সু চির জনপ্রিয়তা এখনো অনেক বেশি, আর সেটিই জান্তা সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে ১৪ হাজার ৫০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দী রয়েছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু চলতি বছরই কারাগারে অন্তত ৬০ জন রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। কারাগারগুলোতে চিকিৎসা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধারও মারাত্মক সংকট রয়েছে।

কিম অ্যারিস বলেন, তিনি শুধু নিজের মায়ের খবর জানতে চান না; তার মা নিজেও চাইতেন, মিয়ানমারের অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দির দুর্দশার কথাও যেন বিশ্ব ভুলে না যায়। 

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি। ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি। ছবি: সংগৃহীত

সারাকে ‘অসাধারণ’ বললেন রণবীর

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫ঃ আদিত্য ধরের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’–এর ট্রেলার সাড়া ফেলেছে। রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত ও অর্জুন রামপাল—সবাই আছেন এক ফ্রেমে। এই প্রথম বড় পর্দায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে একসময়ের শিশুশিল্পী সারা অর্জুন। গত জুলাইয়ে রণবীরের জন্মদিনে প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি আলোচনায় ছিল; ট্রেলার সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে তৈরি ‘ধুরন্ধর’ বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত ছবি—এমনটাই বলছেন সমালোচকেরা। ছবিতে রণবীর, অর্জুন ও মাধবনকে নতুন রূপে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকেরা।

মুম্বাইয়ের বান্দ্রা–কুরলা কমপ্লেক্সের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে প্রকাশ করা হয় ট্রেলার। অনুষ্ঠানে ছিলেন রাকেশ বেদি, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, রণবীর সিং, সারা অর্জুন, পরিচালক আদিত্য ধর ও প্রযোজক লোকেশ ধর। ছবিতে ৪০ বছর বয়সী রণবীরের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাঁর চেয়ে ২০ বছরের ছোট সারা অর্জুন; ঘোষণা আসার পর বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। তবে ট্রেলার দেখে দর্শক দুজনের পর্দার রসায়ন ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন।

ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সহ–অভিনেত্রী সারা অর্জুনকে প্রশংসায় ভাসান রণবীর সিং। কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েই ধুরন্ধর-এ এসেছে সারা অর্জুন। রণবীর জানান, কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেয়ের অডিশন নিয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে থেকেই সারা নির্বাচিত হন—‘সারা ছিলেন সেরাদের সেরা।’ তিনি বলেন, ‘সারা, আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে আমরা আজ এই মঞ্চে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি। আমি জানি তোমার জন্য এটি খুবই বিশেষ মুহূর্ত, আর এর অংশ হতে পেরে আমি নিজেও সম্মানিত।’

রণবীর আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, এটি তোমার প্রথম ছবি। সারা অসাধারণ প্রতিভাবান। কিছু শিল্পীকে ছোটবেলা থেকেই দেখলে বোঝা যায়—ওরা একদিন বড় কিছু করবে; ঠিক যেমন হলিউডে ডাকোটা ফ্যানিংকে দেখা যায়। সারা তেমনই একজন। ওকে দেখে মনে হয়, যেন ইতিমধ্যে ৫০টি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছে!’

সিনেমাটি আন্তর্জাতিক মানে তৈরি করা হয়েছে, জানিয়ে রণবীর বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো বড় ছবির পাশে দাঁড়াতে পারে—এমন একটি সিনেমা তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। সিনেমাটিক অভিজ্ঞতার প্রতিটি দিক উন্নত করতে আমরা মন দিয়েছি। ভারতীয় হিসেবে সবাই যাতে গর্ব করতে পারেন, এমন একটি কাজই আমরা করতে চেয়েছি।’

অনুষ্ঠানে নিজের লুকের গল্প শোনান আর মাধবন। তিনি বলেন, ‘চরিত্রের লুক ঠিকঠাক করতে তিন–চার ঘণ্টা লেগেছিল। কিছু যেন কম লাগছিল। তখনই (পরিচালক)  আদিত্য এসে বললেন, “ম্যাডি, তোমার ঠোঁট পাতলা করো।” এরপরই লুক পুরোপুরি মিলল। পুরো ছবিতেই আমি ঠোঁট পাতলা করে অভিনয় করেছি।’ তাঁর ভাষ্যে, ‘বেশ কিছু ঐতিহাসিক ছবির অংশ হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তবে মনে হচ্ছে, “ধুরন্ধর”–ই হতে চলেছে সবচেয়ে ঐতিহাসিক।’

নায়িকা হিসেবে প্রথম ছবি, স্বভাবতই আবেগাপ্লুত সারা অর্জুন। তিনি বলেন, ‘এই ছবির অংশ হতে পারাটা আমার জন্য বিশাল আশীর্বাদ। দেশের এত গুণী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করা—এটা আমার বহুদিনের স্বপ্ন। আমাকে সুযোগ দেওয়ায় মুকেশ স্যার আর আদিত্য স্যারকে ধন্যবাদ। সবাই আমাকে খুব সহায়তা করেছেন।’

পরিচালক আদিত্য ধর পুরো টিমের পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেন, ‘অভিনেতা, প্রোডাকশন প্রধান থেকে সহপরিচালক, স্পট দাদা—সবাই হৃদয় দিয়ে কাজ করেছেন। আমরা দেড় বছর ধরে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা শুটিং করেছি। কেউ একটিও অভিযোগ করেননি। সবার সর্বোচ্চ নিষ্ঠা নিয়েই এই ছবি তৈরি হয়েছে।’

ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে রণবীর সিং ও সারা অর্জুন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে রণবীর সিং ও সারা অর্জুন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

ডিআইজি আনিসের ‘জঙ্গি নাটক’ ৯ বছর পর নির্দোষ চার পরিবা by আবু সুফিয়ান

যশোরে চার পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘জঙ্গি’ নাটক মামলা দীর্ঘ ৯ বছর পর শেষ হয়েছে। জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর সম্প্রতি আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দিয়েছে। এ মামলায় ভুক্তভোগী তানজির আহমেদ, মো. মহিউদ্দিন, মেহেদী হাসান পাশা ও সাদ্দাম ইয়াসির সজলের জীবন ও ক্যারিয়ার তছনছ হয়ে গেছে।

তাদের অভিযোগ, এ মামলার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছেন যশোরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও পরবর্তী সময়ে রাজশাহীর ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তার নির্দেশে তরুণদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলার পাশাপাশি আবু সাঈদ নামে বিএনপির এক কর্মীকে কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত এ হত্যার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট যশোরে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আবু সাঈদের স্ত্রী পারভীন খাতুন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজিকে (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি যশোরের ধর্মতলা এলাকায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিতর্কিত কর্মকর্তা আনিসের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ‘পলায়নের’ অভিযোগে তাকে গত বছরের ৩০ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আনিস ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ যশোরের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত তিনি সে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

পলাতক থাকায় অভিযোগের বিষয়ে আনিসের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। যশোরে কর্মরত অভিযুক্ত ডিবি ও থানাপুলিশের সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের সন্ধানও মেলেনি।

তানজিরের পরিবারের ওপর নির্যাতন

তানজিরের পরিবারের নারী-শিশুসহ কোনো সদস্যই বাদ যায়নি পুলিশের সাজানো মামলার হয়রানি থেকে। ভুক্তভোগী তানজির জানান, ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে তাদের বাড়িতে হানা দেয় ডিবি পুলিশ। তখন তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ তার বড়ভাইকে তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেয়। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের তালিকা তৈরি করে পুলিশ তার দুই বোন এবং তাদের স্বামীদেরও সাজানো মামলায় আসামি করে।

তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালের রমজানের এক রাতে পুলিশ আবারও তাদের বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশ তাকে এবং তার মেজো বোনকে তিন বছরের বাচ্চাসহ ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ হয়রানি ও বন্দিদশায় জেলখানায় বসেই এইচএসসি পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন তানজির। ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পেলেও পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও ভয়ভীতি তাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে।

পুলিশের মামলার অভিযোগে বলা হয়, তারা অভয়নগরের একটি মাদরাসায় গোপন মিটিং করছিলেন। মামলায় তানজির, তার ভাই, দুই বোন ও দুলাভাইসহ পরিবারের সাত সদস্যকে আসামি করা হয়। জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পরও পুলিশ জেলগেট থেকে পুনরায় তানজিরকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যায়। একই সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়, জামিন পাওয়ার পর তানজির পলাতক। পরবর্তী সময়ে ঢাকা থেকে তার বড়ভাই ও মেজো বোনকে ধরে নিয়ে প্রায় ৪৫ দিন আটকে রাখা হয়। শেষে পুলিশ তাদের দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে ‘স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ’-এর নাটক সাজায়। তারা দীর্ঘ হয়রানির শিকার হন। তানজির, তার ভাই, দুই বোন ও এক দুলাভাইকে কারাভোগ করতে হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের এ অমানবিক ভোগান্তির অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। হাসিনার পতনের পর আইনি লড়াই শেষে তানজিরের পরিবারের সদস্যরা সব মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

মহিউদ্দিনের পরিবারের বিভীষিকাময় দিন

চাঁচড়া পশ্চিমপাড়ার মো. মহিউদ্দিন এবং তার পরিবারও এ ‘জঙ্গি’ নাটকের শিকার। ২০১৬ সালে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে জঙ্গি মামলা দিয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসের নির্দেশে তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মহিউদ্দিনের অভিযোগ, তার নববধূকে তুলে নিয়ে ডিভোর্স দিতে চাপ দেয় ডিবি পুলিশ। এমনকি মহিউদ্দিনের বাবাকেও গ্রেপ্তার করে একই জঙ্গি মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মহিউদ্দিনের বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ও স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সি মহিউদ্দিন সরকারি চাকরির সুযোগ হারিয়ে বর্তমানে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। আদালতের নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণে এ পরিবারটিও মামলা থেকে বেকসুর খালাস পায়।

পাশাকে ক্রসফায়ারের হুমকি

২০১৫ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাশাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ১১ দিন ডিবি হেফাজতে চোখ বেঁধে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। পাশার অভিযোগ, পুলিশের চরম হুমকিতে তাকেসহ অন্যদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়।

তার ভাষায় ১৫-২০ জন পুলিশ তাকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন করত। এক রাতে অভিযানের কথা বলে তাকে পুরো শহর ঘুরিয়ে ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

তিনি জানান, জামিন পেলেও দীর্ঘ ৯ বছর তাকে পুলিশের কড়া নজরদারিতে থাকতে হয়। যশোরের বাইরে যাওয়া ছিল নিষিদ্ধ। নিয়মিত পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে অপরিচিত ব্যক্তিরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করত। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর তাকে সব মামলা থেকে খালাস দেয় আদালত।

আরেক ভুক্তভোগী সজলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার স্ত্রী ও ছয় বছর বয়সি সন্তানকে তুলে নেয়। পুলিশের দুর্ব্যবহারে সে শিশু আজও ট্রমার শিকার। সজলের স্ত্রী তখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

মামলাগুলোর আইনি দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কেন চলল? এমন প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী পাশার আইনজীবী মো. মাহমুদ কবীর কাকন বলেন, ‘তখনকার সরকারের চাপে পড়ে বিচারকের কিছুই করার ছিল না।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান হাসিনা। এরপর থেকেই আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি ডিআইজি আনিসকে। গোপালগঞ্জের সন্তান আনিসের স্ত্রী ফাতেমা তুজ্জহুরা শ্যামলী ছিলেন সংরক্ষিত আসনের এমপি।

ডিআইজি আনিসের ‘জঙ্গি নাটক’ ৯ বছর পর নির্দোষ চার পরিবা
ফাইল ছবি

ইসরাইলের কারাগারগুলোতে মুসলিমদের হত্যা-নির্যাতন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে

ইসরাইলের কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন, অমানবিক আচরণ এবং মৃত্যুর ঘটনা এখন এক ধরনের স্বাভাবিক বাস্তবতাতে পরিণত হয়েছে বলে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, এসব ঘটনা আর গোপনও রাখা হচ্ছে না; বরং বিভিন্ন ছবি, সাক্ষ্য ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের মাধ্যমে একের পর এক সামনে আসছে।

এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন গাজার উত্তরাঞ্চলের কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়া। প্রায় ১৮ মাস আগে ইসরাইলি বাহিনী তাকে আটক করে। এরপর থেকে কোনো অভিযোগ গঠন বা বিচার ছাড়াই তাকে আটক রাখা হয়েছে। সম্প্রতি আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি বলেন, এটাই শেষ। আমি মনে করি না আমি বেঁচে ফিরতে পারব। আমাকে এখানে হত্যা করার জন্যই আনা হয়েছে।

আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, আটক অবস্থায় তাকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে, প্রতিদিন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং একাধিকবার তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একসময় গাজার অবরুদ্ধ স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসক এখন অত্যন্ত শীর্ণকায় হয়ে পড়েছেন।

গত জুনে তাকে রাকেফেত নামে একটি ভূগর্ভস্থ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। একসময় সংগঠিত অপরাধীদের জন্য নির্মিত এই কারাগার অমানবিক পরিবেশের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের শেষ দিকে এটি পুনরায় চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বন্দিদের দিনের আলো দেখারও সুযোগ দেওয়া হয় না, যা জেনেভা কনভেনশনের পরিপন্থী।

বর্তমানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি ‘প্রশাসনিক আটক’ ব্যবস্থার আওতায় বন্দি রয়েছেন। এই ব্যবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ছয় মাস অন্তর অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকাদেশ নবায়ন করা যায়। এসব বন্দির মধ্যে প্রায় ২০০ জন শিশু রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আলী আল-সামৌদির অভিজ্ঞতাও একই ধরনের অভিযোগকে সামনে এনেছে। কারামুক্তির সময় তার ওজন প্রায় ৬০ কেজি কমে যায়, যা তার মোট শরীরের ওজনের প্রায় অর্ধেক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, এখানকার কারাগার শব্দের অর্থ নরক। আমাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, সবই ছিল শাস্তি ও প্রতিশোধ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, গাজার এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে শুধু অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় উপুড় করে একটি কাঠের তক্তা ও লোহার রডের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ছবিটি পোস্ট করা এক ইসরাইলি সেনা এর ক্যাপশনে হিব্রু ভাষায় লিখেছেন, শুভ সকাল। সমালোচকদের মতে, এই ছবি বন্দিদের অপমান ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি নীতির অংশ। অভিযোগ রয়েছে, বহু ফিলিস্তিনির লাশও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় না। কিছু লাশ নম্বরযুক্ত কবরস্থানে সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দাফন করা হয়, আবার কিছু হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। হেফাজতে মারা যাওয়া অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া গাজা থেকে আটক হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া প্রায় দুই হাজার মানুষের অবস্থান জানার চেষ্টা করছে ইসরাইলভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হামোকেদ। সংস্থাটির মতে, এসব ঘটনা ‘জোরপূর্বক গুম’-এর শামিল।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসক, সাংবাদিক, সমাজকর্মীসহ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তাদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত নির্যাতনের বিষয় নয়; বরং ফিলিস্তিনি সমাজের নেতৃত্ব, সামাজিক কাঠামো ও মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি এখনও জোরালো হয়নি। সম্প্রতি জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর কথিত যৌন সহিংসতার নথিভুক্ত অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইসরাইলের কারাগারগুলোতে মুসলিমদের হত্যা-নির্যাতন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই তেহরানে রাশিয়ার সামরিক উড়োজাহাজ ডুমসডে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই সোমবার (১৩ জুলাই) তেহরানে অবতরণ করেছে রাশিয়ার একটি বিশেষ সামরিক উড়োজাহাজ। এর সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, আরএ-৬৪৫৩১ নিবন্ধন নম্বরধারী টুপোলেভ টিইউ-২১পিইউ উড়োজাহাজটি আরএসডি৪২০ কলসাইন ব্যবহার করে মস্কো থেকে উড্ডয়ন করে এবং সোমবার সকালে তেহরানে অবতরণ করে।

সংবাদমাধ্যমে অনেক সময় একে ‘ডুমসডে প্লেন’ বা ধ্বংসাত্মক বিমান বলা হলেও টিইউ-২১পিইউ মূলত রাশিয়ার বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থাসম্পন্ন একটি উড়োজাহাজ। তবে এটি পারমাণবিক হামলা মোকাবিলার জন্য কোনো আকাশভিত্তিক কমান্ড প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং এটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজটি রাশিয়ার স্পেশাল ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের অংশ।

যদিও এবারের সফরের উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে অতীতে এই উড়োজাহাজকে রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নিয়মিত দেখা গেছে।

গত ১৬ জুন একই উড়োজাহাজ উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে অবতরণ করেছিল। ওই দিনই রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন উজবেক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এছাড়া ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার কয়েক দিন আগে টিইউ-২১পিইউ তেহরান সফর করে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভের সফরে সহায়তা করতেই উড়োজাহাজটি সেখানে ছিল। এর কয়েক দিন পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও তেহরান সফর করেন।

একইভাবে, গত বছরের নভেম্বরে উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের ইসলামাবাদেও গিয়েছিল। তখনও সিভিলেভ দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তান সফর করেছিলেন।

গত এক বছরে উড়োজাহাজটির প্রকাশ্য সফরের ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এবারও এটি কোনো উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদলের সফরের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে অথবা রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সম্ভাব্য তেহরান সফরের পথ প্রস্তুত করছে।

এদিকে, ১৩ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ল্যাভরভের সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই তেহরানে রাশিয়ার সামরিক উড়োজাহাজ ডুমসডে
ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বকাপ ২০২৬: ইউরোপে মুসলিম ফুটবলারদের পরিচয়ই নতুন চ্যালেঞ্জ

ইউরোপে ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক বহুদিনের। তবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এক নতুন প্রজন্মের মুসলিম ফুটবলার নিজেদের পারফরম্যান্স ও বিশ্বাসের প্রকাশের মাধ্যমে সেই প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। স্পেনের লামিন ইয়ামাল, সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি থেকে শুরু করে কেপ ভার্দের ইসলাম গ্রহণকারী ফুটবলাররা দেখিয়ে দিচ্ছেন, ইসলাম ইউরোপের সমাজ ও সংস্কৃতিরই একটি বাস্তব অংশ।

বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম বসবাস করেন, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ফলে ১৩টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইসলামি বিশ্বাসের প্রকাশ অস্বাভাবিক নয়। তবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এমন অনেক ফুটবলার, যারা খ্রিস্টান-সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের পর সিজদাহ দিয়ে উদযাপন করেন। এর আগেও মার্চে স্পেন-মিশর প্রীতি ম্যাচে তার ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে দর্শকদের একটি অংশ বিদ্বেষমূলক স্লোগান দেয়। জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামাল লিখেছিলেন, আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। ফুটবল মানুষের বিনোদন ও আনন্দের জন্য, কারও বিশ্বাসকে অসম্মান করার জন্য নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা বেড়েছে। অথচ ইয়ামালের মতো ফুটবলারদের উপস্থিতি সেই ধারণার বিপরীত বাস্তবতাই তুলে ধরছে।

জার্মানির ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারও ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশের কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। ২০২৪ সালে রমজান উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাওহিদের প্রতীক হিসেবে তর্জনী উঁচিয়ে ছবি পোস্ট করার পর সেটিকে উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক বলে দাবি করা হয়। পরে তিনি মানহানি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেন।

একইভাবে, তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গোল করে সিজদাহ দিয়ে উদযাপন করেন সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি। তিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত হলেও সুইডেনের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশটিতে নতুন করে পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তবে আয়ারির বাবা আজুজ আয়ারি স্পষ্টভাবে জানান, তার সন্তানরা সুইডেনেই জন্মেছে ও বেড়ে উঠেছে, তাই সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করাই তাদের স্বাভাবিক অধিকার।

ইউরোপে শুধু অভিবাসী পরিবার থেকেই নয়, ইসলাম গ্রহণকারী ফুটবলারের সংখ্যাও বাড়ছে। নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি ক্লারেন্স সিডর্ফ, ফরাসি বংশোদ্ভূত ফ্রেডেরিক কানুতে এবং ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী পল পগবার পর এবার ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জেড স্পেন্সও ইসলাম গ্রহণকারী ফুটবলার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অভিষেকের মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের প্রথম মুসলিম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন। স্পেন্স বলেন, ইতিহাসের অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি এটি বিশ্বের তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।

অন্যদিকে, কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ দলে ইউরোপে বেড়ে ওঠা তিন ইসলাম গ্রহণকারী ফুটবলারও বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। জ্যামিরো মন্টেইরো, লোগান কস্তা ও স্টিভেন মোরেইরা পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের ভাষ্য, মুসলিম সতীর্থদের জীবনযাপন ও ধর্মীয় অনুশীলন কাছ থেকে দেখেই তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন।

কেপ ভার্দে দলে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়। মুসলিম খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত হালাল খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং দলটির মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্য বজায় রাখা হয়। লোগান কস্তার ভাষায়, আমরা মুসলিম হই বা খ্রিস্টান, আমাদের শক্তি হলো আমরা সবাই কেপ ভার্দিয়ান।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের এই উপস্থিতি ও আত্মবিশ্বাসী পরিচয় প্রকাশ শুধু ক্রীড়াঙ্গনের নয়, ইউরোপের বহুসাংস্কৃতিক সমাজ ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

বিশ্বকাপ ২০২৬: ইউরোপে মুসলিম ফুটবলারদের পরিচয়ই নতুন চ্যালেঞ্জ

গাজায় ১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা তহবিল দেবে ইইউ

ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত গাজা উপত্যকার পুনরুদ্ধার এবং জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ একটি বড় তহবিল ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন।

‘টিম গাজা ইনিশিয়েটিভ’ নামে এই উদ্যোগের আওতায় ১৫টি অংশীদার দেশের সহযোগিতায় ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ইউরোর একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের সমান। খবর আরব নিউজের।

সোমবার (১৩ জুলাই) ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিন দাতা গোষ্ঠীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইউরোপীয় কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই তহবিলের অর্থ গাজার চলমান ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরাসরি ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে এখনো ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের পাশে অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই আর্থিক সহায়তা গাজার মানুষের খাদ্য, আশ্রয় ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাটছে না মানবিক সংকট। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাটছে না মানবিক সংকট। ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল

গালফ নিউজ, প্রকাশ ২২ নভেম্বর ২০২৫ঃ আকাশছোঁয়া ওপরে সুইমিংপুলের এক পাশ থেকে পানি গড়িয়ে অন্য পাশে পড়ছে তো পড়ছেই, শেষ হচ্ছে না। পানি গড়িয়ে পড়া পুলের অংশটি চট করে প্রথম দেখাতে দূরের নীলাকাশের সঙ্গে মিশে গেছে বলে মনে হয়। দুবাইয়ে সম্প্রতি চালু হওয়া একটি হোটেলে এমন নয়নাভিরাম সুইমিংপুল দেখা গেছে। নকশার কারণে এটিকে ‘ইনফিনিটি পুল’ বলা হয়।

দুবাইয়ের সবচেয়ে পরিকল্পিত নগরী ‘দুবাই মেরিনা’য় সম্প্রতি বিলাসবহুল হোটেলটির উদ্বোধন করা হয়েছে। হোটেলটির নাম ‘সিয়েল দুবাই মেরিনা’। দ্য ফার্স্ট গ্রুপ হসপিটালিটি পরিচালিত হোটেলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের (আইএইচজি) ভিনিয়েত কালেকশনের অংশ। আইএইচজির যেসব হোটেল বৈশিষ্ট্য ও নকশায় গ্রুপের অন্যান্য হোটেলের চেয়ে আলাদা, সেগুলোকে ভিনিয়েত কালেকশন বলা হয়।

৮২ তলা হোটেলটির ইনফিনিটি পুল থেকে দুবাই মেরিনার দৃষ্টিনন্দন উপকূল ও নানান আধুনিক স্থাপত্যের দৃশ্য পর্যটকদের সহজে মুগ্ধ করে। এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল।

দুবাই মেরিনার প্রাণকেন্দ্রের এই হোটেলের হাতের নাগালে রয়েছে বিশ্বমানের অনেক রেস্তোরাঁ, শপিংমল, সমুদ্রসৈকত ও আকর্ষণীয় সব স্থান। সৈকতের পাশে বা জলপ্রান্তে রয়েছে কাঠের রাস্তা বা হেঁটে চলার পথ (বোর্ডওয়াক), যেখান থেকে চাইলে উঠে পড়া যায় ওয়াটার ট্যাক্সিতে।

১ হাজার ৪টি রুম ও স্যুইট–সংবলিত সিয়েল দুবাই মেরিনার নকশায় শহর ও সাগরের সমন্বয় দেখা যায়। শান্ত রঙের আবহ, প্রাকৃতিক টেক্সচার আর আধুনিক নকশা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আরামদায়ক এক পরিবেশ। এই হোটেল যে কাউকে সহজে শহরের ব্যস্ততা থেকে স্বস্তির জগতে নিয়ে যাবে।

আকাশছোঁয়া ইনফিনিটি পুলের বাইরে নানা স্বাদের কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও আলোক-আবছায়া মিলিয়ে তৈরি অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা অতিথিদের অনায়াসে মুগ্ধ করে।

হোটেলটির উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ উদ্বোধনী অফার চলছে। এর মধ্যে দুজনের জন্য সকালের নাশতা, বেলা ১১টায় আগাম চেক-ইন, বেলা ২টায় লেট চেক-আউট, রেস্তোরাঁর খাবারে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। ১ হাজার ৫০ দিরহাম (প্রায় ৩৪ হাজার ৯১৭ টাকা) থেকে হোটেলের কক্ষের দাম শুরু। আইএইচজি সদস্যের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা তো আছেই।

সিয়েল দুবাই মেরিনা হোটেলের ৬১ তলায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে স্পা সেবা শুরু হবে। ব্যায়ামের সুযোগ-সুবিধা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এখান থেকে দেখা যাবে মনোরম স্কাইলাইন। শিশুদের জন্য রয়েছে অল্প পানির জলখেলার স্থান (স্প্ল্যাশ প্যাড), কিডস ক্লাবসহ নানা সুবিধা। ব্যবসায়ীদের জন্য ১৬ তলায় রয়েছে বৈঠক করার জায়গা।

সিয়েল দুবাই মেরিনা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল
সিয়েল দুবাই মেরিনা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে