Saturday, February 5, 2011

দাঙ্গার সময় মোদির পদক্ষেপ ছিল দলীয়: তদন্ত কমিটি

ভারতের গুজরাটে ২০০২ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি এই অভিমত দিয়ে মোদির কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের গঠিত ওই কমিটি তাঁদের প্রতিবেদনে বলেছে, সহিংসতার ঘটনাকে ততটা গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। যদিও হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় প্রাণ দিতে হয়েছিল দুই হাজারের বেশি মানুষকে। তবে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, সংঘাত মোকাবিলায় তিনি পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনটি এখন পর্যন্ত জমা দেওয়া হয়নি। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি ও তেহেলকা সাময়িকী জানিয়েছে, তাঁরা ছয় শ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের কপি পেয়েছে।
ভারত ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশটিতে গুজরাটের দাঙ্গার মতো ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা আর হয়নি। একটি ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬০ হিন্দু প্রাণ হারালে দাঙ্গা বেধে যায়। প্রধানত বিক্ষুব্ধ হিন্দুরা তিন দিন ধরে প্রতিবেশী মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালায় ও অনেককে হত্যা করে। ট্রেনে ওই আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দাঙ্গার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা মোদির নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে আসছে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেকে এ অভিযোগও করেন, মোদি পেছন থেকে উগ্র হিন্দুদের উসকে দিয়েছিলেন। তবে মোদি বা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ছোটখাটো কিছু অভিযোগ ছাড়া বড় ধরনের কোনো প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়নি, যার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের হত্যার ঘটনায় মোদি পরোক্ষভাবে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর মোদি আগুন লাগানো ট্রেনটি দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু যেখানে মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে, সেই আহমেদাবাদ পরিদর্শনে যাননি। এটা ‘পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ’।

রাজধানীর পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা

অতিঘনবসতিপূর্ণ আমাদের এই মহানগর ঢাকায় প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার পয়োবর্জ্য। এর মধ্যে ৩৫ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার সঠিক পদ্ধতিতে পয়ঃশোধনাগারে পৌঁছে শোধন হয়। ৭০ শতাংশ পয়োবর্জ্য শোধনাগারে পৌঁছানোর বা শোধন করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তা হলে এই বিপুল পরিমাণ পয়োবর্জ্য কোথায় যায়? কী ঘটে তার ফলে?
মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনটিতে যে বিবরণ পাওয়া গেল, তা এককথায় মারাত্মক। পুরান ঢাকার অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়ির পয়োনিষ্কাশনের নিজস্ব লাইনগুলো জুড়ে দেওয়া হয়েছে ওয়াসার পানিনিষ্কাশনের লাইনের সঙ্গে, ওয়াসার পানিনিষ্কাশনের লাইন গিয়ে পড়েছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। ফলে সে এলাকার ওই সব ঘরবাড়ির মনুষ্যবর্জ্য গিয়ে পড়ছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। একই প্রক্রিয়ায় পয়োবর্জ্যে দূষিত হচ্ছে বালু, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদী—ঢাকার চারপাশের অমূল্য প্রাকৃতিক স্রোতস্বিনীগুলো।
রাজধানীর পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থার এই বিপর্যয়-দশা কেন? দৃশ্যত মনে হচ্ছে এদিকে কখনোই কোনো কর্তৃপক্ষের বিশেষ মনোযোগ ছিল না। গত এক যুগে ঢাকার জনসংখ্যা যতই বাড়ুক, পয়োনিষ্কাশন লাইন বাড়েনি এক ইঞ্চিও। নব্বইয়ের দশকের এক হিসাবে দেখা গিয়েছিল, এই মহানগরে মোট পয়োনিষ্কাশন লাইন প্রয়োজন তিন হাজার ১৫৫ কিলোমিটার। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে মাত্র ৬৩১ কিলোমিটার। বিষয়টির প্রতি যে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি, তার প্রমাণ হলো এই ২০১১ সালেও মোট পয়োনিষ্কাশন লাইন রয়ে গেছে ৬৩১ কিলোমিটার। অর্থাৎ জনসংখ্যা ও পয়োবর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে, আর নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গিয়েছে কমে।
পয়োবর্জ্য শোধনের ব্যবস্থাও সামান্য। পাগলায় অবস্থিত ওয়াসার পয়ঃশোধনাগারে শোধন হতে পারে দৈনিক ৩৫ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার পয়োবর্জ্য, যা মোট উৎপন্ন পয়োবর্জ্যের মাত্র ৩০ শতাংশ। উপরন্তু শোধনাগারের মোট শোধনক্ষমতার অর্ধেক অকেজো।
এভাবে আর চলতে পারে না। পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে, মাটির নিচের বর্জ্য থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত চাপের ফলে নিষ্কাশন লাইনে বিস্ফোরণের ঝুঁকিও বাড়ছে। অবিলম্বে এদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পয়োনিষ্কাশন লাইন বাড়ানো, নতুন পয়ঃশোধনাগার স্থাপনসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে রাজধানী ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে হবে।

ভীত ও রক্তাক্ত কায়রোর রাজপথ by রবার্ট ফিস্ক

যেন পাথর পড়ছে আকাশ থেকে। লড়াইটা এত ভয়াবহ, চারপাশে রক্তের গন্ধ পাচ্ছিলাম।
‘প্রেসিডেন্ট’ মোবারকের প্রতিবিপ্লব এবার ঝাঁপিয়ে পড়ল প্রতিপক্ষের ওপর। ঝাঁপিয়ে পড়ল সেই শহরের বুকের ঠিক মাঝখানে, তিনি নাকি যার শাসক। উভয় পক্ষেই হাজার হাজার তরুণ। উভয় পক্ষই ওড়াচ্ছে মিসরের পতাকা। এই সংঘর্ষ ছিল ভয়াবহ, নৃশংস ও সুপরিকল্পিত। মোবারককে ঘৃণা করার চূড়ান্ত ন্যায্যতা এই ঘটনা। এই ঘটনা ওবামা-ক্লিনটন গংদের বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনক ভূমিকারও প্রমাণ, তাঁরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের বশংবদ শাসককে অস্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তাহরির স্কয়ারে তখন রক্তের ঘ্রাণ। যে নারী ও পুরুষেরা মোবারকের ৩০ বছরের স্বৈরচারীর অবসান চাইছে, ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তারাও। পাথর-বৃষ্টির মধ্যে অসীম সাহসে তারাও চালাচ্ছিল পাল্টা লড়াই। পরে এই সাহসই পরিণত হয় ভয়াবহ নিষ্ঠুরতায়। কয়েকজন মোবারকের এক পুলিশকে টেনেহিঁচড়ে চত্বরের মাঝখানে এনে ফেলে পেটাতে থাকে, যতক্ষণ না পুলিশটির মাথা ফেটে রক্তে তাদের পোশাক ভিজে যায়। মিসরের থার্ড আর্মি ১৯৭৩ সালে সুয়েজ খাল পেরোনোর জন্য কিংবদন্তি হয়ে আছে, তারাও পারেনি বা চায়নি আহত ব্যক্তিটিকে সাহায্য করতে।
হাজার মানুষের চিৎকার। রোমান সেনাদের মতো করে দুদল মিসরীয় পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যেন মিসর পা রাখল গৃহযুদ্ধের চৌকাঠে। আক্রমণের মুখে দেওয়া ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের আড়ালে আশ্রয় নেওয়া জনতার ঢলে বিহ্বল হয়ে পড়ে চত্বর পাহারা দেওয়া প্রহরীরাও।
আমার থেকে ২০ ফুট দূরের একটি মার্কিন আব্রামস ট্যাংকের কমান্ডার ঝাঁপিয়ে লুকালেন ট্যাংকটির ভেতর। মোবারকপন্থীরা এবার ট্যাংকটির ওপর উঠে বিক্ষুব্ধ তরুণদের ওপর পাথর বর্ষণ করতে থাকল। হামলা শুরু করে তারাই এবং যুদ্ধে যা হয়, উভয় পক্ষের কিছু আচরণ লড়াইকে আরও তীব্র করে। দিনশেষে তিনজনের মৃত্যুর খবর আসে। খবর পাই মোবারকপন্থীরা এবার বিদেশি সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করতে শুরু করেছে।
এতক্ষণে আমি দুই দলের মাঝখানে গিয়ে পৌঁছালাম। উভয় পক্ষ চিৎকার করছে, ঘৃণা মেশানো হাসিতে উপহাস করছে পরস্পরকে। তাদের মুখ ভেসে যাচ্ছে রক্তে। একসময় জনতা মোবারকপন্থীদের হামলা সামলে ওঠে, তাদের তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।
এই লড়াই মিসরীয়দের বিরুদ্ধে মিসরীয়দের। কিন্তু এই হামলাকারীদের আমরা কী নাম দেব? মোবারকপন্থী? ‘প্রতিবাদকারী’ অথবা ‘প্রতিরোধকারী’? মোবারককে যারা গদিছাড়া করতে চায়, তারাও তো নিজেদের বলছে প্রতিরোধকারী?
এ রকম এক প্রতিরোধকারী আমাকে বলল, ‘এটা মোবারকের কাজ, এরা মোবারকের ভাড়াটে লোক। মাত্র আরও নয় মাস ক্ষমতায় থাকার জন্য সে মিসরীয়দের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে মিসরীয়দের! সে পাগল হয়ে গেছে। আর তোমরা যারা পাশ্চাত্য থেকে এসেছ, তোমরাও কি পাগল?’ মনে নেই, কী উত্তর তাকে দিয়েছিলাম। কিন্তু কীভাবে ভুলি, কিছুক্ষণ আগেই তথাকথিত মধ্যপ্রাচ্য ‘বিশেষজ্ঞ’, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মিট রমনে বলেছেন, ‘মোবারক স্বৈরশাসক নন, রাজকীয় ধরনের শাসক।’ মোবারক কেমন লোক, তার উত্তরে টেলিভিশনে তিনি এই কথা বলেন।
এই রাজার বিরাট বিরাট ছবি বিতরণ করছে মোবারকের দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) কর্মকর্তারা। ব্যারিকেডগুলোর জন্য এটা নিঃসন্দেহে উসকানি। অথচ গত শুক্রবারই জনতা এই দলের সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। মাইকে তারা বাজাচ্ছে ‘অমর’ মোবারকের গান। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তো অমরই হতে চান। তাঁর ভাড়াটে গুন্ডারা টহল দিচ্ছে নতুন কেনা মোটরসাইকেলে।
বেতার ভবন পার হওয়ার সময় দেখলাম, শহরতলি থেকে কয়েক হাজার তরুণ আসছে। ছিল মেয়েরাও, বেশির ভাগই সনাতন কালো পোশাকের ওপর সাদা ওড়না পরা, তাদের সঙ্গে রয়েছে কিছু শিশুও। তারা বলছিল, তাদেরও অধিকার রয়েছে তাহরির স্কয়ারের ওপর। ঠিকই, প্রিয় প্রেসিডেন্ট যেখানে সবচেয়ে অপমানিত হয়েছেন, সেখানে গিয়েই তাঁকে ভালোবাসা জানানোর অধিকার তো তাদের রয়েছে।
এনডিপি বিভিন্ন জায়গায় তাদের দলের ক্যাডারদের জড়ো করেছে, যারা নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করে এবং রাজপথে যারা বিক্ষোভকারীদের হামলা করে। এমনকি উটের পিঠে চড়া তাদেরই একজন চিৎকার করে বলছে, ‘যে মোবারককে চেনে না, সে আল্লাহকেও চেনে না।’
এরাই গিয়ে আবার হামলা চালায় তাহরির স্কয়ারে। আবারও আকাশ ঢেকে যায় ছুড়ে দেওয়া পাথরে। ছয় ইঞ্চি ব্যাসের এক একটি পাথর যেন মর্টার শেলের মতো। মোবারকবিরোধীরাও সেটাই ছুড়ছে। জনতার ধাওয়া খেয়ে তারা আবারও পালাল। ঝাঁকে ঝাঁকে পাথর আসছে। একেকবারে শত শত। কিছু পরই আমার পাশে দেখলাম শত শত মোবারকবিরোধীকে। কিন্তু এখন তাদের স্লোগান বদলে গেছে। আর তারা ‘মোবারক নিপাত যাও’ বলছে না। বলছে, ‘আল্লাহ আকবর’। দিনমান বারবারই আমি এটা শুনলাম। একদলের ধ্বনি ‘মোবারক’, অন্য দলের ধ্বনি ‘আল্লাহ’। ২৪ ঘণ্টা আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না।
নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে গিয়ে একেবারে মোবারকপন্থীদের মাঝখানে পড়ে গেলাম। সত্য যে, আকাশ কালো করে পাথর পড়ছে বললে বেশি বলা হয়। কিন্তু একসঙ্গে শত শত পাথর এসে একটা ট্রাককে দুমড়ে দিল। মানুষগুলো ঘামছে, তাদের মাথায় লাল পট্টি, গলায় ঘৃণার গর্জন। অনেকেরই ক্ষতস্থানে সাদা কাপড় বাঁধা। অনেকেই রক্ত ঝরাতে ঝরাতে সরকারি দালালদের ধাওয়া করতে করতে আমাকে পেরিয়ে গেল।
ক্রমশই ইসলামপন্থীদের সংখ্যা বাড়তে দেখছি। তারা সমস্ত শক্তি দিয়ে নিচ্ছে আল্লাহর নাম। এ রকমটা হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু মোবারকই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। রাজনৈতিক শত্রুদের মাঠে নামানোর পাশাপাশি এদেরও টেনে এনেছেন তিনি। সুযোগ করে দিয়েছেন। বারবার এমন কিছু তরুণ জনতার হাতে ধরা পড়েছে, যাদের পোশাকের চিহ্ন থেকে বোঝা যায়, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোক। সেক্যুলার প্রতিরোধকর্মীরা এসব বন্দীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ইসলামপন্থীরা তাদের সব ক্রোধ ঢেলে দিচ্ছে দালালদের ওপর। এরই মধ্যে দুজন দশাসই মানুষ এসে এ রকম এক হতভাগাকে কাঁধে করে নিয়ে চলে গেল। এভাবেই বেঁচে গেছে মোহাম্মদ আবদুল আজিব মাবুরুক। পুলিশ সদস্য নম্বর-২১০২০৭৪।
এ সবকিছুর মধ্যে পরিহাসও ছিল। মধ্যদুপুরে মোবারকপন্থীরা তাহরির স্কয়ারের ভিড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল চার অশ্বারোহীসহ এক উট-আরোহীকে। জনতা তাদের টেনেহিঁচড়ে নামায়। তিন ঘণ্টা পরে ঘোড়াগুলোকে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। অন্যদিকে দেখি দুটো বালক-বালিকা। তাদের দুজনের হাতে দুটি দস্তরখান। মেয়েটির দস্তরখানে সিগারেট আর ছেলেটির দস্তরখান পাথর।
এবং এই ঘৃণা আর রক্তপাতের নাটকে কি ছিল পাশ্চাত্যের ভূমিকা? প্রতিদিন এই লজ্জার বিবরণ পাঠাতে পাঠাতে আমার আর তা পড়তে পড়তে আপনাদের হয়তো অনিদ্রায় পেয়ে বসে। গত বুধবার বেলা তিনটার দিকে, দেখলাম ব্রিটেনের লর্ড ব্লেয়ার সাহেব সিএনএন টেলিভিশনে খুব পেরেশানি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ‘পরিবর্তন-প্রক্রিয়ায় পাশ্চাত্যের অংশীদারির’ কথা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। বলছেন, কেন আমাদের সবচেয়ে চরমপন্থীদের তৈরি ‘নৈরাজ্য’ পরিহার করা দরকার। এবং বললেন, ‘যে সরকার আমাদের সমর্থিত গণতান্ত্রিকব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচিত নয়’ তার কথা। এটাই তাঁর মুখ থেকে শোনা সেরা কথা। বেশ, আমরা জানি, কোন ধরনের ‘গণতন্ত্রের’ কথা তিনি বলছেন এবং সেই গণতন্ত্র কেমন শাসক উপহার দেয়। হোসনি মোবারক ৩০ বছর ধরে তেমন গণতন্ত্র চালাচ্ছেন মিসরে।
রাস্তায় গুজব রয়েছে যে মোবারক—মিট রমনের বলা ‘রাজা প্রকৃতির শাসক’—শুক্রবারে মিসর ছেড়ে পালাতে পারেন। আমি নিশ্চিত নই; যেমন নিশ্চিত নই আসলে বুধবারে তাহরির স্কয়ারে আসলে কে জিতেছে। তাহলেও বেশি দিন এ রকম অচলাবস্থা চলবে না, বিজয়ীর চেহারা ঠিকই দেখা যাবে শিগগিরই। সন্ধ্যাবেলায়ও রাস্তায় পাথর গড়াগড়ি করছিল, পড়ছিল মানুষের ওপর। কিছু পরই এক ঝাঁক পাখি উড়ে যেতে দেখে আমি ভয়ে মাথা লুকালাম।
আরও কিছু ঘটনা
বুধবারের সংঘর্ষে কায়রোতে তিনজন নিহত এবং আহত এক হাজার ৫০০ জন, বিদেশি সাংবাদিকেরাও আক্রমণের শিকার।
মোহাম্মদ এলবারাদি সংঘাতকে দোষারোপ করেছেন ‘অপরাধীদের শাসনের অপরাধমূলক কাজ’ বলে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, সরকারি তরফের সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
মুসলিম ব্রাদারহুড জনগণকে ‘পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগ করে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।
লন্ডনের দি ইনডিপেন্ডেন্ট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: ফারুক ওয়াসিফ
রবার্ট ফিস্ক: দি ইনডিপেন্ডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি এবং আরব বিশেষজ্ঞ।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তধর্মীয় সংলাপ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও কল্যাণকামিতার ধর্ম। পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ এ জীবনবিধানের দিশারি বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শান্তির বার্তা নিয়ে ভূপৃষ্ঠে আগমন করেছেন। তিনি ছিলেন শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের মূর্ত প্রতীক ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’। নবী করিম (সা.) সব মানুষের জন্য প্রেরিত মহাপুরুষ। মক্কা বিজয়ের পর পলায়নরত ভিন্নধর্মাবলম্বী ইহুদি রমণীর বোঝা তিনি নিজের কাঁধে বহন করে তার কষ্ট লাঘব করেছেন। পবিত্র কোরআনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শান্তি, মুক্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য বিশ্ববাসীর রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-১০৭)
সত্য-সুন্দর, প্রগতিশীল, বিজ্ঞানসম্মত ও শান্তির ধর্ম ইসলাম মানবজাতিকে বিভক্ত করতে আসেনি, ঐক্যবদ্ধ করতে এসেছে। খাদ্যের পরই মানুষের প্রধান অন্বেষা শান্তি। ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা যা কিছুই থাক, সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তিই মানুষের চিরকালীন প্রার্থনা। শান্তি ছাড়া ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন দুটোই মূল্যহীন। মানুষ যা কিছু করে, যা কিছু চায়, সব এ শান্তি লাভের জন্যই। মানবজীবনে শান্তি কত যে মহামূল্যবান, তা উপলব্ধি করা যায় জীবনে শান্তি যখন দুর্লভ হয়ে পড়ে। ক্ষমতা লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অন্যের সম্পদ লুট করে বা বলপ্রয়োগ করে নিজের করে নেওয়ার তীব্র বাসনায় শান্তি ও মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। শান্তির জন্য মানবাধিকার অপরিহার্য। শান্তি প্রতিষ্ঠার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কাজেই সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির স্বার্থে সব ধর্মের অনুসারীদের প্রতি সদ্ভাব পোষণ করা অবশ্যকর্তব্য। তাই বলা হয়েছে, ‘মানব জাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটেছে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১১০)
বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বহুবিধ অন্তরায় বিদ্যমান। পৃথিবীর মানুষ আজ আরও বেশি করে শান্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মহামানবেরা যে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেছেন, এখনো সেই শান্তির প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে। মহানবী (সা.)-এর জীবনদর্শন ও উদারতার নীতির প্রতি বিশ্বের মানুষের যে আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে, একে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা রূপে অভিহিত করা যায়। আরব বণিক, অলি-আউলিয়া, পীর-দরবেশদের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে শান্তির ধর্ম ইসলাম এ ভূখণ্ডে এসেছিল। ইসলাম প্রচারকদের সাম্য-ভ্রাতৃত্বের ধর্মের মর্মবাণীতে বিমোহিত এ দেশের শান্তিকামী মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে সমবেত হয়েছিল। ইসলাম মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের মাধ্যমে দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এখানে কোনো বর্ণবৈষম্য নেই; ধনী-গরিব, উঁচু-নিচুর কোনো ভেদাভেদ নেই। এ ধর্মের শিক্ষায় ক্রীতদাসকেও সম্রাটের আসন দেয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মুয়াজ্জিনের আজানে সাড়া দিয়ে কোটিপতিরাও আকুল হয়ে মসজিদে ছুটে আসেন। বিত্তবান, বিত্তহীন, কৃষক, শ্রমিক, রাষ্ট্রপ্রধান এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ পবিত্র হজের সময় কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন। বিশ্বভ্রাতৃত্বের এর চেয়ে বড় শিক্ষা আর কী হতে পারে!
আন্তধর্মীয় জ্ঞান, সংলাপ ও সমঝোতা ছাড়া মানবজাতির পারস্পরিক সম্প্রীতি একান্তই অকল্পনীয়। সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তধর্মীয় সংলাপের উদ্দেশ্য একাত্মতা নয়, বরং ঐক্য ও উপলব্ধি, কর্তৃত্ব বা প্রভুত্ব নয়, বরং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। সংলাপের মূল লক্ষ্য হলো, সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মানুষের অন্তরে অন্য মানুষের জন্য কিছু সহানুভূতির উন্মেষ ঘটানো। আন্তধর্মীয় সংলাপ বা মতবিনিময় পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের নিয়ামক শক্তি। এ জাতীয় নৈতিক আলোচনা বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী এবং বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দল-মত ও পথের অনুসারীদের মধ্যে পরস্পর বোঝাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক এবং শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রকৃত কোনো অবদান রাখতে চাইলে প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক সংলাপ এ মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি।
অথচ পৃথিবীব্যাপী এখনো অশান্তি, উত্তেজনা, সহিংসতা ও সংঘর্ষের চিত্রই প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে। মানুষ যে শান্তিপূর্ণ বিশ্বের প্রত্যাশা করেছিল, তা এখনো সুদূর পরাহতই রয়ে গেছে। সর্বত্র যুদ্ধ আর সংগ্রাম, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানিই এখনো পৃথিবীর বাস্তবতা। তবু শান্তির অন্বেষণে ধর্মপ্রাণ মানুষের পদচারণ অব্যাহত রয়েছে। শান্তিই যেহেতু ইসলামের একমাত্র লক্ষ্য, সে কারণে ব্যক্তি বা সমাজজীবনে শান্তি ভঙ্গ করে এমন কোনো কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখাই ইসলামের সাধনা। শান্তির সপক্ষে কথা বলাই যথেষ্ট নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হবে। শান্তিতে বিশ্বাস করাই শেষ কথা নয়, শান্তির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। শান্তিকে প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি রূপে পরিগণিত করতে হবে। যেকোনো মূল্যে হতদরিদ্র ও উপেক্ষিত মানুষের দুয়ারে উন্নয়নের সুফল পৌঁছাতে হবে। বিশ্বের দরিদ্র, নিপীড়িত দেশ ও জনসাধারণের মধ্যে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা সৃষ্টির প্রয়োজনে সব ধরনের ঘৃণা, হিংসা ও বৈষম্য এবং দুর্বৃত্তায়নকে নির্মূল করে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দের ন্যায় মানুষকে নতুন করে উদাত্ত আহ্বান জানাতে হবে যে ‘বিভেদ নয়, সহায়তা; বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মতবিরোধ নয়, সমন্বয় ও শান্তির।’
বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী অসংখ্য মানুষ যখন শান্তির জন্য অস্থির ও দিশেহারা, তখন অরাজকতা, নৈরাজ্য, অপরাধ গ্রাস করছে সমাজজীবন। এমনই প্রেক্ষাপটে কেবল শান্তির সপক্ষে এক মিনিট নীরবতা পালন করে অথবা মোমবাতি জ্বালিয়ে, শান্তির গান গেয়ে অথবা শান্তির লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। প্রয়োজন ব্যাপকভিত্তিক শান্তির জন্য সামাজিক সম্প্রীতি। এ শান্তি আন্দোলন হতে হবে প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে, রাজনৈতিক মঞ্চে, অর্থনৈতিক ফোরামে, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে। সব ধর্মের মানুষের চিন্তা-চেতনায় শান্তির বার্তাকে আন্দোলিত করতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

ফুলদানিটির দাম সাড়ে ১১ কোটি টাকা!

এটি একটি চীনা ফুলদানি। রং, নকশা ও কারুকাজে মুসলিম ধাঁচ রয়েছে; রয়েছে শৈল্পিক গুণাবলি। মূল্য বিচার করতে গেলে তা আমলেই আসবে না। মনে হবে, একটি চীনামাটির ফুলদানির দাম আর কত হবে, তা যত সুন্দরই হোক না কেন?
কিন্তু ঐতিহাসিক পটভূমির কারণে ফুলদানিটি নিলামে ব্রিটিশ মুদ্রায় ১০ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হতে পারে; বাংলাদেশি মুদ্রায় যা হতে পারে সাড়ে ১১ কোটি টাকা। এমনটি আশা করছেন ব্রিটেনের নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ডিউকস অকশন হাউসের কর্মকর্তারা।
ব্রিটেনের একটি চকলেট কারখানার একজন অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক (৭৯) ফুলদানিটি নিয়ে হাজির হন ওই নিলামকারী প্রতিষ্ঠানে। ইংল্যান্ডের ডরসেটের ডোরচেস্টারে রয়েছে ডিউকস অকশন হাউস। ঐতিহাসিক পটভূমি থেকে ফুলদানিটির মূল্য বিচার করে অবাক হয়ে যান প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
‘মুনফ্লাস্ক’ বলে পরিচিত ওই ফুলদানি চীনের বিখ্যাত মিং সাম্রাজ্যের শাসনামলের। চাঁদের মতো গোলাকার বলে এর পরিচয়ে ‘মুন’ শব্দটি লেগেছে। বিশেষজ্ঞেরা ধারণা করছেন, ১৪০৩ থেকে ১৪২৪ সালের মধ্যে এটি তৈরি করা হয়। তাঁদের মতে, মিং রাজবংশের সম্রাট ইয়ংলের শাসনামলে ফুলদানিটি তৈরি করা হয়। এটি ৬০০ বছর ধরে অক্ষত রয়েছে, যা ভাবাই যায় না!’ আগামী ১২ মে এটি নিলামে তোলা হতে পারে।

উলফার সাধারণ পরিষদে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব গৃহীত

আসামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে উলফার সাধারণ পরিষদে। দলের সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়াকে বাদ দিয়েই এই শান্তি আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই বলে জানানো হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী দলের সাধারণ পরিষদে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্য দুই সদস্য আত্মগোপনকারী পরেশ বড়ুয়া ও জীবন মারানের সম্মতির জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মতামত পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় যোগদানের কথা ঘোষণা করে তাদের একটি দাবিসংবলিত প্রামাণ্য নথি মধ্যস্থতাকারী প্রদ্যোৎ চন্দ্র হালদারের কাছে তুলে দেবে উলফা। শনিবার এই ঘোষণা হতে পারে।
পরেশ বড়ুয়া ও জীবন মারান ছাড়া উলফার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বাকি সব নেতাই আসামে রয়েছেন। তবে পরেশ ও জীবন আলোচনার ব্যাপারে আগ্রহী নন বলে আগেই জানিয়েছেন।
উলফা সূত্রে বলা হয়েছে, পরেশ বড়ুয়া ও জীবন মারান যদি আলোচনার পক্ষে মত না দেন, তাহলে দল থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হতে পারে। উলফার এক নেতা জানান, গত ২৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভা বসেছিল। এই বৈঠকে কোনো রকম শর্ত ছাড়াই শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় উলফা। একই সঙ্গে সার্বভৌমত্বের দাবি থেকেও তারা সরে এসেছে। এর পরই এই প্রস্তাব গৃহীত হয় দলের সাধারণ পরিষদে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য নলবাড়িতে দলের সাধারণ পরিষদে পেশ করা হয়। সেখানে সেটি অনুমোদিত হয়েছে বলে উলফা সূত্রে জানানো হয়েছে। জানা গেছে, আলোচনার জন্য দাবিপত্রের খসড়া তৈরি করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে গঠিত ’সম্মিলিত জাতীয় অভিবর্তন’কে।

মহা ধুমধামে চান্দ্রবর্ষ বরণ

চীনে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে নেচে, গেয়ে, পটকা ফাটিয়ে, আতশবাজি পুড়িয়ে মহা ধুমধামে চান্দ্র নববর্ষ বরণ করা হয়েছে। চীনের চান্দ্রবর্ষ ১২টি প্রাণীর নামে আবর্তিত হয়। এর মধ্যে চতুর্থ সদস্য হলো খরগোশ। সে অনুযায়ী এবারের চান্দ্রবর্ষ হলো ‘খরগোশের বছর’।
সুখ-সমৃদ্ধি আর কল্যাণের মধ্য দিয়ে নতুন বছর কাটবে—বর্ষবরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই ছিল সবার প্রার্থনা। শুধু চীনেই এই উৎসব থেমে থাকেনি—মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই দেখা গেছে এই আনন্দের জোয়ার।
চীনের রাজধানী বেইজিং ও সাংহাইসহ বিভিন্ন শহরে গতকাল মধ্যরাতে শুরু হয় বর্ষবরণের উৎসব। এ সময় রাস্তাঘাট, নগর প্রাঙ্গণে অনেকে মেতে ওঠে আতশবাজি পোড়ানো ও পটকা ফাটানোর আনন্দে। উপাদেয় খাবারে ঘরে ঘরে চলে ভূরিভোজ। চলে গান-বাজনা ও ঐতিহ্যবাহী সিংহনাচ। এ সময় বড়দের কাছ থেকে লাল রঙের খামে নগদ অর্থ সেলামি পায় ছোটরা।
চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ও প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও আতশবাজি পুড়িয়ে নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এবার নববর্ষ উপলক্ষে চীনে নয় লাখ বাক্স আতশবাজি বিক্রি হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানা যায়।
চীনের এই নববর্ষের উৎসব দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ডার্লিং হারবারে বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
মহাপ্রাচীরের দেশ চীনে ঐতিহ্যবাহী চান্দ্র নববর্ষ শুরু হয়েছে গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি। শেষ হবে আগামী বছরের ২২ জানুয়ারি।

২০১২ সালের নির্বাচনেও জয়ী হব: শাভেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পরবর্তী আরও ছয় বছরের জন্য দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্ষমতায় আরোহণের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণে শাভেজ তাঁর সামাজিক বিপ্লবকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তেলসমৃদ্ধ দেশটির ৫৬ বছর বয়স্ক এই নেতা জনগণের উদ্দেশে বলেন, দেশ চালাতে গিয়ে যদি তাঁর কোনো ভুলত্রুটি হয়, তাহলে তারা যেন নিজগুণে তাঁকে ক্ষমা করে দেন। তাঁর শাসনামলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শাভেজ বলেন, দারিদ্র্য দূর ও শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটিয়ে তাঁর সরকার প্রথম মেয়াদেই জনগণের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও শাভেজ সামনে আরও ছয় বছর ক্ষমতায় থাকার ঈঙ্গিত দিয়ে বলেন, ২০১২ সালে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে তাতেও জয়ের ব্যাপারে তিনি পূর্ণ আশাবাদী। ওই নির্বাচনের প্রচার ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দেশের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে স্পস্টবাদী এই নেতা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় যাঁরা বাড়িঘড় হারিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে বসতবাড়ি তৈরি করে দেওয়া তাঁর সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করাও তাঁর সরকারের একটি অগ্রাধিকার বিষয়।
২০১২ সালের নির্বাচনে বিরোধী দল কাকে শাভেজের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাবে তা এখনো নির্ধারণ করেনি। গত বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস নির্বাচনে বিরোধী পক্ষ প্রায় অর্ধেক ভোট লাভ করে।
ভেনেজুয়েলায় শাভেজ বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছেন, শাভেজ তেল বিক্রির টাকা ইচ্ছেমতো খরচ করছেন। অর্থনীতিকে পরিচালিত করছেন ভুল পথে। ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। এ ছাড়া শাভেজ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর সময় দেশে খুন-খারাবিও বেড়ে গেছে।
২০০৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে শাভেজ দেশের সংবিধান পরিবর্তন করেন। ওই সংবিধানেই তাঁকে পরবর্তী মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করার অধিকার দেওয়া হয়।

দেশে থাকার দাবিতে কিউবায় দুই রাজনৈতিক কারাবন্দীর অনশন

কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠানোর প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন দুজন রাজনৈতিক কারাবন্দী।
গত মঙ্গলবার থেকে মুক্তি এবং মুক্তির পর নিজ দেশে থাকার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে তাঁরা অনশন শুরু করেন। অনশনকারী বন্দীরা হলেন দিয়োসদাদো গঞ্জালেজ ও পেদ্রো আরগুয়েলস।
এর আগে কিউবার রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে ক্যাথলিক চার্চের একটি চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী মুক্তির পর বন্দীরা কিউবায় থাকতে পারবেন না বলে জানানো হয়। এরপর গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট কাস্ত্রো ৫২ জন রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কারা পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবিতে ৮৫ দিন অনশনে থাকা এক কারাবন্দীর মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে কিউবা। এর পরই বন্দীদের মুক্তির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে কারাগারে আটক যে ৫২ জনকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে কাস্ত্রো অঙ্গীকার করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ১১ জন অজ্ঞাত কারণে এখনো বন্দী আছেন।
অনশন শুরু করা ওই দুই বন্দী স্পেন যেতে রাজি নন। তাঁরা নিজ দেশেই মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া বন্দীদের একজন ছাড়া বাকি সবাই স্পেন যেতে সম্মত হন।

চীনের অস্ত্র যাচ্ছে জঙ্গিদের হাতে

সংবাদমাধ্যম ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যে বলা হয়েছে, চীনের তৈরি নানা ধরনের অস্ত্র যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতে। ইরাক ও আফগানিস্তানের জঙ্গিরা মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করছে, তার সিংহভাগই চীনের তৈরি। এসব অস্ত্র ইরানের মাধ্যমে জঙ্গিদের হাতে পৌঁছেছে। আর এটা ঘটছে চীন জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রির জন্য।
উইকিলিকসের তথ্যে বলা হয়েছে, মার্কিন কূটনীতিকেরা আশঙ্কা করছেন যে চীনের বিভিন্ন কোম্পানি ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করছে, যেগুলো দিয়ে দেশটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করতে পারে।
চীনের তৈরি বন্দুক, রকেটচালিত গ্রেনেড, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ অনেক অস্ত্র ইরাকের গেরিলারা মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। আফগান জঙ্গিরা যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করছে সেগুলোও চীনের তৈরি।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীন বিভিন্ন অস্ত্র ও সামরিক উপকরণ বিক্রি করছে ইরানের কাছে। এগুলো আবার ইরানের হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কাছে। এ ব্যাপারে চীনের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ব্যাপক কূটনৈতিক চেষ্টা চালায় বলেও উইকিলিকস জানায়।
সে সময় স্পেন, ইতালিসহ আটটি দেশকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি জোট গড়ে তোলে। এদের কাজ ছিল চীনের অস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা এবং দেশটি যাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব মোতাবেক ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করে সে ব্যাপারে দেশটিকে প্রভাবিত করা।
উইকিলিকসের নথিতে বলা হয়, চীনের তৈরি নতুন ধরনের হালকা অস্ত্রগুলো ইরান কিছুটা সংযোজন-বিয়োজন করে এর পর জঙ্গিদের হাতে তুলে দেয়।

আমাকে স্বৈরাচারী বললে হাসি পায়: দুভালিয়ের

হাইতির সাবেক একনায়ক জ্যঁ ক্লদ দুভালিয়ের বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কঠোর পরিশ্রম করতে এবং বিপর্যস্ত দেশটির পুনর্গঠনে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। তিনি বলেন, লোকজন তাঁকে স্বৈরাচারী বললে তাঁর হাসি পায়। ২৫ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিলেন দুভালিয়ের।
স্প্যানিশ ভাষার ইউনিভিশন টেলিভিশনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ‘বেবি ডক’ নামে পরিচিত দুভালিয়ের তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। গত মাসে অপ্রত্যাশিতভাবে দেশে ফেরার পর স্থানীয় আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনেন।
সুইস ব্যাংকের একটি বন্ধ হিসাবে ৬০ লাখ ডলারসহ হাইতির নাগরিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
দুভালিয়ের বলেন, ‘বিগত ২৫ বছরে সুইজারল্যান্ড অথবা পৃথিবীর অন্য কোথাও আমার কোনো “হিসাব বন্ধ” ছিল না। তিনি সুইস ব্যাংকের হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই হিসাবটি ছিল একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের। এর প্রতিষ্ঠাতা তাঁর মা সিমন।’
সাক্ষাৎকারে দুভালিয়ের বলেন, ‘লোকজন আমাকে স্বৈরশাসক বললে হাসি পায়। তখন মনে হয় তাঁদের স্মৃতি বিলোপ হয়ে গেছে।’
দুভালিয়ের বলেন, ‘বিশ্ববাসী ভুলে গেছে, ১৯৮৬ সালে কোন পরিস্থিতিতে আমাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল।’

মার্কিন কূটনীতিকের আরও আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

দুই পাকিস্তানিকে হত্যার দায়ে আটক মার্কিন কূটনীতিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও আট দিন সময় দেওয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের একটি আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। এদিকে ওয়াশিংটন বলেছে, ডেভিস একজন কূটনীতিক; তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার ডেভিসকে ম্যাজিস্ট্রেট জাফর ইকবালের আদালতে হাজির করে। এ সময় সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
আইনজীবী আবদুল সামাদ বলেন, ডেভিসকে হাজির করার পর তদন্তের কাজ এখনো শেষ হয়নি বলে পুলিশ কর্মকর্তারা আদালতকে জানান এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময় প্রার্থনা করেন। এরপর আদালত তাঁর আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সামাদ জানান, ডেভিসকে আদালতে হাজির করার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি।
ডেভিস গত ২৭ জানুয়ারি লাহোরের রাস্তায় মোটরসাইকেল আরোহী পাকিস্তানের দুই নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে জোড়া খুনের মামলা করে। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ডেভিস বলেছেন, ডাকাতদের কবল থেকে নিজেকে বাঁচাতেই তিনি গুলি চালিয়েছেন।

ইয়েমেনে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ

ইয়েমেনে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধীরা বিক্ষোভ করেছে। সানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ হাজারের বেশি মানুষ গতকাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর পদত্যাগ দাবি করে। অন্যদিকে সানার আল-তাহরির স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ আগামী মেয়াদে ক্ষমতায় না থাকার ঘোষণা দিয়ে গত বুধবার বলেন, তিনি ২০১৩ সালে সরে দাঁড়াবেন। দুটি প্রধান বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী তিনি এপ্রিলের বিতর্কিত নির্বাচনও বাতিল করে দেন। কিন্তু তাঁর এসব ঘোষণায় আশ্বস্ত হতে না পেরে গতকালও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। সরকারের পরিবর্তন দাবি করে তারা জানায়, এই ঘোষণা যথেষ্ট নয়।
বিরোধীদলীয় নেতারা গতকালের দিনটিকে ‘ক্ষোভ প্রকাশের দিন’ বলে উল্লেখ করে বলেন, তাঁরা প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ ঘোষণাটি পর্যালোচনা করে দেখবেন।
নেতারা বলেন, প্রেসিডেন্টের জেনারেল পিপলস কংগ্রেস পার্টির সশস্ত্র অনুসারীদের আল-তাহরির স্কয়ারে সমবেত হতে দেখার পর তাঁরা আর বসে থাকতে পারেননি। প্রেসিডেন্টের অনুসারীরা তাঁর ছবি নিয়ে বুধবার রাতেই তাঁবু খাটিয়ে সেখানে আশ্রয় নেন।
গতকাল সকাল থেকেই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হয় সানা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ধীরে ধীরে তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভে গতকালই সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হয়।
সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ‘জনগণ পরিবর্তন চায়’, ‘দুর্নীতি নয়, স্বৈরতন্ত্র নয়’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা ব্যানার বহন করে। বিক্ষোভস্থলের অদূরে পুলিশ অবস্থান নেয়।
এদিকে, আল-তাহরির স্কয়ারে সমবেত হওয়া প্রেসিডেন্টের অনুসারীরা তাঁর প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করে। তারা ‘আমরা আলী আবদুল্লাহ সালেহর সঙ্গে আছি’, ‘ইয়েমেনের সঙ্গে আছি’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা ব্যানার বহন করে।

চীনের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

গত কয়েক বছরে গোপন ‘তারকা যুদ্ধ’-এর মাধ্যমে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামার অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া গোপন কূটনৈতিক নথির ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকা।
গোপন নথি থেকে দেখা গেছে, পরমাণু শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই দেশই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের কৃত্রিম আবহাওয়া উপগ্রহ (ওয়েদার স্যাটেলাইট) ধ্বংস করেছিল।
চীনের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র এতটাই ক্রুদ্ধ হয়েছিল যে চীন যদি ‘তারকা যুদ্ধ’-এর নামে অস্ত্র প্রতিযোগিতা থেকে বিরত না হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু মার্কিন হুমকিতে বিরত হয়নি চীন। সর্বশেষ গত বছরও তারা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে উপগ্রহ ধ্বংস পরীক্ষা চালায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আবারও এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
চীন পাল্টা অভিযোগের মাধ্যমে মার্কিন বিরোধিতার জবাব দেয়। চীন অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র লেজার অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নতি করছে, যা শত্রু কোনো দেশ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধ্বংস করে ফেলতে পারবে।
তারকা যুদ্ধের অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয় ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে। ওই সময় চীন তাদের নিজেদের একটি আবহাওয়া উপগ্রহ ভূমি থেকে ৫৩০ মাইল ওপরে ধ্বংস করে দেয় ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, চীন মহাকাশে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
ওই ঘটনার এক বছর পর ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষামূলকভাবে মহাশূন্যে তাদের বিগড়ে যাওয়া একটি উপগ্রহ ধ্বংস করে ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে। এতে করে চীনের কাছে মনে হয়, মহাকাশে আক্রমণ করার মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রেরও আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই সময় দাবি করেছিল, তাদের ওই গোয়েন্দা উপগ্রহটিতে কিছু ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটিকে ধ্বংস করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। এর পেছনে কোনো সামরিক উদ্দেশ্য নেই।
তবে দুই দেশের ওইসব কর্মকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানা গেছে ফাঁস হয়ে যাওয়া গোপন নথি থেকে। দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরীক্ষার এক মাস আগে চীনের উপগ্রহ বিধ্বংসী পরীক্ষার সমালোচনা করে বলেছিল, ‘চীন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে উপগ্রহ ধ্বংস করায় মহাকাশ-ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করে থাকে। মার্কিন মহাকাশ-ব্যবস্থায় উদ্দেশ্যমূলক কোনো হস্তক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অধিকারের লঙ্ঘন ও সংকট বা সংঘাত বৃদ্ধি বলেই বিবেচনা করবে। জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের এই অধিকার আছে এবং নিজেদের মহাকাশ-ব্যবস্থাকে রক্ষায় কূটনৈতিক থেকে শুরু করে সামরিক সব পদক্ষেপই বিবেচনা করা হবে।’
গোপন নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপগ্রহ ধ্বংসের পেছনে সামরিক কোনো উদ্দেশ্য নেই বলে প্রকাশ্যে দাবি করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসলে তা সামরিকই ছিল। ওই পরীক্ষার পরপরই ওয়াশিংটন থেকে বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসে একটি বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তায় নিশ্চিত করা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর কমান্ড থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সফল হয়েছে।
ওই পরীক্ষার পর আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক নথি থেকে দেখা যায়, জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী রাডার স্থাপনের পরিকল্পনার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন চীন।
এসব বিষয়ে ফাঁস হওয়া সর্বশেষ নথিটি ২০১০ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের দপ্তর থেকে পাঠানো হয় বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসে। এতে দাবি করা হয়, চীন নতুন করে উপগ্রহ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন।

ইয়াসির আঘাতে লন্ডভন্ড অস্ট্রেলিয়ার উপকূল

বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেছেন, বাংলাদেশের বাজারদর আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এর প্রতিফলন দেখা যাবে পাশের দেশের সঙ্গে দ্রব্যমূল্য তুলনা করলে।
তার পরও গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার চাল ও গমের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছে এবং ওএমএস, ভিজিএফ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসাধারণকে সহনীয় মূল্যে পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) ওয়েবসাইট (www.icsb.edu.bd) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিকে সিন্ডিকেটের তৎপরতা ছিল। কিন্তু সরকারের নিবিড় বাজার পর্যবেক্ষণের কারণে বর্তমানে কোনো সিন্ডিকেট নেই।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের স্বচ্ছ ধারণা দিতে চার্টার্ড সেক্রেটারিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আইসিএসবির সভাপতি মোহাম্মদ সানাহউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক বাণিজ্যসচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও ফিরোজ আহমেদ, আইসিএসবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. শহীদ ফারুকী, সহসভাপতি এম নাসিমুল হাই, কোষাধ্যক্ষ মো. মনিরুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসির আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। লাখ লাখ একর জমির ফসল পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে গেছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত কেউ নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসির সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার। ঝোড়ো বাতাসসহ সর্বোচ্চ মাত্রার এ ঘূর্ণিঝড়টি স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলে আঘাত হানে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের টালি শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় কার্ডয়েল শহরে চলেছে ইয়াসির তাণ্ডব। টালি শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ৯০ শতাংশই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
টাউন্সভিল শহরে এক লাখ ৭৭ হাজার ঘরবাড়ি ও পর্যটনকেন্দ্রের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রায় ৫০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান অর্থকরী ফসল কলার খামার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কলা সরবরাহ ৭৫ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের ইনিসফেইল থেকে কার্ডওয়েল অতিক্রম করে। এ সময় দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে সমুদ্রে উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রধান কৃষি ও পর্যটন এলাকায় ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
কুইন্সল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী আনা ব্লাই বলেছেন, বহু মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, খেতখামার, ফসল ও সম্পদ হারিয়েছে।
এরই মধ্যে ঝোড়ো বাতাসে প্রধান প্রধান শহরের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাস্তার ওপর বিশাল আকৃতির গাছ ভেঙে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেছেন, তাঁরা ঝড়ে অনেক ঘরের ছাদ উড়ে যেতে দেখেছেন। ১৯১৮ সালের পর এবারই অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ মাত্রার কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে।
সমুদ্রতীরবর্তী ১০ হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে আগেই ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে স্থানসংকুলান না হওয়ায় অনেককে ফিরে যেতে হয়। এ ছাড়া এখনো হাজার হাজার মানুষ বাড়িতেই অবস্থান করছে। এখনো কেউ নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া না গেলেও আনা ব্লাই বলেছেন, সার্বিক তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সবাই এ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে, তা বলা যাবে না।

দেশের বাজারদর বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেছেন, বাংলাদেশের বাজারদর আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এর প্রতিফলন দেখা যাবে পাশের দেশের সঙ্গে দ্রব্যমূল্য তুলনা করলে।
তার পরও গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার চাল ও গমের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছে এবং ওএমএস, ভিজিএফ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসাধারণকে সহনীয় মূল্যে পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) ওয়েবসাইট (www.icsb.edu.bd) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিকে সিন্ডিকেটের তৎপরতা ছিল। কিন্তু সরকারের নিবিড় বাজার পর্যবেক্ষণের কারণে বর্তমানে কোনো সিন্ডিকেট নেই।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারের কোনো কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের স্বচ্ছ ধারণা দিতে চার্টার্ড সেক্রেটারিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আইসিএসবির সভাপতি মোহাম্মদ সানাহউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক বাণিজ্যসচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও ফিরোজ আহমেদ, আইসিএসবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. শহীদ ফারুকী, সহসভাপতি এম নাসিমুল হাই, কোষাধ্যক্ষ মো. মনিরুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পোশাকশিল্পে ন্যূনতম মজুরি বিষয়ে এমএফবির আলোচনা

মাল্টিস্টেকহোল্ডার ফোরাম বাংলাদেশ ফর গার্মেন্টসের (এমএফবি) উদ্যোগে সম্প্রতি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘পোশাকশিল্পের নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহ ও করণীয়’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল আলম, বিজিএমইএর সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এবং দ্বিতীয় সহসভাপতি ও এমএফবির চেয়ারম্যান মো. সফিউল ইসলাম বক্তব্য দেন।

বিশ্বে পণ্যবাজার ক্রমেই তেতে উঠছে

সারা বিশ্বে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বেড়ে যাচ্ছে মূল্যস্ফীতির চাপ। আর দেশে দেশে খাদ্যমূল্য নিয়ে দাঙ্গা বাধার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মিসরের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে গতকাল জ্বালানি তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের খুব অল্পই মিসর জোগান দেয়।
কিন্তু লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্তকারী সুয়েজ খাল ও ২০০ মাইল দীর্ঘ সুমেদ পাইপলাইন মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে তেল সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি পথ। প্রতিদিন এ দুই পথে ২১ লাখ ব্যারেল পরিবাহিত হয়। যদি এ পথ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ ঘুরে ছয় হাজার মাইল পথ বাড়তি পারি দিয়ে ইউরোপে যেতে হবে।
তবে জ্বালানি তেলের চেয়ে অনেক বেশি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে খাদ্য সামগ্রীর দাম বেড়ে চলা। গতকাল ভারতের খাদ্যের মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের শেষে এসে দেশটির খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার ১৭ শতাংশ অতিক্রম করে গেছে। অথচ দ্বিতীয় সপ্তাহেই এই হার ছিল সাড়ে ১৫ শতাংশ।
সবজি, ফল ও দুধের দাম বেড়ে চলার প্রভাবে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি আরও উর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর বার্ষিক ভিত্তিতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এসে ভারতে পেঁয়াজের দাম ১৩০ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়েছে।
শুধু ভারতই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই খাদ্যের দাম বাড়ছে অনেক দ্রুত গতিতে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার নেতিবাচক প্রভাবে দাম বাড়ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
তবে যে কারণেই দাম বাড়ুক না কেন, তা সহসা কমে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না কেউ। বরং ভবিষ্যতে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার এবং দেশে দেশে খাদ্য নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কাটি জোরদার হচ্ছে।
ইতিমধ্যে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক ও আলজেরিয়ায় এ রকম দাঙ্গা বেধেছে। অচিরেই তা আফ্রিকার অন্য দেশগুলোয় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চিনির দাম বিশ্ববাজারে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম এখন ৩০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে আর্জেন্টিনায় ভুট্টার ফলন কমে যেতে পারে। আর দেশটি বিশ্বে ভুট্টার দ্বিতীয় বৃহত্তম আর সয়াবিনের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক।
প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও মধ্য আমেরিকায় কফির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিজনিত কারণে ব্রাজিলের সয়াবিনে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবার ব্রাজিল বিশ্বের মোট চিনি রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দেয়। বৈরী আবহাওয়া দেশটি থেকে চিনি আমদানিকারকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বন্যা। এতে দেশটির ইক্ষু উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউইয়র্কে গত বুধবার অশোধিত চিনির দাম প্রতি পাউন্ড ৩০ সেন্টের ওপরে উঠে গেছে, যা ১৯৮০ সালের পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানির পরিমাণ কমিয়ে দেবে যা অনিবার্যভাবেই বিশ্বে গমের জোগান কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। প্যারিসে প্রতি টন গমের দাম উঠেছে ২৬৯ দশমিক ৭৫ ইউরোতে যা কি না ২০০৮ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। প্যারিসের দরকে ইউরোপের জন্য নির্দেশক দর ধরা হয়। কারবারিরা আশঙ্কা করছেন, খুব শিগগির গমের দর টনপ্রতি ৩০০ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে গমের বাজারের অবস্থা ২০০৭-০৮ সময়কালের খাদ্য সংকটের চেয়েও খারাপ হয়ে পড়বে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা ও সয়াবিনের মজুদও সম্প্রতিকালের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই খবর এই দুই পণ্যের বাজার দরকে আরও চড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম পণ্যের বাজার হিসেবে পরিচিত শিকাগো কমোডিটি এক্সচেঞ্জে প্রতি বুশেল ভুট্টা ছয় ডলার ৭৪ সেন্ট ছাড়িয়ে গেছে যা ২০০৮ সালের জুলাইর পর সর্বোচ্চ। আর সয়াবিনের দর বুশেল প্রতি ১৪ ডলার ৫২ সেন্টে গিয়ে ঠেকেছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার নেতিবাচক প্রভাবে দাম বাড়লেও পণ্য বাজারে ফাটকা কারবার এই দামকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে যেখানে বিশ্বে পণ্যের কারবারে তিন শতাংশ ছিল হেজ ফান্ড, সেখানে ২০১০ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে।
শেয়ারবাজারের মতো পণ্য বাজারেও ফাটকা কারবারিরা উঁচু মুনাফার প্রত্যাশায় প্রচুর টাকা ঢালতে শুরু করেছে। এর ফলে বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের দাম।
সূত্র: ফাইনান্সিয়াল টাইমস ও ইকোনমিক টাইমস

ভারতে ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে এখন ভারতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শক্তিশালী হচ্ছে। তবে গত ডিসেম্বরে ভারতে রপ্তানি বেশি বেড়েছে। সেই তুলনায় আমদানি কমেছে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ গত ১৩ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ডিসেম্বরে মোট রপ্তানি বেড়ে দুই হাজার ২৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬.৪ শতাংশ। এটাই গত ৩৩ মাসে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের রেকর্ড।
অন্যদিকে ডিসেম্বরে ভারতে আমদানির পরিমাণ ১১ দশমিক ১ শতাংশ কমে দুই হাজার ৫১০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কমে ২৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ এর আগের মাস নভেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮৯০ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্যসচিব রাহুল খুল্লার জানান, চলতি অর্থবছর শেষে রপ্তানি বাণিজ্যে ২২ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে ভারতের আমদানি কমায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণও ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। গত বছর আগস্টে যেখানে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩৬০ কোটি ডলার, সেখানে তা কমে এখন মাত্র ২৬০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

তদন্ত কমিটিকে তথ্য সরবরাহের আহ্বান

শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটিকে প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ, ক্রয়-বিক্রয়কারী, এতদবিষয়ক সংস্থা, কোম্পানি, গবেষক, অবলোকনকারীসহ সর্বসাধারণের প্রতি তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির তদন্তকাজ বিশেষ করে শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করতে যেকোনো তথ্য, ইঙ্গিত বা সুপারিশ লিখিতভাবে কমিটির কাছে পাঠানো যাবে। প্রেরকের ইচ্ছা অনুসারে কমিটি তার নাম-পরিচয় গোপন রাখবে।
যে কাগজে বা খামে তথ্য পাঠানো হবে তার ওপর ‘তদন্ত কমিটির জ্ঞাতার্থে’ কথাটি লিখে দিতে হবে।
আগ্রহী ব্যক্তিদের নিম্নোক্ত নম্বরে ফ্যাক্স ও ই-মেইল করতে বলা হয়েছে। ফ্যাক্স নম্বর: ৯০০৬৭৫৬, ৯৫৫২৪১০ ও ৮১১৯২৯৮। ই-মেইল— tacbibm@yahoo.com, chairman@krishibank.org.bd, hvc@bangla.net.
শেয়ারবাজারে সংঘটিত সাম্প্রতিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদকে চেয়ারম্যান করে গত ২৫ জানুয়ারি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিস্তারিত তদন্ত শেষে দুই মাসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিনে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ও লেনদেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় বড় বিনিয়োগকারীরা বিশেষত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে দূরে থাকায় এই অবস্থা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ লালি বলেন, বিভিন্ন কারণে বর্তমানে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। তাই বাজারে তারল্য সংকট বিরাজ করছে। তাঁরা ফিরে এলে এ সংকট অনেকাংশে কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যথাযথ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ১৮৩ দশমিক ৮০ পয়েন্ট কমে সাত হাজার ১২৫ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২২টির, কমেছে ২৩১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৩৬ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে পাঁচ কোটি টাকা কম।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ৫১১ দশমিক ০৩ পয়েন্ট কমে ২০ হাজার ২৭২ দশমিক ৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র পাঁচটির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইতে ৯১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

ওয়াকার অধিনায়ক চাইছেন আফ্রিদিকেই

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিশ্বকাপের অধিনায়কের নাম ঘোষণা করার কথা আজই। এর আগে পাকিস্তান কোচ তাঁর ভোটটা দিয়ে দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদিকে। ২০০৮-এর নভেম্বরের পর পাকিস্তানকে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জেতানো অধিনায়ককেই রেখে দিতে বলেছেন পাকিস্তানের কোচ।
আফ্রিদির নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডে সফল একটি ওয়ানডে সিরিজ কাটল পাকিস্তানের। সেই প্রসঙ্গ টেনে ওয়াকার বলেছেন, ‘কঠিন প্রশ্ন, কিন্তু আমার মনে হয় এটাই হওয়া উচিত।’ এর আগে অধিনায়ক নিয়ে মন্তব্য করে পিসিবির কারণ দর্শাও নোটিশ পেয়েছিলেন ওয়াকার। তখন তিনি একই সঙ্গে দল ও অধিনায়কের নাম ঘোষণা করতে বলেছিলেন। যেটা না হলে ‘অহেতুক ইস্যু তৈরি হবে’ বলেছিলেন ওয়াকার।
আফ্রিদি নাকি মিসবাহ-উল হক? বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক এ দুজনের মধ্যে কে হবেন, এই জল্পনা অনেক দিন থেকে চলছে পাকিস্তানে। ওয়াকারের ভোটটি যেমন আফ্রিদির পাতে পড়েছে, তেমনই জনমত জরিপসহ সাবেক ক্রিকেটারদের বেশিরভাগই মত দিয়েছেন আফ্রিদির পক্ষে।

জাতীয় টেনিস

রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে আজ শুরু হচ্ছে সনি জাতীয় টেনিস প্রতিযাগিতা। পৃষ্ঠপোষতা করছে র‌্যাংগস ইলেকট্রনিক্স। ঢাকার বাইরের পনেরটিসহ আট দিনের প্রতিযোগিতায় ৩৫ দলে খেলছেন ৩৪৯ জন খেলোয়াড়। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের টেনিস এগিয়ে যাবে—কাল টেনিস ফেডারেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা রেখেছেন এমন আশাবাদ।

এগিয়ে সিদ্দিকুর

গ্রামীণফোন বাংলাদেশ মাস্টার্স গলফের প্রথম দিন শেষে সবার ওপরে থাকা তিনজনই বাংলাদেশের। শীর্ষে আছেন সিদ্দকুর রহমান। এরপর এ মতিন ও লিটন হাওলাদার। ছয় শট কম খেলে সিদ্দিকুরের পয়েন্ট ৬৬। মতিন খেলেছেন চার শট কম, তাঁর পয়েন্ট ৬৮। লিটন হালদার ৩ শট কম খেলে ৬৯ পয়েন্ট পেয়েছেন। এরপর আছেন জাপানের দুজন গলফার। উল্লেখ্য, কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে ১৭ দেশের ৯৪ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন চার দিনের প্রতিযোগিতায়।

কোচকে লাঞ্ছিত করায় খেলোয়াড়ের শাস্তি

বাংলাদেশ লিগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য দুই খেলোয়াড় ও ক্লাবকে শাস্তি দিয়েছে বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটি। দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে আরামবাগের গিনির খেলোয়াড় মোস্তফা কাবা ও একই দলের অধিনায়ক দ্বীন মোহাম্মদকে। দ্বীন মোহাম্মদকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও দিতে হবে। এক ম্যাচ নিষিদ্ধ শেখ রাসেলের মরোক্কান খেলোয়াড় চাওরুত ইউসেফ।
এ ছাড়া ঢাকা মোহামেডান, ব্রাদার্স, ঢাকা আবাহনী ও ফরাশগঞ্জকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ক্লাবগুলোর এই শাস্তির কারণ তারা নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এ দলগুলোর সমর্থকেরা মাঠে চেয়ার ছুড়েছে, রেফারিকে গালাগাল করেছে।
মোহামেডানকে সতর্ক করা হয়েছে এই বলে, আবারও তাদের সমর্থকেরা বিশৃঙ্খলা করলে তাদের ম্যাচ দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজন করার ব্যাপারে ভাবা হবে। তবে এটা ডিসিপ্লিনারি কমিটির এখতিয়ার কি না, সে ব্যাপারে প্রশ্ন আছে। এই সিদ্ধান্তগুলো রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা মাঠেই আসেন না।
আরামবাগের দুই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা শেখ রাসেলের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে শেখ রাসেলের কোচকে লাঞ্ছিত করেছেন। এ ছাড়া মাঠে গন্ডগোল থামানোর জন্য শেখ রাসেলের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

সৌহার্দ্যের বড় ম্যাচ

কমলাপুর স্টেডিয়ামে দুটি ড্রেসিংরুমই একেবারে গায়ে গায়ে। এক ড্রেসিংরুমের কথা অন্য ড্রেসিংরুম থেকে শোনা যায়। এমনিতে বড় দল হারলে বা ড্র করলে থমথমে থাকে এর পরিবেশ। কিন্তু কাল বড় দুই দল গোলশূন্য ড্র করলেও পরিবেশটা তেমন ছিল না। সৌহার্দ্যপূর্ণ একটা পরিবেশই দেখা গেল ম্যাচের পর।
আবাহনীর ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন রজনীর অনুপস্থিতিতেমুক্তিযোদ্ধার অধিনায়ক বুকোলা। আকাশি-নীলের ঘানাইয়ান খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই নাইজেরিয়ান। আবাহনীর খেলোয়াড়েরাও প্রতিপক্ষকে শুভেচ্ছা জানালেন। জিততে না পারার কোনো হতাশা ছিল না!
আকাশি-নীলের ড্রেসিংরুমে তখন কোলাহল। খেলোয়াড়েরা ক্লাবে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একটা স্বস্তির আবহ। বাংলাদেশ লিগের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নরা ড্র করে অখুশি নয়! সমর্থক গোষ্ঠীর দুই কর্মকর্তা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সেটাই বললেন, ‘ইব্রাহিমকে নামানোর পর তাও একটু আক্রমণ করতে পেরেছে দল। জেতার মতো খেলতেই পারল না। এক পয়েন্ট তাই কম নয়।’
ওই কর্মকর্তাদের একজন আবার বাহবা নিলেন। আবাহনীর হয়ে টানা চারটি ম্যাচে সফলভাবে গোলপোস্ট আগলানো তরুণ শহিদুল আলমকে (সোহেল) তিন বছর ক্লাবে রেখে তৈরি করার কৃতিত্ব দাবি করলেন তাঁরাও।
মুক্তিযোদ্ধার ড্রেসিংরুমের সামনে এক খেলোয়াড়কে পাওয়া গেল ফুরফুরে মেজাজে। বললেন, ‘এই ম্যাচ জিততে পারলে ভালো হতো। কিন্তু আবাহনীকে হারাতে পারিনি ঠিক আছে, আমরাও তো হারিনি।’
তবে ম্যাচের পর আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাসের (রুপু) কথায় ছিল অন্য ঝাঁজ, ‘আমরা জেতার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। কিন্তু ম্যাচটা দেখে মনে হলো না জেতার ইচ্ছা কারও আছে!’ পরোক্ষে নিজ দলের খেলোয়াড়দের ওপর বিরক্তিও প্রকাশ করলেন সত্যজিৎ, ওরা মাঠে নেমে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলেছে। এটা কোনো খেলা হলো!’
প্লে-মেকার ইব্রাহিম পুরো ফিট না থাকায় একাদশে ছিলেন না। ৬৬ মিনিটে তিনি বদলি হিসেবে নামার পর মুক্তিযোদ্ধার গোলমুখ খোলার একটু চেষ্টা দেখা গেল আবাহনীর খেলায়। ইব্রাহিম দারুণ একটা ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন, যেটি অবশ্য ফিস্ট করে বাঁচিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক বিপ্লব। এ ছাড়া আবাহনীর খেলায় কিছুই নেই।
অন্যদিকে ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচে তুলনামূলক ভালো খেলেছে মুক্তিযোদ্ধা। গোল পায়নি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থতায়। শেষ দিকে অবশ্য গোল আসতে পারত। রনির শট ক্রসবারে লাগলে ড্র নিয়েই খুশি থাকতে হলো মুক্তিযোদ্ধাকে।
পয়েন্ট টেবিলে দুই দলই আছে সেরা দুইয়ে। ৭ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে মুক্তিযোদ্ধা। আবাহনীর পয়েন্ট ১৪। এই ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা জিতলে ব্যবধানটা হতে পারত ৫ পয়েন্ট। সেটি না হওয়ায় এই ড্র ম্যাচে জিতল আসলে আবাহনীই!
আবাহনী: সোহেল, সামাদ, সিরাজী, আমিনু, লিংকন, প্রাণতোষ, উজ্জ্বল (চৌমিন), মামুন মিয়া, আমিনু, আবুল (ইব্রাহিম), ফ্রাঙ্ক, রনি।
মুক্তিযোদ্ধা: বিপ্লব, সৈকত, ড্যামি, লুনিয়ানো, আরমান আজিজ, মারুফ, ইয়ামিন মুন্না, জাহেদ পারভেজ (আলমগীর রানা), জেমস, বুকোলা, মিঠুন (রাজন

গোলে অভিষেক সুয়ারেজের

মাঠে নামার ১৬ মিনিটের মধ্যেই নিজেকে চেনালেন লুইস সুয়ারেজ। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন লিভারপুলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই।
লিভারপুলের ২ কোটি ২৮ লাখ পাউন্ডের উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পরশু ৬৩ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৭৯ মিনিটে করেছেন দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল। ম্যাচে লিভারপুল স্টোককে হারিয়েছে ২-০ গোল। অন্য গোলটি মেইরেলেসের। তেভেজ আর কোলোরভের গোলে দুবার এগিয়ে গিয়েও বার্মিংহামের সঙ্গে ২-২-এ ড্র করেছে ম্যান সিটি। টটেনহাম ১-০ গোলে জিতেছে ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে।

না না রঙের বিশ্বকাপ

টাইব্রেকার
ফুটবলের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপেও চলে এল টাইব্রেকার! ২০১১ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে থাকছে সুপার ওভার। নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচ টাই হলে আশ্রয় নেওয়া হবে সুপার ওভারের। দুই দলই সুযোগ পাবে এক ওভার করে ব্যাটিং করার। প্রতি দলের তিনজন ব্যাটসম্যান ব্যাট করার সুযোগ পাবেন, বল করবেন এক বোলার। এই বিশ্বকাপে থাকছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমও (ডিআরএস)। সব ম্যাচেই ব্যবহার করা হবে এটা। মাঠের আম্পায়ারের কোনো সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে থার্ড আম্পায়ারের দ্বারস্থ হতে পারবেন ক্রিকেটাররা। দুটি রেফারেল বাতিল হয়ে গেলে অর্থাৎ থার্ড আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে, ওই দল আর রিভিউ চাইতে পারবে না। আবেদন সফল হলে সেটাকে এর মধ্যে ধরা হবে না। ক্রিকইনফো।

লরগাতের দুঃখ
কলকাতায় নাকি হারুন লরগাতের কুশপুতুলও পুড়েছে। ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ ইডেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্রও খুঁজেছে কেউ কেউ। তবে আইসিসির প্রধান নির্বাহী জানালেন, ইডেনের মতো মাঠে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি হচ্ছে না দেখে তাঁরাও কম ব্যথিত নন। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের প্রধান জগমোহন ডালমিয়ার কাছে পাঠানো এক ‘আবেগময়’ ই-মেইলে লরগাত লিখেছেন, ‘ম্যাচটি না হওয়াও আমিও সবার মতোই হতাশ। কিন্তু বিশ্বাস করুন, টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত পাল্টানোর ক্ষমতা আমার নেই। আমাদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, সাক্ষাতে সেটির অবসান করতে আমি আগ্রহী।’ ওয়েবসাইট।

সমস্যার সমাধান
অবশেষে সমাধান হয়েছে ভিসা-সমস্যার। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল কানাডার ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া তাদের তিন ক্রিকেটারকে ভিসা দিয়েছে ভারত। কানাডা এখন পুরো শক্তির দল নিয়েই বিশ্বকাপে যেতে পারছে। বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করা দলের তিন ক্রিকেটার সহ-অধিনায়ক রিজওয়ান চিমা, খুররম চোহান ও হামজা তারিকের ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই তিন ক্রিকেটারকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কানাডার বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে। অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না দেখে ভারতে নির্ধারিত তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার আবেদনও করেছিল কানাডা। বিশ্বকাপে কানাডার চারটি ম্যাচ হবে ভারতে। প্রথমটি ২৮ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অবশ্য তাদের প্রথম ম্যাচটি শ্রীলঙ্কায়। ২০ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যাচে নতুন ভেন্যু হাম্বানটোটায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে কানাডা। ক্রিকইনফো।

টেন্ডুলকারের জন্য
শচীন টেন্ডুলকারকে বিদায়ী উপহার দিতে চান মহেন্দ্র সিং ধোনি। উপহারও ঠিক হয়ে গেছে—বিশ্বকাপ ট্রফি! এটা প্রায় নিশ্চিত, এবারের বিশ্বকাপই ৩৭ বছর বয়সী টেন্ডুলকারের শেষ বিশ্বকাপ। এমনও হতে পারে, বিশ্বকাপের পরপরই ওয়ানডে ক্রিকেটকে টেন্ডুলকার বিদায় বলে দেবেন। ‘বিশ্বকাপ জয় হতে পারে দলের পক্ষ থেকে তার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার’—শিরোপা জেতার অন্যতম প্রেরণার কথা জানিয়ে বলেছেন ধোনি। টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ধরনের ক্রিকেটেই সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরির মালিক টেন্ডুলকার। ক্যারিয়ারের অর্জনের খাতাটা অনেক ভারী। শুধু একটিই অপূর্ণতা, নেই কোনো বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০০৩ সালে ফাইনালে উঠে শিরোপা থেকে নিঃশ্বাস-দূরত্বে থেকেও ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। ব্যক্তি টেন্ডুলকার অবশ্য বিশ্বকাপে সফল। ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলেন। কিন্তু দলগত ব্যর্থতায় ফিকে হয়ে গেছে ব্যক্তিগত অর্জন।

কাপে রিয়াল-বার্সা ফাইনাল

একটা বোনাস ‘এল ক্লাসিকো’ পেয়ে গেল ফুটবল রোমান্টিকরা। বাড়তি এই এল ক্লাসিকোটা উপহার দিয়েছে কোপা ডেল রে। ২০ এপ্রিল এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা। এর তিন দিন পরই হবে লিগে রিয়াল-বার্সার দ্বিতীয় লড়াইটি।
বাড়তি একটা এল ক্লাসিকোর প্রহর ফুটবলপ্রেমীরা গুনতে শুরু করে কোপা ডেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষেই। প্রথম লেগে আলমেরিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বার্সা। সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়াল জিতেছিল ১-০ গোলে। পরশু দ্বিতীয় লেগে বার্সা জিতেছে ৩-০ গোলে। নিজেদের মাঠে রিয়ালের জয়টি ২-০ ব্যবধানে।
প্রথম লেগের বড় জয় বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলাকে সুযোগ এনে দিয়েছিল লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জেরার্ড পিকেদের বিশ্রাম দেওয়ার বিলাসিতা করার। তবে আদ্রিয়ানো ক্লারো, থিয়াগো আলকান্ত্রা ও ইব্রাহিম অ্যাফেলেরাই বা কম কী! এই তিনজন অসাধারণ তিনটি গোল করে আরেকবার প্রমাণ দিয়েছেন বার্সার ‘ভাঁড়ার’ আসলে অফুরন্ত। ম্যাচ শেষে গার্দিওলার প্রশংসাও পেয়েছেন বার্সা খেলোয়াড়েরা, ‘এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা খুব কঠিন। তবে এবারসহ টানা তিন মৌসুমে আমরা দুবার ফাইনালে উঠেছি। এতেই স্পষ্ট হয়, আমাদের খেলোয়াড়েরা কী করতে পারে।’
বার্সার দ্বিতীয় পছন্দের দলটি শুরু থেকেই ভালো খেললেও প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে ত্রাস সৃষ্টি করার মতো কিছু করতে পারছিল না। প্রথম গোলটি পেতে তাই তাদের অপেক্ষা করতে হয় ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। দলকে প্রথমে এগিয়ে দেন আদ্রিয়ানো। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ মিনিটের মধ্যে (৫৬ থেকে ৬৬) স্কোরলাইন ৩-০ করেন থিয়াগো ও অ্যাফিলে।
রিয়াল মাদ্রিদ পুরো শক্তির দল নিয়েই খেলেছে। তবু গোল পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮২ মিনিট পর্যন্ত। জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিলের গোল এগিয়ে দেয় স্বাগতিকদের। অতিরিক্ত সময়ে জয় সংহত করা গোলটি করেছেন ধারে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখানো ইমানুয়েল আদেবায়োর। রিয়ালের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই গোলের খাতা খুললেন টোগোলিজ স্ট্রাইকার।

চট্টগ্রামে উপভোগ্য অনুশীলন

একটা প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াও চট্টগ্রামে বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অনুশীলন পর্বটা এই ম্যাচগুলোর কথা মাথায় রেখেই। ক্রিকেটারদের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের আগে চট্টগ্রাম সফরটা ভালোই কাজে দেবে তাঁদের।
কাল জুনায়েদ সিদ্দিক যেমন বললেন, ‘সেন্ট্রাল উইকেটে প্র্যাকটিসটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী অনুশীলন করা যায়। আউট হলে আউট। ব্যাটসম্যানরাও সেভাবে মনোযোগী হতে পারে।’ চট্টগ্রামের অনুশীলন পর্বের পর আজ ঢাকায় ফিরে যাবে বাংলাদেশ দল। এরপর অপেক্ষা বিশ্বকাপ শুরুর। ‘বিশ্বকাপ অনেক বড় ইভেন্ট। আমাদের প্রস্তুতিও ভালো। সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। দেখা যাক, কী হয়’—বলেছেন জুনায়েদ।
চট্টগ্রামে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে এসে সবচেয়ে বেশি চনমনে ছিলেন তামিম ইকবাল। নিজের শহর বলে কথা! ওয়ানডেতে তামিমের তিনটি সেঞ্চুরি থাকলেও তার একটাও চট্টগ্রামে নয়। ঘরের মাঠের প্রথম সেঞ্চুরিটা বিশ্বকাপেই করতে চান তিনি, ‘চট্টগ্রামে প্রথম সেঞ্চুরিটা বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু করতে চাই।’ অনুশীলনে নামার আগে জানিয়ে দিয়েছেন আরেকটি সুপ্ত বাসনাও, ‘যেকোনো টুর্নামেন্টেই আমার লক্ষ্য থাকে সর্বোচ্চ রান করার। বিশ্বকাপেও সেটা চাইব।’
বিশ্বকাপের মেজাজ আস্তে আস্তে ছড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের মধ্যে। সবার ভাবনায় কেবলই বিশ্বকাপ। গতকাল মাঝ উইকেট ছাড়াও পাশের দুটি প্র্যাকটিস উইকেটে ব্যাটিং-বোলিং প্র্যাকটিস করেছেন জুনায়েদ, রকিবুল, তামিম, আশরাফুল, শফিউলরা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডারে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। তবে এখন পর্যন্ত সেটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানালেন জুনায়েদ, ‘ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কোনো কথা হয়নি। প্র্যাকটিস ম্যাচে হয়তো বোঝা যাবে, কী হবে।’ অনুশীলনে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংও করছেন জুনায়েদ। দলের প্রয়োজনে ম্যাচে নাকি সেটা করতে প্রস্তুত আছেন।

তোরেসের চেলসি অভিষেক লিভারপুলের বিপক্ষেই

মাত্র কয়েক দিন আগেই লিভারপুলের লাল জার্সি গায়ে গোল করার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেস। কিন্তু আগামী রোববার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এই তোরেসকেই দেখা যাবে লিভারপুলের জালে বল জড়াতে। গত বৃহস্পতিবার রেকর্ড ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন তোরেস। আর খুবই মজার ব্যাপার হলো চেলসির নীল জার্সি গায়ে তোরেসের অভিষেকটা হতে যাচ্ছে সদ্য ছেড়ে আসা লিভারপুলের বিপক্ষেই।
চেলসির কোচ কার্লো আনচেলত্তি চাইলে গত মঙ্গলবারই সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামাতে পারতেন তোরেসকে। কিন্তু সদ্য যোগ দেওয়ার পর সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়ায় তা আর হয়ে ওঠেনি। চেলসির কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা তাকে ভালোমতো পরীক্ষা করে দেখব। যদি তার ফিটনেস-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে সে লিভারপুলের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচে মাঠে নামতে পারে।’
লিভারপুলের বিপক্ষেই অভিষেকের এই কাকতালীয় ঘটনাটাকে ‘নিয়তি’ বলেই মেনে নিয়েছেন তোরেস। চেলসিতে যোগ দেওয়ার আগে এ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে নয়টি গোল করেছিলেন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। আর একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে চেলসির হয়েও নিজের সেরাটাই দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি যদি লিভারপুলের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাই, তাহলে চেলসির জন্য আমার সর্বোচ্চটাই দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করছি, আমি গোল করতে পারব।’

ব্রেট লির ওপর ভরসা স্টিভ ওয়াহর

টানা তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া আরেকটি বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর ঠিক সেই আগের অবস্থায় নেই। চার বছরের ব্যবধানে অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার সেই দুর্দান্ত দাপট। এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার যোগ্য দাবিদার হিসেবেও খুব একটা গণ্য হচ্ছে না তারা। শিরোপা জয়ের লড়াইয়েও তাদেরকে কিছুটা পিছিয়েই রেখেছে অনেকে। এমনকি অন্য আরও অনেকের মতো সাবেক অসি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভারত-শ্রীলঙ্কাকেই কিছুটা এগিয়ে রেখেছেন এবারের বিশ্বকাপ লড়াইয়ে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার এই খানিক টলোমলো অবস্থার পর টানা চতুর্থ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণে স্পিডস্টার ব্রেট লি একটা বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্টিভ ওয়াহ।
ইনজুরির কাছে হার মেনে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলেন ব্রেট লি। ইনজুরি সমস্যায় ভুগতে ভুগতে ওয়ানডে ক্রিকেটও প্রায় ভুলতে বসেছিলেন এই স্পিডস্টার। আবার যে তিনি মাঠে নামতে পারবেন এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু দীর্ঘ এই অনুপস্থিতির পর যেভাবে তিনি ফিরে এসেছেন, সেটা সত্যিই আশা জাগানিয়া। অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে বিব্রত-লজ্জিত-বিধ্বস্ত হওয়ার পর ওয়ানডে সিরিজে বেশ ভালোমতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৭ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে আছে ৫-১-এ। আর বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে সিরিজের এ সাফল্যের পেছনে একটা বড় ভূমিকা রেখেছেন ব্রেট লি। এখন পর্যন্ত ১১টি উইকেট নিয়ে তিনিই সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি। বিশ্বকাপেও ব্রেট লির এই পারফরমেন্স অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটা বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন স্টিভ ওয়াহ। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় লি গোটা অস্ট্রেলিয়া দলের জন্যই একটা অনুপ্রেরণা জোগাবে। সে যেভাবে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এসেছে এবং এখন আবার ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বল করছে, সেটা তার আশপাশের ক্রিকেটারদেরও উদ্বুদ্ধ করবে। আর সে ভারত সফর খুবই ভালোবাসে।’

সাহিত্যালোচনা- গীতাঞ্জলি ও চার্লস এন্ড্রুজ by হাসান ফেরদৌস

গীতাঞ্জলির অনুবাদে চার্লস এন্ড্রুজের কোনো ভূমিকা ছিল না, এ কথা সত্যি। তবে এ কথাও ঠিক, শান্তিনিকেতনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার পর রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনায় তিনি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। কবির অনেক ইংরেজ বন্ধু, যাঁরা এন্ড্রুজের সাহিত্যবোধের ওপর মোটেই আস্থাবান ছিলেন না, তাঁরা এই প্রভাব মোটেই ভালো চোখে দেখেননি। ব্রিটিশ ধর্মযাজক চার্লস এন্ড্রুজ প্রথম ভারতে আসেন ১৯০৪ সালে দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের শিক্ষক হিসেবে।