Wednesday, March 17, 2010

পথের বাধাগুলো সরিয়ে ফেলুন - দুর্নীতি দমন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী দুর্নীতির ধারণা সূচকে এক নম্বর স্থান থেকে বাংলাদেশ কিঞ্চিত্ সরে আসায় কেউ কেউ আহ্লাদিত হলেও পরিস্থিতির যে ইতরবিশেষ পরিবর্তন হয়নি, পত্রিকার পাতা খুললেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। অথচ আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো, ক্ষমতায় থেকে কেউ দুর্নীতির কথা স্বীকার করতে চান না। অথচ দুর্নীতি কী ও কত প্রকার, সেবাপ্রার্থী জনগণ তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসেছিল দুর্নীতির কলঙ্ক ঘুচিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। কিন্তু গত ১৩ মাসে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে চোখে পড়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা নেই। বরং তারা অতীতের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ আছে। অতীতে সংঘটিত সব দুর্নীতির বিচার করার ব্যাপারে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে সে ক্ষেত্রে কারও প্রতি রাগ বা অনুরাগ দেখানো যাবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সফল না হলেও তারা যে রোগের উপসর্গগুলো চিহ্নিত করেছিল, তা অস্বীকারের উপায় নেই। রাজনৈতিক দুর্নীতির মূলে রয়েছে আর্থিক দুর্নীতি। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতার কারণে তা সফল হয়নি।
রোববার ইকোনমিক রিপোর্টারস ফোরাম আয়োজিত সেমিনারেও বক্তারা দুর্নীতি রোধে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কালো টাকানির্ভর রাজনীতি ও নির্বাচন-প্রক্রিয়াকে। সেমিনারে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের মধ্যে মুনাফা ভাগাভাগি, কারসাজি করে শেয়ারবাজারে দর ওঠানো-নামানো, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আয়কর ফাঁকি দেওয়া, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারের পরিবহন-ব্যয় ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা দুর্নীতি বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কে যেসব কথা বলেছেন, তাও প্রণিধানযোগ্য।
নির্বাচনে কেউ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলে নির্বাচিত হয়ে তিনি সেটি সুদে-আসলে উশুল করে নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। এই অনাচার রোধে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা সমর্থনযোগ্য। অন্যদিকে যখন বিভিন্ন মহল থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিচ্ছেন সবাই, তখন তার হাত-পা বাঁধার চেষ্টা দুঃখজনক। কোন সরকারের আমলে দুর্নীতি কম বা বেশি হয়েছে, ওই বিতর্কের চেয়েও জরুরি হলো দুর্নীতির ফাঁকফোকরগুলো চিরতরে বন্ধ করা; পথের বাধাগুলো সরিয়ে ফেলা। অন্যথায় টোটকা ওষুধে কিংবা কারও ব্যক্তিগত সদিচ্ছায় খুব বেশি এগোনো যাবে না, এ সরল সত্যটি সরকারের নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে।

যশোরে দলীয় কোন্দল ও খুন

হওয়ার কথা ছিল সম্মেলন, কিন্তু ঘটেছে হত্যাকাণ্ড। নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাভুটির পরিস্থিতি ছিল না, বরং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের কোন্দলে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ত্রাস। জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন উপলক্ষে যশোর শহরে বেলুন বা ফেস্টুন ওড়েনি, মুহুর্মুহু গুলি আর বোমাবর্ষণ চলেছে, ঘটেছে ছুরিকাঘাতের একাধিক ঘটনা। এ-ই হলো রাজনীতি। আর এ-ই হলো লাগামহীন ক্ষমতার বেপরোয়া দাপট।
এক পক্ষে সাংসদ খালেদুর রহমান টিটো, অন্য পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। এই দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে জেলার আওয়ামী লীগ থেকে ছাত্রলীগ পর্যন্ত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে লড়াই করছে। লড়াইটা জনস্বার্থের আন্দোলন নয়, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের রক্তাক্ত টানাটানি। কাক কাকের মাংস খায় না—এ প্রবাদ মিথ্যা করে উপদলীয় সংঘাতে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটেছে। গত রোববার নিহত হয়েছেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। সংবাদমাধ্যমের বরাতে মনে হচ্ছে, কেবল যশোরেই নয়, সারা দেশেই আওয়ামী লীগের ভেতর এ রকম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ধূমায়িত হচ্ছে। বিষয়টিকে সরকার ও সরকারে আসীন আওয়ামী লীগের তরফে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। কেননা, রাজনৈতিক বিবাদ অনেক ক্ষেত্রে নাগরিক জীবনের শান্তি কেড়ে নিচ্ছে।
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী আওয়ামী লীগ এখন প্রতিপক্ষহীন। জয়ের এই প্রতাপ এখন ফুটে বের হচ্ছে যেমন যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে, তেমনই মূল দল ও এর শাখা-প্রশাখাগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেও। এসব দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের কেন্দ্র স্পষ্টতই পদ ও প্রভাব নিয়ে রেষারেষি। এবং এ কথা সবাই জানে যে দলীয় পদই আজকের দিনে ক্ষমতা ও বিত্তের পথ সুগম করার হাতিয়ার। এই ধারা আগেও ছিল এবং দিনবদলের সরকার সে ধারাকে বদলাতে তেমন সচেষ্ট নয় বলেই মনে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ও শীর্ষ নেতৃত্বের খবরদারি সত্ত্বেও সন্ত্রাস, খুন আর দলবাজি নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হওয়া সত্যি হতাশাজনক। কেবল কথায় যেমন চিঁড়ে ভেজে না, তেমনি মৌখিক হুঁশিয়ারিতে রক্তপাত ও সন্ত্রাসের ধারা কিছুমাত্র কমে না। কেননা রাজনীতিতে দুর্বৃত্তপনা ও পেশিশক্তি এতই গভীরে যে, বড় রকম উদ্যোগ না নেওয়া ছাড়া এসব উপদ্রব দূর হওয়ার নয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে তেমন শুদ্ধকরণের উদ্যোগ নিতেই হবে। দলীয় সংস্কৃতি ও নেতা-কর্মীদের আচরণ না বদলালে দেশের শুভ বদল ঘটানো খুব কঠিন।
অবস্থা দেখে মনে হয়, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছেন সরকারের ঘরের শত্রু বিভীষণ। আশা করি সরকারের নীতিনির্ধারক মহল রাজনীতি থেকে মাফিয়া ও সন্ত্রাসীদের দমনের সংকল্প নিয়ে জনগণের আস্থার প্রতিদান দেবে।

জয়পুরের পা লাগিয়ে আবার হাঁটবে এক হাজার পঙ্গু ইরাকি

ভারতের জয়পুরভিত্তিক একটি সংগঠন যুদ্ধের সময় ইরাকের যেসব মানুষ মাইন ও বোমা বিস্ফোরণে অথবা গুলিতে পা খুইয়ে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, তাদের মধ্য থেকে প্রায় এক হাজার লোকের দেহে কৃত্রিম পা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
পঙ্গুদের হাঁটার জন্য জয়পুরে রাবারের তৈরি প্রোসথেটিক পা পৃথিবী-বিখ্যাত। ভগবান মহাবীর বিকলাঙ্গ সহায়তা সমিতি (বিএমভিএসএস) নামের ওই সংগঠনটির ৪০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের গতকালই ইরাক পৌঁছানোর কথা। তারা সেখানে পাকিস্তানের হাসবা ট্রাস্ট ও স্থানীয় চালাবি ট্রাস্টের সঙ্গে যৌথভাবে চিকিত্সা-শিবির খুলবে। শিবিরে এক হাজার ব্যক্তির দেহে কৃত্রিম পা প্রতিস্থাপন করা হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় ওবামার সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভের নিন্দা করেছে ইসলামি সংগঠন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পরিকল্পিত ইন্দোনেশিয়া সফরের প্রতিবাদে একটি কট্টরপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীর বিক্ষোভের নিন্দা করেছে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামি সংগঠন। গতকাল সোমবার নাহদলাতুল উলামার পক্ষ থেকে ওই নিন্দা প্রকাশ করা হয়।
ইসলামি সংগঠন নাহদলাতুল উলামার উপপ্রধান মাসকুরি আবদিল্লাহ বলেন, ওবামার সফর যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলিম-বিশ্বের মধ্যকার ক্ষয়িষ্ণু সম্পর্ক জোরদার করতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘বারাক ওবামার ইন্দোনেশিয়া সফর প্রত্যাখ্যান করে আয়োজিত কোনো ধরনের বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়ার সব মুসলমানের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’
মাসকুরি আবদিল্লাহ বলেন, ওবামাকে অবশ্যই স্বাগত জানাতে হবে। মুসলিম-বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর এই সফর ইতিবাচক হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ওবামার পরিকল্পিত ইন্দোনেশিয়া সফরের প্রতিবাদে গত রোববার কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠন হিযবুত তাহরিরের হাজার হাজার সমর্থক বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেন। হিযবুত তাহরিরের লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। তবে ইন্দোনেশিয়ায় এ ধরনের সংগঠনগুলোর সমর্থন খুবই কম। উল্লেখ্য, ওবামার শৈশবের চার বছর কেটেছে ইন্দোনেশিয়ায়।

আল-কায়েদা নিজেরাই নিজেদের উড়িয়ে দিয়েছে: হলব্রুক

যুক্তরাষ্ট্রের দূত রিচার্ড হলব্রুক বলেছেন, জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা মাত্রাতিরিক্ত নৃশংস কার্যকলাপের মাধ্যমে কার্যত তারা নিজেরাই নিজেদের ‘উড়িয়ে দিয়েছে’ এবং বর্তমানে তারা ‘সাংঘাতিক চাপে’ রয়েছে।
হলব্রুক বলেন, আল-কায়েদা মুসলমানদের জিহাদে উদ্দীপ্ত করার বদলে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে আল-কায়েদার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি তাদের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হওয়ায় তারা একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রিচার্ড হলব্রুক এসব কথা বলেন।

লস্করকে নিরাপত্তা দিচ্ছে আইএসআই

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) দেশটির নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাকে (এলইটি) নিরাপত্তা দিচ্ছে। জঙ্গি গোষ্ঠীটিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আইএসআই। গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে একটি শুনানির সময় এ কথা বলেন কংগ্রেস সদস্য মারভিন ওয়েইনবাম। আরেক কংগ্রেস সদস্য গ্যারি অ্যাকেরম্যান বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে হামলা করার জন্য ৩২০টি স্থানের তালিকা রয়েছে এলইটির। এর মধ্যে ভারতে রয়েছে ২০টি লক্ষ্যবস্তু।
মারভিন ওয়েইনবাম বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আইএসআই বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি জঙ্গি গোষ্ঠীটিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এলইটিকে গড়ে তোলা হয়েছিল ভারতীয় কাশ্মীর এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন পরিচালনার জন্য। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শেষের বছরগুলোতে দলটি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশে তাদের প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন করে এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিস্তৃত করে।’
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ওয়েইনবাম জানান, ২০০২ সালে কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের পর পাকিস্তান এলইটিকে সহযোগিতা কমিয়ে দেয়। আইএসআইয়ের সমর্থনে দলটি তাদের কর্মতত্পরতা আফগানিস্তান সীমান্তে সরিয়ে আনে।
কংগ্রেস সদস্য ওয়েইনবাম বলেন, ‘তেহরিক-ই-তালেবান, পাকিস্তানি তালেবান, আল-কায়েদা ও হাক্কানি গোষ্ঠীর জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে এলইটিও যুক্ত। তবে অনেক জিহাদি গোষ্ঠী মনে করে এলইটি পাকিস্তানে বেশি নমনীয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর একটি কারণ সম্ভবত দেশটির সামরিক বাহিনী ও আইএসআইয়ের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা।’
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্ব এলইটি ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি সম্পর্কে সচেতন হলেও দেশটির সমাজকাঠামোয় তাদের শেকড় বেশ গভীরে। বিশেষ করে দলগত ও প্রাদেশিক রাজনীতি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল মুসলিম লীগ পাঞ্জাব প্রদেশে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে এলইটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এলইটি আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করতে সহিংস পথ বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে ওয়েইনবাম বলেন, দলটিতে মিসর থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের সদস্য রয়েছে। তাদের তহবিল সংগ্রহের উত্সও অনেক। মসজিদের দান, প্রবাসী পাকিস্তানি, ব্যবসায়ী ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন উত্স থেকে অনুদানের পাশাপাশি সরাসরি আইএসআই থেকেও আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছে এলইটি।
আরেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য অ্যাকেরম্যান বলেন, ‘মুম্বাই হামলার পর তদন্তকারীরা নথিপত্র ও ই-মেইল অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্য পেয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ৩২০টি লক্ষবস্তুর একটি তালিকা তৈরি করেছে এলইটি। যার মধ্যে ২০টি ভারতে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আফগানিস্তানে ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের শুরু থেকেই এলইটি জঙ্গিরা বিদেশি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা করছে। জঙ্গি দলটি এখন জানান দিচ্ছে, এই হামলার পরিধি তারা বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী।
এলইটি একটি বড় হুমকি এবং একে এখনই নির্মূল করা দরকার উল্লেখ করে অ্যাকেরম্যান বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো জঙ্গি গোষ্ঠীটি এখনো প্রকাশ্যে তাদের তত্পরতা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে এই সমস্যার জট শেকড় গেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী পাকিস্তানের শহর, বন্দর ও গ্রামাঞ্চলে এলইটির দুই হাজার সদস্য কাজ করছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে।’
মার্কিন প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তা জানিয়ে এই কংগ্রেস সদস্য বলেন, ‘আমাদের খেয়াল করা উচিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যে পাকিস্তান বাহিনীকে আমরা সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করেছি তারাই এলইটির পৃষ্ঠপোষক। অন্যদিকে এলইটিকে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যে দেশগুলো, তারাই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমাদের মিত্র।’
শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা গ্যারি রেইড বলেন, ‘এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি শুধু তত্পরই না তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ারও ক্ষমতা রাখে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যন্য প্রযুক্তির ব্যবহারেও এরা পারদর্শী।

বসতি স্থাপন প্রকল্পের বাতিল চায় যুক্তরাষ্ট্র

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন প্রকল্পের বাতিল চায় যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার ইসরায়েলের গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেনি। এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে আরও এক হাজার ৬০০ বসতি স্থাপন পরিকল্পনার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিন-ইসরায়েল পরোক্ষ আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের এ ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডেভিড অ্যাক্সেলর্ড গত রোববার এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের বসতি স্থাপন পরিকল্পনার ঘোষণা আমাদের “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান করা” এবং এক ধরনের “উপহাস”।’ শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার সময়ই এ ধরনের ঘোষণাকে ‘ধ্বংসাত্মক’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
তবে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপন প্রকল্প বাতিলের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত
এদিকে জেরুজালেমে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি পুলিশ। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত ৫০ বছরের কম বয়সী কোনো অমুসলিমের ওই মসজিদ চত্বরে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরায়েলিকর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি পুলিশের মুখপাত্র মিকি রোজেনফেল্ড বলেন, সংঘাতের আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জান্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে ফিলিপাইন

মিয়ানমারে নতুন নির্বাচনী আইনের বিষয়ে দেশটির জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক ফোরাম ব্যবহার করবে ফিলিপাইন। গতকাল সোমবার ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবের্তো রোমুলো এ কথা জানান। এএফপি।
নতুন নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবের্তো রোমুলো বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়ান উইনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নির্বাচনী আইন নিয়ে তিনি তাঁর দেশের উদ্বেগের কথা জানাবেন। আজ মঙ্গলবার থেকে ম্যানিলায় জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের তিন দিনব্যাপী বৈঠক শুরু হচ্ছে। এখানেই নিয়ান উইনের সঙ্গে বৈঠক করবেন আলবের্তো। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়ান উইন ১২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ন্যামের বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবের্তো বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের এই অবস্থান অবশ্যই বিপরীতমুখী। এটা মিয়ানমারকে গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বের কাছে তাদের দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করতে জান্তা সরকারের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাবেন তিনি। আগামী মাসে ভিয়েতনামে আসিয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাধারণত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। তবে কয়েক বছর থেকে ফিলিপাইন মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কঠোর সমালোচনা করে আসছে।
গত সপ্তাহে সামরিক জান্তা দেশটির নতুন নির্বাচনী আইন প্রকাশ করে। এ আইন অনুযায়ী কারাভোগ করায় সু চি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি নোবেল শান্তি বিজয়ী এই নেত্রী তাঁর রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারবেন না। জান্তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বছরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

থাকসিন সমর্থকদের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেন থাই প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অভিসিত্ ভেজ্জাজিভা। গতকাল সোমবার ব্যাংককের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে এ কথা বলেন তিনি। তাঁর এ ঘোষণার পরপর ঘাঁটির বাইরে চারটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুজন সেনাসদস্য আহত হন এবং প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ঘাঁটি ছেড়ে যান।
এর আগে জাতীয় টেলিভিশনে থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতাসীন জোটের শরিকেরা একমত হয়েছেন, এই দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং সাধারণ নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুধু বিক্ষোভকারী নয়, দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতামতও শুনতে হবে আমাদের।’
এদিকে বিস্ফোরণের ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সুনসার্ন কায়েওকুমনার্দ বলেন, একজন সেনা হাতে, অন্যজন পেটে আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি গাড়ি থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। তবে কারা গ্রেনেড ছুড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সরকারকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করার জন্য থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক ‘লাল শার্ট’ পরা বিক্ষোভকারীরা গতকাল ব্যাংককের সামরিক ঘাঁটির সামনে সমাবেশ করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে প্রায় ৮৬ হাজার সমর্থক ওই সমাবেশে যোগ দিতে ব্যাংককে জড়ো হয়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকক ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া শুধু সামরিক ঘাঁটিটির সামনেই দুই হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিভা দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর বিক্ষোভকারীরা সামরিক ঘাঁটির সামনে থেকে ব্যাংকক শহরে তাদের জমায়েতস্থলের দিকে ফিরতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের নেতা নাত্তাউত শাইকুর সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা আগামীকাল (আজ) গভর্নমেন্ট হাউসের ফটকে সামান্য রক্ত ছিটিয়ে তাঁদের অবস্থানের দৃঢ়তা প্রকাশ করবেন। গত বছরের এপ্রিলের পর এটাই ‘লাল শার্ট’ বিক্ষোভকারীদের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ।
২০০৬ সালের এক সামরিক অভ্যুত্থানে থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। গত মাসে থাইল্যান্ডের একটি আদালত থাকসিনের ১৪০ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত করার পক্ষে রায় দেন।
থাকসিন মন্টেনেগ্রোতে: এদিকে গতকাল স্থানীয় একটি টেলিভিশনের খবরে দাবি করা হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে সম্প্রতি ইউরোপের মন্টেনেগ্রোতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, থাকসিনকে রোববার মন্টেনেগ্রোর বুদভা শহরের একটি কাফেতে দেখা গেছে। তবে সেখানকার পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, থাকসিনের মন্টেনেগ্রোর পাসপোর্ট রয়েছে। তবে তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, সে দেশের কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত করেনি।

সিঙ্গারের গ্রীষ্মকালীন বিক্রয় কার্যক্রম আজ শুরু

গ্রীষ্ম মৌসুম উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী সিঙ্গার প্লাস শপে ‘ডিসকাউন্ট বহু গুণে, সামার ট্যুর লন্ডনে’ শীর্ষক বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
এই কার্যক্রমের আওতায় সিঙ্গার প্লাস থেকে পণ্য কিনে প্রতি সপ্তাহে দুজন করে ক্রেতা ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা পথের বিমান টিকিট জেতার সুযোগ পাবেন।
যেকোনো ব্র্যান্ডের ফ্রিজ/ফ্রিজার, টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনার, আইপিএস ও ফ্যান এবং সিঙ্গটেক কম্পিউটারের ক্রেতাদের মধ্য থেকে কুপন ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।
এই কার্যক্রমের আওতায় ক্রেতারা যেকোনো ব্র্যান্ডের ফ্রিজ/ফ্রিজার, টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনার ও আইপিএস এবং সিঙ্গটেক কম্পিউটারে ক্রেতারা বিনাসুদে ৯০ দিনে নগদ মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এয়ারকন্ডিশনার ও আইপিএসে ক্রেতারা পাবেন ফ্রি ইনস্টলেশন সুবিধা।

মৌলভীবাজারে এরিনা সিকিউরিটিজের শাখা উদ্বোধন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সড়কে শেয়ার ব্যবসার প্রতিষ্ঠান এরিনা সিকিউরিটিজের শাখা খোলা হয়েছে।
জেলা সদরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে গত শনিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শাখাটির উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচালক এম আমান উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার চেম্বারের সভাপতি এম এ আহাদ ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক মনসুরুজ্জামান। প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল হামিদ মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলাউর রহমান চৌধুরী ও এরিনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী প্রমুখ।

বায়োগ্যাস প্রকল্পে ট্রাস্ট ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক চালু করা সৌরশক্তি ও বায়োগ্যাস প্রকল্পে পুনঃ অর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় ট্রাস্ট ব্যাংক মানিকগঞ্জের কয়েকটি কৃষক পরিবারকে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণ দিয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কাশেম ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারোয়ারের কাছে পুনঃ অর্থায়নের মঞ্জুরিপত্র হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান, উপপরিচালক কাজী তামান্না হক এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের এসএমই বিভাগের প্রধান টি আই এম রওশন জাদীদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আয়বৈষম্য কমানোর তাগিদ

দেশের বেশির ভাগ মানুয়ের আয় কম হওয়ায় তারা পণ্যের গুণগত মানের চেয়ে কম দামি পণ্যকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আয়বৈষম্য কমানো না গেলে ভোক্তা সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন করা কঠিন।
গতকাল সোমবার ঢাকায় আয়োজিত ‘আমার অর্থ, আমার অধিকার’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা বলেন, মানুয়ের আয় বাড়ানো গেলে তারা মূল্য বিবেচনা না করে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য ক্রয় করবে। আর এতেই তাদের মধ্যে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।
বিশ্ব ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।
রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সভাপতি কাজী ফারুক।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হোসেন মিঞা। ‘ভোক্তার অধিকার: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অল্প কিছুদিনের মধ্যে কার্যকর করা হবে। আইনটি কার্যকর করতে প্রবিধানমালা প্রণয়নসহ অনেক কাজ ইতিমধ্যে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এ বছরের শেষের দিকে আইনটি পর্যালোচনা করা হবে এবং কোনো সমস্যা থাকলে তা দূর করার মাধ্যমে এটিকে যুগোপযোগী করা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. গোলাম হোসেন বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার দিবস পালনের অংশ হিসেবে কমপক্ষে ৫০টি দোকানে গিয়েছি। কিন্তু বেশির ভাগ দোকানে ব্যবহূত বাটখারায় বিএসটিআইয়ের সিল নেই।’
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় ‘প্রতিযোগিতার আইন’ করা হচ্ছে। আগামী মাসে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আর চলতি অর্থবছরের মধ্যে এটি জাতীয় সংসদে পাস করিয়ে আইনে পরিণত করা হবে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এ কে ফজলুল আহাদ বলেন, উন্নত মানের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বিএসটিআই দ্রুততার সঙ্গে পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করে সনদ দিয়ে থাকে। তবে ভেজাল অভিযান পরিচালনা করার সময় নানা মহলের চাপে কাজ করতে কিছুটা অসুবিধা হয়।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ ছাড়া বাজার-অর্থনীতিতে সরকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ইংরেজি দৈনিক ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ভোক্তারা সচেতন নয়, এ জন্য তারা প্রতারিত হচ্ছে। তাদের আরও সচেতন করতে হবে। তবে আর্থসামাজিক উন্নয়ন না হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষিত হবে না।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নাসরিন বেগম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ প্রমুখ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গৃহঋণ বিতরণ বাড়ছে

সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ছাড়াও সম্প্রতি বছরগুলোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য হারে গৃহায়ণ ঋণ প্রদান করছে। ফ্ল্যাট ক্রয়, নিজ জমি বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য এই ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে সার্বিকভাবে গৃহায়ণ খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহঋণ প্রদানের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৯ শতাংশ। তবে পরের দুই বছর আবাসন খাতে কিছুটা ভাটা পড়ায় ঋণপ্রবাহের গতিও কমে যায়।
২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে গৃহায়ণ খাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ প্রদানের প্রবৃদ্ধি হার ছিল যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ ও ২১ শতাংশ।
জানা গেছে, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিবিএইচ), আইডিএলসি ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড সবচেয়ে বেশি ঋণ প্রদান করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ডিবিএইচের গৃহঋণ প্রদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২০ কোটি টাকা, যা বেসরকারি বিশেষায়িত গৃহঋণ অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক মোট অর্থায়নের ৭০ শতাংশ।
একই সময়ে এ খাতে আইডিএলসি ৩৯০ কোটি এবং ন্যাশনাল হাউজিং ১৭০ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করেছে।
একসময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) আবাসন খাতে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গৃহঋণ প্রদান করত। কিন্তু বর্তমানে আবাসন খাতে ঋণ প্রদানে প্রতিষ্ঠানটির অবদান হ্রাস পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৮-০৯ অর্থবছর শেষে বিএইচবিএফসির গৃহঋণ প্রদানের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ২০০৫-০৬ ও ২০০৬-০৭ অর্থবছর শেষে এই ঋণের স্থিতি ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ৬৩০ কোটি ও দুই হাজার ৫২০ কোটি টাকা।
ডিবিএইচের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিউ এম শরীফুল আলা বলেন, শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের কাছে গৃহঋণের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া গৃহঋণের এই ব্যাপক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহঋণ পুনঃ অর্থায়ন স্কিম চালু করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর গৃহঋণের চাহিদা পূরণে এগিয়ে এলেও এখানে বরাদ্দকৃত তহবিলের পরিমাণ কম। এ তহবিল বাড়ানো হলে শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের আবাসনের চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করা সম্ভব।

মাগুরা ক্রিকেট লিগ

এ এইচ খান স্মৃতি সংসদকে (১৪৭) ৫ উইকেটে হারিয়ে মাগুরা ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন শহীদ পাইলট মুকুল স্মৃতি সংসদ (১৫০/৫)।

রাফি স্মৃতি ক্রিকেট

বায়েজিদ স্পোর্টিং ক্লাব ১০৪ রানে হারিয়েছে জুনিয়র ক্রিকেট একাডেমিকে। বায়েজিদ ক্লাবের ১৮৫ রানের পেছনে ছুটে জুনিয়র একাডেমি গুটিয়ে যায় ৮১ রানে।

জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে না নিউজিল্যান্ড

নিরাপত্তাজনিত কারণে জিম্বাবুয়ে সফর স্থগিত করেছে নিউজিল্যান্ড। তবে সামনের জুনের সফরটি আগামী বছর জুনে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হতে পারে বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভন।

দিল্লির দ্বিতীয় জয়

বীরেন্দর শেবাগের ৭৫ রানের (৩৪ বলে, ৮টি চার, ৫টি ছয়) ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে আইপিএলে কাল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (১৪২/৪) ৬ উইকেটে হারিয়েছে রাজস্থান রয়্যালসকে (১৪১/৬)। দুই ম্যাচে এটি দিল্লির দ্বিতীয় জয়, আর রাজস্থানের দ্বিতীয় পরাজয়।

ডেকানের জয়

আইপিএলে পরশু ডেকান চার্জার্স ৩১ রানে হারিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসকে। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৯০ রান করে ডেকান। জবাবে ৯ উইকেটে ১৫৯ রান তুলতে পারে চেন্নাই।

চ্যাম্পিয়ন মিনহাজ

প্রাইম ব্যাংক আন্তর্জাতিক রেটিং দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ফিদে মাস্টার মিনহাজউদ্দিন আহমেদ (সাগর)। ৯ খেলায় ৮ পয়েন্ট পেয়েছেন তিনি। সাড়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে রানারআপ ফিদে মাস্টার মোহাম্মদ জাবেদ। ৭ পয়েন্ট করে নিয়ে তৃতীয় থেকে পঞ্চম হয়েছেন খোন্দকার আমিনুল, আবদুল মোমিন ও এম নাসের। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফেডারেশন সভাপতি মোহাম্মদ জামির।

জয়ে প্রথম পর্ব শেষ রাসেলের

আগের টানা তিন ম্যাচে তারা পয়েন্ট খুইয়েছে। মোহামেডানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে, আবাহনীর কাছে হেরেছে দুই গোলে। এরপর ফেনীতে গিয়ে ফেনী সকারের সঙ্গেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রকে। তবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে পুরো তিন পয়েন্ট তুলেই কাল তারা শেষ করল সিটিসেল বাংলাদেশ লিগে নিজেদের প্রথম পর্ব। সামির ওমারির একমাত্র গোলে জিতেছে তারা ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে।
এই জয়ে ১২ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল শেখ রাসেল। ১১ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে ঢাকা আবাহনী। ১০ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ঢাকা মোহামেডান। আপাতত দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও শিরোপার দৌড়ে আবাহনীর চেয়ে বেশ পিছিয়েই আছে শেখ রাসেল। আগামী ম্যাচে মোহামেডানের কাছে আবাহনী হারলেও ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকবে রাসেল। আর জিতলে তো নাগালের আরও বাইরে চলে যাবে আবাহনী।
আগের ম্যাচে দুর্বল ফেনী সকারের সঙ্গে ড্র করায় একটু হতাশই হয়েছিলেন শেখ রাসেলের খেলোয়াড়েরা। কাল সেটা ঝেড়ে ফেলে কিছু একটা করার প্রত্যয় দেখা যাচ্ছিল তাদের খেলায়। শুরু থেকেই তারা ছিল আক্রমণাত্মক। আধিপত্য ধরে রেখেছিল গোটা ম্যাচেই। তবুও প্রথম গোলের দেখা পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৬৩ মিনিট পর্যন্ত। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে আচমকা গোল করে বসেন মরক্কোর স্ট্রাইকার সামির ওমারি। ব্রাদার্স গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল ঢোকে জালে। তবে জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েও তা নষ্ট করেছে রাসেল। ম্যাচের ৩ ও ১৩ মিনিটে দারুণ দুটো সুযোগ নষ্ট করেন রনি।
আজকের খেলা: ফরাশগঞ্জ-মুক্তিযোদ্ধা (বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম; ম্যাচ শুরু বিকেল ৫টা)।

ফেদেরার জিতলেও হেরেছেন শারাপোভা

বেচারা ভিক্টর হানেস্কু! মেলবোর্নে গত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে রজার ফেদেরারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এবার ইন্ডিয়ান ওয়েলসেও সেই দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিতে হলো ফেদেরারের কাছে হেরে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে ফেদেরার উঠে গেলেন তৃতীয় রাউন্ডে। পরশু ক্যালিফোর্নিয়াতে ৬-৩, ৬-৭ (৫/৭), ৬-১ গেমে হারালেন রোমানিয়ার ভিক্টরকে।
ফেদেরার জিতলেও তৃতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছেন মারিয়া শারাপোভা। ৬-৩, ২-৬, ৬-৩ গেমে রুশ তারকাকে হারিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে ওঠা চীনের ঝেং জাই।

ফেরার ইচ্ছা জানালেন রকিবুল

মন বদলে অবসর থেকে ফিরে আসতে চান রকিবুল হাসান। কাল সশরীরে দেখা করে এই ইচ্ছেটা তিনি জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালকেও। তবে রকিবুলের নতুন সিদ্ধান্ত এবং তাঁর ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে ১৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় বোর্ড সভার পর।
বোর্ড সভাপতির সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক অফিসে রকিবুলের সাক্ষাতের কথা জানিয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস কাল বলেছেন, ‘সভাপতি সাহেবের সঙ্গে দেখা করে রকিবুল তাঁর বর্তমান অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ঠিক কী কারণে চট্টগ্রাম টেস্টের দুই দিন আগে সে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, খুলে বলেছে সেটাও। তবে বিষয়টা যেহেতু ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির অধীন, বোর্ড সভাপতি ওই কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ব্যাপারে পরবর্তী বোর্ড সভাতেও আলোচনা হবে।’
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কাল বিকেলে সভাপতির সঙ্গে দেখা করে ক্রিকেটে ফেরার ইচ্ছার কথাই জানিয়েছেন রকিবুল। ক্রিকেটে তিনি ফিরবেনও, তবে ফেরার প্রক্রিয়া কী হবে, বোর্ড এখন সেটি নিয়েই ভাবছে। অবসরের সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমে জানানোয় ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন সিরাজের কাছে খেলায় ফিরতে চেয়েও একটা চিঠি দেবেন রকিবুল। সেই চিঠির পরই বোর্ড তাঁর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বোর্ডের অনেক পরিচালকই রকিবুলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত মনে করলেও বয়সের কথা বিবেচনা করে সেটা কিছুটা শিথিলও হতে পারে।

শেষ ম্যাচও জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

রোববার সেন্ট ভিনসেন্টের ‘ন্যাশনাল হিরোজ ডে’তে আর্নস ভেলে ঝোড়ো এক ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নায়ক হলেন ক্রিস গেইল। শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ৪-১-এ জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একমাত্র টি-টোয়েন্টি ও প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর সতীর্থদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন গেইল। দলের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন গেইল, শেষ ম্যাচের সেরাসহ ২৭৩ রান করে জিতে নিয়েছেন সিরিজ-সেরার পুরস্কারও। লো-স্কোরিং সিরিজে দেড় শর বেশি রান করতে পারেননি আর কেউ।
শেষ ম্যাচে টপ-অর্ডারদের ব্যর্থতায় লড়াই করার মতো পুঁজিই জমাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ২৫ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা, দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানের কেউই। প্রথম ১৬ ওভারের ৮৭টি বল থেকে কোনো রানই আসেনি, চার ছিল মাত্র ১টি। চার্লস কভেন্ট্রির ৫৬ রানে তবু দেড় শ পেরোয় তারা। ১৯৪ রান করে আগের বিশ্ব রেকর্ড ছোঁয়ার পর এটাই ছিল কভেন্ট্রির প্রথম ফিফটি, আগের ১০ ইনিংসে তাঁর সর্বোচ্চ ছিল ৩২! এই ছোট লক্ষ্যটা আরও সহজ হয়ে যায় গেইলের মারমুখী ব্যাটিংয়ে। ৪১ বলে ৬৩ রান করা গেইলের বিদায়ের পর দ্রুত আরও তিনটি উইকেটের পতন সাময়িক বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তিনটি করে চার ও ছয়ে কাইরন পোলার্ডের ২০ বলে ৩৬ রানের ইনিংসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা ২২.২ ওভার বাকি থাকতেই। ওয়েবসাইট।
স্কোরকার্ড: জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ১৬১ (কভেন্ট্রি ৫৬, ক্রেমার ১৯*; স্যামি ৩/৩৩, রামপল ২/২৬)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৭.৪ ওভারে ১৬৫/৬ (গেইল ৬৩, পোলার্ড ৩৬, রামদিন ২১*; উতসেয়া ২/৪১)।