Friday, October 27, 2017
দেশের মানুষ এবং আমার পরিবারের ভাগ্য এক হয়ে গেছে

হয়েছে। এর কোনো কিছুই বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাপার নয়। বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও এদেশের জনগণের বর্তমান সার্বিক দুর্দশার সঙ্গে এসব হেনস্থা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বলেই তার সুদৃঢ় বিশ্বাস।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় দেয়া দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দিকালে বিএনপি চেয়ারপারসন এসব কথা বলেন। মামলার প্রেক্ষাপট ও পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান, রাজনীতিতে আগমন, আন্দোলন-সংগ্রাম, সরকার গঠন ও সরকার পরিচালনা, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অধিকার বঞ্চনার নানা উদাহরণ তুলে ধরেন আদালতে। নিজেকে সামান্য মানুষ আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়া বলেছেন, আমি যত সামান্য মানুষই হই না কেন, আমার প্রতি বর্তমান শাসক মহলের আচরণের কারণ, পটভূমি ও প্রেক্ষাপটের ব্যাপ্তি কিন্তু সামান্য নয়। দেশ ও জাতির দুর্দশা থেকে এটিকে আলাদা করে দেখা যাবে না। আমার নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছে বারবার। কাজেই আলোচ্য মামলাটি দায়ের এবং এর সব কার্যক্রম ও পরিণতি কেবল ফৌজদারি বিধি-বিধান, আইন-কানুন ও বিচার-ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত নয়।
দেশ-জনগণ ও আমার পরিবারের ভাগ্য একসূত্রে গাঁথা
জবানবন্দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, প্রায় তিন যুগ আগে মানুষের ডাকে ও ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আমি রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখি। সেদিন থেকেই বিসর্জন দিয়েছি নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে। আমি কেন রাজনীতিতে এসেছিলাম? নিশ্চিত ও নিরাপদ জীবন ছেড়ে কেন আমি ঝুঁকিপূর্ণ অনিশ্চিত পথে পা দিয়েছিলাম? তখন আমার সামনে মসনদ কিংবা ক্ষমতার কোনো হাতছানি ছিলো না। রাষ্ট্রক্ষমতার অবৈধ দখলদাররা চায়নি আমি রাজনীতিতে থাকি। আমি রাজনীতি না করলে তারা আমাকে অনেক বেশি সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলেছিলো। রাজনীতি করলে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে আমাকে ভয়-ভীতিও দেখানো হয়েছিলো। সবকিছু উপেক্ষা করে আমি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখি। কারণ, দেশে তখন গণতন্ত্র ছিলো না। জনগণের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয়া হয়েছিলো। জনগণের অধিকার ছিলো না। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুরু থেকেই আমাকে রাজপথে নামতে হয়েছিলো। আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের পতাকা হাতে নিয়ে। আমার সংগ্রাম শুরু হয়েছিলো তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্য নিয়ে। খালেদা জিয়া বলেন, আমি সব সময় চেয়েছি, বাংলাদেশ যেন গণতান্ত্রিক পথে পরিচালিত হয়। মানুষের যেন অধিকার থাকে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকে। বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকে। আমি চেয়েছি, আমাদের অর্থনীতি যেন শক্তিশালী হয়। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মর্যাদার আসন পায়। সেই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্যই আমার রাজনীতি। আমি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের সঙ্গে নিজের ভাগ্যকে একাকার করে ফেলেছি। আমার নিজের কোনো পৃথক আশা-আকাঙ্ক্ষা নেই। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাই আমার আশা-আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, আমার জীবন পুরোপুরি জড়িয়ে গেছে এদেশের মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের সঙ্গে। তাদের সুখ-দুঃখ ও উত্থান-পতনের সঙ্গে। দেশের মানুষের জীবনের চড়াই-উৎরাই ও সমস্যা-সংকটের সঙ্গে। তাদের বিজয়, বিপর্যয় এবং সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে। দেশ ও জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যতের সঙ্গেই একাকার হয়ে গেছে আমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। সম্ভবত সে কারণেই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষ যখনই দুর্যোগ ও দুর্বিপাকের মুখে পড়েছে, তখন আমিও দুর্যোগের মুখে পড়েছি। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশ ও জাতি যখন সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে, অধিকার হারিয়েছে, বিপন্ন হয়েছে তখন আমিও নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছি। আমার পরিবারও পড়েছে নানামুখী সমস্যা-সংকটে। একইভাবে দেশ ও জাতি যখন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেছে, জনগণ যখন বিজয়ী হয়েছে, তাদের হারানো অধিকার ফিরে পেয়েছে তখন আমার নাগরিক অধিকারগুলোও সমুন্নত থেকেছে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা যখন সমুন্নত হয়েছে, আইনের শাসন-সুবিচার-গণতন্ত্র ফিরে এসেছে, তখন ব্যক্তিগতভাবে আমিও সংকট, বিপদ, আক্রমণ, নির্যাতন ও বিপর্যয় থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। বারবারই প্রমাণ হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও এদেশের জনগণের ভাগ্যের সঙ্গে আমার নিজের ও আমার পরিবারের ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে।
আমার নাগরিক অধিকার হরণ হয়েছে বারবার
আদালতের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনি নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করা হচ্ছে। জারি করা হচ্ছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। প্রায় চার দশকের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি থেকে আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমাকে আমার বাসা ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে বালির ট্রাক দিয়ে কয়েক দফায় দীর্ঘদিন অবরোধ করে রাখা হয়েছে। আমি আমার অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় সে সময় বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। সেই অবরুদ্ধ অবস্থাতেই আমি মৃত্যু-সংবাদ পাই বিদেশে চিকিৎসাধীন আমার একটি সন্তানের। আর সেদিনই আমার এবং আমার সঙ্গে অবরুদ্ধদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ করা হয়, রাস্তায় গাড়ি পোড়ানো এবং বিস্ফোরক দিয়ে মানুষ হত্যার। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায়ই নাকি আমরা এসব করেছি।
এগুলো কি কোনো সভ্য ও মানবিক আচরণ? খালেদা জিয়া বলেন, শাসক মহলের নির্দেশে আমার স্বাধীন চলাচল বিভিন্নভাবে ব্যাহত করা হয়েছে। প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে আমার ওপর বারবার হামলার ঘটনা সারা বিশ্ব দেখেছে। আমার ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালানো হয়েছে। আমার গাড়ির ওপর গুলি চালানো হয়েছে। আমার গাড়ি বহরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও নিরাপত্তা রক্ষীরা তাতে আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা কেউ আটক হয়নি। কোনো ঘটনার বিচার হয়নি আজ পর্যন্ত। আমার নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছে বারবার।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে অসত্য ও কুৎসিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এর কোনো কিছুই বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাপার নয়। বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং এদেশের জনগণের বর্তমান সার্বিক দুর্দশার সঙ্গে আমার এসব হেনস্থা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বলেই আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস। তাই, মাননীয় আদালত, আমি যত সামান্য মানুষই হই না কেন, আমার প্রতি বর্তমান শাসক মহলের আচরণের কারণ, পটভূমি ও প্রেক্ষাপটের ব্যাপ্তি কিন্তু সামান্য নয়। দেশ ও জাতির দুর্দশা থেকে এটিকে আলাদা করে দেখা যাবে না। কাজেই আলোচ্য মামলাটি দায়ের এবং এর সকল কার্যক্রম ও পরিণতি কেবল ফৌজদারি বিধি-বিধান, আইন-কানুন ও বিচার-ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত নয়। তিনি বলেন, পুরো বিষয়গুলো ব্যাখ্যা না করলে কেবল আইনগত খুঁটিনাটি দিক তুলে ধরে এই মামলাটির সঠিক চিত্র বিশদ ও নিখুঁতভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই আমি অনুরোধ করবো আমার কথাগুলো একটু শুনবেন। আমাকে সময় দেবেন, যাতে আমি আমার সব কথা পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরতে পারি। যাতে আমি পুরো প্রেক্ষাপট ও পটভূমি তুলে ধরতে পারি। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের যে পরিস্থিতি, জাতির যে অবস্থা এবং ইতিহাসের যে ধারাক্রম আজকে এ ধরনের মামলা সৃষ্টি করেছে সে কথাগুলো আমাকে বলতেই হবে। না হলে আমার বক্তব্য ও জবাব অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। যে কথাগুলো না বললে সব কিছু স্পষ্ট ও পরিষ্কার হবে না, সেই কথাগুলো তো আমাকে এই সুযোগে বলতেই হবে।
দেশে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার নেই
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে এখন সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত কোনো সংসদ ও সরকার নেই। সবকিছু একতরফা ও একদলীয় ভিত্তিতে চলছে। যে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে সেই গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। যে তথাকথিত সংসদ গঠন করা হয়েছে, সেই সংসদের বেশিরভাগ সদস্য নির্বাচিত হয়নি। বাকি সদস্যদেরও ভোটাররা নির্বাচিত করেনি। প্রহসনের মাধ্যমে তাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। শতকরা ৫ জন ভোটারও ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়নি। প্রহসনের সংসদ এবং সেই সংসদের মাধ্যমে গঠিত সরকার কখনো বৈধ হতে পারে না। সংসদে কোনো কার্যকর বিরোধী দল পর্যন্ত নেই। খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রকম কারসাজি সত্ত্বেও বিরোধী দলের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। সেই শোচনীয় পরাজয় দেখে ভীত হয়ে ক্ষমতাসীনরা আর কোনো ঝুঁকি নেয়ার সাহস পায়নি। এরপর থেকে তারা পৌরসভা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো পর্যন্ত দখল ও যুদ্ধে পরিণত করেছে। বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তারা মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ ও অপসারণ করছে। খালেদা জিয়া বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে আমরা যে ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলাম সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একতরফাভাবে বাতিল করা হয়েছে। সংবিধানের বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে এক গভীর সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা সেই সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করতে চাই। আমরা দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বদলে শান্তি ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এটাই কি আমার অপরাধ? সেই কারণেই কি এতো হেনস্তা, এতো মামলা-মোকদ্দমা আমার বিরুদ্ধে?
আমার পরিচয় দেশবাসী জানে
আদালতের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ নানান রকম মামলা বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। কিন্তু তার পরম সৌভাগ্য, কখনো তাকে আমার মতো আদালতে এমন করে হাজিরা দিতে হয়নি। আমি আইন-আদালত ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন নাগরিক। তাই এই বয়সে এতো ব্যস্ততা ও নানান সমস্যার মধ্যেও যতদূর সম্ভব আদালতে সশরীরে হাজির থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার নিযুক্ত আইনজীবীরা আইনানুগ পন্থায় মামলাসমূহ মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমি কখনো অনিবার্য কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারলে আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার মতো ঘটনা ঘটছে। খালেদা জিয়া বলেন, আমার পরিচয় দেশবাসী জানে। আদালতেরও অজানা নয়। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পত্নী। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক। তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের অন্যতম সফল অধিনায়ক। তিনি বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক এবং জননির্বাচিত ও নন্দিত সফল রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাভাষী সৈনিকদের প্রতিরোধ যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার সুযোগ আমাকে ইতিহাস দিয়েছে। এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি সে কর্তব্য পালন করেছি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দু’টি শিশু সন্তানসহ গ্রেপ্তার হয়ে এই রাজধানীতে আরো অনেকের সঙ্গে চরম অনিশ্চিত ও দুঃসহ বন্দিজীবন আমাকে কাটাতে হয়েছে। আমাদের বন্দিশিবিরের ওপর বোমাবর্ষণের সময়ে আল্লাহ্র অসীম রহমতে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরেছি। কেবল মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নয়, এরপর আরো অনেকবারই চরম বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতি ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও আজও বেঁচে আছি। জবানবন্দিতে খালেদা জিয়া বলেন, প্রায় পৌনে নয় বছর স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে জনগণের কাতারে থেকে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আমি আপসহীন ভূমিকা রেখেছি। আমি এর জন্য মানুষের অপরিসীম সমর্থন ও দোয়া পেয়েছি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আসনে জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেছে। বাংলাদেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে আমি তিন-তিনবার তাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি। আমি আমার জনগণের সেবা করার চেষ্টা করেছি তাদের অর্পিত দায়িত্ব সাধ্য, সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী পালন করে। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেয়ার এবং মানুষকে দুর্দশামুক্ত করে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেছি। উন্নয়নে, উৎপাদনে, শিক্ষায়, নারীশিক্ষায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং সন্ত্রাস মুক্তির অভিযানে অবদান রেখে মানুষের জন্য স্বস্তি ও সম্ভাবনার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। উল্লেখ্য, চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার পরদিন ১৯শে অক্টোবর বিশেষ আদালতে হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। সেদিন তিনি আদালতে তার প্রথমদিনের জবানবন্দি দেন। একসপ্তাহের মাথায় গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রয়োজন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে চাপে রাখা

প্রতিবেশী বাংলাদেশের সম্পদে (রিসোর্সেস) ও ধৈর্য্যে টান পড়েছে। তারপরও আরো রোহিঙ্গা আসছেই।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যাটির শিকড় এতটাই গভীরে যে, দৃশ্যত শুধু কঠোর অবরোধ দিয়ে এই নিষ্পেষণ থামানোর সুযোগ খুবই কম। নিউ ইয়র্ক টাইমসে হান্নাহ বিচ যেভাবে খোলামেলা রিপোর্ট করেছেন, তাতে দেখা গেছে মিয়ানমারের সব মানুষই দৃশ্যত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তা হলো তারা অবৈধ, সহিংস, দ্রুত বর্ধনশীল আগন্তুক। যদিও তারা রাখাইনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করে আসছে, তাও তাদের বিষয়ে সার্বিকভাবে এমনই ধারণা মিয়ানমারে।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা প্রামাণ্য রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে। তবে এমন রিপোর্টকে বিদেশের শত্রুতাপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে দাবি করে মিয়ানমার প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) নামের বিদ্রোহী সংগঠন সীমান্ত পোস্টে হামলা চালানোর ফলে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিশোধমূলক সেনা অভিযান এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, জাতিসংঘ একে জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রিপোর্টে বলেছে, তারা স্যাটেলাইটে ২৮৮টি রোহিঙ্গা গ্রামের ছবি ধারণ করেছে। এসব গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ হতাশাগ্রস্ত। তারাই এক সময় সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বীরের মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য অং সান সুচিকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু সেই সুচিই এখন রহস্যে ফেলে দিয়েছেন। কেন এত বিপুল সংখ্যক মুসলিম পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে যাচ্ছেন- এমন কথা বলে তিনি রহস্য সৃষ্টি করছেন। এটা তর্কসাপেক্ষ ব্যাপার, যে সরকারের নিরাপত্তা ও সিভিল সার্ভিসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে সেই সরকারের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হলেন অং সান সুচি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার বিরুদ্ধে কোনো কিছু করার ক্ষমতা তার নেই। এর মধ্য দিয়ে সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে গিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনের পথে উদার অগ্রযাত্রা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে রিপোর্ট পাওয়া গেছে যে, মঙ্গলবার বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অং সান সুচি একমত হয়েছেন যে, রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া বন্ধ করতে এবং রাখাইন প্রদেশে তাদের বসতিতে ফিরে যেতে স্বাভাবিক অবস্থা তৈরি করতে কাজ করবে দু’দেশ।
এটা হতে পারে একটি ভালো আইডিয়া। কিন্তু এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের রাজি করাতে হবে বা তাদেরকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, তারা দেশে ফিরে গেলে প্রকৃতপক্ষেই তাদের বিরুদ্ধে নিষ্পেষণ বন্ধ হবে। এ কাজটি শুধুমাত্র মিয়ানমারের জেনারেলরাই করতে পারেন। রোহিঙ্গাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, তাদেরকে একপেশে করে রাখা, নিষ্পেষণ ও তাদের বিরুদ্ধে ভীতি সৃষ্টি করা হলে তার প্রেক্ষিতে সরাসরি ও গুরুতর শাস্তি দেয়া হবে।
(২৫শে অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত সম্পাদকীয়’র অনুবাদ)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেকলে বেঁধে শিশুশ্রম

আর এই ঘটনা পুলিশের নজরে একবারও আসেনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোরশেদ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমাদের পাশে অথচ আমরা জানি না; আপনারা জানলেন কেমনে। এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে তিনি বলেন, আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে; শেকলে বাঁধা শিশুটির। ছবিসহ যাবতীয় তথ্য থাকার কথা বললে তিনি তা দেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর পত্রিকায় দেখার অনুরোধ জানানো হয় তাকে। পরে তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেন।
সাতকানিয়ার বেলাল উদ্দিন বলেন, আমি সাতকানিয়া উপজেলার চরতি যাচ্ছিলাম। হঠাৎ মোটরসাইকেলের চেইন পিনিয়াম এর বিয়ারিং এর সমস্যা হওয়ায় ওই মোটরসাইকেল গ্যারেজে যাই। দেখি একটি শিশু পায়ে ও গলা মোটা শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় কাজ করছে। যা আমার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। বেলাল উদ্দিনের সহায়তায় মুঠোফোনে কথা হয় মোটর গ্যারজের মালিক রাজীব দাসের বাবা বাবুল দাসের সঙ্গে। রাজীব দাস এ সময় গ্যারেজে ছিলেন না। শিশুটিকে শেকলে বেঁধে রাখা হয়েছে কেন জানতে চাইলে বাবুল দাস বলেন, ছাড়া পেলে পালিয়ে যায়। তাই তাকে শেকলে বেঁধে কাজ করাানো হচ্ছে। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত একবছর ধরে শিশুটিকে গলা থেকে পা পর্যন্ত তালা দেয়া শেকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। গত দেড় বছর আগে তার বাবা-মা তাঁকে গ্যারেজের কাজ শেখার জন্য এখানে দিয়েছেন। কিন্তু সে পালিয়ে যায়। কয়েকবার ধরে আনার পর তার পা ও গলায় শেকল বাঁধা হয়েছে। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বাবা-মা বলেছেন তাকে বেঁধে রেখে কাজ করাতে। তার বাবার ফোন নম্বর চাইলে নেই বলে জানান তিনি। তবে তাদের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে যেতে বলেন তিনি। কিন্তু কোন গ্রাম বা তাদের নাম কি জানতে চাইলে তা না বলায় সেখানে যাওয়া বা কথা বলা সম্ভব হয়নি। শিশু শ্রম নিষিদ্ধ তবুও শিশুকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে বাবুল দাস বলেন, সে তো শ্রম দিচ্ছে না। কাজ শিখছে। তার বাবা-মা কাজ শিখতে দিয়েছে। এতে আমাদের জড়াচ্ছেন কেন। এ ব্যাপারে শিশু রায়হানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি অনীহা প্রকাশ করে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে বেলাল উদ্দিন শিশু রায়হানের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, কাজ শেখার জন্য মা-বাবা তাকে দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু মালিক তাকে মারধর করে। খেতে দেয় না। তাই সে দু’বার পালিয়ে গিয়েছিল। পরে তাকে ধরে এনে পা ও গলায় শেকল দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। চট্টগ্রাম মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, শ্রম আইন-২০০৬-এ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু শ্রমিক নিয়োগ সমপূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়টি কম-বেশি সবাই জানেন। সেক্ষেত্রে শিশুদের ঝুঁিকপূর্ণ কাজে নিযুক্ত যারা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, মোটর গ্যারেজে শিশু রায়হানের কাজ নিঃসন্দেহে ঝঁকিপূর্ণ। অধিকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত শিশুটিকে মুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এদিকে বেলাল উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজনের অনেকেই শিশুটির মুক্তি দাবি করেছেন। তাদের অনেকে ফেসবুকেও শিশুটির মুক্তি দাবি করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জিয়াকে নিয়ে দেয়া সেই বক্তব্য ধারণ করেন সিইসি

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সিইসির ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন- এমন বক্তব্য এখনো ওউন (ধারণ) করেন কিনা- এ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, হ্যাঁ। এখনো ওউন করি। আমি বিশ্বাস করি। এটা তথ্যভিত্তিক বলেছি। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যতদূর মনে পড়ে, জিয়াউর রহমান সাহেব ১৯৭৭ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর নতুন দল গঠন করেছিলেন। তার আগে ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র ছিল না। তার আগে (১৯৭৫ সালের আগে) গণতন্ত্র ছিল। আমি বলেছিলাম, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, প্রতিষ্ঠা নয়। তার আগে বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল। জিয়াউর রহমানের সময়ে গণতন্ত্র আবার ফিরে এসেছে। সেই ভিত্তিতে ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগসহ বহুদল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। বহুদল সংসদে যোগ দিয়েছিল। বহু দল সংসদ পরিচালনা করেছিল। কাউকে খুশি করার জন্য এটা বলিনি, তথ্যভিত্তিক বলেছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সংলাপে আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা চায়নি। তবে আমরা যে বক্তব্য দিয়েছি তাতে হয়তো বুঝতে পেরেছেন আমাদের অবস্থান কী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিবদমান ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে না বলে জানান সিইসি। তিনি জানান, বিদ্যমান সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আগামী নির্বাচন আয়োজন করবে ইসি। সংসদ ভেঙে নির্বাচনের বিষয়ে সরকারকে আইন সংশোধনে বাধ্য করা বা চাপ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ আসলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবো। সংলাপে উঠে আসা প্রস্তাব বই আকারে প্রকাশ করে তা রাজনৈতিক দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠাবেন বলেও জানান সিইসি। সংবাদ সম্মেলনে সংলাপে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব এসেছে, এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি সরাসরি উত্তরে বলেন, না। এমন উদ্যোগ নেবো না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ উদ্যোগ নেয়ার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধান হওয়া উচিত। এ উদ্যোগে আমরা (ইসি) যেতে চাই না।
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে আইনে কোনো পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- না, আইনে পরিবর্তন আনার দরকার নেই। যে আইন রয়েছে তাই যথেষ্ট। আইন প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নেয়ার দরকার নেই। যে আইন রয়েছে তাই প্রয়োগ করবো। কোনো কর্মকর্তা আইন অমান্য করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। অর্থাৎ কারো অপরাধ প্রমাণ হলে তাদের শাস্তি পেতে হবে। বর্তমান সংবিধানের আওতায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিষয়ে ইসি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সাংবিধানিক বিষয়। সংবিধান পরিবর্তন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। এটা রাজনৈতিক বিষয়। এদেশে তো বহুমুখী নির্বাচন হয়েছে। যখন যে সরকার এসেছে নির্বাচন করার দায়িত্ব কমিশনকে দিয়েছে, সেভাবে নির্বাচন করেছে। যেমন বলা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্বাচন হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের সময়ে হ্যাঁ, না ভোট হয়েছে। বেসিক ডেমোক্রেসি হয়েছিল। অর্থাৎ যেই সময়ে সরকার যে আইন তৈরি করে দেয়, ইসি সেভাবে নির্বাচন করেছে। সেই আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধান মেনে ইসিকে চলতে হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সংবিধানে যেভাবে আছে, সেভাবে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের এখনো সময় আছে কখন কী হবে তা জানি না। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আশা করি বিএনপিসহ সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আমরা আন্তরিকভাবে চাই বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে আসুক। কারণ বিএনপি একটি বড় দল। আমরা বিশ্বাস করি, আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সংলাপে অনেক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রস্তাব এসেছে- সরকার তা বাস্তবায়ন না করলে ইসির ভূমিকা কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, যেসব বিষয় ইসির এখতিয়ারভুক্ত তা সরকার করবেই। তবে জটিল কিছু বিষয় যেমন সহায়ক সরকার, সংসদ ভেঙে দেয়াসহ সাংবিধানিক বিষয়গুলোর বিষয়ে সরকারকে চাপ দেয়া বা বাধ্য করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ইসির এখতিয়ার যেগুলো সে বিষয়ে ইসি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
বর্তমান আইনি কাঠামোতে সেনা মোতায়েন কোন প্রক্রিয়ায় হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সেনা নিয়োগ কিভাবে হবে, তাদের দায়িত্ব কী হবে তা নির্ধারণ করবে ইসি। এ বিষয়ে সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। নির্বাচন আসুক তখন পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা যাবে। তবে বিদ্যমান কাঠামোতে সেনা মোতায়েন করা যাবে। সংলাপে সেনা মোতায়েন, সংসদ ভেঙে দেয়াসহ অনেক প্রস্তাব এসেছে। এমন অবস্থায় সংলাপের পর ইসি ভারমুক্ত হলেন নাকি চাপে আছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ না করা পর্যন্ত আমরা ভারমুক্ত হই না। ভার তো আমাদের উপর থাকবে, চ্যালেঞ্জ থাকবে। সেগুলো সমাধান করতে হবে।
তফসিলের পর নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সম্পূর্ণ মাঠ প্রশাসনের হাতে চলে যায়, তখন প্রশাসনের এসব লোক কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মাঠ প্রশাসনের হাতে যাবে না। নিয়ন্ত্রণ যাবে এমন কথার দ্বিমত করি। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইসির হাতে। তারা আমাদের সহায়ক শক্তি মাত্র। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান বলে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের কর্মকর্তারাও নির্বাচনে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য এবং তারা তা করে আসছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ধরনের সহযোগিতা নেয় ইসি। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পর্যন্ত ২-৩ মাস সময় লাগে। ওই সময়ে ১২ থেকে ১৩ লাখ জনবল দরকার হয়। এত জনবল স্থায়ীভাবে ইসির নেই। নির্বাচন কমিশনের এত জনবল সারাবছর পোষা সম্ভব নয়, দরকারও নেই। তাই নির্বাচনের সময়ে রিক্যুইজিশন দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেনা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ দেয়া হয়। তারা নির্বাচনে ইসিকে সহায়তা করে। তাদের উপর ইসির নিয়ন্ত্রণ থাকে ও থাকবে। তিনি আরো বলেন, আরপিওতে একটি অধ্যায় রয়েছে, যেখানে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়ার বিধান রয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানে আইনের ব্যত্যয় হবে সেখানে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে। রাজনৈতিক দলের কমিটিতে নারীদের উপস্থিতির প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সংলাপে নারীদের ভূমিকার বিরুদ্ধে যেসব প্রস্তাব এসেছে তা গ্রহণযোগ্য মনে হয় না। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংলাপে ইসি সরকারের কাছে কিছু চেয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আওয়ামী লীগ সংলাপে এসেছে রাজনৈতিক দল হিসেবে, সরকার হিসেবে নয়। সীমানা পুনঃনির্ধারণ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সীমানা নির্ধারণের আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।
সংলাপের শুরুতে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, সংলাপের মধ্য দিয়ে আমরা মূল্যবান ও দিকনির্দেশনামূলক সুপারিশ ও পরামর্শ পেয়েছি। আগামী নভেম্বরে এসব সুপারিশ ও পরামর্শ সংকলন করে ডিসেম্বরে বই আকারে প্রকাশ করা হবে। গত তিন মাসব্যাপী রাজনৈতিক দলসহ ৪৫টি সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ করেছি। সংলাপের মধ্য দিয়ে যে সুপারিশ অর্জন করেছি, সচিব সাহেব তা তিন ভাগে বিভক্ত করে তা সংগঠন ও সংস্থাগুলোর সামনে উপস্থাপন করেছেন। সেগুলো হচ্ছে- সাংবিধানিক সংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার, নির্বাচনকালে সংসদ ভেঙে দেয়া ইত্যাদি। আইন বিষয়ক যেমন আরপিও সংশোধন, সীমানা নির্ধারণ আইন তৈরি করা ইত্যাদি। তৃতীয়ত: নির্বাচন কমিশনের করণীয় বিষয় যেমন নির্বাচনে সেনা নিয়োগ, আইনের সঠিক প্রয়োগ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন। এভাবে চার শতাধিক সুপারিশ অর্জন করেছি। এ সময় তিনি আরো বলেন, মাত্র সংলাপ শেষ করলাম। নিজেরা বসে অ্যাসেসমেন্ট করে দেখবো সুপারিশগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবো।
সংলাপের পর ইসিকে সরকার চাপে রাখবে নাকি ইসি সরকারকে চাপে রাখবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমাদের কাছে সরকার বা কোনো মন্ত্রী, এমপির কোনো চাপ আসেনি। কখনও চাপ আসেনি। তবে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে চাপ এসেছে, যা সবসময় আসে। কখনো রাজনৈতিক দল পুলিশ বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিষয়ে ফোন করেছে। তখন ভেরিফাই করে ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু কখনো সরকারের দপ্তর পক্ষ থেকে আলাদা করে চাপ আসেনি। আগামীতে চাপ আসলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবো।
সুশীল সমাজের সঙ্গে গত ৩১শে জুলাই সংলাপে বসে ইসি। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে দুইদিন, ৪০টি রাজনৈতিক দল, পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রী ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ করে। প্রায় তিন মাসব্যাপী সংলাপ গত মঙ্গলবার শেষ হয়। ওই সংলাপের পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করলো ইসি। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ▼ 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...