Monday, June 24, 2019

আমরা ইউরোপের জন্য বসে নেই: ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়েদ আব্বাস মুসাভি  বলেছেন, মার্কিন-ইসরাইলি পরিকল্পনা 'ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি' ইস্যুতে বাহরাইনের মানামায় যে সম্মেলন হতে যাচ্ছে তা লজ্জাজনক। মুসলিম দেশ বাহরাইনে আগামী ২৫ ও ২৬ জুন এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আজ (সোমবার) তেহরানে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বে বিরোধ সৃষ্টি এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে বিক্রির জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে এবং বাহরাইনে এ সম্মেলনের আয়োজন সত্যিই লজ্জাজনক। তিনি বলেন, যে সম্মেলনে অর্থের বিনিময়ে শান্তির কথা বলা হবে সেই সম্মেলন সফল হতে পারে না, তা ব্যর্থ হবে।
মার্কিন ড্রোনের ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন ও তা ভূপাতিত করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর ইরানের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। পরমাণু সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ৬০  দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইউরোপের সিদ্ধান্তের জন্য বসে নেই। আমরা বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং অনাক্রমণ চুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। ইরান এর আগেই আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এখন তাদের পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকা এ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাতে কোনো ফল আসেনি। আমেরিকা এখন আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে কথা বলছে তা কেবল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য। এটা আর কিছু নয়।

চীনে আফগান শান্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা চলছে

চীনে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা চলছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া, ভারত ও আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আফগান সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র রোববার জানিয়েছে যে পরিকল্পনাটি নিয়ে কাজ চলছে তবে এখনো সবকিছুর বিস্তারিত ঠিক হয়নি।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনে আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের খবর আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক জাবিউল্লাহ ফারহাং এই বার্তা সংস্থাকে বলেন যে প্রস্তাবিত সম্মেলনে যদি আফগান সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেয় তাহলে শান্তির আশা জোরদার হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সরকার চায় তালেবান যেন যুদ্ধবিরতি করে। ইউরোপ ও ভারত এই ধারণা সমর্থন করে।
ফারহাং আরো বলেন, রাশিয়া চাচ্ছে তালেবানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গ্রুপ হিসেবে তুলে ধরতে। তারা এই গ্রুপটির অতীত বিবেচনায় নিচ্ছে না। এই অবস্থায় চীনের পররাষ্ট্র নীতি অনেকটাই ধোঁয়াশাপূর্ণ। তারা একদিকে বলছে যে আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সৈন্য সরিয়ে নেয়া হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করবে। অন্যদিকে তারা তালেবানের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করছে না।
ফলে বৈঠকটিতে দুই ধারণার পক্ষে গোলমেলে পরিবেশ তৈরি হবে। সেখানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যেমন মতৈক্য হবে না, তেমনি সেনাপ্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট তারিখও ঠিক হবে না বলে ফারহাং মনে করেন।
আগামী শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে সপ্তম দফা আলোচনা শুরুর খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে চীনে আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের সম্মেলনের আয়োজনের খবর প্রকাশ পেলো।
গত শনিবার পাকিস্তানের লাহোরে আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে এক সম্মেলনে যোগ দেন আফগান রাজনীতিকরা। তাদের মধ্যে গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, আতা মোহাম্মদ নুর, মোহাম্মদ করিম খলিলি, আনোয়ারুল হক আহাদি, হামিদ গিলানি, মোহাম্মদ মোহাকিক, আব্দুল লতিফ পেদরাম, মোহাম্মদ হানিফ আতমার, আহমেদ ওয়ালি মাসুদসহ আরো অনেক যোগ দেন।
রোববারও বৈঠকটি চলে। তালেবানদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা এতে যোগ দেয়নি।
আব্দুল ঘানি বারদারের নেতৃত্বে (মাঝে) একটি তালেবান প্রতিনিধি দল সম্প্রতি চীন সফর করে

৬ দিন বিচ্ছিন্ন সিলেট: যাত্রী নামিয়ে সেতু পেরোতে পারবে বাস, ট্রেনে চাপ by ওয়েছ খছরু ও জাবেদ রহিম বিজন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুর সেতুতে বেইলি ব্রিজ স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। আজ সোমবার বিকালে বা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বাস চলাচল করতে পারবে এই সেতুর উপর দিয়ে। জেলার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম  আল মামুন জানিয়েছেন প্রাথমিকভাবে যাত্রী নামিয়ে শুধু খালি বাস সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে দেয়া হবে। তবে মাল বোঝাই ট্রাকগুলোকে বিকল্প সড়ক দিয়েই চলতে হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আরেকটি বিকল্প হিসেবে তিতাস নদীতে ফেরি দিয়ে যান পারাপারের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানিয়েছেন সড়ক বিভাগের এই কর্মকর্তা। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাপ্রোচ সড়ক ও ঘাট না থাকায় সহসা ফেরি চালু হচ্ছে না। বেইলি ব্রিজ স্থাপনের পাশাপাশি অ্যাপ্রোচ সড়ক ও ঘাট বানানোর কাজও করা হচ্ছে। এতে আরো ৩/৪ দিন সময় লাগবে বলে জানান সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।
পুরাতন সেতুটির পাশাপাশি নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। এটি আগামী মাসের ৩ তারিখে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। ৫৯ কোটি টাকা খরচে এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। সেতুটি চালু হলে এর উপর দিয়ে সব ধরনের যান চলতে পারবে। এদিকে সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধের পর ৩ দিন বিভিন্ন বিকল্প পথে বাস-ট্রাক চলাচল করলেও এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। শাহবাজপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৩৭ কিলোমিটার পথের অর্ধেকাংশ জুড়েই মহাসড়কে অবস্থান করছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। গতকাল সরজমিন বিকল্প সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীবাহী কোনো বাস চলাচল করছে না। বিকল্প পথে ভোগান্তির কারণে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই কারণে বিকল্প সড়কে ট্রাকও চলাচল করছে না। কাঁচামাল আর বিভিন্ন পণ্যভর্তি ট্রাক মহাসড়কের উপরই অবস্থান করছে। ট্রাকেই পচে নষ্ট হচ্ছে অনেক কাঁচামাল। নানা ভোগান্তির শিকার ট্রাকচালকরাও। মহাসড়কে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই কাটছে তাদের দিনরাত। গত ১৮ই জুন বিকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর উপর সেতুটির চতুর্থ স্পেনের ফুটপাথসহ রেলিং ভেঙে পড়ে। এরপরই সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সব ধরনের ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এই সেতুর উপর দিয়ে। সড়ক বিভাগ বিকল্প পথ হিসেবে চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-সিলেট এবং চট্টগ্রামের এবং সরাইল-নাসিরনগর হয়ে লাখাই এবং রতনপুর দিয়ে ঢাকা-সিলেট গন্তব্যের যানবাহন চলাচল করার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু এসব পথে মহাসড়কের যানবাহন চলাচল দুরূহ হয়ে পড়ে নানা সমস্যায়। মহাসড়কের গাড়ির স্রোতে ২/১ দিনই বিপজ্জনক হয়ে পড়ে বিকল্প সড়ক। চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের কয়েকটি স্থানে পণ্য বোঝাই ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে আর সেই পথে না গিয়ে গাড়ি চলাচলই বন্ধ করে দিয়েছেন বাস-ট্রাকের চালকরা। গত ৬ দিন ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে সরাসরি যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
 এদিকে ট্রেনের ভেতরে যাত্রী ঠাসা। পা ফেলার জায়গা নেই। আসনের তুলনায় তিনগুণ যাত্রী ট্রেনে। কিছুই করার নেই। ঢাকা-সিলেট সড়ক পথ বন্ধ। যে যেভাবে পারছেন ট্রেনে গন্তব্য ঢাকায় রওনা দিয়েছেন। কিন্তু রাত ১০ টার ট্রেন ১২ টায় ছাড়ছে না। ট্রেনের কর্মকর্তাদের দৌড়াদৌড়ি। ‘প্রেসার’ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রেসার না পেলে ট্রেন ছাড়া যাবে না। কিন্তু ত্রুটি কোথায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি বগির ইলেকট্রনিক সংযোগ চেক করা হয়েছে। কোথাও ত্রুটি ধরা পড়েনি। ট্রেনের চালক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- ‘প্রেসার না পেলে অতিরিক্ত বোঝাই করা যাত্রী নিয়ে তিনি রওনা দেবেন না।’ আরো এক ঘণ্টা বিলম্ব। অবশেষে ১০ ভাগের মধ্যে ৭ ভাগ ‘প্রেসার’ পাওয়া গেলো। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই চালক ট্রেন ছাড়লেন। শুক্রবার রাতের ঘটনা এটি। সেই ট্রেন ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে পৌঁছলো পরের দিন সকাল ৯টার দিকে। শনিবার রাতের দৃশ্য আরো সূচনীয়। মধ্যরাত পেরিয়ে গভীর রাতে রওনা দিলো ঢাকাগামী উপবন ট্রেন। ঢাকার সঙ্গে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। গত ৬ দিন ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে গাড়ির চাকা ঘুরছে না। এই অবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়েছে ট্রেনের উপর। দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। সিলেটে ট্রেনের সিডিউল লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে দু’একটি ছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনের সিডিউল এলোমেলো হয়ে হয়েছে। সংশ্লিষ্টরাও এ নিয়ে নির্বিকার।  কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেন না। এই অবস্থায় দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা ও শিশু যাত্রীদের অবস্থা গলদগর্ম। একে তো তীব্র গরম তার উপর রেল স্টেশনে বসতে বসতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেক যাত্রী। গতকাল বিকেলে ট্রেনের সিডিউল লণ্ডভণ্ড হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার সজিব মালাকার। তিনি বলেন- ‘সিডিউল দু’এক ঘণ্টা এলোমেলো হয়েছে। আমরা সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। তবে- কোনোটি বাতিল হয়নি। যাত্রীদের কথা চিন্তা করে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে।’ শনিবার রাতেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। গভীর রাতে সিলেট রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ঢাকাগামী উপবন ও চট্টগ্রামগামী উদয়ন ট্রেন। এ দুটি ট্রেনও যাত্রীতে ঠাসা। ট্রেনের আসনের চেয়ে দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে সিলেট রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ট্রেন দুটি। শুধু সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামগামী নয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ট্রেনগুলোতেও একই অবস্থা। শনিবার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকেও বিলম্বে ট্রেন ছাড়ার ঘটনা ঘটে। তবে- এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ছিলো উপবন ট্রেন। নির্ধারিত সময়ের একটু পর রাত সোয়া ১০ টার দিকে ট্রেনটি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। তবে- এই ট্রেনে যাত্রী ছিলো দ্বিগুণ। বিমানবন্দর স্টেশনে গিয়ে এই যাত্রী তিনগুণ হয়ে হয়ে যায়। ট্রেনের ভেতরে নির্ধারিত আসনে যত যাত্রী বসা ছিলেন তার দ্বিগুণের বেশি যাত্রী ছিলেন দাঁড়িয়ে। পুলিশ বারবার চেষ্টা করে প্রথম শ্রেণীর বগিগুলোতেও লোড কমাতে পারেনি। নাসরিন নামে এক কর্মজীবী নারী শনিবার রাতে দাঁড়িয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে ফিরেন। বলেন- ‘কিছু করার নেই। রোববার থেকে অফিস খোলা। এই অবস্থায় যেভাবে হোক সিলেট পৌঁছতে হবে। জরুরি কাজে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন বলে জানান।’ সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যাংকার জানান- ‘তার পরিবার ঢাকাতে থাকেন। তিনি অনেক দিন ধরে শুক্র কিংবা শনিবার সিলেট থেকে ঢাকায় আসা যাওয়া করেন। ইজতেমার সময়ও তিনি দাঁড়িয়ে কখনো সিলেট যাননি। কিন্তু এবার স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে সিলেট যাচ্ছেন।’ শনিবার রাতের সিলেটগামী উপবন ট্রেনে প্রথম শ্রেণী ও নরমাল চেয়ার কোচের বগির ভেতরে ৫০ জনের মতো মহিলা যাত্রী কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে সিলেটে ফিরেন। সকাল ৬টার দিকে যখন সিলেট রেল স্টেশনে এসে পৌঁছেন তখন তারা যাত্রা পথের সব ক্লান্তি ভুলে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেন। কিন্তু সবার ক্ষোভ রয়েছে ট্রেনের সিডিউলে। যাত্রীরা জানিয়েছেন- ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার কারণে হঠাৎ করে ঢাকা-সিলেট সড়ক রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে জরুরি কাজে যাতায়াতের জন্য এখন অন্যতম বাহন হচ্ছে ট্রেনপথ। কিন্তু ওই ট্রেনপথে চলছে সিডিউল বিপর্যয়। এই বিপর্যয় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এ কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বেকায়দা পড়েছেন বিদেশগামী যাত্রীরা। আব্দুর রহমান নামের মধ্যপ্রাচ্য গামী এক যাত্রী শনিবার রাতে জানিয়েছেন- তিনি সকাল ৮টার আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু টিকিট না পেয়ে শেষ ট্রেনে ঢাকায় রওনা দিয়েছেন। এই ট্রেন বিলম্বে পৌঁছলে তার বিদেশ যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এদিকে- সড়ক পথ বন্ধ থাকায় সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে সকল বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। গত ১৮ই জুন থেকে পরিবহন মালিকরা গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখেছ। প্রথম দুদিন সিলেটের পরিবহন মালিকরা চালকরা ঝুঁকি নিয়ে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে দু’একটি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করেছিলো। এখন সেই রুটে যানজট তীব্র। পাশাপাশি গ্রামীণ ওই রাস্তাও যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারণে এখন বাস সার্ভিস পুরো বন্ধ। সিলেট বিভাগীয় পরিবহন শ্রমিক  ফেডারেশনের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক গতকাল বিকেলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ৬ দিন ধরে তারা গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। গতকাল তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে আরো ১ সপ্তাহ সময় লাগবে বিকল্প পথ তৈরী করতে। এদিকে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর সেতুটির ভেঙে যাওয়া অংশের মেরামত কাজ গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। এ কাজ শেষ হতে অন্তত ১০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তাই এই ১০ দিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল সম্ভব হবে না। তবে, এ সমস্যা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে তিতাস নদীতে ফেরি চালু করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

রওশনের অপেক্ষার শেষ হবে কবে by মরিয়ম চম্পা

দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর আইনি লড়াইয়ের পর জয়ের হাসি হাসেন রওশন আখতার। কিন্তু এ পর্যন্তই। পেরিয়ে গেছে আরো তিন বছর। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় কার্যকর হয়নি আজও। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় মামলা চালাতে গিয়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব এখন রওশন আখতার। এ কাহিনী ১৯৮৯ সালে শুরু। ওই বছর দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। বাংলাদেশ বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজের একটি গাড়ি তাকে চাপা দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা দুই সন্তানসহ রওশন আখতারকে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনে। করে তুলে অসহায় ও আশ্রয়হীন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলছে রওশন আখতারের বিরামহীন পথচলা। যেন এক সাগর পাড়ি দেয়া। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়েও তীরের দেখা পাননি তিনি। সাংবাদিক মন্টুর মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা মামলায় ২৬ বছর পর চূড়ান্ত রায় দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এরপর সময়ের সাথে সাথে ঘটনা বাক নেয় ভিন্ন পথে। দুই ছেলেকে মানুষ করা, নিয়মিত কোর্টে যাওয়া সবই পিতৃহীন সামলেছেন এই সত্তোরর্ধো লড়াকু নারী। কিন্তু জীবনের এই পরন্ত বেলায় আজ বড্ড ক্লান্ত তিনি। জীবনের শেষ সময়ে এসে একটাই চাওয়া, ক্ষতিপূরণের টাকাটা দিয়ে যেন দুই ছেলের জন্য একটি মাথা গোজার ঠাই করে দিয়ে যেতে পারেন তিনি।
মানবজমিনের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, সব মিলিয়ে একদমই ভালো নেই। তিন বছর আগে রায় হলেও ক্ষতিপূরণতো পাচ্ছি না। পাওয়ার কোনো লক্ষণও দেখছি না। ১৯৮৯ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মন্টু যখন মারা যান তখন আমি একটি সরকারি কলেজের লেকচারার ছিলাম। বড় ছেলে ইমতিয়াজ হোসেনের বয়স ৯ এবং ছোট ছেলে ইশতিয়াক হোসেনের বয়স ছিল ৫ বছর। তখন থেকেই আমার সংগ্রাম শুরু। এসময় আমার বেতন ছিল সবমিলিয়ে দেড় হাজার টাকা। ওর বাবার অফিস থেকে এককালীন কিছু টাকা পেয়েছিলাম তখন। যেটা ছিল যতসামান্য। ওই দেড় হাজার টাকা দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতাম। বাবা ও ভাইরা বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করতেন। যেটাকে বলে খুড়িয়ে চলা। দীর্ঘ ৩০ বছরের জীবনে কম ঘটনা ঘটেনি। মামলাটা করেছিল মূলত দৈনিক সংবাদের পক্ষ থেকে। তারা মামলা করলেও আমাকেই মূলত মামলা চালাতে হচ্ছে তখন থেকে।
তখনকার এটর্নি জেনারেল আমিনুল হকের কাছে মামলাটি ছিল। আমি তাকে বলি আমারতো খাওয়ারই পয়সা নেই। আমি মামলা নিয়মিত করতে পারবো না। তিনি আমাকে বললেন, দেশে ক্ষতিপূরণ মামলার কোনো নজির যেহেতু নাই তাই আপনার মামলাটি দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে মামলাটি আমি রেগুলার করতে চাই। মামলাটি নিয়মিত করলেও কিছুদিন পরই তিনি মারা যান। এরপর থেকে পুরোটাই আমাকে দেখতে হয়। পরবর্তীতে মামলাটি বর্তমান আইনজীবী খলিলুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করি। তিনিই মামলাটি চালিয়ে রাখতে সহায়তা করেছেন। কিন্তু মামলাটি চালাতে গিয়ে অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে। নিন্ম আদালতে ১৪ বছর লেগেছে মামলার রায় পেতে।
তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হয় বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে। পরে ক্ষতিপূরণ কমিয়ে আনা হয় দুই কোটি এক লাখ টাকায়। পরে শুনানিতে আবার ৩২ লাখ টাকা কমানো হয়। ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল দেয়া রায় হওয়ার প্রায় তিন বছর পরও ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পাননি প্রয়াত মন্টুর স্ত্রী রওশন আখতার। তিনি বলেন, ২৬ বছর আইনি লড়াই শেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে ক্ষতিপূরণের রায় পেয়েছি। কিন্তু টাকা পাইনি এখনও। সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান টাকা না দেয়ায় ঢাকার তেজগাঁওয়ে তাদের পাঁচ কাঠা সম্পত্তি ক্রোক করে নিলামের জন্য পত্রিকায় দুবার বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ তাতে অংশ নেয়নি। উল্টো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া বাবদ ব্যক্তিগত লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
মামলার রায় পেতে নিজের পেনশন থেকে শুরু করে সর্বস্ব হারিয়ে আজ প্রায় নিস্ব। প্রত্যেক মাসে দুই হাজার টাকা দিয়ে নিলামের তারিখ পরিবর্তন করে নিলামটি জীবন্ত রাখছি। অন্যথায় নিলাম বাতিল হয়ে যাবে। বড় ছেলে ম্যানেজম্যান্টে মাস্টার্স করলেও সম্প্রতি চাকরি হারিয়ে এখন বেকার। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংএর শিক্ষক ছোট ছেলে ইশতিয়াকের চাকরির টাকায় এখন চলছে মামলার খরচ। ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করে ৭০ বছর বয়সী এই নারী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলতে গেলে আমার ব্যাচমেট এবং ক্লাসমেট ছিলেন। ্তুঅপেক্ষায় থেকে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। এখন প্রধানমন্ত্রী যদি বিবাদীপক্ষকে আদেশ দেন বা অনুরোধ করেন, তা হলে হয়তো টাকাটা পেতে পারি। অনেক ঋণ হয়ে আছে। মৃত্যুর আগে এসব ঋণ শোধ করতে চাই।
জীবনের ৩০টি বছর কি যে নির্মম সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে সেটা কেবল আমিই জানি। আর্থিক, সামাজিক, মানসিকসহ সবক্ষেত্রেই একটি বিপদগ্রস্থ সময় পার করেছি। অথচ আমার স্বামী ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। প্রতিটি মূহুর্তের কষ্ট এবং দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদান অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আমাকে দিবেন। দশ বছরের বিবাহিত জীবন যোগ করলে দাড়াবে ১০ মাস। ওদের বাবা আমার জন্য সম্পদ হিসেবে রেখে গেছেন দুটি ছেলে আর ব্যক্তিগত ৭০ হাজার টাকার ঋণ। এই টাকাটা পেলে অন্তত আমার এতোদিনের কষ্টটা লাঘব হতো। আমার একটাই প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শুধু আমার কষ্টটা বলে যাবো। দুটি বাচ্চাকে পড়ালেখা করাতে কতো যে যুদ্ধ আমাকে করতে হয়েছে সেটা কেবল আমিই জানি।

ব্যক্তির স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়ছে by শিশির মোড়ল

স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় বাড়ছে। এই ব্যয় বৃদ্ধিকে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ অর্জনে বাধা বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদেরা।
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা সংস্কার প্রস্তাব করে একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ। ব্যবস্থাপনা, জনবল, সেবা, অর্থায়ন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা—এই পাঁচটি বিষয়ে ধারণাপত্রকে সামনে রেখে বড় পরিসরে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ।
স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের মহাপরিচালক শাহদাত হোসেন মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বিরাজমান ব্যবস্থাতেই সংস্কার এনে তা অর্জন সম্ভব। আমরা বাস্তব কিছু সংস্কার প্রস্তাব করেছি।’
এ বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য, ছিল ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা: সবার জন্য, সবখানে’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ) অর্থ প্রত্যেক মানুষ প্রয়োজনের মুহূর্তে মানসম্পন্ন সেবা পাবে। সেবার জন্য মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করবে। অর্থের অভাবে মানুষ সেবাবঞ্চিত থাকবে না, ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হবে না।
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়।
পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে
সরকারের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ ২০১২ সালে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের কৌশলপত্র তৈরি করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কমাতে উদ্যোগ নেবে সরকার। তখন ব্যক্তির নিজস্ব খরচ ছিল ৬০ শতাংশ। ২০৩২ সালে তা ৩২ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কমেনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের সরকারি হিসাব বলছে, ব্যক্তির নিজের ব্যয় ৬৭ শতাংশ, আর ২৩ শতাংশ সরকারের। বাকি ১০ শতাংশ দাতা ও অন্যরা ব্যয় করে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি।
২০১২ সালে ওষুধের জন্য মানুষ মোট ব্যয়ের ৬৫ শতাংশ ব্যয় করত। এখন তা বেড়েছে। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাণিজ্যিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণেও মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি বাড়লে ব্যক্তির ব্যয় কমে আসবে।’
৫ দফা প্রস্তাব
স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সংস্কার প্রস্তাবের শুরুতে বলা হয়েছে, অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবলে বিনিয়োগ থাকলেও মানুষের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এটা বড় চ্যালেঞ্জ। সংস্কারের অগ্রাধিকার তালিকার শুরুতে আছে ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন।
ধারণাপত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ক্যাডার-নন-ক্যাডার দ্বন্দ্ব এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার দ্বন্দ্ব কয়েক দশকের পুরোনো। এই দ্বন্দ্ব সমন্বয়হীনতার বড় কারণ। এ জন্য সেবার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ কাঠামোর আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
সংস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কমানো। এ জন্য সরকারের ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি এর ওপর নজরদারি জোরদার করতে হবে। ৯০ শতাংশ মানুষকে সামাজিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে।
দিশারি প্রকল্প
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ২০১২ সালের কৌশলপত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) নামে একটি দিশারি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। ২০১৩ সালে এই প্রকল্প শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় এসএসকে শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলাকে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। এই তিন উপজেলার ৮০ হাজার পরিবারকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে স্বাস্থ্য সহকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ৭৮টি রোগের চিকিৎসা বিধি (ট্রিটমেন্ট প্রটোকল) তৈরি করা হয়েছে। বিধিতে প্রতিটি রোগের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধের তালিকা দেওয়া আছে।
দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে সরকার বছরে এক হাজার টাকা প্রিমিয়াম দেয়। বিনিময়ে প্রতিটি পরিবার বছরে ৫০ হাজার টাকার চিকিৎসা সুবিধা পায়। কোনো পরীক্ষা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করা হলে সেই ব্যয়ও প্রকল্প থেকে পরিশোধ করা হয়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা, প্রিমিয়ামসহ যাবতীয় ব্যয়ের হিসাব রাখে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আছে। কিন্তু এ বিষয়ে ধারণাগত অস্পষ্টতাও আছে। সংসদে ও জনপরিসরে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়া দরকার।

গুলিতে ঝাঁঝরা একটি পরিবার: ১০০ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের

একশ’ টাকার দ্বন্দ্ব নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। তখন একটি পক্ষ বিপক্ষ দলকে প্রতিহত করার জন্য শটগান দিয়ে গুলি ছুড়ে। সেই   গুলি প্রতিপক্ষকে ছুঁতে না পারলেও নীরিহ একটি পরিবারের চার সদস্যের শরীর ঝাঝরা করে দিয়েছে। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। শিশু দুটির চোখের মধ্যেও গুলি লেগেছে। এই চারজন ছাড়াও স্থানীয় এক ব্যবসায়ীও আহত হয়েছেন গুলিতে। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানাধীন শনির আখড়ার গোবিন্দপুর নূর মসজিদ এলাকায়। আহতরা হলেন, হাফিজুল ইসলাম (২৪), তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাথী আক্তার (২০), হাফিজুলের ভাতিজি আবিদা আক্তার (৫), ভাগিনা জুনায়েত হোসেন (৪) এবং ওই এলাকার ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম এনায়েত (২৪)।
এ ঘটনায় পুলিশ একটি শটগান ও কিছু গুলি উদ্ধার করেছে।
গুলির ঘটনায় এনায়েতের বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে যাত্রবাড়ি থানায় একটি মামলা করেছেন। আসামিরা হলেন, মো. এরশাদুর রহমান হ্যাপি (৩৫), তার বাবা হাফিজ উদ্দিন (৬০) ও সাইফুল ইসলাম (৪০)। এই মামলায় আরও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় ইয়াছিন ও বাবুর সঙ্গে মামলার এক নম্বর আসামি মো. এরশাদুর রহমান হ্যাপির চাচাত ভাই হৃদয়ের একশ টাকা নিয়ে ঝগড়া ও বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি মিটমাট করে দেন স্থানীয় মোবারক হোসেন নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু ইয়াছিন ও বাবু কেন মোবারকের কাছে বিচার দিল এজন্য ক্ষুব্ধ হন হ্যাপি। এজন্য শনিবার রাতে তাদের চড়-থাপ্পর দেন তিনি। পরে তারা দুজন চড়-থাপ্পড়ের বিচার চাইতে হ্যাপির বাবা হাফিজ উদ্দিনের কাছে যান। হাফিজ উদ্দিন বিচার না করে উল্টো তাদের বকাবকি করেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে হ্যাপি, সাইফুল ও আরও ১০/১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে হামলা করেন ইয়াছিন, বাবু ও তাদের বন্ধুদের ওপর। তখন তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ইয়াছিন, বাবু ও অন্যরা আশ্রয় নেন ৬৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের ক্লাবে। কিন্তু মামলার আসামিরা ওই ক্লাবে গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এছাড়া হ্যাপি তার কাছে থাকা শটগান দিয়ে তাদের ওপর ছররা গুলি ছোঁড়ে। গুলি ছোঁড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়াছিন, বাবু ও অন্যান্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এসময় হাফিজুলের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। বাসার পাশের মাঠ থেকে ছোড়া গুলি জানালা ভেদ করে তাদের শরীরে লাগে।
আহত হাফিজুল ইসলাম বলেন, তার দুই ভাই, দুই ভাবী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে তিনি গোবিন্দুপর এলাকার রহিম সরদারের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। তবে তারা মূলত রাজবাড়ি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন টাইলস মিস্ত্রি। ওই বাসার পাশে একটি ছোট্ট মাঠে একশ টাকা পাওনা নিয়ে হাফিজ উদ্দিন ও তার ছেলে হ্যাপীর সঙ্গে স্থানীয় দুই যুবকের ঝগড়া চলছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধস্তাধস্তি হয়। তিনি বলেন, আমরা সবাই তখন খাটের ওপর বসে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। মাঠের মধ্যে হট্টগোলের শব্দ শুনে আমার ভাতিজি ও ভাগ্নে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। তখন জানালা দিয়ে দেখতে পাই একটি পক্ষ হাতে শটগান নিয়ে আরেকটি পক্ষকে তাড়া করছে। আর পেছন থেকে ছররা গুলি ছুঁড়ছে।  তখন সামনে থেকে ওই পক্ষের লোকজন সরে যাওয়াতে সেই গুলি জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা ভাতিজি, ভাগ্নে ও আমি ও আমার ভাইয়ের স্ত্রী আহত হন। হঠাৎ করে আসা গুলির কারণে আমরা মারাত্বকভাবে  আহত হয়েছি। হাফিজুলের ভাই আব্দুল্লাহ জানান, তার ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় বাসার পাশের মাঠে ব্যাপক হট্টগোল চলছিল। হঠাৎ করে গোলাগুলি শুরু হলে জানালা দিয়ে আসা শটগানের গুলিতে চারজন আহত হন। এ সময় বাইরে আরও এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লেগেছে। ছররা গুলি হওয়ার কারণে তারা হয়তো প্রাণে বেঁচে গেছেন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত দুই শিশুর চোখে গুলি লাগায় তাদের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. মোস্তাফিজুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, এখন পর্যন্ত এঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। আসামিরা পলাতক রয়েছেন। আর এ ঘটনাটি মাত্র ১০০ টাকার দ্বন্দ্ব নিয়েই হয়েছে বলে জেনেছি। তাদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নাই। অথচ আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। আমরা একটি শটগানও উদ্ধার করেছি। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। খুব তাড়াতাড়ি তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে ওসি জানান।

ইরানে হারছে ভারত

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানি তেল কেনা অব্যাহত রেখে যুক্তরাষ্ট্রের স্বৈরাচারী আচরণকে চ্যালেঞ্জ করেছে চীন। অন্যদিকে, ভারতের কার্যত আত্মসমর্পন শুধু দেশটির পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কতটা সংযুক্ত সেটাই প্রমাণ করছে না, তা তেহরানের সঙ্গে নয়া দিল্লির ‘পাথরের মতো কঠিন’ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কতটা বেআইনি তা বুঝাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ভারত সফরে গেলে উপরোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে ইরানী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। এরপর অনেককে অবাক করে দিয়ে জারিফ পাকিস্তান সফর করেন এবং গোয়াদার বন্দরের সঙ্গে ইরানের চাবাহার বন্দরের সংযোগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। অথচ এই বন্দরের উন্নয়ন করছে ভারত এবং সেখানে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগও করেছে। ইরানি বন্দরটিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেয়ার পরও এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
ইরান স্পষ্টতই বন্দরটিকে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিতে গিয়ে এর প্রাথমিক উন্নয়নকারী ভারতকে গ্রাহ্য করেননি। আরো যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাহলো, চাবাবার-গোয়াদার সংযোগকে চায়না-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরের (সিপিইসি) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যোগদানের সম্ভাব্য প্রবেশপথ হিসেবে দেখছে ইরান।
ভারতের উপর এর বড় ধরনের কৌশলগত প্রভাব পড়বে। চাবাহারে অংশীজন হিসেবে পাকিস্তান ও চীনের উপস্থিতি এই বন্দরকে আঞ্চলিক কানেকটিভিটির ভরসাস্থল হিসেবে ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে নতুন বাণিজ্য ভূগোল সৃষ্টির ভারতীয় পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং/বা ভারত এই বন্দরটিকে নিজের সুবিধা মতো এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বা কাজে লাগাতে পারবে না।
ভারত এরই মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা বন্দরটির উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেছে। আরো মজার বিষয় হলো পাকিস্তান যাওয়ার আগে চীন সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ। তিনি সেখানে তার চীনা প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কারণে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বিআরআই নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে দুই বন্দরকে সংযুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই প্রস্তাব শুধু ইরানের কাছে নয় বেইজিংয়ের জন্যও কৌশলগতভাবে বেশ ওজনদার।
ইরানের অবস্থান পরিবর্তনের কারণ বোঝা যায়, ভারতও একে তার একটি ক্ষতি হিসেবে দেখবে। ভারত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের কাছ থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ায় (ভারত প্রতিমাসে ইরান থেকে ১.২ মিলিয়ন টন তেল কিনতো। এটা ছিলো তার মোট তেল আমদানির ১০%। সৌদি আরব ও ইরাকের পর ইরান ছিলো ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম তেল রফতানিকারক) নয়া দিল্লির উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে তেহরান। এখন বন্দর চুক্তি থেকে ভারত বেরিয়ে যেতে পারে বলেও আশংকা করছে তারা, যা ইরানের বড় অর্থনৈতিক উদ্যোগটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তাই পাকিস্তান (ও চীনকে) প্রস্তাব দিয়ে ইরান প্রকল্পটির সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে বন্দরটিকে পুরোপুরি কার্যক্ষম করে তুলতে চাচ্ছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান ও চীন বন্দরটির কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে সংযুক্ত না হলেও চাবাহারে দেশ দুটির উপস্থিতি এর উপর ভারতের প্রভাব খর্ব হবে অথবা ওই অঞ্চলে ভারত তার তৎপরতার উপর নজরদারির আশংকা করতে পারে।
ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়ার মার্কিন নীতির পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান নিয়েছে ভারত। বর্তমান অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যোগ দিতে পাকিস্তান অস্বীকার করেছে। এর মানে হলো ইরানের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য যেসব স্বার্থ রয়েছে সেগুলোও বিপন্ন হবে।
যেমন, ইরানি প্রস্তাবের কারণে উচ্চাভিলাষী নর্থ-সাউথ করিডোরে ভারতের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগের সময়ের চেয়ে আরো বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়লো। এই করিডোর স্থলপথে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতো।
ফলে ইরানের স্বার্থের পাশাপাশি এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অথবা অন্তত এগুলো আর কোন ‘বিশেষ’ উদ্যোগ থাকলো না।
এছাড়াও ইরানের ফারজাদ-বি গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নে ভারতের আগ্রহ ছিলো। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভারত অবস্থান নেয়ায় এই উচ্চাভিলাষটিও বিপন্ন হয়ে পড়লো। শুধু ইরান থেকে তেল কেনা নয়, সেখানকার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বন্ধ করতেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ইরানকে হতাশ করে দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এসব ইস্যুতে চুপ করে আছে। ইরানের তেল মন্ত্রী জাঙ্গানেহ বলেন, ‘ভারতের অয়েল এন্ড নেচারাল গ্যাস কর্পোরেশনের বৈদেশিক বিনিয়োগ শাখা ওভিএল এখন পর্যন্ত ইরানের আমন্ত্রণের ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি। আমরা অপেক্ষা করছি…তারা না আসলে দেশীয় প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
ভারতের নীরবতা ইংগিত দিচ্ছে যে তারা আর গ্যাস খাতে বিনিয়োগ করতে চায় না। যদি তাই হয় তাহলে তা হবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে। এর আগে চুক্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে যে মতবিরোধ ছিলো তা ২০১৮ সালেই মিটে গেছে।
ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি মার্কিন-পন্থী হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড় না দিলে বা ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত ইরানের ক্ষেত্রে ভারতের বড় ধরনের খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বতর্মান পরিস্থিতিতে তার সম্ভাবনা কম।
তাই ফলাফল যাই হোক না কেন, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের আত্মসমর্পণ পরাশক্তিটিকে বিনাশর্তে তুষ্ট করার প্রদর্শনী ছাড়া আর কিছু নয়।
সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর

আশা বাঁচলো পাকিস্তানের

দুই দলের জন্যই এটা ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। তবে আরো একবার নিজেদের মলিন চেহারা দেখালো প্রোটিয়ারা। আর দারুণ জয়ে নিজেদের আশা বাঁচিয়ে রাখলো সরফরাজ বাহিনী। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৯ রানে জয় কুড়ায় পাকিস্তান। এতে আসরের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালের আগে বিদায় নিশ্চিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। চলতি বিশ্বকাপে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম হার। টানা ছয় হারে আফগানিস্তানের বিদায় ঘণ্টা বেজেছে আগেই। গতকাল লর্ডসে আগে ব্যাটিং শেষে প্রোটিয়াদের ৩০৯ রানের টার্গেট দেয় পাকিস্তান।
জবাবে ২৫৯/৯ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। আসরে ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে রইলো পাকিস্তান। নিজেদের শেষ তিন ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। দশ দলের আসরে ৭ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নবম স্থানে নেমে গেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। আসরে ৬ ম্যাচে এখনও পয়েন্টের দেখা পায়নি আফগানিস্তান।
লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের বল হাতে ১০ ওভারের স্পেলে ৪৬ রানে তিন উইকেট নেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। আর ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন লেগস্পিনার শাদাব খান। তবে প্রোটিয়াদের সেরা দুই উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ আমির। বিধ্বংসী বোলিংয়ে নিজের শুরুর ৭ ওভারে ১৯ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন এ পাকিস্তানি পেসার। আর ১০ ওভারের স্পেল শেষে ৪৯ রানে দুই শিকারে গর্বের এক তালিকার শীর্ষে ওঠেন আমির। চলতি আসরে সর্বাধিক ১৫ উইকেট শিকার আমিরের। আসরে ১৫ উইকেট রয়েছে ইংলিশ পেসার জফরা আর্চার ও অজি ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্কেরও। তবে আর্চার (১৭.৯৩) ও স্টার্কের (২০.২৬) তুলনায় শ্রেয়তর গড় আমিরের (১৪.৬০)। আসরের ৩০তম ম্যাচ শেষে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকের তালিকায় হেরফের নেই। ৬ ম্যাচে ৪৪৭ রান নিয়ে শীর্ষে অজি ওপেনার ডেভিড ওপেনার। এক ম্যাচ কম খেলে বাংলদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান (৪২৫ রান) রয়েছেন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
এক টুইটার বার্তায় সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ভারতকে আগাম অভিনন্দন জানিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা পেসার হাসান আলীকে বাইরে রেখে গতকাল একাদশ সাজায় পাকিস্তানি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। হাসানের জায়গায় সুযোগ পাওয়া শাহীন শাহ আফ্রিদি পরিষ্কার বোল্ড করেন প্রোটিয়া মারকুটে ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলারকে। এবারের বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৮৯ রানে হার দেখে পাকিস্তান। পরে এক ভারতীয় সাংবাদিক কোহলিদের অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেন, ‘দারুণ জয়ের জন্য টিম ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন। ভারত এবারের বিশ্বকাপ জিতবে আশা করি।’ আশ্চর্যজনকভাবে এতে রিটুইট করে হাসান আলী। তাতে হাসান আলী লিখেন, আপনার দোয়া কবুল হবে, অভিনন্দন (হোগি আপকি দুয়া পুরি কনগ্র্যাচুলেশন)। এতে হাসান আলীর বিপক্ষে পাকিস্তানি সমর্থকরা সমালোচনার ঝড় তোলেন সামাজিক যোগাযোমাধ্যমে। পরে নিজের ওই টুইট মুছে ফেলেন হাসান আলী।
গতকাল ‘হোম অব ক্রিকেট’ লর্ডসে টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। হারিস সোহেল ও বাবর আজমের জোড়া অর্ধশতকে ভর করে ৩০৮/৭ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে পাকিস্তান। প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিডি তিন ও লেগস্পিনার ইমরান তাহির নেন দুই উইকেট।
বড় টার্গেটে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট হাতে আরো একবার ব্যর্থ দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হাশিম আমলা। পাকিস্তানের সাফল্যটা আসে ইনফর্ম পেসার মোহাম্মদ আমিরের হাত ধরে। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই দলীয় ৪ রানে আমলাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন আমির। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইনিংস সামাল দেন অপর ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। ১৯.২তম ওভারে লেগস্পিনার শাদাব খান ডি ককের উইকেট তুলে নিলে ভাঙে ৮৭ রানের জুটি। ডি ককের ব্যাট থেকে আসে ৬০ বলে ৪৭ রান। মাত্র ১২ রানের ব্যবধানে প্রোটিয়া চার নম্বর ব্যাটসম্যান এইডেন মার্করামকে সাজঘরে ফেরান শাদাব। চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলীয় ১৩৬ রানে ডু প্লেসির বিদায়ে শঙ্কা বাড়ে প্রোটিয়াদের। ২৯.৩তম ওভারে ডু প্লেসিকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন মোহাম্মদ আমির। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৬/৪-এ। ব্যাট হাতে ৭৯ বলে ৬৩ রান করেন ডু প্লেসি। পঞ্চম উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়ে আশা ধরে রাখেন রাশি ভ্যান ডার ডুসেন ও ডেভিড মিলার। কিন্তু মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে উভয়েই সাজঘরে ফিরলে দৃশ্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪০.৫তম ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯২/৬-এ। শেষের দিকে ব্যাট হাতে আন্দিলে ফেকোয়াওয়োর (৪৬*) লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হারের ব্যবধানটা কমে মাত্র।

কুলাউড়ায় ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত, বহু হতাহত

সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে ট্রেনটির ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এর মধ্যে একটি খালে পড়ে এবং অপর পাঁচটি বগি জমিতে উল্টে পড়ে। এতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ৬ জন নিহত ও অন্তত দুই শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের ২৭টি ইউনিটের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় মিলেছে। তার নাম মনোয়ারা পারভীন।
তিনি কুলাউড়ার বাসিন্দা। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে কালা মিয়া বাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সড়কের পর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক জানান, এ পর্যন্ত ৬০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ আহত যাত্রীকে সিলেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। চারজনের লাশ কুলাউড়া হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের লোকাল ইনচার্জ দুলাল চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরেই জিআরপি পুলিশ, দমকল বাহিনী ছাড়াও কুলাউড়ার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এছাড়া ট্রেনের বগি উদ্ধারে তাদের স্টাফরাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
ঘটনাস্থলের যাত্রী জৈন্তাপুর ইমরান আহমদ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহেদ আহমদ জানান, কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশন সংলগ্ন একটি ব্রিজে হঠাৎ ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এর মধ্যে একটি খালে এবং পাঁচটি বগি উল্টে জমিতে পড়ে।
ওই ট্রেনে থাকা অপর যাত্রী সাইদুর রহমান রাব্বী বলেন, আমরা ছয় বন্ধু সিলেট বেড়াতে গিয়েছিলাম। রাতেই সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরছি। বরমচাল নামক একটি জায়গায় আসার পর আমাদের পেছনের তিনটি বগি ছিটকে যাওয়ার কথা শুনেছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে অন্য বগিতে থাকা যাত্রীরা বেঁচে গেছেন। আমরাও বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে রয়েছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইলের শাহবাজপুরে বেইলি ব্রিজ স্থাপনের কাজ চলায় ঢাকা-সিলেট বাস চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে ট্রেনের উপর চাপ এখন বেশি। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণেই ট্রেনটির বগিগুলো লাইনচ্যুত হয় বলে ওই ট্রেনটির যাত্রীদের ধারণা। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের স্টেশন মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম এবং শমসের নগরের স্টেশন মাস্টার কবির হোসেন বলেন, বরমচাল এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আরকিউ-৪এ ভূপাতিত : মার্কিন সম্মান ভূলণ্ঠিত

আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক
মার্কিন চালকহীন বিমান আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ভূপাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় মাপের ক্ষতি হয়ে গেছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি মার্কিন চালকহীন বিমান ভূপাতিত করায় এ মন্তব্য করেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা ।
গত প্রায় দেড় যুগ ধরে আকাশ থেকে গোয়েন্দা তৎপরতা চালালেও এই প্রথমবার এটিকে ভূপাতিত করা হলো। মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস এ প্রসঙ্গে লিখেছে, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরকিউ-৪এ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় হকচকিত হয়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। গোয়েন্দা তৎপরতার জন্য তৈরি এ চালকহীন বিমানকে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে ফাঁকি দেয়ার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছিল।
একজন মার্কিন সামরিক ড্রোন বিশেষজ্ঞ ইরানের হাতে তার দেশের অত্যাধুনিক গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত হওরার ঘটনাকে ‘বেদনাদায়ক’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, আমরা ভাবতাম ‘গ্লোবাল হক’ ড্রোনকে শনাক্ত করে কেউ তা গুলি করে ভূপাতিত করতে পারবে না; কিন্তু আমাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। মিসেস উলরিক ফ্রান্ক বৃহস্পতিবার এ কথা জানান। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান ধুলায় মিশে গেছে।
পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক ইউরোপীয় পরিষদের ড্রোন বিশেষজ্ঞ উলরিকা ফ্রাংক বলেছেন, এটি একবার ব্যবহার উপযোগী কম দামের চালকহীন বিমান নয় যে এর ভূপাতিত হওয়ার ক্ষতি সহজে ভুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি এ চালকহীন বিমানকে ‘উড়ন্ত ডাটা’ সংগ্রহকারী হিসেবে অভিহিত করেন।
ভূপাতিত হওয়ার ক্ষতি কেন যুক্তরাষ্ট্র ভুলতে পারবে না সে কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। কেবল দামি বলেই এটি হারানোর ক্ষতি ভুলতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র তা নয় বরং এটি অনেক উঁচু দিয়ে ওড়াউড়ি করে। এতে অনেক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায় আরকিউ-৪এ। কিন্তু ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শ্যেন চক্ষু ফাঁকি দিতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে এটি সে দিকে ইঙ্গিত করেই এ কারণ তুলে ধরেন তিনি।
এরই মধ্যে এ ড্রোন ইরাক, আফগানিস্তান, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশে আড়াই লাখ ঘণ্টার বেশি উড়েছে। আরকিউ -৪এর নির্মাতা সংস্থা নর্থথ্রোপ গুরুমম্যানের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রতিটি আরকিউ-৪এর দাম প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ লকহিড মার্টিনের তৈরি করা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ লাইটেনিং ২এর চেয়েও এর দাম পড়ছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি।
৪৭ ফুট লম্ব জেট-পরিচালিত আরকি-৪এর ডানার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ ফুট। বোয়িং বিমানের চেয়ে বড় ডানাওয়ালা এ ড্রোন ৬৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি উড়তে পারে। গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নেয়ার জন্য এতে বসানো থাকে অত্যাধুনিক এবং স্পর্শকাতর নানা যন্ত্র।
সূত্র : পার্স টুডে

মৃত হাতি খেয়ে মারা গেল ৫৩৭ শকুন

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ বতসোয়ানায় একই দিনে মারা গেছে পাঁচ শ’রও বেশি বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির শকুন। দেশটির সরকার বলেছে, বনাঞ্চলে চোরাকারবারীদের শিকার করা হাতির বিষাক্ত মাংস খেয়ে মারা গেছে ৫৩৭টি শকুন ও ২টি ইগল। বতসোয়ানারা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এলাকায় এই শকুনগুলো মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। মোট ৫ প্রজাতির শকুন রয়েছে এগুলোর মধ্যে।
শকুনকে অনেক বছর আগেই বিপুপ্ত প্রায় প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে দেখা যায় শুধুমাত্র এদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বতসোয়ানা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চোরকারবারীরা হাতি শিকারের পর সেগুলোর গায়ে রাসায়নিক তরল পদার্থ দেয় যাতে মাংস দ্রুত পঁচে যায়। এরপর তারা সেই হাতিগুলোর দাঁত, হাড় সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পাচার করে। রাসায়নিক দেয়া এমনি তিনটি হাতির মাংস খেয়েছিল ওই শকুনগুলো। যে কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
আফ্রিকান বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশন বলেছে, হাতি চোরাকারবারীদের একই কাজ শকুনের মৃত্যুর জন্য দায়ী। এ কারণেই এই অঞ্চলে শকুনের সংখ্যা দ্রুত কমছে। শকুন যেহেতু প্রাণীদের মৃতদেহ খায়, তাই তাদের জন্য এটিই বিপদ ডেকে আনছে।
সংস্থাটি বলেছে, মৃতপ্রাণীদের দেহ খেয়ে শকুন পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। এর ফলে প্রাণীদের মৃতদেহ থেকে রোগবালাই ছড়াতে পারে না।
সম্প্রতি বতসোয়ানা সরকার হাতি শিকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরফলে চোরা কারবারীরা আরো উৎসাহিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সিএনএন

পোশাকের সঙ্গে বাড়ছে সুতার বাজারও by সুজয় মহাজন ও শুভংকর কর্মকার

তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর ভর করে দেশের রপ্তানি খাত দাঁড়িয়ে আছে। আর পোশাকশিল্পের কল্যাণে দেশে গড়ে উঠেছে সেলাইয়ের সুতা বা সুইং থ্রেড কারখানা। এই সুতা দিয়ে পোশাক সেলাইয়ের কাজ হয়। ফলে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সহযোগী এই খাতটিও বড় হচ্ছে। সুতার দাম নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকার পরও এ খাতে নতুন নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে পোশাক সেলাইয়ের সুতা উৎপাদনের ছোট-বড় ৩০টির বেশি কারখানা আছে। তবে তার মধ্যে ছয়টি কারখানাই চাহিদার ৭২ শতাংশ সুতা জোগান দিচ্ছে। ছয়টি কারখানার মধ্যে তিনটি আবার দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত। বাকি তিনটি দেশীয়। সুতার বাজার অংশীদারত্বে শীর্ষ অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোটস। এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানিটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোটস। যৌথ বিনিয়োগের কারণে এ দেশে সেটি কোটস বাংলাদেশ নামে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ দেশের সুতার চাহিদার ৩১ শতাংশই জোগান দেয় কোম্পানিটি। বছর দেড়েক আগে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপ নতুন করে এ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে।
২০১৫ সালে ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার বা ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। সেই পোশাক সেলাইয়ের জন্য ওই বছর প্রায় ২১ কোটি ডলারের বেশি বা ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার (প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ৮৫ টাকা ধরে) সমমূল্যের সুতা সরবরাহ করে সুইং থ্রেড কারখানাগুলো। গত বছর পোশাক রপ্তানি বেড়ে ৩ হাজার ২৯২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। পোশাকের রপ্তানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সেলাইয়ের সুতার বাজারও। গত বছর প্রায় ২৯ কোটি ডলারের বা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সুতা সরবরাহ করেছে সুইং থ্রেড কারখানাগুলো। কারখানাগুলোর সরবরাহ করা সুতা দিয়ে রপ্তানির পোশাক তৈরি হয়। পোশাকের মাধ্যমে সুতাও রপ্তানি হচ্ছে। তাই এটিকে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির খাত বলা হয়।
এ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেলাইয়ের সুতা উৎপাদন ও বাজারজাতকারী দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম নিয়ে অসম প্রতিযোগিতা চলছে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর সুতার দামের চেয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত সুতার দাম তুলনামূলক কম। এরপরও বাজারের সিংহভাগ বিদেশি তিন কোম্পানির দখলে। কারণ, পোশাকের সঙ্গে সুতার মানের বিষয়টি নির্ধারণ করে দেয় বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। অনেক ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেলাইয়ের সুতা কিনতে হবে, তা–ও নির্ধারণ করে দেয় পোশাকের বিদেশি ক্রেতারা। আর এই সুযোগটি বেশি পায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।
শতভাগ দেশীয় মালিকানার কোম্পানি ওয়েল গ্রুপ ১৯৭৩ সালে ছোট একটি কারখানার মাধ্যমে সুতা তৈরির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়। শুরুতে তাদের উৎপাদিত সুতা স্থানীয় দরজির দোকানে সরবরাহ করা হতো। ১৯৯৩ সালে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার জন্য সেলাইয়ের সুতা উৎপাদন শুরু করে এ গ্রুপেরই প্রতিষ্ঠান ওয়েল থ্রেড। বর্তমানে সেলাইয়ের সুতার বাজারের প্রায় ৭ শতাংশ ওয়েল গ্রুপের দখলে। তাতে সামগ্রিকভাবে সুতার বাজারে কোম্পানিটি বাজার অংশীদারত্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
জানতে চাইলে ওয়েল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সুতার বাজারে প্রবৃদ্ধি সরাসরি তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তৈরি পোশাকের প্রবৃদ্ধি যত বেশি হবে সুতার বাজারও ততটাই বড় হবে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত ১৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সুতার বাজারটিও সে হারে বাড়বে বলে আমাদের প্রত্যাশা।
সেলাইয়ের সুতার বাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হিস্যা বহুজাতিক কোম্পানি আমেরিকান অ্যান্ড এফার্ডের (এঅ্যান্ডই) দখলে। ২০১৭ সালের তুলনায় গত বছর বাজারে তাদের অংশীদারত্ব বেড়েছে।
জানতে চাইলে এঅ্যান্ডইয়ের মহাব্যবস্থাপক তৌরিদ আল মাসুম বলেন, ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও সুতার বাজারে সব সময়ই বড় ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করে। কারণ, দ্রুত চাহিদার পরিবর্তন ঘটে। সেই চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে না পারলে বাজার ধরে রাখা কঠিন।
সেলাইয়ের সুতা উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শার্ট-প্যান্টের মতো ওভেন পোশাক সেলাইয়ে সুতা বেশি ব্যবহৃত হয়। সেলাইয়ে কটনের চেয়ে পলিয়েস্টার সুতাই বেশি লাগে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কেউ কেউ বিদেশ থেকে সাদা সুতা এনে দেশে নিজেদের কারখানায় চাহিদা অনুযায়ী ডায়িং বা রং করে। আবার ওয়েল গ্রুপের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশে সুতা উৎপাদনের পর চাহিদা অনুযায়ী রং করে থাকে।
জার্মানভিত্তিক যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠান আমান বাংলাদেশ সুতার বাজারের চাহিদার ৮ শতাংশ সরবরাহ করে। তাতে বাজার অংশীদারত্বে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান তৃতীয়। ২০১৮ সালে এসে এ প্রতিষ্ঠানটিরও বাজার অংশীদারত্ব আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। অর্থাৎ বিক্রি বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির। সে কারণে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
জানতে চাইলে আমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শ্রম মজুরি বেড়ে যাওয়ায়, পরিবেশগত সমস্যা ও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাকের ব্যবসা থেকে সরে আসছে। তাতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সম্ভাবনা বাড়ছে। পাশাপাশি সুতার বাজারটিও বাড়বে। তিনি বলেন, সরকার যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে, সেখানে বেশির ভাগ বিনিয়োগ আসছে পোশাক খাতের। এসব কারখানায় উৎপাদন শুরু হলে সেলাইয়ের সুতার চাহিদা আরও বাড়বে।
রোকনুজ্জামান আরও বলেন, সেলাইয়ের সুতার ব্যবসাটি মূলত ব্যাক টু ব্যাক এলসির (লেটার অব ক্রেডিট) ভিত্তিতে হয়ে থাকে। প্রক্রিয়াটির সঙ্গে একাধিক ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জড়িত। এ জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সুতা সরবরাহ করতে অনেক কালক্ষেপণ হয়। তখন গ্রাহকেরা অসন্তুষ্ট হন। তাই প্রক্রিয়াটি সহজ করতে সরকারি সহায়তা দরকার। তা ছাড়া স্থানীয়ভাবে সুতার কাঁচামাল তৈরিতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে খাতটি আরও বিকশিত হবে মনে করেন তিনি।

যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন রাশিয়ার সিক্রেট ফার্স্ট লেডি!

পুতিন ও কাবায়েভা
গ্লাসনস্ত আর পেরেস্ত্রৈকার ধাক্কায় লাল রাশিয়ার শিকল অনেক দিন আগেই ছিঁড়ে গেছে। সেই নয়ের দশক থেকেই রাশিয়ায় শুরু হয়েছে মুক্ত হাওয়া। কিন্তু এই মুক্ত হাওয়ার মধ্যেও কোথাও যেন একটা অদৃশ্য বন্ধন রয়ে গিয়েছে। সেই কারণে রাষ্ট্রপ্রধানদের জীবন নিয়ে কোনো খবর নেই রুশ সংবাদমাধ্যমে। ক্রেমলিনের এই অলিখিত নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে প্রতিটি সংবাদমাধ্যমই।
এরই মধ্যে সম্প্রতি একটি প্রথমসারির সংবাদপত্র তাদের ওয়েবসাইটে সামান্য সময়ের জন্য একটি খবর প্রকাশ করে। তাতেই হইচই শুরু হয়ে যায়। মস্কোবাসী খবরটা শুনে বুঝতেই পারছে না, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কী শুভেচ্ছা জানানো যাবে? খবরটা কী? ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছিল, যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন আলিনা কাবায়েভা।
কে এই আলিনা কাবায়েভা? ১৯৮৩ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন কাবায়েভা। তার বাবা ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। অর্থাৎ ছোট থেকেই একটা ক্রীড়া পরিবেশে বড় হয়েছিলেন কাবায়েভা। তবে তিনি ছোটবেলাতেই জিমনাস্টিক্সকে নিজের পছন্দের খেলা হিসেবে বেছে নেন। কিশোরী বয়সেই রিদমিক জিমন্যাস্টে রাশিয়ার প্রথমসারির ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিত হয়ে যান কাবায়েভা। ২০০০ সালের সিডনি ওলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ ও ২০০৪ সালের আথেন্স ওলিম্পিক্সে সোনার পদক জেতেন কাবায়েভা। ১৯৯৯ সালের ওসাকা ও ২০০৩ সালের বুদাপেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আটটি সোনার পদক জেতেন তিনি। ২০০৭ সালেই রুশ সংসদ ডুমার সদস্য হন এই সুন্দরী জিমন্যাস্ট। শোনা যায় তখন থেকেই কাবায়েভার প্রেমে মজেছিলেন পুতিন। সুন্দরী এই জিমন্যাস্ট রাশিয়ায় ভোগ পত্রিকার কাভার পেজেও স্থান পেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ সাংসদ কাবায়েভা এখন মিডিয়া ব্যারন।
২০১৮ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় একাই ভোট দিতে এসেছিলেন কাবায়েভা। তার হাতে ছিল ওয়েডিং রিং। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কাকে ভোট দিলেন? হাল্কা হেসে কাবায়েভা বলেছিলেন, যিনি নিশ্চিতভাবেই জিতবেন, তাকেই দিয়েছি। জিতেছিলেন পুতিনই। ২০০৮ সালে কাবায়েভার সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক শুরু হয়। তাদের সম্পর্ক নিয়ে গল্প জোরদার হয় ২০১৩ সালে। কারণ তখন দীর্ঘ ৩০ বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি টানেন পুতিন।
তখন থেকেই এমপি কাবায়েভা রাশিয়ার সিক্রেট ফার্স্ট লেডি। পুতিন-কাবায়েভার প্রেম, বিয়ে নিয়ে নানারকম চর্চা তারপর থেকে চলছেই। কিন্তু দু’জনের কেউই সরাসরি এই বিয়ের কথা স্বীকার করে নেননি। বরং পুতিন বলেই দিয়েছিলেন, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা হোক, সেটা তার পছন্দের নয়। যদিও গত বছরের জুলাইয়ে মুখ ফস্কেই প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছিলেন, তার জীবনে সাবেক স্ত্রী লুডমিলা নন, অন্য কোনো রহস্যময়ী আছেন। কে সেই রহস্যময়ী? পুতিন-কাবায়েভার বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, রুশ প্রেসিডেন্ট কীভাবে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন সুন্দরী জিমন্যাস্টের দিকে। কাবায়েভাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু গত বছর থেকেই দু’একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গিয়েছে বিয়ের আংটি পরা অবস্থায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইতালি ঘুরতে যাওয়ার সময়ও ওই বিয়ের আংটি দেখিয়ে গিয়েছিলেন কাবায়েভা।
পুতিন-কাবায়েভার সন্তান নিয়েও জোর চর্চা চলছে। বিশেষ করে ওয়েবসাইটের খবর নিয়ে। সেই খবরে লেখা হয়েছে, কুলাকভ রিসার্চ সেন্টারের ভিআইপি ফ্লোরের পুরো তলাটাই খালি করে দেয়া হয়েছে। সেখানকার রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হয়। বহু ডাক্তারকে সরিয়ে দেয়া হয়। ইতালি থেকে বিশেষ ডাক্তার সেখানে আসেন একজন ভিআইপি রোগীর জন্য। সেই রোগীর জন্য খাবার এসেছিল পাশের সেরা রেস্তরাঁ থেকে। শোনা যায়, সেই রোগীই হলেন কাবায়েভা। সেখানেই তিনি যমজ পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। যদিও ক্রেমলিন এ ব্যাপারে টু শব্দটি করেনি।
তবে কাবায়েভার সন্তানের খবর এই প্রথম নয়, ২০০৮ সালে সুইজারল্যান্ডের একটি ক্লিনিকে তার কন্যা সন্তান হওয়ার খবর বেরিয়েছিল। শোনা যায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী বারলুসকোনি ওই ক্লিনিকের খবর দিয়েছিলেন কাবায়েভাকে। কারণ ওই ক্লিনিকেই তার কন্যার সন্তান হয়েছিল। শোনা গিয়েছিল, কাবায়েভা ও তার দেহরক্ষীর জন্য ঘর সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। ঘটনা হলো, ওই সন্তান হওয়ার খবরও কেউ স্বীকার করেনি। শুধু তখনই নয়, ২০০৯ সালেও কাবায়েভা-পুতিনের দিমিত্রি বলে পুত্র সন্তান হয়েছিল বলে খবর রটেছিল। তাই এবারের যমজ সন্তান হওয়ার ঘটনা সত্যি কি না, তা নিয়ে ধাঁধা বেড়েই চলছে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে ঘরে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের

বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ, নির্যাতন ও সংঘাতের কারণে এসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর বাস্তুচ্যুত মানুষের বহরে রোহিঙ্গা যুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই বদলে দিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড। বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প। মিয়ানমারের দীর্ঘ কৌশলের অংশ হিসেবে মাতৃভূমি ছাড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।
সংকটের শুরুতেই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্থানীয় জনগণ। এতে অনেক ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এখন স্থানীয়দের অনেকটাই মুখোমুখি অবস্থানে রোহিঙ্গারা। তাই ক্যাম্পে সীমানা দেয়াল নির্মাণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে দুই বছরের মাথায় এসেও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কোন ইতিবাচক সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। বরং মিয়ানমারে প্রাণ বাঁচাতে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে মানুষ।
এমন এক পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত কিভাবে স্থানীয় জনগণের সাথে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায় সেদিকে নজর দেয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এরকম নানা কারণে এবারের বিশ্ব শরণার্থী দিবস বাংলাদেশের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দিবসটিকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের নাম উঠে আসছে মূল আলোচনায়।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ কুতুপালং মেগা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। কেবল এই একটি ক্যাম্প নয়; কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩২টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট থেকে প্রায় দুই বছর ধরে এই বিশাল শরণার্থীর বোঝা টানছে বাংলাদেশ। এরও আগে সেই ১৯৭৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। মূলত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের দেশ ছাড়া করার মিয়ানমারের ষড়যন্ত্রের কূফল ভোগ করছে বাংলাদেশ।
বিশ্বের জনবহুল দেশের তালিকায় এক নাম্বারে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে বিশ্বের গড় মানুষ বসবাসের হার যেখানে মাত্র ১৫ জন। সেখানে বাংলাদেশে ১,১০০ জনেরও বেশি। অথচ যেখান থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করা হয়েছে সেই মিয়ানমারেও প্রতি বর্গকিলোমিটারে মানুষ বসবাস করে মাত্র ৭৬ জন। আর রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের যেই স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন সেখানকার স্থানীয় জনসংখ্যার দ্বিগুনেরও বেশি রোহিঙ্গা। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ স্থান হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যায় এই রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে।
যেখানে উন্নত অনেক রাষ্ট্রও শরণার্থীদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন, সেখানে এতো সীমাবদ্ধতার পরও বিশাল সংখ্যক শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে মানবিক রাষ্ট্রের কাতারে। অথচ জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশন এবং ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক প্রটোকলেও স্বাক্ষর করেনি বাংলাদেশ। এরপরও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে মর্যাদাবান করেছে বাংলাদেশকে। মূলতঃ রোহিঙ্গাদের প্রাণ বাঁচাতেই বাংলাদেশ মানবিক হয়েছে বলে মনে করেন মানবতাকর্মীরা।
মিয়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিয়ে সেখানে যারাই বিনিয়োগ করুক না কেন তা কখনো নিরাপদ হতে পারে না বলেও ধারণা বিশ্লেষকদের। রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত এর সমাধান করা না গেলে কেবল মিয়ানমার আর বাংলাদেশের সমস্যা নয়; পুরো পৃথিবীর জন্য এটি বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশংকা সংশ্লিষ্টদের।
রোহিঙ্গারা অধিকার নিয়ে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাবেন, ঘরে ফিরবেন বিশ্বের সকল উদ্বাস্তু আর নতুন করে উদ্বাস্তু হবে না কোন মানুষ; এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।




৭৮৬ কোটি থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা

অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে বাজেটের আকারও বাড়ে। ১৯৭১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ৪৮টি বাজেটে রেখার সোজা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেখা যায়। এবারও গতবারের তুলনায় বাড়েছে বাজেটের আকার। প্রথমবারের মতো পাঁচ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বাজেট। এবারের বাজেটের মোট পরিমাণ ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।
তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে একটি বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সম্পদের পুনর্বণ্টন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। এই লক্ষ্য পূরণে প্রতি অর্থবছরে বাজেটের আয়তন বাড়ছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন বড় বাজেটে সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করা।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। প্রথমে গণতান্ত্রিক, এরপর সামরিক, শেষে আবারও গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। স্বাধীনতার পর ৪৮টি অর্থবছরে ১১ জন অর্থমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টা বাজেট পেশ করেছেন।
১৯৭২ সালে প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকার। এবার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।
প্রথম বাজেটের পর এক হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল তিন বছর। এরপর ১৪ বছর লেগেছে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হতে। ১৯৮৮ সালে এই বাজেট পেশ করা হয়। এরপর ২১ বছর পর এক লাখ কোটিতে উন্নীত হয় বাজেটের আকার। এটি ২০০৯ সালের কথা। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে এক লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করে। এর ১০ বছরের মাথায় এবার একই সরকার ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছে।
স্বাধীনতার পর গত ৪৮টি বাজেটের আকার ও বাজেট পেশকারীর নাম...

১. ১৯৭২-৭৩ তাজউদ্দীন আহমদ ৭৮৬ কোটি টাকা

২. ১৯৭৩-৭৪ তাজউদ্দীন আহমদ ৯৯৫ কোটি টাকা

৩. ১৯৭৪-৭৫ তাজউদ্দীন আহমদ ১০৮৪.৩৭ কোটি টাকা

৪. ১৯৭৫-৭৬ ড. আজিজুর রহমান ১৫৪৯.১৯ কোটি টাকা

৫. ১৯৭৬-৭৭ জিয়াউর রহমান ১৯৮৯.৮৭ কোটি টাকা (সামরিক সরকার)

৬. ১৯৭৭-৭৮ লে. জিয়াউর রহমান ২১৮৪ কোটি টাকা (সামরিক সরকার)

৭. ১৯৭৮-৭৯ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৪৯৯ কোটি টাকা (সামরিক সরকার)

৮. ১৯৭৯-৮০ ড. এম এন হুদা ৩৩১৭ কোটি টাকা

৯. ১৯৮০-৮১ এম সাইফুর রহমান ৪১০৮ কোটি টাকা

১০. ১৯৮১-৮২ এম সাইফুর রহমান ৪৬৭৭ কোটি টাকা

১১. ১৯৮২-৮৩ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৪৭৩৮ কোটি টাকা

১২. ১৯৮৩-৮৪ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৫৮৯৬ কোটি টাকা

১৩. ১৯৮৪-৮৫ এম সাইদুজ্জামান ৬৬৯৯ কোটি টাকা

১৪. ১৯৮৫-৮৬ এম সাইদুজ্জামান ৭১৩৮ কোটি টাকা

১৫. ১৯৮৬-৮৭ এম সাইদুজ্জামান ৮৫০৪ কোটি টাকা

১৬. ১৯৮৭-৮৮ এম সাইদুজ্জামান ৮৫২৭ কোটি টাকা

১৭. ১৯৮৮-৮৯ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১০৫৬৫ কোটি টাকা

১৮. ১৯৮৯-৯০ ড. ওয়াহিদুল হক ১২৭০৩ কোটি টাকা

১৯. ১৯৯০-৯১ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১২৯৬০ কোটি টাকা

২০. ১৯৯১-৯২ এম সাইফুর রহমান ১৫৫৮৪ কোটি টাকা

২১. ১৯৯২-৯৩ এম সাইফুর রহমান ১৭৬০৭ কোটি টাকা

২২. ১৯৯৩-৯৪ এম সাইফুর রহমান ১৯০৫০ কোটি টাকা

২৩. ১৯৯৪-৯৫ এম সাইফুর রহমান ২০৯৪৮ কোটি টাকা

২৪. ১৯৯৫-৯৬ এম সাইফুর রহমান ২৩১৭০ কোটি টাকা

২৫. ১৯৯৬-৯৭ এস এ এম এস কিবরিয়া ২৪৬০৩ কোটি টাকা

২৬. ১৯৯৭-৯৮ এস এ এম এস কিবরিয়া ২৭৭৮৬ কোটি টাকা

২৭. ১৯৯৮-৯৯ এস এ এম এস কিবরিয়া ২৯৫৩৭ কোটি টাকা

২৮. ১৯৯৯-০০ এস এ এম এস কিবরিয়া ৩৪২৫২ কোটি টাকা

২৯. ২০০০-০১ এস এ এম এস কিবরিয়া ৩৮৫২৪ কোটি টাকা

৩০. ২০০১-০২ এস এ এম এস কিবরিয়া ৪২৩০৬ কোটি টাকা

৩১. ২০০২-০৩ এম সাইফুর রহমান ৪৪৮৫৪ কোটি টাকা

৩২. ২০০৩-০৪ এম সাইফুর রহমান ৫১৯৮০ কোটি টাকা

৩৩. ২০০৪-০৫ এম সাইফুর রহমান ৫৭২৪৮ কোটি টাকা

৩৪. ২০০৫-০৬ এম সাইফুর রহমান ৬১০৫৮ কোটি টাকা

৩৫. ২০০৬-০৭ এম সাইফুর রহমান ৬৯৭৪০ কোটি টাকা

৩৬. ২০০৭-০৮ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯৯৬২ কোটি টাকা (অর্থ উপদেষ্টা)

৩৭. ২০০৮-০৯ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯৯৬২ কোটি টাকা (অর্থ উপদেষ্টা)

৩৮. ২০০৯-১০ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১১৩,৮১৫ কোটি টাকা

৩৯. ২০১০-১১ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৩২,১৭০ কোটি টাকা

৪০. ২০১১-১২ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৬৫,০০০ কোটি টাকা

৪১. ২০১২-১৩ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯১,৭৩৮ কোটি টাকা।

৪২. ২০১৩-১৪ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা

৪৩. ২০১৪-১৫ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা

৪৪. ২০১৫-১৬ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা

৪৫. ২০১৬-১৭ আবুল মাল আবদুল মুহিত, ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা

৪৬. ২০১৭-১৮ আবুল মাল আবদুল মুহিত, ৪ লাখ ২৭০ কোটি টাকা

৪৭. ২০১৮-১৯ আবুল মাল আবদুল মুহিত, ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা

৪৮ ২০১৯–২০ আ হ ম মুস্তফা কামাল, ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা

‘জয় বাংলা’ কেন বলা যাবে না, প্রশ্ন মমতার by অমর সাহা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির বিপরীতে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিকে প্রতিষ্ঠিত করতে আদাজল খেয়ে লেগেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জয় বাংলা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান—বিরোধীদের এমন যুক্তির বিরুদ্ধে আবার মুখ খুলেছেন মমতা। গতকাল শুক্রবার নদীয়ায় দলীয় নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া মমতা বলেছেন, ‘জয় বাংলা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্লোগান। বাংলাদেশে এ স্লোগান ব্যবহার হলে আমরা বলতে পারব না কেন?’
সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপি শুরু করেছিল জয় শ্রীরাম ধ্বনি বা স্লোগান। তৃণমূল কংগ্রেস সেই স্লোগানের পাল্টা জয় হিন্দ স্লোগানও দেওয়া শুরু করে। নির্বাচনের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাটপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এসে ঘোষণা দেন, তৃণমূলকে জয় হিন্দ এবং জয় বাংলা স্লোগান দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, ফোনালাপেও বলতে হবে জয় বাংলা।
এই ঘোষণার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন মমতা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল মন্ত্র জয় বাংলা স্লোগান দেবে? এ কথায় অবশ্য কান দেননি মমতা। বরং মমতা দলীয় নেতা-কর্মীদের জয় বাংলা স্লোগান দিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এদিকে মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়ও মমতার জয় বাংলা স্লোগানের সমালোচনা করেছেন। তথাগত রায় বলেছেন, স্লোগানটি বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িত। এতে প্রাদেশিকতাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
মমতা এসব কথা উড়িয়ে গতকাল তৃণমূল ভবনে নদীয়া জেলার নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘জয় বাংলা কেন বলা যাবে না? এটা আমরা বলব। বাংলাদেশ বলতে পারলে আমরা কেন বলতে পারব না?’
মমতা গতকাল বলেছেন, ‘আমাদের রাজ্যের নাম তো “বাংলা” করে সেই প্রস্তাব বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে পাস করে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই রাজ্যের নাম বাংলা হলে আমরা আরও জোরে জয় বাংলা বলতে পারব। জয় বাংলা ধ্বনি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।’

আজীবন হোয়াইট হাউসে থাকতে চান ট্রাম্প!

চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের মতোই আজীবন ক্ষমতায় থাকার সুপ্ত বাসনা পোষণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাঝে মধ্যেই আকারে-ইঙ্গিতে সেটা প্রকাশ করেন তিনি। এ নিয়ে শুক্রবার এক টুইটাবার্তায় অনেকটা কৌতুকের ছলে আবারও নিজের সেই কথা জানালেন।
তিনি জানিয়েছেন, একবার বা দুবার নয়, সারাজীবনের জন্য হোয়াইট হাউসে থাকতে চান তিনি।
ট্রাম্প জানান, তিনি ২০১৭ সালে বেইজিং সফরে গিয়ে জিনপিংকে 'চীনের রাজা' বলে সম্বোধন করেছিলেন। সেই সম্বোধনে বেশ আনন্দিত হয়েছিলেন একদলীয় শাসনাধীন চীনা প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, আমি রাজা হিসেবে সম্বোধন করায় জিনপিং প্রথমে বলেছিলেন, 'আমি তো রাজা নই, আমি প্রেসিডেন্ট। তখন আমি বলেছিলাম, আপনি হলেন আজীবন প্রেসিডেন্ট, তাই আপনাকে রাজা বলা যেতেই পারে। এর জবাবে মৃদু হেসে তিনি 'হুঁ' বলেন।
এর এক  বছর পরে ফ্লোরিডা রাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির জন্য অর্থদাতাদের সাথে এক বৈঠক করার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট যে নিজেকে আজীবন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করতে পেরেছেন এটা একটা দারুণ ব্যাপার।
এ কথার পর ট্রাম্প বলেন, হয়তো আমরাও একদিন এ রকম কিছু একটা করার চেষ্টা করব। সে সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রচার করে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সিএনএন জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কিছু মন্তব্যের রেকর্ডিং তাদের হাতে রয়েছে।
ট্রাম্পের এই উক্তির রেকর্ডিংটি প্রচারও করেছে সিএনএন। সেখানে ট্রাম্পকে বলতে শোনা গেছে, আমাদেরও হয়তো একদিন এ রকম কিছু করতে হবে।
ট্রাম্প একথা বলার পর তুমুল হাসির রোল এবং করতালির শব্দ শোনা যায়।
এবার টুইটারবার্তায় মার্কিনিদের নিজের মনোবাসনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। মেমেটি গত বছরের টাইম ম্যাগাজিনের কাভারের ওপর গ্রাফিক্সের কাজ করে তৈরি করা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য পোস্টার হিসেবে এটা প্রকাশ করা হয়েছে। যার মেয়াদ ২০২০ সাল থেকে নয় বরং শুরু হয়েছে ২০২৪ সাল থেকে।
এরপর প্রতি চার বছর পরপর ধারাবাহিকভাবে এটা এগিয়ে গেছে। ২০৪৮ সালে গিয়ে পোস্টারের ওপরের দিকে ডায়াসের সামনে দাঁড়ানো ট্রাম্পের একটি অ্যানিমেশন ছবি মুচকি হাসছে। কিন্তু তারপরই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদের ব্যাপারটা দ্রুতই বদলাতে থাকে। প্রথমে চার বছর অন্তর অন্তর মেয়াদ বদলালেও পরে সেটা শতক ও হাজারের সংখ্যায় বদলায়। ৯ হাজার সংখ্যায় হঠাৎ ভেসে ওঠে 'ট্রাম্প ফরএভার' অর্থাৎ 'চিরতরে ট্রাম্প'।

মিলেমিশে থাকবে চীন-উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ আজ শনিবার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়।
দুই দিনের সফর শেষে গত শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং ত্যাগ করেছেন সি চিন পিং। ১৪ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো চীনা প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়া সফর করলেন তিনি। এই সফরের ফলাফল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কেসিএনএ।
উত্তর কোরিয়ার বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত চীন। পিয়ংইয়ংয়ের ওপর বেইজিংয়ের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নানা অবরোধের মধ্যে চীনের কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া।
বিশ্বের বৃহত্তম ২০ অর্থনীতির জোট জি–২০ দলের এক সম্মেলনে জাপানের ওসাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হবে চীনা প্রেসিডেন্টের। এ সম্মেলনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে উত্তর কোরিয়া সফর করলেন সি চিন পিং।
সফরের শেষ দিন দুপুরে দুই দেশের নেতারা তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন পরিকল্পনা করেন। দেশ দুটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা। পারস্পরিক উদ্বেগের ভিত্তিতে নিজেদের দেশ এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে নিজস্ব মতামত জানান তাঁরা।
চীনের এক দৈনিক পত্রিকা আজ তাদের সম্পাদকীয় পাতায় এ সফর নিয়ে তাঁদের মতামত জানায়। তারা জানায়, চীনা প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়া সফরে এ অঞ্চলের সমস্যার সমাধান হবে না। তবে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির বিকাশে সাহায্য করার অঙ্গীকার করেছে চীন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনা নেতা কোনো জাদুমন্ত্রবলে পাথরকে সোনায় পরিণত করবেন, বিশ্ব নিশ্চয়ই তেমনটা আশা করে না। মাত্র দুই দিনের সফরে কোরীয় উপদ্বীপের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করা সি চিন পিংয়ের পক্ষে অসম্ভব। তবে বেইজিং সব সময় পিয়ংইয়ংয়ের নির্ভরযোগ্য ও সহানুভূতিশীল অংশীদার হয়ে থাকবে। এরপরও উত্তর কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে আলোচনা করে পরশপাথরের মতো কাজই করেছেন বলে জানায় সেই চীনা দৈনিক।

সৌদি আরবের কাছে ট্রাম্পের অস্ত্র বিক্রি আটকে দিল মার্কিন সিনেট

সৌদি আরবের কাছে বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটিকে আটকে দিয়েছে দেশটির সিনেট।
ইরানের দিক থেকে সৌদি আরবের হুমকি আছে - এ কথা উল্লেখ করে গতমাসে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি আরবের কাছে আট বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দুই দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সিনেট অস্ত্র বিক্রি আটকে দেবার জন্য তিনটি প্রস্তাব পাশ করেছে। সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই প্রস্তাবের উপর ভিটো দেবেন।
ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত হাউজ অব রেপ্রেজেনটেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদও অস্ত্র বিক্রির এ উদ্যোগ আটকে দেবার সম্ভাবনা আছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভিটো উল্টে দেবার জন্য কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট নেই।
সৌদি আরব ছাড়াও এ চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে মি: ট্রাম্প গতমাসে জরুরী ভিত্তিতে অস্ত্র বিক্রি করতে চেয়েছেন।
কিন্তু মি: ট্রাম্পের এ উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা আসে।কারণ, বিরোধীতাকারীরা আশংকা প্রকাশ করেছিলেন যে এসব অস্ত্র ইয়েমেনে ব্যবহার করবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ আটকে দেবার কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান।
এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন জোরালো যুক্তি তুলে ধরতে পারবে যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলির অস্ত্র প্রয়োজন।
ইয়েমেনে সৌদি আরব যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে সেটি নিয়ে কংগ্রেস সদস্যরা তীব্র সমালোচনা করেছে।
এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তানবুলে সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে হত্যার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা রয়েছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে।
গত বুধবার জাতিসংঘ বলেছে, জামাল খাশোগজিকে হত্যার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়ী।
অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ কংগ্রেসে আটকে যাবার পর হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে বলেছে, এর মাধ্যমে এই বার্তা যাবে যে আমেরিকা তার সহযোগী এবং বন্ধুদের এমন এক সময়ে ত্যাগ করছে যখন তাদের প্রতি ইরানের হুমকি বাড়ছে।
রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিচ বলেন, অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ আটকে দেবার অর্থ হচ্ছে ইরানের আগ্রাসনকে পুরস্কৃত করা।
অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক সিনেটের রবার্ট মেনেনডেজ বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে এ কথা মনে করিয়ে দেয়া হলো যে কংগ্রেসকে উপেক্ষা করা যাবেনা।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি সাধারণত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, অস্ত্র বিক্রির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "আমার সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক চিরদিনের মতো পরিবর্তিত হয়ে গেছে।"
"সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে ভোট দেবার কারণ হচ্ছে, আমি একটি বার্তা দিতে চাই। আমি বলতে চাই, তোমরা যেভাবে কাজ করছো যদি এটা চালিয়ে যেতে থাক তাহলে তোমাদের সাথ কৌশলগত সম্পর্কের কোন জায়গা নেই, " ভোটাভুটির আগে বলছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম।

সিনেমা হল নাকি বেডরুম?

সারি সারি করে সাজানো রয়েছে বিছানা। দেখলে মনে হবে যেন ভিআইপি বেডরুম। কিন্তু মোটেও তা নয়। এটা আসলে একটা সিনেমা হল। যেখানে গা এলিয়ে দিয়ে আরাম করে সিনেমা দেখা যাবে।
সুইজারল্যান্ডের স্প্রিটেনবার্গে সিনেমা প্যাথেতে এই নতুন পরিকল্পনা চালু হয়েছে। বিছানায় শুয়ে শুয়েই সেখানে সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেউ যেন কোন অনৈতিক কাজ করতে পারেন সে বিষয়টিও খেয়াল রাখা হবে।
গত ১৩ জুন বৃহস্পতিবার চালু হয়েছে এই বেডরুম সিনেমা হল। দেখতে যে কোনও শোবার ঘরের মতোই। এই হলে রয়েছে ১১টি ডাবল বেডের বিছানা।
এর উদ্দেশ্য ছিল নেটফ্লিক্সের দর্শকদের সিনেমা হলে টেনে আনা। পুরো পরিবেশ করা হয়েছে নিজের ঘরের মতো করেই। ফিল্ম দেখতে দেখতে যাতে দর্শকরা ঘুমিয়ে না পড়েন তাই রাখা হয়েছে ইলেকট্রনিক বালিশ, যা সুবিধামতো ঠিক করে নেওয়া যায়। প্রতিটি শোয়ের আগে বিছানা পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।
এই হল ছাড়াও সিনেমা কমপ্লেক্সে রয়েছে ৩৫০ সিট আর সিঙ্গেল ও ডাবল সোফার আইম্যাক্স হল। ভিআইপি হলে ঢুকতে হলে গুণতে হবে ৪৮ ডলার ৫০ সেন্ট। টিকিট কাটলে স্ন্যাক্স আর সফট ড্রিঙ্কস ফ্রি।

‘চার দিন সাগরে ড্রামের মধ্যে ছিলাম’

তিউনিসিয়া থেকে গত শুক্রবার বিকেলে ১৭ জন বাংলাদেশি কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁদের মধ্যে চারজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়।
তাঁরা হলেন আখাউড়া ছতুরাশরীফ গ্রামের সাহাজুল খন্দকার ও ইদ্রিস জমাদার এবং হিরাপুর বড়কুড়ি গ্রামের নেয়ামত শিকদার ও উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিক।
গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ছতুরাশরীফ গ্রামের বাড়িতে কথা হয় সাহাজুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত বছরের ৮ জুন আখাউড়া উপজেলার উজানিরসার গ্রামের দালাল স্বপন মিয়ার মধ্যস্থতায় তিনি লিবিয়ায় যান। দালালের মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে লিবিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। লিবিয়ার বেনগাজি বিমানবন্দরে নামার পর সেখানকার বাংলাদেশের আরেক দালাল রফিকুল ইসলাম ওরফে সেলিম তাঁর পাসপোর্ট রেখে একটি শিবিরে নিয়ে যান। পৌঁছার তিন থেকে চার দিন পর লিবিয়ায় পৌঁছেছেন এবং ভালো আছেন বলে বাড়িতে ফোন দিতে বলেন দালালেরা। ফোন না দিলে নির্যাতন বাড়বে এবং খাবার পাবেন না বলে তাঁদের ভয় দেখানো হয়। এরপর সাহাজুল বাড়িতে ফোন দেন। বাড়ির লোকজন দেশের দালালকে পাঁচ লাখ টাকা দেন। পরে সেখান থেকে নোয়াখালীর দাদা বলে পরিচিত আরেক দালালের মাধ্যমে লিবিয়ার ত্রিপোলির উদ্দেশে রওনা হলেও রাস্তায় আটক করে পুলিশ। সেখান থেকে আরেক দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দেড় লাখ টাকায় ছাড়া পান সাহাজুল।
সাহাজুল বলেন, ‘পরে নোয়াখালীর দাদা একটি রেস্তোরাঁয় কাজ জোগাড় করে দেন। সেখানে এক মাসের বেশি সময় কাজ করি। প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করেছি। কিন্তু মাস শেষে ১ হাজার ২০০ দিনারের পরিবর্তে বেতন পেয়েছিলাম মাত্র ৩০০ দিনার। কাজ করার সময় তাঁরা অনেক নির্যাতন করেছেন। পরে রফিকুল ইসলাম ওরফে সেলিম দালালের শরণাপন্ন হন। এ সময় তিনি শিপের মাধ্যমে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরে একটি গেম ঘরে নিয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আটকে রাখেন। ১৫-২০ দিন আগে লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে একটি নৌকায় করে রওনা হন। ৩০-৩৫ জনের একটি স্পিডবোটে আমরা ৭৫ জন উঠেছিলাম। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। তা ছাড়া স্পিডবোটটি ফুটো হয়ে যায়। জীবন বাঁচানোর জন্য তখন আমি তিউনিসিয়ার সাগরে ঝাঁপ দিই। চার দিন অনাহারে সাগরে একটি ড্রামের মধ্যে ছিলাম। কখন আমাকে তিউনিসিয়ার জাহাজ ওঠানো হয়েছে, কিছু মনে নেই।’
একই গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস জমাদার আখাউড়া উপজেলার তুল্লা গ্রামের বাসিন্দা ও তন্তর বাজারের ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া নামের ‘এক দালালের’ মাধ্যমে গত বছরের ২২ মে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে লিবিয়ায় যান। ইদ্রিস ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ইদ্রিস বলেন, ‘লিবিয়ার বেনগাজি বিমানবন্দর থেকে রফিকুল ইসলাম ওরফে সেলিম নামের এক দালালের শরণাপন্ন হই। পরে লিবিয়ার জামিয়ার আরিফা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়-সাত মাস ক্লিনারের কাজ করি। সেলিম দালাল জাহাজ ও ট্রলারের মাধ্যমে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখান। পরে ত্রিপোলি থেকে বোরকা পরিয়ে জোয়ারায় নিয়ে যান দালাল সেলিম। সেখানে আমাকে একটি গেম ঘরে নিয়ে রাখেন। বিনিময়ে তাঁকে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ টাকা দিতে হয়। পাঁচ-ছয় মাস বন্দী ছিলাম। এক বেলা খাবার দিত। সম্প্রতি লিবিয়ার একটি জায়গা থেকে ছোট একটি স্পিডবোটে করে আমাদের ইতালির উদ্দেশে পাঠানো হয়। তিউনিসিয়া ও ইতালির সাগরের শূন্যরেখা বরাবর যাওয়ার পর স্পিডবোটের তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় সাগরে ১৫-২০ ফুট উঁচু ঢেউ ছিল। সবাই কান্না করছিলেন। একপর্যায়ে স্পিডবোট থেকে ১০-১৫ জন লাফ দিয়ে সাগরে পড়ে যান। সে সময় সাগরে থাকা ড্রামে তাঁরা আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে চার-পাঁচ দিন পর তিউনিসিয়ার জাহাজ এসে আমাদের উদ্ধার করে। বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম।’

বিচ্ছিন্ন সিলেট বিভাগ: স্থবির বিকল্প সড়ক, হেঁটে চলছে মানুষ by জাবেদ রহিম বিজন

সড়ক যোগাযোগে কার্যত সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন সিলেট বিভাগ। নামমাত্র ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প পথে কিছু যানবাহন চলাচল করছে। ট্রাক চলাচল বন্ধ পুরোপুরি। শত শত পণ্যবাহী ট্রাক অবস্থান করছে মহাসড়কের ওপর। নষ্ট হচ্ছে ট্রাক বোঝাই কাঁচামাল। পায়ে হেঁটেও মাইলের পর মাইল চলছে মানুষ। এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগে ক্ষোভ চালক-যাত্রী সবার মধ্যে।
সেতু মেরামতের কাজ ঢিলেঢালা ভাবে হচ্ছে এই অভিযোগ এনে চালকদের কেউ কেউ সেনাবাহিনীকে এ কাজে নিয়োজিত করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ হতো বলে মন্তব্য করেন।
সরজমিন খোঁজখবরে জানা গেছে, সিলেট থেকে শাহবাজপুরে সেতুর গোড়া  পর্যন্ত দীর্ঘ পথের বিভিন্নস্থানে মহাসড়কের ওপর অবস্থান করছে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যমুখী হাজার হাজার মালবোঝাই ট্রাক।
সেতুর অন্যপাশে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্তও দীর্ঘ সিলেটমুখী ট্রাকের সারি। শনিবার সকালে সরাইলের ইসলামাবাদে কথা হয় কয়েকজন ট্রাকচালকের সঙ্গে। একটি কাভার্ড ভ্যানের নিচে ১০/১২ জন চালক আলুভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছিলেন। এই গ্রামের বৃদ্ধ আবদুর রাজ্জাক এই খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। ট্রাকচালক মানিক মিয়া জানান, একদিন বিশ্বরোডে আর ৩ দিন গাড়ি নিয়ে অবস্থান করছেন ইসলামাবাদে।
প্যাকেটজাত বিভিন্ন পানীয়ভর্তি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে তারা যাচ্ছেন সিলেটে। বিকল্প রাস্তার একটিতে ট্রাক ফেঁসে যাওয়ায় এবং অন্যটিতে ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা ট্রাক নিয়ে ওই দুই পথের কোনোটি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন না। এসব পণ্য বোঝাই আরো ক’টি কাভার্ড ভ্যানের চালক মোতাচ্ছির আলী, আলীম উদ্দিন, শাহজাহান এভাবে মহাসড়কে পড়ে থাকায় তাদের নানা ভোগান্তি হচ্ছে বলেও জানান।  মহাসড়কের এই স্থানে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার উল্লেখ করে তারা জানান, ভয়ঙ্কর জায়গা এটি। রাতে ডাকাতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গ্রাম থেকে ডাকাতরা উঠে আসে বলে অভিযোগ তাদের। সে কারণে সারারাত জেগে থাকতে হয়। পুলিশ টহল দিয়ে চলে গেলে আবারো ডাকাতদের আনাগোনা শুরু হয়।
এ ছাড়া গোসল-টয়লেট করার সমস্যাও হচ্ছে তাদের। আলী আজম নামের এক চালক বলেন, বিশ্বরোডে গাড়ি পার্কিং করার পর পুলিশ সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে খোলা জায়গায় গাড়ি রেখে ভয়ে কোথাও  যেতেও পারছেন না। সারারাত গাড়ির নিচে সজাগ বসে থাকতে হচ্ছে। খাবার পাচ্ছেন না, কোনো কিছু করতে পারছেন না। চাঁপাই নবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ থেকে পিয়াজভর্তি ট্রাক নিয়ে এসেছেন জামান মিয়া। সিলেটের কালীঘাট তার গন্তব্য। জানান তার গাড়ি বোঝাই পিয়াজ পচে যাচ্ছে। দিনাজপুরের হিলি থেকে পিয়াজ নিয়ে সেতু পাড়ি দেয়ার অপেক্ষায় আবদুস সালাম। তিনিও জানান, তার গাড়ি বোঝাই ৯ লাখ টাকার পিয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাঁচামাল বোঝাই গাড়ি চলতে দেয়া হচ্ছে না।
সরজমিন দেখা গেছে, সেতুর পূর্ব পাশের রেলিং ভাঙা। এটি সংলগ্ন বেইলি ব্রিজ মেরামত করা হচ্ছে। আর পশ্চিম পাশের বেইলি ব্রিজ দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু গভীররাতে এই বেইলির উপর দিয়ে পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল করে বলে অভিযোগ করেন বসে থাকা ট্রাকচালকরা। তারা জানান, দেড়-দু’হাজার করে টাকা নিয়ে ভাঙা ব্রিজের একপাশের ওই বেইলি ব্রিজ দিয়ে মাল বোঝাই ট্রাক চলাচলের এই সুযোগ দিচ্ছে পুলিশ। দেড়-দু’শ ট্রাক পার হচ্ছে প্রতিরাতেই। তারা বলেন- এ গাড়ি তো ব্রিজের উপর দিয়েই আসছে। যারা পার হয়ে আসছে তারাই আমাদেরকে বলছে টাকা দিয়ে আসছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হোসেন সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সারারাত তারা সেতুর এখানে ছিলেন। সেতুর উপর দিয়ে কোনো গাড়ি চলেনি। তবে পুলিশের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাতে সরকারের এক সচিবকে বহনকারী বাস এই সেতু পাড়ি দিয়েছে। তখন আরো কিছু গাড়ি সেতু পাড়ি দেয়। 
তিতাসের উপরই নির্মাণাধীন আরেকটি  সেতুর কাজ শেষ হতে বিলম্ব আর পুরাতন এই সেতুর মেরামত কাজের ধীরগতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গাড়িচালকরা। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাকের চালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সিলেট বিভাগের হাইওয়ে রোড এটা। ৫দিন ধরে ব্রিজ বন্ধ। আর্মিকে দায়িত্ব দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই সেতু মেরামত হয়ে যেত। এদিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটেই চলছে শত শত মানুষ।
শাহবাজপুর থেকে রামপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে যাচ্ছে বিভিন্ন বয়সী মানুষজন। এভাবে কিছুদূর হেঁটে, কিছুদূর যানবাহনে করে চলছে মানুষ। উল্লেখ্য, গত ১৮ই জুন বিকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর উপর সেতুটির চতুর্থ স্পেনের ফুটপাথসহ রেলিং ভেঙে পড়ে। এরপরই সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সব ধরনের ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এই সেতুর উপর দিয়ে। সড়ক বিভাগ বিকল্প পথ হিসেবে চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-সিলেট এবং চট্টগ্রামের এবং সরাইল-নাসিরনগর হয়ে লাখাই এবং রতনপুর দিয়ে ঢাকা-সিলেট গন্তব্যের যানবাহন চলাচল করার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু এ দু’পথের কোনোটিতেই নানা সমস্যায় যানবাহন সেভাবে চলাচল করতে পারছে না।
ট্রাক তো নয়ই। ওইসব সড়কের বেহালদশা আর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু-কালভার্টের জন্য গাড়ি চলাচল হয়ে পড়েছে সীমিত। তাতেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যদি বিকল্প চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের কথা বলা হয়;  সাড়ে ৫ মিটার পাশের ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক পাড়ি দিতে সময় লেগে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। তারপরও এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট ও চট্টগ্রাম পথের যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে।

শীর্ষ ৩০০ খেলাপির হাতে ৫০,৯৪২ কোটি টাকা

দেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন এমন ১৪ হাজার ৬১৭ জনেরও পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, শীর্ষ  ৩০০ খেলাপির হাতেই ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়া গত ৩৯ মাসে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৩ হাজার ২১০ কোটি টাকা।
শনিবার সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তালিকা দেন। এতে ১ হাজার ৪৯ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে শীর্ষে আছে চট্টগ্রামের সামানাজ সুপার ওয়েল লিমিটেড।
সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খান তার প্রশ্নে ২০০৯ সালে ঋণ খেলাপি কত ছিল ও তাদের কাছে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালে ওই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণও জানতে চেয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী উত্তরে বলেন, ডাটা ওয্যারহাউজ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ২০০৯ সালের ঋণের তথ্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
অর্থমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ জন এবং তাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।
আর ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপির সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ এবং অর্থের পরিমাণ এক লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাগণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঋণ খেলাপির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ব্যাংক কর্তৃক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ঋণ গ্রহিতা নির্বাচন না করাও অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ঋণের বিপরীতে গ্রাহক কর্তৃক জামানতের অপর্যাপ্ততা থাকলে, একই সম্পদ একাধিক ব্যাংকে (বা একাধিক ঋণের বিপরীতে) জামানত রাখলে বা অনেক ক্ষেত্রে জামানতের মূল্য বাজারমূল্য হতে বেশি প্রদর্শন করলে ঋণটির ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে ঋণটি ভবিষ্যতে কু-ঋণে পর্যবসিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। মন্ত্রী জানান, ঋণ মঞ্জুরির সময় গ্রাহকের সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস/ দলিলাদি ব্যাংক কর্তৃক সংগ্রহ ও সঠিকতা যাচাই করা না হলে ঋণঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবটি খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আরেকটি কারণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহিতা কর্তৃক তহবিল ভিন্নখাতে প্রবাহেরও অবকাশ থাকে। গ্রাহকের ব্যবসায়িক প্রয়োজনীয়তা ও সামর্থ্য বিবেচনা না করে তার অনুকুলে অতিরিক্ত ঋণ সুবিধাদি যেমন- নবায়ন, ঋণসীমা বৃদ্ধি, পুন:তফসিলিকরণ, পুনর্গঠন ইত্যাদি) প্রদান করাও খেলাপি ঋণকে উৎসাহিত করে। সর্বশেষ কারণ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লে ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের রাষ্ট্রায়াত্ত ৮টি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এক বছরে (২০১৮ সালে) প্রায় এক হাজার দুইশো কোটি টাকা সুদ মওকুফ করেছে। হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক থেকে গত বছরে (জানুয়ারি ২০১৮-ডিসেম্বর ২০১৮) ছয় হাজার ১৬৩টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে এক হাজার ১৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা সুদ মওকুফ করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদ মওকুফ করেছে অগ্রণী ব্যাংক। এ ব্যাংকটি ২ হাজার ৮টি ঋণের বিপরীতে ৪৯৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সুদ মওকুফ করেছে। আর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক কোনও সুদ মওকুফ করেনি। অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংক ৬৬টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৪৩৫ কোটি ৯৬ লাখ, রূপালী ব্যাংক ২০৩টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ১৩৪ কোটি ২৬ লাখ, সোনালী ব্যাংক ১৪টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ, জনতা ব্যাংক ২ হাজার ৪৭৩টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৫৩ কোটি ৮১ লাখ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এক হাজার ৩৮০টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৪ কোটি ৩৫ লাখ এবং বেসিক ব্যাংক ১৯টি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা সুদ মওকুফ করেছে।
শীর্ষ খেলাপির তালিকায় যারা আছে:
শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকার মধ্যে আছে, সামানাজ সুপার ওয়েল লিমিটেড ১ হাজার ৪৯ কোটি টাকা, গ্যালাক্সি সোয়েটার এন্ড ইয়ার্ন ডাইং ৯৮৪ কোটি টাকা, রিমেক্স ফুডওয়্যার লিমিটেড ৯৭৬ কোটি টাকা, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লিমিটেড ৮২৮ কোটি, মাহিন এন্ট্রারপ্রাইজ লিমিটেড ৮২৫ কোটি, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেড ৭৯৮ কোটি, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ৭৭৬ কোটি, এসএ ওয়েল রিফাইনারী লিমিটেড ৭০৭ কোটি, সুপ্রভ কম্পোজিট নীট লিমিটেড ৬১০ কোটি, গ্রামীণ শক্তি ৬০১ কোটি, সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেড ৫৮২ কোটি, কম্পিউটিার সোর্স লিমিটেড ৫৭৫ কোটি, সিমরান কম্পোজিট লিমিটেড ৫৬৪ কোটি, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ৫২৬ কোটি, বেনটেক্স ইন্ডাট্রিজ লিমিটেড ৫২৩ কোটি, আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড ৫২৩ কোটি, সিদ্দিক ট্রেডার্স ৫১১ কোটি, রবাইয়া ভেজিটেবল ওয়েলস ইন্ডাট্রিজ লিমিটেড ৫০১ কোটি, রাইজিং স্টিল লিমিটেড ৪৯৫ কোটি। সুপ্রভ রোটোর স্পিনিং লিমিটেড ৪৬৫ কোটি, ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ ৪৬৪ কোটি, চৌধুরী নিটওয়্যার লিমিটেড ৪৬২ কোটি, রানকা সোয়েল কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড ৪৪৯ কোটি, লেক্সকো লিমিটেড ৪৩৯ কোটি, জাকুয়ার্ড নিটেক্স লিমিটেড ৪৩০ কোটি, ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ৩৭৩ কোটি, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল ৩৭২ কোটি, বাংলা লায়ন কমিউনিকেশন্স লিমিটেড ৩৭১ কোটি, বাংলাদেশ সুগার এন্ড ফুড ইন্ডাট্রিজ-৩৫২ কোটি, হল মার্ক ফ্যাশন লিমিটেড ৩৪১ কোটি, পদ্মা পলি কটন নীট ফেব্রিক্স লিমিটেড ৩৩১ কোটি, গ্রান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ৩২৪ কোটি, ফেয়ার টেড ফেব্রিক্স লিমিটেড ৩২২ কোটি, গ্রামবাংলা এনপিকে ফার্টিলাইজার এন্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ৩১৮ কোটি, সাহারীজ কম্পোজিট টাওয়াল লিমিটেড ৩১৪ কোটি, ৭বি অ্যাসোসিয়েটস ৩০৯ কোটি, রুরালস সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন ৩০৬ কোটি, সুরুজ মিয়া জুট স্পিনিং লিমিটেড ৩০৪ কোটি, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেড ২৯৬ কোটি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল ২৮৬ কোটি, রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড ২৮০ কোটি, এসকে স্টিল ২৭১ কোটি টাকা, মাবিয়া শিপ ব্রেকার্স ২৭১ কোটি, মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটে ২৬৭ কোটি, হেল্প লাইন রিসোর্স লিমিটেড ২৫৮ কোটি, দি ঢাকা ডাইং এন্ড মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ২৫৮ কোটি, বিসমিল্লাহ টাওয়াল লিমিটেড ২৪৪ কোটি, রানকা ডেনিম টেক্সটাইলস মিলস ২২২ কোটি, তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ২১২ কোটি, এইচ স্টিল রি রোলিং মিলস ২০৯ কোটি, কে আর স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড রিসার্স সেন্টার ২০৪ কোটি, বাংলাদেশ ইন্ডাজট্রিয়াল ফিনান্স কোম্পানি লিমিটেড ২০১ কোটি, চিটাগাং সিন্ডিকেট ১৯৮ কোটি, টি এন্ড ব্রাদার্স নীট কম্পোজিট লিমিটেড ১৯৭ কোটি, গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড ১৯৭ কোটি, এমএইচ গোল্ডেন জুট মিলস লিমিটেড ১৯৪ কোটি, নর্থস এগ লিমিটেড ১৯৪ কোটি, সিম্যাট সিটি জেনারেল ট্রেডিং লিমিটেড ১৯৩ কোটি, ইব্রাহিম কনসের্াটিয়াম লিমিটেড ১৯২ কোটি, লামিসা স্পিনিং লিমিটেড ১৯১ কোটি, অ্যাপেল সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেড ১৮৯ কোটি, আর আই এন্টারপ্রাইজ ১৮৯ কোটি, এমকে শিপ বিল্ডার্স এন্ড স্টিলস লিমিটেড ১৮৫ কোটি, মাহমুদ ফেব্রিক্স এন্ড ফিনিশিং লিমিটেড ১৮৪ কোটি, কটন করপোরেশন ১৮৪ কোটি, এম বি এ গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ১৮৩ সিক্স সিজনস অ্যাপার্টমেন্ট লিমিটেড ১৮৩ কোটি, ন্যাশনালস স্টিল ১৮৩ কোটি, ক্যাপিটাল বোর্ড লিমিটেড ১৮২ কোটি, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেড ১৮০ কোটি, করলা কর্পোরেশন বিডি লিমিটেড ১৭৮ কোটি, এক্সপার টেক লিমিটেড ১৭৬ কোটি, ব্লু ইন্টারন্যাশনাল ১৭৫ কোটি, সাফারি ট্রেডার্স ১৭৪ কোটি, আমাদের বাড়ি লিমিটেড ১৭৩ কোটি, ওয়ালম্যাট ফ্যাশন লিমিটেড ১৭০ কোটি, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড ১৬৮ কোটি, শব মেহের স্পিনিং মিলস লিমিটেড ১৬৮ কোটি, সুপ্রভ স্পিনিং মিলস ১৬৭ কোটি, হিমালয়া পেপার্স এন্ড বোর্ড মিলস ১৬৬ কোটি, লিবার্টি ফ্যাশনস ওয়্যার ১৬৪ কোটি, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেড ১৬৩ কোটি, চৌধুরী টাওয়াল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড ১৬৩ কোটি, চৌধুরী লেদার এন্ড কোম্পানি ১৬২ কোটি, ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ১৫৬ কোটি, অ্যাপেক্স নীট কম্পোজিট লিমিটেড ১৫৬ কোটি, আব্দুল্লাহ স্পিনিং মিলস ১৫৫ কোটি, আনোয়ারা মান্নান টেক্সটাইল ১৫৩ কোটি, সাগির এন্ড ব্রাদার্স ১৫৩ কোটি, মাস্টার্ড ট্রেডিং ১৫২ কোটি, ইসলাম ব্রাদার্স এন্ড কোম্পানী ১৫২ কোটি, হিন্দুল ওয়ালি টেক্সটাইল লি ১৫২ কোটি, এরিয়ান কেমিক্যালস ১৫১ কোটি, ওয়ার্ন ডেনিম মিলস লিমিটেড ১৫১ কোটি, মুহিব স্পিনিং এন্ড শিপ রিসাইক্লিনিং ১৫০ কোটি, গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স লিমিটেড ১৫০ কোটি, এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশন ১৪৯ কোটি, জালাল এন্ড সন্স ১৪৯ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টস লিমিটেড ১৪৯ কোটি, সাইদ ফুড লিমিটেড ১৪৫ কোটি, এইচআরসি শিপিং লিমিটেড ১৪৪ কোটি, আলী পেপার্স মিলস লিমিটেড ১৪৩ কোটি, রহমান শিপ ব্রেকার্স লিমিটেড ১৪২ কোটি, ড্রেজ বাংলা (প্রা.) লিমিটেড ১৪২ কোটি, ফারইস্ট স্টোক এন্ড বন্ডস লিমিটেড ১৩৯ কোটি, ফিবার সাইন লিমিটেড ১৩৮ কোটি, অর্নেট সার্ভিস লিমিটেড ১৩৭ কোটি, মুজিবুর রহমান খান ১৩৬ কোটি, জাহিদ এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ১৩৪ কোটি, তাবাসসুম এন্টাপ্রাইজ ১৩৩ কোটি, এপেক্স ওয়েবিংস এন্ড ফিনিসিং লিমিটেড ১৩০ কোটি, মিশন ডেভলপার লিমিটেড ১৩০ কোটি, তালুকদার ইউপিবিসি ফিটিংস ইন্ড্রাটিজ লিমিটেড ১৩০ কোটি, এনোন নিট টেক্স লিমিটেড ১২৯ কোটি, দি ওয়েল টেক্স লিমিটেড ১২৯ কোটি, ডেলটা সিস্টেমস লিমিটেড ১২৮ কোটি, এফ আর জুট ট্রেডিং ১২৮ কোটি, গেট নিট টেক্স লিমিটেড ১২৮ কোটি, জেওয়াইবি টেজ লিমিটেড ১২৮ কোটি, জারা নিট টেক্স লিমিটেড ১২৭ কোটি, সোনালী জুট মিলস ১২৭ কোটি, সামানাজ কনডেনসড মিল্ক ১২৭ কোটি, ঝুমা এন্টাপ্রাইজ ১২৬ কোটি, রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১২৬ কোটি, স্ট্রিগার কম্পোজিট লিমিটেড ১২৫ কোটি, শফিকুল স্টিল ১২২ কোটি, স্টাইলো ফ্যাশন গার্মেন্টস লিমিটেড ১২১ কোটি, রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেড ১২১ কোটি, ইমারালড অয়েল লিমিটেড ১২১ কোটি, লাকি শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড ১২০ কোটি, মিম এন্টারপ্রাইজ ১২০ কোটি, আল আমীন বেভারেজ ইন্ডাট্রিজ লিমিটেড ১২০ কোটি, এফ কে নিট টেক্স লিমিটেড ১১৯ কোটি, ম্যাপ পেপার বোর্ড মিলস লিমিটেড ১১৯ কোটি, অটোবি লিমিটেড ১১৮ কোটি, হিলফুল ফজল সমাজ কল্যাণ সংস্থা ১১৮ কোটি, এ কে জুট ট্রেডিং কোম্পানি ১১৭ কোটি, মনোয়ারা ট্রেডিং ১১৭ কোটি, চিটাগাং ইস্পাত ১১৭ কোটি, টেকনো ড্রেসিং এন্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেড ১১৬ কোটি, আলভি নিট টেক্স লিমিটেড ১১৬ কোটি, এফ আর জুট মিলস লিমিটেড ১১৪ কোটি, টেক্সটাইল ভিরটুসো ১১৪ কোটি, ম্যাক্স শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড ১১৪ কোটি, ওয়েস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড ১১৩ কোটি, এমবিইসি-পিবিএল-জেভি ১১৩ কোটি, সিমি নিট টেক্স লিমিটেড ১১৩ কোটি, এলাইন এপারেলস লিমিটেড ১১৩ কোটি, সাইনিং নিট টেক্স লিমিটেড ১১২ কোটি, প্রফিউশনস টেক্সটাইল লিমিটেড ১১২ কোটি, সাউথ স্ট্যার্ন ১১১ কোটি, মা টেক্স ১১১ কোটি, সিদ্দিক এন্ড কোম্পানি লি. ১১০ কোটি, কনফিডেন্স সুজ লিমিটেড ১০৮ কোটি, আহমেদ মুজতবা লিমিটেড ১০৮ কোটি, শাপলা ফ্লাওয়ার মিলস ১০৮ কোটি, আব্দুর রাজ্জাক লিমিটেড ১০৭ কোটি, হাবিব স্টিলস লিমিটেড ১০৬ কোটি, সর্দার অ্যাপারেলস লিমিটেড ১০৬ কোটি, ক্রিয়েটিভ ট্রেডস ১০৬ কোটি, ক্রিস্টাল স্টিল এন্ড শিপ ব্রেকিংস ১০৫ কোটি, সুপার সিক্স স্টার শিপ ব্রেকিং ই্‌য়ার্ড ১০৫ কোটি, জেড এন্ড জে ইন্টারন্যাশনাল ১০৫ কোটি, কক্স ডেভলপার্স লিমিটেড ১০৫ কোটি, এস শিপিং লাইনস ১০৪ কোটি, জবা টেক্সটাইলস লিমিটেড ১০৩ কোটি, সেন্টার ফর অ্যাসিটেড রিপ্রোডাকশন প্রাইভেট লি. ১০৩ কোটি, বৈতরণী ট্রেডার্স লি. ১০৩ কোটি, শীতল এন্টারপ্রাইজ ১০২ কোটি, প্রাইস ক্লাব জেনারেল ট্রেডিং লি. ১০২ কোটি, নিউ অটো ডিফাইন ১০২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছে। এছাড়া অনিকা এন্টারপ্রাইজ ১০১ কোটি, এ আর এস এস এন্টারপ্রাইজ ১০১ কোটি, গোল্ডেন হরিজন লি. ১০০ কোটি, জয়পুরহাট সুগার মিলস ১০০, ডুসাই হোটেল এন্ড রিসোর্টস লি ১০০ কোটি, মোবারক আলী স্পিনিং মিলস লি. ৯৯ কোটি, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড ৯৯ কোটি, রেজা জুট ট্রেডিং ৯৯ কোটি, আর কে ফুডস লি ৯৮ কোটি, ম্যামকো জুট মিল ৯৮ কোটি, আরডেন্ট সিস্টেমস ৯৮ কোটি, টেক্স নীট ইন্টারন্যাশনাল ৯৬ কোটি, বেঞ্চ ইন্ডাস্ট্রিজ বিডি লিমিটেড ৯৬ কোটি, ম্যাস শিপ রিসাইকেলিং ৯৬ কোটি, বাংলাদেশ ড্রেস লিমিটেড ৯৬ কোটি, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড ৯৫ কোটি, জয়নব ট্রেডিং কোম্পানী লিমিটেড ৯৫ কোটি, ওয়েসিজ হাইটেক স্পোটর্স ওয়্যার ৯৪ কোটি, ক্রিউ অ্যান্ড কো বিডি. লিমিটেড ৯৪ কোটি, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ৯৪ কোটি, এখলাস শিপিং মিলস লিমিটেড ৯৩ কোটি, ফাহামী নীট ওয়্যার লিমিটেড ৯২ কোটি, জে এন্ড জে ফেব্রিক্স টেক্সটাইল লিমিটেড ৯২ কোটি, আর বি এন্টারপ্রাইজ ৯২ কোটি, অনলাইন প্রপার্টিজ লিমিটেড ৯২ কোটি, ফাহমি ওয়াশিং প্লান্ট ৯০ কোটি, রামিসা ট্রেডিং ৮৯ কোটি, ল্যান্ডমার্ক ফেব্রিক্স লিমিটেড ৮৮ কোটি, এস কে এন্টারপ্রাইজ ৮৮ কোটি টাকা। এস কে এন্টারপ্রাইজ ৮৮ কোটি টাকা, সাফিন শিপিং লাইন লিমিটেড ৮৮ কোটি টাকা, সুপ্রিম জুট এন্ড নিটেক্স লিমিটেড ৮৮ কোটি টাকা, ফরচুন স্টিল ৮৭ কোটি টাকা, মোস্তফা ওয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেড ৮৬ কোটি, এম এস হাবিবুল ইসলাম ৮৬ কোটি, মাবিয়া স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেড ৮৬ কোটি, পদ্মা এগ্রো ট্রেডার্স ৮৬ কোটি টাকা, আমান ট্রেডিং করপোরেশন ৮৫ কোটি, পলিমার নিটওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৮৫ কোটি, ইমারাল্ড অটো ব্রিকস লিমিটেড ৮৫ কোটি, মেজেস্টিক হোল্ডিং লিমিটেড ৮৫ কোটি, ওয়াফা এন্টারপ্রাইজ ৮৪ কোটি, দেশবন্ধু সুগার মিল লিমিটেড ৮৪ কোটি, মনিকা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ৮ কোটি, এস এ ট্রেডার্স ৮৩ কোটি, দ্য এরিস্টোক্রেট এগ্রো লিমিটেড ৮৩ কোটি, ইউরোপা বেভারেজ এন্ড ফুডস লিমিটেড ৮৩ কোটি, ফ্যাশন ক্রাফট নিটওয়ার লিমিটেড ৮৩ কোটি, এটলাস গ্রিনপেক লিমিটেড ৮৩কোটি টাকা, ইমারাল্ড স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৮৩ কোটি, শাহনেওয়াজ জুট মিলস প্রাইভেট লিমিটেড ৮২ কোটি, মার লিমিটেড ৮২ কোটি, ড্রেস মি ফ্যাশনস লিমিটেড ৮২ কোটি, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স পো মেনুফেকচারিং প্ল্যান লিমিটেড ৮১ কোটি টাকা, শাহিল ফ্যাশনস লিমিটেড ৮১ কোটি টাকা, ফস্টার রিয়েল এস্ট্রেট লিমিটেড ৮১ কোটি টাকা, ইমাম ট্রেডার্স ৮১ কোটি টাকা, স্মাহ লিমিটেড ৮০ কোটি টাকা, গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার লিমিটেড ৮০ কোটি টাকা, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ৮০ কোটি টাকা, এম নূর সুয়েটার্স লিমিটেড ৭৯ কোটি টাকা, খানসন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৯ কোটি টাকা, ঝুমা এন্টারপ্রাইজ ৭৯কোটি টাকা, এন এইচ কে ফেব্রিক্স এন্ড টেক্সটাইল ৭৮ কোটি টাকা, গ্রান্ডেউর শিপিং লাইন্স লিমিটেড ৭৮কোটি টাকা, এস রিসোর্সেস শিপিং লাইন লিমিটেড ৭৮ কোটি টাকা, নর্থপোল বিডি লিমিটেড ৭৮কোটি টাকা, এডভান্সড ডেভোলপমেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেড ৭৮কোটি টাকা, ইউরেকা হোল্ডিংস পিটিই লিমিটেড ৭৮ কোটি টাকা, এসএফজি শিপিং লাইন লিমিটেড ৭৭ কোটি টাকা, সোলারেন ফাউন্ডেশন ৭৭ কোটি টাকা, এটলাস ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড ৭৭ কোটি টাকা, এমএএফ নিউজপ্রিন্ট ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ৭৭ কোটি টাকা, ফাস ফাইনেন্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ৭৭ কোটি টাকা, ইনফরমেশন সলিউশনস লিমিটেড ৭৭কোটি টাকা, বিশ্বাস টেক্সটাইল লিমিটেড ৭৬ কোটি টাকা, গ্লোব ইনসেক্টিড ৭৬ কোটি টাকা, এশিয়ান ফুড ট্রেডিং এন্ড কোং ৭৬ কোটি টাকা, সারিয়াজ ওয়েল রিফাইনার লিমিটেড ৭৬ কোটি টাকা, উয়াশান নিট বাংলাদেশ ৭৬ কোটি টাকা, ব্রাদ্রার্স এন্টারপ্রাইজ ৭৬ কোটি টাকা, নাবিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ৭৬ কোটি টাকা, ঢাকা ডেনিম লিমিটেড ৭৫ কোটি টাকা, এম আর শিপিং লাইন ৭৫ কোটি টাকা, এমএমএসবি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ৭৫ কোটি টাকা, বাইল্ডট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ৭৫কোটি টাকা, কাবির এন্টারপ্রাইজ ৭৫কোটি টাকা, দেশ জুয়েলার্স ৭৪ কোটি টাকা, লোহজং ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৭৪ কোটি টাকা, বাধন ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৭৪ কোটি টাকা, ইনফ্রেকটাকচার কন্সট্রাকশন কোম্পানী ৭৪ কোটি টাকা, প্রিটি সুয়েটার্স লিমিটেড ৭৪ কোটি টাকা, ওয়েলপেক পলিমারিস লিমিটেড ৭৪ কোটি টাকা, ঐশি ইন্টারন্যাশনাল ৭৪কোটি টাকা, ফস্টার ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৭৪ কোটি টাকা, সুরমা স্টিল এন্ড স্টিল ট্রেডিং কোং ৭৪ কোটি টাকা, ইব্রাহিম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ৭৪ কোটি টাকা, নর্থ সাউথ শিপিং মিলস লিমিটেড ৭৩ কোটি টাকা, ইউসান নিট কম্পোজিট লিমিটেড ৭৩ কোটি টাকা, এহসান স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড ৭৩ কোটি টাকা, ঢাকা এলমুনিয়াম ওয়ার্কস লিমিটেড ৭৩ কোটি টাকা, শাহাদাত এন্টারপ্রাইজ ৭৩ কোটি টাকা, এম কে ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৭৩কোটি টাকা, হলমার্ক শিপিং মিলস লিমিটেড ৭২ কোটি টাকা, এজাক্স জুট মিলস লিমিটেড ৭২কোটি টাকা, শাহেদ শিপ ব্রেকিং ৭২কোটি টাকা, রুম্মান এন্ড ব্রাদার্স ৭২ কোটি টাকা, রোসেবুর্গ রাইস মিলস লিমিটেড ৭১ কোটি টাকা, এএসটি বেভারেজ লিমিটেড ৭১ কোটি টাকা, মিনটেক্স ফ্যাশন লিমিটেড ৭১ কোটি টাকা, রংপুর জুট মিলস ৭১ কোটি টাকা, রোসেবুর্গ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৭১ কোটি টাকা, সিপিএম কম্পোজিট নিট প্রাইভেট লিমিটেড ৭০ কোটি টাকা, হানজাল টেক্সটাইলস পার্ক লিমিটেড ৭০কোটি টাকা, ইস্ট্রার্ন কর্পোরেশন ৭০কোটি টাকা, ফিনকোলি অ্যাপেয়ারেলস লিমিটেড ৭০ কোটি টাকা, জয়েন্ট ট্রেডার্স ৭০ কোটি টাকা, ন্যাশনাল আইরন অ্যান্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৬৯ কোটি টাকা, ইকো ব্রিক্স লিমিটেড ৬৯ কোটি টাকা, তালুকদার প্লাস্টিক কোম্পানি লিমিটেড ৬৯ কোটি টাকা, বিএনএস ইন্টারন্যাশনাল কোং ৬৯ কোটি টাকা, এপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড ৬৯ কোটি টাকা, টেকো প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৬৯ কোটি টাকা, ওশিয়ান শিপিং মিলস লিমিটেড ৬৯কোটি টাকা, ক্লাসিক সাপ্লাইস লিমিটেড ৬ ৯কোটি টাকা, সৈয়দ ট্রেডার্স ৬৯ কোটি টাকা, ওয়েস্টারিয়া টেক্সটাইলস লিমিটেড ৬৯ কোটি টাকা, নোবেল কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড ৬৮ কোটি টাকা এবং আলী এন্টারপ্রাইজ ৬৮ কোটি টাকা।