Wednesday, August 5, 2026

ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ

রয়টার্স এক্সক্লুসিভঃ ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের অত্যন্ত নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এ কারণে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)।
দুইটি সূত্রের দাবি, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের “প্রায় পুরো মজুদই” ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস ও পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ এতটা কমে যাওয়ার তথ্য এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূরপাল্লার এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিরাপদ দূরত্ব থেকে নির্ভুল হামলা চালানোর সুযোগ দেয় এবং এগুলো মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এটিএসিএমএস ইউক্রেন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে পিআরএসএম হলো এটিএসিএমএস-এর তুলনায় আরও আধুনিক ও অধিক পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা ধীরে ধীরে পুরোনো এটিএসিএমএস-এর জায়গা নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ১০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি এবং চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে এসব অস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বর্তমানে ঠিক কতগুলো এটিএসিএমএস বা পিআরএসএম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অবশিষ্ট রয়েছে, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সূত্রগুলো।

দীর্ঘায়িত যুদ্ধে বেড়েছে উদ্বেগ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন। সে সময় তিনি ধারণা করেছিলেন, যুদ্ধটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।
কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিরোধ করার সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তি।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যুদ্ধ শুরুর আগে থাকা প্রায় সব স্থলভিত্তিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক মজুদ থেকে নতুন করে সরবরাহ নেয়া হয়েছে।

এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, এমনকি আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণে গোলাবারুদ তৈরি করছে। পাশাপাশি রেকর্ড হারে কারখানা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
যদিও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা একমত যে বর্তমানে গোলাবারুদের উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে, তবে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তা এখনও যথেষ্ট নাও হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট যখন এবং যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য আমাদের যা প্রয়োজন সবই রয়েছে। একই সঙ্গে আমরা দেশের জনগণ ও স্বার্থ রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছি।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, এটিএসিএমএস ও পিআরএসএম- মজুদ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে মানবচালিত যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে বোমা হামলার পরিবর্তে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়, যাতে পাইলটদের ঝুঁকি কম থাকে।

প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদও কমছে
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৬৫ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে।
এছাড়া থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের মজুদও যুদ্ধ শুরুর তুলনায় অন্তত ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ সরকারি তথ্যেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদও কমেছে
আরেক সূত্রের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈশ্বিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে টমাহক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেথিয়নযুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে বহু বছরের একটি প্রাথমিক উৎপাদন চুক্তিতে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে টমাহকসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়িয়ে দ্রুত কমে যাওয়া মজুদ পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।

ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ

মিশিগানে কোটি কোটি ডলার উড়িয়েও হারানো গেল না আবদুল আল-সাইয়েদকে

আল–জাজিরাঃ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে (সিনেটপ্রার্থী বাছাই নির্বাচন) জয়ী হয়েছেন প্রগতিশীল জনস্বাস্থ্যকর্মী আবদুল আল-সাইয়েদ।

ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় ৬ কোটি ডলারেরও (৬০ মিলিয়ন) বেশি নির্বাচনী প্রচারণার খরচকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আল-সাইয়েদ এ ঐতিহাসিক মনোনয়ন লাভ করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবারের এ নির্বাচনী ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ বা এআইপিএসির জন্য একটি মস্ত বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আবদুল আল-সাইয়েদকে হারাতে এ গোষ্ঠীই মূলত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি ডলারের (৩০ মিলিয়ন) বেশি অর্থ ঢেলেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সাইয়েদ সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। নির্বাচনে যে কয়টি আসনে সিনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য তীব্র লড়াই হবে, তার মধ্যে মিশিগানের এ আসনটিকে অন্যতম ধরা হচ্ছে। এ আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।

মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইয়েদ যদি নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হন, তবে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া দোদুল্যমান মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গতকালের এ ফলাফল মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

আল-সাইয়েদ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, যেসব যুদ্ধে অর্থ ঢাললে শুধু ইসরায়েলেরই লাভ হয়, সেই অর্থ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে বিনিয়োগ করা উচিত।

কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ওকালতি না করা নিরপেক্ষ সংগঠন ‘আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট’-এর নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি আল-সাইয়েদের এ জয়কে একটি ‘বিরাট ঘটনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা এমন বিজ্ঞাপনের বন্যায় পা দেননি, যেখানে কোনো নীতি বা জনকল্যাণের কথা ছিল না; বরং শুধু ‘আবদুল নামের এক আরব–আমেরিকান মুসলিমকে’ লক্ষ্য করে নেতিবাচক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছিল।

মায়া বেরি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি সারা দেশের মানুষকে এটা জানাতে পেরে রোমাঞ্চিত যে মিশিগানের মানুষ এ নোংরা রাজনীতি মুখ বুজে সহ্য করবে না।’

মিশিগানের ডেট্রয়েটে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার রাতে সমর্থকদের সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। ৫ আগস্ট ২০২৬
মিশিগানের ডেট্রয়েটে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার রাতে সমর্থকদের সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। ৫ আগস্ট ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

প্রভু দেবা, রাভিনাদের সঙ্গে আরিফিন শুভ—যা বলছেন ভক্তরা

প্রকাশ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ঃ সনি লিভের প্রযোজনায় ‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের আরিফিন শুভ, খবরটি পুরোনো। গত বছরের নভেম্বরে ভারতে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বাংলাদেশি এই তারকা। এই সিরিজসহ সনি লিভ তাদের অন্য সব সিরিজ সম্পর্কে ধারণা দিতে ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে। এই ভিডিওতে বলিউডের প্রভু দেবা, রাভিনা ট্যান্ডনদের সঙ্গে দেখা গেছে বাংলাদেশের আরিফিন শুভকে। ইউটিউবে মন্তব্যের ঘরে বেশির ভাগ মানুষ প্রশংসা করেছেন আরিফিন শুভর। তাঁরা বাংলাদেশি এই তারকাকে একেবারে ভিন্ন লুকে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

‘স্টোরিজ দ্যাট লিভ অন’ শিরোনাম দিয়ে ইউটিউবে ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি টিজার নাকি ট্রেলার, সে ব্যাপারে কিছুই জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্যের ঘরে কেউ লিখেছেন, ‘“জ্যাজ সিটি”র অন্য অপেক্ষায় রইলাম।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘সনি লিভের সিরিজে আরিফিন শুভকে দুর্দান্ত লাগছে।’ কেউবা লিখছেন, আরিফিন শুভর দারুণ ফিরে আসা। কেউবা লিখেছেন, ‘প্রথম ঝলক থেকেই আরিফিন শুভ দুর্দান্ত। সত্যিকার অর্থে একজন আন্তর্জাতিক মানের অভিনয়শিল্পী। তাঁকে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্পে দেখতে চাই। তিনি বাংলাদেশকে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।’

আগেই জানানো হয়, আরিফিন শুভকে নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করছেন সৌমিক সেন, যিনি আলোচিত ‘জুবিলি’ সিরিজের সহস্রষ্টা। সনি লিভের এই সিরিজের নাম ‘জ্যাজ সিটি’।

শুটিংয়ের সময় সূত্র জানিয়েছিল, ‘জুবিলি’র পর নতুন এই সিরিজেও নানা চমক রেখেছেন সৌমিক সেন। যেমন আরিফিন শুভর বিপরীতে দেখা যাবে সৌরসেনীকে। এ ছাড়া রয়েছেন টালিউড ও বলিউডের একাধিক অভিনেতা।

সিরিজের গল্প প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে কলকাতার জন্য চমক, শহরের বুকে গড়ে উঠতে চলেছে জ্যাজ ক্লাব। ২০-২৫টি টেবিল সাজানো। ১০০-১৫০ জনের বসার আয়োজন। ক্লাবের আবহে সময়টা সত্তর দশক! পরিচালক সৌমিক সেন শুটিং সেটে এক টুকরা পুরোনো কলকাতাকে মনের মতো করে বানিয়েছেন।
আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির নাম ‌‘নীলচক্র’। বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘নূর’ ও ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ সিনেমা।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-09-11%2Fueogyeo3%2F8a2bdda2-bdb8-450c-8f4a-12c7c34c3916-1.jpg?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
‘স্টোরিজ দ্যাট লিভ অন’ শিরোনাম দিয়ে ইউটিউবে ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে এভাবেই দেখা গেছে প্রভু দেবা, রাভিনা ট্যান্ডন ও আরিফিন শুভকে। কোলাজ

শুভ–ঐশীর সেই ‘নূর’ আসছে, তবে...

প্রকাশ ২৫ নভেম্বর ২০২৫ঃ আরিফিন শুভ ও জান্নাতুল ঐশী অভিনীত ‘নূর’ ছবিটি মুক্তির অনুমতি পেতে ২০২২ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। মাসের শেষে জানা যায়, ত্রুটির কারণে ছবিটির ছাড়পত্র দেননি বোর্ড সদস্যরা। এরপর সংশোধন করে আবার ছাড়পত্রের জন্য জমা পড়ে। বোর্ড সদস্যরা বছরের শেষে সেন্সর ছাড়পত্র দিয়ে দেন। ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর প্রায় তিন বছর পার হতে চলল। সোমবার সন্ধ্যায় জানা গেল ‘নূর’ ছবিটি অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তবে প্রেক্ষাগৃহের জন্য তৈরি ছবিটি এখন মুক্তি পাবে ওটিটিতে। সেভাবেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। দু–এক দিনের মধ্যে আসতে পারে ট্রেলার।

‘নূর’ ছবিটির পরিচালক রায়হান রাফি। তিনি এখন অন্য একটি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। ছবিটির প্রথম দিকে প্রযোজনায় ছিল শাপলা মিডিয়া। একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুন মাসে ছবিটি কিনে নেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কোয়াইট অ্যান্ড সেট নামের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এর পর থেকে ছবিটি মুক্তির নানা উপায় খোঁজা হয়। একাধিকবার পরিচালক–অভিনয়শিল্পী এবং প্রযোজকের মিটিংও হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, ‘নূর’ ছবিটি ওটিটিতেই মুক্তি পাবে। ২৮ নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে বায়োস্কোপ অ্যাপে মুক্তি পাবে আরিফিন শুভ ও ঐশী অভিনীত এই ছবি।

কথা হয় ‘নূর’ ছবির পরিচালক রায়হান রাফির সঙ্গে। প্রেক্ষাগৃহ বাদ দিয়ে ওটিটিতে ছবিটির মুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগের ছবি। দেখার পর মনে হয়েছে, এটা ওটিটিতে মুক্তি পেলে ভালো হয়। ওটিটি দর্শকের জন্য একটা ভালো অভিজ্ঞতা হবে।’ শুটিংয়ের আগে কেন মনে হয়েছিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেবেন—এমন প্রশ্নে পরিচালকের বক্তব্য, ‘তখন মনে হয়েছিল, এখন মনে হয়নি—এর বাইরে কোনো যুক্তি নেই।’

এদিকে অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ছবির প্রধান দুই অভিনয়শিল্পীও চেয়েছিলেন, ‘নূর’ ছবিটি যেন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। কিন্তু তাঁদের সেই চাওয়াটা পূরণ হয়নি। তারপরও পেশাদারত্বের কথা চিন্তা করে তাঁরা ছবিটির প্রচারণামূলক ফটোশুটেও অংশ নিয়েছেন।

আরিফিন শুভ ও ঐশী প্রথম অভিনয় করেন ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবিতে। এরপর তাঁদের দেখা গেছে ‘মিশন এক্সট্রিম ২: ব্ল্যাক ওয়ার’ ছবিতে। এই জুটির তিন নম্বর সিনেমা ‘নূর’। একসঙ্গে অভিনয় থেকেই তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। একটা সময় রটে, তাঁরা দুজন প্রেমের সম্পর্কে আছেন। ঐশীর প্রেমের কারণে শুভর সংসার ভাঙে—এমন কথাও শোনা গিয়েছিল। তবে এ নিয়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে দুই তারকা জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব। শুভও বিভিন্ন সময় বলেছেন তিনি ঐশীকে স্নেহ করেন। আবার শুভকে অভিভাবক মানেন ঐশী। এর বাইরে তাঁদের মধ্যে প্রেম বা অন্য কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটা কখনোই কোনো ঘটনায় প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে ঐশী সম্প্রতি ‘সোলজার’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। এতে তিনি শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে আরিফিন শুভ অভিনীত পরিচালক অনম বিশ্বাসের একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। বলিউডে ‘জ্যাজ সিটি’ নামের একটি সিরিজের শুটিংও করেছেন—কবে এই সিরিজ মুক্তি পাবে, সে ব্যাপারে কিছুই জানেন না শুভ।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2024-10-24%2Fghb7sq6y%2Foishi-and-shuvo-1729750420.webp?rect=43%2C0%2C675%2C450&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
‘নূর’ ছবিতে অভিনয় করেছেন ঐশী ও আরিফিন শুভ। ছবি : শুভর সৌজন্যে