Showing posts with label কুতুবদিয়া স্পেশাল. Show all posts
Showing posts with label কুতুবদিয়া স্পেশাল. Show all posts

Tuesday, November 25, 2025

কুতুবদিয়াবাসী কবে অবহেলা ও বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে রক্ষা পাবে by আবদুল্লাহ নাজিম আল মামুন

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার দেশের ১০টি অনুন্নত উপজেলাকে উন্নত করতে একটা বাজেট রেখেছে। সেই বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু কক্সবাজার জেলার অনুন্নত সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া উপজেলাকে সেখানে বাদ দেওয়া হয়েছে।

‎কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত কুতুবদিয়া উপজেলাকে বলা হয় বাতিঘরের দ্বীপ। এখানে বসবাস করে দেড় লক্ষাধিক মানুষ। এই দ্বীপের বর্তমান আয়তন ১৮ মাইলের কম। একসময় এর আয়তন ছিল ১০০ বর্গমাইলের বেশি। বর্ষায় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে নদীভাঙনের কারণে দ্বীপটি এখন অস্তিত্বসংকটের মুখে পতিত হয়েছে। হয়নি কোনো উন্নয়ন।

৩৪ বছরেও কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ পায়নি দ্বীপটি। যুগের পর যুগ জিও ব্যাগ দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো হয়েছে। কিন্তু এই জিও ব্যাগ সমুদ্রের বিশাল ঢেউ আর জোয়ারের ফলে ভেঙে গিয়ে কুতুবদিয়া দ্বীপ প্লাবিত হয়। যাতায়াতের মাধ্যমে কোনো নিরাপত্তা নেই। নেই ফেরি কিংবা যাত্রীবাহী লঞ্চ। মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল।

‎অন্যদিকে পাশেই রয়েছে মাতারবাড়ী ও মহেশখালী। মাতারবাড়ীতে রয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। মহেশখালীর সঙ্গে কক্সবাজারে যাতায়াতের জন্য রয়েছে ফেরি। কিন্তু বিপুল খনিজ সম্পদের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়াকে সব সময় অবহেলার চোখে দেখেছেন সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।

‎কুতুবদিয়ায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। রয়েছে গন্ধক ও চুনাপাথর, যা কুতুবদিয়ার ভূপৃষ্ঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় কালোবালির মতো খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। দ্বীপটি তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস হিসেবে পরিচিত, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া কুতুবদিয়া উপজেলা পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি দ্বীপ। দ্বীপের পশ্চিমে ‘মায়া দ্বীপ’ নামের আরও একটি চর জেগে উঠছে। এই চরটিকে পর্যটনের জন্য পরিকল্পনা করা যেতে পারে। আর এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাতিঘর ও বাংলাদেশের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র। রয়েছে বিশাল এলাকাজুড়ে সমুদ্রসৈকত, যা উত্তর-দক্ষিণে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রায়।

‎যদি সরকার ও দেশি-বিদেশি ভ্রমণ-সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশ পর্যটনশিল্পের জন্য দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‎আর এখানকার মানুষের প্রধান পেশা সাগর থেকে মাছ আহরণ ও লবণ উৎপাদন করা। এখানকার লবণচাষিরা প্রতিবছর ৫৯০ একর জমিতে ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনের অধিক লবণ উৎপাদন করে থাকেন, যা দেশে লবণশিল্পের জন্য বিশাল অবদান।

এত কিছু থাকার পরও কুতুবদিয়া নিয়ে কোনো মহাপরিকল্পনা নেই। দ্বীপবাসীরা পায়নি কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নানা ভোগান্তিতে বসবাস করতে হচ্ছে কুতুবদিয়াবাসীকে।

কোনো ইমার্জেন্সি রোগীকে মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানেও উন্নত চিকিৎসা পাওয়া যায় না। মেডিকেলের কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইমার্জেন্সি রোগীকে রেফার করে দেন। এরপর রোগীকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার সময় আরেক সিন্ডিকেটের মুখে পড়তে হয়। কুতুবদিয়া-মগনামা চ্যানেলে কোনো ফেরি না থাকায় ডেনিসবোটের মালিকেরা ভাড়া বাড়িয়ে নেন। এভাবেই নানা ভোগান্তি ও সিন্ডিকেটের মধ্য দিয়ে কুতুবদিয়াবাসীকে পারাপার হতে হয় নিত্যদিন।

অন্তর্বর্তী সরকারকে এই দ্বীপ নিয়ে মহাপরিকল্পনা করতে হবে। এই দ্বীপের দেড় লক্ষাধিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কুতুবদিয়া-মগনামা চ্যানেলে ফেরি চালুর মধ্য দিয়ে যাতায়াতব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

‎এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম দিতে হবে। রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। তবেই কুতুবদিয়াবাসী অবহেলা ও বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে রক্ষা পাবে।

* আবদুল্লাহ নাজিম আল মামুন
‎- কুতুবদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-04-29%2Fbq3k7t3z%2FUntitled-1.jpg?rect=0%2C0%2C1592%2C1061&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবরডেইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে শত কোটি টাকা খরচ করে ২০২৪ সালে নির্মাণ হয়েছিল ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এখন বাঁধের নড়বড়ে অবস্থা। ছবি: প্রথম আলো

Wednesday, October 14, 2015

দূরে বাতিঘর... by মোহাম্মদ বদরুজ্জামান

কুতুবদিয়ার বাতিঘর
এখানে শরতের সকালে যেন অন্য রকম এক আয়োজন চলছে। নদীর বুকে ঠিকরে পড়ছে কোমল আলো। যাত্রীরা পড়িমরি করে উঠছে সমুদ্রগামী ট্রলারে। খুব ভোরে চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি ঘাটে পৌঁছালাম তড়িঘড়ি। চলেছি সমুদ্রভ্রমণে। ট্রলারের লোকজনের হাঁকডাক দেখে বুঝলাম, ঘাট চিনতে ভুল হয়নি আমাদের। হাঁসফাঁস করে আমরাও উঠলাম সেই ট্রলারের ছাদে।
কর্ণফুলীর বুকে নোঙর করা অসংখ্য জাহাজ, ট্রলার আর কার্গো দৃষ্টি কেড়ে নিল আমাদের। বাস্তবে এত দৈত্যাকৃতির নৌযান তো দেখিনি আগে। কর্ণফুলীর মোহনায় যেতে না যেতেই কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোট এসে থামিয়ে দিল আমাদের ট্রলার। কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা ট্রলারের মাঝিমাল্লাদের শাসিয়ে দিলেন এবং চোখ রাঙিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা অন্যায়। যা হোক, ক্রমেই বঙ্গোপসাগরের অসীম জলরাশির মধ্যে ঢুকে পড়ল আমাদের ট্রলার। আর বাতিঘরের কুতুবদিয়া আমার মধ্যে কৌতূহলও বাড়িয়ে দিল সেই সঙ্গে।
কুতুবদিয়ার বাতিঘর সেই প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময়েই আমাকে রোমাঞ্চিত করেছিল। নাবিকেরা রাতের বেলায় বাতি দেখে জাহাজের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে নাবিকেরা কুতুবদিয়ার ঘূর্ণমান বাতি দেখতে পান। ব্যাপারটা কী দারুণ! কিন্তু পাহাড়-পর্বত ভ্রমণে ঝোঁক বেশি থাকায় কুতুবদিয়ার কথা হয়তো ভুলেই বসেছিলাম। এবার ঈদের পর বেড়াতে যাওয়ার বায়না ধরে বসলেন বন্ধু এহসান। সমুদ্রপথে কুতুবদিয়া ভ্রমণের কথা শুনে এহসান নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে ছাড়লেন না।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করে উঠল। ট্রলারে খাবারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পড়লাম বিপদে। উপকূল ধরে চলছে আমাদের নৌযান। কোথাও বড় বড় ঢেউয়ের সঙ্গে চলে উথাল-পাতাল খেলা। একেক করে কেটে গেল কয়েক ঘণ্টা। এদিকে প্রচণ্ড তাপে অস্থির হয়ে উঠল যাত্রীরা। আনোয়ারা-বাঁশখালীর উপকূল ছেড়ে গভীরে চলে গেলাম ক্রমে। অপেক্ষার যেন শেষ নেই, কুতুবদিয়ারও কূলকিনারা নেই। অবশেষে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বঙ্গোপসাগরের মাঝে যেন জেগে উঠল অচেনা এক দ্বীপ। বেলা একটার সময় নামলাম দরবার ঘাটে। তারপর জিপে চেপে বড় ঘোপ বাজার।
উত্তর-দক্ষিণে লম্বা কুতুবদিয়া দ্বীপের যোগাযোগব্যবস্থা একেবারে খারাপ না। তবে নিম্নাঞ্চল ও উপকূলের অনেক জায়গায় কাঠ ও বাঁশের সেতু দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলের চাঁদের গাড়ির আদলে চলাচলের জন্য এখানে আছে ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ি (জিপ নামেই বেশি পরিচিত)। টেম্পো আর রিকশাও আছে পর্যাপ্ত। হাতিয়া দ্বীপেও দেখেছিলাম এ রকম যাত্রীবাহী জিপ। মহেশখালী আর সোনাদিয়ার মতো এ দ্বীপেও চলার পথে চোখে পড়ল বড় বড় লবণখেত। নাবিকদের পথ দেখানোর সুবিধার্থে ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার কুতুবদিয়ায় নির্মাণ করে বাতিঘরটি। দ্বীপটির মধ্যাঞ্চলীয় দক্ষিণ ধুরমং এলাকার পশ্চিম উপকূলে এটি অবস্থিত। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এ বাতিঘর ১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হারিয়ে যায় সমুদ্রগর্ভে। ষাটের দশকেই পুনরায় আরেকটি বাতিঘর নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধের ভেতরে। তবে ভাটার সময় পুরোনো বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ এখনো দেখা যায়।
হোটেলের বারান্দা থেকে সাগরের অসীম জলরাশি চোখে লাগাল ভেলকি। কুতুবদিয়া দ্বীপের পশ্চিম কূলজুড়ে সমুদ্রতট। তবে মূল সৈকত বড় ঘোপ আর ধুরুং এলাকাজুড়ে। কোথাও কোথাও ঝাউবন ঘেরা সৌন্দর্যের হাতছানি। সুন্দর তটে ফুটবল আর ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠেন এখানকার তরুণেরা। সূর্যাস্তের আগেই নেমে পড়লাম সৈকতে। বালুহীন সমুদ্রতটে পা ছোঁয়াতেই ভিন্ন রকম এক অনুভূতি। সূর্যাস্তের পর গোধূলির আলো স্মিত হওয়ার আগেই বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের আলো ছড়িয়ে পড়ল পানিতে। সে এক অসাধারণ দৃশ্য!
রাতের সৈকত অন্য রকম রূপ নিয়ে হাজির। পূর্ণিমার জোছনাস্নাত তটে বসে জোয়ারের গর্জন রোমাঞ্চিত করল আমাদের। সাগরের বুকে নোঙর করা আলোকময় জাহাজে ভাসতে ইচ্ছে করল। দক্ষিণ ধুরুংয়ের বাতিঘরের আলো উদ্দীপনা জাগাল বেশ। যার আলোয় নাবিকদের দুচোখ চিকচিক করে ওঠে।
সকালে আবার গেলাম সৈকতে। একেবারে নির্জন ও শান্ত-কোমল সাগর পাড়। ভেজা তটে হাঁটলাম ঘণ্টা খানেক। লাল কাঁকড়ার খেলা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না। সোনাদিয়া সৈকতের মতো এখানেও প্রচুর লাল কাঁকড়ার বিচরণ। সোনাদিয়ায় দেখা যায় এদের দলবদ্ধভাবে চলতে। এখানে বিচ্ছিন্নভাবে।
বড় ঘোপ স্টিমার ঘাটে মানুষের ভিড়। ফেরার অপেক্ষায় আছি, এমন সময় গোঁ গোঁ শব্দ করে একটি স্পিডবোট ঘাটে এসে ভিড়ল। দ্রুতগামী সে যানে চেপে পাড়ি দিলাম কুতুবদিয়া চ্যানেল। মগনামা ঘাটে এসে মনে হলো, ওপারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি কীভাবে যেন গড়ে দিল মনের মধ্যে এক সেতু।
সূর্য নেমে যায় যেন সমুদ্রে। ছবি: সোলাইমান হোসেন
যেভাবে যাবেন
কয়েকটি রুটে যাওয়া যায় দ্বীপ কুতুবদিয়ায়। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামে এসে ফিরিঙ্গি ঘাটে কুতুবদিয়াগামী ট্রলার ধরতে হবে। সকাল ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে দুটি ট্রলার ছেড়ে যায় কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে। কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ স্টিমার ঘাটে নেমে উপজেলা সদরে যেতে পারবেন রিকশায় চেপে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাট পর্যন্ত এস আলম পরিবহনের মিনি বাস যাতায়াত করে। বহদ্দারহাট কিংবা শাহ আমানত সেতুর কাছ থেকে উঠতে পারবেন বাসে। মগনামা ঘাট থেকে স্পিডবোট কিংবা ট্রলারে চেপে পার হবেন কুতুবদিয়া চ্যানেল।
ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসে চেপে নামতে পারেন চকরিয়া বাজারে। চকরিয়া থেকে মগনামা ঘাট যাওয়া যায় জিপ কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। এটাই অপেক্ষাকৃত সহজ পথ। তবে যাদের পানিভীতি কম, ট্রলারে সমুদ্র ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।
প্রয়োজনীয় তথ্য
কুতুবদিয়া দ্বীপ ভ্রমণের জন্য শীতকাল বেছে নিন। কারণ, এ দ্বীপে শীতকালে লবণ চাষ হয়। শুঁটকির প্রক্রিয়াকরণও চলে শীত মৌসুমে। আর মাছও পাওয়া যায় পর্যাপ্ত। এ ছাড়া তাপ কম থাকায় সমুদ্রপথে ট্রলার ভ্রমণটাও হবে আরামদায়ক। ট্রলারে যাওয়ার সময় সকালের নাশতা সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। কুতুবদিয়ার সৈকত পরীক্ষিত না। তাই জোয়ার ছাড়া অন্য সময়ে পানিতে নামা নিরাপদ নয়। বড় ঘোপ বাজারে থাকা ও খাওয়ার হোটেল আছে।
দ্বীপ কুতুবদিয়া

Friday, February 13, 2015

কুতুবদিয়ায় কুতুব শরীফ দরবারে ভয়াবহ আগুন : জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন by হাছান কুতুবী

কুতুবদিয়ায় হযরত মালেকশাহ্ (রাহ.) কুতুব শরীফ দরবারে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটেছে। পাশের বাড়ীর সৌরবিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে টিনসেট বিশাল ৭টি বসতবাড়ী, দরবারের অন্দর মহলের মহিলা মেহমানখানা, এবাদতখানা, খাবারের ঘর ও ২টি মহিলা দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাত ১২টা পর্যন্ত আগুণ জ্বলতে থাকে। এতে নগদ সাড়ে ৫৭ লাখ টাকা, ২০ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দোকান ও বসতবাড়ীর সম্পূর্ণ মালামালসহ অন্তত: ৩ কোটির অধিক ক্ষয়-ক্ষতির শিকার বলে দরবার পরিচালক শাহজাদা শেখ ফরিদ (মা.জি.আ.) জানিয়েছেন। তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ও দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকার হাজার-হাজার মানুষের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হওয়ায় বাবাজান কেবলার মাজার, শাহজাদা বৃন্দের বসতবাড়ী, অন্যান্য ভবন, আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্টিতব্য ১৫তম বার্ষিক ফাতিহা ও র্ওস’র জন্য নির্মিত বিশাল অস্থায়ী স্থাপনা অক্ষত রয়েছে বলে তিনি জানান। ক্ষতিগ্রস্ত হযরত মালেকশাহ্ (রাহ.)’র ভাতিজাগণ হলেন নুরুল আমিন সওদাগর, আবু তাহের সওদাগর, সামসুল আলম, রুহুল আমিন, নুর মোহাম্মদ, নাছির উদ্দিন, জহির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, মাঈনুদ্দিন, কলিম উদ্দিন, আবদুর রহমানসহ ২ মহিলা দোকানী আনছু ও মুকারমা বেগম। এখানে রুহুল আমিনের নগদ ৫০ লাখ ও আবু তাহের ২ লাখ টাকা পুড়ে যাওয়ায় তাদেরকে নির্বাক দেখা গেছে। জেলা প্রশাসক মো.রুহুল আমিন শুক্রবার সকাল ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ-খবর নেন এবং জরুরী পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান এ.টি.এম.নুরুল বশর চৌধূরী, ইউএনও মমিনুর রশিদ, দরবার পরিচালক হযরত শাহজাদা শেখ ফরিদ (মা.জি.আ.) এন্তেজামিয়া কমিটির মহা-সচিব আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির বাবুল, থানা ওসি এ.এস.থোয়াই, ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির হায়দার, কুতুবদিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাছান কুতুবী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইদ্রিচ খোন্দকার খোকন, আ.লীগ নেতা সাইফুল আলম, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম, সমাজসেবক জিয়াউল করিম ঝন্টু, দরবারের অফিস ইনচার্জ জাহেদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অনুষ্টিতব্য বার্ষিক ফাতেহায় কোন প্রভাব পড়বেনা বলে জানিয়েছেন এন্তেজামিয়া কমিটির মহা-সচিব আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির বাবুল। এদিকে স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল-আযাদ ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৬শ কেজি চাল, ৩০পিচ কম্বল, ২০পিচ তেরপাল, ২০পিচ পানির কন্টেইনার ও ২০পিচ মাদুরাসহ শুকনো খাদ্য বিতরণ করেছেন। এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান, লেমশীখালী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু ইউছুফ, ইউপি মেম্বার হুমায়ুন কবির বাদশাহ, মোরশেদুল আলম সিকদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
(১৩-ফেব্রুয়ারি)

Sunday, December 7, 2014

কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরীর by জেসমিন আখতার

বে-সামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব উপজেলার কৃতি সন্তান খোরশেদ আলম চৌধূরী শনিবার কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের সাথে দ্বীপরক্ষা বাঁধের মারাত্মক দৈন্যদশা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এবং জরুরী আর্থ ওয়ার্কের কাজ ঠিকমতো না করলে বিল পাবেনা বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বাঁধ নির্মাণে বরাদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে স্থানীয়দের আশ্বস্থ করেন সচিব। উত্তর ধূরুং ও আলী আকবর ডেইল এলাকায় পরিদর্শন কালে ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন হায়দার, ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল-আযাদ, থানা ওসি আলতাফ হোছাইন, আ.লীগ নেতা আহমদ উল্লাহ মাষ্টার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী, পাউবোর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজিজ মুহাম্মদ চৌধুরী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তফাজ্জল হোছাইন, মাসুদুর রাব্বী ও ছাত্রলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন লিটনসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Monday, August 18, 2014

কুতুবদিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থবাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ মন্ত্রী

১৭-আগষ্ট উত্তর ধূরুংয়ের কাইছার পাড়া, পশ্চিম-পূর্বচরধূরুং ও আকবরবলীর পাড়া ক্ষতিগ্রস্থবাঁধ এলাকা পরিদর্শনে পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ সময় হাজার-হাজার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে তাদের চরম দূর্গতির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রীকে। মন্ত্রীর সাথে প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, চকরিয়া-পেকুয়ার এমপি মুহম্মদ ইলিয়াছ, বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব কুতুবদিয়ার কৃতি সন্তান খোরশেদ আলম চৌধূরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহম্মদ জাফর আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল বশর চৌধূরী, ইউএনও মমিনুর রশিদ, আ’লীগ সভাপতি ছৈয়দ আহমদ কুতুবী, সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা, পাউবো’র তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল হক, বিশ্ব ব্যাঙ্কের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান, মুজিবুর রহমান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ, আজমগীর মাতবর, আলাউদ্দিন আল-আজাদ, সিরাজদৌল্লাহ, বিশিষ্ট রাজনীতিক আ.ন.ম.শহীদ উদ্দিন ছোটন, আ’লীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মাতবর, আ’লীগ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম চৌধূরী মুকুল, যুবীগ সাধারণ সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন ইকো, ্কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাছান কুতুবী, উপজেলা জাপা নেতা জাফর আলম, হাজী আবদুল মোনাফসহ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে কুতুবদিয়া রক্ষা করা হবে -ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী by হাছান কুতুবী


পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন অবিলম্বে সিসিব্লক’র মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নির্মাণাধীন কাজ যথাসময়ে শেষ না করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ জন্য তদারককারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের দায়িত্ব অবহেলাকে দায়ী করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রীদ্বয় গতকাল রবিবার উপজেলার উত্তর ধূরুংয়ের কাইছার পাড়া, পশ্চিম-পূর্বচরধূরুং ও আকবরবলীর পাড়া ক্ষতিগ্রস্থবাঁধ এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

এ সময় হাজার-হাজার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে তাদের চরম দূর্গতির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রীকে। মন্ত্রীর সাথে প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, চকরিয়া-পেকুয়ার এমপি মুহম্মদ ইলিয়াছ, বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব কুতুবদিয়ার কৃতি সন্তান খোরশেদ আলম চৌধূরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহম্মদ জাফর আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল বশর চৌধূরী, ইউএনও মমিনুর রশিদ, আ’লীগ সভাপতি ছৈয়দ আহমদ কুতুবী, সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা, পাউবো’র তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল হক, বিশ্ব ব্যাঙ্কের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান, মুজিবুর রহমান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ, আজমগীর মাতবর, আলাউদ্দিন আল-আজাদ, সিরাজদৌল্লাহ, বিশিষ্ট রাজনীতিক আ.ন.ম.শহীদ উদ্দিন ছোটন, আ’লীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মাতবর, আ’লীগ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম চৌধূরী মুকুল, যুবীগ সাধারণ সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন ইকো, ্কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাছান কুতুবী, উপজেলা জাপা নেতা জাফর আলম, হাজী আবদুল মোনাফসহ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীদ্বয় পরে উত্তর ধূরুং ইউপিতে দুর্গতদেতর মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে ধূরুং হাইস্কুল ময়দানে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন। পরে দুপুর ১টায় তারা হেলিকপ্টারযোগে কুতুবদিয়া ত্যাগ করেন।

Sunday, July 27, 2014

কুতুবদিয়া দ্বীপ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী সব কিছু করবেন: সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বিলীন হয়ে যাওয়া সাড়ে ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ প্রাথমিক ভাবে সংষ্কার করা হবে আগামি অমাবশ্যার আগে। বর্ষার পরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যেই কুতুবদিয়ায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার গত পূর্ণিমার জোয়ারে কুতুদিয়ায় বিলীন হয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন ও উপজেলার আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এ কথা বলেন।

এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী এম. শফিকুল হক উপস্থিত ছিলেন। ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কুতুবদিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নেন তিনি। বেড়ীবাঁধ পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ হজরত আবদুল মালেক শাহ (রাঃ) মাজার জিয়ারত করেন। পরে কুতুবদিয়া কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে উপজেলার আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম মমিনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন। আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির হায়দার, ভাইস চেয়ারম্যান মেহেরুন্নেছা ও কুতুবদিয়া থানার ওসি আলতাজ হোসেন। এ সয়ম উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছৈয়দ আহমদ কুতুবী, সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছফা বিকম, চেয়ারম্যান সিরাজদৌল্লাহ, চেয়ারম্যান আজমগীর মাতব্বর,চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ,চেয়ারম্যান ফিরোজ খান ও চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আজাদ।

সভায় আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। কুতুবদিয়ায় কাজ করে তা প্রমান করতে চাই। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, চিন্তার কোন কারণ নাই। আপনাদের পাশে রয়েছেন গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনা। আগামি ১৫/২০ দিনের মধ্যে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করতে যা করণীয় তা করার নির্দেশ দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন বলেন আপনাদের চিন্তার কোন কারণ নেই। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে আছি। কুতুবদিয়ার উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে মাস্টারপ্লান তৈরী করা হয়েছে। তা আগামিতে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

Tuesday, July 22, 2014

কুতুবদিয়া কি বিলীন হয়ে যাবে by মুহাম্মদ হোছাইন কুতুবী

একসময়ে বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত কুতুবদিয়া দ্বীপ, পূর্বদিকে আঁকাবাঁকা নদী সারি সারি প্যারাবন। উত্তরে একমাত্র খরস্রোতা নদী- কর্ণফুলী, পশ্চিমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সমুদ্র সৈকত, শামুক ঝিনুক, এবং ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাকড়া। দক্ষিণে সীমানাহীন লবণের মাঠ, উত্তর-পশ্চিম, পূর্ব দক্ষিণ যে দিকেই তাকাই মাঝি মাল্লার দেখা মিলে, চারিদিকে বঙ্গোপসাগরে ঘেরা ২১৫ বর্গ কিলোমিটারের এই দ্বীপটি প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরপুর। শাহ আব্দুল মালেক কুতুব আউলিয়ার পূণ্যভূমি, পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকা, ক’দিন আগের কথা, গ্রাম বাংলার চিরচেনা সব ঐতিহ্য বিরাজমান ছিল। কুতুবদিয়াবাসীর ছিল গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভর্তি গরু, মহিষ, ছাগল, মাঠে ঘাটে সোনালী ফসল, নদী খালে সোনালী রুপালী নানা প্রজাতির মাছ। কিন্তু এসব আজ হারিয়ে যাচ্ছে আগ্রাসণী সমুদ্রের কবলে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কোন অংশে পিছিয়ে নেই এই এলাকা। শিক্ষার হার বিবেচনায় কক্সবাজার জেলায় শীর্ষে অবস্থান। এই ছোট্ট জনপদের লোকজন মানব সম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় থেকে শুরু করে নানা পদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন এই এলাকার কৃতি সন্তানেরা।
ZoooooM
এই অঞ্চলের লোকজন পেশায় সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও লবণ চাষাবাদে জড়িত। কিন্তু প্রাকৃতিক প্রতিকুলতা, মানবসৃষ্ট ধুম্রজালে তালবেতাল হয়ে পড়েছে। এই এলাকার জনজীবন, হারিয়ে ফেলেছে জীবনযাত্রার ছন্দ। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আগেই প্রকৃতি তাদের জীবনযাত্রার অগ্রগতিকে থামিয়ে দেয়। হাজারো স্বপ্ন নিয়ে প্রতিকুলতার মাঝে সমুদ্র উপকন্ঠে বসবাস করে আসছে লাখো জনতা। শিক্ষা, সংস্কৃতি ঐতিহ্য নিয়ে অগ্রসর হতে চাইলেও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত, বর্ষা এলেই আতংক বিরাজ করে দ্বীপবাসীর মাঝে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙ্গন, জলোচ্ছ্বাস লন্ডভন্ড করে দেয় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বিপদাপন্ন দেশ হিসেবে স্বীকৃত যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয় বেশি।
ঐসব দুর্যোগের কারণে সহায় সম্পত্তি, বসতবাড়ি জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হতে হচ্ছে সহস্র মানুষকে।  জলবায়ুবিদগণ ভবিষ্যৎ বাণী করে বলেন- একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা নগন্য হলেও বৈশ্বিক উষ্ণতায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে এ দেশের দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মাঝে কুতুবদিয়া অন্যতম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, অনাবৃষ্টি, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, ঋতুবৈচিত্র পাল্টে যাবে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা এবং ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজার হাজার মানুষ এবং প্রভাব পড়বে মানুষের জীবন জীবিকার উপর।
জার্মান ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশের উপর প্রভাবও ক্ষয়ক্ষতির যে আশংকার কথা বলা হয়েছে তা হলে বাংলাদেশের বন্যা এলাকা বাড়বে ২৯ শতাংশ তার মধ্যে কুতুবদিয়া শীর্ষে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যে দ্বীপবাসীর মাঝে চরমভাবে লক্ষণীয়, প্রতিনিয়ত পানির স্বাভাবিক উচ্চতা বাড়ছে। নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে ভাসছে। যার ফলে উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ভাসমান পরিবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ এক বিভীষিকাময় জীবন, নিয়তীর কাছে হার মানতে হচ্ছে দ্বীপবাসীর। একবার ঘূর্ণিঝড়ে সব হারায় আবার নদী ভাঙ্গনে বিলুপ্ত করে তাদের অস্তিত্বকে, তবুও মারায় টানে ঠাঁই নেয় আগ্রাসনী সমুদ্রের তীর।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসনে আর্থিক ফান্ড আছে, ব্যয়ও হচ্ছে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তরা এই সুবিধার আওতায় পড়ছে না। এছাড়া জলবায়ু স্থানচ্যুত মানুষের জন্য কার্যকর প্রত্যাবর্তন, স্থানান্তর ও পুনবার্সন কর্মসূচী চালু নেই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনানুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও প্রধান কর্তব্য ও দায়িত্ব হচ্ছে জলবায়ু স্থানচ্যুত মানুষদের দেশের অভ্যন্তরে স্থানান্তর ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
কুতুবদিয়া বাস্তুহারা মানুষের সমস্যার শেষ নেই, অনেকেই বেড়ি বাধের উপর ব্যাঙের ছাতার মতো অস্থায়ী টঙ বেধে জীবনযাপন করছে। আবার অনেকেই সুখের সংসার গড়তে অর্থকড়ি জমিয়ে পাকা অথবা সেমিপাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করার সাহস পায়না। বিশেজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ২০০৭ সালের সিডরের ন্যায় দুর্যোগ সৃষ্টি হলে ’৯১ এ ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দ্বিগুণ প্রাণহানি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
১৯৯১ সালের তান্ডবে উপকুলীয় এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর সিংহভাগ ছিল কুতুবদিয়া এবং তার আশ-পাশ এলাকার। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট এর তথ্য অনুযায়ী ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে কুতুবদিয়ার ৬টি ইউনিয়নে প্রাণহানি ঘটে ৯ হাজার ১৫ জনের। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ১৫ হাজার ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দীর্ঘ ২৩ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও মানুষের জানমালের ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেনি। বর্তমানে কুতুবদিয়ার লোক সংখ্যা রয়েছে প্রায় দুই লাখেরও কাছাকাছি। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ৭১টি। জনসংখ্যা অনুপাতে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা অতি নগণ্য। নির্মাণ ত্র“টি এবং অযতেœর কারণে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোকে ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অনেক আশ্রয়কেন্দ্র স্থানীয় প্রভাবশালী লোকদের গুদামঘরে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে কুতুবদিয়ার চার পার্শ্বের প্যারাবন, ঝাউবন এখন উজাড় প্রায়। কুতুবদিয়া এখন জোয়ারের পানিতে ভাসছে। কুতুবদিয়াকে রক্ষা করতে চাইলে অবশ্যই কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রবল সামুদ্রিক জোয়ারের কারণে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, সহস্রাধিক ঘর বাড়ি, ক্ষেত-খামার, বিশেষ করে আলী আকবর ডেইলের তাবালের চর গ্রামটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই এলাকায় রয়েছে দেশের একমাত্র বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প। বর্তমানে প্রকল্পটি ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। আলী আকবর ইউনিয়নটি উপজেলার একমাত্র জনবহুল ইউনিয়ন। এর দক্ষিণে ছিল খুদিয়ার টেক নামক একটা বিশাল ইউনিয়ন। আজ ইউনিয়নটি বিলিন হয়ে গেছে। এবার আলী আকবর ডেইল বিলীন হওয়ার পালা। এছাড়াও ধুরুং আকবর বলীর পাড়া, চর ধরুং, কৈয়ালবিল, কাইছারপাড়া, জালিয়া পাড়া ইত্যাদি গ্রামে জোয়ার ভাটার পানি আনাগোনা অব্যাহত আছে।
প্রাকৃতিক নৈসর্গপূর্ণ এলাকা, যেখানে- লবণ শিল্প, মৎস শিল্প, চিংড়ি ঘের প্রতিনিয়ত সফলতার হাতছানি দিচ্ছে। আমাদের লবণ শিল্পে বিশ্বের দরবারে প্রশংসার দাবীদার। আরো আছেÑ সোনালী রূপালী হাজার প্রজাতের কাঁচা মাছ, শুটকি, উন্নত প্রজাতির কাকড়া, দেশে বিদেশে রপ্তানি হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেই চলছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এ দ্বীপবাসী বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই জনপদ।
কুতুবদিয়া ৬টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়ন মারাত্মক ভাবে ভাঙ্গনে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই দ্বীপের অস্তিত্ব টিকে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। সাম্প্রতিক কুতুবদিয়া বাসির জীবন যাত্রার মান চরম ভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। টানা কয়েকদিনের পূর্ণিমায় জোয়ারের পানিতে ফুলে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। কুতুবদিয়ার চারপার্শ্বের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অপরিমেয়। কুতুবদিয়ার প্রায় ২৭টি গ্রাম আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবালের চর গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যে কোন মুহুর্তে তলিয়ে যাওয়ার আংশকা রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। যার ফলে বেড়ি বাধ ভেঙ্গে গিয়ে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়া, নদী ভাঙ্গন বেড়ে যাওয়া নতুন কোন খবর নয় দ্বীপবাসীর কাছে।
এত দূর্যোগ থাকা সত্ত্বেও কুতুবদিয়া বাসীকে প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে হয়। প্রকৃতপক্ষে এসব দূর্যোগের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই দায়ী। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, সরকারের ছত্রছাঁয়ায় লবণমাঠ, চিংড়ি ঘের ইত্যাদি নির্মাণের জন্য উপকুলীয় প্যারাবনের শত শত গাছ যেমন- বাইন, কেউড়া, ঝাউবন ইত্যাদি রাতারাতি উজাড় করে দিয়েছে। অনেক স্থানীয় প্রতিনিধি রক্ষক সেজে ভক্ষক হয়েছে, বেড়িবাধ  উন্নয়নের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এখনও জনপ্রতিনিধির উচ্চাসন দখল করে আছেন।
প্রতি অর্থ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে যে বরাদ্দ দেয় হয় তার সুষ্ঠ ব্যবহার হয়না, বেড়িবাধ সহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকাদারদের প্রভাবিত করে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজণৈতিক ব্যক্তিগণ, তাদের কাজে ভাগ ভাটোয়ারা বসিয়ে হাত করে নেয় এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অনেক রাজণৈতিক নেতার প্রতিহিংসার কারণে কুতুবদিয়া আজ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে ডুবে আছে তা কারো আজানা নয়। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন- নেতারা গাড়ি বাড়ি করে শহরে নগরে পাড়ি জমিয়েছেন আমরা কিভাবে দিন কাটাচ্ছি তা তাদের নিকট স্পষ্ট নয়, দু:খী মেহনতী মানুষের দু:খ দুদর্শা লাঘবে তাদের কোন প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়না, নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে হাত পা ধরে ভোট ভিক্ষা করতে আসে, পরে আর কোন খোঁজ থাকে না।
চারিদিকে হাহাকার, দুর্বীসহ এক কঠিন জীবনযাত্রা, মাথা গুজার ঠাই নেই অনেকের- তিন বেলা খাবার জুটেনা অধিকাংশ লোকের, দিক বিদিক ছুটাছুটি করছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে সরকারী, বেসরকারী উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কাগজে কলমে থাকলেও তার সত্যতা ও বাস্তবতা নেই।  সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম শুধু শুনা যায়, বাস্তবে তার প্রমাণ খুবই বিরল।সাম্প্রতিক প্রকাশিত বেসরকারী তথ্যানুযায়ী কুতুবদিয়া অধিকাংশ লোক মধ্যবিত্ত থেকে দারিদ্রের নিম্ন সীমায় বসবাস করছে। ব্যক্তিগত পেশায় ভাটা নেমে এসেছে অনেকের। জেলে পরিবার অভাব অনটনের মধ্যদিয়ে জীবন যাপন করছে। লবন ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বেকায়দায় পড়ে আছে, তাদের দাবী রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেখা গেছে সরকারী, বেসরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা না থাকায় তাদের মাঝে বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। দেখা গেছে প্রতি বছর শত শত একর জমি চাষাবাদ অনোপযোগী হয়ে পড়ছে, জেলেরা মাছ আহরণ ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে উক্ত পেশা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।
এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে টিকিয়ে রাখতে হলে, তাদের জন্য- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা সময়ের দাবী। সরকারী বেসরকারী এনজিও গুলোর তৎপরতা একান্তভাবে কাম্য। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মৎস্য এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে নেয়া দরকার বিশেষ উন্নয়ন মূলক পরিকল্পনা এবং তার সুষ্ঠ বাস্তবায়ন। প্রতিটি উন্নয়ন মূলক কাজের সুষ্ঠ তদারকি এবং জবাবদিতিহা নিশ্চিত করা দরকার অন্যথায় খুব অচিরেই বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে ছোট্ট দ্বীপটি হারিয়ে যাবে।
এখনিই সময় দ্বীপ বাসীর ন্যায্য দাবী সমূহ পূরণ করার তাদের দাবী সমূহের মধ্যে রয়েছে
কুতুবদিয়ার জলবায়ু স্থানচ্যুত সমস্যা অভ্যন্তরীণভাবে সমাধানে, বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে।
জলদস্যুদের তান্ডব মোকাবেলায় কোষ্ট গার্ডের তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।
খাস জমি নিয়ে বিরোধ, দাঙ্গা হাঙ্গামা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।
বাস্তুহারা লোকদের পূনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
kutubi.jkkniu@gmail.com

Saturday, July 19, 2014

কুতুবদিয়ায় ঘরহারা মানুষের চরম দুর্গতি জোয়ারের পানিতে ক্ষতি ৫ কোটি টাকা by এম.এ মান্নান

কুতুবদিয়ায় গত এক সপ্তাহে ভরা পূর্ণিমার জোয়ারের পানি উঠে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে,কাইছার পাড়া, পূর্ব চর ধুরুং বেড়িবাধঁ ভেঙে এবং উপজেলার  আলী আকবর ডেইল,তাবোরের চর, কুমিড়া ঘোনা, বড়ঘোপ দক্ষিণ অমজাখালী,কেয়ারবিল মলম চর, পশ্চিম ঘিলা ছড়ি প্রভৃতি স্থানের ভাঙা বেড়িবাধঁ দিয়ে অবাধে পূর্ণিমার ফুঁসে ওঠা পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। এতে ঘরহারা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

গত ৭ দিনে সব চেয়ে ক্ষতি হয়েছে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বে জোয়ারের মাত্র দু‘দিন আগে পূর্ব চর ধুরুং ৩০০ মিটার ভাঙা বেরিবাধঁ জরুরী মেরামত শেষ করেন হারুন ও গিয়াস নামের দু‘জন ঠিকাদার। জমানো  বস্তার পরিবর্তে সেখানে কাচা মাটি দিয়ে সংস্কার করায় জোয়ারের পানির ধাক্কায় দ্রুত ভেঙে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দা মিজবাহ উদ্দিন অভিযোগ করেন। সেখানে শক্ত ভাবে কাজ না হওয়ায় পুরো ইউনিয়নে ৭ দিন চলে লোনা পানির তান্ডব।
তলিয়ে যায় প্রায় ৫‘শ কাচা ঘর-বাড়ি সহ ৫‘শ হেক্টর  সদ্য রোপিত আউশ জমিতে।  মাটির দেয়াল সহ অন্তত: ৩০০ বাড়ি দেবে গেছে দু‘দিনের মধেই। হাঁস-মুরগী,গরু.ছাগল,পুকুর মাছ কিছুই বাদ যায়নি ক্ষতির কবল থেকে।  অনেকে বাড়ির  আসবাব-পত্র বের করার সুযোগও পাননি। আশ্রয় নিয়েছে আজম সড়কে। ওই ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে  আউশ চাষ করা হয়েছিল। লোনা পানিতে ধান মরে যাওয়ার আশংকায় দিন কাটছে চাষিদের। নয়াকাটা,জইজ্যার পাড়া,মনছুর হাজীর পাড়া, চাইন্দার পাড়া,কাইছার পাড়া প্রভৃতি গ্রামে চলছে শোকের ছায়া।এখন পর্যন্ত সরকারি কোন সাহায্য মেলেনি দূর্ভোগী-গৃহহারাদের। প্রশিক্ষন গ্রহণের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান,নির্বাহি অফিসার সবাই দ্বীপের বাইরে রয়েছেন।এমনকি দূর্যোগপূর্ণএলাকা উত্তর ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দৌলাহ  তিনিও মামলার দরুণ লাপাত্তা। পাশে নেই কেউ। দক্ষিন ধুরুংইউপি চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে ১২১ পরিবারে চাল,চিড়া,নগদ অর্থ প্রদান করলেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানান ইউপি সদস্য ওমর ফারুক।উপজেলায় জোয়ারে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে  ভূক্তভোগীরা জানান।
এ দিকে আলী আকবর ডেইল, তাবারের চর, খুদিয়ার টেক, জেলে পাড়া, অমজাখালী, নাছিয়ার পাড়া,কিরণ পাড়া, কৈয়ারবিল, লেমশীখালীর উপকুল এলাকায় অন্তত: দেড় হাজার হেক্টর রোপিত আউশ দু‘দফায় বিনষ্ট হয়ে পড়েছে। নাছিয়ার পাড়ার চাষি মৌং জয়নাল আবেদীন বলেন, তার ৩ একর রোপিত আউশ বিনষ্ট হয়ে গেছে। আবার রোপন করার চারা নেই তার।উপজেলা উদ্বিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন,উত্তর ধুরুংইউনিয়নে আউশ চাষের ৭০০ হেক্টর জমি রয়েছে। বেশ কয়েকজন  চাষীদের মতে দেড়‘শ হেক্টর জমির চারা বিনষ্ট  হতে পারে বলে জানান। তবে বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ক্ষতি- গ্রস্ত পরিবারের সাহায্যে সরকারি ত্রাণ পৌছেনি। খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে শত শত গৃহহারা মানুষ। গতকাল বৃহ:বার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য  মুহাম্মদ শফিউল আলম কুতুবী বৃহস্পতিবার দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ-খবর নেন। বেড়িবাঁধের জরুরী নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পোঁছানোর জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবী জানিয়েছেন তিনি।  মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটির জরুরী বাঁধ সংস্কারের টেন্ডার হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্তা ব্যক্তি ও সংষ্ট­ দুর্নিতিবাজ টিকাদারের অবহেলায় এই মানবিক বিপর্যয়সহ খাদ্য নরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন কুতুবদিয়া বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম.শাহরিয়ার চৌধূরীসহ আরো অনেকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উত্তর ধূরুংয়ের চরধূরুং এলাকা দিয়ে  আসা পানি পশ্চিম চরধূরুং, জমির বাপের পাড়া, কাইছার পাড়া, পিল্লার পাড়া, কালারমার পাড়া, ফুড়ার পাড়া ও হায়দার পাড়া তলিয়ে গিয়েছে। পরে আজম রোড ভেঙ্গে দক্ষিণে মনছুর আলী হাজী পাড়া, নয়া পাড়া, আইক্কার পাড়া, চাইন্দার পাড়া, জহির আলী সিকদার পাড়া, নাপিত পাড়া, চাটি পাড়া, ফরিজ্যার পাড়া, আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া, ছাদের ঘোনা, বাঁকখালী, মনু সিকদার পাড়া, আকবরবলী পাড়া, নজুমিয়া বাপের পাড়া, ফয়জানি বাপের পাড়া ধ্বসে গিয়ে ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। দক্ষিণ ধূরুংয়ের মদন্যা পাড়া, অলি পাড়া, বাতিঘর পাড়া, লেমশীখালীর পেয়ারাকাটা, কৈয়ারবিলের মলমচর, বিন্দাপাড়া, বড়ঘোপের দক্ষিণ মুরালিয়া, আলী আকবর ডেইলের তাবালেরচর এলাকায় ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে অনবরত সমুদ্রের পানিতে জোয়ারভাটা চলছে। এতে করে এলাকার পুকুর-জলাশয় লবণ পানিতে টইটম্বুর। নলকূপ বিকল হয়ে সুপেয় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গেল ‘জো-র’ পানি নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট কাজের টিকাদারের নিয়োগকৃত সাব টিকাদার নামমাত্র মাটির কাজ করে বরাদ্ধের সমুদয় টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন। হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে বেড়িবাধের বাইরে থাকা প্রায় ৯শ’পরিবারের জরুরী পুনর্বাসন দাবী করেন কৈয়ারবিলর ইউপি চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবর। দ্বীপটির ৪০কি.মি. বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ১৫ কি.মি. অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনিসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা  কুমিল্লার বার্ডে প্রশিক্ষণে থাকার কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুমিনুর রশিদ।

Thursday, April 24, 2014

বড়ঘোপ দক্ষিণ মগডেইলে দূর্বৃত্ত’র হাতে মা-ছেলে খুন!

কুতুবদিয়ায় দূর্বৃত্তের হাতে এক শিশুসহ তিন সন্তানের জননী খুন হয়েছেন।বুধবার ২৩ এপ্রিল সকালে কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ মগডেইল গ্রামের একটি ছোট পুকুর থেকে কবির হোসেনের স্ত্রী ও নুরুজ্জামানের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫) তার পুত্র মোঃ বাপ্পি (২) কে মৃত অবস্থায় এলাকাবাসি উদ্ধার করে। ঘটনাটি স্থানীয় ইউপির সদস্য আবুল কালাম কুতুবদিয়া থানাকে খবর দিলে পুলিশ লাশ দুইটি উদ্ধার পূর্বক সুরতহাল রির্পোট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

এলাকাবাসি ও পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, গতকাল বুধবার সকালে ঐ এলাকার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী নুর খাতুন ধান ক্ষেতের মধ্যে মৃত জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ির পাশে মরিচ ক্ষেতে গেলে ছোট একটি পুকুরে জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার পুত্র বাপ্পিকে মৃত অবস্থায় পানিতে ভাসতে দেখে। এ খবর এলাকাবাসীকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মা ও পুত্রকে উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপির সদস্য আবুল কালাম জানান, দূর্বৃত্তরা জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার সন্তান বাপ্পিকে হত্যা করতে পারে এমন ধারণা করছে। এদিকে জান্নাতুল ফেরদৌসের গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে এবং শরীরে আচড়ের দাগ রয়েছে। জান্নাতুল ফেরদৌস আর স্বামীর সাথে বিবাহের পর থেকে পারিবারিক কলহে দাম্পত্য জীবনে চরম অসান্তি লেগে থাকতো। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে গত তিন বছর পূর্বে স্বামী কবির হোসেনের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া আদালতে নারী নির্যাতন মামলা রুজ করলে আদালত তার স্বামী কবির হোসেনকে দুই বছরের সাজা দেয়। এ মামলায় কবির হোসেন গত ১৪ জানুয়ারী থানা পুলিশ কর্তৃক আটক হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে আছে। অবশ্য জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রথম সন্তান মাহামুদুল ইসলাম (১০) আকিব (৭) দাদার বাড়ি আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের হায়দর বাপের পাড়ার মোঃ পেঠানের বাড়িতে থাকেন। জান্নাতুল ফেরদৌস তৃতীয় সন্তান বাপ্পিকে নিয়ে দক্ষিণ মগডেইল এলাকার ঐ ঘরে বসবাস করত।
এ ব্যাপারে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাবা নুরুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে গতকাল বুধবার কুতুবদিয়া থানায় হত্যা মামলা রুজু করেন। কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার পূর্বক হত্যা মামলা রুজু করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tuesday, February 18, 2014

ছোট্ট দ্বীপ কুতুবদিয়া by মুস্তাফিজ মামুন

সূর্য তখনো ওঠেনি। আমাদের বাস পৌঁছে গেছে চকরিয়ার হারবাংয়ে। ২০ মিনিটের যাত্রাবিরতি। আমি আরো এক কিলোমিটার পরে বড়ইতলী মোড়ে নামব। চারদিকে ঘন কুয়াশা। পূর্বাকাশ আলো মেলতে শুরু করেছে ধীরে।

বড়ইতলা নেমে দেখি এক বেবিট্যাক্সিচালক পেছনের সিটে কাঁথা জড়িয়ে ঘুমাচ্ছেন। একটু বিরক্ত হলেও যেতে রাজি হলেন। তবে ঘুম ভাঙানোর জরিমানা হিসেবে ২০০ টাকার ভাড়া গুনতে হলো ২৫০ টাকা।

মগনামা ঘাটের জেটির ওপরেই নামাল। সামনের চ্যানেলটা পার হলেই কুতুবদিয়া দ্বীপ। উঠে পড়লাম ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। শিশিরে ভেজা নৌকার পাটাতনে পেপার বিছিয়ে বসে পড়লাম। বেশিক্ষণ বসে থাকতে হলো না। আরো কয়েকজন লোক এলে মাঝি বদর বদর করে নৌকা ছেড়ে দিলেন।
কুতুবদিয়া চ্যানেলটি বেশ প্রশস্ত। এই শীতেও সামান্য ঢেউ আছে। সময় লাগল ২০ মিনিট। ২১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট দ্বীপ কুতুবদিয়া। গুগল আর্থে দেখতে লাউ আকৃতির। ঝাউবনে ঘেরা সমুদ্রসৈকত আছে। বাড়তি পাওনা জেলে-জীবন, বাতিঘর, কুতুব আউলিয়ার মাজার, দেশের সবচেয়ে বড় বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি। বন্ধু আলীম অপেক্ষায় ছিল। দ্বীপেই ওর বাড়ি। মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে। বাড়িতে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করল; কিন্তু আমি হোটেলেই থাকতে চাইলাম। 'সমুদ্রবিলাস' সাগরের দিকে মুখ করা। বারান্দায় বসে সমুদ্রের ঢেউ দেখা যায়। হোটেলে ব্যাগ রেখেই ক্যামেরা নিয়ে চলে গেলাম সৈকতে।
সৈকতটি নির্জন আর পরিচ্ছন্ন। মাঝেমধ্যে শুধু জেলেদের শুঁটকি তৈরির ব্যস্ততা। উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত এখানে। সৈকতের কোথাও কোথাও সবুজ দেয়াল তৈরি করেছে ঘন ঝাউবন। কোথাও দলে দলে সি-গাল। সমুদ্রসৈকতটি দ্বীপের পশ্চিম পাশ বরাবর। মধ্যখানে এর প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র বরঘোপ বাজার। দক্ষিণ দিকের জায়গাটির নাম দক্ষিণ ধুরং। এখানেই বাতিঘর। সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের নাবিকদের পথ দেখাতে বহুকাল আগে এখানে তৈরি করা হয়েছিল এই বাতিঘর। পুরনোটি ভাঙনে বিলীন হয়েছে। তবে এখনো ভাটার সময় ধ্বংসাবশেষ উঁকি মারে। নতুন একটি তৈরি হয়েছে অবশ্য। বাতিঘর দেখে বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্রের পথ ধরলাম, দ্বীপের একেবারে উত্তরে, আলী আকবরের ডেল এলাকায়। প্রায় এক হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে এটি। কেন্দ্রের পাশেই বড় জায়গাজুড়ে কৃষকরা লবণ তৈরিতে ব্যস্ত। এর মধ্যে দুপুর গড়াতে চলেছে। থাকার নিমন্ত্রণ না রাখলেও আলীমের খাবার নিমন্ত্রণ ছাড়তে পারিনি। টাটকা সামুদ্রিক মাছের অনেক পদ ছিল সেদিন। ঢাকা পর্যন্ত সে স্বাদ নিয়ে আসতে পেরেছিলাম।
কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন
কুতুবদিয়া যেতে হলে চড়তে হবে কক্সবাজারগামী বাসে। ঢাকা থেকে এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী বা ইউনিক পরিবহনের বাসে ভাড়া ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। বড়ইতলী থেকে বেবিট্যাক্সি মেগনামা ঘাট যেতে জনপ্রতি ভাড়া ৩৫ টাকা। কুতুবদিয়া চ্যানেল পার হতে হবে ইঞ্জিন নৌকায়, ভাড়া ২০ টাকা। কুতুবদিয়া ট্রলার ঘাট থেকে বড়ঘোপ বাজারে রিকশা ভাড়া ২৫ টাকা।
থাকার জন্য আছে হোটেল সমুদ্রবিলাস। দুজনের একটি নন-এসি কক্ষের ভাড়া ৮০০ টাকা, তিনজনেরটি ১০০০ টাকা। যোগাযোগ : ০১৮১৯৬৪৭৩৫৫, ০১৭২২০৮৬৮৪৭

Tuesday, January 14, 2014

ইতিহাস কথা বলে, ছবি কথা বলে....

পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে ক্ষমতা গ্রহনের পরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের আধ্যাত্বিক সাধক গাউসে মোখতার হযরতুল আল্লামা শাহ আব্দুল মালেক আল-কুতুবী (রহ:) এর দরবারে গিয়েছিলেন। এটি তৎকালীন ছবি আগামী ১৯ ফেব্র“য়ারী কুতুবদিয়ার কুতুব শরিফ দরবারে তাঁহার ১৫তম বার্ষিক ফাতেহা শরিফ অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা সকলে আমন্ত্রীত।

এইচ এম এহসান
সচিব
কুতুব শরিফ দরবার মিডিয়া সেল

Wednesday, October 30, 2013

কুতুবদিয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ২৩

কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া ধুরুংবাজারে এলাকায় পুলিশ ও ১৮ দলের নেতা কমীদের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে পুলিশ সহ আরো অন্তত ২৩ জন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ধুরুংবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। দু’পুলিশ নিখোঁজ হলেও পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কুতুবদিয়া ও চকরিয়া হত্যা কান্ডের প্রতিবাদে জেলায় আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, ৬০ ঘন্টার হরতাল শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত ধুরুংবাজারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। মাগরিবের নামাজের পরপরই কুতুবদিয়া থানার একদল পুলিশ এসে সভা করতে বাধা দিয়ে ওই মঞ্চ দখলে নেন। এতে পুলিশ ও জামায়াত শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়। জামায়াত শিবিরের কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালালে পুলিশ ব্যাপক গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আবু আহম্মদ (৫৫) ও লেমশিখালী ইউনিয়নের আজিজুর রহমান (২০) মারা যান । সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান গুলিবিদ্ধ মোঃ পারভেজ (২৪) । এ ছাড়া রাত ৯টার দিকে তাজুল ইসলাম (২৯) নামের আরো একজন মারা যায়। এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাড়ালো ৪ জনে। নিহত ৪ জনের মধ্যে একজন জামায়াত ও ২ জন শিবির কর্মী বলে দাবী করেছেন উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারী শাহরিয়ার চৌধুরী।
ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত ও আরো ৬ জন গুলিবিদ্ধ সহ ২৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশীর ভাগকে চট্টগ্রাম ুমেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় থেমে থেমে গুলি বর্ষণ হচ্ছে। বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা।

এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে দু’পুলিশ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো.আজাদ মিয়ার মোবাইলে বার বার ফোন করার পরেও তিনি রিসিভ করেননি।
কুতুবদিয়া ধুরুংবাজারে এলাকায় পুলিশ ও ১৮ দলের নেতা কমীদের মাঝে সংঘর্ষ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ২ পুলিশ কনষ্টেবলকে রাত ৮ টায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় কুতুবদিয়া থানার ২ পুলিশ নিখোঁজ হয়েছিল। কুতুবদিয়ায় পুলিশের গুলিতে ৪ জন এবং গত রবিবার চকরিয়ায় ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৮ দল কক্সবাজার জেলায় বৃহস্পতিবার সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।
জেলা বিনেপির দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরী জানান, বৃহস্পতিবার ডাকা হরতাল কুতুবদিয়া, চকরিয়া সহ পুরো জেলা আওতায় থাকবে।
কুতুবদিয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, নিখোঁজ ২ পুলিশ সদস্যকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
এদিকে, কুতুবদিয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জামায়াত শিবিরে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার রাত ৯ টায় কক্সবাজার শহরেও ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে জামায়াত শিবির। জামায়াত শিবির কর্মীরা কক্সবাজার শহরের লালদীঘির পাড়, কৃষি অফিস রোড, ফায়ার সার্ভিস এলাকা ও বাজার ঘাটায় বেশ কিছু যান বাহন ভাংচুর করা হয়েছে। এসময় চলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। । শহরের সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

সংসদ সদস্য এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপির বিবৃতি>>
কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরং বাজারে হরতাল পরবর্তী সমাবেশ পুলিশের হামলা ও গুলীবর্ষণে ৪ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ ৫ জনকে হত্যা, ২০ জন গুলীবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার-২ ( মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি।

এক বিবৃতিতে হামিদ আযাদ এমপি বলেন, সরকার গণআন্দোলনে ভীত হয়ে হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছে। টানা ৬০ ঘন্টার হরতালে পুলিশের গুলীতে সারা দেশে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। শত শত মানুষকে আহত করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। সে ধারাবাহিকতায় আজ কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরং বাজারে জামায়াত-শিবিরের হরতাল পরবর্তী সমাবেশে পুলিশ বিনা উস্কানীতে গুলীবর্ষণ করে আবু আহমদ, আজিজুর রহমান, তাজুল ইসলাম ও পারভেজসহ ৫ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পুলিশের উপর্যুপরি হামলা ও গুলীবর্ষণে ২০ জন গুলীবিদ্ধ হয়ে গুরতর আহতসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছ। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে, গুলীবর্ষণ ও হত্যা করে গণআন্দোলন দমন করা যাবে না বরং শহীদের রক্তের পথ ধরেই গণআন্দোন বিজয় লাভ করবে।

তিনি ধুরং বাজার হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় জোর দাবী জানান। অন্যথায় গণআন্দোলনকে বিজয়ী করে শহীদের রক্তের বদলা নেয়া হবে।

কুতুবদিয়ায় হত্যার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভ বৃহষ্পতিবার কক্সবাজারে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

জামায়াত প্রেরিত প্রেস রিলিজ :

কুতুবদিয়ায় ১৮দলীয় জোটের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৩ জামায়াত-শিবির কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং অসংখ্য নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান, নায়েবে আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি জিএম রহীমুল্লাহ। ২৫ অক্টোবর চকরিয়ায় বিজিবির গুলিতে ৩ বিএনপি কর্মী এবং আজ (২৯ অক্টোবর) কুতুবদিয়ায় ৩ জামায়াত -শিবির কর্মী হত্যার প্রতিবাদে ১৮দলীয় জোটের আহবানে আগামীকাল বুধবার বিক্ষোভ এবং ৩১ অক্টোবর বৃহষ্পতিবার কক্্সবাজারে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে। জেলাবাসীকে ১৮দল ঘোষিত কর্মসূচী স্বত:স্ফূর্তভাবে পালন করার জন্য ১৮দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

১৮ দলীয় জোটের বিবৃতি : চকরিয়ায়-কুতুবদিয়া হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে  বৃহস্পতিবার জেলাব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্বক হরতাল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এড. শামীম আরা স্বপ্না, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কক্সবাজার জেলা শাখার আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান, সেক্রেটারী জেনারেল জি.এম রহিম উল্লাহ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী সভাপতি হাফেজ ছালামত উল¬াহ, সাধারণ সম্পাদক মৌলানা ইয়ছিন হাবিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সভাপতি মৌলানা নূরুল আলম আল-মামুন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরওয়ার কামাল মঞ্জু, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এল.ডি.পির সভাপতি ছালামত উল্লাহ খাঁন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি আর. এ. এম. ইসমাঈল ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তৌহিদুল¬াহ চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এন.পি.পি সভাপতি মোহাম্মদ ইফতেকার উদ্দিন শিবলী, সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম এক যৌথ বিবৃতিতে আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক চকরিয়ায় ২ (দুই) জন এবং কুতুবদিয়ায় ৪ (চার) জন হত্যাকান্ড সহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের আহত করার প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোটের ডাকে কক্সবাজার জেলাব্যাপী বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল আহবান করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফুর্তভাবে হরতাল পালনে জেলাবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানা