Wednesday, August 19, 2015
বিনা ভোটে ৩০০ আসনেও নির্বাচন? by মিজানুর রহমান খান
এটা ভেবে আশ্বস্ত ও সন্তুষ্ট হতে পারলে খুশি হওয়া যেত যে আমাদের জাতীয় সংসদ এই তিনটি ফর্মুলার আলোকে খুব দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেবে। সেটা যে আপাতত অবাস্তব, আইনমন্ত্রী হাইকোর্টের এখতিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তা স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু এর মধ্যেও যে বিষয়টি স্বস্তিদায়ক, সেটা হলো, সরকারের নির্বাচনবিমুখ অবস্থান শুধু তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিই নাকচ করছে না। আদালতও করছেন। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মুখ ভার করে রেখেছে। জাতিসংঘের অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোও হাল ছাড়েননি। তারানকো বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ ব্যক্ত করে চলেছেন। অন্তত এটুকু জানি যে গত জুন বা জুলাইয়ের কোনো এক সময় তিনি টেলিফোন করেছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। সৈয়দ আশরাফ তাঁকে নাকি যুক্তি দেন যে খামোখা এসে কী করবেন। খেলোয়াড়দের মধ্যে আপস না হলে কী করে খেলা হবে?
যদি ধরে নিই যে ২০১৯ সালেই নির্বাচনী খেলাটা হবে। তাহলে সেটা কি ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের চেয়ে কম ত্রুটিমুক্ত হবে? আমজনতা হিসেবে আমরা তেমনটা যে অনুমান করে নেব, তার ভিত্তি কী? সরকারি দল ও নির্বাচন কমিশন কি একতরফাভাবে এমন কিছু করছে, যাতে আমরা বুঝতে পারি যে আসন্ন নির্বাচন আগের চেয়ে কম ত্রুটিপূর্ণ হবে।
এর আগে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণকে আমরা নির্দয়ভাবে অগ্রাহ্য করতে দেখেছি। এবার তাঁরা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেবেন, তা কি মনে করার কোনো কারণ আছে? বরং এই রায় আরেকটি ভয় ধরিয়েছে। বিনা ভোটে নির্বাচন বৈধ ও সংবিধানসম্মত বলে আগামী নির্বাচনেও কি বিপুলসংখ্যক আসনে মানুষ ভোট দেখবে না? কত আসনে বিনা ভোটে প্রার্থীরা পাস করবেন—১০০, ২০০ নাকি ৩০০ আসনেই?
আমরা ছয় বছর ধরে এটাই দেখে আসছি যে সরকারি দল অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালতের সেসব সিদ্ধান্ত বরণ করে নিয়েছে, যা তাদের পছন্দ হয়েছে। তারা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ফর্মুলা নিয়ে সংসদে আলোচনা করবে না। কিন্তু ১৫৩ জনের সপক্ষে যে ‘বৈধতার’ সিল পড়েছে, তাকে তারা স্বাগত জানাবে।
হাইকোর্টের সামনে প্রশ্ন নেওয়া হয়েছিল যে ১৫৩ জন, যাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁদের সংসদ সদস্য পদ বৈধ কি না? হাইকোর্ট বলেছেন, বৈধ। এর মানে ‘আইনগতভাবে’ বৈধ। কিন্তু তা রাজনৈতিকভাবে কতটুকু বৈধ? জনগণ এই নির্বাচনকে ভালোভাবে নেয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পারেননি। ‘আইনগত’ যুক্তি দিয়ে, আদালতের রায় দেখিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। তাঁরা তাঁদের ভোটের অধিকার না পাওয়ার জন্য বিলাপ করবেন।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের ন্যূনতম শর্ত পূরণ হয়েছে বিনা ভোটে। এটা একটা টেকনিক্যালি বৈধ সরকার। এটা দেখার বিষয় যে ১৪৭ আসনে ভোট হয়েছে এবং এই প্রার্থীরা বিনা ভোটে পাস করেননি। ১৫৩ আসনের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন বিনা ভোটে। একটি সরকার গঠনের ন্যূনতম আসন হলো ১৫১। এ জন্য তাদের মানুষের ভোটের দরকার হয়নি। ১৫৩ আসনে ভোট না লাগলে ৩০০ আসনে কেন লাগবে? যদি ৩০০ আসনেই একজন করে প্রার্থী থাকে এবং তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, সমঝোতা না হলে এবং কোনো কারণে বিএনপি আরও বেশি হতাশ ও দুর্বল কিংবা অবরোধের মতো আরও ভয়ংকর কোনো সহিংস কর্মসূচি দিতে উদ্যত হওয়া—এর মধ্যে যাই হোক না কেন—তাতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ থাকবে না। সরকারি দল ও ‘সরকারি বিরোধী দলের’ প্রার্থী কারা ও কেন হবেন, তা প্রতিটি আসনের শান্তিপ্রিয় মানুষের অজানা থাকবে না। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর সুনজরের বাইরে কেউ সহজে যাবেন না।
তবে এখন ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ১৫৩ জন সাংসদ যদি মনে করেন যে হাইকোর্টের রায় তাঁদের পক্ষে গেছে বলেই তাঁরা বৈধতার সিল পেয়েছেন, তাহলে তা ঠিক হবে না। তাঁরা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ থেকেই যাবেন। তাঁরা মহান সংসদের আঙিনায় বাকি ১৪৭ জনের তুলনায় অনেক বেশি জোরালো অনুপ্রবেশকারী। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারায় বলা আছে, কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী না থাকলে সেখানে ভোট লাগবে না। একমাত্র প্রার্থী বিনা ভোটে পাস করবেন। হাইকোর্ট বলেছেন, এই বিধানটি ছিল বলেই ভয়ংকর সাংবিধানিক বিপর্যয় এড়ানো গেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে এই বিধান আছে। কিন্তু হয়তো তাদের কারও ইতিহাসে এই বিধানের গণ-অপব্যবহার নেই। একটি-দুটি আসনে এমনটা হতেই পারে। সব সংবিধানে সাংসদের পদত্যাগের বিধান থাকে। কিন্তু তা কী ১৪৭ জনের গণপদত্যাগের জন্য? এই উদাহরণ আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছে ১৯৯৪ সালে। স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী গণপদত্যাগকে অসাংবিধানিক বলে সঠিক রায় দিয়েছিলেন। ওই একই চেতনায় ১৫৩ জনের নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ। আইনপ্রণেতারা ১৯ ধারাটার এমন পাইকারি অপব্যবহার কল্পনা করেননি। এর এমন ব্যবহার ঘটেছে, যা সংবিধানকেই অকার্যকর করে দেয়।
অন্তত এই বিষয়গুলোতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেও এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল হতে পারে। ১৫৩ আসনে বিনা ভোটে পাস করানোর ঘটনা সংবিধানের ‘প্রত্যক্ষ নির্বাচনের’ মাধ্যমে জাতীয় সংসদ গঠনের বিধানকেই শুধু নষ্ট করেনি। ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন’কে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের অন্তর্গত চেতনাকেও নষ্ট করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‘প্রত্যক্ষ ভোটে’ নির্বাচিতদের আস্থাভাজন হিসেবে নন, বরং দালিলিকভাবে বিনা ভোটে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। হাইকোর্ট রায়ে ১৫৩ জনকে বৈধ বললেও তাঁরা এটাও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কল্পনা করা চলে না। আর নির্বাচন ‘গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায়’ হতে হবে।
অনেকেই ধরে নিতে পারেন আদালত প্রকারান্তরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকেই ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন। প্রশ্ন হলো, আদালতের পর্যবেক্ষণ (অবিটার ডিকটা) কি খুবই তুচ্ছ? এটা সংসদ বিবেচনা করতে পারে কি না? যাঁরা আদালতের নতুন দুই ফর্মুলার অস্বাভাবিকতা নিয়ে বিচলিত, তাঁদের বলব, আপনারা প্রধানত চেতনাটা ধারণ করুন, ধরনটা নয়। আদালত একটি মাইলফলক রায় দিয়েছেন, কারণ যে নির্বাচন ব্যবস্থা গোটা সংবিধানকেই তছনছ করে দেয়, সেখানে তাঁরা নীরব দর্শক হতে পারেন না। আদালত তঁার সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত যে দেননি, তা–ও নয়।
রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ (সংসদ, সরকার ও আদালত) ক্ষমতার পৃথক্করণ নীতির ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে। জনকণ্ঠ-এর মামলায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, ‘আমাদের সংবিধান এক চমৎকার নিয়ন্ত্রিত সংবিধান।’ আবার বিচারপতি মোস্তাফা কামালও যথার্থই বলেছেন যে ‘যে যার গণ্ডির মধ্যে থাকবেন ঠিকই। কিন্তু কখনো এমন পরিস্থিতি আসবে যখন “ওভারল্যাপিং” ঘটবে।’ এর মানে একটি অঙ্গ অন্য কোনো অঙ্গের উঠোনে প্রবেশ করবে।
বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বর্তমান দশম সংসদ ও ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার ফর্মুলা দেন। তাঁর রায় প্রদানের মাত্র চার বছরের ব্যবধানে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহান্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ কি পুনরায় সংসদের উঠোনে প্রবেশ করলেন?
যদি তাঁরা তা করেও থাকেন, তাহলেও তাঁরা ঠিক করেছেন বলেই মনে করি। তাঁরা এমন কিছুই করেননি, যা আমাদের উপমহাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে অনুসরণ করা হয় না। এই দুটি রায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে আমাদের রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নামের স্তম্ভটি গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রশ্নে মৌলিকভাবে সংসদ ও নির্বাচন কমিশন থেকে পৃথক অবস্থান নিয়েছেন। এ রকম ফর্মুলা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দেওয়ার কথা। কিন্তু আগেই বলেছি, তারা বাস্তবে নির্বাচনবিরোধী একটি ব্যুরোতে নিজেদের নামিয়ে এনেছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণের কোনো কার্যকরতা নেই।’ সতর্ক আদালতও তা-ই বলেছেন, এটা পর্যবেক্ষণ। এর কোনো বাধ্যবাধকতার ব্যাপার নেই। তবে এটা পুনর্বার লিখে রাখতে চাই, সর্বোচ্চ আদালতের অবিটার ডিকটা মানার বাধ্যবাধকতা আছে, যদিও এই মতের পক্ষে আমি দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক আইনজীবীদের প্রকাশ্য সমর্থন পাইনি। ব্রিটিশ ভারতে দেওয়া এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ের বরাতে লিখেছিলাম, বিচারপতি খায়রুল হকের দেওয়া ওই অবিটার বাধ্যতামূলক। কারণ, তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে দিয়েছেন। সেই অবিটার অগ্রাহ্য করার কারণেও বর্তমান সংসদের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। হাইকোর্টের অবিটার ঐচ্ছিক, তবে তাঁদের অবিটার আপিল বিভাগের অবিটারকে সমুন্নত করেছে। ধারণা করা যায়, আপিল বিভাগে গেলে দুই ফর্মুলা তাঁরা মুছবেন না, পরিমার্জন করতে পারেন। তবে কালক্ষেপণ না করে তিন ফর্মুলা একত্রে সরকার ও সংসদের বিবেচনায় নেওয়া উত্তম। এই যুক্তির সমর্থনে সাম্প্রতিক তথ্য দিই।
২০১৩ সালের ১৮ জুলাই ভারতের প্রধান বিচারপতি আলতামাশ কবীরের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ মত দেন, ‘বিচারপতি বি পি সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ এর আগে (২০ মার্চ, ১৯৫৯) বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের অবিটার ডিকটা বা পর্যবেক্ষণের উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা আজও তা সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করি। সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদের (আমাদের ১১১) আওতায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া অবিটার ডিকটা মানার আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে।’
আমাদের আপিল বিভাগ যে আশঙ্কায় ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে দুই মেয়াদে নির্বাচন না করতে পর্যবেক্ষণ বা ‘অবিটার’ দিয়েছিলেন, তা ইতিমধ্যে সত্যে পরিণত হয়েছে।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরণ অনশনে ২৫০ ফিলিস্তিনি
কারাগারটিতে অন্তত ১,৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন তবে এর মধ্যে ২৫০ জনকে প্রশাসনিক আদেশে আটক রাখা হয়েছে।
ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিনা বিচারে অথবা ছয় মাসের চার্জে আটক রাখে তবে পরে সে চার্জের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়তেই থাকে। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, দখলদার ইহুদিবাদী সরকার প্রশাসনিক আদেশে তাদেরকে আটকে রেখেছে এবং তাদের জীবন বরবাদ করে দেয়ার নীতি অনুসরণ করে আসছে।
আটক ফিলিস্তিনিরা বলছেন, “আমরা মুক্তি চাই না কিংবা আমাদের সাজার মেয়াদ কমানোর কথাও বলছি না তবে বিনা বিচারে এবং প্রশাসনিক আদেশে আটক রাখার নীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হতে হবে।”
সূত্র : রেডিও তেহরান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুক্তি পেলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার
আদালত সূত্র জানায়, ফরিদপুরের ১নং আমলী আদালতে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের জামিন আবেদনের উপর শুনানি হয় আজ। এসময় প্রবীর সিকদারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রবীর সিকদারের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু জামিন আবেদন করেন। তার সাথে আরো ছিলেন অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দিন মৃধা ও অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা।
অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু প্রবীর সিকদারকে যুদ্ধাহত শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে আদালতকে বলেন, প্রবীর সিকদারের একটি পা নেই। তিনি একজন পঙ্গু সাংবাদিক। তার গ্রেফতারে দেশের সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ্ন। তাকে জামিন দিলে তিনি পালাবেন না।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী এপিপি অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারীসহ অন্যরা জামিনের বিরোধীতা করেন।
আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মঙ্গলবার দেয়া রিমান্ড আদেশ বাতিল করে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় মামলার তদন্ত চলাকালীন পর্যন্ত প্রবীর সিকদারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। গত মঙ্গলবার একই আদালত প্রবীর সিকদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল।
ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে প্রবীর সিকদার সাংবাদিকদের ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। এসময় তিনি তার খবর পরিবেশন ও মুক্তির জন্য যারা সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রবীর সিকদার বলেন, সরকারের ভেতরেও অনেকে আমার মুক্তির জন্য চেষ্টা করেছেন। তাদের প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
প্রবীর সিকদারের জামিনের খবর পেয়ে তার স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যগণসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ, জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি অলোক সেন, দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির জেলা সেক্রেটারি ভবতোষ বোস, জেলা যুবদলের সেক্রেটারি একেএম কিবরিয়া স্বপন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ তাবরীজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে প্রবীর সিকদার তার পৈত্রিক বাড়ি কানাইপুরে যান। সেখান থেকে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে প্রবীর সিকদারকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এরপর ভোররাত ৫টার দিকে তাকে ফরিদপুরের কোতয়ালি থানায় নেয়া হয়। রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ফেসবুকে এলজিআরডি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন পাল।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত আইনজীবীরা হলেন, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, অ্যাডভোকেট লিটন ও অ্যাডভোকেট বাপন। ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বিএনপি নেতা সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন জানান, শহীদ হামজা ব্রিগেড নামের একটি জঙ্গি সংগঠনকে অস্ত্র কেনার জন্য টাকা দেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দুপুরে র্যাব-৭ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে মুক্তমতের ওপর চাপাতি হামলা -হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি
![]() |
| দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী |
বাংলাদেশে মুক্তমত নজিরবিহীন হামলার শিকার। একদিকে চাপাতিধারী ক্রুদ্ধ মৌলবাদী এবং অন্যদিকে একটি সরকার যে খুব দ্রুতই ক্ষুব্ধ হয়। এই দুইয়ের মধ্যে মুক্তমত জিম্মি।
ধর্মনিরপেক্ষতা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা এ বছর চার ব্লগারকে খুন করেছে। কারণ ধর্মনিরপেক্ষতাকে ইসলামবিরোধী মনে করে তারা। চলতি মাসের শুরুতে ব্লগার নিলয় নীলকে খুন করার পর আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল ইসলাম দায় স্বীকার করে; তাদের দাবি, এ জন্য ‘আল্লাহর অনুমতি’ নিয়েছে তারা এবং আরো হামলার হুমকি দেয়। নিলয় নীল ও নিহত অন্যান্য ব্লগারকে দেওয়া হুমকির ব্যাপারে পুলিশ জানলেও জীবন বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে।
একটি ন্যায়পরায়ণ সরকার সঙ্গে সঙ্গেই এসব হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাত এবং হামলাকারীদের ধরার চেষ্টা করত। যদিও পুলিশের প্রথম আহ্বান ছিল আত্ম-নিষেধাজ্ঞার। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক সতর্ক করে বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা একটি অপরাধ।’ নিলয় হত্যার এক সপ্তাহের বেশি সময় পর পুলিশ সন্দেহভাজন তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে, যদিও হামলাকারীদের পরিচয় পুলিশ আগে থেকে জানত।
পুলিশপ্রধানের মন্তব্য দুঃখজনক, তবে আশ্চর্যজনক নয়; কারণ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ ক্রমবর্ধমানভাবে মুক্তমতের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মন্ত্রী ও অন্য রাজনীতিকদের যুদ্ধপরাধ নিয়ে ফেসবুকে অভিযোগ করায় এই সপ্তাহেই সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) লোকজন গ্রেপ্তার করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রবীর একজন মন্ত্রীর সম্মানহানি করেছেন।
মাত্র সপ্তাহ দুই আগে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করায় দুটি মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনা করে পুলিশ বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, যে কর্মকাণ্ডে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ণ, হয় তা নাশকতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশকে পথ পরিবর্তন করতে হবে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণ এবং সাংবিধানিক স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। কারণ কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ মুক্তমতের ওপর দমন-পীড়ন চালাবে, যারা কথা বলবে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশে যার যা খুশি তাই করছে : এরশাদ
তিনি বলেন, দেশে সুশানের অভাব বিরাজ করছে। প্রতিদিনই রাজন, রাকিব, রকিউল, রাজাদের মতো শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আমরা এ রকম ছিলাম না। আমরা নিষ্ঠুর হয়ে গেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি মন্ত্রী পরিষদ থেকে বের হয়ে যাবে কি না তা প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের অব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় তার সাথে ছিলেন সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী জিএম কাদের, মহানগর সভাপতি মোস্তাফিঢজার রহমান মোস্তফা, জেলা সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, জেলা সেক্রেটারি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, মহানগর সেক্রেটারী এসএম ইয়াসির প্রমুখ।
ছয় দিনের রংপুর সফরে তিনি দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম ছাড়াও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিবেন। সৈয়দপুরে বিমানযোগে এসে সড়কপথে তিনি রংপুরে নিজ বাসভবনে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
র্যাব–পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছাত্রলীগের নিহত ২
![]() |
| আরজু মিয়া, মেহেদী হাসান (আজিবর) |
অ্যাকশন শুরু: ওবায়দুল কাদের
মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ও মাগুরায় ছাত্রলীগের বর্তমান এবং সাবেক দুই নেতা পুলিশ ও র্যা বের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। দুজনেরই স্বজনেরা বলেছেন, তাঁদের ধরে নিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নাটক সাজানো হয়েছে। এরপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, তাঁরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মেনে নেবেন না। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে র্যা বের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া (২৮)। রাজা মিয়া (১৬) নামে এক কিশোরকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি ছিলেন আরজু মিয়া। আরজুর মাথার ডানে-বাঁয়ে তিনটি ও বুকের বাঁ থেকে ডান পর্যন্ত সারি ধরে আরও তিনটি গুলির ছিদ্র পাওয়া গেছে। স্বজনদের দাবি, সন্ধ্যায় তাঁকে ধরে নিয়ে ভোরে হত্যা করেছে র্যা ব।
আর মাগুরায় ছাত্রলীগের গোলাগুলিতে মায়ের জঠরে শিশু গুলিবিদ্ধ ও একজন বৃদ্ধ নিহত হওয়ার মামলার তিন নম্বর আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আজিবর শেখ (৩৪) সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরার পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। আজিবর মাগুরা পৌর ছাত্রলীগের আগের কমিটির নেতা ছিলেন, এরপরে আর কোনো পদ পাননি। নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সোমবার বিকেলে আজিবরকে শালিখা থানা এলাকা থেকে ধরে এনে সদর থানা এলাকায় হত্যা করা হয়েছে।
কিছুদিন ধরে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় একাধিক খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে। বাড্ডায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের তিন নেতা হত্যা, জাতীয় শোক দিবসের দিন কুষ্টিয়ায় এক যুবলীগ নেতা হত্যা, চাঁদপুরের কচুয়ায় চাঁদার দাবিতে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রীদের ওপর যুবলীগের হামলা, হাজারীবাগে ছাত্রলীগ নেতার এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর আগে মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মায়ের পেটে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের এ ধরনের অপরাধ প্রবণতায় ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে দলের শীর্ষ পর্যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে এক অনির্ধারিত আলোচনায়ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপরাধী দলের হলেও ন্যূনতম কোনো সহানুভূতি দেখানো হবে না বলে জানিয়ে দেন। এরপরেই দুটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটল। এর আগে এই সরকারের আমলে অনেকগুলো বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটলেও দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু নিজ দলের দুই নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা প্রকাশ্যে এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে।
হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়েছে। এর সভাপতি ইলিয়াসুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক হামিদ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, আরজু মিয়াকে সামান্য অজুহাতে র্যা বের কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা আরও বলেছেন, মেধাবী ছাত্রলীগ নেতা আরজু মিয়ার নামে কোনো থানায় কোনো মামলা ছিল না। ফলে এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চেয়েছেন।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অকালমৃত্যু কারও কাম্য নয়। শিশুহত্যার ঘটনায় আমরা শোকাহত। কিন্তু আগে-পরে আমরা যেটা দেখেছি, সে গণপিটুনির শিকার। চুরির অপরাধে সাধারণ আমজনতা তাকে গণপিটুনি দিয়েছে। দোষ পড়েছে ছাত্রলীগ নেতার ওপর। তারপরও সে যদি দোষী হয়ে থাকে, তবে তদন্তের মাধ্যমে যথাযোগ্য শাস্তি হওয়া উচিত। আমরাও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতাম। কিন্তু বিচারবহির্ভূত এই হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
তবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা র্যা বের অতি বাড়াবাড়ি। রাজা গণধোলাইতে নিহত হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলব না।’
আর ছাত্রলীগসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অপরাধে জড়িয়ে পড়াসহ সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। খুব দ্রুত এই প্রবণতা কমে যাবে। ইতিমধ্যেই তারা বার্তা পেয়ে গেছে।’ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগকে নেতা নয়, কর্মী উৎপাদনের কারখানা হতে হবে। কেউ খারাপ কাজ করলে দল তাকে ছাড় দেবে না।’
এদিকে, আরজু মিয়ার নিহত হওয়ার খবর শুনে গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিহতের বড় ভাই মাসুদ রানাসহ এক থেকে দেড় শ নেতা-কর্মী মর্গে আসেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে গেলে কয়েকজন খেপে ওঠেন। তাঁরা সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোদের কারণেই আমাদের ভাইকে মরতে হলো।’
নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার সময় সিকদার মেডিকেল কলেজের পেছনে বড়াইখালী এলাকায় র্যা ব-২ সাতমসজিদ ক্যাম্পের একটি দলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান আরজু। তাঁর মাথায়, বুকে-পিঠে সাতটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পরে নিহতের ভাই মাসুদ রানা বলেন, সোমবার সন্ধ্যার দিকে হাজারীবাগ পার্কের সামনে থেকে আরজুকে ধরে নিয়ে যায় র্যা ব। আবার রাত ১১টার পর তাঁর মা জয়তুন্নেসা (৬৫) ও বোন রেহানা আক্তারকে (৩৫) ধরে নিয়ে থানায় বসিয়ে রাখে হাজারীবাগ থানার পুলিশ। পুলিশ আরজুকে হাজির করার জন্য চাপ দেয়। পরে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সাদা কাগজে সই নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বাসায় ফিরেই তাঁরা আরজুর নিহত হওয়ার খবর পান।
নিহতের বোন রেহানা বলেন, তিনি ও তাঁর মা থানার পার্কিংয়ে আরজুর মোটরসাইকেলটি দেখতে পান। থানায় আরজু ছিলেন না। পুলিশ উল্টো তাঁদের কাছে আরজুর খোঁজ জানতে চায়।
তবে র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খানের দাবি, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আরজুকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব। এরপর তাঁকে নিয়ে র্যা ব-২-এর একটি টহল দল অভিযানে যাচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত আরজু মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। র্যা বের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে আরজু মিয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের ভাই মাসুদ রানা বলেন, ‘আমার ভাই চোর না। তার বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলা নেই, জিডিও নেই। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরজু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’ তিনি দাবি করেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিরোধী পক্ষ তখন থেকে তাঁর ক্ষতি করার জন্য লেগে ছিল। এ ছাড়া ২০ দিন আগে হাজারীবাগ থানার পুলিশ নিরীহ কয়েকজন চায়ের দোকানদারকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে আরজু বাধা দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও তাঁর দ্বন্দ্ব হয়। এসব নিয়ে কোনো পক্ষ আরজুকে হত্যা করিয়েছে বলে সন্দেহ মাসুদের।
মাসুদ রানা দাবি করেন, কিশোর রাজাকে মারেননি আরজু। উল্টো রাজার স্বজনেরাই তাঁকে ‘পরিবারের সুনাম নষ্ট করার’ অভিযোগে মারধর করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের চারটা মোবাইল ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। আর আমার ভাই যদি রাজাকে মেরেই থাকে, তাহলে পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যেত। জিজ্ঞাসাবাদ করত। তাঁকে এভাবে মরতে হলো কেন?’
দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আরজু সবার ছোট। আড়াই মাস আগে তাঁর বাবা মারা গেছেন। আরজু কবি নজরুল কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাজা হত্যার ঘটনায় তাঁর বোন রেশমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এই মামলার প্রধান আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তিনজন আসামি সোমবারই গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মাগুরায় বন্দুকযুদ্ধ: মাগুরার ঘটনা নিয়ে পুলিশ অন্যান্য ‘বন্দুকযুদ্ধ’র মতোই একই ধরনের ঘটনার বিবরণ দিয়েছে বলে আমাদের মাগুরা প্রতিনিধি জানান। মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন রায় বলেন, গত সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে শহরের দোয়ারপাড়ে আল আমিন এতিমখানা সড়কে কয়েকজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে বলে জানতে পারে পুলিশ। অভিযান চালাতে সেখানে পুলিশ গেলে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করলে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এ গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে আজিবর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সময় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।
তবে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে বলেন, মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালী বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে গত সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে আজিবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একদল পুলিশ লোকজনের জটলার মধ্য থেকে আজিবরকে টেনেহিঁচড়ে তাঁদের গাড়িতে তুলে শালিখা থানার দিকে নিয়ে যায়। জেলা পুলিশের একাধিক সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বিকেলে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেছেন মাগুরার পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহ।
পলাতক আসামি আজিবর শেখের পক্ষে ১৪ আগস্ট মাগুরা শহরে পোস্টার লাগানো হয়। ওই পোস্টারগুলো এক পক্ষ ছিঁড়ে তুলে ফেলে। পোস্টারের বাঁ পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি এবং ডান পাশে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখরের ছবি ছিল। পোস্টারে সবচেয়ে বড় ছবিটি ছিল আজিবর শেখের। পোস্টারের নিচের দিকে আজিবর ওই ঘটনা সম্পর্কে তাঁর কিছু বক্তব্য তুলে ধরেন। আজিবর দাবি করেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। পোস্টারটি শহরের মানুষের মাঝে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছিল। এর তিন দিনের মাথাতেই আজিবর নিহত হলেন।
আজিবরের লাশ মাগুরা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। নিহতের ছোট ভাই মাসুদ রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই একজন ঠিকাদার ছিল। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত। কেউ বলতে পারবে না সে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার নামে আগে কোনো মামলাও নেই। ওই ঘটনার এক নম্বর আসামি সেন সুমন গ্রেপ্তার হইছে। আমার ভাই তো তিন নম্বর আসামি ছিল।’
আজিবরের বাবা আবদুল মালেক পক্ষাঘাতগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা। আজিবরের বৃদ্ধ মা রূপবান বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী দেশ স্বাধীন করে কী করল? ওই রাজনীতি করতি যাইয়েই তো আমার ছেলেডার জীবন গেল।’
আজিবরের স্ত্রী হুসনে আরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনীতি আমাদের সব শেষ করে দেছে। আমি এখন নাবালক বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব।’ চার বছর ও আড়াই বছর বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে এই দম্পতির।
তবে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু প্রথম আলোকে বলেন, সন্ত্রাসী কোনো দলের না। ওই ঘটনায় জড়িত কোনো সন্ত্রাসীর দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না।
গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা খাতুন (৩৫) তলপেটে গুলিবিদ্ধ হন। মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ কন্যাশিশুর জন্ম দেন। গুলি পেটের শিশুকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেলে। মা ও শিশু এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনায় নাজমার চাচাশ্বশুর মমিন ভুঁইয়া (৬৫) মারা যান। নিহত মমিন ভুঁইয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকি ইমামের চাচা।
আজিবর শেখের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনায় সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন আর কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস পাবে না।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিসরে 'অভ্যুত্থানচেষ্টা' : ২৬ অফিসারের কারাদণ্ড
এই ২৬ জনের কেউ কেউ ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং তাদের দু'জন ছিলেন ইখওয়ান বা ব্রাদারহুডের নেতা।
এই প্রথমবারের মত মিশরের সামরিক আদালত আসসিসি সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে ঘোষণা দিল।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা 'সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছিল' এবং তারা গোপন সামরিক তথ্য ফাঁস করে ও ইখওয়ানুল মুসলিমিন দলে যোগ দিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হয়নি এবং এখনো এই রায় চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হলেন মিসরের সামরিক পরিষদের সদস্য ও সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান-বিষয়ক কমিটির প্রধান তাওহিদ তাওফিকের ভাই। তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সিসি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের খবর দেরিতে প্রচারিত হওয়ায় দেশটিতে সংবাদ প্রচারের ওপর কঠোর সেন্সরশীপ বজায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দৈনিক 'আলআরাবি আজজাদিদ' ও 'মেসর আলআন'-টেলিভিশন জানিয়েছে, অভিযুক্ত এই সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করা হয়েছে কোনো শুনানি ছাড়াই এবং বিচারকদের অনুপস্থিতিতে।
এ ছাড়াও মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখার অন্যতম নেতা হিলমি আলজাজায়ির ও দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তরের সদস্য মুহাম্মাদ আবদুর রহমানকে তাদের অনুপস্থিতিতেই ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এদিকে মিসরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আসসিসি গত রোববার কথিত সন্ত্রাস-বিরোধী নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী যারা সন্ত্রাসী অভিযানের পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকবে ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থ যোগাবে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এ আইন অনুযায়ী পুলিশ সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে বিচার বিভাগের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত চালাতে পারবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে। জঙ্গি গ্রুপগুলোর সন্দেহভাজন সদস্যদের বিচার সাধারণ প্রশাসনিক রীতির বাইরে ও খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। সন্ত্রাস বিরোধী মিসরের নতুন এ আইনে ১২ ধরনের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও নতুন এ আইন অনুযায়ী কেউ জঙ্গি বা চরমপন্থিদের ওপর হামলা বা অভিযান সম্পর্কে কোনো মিথ্যা খবর প্রচার করলে তাকে বিপুল অংকের অর্থ জরিমানা করা হবে। মিশর সরকার প্রথমে এ ধরনের অপরাধের জন্য কমপক্ষে দুই বছর কারাদণ্ড দেয়ার আইন প্রণয়ন করতে চেয়েছিল।কিন্তু সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
সমালোচকরা বলছেন এ আইনের ফলে ছোট ছোট প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাবে ও অন্যান্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও বিলুপ্ত হবে।
সূত্র : রেডিও তেহরান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘একুশ শতকের গ্রিক ট্রাজেডি’ by মইনুল ইসলাম
![]() |
| গ্রিসে গণভোটে 'না' ভোট বিজয়ী হবার পর সমর্থকদের উল্লাস |
তবে রেফারেন্ডামের ফলাফল ওই দর-কষাকষিতে ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের অবস্থানকে আরও গ্রিসবিরোধী করে তোলার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। অতএব, গ্রিস তার অর্থনীতির মহাবিপদ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে কি না, সেটা বলার সময় এখনো হয়নি। এখনো পণ্ডিতদের অনেকেই রেফারেন্ডামের ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কর্তৃক ট্রয়কার শর্তাবলি প্রত্যাখ্যানকে ঋণদাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর স্পর্ধিত বিরুদ্ধাচরণ ও ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের প্রতি অবজ্ঞামূলক আচরণ হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং এই ফলাফল অচিরেই ‘একুশ শতকের গ্রিক ট্র্যাজেডি’তে পরিণত হবে বলে ঘোষণা দিয়ে চলেছেন। আসলে মূল সমস্যাটা যেহেতু গ্রিসের ৩২৩ বিলিয়ন ইউরো বা ৩৬৩ বিলিয়ন ডলারের অবিশ্বাস্য ঋণের বোঝা সামলানোর এবং ঋণের সুদাসলে কিস্তি পরিশোধের ক্ষমতা আদৌ গ্রিক অর্থনীতির রয়েছে কি না, সে প্রশ্নেই ঘুরপাক খাবে।
সমস্যার গোড়া রয়ে গেছে ২০০৭-০৮ সালে শুরু হওয়া পুঁজিবাদী বিশ্বের মন্দা বা মহামন্দার মধ্যে। ওই মন্দার শুরুটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হলেও এর সংক্রমণ (কনটেজিয়ন ইফেক্ট) ইউরোপসহ পুঁজিবাদী বিশ্বের দেশে দেশে ঢেউয়ের মতো পৌঁছে গেছে বিশ্বায়নের অমোঘ নিয়মে। গ্রিসের অর্থনীতিও ক্রমেই এই মন্দার শিকার হয়ে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ঘাটতি এবং সরকারি বাজেট ঘাটতির কবলে পড়ে। মন্দা মোকাবিলায় কিনসীয় প্রেসক্রিপশন অনুসারে সম্প্রসারণমূলক ঘাটতি অর্থায়ন নীতিমালা গ্রহণের সুযোগ না থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোজোনের একক মানিটরি ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে গ্রিস ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক ও ইউরোজোনের দেশগুলোর বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ব্যাপক হারে ঋণ নিয়ে সমস্যা থেকে উত্তরণের প্রয়াস চালায়। আইএমএফও গ্রিসকে দফায় দফায় ঋণ মঞ্জুর করে অর্থনীতি সচল রাখতে সহায়তা করে। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক, ইউরোপিয়ান কমিশন ও আইএমএফ—এই তিনটি সংস্থাই কালক্রমে ‘ট্রয়কা’ নামে অভিহিত হয়। এই ঋণগুলোর শর্তের তালিকায় নিউ লিবারেল মুক্তবাজার অর্থনীতির দর্শন মোতাবেক সরকারের ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রসাধনের এবং অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা সংকোচনের প্রায় অভিন্ন প্রেসক্রিপশনগুলো প্রতিবারই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোকে সারা বিশ্ব ‘স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট পলিসি’ হিসেবে চিনতে শিখেছে।
এই শর্তাবলি মানতে গিয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন বিভিন্ন গ্রিক সরকারকে যেসব নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে, তার ফলে সাধারণ শ্রমজীবী গ্রিক জনগণের জীবন ও জীবিকায় টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়তে বাড়তে অসহনীয় পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বয়স্কদের পেনশন, বেকার ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—প্রতিটি গণমুখী সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেই কৃচ্ছ্রসাধনের ফলে প্রত্যক্ষ ব্যয় কাটছাঁটের শিকার হয় সাধারণ জনগণ। অথচ সরকারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত গ্রিকদের ওপর কর আরোপের বা কর বৃদ্ধির ব্যাপারে ঋণদাতা দেশ ও সংস্থাগুলো বরাবরই বিরোধিতা জারি রাখে ‘নিউ লিবারেলিজমের’ মতাদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ধুয়া তুলে।
ফলে মন্দা কাটাতে যেখানে প্রয়োজন ছিল সম্প্রসারণমূলক নীতিমালা, সেখানে ট্রয়কার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী গৃহীত সরকারি ব্যয় সংকোচনমূলক সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির অবশ্যম্ভাবী অভিঘাত হিসেবে গ্রিসে বেকারত্বের হার বাড়তে বাড়তে শ্রমশক্তির ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়; যুবসমাজের মধ্যে বেকারত্বের হার ৫০ শতাংশ অতিক্রম করে যায়। গ্রিকদের মাথাপিছু আয় গত ছয় বছরে ২৫ শতাংশ কমে যায়, যার অসহনীয় ভার মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়মানুসারেই বেশি করে বিপর্যস্ত করতে থাকে অপেক্ষাকৃত নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী জনগণের জীবন ও জীবিকাকে। আরও গুরুতর হলো, সামষ্টিক অর্থনীতির এত বড় সংকোচন সরকারের রাজস্ব আয়কে আরও বেশি সংকুচিত করে দিতে থাকে। ফলে সরকারি ব্যয় সংকোচন সত্ত্বেও সরকারের রাজস্ব সংকোচনের হার আরও বেশি হওয়ার কারণে বাজেট ঘাটতি ক্রমাগতভাবে আরও বেড়ে গিয়ে ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনকেও অপরিহার্যভাবে বাড়াতে থাকে অর্থনীতিকে সচল রাখার প্রয়োজনে।
অপর দিকে অর্থনীতি সংকুচিত হতে থাকায় রপ্তানি আয়ও বাড়ার পরিবর্তে কমতেই থাকে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের ঘাটতিও (ট্রেড ডেফিসিট) বেড়ে যেতে থাকে। অতএব, আবারও ঋণের জন্য বেশি করে হাত পাততে হয় গ্রিসকে। এই প্রক্রিয়াতেই গ্রিক অর্থনীতির ঋণ বাড়তে বাড়তে বর্তমানে গ্রিসের জিডিপির ১৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। শেষের দিকের কয়েক বছর গ্রিসকে নতুন নতুন ঋণ নিয়ে ঋণের অর্থের ৮০-৯০ শতাংশই ব্যয় করতে হতো পুরোনো ঋণের সুদাসলে কিস্তি পরিশোধ করার জন্য, মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ পাওয়া যেত বিনিয়োগের জন্য। এর মানে, ওই সব ঋণ সত্যিকার কর্মসংস্থানমূলক বিনিয়োগে খাটানো যায়নি, যার ফলে মন্দা থেকে উত্তরণে ওই সব ঋণ তেমন কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেনি।
প্রশ্ন উঠতে পারে, গ্রিসকে এহেন তলাবিহীন ঝুড়ি বানানোর পরও জেনেশুনে বারবার এত ঋণ দেওয়া হলো কেন? ইউরোপীয়রা তো বেশ কয়েক বছর ধরে পর্তুগাল, ইতালি, গ্রিস ও স্পেনকে ‘পিগস’ (শুয়োর) বলে গালাগাল করে আসছে। তারপরও বারবার ঋণ দেওয়া হয়েছে কেন? এখানেই নিহিত রয়েছে বিশ্বায়িত পুঁজিবাদের মূল সংকট—এক দেশের সংকট শুধু ওই দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিশ্বব্যাপী ঢেউয়ের আদলে ছড়িয়ে পড়ে। অতএব, লোকালাইজড সংকটকে যতখানি সম্ভব ধামাচাপা দেওয়ার তাগিদ এড়ানো যায় না।
আসলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিসকে দেউলিয়া হতে দিতে চাইছে না গ্রিসের পতনের ঢেউ খোদ ইউরোজোনের বড়-ছোট সব অর্থনীতিতেই কনটেজিয়ন ইফেক্টকে বেসামাল করে দিতে পারে, ওই ভয়ে। এমনকি শুধু ইউরো মুদ্রাব্যবস্থা নয়, এই সংকটের ধারাবাহিকতায় পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে ধস নামার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মজার ব্যাপার হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোর এই বিপদকে সাইডলাইনে বসে উপভোগ করছে। ইউরো ধসে গেলে বা বিলুপ্ত হয়ে গেলে ডলারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আপাতত অন্য কোনো মুদ্রা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে! বিশ্বে মার্কিন অর্থনৈতিক আধিপত্য তাতে আরও কিছুদিন নিরঙ্কুশ থাকবে।
ছয় বছর ধরে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়ে দিশেহারা গ্রিক ভোটাররা ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দল সিরিজা পার্টিকে জয়ী করে ক্ষমতায় আনেন। বলা বাহুল্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাসীন ডানপন্থী সরকারগুলো গ্রিক জনগণের এই অপ্রত্যাশিত নির্বাচনী রায়কে মোটেও ইতিবাচকভাবে নেয়নি। জার্মানির চ্যান্সেলর ম্যার্কেলও মনে মনে চাইছেন, এই সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে বামপন্থী সিরিজা পার্টির সরকারের পতন হোক। ইউরোজোনের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সরকারপ্রধানদেরও গোপন অভিলাষ এটাই। হয়তো এ জন্যই সংকট-সম্পর্কিত গত ছয় মাসের আলাপ-আলোচনায় ইউরোপের একাধিক দেশের অর্থমন্ত্রী বারবার অভিযোগ তুলছিলেন যে সংকট সমাধানে গ্রিক অর্থমন্ত্রী ভারোফাকিসের ‘ড্যাম কেয়ার’ মনোভাব এবং আলোচনা বৈঠকগুলোতে তাঁর আক্রমণাত্মক কথাবার্তা সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টিতে অনভিপ্রেত বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে ভারোফাকিস একজন নির্ভীক, স্পষ্টভাষী, বামপন্থী অর্থনীতিবিদ ও খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক; যিনি ট্রয়কার ব্ল্যাকমেলিংকে ‘টেররিস্ট ট্যাকটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করে গ্রিক জনগণকে এহেন আধিপত্যবাদী শর্ত প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে গ্রিক রাজনীতিতে ঝড় তুলতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রিক প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস রেফারেন্ডাম ডেকে বসার পেছনেও ভারোফাকিসের অবস্থানকেই নির্ধারক বলে মনে করেছেন অনেক বিশ্লেষক। জার্মান অর্থমন্ত্রী সরাসরি বলে দিয়েছেন যে ভবিষ্যতের আলোচনায় তিনি আর ভারোফাকিসের চেহারা দেখতে নারাজ। এহেন বড় ভ্রাতাসুলভ ঔদ্ধত্যের জবাবে ভারোফাকিস রেফারেন্ডামে বিজয় অর্জনের পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ‘আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাসের কাজকে সহজ করার জন্য’ অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, যেটা তাঁর সমালোচকদের মুখে চপেটাঘাতের শামিল। ফলে এখন সারা বিশ্বের সহানুভূতি গ্রিসের দিকেই ধাবিত হচ্ছে বলা চলে। অতএব, এই যাত্রায় গ্রিস হয়তো তার অসহনীয় ঋণের বোঝা কিঞ্চিৎ লাঘবের পথ পেয়েও যেতে পারে।
চলমান গ্রিক সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখনো বড়সড় অভিঘাত সৃষ্টি না করলেও যদি সংকট সমাধানে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং এর পরিণামে গ্রিসকে ইউরোজোন থেকে বের হয়ে যেতে হয়, তাহলে এর কনটেজিয়ন ইফেক্ট বাংলাদেশেও খানিকটা অনুভূত হবে। কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানির বাজার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইউরোপের দেশগুলোর অব্যাহত মন্দার কারণে এবং ইউরোর বিনিময় হার ডলারের তুলনায় ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেতে থাকায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৩ শতাংশের সামান্য বেশি হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকখানি কম ছিল। এভাবে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে গেলে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারকে ৭-৮ শতাংশে উন্নীত করার টার্গেট অদূর ভবিষ্যতে অর্জন করা যাবে না।
অন্যদিকে গ্রিক সংকট থেকে আমাদের নীতিপ্রণেতাদের শিক্ষণীয় হলো, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও শুধু তথাকথিত ‘সফট লোনের’ আকর্ষণে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক-এডিবির কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের বদ খাসলত ঝেড়ে ফেলতে হবে তাদের ‘নিউ লিবারেল’ প্রেসক্রিপশনের কাঠামোগত বিন্যাস কর্মসূচির খপ্পর থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইলে। বাংলাদেশ যে ক্রমেই তাদের আধিপত্যের জাল থেকে বেরিয়ে আসছে, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের আজ্ঞাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো পছন্দ করার কোনো কারণ নেই। যত্রতত্র সাপ্লায়ারস ক্রেডিট নেওয়ার লোভটাও সামলাতে হবে, কারণ অর্থনীতিকে ঋণের ফাঁদে ফেলার দুর্মতি নিঃসন্দেহে পরিত্যাজ্য।
ড. মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোটাবঞ্চিত হজ এজেন্সি ও হাব মুখোমুখি: হজ ক্যাম্পে হাতাহাতি বিক্ষোভ উত্তেজনা by ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া
যাচাই-বাছাইয়ে ১০ হাজারের বেশি নাম ভুয়া পাওয়ার পরও বিভিন্নভাবে এসব কোটা আবারো ভুয়া এন্ট্রিকারীদেরকেই রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। তবে সংসদীয় কমিটির নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যারা রিপ্লেসমেন্টের জন্য আবেদন করেছেন তাদেরকে ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট দেয়ার তালিকা চূড়ান্ত করার পরই বাকি কোটাবঞ্চিতদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে। গত রাতেই রিপ্লেসমেন্টর সব আবেদন যাচাই শেষে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
গতকাল হজ ক্যাম্পে নিয়ে দেখা গেছে, সেখানে আগের দিন ই ভিসা ইস্যু সমস্যার কারণে হজযাত্রীরা হা হুতাশ করলেও গতকাল সেই দৃশ্য ছিল না। তবে বারকোড ভিসা না পাওয়া, কোনো কোনো এজেন্সির দু-একটি করে পাসপোর্ট খুঁজে না পাওয়ার মতো কিছু সমস্যা লক্ষ করা গেছে। সোমবার রাতেই কারিগরি ত্রুটি সেরে যাওয়ার পর সৌদি দূতাবাস স্বাভাবিক নিয়মে ভিসা ইস্যু শুরু করে। ফলে ভিসা জটিলতায় ফাইটের যাত্রী সঙ্কট দেখা দেয়ার ঘটনারও অবসান ঘটে।
এ ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হাসান জাহাঙ্গীর আলম গতকাল বিকেলে বলেন, ভিসা ইস্যু সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। সুন্দরভাবে ভিসা ইস্যুর কাজ চলছে। সরকারি ব্যবস্থাপনার ২৬০০ জনেরই ভিসা হয়ে গেছে। তিনি জানান, গত রাত পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মিলে প্রায় ৪০ হাজার ভিসা ইস্যু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এজেন্সিগুলোর ১০৪৫টি পাসপোর্টের সমস্যা হয়েছিল। সেগুলোও পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ভিসা ইস্যু হয়ে যাবে।
সোমবার রাতে ভিসা ইস্যু নিয়ে জটিলতার অবসান হতে না হতেই রাতে হজ ক্যাম্পে দেখা দেয় নতুন সমস্যা। রিপ্লেসমেন্ট ও কোটাবঞ্চিতদের কোটা দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটির নেতৃত্বে গঠিত কমিটির বৈঠক শেষে হাবের নেতা ও কোটা বঞ্চিত এজেন্সিগুলোর মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় হাবের সভাপতি ইব্রাহীম বাহারকে ুব্ধ এজেন্সি মালিকেরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুন এমপির সভাপতিত্বে বৈঠক শেষে পরস্পর বাগি¦তণ্ডা এবং কোটাবঞ্চিত একজন এজেন্সি মালিককে লাঞ্ছিত করার পরই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
বৈঠক শেষ করে হাব নেতারা বের হয়ে আসার সময় ইব্রাহীম বাহার তোপের মুখে পড়েন। এরপর হাবের মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহসহ অন্য নেতারা মারমুখো হয়ে কোটাবঞ্চিত এজেন্সি মালিকদের দিকে তেড়ে গেলে বড় ধরনের সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা এ পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় সংসদীয় কমিটির সভাপতি উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য উভয় অংশকে দায়ী করে ুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হজ অফিস ত্যাগ করেন। পরে কোটাবঞ্চিত এজেন্সি মালিকেরা গতকাল বিকেলে আবার সমবেত হওয়ার কর্মসূচি দিয়ে হজ ক্যাম্প ত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
গতকাল সকাল থেকেই হজ অফিসে টান টান উত্তেজনা দেখা দেয়। কোটাবঞ্চিত এজেন্সি মালিকদের একটি অংশ হজ অফিসে গেলেও গা ঢাকা দিয়ে চলাচল করেন। বিকেলে কোটাবঞ্চিত এজেন্সি মালিকেরা হজ ক্যাম্পের পাশে একটি মসজিদে জড়ো হন। মাগরিবের নামাজের আগে হজ অফিসের সামনে গিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ শেষে একটি অংশ হজ ক্যাম্পে এবং অপর অংশ আবারো পাশের মসজিদে গিয়ে অবস্থান নেয়। অন্য দিকে হজ ক্যাম্পে পরিচালকের কক্ষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেন।
বৈঠকের আগে কমিটির সদস্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: শহীদুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, আগের রাতে অপ্রীতিকর ঘটনাটি একেবারেই কাম্য ছিল না। বৈঠকের পর হঠাৎ করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, মূলত রিপ্লেসমেন্টের যেসব আবেদন পড়ছে সেগুলো নিয়ে যাতে কোন অনিয়ম না হয় সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আবেদনগুলোর তালিকা তৈরি শেষ পর্যায়ে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫ শতাংশ দেয়ার পর বাকি যে কোটা থাকবে সেগুলোর সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। এরপর বাকি যা থাকবে সেগুলোর ব্যাপারে কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। আজ বুধবারের মধ্যেই এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, অতীতে রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আসত। এবার যাতে সেই অনিয়ম না হয় সে জন্য আমরা কাজ করছি।
রিপ্লেসমেন্ট ও কোটাবঞ্চিদের কোটা দেয়া নিয়ে হাবের সাথে কোটাবঞ্চিত এজেন্সি মালিকদের মুখোমুখি অবস্থানের ব্যাপারে জানতে চাইলে হাবের ইসি সদস্য ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্য আফতাব আহমেদ চৌধুরী বলেন, এমন পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না। রিপ্লেসমেন্টের বিষয়টি ফয়সালা হওয়ার পর বাকি কোটার ব্যাপারে সুরাহা হবে।
এ দিকে হজ অফিসের আইটি শাখা জানিয়েছে, রোববার থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ২৩টি ফাইটে ৯০২৬ জন সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ১২টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ১১টি ফাইট গেছে। গত রাত সোয়া ১০টায় বিমানের আরো একটি শিডিউল ফাইট এবং একই সময়ে একটি আরো একটি হজ ফাইটে ৪২৯ জন করে যাওয়ার কথা। আজ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটেও একটি ফাইট সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার কথা। এরই মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ফাইট শেষ হবে। তবে শর্ট প্যাকেজের ২২৬ জন শেষের দিকে যাবেন। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন হজে যাওয়ার কথা রয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবিশ্বাস্য ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে ইরান!
তিনি আরো বলেছেন, ইরানিরা এত বেশি সম্পদশালী ও শক্তিধর হয়ে ওঠবে যে, তাদের হাতে পরমাণু অস্ত্র চলে আসবে এবং বিশ্বের কোনো কোনো প্রান্তের কর্তৃত্বও তাদের হাতে চলে যাবে, যা বিশ্বাস করতে হয়তো এখন কষ্ট হবে। এর মধ্যদিয়ে পারমাণবিক হলোকাস্ট সৃষ্টি হবে।
ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতাকে খারাপ চুক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি এ জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিসহ আলোচক দলের সদস্যদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, মার্কিন আলোচক দলে যারা ছিলেন তারা অযোগ্য। তবে তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হলে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি বাতিল করবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
চুক্তি বাতিলের পরিবর্তে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজরদারি করবেন তিনি। ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠী গত ১৪ জুলাই অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় চূড়ান্ত পরমাণু সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছে।
সূত্র : রেডিও তেহরান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির ফল কী হবে? by রিচার্ড এন হাস
তবে আমি এটাও বলতে চাচ্ছি না যে এই চুক্তির কোনো ইতিবাচক অবদান থাকবে না। ইরান আগামী এক দশকে কী পরিমাণে ও কোন মানের সেন্ট্রিফিউজ রাখতে পারবে, তার সীমা এই চুক্তিতে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই চুক্তির বলে ইরান আগামী ১৫ বছর খুবই অল্প পরিমাণে নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাখতে পারবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাষায় এই চুক্তিতে এটাও আছে যে ‘যখন ও যেখানে প্রয়োজনের’ ভিত্তিতে একটি অনুসন্ধান দল কাজ করবে, যারা খতিয়ে দেখবে, ইরান এই অঙ্গীকারসহ অন্যান্য অঙ্গীকার পূরণ করছে কি না।
এই চুক্তির মোদ্দা ফলাফল হচ্ছে এর ফলে ইরানের এক বা একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। আগে কয়েক মাস লাগার কথা থাকলে এখন লাগবে এক বছর। এই চুক্তির কারণে এটা নিশ্চিত হয়েছে যে ইরান তেমন চেষ্টা করলে সেই খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। চুক্তিটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর ফলে ইরানকে আগামী ১৫ বছর পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়া থাকতে হবে। শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এটা অর্জন করা সম্ভব হতো না। এমনকি সামরিক বল প্রয়োগ করলেও নানা ঝুঁকির সৃষ্টি হতো, আর ফলাফল হতো অনিশ্চিত।
অন্যদিকে, (কূটনীতিতে সব সময়ই একটা অন্য দিক থাকে) এই চুক্তির কারণে ইরান তার প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে, যদি সে শুধু বেসামরিক গবেষণায় তা কাজে লাগাতে চায়, আর সে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে তার প্রতীকী সক্ষমতা দেখায়। এই চুক্তির কারণে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞার খড়্গ উঠে যাবে, এতে তার মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি যুদ্ধ চালানো, ইরাকের উপদলীয় সরকারকে সমর্থন ও সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকারকে সমর্থনের সক্ষমতা বাড়বে।
উপরন্তু এই চুক্তিতে এমন কিছু নেই, যার কারণে ইরানের সব ধরনের পরমাণু-সম্পর্কিত গবেষণা বন্ধ বা ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর কাজ ব্যাহত হবে। ইরানের কাছে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রপাতি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে আট বছরের জন্য, আর প্রথাগত অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য, তার বেশি নয়।
আবার এমন বিপদও আছে যে ইরান চুক্তির শর্তের অংশবিশেষ পালন করতে পারবে না এবং নিষিদ্ধ কাজ হাতে নেবে। ইরানের অতীত কর্মকাণ্ডের যে ইতিহাস, তা থেকে এটাই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়, চুক্তিটির সমালোচনার জায়গাও এটি। ইরান চুক্তির শর্ত না মানলে তার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে, এমনকি প্রয়োজনে সামরিক বলও প্রয়োগ করতে হবে।
আরও বড় একটা সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বেশ কম। সমস্যাটা হলো ইরান যদি চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলে, তাহলে কী হবে। চুক্তির শর্তাবলি ভঙ্গ না করলেও তো একটা সময়ে সেগুলোর মেয়াদ শেষ হবে, তারপর সে তার পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে পড়তে পারে। তখন একমাত্র পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ছাড়া ইরানের রাশ টেনে ধরার উপযোগী কিছু থাকবে না। কিন্তু এনপিটি একটা স্বেচ্ছাভিত্তিক চুক্তি, এই চুক্তি ভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান নেই।
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে যুক্তরাষ্ট্র (তার সঙ্গে অন্যরাও যোগ দিলে ভালো হয়) ইরানকে এ বিষয়টি জানিয়ে দিক, ১৫ বছর পর ইরান আবার পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করলে সেটা সহ্য করা হবে না। এই চুক্তিতে এটা পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি। এই চুক্তির পর ইরান সে রকম চেষ্টা করা মাত্র তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। এটাও এ চুক্তিতে বলা হয়নি।
ইরান যদি পৃথিবীকে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করে যে সে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে, এটা নিয়ে আর বিতর্কের অবকাশ নেই, তাহলে তাকে জানিয়ে দিতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রতিরোধমূলক সামরিক আক্রমণ চালাবে। উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিয়ে পৃথিবী বড় ভুল করেছে, সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর করতে দেওয়া চলবে না।
এর মধ্যে ইরানের প্রতিবেশীদের উদ্বেগ প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে হবে। দেশটির অনেক প্রতিবেশীই বাজি ধরবে, ইরান ১৫ বছর পর নিজেরাই পারমাণবিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মধ্যপ্রাচ্য তো এখনই দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছে, সম্ভাব্য পারমাণবিক শক্তিগুলোর উত্থান ছাড়াই। ওবামা যে দাবি করেছেন, এই চুক্তি ‘সে অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করেছে’ সেটা তিনি একটু আগেভাগেই করে ফেলেছেন। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার কৌশলগত আস্থা নতুন করে গড়তে হবে, ওবামার উত্তরসূরির জন্য সেটা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
![]() |
| রিচার্ড এন হাস |
ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
রিচার্ড এন হাস: কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের প্রেসিডেন্ট।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভালুকায় বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষ: আবারো দুই কোটি টাকার চামড়া যাচ্ছে জাপানে by আসাদুজ্জামান
ভালুকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হাতিবেড় গ্রামে রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড নামে ১৩ একর ৫৬ শতক জমি ক্রয় করে ২০০৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ৭৪টি কুমির দিয়ে খামারটি শুরু করা হয়। মালয়েশিয়ার সারওয়াত থেকে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫টি কুমির আনা হয়। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে আটটি কুমির মারা যায়। পরে অবশিষ্ট কুমিরগুলো প্রকল্পের পুকুরে ছাড়া হয়। এসব কুমিরের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর ছিল। কুমিরগুলো ৭ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১২ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা। কুমিরের গড় আয়ু ১০০ বছর। আমদানিকৃত কুমিরের মধ্যে ১৫টি পুরুষ রয়েছে। প্রতি মাসে এদের ৩০০ কেজি মাংস খাবার হিসেবে দেয়া হতো। বন্য অবস্থায় ১০-১২ বছর বয়সে এবং ফার্মে ছয়-সাত বছর বয়সের একটি স্ত্রী কুমির বছরে একবার (এপ্রিল-মে) ৩০ থেকে ৪০টি করে ডিম দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৭০ থেকে ৮০ দিন। এখানে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে খামারে ৪০টি পুকুর রয়েছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার সারওয়াত কুমির ফার্ম থেকে দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে আরো ৪০টি ব্রিডার কুমির ক্রয় করে আনা হয়। সব মিলিয়ে এ খামারে ১০০টি ব্রিডার কুমির রয়েছে। এ ছাড়াও এ খামারের নিজস্ব উৎপাদিত ছোট-বড় মিলে ১২ শতাধিক কুমির রয়েছে যেগুলোর দৈর্ঘ্য ৫ ফুট থেকে সাড়ে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা।
কুমিরের কোনো কিছুই ‘ফেলনা’ নয় বলে চামড়া, মাংস, দাঁত ও হাড় বিপণন করা যায়। চীন, জাপান, তাইওয়ান, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কুমিরের ৭০ থেকে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যমানের মাংসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ব্যাংকক, ভিয়েতনাম, সিংগাপুর, পাপুয়া নিউগিনি, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ প্রায় অর্ধশত দেশে কুমিরের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে।
কুমির বাণিজ্যিকভাবে রফতানির ল্েয লালন-পালন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘কুমিরবেড়’। এশিয়ায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ‘কুমিরচাষ’ করা হয়। এটি বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’-এর একটি প্রকল্প। এ ছাড়া ৫০টি কুমির দিয়ে গত বছর আকিজ গ্রুপ বান্দরবানের নাই্যংছড়িতে কুমিরের আরেকটি বাণিজ্যিক খামার শুরু করেছে। ওই কুমিরগুলোও মালয়েশিয়ার সারওয়াত খামার থেকে আনা।
এখানে উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক আগে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ল্েয বেরসরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আজরা প্রোডাক্টড লিমিটেড নামে একটি গুইসাপের খামার গড়ে তোলা হলেও বছর ঘুরে আসতে না আসতেই গুইসাপের প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
ফার্ম ম্যানেজার আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ জানান, বর্তমানে ২২টি মা কুমির প্রায় ৫০টি করে ডিম দিয়েছে। এই হিসাবে কুমিরগুলো এক হাজার ১০০টি ডিম দিয়েছে এবং এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। আর এ থেকে প্রায় ৬৫০টি বাচ্চা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা ছাড়া এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আরো চার-পাঁচটি মা কুমিরের ডিম দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো জানান, ২০১৪ সাল থেকে কুমির প্রজনন ও উৎপাদনের স্বার্থে সেখানে দর্শণার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে জনপ্রতি ২৫০ টাকা ফি’র বিনিময়ে পরিদর্শনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের জন্য আলাদাভাবে নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে কুমির দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পটির।
রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব সোম জানান, অক্টোবর-নভেম্বরে ৫০০ কুমিরের চামড়া রফতানি করা হচ্ছে এবং এসব কুমিরের মাংস চীন, জাপান ও কোরিয়ায় রফতানি করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এতে আরো কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। তা ছাড়া এখন থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কুমিরের চামড়া ও মাংস রফতানি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাওলানা নিজামীর আপিল শুনানি মুলতবির আবেদন
আপিলটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চে আজ বুধবারের কার্যকালিকায় ৫ নম্বর আইটেম হিসেবে মাওলানা নিজামীর আপিল ও শুনানি মুলতবির আবেদন রাখা হয়েছে। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেনÑ বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
মাওলানা নিজামীর আইনজীবী মো: শিশির মনির জানান, আপিল শুনানি দুই সপ্তাহ মুলতবি করার জন্য আমরা একটি আবেদন করেছি। আমরা সুপ্রিম কোর্টের ভ্যাকেশনের পর আপিল শুনারি জন্য আদালতে আবেদন করব।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর মাওলানা নিজামীর খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। ১২১ পৃষ্ঠার মূল আপিল আবেদনে ১৬৮টি যুক্ত দেখিয়ে মাওলানা নিজামীর খালাস চাওয়া হয়। আবেদনে ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার দলিল দস্তাবেজ জমা দেয়া হয়।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা মোট ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বাকি আটটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাওলানা নিজামীকে অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
মীর কাসেম আলীর আপিলে রাষ্ট্রপক্ষের সারসংপে জমা দেয়ার নির্দেশ : জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সারসংপে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। গতকাল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় প্রর্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এ সময় মীর কাসেম আলীর পক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন এবং অ্যাডভোকেট মো: শিশির মনির।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর মীর কাসেম আলীর খালাস চেয়ে আপিল আবেদন দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। আপিল আবেদনে ১৮১টি যুক্তি দেখিয়ে মীর কাসেম আলীর খালাস চাওয়া হয়। গত বছরের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। তার বিরুদ্ধে মোট ১৪টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুইটিতে মৃত্যুদণ্ডসহ মোট ১০টি অভিযোগে তাকে সাজা দেয়া হয়। অপর চারটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গল্প- না বলা কথা by তামান্না ইসলাম
দোকানি ওর কাঁচুমাচু মুখের দিকে তাকিয়ে কি বুঝল কে জানে। কিছু না বলে ফোনের তালা খুলে এগিয়ে দিল ওর দিকে। তারপরে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়াল।
ওপাশে রিং বেজে চলছে আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইমনের বুকের ভেতরে হৃৎপিণ্ড ধকধক করছে। গলাও শুকিয়ে যাচ্ছে। ইমন ভাবছে মিতুকে ও কি বলবে? যেটা বলতে চাইছে সেটা বলা খুবই কঠিন। ইমন মিতুর শিক্ষক। ও বুয়েটে নতুন জয়েন করেছে। মিতুদের একটা সেশন নেয়। ওর কল্পনার রাজ্যজুড়ে আছে মিতু। কিন্তু এক বছরের জুনিয়র মিতুকে ছাত্রজীবনেও বলি বলি করে কিছু বলা হয়নি। এখন সরাসরি শিক্ষক হয়ে সেটা বলা যেন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ইমনের হাতে আর যে সময় নেই একদম। মিতুর এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে কিছুদিন আগে। ছেলে আমেরিকায় থাকে। সামনের সপ্তাহেই আসবে। দুই সপ্তাহ পরে ওর বিয়ে। তাই সব সংকোচকে ঠেলে অনেক সাহস সঞ্চয় করে ইমন এসেছে এই রাতে মিতুকে ফোন করতে। ওকে আজ পারতেই হবে।
ফোনটা ধরলেন মিতুর মা। এত রাতে কিছুটা বিরক্ত। হ্যালো, কাকে চাই?
শুকনো ঠোট জিভে ভিজিয়ে ইমন কোনোমতে বলল, জি, মিতা আছে?
আপনি কে বলছেন? এবার একই সঙ্গে বিস্ময় ও প্রবল বিরক্তি।
ইমন সেটাকে প্রাণপণে উপেক্ষা করে বলল, আমি ওর টিচার, ও একটা প্রজেক্টের কিছু জিনিস জমা দেয়নি। নম্বর দেওয়ার আগে ভাবলাম একটু শিওর হয়ে নেই, হারিয়ে গেল কি না কোনোভাবে।
এবার আর মিতুর মা আপত্তি করলেন না। মিতুকে ডেকে ফোনটা ধরিয়ে দিলেন।
মিতু, আমি ইমন।
ইমন ভাই, আপনি, এত রাতে! মিতুর গলায় একরাশ বিস্ময়।
ইয়ে মিতু মানে তোমাকে একটা জরুরি কথা বলতে চাচ্ছিলাম, যদি তোমার সময় হয়।
তা তো বটেই। তবে ইমন ভাই, রনি, মানে আমার হবু বর তো প্রতিদিন এই সময় ফোন করে, বেশিক্ষণ ফোন এনগেজড রাখা যাবে না, আমাকে না পেলে ও একদম অস্থির হয়ে যায়।
শেষ কথাটা শুনে একদম ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেল ইমন, গলার কাছে কথাটা এসে আটকে গেছে।
আর ওপাশে নিজের অনামিকার আংটিটা নিয়ে খেলা করতে করতে মিতু ভাবছে, ইমন ভাইয়ের গলাটা এমন কেন? সেশনালে মনে হয় একটু বেশি সময় নিয়ে ওকে কাজ বুঝিয়ে দেয়। যেদিন ওদের ক্লাস থাকে সেদিন দেখা যায় পোশাক আশাকেও একটু যত্নের ছাপ। এক অজানা কৌতূহল ও শঙ্কায় ওর বুক কাঁপে।
মিতু তোমার প্রজেক্টটা খুব ভালো হয়েছে। একা একাই করেছো পুরাটা?
বাহ, আপনিই তো বুঝিয়ে দিলেন বেশির ভাগ।
তোমার জন্য আমি একটা নীল শাড়ি কিনেছি, নীল রঙে তোমাকে খুব মানায়।
মিতুর গলা কাঁপছে, মানে? কি বলছেন এসব?
না মানে, তোমার বিয়েতে উপহার দেব বলে। আচ্ছা রাখি।
জরুরি কথাটা তো বললেন না?
ওহ, ভুলে গেছি।
ইমন ভাই, আমার বিয়েতে আপনি আসবেন না দয়া করে। সব নিমন্ত্রণে যেতে নেই। আর শাড়িটা আপনার কাছে রেখে দিয়েন, আমার স্মৃতি হিসেবে।
দুই.
শিকাগো এয়ারপোর্টে বসে আছে মিতু। ঢাকা যাচ্ছে সে একা। দুর্যোগের কারণে কানেক্টিং ফ্লাইট ক্যানসেল। কাল বিকেলে আবার ফ্লাইট থাকতেও পারে। ওকে হোটেল দেওয়া হয়েছে। ট্যাক্সি নিয়ে হোটেলে যেতে হবে। একা একা ট্যাক্সি চড়তে কেন জানি এখনো স্বস্তি পায় না মিতু। তা ছাড়া ও অন্য কথা ভাবছে। ইমন ভাই এখানেই থাকেন। অনেক দিন তার সঙ্গে দেখা হয় না। ইমেইলে কিছুটা যোগাযোগ আছে। তার সেল ফোন নম্বরটাও আছে মিতুর কাছে। যদিও ফোন করা হয়নি কখনো। কোথায় যেন এক ধরনের ভয় কাজ করে। নিজের কাছে হেরে যাওয়ার ভয়। কিন্তু আজকে আর পারল না ও—এত কাছে এসে ইমনকে দেখার লোভটুকু সংবরণ করতে। শুধু একবার দেখা করবে। এর বেশি কিছু না। দুই রিংয়েই ফোন ধরল ইমন। মিতুর গলা শুনে মনের খুশিটা গোপন করার চেষ্টাও করল না কোনো। অফিস ফেলে এক ঘণ্টা জ্যাম ঠেলে চলে আসল এয়ারপোর্ট থেকে মিতুকে হোটেলে পৌঁছে দিতে।
প্রায় আট বছর পরে দেখা। দুজনের শরীরেই কিছুটা সুখের মেদ জমেছে। আর চেহারায় ব্যক্তিত্বের ছাপ যোগ হয়েছে। কোথা থেকে একরাশ আবেগ আর লজ্জা এসে ঘিরে ধরল ওদেরকে। কারও মুখেই কিছুক্ষণ কোনো কথা নেই। বুকের ভেতরে তোলপাড়।
তোমার লাগেজ কই? গাড়িতে তুলতে হবে না। বলল ইমন। আর যেন কোনো কথা খুঁজে পায় না ইমন। তাড়াহুড়া করে গাড়িতে লাগেজ তুলতে তুলতে আবারও আড়চোখে একবার মিতুকে দেখে নেয় ইমন। ক্লান্ত, অথচ কী ভীষণ সুন্দর। ওর সৌন্দর্যে যেন পরিপূর্ণতা এসেছে।
ব্যস্ত ইমনকে খেয়াল করে মিতুও। কী সাবলীল আর আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে ইমন ভাইকে। আগের মতো একটুও জড়তা নেই।
মিতুর কাছ থেকে হোটেলের ঠিকানাটা নিয়ে সে দিকে রওনা দেয় ইমন।
মিতুই প্রথম নীরবতা ভাঙে। তারপর, আপনার খবর কি বলেন, ভাবির গল্প শুনি। নিশ্চয়ই অনেক সুন্দরী।
ইমন যেন শুনতেই পায় না। বহুদূর থেকে উত্তর দেয়, কেমন আছ মিতু? গোধূলির লালচে আভা এসে পরেছে মিতুর গালের বা পাশটায় এলোমেলো কয়েক গোছা চুল। ঠিক যেমনটা ইমন দেখে প্রায়ই স্বপ্নে। মনে মনে ভাবে শুধু স্বপ্নে সেই নীল শাড়িটা পরে থাক তুমি, এটুকুই যা পার্থক্য। জানো, সেই শাড়িটা আমি বীথিকেও দিতে পারিনি, এখনো অনেক যত্নে ঢাকার বাসার চিলেকোঠায় পুরোনো আলমারিটাতে তোলা আছে। ইমনের খুব ইচ্ছা করে সেই স্বপ্নের কথাটা ওকে বলতে, আলতো করে চুলের গোছাটা সরিয়ে দিয়ে ওর কপালে একটা চুমু খেতে।
ইমনের আনমনা ভাবটা চোখ এড়ায় না মিতুর। ওর সেই বুকের ভেতরের ধুক ধুক ফিরে আসে, ইমনের কোনো ইমেইল খুলতে গেলেই যেটা হয় ওর। খুব সাধারণ কথাবার্তা হয় ওদের, সংসারের কথা, চাকরির কথা।
তাদের সেই ইমেইল আদান প্রদানও হয় হয়তো দুই মাসে একটা। কিন্তু তারপরেও, প্রতিটা ইমেইলেই যেন কিছু না বলা কথা থেকে যায়। রনির সাথে কখনো প্রচণ্ড ঝগড়া হলে কেন জানি ইমন ভাইয়ের কথা মনে পড়ে মিতুর। আর সেদিনের সেই স্বপ্নটা, ভাবতেই কান–মাথা ঝাঁ ঝাঁ করে মিতুর। যেন ইমন পড়ে ফেলছে ওর মনের সব কথা, জেনে যাচ্ছে সেই পাগলামি স্বপ্নের কথা। নিজেকে লুকাতে রাস্তার দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয় মিতু। শেষ বিকেলের আলোয় ওদের মাঝে ভেসে বেড়ায় সেই না বলা কথাগুলো, যেগুলো আর কখনোই বলা হবে না।
জানালা দিয়ে বাইরে যত দূর চোখ যায়, খালি সাদা আর সাদা। অঝোরে তুষার পড়ছে। হাইওয়েতে গাড়ির ঠেলাঠেলি। বিষণ্ন বিকেল। মিতু ভাবছে, কেন আজকে এমন হলো? ইমন ভাইকে ফোনটা না করলেই ভালো হতো। হঠাৎ বাম গালে একটা উষ্ণতা টের পায় মিতু। এক মুহূর্তের জন্য ইমনের হাতের উল্টো দিকের আলতো ছোঁয়া। চমকে উঠে ইমনকে দেখে সে। কি অদ্ভুত দৃষ্টি। সেই দৃষ্টির উষ্ণতায় মোমের মতো গলে যেতে থাকে মিতু। এক মুহূর্তের জন্য রনির আবেগহীন চোখ দুটো ভেসে উঠে মনে। যে চোখের দিকে তাকিয়ে অনেকগুলো বছর কেটে গেল। কিন্তু ভালোবাসার এই ছায়া কখনোই পড়েনি সেই চোখে। আর কিছু মনে থাকে না। কখন যেন নিজের অজান্তেই একটা হাত সঁপে দিয়েছে ইমনের হাতের মুঠোয়। আর ঠিক তখনই ঘ্যাস শব্দ। গাড়িটা কালো হয়ে যাওয়া বরফে স্লিপ করে নিয়ন্ত্রণ হারায়। চারটা চক্কর দেয় হাইওয়েতে। পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটা ট্রাক আঘাত করে মিতুর সাইডে। তারপরে আর কিছুই মনে নাই ওদের কারওর।
ইমনের যখন জ্ঞান ফেরে, প্রথম যে কথাটা মনে হয়, বীথিকে খবর দেওয়া দরকার। তারপর মনে পড়ে ও তো ঢাকায়। এখন হঠাৎ করে খবর দিলে ঘাবড়ে যাবে। আর তারপরেই একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে যায় ওর গা বেয়ে। মনে পড়ে মিতুর কথা। মিতু কেমন আছে? ওর কিছু হয়নি তো? তাড়াহুড়োয় উঠতে চেষ্টা করে ইমন। কিন্তু বুঝতে পারে তার সারা শরীরে তীব্র ব্যথা। হাতে স্যালাইন আটকানো। নড়াচড়ার শব্দে ছুটে আসে নার্স। একগাল হাসি দিয়ে বলে, থ্যাঙ্ক গড যে তোমার জ্ঞান ফিরেছে। যা ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে! পুরো ২৪ ঘণ্টা পর তোমার জ্ঞান ফিরল। আর খবরদার একটুও নড়াচড়া না। ওদিকে তোমার স্ত্রীর এখনো জ্ঞান ফেরেনি।
ইমন বুঝতে পারে মস্ত বড় ঝামেলা হয়ে গেছে। বলে, তুমি ভুল করছ, ও আমার পরিচিত। স্কুলের বন্ধু।
নার্সকে এবার চিন্তিত দেখায়। তাহলে তো ওর বাড়িতে খবর দেওয়া দরকার। তোমার কাছে ওর নম্বর আছে?
ইমন বিপদে পড়ে যায়। ওর কাছে আছে শুধু মিতুর সেল নম্বর। উপায় না দেখে নার্সের কাছেই সাহায্য চায় ও। ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে বাসার ঠিকানা ধরে হাসপাতালের সাহায্যে মিতুর বাড়ির ফোন নম্বর পায় ইমন। প্রায় দেড় দিন পরে মিতুর বাসায় ফোন করছে ইমন। আজও সেই অনেক দিন আগের মতো বুক কাঁপছে ওর। কি বলবে রনিকে?
হ্যালো। ওই প্রান্তে রনির উৎকণ্ঠিত স্বর।
এটা কি মিতুদের বাসা? আমি কি একটু রনি সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে পারি?
জি বলছি।
আমি শিকাগো থেকে ইমন বলছি। আপনি আমাকে ঠিক চিনবেন না। আমি মিতুর পূর্ব পরিচিত। গত দুই দিন মিতু আমার কাছেই আছে।
তার মানে? আপনি কি আবোলতাবোল বলছেন এ সব? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। ওর তো দেশে যাওয়ার কথা। শিকাগোতে ফ্লাইট ক্যানসেল হয়েছে। তারপর থেকে ওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষের দিকে রনির গলাটা কেমন যেন ধরে এল।
ইমন কীভাবে খবরটা দেবে বুঝতে পারছে না। আসলে ওর একটা রোড অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। এখনো কমাতে আছে, হাসপাতালে।
কি-ই-ই? আপনি ওকে কোথায় পেলেন?
আমি গাড়িতে ওকে এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে নামিয়ে দিচ্ছিলাম।
রনির কেমন যেন খুব ক্লান্ত লাগে। আর বিশেষ কিছু জিজ্ঞেস করতে রুচি হয় না। যদিও অজস্র প্রশ্ন মনে এসে ভিড় করছে। মিতু এই ভদ্রলোককে কীভাবে চেনে? কত দিন ধরে চেনে? কই, কখনো বলেনি তো এর কথা। তাহলে কি লুকিয়ে লুকিয়ে...। না, ও আর কিছুই ভাবতে পারছে না। ছি, গোপনে পুরোনো প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছে? আসলেই কি হাসপাতালে আছে, নাকি ইমনের সঙ্গে...? এ কথা ভাবতে রাগে ওর শরীর কিছুটা কাঁপছে। ওপাশে ইমন তাকে হাসপাতালের ঠিকানা দিচ্ছে। মিতুর অবস্থা পুরাটা না শুনে কিছুটা অভদ্রের মতোই ফোন রেখে দিল রনি।
ইমন খানিকটা অপ্রস্তুত। ও অবশ্য জানে না কি আশা করেছিল সে। রনি কি আসবে মিতুকে নিতে? ওর আসাটা এখন খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু ইমন তো আবার তাকে ফোন করতে পারে না। এই মুহূর্তে ও দারুণ ভাবে বীথির অভাব অনুভব করে। যদি ওকে সব খুলে বলা যেত। ও নিশ্চয়ই একটা বুদ্ধি বের করতে পারত। বীথিকে ফোন করে ইমন এটা সেটা বলল, কিন্তু আসল কথাটা আর বলতে পারে না। বীথিকে ও আসলে খানিকটা ভয় পায়। মেয়েটা একটু কঠিন হৃদয়ের আর মুখরা। তা ছাড়া, ওর শপিংয়ের লিস্ট আর টাকার হিসাব শুনতে শুনতে ইমন ক্লান্ত হয়ে যায়। এক সময় বলে ফেলে, ঠিক আছে আমি দিন দু-একের মধ্যে আরও হাজার পাঁচেক ডলার পাঠিয়ে দেব। গয়নাটা তুলে নিও। তারপরে ফোনটা নামিয়ে রাখে।
রনির পৃথিবীটা কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে। এত দিনেও কি মিতুকে চিনতে পারেনি সে? ওদের দুজনের ব্যক্তিত্ব দুই রকম। মিতু অনেক কথা বলে, মিশুক, হইচই করতে ভালোবাসে। রনি কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক, ঘরকুনো, নিজের মধ্য থাকতে ভালোবাসে। মিতু খুব নরম, আবেগপ্রবণ। রনি ঠিক তার উল্টো। আবেগটাবেগ একদম নেই তার মধ্যে। কিন্তু তাই বলে? সে তো কখনো মিতুকে ঠকায়নি। মিতুর ভেতরে একটা অন্য রকম আকর্ষণ আছে। ছেলেরা সহজেই আকৃষ্ট হয়ে যায় তার প্রতি। এটা নিয়ে রনির সব সময়ই একটা আশঙ্কা কাজ করে। কখনো প্রকাশ করেনি যদিও। আজ তার আশঙ্কাই সত্য হলো। কয়েক ঘণ্টা নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে শিকাগোর টিকিট কিনল রনি। মিতুর সঙ্গে অন্তত একটা বোঝাপড়া করা দরকার।
মিতুর জ্ঞান এসেছে কিছুক্ষণ আগে। চোখ খুলেই ও দেখে মাথার কাছে বসে আছে ইমন। একটা হাত দিয়ে ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। দুটো ভীষণ উদ্বিগ্ন চোখ। ইমন ওকে ধীরে ধীরে বলে রনিকে ফোন করার কথা। মিতু যখন জানতে চায় রনি কখন আসছে, ইমন কোনো উত্তর দিতে পারে না। যা বোঝার বুঝে নেয় মিতু। রনির সন্দেহটা ও টের পায় আর মনে মনে ভাবে তাহলে সেটারই জয় হলো। মুহূর্তে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায় মিতুর। তার মনে হয় সব ভুল। তার এত দিনের বিবাহিত জীবন, সব মিথ্যা। যে সম্পর্কে আবেগ নেই সে সম্পর্কে প্রেমও নেই। একটি মায়াময় স্পর্শের জন্য সে সারা জীবন অপেক্ষা করেছে। ইমনের প্রেমময় চোখ দুটোতে ডুব দিতে ইচ্ছা করে ওর। দুর্বল দুটো হাতে আঁকড়ে ধরে ও ইমনকে। দুর্বল মিতুকে নিজের বুকে আশ্রয় দেয় ইমন। মিতু তার সেই স্বপ্নের মিতু।
এদিকে সারা রাত জার্নি করে ক্লান্ত রনি তুষারের পাহাড় ঠেলে হাসপাতালে পৌঁছে। ও ঠিক জানে না ওর জন্য কি অপেক্ষা করছে। হয়তো দেখবে সব ভুল, হয়তো বা না। খানিকটা ফাঁকা মাথা নিয়েই মিতুর রুমে ঢুকতে গিয়ে দৃশ্যটা চোখে পরে ওর। যাকে সে এত দিন শুধু নিজের বলে জেনেছে, সেই মিতুকে নিবিড় আলিঙ্গনে জড়িয়ে আছে অচেনা একজন। ওদের ভঙ্গিটাই বলে দেয় কত আপন সেই আলিঙ্গন। আর কিছু জানতে চায় না রনি। তার যা জানার সেটা জানা হয়ে গেছে। চোখ দুটো ভীষণ জ্বালা করে। একটিও কথা না বলে ফিরে যাওয়ার পথে পা বাড়ায় সে। ততক্ষণে তাকে দেখে ফেলেছে ইমন আর মিতু। মিতু পেছন থেকে ডাক দেয় রনি, চলে যেও না। ইমন মাথা নিচু করে বসে থাকে। মিতুর দুর্বল কণ্ঠ পৌঁছায় না রনির কানে। সে ততক্ষণে অন্য পৃথিবীর মানুষ। মিতু কাতর চোখে একবার ইমনের দিকে তাকায় আর একবার রনির যাওয়ার পথে। সেও জানে না তার পথ মিলবে কোন পথে। (ক্রমশ)
(লেখিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াপ্রবাসী)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতীয় গরু না আসায় খুশি খামারিরা by খালিদ সাইফুল্লাহ
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গরু পাচার বন্ধে বিএসএফ সদস্যদের কঠোর হতে নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশে গরু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করেও মেরেছে বিএসএফ। তবে কিছু মহিষ আসছে। এ ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। গরু আসা কমে যাওয়ায় দেশে গরুর গোশতের দাম এক লাফে ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। এতে খুশি ভারত। সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এক অনুষ্ঠানে এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তবে তিনি খুশি হলেও সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধের পর এই প্রথমবারের মতো মুসলমানদের কোরবানির ঈদের আগমন ঘটছে। এতে বাংলাদেশে কোরবানির প্রধানতম পশু গরুর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত ১৬ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে বর্তমানে দুই কোটি ৮১ লাখ ৮৯ হাজার গরু রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় এক কোটি ৯ লাখ ৭৬টি এবং গাভী এক কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার। মহিষ রয়েছে পাঁচ লাখ ৫২ হাজার। এর মধ্যে ষাঁড় মহিষ দুই লাখ ৬৭ হাজার। ছাগল রয়েছে এক কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার। ভেড়া আছে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার।
তবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাবে দেশে বর্তমানে গরু আছে দুই কোটি ৩৬ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ জবাই উপযোগী।
তাদের তথ্য মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে ৮৬ লাখ ২২ হাজার গবাদিপশু জবাই হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭২ লাখ গরু। কোরবানিতে কত জবাই হয় তার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও এর অর্ধেক ধরলে ৩৬ লাখ গরুর চাহিদা তৈরি হতে পারে। সে হিসাবে কোরবানিতে ১০ লাখ গরুর ঘাটতি হতে পারে। এ কারণে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদা মতো গরু পাওয়া নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ে পড়েছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও জনমনে। এতে অনেকেই কোরবানি দিতে পারবেন কি না তা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দেশের গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা বেশ খুশি। তারা বলছেন, তিন বছর ধরে কোরবানিতে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে। এবার যদি ভারত থেকে গরু না আসে তাহলে বেশি দামে বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, ১০ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করছি। গাবতলী হাটে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে জায়গা দাদন নিয়েছি। এলাকা থেকে দেশী গরু এনে বিক্রি করি। কিন্তু গত তিন বছরে অনেক আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে। গত বছর চার লাখ এবং তার আগের বছর সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এবার যদি ভারত থেকে গরু না আসে তাহলে দেশী গরু একটু বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে। তিনি জানান, বর্তমানে তিন মণ গোশত হবে এমন গরু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকায়। কোরবানির সময় এ গরু ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে। তবে গাবতলী, আশুলিয়া, কাঞ্চন, টঙ্গী হাট ঘুরে দেখা গেছে এখনই বিক্রেতারা কোরবানির সমান দাম হাঁকছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার কারণেও এবার গরুর দাম বেশ চড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝালকাঠির গরু ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান বলেন, ভারত প্রতি বছর প্রথমে গরু বন্ধ করে দেয়। পরে ঈদের দুই-তিন দিন আগে গরু ছেড়ে দেয়। ফলে দেশী গরু ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হন। এবারো তারা এমন করে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ভারত থেকে গরু না এলে ভালো হয় জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রচুর গরু রয়েছে। কোনো সঙ্কট হবে বলে মনে হয় না। কোরবানির হাটে গরুর দাম বাড়ে কেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখন গরুর খাবারের দাম বাড়ছে। তা ছাড়া গৃহস্থরা বেশি লাভের আশায় এসব গরুকে বছর ধরে বিশেষ যতœ নিয়ে বড় করে। এ কারণে তারাও একটু বেশি দামে বিক্রি করতে চায়। তাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীদের বেশি দামে কেনা, ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে বাজারেও দাম বেড়ে যায়। কিন্তু ভারত থেকে গরু এলে গৃহস্থরাও ক্ষতির শিকার হয়।
কুষ্টিয়া মিরপুরের গরু ব্যবসায়ী চান্নু মেম্বার ২৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। এলাকা থেকে দেশী গরু কিনে এনে সারা বছর গাবতলীর হাটে বিক্রি করেন। কোরবানির সময় তিনি আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু গত তিন বছরে তাকে ২০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে। তিনি জানান, এখন পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছি। জানি না এবার কী হবে। চান্নু মিয়া বলেন, ভারতীয় গরু-মহিষ দেশে না আসাই ভালো। এতে করে দেশের টাকা দেশে থাকবে। এ ছাড়া গ্রামের অনেক গৃহস্থ গরু পালন করছে কোরবানি ঈদের সময় গরুর দাম বেশি পাওয়ার আশায়। কিন্তু ভারতের গরু দেশে প্রবেশ করলে এসব গৃহস্থকে চরম লোকসান গুনতে হবে।
তবে ভারত থেকে গরু না এলে সঙ্কট সৃষ্টি হবে বলে জানান গাবতলীর মহিষ ব্যবসায়ী সাদ আলী। তিনি বলেন, ভারত থেকে এখন খুবই কম গরু আসছে। তবে মহিষ আসছে ভালোই। গাবতলী হাটে যে মহিষ রয়েছে তার সবই ভারত থেকে আসা জানিয়ে তিনি বলেন, কোরবানির সময় গরু না এলে ব্যাপক সঙ্কট হবে। কারণ কোরবানিতে দেশে যত গরু লাগে তা বর্তমানে নেই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জঙ্গি হামলার ‘ভুল’ খবর দিলে বিপুল অর্থদণ্ড
![]() |
| আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বন্ধ পাটকল চালু করা মারাত্মক ভুল! by আবুল হাসনাত
সরকারের ভাষ্য, পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটলেও সরকারি পাটকল নিজের অর্থে চলতে পারছে না। পুনরুজ্জীবনের নামে সরকারি পাটকলে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া ৩৫ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ২২ হাজারই প্রয়োজনের অতিরিক্ত। ফলে বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে পাট কেনা পর্যন্ত প্রায় সব কাজেই বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনকে (বিজেএমসি) হাত পাততে হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী এখন আর নতুন করে অর্থ দিতে রাজি নন।
বিজেএমসির পক্ষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছিল ঈদুল ফিতরের আগে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করে অর্থমন্ত্রীকে দেন। ওই সারসংক্ষেপে নিজের হাতে অর্থমন্ত্রী লিখেছেন, ‘সরকার বিলুপ্ত পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে মারাত্মক ভুল করেছে বলে আমার মনে হয়। ব্যক্তিমালিকানা খাতে পাট পুনরুজ্জীবিত হয় এবং তারা বেশ ভালোই করছিল। সরকারি মিল চালু করার পর থেকেই পুরো পাট খাতের অবস্থা দিন দিন খারাপই হচ্ছে। সরকারি পরিচালনার দুর্বলতাই এর জন্য দায়ী। এই ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন না করে টাকা প্রদান শুধু লোকসানের বোঝা ভারী করবে। পাট মন্ত্রণালয়কে এভাবেই জানাতে হবে। প্রয়োজনে চিঠি আমিই লিখতে পারি।’
পাট খাতকে উজ্জীবিত করতে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিজেএমসিকে ৫ হাজার ৪৪১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দিয়েছে। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পাট মন্ত্রণালয়/বিজেএমসির সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বিজেএমসির জন্য আর কোনো সরকারি অর্থ বরাদ্দ চাইতে পারবে না পাট মন্ত্রণালয়/বিজেএমসি।
পাট খাতের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে সরকার ২০১১ সালে বিজেএমসিকে প্রথম ১০৫ কোটি টাকা দিয়েছিল। এর পুরোটাই চলে যায় দুটি বন্ধ পাটকল চালু করতে। এগুলো হলো সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস (সাবেক কওমী জুট মিলস) ও খুলনার খালিশপুর জুট মিলস (সাবেক পিপলস জুট মিলস)। বিজেএমসি নিজস্ব অর্থায়নে ৭২ কোটি ৫০ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও তিনটি বন্ধ পাটকল চালু করে। এগুলো হলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী জুট মিলস ও ফোরাম-কর্ণফুলী কার্পেটস ফ্যাক্টরি এবং খুলনার দৌলতপুর জুট মিলস।
বিজেএমসি বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে সরকারি পাটকলে নতুন করে ৩৫ হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ২২ হাজারই প্রয়োজনের অতিরিক্ত। এই শ্রমিকদের জন্য বিজেএমসির বছরে খরচ হচ্ছে ২৫০ কোটি টাকা। আবার কাঁচা পাটের অভাবে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমেছে। বছরের অধিকাংশ সময়ই মাত্র ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ তাঁত চালানো সম্ভব হয়েছে। কারণ, অর্থসংকটের কারণে গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ৩৩ শতাংশ পাট কিনতে পেরেছে সংস্থাটি।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে খানিকটা একমত ২০১০ সালে সরকারের গঠিত পাট কমিশনের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু করা ভুল হয়েছে, তা আমি সরাসরি বলব না। কারণ, আমরা পাট কমিশনের প্রতিবেদন তৈরির সময় দেখেছিলাম, এর চাহিদা আছে। কিন্তু দক্ষ ব্যবস্থাপনা না থাকলে তো বাজার ধরা যাবে না। এসব পাটকল চালানোর জন্য দক্ষ লোক পাওয়া যায়নি। অন্য লোক দিয়ে চালাতে হয়েছে। সে কারণেই সমস্যা হয়েছে। তবে যেহেতু সরকার যেভাবে চেয়েছিল, সেভাবে পাটকলগুলো দাঁড়ায়নি; তাই এক অর্থে বলা যায়, ভুল ছিল।’
এসব বিষয়ে বিজেএমসির চেয়ারম্যান হুমায়ূন খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী আমাদের পাটের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম ছিল পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একের পর এক বন্ধ পাটকল চালু করেছেন। অন্যান্য বন্ধ কলকারখানা চালু করার বিষয়ে ওনার নির্দেশনাও আছে। এই অবস্থায় উনি (অর্থমন্ত্রী) কীভাবে বলেন যে বন্ধ পাটকল চালু করে ভুল হয়েছে।’
বিজেএমসি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়: ঈদের আগে পাট মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিজেএমসির জন্য ১ হাজার ২০৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থ বিভাগ তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উত্তেজনা চলছে। যেকোনো সময় পাটকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে পাট মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও উৎসব ভাতা দিতে ২০০ কোটি এবং পাট কিনতে ৫০০ কোটি মোট ৭০০ কোটি টাকা জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই সারসংক্ষেপটি তৈরি করেন অর্থসচিব। তাতে বলা হয়, ২০০৯ সালে সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিজেএমসিকে লাভজনকভাবে পরিচালনার জন্য পাট মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসি একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিজেএমসির যাবতীয় দায়দেনা (বকেয়া মজুরি-বেতন-স্টোর বিল ও যাবতীয় ঋণ) পরিশোধ করতে ৫ হাজার ২৪১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দেয়। এই আর্থিক সহায়তা দিলে ভবিষ্যতে বিজেএমসির জন্য আর কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হবে না এবং আরও কয়েকটি শর্তে পাট মন্ত্রণালয়/বিজেএমসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়।
সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়, এরপরও বিজেএমসিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তিন দফায় ২০০ কোটি দেওয়া হয়। ফলে বিজেএমসিকে দেওয়া মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪৪১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
অর্থসচিবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বিজেএমসির কাঁচা পাট কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ ক্ষেত্রে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। সার্বিক দিক বিবেচনা করে ‘অনুন্নয়ন খাতের নগদ ঋণ’ খাত থেকে পাট কেনার জন্য এ বছর ১০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন। যদিও পরে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও ৬ আগস্ট পাট কেনার জন্য ৪০০ কোটি টাকা চেয়ে আবারও চিঠি দিয়েছে বিজেএমসি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
August
(765)
-
▼
Aug 19
(25)
- বিনা ভোটে ৩০০ আসনেও নির্বাচন? by মিজানুর রহমান খান
- আমরণ অনশনে ২৫০ ফিলিস্তিনি
- মুক্তি পেলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার
- জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীব...
- বাংলাদেশে মুক্তমতের ওপর চাপাতি হামলা -হিউম্যান রাই...
- দেশে যার যা খুশি তাই করছে : এরশাদ
- র্যাব–পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছাত্রলীগের নিহত ২
- মিসরে 'অভ্যুত্থানচেষ্টা' : ২৬ অফিসারের কারাদণ্ড
- ‘একুশ শতকের গ্রিক ট্রাজেডি’ by মইনুল ইসলাম
- কোটাবঞ্চিত হজ এজেন্সি ও হাব মুখোমুখি: হজ ক্যাম্পে ...
- অবিশ্বাস্য ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে ইরান!
- ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির ফল কী হবে? by রিচার...
- ভালুকায় বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষ: আবারো দুই কোটি টা...
- মাওলানা নিজামীর আপিল শুনানি মুলতবির আবেদন
- গল্প- না বলা কথা by তামান্না ইসলাম
- ভারতীয় গরু না আসায় খুশি খামারিরা by খালিদ সাইফুল্লাহ
- জঙ্গি হামলার ‘ভুল’ খবর দিলে বিপুল অর্থদণ্ড
- বন্ধ পাটকল চালু করা মারাত্মক ভুল! by আবুল হাসনাত
- স্মার্ট সিটি মাসদারে মোদি
- প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফেরার আশা রাজাপক্ষের
- ভারতকে হারিয়ে সাফের মুকুট বাংলাদেশের যুবাদের
- সংবাদভাষ্য : আদালতে দুই সাংবাদিক
- কোন যোগ্যতায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী by মিজানুর রহমান...
- ই–ভিসা নিয়ে জটিলতাঃ হজ অফিসকে দায়ী করছে সৌদি কর্ত...
- ‘আমার চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ’ -সাংবাদি...
-
▼
Aug 19
(25)
-
▼
August
(765)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...














