Monday, May 11, 2015
প্রতিবাদ দমনে লাঠিপেটা
নারী লাঞ্ছনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের দমনে পুলিশ এত মারমুখী হলো কেন—জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ডিসি রমনার (রমনা বিভাগের উপকমিশনার) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার আবদুল বাতেন ঘটনাস্থলেই সাংবাদিকদের বলেন, ‘দাবি পেশ করার জন্য লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাস্তা আটকে তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে পারেন না। হাজার হাজার গাড়িঘোড়া বন্ধ করে রাখতে পারেন না। আপনারা দেখেছেন, তাঁরা প্রায় আধঘণ্টা রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিলেন। ওনাদের বারবার রিকোয়েস্ট করেছি। তখন তো রাস্তা পরিষ্কার করা আমাদের দায়িত্ব।’
পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক দীর্ঘ সময় ধরে নারীদের লাঞ্ছিত করে। তাদের বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দীসহ দুজন। শুরু থেকেই লিটন নন্দী ও অন্যরা অভিযোগ করে আসছিলেন, বারবার পুলিশের সাহায্য চাওয়া হলেও পুলিশ লাঞ্ছনাকারীদের ঠেকাতে বা ধরতে এগিয়ে আসেনি। দুজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
লাঞ্ছনার ঘটনার পরদিন থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠন দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। ঘটনার পরদিন থেকে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রতিদিন কোনো না কোনো সংগঠন কর্মসূচি পালন করছে।
এর পরও পুলিশ দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে ‘পাল্টা আঘাত’-এর ব্যানারে ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্র ইউনিয়ন। সেই কর্মসূচিতে আরও কয়েকটি ছাত্র ও নারী সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে।
এ সময় সার্কিট হাউস রোডে সরকারি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারের সামনে ফুটপাতে একটি গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ছাত্র ইউনিয়নের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ইসমত জাহানকে চুলের মুঠি ধরে বের করে আনেন পুলিশের একজন পুরুষ সদস্য। সঙ্গে সঙ্গে আরও কয়েকজন ছুটে যান তাঁকে মারতে। একজন লাথি মারেন, আরেকজন ওড়না ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আরেকজন গলাধাক্কা দেন। এ সময় ইসমত পড়ে যান। এরপর পুলিশ তাঁকে টেনে তোলার জন্য টানাহেঁচড়া করে। সেখানে পুলিশের নারী সদস্য থাকলেও তাঁরা নীরব ছিলেন।
রাতে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটকের পর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সন্ধ্যায় ওসি জানিয়েছিলেন। অবশ্য রাত ১২টা পর্যন্ত মামলা হয়নি।
যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁরা হলেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অনিক রায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত ও কর্মী সাদ্দাম হোসেন, তেজগাঁও শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তু চন্দ্রনাথ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী আরিফুল ইসলাম।
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আজ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং কাল মঙ্গলবার সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে ছাত্র ইউনিয়ন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবপাচার রোধে বেড়েছে ‘হঠাৎ তৎপরতা’
তবে এমন ‘হঠাৎ উদ্যোগ’ না নিয়ে পাচার রোধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিচালনার পক্ষে মত দিয়েছেন একজন বিশেষজ্ঞ।
মানব পাচার নিয়ে কাজ করে এমন বিভিন্ন সংগঠন ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য থেকে জানা যায়, সাধারণত স্বল্প খরচে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে দালালেরা দরিদ্র লোকজনকে টেকনাফ ও উখিয়ায় এনে জড়ো করে। পরে টেকনাফ থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে তাদের উঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে গিয়ে কোনো রকমে টিকে থাকতে পারে। তবে তাদের বিরাট একটা অংশকে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে আটকে রেখে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণের জন্য অর্থ দাবি করা হয়। আবার অনেক সময় সাগরপথে যাওয়ার সময় নৌকা বা ট্রলার ডুবে বহু মানুষ মারা যায়। সেসব ঘটনায় মামলাও হয়। কিন্তু এ সমস্যার সুরাহা হয় না।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট এক সংবাদে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের বরাত দিয়ে বলেছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ২৫ হাজার বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা পাচারের ঘটনা ঘটেছে। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। তবে ওই সংবাদে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করেন, দেশ থেকে মানব পাচারের হার কমেছে।
শরণার্থী নিয়ে কাজ করে রামরু নামের একটি সংগঠন। রামরুর নির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোজানা রশিদ বলেন, সরকার বিভিন্ন সময়ে মানবপাচারের বিষয়টিকে লুকানোর চেষ্টা করেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর এটি পরিষ্কার যে, বাংলাদেশে মানবপাচারকারীদের শক্ত নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে এবং এখান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়, হত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে।
এভাবে ব্যাপক হারে লোক পাচার হলেও মানবপাচার প্রতিরোধে পুলিশের তৎ পরতা চোখে পড়ার মতো নয়। তবে সম্প্রতি থাইল্যান্ডে গণকববের সন্ধান এবং বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উদ্ধারের পর পুলিশে তৎপরতা বেড়েছে।
গত শুক্রবার টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান তিন সন্দেহভাজন মানবপাচারকারী ধলু হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম জাফর আলম পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। এদের তিনজনের বিরুদ্ধে মানব পাচারের ১৯টি মামলা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে জাফর মাঝি নামে এক মানবপাচারকারী মারা যান। তাঁর বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মানব পাচারের অভিযোগে পাঁচটি মামলা ছিল।
এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে ২৩ জন সন্দেহভাজন মানবপাচারকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ সোমবার ভোররাতে টেকনাফ থেকে মো. খায়ের হোসেন, মো. আলী হোসেন ও আবদুর রহমান নামে তিন সন্দেহভাজন মানবপাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত দশদিনে শুধুমাত্র টেকনাফ জেলা থেকেই ১৩ জন মানবপাচারকারীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কক্সবাজার থেকে আটক করা হয়েছে সাতজনকে, মহেশখালী থেকে দুজন এবং উখিয়া থেকে আটক করা হয় একজনকে।
সহযোগী অধ্যাপক রোজানা রশিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ঘটার পর সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার এখন ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বলার চেষ্টা করছে যে মানবপাচার প্রতিরোধে তারা তৎপর। এটি ‘আইওয়াশ’। যাদের আটক করা হচ্ছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিচারের ব্যবস্থা করলে মূল হোতারা আটক হতো। সরকার এখন যেভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হবে না।
গত শুক্রবার বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়া ধলু হোসেন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নয়টি মামলাও হয়। কিন্তু এত দিন বহাল তবিয়তেই ছিলেন তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কার্টুন এক তামাশা by নাজমা মোস্তফা
ও দিকে ১১ জানুয়ারিতে ৪০টি দেশে হর্তাকর্তাসহ এর প্রতিবাদে জড়ো হন প্যারিসের সব মিলে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ। সে দিন তাদের সবার হাতের পতাকাতে একটি মেসেজই ছিল ‘জে স্যুট চার্লি’ এর অর্থ হচ্ছে ‘আমি চার্লি।’ এর এক মাস পর ১১ ফেব্রুয়ারিতে নর্থ ক্যারোলিনার ইউনিভার্সিটি টাউন অব চ্যাপেল হিলে তিনজন মুসলিম নিহত হয় যাদের মাঝে এক দম্পতি স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন, তৃতীয়জন ওই মেয়েটির বোন এক সাথে একজন সন্ত্রাসীর হাতে মারা যায়। এর ধারাবাহিকতায় ৪৬ বছরের স্টিফেন হিক্সকে আক্রমণকারী হিসেবে পুলিশ আটক করে। এসব ঘটনার পর আমার মনে ওই কার্টুন দেখার বিষয়ে কিছু উৎসাহ সৃষ্টি হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি ওগুলো খুঁজতে থাকি। যদিও ফ্রেন্স ভাষা না জানাতে তাদের প্রতিটি কথার অর্থ আমি বুঝতে পারিনি, তবে কিছু ধারণা পাই কিছু কার্টুনের আকার ইঙ্গিত দেখে। দু-একটি ছবি দেখার পর আমার এসব দেখার উৎসাহ কমে আসে। কারণ সেই পুরনো একই খেলা কত আর শোনা যায় বা দেখা যায়, জনম জনম থেকে সেই এক সাপের নাচন খেলা, ওসব দেখতে কি আর মন চায়? মনে হলো মিডিয়া, চার্লি ও অন্য কার্টুনিস্টরা যা করছে, এসব কত যে বড় রকমের হাস্যস্পদ কাজ তারা করছে, সেটি তারা নিজেরাও চিন্তা করতে পারছে না। এটা অনেকটা মিথ্যার সাথে যুদ্ধ করার মতো, ছায়ার সাথে যুদ্ধ করার মতো ব্যাপার। ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় কিছু মানুষ নবী ঈসা আ:কে বাস্টার্ড গালি দিয়ে চরম প্রশান্তি অর্জন করেছে। তখনকার ইহুদি রাব্বিরা তাকে শূলে চড়ায়, তাদের দাবি অনুযায়ী তাকে ক্রুশে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনার আলোকে মানুষটিকে টিটকারি মশকরা করার কোনো কমতি তারা রাখেনি। থুথু ছিটিয়েছে, মাথায় কাঁটার মালা পরিয়েছে, বাস্টার্ড বলে গালি দিয়েছে, একই আদর্শের দিশা ধরে ভিন্ন আরেকদল যখন নবী মুহাম্মাদ সা:কে একজন যুদ্ধবাজ, নারী নির্যাতনকারী বা নারীলোভী হিসেবে উপস্থাপন করে চরম তৃপ্তি পেতে চায়। যখন একজন সম্মানিতকে কোনোভাবেই অবদমিত অপমানিত করার সুযোগ থাকে না, তখন অসুস্থ জনতা মনের সান্ত্বনার জন্য এসব অপবাদকে মুখরোচক হিসেবে গ্রহণ করে, আর ওতেই সান্ত্বনা পেতে চায়। বস্তুত এসব করে তারা নিজের অন্তরের হিংসার ক্ষতের ওপর প্রলেপ লেপে দিতে চায়।
ধর্ম এক চরম মিথ্যাচার, এ বিতণ্ডার কোনো সুযোগ নেই। এর প্রধান প্রমাণ হচ্ছে এক ধর্মের সাথে অন্য ধর্মের একাত্মতা। ইহুদি, খ্রিষ্টান আর ইসলাম, ধর্মের যোগসূত্রে বাঁধা এরা তিন। সোজা করে তাকালেই দেখা যায় এরা সবাই এক ঘরের মানুষ, মূলত এরা এক আলোর দিশারি। এমনো দেখা গেছে, যারা যৌবনে ধর্ম মানেনি তারা প্রৌঢ় হলেই ধর্মের ঘাড়ে ভর করে দাঁড়াতে চেয়েছে। কিন্তু যখন গায়ে শক্তি থেকেছে তখনই শক্তির বাহাদুরিতে ধর্মকে অবজ্ঞা করেছে বহু বেশি, হয়েছে নাস্তিক। ধর্মের এ বিতণ্ডা দেখে নাস্তিকতায় সান্ত্বনা খুঁজেছে অনেকে, এ হচ্ছে বোকামির ধর্মদর্শন। দেখা যায়, ইসলামকে প্রতিপক্ষ জেনে সেই সপ্তম শতাব্দী থেকে চলছে এসব লড়াই। আজ এত দিন পরও সেটি শেষ না হয়ে বরং যেন দিনে দিনে মহীরুহ হয়ে উঠছে। তাই মহীরুহের অবস্থানকে স্পষ্ট করার দায়িত্ব ছিল আমাদের প্রতিটি ধর্মধারীর। যারা এর পেছনে রসদ জুগিয়ে চলেছে, তাদের সযতœ তদারকিতে এটি বেড়েই চলেছে। আর যাদের দায়িত্ব ছিল এসব জটিলকে খোলাসা করার তারা দিনে দিনে ধর্মের মূল গবেষণা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বরং উল্টো বিরোধীকে রসদ জুগিয়ে গেছে। এ রকম বহু উদাহরণ চার পাশে ছড়ানো আছে। এ শতকের শুরুতে ৯/১১-এ ঘটে ভিন্ন রকম যুদ্ধের সূচনাপর্ব। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ একে ‘ক্রুসেড’ বলে ডাক দিলেও প্রতিবাদ উঠলে তাকে ‘সরি’ বলতে হয়েছে। কিন্তু প্রথমে সময়ক্ষ্যাপন না করে তিনি ক্রুসেডের ডাক দেন। সভ্যতার যে সঙ্কটের আশঙ্কা করেছে সচেতনেরা, তারা ওটি নির্মূল করতে আজ নতুন করে ভাবছে কিভাবে প্রত্যেকের ই-মেইল ইন্টারনেট চেক করবে। এতে মানুষের প্রাইভেসির মাত্রাটি একদম শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে, সন্দেহ নেই। তারপরও কি যুদ্ধকে সামাল দেয়া যাবে বলে মনে হয়, যদি না এসব মিথ্যা ক্যারিক্যাচার বন্ধ হয়?
বিগত শতকে হিটলার (অনেকের ধারণা মতে ৬০ লাখ) ইহুদি নিধন করে সহজ একটি সমাধান করতে চান। এতে কত দূর যে সমাধান হয়েছে তা ইতিহাসই সাক্ষী। বরং এক হিটলারের বদলে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে ইহুদিরাই পরবর্তী বিশে^র হিটলার হয়ে নতুন জন্মে ফিলিস্তিনের কলিজাতে কামড় দিয়ে চলেছে। যদিও ফিলিস্তিনিরা এর জন্য মোটেও দায়ী নয়, জার্মান হিটলারের দায় তাদের ঘাড়ে চাপার কথা নয়, কিন্তু অবিবেচকের মতো বিশ^ মোড়লরা এ ব্যাপারে চরম অনাচার করে বিধাতার দরগাহে খুব বড়দাগেই আজকের দণ্ডধারী আসামি। বড় কর্তারা যারা শুরু থেকেই এর পেছনে তেল জুুগিয়েছে তাদের ঘাড়েই এর দায় বর্তায়। সেখানে দেখা যায় নিরপরাধ প্যালেস্টিনিয়ানদের শিশু, মেয়ে, মহিলা, পুরুষ কারো মুক্তি মেলেনি ওই সব দানবস্বরূপ পরবর্তী ইহুদিদের অত্যাচার থেকে। তাদের স্বগৃহ থেকে বের করে নিয়ে সর্বস্ব লুণ্ঠন করে পথে বসিয়েছে, এমন অনাচার নেই যা তারা করেনি। জাতিসঙ্ঘ নির্ধারিত স্কুলেও হামলে পড়তে তাদের বাধেনি। বাড়ির মূল কর্তাকে বের করে নিয়ে পুরো বিশ্ব থেকে ছন্নছাড়া ইহুদিদের ধরে ধরে এনে নতুন বসতি গড়ে তোলে। যেন এ রকম, আমাদের পূর্বপুরুষেরা আরবে বাস করতেন, এর পর আমরা পুরো বিশে^ ছড়িয়ে পড়লেও কৌশলবাজরা ধরে ধরে আমাদের এনে ফের আরব ভূমিতে বসিয়ে দেয়, আর মূল আরববাসীকে তাদের পূর্বপুরুষের ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। বিবেকের কাছে এটি যেমন একটি অনাচার হবে, ইহুদিদের ইসরাইলে বসিয়ে দেয়া ওই রকমই একটি বড় অনাচারের উৎকৃষ্ট নমুনা মাত্র। নবী ঈসা এসেছিলেন একজন আঞ্চলিক নবী হয়ে, বাইবেলের হিসাবেও ইহুদিদের হারানো গোত্রের সন্ধানকর্তা হিসেবে এসেছিলেন। তিনি ছিলেন আঞ্চলিক নবী। মূসা নবীর অনুসারীরা এভাবে ক্রমে সারা বিশ্বে এখানে ওখানে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বাইবেল বলে, ‘তিনি (জিসাস ক্রাইস্ট) উত্তরে বলেন, ‘ইসরাইল কুলের হারানো মেষ ছাড়া আর কারো নিকট আমি প্রেরিত হই নাই’ (বাইবেল, ম্যাথ্যু ১৫:২৪ আয়াত)। দেখা যায় যে মূসার অনুসারী ইহুদিদের খুঁজে দেখার কাজে তিনি এসেছিলেন, তারাই তাকে এর মধ্যেই শূলে চড়ায়। এরা বিভ্রান্ত হয়েছিল বলেই পরবর্তী নবী ঈসাকে আসতে হয় এবং এর পরবর্তী ঈসার অনুসারীরাও বিভ্রান্ত হয়েছিল বলে তারও পরবর্তীকে আসতে হয়, আর তিনি হচ্ছেন শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা:)। তার হতেই ধর্ম পূর্ণতা লাভ করে। পরিপূর্ণ সিলেবাস আসার পর আর কারো আসার প্রয়োজন নেই। এবার এর মধ্যে কোনো জটিলতা ধরা থাকলে কুরআনের প্রথম বাণী ‘পড়’ কথার অনুসরণে ধর্মধারী জনগণকেই প্রয়োজনে গবেষণা করে সঠিকের চর্চা করতে হবে। বিদায় হজের বাণীতে ছিল মিথ্যা ‘চিরতরে দূরীভূত হয়েছে’।
প্রায় দুই হাজার বছর পরের ইতিহাসে সারা বিশ্ব থেকে ইহুদিদের ধরে এনে প্যালেস্টাইনে ঠাঁই দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ এমপি মি. ডেভিড ওয়ার্ড ইসরাইলি প্রাইম মিনিস্টারের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই প্যারিস সংহতিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারির ১১ তারিখে। এবং তিনি শুধু প্রতিবাদই করেননি তার প্ল্যাকার্ডের বাণী ছিল ‘জে স্যুট প্যালেস্টাইন’ ‘আমি প্যালেস্টাইনি’ ছিল তার প্রতিবাদের স্লোগান। গাজার হামলার প্রতিবাদে তিনি বলেন, ‘আমি যদি তখন গাজাতে থাকতাম, আমি ইসরাইলের প্রতি রকেট নিক্ষেপ করতাম’। ৬০ বছরেরও বেশি সময় থেকে প্যালেস্টাইনিরা এ মার খেয়ে যাচ্ছে। যদিও বিশ্বের সুজনদের মেধাবীদের শরীরের ওপর বিবেক নামের মস্তিষ্কটি আজো সচল আছে এবং ছিল। যে ধর্ম দিয়ে বিরুদ্ধবাদীরা ইসলামের জনতাকে পাগল ঠাওর করতে চাচ্ছেন মুক্তির রাস্তা খুঁজতে এমন জটিল সময়ে সে গ্রন্থ থেকে কিছু বাণী আনছি। সে গ্রন্থে পাওয়া যায় খ্রিষ্টানরাই মুসলিমের সবচেয়ে কাছের স্বজন। আর ইসলামের শুরু থেকেই এর সর্বনাশ ও ধ্বংস সাধনে ইহুদিরা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত থাকার ইতিহাস পাওয়া যায় সর্বত্র। নবী মুহাম্মাদকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের সাথে তারা বারবার জড়িত থেকেছে। এসব আচরণের কিছু দাগ-চিহ্নও পবিত্র গ্রন্থ কুরআনে পাওয়া যায়। এতে ইহুদিদের কপটতা ও খ্রিষ্টানের সহজতা ধরা পড়ে (সূরা মায়দাহ এর ৮২ আয়াত)। অতীতে ইহুদিরাই নবী ঈসাকে অর্থাৎ জিসাসকে নিয়ে মশকরা করেছেন আর আজকে তারা দুই দলই (ইহুদি ও খ্রিষ্টান) নবী মুহাম্মাদকে নিয়ে মশকরা করছে, আর নাস্তিক্য ধারার কারণে এসব বেড়ে চলেছে। যদিও ধর্মের একত্ব যেখানে লক্ষ করা যায়, সেখানে এসব হওয়ার কথা ছিল না।
(কুরআনে সূরা নিসার ৫ ও ৬ আয়াতে) দেখা যায় আল্লাহর নির্দেশ এসেছে কিভাবে সংশ্লিষ্টরা একজন সাধারণ মুসলিম অনাথের প্রতি যত্নবান হবেন। সেখানে বলা হয় তাদের যত্ন নিতে হবে যত দিন না তারা বিবাহযোগ্যা হয়ে ওঠে, তত দিন তাদের দেখভাল করতে হবে, তাদের সহায় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে তা নষ্ট করা যাবে না। অতঃপর তাদের সম্পত্তি তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। সবার শেষে সাবধানবাণী হিসেবে বলা হয় হিসাবরক্ষক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। ইসলামের এ রকম একটি নির্দেশের পর কেমন করে নবী মুহাম্মাদ (সা:) একজন ছয় বছর বা ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন বলে যা চৌদ্দশত বছর পরও বিরোধীর জ্বালা হয়ে জ্বলছে। ধারাবাহিকভাবে সমাজে এ নিয়ে বিতণ্ডা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সবার ওপর আবু বকর ছিলেন বিবি আয়েশার বাবা, বাবার কষ্টের চেয়েও আজকের বিরোধীর কষ্ট যেন বহুগুণ বেশি। তিনি এমন একজন বিচক্ষণ সাহাবা (নবীর সহচর) যাকে নবীর পরই খলিফার মর্যাদা দেয়া হয়। এতে কি এসব স্পষ্ট হয় না, এসবই বিরুদ্ধবাদীদের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়? সবচেয়ে বড় কথা নবী মুহাম্মাদ ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত এক স্ত্রী বিবি খাদিজা ছাড়া আর কারো পাণি গ্রহণ করেননি। ওই সময় তার ঘরে চার চারজন মেয়ে ফাতেমা, কুলসুম, রোকেয়া, জয়নব এদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও একজন বুদ্ধিমতি যোগ্য অভিভাবকের সংবাদ নিয়ে খাওলাহ নামের এক মহিলা বিবি আয়েশার নাম উচ্চারণ করে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসেন, তখন নবীর ৫৫ বছরে ওই বিয়ে হয়। এসব ক্ষেত্রে যে বা যারা আরবি ভাষা জানেন তারা ভালো করেই জানেন ‘বিকর’ শব্দটি কখনোই কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক(?) শিশুর জন্য বা ৯ বছরের শিশুর জন্য ব্যবহার হয় না। এটি একমাত্র তার জন্যই ব্যবহার হয়েছে যে এরই মধ্যে বিবাহযোগ্যা (তাইয়্যিবা) হয়ে উঠেছে। আমি দেখেছি অনেক মুসলমানও বিষয়টি ভালো করে জানেন না। অনেকে সহি হাদিসের দোহাই দিয়ে এ রকম কুরআনবিরোধী মিথ্যার প্রচার করে ধর্মের বারোটা বাজিয়ে চলেছেন, যার ইন্ধনে পুরো বিশে^ লঙ্কাকাণ্ড চলছে। সহি হাদিসের বড় শর্ত হচ্ছে তা কুরআনবিরোধী হতে পারবে না। কোনো হাদিস কুরআনবিরোধী হলে, তা বাতিল বলে গণ্য হবে, এটি হাদিসের প্রধান শর্ত। সারা বিশ^ই আজ বিবি আয়েশার মা বাবা সেজে যুদ্ধের মাঠে নেমেছে। বিবি আয়েশা আজ তাদের হাতের গিনিপিগ। আর বিরোধীরা মহা উৎসাহে এসবের উপর নটনৃত্য চালিয়ে যাচ্ছে। কার্টুন রচিত হচ্ছে এসব ভুলের ওপরই রঙ্গমেলা চলছে, কলমের কালিতে কার্টুনের আঁকিবুকিতে ওটিই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।
দেখা যায় বেশির ভাগ কার্টুনের ক্যারিকেচার হচ্ছে বহুবিবাহ, বিবি আয়েশার বিয়ে, যুদ্ধবাজ ধর্ম এসব নিয়ে বিতণ্ডা। আমরা সবাই জানি বাইবেলে বহু বিবাহ একটি সাধারণ ঘটনা। নবী ইব্রাহিমের দুই সন্তান ইসমাইল ও ইসহাক দুই মায়ের দুই সন্তান। তাই বলে ওই সব নিয়ে ইসলামে কোনো বিতণ্ডা করতে দেখা যায় না বা কোনো বিতণ্ডা বাধে না। ইসলামের বক্তব্যও এক বিয়েতেই টিকে, সূরা নিসার ৩ আয়াতে শর্ত হচ্ছে একাধিক স্ত্রী থাকলে সবার সাথে সমতা রাখতে হবে ও সেটি জটিল। তোমরা একাধিকের সাথে সমতা রাখতে পারবে না (৪:১২৯) তা হলে একজনকেই এবং এটিই বেশি সঙ্গত’ (সূরা নিসার ৩ আয়াত)। ইসলামের শক্তি প্রবল বলেই হয়তো মিথ্যা গল্প জুড়ে কুরআন, মুহাম্মাদ ও ইসলাম নিয়ে মশকরা করার লোকের বিধর্মী বা নাস্তিকের কোনো কমতি নেই এ পৃথিবীতে, কোনো যুগেই এদের কমতি হয়নি। বেশির ভাগ বিতণ্ডাকারীদের কথা হচ্ছে বিবি আয়েশার বিয়ে হয়েছে ছয় বছর বয়সে আর ঘরে তোলা হয়েছে ৯ বছর বয়সে। গোটা বিশ্বে এ রকম অনেক কর্ম অপকর্ম আছে যার কোনো অভাব নেই কিন্তু ইসলামকে নিয়ে এ ক্যারিকেচার যেন কিয়ামত পর্যন্তই চলবে। সে দিন যখন কার্টুন খুঁজতে থাকি তখন দু’টি আঁকিবুকি আমার কাছে স্পষ্ট হয় একটি চাকাওয়ালা বাহনে দেখা যায় নবী মুহাম্মাদ (সা:) ও ছয় বছরের শিশু আয়েশা বসে আছেন এবং ছবিতে টেগ লাগানো আছে যে মুহাম্মাদ ও তার কনে আয়েশা এ রকম কিছু একটা। অন্য একটি ছবিতে এক মুসলিম সম্ভবত নবী স্বয়ং কুরআন হাতে দাঁড়িয়ে আর দূর থেকে সেখানে শেলের মতো কিছু এসে কুরআনকে বিদ্ধ করছে। যেন কুরআনের সাথে যুদ্ধ চলছে, অস্ত্রের যুদ্ধ। আজ থেকে প্রায় বারো-তেরো বছর আগে ইন্টারনেটে নাস্তিকের সাথে যুদ্ধ করতে যেয়ে এর জবাবে ১৬টি পয়েন্টের ভিত্তিতে যুক্তি খুঁজে পাই যেখানে প্রমাণিত হয় যে, বিবি আয়েশার বিয়ে মোটেও ৬ বা ৯ বছরে হয়নি, বরং বিয়েটি হয় ১৯ বছর বয়সে তার বহুবিধ প্রমাণ পাওয়া যায়। কিভাবে মিথ্যার সাথে আজ চৌদ্দ শতাব্দী পরও তারা যুদ্ধ করে চলেছে, যেন ছায়ার সাথে যুদ্ধ করছে। ওখান থেকে শুধু কুরআনের যুক্তিটুকুই যথেষ্ট মনে করে আনছি, কারণ এটি আল্লাহর বাণী। ‘আর এতিমদের পরীক্ষা করে দেখবে যে পর্যন্ত না তারা বিবাহ বয়সে পৌঁছে যায়, তারপর যদি তাদের মধ্যে বিচারবুদ্ধি দেখতে পাও তবে তাদের সম্পত্তি তাদের হস্তার্পণ করবে, আর তা মাত্রাতিরিক্তভাবে ও তাড়াহুড়া করে খেয়ে ফেলো না পাছে তারা বড় হয়ে যাবে (এই আশঙ্কায়) আর যে অবস্থায় পড়বে সে যেন বিরত থাকে, আর যে গরিব সে ন্যায়সঙ্গতভাবে খায়। তারপর যখন তোমরা তাদের সম্পত্তি তাদের ফিরিয়ে দাও তখন তাদের সামনে সাক্ষী ডাকো। আর হিসাবরক্ষকরূপে আল্লাহ যথেষ্ট’ (সূরা নিসার ৬ আয়াত)।
বাকি অনেক হাদিস ও ঐতিহাসিক যুক্তিতেও এসব বানোয়াট কথা টিকে না। এবন হেশাম, হালবি, এয়াবা প্রভৃতিতে পাওয়া যায় বিবি আয়েশা (রা:) সমরক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে সৈনিকদের সেবা শুশ্রুষা করেন। বিবি আয়েশা বদর যুদ্ধের ময়দানে সেবা শুশ্রুষা করেন। ইতিহাসে বা হাদিসে পাওয়া যায় প্রত্যক্ষ যুদ্ধের ময়দানে অংশ নেয়ার একটি বয়স নির্ধারিত আছে ১৫ বছরের নিচে কেউ যুদ্ধে যোগ দিতে পারত না। এমতাবস্থায় তিনি ৬ বছরের বা ৯ বছরের হলে কেমন করে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন। এ রকম কোনো যুক্তিতেই এসব টিকে না যে বিবি আয়েশার বয়স ৬ বা ৯ ছিল। সূক্ষ্মভাবে প্রতিটি কার্টুনের নষ্টামির স্পষ্ট জবাব দেয়া সম্ভব। তা না করে মিছামিছি খণ্ডযুদ্ধ করার কোনো মানে নেই। কারণ তা হলে ওতে অসহিষ্ণুতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়। মুসলমানকে ধৈর্যধারণ করতে শক্ত করেই বলা হয়েছে। বিনিময়ে তাদের জন্য অফুরান পাওনা জমা আছে। সবার ওপর মানুষকে কুরআনে বলা হয় আশরাফুল মাখলুকাত। মানে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আর এই শ্রেষ্ঠ জীবের স্বীকৃতিস্বরূপ মাথাটি তার প্রতিটি সুকর্মের প্রকৃত জোগানদাতা। তাই কাউকে নিয়ে মশকারা করার আগে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার আগে দরকার তার মূল ইতিহাসকে জানার। ঘটনার মূল গোড়াতে না পৌঁছে শুধু ডালপালা নিয়ে নাড়াচাড়া করলে ডাল ভেঙে হাত পা ভাঙার সমূহ সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তারা ইহকালে কোনো দিনও সফল হতে পারবে না। ধৈর্য ও সবরের আয়াতটি হচ্ছে : ‘তারাই শ্রেষ্ঠ যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করছে ও পরস্পরকে সততা অবলম্বনে উপদেশ দিচ্ছে এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিচ্ছে’ (সূরা আল আসরের ৩ আয়াত)। ধৈর্যের মাধ্যমে জটিলকে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়ে এখানেই শেষ করছি।
লেখক : প্রবাসী, গ্রন্থকার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ কেমন বর্বরতা!
![]() |
| ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিমু আক্তার l ছবি: প্রথম আলো |
গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে এ দৃশ্য দেখা গেল। চিকিৎসাধীন মেয়েটির নাম শিমু আক্তার (১৬)। তার অভিযোগ, বাড়ির মালিকের মেহেদিগাছ থেকে সে পাতা ছিঁড়তে গেলে ফুল গাছের একটি ডাল ভেঙে যায়। এ কারণে সে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বাড়িওয়ািল তাকে মারধর করে তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দিয়েছেন।
শিমু রাজধানীর ভাষানটেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ বদিউজ্জামান সড়কের অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তার বাড়ির ভাড়াটে মিজানুর রহমানের গৃহকর্মী। গত শনিবারের এ ঘটনায় ভাষানটেক থানায় বাড়ির মালিকের স্ত্রী আয়শা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে আয়শা বেগম পলাতক।
মামলার সূত্র ও শিমুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়রা গ্রামে। ছোটবেলায় মাকে হারায়। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বছর দুয়েক ধরে সে মিজানুর রহমানের গৃহকর্মী। তাঁর বাড়িও কয়রা গ্রামে।
শিমু কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলে, ‘গৃহকর্ত্রী আদর করেন। কিন্তু বাড়িওয়ািল (আয়শা বেগম) কারণে-অকারণে আমাকে বকতেন। শনিবার দুপুরের আগে বাড়ির উঠান থেকে আমি মেহেদি পাতা আনতে গেলে টবের ফুলগাছের একটি ডাল ভেঙে যায়। তা দেখে বাড়িওয়ািল আমাকে বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে মারধর করেন। পরে রাতে আমাকে ডেকে ছাদে নিয়ে বলেন, তোর সঙ্গে কথা আছে। এরপর আমাকে মারতে থাকেন। আমি তাঁকে খামচি দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাকে মারতে মারতে ছাদ থেকে ফেলে দেন।’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার স্ত্রী গ্রামে গেছেন। শনিবার আমি অফিস থেকে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বাড়িওয়ািল শিমুকে ডেকে পাঠান। তখন আমার মা শিমুকে বলেন, যদি ডেকে থাকে তাহলে শুনে আয়। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির দারোয়ানসহ কয়েকজনের চিৎকার শুনে নিচে গিয়ে দেখি শিমু পড়ে আছে। অচেতন অবস্থায় তাকে কচুখেতের হাইটেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকেরা অবস্থা গুরুতর বলে ঢাকা মেডিকেলে নিতে বলেন। রাতেই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করি।’
শিমু ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সেখানকার চিকিৎসক আশরাফউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটির শরীরের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাকে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তার দুই পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে, মেরুদণ্ডের একটি হাড় সরে গেছে। পেটের ভেতর রক্ত জমে আছে। এমন অবস্থায় চাইলেও অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। আমরা মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
ঘটনার পর থেকে আয়শা বেগম বাড়িতে নেই। যোগাযোগ করা হলে তাঁর স্বামী মেজর (অব.) আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই বাড়িতে থাকি না। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। ঘটনাস্থলে গেলেই আপনারা সব জানতে পারবেন।’
ভাষানটেক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তদন্ত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী সবকিছু করব।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন পথে by আব্দুল কাইয়ুম
কিন্তু এ রকম তো হওয়ার কথা নয়। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল এভাবে ঢিলে মেরে দিতে পারে, তা কেউ ভাবেনি। যাক, নির্বাচন ও ফলাফল নিয়ে যে দেশে একটা মারামারি-কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়নি, সেটাই ভাগ্যের কথা। দুই দলেরই কি সুমতি হলো নাকি?
আওয়ামী লীগ কি বুঝেশুনেই চুপ মেরে গেল? তাদের জেতা যে জেতা নয়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগগুলো যে এক কথায় উড়িয়ে দেওয়া সহজ নয়, এসব সাত-পাঁচ ভেবেই কি তারা আর বিজয় উৎসবের দিকে যায়নি? এ রকম আত্মোপলব্ধি হয়ে থাকলে সেটা তো সহজ কথা নয়।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার প্রচার শোভাযাত্রায় হামলা, ইটপাটকেল ছোড়া ও গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিএনপি যেখানে নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বাদে সারা দেশে হরতাল ডাকল, তারা নির্বাচনে এত কিছুর পরও একদম চুপ থাকল কীভাবে? অভিযোগগুলো তো গুরুতর। কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট, বিএনপির পোলিং এজেন্টদের মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া এবং ব্যাপক পুলিশি নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখানো থেকে শুরু করে কোনো কিছুই তো বাদ ছিল না। এর পরও তাৎক্ষণিক কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার মাহাত্ম্য বোঝা কঠিন। একমাত্র কারণ হতে পারে তাদের সংগঠনের ভাঙাচোরা অবস্থা সম্পর্কে আত্মোপলব্ধি। এটাই বা কম কী!
নির্বাচনের আগে থেকেই একটা কথা শোনা যাচ্ছিল যে তিন সিটি করপোরেশনেই বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জিতে যাবেন। এ রকম একটা আশঙ্কার কথা নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের কানেও উঠেছে। ধারণা ঠিক না বেঠিক, সেই হিসাব-নিকাশের সময় কোথায়? তাই দেখা গেল, পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি, মামলায় জড়ানো ও গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ উঠল। এমনিতেই বহু বছর ধরে বিএনপির লোকজন এলাকাছাড়া। নির্বাচনের ডামাডোলে নতুন করে হুমকি-ধমকি শুরু হলে বাদবাকি যে কয়জন ছিলেন, তাঁরাও গা ঢাকা দিলেন। এতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানো আরও বেশি দুঃসাধ্য হয়ে উঠল।
আওয়ামী লীগ এটাই চাইছিল। বিএনপি যদি মাঠে না থাকে, তাহলে মানুষ ভোট দেবে কাকে? এরপর যখন দুপুর না হতেই বিএনপি রণে ভঙ্গ দিল, তখন কে কোথায় সিল মারল, সেটা গৌণ বিষয়ে পরিণত হলো। কোনো কোনো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কিছু মারপিট হয়েছে। এমনকি পুলিশকেও টিয়ার গ্যাস মারতে হয়েছে। কোথাও সাময়িকভাবে ভোট বন্ধ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গণনা হলো বটে, কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্ট তো নেই। ভোটের হিসাব বুঝে নেবে কে?
এসব ব্যাপার মানুষও জানে, আওয়ামী লীগও জানে। এ রকম নির্বাচনে বিজয়ের ঢাক পেটাতে যাওয়া যে হাস্যকর হবে, সেটা বুঝতে পারার মতো মেধার অভাব আওয়ামী লীগের মধ্যে নিশ্চয়ই নেই। ফলে বিজয়ী মেয়ররা বিভিন্ন চ্যানেলে সহাস্যবদনে হাত নেড়ে সবাইকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়েই ক্ষান্তি দিলেন।
অবশ্য আওয়ামী লীগ বলতে পারে, তারা ২০০৮ সালে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেও বিজয় মিছিল বের করেনি। সুতরাং ঢাকঢোল পেটানোর সংস্কৃতি থেকে তারা আগেই বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করলে কথাটা অসত্য হবে না। কিন্তু এটা তো শুধু মেয়র নির্বাচন ছিল না। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনও ছিল। আগে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিজয়ী কাউন্সিলরদের জাঁকজমক করে বিজয় মিছিল করতে দেখা গেছে। এবার সেটাও ফাঁকা। হয়তো তাঁরাও হাওয়া বুঝে চলতে শিখে গেছেন। এ নির্বাচনে জেতাটা যে জেতার পর্যায়ে দেখতে মানুষ রাজি ছিল না, সেটা তাঁরা ধরতে পেরেছেন। এটা কম উন্নতি নয়।
অন্যদিকে বিএনপির অবস্থা তো আরও খারাপ। তারা নির্বাচন শুরু হতে না হতেই প্রথমে চট্টগ্রামে এবং এর কিছু পরে ঢাকায় নির্বাচন ত্যাগ করে। টিভিতে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে তো সবাই অবাক। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো ছিল শান্ত। মারদাঙ্গা পরিস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি। বিএনপির নির্বাচন ত্যাগ অনেকের কাছেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো শোনায়।
বিএনপির একটি বড় অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষ দেখছে মারপিট তো দূরের কথা, বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপির লোকই নেই, কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে টেবিল নিয়ে কেউ বসেনি। যেখানে বিএনপির কর্মীই যাননি, সেখানে ঘাড় ধরে বের করবে কাকে? এ তো হাস্যকর কথা। অনেকে বলেছেন, এজেন্টদের খরচাপাতির জন্য বেশ টাকা দেওয়া হলেও তাঁরা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য যাননি। প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্র যে বিএনপিশূন্য ছিল, তা তো গোপন বিষয় নয়।
বিএনপি বলতে পারে, পুলিশের ভয়ভীতির মধ্যে কর্মীরা কোন সাহসে যাবেন কেন্দ্রে? এ তো পরের কথা। যেখানে তাঁরা কেন্দ্রে যানইনি, সেখানে তাঁদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কোথায়? সুতরাং বিএনপি বুঝেশুনেই চুপ মেরে গেছে। যেখানে আশা ছিল খালেদা জিয়া পথে নামলেই লাখে লাখে লোক নেমে পড়বে, সেটা না হওয়ায় বিএনপি নির্বাচনের আগে থেকেই কিছুটা হতাশ ছিল। তারই প্রতিফলন দেখা গেছে নির্বাচনের পরে।
বিএনপি মুখে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে বাস্তব অবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়ে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন তারা বেশি সচেতন। নির্বাচনের আগের মুহূর্তে হরতালে যখন সাড়া পাওয়া যায়নি, সেখানে আবার নির্বাচনে জোর-জবরদস্তির অভিযোগে হরতাল ডেকে যে কোনো লাভ নেই, এই বাস্তবতা তারা এত দিনে বুঝতে পেরেছে।
মনে রাখা দরকার, বিএনপি কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। এটা তাদের করা উচিত। সবকিছু স্বাভাবিক। কেউ অবরোধ মানে না। হরতাল মানে না। তাহলে ওই সব ডেকে লাভ কী? নির্বাচনের দিনে যখন দেখা গেল মাঠে কেউ নেই, তখন তারা টের পেল যে সংগঠন কতটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যে হরতাল ডাকা চলে না, সেই বুঝ তাদের হয়েছে। এ জন্য বিএনপি ধন্যবাদ পেতে পারে।
একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার কিন্তু থেকেই গেল। বিএনপি প্রার্থী প্রত্যাহারের পরও দিন শেষে দেখা গেল তাদের সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীরা প্রত্যেকেই কয়েক লাখ করে ভোট পেয়েছেন! এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলার চেষ্টা করা হয়েছে যে আওয়ামী লীগের কর্মীরা সিল মারার সময় কিছু সিল বিএনপির পক্ষেও মেরে দিয়েছে, ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। এটা শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এত নিখুঁত হিসাব করে যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচন জালিয়াতি করে থাকতে পারে, তাহলে দেশ পরিচালনায় তো তাদের আরও ভালো করার কথা। সবখানে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আর ভোটের সময় নিপুণভাবে ব্যালেন্স করে সিল মারার সুনাম!
যদি এটা কারসাজি না হয়, তাহলে বিএনপির প্রার্থীরা এত ভোট পেলেন কীভাবে? এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, যেখানে অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে ভোট পড়েছে বেশি।
এর তাৎপর্য এখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই দলকেই উপলব্ধি করতে হবে। বিএনপি যদি বোঝে যে কথায় কথায় হরতাল দিলে জনবিচ্ছিন্নতা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না এবং আওয়ামী লীগ যদি বোঝে যে ভয়ভীতি ও পুলিশি নির্যাতন দিয়ে ভোট আনা যায় না, তাহলে হয়তো আগামী দিনের রাজনীতি একটি সুস্থ ধারায় আসতে পারে। আমরা সেই সম্ভাবনার জন্যই পথ চেয়ে রইব।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএসএফের গুলিতে হতাহত, গ্রামে গ্রামে চাপা কান্না
যে নদীতে মিলেমিশে আছে তার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি—সে নদীর পাড়েই চিরনিদ্রায় শায়িত সে। তার নাম শাহ আলম। পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। বাড়িতে সবাই ডাকতেন আলম আর সহপাঠীরা ডাকত সাজু বলে। স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষে মা-বাবার পাশে দাঁড়ানোর। পড়াশোনার ফাঁকে তাঁদের কাজে হাতও বাড়িয়ে দিত সে। অভাবের সংসার। সামান্য উপার্জনের আশায় রাখালের (ভারতীয় গরু-মহিষ পারাপার) কাজ করতে গত বছরের ১৯ নভেম্বর সীমান্তের ওপারে গিয়েছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি তার বুক ভেদ করে বেরিয়ে যায়। নিথর পড়ে থাকে তার দেহ।
ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী গ্রামের প্রায় বাড়িতেই শাহ আলমের মতো এমন রাখালের খোঁজ মেলে। বিএসএফর নজরে পড়লেই হতভাগ্য এ মানুষগুলোর ভাগ্যে জোটে গুলি, নতুবা নির্যাতন শেষে কারাভোগ।
সরেজমিনে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গীর বৈউরঝারি, মণ্ডুমালা, রত্নাই, নাগরভিটা, রানীশংকৈলের ধর্মগড়, জগদল ও হরিপুরের মলানী, ডাবরী, বুজরুক, পীরগঞ্জের চান্দেরহাট, বৈরচুনা সীমান্তের গ্রামগুলোর অনেক কিশোর-তরুণ গরু-মহিষ পারাপারে সম্পৃক্ত। এসব গ্রামে ঘরে ঘরেই রয়েছে আহত-নিহত হওয়া লোকজনের কাহিনি।
গত জানুয়ারিতে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন আবদুর রহমান। ২০১৩ সালের শুরুতেই হরিপুরের বুজরুক সীমান্তে নিহত হন নুর ইসলাম ও একই উপজেলার মুক্তার দাই। অক্টোবরে নাগরভিটা সীমান্তে নিহত হন কালিয়া মাহমুদ। ২০১২ সালের জুনে বালিয়াডাঙ্গীর বেউরঝারি সীমান্তে চড়ুইগেদি গ্রামের মো. ফারুক, সেপ্টেম্বরে নাগরভিটা সীমান্তে দক্ষিণ দোয়ারি গ্রামের আজিরুল হক, অক্টোবরে মণ্ডুমালা সীমান্তে আবুল খালেক, পীরগঞ্জের বৈরচুনা সীমান্তে দস্তমপুর গ্রামের গণেশ নিহত হন।
গত দুই বছরে সীমান্তের ওপারে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে আহত হন বালিয়াডাঙ্গীর চেড়ইগেদি গ্রামের মো. রমিজ, মো. সাদেকুল, মো. বাবুল ও হাবিল উদ্দিন, বালিয়াডাঙ্গীর কাশিডাঙ্গা গ্রামের মাহমুদ, ফিরোজ মাহমুদ ও মরাধার গ্রামের তরিকুল ইসলাম, মণ্ডুমালা গ্রামের কামাল হোসেন, জিয়াবাড়ি মোড়ল হাট গ্রামের দাইমুল হক, পশিরুল ইসলাম, রত্নাই গ্রামের ইদ্রিস, চৈত্যু, রানীশংকৈলের ভদ্রশ্বরী গ্রামের মো. খোকনসহ আরও ১৫ জন।
শুটকাবস্তির কাউসার আলী ২০১১ সালে ওপারে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। নির্যাতনের পর বিএসএফ তাঁকে পুলিশে দেয়। ১৪ মাস কারাভোগের পর গত বছরে ফিরে আসেন কাউসার। জানতে চাইলে কাউসার বলেন, ‘কাজকাম পাইলে কেউ যায় নাকি? না পাইলে আবার যেতে পারি। মানুষের কাছে চেয়ে খাওয়ার চেয়ে ওটাই ভালো।’
শুটকাবস্তি গ্রামের শের আলীর একমাত্র ছেলে ছিল শাহ আলম। সম্প্রতি তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা মিলল মা ও দুই বোনের। মা সেলেনা খাতুন বলেন, ‘বাবার অসুখ দেখিয়া ছুয়াটা (ছেলে) ভারতে যাবারতানে জেদ ধরে। মুই কহিনু ওইঠে গেলে গুলি হইবে। হামার কথা না শুনিয়া একদিন গরু আনিবা চলে গেইল। হামার ফুটফুটে ছুয়াটা মরে গেইল।’ শাহ আলমের কথা বলতে বলতে বাড়ির সবার মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ আইয়ুব আলী বলেন, ‘এই কাজটা অবশ্যই বেআইনি। কিন্তু আমার মনে হয়, সারা বছর যদি তাদের কাজ থাকত, রোজগারের কোনো রাস্তা থাকত, তাহলে তারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যেত না।’
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩০ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল তুষার বিন ইউনুস বলেন, দরিদ্র মানুষ টাকার লোভে ওপারে যায়। অনেক সময় হতাহতের ঘটনাও ঘটে। তাই এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সীমান্তে অপরাধ ও সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিজিবি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝারি সীমান্তের শুটকাবস্তিতে ‘আলোকিত সীমান্ত’ নামে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এটি সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে দেশের সব সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হলো by এম সাখাওয়াত হোসেন
![]() |
| মির্জা আব্বাস মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে বেলা দেড়টায় ভোটের চিত্র |
সার্বিকভাবে বলা যায়, কমিশনের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা যথাযথ ছিল না। না, আমি শুধু লজিস্টিক সরবরাহের কথা বলছি না, নির্বাচনের আইনি ব্যবস্থাপনার কথা বলছি। তারপর পুলিশের ওপরও কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে মনে হয় না। সরকারি দল বলল, তাদের সাংসদেরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা সমন্বয় করবেন। কমিশন বলল, তাদের কিছু করার নেই, কারণ সাংসদেরা ঢাকার বাসিন্দা। কিন্তু তারপর তো আর কিছু হলো না। সাংসদেরা সেই কাজ করেছেন। সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছিল। বলা হলো, প্রয়োজন হলে তাদের নামানো হবে। কিন্তু প্রয়োজন তো ছিল, তাদের নামানো হলো না কেন? সব মিলিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সুখকর ছিল না। তবু আশা ছিল, সবাই যেহেতু নির্বাচন করছে, ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
সকালে ভোট দিতে গিয়ে আমি নিজেই ধাক্কা খেয়েছি। কেন্দ্রে ঢুকতে গিয়ে দেখলাম, গণমাধ্যমকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আবার ঢুকতে দেওয়া হলেও ক্যামেরা নিয়ে ঢোকা যাবে না। এসব দেখেই মনে সন্দেহ সৃষ্টি হলো। গণমাধ্যম যেখানে কমিশনের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করে, সেখানে তাদের কেন ঢুকতে দেওয়া হবে না, তা মোটেই বোধগম্য নয়। তারপর পুলিশ প্রশাসনও সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অথচ নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের যে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড সরবরাহ করে, তাতে স্পষ্ট বলা থাকে, তাঁরা কী করতে পারবেন আর কী করতে পারবেন না। সেখানে বলা থাকে, তাঁরা ভোট প্রদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। অর্থাৎ পুলিশ সুস্পষ্টভাবেই নির্বাচন কমিশনের বিধিবিধান ভঙ্গ করল। এরপর আমরা দেখলাম, বুথ দখল, মারপিট, গোলাগুলি—সবই হলো। এমনকি সুইডেনের রাষ্ট্রদূতকে ধাওয়া খেয়ে একটি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলো, সত্যিই খুব দুঃখজনক। গণমাধ্যম প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করায় এসব করা সহজ হয়েছে।
কথা হচ্ছে, অতীতে কেউ এভাবে চার ঘণ্টা নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচন বর্জন করেনি। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা এখান থেকেই বোঝা যায়। মোদ্দা কথা, নির্বাচন কমিশন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি, সবাইকে আস্থায় আনতে পারেনি। ফলে ভোটারদের উপস্থিতিও কম ছিল। তাঁরাও আসলে কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারেননি। আস্থা আগেও যে খুব বেশি ছিল তা নয়, আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই আস্থাহীনতা আরও পাকাপোক্ত হলো। নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর এভাবে আস্থা হারিয়ে ফেলা খুবই বিপজ্জনক ব্যাপার। মানুষের মতামত প্রকাশের সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে তার ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। নদীর এক দিকে বাঁধ দিলে যেমন অন্য দিক দিয়ে নদী ভাঙে, ঠিক সে রকম। এসব স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্য। এটা সরকারের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
আমরা ভেবেছিলাম, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংকটের বদ্ধঘরে নতুন জানালা খুলে যাবে। সেই জানালা দিয়ে যে বাতাস আসবে, তাতে গুমোট ভাব কেটে যাবে। আমরা স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারব। কিন্তু এমনটা আর হলো না। আমরা জানি না, এরপর কী হবে। আমরা কি আবারও সহিংসতা দেখব? তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা রাজনীতিতে হয়তো নতুন মেরুকরণ দেখব। কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেল। ক্ষতি হলো নির্বাচন কমিশনের, ক্ষতি হলো সরকারের, ক্ষতি হলো রাজনীতির, সর্বোপরি ক্ষতি হলো রাষ্ট্রের। সেই ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ীই হবে বলে আশঙ্কা। তবু এই দুর্দিনে আশাই আমাদের একমাত্র ভেলা। আমাদের নাগরিকদের গভীরভাবে ভাবতে হবে, কীভাবে এই দুর্দশা থেকে বেরোনো যায়।
এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.): অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট বেসরকারিতে কম যোগ্যতা by মুসতাক আহমদ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজের উচ্চশিক্ষার বিষয়ে এ সমস্যা আর সমাধানের চিত্র বেরিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের বিভিন্ন কলেজে ‘প্রশ্নমালা’ পদ্ধতিতে এ সমীক্ষা চালায়। মোট ২১৫৪টি কলেজের মধ্যে ৬৪১টি কলেজ এতে অংশ নেয়। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সদস্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবীরের নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের একটি কমিটি এ সমীক্ষা পরিচালনা করে। সমীক্ষার ফলসহ একটি প্রতিবেদন শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে বিশ্ববিদ্যালয়।
সমীক্ষায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানের একটি রাজধানীর শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ। এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুর রহমান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষকদের নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে আমরা মতামত দিয়েছি। এতে উদ্ভাবনী বিভিন্ন দিক রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি কলেজে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পদ্ধতি বা পিএসসির তালিকা থেকে উত্তীর্ণদের নির্বাচনের ধারণা ভালো। এটা বাস্তবায়ন করা গেলে উচ্চ শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সহজ সমাধান নেই বলেই মনে করি। কেন না, আমরা শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পর ৬ মাসের মধ্যে ৪০ ভাগই চলে যায়। সে ক্ষেত্রে মফস্বলের প্রতিষ্ঠানে প্রার্থীদের ঘন ঘন চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। এ দিকে নজর রাখতে হবে। সমীক্ষায় দেখা যায়, ৪৭ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মনে করেন, সরকারি কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান অন্তরায় শিক্ষক স্বল্পতা। ২২ ভাগ মনে করেন শিক্ষকদের পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রতা, ২১ ভাগ মনে করেন অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বদলির ঘটনাও শিক্ষার মানে প্রভাব ফেলছে।
শুক্রবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে সাড়ে ৭ ঘণ্টাব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধিকাংশ বক্তা বেসরকারি কলেজে রাজনৈতিক প্রভাবে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি পাস, অনার্স এবং মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মানের অবনতির ঘটনাকে চিহ্নিত করেন।
এ অবস্থায় বেসরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কার আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৩৫ ভাগই বলছেন সরকারি কর্মকমিশনের বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু নিয়োগের সুপারিশ পাননি, এমন প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া উচিত। এতে করে কলেজগুলো যোগ্য শিক্ষক পাবে। এর পাশাপাশি ২৬ ভাগ উত্তরদাতা অবশ্য কেন্দ্রীয়ভাবে আলাদা শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করেন।
সিরডাপের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ সমীক্ষা এবং কর্মশালার ফল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা ও করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ এ বিষয়ে জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ৭০ ভাগ উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এ কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি এ কারণে যে, এটা করা না গেলে গ্রাজুয়েটদের পিছিয়ে পড়ার সঙ্গে দেশ সার্বিকভাবে ৭০ ভাগ পিছিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, সমীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল আমরা বিবেচনা করব। মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। কেননা, এ ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন; যা সরকারের সহায়তা ছাড়া সম্ভব হবে না।
সমীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল : শিক্ষার মানোন্নয়ন শীর্ষক এ সমীক্ষায় মোট ৯টি প্রশ্ন ছিল। প্রশ্নমালা পাওয়ার পর কলেজগুলো শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে উত্তর দিয়েছে।
কলেজ শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় শীর্ষক প্রশ্নের জবাবে ৩৪ ভাগ কলেজ শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ধারণক্ষমতার মধ্যে রাখার পরামর্শ দেন। আবার আলাদাভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণের কথা বলেছে ২৪ ভাগ কলেজ, তদারকির কথা বলেছে ২৩ ভাগ কলেজ আর ১৯ ভাগ কলেজ বলেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্লাস রুমে ধারণক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
শিক্ষা কার্যক্রম মনিটরিং ও সুপারভিশনের জন্য ৩৭ ভাগ প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোকে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া ২৫ ভাগ স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি, ৩০ ভাগ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মনিটরিং সেল বা দফতর খোলার পরামর্শ দিয়েছে। ৪৬ ভাগ কলেজ বলেছে, মানোন্নয়নে শিক্ষকদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে তা ঢাকার পাশাপাশি আঞ্চলিক কেন্দ্রেও আয়োজন করতে হবে। এছাড়া ৩১ ভাগ কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ১৭ ভাগ দূরশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে বলেছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রণোদনার সুপারিশও এসেছে। ৩৯ ভাগ কলেজ মনে করে, প্রতি বছর কলেজগুলোকে পারফরমেন্সের ভিত্তিতে র্যাংকিং করা প্রয়োজন। এছাড়া ৩৩ ভাগ দেশকে ৭টি অঞ্চলে ভাগ মোট ৭০টি কলেজকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা, ২১ ভাগ কলেজ কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠ্যবই রচনা প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করার প্রতি জোর দিয়েছে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৩৪ ভাগ কলেজ। এছাড়া ৩২ ভাগ কলেজ খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কলেজমুখী করা এবং ২৪ ভাগ কলেজ ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদের ধারণক্ষমতা সহনীয় মাত্রায় রাখার সুপারিশ করেছে।
সমীক্ষায় বিজ্ঞান শিক্ষা উৎসাহিত করার জন্য ৪৫ ভাগই পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত আর ৪৪ ভাগ কলেজ মানসম্মত বই ও যন্ত্রপাতির কথা বলেছে।
দেশে বর্তমানে ২ হাজার ১৫৪টি উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী কলেজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৮৭৯টি বেসরকারি এবং ২৭৫টি সরকারি কলেজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি প্রোগ্রাম, অনার্স, মাস্টার্স ছাড়াও বিভিন্ন পেশাগত ডিগ্রি দিয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১ লাখের বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন দায়ীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ কার্যালয় রেখে বাকি সব উচ্ছেদ, যেখানে আইন সবার জন্য সমান নয়- উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?
উচ্ছেদ করা দোকানগুলো কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশের সওজের জায়গায় অবৈধভাবে বানানো হয়েছিল। এর পেছনে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাদের সিন্ডিকেট। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে তারা সওজের জায়গায় দোকান তুলে মাসে মাসে ভাড়া আদায় করত। সেখানে যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই দোকানগুলো। এগুলো উচ্ছেদের কোনো বিকল্প নেই, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগের লোকজনকে টাকা দিয়ে দোকান নিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ করবে কে?
আওয়ামী লীগ নেতারা সওজের জায়গায় দোকান বসিয়ে অগ্রিম যে টাকা নিয়েছিলেন, তা ফেরত দেবে না বলে ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দিয়েছেন। তাহলে খেসারত যা দেওয়ার তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরই দিতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতারা অবৈধভাবে দোকান বানিয়ে ও সেখান থেকে মাসে মাসে ভাড়া আদায়ের মতো অন্যায়-অপকর্ম করে যদি পার পেয়ে যান এবং যে কার্যালয়টিতে বসে এসব নিয়ন্ত্রণ করা হতো, তা যদি উচ্ছেদের হাত থেকে বেঁচে যায়, তবে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের আইনের ঊর্ধ্বে বলেই ধরে নিতে হবে।
কাঁচপুরে অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি টিকে থাকার অর্থ হচ্ছে আইন সবার জন্য সমান নয়। এ কার্যালয়টি উচ্ছেদ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়কারী আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে আইন সবার জন্য সমান।
![]() |
| আট শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি ভাঙা হয়নি l প্রথম আলো |
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের স্থানীয় নেতারা সিন্ডিকেট করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে প্রতি দোকান থেকে মাসে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিয়ে টংঘর, ফলের দোকান, কাঁচাবাজার, কাপড়ের দোকান, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা বসিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতারা এসব দোকান থেকে উত্তোলন করা টাকা থানা-পুলিশ ও সওজ কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতেন।
ফুটপাতের দোকানদার ফল ব্যবসায়ী আবদুল হক, আলম মিয়া, কামাল হোসেন বলেন, ‘দুই লাখ টাকা করে অগ্রিম ও মাসে ২৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে নেতাদের কাছ থেকে আমরা দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছি। দোকান উচ্ছেদের পর নেতারা আমাদের অগ্রিম টাকা ফেরত দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাব?’
এদিকে সওজের জায়গার ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও আওয়ামী লীগের নেতাদের চাপে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কার্যালয় উচ্ছেদ করেনি প্রশাসন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই বিক্ষোভ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, ‘আইন সবার জন্য সমান, আমাদের উচ্ছেদ করা হলো অথচ আওয়ামী লীগের কার্যালয় উচ্ছেদ হলো না কেন?’
নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ভিটিকান্দি) জাকির আলম জানান, সড়ক ও জনপথের জায়গা অবৈধ দখল করে স্থানীয় চাঁদাবাজেরা দোকানপাট নির্মাণ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাছের ভূঞা জানান, মহাসড়ক যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। আট শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জের বিচারিক হাকিম আবদুল্লাহ আল জাকী।
কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের দলীয় কর্মীরা কিছু দোকানপাট নির্মাণ করে এখানে ব্যবসা করছিল এ কথা সত্য। প্রশাসনকে অনুরোধ করে আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি রক্ষা করা হয়েছে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশি অ্যাকশন
![]() |
| যৌন নিপীড়কদের বিচার দাবিতে ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাওকালে ছাত্রদের ওপর পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ |
সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্রজোট নামে দুটি ব্যানারে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকমী পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডিএমপি কার্যালয় ঘোরাও করতে যান। মিছিলটি মৎস্য ভবনের সামনে গেলে পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবাদকারীরা বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে থাকেন। মিছিলের সামনে ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ। পেছনেও ছিল পুলিশের ভ্যান। নেতাকর্মীরা মিছিলসহকারে ডিএমপি কার্যালয়ের দিকে যেতে থাকেন। শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে খবর পেয়ে ডিএমপি কার্যালয়ের সামনে তিন প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সামনে বসানো হয় কাঁটাতারের ব্যারিকেড। আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোর ছিল আগে থেকেই। প্রস্তুত ছিল পুলিশের রায়টকার ও জলকামান। মিছিলটি দুপুর পৌনে ১টার দিকে ডিএমপি কার্যালয়ের কাছে অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনে গেলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ওই ব্যারিকেডটি সরানোর চেষ্টা করেন। এতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সংযত করেন এবং তিনি সব নেতাকর্মীকে রাস্তায় বসে পড়তে বলেন। তারা বসে গিয়ে যৌন নিপীড়কদের শাস্তি দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান তারেক বলেন, বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসবে শুধু যৌন নিপীড়ন করা হয়নি, সারা দেশের নারী সমাজকে অপমান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে চিহ্নিত করতে এবং গ্রেপ্তার করতে না পারা সম্পূর্ণ পুলিশের ব্যর্থতা। বরং পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, এতবড় ঘটনা ঘটে গেলে পুলিশ এখন পর্যন্ত অপরাধীকে গ্রেপ্তারতো দূরের কথা চিহ্নিতও করতে পারেনি। এটি অত্যন্ত লজ্জার কথা। পুলিশের কাজ কি? তাদের কাজ হচ্ছে মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু, তারা এটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন প্রতিবাদী ছাত্র জনতাকে রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ করা ছাড়া উপাই নেই। তার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের সদস্যরা ছাত্রদের রাস্তা থেকে উঠে যেতে বলেন। তারা রাস্তা থেকে উঠে যেতে রাজি হননি। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক কর্তব্যরত পুলিশকে বলেন যে, যৌন নিপীড়কদের কখন গ্রেপ্তার করা হবে তার সুনির্দিষ্ট সময় পুলিশ জানালে তবেই তারা রাস্তা থেকে উঠবেন। এই কথা বললে পুলিশের কয়েকজন সদস্য তাদের গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে দাঙ্গা পুলিশের এক সদস্য ছাত্র ইউনিয়নের এক সদস্যকে পিঠে লাথি মারেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে অনেক নেতাকর্মী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের রাস্তায় ফেলেই পেটায় পুলিশ। এ সময় আন্দোলকারীরা ইটপাটকেল ও রাস্তার পাশে রাখা ফুলের টব ভেঙে পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল ও জল কামান থেকে পানি ছোড়ে। এতে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পুলিশের লাঠিচার্জের কারণে তারা ডিএমপির কার্যালয়ের সামনে অফিসার্স ক্লাবের দিকে চলে যায়। পুলিশের লাঠিচার্জে রেহাই পাননি নারী কর্মীরাও। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল নিক্ষেপকারী এক নারী কর্মীকে একপর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্য ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলেন। একপর্যায়ে তার চুলের মুঠি ধরে টেনে নিতে দেখা যায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই কর্মী মাটিতে পড়ে যান। পরে দুই পুলিশ সদস্য তার দুই হাত ধরে টেনে নিয়ে যান।
পুলিশের ধাওয়ায় বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাকরাইল মসজিদের সামনের দিকে চলে যান। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা এদিকে সেদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। আশপাশের কয়েকটি স্কুলের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে মিন্টু রোড, বেইলি রোড, হেয়ার রোড, মগবাজার ও কাকরাইলের রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই এলাকায় প্রচণ্ড যানজট দেখা দেয়। ভোগান্তিতে পড়েন আশপাশের পথচারীরা। পরিস্থিতি শান্ত হলে ওই এলাকার রাস্তা আবার উন্মুক্ত করে দেয় পুলিশ। ঘটনার সময় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া কার্যালয়ে ছিলেন। তিনি বাইরের পরিস্থিতি কর্তব্যরত পুলিশের মাধ্যমে খোঁজ খবর রাখছিলেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আহতরা হলেন- ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান তারেক, সহসভাপতি মারুফ বিল্লাহ তন্ময়, আবু তাসেক সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম জিলানী শুভ, সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী, সদস্য হাসিব আশিক, রাগিব নাইম, ঢাকা মহনগর শাখার সভাপতি সুমন সেনগুপ্ত, ঢাকা জেলার সভাপতি তারিকুল রাসেল, সংগঠনের জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তন্ময় ধর, সদস্য সাদ আশরাফ, মিরপুর শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাকিবুজ্জামান সুজন, কবি নজরুল কলেজ শাখার সভাপতি দীপক শীল ঢাকা জেলার এজিএস রাকীব আল রুদ্র, কেন্দ্রীয় নেতা অমিত শাহরিয়ার, ইসমত জাহানসহ আরও অনেকে।
গুরুতর আহত রাজীব আল রুদ্র, রাজীব দাস, তন্ময় ধর, দীপক শীল, ইসমত জাহান, রাকিবুজ্জমানকে গ্রিনরোডের হেলথ অ্যান্ড হোপস বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ঢামেকে চিকিৎসা নিতে আসা নেতাকর্মীদের দাবি পুলিশের এই হামলায় তাদের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। ৬ জনকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া ৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক সিয়াম সারওয়ার জামিল বলেন, পুলিশের অতর্কিত হামলা ও লাঠিচার্জে আমাদের ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। ৬ জনের সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়েছে। ৬ জনকে ধানমন্ডির গ্রিনরোডের হেলথ অ্যান্ড হোপস বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পুলিশের লাঠিপেটা ও লাঞ্ছনা থেকে আমাদের নারী নেতাকর্মীরাও রেহায় পায়নি।
দুপুরে ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান তারেক। তিনি বলেন, পুলিশের হামলায় আমাদের ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। পুলিশ অমানবিকভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু আমরা আমাদের দাবি থেকে সরে আসব না। আমরা রাজপথে আছি। নারী লাঞ্ছনাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত রাজপথেই লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাব। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী বলেন, পুলিশ যত অত্যাচারই করুক আমৃত্যু আমাদের এ লড়াই চলতে থাকবে। নারী লাঞ্ছনকারীদের বিচার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।
এদিকে বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং আগামীকাল দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ভূমিকম্প!
ক্যামেরন ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তারপর এ ব্লক থেকে বেরিয়ে যাওয়া/না যাওয়া প্রশ্নে ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ গণভোট দিতে চেয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ক্যামেরন ইউরোপপন্থী লিবারেল ডেমোক্রেটসকে দূরে ঠেলতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি তার নিজের দলের ইইউ-বিরোধীদের খুব একটা বাগে আনতে পারেননি। ফলে ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা প্রক্রিয়াকে তারা জটিল করে তুলতে পারে। আর তখন ক্যামেরনের জন্য ইইউতে থাকার পক্ষে যুক্তি দেয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক অবশ্য যুক্তরাজ্যকে ইইউয়ে রাখার পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালনের আভাস দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের ওপর নির্ভর করতে চান জানিয়ে টাস্ক বলেন, এ ব্যাপারে তিনি ক্যামেরনকে সহায়তা করতে চান।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইউরোপের এক হয়ে কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি, কার্যকর একক বাজার ও মুক্ত বাণিজ্যের জন্য এটি খুব জরুরি।
আমি নিশ্চিতভাবেই বলছি, কোনো দেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে উন্নত জীবন পাওয়া সম্ভব নয়। ইইউ আরও শক্তিশালী হলে তা শুধু যুক্তরাজ্যের জন্যই নয় বরং সংস্থাটির সদস্যভুক্ত সব দেশের জন্যই ভালো হবে।
এদিকে, স্বাধীনতাপন্থী স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির বিশাল জয়ে নির্বাচনোত্তর জয়ে জাতি বিভক্তের হুমকিতে পড়েছে যুক্তরাজ্যে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের জয়ে যুক্তরাজ্যে থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নে গণভোট চাইতে পারে স্কটল্যান্ড। এতে ব্রিটেনের জাতিগত সীমান্তে নতুন রেখা টানা হতে পারে। নির্বাচনপূর্ব ক্যামেরনের বক্তব্যে অখুশি স্কটিশরা। এসএনপি নেতা নিকোলা স্টারজিয়ন স্বাধীনতার পক্ষে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিজয়ের পর ক্যামেরনের বক্তব্যে এক জাতি এক যুক্তরাজ্য গড়ার আহ্বান জাতিগত বিভেদকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আর যুক্তরাজ্যকে ঐক্যবদ্ধ ও অখণ্ড রাখাই এখন ক্যামেরনের বড় চ্যালেঞ্জ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরিত্যক্ত দুই ভবন ভাড়া দিচ্ছে মাস্তানরা by মতিন আব্দুল্লাহ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহিরাগতদের কাছে মাস্তানরা ৭-৮ হাজার টাকা করে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছে। সে হিসাবে তারা মাসে বাণিজ্য করছেন প্রায় ৫ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পূর্বদিকের এজিবি কলোনিতে গিয়ে দেখা গেছে, চারতলা ভবন দুটির বারান্দার সিমেন্টের আস্তরণ থেকে রড বেরিয়ে এসেছে। দুটি ভবনের ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের সামনে খোলা জায়গায় ময়লার ভাগাড়। বসবাসকারীরা তরকারি, মাছ-মাংসের উচ্ছিষ্ট ফেলছেন ওই খোলা জায়গায়। কেউ এসব আবর্জনা পরিষ্কার করে না। ফলে আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে উৎকট দুর্গন্ধ।
ভবন দুটির গায়ে সরকারি কর্তৃপক্ষের ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিও সাঁটানো রয়েছে। তাতে লেখা আছে, ‘অত্র ভবন নং ৩৪ ও ৩৬ অতি পুরাতন, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিগত ২০/৩/২০০৫ ইং তারিখে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সেজন্য এ ভবনে বসবাস মোটেও নিরাপদ নয়। এ ভবনে বসবাস করলে ভবনজনিত কোনো দুর্ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুটি ভবনে ৫৪টি করে ফ্ল্যাট রয়েছে। ৩৪ নম্বর ভবনের ১১টি ও ৩৬ নম্বর ভবনের ১২টি ফ্ল্যাট সরকারি কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে ৩৪/৪৭ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের কর্মচারী মো. ফারুক মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘বিগত ১০ বছর ধরে বাসা পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। এখনও বরাদ্দ পাইনি। অল্প টাকা বেতন পাই, বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে ২ ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও সংসার চালানো সম্ভব হবে না। এ জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকছি।’
৩৪/১ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর দফতরের ডেসপাসম্যান মো. শাহ জামাল। তিনি বলেন, স্যারদের কাছে কত অনুরোধ করলাম। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হল না। গণপূর্তের কর্মচারী হয়েও আমাকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকতে হচ্ছে। যে বেতন পাই, তা দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে জীবনযাপন করা সম্ভব হবে না।’
৩৬ নম্বর ভবনে মাস্তানদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ২ বছর ধরে বসবাস করছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কম ভাড়া হওয়ায় এখানে থাকছি। আÍীয়-স্বজন মিলে তারা তিন রুমের ফ্ল্যাটে থাকছেন ১৩ জন। ভাড়া দিচ্ছেন ৮ হাজার। তবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে ভবনে অনেক কম্পন অনুভূত হয়েছে। ছাদে ফাটলও ধরেছে। কিছুদিনের মধ্যে তারা ভবন ছেড়ে যাবেন বলে জানান।
ঢাকা গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীয়তুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা করতে না পরায় এজিবি কলোনির সরকারি কর্মচারীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে এজিবি কলোনি এলাকায় ২০ তলা বিশিষ্ট ৪টি ভবন তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পরিত্যক্ত ভবনের বাসিন্দাদের সেখানে সরিয়ে নেয়া হবে। তবে তিনি বলেন, সাময়িক আর্থিক কষ্ট মেনে নিয়ে আমরা কর্মচারীদের সরে যেতে বলছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনছেন না।
এইচ টাইপ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এজিবি কলোনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বাসিন্দা আমির হোসেন ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, ২০০৫ সালে সরকার কলোনির ৯টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ৭টি ভেঙে নতুন ভবন করেছে। ওইসব ভবনে আমাদের বাসা বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল; কিন্তু তা দেয়নি। গণপূর্ত গত ৪ বছর ধরে নতুন ভবন তৈরির কথা বললেও বাস্তবে তার কিছুই দেখছি না। আমরা বলেছি বিল্ডিং সম্ভব না হলে অত্যন্ত টিনশেড করে দেন; সেটাও করছে না।
ভাড়া বাণিজ্য করছে কারা : এজিবি কলোনির এ দুটি পরিত্যক্ত ভবনের মূল নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলম নামের এক ব্যক্তি। তাকে স্থানীয় লোকজন আওয়ামী লীগের নেতা বলে জানে। যদিও তার কোনো পদ-পদবি নেই। তার সঙ্গে রয়েছে, হিরক, রাব্বী, ইউনুস, আজিজ ও আনিছ। আর বাসার ভাড়া আদায় করেন মো. ইমরান।
এ ব্যাপারে জানতে মোহাম্মদ আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে ভাড়া আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ইমরান যুগান্তরকে বলেন, ‘আপনি এসব কথা কোথা থেকে শুনেছেন? এখানে অনেক গরিব মানুষ থাকে, বিভিন্ন সময় আমরা তাদের সহযোগিতা করে থাকি। যাদের এসব ভালো লাগে না, তারা সাংবাদিকদের কাছে আমাদের ব্যাপারে অভিযোগ করেন।’
যাদের নামে বরাদ্দ :৩৪/১৯ মোহাম্মদ ফিরোজ আলম (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়),৩৪/১৬ আবদুল ওয়াদুদ (শিক্ষা মন্ত্রণালয়), ৩৪/২২ মোহাম্মদ ইকবাল (শিক্ষা মন্ত্রণালয়), ৩৪/৩২ হাফিজুর রহমান (এনএসআই), ৩৪/৩৩ মোহাম্মদ লিয়াকত আলী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়), ৩৪/৩৪ বশির আহমেদ (পূর্ত মন্ত্রণালয়), ৩৪/৪৭ মো. ফারুক মিয়া (ভূমি সংস্কার বোর্ড), ৩৪/৩৭ আজিজুল হক (এনবিআর), ৩৪/৪৮ মো. বেলায়েত হোসেন (বাংলাদেশ বেতার), ৩৪/২ মোহাম্মদ হাসান (বিআরটিএ), ৩৪/১ মো. শাহজামাল (গণপূর্ত অধিদফতর), ৩৬/৩ মো. হাবিব (এজি ভবন), ৩৬/৪ মো. খোকন (এনবিআর), ৩৬/১৩ মো. নুরুল আলম (গণপূর্ত), ৩৬/১৪ আমির হোসেন ভূঁইয়া (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়), ৩৬/৯ আমির হোসেন (কোর্ট অব সেটেলমেন্ট), ৩৬/১৯ আমেনা খাতুন (গণপূর্ত), ৩৬/২২ আবদুস সাদেক (স্বাস্থ্য), ৩৬/৩২ মো. কাজল (ইনকাম ট্যাক্স), ৩৬/৩৩ কামাল হোসেন (জ্বালানি মন্ত্রণালয়), ৩৬/৩৭ মনিরুল ইসলাম (শিক্ষা ভবন), ৩৬/৪৫ আশরাফুজ্জামান (গণপূর্ত), ৩৬/৪৮, নুরের রহমান (হাইকোর্ট বিভাগ)।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস
৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৩৮ : মিউনিখ চুক্তি
১৯৩৮ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিলি চেম্বারলেইন ইউরোপকে যুদ্ধমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেন। ইউরোপে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর আগ্রাসন রুখতে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে মিউনিখ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে জার্মানি অস্ট্রিয়া দখল করে নেয় এবং চেকোস্লোভাকিয়ার কাছ থেকে সুদাতেনল্যান্ড দাবি করে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মিউনিখ চুক্তি অনুসারে চেকোস্লোভাকিয়ার সুদাতেন অঞ্চল জার্মানিকে হস্তান্তর করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং তার বিনিময়ে হিটলার আর কোনো ভূমি দখল করবেন না বলে প্রতিশ্র“তি দেন।
কিন্তু সাতমাস পরে ১৯৩৯ সালের ১৫ মার্চ হিটলার সমগ্র চেকোস্লোভাকিয়া আক্রমণ করে দখল করেন।
১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ : পোল্যান্ড আক্রমণ
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ১৫ লাখ জার্মান সেনা সীমান্তে অবস্থান নেয় ও ১৩০০ যুদ্ধবিমান পোল্যান্ডে বোমা ফেলে পুরো দেশকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে।
৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ : ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধ ঘোষণা
১৯১৮ সালের ভার্সাই চুক্তি অনুসারে পোল্যান্ডকে রক্ষার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তবে হিটলারের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা কিছুই করতে পারেনি।
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ : রাশিয়ার হামলা
হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করতে পারে এই আশংকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্ব দিক থেকে পোল্যান্ডে হামলা করে রুশ বাহিনী।
৩০ নভেম্বর ১৯৩৯ : সোভিয়েত-ফিনল্যান্ড যুদ্ধ
সোভিয়েত ইউনিয়ন সৈন্যরা লিথুনিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়ায় প্রবেশ করার পর ফিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগ নিলে ফিনল্যান্ড প্রচণ্ডভাবে রুখে দাঁড়ায়। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করার ভেতর দিয়ে এ বিশ্বযুদ্ধ নতুন মোড় নেয়।
৯ এপ্রিল ১৯৪০ : নরওয়ে ও ডেনমার্ক আক্রমণ
নরওয়ে ও ডেনমার্কে আগ্রাসন চালিয়ে জার্মান বাহঘিনী নারভিকসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বিমানবন্দর দখল করে নেয়।
১০ মে ১৯৪০ : জার্মানির ফ্রান্স আক্রমণ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলেইনের সংযতকরণ নীতি ব্যর্থ হলে ১৯৪০ সালের ১০ মে পদত্যাগ করেন এবং ক্ষমতায় আসেন উইনস্টন চার্চিল। এদিন জার্মানি ফ্রান্স আক্রমণ করে বসে।
১০ জুলাই ১৯৪০ : ব্রিটেনে যুদ্ধ
হিটলার এবার ব্রিটেন আক্রমণ করে। স্থল হামলার আগে ব্রিটিশ রয়্যাল বিমান বাহিনীকে বিধ্বস্ত করে ফেলে। নিহত হয় প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। মাত্র ২৪ রাতে ৫৩০০ টন উচ্চ বোমা ফেলা হয় লন্ডনে।
২২ জুন ১৯৪১ : জার্মানির সোভিয়েত আক্রমণ
১৯৪১ সালের ২২ জুন সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেন হিটলার। ইতালি, রোমানিয়া ও ফিনল্যান্ডের সহায়তায় প্রায় ৩০ লাখ জার্মান সেনা রাশিয়ায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। লক্ষাধিক ইহুদিকে হত্যা করে।
৭ ডিসেম্বর ১৯৪১ : পার্ল হারবার আক্রমণ
জার্মানির মিত্র জাপান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে বোমা নিক্ষেপ করে। এর প্রতিশোধে বিশ্বযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ : স্টালিনগার্ডে জার্মানির আত্মসমর্পণ
১৯৪২ সালে রাশিয়ার স্টালিনগার্ডে জার্মানির একটি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
৬ জুন ১৯৪৪ : ডি ডে
দক্ষিণ ফ্রান্স থেকে ডেনমার্ক এলাকায় জার্মান বাহিনীকে বিস্মিত করে আতর্কিত হামলা চালায় ব্রিটেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথবাহিনী। এর মাধ্যমে ফ্রান্সকে পুনরায় স্বাধীন করা হয়।
৮ মে ১৯৪৫ : জার্মানি পরাজিত
দুনিয়া দখলের হিটলারি স্বপ্ন চুরমার হয়ে ১৯৪৫ সালের ৮ মে জার্মানি চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
৬-৯ আগস্ট : পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ
পার্ল হারবারে হামলার প্রতিশোধে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দুটো পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। এতে শহর দুটি ধ্বংস হয়ে যায়।
১৪ আগস্ট ১৯৪৫ : যুদ্ধ শেষ
অবশেষে ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারসাম্যহীন প্রশাসন
এদিকে সত্যিকারার্থে দলমত নিরপেক্ষ যেসব মেধাবী কর্মকর্তা এভাবে দফায় দফায় পদোন্নতি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তাদের ক্ষোভ-অসন্তোষের শেষ নেই। বঞ্চিতদের মধ্যে যেসব মেধাবী কর্মকর্তার এখন সচিব কিংবা অতিরিক্ত সচিব পদে থাকার কথা ছিল তাদের অনেকেই উপসচিব অথবা বড়জোর যুগ্মসচিব পর্যন্ত গিয়ে আটকে আছেন। কেউ কেউ অবসরে যাওয়ার জন্য পাততাড়ি গোটাচ্ছেন। আর যাদের উপসচিব ও যুগ্মসচিব হওয়ার কথা তাদের কেউ কেউ এখনও পেছনের সারিতে পড়ে আছেন। এ রকম ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, এভাবে বিনা অপরাধে বারবার পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়া যে কতটা কষ্টের তা মুখের ভাষায় বোঝানো যাবে না। পরিবার-পরিজন ও সমাজের কাছেও তাদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, রিভিউ করার আবেদন জানিয়ে কোনো লাভ হবে বলে মনে করেন না। মূলত এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। এজন্য ন্যায়বিচার পেতে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, প্রশাসনে পদোন্নতি বঞ্চিত করার অভিযোগ নতুন নয়। সব সরকারের আমলে কম-বেশি ছিল। বিএনপি সরকারের সময়ও প্রতিটি পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করে শত শত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। ১৯৭৩ ব্যাচের কর্মকর্তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি ঠেকাতে গোপনে তিন দফায় পদোন্নতি বিধিমালা সংশোধন করার নজিরও রয়েছে। এছাড়া ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার সে সময় রেকর্ড গড়েছিল।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসএসবি (পদোন্নতি সংক্রান্ত সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া কাউকে পদোন্নতি থেকে বাদ দেয়া হয়নি। নিজেকে খুব মেধাবী কিংবা পদোন্নতি পাওয়ার সব শর্ত পূরণ আছে বলে যারা দাবি করছেন তাদেরও কোথাও না কোথাও কোনো সমস্যা আছে। তাছাড়া শুধু জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী কাউকে পদোন্নতি দেয়া হয় না। আর সব ধাপে পদোন্নতি পাওয়া একজন কর্মকর্তার অধিকারের বিষয়ও নয়। বরং পদোন্নতি দেয়া, না দেয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারই মুখ্য বিষয়। পদোন্নতি বিধিমালাতেও এ বিষয়ে এসএসবিকে অনেক ক্ষমতা দেয়া আছে। তা সত্ত্বেও তারা মনে করেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাস নাগাদ ইতিবাচক একটা মেসেজ আসতে পারে। তবে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা দেয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
অতিরিক্ত সচিব : এক হিসাবে দেখা গেছে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় দেড়শ’ জন। এর সঙ্গে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা যুক্ত করলেও তা পাঁচশ’র কাছাকাছি চলে যাবে। যেমন এক মাস আগে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন ব্যাচ হিসেবে ১৯৮৫ ব্যাচের বেশ কিছুসংখ্যক সৌভাগ্যবান কর্মকর্তার স্থান হয়েছে। কিন্তু একই ব্যাচের অনেকের ভাগ্যে তা জোটেনি। বরং এই ব্যাচের সিনিয়র (তদূর্ধ্ব পর্যায়ের) আরও দুটি ব্যাচের যুগ্মসচিবদের যদি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হিসেবে ধরে নেয়া হয়, তাহলে সে সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৮৫ জনে। এর সঙ্গে আদার্স ক্যাডারের কর্মকর্তা যুক্ত করলে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। যেমন- ১৯৮২ নিয়মিত ব্যাচের ১৬ জন, ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের ৪৪ জন, ১৯৮৪ ব্যাচের ১৭৬ জন। এছাড়া ১৯৮৫ ব্যাচেরই রয়েছে ২৪৯ জন যুগ্মসচিব। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠতা না পাওয়া কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই পদোন্নতি পাওয়া ২৮৬ জন ও একই বছর ১০ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি পাওয়া আরও ৬০ জন কর্মকর্তা। অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিত সিনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তারা হলেন ১৯৮২ ব্যাচের সিরাজ উদ্দিন মিয়া, বদিউল আলম, মোশাররফ হোসেন, ড. মো. আবদুল হামিদ, মোহাম্মদ মোস্তফা, রফিকুল-ই-মোহাম্মদ, এটিএম মহিউদ্দিন আহমেদ, এনডিসি, সফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল ফাত্তাহ মো. বখতিয়ার, সফিউর রহমান, এনডিসি, এসএম মেসবাহুল ইসলাম, মির্জা ফজলুল করিম, এম আবুল কাশেম মাসুদ, হাসানুর রহমান, আজিজ হাসান, এনডিসি, নাসরিন আখতার, ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের নাসির উদ্দিন খান, আবুল হাশেম, সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, সামসুল কিবরিয়া চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, এডি মোহাম্মদ আবদুল বাসেত, একেএম মুর্তজা, নাজমা বেগম, ফজলুল হক, ড. দিলীপ কুমার শর্মা, এনডিসি, মাহবুবুর রহমান, শাহ আলম বখশী প্রমুখ (জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সবার নাম দেয়া সম্ভব হল না)।
যুগ্মসচিব : যুগ্মসচিব পদে বর্তমানে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা ৩০৫ জন। যাদের মধ্যে ৬ বার বঞ্চিত হয়েছেন ১৯৮২ ব্যাচের ১ জন, ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের ৯ জন, ৪/৫ দফায় বঞ্চিত হয়েছেন ১৯৮৪ ব্যাচের ৫৮ জন, ৪ বার করে বঞ্চিত হয়েছেন ১৯৮৫ ব্যাচের ১০২ জন, ৩ বার বঞ্চিত হয়েছেন ৮৬ ব্যাচের ৫৫ জন এবং প্রথমবারের মতো গত ৬ এপ্রিল বঞ্চিত হয়েছেন ৯ম ব্যাচের ৩৩ জন ও ১০ম ব্যাচের ৪৭ জন।
যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিতরা হলেন ৮২ ব্যাচের মোহা. কামাল রেজা, ৮২ বিশেষ ব্যাচের মো. ওয়ালিউর রহমান, সুরুত জামান, আবু আল হেলাল, মুজিবুর রহমান, মো. ইলিয়াস, এসএম ফয়সাল আলম, সাবিনা ইয়াসমিন, আফজাল হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৯৮৪ ব্যাচের গোলাম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, জাফর সাদিক, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, তালেবুর রেজা মো. মোস্তাকুল হক, আবদুল বারী, মোয়াজ্জেম হোসেন, রফিকুল ইসলাম সরকার, ভূঁইয়া মো. আতাউর রহমান, নুরুল করিম মজুমদার, এসএম রইস উদ্দিন আহমেদ, আজিজার রহমান মোল্লা, তালুকদার শামসুর রহমান, জসিম উদ্দিন মাহবুব, সাইফুদ্দিন আহমেদ মজুমদার, ইমদাদুল হক, গোলাম মোস্তফা, লোকমান আহমেদ, কেফায়েত উল্লাহ, সৈয়দ আহমদ সাফা, মো. হাফিজউদ্দিন, ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, হুমায়ুন কবির, সৈয়দ মাহবুব-ই-জামাল, আবদুল কাইয়ুম, মীর আহমেদ, আবদুর রউফ, জাহিদ হোসেন, শেখ আলাউদ্দিন, আবু তালেব মোল্লা, ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, সামসুল আলম, আকমল হোসেন, আবদুর রব, গোলাম মাওলা, নবিউল হক মোল্লা, মমতাজ বেগম, ফেরদৌস আলম, ড. মো. আবদুল কাদের, শামীম সারা খান, ড. মহিউদ্দিন, এসএম আমজাদ হোসেন, মমরেজ মিয়া, তালাত মাহমুদ খান, এনএম ইসলাম প্রমুখ।
১৯৮৫ ব্যাচের তৌহিদুর রহমান, ড. শাহ মোহাম্মদ সানাউল হক, মো. মনিরুজ্জামান, আবুল বাশার মো. সিরাজুল হক, আবু তালেব, তাহসিনুর রহমান, আবদুল্লাহ আল বাকি, কাজী মো. আনোয়ারুল হাকিম, মোহাম্মদ শেফাউল করিম, মো. সলিমুল্লাহ, কাজী মেরাজ হোসেন, আবদুল মান্নান, ড. কাউয়ুম আরা বেগম, শাহ নেওয়াজ চৌধুরী, মো. মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী, আবদুল আহাদ, ড. শাহেদ ইকবাল মাহবুব, হুমায়ুন কবির, জামাল হোসেন মজুমদার, জাহাঙ্গীর আলম খান, ইয়াহিয়া ভূঁইয়া, ড. কামরুল আহসান, আলনূরি ফাইজুর রেজা, হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া, সাজ্জাদুল কাইয়ুম দুলাল, আউলাদ হোসেন খান, নাসির উদ্দিন আহমেদ, আবু সৈয়দ মো. শাহীন রেজা খান, আবুল কালাম আজাদ, এসএম ফিরোজ আলম, জুলফিকার আলী হায়দর, ফাইজুল করিম, আব্দুল্লাহ মাসুদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, ড. মোহাম্মদ ফেরদৌস হোসেন, ড. রেজাউল করিম, মকবুল হোসেন, জর্জেস মিয়া, নাসিমা মহসীন, আবদুর রশীদ, নাসরীন আখতার চৌধুরী, শেখ আতিয়ার হোসেন প্রমুখ।
১৯৮৬ ব্যাচের ড. আবুল হোসেন, শামীম আল মামুন, শরীফ মর্তুজা মামুন, এএন এম শফিকুল ইসলাম, ইলিয়াস ভূঁইয়া, সেলিম আখতার, জাফর উল্লাহ খান, মহসিনা খান, তৌফিকুর রহমান, জাকির হোসেন কামাল, হাওলাদার জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, মো. সামসুদ্দোহা, আবদুল জলিল, মুকসিদুর রহমান, মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী, ড. ফজলে রাব্বি সাদিক আহমেদ, মো. আলাউদ্দিন, নূরুল আলম, আবু নাসের, মঈন উদ্দিন, আবু তালেব, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবু তালেব, কাজী ফাইজুর রহমান, মকবুল হোসেন, লাইসুর রহমান, ড. সিরাজুল ইসলাম, লুৎফুন্নাহার বেগম, আবদুল মতিন প্রমুখ। ৯ম ব্যাচের ফখরুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুল মজিদ, মোস্তা গাউসুল হক, এজেটএম আবদুল্লাহ হেল বাকি, মো. মহসীন, আবদুল মান্নান, মাহবুবুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফারুক আলম, সারওয়ার মাহমুদ, আলমগীর হোসেন, কেএম তরিকুল ইসলাম, হাসনুল ইসলাম, একেএম মাসুদুর রহমান, রেজাউল হায়দার, নাসরীন খোরাসানি, আবদুস সাত্তার সরকার, শফিকুল হক, জাকির হোসেন, অনল চন্দ্র দাস, নজরুল ইসলাম, জিএম আবদুল কাদের, ইউসুফ আলী, রফিকুল ইসলাম খান, সাদ’ত হোসেন, এসএম মাসুদুর রহমান, মিজানুর রহমান, আমজাদ হোসেন ব্যাপারি প্রমুখ।
১০ম ব্যাচ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন, রেজাউল করিম, আজম খান, মির্জা তারিক হিকমাত, মোজাম্মেল হক, কাজী মোহাম্মদ মনজুর-ই-মাকসুদ, রিজওয়ানুল হুদা, সালমা মমতাজ, দেলোয়ার হায়দার, হারুন অর রশীদ মোল্লা, নুরুল আলম নিজামী, মকবুল হোসেন, আতাউর রহমান, আবু মাসুদ, ড. খালিদ হোসেন, ড. শাহনাজ আরেফিন, ড. মোহাম্মদ আমিন, মাহমুদা খাতুন, জিল্লুর রহিম শাহরিয়ার, মাসুদ করিম, মো. আনিসুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান, রাশেদা আখতার, ড. মনিরুজ্জামান, মনজুর মোর্শেদ, সাইদুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, গিয়াস উদ্দিন মোগল, একেএম দিনারুল ইসলাম, তাহেরা ফেরদৌস বেগম, কবিরুল হাসান, জাফর রাজা চৌধুরী, মোমেনা খাতুন, ড. সিতারা বেগম প্রমুখ।
উপসচিব : বর্তমানে উপসচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা ১৯৪ জন। যাদের মধ্যে ৫ দফায় বঞ্চিত হয়েছেন ৯ম ব্যাচের ২ জন ও ১০ম ব্যাচের ৭ জন, ৪ বার করে বঞ্চিত হয়েছেন ১১তম ব্যাচের ২২ জন ও ১৩তম ব্যাচের ২৭ জন, ৩ বার বঞ্চিত হয়েছেন ১৫তম ব্যাচের ২৬ জন, ২ বার করে বঞ্চিত হন ১৭তম ব্যাচের ১৩ জন ও ১৮তম ব্যাচের ১৭ জন এবং ৬ এপ্রিলের পদোন্নতিতে প্রথমবারের মতো বঞ্চিত হয়েছেন ২০তম ব্যাচের ৮০ জন।
উপসচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিতরা হলেন ৯ম ব্যাচের তাজুল ইসলাম ও মো. সেলিম। ১০ম ব্যাচের সিরাজুল ইসলাম খান, গাজীউদ্দিনর মোহাম্মদ মনির, এজেএম সালাউদ্দিন নাগরী, মো. আব্বাসউদ্দিন, মাহবুবল আহসান, ১১তম ব্যাচের আক্তারুজ্জামান তালুকদার, এবি আইন আবদুল্লাহ, কেএম কবিরুল ইসলাম, মো. কামাল উদ্দিন, আহমেদুল হক, একেএম এসানুল হক, মনিরুজ্জামান খান, মোহাম্মদ নুরুল আবছার, রেজাউল কবির, শরীফ মাসুদ, নজরুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, ইমামুদ্দিন কবির, মোহাম্মদ আলী, ফাহিমা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া, ফরিদুল ইসলাম, আবদুল মতিন, এমএম মঈন উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। ১৩তম ব্যাচের আবদুল খালেক, সেকেন্দার রিজভী, ড. মো. নাজমুল আমিন মজুমদার, একে লুৎফর রহমান, মাহমুদ হাসান, এ ই এম জিয়াউদ্দিন আল মামুন, আলীম আখতার খান, রফিকুল ইসলাম, ড. মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মাহবুবুর রহমান, ফজলুল কবির, শাহীন আখতার, খন্দকার মাহবুর রহমান, ফয়েজ আহমেদ, মাহফুজুল ইসলাম, মহিউদ্দিন আল ফারুক, মিজানুর রহমান, মনজুর রহমান, নওয়াব আসলাম হাবিব, আবদুল হাশেম, হামিদুর রহমান প্রমুখ। ১৫তম ব্যাচের এএইচএম আবদুল করিম, খালেদ রহিম, শেখ মতিয়ার রহমান, বাবুল মিয়া, ওবায়দুর রহমান, শাহজাহান মিয়া, সাইদুর রহমান, রেজাউল করিম, রকিবুল হাসান, মালেকা পারভীন, নাসির উদ্দিন দৌলা, সৈয়দ নূরুল বশীর, ইউনুছ আলী, একেএম তরিকুল আলম, সেলিম উল্লাহ, এএসএম হুমায়ুন কবির, শওকত রশীদ চৌধুরী, আফজালুর রহমান, শেখাবুর রহমান, শবনাম মুশতারি, ড. আবদুল হাকিম, আবদুন নাসের খান, শেখ আখলাক আহমেদ, আবদুর রহমান তরফদার, ড. এএম ওয়ালিউল্লাহ প্রমুখ। ১৭তম ব্যাচের কাজী আনোয়ার হোসেন, ইব্রাহিম খান, ফিরোজ সরকার, সাইদুর রহমান খান, কেএম আলী নেওয়াজ, নরুননাহার চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম, মো. ফখরুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, আবু আহমেদ সিদ্দিক, রায়হান কায়সার, দাউদ মিয়া, ড. সৈয়দা নওশীস, মোক্তার আহমেদ প্রমুখ। ১৮তম ব্যাচের শাহ আলম, ফজলুর রহমান, রফিকুল আলম, ড. মিজানুর রহমান, সুরাইয়া আখতার জাহান, ড. সাইফুল আলম, মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, রেজাউন নবী।
আদার্স ক্যাডার : প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ন্যায় অন্যান্য ক্যাডার থেকে যারা অপশন দিয়ে উপসচিব থেকে সচিব পর্যায়ে ওঠে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের অনেকের সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বরং তাদের উপসচিব হতেই অনেক সময় পাড়ি দিতে হয়েছে।
প্রশাসন ক্যাডারের অনেক জুনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের উপসচিব হতে হয়। এরপর উপরের ধাপগুলোতে কখনও সময়মতো পদোন্নতি হয় না। এবার তিন স্তরের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একই নজির স্থাপিত হয়েছে।
শুধু একটি ক্যাডারের উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যেমন গণপূর্ত ক্যাডারের বিসিএস (বিশেষ) ১৯৮৩ ব্যাচ। বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারের কর্মকর্তারা ১৯৮৪ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। যাদের মধ্যে ৭ জন কর্মকর্তা অন্যান্য ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২০০৫ সালের ২১ এপ্রিল এবং ৪ জন কর্মকর্তা অন্যান্য ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২০০৬ সালের ২৬ জানুয়ারি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান। গণপূর্ত ক্যাডারের ১৯৮৩ ব্যাচের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অন্যান্য ক্যাডারের কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের থেকে আলাদাভাবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করায় তারা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়। ওদিকে বিলম্বে ১৯৮৩ ব্যাচের গণপূর্ত ক্যাডারের ৬ জন কর্মকর্তা বিলম্বে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় পরবর্তীতে তাদের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিও পিছিয়ে যায়।
সময়মতো পদোন্নতি না পাওয়ায় কয়েকজনকে অবসরে যেতে হয়েছে।
অবশেষে ৬ এপ্রিল অতিরিক্ত সচিব পদে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হলেও গণপূর্ত ক্যাডারের ১৯৮৩ ব্যাচের ছয়জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। যুগ্মসচিব হিসেবে যাদের তিনজনের চাকরিকাল ৪ বছর পার হয়েছে। চাকরির শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে হতাশাগ্রস্ত এসব পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা এখন পুনর্বিবেচনার আশায় অপেক্ষায় রয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 11
(19)
- প্রতিবাদ দমনে লাঠিপেটা
- মানবপাচার রোধে বেড়েছে ‘হঠাৎ তৎপরতা’
- কার্টুন এক তামাশা by নাজমা মোস্তফা
- এ কেমন বর্বরতা!
- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন পথে by আব্দুল কাইয়ুম
- বিএসএফের গুলিতে হতাহত, গ্রামে গ্রামে চাপা কান্না
- রাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হলো by এম সাখাওয়াত হোসেন
- সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট বেসরকারিতে কম যোগ্যতা by ...
- গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন দায়ীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্...
- আওয়ামী লীগ কার্যালয় রেখে বাকি সব উচ্ছেদ, যেখানে আই...
- পুলিশি অ্যাকশন
- যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ভূমিকম্প!
- পরিত্যক্ত দুই ভবন ভাড়া দিচ্ছে মাস্তানরা by মতিন আব...
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস
- ভারসাম্যহীন প্রশাসন
- রাশিয়ায় বৃহত্তম সেনা কুচকাওয়াজ
- দেশে পরিযায়ী পাখি বাড়ছে by ফারজানা হালিম
- মানুষের পকেট কেটে মুনাফা by অরুণ কর্মকার
- ফসলের খেতে হঠাৎ ঘর by ইকবাল গফুর
-
▼
May 11
(19)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








%E0%A5%A4%2B%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%2B%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%2B%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF%2Bl%2B%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A6%2B%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A8.jpg)








