Monday, January 7, 2019

‘সৌদি আরবের বৈঠকে যোগ দেবে না তালেবান’

আমেরিকার সঙ্গে পরিকল্পিত শান্তি আলোচনায় যোগ দেবে না আফগানিস্তানের তালেবান। চলতি মাসে এ আলোচনা সৌদি আরবে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বদলে আলোচনা কাতারে সরিয়ে নেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে তালেবান।
তালেবানের এক পদস্থ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। শান্তি আলোচনায় আফগান সরকারকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা করছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের এ প্রয়াসকে ঠেকানো জন্য বৈঠকের স্থান পরিবর্তনের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে  তালেবান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদস্থ তালেবান কর্মকর্তা বলেন, গত মাসে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তি প্রক্রিয়া শেষ হয় নি। প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে রিয়াদে তালেবানের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠকের কথা ছিল।
কিন্তু আফগান সরকারে প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবানকে বৈঠক করার জন্য  সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই’র নেতারা জোর দিচ্ছেন বলে জানান তিনি। তালেবানের পক্ষে এখন কাবুলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তাই সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় বৈঠক বাতিল করা হলো।
পরিবর্তে কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক সদর দফতরে বৈঠক হতে পারে বলেও জানান তিনি। এদিকে, তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সৌদি আরবে বৈঠক বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অবশ্য, বৈঠকের নতুন স্থান নিয়ে কিছু বলেন নি তিনি।

বিয়ে করে সিংহাসন ছাড়লেন মালয়েশিয়ার রাজা

রাজা মুহাম্মাদ সুলতান ও ওকসানা ভোয়েভোদিনা
মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান মুহাম্মাদ ভি রাশিয়ার সাবেক বিউটি কুইন ওকসানা ভয়েভোদিনাকে বিয়ে করে সিংহাসন ছেড়ে দিয়েছেন। মালয়েশিয়ার রাজকীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া, রাশিয়ার স্পুৎনিকসহ বিশ্বের বহু গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম দিকে ওকসানা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর মালয়েশিয়ার সুলতানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। ২৫ বছর বয়সী এ মডেল তারকা ২০১৫ সালে মিস মস্কোর শিরোপা জিতেছিলেন। এরপর তিনি মডেলিংয়ের জন্য চীন ও থাইল্যান্ড সফর করেন। তবে ওকাসানা এবং ৪৯ বছর বয়সী সুলতান মুহাম্মাদের প্রথম কোথায় সাক্ষাৎ হয়েছে তা নিশ্চিত নয়। ওকসানার বাবা পেশায় একজন ডাক্তার। গতকাল মালয়েশিয়ার রাজকীয় কর্মকর্তারা বিয়ের বিষয়টি নিশ্চত করার আগে এক রকমের গুজব হিসেবে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সুলতান ভি চিকিৎসার নাম করে নভেম্বর মাসে কিছুদিনের জন্য ছুটি নেন।
 
মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান মুহাম্মাদ ভি 
১৯৫৭ সালে মালয়েশিয়া ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে এবং এরপর এই প্রথম কোনো রাজা সিংহাসন ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ৬ জানুয়ারি থেকে তার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ২০১৬ সালে সুলতান ভি সিংহাসনে বসেন।
মালয়েশিয়া হচ্ছে সংবিধিানিকভাবে রাজতান্ত্রিক দেশ তবে রাজা মূলত আলঙ্কারিক পদ এবং প্রতি পাঁচ বছর পর এ পদে পরিবর্তন হয়। মালয়েশিয়ার নয়টি রাজ্য থেকে পর্যায়ক্রমে একজন করে রাজা মনোনীত হন।

গ্যাবনে অভ্যুত্থান চেষ্টা ভন্ডুলের দাবি সরকারের

আফ্রিকার দেশ গ্যাবনে একটি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা ভন্ডুল করে দেয়ার দাবি করেছে সরকার। তারা বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সোমবার সকালে সেনাবাহিনী অকস্মাৎ রাষ্ট্রীয় রেডিও অফিসে প্রবেশ করে এবং জনগণকে জেগে উঠার আহ্বান জানায়। এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট আলী বঙ্গো ছিলেন দেশের বাইরে। এ ছাড়া লিব্রেভিলেতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রধান কার্যালয়ে গুলির শব্দ শোনা গেছে। যখন রেডিওতে জনগণের প্রতি ওই আহ্বান জানানো হয়, ঠিক একই সময়ে টেলিভিশন সদর দফতরে শুলির শব্দ শোনা গেছে। বিভিন্ন সড়কে অবস্থিত সরকারি অফিসগুলোতে যাওয়ার পথে সামরিক যান রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আলী বঙ্গো স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর মরস্কোর রাজধানী রাবাত-এ একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে সরকার বলেছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারের মুখপাত্র গাউ বারট্রান্ড মাপাঙ্গোউ বলেছেন, কর্তৃপক্ষ বিদ্রোহী সেনাদের চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্য একজন পলাতক রয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর জুনিয়র কর্মকর্তারা দাবি করছেন তারা গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করার জন্য ক্ষমতা দখল করেছে। তার দাবি, রাজধানী লিব্রেভিলের রাজপথে এখন আর কোনো ট্যাংক বা সাজোয়া যান নেই। বিবিসি লিখেছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় রেডিও স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সেনারা। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত একটি ঘোষণা পড়ে শোনান। ‘ন্যাশনাল রিস্টোরেশন কাউন্সিল’-এর পক্ষ থেকে ওই ঘোষণা দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গ্যাবনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলী বঙ্গো তার পিতা ওমর বঙ্গোর কাছ থেকে ২০০৯ সালে ক্ষমতা পান। ২০১৬ সালে নতুন নির্বাচন হয়। তাতে খুব সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন আলী বঙ্গো। তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগ আছে।
গ্যাবন থেকে বিবিসির সাংবাদিক ফিরমেইন এরিক মবাডিঙ্গা বলেন, সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা একটি বিরাট বিস্ময়কর ঘটনা। কারণ, এ দেশটিতে সেনাবাহিনীকে দেখা হয় বঙ্গো পরিবারের প্রতি খুবই আনুগত্যপূর্ণ হিসেবে।

সংসদ সদস্যদের শপথ অসাংবিধানিক by শহীদুল্লাহ ফরায়জী

বাংলাদেশের সংবিধান সংসদের মেয়াদ ৭২ (৩) মোতাবেক ৫ বৎসর  নিশ্চিত করেছে। সংবিধান মোতাবেক সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার ক্ষেত্রে দুইটি পন্থা অনুসরণীয় ১. মেয়াদ অবসানের কারণে ২. রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মেয়াদ অবসান ব্যতিত ভেঙ্গে দেওয়া।
বাংলাদেশের দশম সংসদ রাষ্ট্রপতি ভেঙ্গে দেন নি। ফলে দশম সংসদ ২৮শে জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত সাংবিধানিক ভাবে বিদ্যমান। কিন্তু দশম সংসদের মেয়াদ সমাপ্তির আগেই একাদশ সংসদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। যা সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন। বিশ্বের কোন দেশে সংসদের মেয়াদ সমাপ্তি না করে পরবর্তী সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় না। শুধু বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম। আওয়ামী লীগ সরকার প্রবর্তিত সংবিধানের ১২৩(৩)ক মোতাবেক দশম এবং একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুবারই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে নির্বাচন কমিশন।
দশম সংসদের মেয়াদ অক্ষুন্ন রাখার শর্তে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানের ১২৩(৩)ক মোতাবেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২৩(৩)ক মোতাবেক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি অপরিহার্য শর্ত রয়েছে। এই শর্ত পূরণের ভিত্তিতেই যেহেতু একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাই এ শর্ত পূরণ  অপরিহার্য- এই শর্ত অলঙ্ঘনীয়।
১২৩(৩)ক তে বলা হয়েছে, “মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে... তবে শর্ত থাকে যে এই দফার (ক) উপদফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগন, উক্ত উপদফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্য রূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।” অর্থাৎ দশম সংসদের মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত একাদশ সংসদ কার্যভার গ্রহণ করতে পারবে না। এটা সংবিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা - এই নির্দেশনা একাদশ সংসদের নির্বাচিতগণ ও প্রজাতন্ত্রের সরকার মানতে বাধ্য। নির্বাচন কমিশন ২৮শে জানুয়ারির পূর্বে একাদশ সংসদের কার্যক্রম শুরু বা উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন না। একাদশের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা গেজেট প্রকাশ সব হবে ২৮শে জানুয়ারির বিবেচনায়, যাতে দশম সংসদের মেয়াদ ক্ষুন্ন না হয়। নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ১৪৮(২)ক মতে যদি ২৮শে জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করতো, তা হতো সংবিধান অনুসরণে। সংবিধানের যে শর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো তা অনায়াশে লঙ্ঘন করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন এবং সরকার।
সংবিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও ২৮শে জানুয়ারির পূর্বেই তড়িঘড়ি করে শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠন করা হবে অসাংবিধানিক। সাংবিধানিকভাবে একাদশ সংসদের শপথ ও সরকার গঠন অবশ্যই হতে হবে ২৮শে জানুয়ারির পর। এর ব্যতয় ঘটলে নির্বাচন কমিশন এবং সরকার সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন। 
এই আইন ভঙ্গ করার কোন সাংবিধানিক এক্তিয়ার রাষ্ট্রের কোন প্রতিষ্ঠানের নেই। নির্বাচন কমিশনও কোন সংসদের মেয়াদকে সীমিত করতে পারে না। দশম সংসদের মেয়াদ একদিনের জন্য সীমিত করার ক্ষমতা সরকার বা একাদশ সংসদের নেই। 
যেহেতু ১২৩(৩)ক অনুযায়ী একাদশ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেহেতু সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার সাংবিধানিক বিধান কার্যকর করার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু দশম সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া হয় নি তাই এর মেয়াদ অবসানের আগে একাদশ সংসদ সদস্যদের শপথ বা সরকার গঠনের  সাংবিধানিক এক্তিয়ার নেই।
১২৩(৩)ক শর্ত যুক্ত অনুচ্ছেদটি আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এক সংসদের মেয়াদ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আরেক সংসদের শপথ সংবিধান ও সংবিধানের চেতনার সঙ্গে চরম সাংঘর্ষিক।
সংবিধান হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা এবং এর রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য হিসাবে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা রয়েছে। যদি ১২৩(৩)ক এর শর্ত লঙ্ঘিত হয় তাহলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭২, ৯৩, ৯৮, ১১৮, ১৩৩, ১৩৫, ১৩৮, ১৪১, ১৪২, ১৪৫, ১৪৭ ও ১৫৩ অনুচ্ছেদের সকল শর্ত অকার্যকর হয়ে পড়বে। এতে রাষ্ট্র ও সংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়বে।
ভারতের সংবিধান প্রণেতা ড.আম্বেদকর বলেছেন, “সাংবিধানিক আইনকে সাংবিধানিক নৈতিকতার একটি বুনিয়াদের উপর ভর করতে হয়।  ড.আম্বেদকর মতে, সাংবিধানিক নৈতিকতা স্বাভাবিক অনুভূতি নয়। এটা চর্চার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। যতই সতর্কভাবে সংবিধান রচিত হোক না কেন, সাংবিধানিক নৈতিকতার অনুপস্থিতিতে সংবিধানের ক্রিয়া পদ্ধতি স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক ও খামখেয়ালী (arbitrary, erratic and capricious) হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আইনপ্রণেতা ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে সাংবিধানিক নৈতিকতার অনুপ্রবেশ না ঘটলে সংবিধানটি  ক্ষমতার দালালদের হাতের খেলনা হয়ে দাঁড়ায়।” আমাদের সংবিধান লঙ্ঘন ও উপেক্ষা করার মধ্যমে ক্ষমতাসীনদের হাতের খেলনায় পরিণত হচ্ছে।
২৮শে জানুয়ারির পূর্বে একাদশ সংসদ সদস্যদের শপথ এবং সরকার গঠনের দ্রুত উদ্যোগ হবে অসাংবিধানিক ও রাষ্ট্রের জন্য বিপদজনক।
সংবিধানের প্রাধান্য, নির্দেশনা, বিধি বিধান, শর্ত লঙ্ঘন করে সংবিধানকে সরকারের অনুকূলে ব্যবহার করার প্রবণতা সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিবে।
সংবিধান ও সংবিধানিক চেতনাকে অস্বীকার করে রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে না বরং ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মাকে ক্রমাগতভাবে অসম্মান করা হবে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রনায়কদের এই মুহূর্তেই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
লেখক গীতিকার
faraizees@gmail.com

পদত্যাগ করলেন মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান মুহাম্মদ

মালয়েশিয়ার রাজা পঞ্চম সুলতান মুহাম্মদ। মাত্র দু’বছর সিংহাসনে আরোহণ করেছেন তিনি। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি রাজসিংহাসন ছেড়ে দিলেন। ঘোষণা দিয়েছেন পদত্যাগের। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত তার বিস্তারিত কিছু জানান নি। বলা হয়েছে, তার এই পদত্যাগ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে। মালয়েশিয়ায় রাজার ক্ষমতার মেয়াদ ৫ বছর। তা পূরণ হওয়ার তিন বছর আগেই সুলতান মুহাম্মদের এমন সিদ্ধান্তে হতভম্ব সাধারণ মানুষ।
এমনিতেই তিনি মালয়েশিয়ায় ব্যাপক আলোচনায়। কারণ, তিনি তার থেকে ২৪ বছরের ছোট এক বিউটিকুইনকে বিয়ে করেছেন গত বছরে। ওই সময় সুলতান মুহাম্মদের বয়স ছিল ৪৮ বছর। আর তিনি যাকে বিয়ে করেন তার বয়স ছিল ২৪ বছর। ওই বিউটিকুইন মাত্র ২২ বছর বয়সে ২০১৫ সালে মিস মস্কো নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর তার মধ্য দিয়ে তিনি খ্যাতির শিখরে পৌঁছে যান। তার ওপর নজর পড়ে সুলতান মুহাম্মদের। ওই বিউটি কুইনের নাম ওকসানা ভোয়েভোদিনা।
বর্তমানে তার বয়স ২৫ বছর। গত বছর সুলতান মুহাম্মদ তাকে বিয়ে করায় ওকসানা ভোয়েভোদিনা হন মালয়েশিয়ার ফার্স্টলেডি। নভেম্বরে তাদের বিলাসী বিয়ের আয়োজন করা হয়। ওই বছরের শুরুতে ওকসানা ভোয়েভোদিনা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি সুদূরপ্রসারি। বিয়ের আগে ওকসানা ভোয়েভোদিনা মডেলিং করেছেন চীনে ও থাইল্যান্ডে। পোজ দিয়েছেন রগরগে দৃশ্যে। বিয়ের আগে তিনি সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমার মতে সংসারের প্রধান হতে হবে পুুরুষকে। অবশ্যই সেই পুরুষ একজন নারীর চেয়ে কম উপার্জন করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়াতে ৯টি রাজপ্রাসাদ আছে। এগুলো রাজারা ভোগদখল করেন। সুলতান মুহাম্মদ পদত্যাগ করার ফলে নতুন রাজা নির্বাচন করতে ভোট হবে কাউন্সিল অব রুলারসের। এটি হলো ৯টি রাজপ্রসাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিষদ। ওই পরিষদই এখন সিদ্ধান্ত নেবে পরের রাজা কাকে বানানো যায়। রাজপ্রাসাদ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাউন্সিল অব রুলারস যে সুযোগ দিয়েছিলেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন সুলতান মুহাম্মদ। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকেও ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য, রাজা হিসেবে সুলতান মুহাম্মদ দু’মাসের মেডিকেল ছুটিতে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে কাজে যোগ দেয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।

ইসলামি বিপ্লবের ৪০ বছর: ইরানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে শত্রুদের চেষ্টা অব্যাহত

ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছর ধরে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং সারা বিশ্বে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টিতে শত্রুর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকেই শত্রুরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
তারা নানা প্রচার চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য তেহরানকে দায়ী করার মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শত্রুর অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র কার্যত ব্যর্থ ও ম্লান হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইতিবাচক ভূমিকার কারণে ইসলামি ইরানের অবস্থা দিনকে দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি আযাদি স্টেডিয়ামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হাজার হাজার সদস্যের এক সমাবেশে বলেছেন, ইরানের শক্তির ভিত্তিগুলোকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানে নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ, অব্যাহত উন্নতি, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শক্তিতে বলিয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপস্থিতি দেশটির শক্তির ভিত্তি যা কিনা শত্রুরা ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী
ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরান ছিল একটি দুর্বল ও স্বৈরাচারী রাষ্ট্র। এ কারণে ভূ-কৌশলগত দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ শক্তিগুলোর নীতি অনুসরণ করে চলত ইরানের তৎকালীন সরকার। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের পর মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে ইরানের মর্যাদা ও সম্মান বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশটি এখন আঞ্চলিক বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লব গত ২০০ বছরের মধ্যে পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যে পাশ্চাত্যের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত দখলদার ইসরাইলের মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ইরানের বিপ্লবী সরকার। পাশ্চাত্যের মতো আগ্রাসন চালিয়ে বা আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে নয় বরং সংলাপ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে কাজে লাগিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের পদক্ষেপ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। এ কারণে আমেরিকা হতাশ হয়ে পড়েছে এবং এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব খর্ব করার জন্য ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে। ইরানের মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা অনবরত দেশটির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মিউজিক
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী শাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভূ-কৌশলগত অবস্থান এবং বিরাজমান অর্থনৈতিক সুযোগ-বিধাকে কাজে লাগিয়ে ইরান আজ এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে যা এ অঞ্চলের অন্য দেশের জন্যও আদর্শ বা মডেলে পরিণত হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লব এ অঞ্চলের নির্যাতিত জাতিগুলোর জন্য প্রেরণা হয়ে আছে এবং জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস যুগিয়েছে। ইরানের প্রেরণায় মধ্যপ্রাচ্যে যেসব প্রতিরোধ সংগঠন গড়ে উঠেছে তা এ অঞ্চলে আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলকে চিন্তিত করে তুলেছে এবং ক্রমেই ওই দুই অপশক্তি কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
লেবাননের প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহ
ইরানের প্রধান নীতি হচ্ছে সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীন নীতি  মেনে চলা। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈঠকে ইয়েমেনসহ এ অঞ্চলে বিরাজমান নানা সংকট নিরসন এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমস্যা সমাধানেও ইরান ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরান এমন এক শান্তিময় বিশ্ব গড়ার চেষ্টা করছে যেখানে যুদ্ধ ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের কোনো জায়গা থাকবে না।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মনে করে গঠনমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদসহ যেকোনো অভিন্ন হুমকি মোকাবেলা করা সম্ভব। ইরানের সংসদে শাহরুদ এলাকার প্রতিনিধি এ ব্যাপারে বলেছেন, "বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদের শিকার। এ অবস্থায় মুসলিম দেশগুলোর আন্ত:সংসদীয় ইউনিয়ন দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।"
যাইহোক, গত এক দশকের ঘটনাবলীতে প্রমাণিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যের অবসান না ঘটা পর্যন্ত এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। ইরান সবসময় এটা বোঝানোর চেষ্টা করে আসছে এবং এখনো বিশ্বাস করে একমাত্র এভাবেই ফিলিস্তিনসহ মুসলমানদের অন্যান্য সমস্যার সমাধান এবং জাতিগুলোর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ইরান মনে করে, ফিলিস্তিন শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন, ভাগ্য নির্ধারণে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বায়তুল মোকাদ্দাসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
ফিলিস্তিন শরণার্থীদের একটি ক্যাম্প
কিন্তু দখলদার ইসরাইল চায় বিশ্ববাসী এটা মেনে নিক যে ফিলিস্তিনিরা এমন এক শরণার্থী যাদের কোনো জায়গা নেই, দেশ নেই এবং তারা প্রতিরোধকামিতাকে সন্ত্রাসবাদে পরিণত করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি মুসলিম দেশগুলোর ১৩তম আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে বলেছেন, "এটা ভাবা উচিত হবে না দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে কোনো লাভ হবে না বরং আল্লার দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামীরাই বিজয়ী হবে। যেমনটি প্রতিরোধ যোদ্ধারা আগের চেয়ে আরো বেশি সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে এবং তারা ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে।"
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ফিলিস্তিন সংকটকে তিনটি অংশে বিভক্ত করেছেন। অর্থাৎ প্রথমত, ইসরাইলের দখলদারিত্ব, দ্বিতীয়ত, স্থানীয় লাখ লাখ অধিবাসীকে গণভাবে উৎখাত বা বিতাড়ন এবং তৃতীয়ত, ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও মানবতা বিরোধী অপরাধযজ্ঞ। এই তিনটি ঘটনা ইসরাইলকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুলুমবাজে পরিণত করেছে। তাই মুসলিম বিশ্বকে অবশ্যই দখলদার ইসরাইলের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
যাইহোক, ইসলামি ইরান বিশ্বকে এটা দেখিয়ে দিয়েছে, কোনো শক্তিই ইরানকে তার দায়িত্ব ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে সরাতে পারবে না। তাই, ইসলামি বিপ্লবের ৪০ বছর পরও ইরান মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে।

আইনস্টাইনের তত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান ভারতীয় কিছু বিজ্ঞানীর

স্যার আলবার্ট আইনস্টাইন ও আইজ্যাক নিউটনের আবিস্কারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভারতের কিছু বিজ্ঞানী। তারা বলেছেন, ওই দুই বিজ্ঞানী বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব দিয়েছেন। অভিকর্ষজ বিকর্ষণ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন নিউটন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করেছেন বার্ষিক ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস। সেখানেই জগদ্বিখ্যাত ওই দুই বিজ্ঞানীর তত্ত্ব সম্পর্কে এমন সব মন্তব্য করেছেন ভারতীয় ওইসব বিজ্ঞানী। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘স্টেম সেল’ নিয়ে গবেষণা আবিস্কার করেছেন প্রাচীণকালে ভারতের হিন্দুরা। এমন দাবি করা ভারতীয় বিজ্ঞানীরা ওই সম্মেলনের বক্তাদেরও কড়া সমালোচনা করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, ক্রমাগত বেশি থেকে বেশি হিন্দু পুরাণ ও ধর্মভিত্তিক তত্ত্ব ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের অংশ হয়ে উঠছে ।
কিন্তু এ বছর তা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। আলবার্ট আইনস্টাইন ও আইজ্যাক নিউটনকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন অন্ধ্র ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর জি নাগেশ্বর রাও। তিনি দাবি করেন কয়েক হাজার বছর আগে ভারতে শুরু হয়েছিল স্টেম সেল গবেষণা। এর স্বপক্ষে তিনি বহু পুরনো একটি ‘হিন্দু টেক্সট’ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি দাবি করেন, হিন্দু ধর্মীয় মহাকাব্য রামায়ণে একজন দৈত্যাকার রাজা ছিলেন, যার ছিল ২৪ রকম এয়ারক্রাফট এবং আধুনিক সময়ের শ্রীলঙ্কায় কোথায় অবতরণ করবেন তার জন্য ছিল একটি নেটওয়ার্ক।
তার সঙ্গে যোগ দেন দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়–র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বিজ্ঞানী। তিনি ওই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, আইজাক নিউটন ও আলবার্ট আইনস্টাইন উভয়েই ছিলেন ভুল। তিনি বলেন, গ্রাভিটেশনাল ওয়েভের নাম হওয়া উচিত ‘নরেন্দ্র মোদি ওয়েভস’। এই বিজ্ঞানীর নাম হলো ড. কে জে কৃষ্ণান। তিনি আরো বলেছেন, অভিকর্ষজ বিকর্ষণ শক্তি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন নিউটন এবং আইনস্টাইনের তত্ত্বগুলো বিভ্রান্তিকর।
তবে সমালোচকরা বলছেন, প্রাচীণ ভারতের যেসব লেখনি পাওয়া গেছে তা এখনও পড়া হয় এবং তা থেকে আনন্দ পাওয়া যায়। তবে এগুলোকে যদি কেউ বিজ্ঞান হিসেবে মনে করেন তাহলে তা হবে এক রকম বোকামি।
বিজ্ঞানের আলোকশিখা জ্বালানো আইজাক নিউটন ও আলবার্ট আইনস্টাইনকে নিয়ে এমন সব বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান সায়েন্টিফিক কংগ্রেস এসোসিয়েশন। এর সাধারণ সম্পাদক প্রেমেন্দু পি মাথুর বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেছেন, যারা ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নয় এবং তাদের ওই মন্তব্য থেকে তারা নিজেদেরকে দূরত্ব বজায় রাখেন। তাদের এমন মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। তিনি আরো বলেছেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন উচ্চারণে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
গত বছর ভারতের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সত্যপাল সিং ইঞ্জিনিয়ারিং পুরস্কার বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বিমানের কথা প্রথম উল্লেখ করা হয়েছে হিন্দুদের প্রাচীন মহাকাব্য রামায়ণে। তিনি আরো দাবি করেন, রাইট ব্রাদার্সদের আবিস্কারের আট বছর আগেই প্রথম কার্যকর বিমান আবিষ্কার করেছিলেন একজন ভারতীয়। তার নাম শিবাকর বাবুজি তালপাড়ে।
২০১৪ সালে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টাফদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সেখানে হিন্দুদের দেবতা গণেশের কাহিনী তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, গণেশের মাথা হলো হাতির। আর তা যুক্ত হয়ে আছে মানবীয় শরীরের সঙ্গে। এতে প্রমাণিত হয় যে, প্রাচীন ভারতে কসমেটিক সার্জারির প্রচলন ছিল।
রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বলেন যে, গরুর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটিই হলো বিশ্বে একমাত্র পশু যা অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং ছাড় দেয়।

বিজেপি কেন আবারো বাবরি মসজিদের প্রসঙ্গ তুলছে! by মিসবাহুল হক

২৬ বছর আগে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বিখ্যাত বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে হিন্দু কট্টরপন্থি জাতীয়তাবাদীরা। যা ভারতে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উস্কে দেয়। এতে নিহত হন প্রায় ২ হাজার মানুষ। কট্টরপন্থি হিন্দুদের দাবি, মুঘল সম্রাট বাবর একটি রামমন্দিরের জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মূলত এর মাধ্যমে তিনি হিন্দুদের মর্যাদার দিক দিয়ে খাটো করতে চেয়েছেন। তারা যুক্তি দেখান, বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা শুধু প্রতিশোধের বিষয়ই না, বরং এটি হিন্দুদের ধর্মীয় দায়িত্বও। বলা হয়, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস), বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলসহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বাবরি মসজিদ ধ্বংসে জড়িতদের সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আর এতে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ রয়েছে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির বিরুদ্ধে।
তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদী এই দলের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও। পরে এই আদভানি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী হন। বর্তমানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা চলছে।
মূলত বিজেপি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে ব্যবহার করে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের সমর্থন নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা চালায়। আদভানি যখন বাবরি মসজিদ ভেঙে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পর্দার আড়ালে থেকে এই আন্দোলন পরিচালনা করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অযোধ্যায় রাম মন্দির ধ্বংসের মাধ্যমে তিনি যে রাজনৈতিক পুঁজি অর্জন করেছিলেন, পরে তা ব্যবহার করে মোদি নিজেকে জাতীয় নেতৃত্ব এবং চূড়ান্তভাবে প্রধানমন্ত্রিত্বের দিকে ধাবিত করেন।
এখন নরেন্দ্র মোদি ও তার দল অযোধ্যার সেই বিতর্কের আগুন আবারো জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। যা ভারতকে নতুন করে নজিরবিহীন বিভক্তি ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নরেন্দ্র মোদি ভালো করেই জানেন যে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ইসলামিফোবিয়াকে কার্যকর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 
তবে মসজিদটি ধ্বংস করার পরেও ওই জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের বিষয়টি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের পিভি নরসিমা রাও বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মসজিদ পুনর্নির্মাণের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমন অবস্থায় বিজেপি সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। মূলত,  মসজিদ ধ্বংস করার ঘটনায় দলটি যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল তা কাটিয়ে উঠতেই এই পদক্ষেপ নেয় তারা। তাদের এ কৌশল বেশ কাজেও লেগেছে। 
যা হোক, মসজিদ নিয়ে ১৯৫০ সাল থেকে একটি মামলা চলছে। পরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে তোলা হয়। বিজেপিসহ সব রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে একমত যে, ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সুপ্রিম কোর্টের রায় পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হোক। অনেক বছর ধরেই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আটকে আছে। কিন্তু এ বছরে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত করার জন্য প্রসিদ্ধ বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী সম্প্রতি তাগাদা দেন। এখন ক্ষমতাসীন দল যত দ্রুত সম্ভব অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ করার মনোভাব দেখাচ্ছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। বিজেপি দ্রুত মামলার রায় দেয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে। কেননা সম্প্রতি দেশজুড়ে তাদের সমর্থন ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন একেবারেই নিকটে। কৃষক অসন্তোষ, তরুণদের বেকারত্ব বৃদ্ধিসহ বিতর্কিত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর কারণে গত কয়েক বছরে নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা অনেকটাই কমে গেছে। সরকারবিরোধী এই মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করতে এবং আরেকটি জাতীয় নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য বিজেপি ও তার মূল দল আরএসএস এখন অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের ওপর মনোনিবেশ করেছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের এই চেতনাকে পুঁজি করেই ১৯৯৮ সালে বিজেপি প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে।
বিধান সভা নির্বাচনের সময়েও বিজেপি অযোধ্যার বিতর্ককে প্রচারণায় সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচারকদের হিন্দুদের পক্ষে রায় দেয়া থেকে বিরত রেখেছে। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বাবরি মসজিদ ইস্যুতে এক ইঞ্চিও ছাড় না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিজেপি ও আরএসএসের নেতারা বলছেন, আদালতকে অবশ্যই হিন্দুদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রায় দিতে হবে। কিন্তু বিজেপি’র এত প্রচারণার পরেও প্রধান তিনটি রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেই বিজেপি হেরেছে। এগুলো হলো- রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ। তবে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে একেবারেই লজ্জাজনক পরাজয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। অর্থাৎ এই দুই রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করে হেরেছে দলটি। এ থেকে বোঝা যায়, ক্রমবর্ধনশীল জন-অসন্তোষ ঠেকাতে বিজেপি’র হিন্দু জাতীয়তাবাদকে ব্যবহারের কৌশল কিছুটা হলেও কাজ করছে।
অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ হিন্দুদের জন্য একটি আবেগের বিষয়। এই আবেগের কারণেই হিন্দুদের অনেকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও যে দল এসব দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তাদেরকে উপেক্ষা করতে পারে। এমন সম্ভাবনা প্রবল। কেননা, বেশিরভাগ হিন্দু মনে করে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেয়া তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব। এ ছাড়া তাদের অনেকে মনে করে- মুসলিমরা মোঘল সম্রাট বাবরের উত্তরসূরি, তাদেরকে এখন হিন্দুদের অধীনস্থ হয়ে থাকতে হবে। হিন্দুদের এই মনোভাবকেই ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। আর সে জন্যই জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ ও এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়া গতিশীল করছে বিজেপি। বিজেপিবিরোধী ও ভারতের একতা, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে বিশ্বাসী সবাইকে এ বিতর্কের বিষয়ে পূর্বের চেয়ে আরো সতর্ক হতে হবে। (আল জাজিরা অবলম্বনে)

ঝেঁটিয়ে বিদায় হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছি: মুহিত

সদ্য বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, নিজে থেকে বিদায় বা অবসর নেয়া একদিক দিয়ে ভালো। ঝেঁটিয়ে বিদায় হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছি। আর মন্ত্রী পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে ‘সৌভাগ্যবান’ মনে হচ্ছে। সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজের শেষ কর্মদিবসে বিদায়ী অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুহিত।
শেখ হাসিনার সরকারে দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর অবসর চাইছিলেন তিনি। এজন্য এবার নির্বাচনও তিনি করেননি।
অবশ্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরদিন মুহিত বলেছিলেন, শেখ হাসিনা চাইলে আরও কিছু দিন কাজ চালিয়ে যেতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু টানা তৃতীয় মেয়াদে যে সরকার শেখ হাসিনা গড়েছেন সোমবার, তাতে প্রবীণ সব নেতাকে তিনি বাদ দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, এটি আমার খুব আনন্দের বিষয়, আমাকে বিদায়-টিদায় করতে হয়নি, আমি নিজে নিজেই বিদায়টা নিয়ে নিয়েছি।
সেজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, এ বয়সে আল্লাহ আমাকে এমন রেখেছেন যে আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো একটি জটিল মন্ত্রণালয়ে একটি জটিল দেশে পরিচালনা করেছি। এখন তো আমার অবসর নেয়ার দরকারই।
গত ১০ বছরে বাংলাদেশকে ‘ভিক্ষুকের দেশ’ থেকে উত্তরণ ঘটানোর কৃতিত্ব দাবি করে তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো দেশ এখন বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ বলতে সাহস পায় না। দেশকে এ অবস্থায় উত্তরণে আমার অংশগ্রহণ থাকায় নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমরা আগামী ৫ বছর ধারাবহিকভাবে তৃতীয়বার ক্ষমতায় থাকছি। আগামী ৫ বছরে দেশে এমন একটি জায়গায় যাবে, যা রোধ করা সম্ভব হবে না।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা তার সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে আনেন মুহিতকে, যিনি এইচ এম এরশাদের সরকারেও দুটি বাজেট দিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোট জালিয়াতি সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বৃটেনের বিপুল অংকের সহায়তা -দ্য ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন by বারবারা জোনস

গত সপ্তাহে সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য ভোট কারচুরি করেছে এমন হতাশা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে আয়কর দাতাদের দেয়া অর্থের ২০ কোটি পাউন্ডের বেশি সহায়তা অব্যাহত রাখবে বৃটেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কথা বলেছেন। ‘স্ট্রেংদেনিং পলিটিক্যাল পার্টিসিপেশন’ প্রজেক্টের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড সহ বিশাল মাপের এই অর্থ সহায়তা দিতে যাচ্ছে বৃটেন। এর উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয়ভাবে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণকে উৎসাহিত করা ও নাগরিক সমাজের দাবিÑ অধিক স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতি সমর্থন দেয়া।
বাংলাদেশে নির্বাচনের দিনে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। বিরোধী দলের শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যালটবাক্স ভর্তি করা হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার শাস্তি হিসেবে গণধর্ষণ করা হয়েছে চার সন্তানের এক মাকে।
নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২৮৮টি আসনে জয় পেয়েছে, যা মোট ভোটের শতকরা ৯৬ ভাগ। এর ফলে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে তার সরকার। এমন জয়ের পর তদন্তের আহবান জানিয়েছে বৃটেন, ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র।
বৃটেনের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেছেন, নির্বাচনে ভয়ভীতি ও বেআইনি সহিংসতার বিষয়ে তিনি নিন্দা জানান। এছাড়া নির্বাচনের দিনে এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও এর ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে বৃটেনের রয়েছে ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব। কারণ, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী বা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বসবাস করেন বৃটেনে। বাংলাদেশী মানুষের কাঙ্খিত অধিক স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও ভবিষ্যত গণতন্ত্রের প্রতি তিনি বৃটেনের অব্যাহত সমর্থনের কথা জানান।
বৃটেন যে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে উৎসাহিত করতে বা বিস্তার লাভ করতে, তা পাচ্ছে বেসরকারি সংগঠনগুলো বা এনজিও। এর উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক সহিংসতা কমিয়ে আনা ও  আন্তঃদলীয় শান্তিপূর্ণ বিতর্ক আয়োজন করা। এ ছাড়া যেসব পদক্ষেপ রয়েছে তাতে দেশের সুশাসন শক্তিশালী হবে।
৩০শে ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বৃটেন একটি বিবৃতি দেয়। তাতে বলা হয়েছিল, বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে রয়েছেন। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। এ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইউরোপিয় ইউনিয়নের সমালোচনা করা হয় তাতে।
আগেভাগেই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল যে শেখ হাসিনা বিজয়ী হবেন। কিন্তু পূর্বে কখনো অনুমানও করা হয় নি এতটা কাছাকাছি ফল আসবে। এতে প্রাপ্ত ফল ছিল সুস্পষ্টভাবে ত্রুটিপূর্ণ (ইনঅ্যাকুরেট)। আর তাতে বাংলাদেশে উন্নয়ন তহবিলের এত বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্সটিটিউট ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের রিসার্স ফেলো সম্মানিত ভাষ্যকার নাউমি হোসেন ইউরোপিয় ইউনিয়নের একটি বিবৃতির উপহাস করেছেন। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সহিংসতা নির্বাচনকে বিঘিœত করেছে এবং ভোট হয়েছে কলঙ্কিত।
তিনি টুইটে লিখেছেন: কলঙ্কিত। চমৎকার শব্দ বাছাই এবং পশ্চিমাদের কাছ থেকে অত্যন্ত ভদ্র উপদেশ। এটা হলো থাপড়ানোর চেয়ে কার্যকর এক কৌশল। বাংলাদেশ সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, ইসলামপন্থি উগ্রবাদকে মোকাবিলা করছে এবং আসুন তাদেরকে দেখাই যে ফলাফলের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আসছেÑ ফলে তারা কোনো কিছুই কেয়ার করেন না।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, নির্বাচনের আগের সময়টা বিরোধীদের ওপর সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বৃটিশ সরকার তার জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা ০.৭ ভাগ বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে খরচ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ অংক গত বছর ছিল এক কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড।
(লন্ডনের বহুল প্রচারিত দ্য ডেইলি মেইলের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করায় ইসিকে আওয়ামী লীগের ধন্যবাদ

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
রোববার দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদাসহ কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে, আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল এ ধন্যবাদ জানান। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম।
পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশনে এসেছিলেন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে যে দায়িত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করেছেন, সেজন্য দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা; সেইসঙ্গে অভিনন্দন জানানোর জন্য। বিশাল নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে অংশীদার হওয়ায় সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ জানান এইচটি ইমাম।
তিনি আরও বলেন, এখানে বিশেষ কয়েকটি ব্যাপার ছিল। যেমন এবারের নির্বাচনের মতো এত বড় আকারের নির্বাচন বাংলাদেশে আগে কখনো হয়নি। বিপুল সংখ্যক মানুষকে একত্রিত করা আগে কখনও হয়নি। যা আমাদের সবচেয়ে গর্বের বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবিধানিকভাবে যা যা দায়িত্ব পালন করার ছিল, কমিশনকে সহায়তার করার ছিল, প্রত্যেকটি কাজ ছোট থেকে বড় পর্যায় পর্যন্ত তা করেছেন। এই শৃঙ্খলাবোধ কিভাবে ধরে রাখা যায়, সমন্বয়টাকে ধরে রাখা যায় এবং ভবিষ্যত নির্বাচন-উপজেলা নির্বাচনসহ আরো অন্যান্য নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে করা যায়, স্বচ্ছভাবে করা যায়, গ্রহণযোগ্যভাবে করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করে এইচ টি ইমাম বলেন, এবারই প্রথম নির্বাচনের মধ্যে একজনও পুলিশ সদস্য হতাহত হননি। অথচ ২০০১ সালে ৫শ’ জন, ২০০৭ সালে ১৭০ জন, ২০১৪ সালে ৩০৩ জন হতাহত হয়। এ নিয়ে দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। আমরা আগের চাইতে অনেক বেশি পরিপক্ক। আমাদের প্রশাসনিক, সামরিক এবং আইন-শৃঙ্খলার সবদিক থেকে দক্ষতা অনেক বেড়েছে। সেসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যে দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা অসাধারণ। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা অনেক বেড়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগের এ উপদেষ্টা জানান, বিদেশ থেকে যেসব ডেলিগেশন এসেছিল সবাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বলেছেন। আমেরিকা রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত বলেছেন, এতো সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন আর হয়নি। আর এবারের মতো দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দল যেভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যেভাবে স্বীকৃতি পাওয়া গেছে, নির্বাচন পদ্ধতি ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি যে আস্থা সবাই প্রকাশ করেছে তাতে আমরা গর্বিত।
এইচ টি ইমাম আরও জানান, নির্বাচন কমিশন প্রশাসনিক কাঠামোগত কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। যেমন- পদোন্নতির কিছু ব্যাপার আছে, নির্বাচন কর্মকর্তারা যারা তাদের আরো উঁচুস্তরে দেয়া, আরো সুন্দরভাবে দায়িত্ব বন্টন করা, তাদের চলাচলের জন্য গাড়ি দেয়া ইত্যাদি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে সব কমিশনারের নিরাপত্তা, তাদের জন্য বাড়ি-ঘর দেয়াসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট: সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে চাপ প্রয়োগের আহ্বান

নির্বাচনের অনিয়ম ও সহিংসতার তথ্য কূটনীতিকদের জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার এ বৈঠকে ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূতসহ ৩০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে কূটনীতিকদের কাছে আবেদন রেখেছি। তিনি বলেন, ভালো আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের অনিয়ম ও সহিংসতার তথ্য উপাত্ত আমরা কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরেছি। তারা এগুলো একসেপ্ট করেছেন।
কারণ  তারা সেগুলো স্বচক্ষে দেখেছেন।
অর্থাৎ এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। তিনি বলেন, আমরা বলেছি সব রাষ্ট্র আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। উনারা বাংলাদেশের মানুষের মঙ্গল চেয়েছেন। এ দেশের মানুষ যেন সুন্দরভাবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থাকতে পারে, শান্তি শৃঙ্খলা থাকে ও আইনের শাসন থাকে সেটাই চেয়েছেন। আমরা বলেছি, কূটনীতিকরা আমাদের জন্য যেটা চান আমরাও সেটাই চাই। মানুষের গণমত যাচাই করলে দেখা যাবে তারাও চায়- দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা থাকুক। মানুষ কাজ-কর্ম করে বেঁচে থাকুক। তিনি বলেন, ৩০শে ডিসেম্বর ভালোমতো নির্বাচন হলে সেই জিনিসটাই প্রতিষ্ঠা করা যেত। এখন আমাদের কথা হলো- নির্বাচনে যা হয়েছে, হয়েছে। এখন একটা ভালো নির্বাচন দিয়ে একটা সুন্দর সমাজ গড়ার সুযোগ দেয়া হোক। আমরা কূটনীতিকদের কাছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই সরকারকে চাপ প্রয়োগ করার আবেদন রেখেছি। তারা না বলেন নি।
আমরা বলেছি, সবাই যেন গঠনমূলক একটি ভূমিকা রাখতে পারি সেই জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা না হলেও তো যুক্তি দিয়ে বুঝাতে পারেন। তারা সরকারকে বলতে পারেন যে, আমরা সবাই দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে এবং সরকারের পক্ষে। কারো বিপক্ষে না। তাই সবার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমরা মনে করি এখানে শান্তিপূর্ণভাবে আরেকটি নির্বাচন হলে, তার যে ফলাফল হবে- এর ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এদেশে থাকুক। সেই সরকার যেন মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে। ড. কামাল বলেন, এই যুক্তির পর সরকারের তো অন্য কিছু বলার কথা না। কারণ আমরা সবাই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।
বৈঠক শেষে বের হয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিদেশি কূটনীতিকদের নির্বাচনের অনিয়মের তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। এই সংসদে ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নেবেন কি না জানতে চেয়েছেন। আমাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে এখন পর্যন্ত শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে আছি। ভবিষ্যতে শপথ নিলে সবাই আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার গঠন করেছে তারা একটা মন্ত্রিসভা গঠন করবে এটাই নিয়ম। কিন্তু আমরা মনে করছি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে নিয়ম আছে, মিটিং মিছিল অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ করতে চাই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসতে চাই। যেমন কমিউনিস্ট পার্টি ও ইসলামিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রাখতে চাই। সবাই মিলিতভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে চাই। তিনি বলেন, আমরা  ভোটের নানা অনিয়মের ভিডিও তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেছি। কূটনীতিকরা বলেছেন, নির্বাচনটা মোটেও ফেয়ার হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিদেশিদের কাছে নালিশ করছেন ঐক্যফ্রন্ট। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, উনারা মিটিং মিছিলও করতে দেবেন না। কথাও বলতে দেবেন না। তাহলে বলে দিক- আমরা কথা বলতে পারব না। তারাই শুধু রাজনীতি করবে। তাদের এখন গবেষণা করে এমন একটি ওষুধ বের করা উচিত, যেটা খেয়ে আমরা আর কোনো কথা বলতে পারব না। তাহলে উনারা মনের সুখে ‘গণতন্ত্র’ চালিয়ে যেতে পারবেন।
এর আগে বিকাল সোয়া ৪টায় কূটনীতিকদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা। বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান রিপন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, তাবিথ আউয়াল, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকে অংশ নেয়া প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, আফরোজা আব্বাস, কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা অংশ নেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড আর্ল মিলারসহ যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, রাশিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, কোরিয়া, ইউএনডিপি, সুইডেন, স্পেন, জার্মানি, নরওয়ে, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মরক্কো, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ড. কামাল হোসেন নির্বাচনের অনিয়ম ও নির্বাচনের আগে এবং পরের ঘটনা তুলে ধরেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সারা দেশে নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে কথা বলেন। কূটনীতিকদের কাছে ভোটের নানা অনিয়মের একটি ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া ভিডিওর সিডি ও তথ্য প্রমাণের কাগজপত্রও তাদের সরবরাহ করা হয়।

ভোটে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরলো সুজন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, অনিয়মের অভিযোগগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা মারধর করে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটের আগের রাতে মহাজোট প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দিয়ে বাক্স ভরে রাখা, বাইরে থেকে ব্যালট ভরা বাক্স ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা, কোনো কোনো কেন্দ্রে ১১টা-সাড়ে ১১টার মধ্যেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, কোনো কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া, ভোটারদের প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করা ইত্যাদি। নির্বাচনের সকল  অনিয়ম চিহ্নিত করে, সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ‘সুজন’ নেতৃবৃন্দ। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘সুজন’ আয়োজিত ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই তথ্য তুলে ধরেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘সুজন’-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে ‘সুজন’ সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান নির্বাচনের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের জনগণের আস্থা অর্জন করা আরো বেশি প্রয়োজন। আমরা সবাই দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেজন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে অনেক প্রার্থীই তাদের হলফনামায় সঠিক তথ্য দেয়নি। সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সমপর্ক আছে এমন অনেকেই আছেন যারা বিজয়ী হয়েছেন। এই সব বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশন খতিয়েই দেখেনি। নির্বাচন কমিশনের এই সব নির্লিপ্ততা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমি একজন ভোটার হিসেবে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কোনো স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ খুঁজে পাই নি। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মার্কা আমার চোখে পড়েনি। সুতরাং নির্বাচনী পরিবেশের মূল বিষয়গুলো অনুপস্থিত ছিল।
লিখিত মূল প্রবন্ধে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নির্বাচনের দিনটি। নির্বাচনী প্রচারণাকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় ভোটের দিনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকবে কিনা তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে সংশয় ছিল। ভোটের দিনে সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতা পরিলক্ষিত না হলেও সীমিত আকারের সহিংসতায় প্রাণহানি ঘটেছে কমপক্ষে ১৭ জনের, আহত হয়েছে দুই শতাধিক (নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক বলে জানা গেছে)। এই দিনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল অধিকাংশ এলাকাতেই বিএনপির তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নির্বাচনের মাঠে অনুপস্থিতি। এমনকি বেশির ভাগ কেন্দ্রে  পোলিং এজেন্টের অনুপস্থিতি। এ ছাড়াও নির্বাচনের দিনের নির্বাচনী অনিয়মেরও অনেক অভিযোগ আমাদের গোচরে এসেছে। অনিয়মের অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা মারধর করে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটের আগের রাতে মহাজোট প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দিয়ে বাক্স ভরে রাখা, বাইরে থেকে ব্যালট ভরা বাক্স ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা, কোনো কোনো কেন্দ্রে ১১টা- সাড়ে ১১টার মধ্যেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, কোনো কোনো ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া, ভোটারদের প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করা, দীর্ঘ সময় লম্বা লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ না করা, কোনো কোনো কেন্দ্রে অস্বাভাবিক বেশি বা কম ভোট পড়া, ভোট পড়ার ক্ষেত্রে ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ করা আসনগুলোর সঙ্গে অন্যান্য আসনের অসামঞ্জস্যতা ইত্যাদি। এই নির্বাচনী অনিয়মগুলোর ক্ষেত্রে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেই অনিয়মের সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি নির্বাচন চলাকালে এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা না দিলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত প্রায় শ’খানেক প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
নবনির্বাচিত ২৯৮ জন সংসদ সদস্যের তথ্য তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে ৮০ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।  প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীর হার ছিল শতকরা ৫২ দশমিক ১৭ ভাগ; নির্বাচিতদের মধ্যে এই হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক শূন্য ৭ ভাগ।  প্রবন্ধের শেষভাগে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচনের কতগুলো মানদণ্ড রয়েছে। মানদণ্ডগুলো হচ্ছে: (ক) ভোটার হওয়ার উপযুক্ত সকল ব্যক্তি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছেন; (খ) যেসব ব্যক্তি প্রার্থী হতে আগ্রহী, তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন; (গ) ভোটাররা অনেক বিকল্পের মধ্য থেকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন; (ঘ) ভোট প্রদানে আগ্রহীরা নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন; (ঙ) ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা সঠিকভাবে হয়েছিল এবং (চ) পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ, কারসাজিমুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য।
আমাদের আকাঙক্ষা সকল মানদণ্ড পূরণপূর্বক একটি ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন প্রত্যক্ষ করা। ভবিষ্যতে এ লক্ষ্য পূরণের জন্য নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থক, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং ভোটারদের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকলের যথাযথ ভূমিকা শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনই নিশ্চিত করবে না, যে ধরনের জনপ্রতিনিধি আমরা প্রত্যাশা করি, সে প্রত্যাশাও পূরণ করবে।

আমস্টারডামের যৌনদাসী

সারাহ ফোরসিথের বয়স তখন সবে ১৯ বছর। ভাল বেতানের প্রলোভনে তিনি ছুটে গেলেন আমস্টারডামে। উদ্দেশ্য একটি নার্সারিতে নার্স হিসেবে তাকে কাজ করতে হবে। কিন্তু আমস্টারডামে পৌঁছার পরই তার চোখ উল্টে গেল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করা হলো। তারপর বিক্রি করে দেয়া হলো যৌনদাসী হিসেবে। সেই থেকে শুরু হয় তার অন্ধকার জীবন। প্রতি রাতে অচেনা, অজানা পুরুষের যৌনক্ষুধা নিবারণ করতে হয় তাকে।
কোনো আপত্তি সেখানে কাজ করে না। বাধ্য হয়ে তাকে প্রতি রাতে বিছানায় নিতে হয় কমপক্ষে ২০ জন করে পুরুষকে। তারা সারার শরীরটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে থাকে। অসীম সেই যন্ত্রণা বহুদিন তিনি বয়ে বেরিয়েছেন। এখনও চোখ বন্ধ করলে দেখতে পান সেইসব দৃশ্য। তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে যেন কোনো হরর ছবির দৃশ্য, যেখানে পিশাচরা কোনো নারীর দেহ নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছে।
সারাহ ফোরসিথ বৃটিশ নারী। বর্তমানে তার বয়স ৪২ বছর। তাকে যখন আমস্টারডামের নিষিদ্ধপল্লীতে নেয়া হয় তখন তিনি তার মতো অনেককেই দেখতে পান। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের আরেক যুবতীর কথা তার খুব মনে আছে। তার নামও সারাহ। এই সারাহকে চিহ্নিত করতে আমরা এখানে সারাহ থাই হিসেবে তাকে পরিচয় দিচ্ছি। কি ঘটেছিল সারাহ থাইয়ের ভাগ্যে তার বর্ণনা দিয়েছেন সারাহ ফোরসিথ। সারাহ থাইকে একটি ওয়ারহাউসের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারেন নি বলে তাকে গুলি করে হত্যা করে তার রক্ষকরা। সেই ভয়াবহ হত্যার দৃশ্য তারা ক্যামেরাবন্দি করে। সারাহ ফোরসিথ বলেন, গুলি করে যখন সারাহ থাইকে হত্যা করা হলো তার মুখটা যেন বিস্ফোরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। আরেকটি বুলেট তার মাথা ও কাঁধকে বিদীর্ণ করে ছিন্নভিন্ন করে দিলো। সেই অন্ধকার দিনগুলো কথা নিজের লেখা ‘স্লেভ গার্ল’-এ লিখেছেন সারাহ ফোরসিথ।
১৯৯০ এর দশকের মধ্যভাব। একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয় আমস্টারডামে একটি নার্সারিতে মানসম্পন্ন নার্স নিয়োগ করা হবে। তাতে আবেদন করেন বৃটেনের সারাহ ফোরসিথ। তারপর ধারাবাহিকতায় তিনি পৌঁছে যান আমস্টারডামে। শিপোল এয়ারপোর্টে তাকে গ্রহণ করে বৃটেনের ক্রিমিনাল জন রেসি। তার পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে তার মুখের ভিতর বন্ধুকের নল ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এ সম্পর্কে সারা ফোরসিথ বলেন, বিমান থেকে নামার পর হেঁটে গেলাম এরাইভাল হলে। কিন্তু সেখানে পৌঁছে পরিবেশটা পুরোপুরি উপযুক্ত মনে হচ্ছিল না। তখন আমার ভিতর একটি আর্তনাদই হচ্ছে- না, এমন কাজ করো না। এমন সময় জন আমাকে বললো, যদি আমি একটু ত্যাড়াবাঁকা করি তাহলে আমাকে গুলি করে হত্যা করা হবে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সারাহ ফোরসিথকে পতিতালয়ে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হলো। এ সম্পর্কে সারা ফোরসিথ বলেন, প্রথমবারের পর আমি অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপছিলাম। আমার শরীর যেন ভূমিকম্পের মতো কেঁপে কেঁপে উঠছিল। মনে হচ্ছিল আমি কোনো অন্ধকার গহ্বরে নিপতিত হচ্ছি। যেখানে কোনো শেষ নেই। আছে শুধু অন্ধকার। ওই সময়টাতে আমি যে আর সারাহ ফোরসিথ ছিলাম না। সারাহ যেন তখন মারা গেছে এবং বিদায় নিয়েছে পৃথিবী থেকে।
এক মাস পরের কথা সারাহ ফোরসিথকে রিসি বললো তাকে কিনে নিয়েছে যুগোস্লাভিয়ার এক দেহ ব্যবসার কারবারী। সেই তাকে রেখেছে এমন একটি বাড়িতে যা কুকুরে ভর্তি। সে চায় সারাহ যেন প্রতি রাতে ১৮ জন পুরুষের মনোরঞ্জন করেন। এই ধকল কাটিয়ে উঠতে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন সারা ফোরসিথ। তাতে বেশ অর্থ খরচ হতে থাকে তার। কিন্তু এর ফলে তার দাসত্ব বেড়ে যায়। তিনি অধিক পরিমাণে পুরুষের মনোরঞ্জন করতে পারেন।
সারা বুঝে ফেলেন তাকে এখান থেকে বাঁচতে হলে পালাতে হবে। তাকে একজন যৌন ব্যবসায়ী গ্রেগর বলেছিল, সারাহ থাইকে যে হত্যা করা হয়েছে এটা ছিল একটি ¯œাফ পর্নো ছবির অংশ। ¯œাফ পর্নোছবি হলো এমন এক ছবি যেখানে রগরগে যৌন দৃশ্যে অংশগ্রহণকারীদের একজনকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ওই কাহিনী থেকে তিনি শিখতে পেয়েছেন ভয়াবহতা।
এক পর্যায়ে আমস্টারডাম থেকে পলায়ন করেন সারাহ ফোরসিথ। তারপর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভয়াবহতা তাকে পিছু ছাড়ছে না।

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় প্রিয় নেতাকে বিদায়

সর্বস্তরের মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে গতকাল সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সর্বস্তরের নাগরিক, রাজনৈতিক সহকর্মী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। নামাজে জানাজা শেষে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কফিন জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় এবং ঢাকা জেলা  প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
প্রথমে মরহুমের কফিনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের পক্ষে দলীয় নেতৃবৃন্দের নিয়ে আরেকবার শ্রদ্ধা জানান।
এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, ১৪ দলের পক্ষে মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং জাতীয় পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে মরহুমের কর্মময় জীবন নিয়ে আলোকপাত করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং পরিবারের পক্ষে তার ছোট ভাই ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। এ সময় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। নামাজে জানাজা শেষে তাকে হেলিকপ্টারে কিশোরগঞ্জে নেয়া হয়। মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এবং তৃতীয় নামাজে জানাজা ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। মানুষের এই ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে  সৈয়দ আশরাফের কফিন সংসদ চত্বরে আনার পর একাত্তরের এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে আশরাফের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী আশরাফের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সংসদ সচিবালয় জামে মসজিদের ইমাম আবু রায়হানের পরিচালনায় জানাজা ও মোনাজাত শেষে সৈয়দ আশরাফের মরদেহে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। জানাজার আগে সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আশরাফের ছোট ভাই সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
ভালোবাসার এমন মহাসমুদ্র কখনো দেখেনি কিশোরগঞ্জ: এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য! ঈদে যে শোলাকিয়া ময়দান মুখরিত হয় লাখো মুসল্লির পদভারে, সেই শোলাকিয়া ময়দান এবার মহাসমুদ্রের রূপ নিলো শোকাহত মানুষের ভিড়ে। চোখে অশ্রু আর নীরব বেদনা নিয়ে লাখো মানুষ অংশ নিলেন রাজনীতির কবি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামাজে জানাজায়। দুপুর সোয়া একটায় নামাজে জানাজা শুরু হলেও এর অনেক আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় ঐতিহাসিক এই ঈদগাহ ময়দান। সারা বাংলার মানুষকে হয়তো কিশোরগঞ্জবাসী দেখাতে চেয়েছিলেন, সৈয়দ আশরাফের প্রতি ভালোবাসার নমুনা। প্রিয় নেতার জানাজার নামাজ তাই হয়ে যায় মহাসমুদ্র। ভালোবাসার এমন মহাসমুদ্র এর আগে কখনো দেখেনি কিশোরগঞ্জ। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য লাখো জনতার এমন ভিড় হয়তো বা কখনো দেখবেও না কিশোরগঞ্জ।
সকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে শোকাহত মানুষ আসতে শুরু করেন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে। সৈয়দ আশরাফকে শেষবারের মতো একপলক দেখার জন্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল রাস্তার দু’ধারে। হাতে ফুল আর চোখে অশ্রু নিয়ে ব্যাকুল প্রতীক্ষা প্রিয় নেতার জন্য!
মহাসমুদ্রে পরিণত হওয়ায় মাঠের আশেপাশের রাস্তায়, বাড়ির উঠানে পর্যন্ত জায়গা করে নিয়ে মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা শেষে মানুষ ছোটেন তার কফিনের দিকে। নিথর দেহে কফিনবন্দি শুদ্ধ রাজনীতির মানুষটির স্পর্শ নিতে, কফিনটাকে একটু ছুঁয়ে দিতে, তাতে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দিতে কি প্রাণান্ত চেষ্টাই না তারা করেছেন। কেউ পেরেছেন, কেউবা পারেননি। শেষ বিদায়ে এমন ভালোবাসা ক’জন রাজনীতিকের ভাগ্যেই বা জুটেছে!
কিশোরগঞ্জবাসী কাঁদছে নীরবে, তারা স্তব্ধ প্রিয় নেতার অকাল প্রয়াণে। কিশোরগঞ্জের মানুষের কাছে তিনি সততা ও স্বচ্ছতার প্রতীক। তাদের মতে একজন সৎ আদর্শবান নেতা নির্দিষ্ট কোনো দলের হয় না, তিনি সকলের শ্রদ্ধেয়।
বাবার প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা দেখে শোলাকিয়া মাঠের মিম্বরের দোতলায় দাঁড়িয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছিলেন একমাত্র সন্তান সৈয়দা রীমা ইসলাম। দেখলেন, বাবার প্রতি কিশোরগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা। কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ যেন ভাগাভাগি করে নিতে চাইছেন তার পাথরচাপা কষ্টটা।
দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে কফিনে শুয়ে প্রিয় কিশোরগঞ্জের মাটিকে স্পর্শ করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার নামে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের আলোরমেলা এলাকার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়ামে। সেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী তার মরদেহ গ্রহণ করেন।
পরে দুপুর ১টায় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। গার্ড অব অনার শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের জন্য মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চান সৈয়দ আশরাফের ছোট ভাই ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। এছাড়া দোয়া কামনা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। পরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান এর ইমামতিতে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজল, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, বিপিএম প্রমুখসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কিছুক্ষণের জন্য লাশ রাখা হয় ঈদগাহ মাঠেই। সেখানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, এরপর বিভিন্ন সংগঠন ও উপস্থিত সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের এই নেতার প্রতি। প্রিয় শহর ছেড়ে অন্তিমযাত্রায় সৈয়দ আশরাফ ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে দুপুর ২টা ৯ মিনিটে কিশোরগঞ্জ ছাড়েন।
ময়মনসিংহে জানাজা: হাজার হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে আওয়ামী লীগের দু’বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্মস্থান ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার  বিকাল ৩টার দিকে জানাজায় জনতার ঢল নামে। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এই জানাজায় অংশ নেয়। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা ও প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ভাই ডা. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।
জানাজায় ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদুল হাসান, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহীনুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিবসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

রাণীনগরে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম

গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে ফাঁকা রোদ মাখানো বিভিন্ন স্থানে চাটাইয়ের ওপর সারি সারি করে বিছানো সাদা রঙের মাষকলাইয়ের তৈরি কুমড়া বড়ি শুকানো হচ্ছে। কেউ কেউ আবার শুকনো বড়িগুলো বাঁশের চাটাই থেকে খুলছে আবার কেউ সেই বড়ি সৎকার করছে এরকম অনেক দৃশ্য চোখে পড়বে। এহলো মাষকলাইয়ের কুমড়া বড়ি তৈরির গ্রামের বর্ণনা। বর্তমানে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন কারিগররা।
সকাল থেকেই এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির উঠানে উঠানে চলে এই বড়ি তৈরির কাজ। বাড়ির গৃহিণী থেকে শুরু করে ছোট-বড় ও বয়স্ক লোক সবাই মিলে তৈরি করছে সুস্বাদু ও অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই কুমড়া বড়ি। এ হলো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর গ্রামের বর্ণনা।
এই গ্রামে শতাধিক বছর পূর্ব থেকেই বিখ্যাত এই বড়ি তৈরি করা হয়। তাই আজো এখানকার কারিগররা শত বাধা উপেক্ষা করে পৈতৃক এই পেশাটিকে ধরে রেখেছে। সারা বছর টুকটাক তৈরি হলেও শীত মৌসুমে এই বড়ি তৈরির ধূম পড়ে যায়। এই বড়ি মূলত শীতকালের একটি আকর্ষণীয় খাবার পণ্য। বর্তমানে এই গ্রামের সকলেই সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীত মৌসুমে এই বড়ির চাহিদা বেশি থাকায় এখন এই বড়ি তৈরির পল্লীতে বড়ি তৈরি নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। অর্ধেক রাত থেকে শুরু হয় এই বিখ্যাত বড়ি তৈরির কাজ। আর এই গ্রাম ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নিজস্ব একটি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার হলো এই মাষকলাইয়ের কুমড়া বড়ি। এটি শীত মৌসুমের একটি বিশেষ খাবার। শীতের ৬ মাসই মূলত এই বড়িটি তৈরি করা হয়ে থাকে। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। বড়িতে রয়েছে অধিক মানের পুষ্টি। বড়ি তৈরির সব উপকরণই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার পণ্য। তাই এই বড়িতে ভেজাল বলে কিছুই নেই। শীত মৌসুমে যেকোনো তরকারিতে এই কুমড়া বড়ি যোগ করলে আলাদা একটি স্বাদ। উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর গ্রামে শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ি বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করে আসছে এখানকার কারিগররা। এই গ্রামের ২৫-৩০টি পরিবারের মানুষ পৈতৃক ভাবেই তৈরি করে আসছে এই সুস্বাদু কুমড়া বড়ি। এই কয়টি বাড়ির কুমড়া বড়ি তৈরির কারিগররাই আজো ধরে রেখেছে ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ির শিল্পটি। তবে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে গেছে।
কারিগররা জানিয়েছেন, প্রথমে মাষকালাই পানিতে ভিজিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে মেশিনে ভেঙ্গে গুঁড়া করে আবার তা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রুটি তৈরির আটার মতো অবস্থায় পরিণত করা হয়। এরপর এর সঙ্গে চাল কুমড়া পিষিয়ে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে বড়ি তৈরি করা হয়। এরপর তা ২-৩ দিন রোদে ভালো ভাবে শুকানোর পর বিক্রয় করা হয়। বড়িকে শক্তিশালী করার জন্য এর সঙ্গে খুব কম পরিমাণে আলো চালের আটা মিশানো হয়। প্রতি কেজি মাষকলাই থেকে প্রায় ৬শ’ গ্রাম কুমড়া বড়ি তৈরি হয়। যেকোনো রান্না করা তরকারির সঙ্গে এই কুমড়া বড়ি রান্না করা যায়। আর রান্নার পর তরকারিতে এই বড়ি যোগ করে অন্য রকমের এক স্বাদ হয়।
খট্টেশ্বর হাটখোলাপাড়া গ্রামের শ্রী. বলায় চন্দ্র জানান, ‘এই কুমড়া বড়ি তৈরির পেশাটি আমাদের বাপ-দাদার। তাই আজো তা করে আসছি। এই বড়ি মূলত মাষকলাই, চাল কুমড়া, জিরা, কালোজিরা, মোহরী দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি বড়ি ১৮০-২০০ টাকা (বড় আকারের) এবং ১৫০-১৬০ টাকা (ছোট আকারের) করে খুচরা-পাইকারি বিক্রয় করা হয়। নিজ এলাকার প্রয়োজন মিটিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর, দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কুমড়া বড়িগুলো সরবরাহ করা হয়। এই শীতকালই হচ্ছে এই কুমড়া বড়ির মৌসুম। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়তই পাইকাররা এসে আমাদের কাছ থেকে এই বড়ি কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া আমরা স্থানীয় বিভিন্ন হাটেও খুচরা বিক্রয় করি। তবে আমাদের লাভ খুব সিমিত।
একই গ্রামের বড়ি তৈরির কারিগর শ্রী মিঠন কুমার জানান, ‘আমরা নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ ঐতিহ্যপূর্ণ এই পৈতৃক পেশাটিকে আজো ধরে রেখেছি। আমরা বিভিন্ন এনজিও-সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে কোনোমতে এই শিল্পটাকে ধরে রেখেছি। যার কারণে আমাদের ইচ্ছে থাকলেও এই শিল্পটাকে প্রসারিত করতে পারছি না কারণ আমাদের পুঁজি কম। আমরা যদি কম সুদে ঋণ পেতাম তাহলে বড় ধরনের অর্থ খাটিয়ে এই শিল্পটাকে আরো অনেক বড় করতে পারতাম। আগের তুলনায় এখন বড়ি তৈরির উপকরণের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে গেছে। তবু শত কষ্টেও বাপ-দাদার এই পেশাটি আমরা ধরে রেখেছি।       
স্থানীয় ইউপি মেম্বার শ্রী রূপ কুমার জানান, এই উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলকায় এই গ্রামের তৈরি কুমড়া বড়ির সুনাম রয়েছে। অনেক দূর-দূরান্তের মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা এসে এই গ্রামের কুমড়া বড়ি নিয়ে যায়। তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত নিম্ন আয়ের মানুষরা সরকারি ভাবে কিংবা কোন সংস্থার কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায় না। যদি এই মানুষরা আর্থিকভাবে সহযোগিতা পেতো তাহলে এই শিল্পটি আরো প্রসারিত হতো। আরো অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। সরকার ইচ্ছে করলে এই সুস্বাদু বড়ি বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। এই বড়ি যদি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয় তাহলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা যেমন লাভবান হবে তেমনি সরকার রাজস্ব হিসাবে আয় করতে পারবে অনেক অর্থ। এটি বাস্তবায়ন করতে শুধুমাত্র সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের ইচ্ছেশক্তিই যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন। 
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, রাণীনগর উপজেলার একমাত্র এই খট্টেশ্বর গ্রামটিতেই অনেক বছর যাবৎ বাণিজ্যিক ভাবে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই সুস্বাদু মাষকলাইয়ের কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়ে থাকে। অন্যান্য গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে এই বড়ি তৈরি করা হয় না। তবে সরকারি ভাবে যদি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে এই শিল্পটি আরো অধিক প্রসারিত হতো। তবে এখানকার কারিগররা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে আমরা তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভার শপথ আজ: নতুনদের ঝলকানি

এক ঝাঁক তরুণ মুখ নিয়ে যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভার। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবে প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা। যাদের ৩২ জনই নতুন মুখ। তাদের মধ্যে চার জন সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় না থাকলেও আগে দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন অনেক হেভিওয়েট এমপি। আওয়ামী লীগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও স্থান পাননি নতুন মন্ত্রিসভায়। নয়া মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি আওয়ামী লীগের জোট শরিক অন্য দলগুলোর কেউ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টি এবার বিরোধী দলে যাওয়ায় দলটির কেউ মন্ত্রিসভায় নেই।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শর্তের কারণেই মহাজোটের অন্য শরিক দলের নেতাদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটলো কিনা তা জানা সম্ভব হয়নি।
আজ নতুন মন্ত্রিসভার ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ উপমন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন। মন্ত্রিসভার ২৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৩ জনই নতুন মুখ। মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া পুরনো ১৪ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন মন্ত্রী ও ২ জন প্রতিমন্ত্রী। গত সরকারের তিন জন প্রতিমন্ত্রী এবার পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ১৯ জনের মধ্যে তিনজন বাদে বাকি সবাই নতুন। একজন সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় না থাকলেও এর আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। উপমন্ত্রীর দায়িত্বে আরো তিন নতুন মুখ এসেছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় দুইজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন। এবারের মন্ত্রিসভায় মহাজোটের দলগুলো থেকে কাউকেই স্থান দেয়া হয়নি। যদিও আগের দুই মন্ত্রিসভায় শরিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠন করা হয়। বিদায়ী সরকারে না থাকলেও আগে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন এমন তিনজনকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে চারটায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের কাছ থেকে দায়িত্ব পালনের শপথ নেবেন নতুন সরকারের সদস্যরা। শেখ হাসিনার গত সরকারে অনির্বাচিত (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রী ছিলেন চারজন, তাদের মধ্যে দুজনকে এবারও সরকারে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেছেন একজন। বাংলাদেশে আগে কখনো এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা হয়নি। কারা সরকারে থাকছেন তার চূড়ান্ত তালিকা জানতে সাংবাদিকদের শপথ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন যারা: ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, তথ্যমন্ত্রী মো. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশেসিং, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে মোস্তাফা জব্বার শপথ নেবেন।
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন যারা: প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ১৯ জনের মধ্যে তিনজন বাদে বাকি সবাই নতুন। এদের মধ্যে রয়েছেন- শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজমুদার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল্লাহ। এদিকে মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৩ জন। এদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুর নাহার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী কে এম এনামুল হক শামীম ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন মুহিবুল হাসান চৌধুরী।

সেই গ্রামটি এখনো বিচ্ছিন্ন

‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেয়ায় রোষানলের শিকার তানোর উপজেলার কলমা গ্রামের মানুষ
ভোটের পর থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে গ্রামটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ায় রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা গ্রামের মানুষ রোষানলের মুখে পড়ে। অবরুদ্ধতা কাটাতে জেলা প্রশাসন সে গ্রামটি পরিদর্শনও করেছে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শঙ্কা কাটেনি। আওয়ামী লীগ এই অবরুদ্ধতাকে গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিবাদ বলে আখ্যা দিচ্ছে। রাজশাহী-১  (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের কলমা গ্রামটিতে ২ হাজার ৪৩৫ জন ভোটার রয়েছেন।
গেল নির্বাচনে কলমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ১ হাজার ৯১৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ২৪৯ ভোট পেয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক এবং ৬৫৩টি ভোট পেয়েছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী।
মূলত এলাকাটি জনপ্রিয় বিএনপি নেতা শীষ মোহাম্মদের। একইসঙ্গে কলমা ইউনিয়নেই বসবাস এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর। ভোটের পর থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে গ্রামটি।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, ভোটের পরদিনই লাঠিসোঁটা নিয়ে আওয়ামী লীগের লোকেরা অবস্থান নেন গ্রামের প্রবেশ পথ দুটিতে। বিল্লি এবং দরগাডাঙ্গা মোড়ে অবস্থান নিয়ে তারা গ্রামের দিকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এমনকি বাইসাইকেল ও রিকশা-ভ্যানের চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়।
নাম না বলার শর্তে একজন গ্রামবাসী বলেন, তারা গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরও ছাড় দিচ্ছেন না। সবাইকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।
সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলামের টিনের বাড়ি ভাঙচুর করে। এরফলে বিএনপি সমর্থকরা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদকে ধাওয়া দেয়। এরপর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গ্রামটি।
এদিকে, যুবলীগ নেতা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ অবরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ভোটের পর থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিএনপির লোকজনই ভোটের দিন তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৫/৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। থানায় মামলাও হয়েছে। মূলত বিএনপির আক্রমণের ভয়ে লোকজন গ্রামের বাইরে আসছেন না। জেলা প্রশাসন তদন্ত করে গেছেন বলে জেনেছি। তারাও কোনো সত্যতা পায় নি।
আওয়ামী লীগের একজন কর্মী আতাউর রহমান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রামটি ঘুরে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। নিরাপত্তার বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিশ্চয়তা দেয়ার ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে, কলমা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি সুলতানুজ্জামানের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গ্রামের ভেতর এবং গ্রামের বাইরে হামলা-মারধর অব্যাহত রেখেছে। জেলা প্রশাসক ও এসপি কলমা বাজারে সভা করে আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু যারা নিরেট বিএনপি নেতাকর্মী তারা আতঙ্কের মাঝে আছেন।