Sunday, August 25, 2019

অত্যন্ত বিরল এক ক্যানসারে ভুগছিলেন জেটলি!

দীর্ঘ রোগভোগের পর শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। শুধু কিডনির সমস্যা নয়, বিগত দু-বছর ধরে বিরল এক ধরনের ক্যানসারে ভুগছিলেন অরুণ জেটলি। মেডিক্যালের পরিভাষায় যে ক্যানসারের নাম– সফট টিস্যু সারকোমা। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এই বিরল ক্যানসারের চিকিত্‍‌সা করাতেই আমেরিকায় গিয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

২০১৮ সালে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলেও, তিনি ভুগছিলেন আরও কয়েক বছর আগে থেকেই। ডায়াবেটিস, হাই ব্লাডপ্রেসার-সহ একাধিক শারীরিক রোগভোগের কারণে, ওজন কমাতে ডাক্তারদের পরামর্শে ‘বেরিয়েট্রিক সার্জারি’ করাতে হয়েছিল অরুণ জেটলিকে। ডায়াবেটিসের কারণেই ওজন বাড়ছিল জেটলির। কিন্তু, এসবের মধ্যে সফট টিস্যু সারকোমা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন অরুণ জেটলি।

কী এই সারকোমা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিরলতম গোষ্ঠীর এই ক্যানসার আক্রমণ করে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুকে। পেশি হতে পারে, রক্তনালি হতে পারে, নার্ভ-টেন্ডন এমনকী শরীরের ফ্যাট বা চর্বিও এর শিকার হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন গাঁটেও আক্রমণ শাণাতে পারে এই বিরল ক্যানসার। ফলে, শরীরের বিভিন্ন অংশে এই ক্যানসার হতে পারে। এই সারকোমার আবার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। সেই মতো সারকোমা কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সফট টিস্যুতে সারকোমা হলেও, সফট টিস্যুতে বেড়ে ওঠা সব টিউমারই কিন্তু ক্যানসার নয়। এই সারকোমা শণাক্ত করাও খুব কঠিন বলে তাঁরা মনে করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অন্য গ্রোথ বলে ডাক্তররা ভুল করেন।

সফট টিস্যু সারকোমার লক্ষণ:

>টিউমার স্নায়ু বা পেশিতে হলে, যন্ত্রণা অনুভূত হয়।

>পাকস্থলীর আশপাশে কোথাও সারকোমা হলে, পেটে ব্যথা অনুভূত হয়। পেট ভার লাগে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়।

>ফুসফুসের আশপাশে এই ক্যানসার হলে বুকে কফ জমে, শ্বাসকষ্ট হয়।

>শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক গ্রোথ দেখলে, সেটি যন্ত্রণাহীন হলেও ফেলে না-রেখে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কী কারণে এই বিরল গোত্রের ক্যানসার হয়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরও স্পষ্ট ধারণা নেই। তাঁরা বলছেন, বয়স, জেনেটিক কন্ডিশন, অতীতে করা রেডিয়োথেরাপি বা কোনও রাসায়নিক থেকে সফট টিস্যু সারকোমায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘পৃথিবীর ফুসফুসের জন্য আরো শক্তি চাই’

‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত আমাজন পুড়ছে দাবানলের আগুনে। বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এ বনাঞ্চলের আগুন গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ক্রীড়াঙ্গনের তারকারা এ নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো টুইট করে বলেছেন, আমাদের গ্রহকে বাঁচাতে আগুন নেভানোর দায়িত্বটা সবার। এ নিয়ে টুইট করেছেন পাওলো দিবালা, লুইস সুয়ারেজ, নোভাক জকোভিচরাও।
গোটা বিশ্বের ২০ শতাংশেরও বেশি অক্সিজেন আসে আমাজন থেকে। চলতি মাসের শুরুতে এ বনাঞ্চলে আগুনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে ব্রাজিল সরকার। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় চুপ করে থাকতে পারেননি রোনালদো। আমাজান পৃথিবীর ‘সম্পদ’ আর সেখানে আগুন লাগা মানে বাসযোগ্য এ গ্রহেরই ক্ষতি, তাই আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেন জুভেন্টাস তারকা, ‘বিশ্বের ২০ শতাংশেরও বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে আমাজন আর তা পুড়ছে গত তিন সপ্তাহ ধরে।
আমাদের গ্রহকে বাঁচানোর দায়িত্বটা সবার।’ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বিস্তার আমাজন বনের। আর্জেন্টিনা ও জুভেন্টাসের তারকা ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালার টুইট, ‘আমাজন পুড়ছে। আমাজন শুধু দক্ষিণ আমেরিকার নয়, এটা সবার। আর এটা পৃথিবীর ফুসফুস যা আমাদের গ্রহকে ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। এটা সারা বিশ্বের বন তাই আমাদের ভবিষ্যৎ পুড়ছে। আমাদের সবাইকে কিছু করতে হবে।’
উরুগুয়ে ও বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ আমাজনের আগুন নেভাতে শুধু প্রার্থনার কথাই বলেননি লড়াইয়ের আহ্বানও জানিয়েছেন। ‘আমাজনের জন্য প্রার্থনা। আমাদের পৃথিবীর ফুসফুসের জন্য আরও শক্তি চাই। আসুন সবাই মিলে লড়াই করি।’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ক্রিস স্মলিং আমাজনের আগুন নিয়ে বেশ কয়েকটি টুইট করেছেন। প্রথম টুইটে আমাজন বনের আদিবাসী এবং সেখানকার বৈচিত্রময় প্রাণিজগৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এ ইংলিশ ডিফেন্ডার। পরের টুইটে গবাদিপশুর খামার বানানোকে আমাজন পোড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন স্মলিং। টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ আমাজনের পোড়ার একটি ছবি টুইট করে লিখেছেন ‘মর্মান্তিক।’

প্রকাশ হলো ‘রিকশা গার্ল’ সিনেমার প্রথম পোস্টার

রঙিন ক্যানভাসে যেন দুরন্ত এক কিশোরীর মুখ। শ্যাম বর্ণের সেই মুখে আর চোখে যেন না বলা অনেক গল্প। মায়াবী মুখটায় ভেসে আছে এক রিকশা কন্যার উপাখ্যান। আর এমন একটি চরিত্র ও গল্প নিয়ে অমিতাভ রেজার চলচিত্র রিকশা গার্লের রঙিন পোস্টার উন্মোচিত হলো। এরই মধ্যে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে পোস্টারটি যেমন উৎসাহের সৃষ্টি করেছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলেছে কৌতুহলের ঝড়। 
আন্তর্জাতিক মানের এই সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন এরিক জেমস্ এডামস। যৌথভাবে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন ফরিদুর রেজা সাগর এবং জিয়াউদ্দিন আদিল। চিত্রনাট্য করেছেন নাসিফ ফারুক আমিন এবং শর্বরী জোহরা আহমেদ।
গত চার মাস ধরে পাবনা, গাজীপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ‘রিকশা গার্ল’ ছবির শুটিং করা হয়। এর মধ্যে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটিতে দেশের প্রথম কোনো সিনেমায় শতাধিক বস্তিঘরের সেট তৈরি করা হয়। যা এরই মধ্যে আলোড়ন তুলেছে সিনেমা পাড়ায়। ‘রিকশা গার্ল’ নির্মিত হচ্ছে মিতালী পার্কিন্সের  বেস্টসেলার বই ‘রিকশা গার্ল’ অবলম্বনে। রিকশা কন্যা নাইমার চরিত্রে এখানে অভিনয় করছেন নভেরা রহমান। রিকশাচালক পিতার বড় মেয়ে দূরন্ত কিশোরী নাইমা। মফস্বলে বেড়ে ওঠা স্বাধীনচেতা এ কিশোরীর জীবন তার রং তুলির মত্ইো বর্ণিল। নাইমা আলপনা এঁকে যা উপার্জন করে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অভাবের ভেতর দিয়ে চলতে থাকা পরিবারটির দূর্দশা শেষ হয় না এই আয়ে। তবে জীবনের হরেক রকমের রং মিলেমিশে নাইমার তুলির আঁচড়ে আঁকা হয় সুন্দর সুন্দর সব আলপনা। একদিন চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। নাইমার জীবনে আসে নতুন নতুন সব বাঁক। বাঁকে বাঁকে নতুন নতুন সব অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে সাহসী পথচলা শুরু হয় এক রিকশাকন্যার। সিনেমার পোস্টার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এর পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীর কাছে। তিনি বলেন, ‘রিকশা গার্ল’ চলচিত্রটি আমরা এমনভাবে নির্মাণের চেষ্টা করেছি, যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই প্রযোজনা বাংলাদেশের নামকে উজ্জ্বল করবে। রিকশা গার্লের পোস্টার উন্মোচন হলো আজ। স্বাধীনচেতা এক নির্ভীক দূরন্ত মেয়ের মুখাবয়বই দেখা যাচ্ছে এই পোস্টারে। চলচিত্রেও থাকবে এমন একটি চরিত্রের অজানা পথে সাহসী পথচলার গল্প। ‘রিকশা গার্ল’ চলচিত্রের অফিসিয়াল একোমোডেসন পার্টনার হিসেবে রয়েছে লেকশোর হোটেল এন্ড স্যুটস।

সেপ্টেম্বরে আবারও বিবারের বিয়ে

গত বছরের ১৩ই সেপ্টেম্বর জাস্টিন বিবার আর হেইলি ব্যাল্ডউইন জুটিকে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার অফিসে। সেখানে আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন এই জুটি। পরে স্বীকার করেছেন, যা রটেছে, তা-ই ঘটেছে। ওই দিন বিয়ে করেছেন তাঁরা। এক বছর হতে চলল। এখন পর্যন্ত বিয়ে উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিকতা করেননি তাঁরা। এবার শোনা যাচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরে তাঁরা আবার বিয়ে করবেন। জাস্টিন বিবারের এক মুখপাত্র পিপল ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, জাস্টিন আর হেইলি আগামী সেপ্টেম্বরে বিয়ে উপলক্ষে একটা পার্টি দেবেন।
যদিও তাঁরা কোর্ট ম্যারেজ করেছেন; এবার তাঁরা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, আচার মেনে আবারও বিয়ে করবেন। আর এটা গুরুত্বপূর্ণ।ওই মুখোপাত্র আরও জানান, জাস্টিন বিবার আর  হেইলি ব্যাল্ডউইনের নাকি অনেক আগে থেকেই এমন পরিকল্পনা ছিল। এই অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্যরা আর তাঁদের কাছের বন্ধুরা উপস্থিত থাকবেন। পিপলের এই প্রতিবেদনে দিনক্ষণও বলা হয়েছে। ৩০শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় এই অনুষ্ঠান হবে। সম্প্রতি জাস্টিন বিবার তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটা ছবি পোস্ট করেছেন। সেই ছবিতে হেইলির প্রতি তাঁর ভালোবাসা উৎসর্গ করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, আমি প্রতিদিন আরও বেশি কওে তোমার  প্রেমে পড়ি। তুমি আমার জীবনে ঘটা সবচেয়ে ভালো ঘটনা। এই ছবি শেয়ার করে  হেইলি লিখেছেন, তোমাকে ছাড়া আমি বিলীন হয়ে যেতাম। মাত্রই বাগদানের এক বছর উদ্যাপন করলেন এই জুটি। সেই দিনটি বিবারের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি। তাঁরা নাকি এখন সুখের সংসার করছেন।

ইতালি, ইউরোপীয় রাজনীতির ড্রামা কুইন by মতিউর রহমান চৌধুরী

প্রধানমন্ত্রী কোন্টের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ইতালির রাজনীতি ফের টালমাটাল। নতুন নির্বাচন না ফের কোয়ালিশন   
সরকার- এ নিয়ে দরকষাকষি চলছে। প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লা গত তিনদিনে একাধিক পার্টির সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। এর আগে তিনি মঙ্গলবারের মধ্যে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। শনিবার বলেছেন, আরও সময় লাগবে। যদি শেষ পর্যন্ত দলগুলো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে না পারে তখন হয়তো প্রেসিডেন্ট নয়া নির্বাচনের ডাক দেবেন। গত ২০শে আগস্ট অভ্যন্তরীণ কলহের জেরে প্রধানমন্ত্রী এন্তোনিও কোন্টে পদত্যাগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির কট্টর অবস্থানের কারণে সংঘাত শুরু হয়।
সালভিনি ইতালির সবচেয়ে বড় দল দ্য লীগের শীর্ষ নেতা।

ইতালির রাজনীতি বরাবরই অস্থির। গত ৩০ বছরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ১৩ জন। শাসন করেছে ২০টি ভিন্ন সরকার। ইতিহাস থেকে দেখা যায় ইতালিতে কখনও রাজনৈতিক স্থিতি ছিল না। অনেকে মজা করে বলেন, ‘ইতালি হচ্ছে ইউরোপীয় রাজনীতির ড্রামা কুইন’। ইউরোপের অন্যদেশগুলোও এখন এর ভাগ বসাতে চাচ্ছে। বলা হচ্ছে স্পেন এখন নয়া ইতালি হতে যাচ্ছে। গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক মতামত কলামে ইতালি ও যুক্তরাজ্যকে জমজ ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। শুধু ইতালিতেই নয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর জার্মানিতে সরকার গঠনে ৬ মাস সময় লেগেছিল। সুইডেনে চার মাসের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে ডান-বাম জোট ভেঙে মধ্যবাম সরকার গঠিত হয়। স্পেনে এখনও অচলাবস্থা। ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে লেজে গোবরে অবস্থা। ইতালির ফাররাইট মুভমেন্ট নিজেদের এস্টাবলিশমেন্ট বা বিদ্যমান রাজনৈতিক অবস্থা বিরোধী হিসেবে তুলে ধরছে।

ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি যে সব জনতোষণপন্থি দলের উত্থান ঘটেছে সেগুলোর মধ্যে এটি একটি। ইতালিতে অভিবাসন ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও একদম বিভক্ত। জার্মানি সুইডেনেও একই অবস্থা। ইতালিতে ডানপন্থি দল দ্য লীগের একটি প্রধান ইস্যু।  ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় ইতালির সমস্যা ভিন্ন। দেশটি আসলে অপেক্ষাকৃত নবীন। ১৮৬১ সালে কিংডম অব ইতালি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায়। রাজ্য প্রতিষ্ঠার আগে ইতালি মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু অঞ্চল ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে রাজ পরিবার শাসন করতো। এরপর ইতালির সীমানা পরিবর্তন হলো। বিলুপ্ত হলো রাজ পরিবার। ইতালি পরিবর্তন হলো একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে। ১৯৪৬ সালের পর ইতালির সংবিধান ও রাজনৈতিক কাঠামো মোটা দাগে একই রয়ে গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক চিত্র ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৪৬ সন থেকে ’৯২ সন পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ান ডেমক্রেটিক নামে মধ্যপন্থি দল ও ইতালিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির আধিপত্য ছিল। এরপর রাজনৈতিক দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। যার পরিণতিতে ইতালিকে এখন মূল্য দিতে হচ্ছে। পরিবর্তন এতোটাই নাটকীয় যে, ১৯৯২ সন থেকে বর্তমান সময়কালকে বলা হয়ে থাকে সেকেন্ড রিপাবলিক বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র। যদিও এর মধ্য দিয়ে সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কমিউনিস্ট পার্টিতে পরিবর্তন এসেছে ব্যাপক। ক্রিশ্চিয়ান ডেমক্রেটিক পার্টি হারিয়ে যায় ক্রমশ। রঙ্গ মঞ্চে আসে নতুন নতুন দল।

ইতালিতে রাজনৈতিক দল অনেক। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দ্বি-দলীয় শাসন গড়ে ওঠেনি। গত নির্বাচনের আগে একটি নতুন নির্বাচনী আইন সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একক দলের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ এবং জোটের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ভোট পেলেই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা যাবে। এর ফলে জোট গঠনে উৎসাহ আরও বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি এমনই গত ছয় বছরে কোনো একক দল দূরে থাক, কোনো জোটও সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। এর ফলে ইতালিতে সরকার গঠিত হয় কোয়ালিশন বা নানা কিসিমের আদর্শের দল নিয়ে। আদর্শগত ফারাকই নতুন নতুন সংকট তৈরি করে। সরকারের পতনও ঘটে এসব কারণে।

বর্তমান সংকটের কী হবে? এ নিয়ে ইতালিজুড়েই সরব আলোচনা। নতুন নির্বাচন? ফাইভ স্টার মুভমেন্ট? নাকি মধ্য-বাম ডেমক্রেটিক দলের মধ্যে জোট গঠন করে নয়া সরকার?
বলা হচ্ছে, দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট মাত্তেরেল্লার ওপর অনেকখানি নির্ভর করছে। সমঝোতা না হলে তিনি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা হিসেবে একজন দক্ষ ব্যক্তিকে সাময়িককালের জন্য নিয়োগ দেবেন। এর সবই এখন জল্পনা-কল্পনা। সময়ই বলে দেবে ইতালি কোন্‌ পথে হাঁটবে।

কাশ্মীরে বিশাল বিক্ষোভ: পেলেটগান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার নিরাপত্তা বাহিনীর

কাশ্মীরে বিশাল বিক্ষোভ: সাম্প্রতিক ছবি
জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে বলে সরকার পক্ষ থেকে যে দাবি করা হচ্ছে তার বিপরীত ছবি প্রকাশ পেয়েছে গত শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে।
শুক্রবার প্রতিবাদী জনতার বিক্ষোভ সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী এ সময় পেলেটগান ব্যবহার ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করলে বেশ কয়েকজন আহত হন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।
এদিন শ্রীনগরের সৌরা এলাকায় জুমা নামাজ শেষে কয়েক হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হন। বিবিসি সূত্রে প্রকাশ, এসময় মানুষজন স্বাধীনতাপন্থী স্লোগান দেন ও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। নিরাপত্তা বাহিনী এক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের বাধা দিলে গোলযোগ সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদী জনতা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। কমপক্ষে ঘণ্টা দুয়েক ওই সংঘর্ষ চলে।
হিন্দি গণমাধ্যম ‘জাগরণ’ সূত্রে প্রকাশ, শ্রীনগরের সৌরা, ছন্নপোরা, মাছুয়া, নওগাম, ডাউন-টাউনের বিভিন্ন অংশে ও দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপোরে বিক্ষিপ্ত সহিংস ঘটনা ঘটে। এদিন যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শ্রীনগরে জাতিসঙ্ঘের দফতরের উদ্দেশ্যে মিছিল করে যাওয়ার ডাক দেয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনী জাতিসঙ্ঘের দফতরের দিকে যাওয়ার সমস্ত সড়ক আগেভাগে বন্ধ করে দিয়ে ব্যাপক নিরাপত্তার কড়াকড়ি করে। বিভিন্ন সড়কে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে ‘সিল’ করে দেয়া হয়। এছাড়া গোটা এলাকায় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হলে অবশেষে মিছিল জাতিসঙ্ঘের দফতরের দিকে যেতে পারেনি।
সেখানকার বড় বড় মসজিদগুলোতে তৃতীয় সপ্তাহ ধরে জুমা নামাজের জন্য বড় জমায়েতের অনুমতি নেই। অপেক্ষাকৃত ছোট মসজিদে অবশ্য জুমা নামাজে কোনও বাধা নেই। যদিও কোনও মসজিদে মাইক ব্যবহারও করতে দেয়া হচ্ছে না।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বলছে, চলতি মাসের আগস্টের ৫ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত শ্রীনগরের প্রধান দুই হাসপাতাল শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস ও শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং ছররা বুলেটে আহত ১৫২ জনের চিকিৎসা করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই কিশোর। সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ ও অবরোধের পরে কাশ্মীরে কোনও বিক্ষোভকারীর প্রাণহানি ঘটেনি বলে দাবি করা হলেও সংবাদসংস্থা এএফপি অবশ্য ওই সময়ের মধ্যে কাঁদানে গ্যাসের বিষক্রিয়া বা তার শেলের আঘাতে তিন জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
কাশ্মীরে কারফিউ অব্যাহত

অভ্যন্তরীণ ইস্যু: আসামের এনআরসি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় মঙ্গলবার বলেছেন যে, ভারতের আসামে শিগগিরই যে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এবং যাদের নাম এনআরসিতে থাকবে না তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কোন বিষয় এখানে নেই। সুপ্রিম কোর্ট বারবার কেন্দ্রীয় সরকারকে এটা যাচাই করতে বলেছে যে, বাদ পড়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ ফেরত নেবে কি না, এনআরসি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যাদেরকে বিদেশী ঘোষণা করা হতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট কয়েকবার বলেছে যে, এই ইস্যুটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কখনও বাংলাদেশের সাথে সেভাবে আলোচনাতেও বসেনি। এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বাংলাদেশের একটা বক্তব্য স্বীকার করে নিয়েছেন, যেটা ঢাকা সবসময় বলে এসেছে – যে ৪০ লাখের মতো মানুষ এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে, যারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়, এবং তাদের জন্য বাংলাদেশের কোন দায় নেই। আসলে বাংলাদেশ কখনও স্বীকারই করেনি যে, কোন অভিবাসী বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে মন্তব্য করা ছাড়াও ডেইলি স্টার সংবাদপত্র বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে উদ্ধৃত করে বলেছেন যে, তিনি বলেছেন যে, মি জয়শঙ্কর তাকে এনআরসি ইস্যু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হতে বলেছেন। এনআরসি নিয়ে নয়াদিল্লীর অবস্থানে সন্তুষ্ট হতে পারে বাংলাদেশ, কিন্তু ভারত একটা প্রাজ্ঞ নয়, কারণ কয়েক লাখ হিন্দু ও মুসলিমকে নিয়ে কি করা হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রের কোন পরিকল্পনা নেই। ৩১ আগস্টে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এরা সেখানে তাদের নাম খুঁজে পাবে না।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে যে আসাম এবং ভারতের অন্যান্য জায়গা থেকে অবৈধ বাংলাদেশীদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। বহু বছর ধরে তারা এ কথা বলে আসছে। কিন্তু মি জয়শঙ্কর বাংলাদেশকে যেটা বলেছেন, তার সাথে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দলটি একইসাথে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে যেসব অমুসলিমের নাম এনআরসিতে আসেনি, আইন সংশোধন করে তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এর বাইরে, বাকি বহু লাখ মানুষকে নিয়ে সরকার কি করবে, সে ব্যাপারে কোন স্পষ্ট বক্তব্য নেই, এনআরসি তালিকা শেষ হওয়ার পর যারা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়তে যাচ্ছে। যদিও এই ব্যক্তিদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে কেন্দ্রীয় সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের একটা পরিকল্পনা রয়েছে যে কিভাবে তারা আসামের আসন্ন মানবিক সঙ্কটের মোকাবেলা করবে। এই ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই চরম দরিদ্র। এদের অনেকেরই কোন ধারণা নেই যে কিভাবে এনআরসি প্রক্রিয়ার কাজ হচ্ছে। তারা নিজেদের এবং নিজেদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এ দেশে প্রবেশ করেছিল। ভারত সরকার ও সুপ্রিম কোর্টকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যাতে এই ব্যক্তিদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করা হয়। তাছাড়া এনআরসিতে যে সব সম্প্রদায়ের মানুষজন অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি, তাদের সাথেও ভালো আচরণ করতে হবে সরকারকে।

‘নারী কেলেঙ্কারি’ জামালপুরের ডিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে

নারী কেলেঙ্কারির দায়ে ফেঁসে গেলেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীর। আজই তাকে ডিসি পদ থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নেয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা। একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ডিসি পদ থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম মানবজমিনকে বলেন, জামালপুরের ডিসি’র ঘটনা সর্ম্পকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পুরোপুরি অবগত আছে। বিষয়টি আমরা দেখছি। দুই এক দিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ও একজন নারীর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার কার্যালয়ের এক নারী কর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠে।

তবে ঘটনা অস্বীকার করে ভিডিওটি সাজানো বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর তার অফিসের গোপনীয় কক্ষের বেডরুমে এক নারী কর্মচারীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে খেতে ওই কক্ষের ইলেকট্রিক লাইটের সুইচ অফ করছেন। এছাড়া ওই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায়ও দেখা যায় তাকে। ফুটেজে দেখা গেছে সিএ এম-২ ক্যামেরায় এটি ধারণ করা হয়েছে। তাই বুঝা যায় সিসি ক্যামেরায় নয়, ভিডিওটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। এদিকে ওই নারীর সঙ্গে ডিসির সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠে যে, অফিস সহায়ক হলেও তিনি খবরদারি চালাতেন সবার সঙ্গে। তার ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে অফিসের কর্মীদের মধ্যে কেউ ওই রুমে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে থাকতে পারেন বলে অন্যদের ধারণা।

আর তাতেই ধরা পড়ে বিশ্রাম রুমে ডিসির আপত্তিকর ভিডিও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ পদধারী এই সরকারি কর্মকর্তা তার অফিসেই একজন নারীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খন্দকার সোহেল আহমেদ’ নামের একটি পেজ থেকে আপলোড হয় গত ১৫ই আগস্ট বিকালের দিকে। যদিও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি ও ৩ আগস্টের। ফেসবুক আইডি থেকে এটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ব্যাপকহারে নজরে আসতে থাকে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীদের কাছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল তোলপাড় এবং ধিক্কারের ঝড় ওঠে। রাত ১২টায় ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নিজেকে বাঁচাতে তার ঘনিষ্ঠ ঊর্ধ্বতন কর্মকতাসহ এক সাংবাদিক নেতাকে নিয়ে রাতভর মিটিং করেন ডিসি। ভোর ৬টায় মিটিং শেষে সবাই জেলা প্রশাসকের বাসভবন থেকে বেরিয়ে যান। গত শুক্রবার ভোররাত থেকে রহস্যজনক কারণে ওই আইডির ওয়াল থেকে ভিডিও লিঙ্কটি সরিয়ে নেয়ায় সন্দেহ আরো দানা বেঁধে উঠেছে। নিজ অফিস কক্ষে একজন নারীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকের অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিদেরও এ নিয়ে বেশ তৎপর থাকতে দেখা যায়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিসি আহমেদ কবীর জামালপুরে যোগদান করেন ২০১৭ সালের ২৭শে মে। যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই তিনি তার অফিস কক্ষের পাশে ছোট্ট একটি কক্ষে ধূমপান ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। সমপ্রতি ওই কক্ষে বিশ্রাম নেয়ার জন্য একটি খাট বসানো হয়েছে। তাতে বিশ্রাম নেয়ার মতো বালিশ, চাদর সবকিছুই আছে। সমপ্রতি ওই কক্ষে একাধিক নারীর যাতায়াতকে কেন্দ্র করে গোটা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেখানে একজন নারীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অবৈধ মেলামেশার ভিডিওটি ফেসবুকে, ফেসবুক থেকে ডাউনলোড করে মেসেঞ্জারে, মোবাইল থেকে মোবাইলে এবং ইমেইেলে ছড়িয়ে পড়ায় আগে শোনা সেই গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। এ বিষয়ে ডিসি আহমেদ কবীর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের ডেকে বলেন, তিনি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিওর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। এরপরই বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়। তবে ভিডিওটিতে দেখানো কক্ষটি অফিসের ভেতরে ডিসির বিশ্রাম নেওয়ার কক্ষ ও ভিডিওর ওই নারী তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক বলে স্বীকার করেন তিনি। বিষয়টি সর্ম্পকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই ভিডিও ভাইরালের খবর তিনি শুনেছেন। ঘটনা সঠিক হলে তা খুবই ন্যক্কারজনক। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।

উত্তর রাখাইনে বিদ্রোহীদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর হেলিকপ্টার হামলা by মো মিয়ন্ত

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী দুটি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উত্তর রাখাইনে আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণ করেছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিনবায়া ও মরুক-ইউ টাউনশিপে হেলিকপ্টারের পাশাপাশি কামানের গোলাও নিক্ষেপ করা হয়।

রাখাইন রাজ্যের আরাকান ন্যাশনাল পার্টির আইনপ্রণেতা উ হলা থিন আঙ বলেন, বৃহস্পতিবার প্রায় সারা দিন লড়াই চলে। দুটি বা তিনটি হেলিকপ্টারে করে কালামা পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়। আরাকান আর্মির গেরিলারা এই এলাকায় অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওই আইনপ্রণেতা বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রটি মিনবায়ার মিয়াঙ মডেল গ্রামের উত্তর-পূর্ব দিকে ছিল। তিনি বলেন, এখানে ১৮ শ’র মতো লোক বাস করে।

রাখাইন এথনিক কংগ্রেসের সচিব কো জাও জাও তুন বলেন, বিমান হামলার পর আশপাশের অনেক গ্রাম থেকে লোকজন পালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের লড়াই ছিল ব্যাপক এবং তা প্রায় সারা দিন স্থায়ী হয়।

আরাকান আর্মি জানায়, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দুই শতাধিক পদাতিক সদস্য বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দাই থা গ্রামের দিকে অগ্রসর হলে লড়াই শুরু হয়। লড়াই চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। লড়াইটি দাই থা গ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হয়।

আরাকান আর্মি দাবি করেছে, তারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অন্তত ৫০ জন সদস্যকে হত্যা করেছে। আর তাদের তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এতে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণেই তারা এ্যাটাক হেলিকপ্টার তলব করতে বাধ্য হয়। হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া মেশিন গানও ব্যবহার করা হয়।

আরাকান আর্মির ভাষ্যটি নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে যাচাই করতে পারেনি ইরাবতী। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ওয়েস্টার্ন কমান্ডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উইন জাও ও ও কেবল বলেছেন যে সামরিক বাহিনী যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিমান হামলা চালায়। তিনি তাদের বাহিনীর হতাহতের খবর নাকচ করে দিয়েছেন।

গত এপ্রিলেও মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছিল।

জ্বলে-পুড়ে খাক হচ্ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ by রাজিউল হাসান

আগুন লেগেছে আমাজনে, ভয়াবহ আগুন। দিকে দিকে সে আগুনে পুড়ে কয়লা হচ্ছে শতসহস্র বর্গমাইলের চিরহরিৎ বন। প্রাণ বাঁচাতে আগুনের মুখে ছুটছে অবলা প্রাণিকুল, না পেরে পড়ে থাকছে অঙ্গার হয়ে। কিন্তু কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না সে আগুন, পুড়ে খাক হচ্ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’।

প্রায় ৫৫ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আমাজন বন আকারে ইউরোপ মহাদেশের প্রায় অর্ধেক। ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেশির ভাগ এলাকা, কলম্বিয়া, পেরুসহ দক্ষিণ আমেরিকার নয়টি দেশে বিস্তৃত এই বন। তবে এই বনের সিংহভাগ পড়েছে ব্রাজিলে। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ আমাজনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রশস্ত নদী আমাজনসহ অনেকগুলো নদ-নদী। এই বনে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী। এ ছাড়া প্রায় ১০ লাখ ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বাস এখানে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অক্সিজেন তৈরি করে এই বন।

আমাজনে নানা কারণেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মানবসৃষ্ট কারণ ছাড়াও বজ্রপাত, প্রচণ্ড গরমের সময় গাছের ডালে ডালে ঘর্ষণসহ নানা প্রাকৃতিক কারণও এসব অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই বনে আগুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চের তথ্যমতে, গত বছর প্রথম আট মাসে আমাজনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে ৪০ হাজার বার। এ বছর একই সময় ব্যবধানে, অর্থাৎ চলতি আগস্ট পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৭৪ হাজার বার। অর্থাৎ আগুনের ঘটনা বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় রোরাইমা, আক্রে, রন্ডোনিয়া ও আমাজোনাস অঙ্গরাজ্যের বনাঞ্চল। ২২ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন আমাজনের ব্রাজিল অংশে আড়াই হাজার এলাকায় আগুন জ্বলছিল।

আমাজনের এই আগুনে কেবল বনই উজাড় হচ্ছে না, পরিবেশেরও ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাস অ্যাটমোসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের (ক্যামস) তথ্যমতে, আমাজনের আগুনের কারণে তৈরি হওয়া ধোঁয়া সুদূর আটলান্টিক উপকূল পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। এই বন থেকে প্রায় তিন হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরে সাও পাওলোর আকাশ ধোঁয়ায় কালো হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আগুনের কারণে বায়ুমণ্ডলে যোগ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড। আমাজনের আগুনের ভয়াবহতার কারণেই এই বন রক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবেদন জানানো হচ্ছে। বিশ্বনেতারাও বসে নেই। গতকাল শুক্রবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এক টুইটে লেখেন, ‘আক্ষরিক অর্থেই আমাদের বাড়ি পুড়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন বনে আগুন। এটি একটি আন্তর্জাতিক সংকট। জি-সেভেন সদস্যরা, আসুন আমরা দুদিনের মধ্যে এই জরুরি অবস্থা নিয়ে আলোচনায় বসি।’
  • ৫৫ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আমাজন বন নয়টি দেশে বিস্তৃত।
  • এই বনে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী।
  • বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অক্সিজেন তৈরি করে এই বন।
  • চলতি বছরে এ পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৭৪ হাজার।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলসহ অনেক নেতাই আমাজনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো আমাজনের আগুনকে তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বিদেশি কোনো শক্তিকে এ ব্যাপারে নাক না গলানোর পরামর্শও দিয়েছেন। যদিও গত বৃহস্পতিবার বলসোনারো বলেছিলেন, আমাজনের আগুন মোকাবিলা করার মতো সরঞ্জাম তাঁর দেশের নেই। আগুনের জন্য তিনি দায় চাপান বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) ওপর। তাঁর ভাষ্য, তাঁর সরকার এনজিওগুলোর অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ায় প্রতিশোধ নিতে তারা এই আগুন লাগিয়েছে। ওই দিনই ফেসবুকে এক লাইভ ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘কে এই আগুন লাগিয়েছে, আমি জানি না। কৃষক, এনজিও, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী—যে কেউ এই আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে।’ পরে এনজিওর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কি সরাসরি এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি? আমি তো আমার সন্দেহের কথা বলেছি।’

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস অভিযোগ করেছে, বলসোনারোর সরকার স্থানীয় কৃষকদের আমাজনে আগুন দিতে উৎসাহ দিচ্ছে। এই উৎসাহের কারণেই দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া আমাজনের অগ্নিকাণ্ড এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ব্রাজিল সরকারের একটি গোপন নথি থেকে জানা যায়, আমাজন অঞ্চলকে বহুপক্ষীয় সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে যে প্রকল্পের কথা ভাবা হচ্ছে, তা বাস্তবায়নের বিরোধী বলসোনারোর সরকার। গত জানুয়ারিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া বলসোনারো এই প্রকল্প রুখতে কৌশলগতভাবে আমাজন এলাকা ‘দখল’ করতে চান। আর এ জন্য তিনি ওই এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করার পক্ষে। নথিতে বলা হয়, ‘তথাকথিত সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক যে চাপ, তা মোকাবিলায় দেশের বাকি অঞ্চলগুলোর সঙ্গে আমাজন অঞ্চলকে একীভূত করতে হবে। এর জন্য আমাজন অববাহিকায় অবশ্যই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে হবে। বাস্তবায়ন করতে হবে ট্রমবেটাস নদী জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, আমাজন নদীর ওপর সেতু এবং সুরিনামের সঙ্গে ব্রাজিলকে সড়কপথে যুক্ত করতে মহাসড়ক প্রকল্প।’

মেডিকেল ভর্তি নীতিমালায় বিপাকে শিক্ষার্থীরা by নজরুল ইসলাম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় বিপাকে পড়েছেন মেডিকেল কলেজের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অনেকে। মন্ত্রণালয়টি তাদের প্রণীত নীতিমালা ২০১১ পাল্টে নীতিমালা ২০১৭-এ ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করলে তখন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই নীতিমালার ফলে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে কমপক্ষে জিপিএ দরকার ৯। অন্যদিকে নীতিমালা ২০১১ এর ক্ষেত্রে কম পক্ষে জিপিএ ৮ হলেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যেত।
জিপিএ ০৮ থেকে ০৯ করায় গত বছরে আট শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর যৌথ বেঞ্চ গত মে মাসে রিটকারীদের পক্ষে রায় দেন। আদেশে বলা হয়, নীতিমালা ২০১৭ এর ২.২ অনুচ্ছেদ অবৈধ। অনুচ্ছেদটিতে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ ০৯ লাগবে বলে নিয়ম করেছিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে বিএমডিসি। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ১৪ আগস্টেও রায় স্থগিত করে।
চলতি মাসের ২৫ তারিখ এই আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
কিন্তু বিএমডিসি তড়িঘড়ি করে ইতিমধ্যে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য ভর্তির বিজ্ঞাপন দিয়েছে। আর তাতে জিপিএ ০৯ এর কম কিন্তু ৮ এর বেশি পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের এমন শিক্ষার্থীরা বেকায়দায় পড়েছেন। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলে বেকায়দায় পড়া শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষা দেবেন এবং দিতে পারলেও প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলছেন অনেকে।
এছাড়া বাংলাদেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মেডিকেল কলেজে পড়তে জিপিএ দরকার ০৭ বা সমান নম্বর। দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দুই নিয়মকে বৈষম্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। অথচ বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস পড়ে গিয়ে নিজ দেশে চিকিৎসক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রথম ধাপেই পাস করছেন।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে জিপিএ ০৬ বা ৫০ শতাংশ নম্বর হলেই মেডিকেল কলেজে পড়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। আর পাকিস্তানে দরকার হয় জিপিএ ৮ বা ৭০ শতাংশ নম্বর।
গত বছর ভারতে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পান। তা থেকে ৮ লাখ জনকে নির্বাচিত করা হয় এবং ১ লক্ষ ভর্তির সুযোগ পান।
এছাড়া ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদেরও দরকার হয় জিপিএ ০৯। যেটা খুবই দুরূহ ব্যাপার। বিএমডিসি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে দেশের অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে এমবিবিএস পড়তে চলে যাচ্ছেন।
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অনেকে ভালো শিক্ষকের কাছে পড়ার বা কোচিং করার সুযোগ পান না। শহরে বসবাস করা শিক্ষার্র্থীরা ভালো কোচিং এবং টিচারের কাছে পড়ার সুযোগ পাওয়ার ফলে তারা অপেক্ষাকৃত ভাল করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামের তুলনায় শহরের ছেলেমেয়েরা জিপিএ ০৯ বেশি পান।
এমতাবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা জিপিএ ৮ পেলে মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় যেন অংশ নিতে পারেন এজন্য আট শিক্ষার্থী এ রিট করেন। তাতে অধিকসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবীদের যাচাই বাছাইয়েরও সুযোগ হবে। অন্যথায় জিপিএ ০৯ হওয়াতে বিদেশে মেধাবীদের চলে যাওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থও দেশ থেকে চলে যাবে।
উক্ত পরিস্থিতিতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জিপিএ ০৮ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উন্নত স্বাস্থ্য সেবায় বিশ্বে ভারতের অনেক সুনাম। এই ৫০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তরাই গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিয়ে সুনামের সাথে সর্বোন্নত চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাই তারা যদি ৫০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তদের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশ কেন দেবে না, এমন প্রশ্ন অনেক শিক্ষার্থীর।

দোকানে চা বানালেন মমতা by দীপক দেবনাথ

রাস্তার ধারে থাকা চা’য়ের দোকানে ঢুকে নিজের হাতেই চা বানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শিশুদের চকলেট ও নারীদের শাড়ি উপহার দিলেন। গত ২১ আগস্ট বুধবার বিকালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দীঘায় এভাবেই জনসংযোগ সারলেন মমতা।

দীঘায় প্রশাসনিক বৈঠক শেষে এদিন নিউ-দীঘার দত্তপুর পল্লীতে একটি চায়ের দোকানে ঢুকে যান মমতা। দোকানদারকে সরিয়ে দিয়ে নিজেই চা বানান মমতা। এরপর কাগজের কাপে করে নিজে খান এবং তার সাথে থাকা পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পরিবহন ও সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দলের সাংসদ শিশির অধিকারী সহ সরকারি কর্মকর্তা সহ অন্যদের মধ্যে পরিবেশন করেন।
মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে দোকানে তখন উৎসাহী মানুষের ভিড়। মোবাইল হাতে কাউকে দেখা গেল তার চা বানানোর ছবি তুলতে, কেউ আবার সেলফিতে মগ্ন হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে, আবার পাঁচ মাসের একটি শিশুকে কোলে তুলে আদরও করেন তিনি। আর মুখ্যমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে সাধারণ মানুষ তাদের অভাব-অভিযোগও তুলে ধরেন। একসময় দত্তপুর পল্লীর বাসিন্দাদের মধ্যে নারীদের শাড়ি বিতরণ করেন এবং শিশুদের হাতে চকলেট বিতরণ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান ‘আমি সাধারণ পরিবারের মানুষ, আমরা সবকিছুই করতে পারি। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। ছোটবেলা থেকে আমি অনেক কাজ করে এসেছি। আমি যে কোন সময় কাজ করতে খুব ভালবাসি। আর রান্না করাটা আমার একটা নেশা, আমার খুব শখ। আমি হয়তো এখন রান্না করার সময় পাই না। কিন্তু আমি যখন, যেখানে যখন সুযোগ পাই রান্না করি। আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে ভালবাসি। তারা কেমন আছেন-তা জানার জন্য এই সমস্ত চায়ের দোকানে আমি আগেও বসেছি, এখনও বসি।’

তাঁর অভিমত, ‘আমরা যাই করি না কেন, দিনের শেষে আমরা সাধারণ মানুষ। এটাই আমাদের বড় পরিচয়।’

উল্লেখ্য তিন দিনের সফরে সোমবার বিকালে দীঘায় পৌঁছন মমতা।

জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করতো ওরা

সংঘবদ্ধ একটি অপহরণ চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তারা হলো, শাহ জালাল (৩২), মো. ফয়সাল (২২), জয়নাল হাজারী (৩০) ও রাকিব (২২)। এক ভুক্তভোগীর ভাইয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ একটি অভিযানিক দল মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার দুর্গম চরের কাশবনের থেকে তাদেরকে আটক করে। চক্রের এই সদস্যরা নতুন গাড়ি-প্রাইভেটকার দেখলেই মালিক কিংবা চালককে টার্গেট করতো। এরপর সুকৌশলে তারা চালক-মালিককে অপহরণ করতো। নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গাড়ি ও ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে রাখতো। এরপর ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করে কান্নাকাটির শব্দ শুনিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করতো। শুক্রবার কাওরানবাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ অধিনায়ক ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাকিতে কেনা একটি কার ভাড়ায় চালাতেন এনায়েত উল্লাহ (৩২) নামের এক ব্যক্তি। ১৯শে আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার রূপনগর থানার শিয়ালবাড়ি মোড় হতে মাদারীপুর যাওয়ার কথা বলে দুজন যাত্রী তার কারে উঠে। রাত ২টার দিকে পদ্মা নদী পার হয়ে কাঠাল বাড়ি এলাকায় কারটি পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকেই অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্য অপেক্ষা করছিলো। পরে তারা নিজেদেরকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের পরিচয় দিয়ে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশী শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রাইভেট কারটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। পরে চালক এনায়েত উল্লাহকে বেঁধে মাদারীপুরের শিবচর থানাধীন দত্তপাড়া চর এলাকায় কাশবনের একটি ছোট ঘরে আটকে রাখে। আর প্রাইভেট কারটি ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার আটরশি জাকের মঞ্জিলের পার্কিংয়ে লুকিয়ে রাখে। এদিকে অপহরণকারীরা এনায়েত উল্লাহকে চারদিন ধরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। মারধর করে মোবাইল ফোনে এনায়েত উল্লাহর কান্নার শব্দ তার পরিবারের লোকদের শুনিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে ভু্‌ক্তভোগীর বড় ভাই কেফায়েত উল্লাহর কাছেও মুক্তি ফোন চাইতে থাকে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। উপায়ন্তর না পেয়ে রূপনগর থানায় একটি জিডি করেন কেফায়েত উল্লাহ। পাশাপাশি র‌্যাব-৪ সহযোগীতা চান। পরে র‌্যাব শিবচরের দুর্গম এলাকা থেকে গতকাল শুক্রবার ভোরে জিম্মি এনায়েত উল্লাহ ও প্রাইভেট কার উদ্ধার ও এর সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের সঙ্গে জড়িত আরও ছয় জনের নাম প্রকাশ করেছে।
র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, গত কয়েক বছর যাবত এই অপহরণকারীরা বিভিন্ন কৌশলে গাড়িচালক, মালিক, ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে অপহরণ করছে। তারপর তাদের পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে মুক্তিপণ আদায় করে।  ঢাকাসহ আশপাশ এলাকার বাস স্টেশন থেকে যাত্রীবেশে তাদের গন্তব্য স্থান যাওয়ার কথা বলে মাইক্রো বা প্রাইভেটকার ভাড়া করে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা। তারা গাড়ির মূল্য, ভুক্তভোগীর বয়স ও আর্থিক অবস্থা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে চিহ্নিত করে। গাড়িতে উঠার পর গাড়ি চলা অবস্থায় ভুক্তভোগীকে অজ্ঞান করে অথবা হাত-পা বেঁধে অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের পরিকল্পিত এলাকায় নিয়ে জিম্মি করে। অপহরণকারীরা সাধারনত নির্জন চর, আঁখ ক্ষেত বা কাশবন এলাকা বেছে নেয়।

স্বামীর অপরাধের দায় যখন স্ত্রীর by মোর্শেদ নোমান

অলংকরণ: শাকিলা খান
স্বামী সাবেক সচিব। স্ত্রী গৃহিণী। কিন্তু স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। তবে সেই সম্পদের সুনির্দিষ্ট কোনো উৎস নেই। তাই দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৭ জুলাই করা মামলার এজাহারে দুদক বলছে, স্বামীর ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিজের বলে ঘোষণা করেছেন স্ত্রী। আয়ের উৎস দেখাতে না পারায় তাঁকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের কাস্টমস ও বন্দরের অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর গৃহিণী স্ত্রীর সম্পদের অনুসন্ধান শেষে স্ত্রীদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। দুদক দেখেছে, এই স্ত্রীদের সবাই বাড়ি-গাড়ির মালিক। সম্পদের দিক থেকে সবাই কোটিপতি।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের করা বেশির ভাগ মামলায় মন্ত্রী, আমলা ব্যবসায়ীসহ নানা পর্যায়ের ব্যক্তিদের স্ত্রীরা রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ও সম্পদ রক্ষা বা আইনকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য অর্জিত সম্পত্তি নিজের নামে না রেখে পরিবারের অন্য সদস্য বিশেষ করে স্ত্রীর নামে রাখার কৌশল অবলম্বন করেন দুর্নীতিবাজেরা। অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রী এ বিষয়ে জানেনই না, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রী এ সম্পর্কে জানেন ও তাঁর সম্মতি থাকে। এ ধরনের প্রবণতার ফলে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায় নারীর ওপর বর্তায়। আবার নারীকে ওই অবৈধ আয় ও সম্পদের হিসাব দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ বা অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে আইনের আওতায় আনা হয়।

গত বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক কার্যপত্রের তথ্য বলছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দুদকের করা ২৯টি মামলায় বিচারিক আদালত স্বামীর দুর্নীতির কাজে সহায়তা বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২৯ জন স্ত্রীকে কারাদণ্ড বা আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ড দিয়েছেন। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুদকে স্বামীর অবৈধ আয়ের অর্থে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত ১১৮টি অভিযোগ অনুসন্ধানের পর্যায়ে ছিল। এ–সংক্রান্ত ৩০টি মামলা তদন্তাধীন এবং ১৪টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল।

নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু সচেতনতার অভাবে বা দুর্নীতিমনষ্ক পারিবারিক প্রধানের নানা অনৈতিক চাপে না জেনেই অপরাধের অংশীদার হয়ে যাচ্ছেন নারীরা। আবার পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ–প্রক্রিয়ায় নারীর সীমিত ক্ষমতা, প্রতিবাদে বা বিরুদ্ধাচরণে নারীর সামাজিক বাধা-বিপত্তি, প্রতিবাদের অপর্যাপ্ত স্বাধীনতার ফলে বেশির ভাগ নারীই এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারছেন না।

দুদকের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অনুসন্ধান ও তদন্তের অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত নারীরা স্বামীর কথামতো কাগজে সই করেই সম্পদের মালিক হয়েছেন, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেন স্বামীরাই। স্বামীর অবৈধ সম্পদ বা আয়ের উৎস স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্ত্রী জবাব দিতে ব্যর্থ হন কিংবা দেন না। অনেক সময় স্ত্রীকে রক্ষা করার বদলে স্বামী নিজেকে বাঁচাতে দাবি করেন যে স্ত্রীর সম্পদের হিসাব তিনি জানেন না।

তবে কেউ কেউ বলেছেন, যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে, তাঁদের স্ত্রীরাও শিক্ষিত। কিছু না জেনে তাঁরা কাগজপত্রে সই করছেন বা সম্পদের মালিক হয়ে যাচ্ছেন, তা বলার উপায় নেই।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে এ বিষয়টি তুলে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানালেও সেভাবে এগোয়নি। ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি, নিরপরাধ কেউ যাতে শাস্তি না পান। অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে সত্যিকারের পরিস্থিতি, আমাদের সংস্কৃতিসহ নানা দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত দিই।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেকে না জেনেই দুর্নীতির দায় নিচ্ছেন। আবার কেউ জেনেও তার প্রতিবাদ করতে পারছেন না সামাজিক অবস্থার কারণে। তবে কেউ কেউ জেনেশুনেই যে দুর্নীতির অংশ হচ্ছেন, সেটাও পরিষ্কার।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দায় সম্পর্কে নারীদের সজাগ ও সচেতন করতে সচেতনতামূলক প্রচারের বিকল্প নেই। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের যে দায় নারীকে বহন করতে হচ্ছে, তার সঙ্গে নারীরা আসলেই কতটা সজ্ঞানে জড়িত, তা বের করতে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।

এবার গাঁজা থেকে তৈরি হবে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক

গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা গাছপালা, পাতা আর ফুল দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির বিষয়ে গবেষণা করছেন। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানীরা। প্রকাশিত ওই নিবন্ধে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে গাঁজার বিভিন্ন উপাদান দিয়ে শক্তিশালী নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হবে।
শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক অথবা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার করা হয়। মাঝে মাঝে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া দেখা যায় যেগুলোকে মেরে ফেলা কিংবা একেবারে ধ্বংস করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এসব ব্যাকটেরিয়া রোগকে আরও বেশে জটিল করে তোলে।
অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানী গাঁজার মধ্যে যে উপাদান খুঁজে পেয়েছেন তার নাম ক্যানাবাইডিওল, যা গাঁজার একটি নন-সাইকোঅ্যাকটিভ উপাদান। বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে পরীক্ষা করার পর দেখেছেন যে, এর মাধ্যমে সব ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করা সম্ভব। যা প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।
বিষয়টি নিয়ে গবেষণাকারী ওই বিজ্ঞানী দল গ্রাম পজিটিভ নামের স্ট্যাফিলোকোক্কাস অরিয়াস টাইপের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার উপর পরীক্ষা চালিয়েছে। হাসপাতাল বাগ হিসেবে পরিচিত এমআরএসএতে আক্রান্ত্র হওয়ার নেপথ্যে কাজ করে এই ব্যাকটেরিয়া। যার কারণে নিউমোনিয়াসহ আরও বেশ কিছু রোগ হয়। যা মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
গবেষকরা এছাড়াও বিশেষ ধরনের এই বস্তু ইঁদুরের মধ্যেও প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। যাতে প্রথামিকভাবে খুঁজে পাওয়া গেছে যে, এটির মাধ্যমে চর্ম রোগের মতো ভয়ানক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। গাঁজার উপাদান থেকে তৈরি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে খুব সহজেই এই রোগ থেকে আরোগ্য পাওয়া যাবে।
গবেষতক দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেন্টার ফর সুপারবাগ সল্যুশনের জ্যেষ্ঠ কেমিস্ট মার্ক ব্লাশকোভিচ। তিনি নিউজ উইককে বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না এটি কীভাবে কাজ করবে। তবে এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম একটি মেকানিজম হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। এটি সেই সব ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করবে যা সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার পরও থেকে যায়।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালে জাতিগত নিধনযজ্ঞের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর সেনাবাহিনী যৌন সহিংসতা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন। গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলছে, রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর যৌন সহিংসতা যুদ্ধাপরাধের শামিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক গঠিত স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক সত্য-অনুসন্ধানী মিশন জানিয়ে, তারা হদিস পেয়েছেন যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং নারীদের ওপর বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে। এমনকি তারা শিশু ও কিশোরের উপরও এ ধরনের নির্যাতন চালিয়েছে। যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের শাস্তি দিতে ও আতঙ্কিত করতে যৌন এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
নিউইয়র্কে দেয়া এক বক্তৃতায় জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের পরিবেশ নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের গ্রামে ফিরে যাবে না। পুরুষ, বালক ও হিজড়াদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনায় চারপাশের নিরবতা ভাঙতে হবে।
জাতিসংঘের মিশন বলছে, উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্য ও পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইনের কয়েকশ যৌন সহিংসতা থেকে বেঁচে যাওয়া ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে মিশন। আগামী মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।
রাধিকা বলেন, সামরিক কৌশল হিসেবে যৌন সহিংসতাকে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এটা তাদের কৌশলের অংশ। কিন্তু রোহিঙ্গা এলাকায় এটা এতই ভয়ঙ্কর হিংস্র ও নৃশংস যে এতে বোঝা যাচ্ছে তারা এই সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে।
নিপীড়নে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে না পারার ব্যর্থতার জন্য মিয়ানমারের নিন্দা জানিয়েছে তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনে।
রাখাইনের মংডুতে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া একটি রোহিঙ্গা গ্রাম (স্যাটেলাইটে তোলা ছবি)
এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দায়মুক্তি ও মেনে নেয়ার পরিস্থিতি থেকেই এমন সহিংসতা সম্ভব। কারণ সেখানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর শাস্তি কিংবা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার কোনো যৌক্তিক ভয় নেই।
তবে মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গা যোদ্ধাদের হামলার জবাবে উত্তর রাখাইনের গ্রামে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত শত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ৮০ শতাংশ ছিল গণধর্ষণ। আর এসব গণধর্ষণের ৮২ শতাংশের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দায়ী।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু হলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এসব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দ্বিতীয় উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেয়ার পরও রোহিঙ্গারা ফিরতে আগ্রহী না হওয়ায় প্রত্যাবাসন শুরুর দ্বিতীয় চেষ্টাও ভেস্তে গেছে।
রাখাইনের গ্রামে গ্রামে হত্যা-ধর্ষণ আর ব্যাপক জ্বালাও পোড়াওয়ের মধ্যে প্রাণ হাতে করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত চারটি শর্তের কথা বলছেন। তাদের দাবি, প্রত্যাবাসনের জন্য আগে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল ফেরত দিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাখাইনে তাদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেজন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন রোহিঙ্গাদের এই অনাগ্রহকে দুঃখজনক বলেছেন। আর জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছ্বায় ফেরা নিশ্চিত করতে হলে তাদের মধ্যে আস্থা তৈরির বিকল্প নেই।
রাধিকা কুমারাস্বামী

স্কুলে শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে মাদ্রাসায় ঝুঁকছে রোহিঙ্গা শিশুরা, বাড়ছে উগ্রবাদের আশঙ্কা -এএফপির রিপোর্ট

বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে রোহিঙ্গা শিশুদের পড়ার অধিকার নেই। ফলে তারা শিক্ষা গ্রহণের জন্য ধাবিত হচ্ছে মাদ্রাসার দিকে। সেখানে শিক্ষার মান নিম্নমানের বলে অভিযোগ সমালোচকদের। এর ফলে তাদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশী স্কুলগুলো থেকে রোহিঙ্গা শিশুদের বের করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের এমন নীতির সমালোচনা করেছে অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো। অন্যদিকে দাতব্য সংস্থাগুলো ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ রোহিঙ্গা শিশুদের ১৮০০ অস্থায়ী স্থাপনায় শিক্ষা দিচ্ছে। সেখানে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার শিশু পড়াশোনা করছে।
কিন্তু তাও শুধু প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত। এই ফারাক পূরণ করতে গিয়ে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলো এবং বাংলাদেশী ধর্মীয় গ্রুপগুলো এক হাজারের বেশি মাদ্রাসা স্থাপন করেছে। সেখানে মৌলিক আরবি শিক্ষা থেকে শুরু করে গ্রাজুয়েট স্তর পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষার সবটাই দেয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বলেছেন, আমরা জাতীয়তার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ব্যবধান করি না। বিশেষ করে যখন তাদের মধ্যে শিক্ষার দৃঢ় আগ্রহ থাকে এবং তারা আল্লাহর পথে থাকতে চায়। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর ফলে বাংলাদেশে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ। তাদের আশ্রয় হয় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারে। এখানকার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিল আছে। তাদেরকে কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভিত্তিতে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের ছেলেমেয়েদের স্থানীয় স্কুলে পড়ার অধিকার প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে একটি প্রজন্ম হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। এএফপি লিখেছে, এ বছর প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সরকার রোহিঙ্গা শিশুদের বিরুদ্ধে দমননীতি (ক্র্যাকডাউন) চালায়। স্কুলগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয় রোহিঙ্গা শিশুদের বহিষ্কার করতে। এর আগে পর্যন্ত অনেক রোহিঙ্গা শিশু ফাঁক গলিয়ে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।
এমনই এক রোহিঙ্গা শিশু লাকি আকতার (১৫)। সে হ্নীলা গ্রামের স্কুল হারিয়েছে। সেখানে এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ছিল শরণার্থী ক্যাম্পের। লাকির সামনে এখন আর কিছুই করার নেই। শুধু মাকে তার খুঁটিনাটি কাজে সহায়তা করে। কান্নায় ভেঙে পড়ে লাকি জানায়, আমি ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন তা আর সম্ভব না। এমনই আরেক রোহিঙ্গা শিশু হারেস (১৩)। তাকে টেকনাফের একটি স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে সে লেদা শরণার্থী শিবিরে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তার পিতা মোহাম্মদ খালেক বলেন, পড়াশোনা নিয়ে তার জন্য ব্যস্ত থাকা উত্তম। তা নাহলে সে ক্যাম্পের এদিক-ওদিক ঘোরাফিরা করবে। তাতে তার স্বভাব নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
সমালোচকরা সতর্ক করছেন। তারা বলছেন, শিক্ষার জন্য ভাল বিকল্প মাদ্রাসা নয়। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ তাদের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলেছে, মাদ্রাসা থেকে সহিংসতা, অসহিষ্ণুতা ও চরমপন্থায় দীক্ষা দেয়ার বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই। এতে আরো বলা হয়, শিশু কিশোরদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ প্রত্যাখ্যান করায় এবং তাদেরকে অনিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসার ওপর নির্ভরশীল করে দেয়ার ফলে অবশ্যই ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এর মধ্য দিয়ে ওইসব গ্রুপ এই ক্যাম্পে তাদের উপস্থিতি অর্জন করতে পারে।
নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব অসলো’র উগ্রবাদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মুবাশ্বের হাসান বলেন, সরকারের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত। রোহিঙ্গা শিশুরা মানসিকভাবে দুর্বল, বিচ্ছিন্ন এবং ক্ষুব্ধ। পাশাপাশি তারা সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে খুবই ধর্মপরায়ণ।
এএফপি তার প্রতিবেদনে আরো লিখেছে, বেশ কিছু মাদ্রাসা পরিচালনা করে ইসলামপন্থি গ্রুপ হেফাজতে ইসলাম। ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়নের দাবি সহ বিভিন্ন দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংস বিক্ষোভ করেছে তারা। ২০১৩ সালে তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় সমবেত হন। তা থেকে সহিংসতা সৃষ্টি হয়। এতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত ও কয়েক শত মানুষ আহত হন। তবে সম্প্রতি এই গ্রুপটি সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছে। তাদের শিক্ষাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই গ্রুপটির একজন সিনিয়র নেতা আজিজুল হক। কট্টরপন্থিদের সঙ্গে এই গ্রুপটির কোনো যোগসূত্র থাকার কথা তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অনেক মাদ্রাসার কারিকুলাম অনুযায়ী তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ধর্মীয় শিক্ষা দিচ্ছে। এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
এই গ্রুপের মুখপাত্র ফজলুল করিম বলেন, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য শেষ ভরসা। ধর্মের কারণে তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সত্যিকার ধর্মীয় শিক্ষাই শুধু এ সম্প্রদায়ের কাছে স্বস্তি আনতে পারে। উল্লেখ্য, সাতটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেন ফজলুল করিম। সেখানে পড়াশোনা করছে ২৫০০ শিক্ষার্থী।
কিন্তু সাধারণ স্কুলে পড়ার আগে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন মজিব উল্লাহ। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যথাযথ শিক্ষা পাওয়া যায় না। মজিব উল্লাহ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান একটি মসজিদে নামাজ পড়ান। তিনি বলেন, এসব মাদ্রাসা শুধু কিছু ধর্মীয় শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম তৈরিতে সহায়তা করে। আমাদের সন্তানদেরকে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো উচিত, যেখান থেকে তাদেরকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে। তা নাহলে এই প্রজন্ম একেবারে হারিয়ে যাবে।

নেপাল, ভারতের বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলোর সুরাহা হয়নি যৌথ কমিশনের বৈঠকে by দিপক অধিকারী

নেপাল-ভারত যৌথ কমিশনের বহুল প্রতীক্ষিত সভায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দুটি প্রতিবেশীর মধ্যকার বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলো সমাধানে অগ্রগতি হয়নি বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দুদিনের সফর শেষ করার পর তারা এই মন্তব্য করেন।

গত মে মাসে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। এর আগে তিনি ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব। বাণিজ্য, ট্রানজিট, পানি বণ্টন, অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা নিরসনের জন্য তিনি নেপালে সফরে যান।

সফরকালে তিনি রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি, প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি, এবং অন্যান্য রাজনীবিদের সাথে বৈঠক করেন।

এই সফরকালে দুদেশের মধ্যে বিরাজমান অনেক সমস্যার সুরাহা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি।

নেপালি সাংবাদিক সন্তোস ঘিমাইর রিপাবলিকা পত্রিকাকে বলেন, ভারতীয় মন্ত্রী যৌথ সভায় বড়জোর এক ঘণ্টা সময় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভারতীয় পক্ষের কেবল প্রস্তুতিই ঘাটতি ছিল না, সেইসাথে মনে হচ্ছে তারা জম্মু ও কাশ্মীর নিয়েই আচ্ছন্ন ছিলেন।

উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা বাতিল করার পর সেখানে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘিমাইর আনাদুলু এজেন্সিকে বলেন, এটা দ্বিপক্ষীয় সভা হলেও মনে হচ্ছে, ভারত চাচ্ছে কাশ্মীর প্রশ্ন সমর্থন আদায় করতে।

জয়শঙ্কর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় ধাপের সফরে ভারত সরকারের পক্ষে সমর্থন আদায়ের দিকে জোর দেন।

অথচ এই সফরকে কেন্দ্র করে যে বৈঠকটি হয় তাতে শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি সংশোধন, ভারতীয় তহবিলে চলমান বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প ছিল আলোচ্য বিষয়।

নেপালি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, দুই পক্ষ বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করতে রাজি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে থাকা বাণিজ্য ও ট্রানজিট সুবিধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্টে অবকাঠামো ও লজিস্টিক স্থাপনাগুলো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে তারা।

তবে ২০১৫ সালের অবরোধ এখনো দুই দেশের সম্পর্কে কাঁটা হিসেবে বিরাজ করছে।

অনেকেই মনে করেন, ওই অবরোধের কারিগর ছিলেন এই জয়শঙ্কর। তার কূটনৈতিক দক্ষতার কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছেন।

ভারত ২০১৫ সালের গ্রীষ্মে নেপালে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছিল দেশটির নতুন সংবিধান ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। নেপালি সংবিধান নিয়ে ভারত যেসব আপত্তি উত্থাপন করেছিল, সেগুলো সমাধান না করায় নেপালি রাজনীতিবিদদের প্রতি বিরক্ত হয়েছিল ভারত। ওই অর্থনৈতিক অবরোধ ছিল নেপালের জন্য মারাত্মক এক আঘাত। উল্লেখ্য, ভূবেষ্ঠিত নেপাল বাণিজ্য ও ট্রানজিটের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল অশোক মেহতা দুই দিনের সফরের ব্যাপারে বলেন, দুই দেশের আমলা ও দূতদের মধ্যে বৈঠক না হলেও এ ধরনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনেক ভালো।

তিনি বলেন, আগে সংলাপ হতো গোয়েন্দা কর্মকর্তা বা রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে। কিন্তু এখন দুই দেশের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীরা বৈঠকে বসছেন। এটা ইতিবাচক বিষয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মে মাসে বিপুল বিজয়ী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরে আসা বিজেপি দক্ষিণ এশিয়ায় (নয়া দিল্লি একে তার প্রভাববলয় মনে করে) চীনা সম্প্রসারণশীল অবস্থান মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে।

রোহিঙ্গা সংকট: ফেরত যেতে না চাইলে ভবিষ্যতে তাদের প্রতি কঠোর হবে বাংলাদেশ -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের প্রতি ভবিষ্যতে কঠোর হবে বাংলাদেশ। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেন, "রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এক সময় কঠোর হবে। এখন তো তারা খুব সুখে আছে। কিন্তু সুখে খুব বেশিদিন থাকবে না। এরই মধ্যে টাকা-পয়সা কমছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে যারা কাজ করছে তারাও কঠোর হবে।"
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, নিজেদের তাগিদেই দেশে ফিরে যাওয়া উচিত রোহিঙ্গাদের।
"তারা যদি ফেরত যেতে না পারে তাহলে তাদের নিজেদের সাথে সাথে তাদের সন্তানদেরও ভবিষ্যৎ অন্ধকার।"
কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, "রোহিঙ্গা শিশুদের পড়ানোর দায়িত্ব নিতে পারবে না বাংলাদেশ। কারণ তাদের ভাষার কোন শিক্ষক নেই এখানে। আস্তে আস্তে তাদের পুরো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।"
বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও তাদের অনাগ্রহের কারণে তা শুরু করা যায়নি।
তবে, টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরের কাছে পরিবহণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে করে কোন রোহিঙ্গা ফেরত যেতে চাইলে যাতে তাদের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া যায়।
এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা।
ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও নিজেদের দেশে ফেরত যেতে চায়নি রোহিঙ্গারা।
এর আগেও গত বছরের নভেম্বরে আরেক দফা প্রত্যাবাসনের কথা থাকলেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে সে প্রচেষ্টাও ভেস্তে যায়।
এমন অবস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আদৌ সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। এবার বেশি আশা ছিল। কারণ চীন অনেক বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিল, মিয়ানমারও অনেক অ্যাকোমোডেশন নিয়ে এসেছিলো।"
তিনি বলেন, "কিন্তু শেষ হল না কারণ এটা একটা প্রক্রিয়া। আজকে শুরু হয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে শুরু হতে পারে। এটা সব রোহিঙ্গা একসাথে যাবে তেমনটা না, কিন্তু শুরুটা আমরা করতে পারি।"
রোহিঙ্গারা যাতে ফেরত না যায়, তার জন্য 'একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে' বলেও অভিযোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
তিনি অভিযোগ করেন, "রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিভিন্ন ধরণের প্রচারণা চলছে, ফ্লাইয়ার দিয়ে ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। এমন অবস্থায় মনে হচ্ছে যে, একটা মহল রোহিঙ্গারা যাতে না যায় তার জন্য ফন্দি-ফিকির করছে।"
তবে দীর্ঘ মেয়াদে এসব 'ফন্দি-ফিকির' কাজ করবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের এখনো পর্যন্ত অনেক ভালোভাবে দেখাশুনা করেছে। কিন্তু তাদেরকে ভবিষ্যতে এভাবে রাখা সম্ভব হবে না।"
"এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সাহায্য সহযোগিতার মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে। আগামীতে আরো কমবে। এরইমধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকা নিজেদের পকেট থেকে দিয়েছি। আর তেমন সম্ভব না।"
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ১৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। এরা বিভিন্ন ধরণের বায়নার কথাও তুলেছে। তারা বলছে যে, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার আগে রক্ষা করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের দাবি নিয়ে কী করতে পারে বাংলাদেশ?

মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে বিভিন্ন ধরণের দাবি তুলে ধরেছে রোহিঙ্গারা। যার মধ্যে রয়েছে - নাগরিকত্বের অধিকার, নিজেদের বাড়িতে ফেরত যাওয়া, নির্যাতনকারীরে বিচারসহ বিভিন্ন ধরণের শর্ত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেরত নেয়ার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার।
নিপীড়নকারীদের বিচারের দাবি পূরণ করা বাংলাদেশের আওতার বাইরে বলেও জানান মি. মোমেন।
তিনি বলেন, "তারা তাদের নিজেদের দেশে গেলে দাবি দাওয়া আদায় করতে পারবে। বাংলাদেশের থেকে এই দাবি দাওয়া আদায় করা সম্ভব না।"
"মিয়ানমার বলেনি যে রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। তারা বলেছে যে, এটা একটা প্রক্রিয়া। প্রথমে তাদেরকে কার্ড দেয়া হবে। পরে মিয়ানমারের শাসনতন্ত্রের আওতায় তারা নাগরিকত্ব পাবে," বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক দেশই বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।
তিনি বলেন, " এক সময় চীন মিয়ানমারের পক্ষে ছিল। এখন চীনই জোর করছে। চীনের রাষ্ট্রপতি বলছেন যে তারা আমাদের সাথে একমত যে রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতে হবে।"
"তারাই [চীন] চেষ্টা করে এ অবস্থায় নিয়ে এসেছে। অন্যসব রাষ্ট্রও আমাদের সঙ্গে আছে। এখন মিয়ানমারকে সেটা অনুধাবন করতে হবে। সমস্যা তৈরি করেছে মিয়ানমার, সমস্যার সমাধানও তাদেরকেই করতে হবে।"
মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের দাবি-দাওয়া মানতে বাধ্য করাতে হলে শুধু দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞাই যথেষ্ট নয় বরং তাদের বাণিজ্যের উপরও চাপ প্রয়োগ করা উচিত বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "আমরা আমাদের প্রচারণা সব দেশের কাছে তুলে ধরবো। আমরা তাদের মানবতার খাতিরে আশ্রয় দিয়েছি। গণহত্যা বন্ধ করতে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমরা এটা দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে নিতে পারবো না।"
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা মিয়ানমারকে বলেছি যে, তোমাদের প্রতি রোহিঙ্গাদের বিশ্বাস নেই।"
"আমরা বলেছি, রোহিঙ্গাদের যে নেতা বা মাঝি আছে তাদের একশ জনকে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের পরিস্থিতি দেখানো উচিত যে তারা কতটা প্রস্তুত, তাহলে তারা বিশ্বাস ফিরে পাবে। মিয়ানমার এখনো সেটা করেনি। তবে তাদের এটা করা উচিত," বলছেন তিনি।
বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এগারো লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা, ২২শে জুলাই প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহে তা ভেস্তে যায়

আমেরিকা-ফ্রান্সের 'পরমাণু- কফিন' ছড়াচ্ছে তেজস্ক্রিয়তা: উদ্বিগ্ন গুতেরেস

প্রশান্ত মহাসাগরে মারাত্মক পরমাণু তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গত ১৬ মে বৃহস্পতিবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
আমেরিকা এবং ফ্রান্স শীতল যুদ্ধের সময়ে চালানো পরমাণু বোমার পরীক্ষা থেকে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয়-বর্জ্য চাপা দেয়ার জন্য কংক্রিটের আধার নির্মাণ করেছিল প্রশান্ত মহাসাগরে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের এনেউইটাক দ্বীপে নির্মাণ করা হয়েছিল এ আধার। একে 'পরমাণু- কফিন' হিসেবে উল্লেখ করেন গুতেরেস।
শীতল যুদ্ধের সময় আমেরিকা এবং ফ্রান্সের চালানো পরমাণু বোমার পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,  আমরা সবাই জানি যে অতীতেও প্রশান্ত মহাসাগর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলের কোনও কোনও এলাকার স্বাস্থ্য এবং পানি বিষিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে এ সবের নাটকীয় প্রভাব পড়েছে।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিল্ড হেইনের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপবাসীদের পরমাণু বিক্রিয়া থেকে রক্ষার জন্য সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এই দ্বীপপুঞ্জের বিকিনি এবং এনেউইটেক দ্বীপে আমেরিকা ৬৭টি পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। এ অঞ্চলটি তখন মার্কিন প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া, একই এলাকায় ১৯৫৪ সালে 'ব্রাভো' নামের হাইড্রোজেন বোমারও পরীক্ষা করেছে আমেরিকা। হিরোশিমায় যে পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল তার চেয়ে এটি ১০০০গুণ বেশি বড় ছিল।
পরমাণু বোমার পরীক্ষার জন্য এ সব এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়। এ ছাড়া, আরও হাজার হাজার মানুষ সরাসরি বিকিরণের শিকার হয়েছে।
পরমাণু-বর্জ্য রাখার জন্য কংক্রিটের 'কফিন' রুনিট দ্বীপে গড়ে তোলা হয় ১৯৭০'এর দশকে। একটি খাদে এ 'কফিন' নির্মাণ করা হয়। আর খাদকে ঢেকে দেয়া হয় ৪৫ মিলিমিটার পুরো কংক্রিট দিয়ে। একে অস্থায়ী বর্জ্য-কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল বলে তলদেশে কংক্রিটের আস্তর দেয়ার প্রয়োজন তখন বোধ করা হয় নি। ফলে তলদেশ দিয়ে তেজস্ক্রিয়তা চুইয়ে বের হচ্ছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কংক্রিটের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং  শক্তিশালী সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড়ে ভেঙ্গে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
পরমাণু বর্জ্য-কেন্দ্র নিয়ে কি করতে হবে সরাসরি সে কথা বলার সাহস দেখান নি জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, ফরাসি পলিনেশীয় এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে যে সব পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে সে বিষয়ে অনেক কিছুই করার আছে।

আইএএফ বহরে পুরনোর ইঞ্জিনের নতুন জঙ্গিবিমান by দারিও লিওন

ডেক্কান হেরাল্ডের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে হিন্দুস্তান এরোনটিকস লি. (এইচএএল) ভারতীয় বিমান বাহিনীকে যেসব নতুন সু-৩০এমকেআই জঙ্গিবিমান সরবরাহ করেছে তার মধ্যে অন্তত ১৮টিতে পুরনো বা সেকেন্ড-হ্যান্ড ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়েছে।

এমন একটি প্রতিবেদন ডেক্কান হেরাল্ডের নজরে এসেছে যেখানে বলা হয়েছে, রেকর্ড যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় যে, ভারতীয় বিমানবাহিনীকে সরবরাহ / পরিদর্শনের সময় এএল ৩১এফপি ইঞ্জিন সংযুক্ত কিছু এয়ারক্রাফট ক্যাটাগরি বি অবস্থায় ছিলো।

আইএএফের প্রতিটি সু-৩০এমকেআই এয়ারক্রাফটে ‍দুটি করে এএল-৩১এফপি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিরক্ষামন্ত্রালয়কে না জানিয়ে বা অনুমোদন না নিয়েই এইচএএলের নাশিক কারখানায় আনকোরা নতুন সুখুই-৩০ এমকেআই এয়ারক্রাফটগুলোতে সেকেন্ডহ্যান্ড ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের বলা হয়, আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হলো আইএএফ এসব এয়ারক্রাফট গ্রহণ করেছে। এতে বলা হয়, আইএএফ ও ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব এরোনটিক্যাল কোয়ালিটি এসুরেন্স ভুল করে কিছু এয়ারক্রাফট গ্রহণ করেছে যেগুলোর একটি ইঞ্জিন নতুন ও একটি পুরনো। চুক্তি অনুযায়ী এ ধরনের কিছু গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় আইএএফ ও ডিজিএকিউএ’র উচিত ছিলো সেগুলো প্রত্যাখ্যান করা। একটি সেকেন্ডহ্যান্ড ইঞ্জিনযুক্ত এয়ারক্রাফট গ্রহণের জন্য যোকোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়া উচিত ছিলো আইএএফের।

ভারতের হাতে ২৩০টি জঙ্গিবিমানের বহর থাকলেও এগুলোর মধ্যে মাত্র অর্ধেক কর্মক্ষম।

এখন পর্যন্ত ভারতীয় বিমান বাহিনীর ভাণ্ডারে সুখুই সু-৩০এমকেআই হলো সবচেয়ে আধুনিক এয়ারক্রাফট।

সড়কে ঝরছে প্রাণ ছয় মাসে নিহত ২০০৭ by মরিয়ম চম্পা

‘একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’। বেশির ভাগ যানবাহনের পেছনের অংশে রংবেরং-এর হরফে লেখা  থাকে এ কথাটি। অথচ সে সকল যান বাহনই প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। বানাচ্ছে হাজারো পঙ্গু নাগরিক। এর সঙ্গে শেষ হয়ে যাচ্ছে হাজারো স্বপ্ন। তবে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো- ঢাকা শহরে যত পঙ্গু ভিক্ষুক ও ভাসমান মানুষ পাওয়া যায় তার ৭০ ভাগই সড়ক দুর্ঘটনায় হাত-পা হারানো বলে জানিয়েছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থা। সংস্থাটির হিসাব মতে, চলতি বছরের গত তিন মাসে মোট সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৯টি। এতে মারা গেছেন ১ হাজার ১৭৩ জন।
আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। ট্রেন দুর্ঘটনা ৪৭টি। এতে নিহত ৫০ ও আহত হয়েছেন ৮ জন।
বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই)-এর প্রথম ৬ মাসের গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৮শ ৫টি। এরমধ্যে ২ হাজার ৭ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২শ ৭৯ জন।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬২ শতাংশে যথাযথ সাইন-সংকেতের ব্যবস্থা নেই। জাতীয় মহাসড়কের অন্তত ১৫৪ কিলোমিটার মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। আর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর হিসাবমতে, দেশে ৩৮ লাখ নিবন্ধিত যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ৫ লাখের মতো। আর লাইসেন্সধারী চালক প্রায় ১৬ লাখ। বাকি সব যানবাহন ভুয়া চালক দিয়ে চলছে। অর্থাৎ ৪৭ শতাংশের বেশি চালকের লাইসেন্স নেই। সেই হিসেবে নিবন্ধিত যানবাহনের অর্ধেক চালকের লাইসেন্স নেই।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলার প্রধান তিন নিয়ামক হচ্ছে সড়ক, যানবাহন ও দক্ষ চালক। কিন্তু দেশে এর কোনোটিই ত্রুটিমুক্ত নয়। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, অদক্ষ চালক আর অপরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন ২০ জন। আর বছরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য তারা ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক, সড়কে অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা ২৪ হাজার ৯৫৪। পুলিশ সদর দফতরের তথ্যেমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২২৬ জন। আহতের সংখ্যা ১২২। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৯৪টি। ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৯৯। আহত ১৫৭। মামলা হয়েছে ১৬১টি। গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২ হাজার ৬৩৫ জন এবং আহত হয়েছে ১ হাজার ৯২০ জন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় ঐক্যের প্রকাশিত এক সড়ক বার্তায় বলা হয়, দেশের সড়ক দুর্ঘটনার ধরন ও মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। আহত-নিহতের সঠিক চিত্র পুলিশ রেকর্ডে উঠে আসে না। তবে শহরাঞ্চলে মোট নিহতের ৭০ শতাংশই পথচারী। সারা দেশে এ হার ৫৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা ইনস্টিটিউট (এআরআই) ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত হওয়া দুর্ঘটনা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানায়, গত সাড়ে তিন বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৫ হাজার ১২০ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২০ জন করে মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। এই সময়ে আহত হয়েছে ৬২ হাজার ৪৮২ জন। এ দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশ ঘটেছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে। সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এমন তথ্য জানিয়েছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন ও এআরআইর যৌথ গবেষণা। যাত্রীকল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে সংঘটিত ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট ছিল। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে দুর্ঘটনা ঘটে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বাসের দুর্ঘটনা ২৫ শতাংশ। কার, মাইক্রোবাস ১৫ শতাংশ। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বাংলাদেশের হিসাবে, গত তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩ হাজার ৩৬৭ জন। আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ১৫৮ জন।
বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় মহাসড়ক, আন্তজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে এক হাজার ৪৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত তিন হাজার ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের তথ্য অনুসারে, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জন নিহত এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশুসহ ৪২৫ জন নিহত ও ৮৮৪ জন আহত হয়েছেন। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছেন এবং এপ্রিলে ৩২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশুসহ ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য বিশ্লেষণে এসব সড়ক দুর্ঘটনার ১০টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
এরমধ্যে রয়েছে- চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দৈনিক-চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা সহকারীদের কাছে গাড়ি ভাড়া দেয়া, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা, বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম ১০টি দেশের একটি। তাই আগামী ১০ বছরের মধ্যে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে না পারলে সড়ক দুর্ঘটনা হবে দ্বিগুণ যা কোন মতেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। তাই প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা একটি কথাই বারবার বলে থাকি যে সড়ক দুর্ঘটনায় যারা আহত বা নিহত হয় তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশই হচ্ছে পরিবারের একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তি। এই উপার্যনক্ষম ব্যক্তিটি যখন নিহত, আহত কিংবা হাসপাতালে ভর্তি থাকে তখন ওই পরিবারের উপর একটি অবর্ননীয় দুর্যোগ নেমে আসে।
বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ মানবজমিনকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপগুলো এখনো পুরোপুরি নেয়া হয়নি। সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের নের্তৃত্বে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে একটি সুপারিশমালা এবং কমিটি তৈরি করা হয়। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি সুপারিশ প্রদান করেছি। গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি আমরা হস্তান্তর করেছি।
এই সুপারিশ যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়কের শৃঙ্খলা দুটিই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
অপরাধ বিজ্ঞানী তৌহিদুল হক বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনাকে নতুন করে বলা উচিৎ সড়কে হত্যা। আমরা যেভাবেই বলিনা কেনো সড়কে হত্যা অথবা দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেভাবে আন্দোলন করেছে তখন আমরা অনেকেই নিশ্চিত হয়েছিলাম যে এবারের আন্দোলনের মধ্যোদিয়ে সরকার এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা বা শৃঙ্খলার কাজে যারা জড়িত তারা হয়তো এখান থেকে কিছু শিখবে। এবং নতুন করে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া ঢেলে সাজাবে। এক্ষেত্রেও আমরা আশাহত হয়েছি। সড়কে হত্যা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় আমাদের সামনে চলে আসে।
প্রথমত, সড়কের শৃঙ্খলা এবং ব্যবস্থাপনা অত্যান্ত দুর্বল। দক্ষিণ কোরিয়াতে একজন নাগরীক সড়কে কিভাবে চলবে সেটা তাদের স্কুল লেভেল থেকে শিখানো হয়। ফলে সে দেশে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম। কারন সেখানে যাত্রী-চালক এবং এর সাথে জড়িতরা অনেক সচেতন। তৃত্বীয়ত, আমাদের এখানে দুর্ঘটনার পর মামলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঘটনার কোনো বিচার হয়না। সর্বশেষ আমরা দেখেছি একটি বাস মালিক কোম্পানিকে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়ার পরেও কিন্তু ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে তারা নানা ধরনের গরিমসি করছে। মোটাদাগে বলতে গেলে আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সড়কের শৃঙ্খলা বা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন করে নিজেদেরকে বা সড়ককে না সাজাবো ততোক্ষণ সড়কে এই দুর্ঘটনা এবং হত্যা বাড়বেই।

অভিবাসীদের জন্য বিশালকার আটক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের, মুসলিমরা আতংকিত

ভারত সরকারের কট্টরহিন্দুবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের মুখে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চার মিলিয়নের বেশির মানুষ, যাদের বেশিরভাগ আবার মুসলমান, নাগরিকত্ব হারিয়ে বিদেশী অভিবাসী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এই এজেন্ডা দেশটির বহুত্ববাদী ঐহিহ্যের প্রতি হুমকি সৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের সংজ্ঞাকে নতুন করে নির্ধারণ করতে চাচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী দারিদ্রপীড়িত ও পার্বত্য এই অঞ্চলে ‘অভিবাসী খেদাও’ উদ্যোগ বাস্তাবয়ন করা হচ্ছে। যেসব মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তাদের বেশিরভাগের জন্ম ভারতেই এবং তারা বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন।
আসামের খারুপেতিয়ায় এনআরসি’র কাগজপত্র সংগ্রহ করছেন এক সরকারি কর্মকর্তা
রাজ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বিশালাকার নতুন আটক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে – এদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত মুসলমান সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন। স্থানীয় এক্টিভিস্টরা জানিয়েছেন যে প্রাথমিক তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ও কারাগারে পাঠানো হতে পারে আশংকায় কয়েক ডজন মানুষ এরইমধ্যে আত্মহত্যা করেছেন।
কিন্তু এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দলের কোন উদ্বেগ নেই। বরং তারা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জনগণকেও নাগরিক হিসেবে প্রমাণের জন্য বাধ্য করতে আগ্রহী। গত মে মাসে মোদির পুনর্নির্বাচন এই সুদূরপ্রসারী হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্মসূচী বাস্তবায়নের কাজটি আরো বেগবান করেছে।

ফলে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্পদায় দিনে দিনে চরম আতংকিত হয়ে পড়ছে। আসামে জাতীয় নাগরিকত্ব তালিকা (এনআরসি) তৈরির কাজটি এক বছরের বেশি সময় আগে শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। যা আসাম থেকে হাজার মাইলের বেশি দূরত্বে সংঘটিত মুসলমানদের জন্য আরেকটি বিপত্তির প্রায় কাছাকাছি সময়ে ঘটতে চলেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মোদি একতরফা ভারতের মুসলিম সংখ্যাগুরু রাজ্য জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে একে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করেন। এ কাজ করার জন্য স্থানীয় রাজনীতিক নেতাদের সঙ্গে মোদি সরকার কোন আলোচনা করেনি ওই ঘটনার পর থেকে কাশ্মীরে নির্বিচার ধরপাকড় চলছে।
সমালোচকরা বলছেন যে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মোদি জোর করে যে দুটি জায়গায় তার বিভক্তিসৃষ্টিকারী হিন্দুবাদী এজেন্ডা বলপূর্বক বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছেন তাহলো কাশ্মীর ও আসাম। আগামীতে আরো অনেক রাজ্য একই পরিণতি দেখতে পারে।
আসামে কাজটি করা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী বাছাই করার অযুহাতে। ভারতের অতি ক্ষমতাধর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এদেরকে বারবার ‘ঘুণপোকা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

আসামের ৩৩ মিলিয়ন অধিবাসীর ঘারে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদি একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু করছেন। তিনি ভারতের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ভেঙে ও সামাজিক বিচ্ছেদ তৈরি করছেন। মোদির রাজনৈতিক শেকড় কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনে গাঁথা। আরএসএস সবকিছুর ঊর্ধ্বে উগ্র হিন্দুত্ববাদকে স্থান দেয়। তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে একাধিক মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে।
এক সময়ের সরকারি কর্মকর্তা থেকে মানবাধিকার কর্মীতে পরিণত হওয়া হার্শ মান্দার বলেন, আসাম ও কাশ্মীরে যা ঘটছে তা ভারত, ভারতের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও সংবিধানের ওপর হামলা। দেশের সবাই সমান- এমন ধারণার ওপর আঘাত। মুসলমানরা এখন শত্রু। সরকারের এমন আচরণ কার্যত ভারতীয় সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।
>>>জেফ্রি জেটেলম্যান, হরি কুমার

ইন্দিরা গান্ধীর ১৯৭৭ সালের পতন পুনরাবৃত্তি থেকে একটি অর্থনৈতিক সঙ্কট দূরে আছে মোদি ও অমিতের বিজেপি

ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপট নজিরবিহীন। বিজেপিসহ সব রাজনৈতিক দল এখন সাম্প্রতিক লোকসভার নির্বাচনের ফলাফলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে।
২০১৯ সালের নির্বাচনের কোনো তুলনা নেই, এর সাথে কোনো কিছুকে মেলানো যায় না। এবারই যে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী ফলাফল দল আর ভোটারদের হতবুদ্ধিকর অবস্থায় ফেলেছে, তা নয়। গত চার দশক ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারীরা রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সাথে পরিচিত। কিন্তু এবার যেভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলো অবয়ব নিচ্ছে, তা নতুন।
বর্তমানে বিজেপির আধিপত্য সম্পূর্ণ হয়েছে। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড ও দিল্লির আসন্ন রাজ্য বিধান সভার নির্বাচন নিয়ে হয়তো কিছু আগ্রহ থাকবে, কিন্তু ফলাফল দেয়ালে লেখা হয়ে গেছে। মিডিয়া সম্ভবত কিছু কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টি করবে, সামাজিক মাধ্যম হয়তো নাচানাচি করবে, ট্রোল হবে, কিন্তু রহস্য উধাও হয়ে গেছে।
ইতিহাস কি ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে?
১৯৭১ সালের মার্চে ইন্দিরা গান্ধীর অবাক করা জয় ভারতের রাজনীতির চরিত্রকে বদলে দিয়েছিল। প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক মুদ্রা হিসেবে ‘ঢেউ’ পরিভাষাটি সামনে আসে। ‘গরিবি হঠাও’ স্লোগান দিয়ে বিপুলভাবে ক্ষমতায় আসেন ইন্দিরা গান্ধী। আট মাস পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, এতে ইন্দিরার মর্যাদা আরো জোরদার হয়।
কিন্তু এর মাত্র দুই বছর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় দ্রুত। এই সময়েই ‘শতাব্দীর সবচেয়ে খারাপ খরায়’ ব্যাপক দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করে।
এর জের ধরে সৃষ্টি হয় ব্যাপক সামাজিক উত্তেজনা। এতে করে জয় প্রকাশ নারায়ণকে সামনে নিয়ে আসে। জয়প্রকাশ ও ইন্দিরার মধ্যে রাজনৈতিক সঙ্ঘাত দেখা দিলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি হয়।
ইন্দিরার একনায়কতন্ত্র প্রায়ই মোদির স্বৈরতান্ত্রিক স্টাইলের সাথে তুলনা করা হয়। কিন্তু দুই নেতা তাদের আমলে ছিলেন ভিন্ন।
ইন্দিরা ও সঞ্জয় গান্ধীর ১৯৭৭ সালের মার্চে রায়বেরেলি ও আমেথিতে পরাজয় ছিল কষ্টকর। তবে রাজনীতি গুণগতভাবে বদলায়নি। জয়প্রকাশ আন্দোলন ও জনতা পার্টি সার্বিকভাবে কংগ্রেসের সংস্কৃতির মধ্যেই ছিল। জয়প্রকাশ স্বাধীনতা আন্দোলন, তদানিন্তন প্রধানমন্ত্রী মোরাজি দেশাই ও জগজীবন রাম কংগ্রেসের মূল্যবোধই অটুট রাখেন।
তরুণদের মধ্যে জেপি আন্দোলনের জনপ্রিয়তা বর্তমানে নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে পাগলামির সাথে তুলনা না করা গেলে একটি মিল আছে। তাহলো পুরনো রীতিনীতির অবসান ঘটিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের চেষ্ট এবং অজানার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুতি। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় তরুণ ‘মুসলিমবিরোধী হিন্দুত্ববাদীর’ জন্য প্রস্তুত থাকলেও তাদের জীবনের আকাঙ্ক্ষা আধ্যাত্মিক নয়, বরং বস্তুবাদী।
তারা হয়তো অযোধ্যার রাম মন্দির ধারণায় আচ্ছন্ন, মেরুকরণ করা ভাবাবেগে প্রভাবিত, কিন্তু আসলে উন্মাদগ্রস্ত। প্রবল স্রোতে সমীহ জাগলেও যখন পানি কমতে শুরু করে তখন কঠোর বাস্তবতা সামনে আসে, বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষতি চোখের সামনে চলে আসে।
নতুন পথ খুঁজতে হবে দলকে
আসন্ন রাজ্য বিধান সভাগুলোর নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেই অর্থনৈতিক সাইক্লোন ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিধ্বস্ত অবস্থা দৃশ্যমান হবে। ব্যাংকগুলোর দৈন্যদশা আর গোপন করা যাবে না।
নেহরু-গান্ধী পরিবার বা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেও এ থেকে ফায়দা পাবে না বিজেপি। কারণ কংগ্রেস রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। দলটি বিভ্রান্তি আর জটিলতায় রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আসন্ন অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে হিন্দুত্ববাদ মুক্তি দেবে না বা ভারতীয় মুসলিম বা সন্ত্রাসাদের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে পার পাওয়া যাবে না।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন হয়তো সংহিস সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কিছু অবকাশ দেবে, কিন্তু এর ব্যাপ্তি হবে সীমিত।
মুদ্রা বাতিলকরণ বা এমনকি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকও আর শিরোনামে আসতে পারবে না। অর্নব গোস্বামী ও রজত শর্মারাও তেমন ঢেউ সৃষ্টি করতে পারবে না।
অপ্রতিরোধ্য জুটি ও নতুন ‘হিন্দু সম্রাট’ নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ কংগ্রেস, রাহুল গান্ধী, হিন্দুত্ববাদ বা পাকিস্তানের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাবেন না। শিরোনাম ব্যবস্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে তাদের ‘দক্ষতাও’ আকর্ষণ সৃষ্টি করবে না।
জানা ও অজানা
যা কিছুই ঘটুক না কেন, বিজেপি বিভক্ত হবে না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর তার প্রাধান্য বিস্তার করে থাকবে। নির্বাচন কমিশন বশেই থাকবে। বিচার বিভাগ সহযোগিতামূলক ও দায়িত্বশীলই থাকবে। রিজার্ভ ব্যাংক বা সিবিআইও তাদের সাথেই থাকবে। মিডিয়াও মোটামুটিভাবে তাদের হাতেই থাকবে।
তবে কেউ যে বিষয়টির পূর্বাভাস দিতে পারছে না তা হলো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী করবেন, বিশ্ববাণিজ্য ভারতের আমদানি রফতানিতে কী করবে কেউ জানে না। পাকিস্তান বা এর অ-রাষ্ট্রীয় উপাদানগুলো কী করবে, ভারত কিভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা অজানা। আমাদের প্রতিবেশীরা কী করবে, চীন কিভাবে বিশ্ব ও ভারতের ওপর প্রভাব ফেলবে, তাও অজানা।
নরেন্দ্র মোদির গলাবাজী বা অমিত শাহ ও অমিত শাহের নির্মম কৌশল, বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ জয়শঙ্করের কূটনৈতিক দক্ষতায় নৈরাজ্য ধুয়ে মুছে যাবে না।
দেশ অনিশ্চিত ভবিষ্যতে নিমজ্জিত। সম্ভবত এ কারণেই রাজনৈতিক শ্রেণি ও বিশেষজ্ঞরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। তারাও আলোহীন একটি অন্ধকার গুহায় প্রবেশ করেছেন।
>>>(লেখক: সাবেক সম্পাদক, কংগ্রেস সদস্য, রাজ্য সভা)

মশক নিধনকর্মীদের দেখা মেলে কম by শুভ্র দেব

ডেঙ্গু আতঙ্ক সর্বত্র। ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুরুতে অকার্যকর ওষুধের বিষয়টি সামনে আসে। পরে নতুন ওষুধ আনা-নেয়া নিয়ে শুরু হয় টানাহেচড়া। দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, এখন নতুন ওষুধে মশা নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু সরজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে খুব একটা দেখা মিলছে না মশক নিধনকর্মীদের। অনেক এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, ঈদের অনেক আগে ওষুধ দিয়ে গেলেও এখন আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না।  নিয়ম অনুযায়ী মশক নিধনকর্মীরা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত লার্ভিসাইডিং ও বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অ্যাডাল্টি সাইডিং করার কথা।  কিন্তু বেশিরভাগ এলাকায়ই তাদের দেখা পাওয়া যায় না।
সিটি কর্পোরেশনসূত্র জানিয়েছে, মূলত ঢাকার মশা নিধনের দায়িত্ব ছিল মশক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। কিন্তু তাদের ব্যর্থতার কারণে সেই দায়িত্ব নেয় দুই সিটি কর্পোরেশন। সিটি কর্পোরেশনের জনবলের পাশাপাশি অধিদপ্তরের জনবল যোগ করে মশা নিধনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজে গুরুত্ব না দেওয়ায় দুই সিটি মশা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। অভিযোগ উঠে, মশার ওষুধ ব্যবহার না করে গোপনে সেগুলো বিক্রি করে দেয়া হত। এমন নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর এই দায়িত্ব তাদের হাতে দেয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে মশা নিধন কর্মীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পড়ে কাউন্সিলরদের ওপর। হালে একই অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধেও।
এদিকে সরজমিন গতকাল দুই সিটির অন্তত অর্ধশত এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মশক নিধন কর্মীদের খুব একটা চোখে পড়ে না। মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও অলিগলিতে তারা মশার ওষুধ না দিয়ে চলে যায়। মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবি সালেকিন চৌধুরী বলেন, সারাদিনই থাকে মশার উৎপাত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মশার কয়েল অথবা স্প্রে  দিতে হয়। তা না হলে মশার কামড়ে অতিষ্ট থাকতে হয়। দিনেরও বেলা মশার উৎপাতের কমতি নেই। ঢাকা উদ্যান, নবীনগরে কোনদিনই কাউকে মশা নিধন করার জন্য আসতে দেখা যায়নি।
আদাবর ১০ নম্বর এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ও এক দোকানি জানান, এই এলাকায় মশা নিধনের কো-কার্যক্রম সম্প্রতি চোখে পড়েনি। কবে এসেছিলো সেটাও মনে নেই। তবে এলাকার বাড়ির মালিকরা নিজ উদ্যোগে চারপাশ পরিষ্কার করেছেন। মিরপুর ইষ্টার্ন হাউজিংয়ের বাসিন্দা আজহার উদ্দিন বলেন, দুই বছর ধরে এলাকায় থাকি। কখনই মশা নিধন কর্মীদের ওষুধ দিতে দেখা যায়নি। বরং হাউজিং কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে মশার ওষুধ স্প্রে করে।
পশ্চিম মনিপুরের এক চা দোকানি আলি হোসেন বলেন, ১৫ দিন আগে একবার ফগার মিশিনের শব্দ শুনেছি। একই স্থানে আরেক নারী এসে বলেন, মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ। ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে খুব সাবধানে থাকতে হচ্ছে।
মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, টিন শেডের দুই রুম ভাড়া নিয়ে থাকি। ঈদের আগ থেকে এখন পর্যন্ত কোন মশক নিধন কর্মীকে চোখে পড়েনি। ৬০ ফিট এলাকার বাসিন্দা তহুর আলী বলেন, আমি নিজে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ছিলাম। এখন আমার ছেলেও আক্রান্ত। এলাকার সবাই একই আতঙ্কে আছেন।
বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মো. কায়েস বলেন, তিন বছর ধরে এই এলাকায় থাকি। ঠিক করে বলতে পারবো না মশার ওষুধ কবে দিয়েছে। এখন মশার উৎপাত চরমে। কয়েল, স্প্রে ভরসা। এই এলাকায় অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। তাই আতঙ্কটা একটু বেশি। নিশ্চই এডিস মশা আছে তাই ডেঙ্গু হচ্ছে। আমার ঘরে ছোট বাচ্চা তাকে নিয়ে চিন্তিত। দিনের বেলাও তার জন্য মশারী টানিয়ে রাখি। ফকিরাপুল পানির ট্যাংকি এলাকার বাসিন্দা রবিন হোসেন বলেন, নোংরা এলাকা। অল্প বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে। এই এলাকায় মশার উৎপাত বেশি। অথচ মশা মারতে কাউকে দেখা যায়নি। বাসাবো ছায়াবিথী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল। পেশায় তিনি গণমাধ্যমকর্মী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার আশেপাশের এলাকায় কখনও দেখিনি মশার ওষুধ দিতে। মধ্য বাসাবো এলাকার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, ঈদের কিছুদিন আগে এসেছিল। এরপর থেকে আর কাউকে দেখা যায়নি। একই এলাকার শাহাবউদ্দিন বলেন, এসেই কি করবে যে ওষুধ দেয় বিশ্রি গন্ধই বের হয় কিন্তু মশা মরে না।
গ্রীণ রোড এলাকার দোকানি সজল সরকার বলেন, সেই ঈদের আগে একবার দেখেছি। এরপরেও আর দেখিনি। নিকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবি মাহমুদুল হাসান বলেন, গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথমবার মশা মারতে দেখলাম নিকুঞ্জ-২ এলাকায়। ১৩ নম্বর সড়কে হঠাৎ চোখে পড়ল উচ্চ শব্দ। খেয়াল করে দেখলাম মোটরসাইকেলের ওপর থেকে ফগার মিশিন দিয়ে ধোঁয়া দেয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল দিয়ে মশা মারতে জীবনে শুনিনি।
উত্তর মুগদা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী ছিদ্দিক মিয়া বলেন, ঈদের আগে মেশিন নিয়ে কয়েকজন লোককে যেতে দেখেছি। তবে ওষুধ দিতে দেখিনি। আব্দুর রহমান নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সবসময়ই এলাকায় থাকি। সর্বশেষ এক দুপুরে স্থানীয় কাউন্সিলরের নেতৃত্বে ওষুধ দেয়া হয়েছিল পরে আর দেখিনি। মাহবুব নামের এক বাসিন্দা বলেন, চারটা কয়েল জ্বালিয়ে রাখি। তবুও মশা মরেনি। আমাদের গলিতেই ১২ বছর বয়সী একটা শিশু ডেঙ্গুতে মারা গেছে। আমার নিজেরও ছোট বাচ্চা আছে। সব মিলিয়ে একটা ভয় কাজ করছে। দক্ষিণগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল বলেন, আমার এলাকা নতুন করে সিটি কর্পোরেশনে ঢুকানো হয়েছে। তাই কোনো দিনই মশা মারার ওষুধ দেয়া হয়নি। শুনেছি নতুন কেনো এলাকায়ই ওষুধ দেয়া হয় না।
শুক্রাবাদ এলাকার পদ্ম মোদি দোকানের মালিক আবুল বাশার বলেন, শনিবার মশা তাড়ানোর ওষুধ দিয়ে গেছে। এছাড়া এর কিছুদিন আগেও দিয়েছিলো। একই এলাকার বাসিন্দা আসিব বলেন, অনেকদিন পরে মশার ওষুধ দিতে দেখেছি। সব এলাকায় যদি নিয়মিতভাবে দেয়া হয় তাহলে মশা কিছুটা মরবে। পল্লবী এলাকার বাসিন্দা তিথি সরকার বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পর মাঝেমধ্যে ওষুধ দেয়। তবে কতটা কার্যকরি হচ্ছে সেটা জানিনা। কদমতলা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, এই এলাকায় মাঝেমধ্যে ওষুধ দেয়া হয় তবে কোনো উন্নতি দেখি না। যে ওষুধ দেয়া হয় সেটা মনে হয় কাজ করে না। রাজারবাগ কালি মন্দির এলাকায় বাসিন্দা জুয়েল বলেন, ভালো ওষুধ দিতে হবে। মশার উৎপাত বন্ধ হচ্ছে না।
মশক নিধনে পর্যাপ্ত লোকবল নেই: মশক নিধনে সিটি কর্পোরেশনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাদের পর্যাপ্ত লোকবল নেই। দীর্ঘদিন ধরে লোকবলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। তাই প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রতুল লোকবল নিয়েই মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। এছাড়া পর্যাপ্ত উপকরণও নেই। প্রতিটা ওয়ার্ডে মাত্র ২/৩ জন কর্মী দিয়েই চলে কার্যক্রম। এ অবস্থা দুই সিটি কর্পোরেশনেরই। সূত্রমতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১০টি অঞ্চলে (নতুন যুক্ত পাঁচ ওয়ার্ড) মশা নিধনের কর্মী আছেন ৪২৯ জন। এর মধ্যে ১৭জন সুপারভাইজার, ৩জন আইসি (ইনসেক্ট কালেকটর), ১১০ জন ক্রু, ১৬৯ জন স্প্রেম্যান ও ১৩০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। এসব কর্মীদের মধ্যে ৪০৯ জন সরাসরি মশক নিধনের কাজে জড়িত। এদের মধ্যে থেকে ৫৮ জনকে ডিএসসিসির নতুন ৫টি অঞ্চলে নিয়োগ দেয়া হলেও বাজেট, যন্ত্রপাতি না থাকার কারনে এসব অঞ্চলে এখনও মশক নিধন কাযক্রম শুরু হয়নি। এদিকে, উত্তর সিটি এলাকায় মশা নিধনের জন্য কর্মী আছেন মাত্র ২৮০ জন। এছাড়া ২৫০জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সূত্রমতে, মশা নিধনে উত্তর সিটির ৬৫২টি মেশিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে মেশিনের সংখ্যা ৭৮১টি। এর মধ্যে ফগার মেশিন ৩২২টি, হস্তচালিত ৪৪৯টি এবং হুইল ব্যারো মেশিন ১০টি। এসব মেশিনের মধ্যে বেশ কিছু মেশিন বিকল আছে। আর দক্ষিণ সিটিতে মশক নিধনের জন্য ৯৪০টি মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪২টি হস্তচালিত, ৪৪৭টি ফগার ও ৫১টি হুইল ব্যারো মেশিন । হস্তচালিত মেশিনগুলোর মধ্যে ২০৮টি ও ফগারের ১৮৬টি অচল এবং হুইল ব্যারো ১৮টি মেশিন অচল। 
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডসহ) আয়তন ২৭০ বর্গকিলোমিটার। দক্ষিণের ৭৫টি ও উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ড মিলিয়ে ১২৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডে প্রায় আড়াই কোটি (বেসরকারি হিসাব মতে) মানুষের বসবাস। অথচ বিশাল এই আয়তনের আড়াই কোটি মানুষের শহরে মশা নিধনের জন্য মাত্র ৭০৯জন কর্মী রয়েছেন। গড়ে প্রতিটা ওয়ার্ডে মাত্র ৩/৪ জন কর্মী কাজ করছেন। যা দিয়ে একটি ওয়ার্ডের সর্বত্র মশা নিধন সম্ভব হয় না।