Sunday, May 14, 2017

বেইজিং পৌঁছেছেন পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রোববার দুই দিনের সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন। ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠেয় ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড আন্তর্জাতিক ফোরামে যোগ দিতে তিনি এ সফর করছেন। বিমানবন্দর থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সরাসরি ন্যাশনাল কংগ্রেস সেন্টারের দিকে রওয়ানা হন। বেইজিং ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শি জিনপিং ও জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অন্টোনিও গুতেরেসের সাথে তিনিও বক্তব্য রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই শীর্ষ সম্মেলনে ২৯টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান যোগ দেবেন।
এছাড়াও এতে জাতিসঙ্ঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনসহ প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। ২০১৩ সালে চীনা নেতা শি জিনপিং সিল্ক রোড ইকোনোমিক বেল্ট প্রকল্পের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। একে ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড প্রজেক্ট ইন চায়নাও বলা হয়। মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পরিবহন, জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সৃষ্টিই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করাও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

চলতি অর্থবছর মাথাপিছু আয় হবে ১৬০২ ডলার

চলতি অর্থবছরে বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬০২ ডলারে উন্নীত হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। আজ রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের (এনইসি) সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী মাথাপিছু আয়ের এই হিসাব সম্পর্কে অবহিত করেন। গত অর্থবছরে (২০১৫-১৬) দেশের বার্ষিক মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৪৬৬ ডলার। পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি সম্মেলনকক্ষে সভাটি এখনো চলছে। সভায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে সাময়িক হিসাব দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। আজ এনইসি সভায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পাস হবে। এদিকে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে অভিমত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে জিডিপির এই প্রাক্কলন করেছে সংস্থাটি।

রেইনট্রি হোটেলে শুল্ক গোয়েন্দারা, মদ উদ্ধার

রাজধানীর বনানীর আলোচিত ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে অভিযান চালাচ্ছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ১০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর ১২টা থেকে শুল্ক গোয়েন্দারা ওই হোটেলে অভিযান শুরু করেন। গত ২৮ মার্চ ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ৬ মে বনানী থানায় মামলা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান প্রথম আলোকে বলেন, রেইনট্রি হোটেলে অভিযান চলছে। অভিযান চলাকালে হোটেলের একটি কক্ষে ১০ বোতল মদ পাওয়া গেছে। অন্য কক্ষগুলোতেও তল্লাশি চালানো হবে। অবৈধ কোনো কিছু পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার হোটেলের এক্সিকিউটিভ ইন্টারনাল অপারেটর ফারজান আরা রিমি বলেছিলেন, হোটেলে মদ বিক্রির লাইসেন্স নেই। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত দল গতকাল হোটেল রেইনট্রি পরিদর্শন করে। কমিশন প্রাথমিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। ধর্ষণ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ গত বৃহস্পতিবার সিলেটে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শাফাত ও সাদমান তাঁদের জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। মামলার অন্য তিন আসামি এখনো পলাতক। পলাতক তিন আসামি হলেন ইমেকার্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের স্বত্বাধিকারী নাঈম আশরাফ, শাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ। ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রী বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে দুই ছাত্রী জানান, গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে তাঁদের নেওয়া হয়।
শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাঁদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডের দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে যাওয়ার আগে দুজনই জানতেন না সেখানে পার্টি হবে। এ সময় তাঁদের সঙ্গে শাহরিয়ার নামের এক বন্ধু ছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছিল, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, অনেক লোকজন থাকবে। হোটেলে যাওয়ার পর শাফাত ও নাঈমের সঙ্গে তাঁরা আরও দুই তরুণীকে দেখেন। পরিবেশ ভালো না লাগায় শাহরিয়ারসহ দুই তরুণী চলে আসতে চেয়েছিলেন। তখন আসামিরা শাহরিয়ারের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নেন এবং তাঁকে মারধর করেন। এরপর দুই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে একটি কক্ষে নিয়ে যান। ধর্ষণ করার সময় শাফাত গাড়িচালককে ভিডিও চিত্র ধারণ করতে বলেন। আর নাঈম তাঁদের মারধর করেন। তাঁরা এ ঘটনা জানিয়ে দেবেন বলে জানানোর পর শাফাত তাঁর দেহরক্ষীকে ওই দুই তরুণীর বাসায় তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠান। লোকলজ্জার ভয় এবং মানসিকভাবে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন আসামিরা। তাঁদের কথামতো না চললে বা এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

১৮ মে পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত করে ১৮ মে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ রোববার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী হাসান এম এস আজিম।পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের রায় ১৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে ওই দিন বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। এতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে এই সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। মামলা সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সে বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট-২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ অক্টোবর কামারুজ্জামান হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে রিট আবেদনকারীর (কামরুজ্জামান) সাজা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি সাজার আদেশ স্থগিত করা হয়।
আইনজীবী সূত্র বলেছে, ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর টয়নবি সার্কুলার রোডে অবস্থিত এক বাড়ির মালিক মো. মজিবুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আইনের বিধান ও অর্থ ফেরতের নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর রিট করেন মজিবুর। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই দিন হাইকোর্ট রুলসহ সাজার আদেশ স্থগিত করেন। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের কয়েকটি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে ২ মে দিনাজপুরের বেকারি মালিকদের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহসহ ১৭ জন আরেকটি রিট করেন। এতে বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি সঙ্গে রেখে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৮ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। রুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ধারা ৫,৬ (১), ৬ (২), ৬ (৪), ৭, ৮ (১), ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৫ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। তিন রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া রুল একসঙ্গে শুনানি হয়। রিটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিচার করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই আইনের ৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ৬ (১), ৬ (২), ৬ (৪), ৭, ৮ (১), ৯, ১০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা পদ্ধতি, ১১ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া ক্ষমতা, ১৩ ধারায় আপিল ও ১৫ ধারায় তফসিল সংশোধনে সরকারকে দেওয়া ক্ষমতার কথা বলা হয়।

ফেনীতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক

ফেনীতে সদর উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ৩৫ হাজার ইয়াবা ট্যবলেটসহ দুই যুবককে আটক করেছে র‌্যাব। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামপুর এলাকা থেকে শনিবার রাতে তাদের আটক করা হয়। এরা হলেন- রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার টাংগন গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. রোকন সরদার (২৫) ও পুঠিয়া থানার বানেশ্বর বাজারের মো. রাব্বুল আলীর ছেলে মো. আসাদুল ইসলাম আসাদ (২৩)। র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিম জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বর্ষসেরা ডি কক- ইমরান তাহির

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন কুইনটন ডি কক। এছাড়াও ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাওয়ার্ড নাইটে তিনি আরো চারটি বিভাগে সেরা মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বর্ষসেরা টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটার। এছাড়া সমর্থক ও খেলোয়াড়দের বিচারেও তিনি সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। ২০১৬ সালের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচনের এই রাতে ২৪ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ছিলেন অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার তিনটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ে ডি ককের অবদান ছিল সর্বাগ্রে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়ানে মৌসুমের প্রথম ওয়ানডেতে ডি কক ১৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস দিয়ে মৌসুম শুরু করেছিলেন। এরপর ৫০ ওভারের ফর্মেটে তিনি নিজের ফর্ম ধরে রেখে দুটি সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।
টেস্ট ফর্মেটেও তিনি দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল হোবার্টে। তার ১০৯ রানে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ জয় করেছিল। ব্যাটিং ছাড়াও উইকেটের পিছনেও নিজেকে ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন ডি কক। এ সম্পর্কে সিএসএ প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত বলেছেন, সত্যিই অসাধারণ, সারা বছর কুইনটন যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। পারফরমেন্স দিয়ে সে প্রমাণ করেছেন সব ধরনের ক্রিকেটে সে কতটা পরিনত। এটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অত্যন্ত উজ্জীবিত একটি বিষয় হলো, এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বর্ষসেরা সবগুলো পুরস্কার তরুণরা জয় করে নিল। এদিকে টানা দ্বিতীয়বারের মত বর্ষসেরা টি২০ খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছে ইমরান তাহির।

শিশুদের বুদ্ধি বিকাশের পথ একটাই

বই, খাতা, স্কুলের ভারে ভারাক্রান্ত শৈশব। মাঠ, ঘাট, দমকা হাওয়ায় ভেসে যাওয়ার টান বাঁধা পড়ছে ইট-কাঠ-কংক্রিটের জঙ্গলে। বই থেকে মুখ তুললেই কার্টুনের জগতে। সবুজ মাঠ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকার সব উপকরণ চার দেয়ালের ভেতরেই মজুত। পড়াশোনা ছাড়া কার্টুন। এভাবেই আবর্তিত শৈশবকাল। সবুজ ঘাসে পা ফেলার ফুরসত কই! ভুল হয়ে যাচ্ছে। বিরাট ভুল। দৌড়তে হবে। আরো বেশি। পা ফেলতে হবে মাটিতে। বই-খাতায় মুখ গুঁজে থাকলেই বুদ্ধি বাড়ে না। টিভির পর্দায় চোখ আটকে থাকলে 'আই কিউ' বাড়ে না। বুদ্ধি বিকাশের একটাই পথ। দৌড়।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, সাধারণত আট বছর বয়স পর্যন্ত বুদ্ধির বিকাশ হয়। চিকিৎসাশাস্ত্র বলে, একজন মানুষ খুব বেশি হলে তার বুদ্ধির মাত্র দুই শতাংশ ব্যবহার করতে পারে। আমেরিকার দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং-এর গবেষণা বলছে, দৌড়ালে মানুষের শরীরের মাংসপেশি থেকে ক্যাথাপসিন বি নামে একটি প্রোটিন বেরোয়। এই প্রোটিন সরাসরি মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয়। ক্যাথাপসিন বি নামে এই প্রোটিনেই লুকিয়ে রয়েছে বুদ্ধি বাড়ার রহস্য। গবেষকদের দাবি, চার মাস ধরে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ২০ মিনিট করে দৌড়ালে পেশিতে ক্যাথাপসিন প্রোটিনের নিঃসরণ বাড়তে থাকে। রক্তে এর পরিমাণ তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পায়। মস্তিষ্কের নিউরোজেনেসিসগুলো প্রভাবিত হয়। ফলে, খুব সহজেই কেউ জটিল কাজ করতে পারে। সূত্র : ইন্টারনেট

ইরানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘উত্তর খোরাসান’ প্রদেশে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এক ভূমিকম্পে অন্তত তিন ব্যক্তি নিহত ও অপর ২২০ জন আহত হয়েছে। প্রদেশের রাজধানী বোজনুর্দ ছিল এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল এবং এটির উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠের ১১ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টা ৩১ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ অন্যান্য ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে। উত্তর খোরাসান প্রদেশের রেড ক্রিসেন্ট অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই তাদের ১২টি টিম বোজনুর্দের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং ধসে পড়া বিভিন্ন ভবনের নীচ থেকে অন্তত ১৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে রাস্তার উপর বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা ধসে পড়ার কারণে কয়েকটি গ্রামে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার রাতের ভূমিকম্পের পর আজ (রোববার) ভোরে উত্তর খোরাসান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের জরুরি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মাদ-হোসেইন আলী-নিয়া জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে শত শত মানুষ আহত হওয়া ছাড়াও প্রাদেশিক রাজধানী বোজনুর্দের উত্তরে অবস্থিত কয়েকটি গ্রামের বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি কয়েকটি গ্রামের নাম উল্লেখ করে বলেন, এসব গ্রামের ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা শতকরা ২০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত নয়টি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বলে আলী-নিয়া জানান। সূত্র : ওয়েবসাইট

সাবধান! খালি পেটে লিচু খাবেন না

সকালে খালি পেটে লিচু খাওয়া যাবে না। খেলে বিপদ হতে পারে। এমনকি শিশুদের বেলায় এতে মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। লিচু খেতে হবে ভরা পেটে এবং পাকা লিচু। সম্প্রতি ভারতের একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, লিচুতে আছে মিথাইলিন সাইকোপ্রোপাইল গ্লাইসিন এমসিপিজি নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি শরীরে ঢুকলে দেহে শর্করা উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল। একপর্যায়ে বিশেষ করে শিশুদের বেলায় মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। তবে গবেষকেরা বলেন, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ ভরা পেটে লিচু খেলে এমনটি হয় না। এ ছাড়া পাকা লিচু খেলেও তেমন কোনো ভয়ের কারণ নেই। পাকা লিচুতে উল্লেখিত রাসায়নিক উপাদান সহনীয় মাত্রায় থাকে। ভয় শুধু কাঁচা লিচু খাওয়ার বেলায় এবং সেটা খালি পেটে খেলে। সূত্র : ইন্টারনেট

উ. কোরিয়ার ওপর কঠোর অবরোধের আহ্বান ট্রাম্পের

উত্তর কোরিয়া রোববার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এই ঘটনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে। এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার ওপর আরো কঠোর অবরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জাপান সাগরে পড়ে। মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড জানায়, এটিকে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বলে মনে হচ্ছে না। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন এই পরীক্ষাকে ‘বেপরোয়া উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছেন। বুধবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুনের অভিষেক হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ক্ষেপণাস্ত্রটি রুশ ভূ-খণ্ডের খুব কাছেই আঘাত হেনেছে। এটি রাশিয়া ও জাপানের কাছে গিয়ে পড়েছে। রাশিয়া এতে খুশি হবে না বলেই মনে করছেন প্রেসিডেন্ট।’ এদিকে এই ঘটনার পর উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষিত মিত্র দেশ চীনও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। চীন সব পক্ষকে ‘ধৈর্য’ ধরার আহ্বান জানিয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে বেইজিং।

ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বাড়ির ভেতরে, হতাহত ৯

রিসের উত্তরাঞ্চলীয় থেসালোনিকি শহরের কাছে শনিবার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে একটি বাড়িতে সজোরে আঘাত হানে। এতে চারজন নিহত ও অপর পাঁচজন আহত হয়েছেন। ট্রেনটি এথেন্স থেকে রওয়ানা দিয়েছিল। গ্রিক রেল কোম্পানি ট্রাইনোস একথা জানিয়েছে। নিহতদের পরিচয় দেয়া হয়নি। তবে ট্রাইনোস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ট্রেনটির চালকও রয়েছে। ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ইঞ্জিনবাহী বগিটি একটি বাড়ির ওপর সজোরে আছড়ে পড়ে। সন্ধ্যায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। ট্রেনটিতে ৭০ জন যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, থেসালোনিকি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বগিগুলোর লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ জানা যায়নি।

উ. কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ২০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তোমোমি ইনাদা বলেছেন, উত্তর কোরিয়া নতুন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করেছে এবং এটি ১২০০ মাইল বা ২০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, জাপান মনে করে এ ক্ষেপণাস্ত্র ২০০০ কিলোমিটারের বেশি উচ্চতায় পৌঁছেছিল। টোকিওতে আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এদিকে জাপানের প্রধান ক্যাবিনেট সচিব ইউশিহিদি সুগা বলেন, উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩০ মিনিট ধরে উড়লেও এটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকায় ঢোকেনি। গতমাসে দুই দফা ব্যর্থ হওয়ার পর উত্তর কোরিয়ার আজকের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সফল হয়েছে। দেশটি নতুন ধরণের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম তৈরি করছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এগুলোর কোনোটিরই পরীক্ষা চালায়নি পিয়ংইয়ং। সূত্র : ওয়েবসাইট

ক্যান্সার আক্রান্ত নারীর স্বপ্ন পূরণ

ওয়েডিং ফটোশুটে' এক বাড়ির সামনে কিউ মে চেন
স্বপ্ন পূরণ হলো কিউ মে চেনের। তাইওয়ানের এই তরুণী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার বিয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও, কনের সাজে ছবি তুলে কিছুটা পূরণ করার চেষ্টা করেছেন সেই শখ। কেন তিনি এমনটা করলেন? চেনের বয়স ২৮ বছর। স্তন ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়েছে তার। তবে এসব কিছু তার বিয়ের স্বপ্ন দেখা থেকে থামাতে পারেনি। "যখন আপনার জীবনের অন্তিম সময়ের ক্ষণ গণনা শুরু হবে আপনার কখনোই মনে হবে না যে হাতে খুব একটা সময় আছে। আগে আমি সবসময় এমন কারো অপেক্ষায় ছিলাম যে এসে আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে সাহায্য করবে। অন্যদের মত আমারও বিয়ের নানারকম ছবি তোলা হবে" -বলছিলেন কিউ মে চেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার জীবনে তেমন কেউ না আসায় নিজেই নিজের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছেন।
ক্যান্সার আক্রান্ত কিউ চেনের মাথায় চুল নেই, পরচুলা পরে আছেন তিনি
তিনি একটি ওয়েডিং ফটোসেশনের পরিকল্পনা করেন। ঠিক যেভাবে বিয়ের কনে ও বর ছবি তুলে থাকেন। সাদা, গোলাপি, বিভিন্ন রঙয়ের বিয়ের পোশাকে ছবি তোলেন তিনি। "আমি নিজেই এই চারটি পোশাক পছন্দ করে বেছে নিয়েছি। চুলের সাজ এবং গয়না সবকিছুই আমি নিজেই পছন্দ করেছি। আমাকে বলা হয়েছিল তাদের স্টুডিওর ভেতরে ছবি তোলার জন্য। কিন্তু আমি তাদের জানাই যে আমি সত্যিকারের বিয়ের মতোই ফটোশুট চাই।" এরপর কিউ চেন গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন ভাড়া করা ভেন্যুতে গিয়ে বিয়ের ছবি তোলেন। "যখন আমি বিয়ের গাউন পরলাম আমার কান্না পাচ্ছিল। আমার অনুভূতি হচ্ছিল যেন বহু বছর ধরে লালন করা আমার স্বপ্ন সত্যি সত্যিই পূরণ হলো।" কিন্তু তার জীবন তার স্বপ্ন-পূরণের মতো সহজ স্বাভাবিক নয় মোটেই। প্রতি সপ্তাহে তিনবার করে তাকে হাসপাতালে যেতে হয় ইনজেকশন নিতে। কেমোথেরাপিও নিতে হয়। "দীর্ঘসময় আমি দাড়িয়ে থাকতে পারি না। আমাকে হুইলচেয়ারও কখনো কখনো ব্যবহার করতে হয়। আমি হাঁটতে পারি না। আর এই যে আপনি আমার মাথায় ঘাড় অব্দি চুল দেখতে পাচ্ছেন,
সেটা কিন্তু আসল নয় নকল চুল" বলছিলেন কিউ মে চেন। তার জীবনের এই কাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে তাকে অনেকেই শুভকামনা জানিয়ে লিখেছেন। তিনি যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন এমন প্রত্যাশাও করেছেন কেউ কেউ। কিউ চেন বলছিলেন, "আমি আমার জীবনের ঘটনার মধ্য দিয়ে অন্য যারা অসুস্থ তাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা তৈরি করতে চাই। সুস্থ যারা তাদের জন্যতো বটেই। আমি বলতে চাই জীবনটা আসলে ততটা মন্দ নয়। জীবন ও মৃত্যু ছাড়া আর সবকিছুই আসলে গৌণ।" "যেসব অসুস্থ ব্যক্তিরা অবধারিতভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা সবসময় নিজেদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকেন আর কতদিন বাঁচবেন, কখন মারা যাবেন কিংবা চিকিৎসা কতটা কাজ করছে এসব নিয়ে। কিন্তু আমি বলবো চিন্তা করো না কারণ এমন চিন্তা অর্থহীন।" পৃথিবীতে বাকি যেটুকু সময় কাটছে সেটুকু শান্তির সাথে নিজের মনের মতো করেই কাটাতে চান তাইওয়ানের এই তরুণী। সূত্র : বিবিসি

ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিডিওসহ)

বক্তব্য দিচ্ছিলেন মাইক পেন্স। সেসময় কথা প্রসঙ্গে হাত ছড়িয়ে দিতে গিয়ে তা লেগে যায় এক ছোট্ট ছেলের নাকে। নাছোরবান্দা সেই শিশু, এরপর পাক্কা এক মিনিট পেন্সের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন, ক্ষমা আদায় করে নিতে। ঘটনাটি ঘটেছে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল মিলিটারি স্পাউস এপ্রেসিয়েশন ডে'র এক ইভেন্টে। সেখানে বক্তব্য দেয়ার সময় বেখেয়ালে উপস্থিত এক শিশু শ্রোতার নাকে হাত দিয়ে আঘাত করেন পেন্স। তারপর এর জন্য 'দুঃখিত' না বলেই বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি। বিষয়টি আমলে নিতে চাননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। কিন্তু নাকে আঘাত পাওয়া পের-ও নাছোরবান্দা। তিনি নানাভাবে চেষ্টা করেন পেন্সের দৃষ্টি আকর্ষণের, এমনকি হাত দিয়ে তার পিঠে গুঁতো দেয়ার চিন্তা করে শেষ মুহূর্তে হাত সরিয়ে নেন। উদ্দেশ্য, তার কাছ থেকে ক্ষমা আদায় করে নেয়া। শেষমেষ অবশ্য হার মানেন পেন্স। পেরের দিকে ঘুরিয়ে দুঃখিত বলেন পেন্স। আর পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন এক ভিডিও সাংবাদিক যা প্রকাশ হয়েছে ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যা পরে ভাইরাল হয়ে যায়।

আবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার

ফের শক্তি প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। আন্তর্জাতিক মঞ্চের নিন্দা উপেক্ষা করে আবারো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো কিমের দেশ। এই নিয়ে গত এক মাসে তিনবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, স্থানীয় সময় রোববার সকালের দিকে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কুসং শহরের কাছাকাছি একটি স্থান একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর আগে গত মাসে দেশটি দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। যদিও সেগুলি সফল হয়নি। দু'বারই নিক্ষেপের কয়েক মিনিটের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিস্ফোরিত হয়। চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় আমেরিকার সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা চরমে রয়েছে। উত্তর কোরিয়া দূরপাল্লার এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে যেগুলোর পরমাণু ওয়ারহেড বহন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দা ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজের পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা তীব্রতর করেছে উত্তর কোরিয়া।

রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ ও মহাসমাবেশ

পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান জোরদার করে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজী,খুন,গুম অপহরণবন্ধের দাবীতে রবিবার রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে রাঙ্গামাটির হাজারো সাধারণ মানুষ। নিপীড়িত নির্যাতিত পার্বত্যবাসীর ব্যানারে রাঙ্গামাটি ও দশ উপজেলা থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এই সন্ত্রাস বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেয়। সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে সাধারণ মানুষের সন্ত্রাসী বিরোধী মিছিলটি বের হয়ে শহরের জিমনেশিয়াম চত্ত্বরে গিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। এসময় শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ত্রাস বিরোধী সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্নার সভাপতিত্বে সমাবেশে সদস্য জাহাঙ্গীর কামাল, এডভোকেট পারভেজ তালুকদার, বেগম নুরজাহান, কাজী মোঃ জালোয়া, ইঞ্জিনিয়ার সাহাদাৎ ফরায়জী সাকিব ও জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, পার্বত্য চুক্তির প্র্রায় দুইদশক পার হয়ে গেলেও পাহাড়ে খুন, গুম, অপহরণ, সন্ত্রাস,
চাঁদাবাজি দিনদিন বেড়েই চলেছে। সন্ত্রাসীদের কাছে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সাধারণ মানুষের জীবন জিম্মি হয়ে পড়েছে। পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিনিয়ত হত্যা-গুমসহ অপহরণের ঘটনাগুলোতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে বিতর্কিত অবস্থান নিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের হাতে সাধারণ মানুষের নির্মম হত্যাকান্ড নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রহস্যজনকভাবে নিরব ভূমিকা নিয়ে সমাবেশ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন,শুধুমাত্র অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের দমন করা সম্ভব। পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা নাহলে পার্বত্য এলাকা সন্ত্রাসীদের কাছে অভয়ারন্য হয়ে উঠবে। পাহাড়ে শক্ত হাতে সন্ত্রাস দমনের জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান বক্তারা।

রাণীনগরে চোলাই মদসহ নারী গ্রেফতার

নওগাঁর রাণীনগরে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২০ লিটার বাংলা চোলাইমদসহ আছিয়া বিবি (৫৫) নামে এক মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে কৌনজ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আছিয়া ওই গ্রামের আব্দুর রহমান মুসার স্ত্রী। থানা পুলিশ জানায়, মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শফিকুর রহমান শফি শুক্রবার রাত অনুমান ৮টায় উপজেলায় কৌনজ গ্রামে আছিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়।এসময় তার বাড়ি তল্লাশী করে চোলাইমদ তৈরির সরংজমাদি এবং কারখানায় উৎপাদিত ১২০ লিটার বাংলা চোলাইমদ উদ্ধারসহ আছিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর তার কারখানা গুড়িয়ে দেয় পুলিশ। গ্রেফতার আছিয়ার বিরুদ্ধে মাদক মামলা রুজু করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। আছিয়া ও তার স্বামী আব্দুর রহমান মুসা এলাকার কুক্ষাত্ব মাদক কারবারী এবং বাড়িতে মাদকের কারখানা বসিয়ে বাংলা চোলাইমদ উৎপাদন করে ব্যবসা কওে আসছিল বলে থানা পুলিশ জানিয়েছেন।

বালিয়াকান্দির কাঠ ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে নিখোঁজ

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের দোপপাড়া পদমদী গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান খাঁন ঢাকার মহাজনের নিকট টাকা আনতে গিয়ে ৭দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। মতিয়ার রহমান খাঁন দীর্ঘ ৭ দিন নিখোঁজ থাকায় বাবা-মা ও মেয়ে চোঁখের পানি মুছে দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। ছেলের খোঁজে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন তার বাবা। মতিয়ার রহমান খাঁন বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের দোপপাড়া পদমদী গ্রামের আব্দুল জব্বার খাঁনের ছেলে। মতিয়ারের মাতা মেহেরা খাতুন জানান, মতিয়ার গত মঙ্গবার সকালে ঢাকার মীরপুরে মহাজনের কাছে পাওনা টাকা আনার জন্য বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। ঢাকায় মহাজনের কাছে পৌছার পর সেখান থেকে টাকা নিয়ে বাড়ীর উদ্দেশে রওনা করে। তার পর থেকে মতিয়ারের মোবাইল বন্ধ আর কোন যোগাযোগ করতে পারছিনা। মতিয়ারের চার বছরের মেয়ে মিম বাবার খোঁজে পথ চেয়ে কান্না করছে আর মতিয়ারের স্ত্রী স্বামীর শোকে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। মতিয়ারের বাবা আব্দুল জব্বার খানের সাথে মোবাইলে জানান, রবিবার ঢাকায় মহাজনের কাছে ছেলের খোঁজে বাড়ী থেকে বেড়িয়েছেন। বালিয়াকান্দি থানায় নিখোঁজ জিডি করতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছে সেই থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন। নবাবপুর ইউপি সদস্য কাবিল হোসেন জানান, মতিয়ার খান ও তার পিতা জব্বার খান ঢাকায় প্রতি সপ্তাহে ২-৩ গাড়ী কাঠ পাঠায়। সেই টাকা আনার জন্য মতিয়ার ঢাকায় যায়। সেখান থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে আর বাড়ী ফিরে আসেনি।

সিলেটে আলিশান বাড়ি পুলিশি নজরদারিতে

প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হিসাবে সিলেট সর্বত্র পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রবাসীদের অর্থায়নে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়িগুলো পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রবাসীদের নির্মিত বিলাসবহুল বাড়িগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। এসব বাড়ির অধিকাংশই এক-দুজন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে রয়েছে। আর এরই সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। বিশেষত জঙ্গিসহ বড় বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা গোপন আস্তানা হিসেবে সিলেটের এসব ফাঁকা বাড়ি বেছে নিচ্ছে। মালিকের অনুপস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক নিয়ন্ত্রিত এসব বাড়িকে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বড় অপরাধীরা। এ অবস্থায় সিলেট নগরী ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এসব বাড়ি নজরদারির আওতায় আনছে পুলিশ। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা বলেন, গ্রামাঞ্চলে প্রবাসীদের আলিশান বাড়িগুলো অনেকটা জনহীন স্থানে নির্মিত। ফলে এসব বাড়িতে কারা আসা-যাওয়া করে, প্রতিবেশীরাও তা জানতে পারে না। এজন্য এসব বাড়ির ব্যাপারে আমরা অনুসন্ধান করছি। জানা গেছে, গত বুধবার রাতে নিজের মামা মাসুম বিল্লাহর মাধ্যমে পাঠানটুলার রশীদ মঞ্জিলে ওঠে সাফাত আহমদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ। মাসুম বিল্লাহ প্রবাসী মামুনুর রশীদের বন্ধু। বাড়ির মালিক না থাকায় তত্ত্বাবধায়ককে বলে সাফাত ও সাদমানকে ওই বাসার দুই তলার একটি ফ্ল্যাটে তোলেন মাসুম। এ বিষয়ে রশীদ মঞ্জিলের তত্ত্বাবধায়ক নুরুন্নবী বলেন, মাসুম বিল্লাহ বাসার মালিকের বন্ধু। গত বুধবার রাতে তিনি নিজের বাসায় জায়গা নেই জানিয়ে আত্মীয় পরিচয়ে দুই যুবককে এনে এখানে রাখেন। মালিকের বন্ধু হওয়ায় আমরা তাকে না করতে পারিনি। পুলিশ প্রশাসন বলছে, ঘটনা যা-ই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সিলেটের প্রবাসীদের ফাঁকা পড়ে থাকা বিলাসবহুল বাড়িগুলোকেই অপরাধীরা আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক এ ঘটনার আগে বিভিন্ন সময় জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদেরও এ ধরনের বাড়িতে ঘাঁটি স্থাপন করতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে অপরাধীরা বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। সর্বশেষ মৌলভীবাজারের দুই প্রবাসীর বাড়ি ভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা গেছে। ওই বাড়ি দুটিও জঙ্গিরা তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিল। সিলেটের প্রবাসীদের সেবাদানকারী সংস্থা সিলেট ওভারসিজ সেন্টারের হিসাবমতে, সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বাস করেন। বিপুল অর্থবিত্তের মালিক এসব প্রবাসী কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নিজ গ্রাম কিংবা শহরে বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি করেন বিলাসবহুল বাড়ি। সিলেটে এ ধরনের বাড়ির সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি, যার নির্মাণ ব্যয় ১ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত।
এ অঞ্চলের প্রবাসীদের অধিকাংশ যুক্তরাজ্যে বসবাস করায় স্থানীয়ভাবে এ বাড়িগুলো ‘লন্ডনি বাড়ি’ নামে পরিচিত। সিলেটের বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এবং মৌলভীবাজারের প্রবাসীবহুল এলাকায় এসব বাড়ির সংখ্যা বেশি। বিপুল অর্থ ব্যয়ে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হলেও বছরের বেশির ভাগ সময়ই তা ফাঁকা পড়ে থাকে। বাড়িগুলো দেখভালের জন্য সাধারণত একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা হয়। আর এ সুযোগ নিয়েই এসব ফাঁকা বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে জঙ্গিসহ বড় অপরাধীরা। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুল আলম বলেন, সিলেটে প্রবাসীদের মধ্যে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ নিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে এমন প্রতিযোগিতা চলে আসছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে এসব বাড়ি নির্মাণ হলেও প্রায় সারা বছরই এসব আক্ষরিক অর্থে ফাঁকা থাকে। সাধারণের কাছে অগম্য এসব বাড়ি ফাঁকা পড়ে থাকার কারণেই তা কাজে লাগায় অপরাধীরা। ফলে তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে এসব বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অনেকটা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে অপরাধীরা। এসব বাড়ির ব্যাপারে অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাড়িগুলোর ভাড়াটিয়া ও তত্ত্বাবধায়কদের ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিলেট মহানগর ও জেলা পুলিশ। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন, প্রবাসীদের বাড়িগুলো বছরের অধিকাংশ সময় ফাঁকা পড়ে থাকে। কেয়ারটেকার বাড়িগুলো দেখভাল করে। আর বিভিন্ন পরিচয়ে জঙ্গিসহ বড় বড় অপরাধীরা বাড়িগুলো ভাড়া নিয়ে তাদের কর্মকা- চালায়। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন এসব বাড়ির ওপর আমরা নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি বাড়িগুলোর কেয়ারটেকার ও ভাড়াটিয়াদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে

বালিয়াকান্দিতে হেরোইনসহ একজন গ্রেফতার

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বালিয়াকান্দি বাসষ্ট্যান্ডে অভিযান চালিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় হেরোইনসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতের নাম, আবু তালেব সরদার (৩৫)। তার পিতার নাম, সিদ্দিক সরদার। বাড়ী বালিয়াকান্দি। বালিয়াকান্দি থানার এ,এস,আই রিপন খন্দকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বালিয়াকান্দি বাসষ্ট্যান্ডে এ,এস,আই আজিজ ও সঙ্গীয় ফোর্স সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ১২ পুড়িয়া হেরোইনসহ আবু তালেব সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। এব্যাপারে এ,এস,আই রিপন খন্দকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি তদন্ত করছেন, এস,আই অলোক কুমার ঘোষ।

৪০ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোতে পারাপার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের তিন গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষের ভোগান্তি একটি বাঁশের সাঁকো। স্থানীয় সাংসদ অথবা জনপ্রতিনিধির কাছে এলাকাবাসী তাদের এ ভোগান্তির কথা জানালেও কোন প্রতিকার হয়নি। শিশু, বৃদ্ধ, বনিতাসহ সব বয়সী মানুষের ওই খোয়াটি পাড় হয়ে জীবিকার চাহিদা মেটাতে হয়। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। এলাকাবাসীরা জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাব্বুনিয়া এলাকায় রাবনাবাদ নদীর একাংশ মরা খালে পরিণত হয়ে বারোই খাল নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। নদীর চারদিকে গাব্বুনিয়া, ফেলাবুনিয়া, স্লুইসঘাট গ্রাম অবস্থিত। এই তিন গ্রামের নানা পেশার অন্তত ১০ হাজার মানুষের বসবাস করে আসছেন। গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য নিজেরাই একটি বাশের সাঁকো তেরী করে চলাচল করছেন। এর পর থেকে ওই গ্রামের মানুষ গুলোর হাটবাজার, ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতসহ সব ধরনের কাজ করতে হয় খালের ওপর সাঁকোটি পাড় হয়ে। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি কাদা মাটিতে প্রলেব থাকায় প্রায়শই ঘটে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। যদি সাঁকোটি বাদ দিয়ে মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, তা হলে তিন থেকে চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে অন্য এলাকা হয়ে তাদের চাহিদা মেটাতে হয়। ফলে ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষ গুলোকে পরতে হয় চরম ভোগান্তিতে। এছাড়াও কৃষিজাত পন্য বাজার করতে কৃষকদের অধিক খরচ পোশাতে হয় বলে জানান একাধিক কৃষকরা। গাব্বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বী, হৃদয়, রামিন জানান, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমরা স্কুলে যাওয়া-আসা করে থাকি। বর্ষা কালে আমাদের বেশি কষ্টো হয়।
এছাড়াও সাঁকোটি পুরাতন হওয়ায় মাঝ-মধ্য আমরা নিয়ন্ত্রন হাড়িয়ে ফেলি। অনেক সময়ে নিয়ন্ত্রন হাড়িয়ে খালের মধ্যে পরে যাই। গায়ে কাদামাটি লাগায় ওই দিন আর ক্লাস করতে পারিনা। গাব্বুনিয়া গ্রামের মোঃ সোহাগ মিয়া বলেন, এর আগে অনেকবার ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানিয়েছি খালের ওপর সেতু তৈরি করার জন্য। তিনি শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। কিন্তু সাঁকোর বদলে এই খালে সেতু হয়ে ওঠেনি। বর্তমান বাঁশের সাঁকোটি গ্রামবাসী মিলে তেরী ও মেরামত করেছেন। গাব্বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ মফিজ খাঁন বলেন, বাঁশের ওপর দিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে খালের মধ্যে পড়ে যাই। বেশিরভাগ সময় স্কুলের শিশুরা সাঁকো পার হতে গিয়ে খালের পানিতে পড়ে যায়। পরে লোকজন তাদের উদ্ধার করে। এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য মরা খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। প্রায় দশ ফুট পরপর দুটি করে বাঁশের খুঁটি ১৮টি স্থানে বসানো হয়েছে। বাঁশের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ওপরে ধরার জন্য আড়াআড়ি বাঁশ বাধা হয়েছে। ৪০ বছর ধরে এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলাচল করছে। এ উপজেলায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু সাঁকোটি পাল্টায়নি। স্থানীয় ব্যাবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, মালামাল নিয়ে যাওয়া যায় না। নসিমন ভাড়া করে অনেক দূরের পথ ঘুরে যেতে হয়। তাই আমাগো ব্যবসায় লাভের তুলনায় খরচ বেশি হয়। জ¤œ থেকে এই খালটিতে সাঁকো দেখে আসছি। অনেক কিছুর উন্নতি ঘটেছে। কিন্তু সাঁকোটি বদলায়নি। বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তিন গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এখাধিকবার উপর মহলকে জানানো হয়েছে।

আজ বিশ্ব মা দিবস

আজ বিশ্ব মা দিবস। সারা বিশ্বে বেশ ঘটা করেই দিনটি মাকে উৎসর্গ করেছে শত কোটি মানুষ। কিন্তু মানিকগঞ্জের হাজারো মা জানে না ‘মা দিবস’ বলে কোনো দিবস আছে। তবে সন্তানের প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র ভালোবাসার কমতি নেই। বড় হয়ে সন্তানরা কর্মব্যস্ততার মাঝে মাকে ভুলে থাকলেও, মা ভুলেন না কখনো। এমনি কয়েকজন মায়ের জীবন চিত্র তুলে ধরা হলো, যে মায়েদের সন্তান থাকতেও মা ডাক শোনা হয় না। সামর্থবান সন্তান থাকতেও যে মায়েদের জীবন চলে কঠোর কায়িক শ্রম আর অন্যের দয়ায়। জেলার দৌলতপুরের চর এলাকার এলাকার প্রবীণ লালতারা বেওয়ার বয়স ষাট পেরিয়ে গেছে। জেলা শহরের এক বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে। কোলে শিশু ছেলে আর পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়ে রেখে তার স্বামী নিরুদ্দেশ হয় ৩০/৩৫ বছর আগে। জীবনের তাগিদে শিশু সন্তানকে কোলে নিয়েই করতে থাকেন বিভিন্ন কায়িক শ্রম। অবুঝ শিশুদের মুখ পানে চেয়ে তার জীবনের স্বর্ণালী সময়ে শুরু করা সেই হাড়ভাঙা খাটুনী, তা যেন এ জীবনে আর ফুরায় না। অন্যের বাড়িতে কাজ করেই তিলতিল করে জমানো টাকায় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে একটি গার্মেন্টেসে কাজ করে। বিয়ে করে তারা সন্তানসহ ঢাকায় থাকে।
খোঁজ নেয় না মায়ের। বয়সের ভারে লালতারা বেওয়ার শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা অসুখ বিসুখ। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। দুবেলা দুমুঠো ভাত খাচ্ছেন তিনি ঠিকই, কিন্তু তা অন্যের দয়ায়। বললেন, 'বছর তিনেক আগে ঈদের দিন তার ছেলে আসছিল; তিনশো ট্যাকা দিয়ে গেছে। মেয়ের বিয়া অইছে ম্যালা বড় বাড়িতে; আমার পরিচয় দেয় না, ওগো খুব লজ্জা লাগে। সারাডা জীবন রক্ত পানি কইরা ওগোরে বড় করলাম যাতে শেষ বয়সে ওরা আমারে দ্যাহে (দেখে), তা আমার কপালে সইলো না। এমন কপাল আল্লায় যেন কাউরে না দ্যায়। তবুও দোয়া করি আল্লায় যেন ওগোরে সুখে রাখে। কথা বলার সময় দু’চোখের কোণে পানি টলমল করছিল। বার বার কাপড়ের আঁচল দিয়ে পানি মোছার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে কেঁদে ওঠেন হাউমাউ করে অস্ফুট স্বরে শুধু বললেন, ওগো দেখবার খুউব মন চায়, কত দিন দেখিনা ওগোরে। কতদিন মা যাক শুনি না।' শুধুমাত্র বেঁচে থাকার তাগিদে বৃদ্ধ বয়সে এসেও ভিক্ষা করতে হচ্ছে এক অসহায় মা হাজেরা বেগমকে। ঘিওরের তরা এলাকায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে ভিক্ষা করছেন তিনি। বয়সের ভারে বৈশাখের তপ্ত দুপুরে ঠিকমতো পথও চলতে পারছিলেন না। ছেলে রায়হান বিয়ে শাদী করে শশুর বাড়িতে থাকে। একটিবারও খোঁজ নেয় না গর্ভধারিনী এই মায়ের। তবু সন্তানের প্রতি তার কোন আক্ষেপ নেই। মা দিবস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বেশ অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে উওর দেন, সেইডা আবার কি বাপু, এই কতা তো আগে হুনি (শুনি) নাই। এসব দিবসের চাইতে জীবন বাঁচানোর তাগিদই তাদের কাছে এখন মুখ্য। তবুও তারা সবসময় দোয়া করে তার সন্তান যেন ভালো থাকে।
বিষন্ন আকাশ পানে শূণ্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ছেলেটি। আকাশের বুকে জমা হওয়া মেঘের মতই একরাশ কাল মেঘ জমে আছে তার মানস পটে। গুমোট মেঘের দল যেকোন সময় কান্না হয়ে ঝড়ে পড়বে। আকাশের মেঘ কেটে সূর্য হাসলেও ছেলেটির মনে আনাগোনা করা গুমোট মেঘের দল কখনও সড়বে না, কারণ যে সূর্য দূর করবে অন্ধকার- সেই সূর্যকে হারিয়ে ফেলেছে ছেলেটি। সেই আলোক উৎস হারিয়ে গেছে ছেলেটির জীবন থেকে। কারণ তার জীবনে সেই সূর্যটি নেই, ছেলেটির মা নেই এই পৃথিবীতে। হ্যাঁ, এই ছেলেটির মত হতভাগা আর কে বা আছে? ঘিওর এলাকার মজলিশ মল্লিকের স্ত্রী আলেয়া বেগম আজ থেকে চার বছর আগে নিহত হয় রানা প্লাজা ধ্বসে। তখন তার ঘরে ছিল দুই বছরের একমাত্র ছেলে। অস্ফুট স্বরের সেই মা..আ ডাকটি হারিয়ে গেছে চির কালের জন্য। ছেলেটির বয়স এখন ছয় বছর। ভালোই কথা বলতে পারে ফুটফুটে মুখে। এখন সে বুঝতে শিখেছে, হাজারবার মা..মা বলে ডাকলেও কিন্তু একটি বারের জন্যও যে মা আর আসবে না। পরিবারের সব সদস্যরা হয়তো বেশ সুখেই রাখার প্রচেষ্টা করছে তবুও মায়ের অপূরণীয় অভাব তাড়িয়ে বেড়ায় শিশুতোষ মনটাকে। কোমল নয়নজোড়া এখনো খুঁজে বেড়ায় তার মাকে। কান্না মিশ্রিত এসব দুঃখগাঁথার বিপরীতে আছে কিছু সুখের পংক্তিমালা। সন্তানদের সুখের জন্য একজন মা যে কতটা কষ্ট করেন তার একটি উদাহরণ মানিকগঞ্জের আরুয়া ইউনিয়নের বাউলিকান্দা গ্রামে মর্জিনা বেগম। ১৮ বছর আগে দুই শিশু সন্তান রেখে মর্জিনা বেগমের স্বামী ঢাকায় কাজের খোঁজে গিয়ে আর ফিরেননি। পরে জানতে পারেন তিনি মারা গেছেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধ। সংসারের হাল ধরতে কখনো অন্যের বাড়িতে, কখনো আবার কাজ করেছেন ফসলের মাঠে।
এখনো মর্জিনা বেগম কেয়ার বাংলাদেশের হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের একজন তালিকাভুক্ত মাটি কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এই সংগ্রামী নারী তার ছেলেকে বানাচ্ছেন এমবিবিএস ডাক্তার। ছেলে রিপন বিশ্বাস ঢাকার একটি মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। মেয়ে সুরমা আক্তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাকেও আইনজীবী বানাতে মা চান মর্জিনা। মর্জিনা বেগম জানান, অভাবের মধ্যে দুই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়াকে আত্মীয়-স্বজন আর প্রতিবেশিরা বাঁকা চোখে দেখতো। তাদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু ছেলের একের পর এক ভালো রেজাল্টে সবাই খুশি হয়েছেন। এ পর্যন্ত আসার পেছনে এলাকাবাসীও অনেক আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। মুখে এক গাল তৃপ্তির হাসি হেসে তিনি জানান, আজ আর আমার কোনো কষ্ট নেই। আমি সব কষ্টের কথা ভুলে গেছি। ছেলে আমার ডাক্তার হইছে, গরিব দুখীর সেবা করতে পারবে। মেয়েকে উকিল বানাবে, যেন সেও মানুষকে আইনি সেবা দিতে পারে। ছেলে রিপন বিশ্বাসও তার মায়ের এই কষ্টে অঝরে কাঁদে। তার স্বপ্নও একদিন তার মায়ের মুখে সে পরিতৃপ্তির হাসি ফুটাবেই। তার গর্ব সে একজন আদর্শ মায়ের গর্ভে জন্মেছিল।

প্রতিশোধ নিতে মোস্তফাকে কুপিয়ে হত্যা করে নাসির

মিরসরাইয়ে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা হত্যাকান্ডে অন্যতম সাহায্যকারী মোহাম্মদ বাহার (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর বাহারকে আদালতে নেওয়া হলে সে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিফুল কুমার দে’র আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দেয়। গত ১১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে বারইয়ারহাট পৌরবাজারের ইসলাম মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। মোঃ বাহার অলিনগর এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে ও নিহত মোস্তফার প্রতিবেশী। সে পেশায় সিএনজি চালক। জানা গেছে, দেড়মাস পূর্বে নাসিরের সম্পতি দখল নিতে মোস্তাফা সহ কয়েকজন তার বাড়িতে গিয়ে হাতাহাতি করে। এতে করে নাসিরের মার হাত ভেঙ্গে যায় ও তার স্ত্রী আহত হয়। মাও স্ত্রীকে অপমান করার অপরাধে স্থানীয় শালিসী বৈঠকে মোস্তফাকে ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়টি নাসিরের মনোপ্রুত হয়নি। সে সীদ্ধান্ত নেয় মোস্তফাকে হত্যা করার। হত্যাকান্ডে নাসির তার সিএনজি চালক বাহারের সহায়তায় মোস্তফাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। মোস্তফা হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও মামলার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির শনিবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করেন। ব্রিফিং জাহিদুল কবির বলেন, গোলাম মোস্তফাকে হত্যার পরদিন ৮ মে রাতে তার স্ত্রী মোছাম্মৎ নিলুফা ইয়াছমিন বাদি হয়ে করেরহাটের অলিনগর এলাকার নাসির উদ্দিন ও নুর মোহাম্মদের নাম উল্লেখ সহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা (নং-১৪) দায়ের করেন। মামলার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।
ঘটনাস্থলের একটু দূরে লিচু বাগান থেকে মামলার আলামত হিসেবে সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ, দশ টাকার রবি অপারেটরের ব্যবহৃত একটি এমবি কার্ড সহ কিছু আলামাত সংগ্রহ করি। ওখান থেকে ধারণা করি ঘটনার সাথে জড়িতরা অনেকক্ষণ এখানে অবস্থান করেছিলেন। ঘটনার একদিন পর মামলার অন্যতম আসামী নুর মোহাম্মদ কে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে নেওয়া হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এসময় আমরা তার সাত দিনের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করি। রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়েছে। বন্ধ থাকার কারণে কয়দিনের রিমান্ড হয়েছে তা জানা যায়নি। নুর মোহাম্মদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা সিএনজি চালক বাহারকে গ্রেপ্তার করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অকপটে হত্যাকান্ডে নাসিরকে সহযোগীতার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ১২ মে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিফুল কুমার দে’র আদালতে ১৬৪ ধারায় বাহার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। এসময় নাসির বলেন, গোলাম মোস্তফার সাথে বিগত দেড় মাস আগে নাসিরের সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া হয়। নাসির পরিবার নিয়ে অলিনগর এলাকায় বন বিভাগের খাস সম্পত্তিতে বসবাস করতো। এসময় নিহত মোস্তফা ও করেরহাট বাজারের পল্লী চিকিৎসক জামাল নাসিরের মা এবং স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে নাসিরের মায়ের হাত ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে করেরহাট বাজারে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে নাসিরের মা ও স্ত্রীকে মারধর করায় গোলাম মোস্তফাকে ৫২ হাজার টাকা জরিমান করা হয়। কিন্তু নাসির রায়টি মেনে নিতে পারেনি। পরবর্তীতে নাসির তার জায়গাটি বিক্রি করে অনত্র চলে যায়। নাসির গোলাম মোস্তফা ও ডাক্তার জামালকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে নাসির তার মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য যেকোন উপায়ে গোলাম মোস্তফাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে মাঝে মাঝে আমাকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বলে জানাতো। মোস্তফাকে হত্যা করার জন্য সে আমাকে গোলাম মোস্তফা কখন বাড়ি ফিরে, কখন বের হয় তার খোঁজ খবর রাখতে বলে। ঘটনার দিন বিকেলে আমি নাসির সহ বারইয়ারহাট পৌর মাছ বাজার থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে গাছের হাতলওয়ালা একটি দা (ধারালো আস্ত্র) কিনে নিয়ে আমার কাছে রাখি। সকালে মোস্তফা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিজের সিএনজি নিয়ে চালক বেশে পিছু নিই। মোস্তফা কখন কোথায় কি করছিলেন নাছির উদ্দিনকে তার আপডেট মোবাইলে জানাই। তবে দিনের বেলায় হত্যার উপযুক্ত সময় না পাওয়ায় বিকেল বেলা পূর্বের ওই পরিকল্পনা বাদ দিয়ে রাতের উপযুক্ত সময়কে বেচে নতুনভাবে হত্যার পরিকল্পনা করি। পরবর্তীতে ঘটনারদিন ৭মে রবিবার রাত সাড়ে নয়টার পর থেকেই আমি সিএনজিতে করে নাসিরকে নিয়ে মোস্তফার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে লিচু বাগানে মোস্তফার ফেরার অপেক্ষা করি। এসময় নাসির আমাকে বলে মোস্তফাকে আজ রাতেই হত্যা করবে।
একথা শুনে আমার খারাপ লেগে উঠে। তাই নাসিরকে না জানিয়ে আমি সিএনজি নিয়ে বাড়ি চলে যায়। রাত সাড়ে বার টার দিকে মোস্তফা করেরহাট থেকে মটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় পৌছালে মোটর সাইকেল থেকে নামার সময় পেছন দিক থেকে মোস্তফার গাড়ে কোপ দেয় নাসির। পরে মোস্তফার মৃত্যু নিশ্চিত হলে নাসির আমাকে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ফোন দেয় কাম (কাজ) হই গেছে। সে আমাকে সিএনজি নিয়ে তাকে আনতে যেতে বলে। আমি তাকে যেতে পারবোন বলে নাসিরকে নিজের মতো করে চলে যেতে বলি। তখন নাসির আমাকে হুমকি দিয়ে বলে ‘খুনের ঘটনা শুধু তুই আর আমি জানি; আর কেউ জানেনা। ঘটনা যদি কেউ জানে তোরও মোস্তফার মতো একই অবস্থা হবে।’ ওসি জাহিদুল কবির আরো বলেন, নাসির একজন মাদকাসক্ত। সে নিয়মিত গাঁজা সেবন করতো। মায়ের অপমান ও জায়গা দখল করতে চাওয়ায় সে মূলত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা আমরা ঘটনাস্থলের একটু দূরে লিচু বাগানের একটি ক্যানেল (খাদ) থেকে উদ্ধার করি। আমরা নাসিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছি। শীগ্রই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। নাসিরকে গ্রেপ্তারের পর এঘটনায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কেউ জড়িত কিনা তা জানা যাবে। নাসির সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধভাবে মাদক, মসলা, কাপড় সহ বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর ব্যবসা করতো। ব্রিফিংয়ে এসময় জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, সেকেন্ড অফিসার বিপুল দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত : গত ৭ মে রাত ১টার সময় উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকায় এক যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পরদিন রাতে তার স্ত্রী বাদি হয়ে নাসির উদ্দিন ও নুর মোহাম্মদকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চাঁদা না পেয়ে মানিকছড়ির বাগান কেটে জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করেছে দুর্বৃত্তরা

মানিকছড়ির নির্জন জনপদ চাইল্যাচরে সৃজিত বাগানের বার্ষিক চাঁদা পেতে দেরি হওয়ায় ফলদ বাগান কেটে সাবার করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা! শুক্রবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় এক দল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে ‘ম্যাক এগ্রোফার্মে তিন শতাধিক ফলদ লেচু,কাঁঠাল গাছ কেটে এবং জ্বালিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় বাগান কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসীদের দায়ী করে থানায় জিডি করেছে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। ম্যাক এগ্রোফার্ম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার ২২৪ নং কুমারী মৌজার নির্ঝণ জনপদ চাইল্যাচরের ২৫০ একর ভূমিতে মো. জয়নাল আবেদীন সেলিম নামক এক ব্যক্তি দীর্ঘ এক যুগ পূর্বে আম,কাঁঠাল ও লিচুসহ নানা ফল-ফলাদির গাছ সৃজন করে। গত কয়েক বছর ধরে ওইসব গাছে ফল আসতে শুরু করে। নির্ঝণ জনপদের কারণে ওই এলাকায় উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত বসবাসরত বাঙ্গালী পরিবার ও বাগান মালিকদের নিকট থেকে প্রভাবখাটিয়ে বাগান প্রতি বার্ষিক টেক্স(চাঁদা) ধার্য্য করে আদায় করে আসছিল। চলতি বছর ওইসব বাগানের মালিকরা অনেকে এখনো ধার্য্যকৃত টাকা পরিশোধ করেনি। যার ফলে সম্প্রতি বিভিন্ন বাগানে সন্ত্রাসীর প্রভাব বিস্তার করে চাঁদা আদায়ের জোর তৎপরতা শুরু করেন।
এরই অংশ হিসেবে গত ১২ মে দিবাগত রাতে ম্যাক এগ্রোফার্মের ফলদ বাগানে এসে ৭০টি লিচু গাছ কেটে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ৩ শত কাঁঠাল গাছ কেটে সাবার করে পালিয়ে যায় এবং কাঁঠালগুলো পাশ্ববর্তী লেকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে চলে যায়। এছাড়া দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে শত একর ভূমির সৃজিত গাছ জ্বলে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে! খবর পেয়ে বাগান মালিক শনিবার সরজমিনে আসে এবং থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা খুঁজে পায়। পরে রাতে বাগান ম্যানাজার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী থানায় উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের দায়ী করে একটি সাধারণ ডায়রী রজু করেন। জিডি নং ৪৪৫/১৭ তারিখঃ- ১৩.০৫.১৭ খ্রি.। তিনি এ ঘটনায় ৭ লক্ষ টাকার অধিক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেন। এ ব্যাপারে সরজমিনে যাওয়া থানার এ.এস.আই মো. কামাল উদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি নিঃসন্দেহে ঘৃর্ণিত কাজ। এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিতর্কিত ইভিএম ফের আলোচনায়

চার বছর আগে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সমালোচিত ও বিতর্কিত হয়ে বিদায় হওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। ই-ভোটিংয়ে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যদিও এর আগে গত ১৩ এপ্রিল কমিশন সচিব বলেছিলেন, বড় নির্বাচনে ইভিএম কিংবা ডিভিএম প্রযুক্তি ব্যবহার করার মতো উপযোগী পরিবেশ দেশে এখনো তৈরি হয়নি। নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে বৈঠকে এ বিষয়ে সিইসিসহ অন্যরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ দিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে পুরোপুরি বিপরীত মেরুতে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নির্বাচনে ইভিএম বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মতায় থাকা নিশ্চিত করতে নির্বাচনে সরকার ই-ভোটিং রাখতে চায়, যা দুরভিসন্ধিমূলক। সম্প্রতি এমপিদের এক প্রশিণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীতনয় সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইভিএমে করা যেতে পারে। তবে ইভিএম নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চলমান বিতর্কের মধ্যে কোনো পে অবস্থান না নিয়ে কৌশলী পথে এগোচ্ছে কমিশন। সিইসি বলেছেন, রাজনৈতিক দল ও সরকার চাইলে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইভিএমের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় ইভিএম বন্ধ হয়ে যায়। তার পরে এটি সারানো আর সম্ভব হয়নি।
ফলে ওই কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ করতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন। এসব সমস্যা চিহ্নিত করতে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা সমস্যা চিহ্নিত করেনি, বরং ইসি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তোলে বুয়েট। পরে ইসি বুয়েটকে ইভিএম ফেরত দিতে বলে। এখন পর্যন্ত তারা ইভিএম ফেরত দেননি। এর পর আবারো আলোচনায় এসেছে ইভিএম। ইভিএম নিয়ে সদ্যবিদায়ী কমিশনে মতবিরোধ তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক সিইসির কাছে এক ইউও (আনঅফিশিয়াল) নোটে লেখেন, কমিশনে যে ইভিএম রয়েছে তাতে ভোট সংখ্যার কাগজ রেকর্ডের ব্যবস্থা নেই; ভোটারের পরিচিতি শনাক্তকরণেরও ব্যবস্থা নেই। ফলে এ যন্ত্র দিয়ে ভোটে কারচুপি রোধ করা সম্ভব নয়। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর বিদায়ী কমিশন শেষ দিকে এসে ইভিএম নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু করে। যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত অধিকতর নিরাপদ ইভিএম তৈরি করতে উচ্চপর্যায়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। রাজনৈতিক দল ও সরকার চাইলে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম : সিইসি রাজনৈতিক দল ও সরকার চাইলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট নেয়া সম্ভব বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসির (আরএফইডি) পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইভিএম বা যে নামেই হোক না কেন, প্রযুক্তিটি সবার কাছে আগে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ইভিএম নিয়ে আমাদের ভাবনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। পরীামূলকভাবে ব্যবহারের পর রাজনৈতিক দলসহ সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পেলেই ইভিএম ব্যবহার করা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে (ইমিডিয়েটলি) ইভিএম ব্যবহার করার সুযোগ নেই। ছোট ছোট নির্বাচনে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করে বুঝতে হবে বড় নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে কি না। তার আগে রাজনৈতিক দলগুলো এটা চায় কি না জানতে হবে। আমরা কারো ওপর এটা চাপিয়ে দিতে চাই না।
ইভিএম আবার সামনে নিয়ে আসা দুরভিসন্ধিমূলক : বিএনপি
ইভিএম নিয়ে আগের দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গত শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীতনয় বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য সেটিরই প্রতিধ্বনি মনে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন। আমরা মনে করি, ইভিএম বিষয়টি নির্বাচন কমিশন আবার সামনে নিয়ে আসা দুরভিসন্ধিমূলক। ইভিএম পদ্ধতিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বর্ণনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে, সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ভোট কারচুপির জন্য বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন কি না, এটা এখন মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইভিএম থেকে সরে আসছে উন্নত দেশগুলো পৃথিবীর শতকরা ৯০ ভাগ দেশে ই-ভোটিং পদ্ধতি নেই। যে কয়েকটি দেশ এটি চালু করেছিল, তারাও এখন এটি নিষিদ্ধ করেছে। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ড ই-ভোটিং পরিত্যাগ করে। ২০০৯ সালের মার্চ মাসে জার্মানির ফেডারেল ভোট ইভিএমকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দেয়। ২০০৯ সালে ফিনল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট ইভিএমে সম্পন্ন তিনটি মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনের ফলাফল অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করে। ড. অ্যালেক্স হালডারমেন নামে এক প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ইভিএমের ওপর গবেষণা করে প্রমাণ পেয়েছিলেন, আমেরিকায় ইভিএম কারচুপির প্রতিরোধক (টেম্পার প্রুফ) নয়। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যেও ইভিএম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
আমেরিকার ২২টির বেশি অঙ্গরাজ্যে এটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বাকিগুলোতেও তা নিষিদ্ধ হওয়ার পথে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জালিয়াতির সুযোগ থাকায় এতে এক চাপে ৫০টি ভোট দেয়া সম্ভব। বিদেশের মাটিতে বসেও ইভিএম হ্যাকিং করা যায় এবং একটি ইভিএম হ্যাকিং করতে এক মিনিটের বেশি সময় লাগে না। সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কোনো প্রযুক্তি গ্রহণের আগে তার ভালো-মন্দ খতিয়ে দেখা উচিত। আর নির্বাচনের অন্যতম স্টেক হোল্ডার হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। যে প্রযুক্তিই গ্রহণ করা হোক না কেন তা রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিয়ে করা উচিত। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জে. (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ছোট পরিসরের নির্বাচনে ইভিএম যৌক্তিক। সংসদ নির্বাচনের মতো মতা বদলের নির্বাচনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি কমিশন নির্বাচন। কারণ স্বয়ং ইভিএম উদ্ভাবনকারী দেশগুলোও এই প্রযুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

আপন জুয়েলার্সের ৫ শোরুমে অভিযান, একটি সিলগালা

‘ডার্টি মানি’ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। আজ রোববার সকালে রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কয়ারের পাঁচটি শোরুমে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গুলশানের একটি শোরুম সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তাঁর ছেলে শাফাত আহমেদের ‘ডার্টি মানি’র তথ্য গণমাধ্যমে আসার পর শুল্ক গোয়েন্দারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযান চলাকালে গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারে আপন জুয়েলার্সের একটি শোরুম বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয় ।  শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক  জানান, আজকের অভিযানে স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের বৈধ উৎস ও পরিশোধযোগ্য শুল্ক-কর সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে।

একক মায়ের জন্য সন্তানকে বড় করা কতটা সহজ?

বিশ্বের অনেক দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয় 'মা দিবস'। বাংলাদেশেও, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে গত বেশ কয়েক বছর যাবত 'মা দিবস' পালন করা হয়। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সিঙ্গেল মাদার বা একক মায়েদের সন্তানকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। তারপরও অনেক মা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এককভাবে তাদের সন্তানকে বড় করে তুলছেন। এমনই একজন মা ড্যানি রহমান, ডিজ্যাবিলিটি আছে, এমন শিশু জন্মদানের পর যার সংসার ভেঙে গিয়েছিল। বাবা তার সন্তানকে ছেড়ে গেলেও, মা হিসেবে তিনি এককভাবেই ছেলেকে বড় করে তুলেছেন। বর্তমানে গড়ে তুলেছেন স্নায়বিক প্রতিবন্ধকতা আছে এমন শিশুদের জন্য কারিগরী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান। একক মা হিসেবে কী ধরনের প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে? ড্যানি রহমান বলছিলেন, "একক মা একটি পরিচয় হতে পারে এই জায়গাটাতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সামাজিকভাবে আসতে পারেনি। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টা একদমই কম। সম্প্রতি হয়তো এই কথাটা সামনে আসছে।'' "কিন্তু এখনো শুধু সামাজিকভাবেই নয় পরিবারের ভেতরেও এই গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি যে আপনি সিঙ্গেল মা হিসেবে থাকবেন।" তাছাড়া অর্থনৈতিক বিষয়টাও একটা বড় বিষয় বলে মনে করেন ড্যানি রহমান। "অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না বা শক্তিশালী অবস্থানে থাকে না। আর সাইকোলজিক্যালি নারী হিসেবে এতটা শক্তিশালী এখনো সবাই হয়নি যে নিজের আইডেনটিটি নিশ্চিত করবে।" ড্যানি রহমান বলছিলেন, একা মা হিসেবে সামনে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জায়গাটাও এখনো সামাজিকভাবে বা পারিবারিকভাবে তৈরি হয়নি। "এখনো ধরে নেয়া হয় একজন নারী তার একটা সাইনবোর্ড থাকবে যে সে তারা বাবা বা ভাইয়ের অধীনে থাকবে বা তার স্বামীর সাথে থাকবে।" ড্যানি রহমানের ছেলের বয়স যখন ছয়-সাত বছর তখন তার সংসার ভেঙে যায়। প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য ড্যানি রহমানকে অনেক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। একজন নারী হিসেবে ড্যানি রহমানের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুস্থ-সবল সন্তানের জন্ম দিতে পারেননি। সন্তান প্রতিবন্ধী হবার কারণে তাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে অনেক চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে। প্রচণ্ড শারীরিক এবং মানসিক কষ্ট এবং যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে দিন পার করেছেন তিনি। লোকের মন্দ কথাও তাকে শুনতে হয়েছে। এমনকি অন্য লোকের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে, "তোমার কোন পাপের জন্য বাচ্চাটা এ রকম হয়েছে।'' তিনি বলেন, "তখন সামাজিকভাবে তৈরি ছিলাম না। আশেপাশের ফিডব্যাক কেমন আসবে, গ্রহণযোগ্যতার জায়গাটা কেমন হবে। কী বাধা আসবে ওই রাস্তায় না গেলে আমি জানতাম না ওই পরিস্থিতিটা কেমন হবে।" পারিবারিক এবং সামাজিক চাপ সামলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে কোনো মায়ের একা এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা খুব বেশি নেই। অল্প কিছু উদাহরণের মধ্যে ড্যানি রহমান অন্যতম একজন। তিনি বেশ বাধা-বিপত্তি পার করেই নিজের সন্তানকে লালন-পালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত ড্যানি রহমানের ছেলে এ লেভেল পাশ করেছেন এবং এখন কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তার মতে, "প্রত্যেকের জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজস্ব পছন্দ বা লক্ষ্য থাকে। কিন্তু আমরা বাচ্চা, পরিবার, সমাজ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের সম্মান দেয়ার জায়গাটা বাংলাদেশের পরিবেশে অনেকেই তৈরি করতে পারিনি বা তৈরি হয়নি। কিন্তু সেই জায়গাটা যখন মেয়েরা তৈরি করতে পারবে তখন ওই স্ট্রাগলের জায়গাটা হয়তো কমবে।" সূত্র : বিবিসি

শিক্ষক লাঞ্ছনায় সেলিম ওসমানের জামিন শুনানি ২৩ মে

নারায়ণগঞ্জে স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার মামলায় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমানের জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৩ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম জেসমিন আরা বেগম এ দিন ধার্য করেন। মামলার সরকারপক্ষের কৌঁসুলি জানান, আজ সেলিম ওসমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু তিনি গত ৮ মে হাইকোর্ট থেকে দুই সপ্তাহের জামিন নেন। সেই জামিনের মেয়াদ চলতি মে মাসের ২২ তারিখ শেষ হবে বিধায় বিচারক ২৩ মে পর্যন্ত জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম জেসমিন সুলতানা সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে আজ আদালতে হাজিরের জন্য নির্দেশ দেন।

সাঈদীর রিভিউ কাল সোমবার পর্যন্ত মুলতবি

ট্রাইব্যুনালের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন এবং খালাস চেয়ে করা সাঈদীর রিভিউ আবেদনের শুনানি কাল সোবমার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।  আজ রোববার দুপুরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শোনেন। দুপুর ১২টা থেকে ১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন আদালত। পরে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত তা মুলতবি করা হয়। বেঞ্চের অপর বিচারপতিরা হলেন আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসেইন হায়দার। শুনানিতে সাঈদীর পক্ষে আজ শুনানি উপস্থাপন করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এস এম শাহজাহান ও তানভীর আল আমিন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মোবাইল কোর্ট অবৈধ ঘোষণা রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

মোবাইল কোর্ট আইনের নয়টি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দাখিল করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ এর নয়টি ধারা এবং এর সংশ্লিষ্ট উপধারাগুলোও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে পুরো আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে রায়ে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া সংবিধানের লঙ্ঘন এবং তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উপর আঘাত করেছে। এটি ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতিরও পরিপন্থী। রায়ে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্ম-কমিশনের সব সদস্যরা প্রশাসনিক নির্বাহী। একজন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তারা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম বিচারিক ক্ষমতা চর্চা করতে পারে না। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের ডিভিশন বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। আইন বিশেষজ্ঞরা এই রায়কে স্বাগত জানান। তারা বলেন, এই রায় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করবে। এই রায়ের ফলে বিদ্যমান আইন দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব নয়। মোবাইল কোর্ট করতে হলে সরকারকে আইন সংশোধন এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে তা পরিচালনার ক্ষমতা দিতে হবে। ২০০৭ সালে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কার্যক্রমও বাতিল হয়ে যায়। তারপর ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট আইন জারি করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংসদে এই অধ্যাদেশটি পাস না করায় তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে এসে আরেকটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান প্রথমে মোবাইল কোর্টের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।  টয়েনবি সার্কুলার রোডে অবস্থিত একটি বহুতল ভবনের মালিক মো. মজিবুর রহমান একই বছরের ১১ ডিসেম্বর আরেকটি রিট করেন। মোবাইল কোর্ট তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়। আইনের বৈধতা এবং অর্থ ফেরতের দাবিতে তিনি এই রিটটি করেন। ২০১২ সালে দিনাজপুরের বেকারি মালিকদের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহসহ ১৭ জন অপর রিটটি করেন। এতে বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি সঙ্গে রেখে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। তিনটি রিট আবেদনের ওপরই হাইকোর্ট সরকারের উপর রুল জারি করেন। এ নিয়ে হাইকোর্টে দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়, মোবাইল কোর্ট আইনের ধারা ৫, ৬ (১,২,৪), ৭, ৮ (১), ৯, ১০,১১, ১৩ ও ১৫ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ধারাগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে (নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথককরণ-সংক্রান্ত সংবিধানের দুটি মৌলিক কাঠামোর বিরোধী।
তবে আদালত অনাকাক্ষিত জটিলতা ও বিতর্ক এড়াতে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়া এই তিনটি রিটের বিষয় ছাড়া মোবাইল কোর্টের ইতোপূর্বে দেওয়া সব আদেশ, সাজা ও দণ্ডাদেশ অতীত বিবেচনায় সমাপ্ত বলে মার্জনা করেছেন। রায়ে বলা হয়, প্রশাসনিক নির্বাহী হিসেবে মোবাইল কোর্টে নিয়োজিতরা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম বিচারিক ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন না, কেননা মাসদার হোসেন মামলায় রায়ে এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বলা আছে। এছাড়া এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো ‘কালারেবল প্রবিশন’। এটি সরাসরি মাসদার হোসেন মামলার রায়ের চেতনার পরিপন্থী। রায়ে আরো বলা হয়, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সংসদের করা আইনের তফসিল এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেবল একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিল সংশোধন করতে সরকার কেন এবং কিভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলো, তা যুক্তিগ্রাহ্য নয়। কোনো আইন সংশোধনের ক্ষমতা প্রধানত সংসদের। ওই আইনের তফসিল সংশোধনের ১৫ ধারা বলে সংসদ সেই ক্ষমতা সরকারের অনুকূলে দিয়েছে। সংসদ আইনের অধীন বিধিবিধান তৈরির ক্ষমতা সরকার বা অন্য কর্তৃপক্ষের অনুকূলে দিতে পারে। কিন্তু মূল সংবিধি সংশোধনে সংসদের যে প্রধান ক্ষমতা, তা কাউকে দিতে পারে না। আইনের ১৫ ধারাবলে এই আইনের তফসিল সংশোধনের ক্ষমতা হস্তান্তর করে সংসদ নিঃসন্দেহে ক্ষমতা পৃথককরণের ধারণাকে লঙ্ঘন করেছে। ক্ষমতার পৃথককরণ আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। রায় ঘোষণার পর তিন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে এখন সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে আইন নতুন করে আইন করতে হবে। তিনি বলেন, রায়ে একই সঙ্গে রিট আবেদনকারী দুই ব্যক্তিকে মোবাইল কোর্টের দেওয়া সাজা ও জরিমানার আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ ৯০ দিনের মধ্যে আবেদনকারী মজিবুর রহমানকে ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.২৪ শতাংশ : পরিকল্পনামন্ত্রী

এবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.২৪ শতাংশ বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ রোববার সকালে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার প্রবৃদ্ধি ভাল হয়েছে। এটা সরকারের ধারাবাহিকতারর ফল। এনইসি সভা শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে জিডিপিতে বিনিয়োগ হার ৩০ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর মাথাপিছুআয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬০২ ডলার।

ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিল একাংশের ফ্যামিলি ডে ও নতুন কমিটি ঘোষণা

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের (একাংশের) বার্ষিক সাধারণ সভা ও ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ‘রয়েল রিসোর্টে' এ সভা ও ফ্যামেলি ডে অনুষ্ঠিত হয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মো. এনামুল হককে সভাপতি ও আবুল কালাম আজাদকে সাধারণ সম্পাদক করে ডিএসইসির (একাংশ) কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন- সহ-সভাপতি শরীফ তালুকদার (পূর্ব-পশ্চিম.কম), যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল হালদার (ডেসটিনি), কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম সোহেল (শেয়ার বিজ), সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউর রহমান রিজভী (মানবকণ্ঠ), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম এ মান্নান মিয়া (সময় টিভি), দফতর সম্পাদক শামীম আহসান (টাইমটাচনিউজ.কম), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রহমান খান (বাংলা ভয়েস টিভি). প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক আরিফ আবেদিন জিসান (কালের কণ্ঠ) কমিটির কার্যনিবাহী সদস্যরা হলেন- হেমায়েত হোসেন (নিউ নেশন), সিকান্দার ফয়েজ (সংবাদ প্রতিদিন), মোহাম্মদ নাদিম (ইত্তেফাক), নোমান সালমান (অন্যস্বর), মোমেনা আক্তার পপি (আলোকিত সময়), এম এম সালাউদ্দিন (যুগান্তর), আবু ফাত্তাহ (সত্য সমাচার), রোকসানা ইভা (এটিএন বাংলা), মো. আলিফ উল্লাহ খান (বিডি নিউজ), মাসউদ-বিন আব্দুর রাজ্জাক (যুগান্তর) ও ফারহানা আক্তার (বিডি ভয়েস২৪.কম)।

এফবিসিসিআই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ রোববার সকাল ৯টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তা চলবে। এবারের নির্বাচনে সমঝোতার মাধ্যমে চেম্বার গ্রুপ থেকে সরকার-সমর্থক প্যানেলের ১৮ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এবার ৬০ জন পরিচালক পদের মধ্যে শুধু অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৮টি পদের জন্য ভোট হবে। বাকি ৪২টি পদের মধ্যে ২৪ জন পরিচালক মনোনীত হয়েছেন। এই ১৮টি পদের জন্য ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম ও সম্মিলিত গণতান্ত্রিক পরিষদ নামে দুটি পৃথক প্যানেলে ৩৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্মিলিত গণতান্ত্রিক পরিষদের প্যানেলপ্রধান শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। আর ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সমন্বয়কারী কাজী ইফতেখার হোসেন বাবলু। এফবিসিসিআইর অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার নির্বাচনে মোট ভোটার দুই হাজার ৩৪১ জন। এর মধ্যে ৮১টি চেম্বার থেকে ৪৫৪ জনকে ভোটার করা হয়েছে। অন্যদিকে ৩৪০টি অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়েছেন এক হাজার ৮৮৭ জন।

প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা লাদেনপুত্রের

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত বলে হুমকি দিয়েছেন লাদেনপুত্র হামজা। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা আলি সুফান এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার দাবি, দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেকে ‘তৈরি’ করছেন ২৮ বছর বয়সী হামজা। আর যেকোনো সময় তার প্রতিশোধের কোপানলে পড়তে পারে মার্কিনিরা। ৯/১১-এ আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলার পর আল কায়দা নিয়ে তদন্তের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা আলি সুফান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকাকে স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন হামজা। বলেছেন, ‘মার্কিন নাগরিকরা শুনুন, আমরা আসছি। আপনারা বুঝতে পারবেন। ইরাক, আফগানিস্তান আর আমার বাবাকে নিয়ে আপনারা যা করেছেন, তার প্রতিশোধ আমরা নেবই।
স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বদলা নিতে নিজেকে তৈরি করছেন ওসামা-পুত্র!’ তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে অভিযানের পরে লাদেনের আস্তানা থেকে বেশ কিছু ব্যক্তিগত চিঠিপত্র উদ্ধার করেছিল মার্কিন নেভি সিল। সেই চিঠি থেকেই লাদেনের এক ছেলে, হামজার কথা জানতে পেরেছিলেন তারা। লাদেনকে হত্যার সময় তার বয়স ছিল ২২। উদ্ধার হওয়া চিঠি ও অন্যান্য নথি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে এফবিআই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমেরিকা হামজাকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ বলেছে। এর আগে তার বাবাকে একই তকমা দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। সুফানের দাবি, তরুণ হামজা নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। তার বয়স যখন অনেকটাই কম, ছোট্ট সেই কিশোর হামজার মুখ আল কায়দার প্রচার-ভিডিও, পোস্টারে ব্যবহার করা হতো। হামজার হাতে ধরা থাকত বন্দুকও।

ভেনিজুয়েলায় কোর্ট মার্শাল বিক্ষোভকারীদের

ভেনিজুয়েলায় সামরিক আদালতে বিচার করা হচ্ছে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর। বিক্ষোভ চলাকালে গত মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের ওই ভাস্কর্য ভাঙার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী সোল্লাসে ভাস্কর্যটি ভেঙে রাস্তার পার্শ্বে ফেলে দেয় এবং অপর একদল তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গ্র্রেফতার করে তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তবে সাধারণ কোনো আদালতে তাদের বিচার করা হচ্ছে না। সামরিক ট্রাইব্যুনালের অধীনে কোর্ট মার্শাল হচ্ছে তাদের। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ওই সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা করেছে। দেশটির সুপ্রিমকোর্টে মাদুরোর বেশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সমর্থকরা সম্প্রতি জাতীয় পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করে। মাদুরো এখন সামরিক আদালতের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। আর এর অংশ হিসেবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ও অন্য নাগরিকদের সামরিক আদালতের অধীনে বিচার করছেন। ভাস্কর্য ভাংচুরের মামলায় বন্দিদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে পেনাল ফোরাম নামে একটি সংগঠন।
তাদের মতে, গত এপ্রিলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়া থেকে এ পর্যন্ত ১২০ জন বিক্ষোভকারীকে সামরিক আদালতে বিচার করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অবশ্য প্রভো নামে অপর এক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর মতে, এ সংখ্যা ৯০ জন। উভয় গোষ্ঠীই একমত হয়েছে, যুদ্ধের সময় ছাড়া আর কখনোই দেশটি তার নাগরিকদের সামরিক আদালতে বিচার করেনি। দেশটির কারাবোবো রাজ্যের বিরোধীদলীয় কংগ্রেস সদস্য জুয়ার মিগুয়েল ম্যাথিউস বলেন, ‘সামরিক আদালত আমাদের জনগণের মধ্যে একটা বড় ধরনের ভয়ের বীজ বপন করেছে।’ মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, ভাস্কর্য ভাঙার মামলায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছাত্র, দোকান মালিক, মেকানিক এবং কৃষক রয়েছেন। বিক্ষোভে ইন্ধন দেয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে কারাকাসে পুরো একটি পরিবারকে সামরিক আদালতের মুখোমুখি করা হয়। বিক্ষোভে নামল দাদা-দাদিরা : এদিকে দেশটির চলমান বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে এসেছেন দেশটির বৃদ্ধ নাগরিকরা। দেশটির সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভে শুক্রবার রাজধানী কারাকাসে হাজার হাজার বৃদ্ধ বিক্ষোভকারী অংশ নেন। রাজপথে একটি র‌্যালি বের হলে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা এবং একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশ ভিড় সামলাতে মরিচ স্প্রে ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশের বিরুদ্ধে হাত তোলে। কারাকাসের বিশ্ববিদ্যালয় শহর মেরিডা সাধারণত ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের জন্য পরিচিত।

ইরানে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের উত্তপ্ত টিভি বিতর্ক

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের টিভি বিতর্কে প্রার্থীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তার এক প্রতিপক্ষকে ধর্ম ব্যবহার করে নির্বাচনে জেতার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন। এ ছাড়া অন্য প্রতিপক্ষের ওপর তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ তোলেন। পাল্টা রুহানির ওপর ফিরে আসে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে সুবিধা নেয়ার অভিযোগ। খবর বিবিসি ও আল-জাজিরার। আগামী শুক্রবার ইরানের ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ছয়জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরী, তেহরানের মেয়র মোহাম্মাদ বাকের কলিবাফ, ইরানের অভিভাবক পরিষদের সদস্য আগা মিরসালিম, ইমাম রেজার (আ) মাজারের খাদেম সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা হাশেমি তাবা। শনিবার তারা শেষ টিভি বিতর্কে মুখোমুখি হন। ইরানের জাতীয় টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এ বিতর্কের বিষয়বস্তু ছিল অর্থনীতি। চার বছরের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন রুহানি। বিতর্কে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ইব্রাহিম রাইসি ও তেহরানের মেয়র বাকেরকে টার্গেট করে অভিযোগের তীর ছোড়েন। রুহানি বলেন, ‘জনাব রাইসি, আপনি যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই আমাকে অপবাদ দিয়েছেন। কিন্তু অনুগ্রহ করে ক্ষমতার জন্য ধর্মকে অপব্যবহার করবেন না।’
প্রেসিডেন্ট রুহানি তার অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক পুলিশ প্রধান কলিবাফের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশের আক্রমণের অভিযোগ তোলেন। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইরানের পুলিশ প্রধান ছিলেন কলিবাফ। কটাক্ষ করে রুহানি বলেন, আপনি শিক্ষার্থীদের প্রতি চড়াও হতে ভালোবাসেন। এর জবাবে কলিবাফ ২০১৫ সালে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করেন। তিন বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব, মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশটি বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। গত চার বছরে কোনো একটি গাছে ফল জন্মাতে দেখা যায়নি, যেটি ভবিষ্যতে দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে।’ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রাইসি বলেন, গত সরকারের আমলে প্রায় আড়াই লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং গরিবদের জন্য শুধু অর্থ পরিশোধের হারই বেড়েছে। রুহানির বিরুদ্ধে রাইসি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, প্রেসিডেন্ট তার আত্মীয় ও সরকারের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ পণ্য আমদানির অভিযোগ তদন্তে গড়িমসি করছেন। এ ছাড়া রুহানির বিরুদ্ধে পানির দামে সরকারি সম্পত্তি গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। আগামী শুক্রবারের ভোটে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে নির্বাচন দ্বিতীয় পর্ব বা রানঅফ পর্বে গড়াবে। ছয় প্রার্থীর মধ্যে এগিয়ে থাকা দুই প্রার্থী পরের সপ্তাহে রানঅফ ভোটে মুখোমুখি হবেন।

হেফাজতের মামলায় রাব্বির বিরুদ্ধে সমন জারি

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হেফাজতের করা মামলায় রাফিউর রাব্বীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। তাকে ২৫মে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়। রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ৫ মে রফিউর রাব্বিকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেদিন আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে রোববার ১৪ মে শুনানির দিন ধার্য করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সোহেল আলম জানান, আদালতে রোববার দুই পক্ষ ও তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ হাসানের উপস্থিতিতে শুনানি হয়। পরে আদালত ২৫ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে আসামি রফিউর রাব্বীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।’ প্রসঙ্গত ১৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বাদী হয়ে রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা আদালত গ্রহণ করে ৭ মে এর মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে ডিবিকে নির্দেশ দেন। তবে গত ৫ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। ডিবির প্রতিবেদনে রাব্বির বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বি ইসলাম ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে বক্তব্য রেখেছেন। রফিউর রাব্বি বলেন, ‘যদি বাংলার মানুষ জানত সংবিধান বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দিয়ে শুরু হবে, দেশ হবে সাম্প্রদায়িকতার দেশ তবে ৩০ লাখের শহীদের মুক্তিযুদ্ধে কেউ অংশগ্রহণ করতো না।’ মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, রাব্বির সেই বক্তব্যে বাদীসহ সারা দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর ধর্মীয় আঘাত হানার শামিল। তাছাড়া এটা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ে কটূক্তির শামিল।

পানির গর্তে পড়ে ২ শিশুর মৃত্যু

লালমনিরহাটে পানির গর্তে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজন ইউনিয়নের ঠ্যাংঝারা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হল- একই গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল (২) ও শফিকুল ইসলামের মেয়ে মুক্তা (২)। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে একে অপরের খালাতো বোন। স্থানীয়রা জানান, সকালে বাড়ির পাশে খেলা করছিল ওই দুই শিশু। এসময় তার গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে ডুবে যায়। পরে জান্নাতুল ও মুক্তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শহিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আসার আগে শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে। সানিয়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বাড়ির পাশে এক পানিভর্তি গর্তে পড়ে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয় বলে শুনেছি।

ফেসবুক লাইভে চিকিৎসাসেবা

প্রযুক্তির কল্যাণে ফেসবুক লাইভে অনেকে অনেক কিছু করছে। কেউ লাইভে এসে বন্ধুদের সামনে তার বাসার পরিবেশ তুলে ধরে, গান করে, আবার কেউ বা নিছক বিনোদনের উদ্দেশেই কাজটি করে থাকে। এসব ফেসবুক লাইভ বিশালসংখ্যক মানুষের কল্যাণে হয়তো খুব একটা কাজে লাগে না। এদিক থেকে একটু ব্যতিক্রম ডক্টরোলা ডটকমের ফেসবুক লাইভ। প্রতিষ্ঠানটি সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন ফেসবুক লাইভের আয়োজন করে। যেখানে আলোচক হিসেবে থাকেন বিভিন্ন বিভাগের অভিজ্ঞ সব স্বীকৃত ডাক্তার। ফলে মানুষ সহজেই এখান থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাথমিক পরামর্শ পেতে পারে। এই লাইভের প্রতিটি অনুষ্ঠানের আলাদা বিষয় নির্ধারিত থাকে। যেমন- স্ত্রীরোগ, পিঠ ও কোমর ব্যথা, থাইরয়েড ও হরমোন, কিডনি রোগ, শিশু স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ইত্যাদি। এক্ষেত্রে যাদের এসব সমস্যা রয়েছে তারা যদি লাইভ অনুষ্ঠানটি দেখেন, তাহলে তাদের করণীয় কী হবে সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন। এমনকি কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আপনাকে দেখাতে হবে তাও বলা হয়ে থাকে লাইভ অনুষ্ঠানে।
এছাড়া লাইভ চলার সময় থাকে কমেন্টের সুযোগ। আপনি চাইলে লাইভে থাকা ডাক্তারকে কমেন্টের মাধ্যমে প্রশ্ন করতে পারবেন। অনেক সময় এই পরামর্শ থেকেই সেরে উঠতে পারেন আপনি কিংবা সেরে না উঠলেও রোগের এ পর্যায়ে এসে আপনার কী করা উচিত সে সম্পর্কে একটি ভালো পরামর্শ পাবেন। ডক্টরোলা প্রায় ১ বছর ধরে ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে আসছে। ইতিমধ্যে গ্রাহকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে বৃহত্তর মানুষের কল্যাণের জন্য প্রচারিত এ অনুষ্ঠান। তবে এখনও অনেকেই ডক্টরোলা প্রদত্ত এ সুবিধা সম্পর্কে জানেন না। যে কারণে প্রাথমিক পরামর্শের জন্য এদিক-সেদিক ছুটতে হয়। ডক্টরোলা থেকে পরামর্শ পেতে ব্যবহারকারীকে সে রকম কিছুই করতে হয় না। শুধু ফেসবুকে লগ-ইন করে ইংরেজিতে ডক্টরোলা (Doctorola.com) লিখে সার্চ দিন আর দেখুন তাদের লাইভ সম্প্রচার। তবে নিয়মিত সংযোগ রাখতে এবং আপডেট পেতে পেজটিতে লাইক দিয়ে রাখতে হবে।

আমিরাতের সাত রাজকুমারীর বিচার শুরু

গৃহকর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগে বেলজিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাত রাজকুমারীর বিচার শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলাটি আদালতে উঠেছে এবং শুক্রবার সকাল থেকে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি শুরু করেছে। ২০০৮ সালে শেখ হামদা আল নাহিয়ান তার সাত কন্যাকে নিয়ে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বিলাসবহুল হোটেলের একটি ফ্লোরের সব রুম ভাড়া নিয়ে তারা আট মাস অবস্থান করে। খবর বিবিসির। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা লোকলস্করের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি গৃহকর্মী ছিল। এসব গৃহকর্মীকে তারা ক্রীতদাসের মতো করে রেখেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বাদী জানিয়েছেন, এসব গৃহকর্মীকে হোটেল থেকে বের হতে দেয়া হতো না এবং রাজকুমারীদের উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে বাধ্য করা হতো। হোটেল থেকে এক গৃহকর্মী পালিয়ে আসার পর তাদের এ ‘অমানবিক’ কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যায়। এক ভারতীয় খানসামাসহ রাজকুমারীদের অনুপস্থিতিতেই তাদের বিচার চলছে। নিগ্রহের অভিযোগ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া গৃহকর্মীদের নিয়ে আসা এবং কাজের অনুমতিপত্র ও মজুরি ছাড়া কাজ করানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের কয়েক লাখ ইউরো জরিমানাসহ কারাদণ্ডও হতে পারে। তবে অধিকার আন্দোলনকারীরা বলেছেন, কারাদণ্ড ভোগ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজকুমারীদের বেলজিয়ামের কাছে হস্তান্তর করার সম্ভাবনা খুব কম।

উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার একদিন পরেই দূরপাল্লার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুসং থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপন করা হয়। পরে তা শতাধিক মাইল দূরে জাপানের সমুদ্র অঞ্চলে গিয়ে পতিত হয়। খবর বিবিসির। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে দক্ষিণ কোরিয়ান প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনকে চাপে ফেলার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে মুন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ার জন্য শুরু থেকেই নিজ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে আসছেন। চলতি বছর পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম একাধিক ক্ষেপনাস্ত্রের উৎক্ষেপন পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়াকে শায়েস্তা করার ঘোষণা দিয়ে নৌবহর প্রেরণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা সাময়িক প্রশমিত হয়। গত মাসেও দেশটি দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। তবে তার সফল হয়নি বলে দাবি করে অন্যরা। এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরি সভায় এ ঘটনাকে 'উস্কানি' হিসেবে অবহিত করে তার নিন্দা জানান। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট মুন বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পকোর্ন্নয়নে আগ্রহী। এজন্য দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে সকল দরজা খোলা আছে। তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকেও ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করতে হবে।

প্রণবকেই ফের রাষ্ট্রপতি পদে চাইছেন মমতা

ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে ফের প্রণব মুখার্জিকেই দেখতে চাইছেন পশ্চিমবেঙ্গর মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। রাষ্ট্রপতির ভোট নিয়ে তৎপরতার মধ্যে মমতা চাইছেন, বিজেপি প্রার্থী দিলেও প্রণববাবু সব বিরোধী দলের সর্বসম্মত প্রার্থী হন। সে ক্ষেত্রে এনডিএ ভেঙেও অনেক শরিক প্রণববাবুকেই ভোট দেবেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রণববাবু অবশ্য একটি শিবিরের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নন। বৃহস্পতিবার মমতার দলের সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রণবের মত হল, পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি থাকার পরে বিজেপি বনাম বিরোধী জোটের লড়াইয়ে না থাকাই বাঞ্ছনীয়। দিল্লিতে প্রণবের সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা। তিনি মনে করছেন, প্রণবের নাম এলে পাল্টা প্রার্থী দিতেও চাপের মধ্যে পড়ে যাবে বিজেপি। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা লালুপ্রসাদ থেকে শুরু করে এনডিএ শরিক শিবসেনার শীর্ষ নেতারা পর্যন্ত জানিয়েছেন, প্রণবকে তারা সমর্থন করবেন। রাইসিনা হিলে পৌঁছতে অনেক নেতাই চেষ্টা করছেন। জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের সভাপতি শারদ পাওয়ার কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে গিয়ে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সোনিয়া শারদকে প্রার্থী করতে চান না।
রাহুলসহ বিরোধী দলের অনেকে মনে করেন, পাওয়ারের ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন নয়। মমতা মঙ্গলবার সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাষ্ট্রপতির ভোটের রণনীতি ঠিক করতে কেজরিওয়ালও এবার মমতার সঙ্গে দেখা করবেন। তৃণমূল নেত্রী চাইছেন, মোদি-বিরোধী লড়াই তীব্র করতে আপের পক্ষ থেকে কংগ্রেস বিরোধিতা লঘু করা উচিত। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, রাষ্ট্রপতির ভোটকে সামনে রেখে ভারতে বিরোধীদের একজোট করার কাজ এগোচ্ছে। লালুপ্রসাদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরেই জনসভা করছেন পাটনায়। যেখানে মমতা শুধু নন, থাকবেন রাহুল, নিতীশ কুমারও। নিতীশ বিজেপির দিকে এগোচ্ছেন বলেই এতদিন মনে করছিল বিরোধীরা। নিতীশ এখন বুঝছেন, বিজেপির খাতায় নাম না লিখিয়ে দর কষাকষির জায়গা রাখা ভালো। আর সিপিআই-এম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি সোনিয়াকে বলেছেন, বিরোধীদের উচিত লোকসভা ভোটে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা না করে মোদি-বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করা। নিতীশ যাতে বিজেপির দিকে পা না বাড়ান, সে জন্য তাকে ইউপিএ’র আহ্বায়ক করার কথা ভাবা হচ্ছে।

কে হচ্ছেন এফবিআই প্রধান

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) প্রধান জেমস কমিকে বরখাস্তের পর তার স্থলাভিষিক্তের জন্য শনিবার প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরখাস্তকৃত এফবিআই প্রধান কমির স্থলাভিষিক্তের জন্য চারজন সাক্ষাৎকার দেবেন। প্রার্থীরা হলেন- এফবিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অ্যান্ড্র– ম্যাক্যাবে, রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন, নিউইয়র্ক আপিল কোর্টের বিচারক মাইকেল গার্সিয়া এবং সিনিয়র নারী আইনজীবী এলিস ফিশার। তারা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেনস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। কিন্তু মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, তালিকায় ১১ জনের নাম বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এফবিআই প্রধান কমিকে বরখাস্তের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্ত করছিলেন কমি। তদন্ত চলাকালীন হঠাৎ করেই মঙ্গলবার কমিকে এফবিআই প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার বলেন, যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রেসিডেন্ট ওই পদে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেবেন, যার কাছ থেকে প্রত্যাশা পূরণ হবে। ফক্স নিউজ সরকারি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, যতো দ্রুত সম্ভব কমির স্থলাভিষিক্ত করতে কাউকে খোঁজা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে তালিকায় থাকা রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন ছিলেন টেক্সাস রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল। সাবেক এ রিপাবলিকান সদস্য সিনেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিংয়ের সদস্য। কমি প্রধান থাকা অবস্থায় অ্যান্ড্র– ম্যাক্যাবে ছিলেন এফবিআইয়ের উপ-পরিচালক।
অন্য দুই প্রার্থী মাইকেল গার্সিয়া এর আগে নিউইয়র্কের প্রসিকিউটর ছিলেন আর বিচার বিভাগের ফৌজদারি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট আটর্নি জেনারেল ছিলেন ফিশার। বর্তমানে একটি আইন কেন্দ্রে কর্মরত আছেন তিনি। ‘কমির ব্যক্তিগত আনুগত্য চাওয়ার তথ্য সঠিক নয়’ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমির কাছে ব্যক্তিগত আনুগত্য চেয়েছিলেন বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব শন স্পাইসার গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেয়ার পরে হোয়াইট হাউসে এক নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে ট্রাম্প কমির কাছে ব্যক্তিগত আনুগত্য চেয়েছিলেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। খবর বিবিসির। নিউইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওই নৈশভোজে ট্রাম্প ও কমি ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় ট্রাম্প কমির কাছে বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত আনুগত্য প্রকাশের দাবি করেন। কিন্তু এ দাবির মুখে কোনো ধরনের আনুগত্য প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান তিনি। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে সবসময় সৎ থাকার প্রতিশ্রুতি দেন কমি। পরে এ ঘটনা কমি তার দু’জন সহকারীর কাছে বলেন। তাদের বরাত দিয়েই মার্কিন গণমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে। এ ঘটনাকেই নিজের পতনের জন্য দায়ী করেছেন সদ্য বরখাস্ত হওয়া জেমস কমি। শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যম ও কমির এ অভিযোগ অস্বীকার করে শন স্পাইসার বলেন, ‘এ অভিযোগ ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পুরোপুরি ভিত্তিহীন।’ আলোচিত নৈশভোজের ঘটনাবলী নিয়ে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারা হাক্যাবি স্যান্ডার্স বলেন, ‘যে সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে, তাকে আমরা সঠিক মনে করছি না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এজেন্সি ও এর নেতৃত্বে কর্মরতদের স্বকীয়তা রক্ষাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত আনুগত্যের প্রত্যাশাও তিনি করেন না।’ প্রেস ব্রিফিং বন্ধের হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের : এদিকে, আবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে। এফবিআইয়ের প্রধান কমিকে হঠাৎ সরিয়ে দেয়ার সংবাদকে যেভাবে বিশ্বের সামনে এনেছে মার্কিন মিডিয়া তাতেই চটেছেন ট্রাম্প? তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিয়মিত ব্রিফিং বন্ধ করে দেয়া হবে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের রোষের মুখে পড়েছেন সদ্য বরখাস্ত হওয়া এফবিআই প্রধানও। হুমকির সুরে ট্রাম্প বলেন, তাদের মধ্যে হওয়া কথাবার্তা গোপন রাখা এবং মিডিয়ার সামনে তা ফাঁস না করতে বলেছিলাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশের ঘটনাটি সামলাতে অসফল হওয়ায় বরখাস্ত করা হয় কমিকে। তাকে সরানোর পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। নতুন এফবিআই পরিচালক খোঁজার কাজ অবিলম্বে শুরু করা হবে।

তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস উল্টে নিহত ২৪

তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় স্থানীয় ২৪ পর্যটক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। দেশটির মুগলা প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামুদ্রিক পর্যটন এলাকা মারমারিসের কাছে শনিবার পর্যটকবাহী একটি বাস রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে। খবর হুররিয়াত ডেইলি নিউজ ও এএফপির। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলেই ১৭জন নিহত হন। হাসপাতালে ভর্তির পর আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মুগলার প্রদেশের গভর্নর আমির শিয়েক জানান, বাসটি ৪০ জন যাত্রী বহন করছিল। যাত্রীদের বেশিরভাগই নারী। যাদের মধ্যে সবাই স্থানীয় পর্যটক। ওই বাসে বিদেশী কোনো পর্যটক ছিলেন না। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাটি ঘটে একটি পাহাড়ি রাস্তায় এবং ওই সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বেড়া ভেঙে নিচু একটি খাদে গিয়ে পড়ে। বাসটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (ব্রেক) নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি। মারমারিসের মেয়র আলী আকার বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এটি ড্রাইভারের ব্যর্থতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান এ দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি  আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে রাজি উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে উত্তর কোরিয়া। ‘পরিস্থিতি ঠিক থাকলে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার একজন শীর্ষ কূটনীতিক। দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে শনিবার একথা জানিয়েছে বিবিসি। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকাবিষয়ক কর্মকর্তা চোয়ে সন হুই বেইজিংয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে ফেরার পথে চোয়ে বেইজিংয়ে যাত্রা বিরতি করেন। এ সময় সংবাদ সম্মেলনটি হয়। অতীতে ছয় বিশ্বশক্তি ও জাতিসংঘের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু আলোচনায় যুক্ত ছিলেন তিনি। চলতি মাসের প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে ‘সম্মানিত’ বোধ করবেন তিনি।উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণু কর্মসূচি নিয়ে কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেছিলেন।

আকাশে মুখোমুখি রুশ-মার্কিন যুদ্ধবিমান

আবারও মাঝ আকাশে মুখোমুখি হল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বোমারু বিমান। এবার কৃষ্ণসাগরের আকাশে মাত্র ২০ ফুটের মধ্যে অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল দু’দেশের বিমান। মঙ্গলবার মার্কিন বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা বিমান পোসেইডন পি-৮এ এবং রুশ বিমান এসইউ-৩০ এমন বিপজ্জনক অবস্থান নিয়েছিল। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন পামেলা কুনজে। খবর সিএনএনের। রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, একটি মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের গতিপথ রোধ করে দিয়েছে রুশ বোমারু বিমান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়া সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় মার্কিন এই বোমারু বিমানটির গতিপথ রোধ করে রুশ বিমান এসইউ-৩০।
সাধারণত মারাত্মক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এটা করা হয় বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিমানের পাইলটদের দারুণ দক্ষতার জন্যই মাঝ আকাশে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান সামরিক পর্যবেক্ষকরা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিরাপদ দূরত্ব থেকেই রুশ পাইলটরা কৃষ্ণসাগরের আকাশে একটি বস্তু দেখতে পান। প্রথমে ওটা যুদ্ধবিমান বলে বোঝা যায়নি। পরে সেটিকে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান পি-৮এ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। রুশ রাডারে ধরা পড়ার পর রুশ পাইলট মার্কিন পাইলটের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিমানের বিশেষ কসরত দেখান। তখন মার্কিন গোয়েন্দা বিমানটি রুশ সীমান্তের দিকে না গিয়ে ভিন্ন দিকে চলে যায়।

ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে আজব প্রাণী

ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র তীরে বিশালাকার একটি অজ্ঞাত সামুদ্রিক প্রাণীর দেহ ভেসে এসেছে। দেশটির সেরাম দ্বীপের হুলুং সমুদ্র তীরে হঠাৎই বিশাল এক আজব প্রাণীকে দেখে চমকে যান স্থানীয়রা। বুধবার হঠাৎ বিরাট পাথরের মতো কিছু একটা সমুদ্র স্রোতের ওপর দিয়ে মাথা তুলতে দেখেন তারা। যে জায়গায় প্রাণীটি পড়ে ছিল তার আশপাশের পানির রং টকটকে লাল হয়ে গিয়েছিল। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের আসরুল তুয়ানাকোটা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির প্রথম নজরে আসে বিষয়টি। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, কোনো নৌকা বা জাহাজের কনটেইনার ভেসে এসেছে। পরে ভাল করে খেয়াল করে দেখলেন বিষয়টি এমন নয়। তিনি স্থানীয়দের ডেকে বিষয়টা জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাণীটি মারা যায়।
প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রাণীটি বিশালাকার একটি স্কুইড। স্কুইডটি লম্বায় ছিল ২২ মিটার। চওড়ায় ৪ মিটার। ওজন আনুমানিক ৩৫ টন। কোনো কারণে স্কুইডটির শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। ফলে লাল হয়ে যায় সমুদ্রের ওই অংশের পানি। ঠিক কি কারণে স্কুইডটি মারা গেছে তা জানতে স্থানীয় কলেজের গবেষক দল ওই এলাকায় পৌঁছেছে। তবে সেরাম দ্বীপের বাসিন্দারা বিশালাকার এ প্রাণীর মৃতদেহ সরানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। কারণ, এটি গলতে শুরু করেছে এবং তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শোরুমে শুল্ক গোয়েন্দার অভিযান

আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শোরুমে অভিযান চালিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা। রোববার 'ডার্টি মানি'র অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও  তদন্ত অধিদফতরের যুগ্ম-পরিচালক মুহাম্মদ শাফিউর রহমান। তিনি জানান, সকাল থেকে আপন জুয়েলার্স এর গুলশান, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কয়ারের ৫টি স্বর্ণের দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও  তদন্ত অধিদফতরের যুগ্ম-পরিচালক জানান, বনানীতে সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে শাফাত আহমেদের 'ডার্টি মানি'র তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় তথ্যাদি তলব করেছে। আজকের অভিযানে স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের বৈধ উৎস ও পরিশোধেযোগ্য শুল্ক-কর সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হয়। গত পাঁচ বছরে দেশে কোন বৈধ বাণিজ্যিক আমদানি না থাকায় প্রাথমিকভাবে শুল্ক গোয়েন্দার কাছে তাদের স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের ব্যবসায় 'অস্বচ্ছতা' প্রতীয়মান হয়েছে। অভিযানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ভ্যাটের কর্মকর্তারা ও র‌্যাবের ফোর্স রয়েছে।

আত্মসমর্পণকারী সুমাইয়া ১০ দিনের রিমান্ডে

গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানা থেকে আত্মসমর্পণকারী সুমাইয়ার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুমাইয়াকে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে বিচারক সাইফুল ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোদাগাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলতাফ হোসেনকে আলতাফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় গোদাগাড়ী থানার এসআই নাইমুল হক বাদী হয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা এবং বিস্ফোরক মামলা দায়ের করেন। সুমাইয়াসহ আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ জনকে আসামি করা হয়। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ওসি হিফজুর আলম মুন্সি বলেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মী হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা এবং বিস্ফোরক ব্যবহার করায় আত্মসমর্পণকারী সুমাইয়াসহ ১৫ জঙ্গির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিকালে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ হিসেবে নিহত পাঁচ জঙ্গিও মরদেহ নগরীর হেতেমখাঁ গোরস্থানে দাফন করে কোয়ান্টম ফাউন্ডেশন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত থেকে উপজেলার বেনীপুর গ্রামের সাজ্জাদ আলী ওরফে মিষ্টুর (৫০) বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপর ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়। কিন্তু জঙ্গিরা তাতে সাড়া দেয়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তখন বাড়িতে পানি স্প্রে করা শুরু করে। এ সময় জঙ্গিরা বাড়ি থেকে বের হয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এক নারী জঙ্গি প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিনকে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন। শুক্রবার বেনীপুরে জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন সান ডেভিল’ সমাপ্ত ঘোষাণা করে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ জানান, জঙ্গি আস্তানা থেকে একটি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন ও ১১টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী আকতার (৪৫), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৯) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশরাফুল নিহত হয়। আর অভিযানের পর সাজ্জাদের মেয়ে সুমাইয়া পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বাড়ি থেকে সুমাইয়ার দুই শিশু সন্তানকেও উদ্ধার করা হয়।

সরকার শিক্ষার মৌলিক লক্ষ্য পদদলিত করেছে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্র, ভিন্নমত এবং ভিন্নমত প্রকাশের প্রতি মানুষকে শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়া। কিন্তু বর্তমান সরকার শিক্ষার এই মৌলিক লক্ষ্যকে পদদলিত করেছে। বিরোধী মতের লোকজনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আত্মতুষ্টির কারণে পাসের হার বাড়িয়ে দেয়ায় আমাদের শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামী দিনে অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। আমরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ব। শিক্ষাব্যবস্থাকে জনকল্যাণমুখী করার বিষয়ে ‘ভিশন-২০৩০’র কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতে জিডিপির শতকরা ৫ ভাগ ব্যয় করে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ ও অন্যান্য শিক্ষা সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়া হবে। শনিবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে দিনব্যাপী এই সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি, প্রোভিসিহ সিনিয়র শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। বিকালে সমাপনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘শিক্ষার দর্শন’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। এতে সেমিনারে উঠে আসা বিভিন্ন সুপারিশ ও সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান। দলের শিক্ষাবিষয়ক সহ-সম্পাদক হেলেন জেরিন খানও বক্তব্য রাখেন। বিএনপি চেয়ারপারসন সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপকদের শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। খালেদা জিয়া বলেন, সীমিত পরিসরে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা কষ্টকর ব্যাপার। আমি নিজে শিক্ষাবিদ নই, কিন্তু বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে দেখেছি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। এমন পরিবর্তন যা দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষাকে প্রতিফলিত করবে। শিক্ষার সুফল সব মানুষের জীবনে পৌঁছাবে। শিক্ষা হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উন্নত জাতি হিসেবে আমাদের পরিচিতির মাধ্যম। শুধু সীমিত লোকের অর্থ বা বিত্ত দিয়ে এই পরিচিতি অর্জন করতে পারব না। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে একাধিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রত্যেকটি ব্যবস্থার লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন। এই ভিন্নতার সঙ্গে সমাজে বিরাজমান যে শ্রেণী ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আছে তা সম্পর্কিত। উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, সমাজ যেখানে মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য নিজেই অর্থের সংস্থান করে, সমাজের সুবিধাভোগীরা সেখানে ভিন্ন ধরনের শিক্ষার জন্য অর্থ ব্যয় করে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রচলিত সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। কারণ, সব শিক্ষার মধ্যেই ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা আছে। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিএনপির নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, যেভাবে দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে তার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে ভবিষ্যতে আমাদের চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলব যাতে শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের হাতিয়ার হবে না, হবে জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার হাতিয়ার। সবপর্যায়ে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জেন্ডার ও অর্থনৈতিক বাধাগুলো দূর করা হবে। আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে জনগোষ্ঠীর চিন্তার জগতে পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু ডিগ্রিপ্রাপ্তির মোহ থেকে দেশের তরুণদের মুক্ত করতে হবে। সামর্থ্য, মেধা ও কর্মসংস্থানের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও শিক্ষকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, পেশাগত ও কারিগরি শিক্ষা, প্রকৌশল বিদ্যা, চিকিৎসা বিদ্যা, বিজ্ঞান শিক্ষা ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা, শত শত ধরনের ট্রেড ও পেশার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মানবসম্পদকে বিকশিত করতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ট্রেড ও পেশার চাহিদা পূরণের জন্য গুণগতভাবে উন্নত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে সবপর্যায়ে শিক্ষকতার মানও উন্নত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও অধ্যাপকদের সহযোগিতাও গ্রহণ করতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তি ও কারিগরি ইন্সটিটিউটগুলোর ইন্সট্রাক্টর ও ট্রেইনারদের বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও অন্যবিধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ কর্মসূচির বেশির ভাগ মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যয় করতে উৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চিত ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, বিশেষ করে বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত নারী ও পুরুষ যুবকদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার সচেতনভাবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈরাজ্যময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। মেধাহীন জাতিতে পরিণত করতে এবং বিশ্বে যাতে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য শিক্ষাব্যবস্থায় এই নৈরাজ্য। তিনি খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’কে বাংলাদেশের স্বপ্নের রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন।

১৪ দলে ইসলামী ফ্রন্টের যোগ দেয়া নিয়ে আলোচনা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের যোগ দেয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৪ দলের শনিবারের বৈঠকের সময় দলটির প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী তারা উপস্থিত ছিলেন। ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এ প্রসঙ্গে বলেন, দলটির গঠনতন্ত্র, ইশতেহার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জেনে এবং জোটের প্রধান নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের যোগদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার জোটের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৪ দলে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আজ (শনিবার) দলটির নেতারা উপস্থিতও হয়েছিলেন। আমরা তাদের প্রতিনিধিকে বৈঠকে ডেকে এ নিয়ে কথা বলেছি। এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, আরেকাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদৎ হোসেন, পলিট ব্যুরোর সদস্য ডা. শহীদুল্লাহ শিকদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান,
গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির এসকে শিকদার, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, দফদতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার দেয়া ভিশন-২০৩০ এর সমালোচনা করে নাসিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধীদের নিয়ে বিএনপি ‘ইনক্লুসিভ’ রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলাকারীদের নিয়ে ‘ইনক্লুসিভ’ রাজনীতি দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির বক্তব্যের জবাবে নাসিম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় রেল লাইনের ওপর সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দৌড়ানোর বিষয়টি দেশের মানুষ এখনও ভুলে যাননি। এর আগে রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে ১৪ দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতেই জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম শরিকদের জানান, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৪ দলে যোগ দিতে চায়। তারা এ লক্ষ্যে আজ উপস্থিতও হয়েছে। তখন জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদৎ হোসেন, তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এমএ আউয়াল, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক একে শিকদার ও ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ইসলামী ফ্রন্টের জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
প্রগতিশীল জোটটির এ নেতারা বলেন, ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২৩ দফার আলোকে এ জোটের জন্ম। যে দলটি যোগ দিতে এসেছে তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে আমরা জানি না। তাদের সে রকম রাজনৈতিক কার্যক্রমও নেই। এদের গঠনতন্ত্র এবং ইশতেহার সম্পর্কেও শরিকরা জানি না। তাই সেগুলো সম্পর্কে জেনে যোগ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হোক। তখন মোহাম্মদ নাসিম তাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, ইসলামী ফ্রন্টকে এর আগে মহাজোটে নেয়া হয়েছিল এবং এক-এগারোর আগে যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল তখন এ দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদীকে মনোনয়নও দেয়া হয়েছিল। যেহেতু শরিকরা কিছু বিষয় উত্থাপন করেছে সেগুলো দেখেশুনেই এবং জোটনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেই যোগদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর বৈঠকের বাইরে অবস্থান করা ইসলামী ফ্রন্টের নেতাদের ডেকে কথা বলেন ১৪ দলের উপস্থিত নেতারা। একটি সূত্র জানায়, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদৎ হোসেন ওই দলটির যোগদানের প্রশ্নে বলেন, নির্বাচন প্রশ্নে যদি কাউকে যোগ দেয়াতেই হয় সেটা নির্বাচনী জোটে যোগ দেয়ানো হোক। এছাড়া বৈঠকে জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এবং তাদের আরেক নেতা শওকত খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে হবে বলে বক্তব্য দেন। তবে অন্যান্য শরিকরা তা নাকচ করে দেন।
সূত্র জানায়, শিরিন আখতার আরও বলেন, সামনে নির্বাচন, তাই এ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। তখন মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জোটগতভাবেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে বৈঠকের বাইরে অপেক্ষমাণ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী যুগান্তরকে বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে জোটে যোগ দেয়া প্রশ্নে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। তাদের শনিবারের বৈঠক উপলক্ষে আসতে বলা হয়েছিল। তাই তারা উপস্থিত হয়েছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, ১৪ দলের শরিকরা খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন-২০৩০ কে ভাওতাবাজি বলে মন্তব্য করেন। এটা বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল হতে পারে বলে তারা মত ব্যক্ত করেন। তবে ভিশনের দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থা করার ঘোষণাকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার কথা উঠে আসে। কেননা জাসদের সংগঠক এবং রাজনীতি থেকে এক রকম নির্বাসিত সিরাজুল আলম খানের প্রস্তাবের সঙ্গে এর মিল আছে। এর যোগসূত্র আছে কিনা তা খেয়াল রাখার কথা বলেন জোটের শরিকরা।

৭২ বছর পর হাতে এলো ‘প্রেমপত্র’!

ঘটনাটি এ সপ্তাহের। নিউজার্সির ওয়েস্টফিল্ড। বাসার সংস্কারকাজ করছিলেন অ্যালেন কুক ও তার মেয়ে মেলিসা। একপর্যায়ে তারা ছাদের এক ফাঁকে ফাটলের মতো দেখতে পান। সেখানে গোঁজা আছে একটি খাম। আর এ খামের ভেতরেই ‘লুকিয়ে’ ছিল হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার এক কাহিনী! অ্যালেন কুক বলেন, ‘খামটি ছিল অনেক পুরনো আর হলুদ রঙের। দেখে বোঝা যায়, এটা কখনও খোলা হয়নি। আমার জামাই যখন এটা পড়া শুরু করলেন, তখন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। চিঠির প্রেরক তার স্বামীকে অনাগত সন্তানের বিষয়ে লেখেন। এ কাহিনী ১৯৪৫ সালের। এটা নিয়ে হতে পারত গভীর ভালোবাসার সিনেমার কাহিনী।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৪৫ সালের ৪ মে চিঠিটি ভার্জিনিয়া নামে এক নারী তার স্বামী রফ ক্রিস্টোফারসেনকে লেখেন। এটা টাইপ করা। ঘটনার সময় রফ ছিলেন নরওয়ের নৌবাহিনীর নাবিক। খামটির ওপর লেখা, বিলি না হলে প্রেরকের কাছে ফেরত পাঠান। চিঠিটি পেয়ে অ্যালেনের মেয়ে মেলিসা ইন্টারনেটে খুঁজতে থাকেন রফ ক্রিস্টোফারসেন নামের কাউকে। খুঁজতে থাকেন তার ফোন নম্বর। একপর্যায়ে পেয়ে যান। ফোন ধরেন রফের ছেলে। রফের ৬৬ বছর বয়সী ছেলে থাকেন ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তখন অফিসে ছিলাম। কেউ একজন আমাকে ফোন করলেন। তিনি আমার নাম নিয়ে এক রকম গোলক ধাঁধায় পড়লেন। কারণ, আমার বাবার নাম আর আমার নাম একই। মেলিসা আমার কাছে জানতে চাইলেন, আমি কোথায় বড় হয়েছি। আমি তাকে বললাম। এসব শুনে তিনি আমাকে চিঠির বিষয়টি বললেন।
এভাবেই সবকিছু খোলাসা হল।’ মা ভার্জিনিয়া যখন চিঠিটি লেখেন, তখন জন্ম হয়নি তার ছেলে রফ ক্রিস্টোফারসেনের। তা সত্ত্বেও তাকে নিয়ে তার মা যেসব কথা লিখে গেছেন, তা তার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল- বলেন ছেলে রফ। ছয় বছর আগে তার মা মারা গেছেন। ওই চিঠিতে ভার্জিনিয়া লেখেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি রফ, যেমনটি আমি ভালোবাসি সূর্যের উত্তাপ। আমার জীবনে তোমার অর্থ এমনটাই। সূর্যইতো সব কিছুর নেপথ্যে। তার জন্যইতো আমি আবর্তিত হই।’ সবচেয়ে আনন্দের কথা হল, এখনও ভার্জিনিয়ার স্বামী রফ ক্রিস্টোফারসেন বেঁচে আছেন। ছেলে রফ চিঠিটি হাতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তার বাবাকে ফোন করেন। তার বাবার বয়স এখন ৯৬ বছর। তিনি বাস করেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। তাকে ছেলে চিঠি পড়ে শোনান ফোনেই। ৭২ বছর পর স্ত্রীর লেখা প্রেমপত্র পেয়ে তার বুকটা প্রসারিত হয়ে ওঠে। আবেগে কাঁদেন তিনি। চিঠিতে তিনি খুঁজে পান স্ত্রীর উষ্ণ ভালোবাসা। তিনি বলেন, ‘এতটা বছর পরেও আমার জন্য এমন বিস্ময় অপেক্ষা করছিল! চিঠিটি পেয়ে আমি ভীষণ খুশি। চিঠিটি এখনও টিকে আছে, ভাবতেই আমার অবাক লাগে। আসল ভালোবাসা একেই বলে। আমি ভার্জিনিয়ার স্পর্শ পাচ্ছি যেন। আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছি আমি।’ চিঠি খুলে কাঁদেন তাদের সন্তানও। বলেন, ‘এই মা দিবসে মায়ের কথাগুলো আমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, কী অদ্ভুত রকম মানুষ ছিলেন আমার মা। তিনি আমাদের কতটা ভালোবাসতেন! এর সঙ্গে তুলনা হয় না কিছুর!’