Thursday, August 6, 2009

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পুরোনো হাটবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ- সীমান্ত পরিদর্শন যৌথ সমীক্ষক দলের

সীমান্তের বিভিন্ন পুরোনো হাট বা বাজার পুনরায় চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। এসব হাটবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখতে উভয় দেশের একটি যৌথ সমীক্ষক দল সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেঘালয় রাজ্যের বালাত সীমান্ত পরিদর্শন করেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যৌথ সমীক্ষক দল সীমান্তের পুরোনো হাটবাজারগুলো নতুনভাবে চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করে নিজ নিজ সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করবে।
১৯৭১ সালের আগে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছু হাটবাজার চালু ছিল।
জানা গেছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি সীমান্ত হাট পুনরায় চালু করার ব্যাপারে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর এতে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ এখন প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে মেঘালয় সীমান্তের তিনটি হাট চালুর ব্যাপারে সম্মত হতে পারে বাংলাদেশ। হাট তিনটি হচ্ছে লিংঘাট, কানাইরচর ও গোমাঘাট।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে নিযুক্ত বাণিজ্যিক সচিব মো. ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে জানান, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের শুল্ক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার খায়েরুজ্জামান মজুমদার। ওমর ফারুক নিজেও এই কমিটির সদস্য। অন্যদিকে ভারতীয় তিন সদসস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বাবনিলাল।
ওমর ফারুক বলেন, এসব হাটবাজার পুনরায় চালু হলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। এতে করে উভয় দেশের পণ্যবিনিময় আরও সহজ হবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে।
প্রসঙ্গত, সাধারণত এসব হাট বসে সীমান্ত এলাকার জিরো পয়েন্টে।

গ্যাসের দাম আগের অবস্থায় রাখার দাবি জানাল বিটিএমএ

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গ্যাসের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিটিএমএ ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের (উদ্যোক্তাদের নিজস্ব উদ্যোগে স্থাপিত ছোট বিদ্যুকেন্দ্র) ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা আগের অবস্থায় রাখার দাবি জানিয়েছে।
বিটিএমএ মনে করে, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন সরকার গ্যাসের সার্বক্ষণিক ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য বিষয়াদি অপরিবর্তিত রাখতে পারবে।
গতকাল মঙ্গলবার বিটিএমএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বিটিএমএ বলেছে, চলমান মন্দা ও গ্যাসসংকটের কারণে টেক্সটাইল মিলগুলো সর্বোচ্চ উত্পাদন ক্ষমতা ব্যবহার করতে না পারায় ক্রমাগত লোকসান দিচ্ছে। এতে মিলগুলোর আর্থিক অবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে এবং কোনো ক্রমেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না। এ অবস্থায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত হয়েছে, তা বিবেচনার দাবি রাখে।
বিটিএমএ জানায়, তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দুই হাজার ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উত্পাদন করছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃক শিল্পখাতে সরবরাহ করা গ্যাসের সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশই ব্যবহার করে এসব মিল। এই অবস্থায় ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ৪০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

নতুন গ্যাসসংযোগ না পেলে দেড় বছর বিনিয়োগ হবে না- বিজিএমইএর আলোচনা সভায় আনিসুল হক

সরকার নতুন কোনো কারখানায় গ্যাসের সংযোগ দেবে না বলে সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সরকারি এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দেড় বছর দেশে নতুন বিনিয়োগ হবে না। শিল্পের মৌলিক এই অবকাঠামোর অভাবে বিদেশি বিনিয়োগও (এফডিআই) আসবে না।
এসবের সম্মিলিত প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছয় শতাংশ অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি আনিসুল হক গতকাল মঙ্গলবার এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আনিসুল হক আরও বলেন, বিশ্বমন্দার সময় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশ করতে হলে সরকারকে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা ছাড়াও রাজস্ব নীতি-সহায়তা ও শিল্প-কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী। আলোচনায় অংশ নেন সাংসদ টিপু মুনশি, জহিরুল হক, শাহরিয়ার আলম ও গোলাম মওলা; এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, বিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, কাজী মনিরুজ্জামান, এস এম ফজলুল হক, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ।
সাংসদ শাহরিয়ার আলম বলেন, বিশ্বমন্দার কারণে তৈরি পোশাকের রপ্তানিমূল্য ব্যাপকভাবে কমেছে। এ অবস্থায় এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের সার্বিক বিষয় দেখভাল করার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। এ ছাড়া পোশাকশিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করেন।
বিজিএমইএর সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বিশ্বমন্দায় কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে মূল্য ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ কমেছে। গত জুন মাসে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে কেবল গত মাসে ২০-২৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।
সালাম মুর্শেদী বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করা, একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীর দৃষ্টান্তমূলক সাজা না হওয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় তৈরি পোশাক কারখানা ভাঙচুর করা একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তৈরি পোশাক মালিকেরা বলেন, যেসব কারখানায় শ্রমিক সংগঠন করতে দেওয়া হয়েছে, মালিকেরা দু-তিন বছরের মধ্যে ওই সব কারখানা লোকসান দিয়ে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁরা তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক সংগঠনের বিরোধিতা করেন।

সুদানে জাতিগত দাঙ্গায় ১৮৫ জন নিহত

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিগত দাঙ্গায় অন্তত ১৮৫ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নিহত মানুষদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
ক্ষুধাপীড়িত লাউ নুয়ের সম্প্রদায়ের একদল মানুষ গত রোববার সকালে আকোবো শহরের দক্ষিণে মাছ ধরতে গেলে যুদ্ধবাজ মারলে সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে লাউ নুয়ের সম্প্রদায়ের লোকজনই বেশি। নিহতদের মধ্যে সাতজন সেনাসদস্যও রয়েছেন। লাউ নুয়েরদের নিরাপত্তা দেওয়ার কাজে ওই সেনারা নিয়োজিত ছিলেন।
আকোবোর কমিশনার গোই জুয়ুল জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে অন্তত ১৮৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাউথ সুদান আর্মির ১২ জন সেনাসদস্য রয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ঝোপ-ঝাড়ে আরও মৃতদেহ পড়ে থাকতে পারে। তাই মৃতের সংখ্যা কত হবে, এ ব্যাপারে অনুমান করা দুষ্কর। তিনি আরও বলেন, সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়।
রাজ্য গভর্নর কাউল ম্যানিয়াং বলেন, কিছু লোক প্রাণ নিয়ে আকোবো শহরে ফিরে এসেছে। তবে তাদের বেশির ভাগই আহত। তিনি এও বলেন, লাউ নুয়ের সম্প্রদায়ের লোকজন ভয়াবহ খাদ্যসংকটের শিকার। ক্ষুধাপীড়িত লোকগুলো তাই মাছ ধরতে গিয়েছিল। ওই এলাকায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট মোকাবিলা করতে তিনি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতা চেয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ বছর এই ধরনের জাতিগত দাঙ্গায় যত লোক নিহত হয়েছে, তার সংখ্যা দারফুরে সংঘাতে নিহতের চেয়েও বেশি।

কাবুলে তালেবান জঙ্গিদের রকেট হামলা, আহত ২

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গতকাল মঙ্গলবার আটটি রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি রকেট গিয়ে পড়েছে মার্কিন দূতাবাসের কাছে। হামলায় একটি শিশুসহ দুজন আহত হয়েছে। তালেবান এ হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে। খবর এএফপি ও বিবিসির।
আফগান কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গিরা শহরের বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে আটটি রকেট হামলা চালিয়েছে। এর একটি মার্কিন দূতাবাসের সামনে গিয়ে পড়ে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। এ ছাড়া কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয়। একটি রকেট অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেটি পরে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, তাঁর দলের জঙ্গিরা শহরে নয়টি রকেট হামলা চালিয়েছে।
কাবুল পুলিশের উপপ্রধান খলিল দাস্তার বলেন, জঙ্গিরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রাজধানীতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। আফগান সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর গোলাম রসুল বলেন, জঙ্গিরা হামলায় দূরপাল্লার রকেট ব্যবহার করেছে। তারা কয়েক মাইল দূর থেকে এ হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০ আগস্ট আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছে জার্মান শিশুরাও

পথে বেরোলেই চোখে পড়বে অসংখ্য পথশিশু নগ্ন দেহে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভিক্ষা করছে, আবর্জনা ঘাঁটছে। কেউ করছে কুলির কাজ। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে গরিব শিশুদের এ চিত্র খুবই সাধারণ। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্বের কোনো দেশে এই চিত্র ভাবা যায়? হালে শিল্পোন্নত দেশেও শিশু-দারিদ্র্য একটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে উঠেছে। জার্মানির মতো উন্নত বিশ্বের অনেক দেশও এখন এই সমস্যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
জার্মানিতে অবশ্য তৃতীয় বিশ্বের দেশের মতো রাস্তায় কোনো শিশু না খেয়ে আছে বা পরনের কাপড় নেই, ঠাণ্ডায় কষ্ট পাচ্ছে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে না। তবে সে দেশে শিশু-দারিদ্র্য সম্পর্কে জানতে রাস্তায় নয়, যেতে হবে শহরের বাসিন্দাদের বাড়িতে, তাদের ঘরে।
থিল পরিবার এমনই একটি দরিদ্র পরিবার। রাজধানী বার্লিনের শহরতলিতে পরিবারটির বাস। ১২ বছর বয়সের জেসমিন থিল আর তার যমজ ভাই ফ্লোরিয়ানকে দেখে বোঝার উপায় নেই তারা গরিব। তাদের ডিভিডি প্লেয়ার রয়েছে, আছে রঙিন টেলিভিশনও। জেসমিন মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে। কিন্তু জার্মানির কয়েক লাখ গরিব শিশুর মধ্যে তারাও দুজন। বার্লিনের এসব দরিদ্র পরিবারের যা কিছু সম্পদ রয়েছে, তা আসলে স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলোর দান করা। পরনের কাপড় থেকে শুরু করে বাড়ির আসবাবপত্র সব কিছুরই ওই সব দাতব্য সংগঠন ব্যবস্থা করে থাকে।
জেসমিন ও ফ্লোরিয়ানের মা আন্দ্রেয়া থিল। এ মুহূর্তে তাঁর কোনো জীবনসঙ্গী নেই, নেই চাকরিও। স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠনগুলোর দেওয়া অর্থে তাঁকে সংসার চালাতে হয়। ওই সব ‘ওয়েলফেয়ার চেক’-এ যে অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়, তা দিয়ে আন্দ্রেয়াকে বাসার গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়ার খরচও মেটাতে হয়।
আন্দ্রেয়া বলেন, ‘বাসার ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার পর পুরো মাস চলার জন্য মাত্র ২০০ ইউরো অবশিষ্ট থাকে। এটা দিয়েই খাবার, বাচ্চাদের স্কুলের খরচসহ মাসের সব খরচ মেটাতে হয়।’
দুপুরের খাবার খেতে জেসমিন ও ফ্লোরিয়ান স্থানীয় একটি ‘স্যুপ কিচেন’ (লঙ্গরখানা)-এ যায়। ওই স্যুপ কিচেনটিও পরিচালনা করে ডি আর্ক নামের একটি শিশু সাহায্য কেন্দ্র। জার্মানিতে এ ধরনের খাবার ঘরের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে গরির শিশুদের রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তি করা থেকে বিরত রাখা হয়।
ডি আর্কে আন-ম্যারি (৯) নামের এক মেয়েশিশুকে দেখা গেল ব্যবহূত পোশাকের একটি ঝুড়ি ঘাঁটাঘাঁটি করছে। পায়ের জুতো জোড়া দেখিয়ে সে জানাল, এটা এখান থেকেই সংগ্রহ করেছে সে। এ ছাড়া কিছু পায়জামা ও গরম পোশাকও নিয়েছে।
বর্তমানে জার্মানিতে প্রতি ছয়টি শিশুর একটি এই ‘আপেক্ষিক দারিদ্র্যে’র মধ্যে বাস করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যেসব পরিবারের মাসিক আয় জাতীয় গড় মাসিক আয়ের ৬০ শতাংশের নিচে, সেসব পরিবারকে দরিদ্র পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জার্মানিতে এই শিশু-দারিদ্র্যের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বামী ছাড়া মায়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি, উচ্চ জন্মহার এবং কিছু সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড। অবশ্য সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দা এ জন্য তেমন দায়ী না হলেও এর কারণে দরিদ্র শিশুর সংখ্যা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। কারণ অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জার্মানির অর্থনীতি চলতি বছর ছয় শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদেরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।
দরিদ্র শিশুদের নিয়ে কাজ করে ‘জার্মান সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব চিলড্রেন’। সংগঠনটি শিশুদের দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের কর্মকর্তাদের ধারণা, মন্দার পুরো প্রভাব অর্থনীতিতে পড়লে দারিদ্র্য অনেক বেশি মাত্রায় বেড়ে যাবে।
দাতব্য সংস্থা ডয়েচেস কিন্ডারহিলফজোয়ের্কের কর্মকর্তা মাইকেল ক্রুজ বলেন, ‘আমাদের এখানে ব্যাংকগুলোতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে রাজনীতিকেরা দ্রুত একসঙ্গে বসে সমাধান বের করে ফেলেন। কিন্তু যখন আমরা তাঁদের জানাই, ৩০ লাখ জার্মান শিশুর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাদের হাতে টাকা-পয়সা নেই, তখন ওই রাজনীতিকেরাই এ ব্যাপারে উদাসীনতা দেখান। আমার ধারণা, সমাজের সমস্যাগুলোকে সঠিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন না তাঁরা।’
শুধু জার্মানি নয়, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতেও শিশু-দারিদ্র্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা স্বীকার করেছেন, ২০১০ সালের মধ্যে সে দেশে গরিব শিশুদের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কষ্টসাধ্য হবে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরিব শিশুর আবাসস্থল যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে এ বছর আরও ৩০ লাখ শিশু দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসবে।

জিজিয়া কর আদায় করছে তালেবান!

অমন দীপ সিং। একজন শিখ পাকিস্তানি নাগরিক। পরিবারের নয়জন সদস্য নিয়ে পেশোয়ারের তিরাহ উপত্যকায় ভালোই দিন কাটাচ্ছিলেন। সংখ্যালঘু হলেও এত দিন খুব একটা সমস্যা হয়নি।
কিন্তু ২০০১ সালের পরই চিত্র পাল্টে যায়। মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানে হামলা চালানোর পর তালেবান ও আল-কায়েদার আদর্শে বিশ্বাসীরা সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানে পাড়ি জমায়। তারা পাকিস্তানে, বিশেষ করে আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতি এলাকায় তাদের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটায়। তারা নিজেদের আদর্শে অন্যকে চলতে শক্তি প্রয়োগ করে। তাদের দাপট, অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্থানীয় লোকজন বাপ-দাদার ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। অমন দীপও তাঁদের একজন। জীবিকার তাগিদে এসে আশ্রয় নেন পেশোয়ার শহরে। কিন্তু এখানেও সেই আতঙ্ক। অমন সিংয়ের ভাষায়, ‘আমরা সব সময়ই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। জঙ্গিদের ভয়, লস্কর-ই-ইসলামের ভয়, অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভয়।’
অমন সিং বলছিলেন, ‘আমি একাই নই, প্রায় চার শ শিখ ও ৫৭টি হিন্দু পরিবার পাকিস্তানের বারা ও তিরাহ উপত্যকা ছেড়ে চলে এসেছে।’ পেশোয়ারের দাবগারি বাজারের কাছে শিখ মন্দির জোগা সিং গুরুদুয়ারা। গুরুদুয়ারার বাইরে একটি ভাঙা চেয়ারে বসে অমন সিং স্মৃতিচারণা করছিলেন। তালেবান জঙ্গিরা তাদের এলাকায় গিয়ে শিখ ও হিন্দুদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলে, ‘হয় পূর্বপুরুষদের ভিটামাটি ছাড়ো, নাহয় নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ইসলামি কর (জিজিয়া কর) দাও।’ পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম হলো শিখ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী এ দুই সম্প্রদায়ের লোকজনকে তালেবান ও অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ২০০১ সাল থেকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।
সীমান্তবর্তী ওরাকজাই অঞ্চলে তালেবানরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ শিখদের কাছ থেকে কর আদায় করছে। তারা জোরপূর্বক শিখদের মালিকানাধীন দোকান ও বাড়ি দখল করে নিচ্ছে। একই তাণ্ডব চলছে উপজাতীয় এলাকা খাইবার অঞ্চলেও। ইসলামি চরমপন্থী গ্রুপ লস্কর-ই-ইসলামের প্রধান মঙ্গল বাঘ ঘোষণা করেছেন, জিজিয়া কর দেওয়ার শর্তে শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যেকোনো স্থানে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবে। অমন সিং বলেন, ‘ওরাকজাই ও খাইবার অঞ্চলে জঙ্গিরা সংখ্যালঘুদের হয় ইসলামে দীক্ষিত হতে, নাহয় এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। তারা সেখানে একটি পাল্টা সরকার পরিচালনা করছে। শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ওরাকজাই, বারা ও তিরাহ উপত্যকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই আমরা সেখান থেকে চলে এসেছি। অন্তত এখানে (পেশোয়ারে) একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছি।’
৩৮ বছরের মুসলিম তরুণ গুলাব খান আফ্রিদি বলেন, ‘এসব অঞ্চলে মুসলিম-অমুসলিম কোনো নারীই তাঁদের পুরুষ আত্মীয় ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারেন না। সব বয়সের নারীদের বোরকা পড়তে হয়। পুরুষদের লম্বা দাড়ি রাখা ও মাথায় টুপি পরা বাধ্যতামূলক; অন্যথায় লস্কর-ই-ইসলাম মারপিট করে অথবা দুই শ থেকে পাঁচ শ রুপি পর্যন্ত জরিমানা করে।
পেশোয়ারের জেলা পরিষদের শিখ নেতা সরদার সাহিব সিং বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায় তো ভালোই আছে, কর দিয়েই বেঁচে যাই। কিন্তু মুলমানদের তো আরও বিপদ! তাদের তো লস্কর-ই-ইসলামের আস্তানা পাহারা দিতে হয়।’

মুম্বাইয়ে বোমা হামলায় অভিযুক্ত তিনজনের দণ্ডাদেশ স্থগিত

ভারতের একটি আদালত মুম্বাইয়ে বোমা হামলায় অভিযুক্ত তিনজনের দণ্ডাদেশ গতকাল মঙ্গলবার স্থগিত করেছেন। ২০০৩ সালে গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া মনুমেন্ট এবং জাভেরি বাজারের জুয়েলারি কোয়ার্টারে ওই বোমা হামলায় ৫২ জন নিহত হয়। সরকারি আইনজীবীরা অভিযুক্ত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। খবর এএফপির।
সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ আদালতের বিচারক এম আর পুরানিক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিচারের রায় স্থগিত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন হানিফ সাইয়িদ, তাঁর স্ত্রী ফাহমিদা ও সহযোগী আসরাত আনসারি।
গত সপ্তাহে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা করে ৫২ জনকে হত্যা ও বেশ কয়েকজনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আদালতে বলা হয়, ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার প্রতিশোধ নিতেই অভিযুক্ত তিনজন ওই বোমা হামলা চালান। তাঁদের ‘গুজরাট মুসলিম রিভেঞ্জ ফোর্স’-এর সদস্য বলে দাবি করা হয়। সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকাম দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য।

সুদানে জাতিগত দাঙ্গায় ১৮৫ জন নিহত

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিগত দাঙ্গায় অন্তত ১৮৫ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নিহত মানুষদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
ক্ষুধাপীড়িত লাউ নুয়ের সম্প্রদায়ের একদল মানুষ গত রোববার সকালে আকোবো শহরের দক্ষিণে মাছ ধরতে গেলে যুদ্ধবাজ মারলে সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে লাউ নুয়ের সম্প্রদায়ের লোকজনই বেশি। নিহতদের মধ্যে সাতজন সেনাসদস্যও রয়েছেন। লাউ নুয়েরদের নিরাপত্তা দেওয়ার কাজে ওই সেনারা নিয়োজিত ছিলেন।
আকোবোর কমিশনার গোই জুয়ুল জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে অন্তত ১৮৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাউথ সুদান আর্মির ১২ জন সেনাসদস্য রয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ঝোপ-ঝাড়ে আরও মৃতদেহ পড়ে থাকতে পারে। তাই মৃতের সংখ্যা কত হবে, এ ব্যাপারে অনুমান করা দুষ্কর। তিনি আরও বলেন, সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়।
রাজ্য গভর্নর কাউল ম্যানিয়াং বলেন, কিছু লোক প্রাণ নিয়ে আকোবো শহরে ফিরে এসেছে। তবে তাদের বেশির ভাগই আহত। তিনি এও বলেন, লাউ নুয়ের সম্প্রদায়ের লোকজন ভয়াবহ খাদ্যসংকটের শিকার। ক্ষুধাপীড়িত লোকগুলো তাই মাছ ধরতে গিয়েছিল। ওই এলাকায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট মোকাবিলা করতে তিনি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতা চেয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ বছর এই ধরনের জাতিগত দাঙ্গায় যত লোক নিহত হয়েছে, তার সংখ্যা দারফুরে সংঘাতে নিহতের চেয়েও বেশি।

কানাডায় দাবানলের ভয়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে দাবানলের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ। গত সোমবার কর্তৃপক্ষ ওই এলাকা ছাড়তে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। বনাঞ্চলগুলোতে স্ফুলিঙ্গ নিয়ন্ত্রণে হাজার হাজার কর্মী কাজ করছেন। খবর এএফপির।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পশ্চিম ও দক্ষিণের এলাকাগুলো থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত পাঁচ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। ওই এলাকায় দাবানলের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রাদেশিক তথ্য কর্মকর্তা অ্যালাইসন কোউচ বলেন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ৬৩ হাজার হেক্টর বনাঞ্চলে এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার ২০০ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা এযাবত্কালের রেকর্ড ২০০৪ সালের আগস্টের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। তিনি আরও বলেন, গত সোমবার কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ওকানাগানে তিনটি বাড়ি পুড়ে গেছে। স্ফুলিঙ্গ ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে হাজার হাজার কর্মী কাজ করছেন। হেলিকপ্টার থেকে অগ্নিনিরোধক পদার্থ ফেলা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সেনাঘাঁটিতে বোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাত্, চারজন গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ সে দেশের একটি সেনাঘাঁটিতে আত্মঘাতী বোমা হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করে দিয়েছে। ওই হামলা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক মুখপাত্র এ তথ্য দিয়েছেন। খবর এএফপির।
পুলিশের চার শতাধিক সদস্যের একটি দল মেলবোর্ন শহরে গতকাল ভোরে অভিযান চালিয়ে ওই চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলো লেবানন ও সোমালি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলে সেটিই হতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা।

ভারতে সোয়াইন ফ্লুতে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

ভারতে সোয়াইন ফ্লুতে (এইচ১এন১) আক্রান্ত হয়ে প্রথমবারের মতো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুনায় এ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। খবর এএফপির।
গত সোমবার ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুনায় সেন্ট অ্যান স্কুলের নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী ২১ জুলাই সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়। তাকে সরকারের নির্ধারিত সোয়াইন ফ্লু ওয়ার্ডে না নিয়ে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে সে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত। পরীক্ষায় দেরি হওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোলাম নবী আজাদ বলেন, শুরুতে শনাক্ত করা গেলে তাকে বাঁচানো যেত। মৃদু লক্ষণ দেখলেই তিনি জনগণকে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে সোয়াইন ফ্লু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
২১ জুলাই আক্রান্ত হলেও ২৩ জুলাই পর্যন্ত স্কুলে গিয়েছিল ওই ছাত্রী। এতে তার সংস্পর্শে আসা কেউ কেউ এ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষক লেমেট উইলসন জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ এ ব্যাপারে তাদের কিছু জানায়নি।

দলের নীতিমালায় বহাল থাকছে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম’

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ দলের প্রতিনিধি সম্মেলন শুরু হয়েছে। গত ২০ বছরের মধ্যে দলটির এটা প্রথম সম্মেলন। অভ্যন্তরীণ দ্বিধাবিভক্তি রোধ এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নিজেদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার তিন দিনের এ সম্মেলন শুরু হয়। ফিলিস্তিনের মাটিতে ফাতাহর এটাই প্রথম সম্মেলন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্রতত্ত্ব মেনে নিলেও দলটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম’-এর মূলনীতি বহাল রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিন দিনের এ প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পশ্চিম তীরের বেথেলহেম শহরে। ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ১৯৫০ সালে ফাতাহ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো দলটির প্রতিনিধি সম্মেলন হচ্ছে।
সম্মেলনে দলের জন্য নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতৃত্বে রদবদল করা হবে। সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন এক হাজার ৯০০ প্রতিনিধি। তাঁরা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিপ্লবী পরিষদ নবায়ন করবেন। দলের মূল গভর্নিং বডি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছে। দলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের নেতারা অগ্রাধিকার পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফাতাহ কর্মকর্তারা জানান, নতুন কর্মসূচির খসড়ায় ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ ও পশ্চিম তীরে বেড়া নির্মাণের বিরুদ্ধে অসহযোগের মতো আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথা রয়েছে। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামের পথও খোলা রাখা হয়েছে ওই খসড়ায়।
২০০৬ সালে আইনসভার নির্বাচনে ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হামাসের কাছে বিস্ময়করভাবে হেরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর একক কর্তৃত্ব ছিল ফাতাহর। ২০০৭ সালে ফাতাহকে গাজা থেকে উচ্ছেদ করে হামাস।
গত কয়েক বছরে ইসরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার অঙ্গীকার থেকে সরে আসে ফাতাহ। তবে শান্তি প্রচেষ্টা থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ফলাফল বেরিয়ে না আসায় আস্থার সংকটে পড়ে দলটি।
সম্মেলনে ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আবারও অস্বীকৃতি জানাবে ফাতাহ। জেরুজালেম ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণ বন্ধ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করতেও অস্বীকৃতি জানাবে দলটি।
সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণ দেন ফাতাহ প্রধান মাহমুদ আব্বাস। তিনিই যে দলটির নেতৃত্বে থাকছেন সেটা নিশ্চিত।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলটিকে বেশ দুর্বল করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে। ফাতাহর মহাসচিব ফারুক কাদ্দুমি জনসম্মুখে মাহমুদ আব্বাসের সমালোচনা করেন। পশ্চিম তীরে প্রতিনিধি পরিষদের সম্মেলন আয়োজনেরও বিরোধিতা করেন তিনি।
সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ফাতাহর প্রায় ৪০০ জন প্রতিনিধিকে গাজা থেকে পশ্চিম তীরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি হামাস। অন্যদিকে বিদেশে অবস্থানরত ফাতাহর প্রায় ৫০০ প্রতিনিধিকে সম্মেলনে যোগ দিতে অনুমতি দেওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে ইসরায়েল।

নেপালে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিল মাওবাদীরা

নেপালে মাওবাদীরা মাধবকুমার নেপালের সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে। অন্যথায় তারা সারা দেশে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে সরকারকে হুমকি দিয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মাধবকুমার গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।
মাওবাদী দলের মুখপাত্র দীননাথ শর্মা বলেছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরাইয়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তাঁদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হবে।
মাওবাদী দল তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যৌথভাবে আন্দোলনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা এরই মধ্যে মাধবকুমার নেপালের কোয়ালিশন সরকারের পতন এবং মাওবাদী নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে সেনাপ্রধান-সংক্রান্ত বিরোধে মাওবাদী প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকুমার দহল ওরফে প্রচণ্ড পদত্যাগ করলে ২৩টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে কোয়ালিশন সরকার ক্ষমতায় আসে।

পাকিস্তান দলে আবারও বাজির থাবা

এ কী বোমা ফাটালেন আবদুল কাদির! পাকিস্তানের ক্রিকেটে আবার ভর করেছে ম্যাচ পাতানোর ভূত? সাবেক এই লেগ স্পিনার ও প্রধান নির্বাচকের ঘোর সন্দেহ, শ্রীলঙ্কা সফরে পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত। ০-২ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের পর প্রথম তিন ম্যাচেই ওয়ানডে সিরিজের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়াটাকে শ্রীলঙ্কার মাটিতে পাকিস্তানের খুবই বাজে পারফরম্যান্স উল্লেখ করে কাদির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্য বের করে আনার দাবি জানিয়েছেন।
ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের কিছু ক্রিকেটারের আচরণ ‘অদ্ভুত’ ঠেকছে কাদিরের কাছে। পাকিস্তানের একটি দৈনিককে তিনি বলেছেন, ‘যে দলটা মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল, তারাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সব ম্যাচে হারবে, এত বাজে খেলবে—এটা আমি মানতে পারছি না। শ্রীলঙ্কায় আমাদের সবচেয়ে বাজে সফরগুলোর মধ্যে পড়বে এটা।’ কাদিরের ধারণা কিছু ক্রিকেটার ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত বলেই এই ব্যর্থতা, ‘সিরিজটা দেখে আমার সন্দেহ হচ্ছে, কিছু খেলোয়াড় হয়তো ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকতে পারে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলেই সবকিছু স্ফটিকের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, কাদিরও মানেন। কিন্তু মাত্র কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ জেতা একটা দল এভাবে ম্যাচের পর ম্যাচ হারতে থাকবে, এটা মানতে পারছেন না সাবেক এই লেগি, ‘বিস্ময়করভাবে আমরা সব ম্যাচ হেরে যাচ্ছি। বোলিং যখন ভালো হয়, ব্যাটসম্যানরা পারফর্ম করতে পারে না। আবার যখন ব্যাটসম্যানরা পারফর্ম করে তখন বোলাররা ভালো খেলে না। কোথাও না কোথাও সমস্যা আছেই।’
সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটকিপার রশিদ লতিফ অবশ্য কাদিরের মতো কোনো অভিযোগ তুলছেন না। তবে তিনি মনে করেন, কলম্বোর টিম হোটেলে সন্দেহভাজন এক ভারতীয়র উপস্থিতির ঘটনা ফাঁস করে দেওয়াটা ঠিক হয়নি, ‘এ রকম কিছু ঘটে থাকলেও সেটা টেস্ট সিরিজে হারের পর মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করতে হবে কেন? এর কোনো অর্থই হয় না। টিম ম্যানেজমেন্ট আর বোর্ডের উচিৎ ছিল বিষয়টি নিয়ে গোপনে কাজ করা এবং ক্রিকেটারদের খেলায় মনোযোগী রাখা।’ এর আগে পাকিস্তানের একটি উর্দু দৈনিকে টেস্ট সিরিজ চলার সময় টিম হোটেলে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সন্দেহজনক কিছু লোকের ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার খবর বেরিয়েছিল।
ওদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) থেকে জানানো হয়েছে, আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তাবিষয়ক ইউনিট কলম্বোয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। পিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার সেলিম আলতাফ বলেছেন, ‘দুর্নীতি দমন ইউনিট সঠিক পথই অনুসরণ করছে। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সেটা খুব ভালোভাবে তদন্ত করবে তারা। আমাদের মনে হয় না খুব দ্রুতই তারা এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারবে।’ পিসিবি থেকে তদন্তকাজে সাহায্য করার জন্যও বলা হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

বিসিসিআইর স্ব-আরোপিত ডোপ পরীক্ষা

ওয়াডার (আন্তর্জাতিক ডোপিংবিরোধী সংস্থা) প্রয়োজন নেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই)। আইসিসিকেও ওয়াডা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়ার এক দিন পরই এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ঘোষণা দিল, তারা নিজেদের আয়োজনেই খেলোয়াড়দের ডোপ পরীক্ষা করবে। ওয়াডার চেয়ে তাদের এই ডোপিং নীতিমালা অধিকতর ক্রিকেট-ঘনিষ্ঠ হবে বলেই বিশ্বাস বিসিসিআইর। মূলত ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আনা হবে এই ডোপিং নীতিমালার আওতায়।
আগামী বছর থেকে বিসিসিআই তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোকে ডোপ পরীক্ষার বিশদ বৃত্তান্ত বুঝিয়ে বলবে। বিসিসিআইর মতে, ওয়াডা নীতিমালার ভাষা খুবই দুরূহ। দুই মাস সময় ব্যয় হবে ডোপ পরীক্ষা কী—এটি খেলোয়াড়দের ভালো করে বোঝাতে। এর পর থেকে শুরু হবে দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে ডোপ পরীক্ষা।
এদিকে শেষ সময়সীমা পর্যন্ত ওয়াডার চুক্তিপত্রে সই না করায় ভারতীয় তারকা ক্রিকেটারদের সমালোচনা চলছেই। ‘হোয়্যার অ্যাবাউটস’ শর্তে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন হয়—এ অভিযোগে ভারতের নির্বাচিত ক্রিকেটাররা এই চুক্তিতে সই করেননি। ‘হোয়্যার অ্যাবাউটস’ শর্ত মেনে, সামনের তিন মাস খেলোয়াড়েরা কখন কোথায় থাকবেন সেটি আগাম জানাতে হবে, যাতে হুট করে ওয়াডার পক্ষ থেকে কোনো পরীক্ষক এসে ওই খেলোয়াড়দের নমুনা নিয়ে যেতে পারেন।
‘হোয়্যার অ্যাবাউটস’ নিয়ে সমালোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই হচ্ছে। কিন্তু ওয়াডা মনে করে, এই শর্তটা এক দিক দিয়ে কঠোর মনে হলেও এখন যেভাবে ক্রীড়া বিশ্বে উন্নত প্রযুক্তির ড্রাগ জড়িয়ে পড়ছে, তাতে এ ধরনের উদ্যোগের বিকল্প নেই। তবে খেলোয়াড়েরা যেমনটা মনে করছেন, সেভাবে তাঁদের ব্যক্তি জীবনে হস্তক্ষেপও করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন ফিকার প্রধান নির্বাহী টিম মে এর আগেই একবার বিসিসিআইর সমালোচনা করেছেন এই বলে, বাকি দেশগুলো যেখানে বিনা বাক্যব্যয়ে এই শর্তে সই করেছে, সেখানে বিসিসিআইর গড়িমসির কোনো মানে হয় না। তিনি এও মনে করেন, ‘হোয়্যার অ্যাবাউটস’ শর্তটা আসলে ঠিকমতো বুঝতে পারছে না বিসিসিআই।
ওদিকে খোদ ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রী এম এস গিলও সমালোচকদের কাতারে। তাঁর কথা, ভারতের বাকি খেলার খেলোয়াড়েরা ওয়াডা চুক্তির আওতায় চলে এসেছেন, তাই ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা নিয়ম হতে পারে না। কিন্তু গিলের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরোধিতার পরও নিজেদের অবস্থানে অনড় বিসিসিআই। বোর্ডের মুখপাত্র রাজীব শুক্লা বরং এই দাবি করছেন, ‘আমরা যা করেছি, ভারতের সংবিধান অনুযায়ীই করেছি।

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থান হারানোর হুমকি

২০০৩ সাল থেকে আইসিসি র্যাঙ্কিং প্রচলিত। সেই থেকে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। এক নম্বর জায়গা থেকে অদম্য অস্ট্রেলিয়াকে কোনো দলই আর নামাতে পারেনি। তবে রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়ার এবার র্যাঙ্কিং-শীর্ষ থেকে পিছলে পড়ার হুমকি।
অ্যাশেজের আর দুটি টেস্ট বাকি আছে। র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থানটা ধরে রাখতে হলে দুটি টেস্টই জিততে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। আর না হলে শীর্ষস্থানটা চলে যাবে গ্রায়েম স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকার অধিকারে। আর অ্যাশেজ হারলে তো চার নম্বরেই চলে যাবে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া (১২৪ পয়েন্ট), দক্ষিণ আফ্রিকা (১২২), শ্রীলঙ্কা (১১৯) ও ভারত (১১৯)।

মেসিকে বার্সার সুরক্ষা

মেসি
লিওনেল মেসিকে কিনতে চান? বেশি না, মাত্র ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড (৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) খরচ করতে হবে! দলবদলের বাজারে যখন বিশ্বজুড়ে চলমান মন্দাকে তোয়াক্কা না করে দেদার টাকা ঢালা হচ্ছে, তখন নিজের সবচেয়ে বড় সম্পদটাকে রক্ষা করতে বার্সেলোনা এই বিশাল অঙ্কের ‘বাই-আউট ক্লজ’ জুড়ে দিতে চলেছে। বার্সার সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করে মেসি অন্য ক্লাবে যেতে চাইলে ‘বাই-আউট’ শর্ত অনুযায়ী স্প্যানিশ ক্লাবটিকে এই বিশাল অঙ্কের টাকা দিতে হবে আগ্রহী ক্লাবকে।
এই খবর দিয়েছে স্পেনের দুটি শীর্ষ পত্রিকা। যদিও ইংলিশ পত্রিকা দ্য সান বলছে, বাই-আউট ক্লজের টাকার অঙ্ক ২৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড। টাকার অঙ্কটা নিয়ে গরমিল দেখা দিলেও এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, ধনী ক্লাবগুলোর লোলুপ দৃষ্টি থেকে মেসিকে আড়াল করে রাখতে বার্সেলোনা লোভনীয় সব প্রস্তাব দিয়ে রাখছে মেসিকে। আর তাই এর আগের বাই-আউট ক্লজের অঙ্কটা (১৫০ মিলিয়ন) দ্বিগুণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বছরে ৮০ লাখ পাউন্ড বেতনের দীর্ঘমেয়াদি একটা চুক্তি করবে তারা এই আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে। চুক্তিটা হলে বার্সার সবচেয়ে বেশি বেতনভুক্ত খেলোয়াড় হবেন এই ২২ বছর বয়সী।
নতুন চুক্তি অবশ্য এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে কাতালান ক্লাবটি দেশে ফিরলেই পাকা কথা হবে। ইউরোর হিসাবে প্রতি মৌসুমে মেসি ৯৫ লাখ করে পাবেন। সেই সঙ্গে বোনাস হিসেবে থাকছে ৫ লাখ ইউরো।
ইন্টার মিলান থেকে নিয়ে আসা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বর্তমানে বার্সার সবচেয়ে বেশি বেতনের খেলোয়াড়। বার্সার প্রতি সব সময়ই বিশ্বস্ত মেসির কাছে যাতে এটি কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে কারণেই নতুন করে এই চুক্তির প্রস্তাব। কোচ পেপ গার্দিওলাও বলেছেন, ইব্রাহিমোভিচ আসার পরও মেসিই তাঁদের এক নম্বর তারকার মর্যাদা পাবেন।

সন্তুষ্ট দুই অধিনায়ক, অসন্তুষ্ট সাবেকেরা

সহ-অধিনায়ককে অধিনায়কের অভিনন্দন।পরশু ক্লার্কের ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরির পর
বেশির ভাগ সময় বৃষ্টিতে খেয়ে নেওয়ার পর অনুমিতভাবেই ড্র হলো এজবাস্টন টেস্ট। চতুর্থ দিন বিকেলে ও পঞ্চম দিন মধ্যাহ্নভোজের আগে অবিশ্বাস্য এক জয়ের সম্ভাবনা অবশ্য উঁকি দিয়েছিল ইংলিশদের সামনে। মাইকেল ক্লার্ক ও মার্কাস নর্থের দৃঢ়তায় ভেস্তে যায় সেই সম্ভাবনা। ম্যাচের ফলে খুশি দুই অধিনায়কই। হঠাৎ করে জেগে ওঠা পরাজয়ের শঙ্কাকে নস্যাত্ করে সন্তুষ্ট রিকি পন্টিং। আর মরা ম্যাচেও কিছুটা প্রাণ জাগিয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস।
এই ম্যাচ হারলে ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যেত পন্টিংয়ের। স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখায় ক্লার্ক-নর্থ জুটির স্তুতি গেয়েছেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক, ‘আমরা জানতাম পঞ্চম দিনে আমাদের জন্য কাজটা হবে বেশ কঠিন। তবে ক্লার্ক ও নর্থের জুটিটা বিশেষ কিছু। ম্যাচটা যেভাবে আমরা শেষ করেছি তাতে আমি খুশি।’ সিরিজে পিছিয়ে থাকলেও পন্টিং মনে করেন এটাই তাঁদের জাগিয়ে তুলবে, ‘ড্রেসিংরুমে আমরা কেউই এতে (পিছিয়ে থাকায়) খুব একটা চিন্তিত নই। আমি সব সময় বলে এসেছি, প্রতিকূলতার মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার সেরাটা বেরিয়ে আসে।’ ব্রেট লি ও ব্র্যাড হাডিনের ফিরে আসার সম্ভাবনার সঙ্গে পন্টিংয়ের আশার পালে বাড়তি হাওয়া অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের ইনজুরি। পন্টিংয়ের কথা, ‘কেপি ও ফ্রেডি না খেললে তাদের দলে বিশাল শূন্যতা দেখা দেবে। লর্ডসে ফ্লিনটফ ছিল তাদের সেরা বোলার, কিন্তু এখানে তাকে দেখে মনে হয়েছে সে দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে।’ দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হলেও নিজের ব্যাটিংয়ে হতাশ পন্টিং। কার্ডিফের সেঞ্চুরির পর টানা দুই টেস্টে ব্যর্থ হলেন অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। এজবাস্টনের চতুর্থ বিকেলে গ্রায়েম সোয়ানের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার পর হতাশ পন্টিং ড্রেসিংরুমের দরজায় সজোরে ধাক্কা মারেন বলে খবর দিয়েছে একটি পত্রিকা।
তবে ফ্লিনটফের ইনজুরিতে পন্টিং উদ্বুদ্ধ হলেও এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না স্ট্রাউস, ‘তাকে কিছুটা যন্ত্রণাক্লিষ্ট দেখা গেছে, তবে চিন্তার কিছু নেই। তার কিছুটা বিশ্রাম দরকার, কেননা টানা টেস্ট খেলা সব বোলারের জন্যই কষ্টকর। সে যদি ফিট থাকে তাহলে খেলবে, না থাকলে নয়।’ স্ট্রাউস একটু অসন্তুষ্ট উইকেট নিয়ে, ‘আমরা দারুণ আশা নিয়ে মাঠে এসেছিলাম, কিন্তু কন্ডিশন আমাদের সাহায্য করেনি। আমি ভেবেছিলাম বল আরও বেশি সুইং করবে।’
এদিকে ইংল্যান্ডের মাটিতে ব্যাট হাতে গত অ্যাশেজের ব্যর্থতা মাটিচাপা দেওয়ার মিশন দারুণভাবেই এগিয়ে নিচ্ছেন অভিষেক টেস্টের পর ৫০তম টেস্টেও সেঞ্চুরি করা মাইকেল ক্লার্ক। টানা দুই টেস্টে সেঞ্চুরিসহ ৩৫২ রান করে তিনিই এখন সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস খেলে উচ্ছ্বসিত অস্ট্রেলীয় সহ-অধিনায়ক, ‘লর্ডসে আউট হয়ে যাওয়ায় খুব হতাশ ছিলাম। এখানে শেষ পর্যন্ত থাকতে পেরে দারুণ লাগছে।’
এদিকে দুই অধিনায়ক সন্তুষ্ট হলেও অসন্তুষ্ট দু দেশেরই মিডিয়া ও সাবেকেরা। বিখ্যাত ক্রিকেট লেখক পিটার রোবাক সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এ লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে ছোট করে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কিন্তু ব্যবধানটা বাড়ছে, কমছে না। ফ্লিনটফ ভেঙে না পড়লে কিংবা অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলারদের উন্নতি না হলে জিতবে ইংল্যান্ডই।’ অন্যদিকে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইক আথারটন স্ট্রাউসের কিছু সিদ্ধান্তকে বলেছেন দুর্বোধ্য, ‘প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া বোলারকে (অ্যান্ডারসন) শেষ দিনে প্রথম ঘণ্টায় বোলিংয়ে আনাই হলো না, এটা অদ্ভুত।’ সাবেক ক্রিকেটার ও গার্ডিয়ান পত্রিকার কলামিস্ট মাইক সিলভে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েই শঙ্কিত, ‘এখনো ইংল্যান্ড সুবিধাজনক অবস্থানে, তবে এমন সময়েই সবকিছু ভেঙে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা, বিশেষ করে জনসন ফর্ম ফিরে পাচ্ছে। ১-০-তে এগিয়ে থাকলেও তাই পথের এখনো অনেক বাকি।

বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ন্ত্রণের দাবি

নকীব, জুয়েল রানা, মনি, লিটন, তাজুসহ আরও কয়েকজন ফুটবলার বাফুফে ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে। অপেক্ষা করছেন সতীর্থ আরও কয়েকজনের। কাল বিকেলে তাঁদের সেখানে দেখে মনে হলো, নিজেদের কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে এসেছেন হয়তো। দাবি তো অবশ্যই, তবে বরাবর যেভাবে দলবদল আর খেলার দাবিতে এসেছেন, এটা তেমন নয়। এই দাবিটা একটু ব্যতিক্রম। বাংলাদেশে এখন যেসব আফ্রিকান ফুটবলারদের খেলতে দেখা যাচ্ছে, তাদের নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে একজোট হয়েছেন এই ফুটবলাররা।
‘এভাবে হয় না। বিদেশি ফুটবলাররা যা শুরু করেছে, এদের নিয়ন্ত্রণ না করলে দেশি ফুটবলারদের সমস্যা বেড়েই চলবে। আমরা সালাউদ্দিন ভাইয়ের কাছে এসেছি এর একটা বিহিত করার জন্য’—সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে নিজেদের উদ্দেশ্যটা জানিয়ে দিলেন জুয়েল রানা।
একটু পরেই জয়সহ আরও কয়েকজন ফুটবলার বাফুফে ভবনে। সবার মধ্যেই তোড়জোড় বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলার জন্য। সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হলো ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত দুই পাতার একটা চিঠি, যা লেখা হয়েছে বাফুফে সভাপতির কাছে। চিঠিতে ঢাকায় খেলা আফ্রিকান ফুটবলারদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বলা হয়েছে, এদের আনাগোনা কমিয়ে দেশে ফুটবলের একটা সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এক. ‘এই সমস্ত আফ্রিকান খেলোয়াড়েরা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খ্যাপ খেলে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। এই অর্থ তারা অবৈধভাবে তাদের দেশে প্রেরণ করছে। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশি খেলোয়াড়েরাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি তারা জাতীয় দলের খেলোয়াড়সহ অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে।’
দুই. ‘এরা অবৈধভাবে মদ, বিয়ার ও অন্যান্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যা দেশের ফুটবলের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।’
তিন. ‘এ ছাড়া নারীঘটিত কেলেঙ্কারির সঙ্গেও এই খেলোয়াড়েরা যুক্ত এবং খ্যাপ খেলার নামে প্রতারণার মাধ্যমে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কোনোভাবেই এটা দেশের ফুটবলের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না।’
সব আফ্রিকান ফুটবলারই বাংলাদেশে এসে অপকর্মে লিপ্ত, এমনটা অবশ্য নয়। মূলত নিচুমানের কিছু খেলোয়াড় এদেশকে রুটি-রুজির স্থান বানিয়ে সারা বছরই বাংলাদেশে অবস্থান করে। ঢাকার বাইরে ৫-৭ হাজার টাকায় খ্যাপ খেলে বেড়ায়। মাসে অন্তত ৮-১০টা খ্যাপ খেললেই তাদের জন্য অনেক। এদের অনেকে ভিসার মেয়াদ পার হলেও থেকে যায় অবৈধভাবে। কীভাবে এরা বাংলাদেশে আসে, সেটা অনেকের কাছেই প্রশ্ন। ফুটবলারদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন এদের ব্যাপারে খোঁজখবর করে ব্যবস্থা নেয়নি কখনোই। যে কারণে তাঁরা মনে করেন, আফ্রিকানদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।
সর্বশেষ যে ঘটনার কারণে খেলোয়াড়েরা বাফুফে সভাপতির কাছে ছুটে এসেছেন তা হলো, কয়েক দিন আগে আশুগঞ্জে খ্যাপ খেলতে গিয়ে প্যাট্রিক ও আহমেদ নামের দুই আফ্রিকান খেলোয়াড়ের মারমুখী আচরণের শিকার হয়েছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা তরুণ স্ট্রাইকার রবিন। এর পরই খেলোয়াড়দের উপলব্ধি—আর বসে থাকা যায় না। একজন খেলোয়াড় জানালেন, ‘এরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পর্যন্ত গালাগাল করে, কাউকে পাত্তাই দিতে চায় না!’
খেলোয়াড়েরা দেখা করার পর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তাঁদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাফুফের কিছু করণীয় নেই। প্রশাসনকেই যা করার করতে হবে। ‘সরকার এই খেলোয়াড়দের ভিসা দেয়, এরা দেশে এসে কী করে, সরকারকেই দেখতে হবে। তবে বাফুফে একেবারেই কিছু দেখবে না, এমনও নয়। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানাব। আশা করি প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে’—বলেছেন সালাউদ্দিন।