Sunday, December 26, 2010

বিশ্বকাপে সাকিবই অধিনায়ক

মাশরাফি বিন মুর্তজার ইনজুরিই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের অধিনায়ক নিয়ে বিসিবির মধ্যে যে মতদ্বৈধতা ছিল, সেটির আর কোনো সুযোগ নেই। আগামীকালের বিশেষ বোর্ড সভায় সাকিব আল হাসানকেই ২০১১ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক করা হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের অধিনায়ক মাশরাফি, না সাকিব—প্রশ্নে দুই রকম মত ছিল বোর্ডে। সাম্প্রতিক সিরিজগুলোয় সাফল্যের কথা বিবেচনা করে একপক্ষ বিশ্বকাপেও সাকিবকেই অধিনায়ক হিসেবে চাচ্ছিল। অন্যপক্ষ ঝুঁকে ছিল মাশরাফির দিকে। তাদের দৃষ্টিতে মাশরাফি ইনজুরিতে পড়ায় সাকিব ছিলেন আপৎকালীন অধিনায়ক। মাশরাফি যদি সুস্থ হয়ে দলে থাকেন, তাহলে তাঁকেই বিশ্বকাপের নেতৃত্ব দেওয়ার পক্ষে ছিল এই অংশটি।
কিন্তু মাশরাফির সর্বশেষ ইনজুরির পর সে অবস্থান থেকে সরেই আসতে হচ্ছে তাঁদের। ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপের আগে মাশরাফির ফেরার সুযোগ থাকলেও অধিনায়কত্বের প্রশ্নে আর ঝুঁকি নিতে রাজি নন কেউ। মাশরাফি ইনজুরিতে পড়ার পর সবাই যা অনুমান করছিলেন, সেটাই হতে যাচ্ছে এখন। বিশ্বকাপের নেতৃত্ব থাকছে সাকিবের কাঁধেই। এখন শুধু ঘোষনাটা আনুষ্ঠানিকভাবে আসার অপেক্ষা। তবে নেতৃত্বটা নেবেন কি না, সে ব্যাপারে এখনো মনঃস্থির করেননি সাকিব, ‘আমাকে এখনো কেউ কিছু বলেনি। বোর্ড থেকে প্রস্তাবটা আগে আসুক, দেখি তাঁরা কী বলেন। তারপর ভেবে দেখব।’
গত ১৯ ডিসেম্বর মুলতবি হয়ে যাওয়া বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভার বাকি অংশ হওয়ার কথা ৩০ ডিসেম্বর। তার আগে আগামীকাল বসছে বিশেষ বোর্ড সভা। মাশরাফির ইনজুরির পর হাতে আর কোনো বিকল্প না থাকায় সাকিবকে বিশ্বকাপের অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তটি এই সভাতেই হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বোর্ডের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। বিশ্বকাপের অধিনায়কত্ব ছাড়াও সভার আলোচ্যসূচিতে আছে নিমবাস চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়।
কালকের সভায় অধিনায়কত্বের বিষয়টি আলোচনা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী মনজুর আহমেদ, ‘আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে বিশ্বকাপের অধিনায়কত্ব নিয়েও আলোচনা হবে সভায়। অধিনায়ক কে হবেন, সেটি সভাতেই সিদ্ধান্ত হবে।’ বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুসও বলেছেন একই কথা, ‘২৭ ডিসেম্বরের সভায় আলাপ-আলোচনা করেই বিশ্বকাপের অধিনায়ক ঠিক করা হবে।’
বিশ্বকাপের পর বেশ কয়েক মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই। সাকিবকে তাই আপাতত বিশ্বকাপ পর্যন্তই অধিনায়কত্ব দেওয়া হবে। বিশ্বকাপের পরপর আগামী এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফরের কথা থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রস্তাবে সেটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সিরিজটি দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের হলেও আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘর্ষ বাধে বলে এপ্রিল মাসে শুধু তিনটি ওয়ানডেই খেলতে চাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট দুটি পরে কোনো এক সময়ে খেলার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তবে সিরিজের সূচি নিয়ে বিসিবি-ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একমত না হলে পিছিয়ে যেতে পারে পুরো সিরিজটিই।

জহির খান ফিরছেন, বাদ পড়তে পারেন সুরেশ রায়না

সেঞ্চুরিয়ান টেস্টের দুঃস্বপ্নের মধ্যে ভারত যে খেলোয়াড়টিকে সবচেয়ে মিস করেছে, তিনি জহির খান। চোট তাঁকে সেঞ্চুরিয়ানের প্রথম টেস্ট খেলতে দেয়নি। প্যাভিলিয়নে বসেই তিনি দেখেছেন মাঠে দলের বিপর্যয়কর মুহূর্তগুলো। সেঞ্চুরিয়ানে ইনিংস ও ২৫ রানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে এই মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল ভারত। আজ ডারবানে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার আগে যে সংবাদটিতে ভারত সবচেয়ে বড় স্বস্তি খুঁজতে পারে, তা হলো জহির খানের প্রত্যাবর্তন। ইনজুরি কাটিয়ে আজ ডারবানে মাঠে নামছেন ভারতের এক নম্বর স্পিডস্টার।
সেঞ্চুরিয়ানের মতোই ডারবানের উইকেট সাহায্য করবে পেসারদের। তাই জহির খানের অন্তর্ভুক্তি বাড়তি শক্তিই জোগাচ্ছে ভারতকে। জহির খান ফিরলে স্বভাবতই বাদ পড়বেন সেঞ্চুরিয়ানে ডেব্যুট্যান্ট জয়দেব উনাদকাড়।
ভারতের প্রোটিয়া কোচ গ্যারি কারস্টেন দলের বোলারদের কাছ থেকে তাঁদের প্রতিভার পরিপূর্ণ বিচ্ছুরণ দেখতে চান। তিনি বলেছেন, অতীতে অনেকবারই ভারত দেখিয়েছে, একটি টেস্টে যেকোনো কন্ডিশনেই ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ভারতীয় বোলারদের রয়েছে।
প্রথম টেস্টের ব্যর্থতাটা মেনে নিতে পারছেন না কারস্টেন। তিনি বলেছেন, ‘ভালো প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রথম টেস্টে ব্যাটিংটা ভালো হয়নি। মানছি, উইকেটটা একটু কঠিনই ছিল, কিন্তু তার পরও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে আমরা ১০০ রান কম করেছি।’
ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কারস্টেন বলেছেন, ‘যদি প্রথম ছয়জন ব্যাটসম্যানের যেকোনো একজন শত রান করতে পারতেন, তাহলেই আমাদের সংগ্রহ ৪০০-র কাছাকাছি পৌঁছে যেত। ব্যাটসম্যানদের অবশ্যই ধৈর্য ধরে উইকেটে পড়ে থাকা উচিত ছিল। টেস্ট ম্যাচে ৪০০ রান করতে না পারলে দল অবশ্যই চাপের মধ্যে থাকে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ জানিয়ে দিয়েছেন, সেঞ্চুরিয়ানে বড় জয় দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মনঃসংযোগে এতটুকু চিড় ধরাতে পারেনি। তিনি আরও বলেছেন, ‘ডারবানেও আমরা ভারতের অপেক্ষায় রয়েছি। সিরিজ না জেতা পর্যন্ত আমাদের নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেকোনো সিরিজই জয় দিয়ে শুরু করা দারুণ একটা ব্যাপার। তবে আরও দারুণ ব্যাপার ২-০ তে এগিয়ে থাকা। ডারবানে আমাদের সেই চেষ্টাই থাকবে।’
জহির খানের পাশাপাশি ভারতীয় দলে ডারবান টেস্টে আরও একটি পরিবর্তন আসতে পারে। চিতেশ্বর পুজারা দলে ঢুকতে পারেন সুরেশ রায়নার পরিবর্তে। সেঞ্চুরিয়ানে নিদারুণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে সুরেশ রায়না দুই ইনিংস মিলে করেছেন ৬ রান। দুই ইনিংসেই সুরেশ রায়না আউট হয়েছেন স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।

টসকেই গুরুত্বপূর্ণ মানছেন ধোনি

টসভাগ্য কখনোই খুব একটা ভালো নয় ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম টেস্টে টসটাই ম্যাচের ভাগ্য অনেকখানি গড়ে দিয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন অনেকেই। সেঞ্চুরিয়নের ভেজা উইকেটে টসে হেরে ব্যাট করার জন্য না নামতে হলে হয়তো ম্যাচের পরিস্থিতিটা অন্য রকমও হতে পারত। এবার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে আবার ওই টসটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন ধোনি। তিনি আশা করছেন, এবার হয়তো ভাগ্যদেবী কিছুটা মুখ তুলে তাকাবেন।
গতকাল অনুশীলন শেষে ধোনি বলেছেন, টসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুরুর দিকের পেসাররা উইকেট থেকে অনেক সাহায্য পাবেন। মাঠে ব্যাট-বলের অনুশীলন ছাড়াও টসে জেতার জন্য ধোনি বিশেষ কোনো অনুশীলন করছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘টসে জেতাটা সব সময়ই খুব কঠিন একটা কাজ। কেউ যদি আমাকে টসে জেতার নিশ্চিত কোনো কৌশল বলে দেয়, তাহলে আমার খুবই উপকার হয়। আমি আগামীকাল সেটাই করব।’
শেবাগ, দ্রাবিড়, টেন্ডুলকার, লক্ষ্মণদের মতো বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানরা থাকা সত্ত্বেও সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার চার পেসারের বোলিং আক্রমণের সামনে একেবারে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল ভারতের প্রথম ইনিংস। সেই জায়গায় ডারবানের কিংসমেড উইকেটটাকে বলা হয় পেসার স্বর্গ। এটা দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বাউন্সি উইকেট হিসেবে খ্যাত। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে স্পিনারদের তুলনায় পেসাররা বরাবরই একটু বেশিই সুবিধা পেয়েছেন। এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো চারজন পেসার নিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজালেই ভারত বেশি লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই, কিন্তু সেসব কথায় কান দিচ্ছেন না ধোনি। আগের টেস্টের মতো তিন পেসার আর এক স্পিনার নিয়েই মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। স্পিনাররাও খেলাটাকে অনেক প্রভাবিত করতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘যদি সব সময় সঠিক লাইনে বল করা যায়, তাহলে উইকেট যে রকমই হোক না কেন, যেকোনো বোলারই ব্যাটসম্যানদের চাপের মুখে রাখতে সক্ষম হবেন।’

পৃথিবীজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরে আসুক- শুভ বড়দিন

আজ বড়দিন। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের এই দিনটি অনেক আনন্দের। পবিত্র এই দিনে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের খ্রিষ্টানসম্প্রদায় মহান যিশুর জন্মদিন পালনের উৎসবে মেতে উঠবে। শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এই দিনের কর্মসূচি, যিশুখ্রিষ্টের শান্তির বাণীও ছড়িয়ে দেওয়া হবে মানুষের মধ্যে। উদারতা ও কৃতজ্ঞতার মতো মানবিক গুণাবলিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এই দিন, উন্নততর মানবিক সম্পর্ক এবং সমৃদ্ধতর সমাজ গড়ে তুলতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে।মানবজাতির ত্রাতা বা উদ্ধারকর্তা হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভাব হয়েছিল যিশুখ্রিষ্টের। হিংসা, বিদ্বেষ, পঙ্কিলতাপূর্ণ এ পৃথিবীর মানুষকে সুপথে আনার জন্যই তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন। যিশুর জন্মদিন তাই শুধু খ্রিষ্টানসম্প্রদায়ের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জীবনেই উল্লেখযোগ্য ঘটনা।যিশুখ্রিষ্ট পথভ্রষ্ট ব্যক্তিদের দেখিয়েছেন আলোকিত পথ। তিনি বঞ্চিত-লাঞ্ছিত মানুষকে দিয়েছেন বাঁচার অনুপ্রেরণা। মানবজাতিকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে তিনি ফেরাতে চেয়েছিলেন মমতা, ভালোবাসা ও ক্ষমাশীলতার পথে। মানবসভ্যতার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, শুধু খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের জীবন ও দর্শনেই যিশুর প্রভাব পড়েনি, বরং পুরো মানবসভ্যতাই কিছু না কিছু মাত্রায় প্রভাবিত হয়েছে তাঁর আদর্শ, নীতি, জীবনদর্শন ও বিশ্বাস দ্বারা। শান্তির যে বাণী নিয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন, তা শাশ্বত; সব সময় সব মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তাঁর শিক্ষা সব মানুষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের কাছেও যিশুখ্রিষ্ট গভীর শ্রদ্ধার পাত্র, অন্যতম নবী—হজরত ঈসা (আ.) নামে পরিচিত।অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন যিশু। কিন্তু কোনো নির্যাতন বা নিপীড়ন তাঁকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। যিশুর পথ ছিল সংযম, সহিষ্ণুতা ও ভালোবাসার। সারা বিশ্বে আজ হিংসা, হানাহানি ও অশান্তি বেড়ে চলেছে। সভ্যতার সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে। বড়দিনের বাণী এই দৈন্য ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার জন্য। পৃথিবীজুড়ে হিংসা-বিদ্বেষের এই যুগে যিশুর শিক্ষা অনুসরণীয়।বাংলাদেশ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী বিপুলসংখ্যক মানুষও এ দেশে বাস করে। তাদের এই ধর্মীয় উৎসবে সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষের সংহতি থাকবে—এটাই প্রত্যাশা। আজ এ উৎসবের দিনে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমরা কামনা করি, এ উৎসব সবার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠুক। পৃথিবীজুড়ে ভালোবাসার বিস্তার ঘটুক, শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরে আসুক। শুভ বড়দিন।

যুক্তরাষ্ট্রে পাঠালে কারাগারে হত্যা করা হতে পারে তাঁকে

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হলে, সে দেশের কারাগারে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। এ ব্যাপারে বড় বেশি ঝুঁকি রয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ নিজেই এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে তিনি বলেন, তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্রিটেনের হস্তান্তর করার বিষয়টি ‘রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব’।
গোপন কূটনৈতিক নথি ফাঁস করায় অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আর ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিটেন তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে পারে। তা ঘটলে পরিণতি কী হতে পারে, এ ব্যাপারে সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।
অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক বিষয়। আমরা জানি, আমাকে অন্য দেশে নিতে ব্রিটেনের রাজনীতিকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলতে পারে।’ তিনি বলেন, ব্রিটেনের আইনে রাজনৈতিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে অন্য দেশের হাতে হস্তান্তর না করার বিধান রয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তিও এক ধরনের রাজনৈতিক অপরাধ।
অ্যাসাঞ্জ বলেন, তাঁর প্রতি মানুষের জোরালো সমর্থন রয়েছে। তাই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা ব্রিটেনের পক্ষে খুব কঠিন কাজ হবে। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ব্রিটেন বা সুইডেন থেকে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র পাঠানো হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে সে দেশের কারগারে তাঁকে ‘জ্যাক রুবি ধাঁচে’ হত্যা করা হতে পারে।
একটি মার্কিন নৈশক্লাবের মালিক জ্যাক রুবি ডালাসের একটি পুলিশ স্টেশনে লি হার্ভে অসওয়াল্ডকে গুলি ছুড়ে হত্যা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অসওয়াল্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগেই রুবি তাঁকে হত্যা করেন।
গত মাসের শেষ দিকে আড়াই লাখ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে উইকিলিকস। এর পরই অ্যাসাঞ্জ ও উইকিলিকসের বিরুদ্ধে তৎপর হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

টোরিদের ইউরোপীয় মিত্ররা বদ্ধ উন্মাদ

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেরেমি ব্রাউন কনজারভেটিভ পার্টির ইউরোপীয় মিত্রদের ‘বদ্ধ উন্মাদ’ এবং ‘অস্বস্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর একজন ছদ্মবেশী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
টেলিগ্রাফ বলেছে, জেরেমি ব্রাউনের নির্বাচনী এলাকা টাউনটন ডিনের একজন সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের একজন সাংবাদিক জেরেমির সঙ্গে আলাপ করেন। ওই সাংবাদিক কনজারভেটিভ পার্টি সম্পর্কে ব্রাউনের মূল্যায়ন জানতে চান। ওই সাংবাদিক গোপনে জেরেমির বক্তব্য রেকর্ড করে টেলিগ্রাফের কাছে হস্তান্তর করেন। একইভাবে এর আগে ছদ্মবেশে টেলিগ্রাফ-এর কয়েকজন সাংবাদিক কয়েকজন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক মন্ত্রীর নেতিবাচক মন্তব্য ধারণ করেন।
টেলিগ্রাফ-এর দাবি, জেরেমি ওই ছদ্মবেশী সাংবাদিককে বলেন, কনজারভেটিভ পার্টির অভিবাসন নীতি ‘ভীষণ কঠোর’। তিনি মনে করেন, অভিবাসন নীতির বিষয়ে সরকারের আরও নমনীয় ও উদার হওয়া উচিত।
ইউরোপের বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী দলের জোট ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফর্মিস্টস (ইসিআর) নামের সংগঠনে যোগ দিতে গত বছর কনজারভেটিভ পার্টি তাদের ডানপন্থী নীতি থেকে কিছুটা উদার পন্থায় সরে আসে।
এর আগে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কয়েকজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং তাঁকে ‘বিশ্বাস করা যায় না’ বলে মন্তব্য করেন। এ ছাড়া চ্যান্সেলর জর্জ অস্বর্নের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সম্বন্ধে কোনো ধারণা নেই বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।

কার্বন নিঃসরণ কমাবে ওবামা প্রশাসন

ওবামা প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছে, জ্বালানিকেন্দ্রগুলো থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ জন্য এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি (ইটিএ) দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানিকেন্দ্র ও পেট্রোলিয়াম শোধনাগারগুলোর কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমাতে একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু পরিবর্তনে প্রায় ৪০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করা হয়। আগামী বছর ইটিএ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্বন নিঃসরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে একটি প্রস্তাব তৈরি করবে। জনমতের ভিত্তিতে ২০১২ সালে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

ভারতের সাবেক মন্ত্রীর ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের

ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী এন ডি তেওয়ারির (৮৫) ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পিতৃত্বের দাবি নিয়ে এক যুবকের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার আদালত এই নির্দেশ দেন।উত্তর প্রদেশের রোহিত শেখর নামের এক যুবক দুই বছর আগে তেওয়ারিকে তাঁর বাবা বলে দাবি করে মামলা করেন। তেওয়ারি অবশ্য ওই যুবকের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।নয়াদিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাট বৃহস্পতিবার তেওয়ারির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।গত বছরের ডিসেম্বরে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে তেওয়ারির সঙ্গে তিন নারীর সম্পর্কের বিষয় প্রকাশ করা হয়। এ প্রসঙ্গে তেওয়ারি জানান, তিনি ওই সময় অসুস্থ ছিলেন।
রোহিত শেখরের মামলার পর তেওয়ারি জানিয়েছিলেন, তিনি ডিএনএ পরীক্ষা করতে বাধ্য নন। হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেন, বাবা-মা কে, তা জানার অধিকার প্রতিটি সন্তানের রয়েছে।উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্ধ্র প্রদেশের রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তেওয়ারি।

পশ্চিম আফ্রিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাগবোর লেনদেন বন্ধ

পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবোর অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইভরি কোস্টে নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত আলাসেন ওয়েতাহাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ওয়েস্ট আফ্রিকান ইকোনমিক অ্যান্ড মনিটরি ইউনিয়ন গত বুধবার বলেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে কেবল আইভরি কোস্টের ‘বৈধ সরকারের’ মনোনীত সদস্যরাই তাঁদের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষমতা ছাড়তে বাগবোর ওপর চাপ আরও বাড়ল। কেননা ওই ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করতে না পারলে সেনাবাহিনীসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভেতন-ভাতা দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এর আগে গত বুধবার আইভরি কোস্টকে ঋণ-সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।
আইভরি কোস্টে গত ২৮ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশেটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিরোধী নেতা আলাসেন ওয়েতাহাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব শক্তিগুলো ওয়েতাহাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় শপথ নেন বাগবো। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ওয়েতাহাও। এরপর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশটিতে প্রায় ২০০ লোক নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দেশটিতে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও ক্ষমতা না ছাড়তে অনড় বাগবো।

ফের পরমাণু পরীক্ষা চালাতে পারে উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া আগামী বছর তৃতীয় পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়। সিউলের ইনস্টিটিউট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি এই গবেষণা চালায়।এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উত্তরের ‘পবিত্র যুদ্ধের’ হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই কোরিয়ার সীমান্তে সিউলের গোলাবর্ষণের মহড়ার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধের হুমকি দেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উত্তর কোরিয়া আগামী বছর দেশটির তৃতীয় পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের সামর্থ্যের উপলব্ধি, কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা ছড়ানো ও দেশটির পরবর্তী নেতা কিম জং উনের সংবর্ধনা হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হবে। উত্তর কোরিয়ার বর্তমান নেতা কিম জং ইলের ছোট ছেলে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘দুই কোরিয়ার মধ্যে এখনো উত্তেজনা রয়েছে।’বিশ্লেষকেরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে ছয় জাতি আলোচনা শুরুর আগে নিজের পারমাণবিক অগ্রগতি দেখতে এই পরীক্ষা চালানোর কৌশল নিয়েছে পিয়ংইয়ং। ছয় জাতি আলোচনায় দুই কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও রাশিয়া যুক্ত রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, পিয়ংইয়ংয়ের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে ছয় জাতির আলোচনা আগামী বছর শুরু হতে পারে। উত্তর কোরিয়ার ‘পবিত্র যুদ্ধের’ হুমকির নিন্দা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, ‘পিয়ংইয়ংয়ের এই আগ্রাসী বক্তব্য কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।’

তুষারপাতের হিম আমেজে ইউরোপে বড়দিন

ইউরোপজুড়ে আজ ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদ্যাপিত হচ্ছে। তবে প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যাতায়াত বিঘ্নিত হওয়ায় ইউরোপে উৎসবের ঔজ্জ্বল্য যেন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
এ মাসের শুরু থেকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। শহরগুলোর কেন্দ্রে ক্রিসমাস ট্রি বসানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসেছে বড়দিনের বাজার। বাড়িতে বাড়িতে কাচের জানালায় শোভা পাচ্ছে বর্ণিল আলোকসজ্জা। গির্জাগুলো ধুয়ে-মুছে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট রোমের সেন্ট পিটার্স গির্জা থেকে বিশেষ প্রার্থনায় পৃথিবীজুড়ে যুদ্ধবিগ্রহ এড়িয়ে শান্তির কথা বলেছেন। একই কথা বলেছেন ইউরোপের প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায় এবং ইউরোপের নানা দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা।
এদিকে তীব্র তুষারপাতের কারণে ফ্রান্সের প্রধান বিমানবন্দরের প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ কারণে সেখানে গতকাল শুক্রবার কমপক্ষে দুই হাজার যাত্রী আটকা পড়ে ছিল। ডেনমার্কে রাস্তা থেকে তুষার সরানোর কাজে নিয়োজিত জরুরি সেবা সংস্থাকে সহায়তা করতে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দর গত বৃহস্পতিবার কিছুক্ষণের জন্য অচল ছিল। জার্মানিতে তুষারপাতের কারণে রাস্তাঘাট প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দূরপাল্লার গাড়ি ও ট্রেন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটেনের একটি বড় অংশ জুড়ে গাড়ি চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে। স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের রেল চলাচলের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। অনেক ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়। কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। গত সপ্তাহে তুষারপাতের কারণে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। ওই সময় সেখানে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছিল। তবে গতকাল সেখানে বিমানের ওঠানামা প্রায় স্বাভাবিক ছিল।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলেছেন, গতকাল শুক্রবার রাতে মধ্য স্কটল্যান্ডে তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের নিচে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ইংল্যান্ডের রেল সংস্থা ফার্স্ট ক্যাপিটাল কানেক্ট, চিলটার্ন ও মার্সিরেইল বড়দিনে (আজ) তাদের যাত্রীসেবা ২৫ শতাংশ কমাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইংল্যান্ডের অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেন অপারেটিং কোম্পানিজের (অ্যাটোক) একজন মুখপাত্র বলেন, বড়দিনের কারণে ভিড় বেশি থাকায় অনেক যাত্রী সময়মতো বাড়ি যেতে পারছেন না বলে তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপের সর্ববৃহৎ শপিং মল বার্মিংহামের বুলরিং শপিং সেন্টার থেকে বড়দিনের উপহার সামগ্রী কিনতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দুই লাখ লোক ইংল্যান্ড এসেছেন। একই উদ্দেশ্যে শেফিল্ডের মিডোহলে এসেছেন আরও প্রায় দেড় লাখ লোক। বিমান ও রেলপথে অচলাবস্থার কারণে তাঁদের অনেকেই বাড়ি ফিরে স্বজনদের সঙ্গে বড়দিনের উৎসব উদ্যাপন করতে পারবেন না।
গতকাল ডেনমার্কের অধিকাংশ এলাকা প্রায় ছয় ইঞ্চি তুষারের নিচে ঢাকা পড়ে যায়। সে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জরুরি সেবাকর্মীদের সাহায্য করতে সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জার্মান রেলের বার্লিন হ্যানোডার রেলপথে দ্রুতগামী ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের তিনটি ট্রেন মাঝপথে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বেথেলহেমে মহা আয়োজন: খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিশ্বাসমতে, যিশুখ্রিষ্টের জন্মস্থান পশ্চিম তীরের বেথেলহেমে অন্য বছরগুলোর মতো এ বছরও জাঁকজমকভাবে বড়দিন উৎসব উদ্যাপিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকা থেকে লক্ষাধিক পর্যটক বেথেলহেমে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শ্রদ্ধাভাজন ক্যাথলিক বিশপ ফুয়াদ তাওয়াল বেথেলহেমে বিশ্বশান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করবেন বলে জানা গেছে।
মুম্বাইয়ে সতর্কতা: বড়দিন সামনে রেখে ভারতের মুম্বাইয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে যে গ্রুপটি হামলা চালিয়েছিল, সেই গ্রুপের চার সদস্যকে ধরতে তাঁরা বিশেষ অভিযান চালাচ্ছেন। তাঁরা বলেছেন, বড়দিনে তারা হামলা চালাতে পারে বলে তাঁদের কাছে খবর এসেছে।
আফগানিস্তানে পশ্চিমা সেনাদের বড়দিন: আফগানিস্তানে যুদ্ধরত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশের সেনাসদস্যরা নিজ নিজ ঘাঁটিতে বড়দিন উৎসব উদ্যাপন করছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে তাঁরা আফগানিস্তানে এ উৎসব পালন করবেন।

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি হামলা

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আধা সামরিক বাহিনীর পাঁচটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। এতে অন্তত ১১ জন সেনা নিহত হয়। পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ২৪ জন জঙ্গি। গতকাল শুক্রবার এ হামলা চালানো হয়।
একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আফগান সীমান্তের কাছে মোহমান্দ জেলার বাইদনামি গ্রামের আধা সামরিক বাহিনীর পাঁচটি তল্লাশি চৌকিতে প্রায় ১৫০ জন তালেবান জঙ্গি হামলা চালায়।
মোহমান্দের প্রশাসক আমজাদ আলী খান জানান, হামলায় আধা সামরিক বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হয়। সেনাসদস্যদের পাল্টা হামলায় ২৪ জঙ্গি নিহত হয়। পাল্টা হামলায় হেলিকপ্টার গানশিপ ও কামান ব্যবহার করা হয়। তিনি জানান, ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনী পাঠানো হয়েছে। তালেবান জঙ্গিরা লুকিয়ে থাকতে পারে—এমন সন্দেহভাজন জায়গাগুলোতে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, নিহত সহযোগীদের ফেলে জঙ্গিরা পালিয়ে গেছে। হামলায় অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকা ঘিরে ফেলেছে। পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে তারা।
মোহমান্দ জেলার তালেবানের মুখপাত্র পরিচয় দিয়ে সাজ্জাদ নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপি ও বিবিসিকে জানান, তাঁদের হামলায় ১২ সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। তাঁদের পক্ষের মাত্র দুজন নিহত হয়েছে। একটি তল্লাশি চৌকিও দখলে নিয়েছেন তাঁরা। সাজ্জাদ দাবি করেন, দুজন সেনাকে তাঁরা অপহরণ করেছেন। তবে তালেবানের এই দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের কোনো সেনা নিখোঁজ হয়নি।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পেশোয়ারে গতকাল একটি স্কুলের বাইরে বোমা বিস্ফোরণে তিন শিশু ও একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানায়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ওই অঞ্চলে ঘালানাই সরকারি চত্বরে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৪৩ জন নিহত হয়। তালেবানবিরোধী মিলিশিয়া গঠনের লক্ষ্যে এক সভায় ওই হামলা চালানো হয়। গত জুলাই মাসে মোহমান্দের ইয়াকাঘুন্দ এলাকার একটি গ্রামে দুটি আত্মঘাতী হামলায় ১০০ জনের বেশি লোক নিহত হয়।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট মোহমান্দ। সেখানে তালেবান ও আল-কায়েদা জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।
২০০৭ সালে ইসলামাবাদে একটি মসজিদে অভিযান চালানোর পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত বোমা হামলায় চার হাজার লোক নিহত হয়। এসব হামলার সঙ্গে আল-কায়েদা ও তালেবান জঙ্গিরা জড়িত বলে ধারণা করা হয়।

সাবেক মন্ত্রী রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদ

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) কর্মকর্তারা গতকাল শুক্রবার সে দেশের সাবেক টেলিকমমন্ত্রী এ রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের প্রধান আয়োজক সুরেশ কালমাদির বাড়িতে গতকাল তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই। ওই গেমসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সিবিআইয়ের একজন মুখপাত্র গতকাল জানান, নয়াদিল্লিতে সিবিআইয়ের সদর দপ্তরে রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মুখপাত্র বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন লাইসেন্সের বরাদ্দ নিয়ে আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলছি। এই জিজ্ঞাসাবাদ কতক্ষণ চলবে, তা বলা মুশকিল।’ এই লাইসেন্স বরাদ্দে রাজা কয়েকটি কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ কোম্পানির আবেদন করার যোগ্যতা ছিল না।
সরকারকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে এসব লাইসেন্স কম দামে বিক্রির কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে গত মাসে রাজা পদত্যাগ করেন। দেশটির অডিট বিভাগের দাবি, এই লাইসেন্স কম দামে বিক্রি করায় সরকারের অন্তত চার হাজার কোটি ডলার লোকসান হয়েছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন রাজা।
সিবিআইয়ের অপর এক মুখপাত্র জানান, পুলিশ রাজধানীর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনেতে অবস্থিত কালমাদির বাড়ি ও তাঁর একান্ত সচিব মনোজের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। দিল্লিতে গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে বাজেট নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।সিবিআইয়ের ওই মুখপাত্র জানান, তদন্তের কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা কালমাদিকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে বরখাস্ত করতে এ মাসের গোড়ার দিকে সরকারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

প্রথম ম্যাচেই উজ্জ্বল ইউসুফ

অভিজ্ঞতার মূল্য ঢাকা লিগে নিজের প্রথম দিনেই বুঝিয়ে দিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। তামিম-ঝড়ের পর আরেক অভিজ্ঞ ফয়সাল হোসেনের সঙ্গে ইউসুফের জুটি সূর্যতরুণের বিপক্ষে ৩ উইকেটের দারুণ এক জয় এনে দিয়েছে মোহামেডানকে। দিনের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি অবশ্য হয়েছে একতরফা, মাহমুদউল্লাহর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বগুড়ায় গাজী ট্যাংককে ৭ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী। আরেক একতরফা ম্যাচে রাজশাহীতে বিকেএসপিকে ১০১ রানে হারিয়েছে বিমান, মুশফিকুর রহিম পেয়েছেন লিগে টানা তৃতীয় ফিফটি।বিকেএসপিতে ওপেনার ইমতিয়াজের ১৮ বলে ২৪ রানের পরও ৪০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় টসজয়ী সূর্যতরুণ। চতুর্থ উইকেটে ১৩৭ রানের জুটি গড়ে আবদুর রাজ্জাকের দলকে টেনে তোলেন জুনায়েদ সিদ্দিক ও হামিদুল ইসলাম। ১০৬ বলে ৭১ করেন হামিদুল, ১০১ বলে ৭১ জুনায়েদ। শেষ দিকে ২ চার ও ৪ ছয়ে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ধীমান ঘোষের ১৯ বলে ৩৯ দলের রানকে নিয়ে যায় ২৪৫-এ।
এই রান তাড়া করতে যেমন প্রয়োজন, মোহামেডানকে তেমনই শুরুই এনে দিয়েছেন তামিম ইকবাল ও ইংলিশ ব্যাটসম্যান মঈন আলী। দুজনের ৬৯ রানের উদ্বোধনী জুটি আসে ৬২ বলে। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬ রানের জুটির পর ৯ রানের মধ্যে তামিম, শামসুর ও সাকিবকে আউট করে ম্যাচে ফেরে সূর্যতরুণ। আগের ম্যাচে ৪৫ বলে ৬৯ করা তামিম কাল ৬৬ করেছেন ৫ চার ও ৪ ছয়ে। এ অবস্থা থেকে মোহাডোনকে জয়ের কিনারায় নিয়ে যায় পঞ্চম উইকেটে ইউসুফ-ফয়সালের ৯৭ রানের জুটি। ৪ চার ও ১ ছয়ে ৫৪ রান করে আউট হন ফয়সাল, সমান চার-ছয়ে ইউসুফ ৫৮। বল লেগেছে ৯৬টি, কিন্তু ফিরেছেন দলের জয়কে সঙ্গী করেই। আগের ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বরের সঙ্গে টাই করা মোহামেডান ফিরল জয়ের ধারায়।বগুড়ায় আবাহনীর বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে ১৩১ রানেই গুঁড়িয়ে যায় দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইনআপের গাজী ট্যাংক। শাহরিয়ার নাফীস (৪), অধিনায়ক নাঈম ইসলাম (০), অলক কাপালি (২) ও সাব্বির রহমানদের (১২) ব্যর্থতার দিনে বিশ পেরোতে পেরেছেন শুধু দুই শ্রীলঙ্কান থিলিনা পারানাভিতানা (২৩) ও কৌশল্য বীরারত্নে (২১)। ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার মাহমুদউল্লাহ, ২টি করে উইকেট নিয়েছেন দুই টিনএজ পেসার আবুল হাসান ও আলাউদ্দিন বাবু। ইমরুল কায়েস (১৫), রনি তালুকদার (০) ও আনামুল হককে (০) ২২ রানের মধ্যে ফিরিয়ে দিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল গাজী। কার্সেলডাইন-মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ১১০ রানের জুটিতে আবাহনী টানা তৃতীয় জয় পেয়ে যায় আর কোনো উইকেট না হারিয়েই। ৭৮ বলে অপরাজিত ৫৭ করেন মাহমুদউল্লাহ, ৭১ বলে অপরাজিত ৫১ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান কার্সেলডাইন।
চতুর্থ ম্যাচে এসে এবারের লিগে প্রথমবারের মতো আউট হয়েছেন মুশফিকুর, তবে তার আগে করেছেন ৮০। ৬৪ রানে ৩ উইকেট হারানো বিমানকে আকাশে উড়িয়েছে শ্রীলঙ্কান বাথিয়া পেরেরার সঙ্গে মুশফিকুরের ১০৬ রানের জুটি। আগের দুই ম্যাচে ৮৭ ও ৭৭ রান করা মুশফিকুর এবার ৮০ করেছেন ৯২ বলে, ১০ চার ও ১ ছয়ে। পেরেরার ৬৮ এসেছে ১০৪ বলে। শেষ দিকে জিসান আসিফের ২৭ বলে ৩০ ও মোশারফ হোসেনের ৫ বলে অপরাজিত ১৫ রানে ৪৮ ওভারের ম্যাচে ২৫২ করে বিমান। বিকেএসপি জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারেনি কখনোই, নিয়মিত উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় ১৫১ রানে। জাতীয় দলের পেসার শফিউল ইসলামের পাশাপাশি দুটি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফউল্লাহ এবং বাঁহাতি স্পিনার মোশারফ হোসেন।
সং ক্ষি প্ত স্কো র
সূর্যতরুণ: ৫০ ওভারে ২৪৫/৭ (হামিদুল ৭১, জুনায়েদ ৬৯, ধীমান ৩৯*, ইমতিয়াজ ২৪; শামসুর ২/৩০, মঈন ২/৪৫, সাকিব ২/৪৫, এনামুল ১/৪৩)। মোহামেডান: ৪৯.১ ওভারে ২৪৬/৭ (তামিম ৬৬, ইউসুফ ৫৮*, ফয়সাল ৫৪, মঈন ২০; রিজওয়ান ৩/৩৫, রাজ্জাক ২/৪৪, সোহরাওয়ার্দী ২/৪৭)। ফল: মোহামেডান ৩ উইকেটে জয়ী।
গাজী ট্যাংক: ৩৯.১ ওভারে ১৩১ (পারানাভিতানা ২৩, বীরারত্নে ২১; মাহমুদউল্লাহ ৩/২৪, আবুল হাসান ২/৩০, আলাউদ্দিন ২/২৩, ফরহাদ ১/২, সাকলাইন ১/২০, তাপস ১/২৬)। আবাহনী: ২৯.৩ ওভারে ১৩২/৩ (মাহমুদউল্লাহ ৫৭*, কার্সেলডাইন ৫১*; রাসেল ২/২০, বীরারত্নে ১/১৮)। ফল: আবাহনী ৭ উইকেটে জয়ী।
বিমান: ৪৮ ওভারে ২৫২/৭ (মুশফিকুর ৮০, পেরেরা ৬৮, জিসান ৩০, জহুরুল ২৩; সৌম্য ২/৪৪, রিয়াজ ২/৬১, আবিদ ১/১৯, আসিফ ১/৪৩)। বিকেএসপি: ৪৪ ওভারে ১৫১ (আসিফ ৪০, জুপিটার ৩৭, তরিকুল ২১; শরিফউল্লাহ ২/২০, শফিউল ২/২৫, মোশারফ ২/৩৮, ইলিয়াস ১/১৪, পেরেরা ১/১৪, মনোয়ার ১/৩৯)। ফল: বিমান ১০১ রানে জয়ী।

নিজেকেই সেরা বলছেন মরিনহো

বছরের সেরা কোচ হবেন কে? ভিসেন্তে দেল বস্ক, নাকি হোসে মরিনহো? আপনি যেকোনো একজনকে বেছে নিতেই পারেন। ১০ জানুয়ারি জুরিখে ফিফা-ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের রাতে বর্ষসেরা কোচ হিসেবে কার নাম উচ্চারিত হবে, সেটাই বা কে বলতে পারে! যে যা-ই ভাবুন আর সেদিন যাঁর নামই ঘোষিত হোক, মরিনহো নিজে মনে করেন বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারটা তাঁরই প্রাপ্য। মরিনহো কোনো কালেই বিনয়-টিনয়ের ধার ধারেননি। বর্ষসেরা কোচ কে হবেন—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েও বেরিয়ে এসেছে চিরকালীন অবিনয়ী মরিনহোই। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি বলে দিয়েছেন—ভিসেন্তে দেল বস্ক নয়, এক নম্বর আমিই।পর্তুগাল থেকে চেলসিতে নাম লিখিয়ে ইংল্যান্ডের ফুটবলে পা রেখেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি স্পেশাল ওয়ান’। চেলসিতে যত দিন ছিলেন, বিশেষ একজন হয়ে ছিলেন মরিনহো। এবার নিজেকে দাবি করে বসলেন বর্ষসেরা কোচ। এর পেছনে অবশ্য যুক্তিও দেখিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ। এ বছর স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো দেল বস্কের চেয়ে তাঁর অর্জনের খাতাটা পূর্ণ বলেই তিনি মনে করেন।ইন্টার মিলানকে ট্রেবল জেতানো মরিনহো ইতালির ক্রীড়া দৈনিক গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে বলেছেন, ‘আমার পছন্দ আমিই। এগারো মাস কাজ করে ৫৭ ম্যাচ দায়িত্বে থেকে ৩টি শিরোপা জিতেছি। এর মধ্যে আছে সব টুর্নামেন্টের সেরা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগ। আমি সবকিছু জিতেছি। এর বেশি কিছু জয় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। খেলোয়াড়দের জন্যও না।’খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গটা ওয়েসলি স্নাইডারের কথা বলার জন্যই তুলতে পারেন মরিনহো। ফিফা-ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের জন্য মনোনীত তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ইন্টার মিলানের এই ডাচ প্লে-মেকারের নাম না দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছেন ইন্টারের সাবেক কোচ।সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভি হার্নান্দেজের সঙ্গে আছেন লিওনেল মেসি। তবে গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত-এর অনুমান, পুরস্কারটা উঠতে যাচ্ছে ইনিয়েস্তার হাতেই। সেটি হলে সহজে মেনে নিতে পারবেন না মরিনহো, ‘চোটের কারণে বছরের প্রথম ৫ মাস মন খারাপ করে মাঠের বাইরে বসে ছিল ইনিয়েস্তা। এরপর ৬টা ম্যাচ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটা গোল করেই যদি সে পুরস্কারটা পেয়ে যায় তাহলে বিশ্বকাপের বছরে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে এবং আর অন্য সবকিছু সেখানে গুরুত্বহীন।এই বিশ্বকাপ জয়ই বছরের সেরা কোচের স্বীকৃতি এনে দিতে পারে দেল বস্ককে। কিন্তু মরিনহোর কথা, ‘আমি বুঝতে পারছি পুরস্কারটা ভাগাভাগি হওয়ার একটা কথা উঠতে পারে। কিন্তু একজন যখন সবকিছু জেতে তখন! আমি আর কী বলতে পারি? আমি আসলে ব্যালন ডি’অর জয়ের চেয়ে রোববারের ম্যাচ জয়কেই গুরুত্ব দেব।

পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

কাল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের নিউজিল্যান্ড সফর। ২০১০ সালটা একেবারেই ভালো যায়নি দুই দলের। মাঠে বাজে পারফরমেন্স আর মাঠের বাইরের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, দলীয় কোন্দলের ফলে একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট। খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই নিউজিল্যান্ডও। শেষ ১১টি ওয়ানডেতে জয়ের মুখ দেখেনি তারা। বাংলাদেশ আর ভারত সফরে গিয়ে ফিরতে হয়েছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়ে। সব মিলিয়ে সারা বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়েই একে অপরের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান।
বাংলাদেশ আর ভারতের কাছে ভরাডুবির পর অনেক পরিবর্তন এসেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে। অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে। কোচের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন মার্ক গ্রেটব্যাচ। তাঁর জায়গায় নতুন কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে জন রাইটকে। তাঁর অধীনে নিউজিল্যান্ডকে যে নতুন চেহারায় দেখা যাবে, সেটার কিছুটা ইঙ্গিত জন রাইট ইতিমধ্যেই দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ড দলটাকে নিয়ে একেবারে গোড়া থেকেই শুরু করতে চান সাবেক এই কিউই ওপেনার। তিনি বলেছেন, ‘কখনো কখনো আমরা এ রকম মনে করি যে কোচ একটা জাদুদণ্ড নাড়বেন, আর সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। কিন্তু আসলে এ রকম কিছু হয় না। আমি সাবেক অস্ট্রেলিয়ান কোচ বব সিম্পসনের কাছে অনেক দিন আগে কিছু জিনিস শিখেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, কোচিংয়ের মূলমন্ত্র হলো ব্যাটসম্যানকে আরও বেশি রান করতে আর বোলারদের আরও বেশি উইকেট নিতে সক্ষম করে তোলা।’ শুধু কোচিংয়েই না, নতুনত্ব দেখা যেতে পারে নিউজিল্যান্ড দলের ক্ষেত্রেও। টি-টোয়েন্টি সিরিজেই দেখা যেতে পারে ১৮ বছর বয়সী তরুণ পেসার অ্যাডাম মিলনেকে। তরুণ ক্রিকেটারদের দলে জায়গা না দেওয়ার একটা দুর্নাম আছে নিউজিল্যান্ডের। জন রাইটের হাত ধরে সেই দুর্নামটাও কিছুটা ঘুচতে পারে কিউইদের।
অন্যদিকে মাঠের পারফরমেন্সের থেকেও দলীয় কোন্দল, মাঠের বাইরের কেলেঙ্কারির দিকেই অনেক বেশি নজর রাখতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। কোচ ওয়াকার ইউনুস বলেছেন, ‘গত আট ১০ মাসে পকিস্তান ক্রিকেটে অনেক বাজে ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না। আমরা সব বিতর্কমুক্ত সুন্দর ক্রিকেট খেলতে চাই। এ মুহূর্তে আমাদের দলটা খুব ভালো অবস্থায় আছে। তারা নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।’
৫ ফেব্রুয়ারি ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটার মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাকিস্তানের এই নিউজিল্যান্ড সফর। এর মাত্র ১৩ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্বকাপ। সেই দিক থেকে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক আসরের আগে এটিই হবে তাদের শেষ প্রস্তুতি। আর এখানে ভালো পারফরমেন্স দেখিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্বাসও সঞ্চয় করেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাইবে দুই দলই।

মেলবোর্নের দর্শক নিয়ে ভাবছেন না স্ট্রাউস

বেশ ভালোমতোই জমে উঠেছে অ্যাশেজ সিরিজ। সমানে সমানেই লড়ে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্টটি শেষ হয়েছিল অমীমাংসিতভাবে। দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ও ৭১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তৃতীয় টেস্টে ২৬৭ রানের অসাধারণ জয় দিয়ে আবার সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ টেস্টে সেই ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস নিয়েই কাল মেলবোর্নে সফরকারী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। সেই সঙ্গে ইনজুরি কাটিয়ে অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের মাঠে নামাটাও কিছুটা বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে অসি শিবিরে।
অপরদিকে বাড়তি কিছু চাপ নিয়েই মাঠে নামতে হবে ইংল্যান্ডকে। তাদের প্রথম বাধা মেলবোর্নের সাম্প্রতিক ইতিহাস। এখানে সর্বশেষ ১১টি ম্যাচের ১০টিতেই জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আরেকটি হলো মেলবোর্নের দর্শক। কাল মাঠে রেকর্ডসংখ্যক ৯১ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ দলের এতগুলো সমর্থকের সামনে খেলতে নামা তো কিছুটা চাপেরই বটে! তবে এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত মনে হলো না ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউসকে। গতকাল অনুশীলন শেষে তিনি বলেছেন, ‘এটা সত্যি যে আমরা এত বিশালসংখ্যক দর্শকের সামনে এর আগে কখনো খেলিনি। কিন্তু তার মানে এই না যে আমরা ভয় পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা এটার জন্য খুব ভালোভাবেই প্রস্তুত আছি। কাজেই মাঠে আমদেরকে খুব বেশি অবাক হতে হবে না। এ মুহূর্তে আমি এই বক্সিং ডে টেস্টটা জেতা ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। এটা হবে আমাদের অন্যতম সেরা সাফল্য।’
ব্যাটিং লাইন আপে অন্য সবাই ভালো ফর্মে থাকলেও পল কলিংউডকে নিয়েই কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছে ইংলিশ সমর্থকেরা। গত তিনটি টেস্টে চার ইনিংসে মাত্র ৫৮ রান করতে পেরেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সেই তুলনায় ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলায় অনেকেই ইয়ান বেলকে ছয় নম্বরের বদলে পাঁচ নম্বরে নামানোর দাবি জানিয়েছিল। এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্ট্রাউস। ব্যাটিং লাইনআপের চেয়ে বরং বোলিং আক্রমণ নিয়েই বেশি ভাবছেন ইংলিশ অধিনায়ক। মেলবোর্ন টেস্টে তরুণ পেসার স্টিভেন ফিনের বদলে টিম ব্রেসনানকে দলে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। স্ট্রাউসের কথাতেও সে রকম ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও কাল টসের আগে মাঠ পরিদর্শন করেই শেষ সিদ্ধান্তটা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ডি স্ট্রাউস।

ক্রিকেটারদের আইপিএলে চায় পাকিস্তান

২০০৮ সালে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে খেলেছিলেন এক ডজনেরও বেশি ক্রিকেটার। পরের দুই বছর কেউ খেলার সুযোগ পাননি। গত বছর প্রায় ১০ জনের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নিলামেই তোলেনি আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজগুলো! তবে ২০১১ সালের আইপিএল আসরে নিজেদের ক্রিকেটারদের দেখতে চায় পাকিস্তান।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান অপারেটিং অফিসার সুবহান আহমেদ আজ করাচিতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পিসিবি। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতীয় বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছি, আইপিএলে খেলার জন্য ক্রিকেটারদের অনুমতি দিতে আমরা আগ্রহী। পাকিস্তানিদের আমরা আইপিএলে দেখতে চাই। কিন্তু এর জন্য অবশ্যই ভারতীয় বোর্ডের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।’
সুবহান আহমেদ জানান, আইপিএলের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী দুই দেশের বোর্ডের ক্লিয়ারেন্স না পেলে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা সেখানে খেলতে পারবেন না। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট বর্জন করে আসছে ভারত।

মুক্তিযুদ্ধ- নতুন প্রজন্ম ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা by ডা. এম এ করীম

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ডিসেম্বর এলেই বা মার্চ এলেই আমাদের তর্ক জমে ওঠে কে স্বাধীনতার ঘোষক আর কেই বা জাতির পিতা। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখেন এবং লেখার সময় বাটখাড়াটা তার দিকেই ভারী করে দেন। তাই লেখাটা বস্তুনিষ্ঠ না হয়ে একতরফা হয়ে ওঠে। আবার যে দল ক্ষমতায় আসে সে দল তার হয়ে লিখতে বসে।

খবর, কালের কণ্ঠের- খিলক্ষেতে আগুনঃ কয়েলের গুদামে রাতে কাজ হতো ঝুঁকিপূর্ণভাবে

খিলক্ষেতের নামাপাড়ার গুডনাইট মশার কয়েলের গুদামে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যারোসল ক্যান নষ্ট করার কাজ চলছিল ঝুঁকিপূর্ণভাবে। কিছুদিন পরপর রাতে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে এ কর্মযজ্ঞ চালানো হতো। কোনো একজন শ্রমিকের ধূমপানের সময় অসতর্কতা থেকে শুক্রবার রাতে অগি্নকাণ্ডের মতো বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানা গেছে_আহত শ্রমিক ও সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সূত্রে। গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগি্নদগ্ধ আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক- ভারতে বিহার রাজ্যের নির্বাচন by ফারুক চৌধুরী

কসময় বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সাধারণ কথা প্রচলিত ছিল, তা হলো, ‘যব তগ রহেগা সামোসা মে আলু। তব তগ রহেগা বিহার মে লালু।’ লালু হলেন ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, লালু প্রসাদ যাদব। তিনি বহু বছর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিহার রাজ্যে প্রবল প্রতাপশালী ক্ষমতাধর ছিলেন। এখন অবস্থা হলো এই যে বহুলাংশে নিরামিষাশী বিহারিরা তাদের সামোসায় আগের মতোই আলু খাচ্ছেন,

মুক্তিযুদ্ধ- স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথে by নুসরাত রাব্বী

‘আব্বা, আমি বড় হয়ে কী হব?’ পূর্ণ বিশ্বাস আর ভালোবাসা নিয়ে আব্বাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ছয় বছর বয়সী কন্যার প্রতি সমান বিশ্বাস আর ভালোবাসা নিয়ে আব্বা বলেছিলেন, ‘মা, তুমি পরমাণুবিজ্ঞানী হবে।’ আমার আব্বা শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মো. ফজলে রাব্বী। তিনিই একমাত্র বাঙালি বাবা নন, যিনি তাঁর মেয়ের সর্বোচ্চ সাফল্যের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই তিনি এক অসাধারণ বিজ্ঞানী—পূর্ব পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক—যিনি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দমননীতি থেকে তাঁর জাতির মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ- আমাদের আকাশ থেকে নক্ষত্র কেড়ে নিয়েছিল যারা... by আনিসুল হক

খন বিজয়ানন্দে হাসছে আমার বাংলাদেশ/লাল চেলী গায়ে, কী উদ্দাম। গমগমে/রাস্তাগুলো সারাক্ষণ উজ্জ্বল বুদ্বুদময়। শুধু আপনাকে,/ হ্যাঁ, আপনাকে মুনীর ভাই,/ডাইনে অথবা বাঁয়ে, কোথাও পাচ্ছি না খুঁজে আজ।/আপনার গলার চিহ্নিত স্বর কেন/এ শহরে প্রকাশ্য উৎসবে/শুনতে পাব না আর? সেই চেনা স্বর?
শামসুর রাহমান লিখেছিলেন এই কবিতা, রক্তাক্ত প্রান্তরে, ১৯৭২ সালে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে যখন বিজয়ের আনন্দে ভাসছিল বাংলাদেশ,

মুক্তিযুদ্ধ- মুক্তির মন্দির সোপান তলে by জাহীদ রেজা নূর

৪ ডিসেম্বর। তারিখটি শোকের। ১৯৭১ সালের এই তারিখটির কথা মনে এলেই চোখে ভেসে ওঠে কাদামাখা একটি মাইক্রোবাস। ভারী বুটের শব্দ। মাফলারে আড়াল করা চেহারা। হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। হ্যাঁ, সেদিন এভাবেই হানাদার বাহিনী ও আলবদরের সদস্যরা দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধ- আবেগ ছেড়ে বুদ্ধির পথই ধরতে হবে by আবুল মোমেন

হীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বরাবরই শোকের বার্তা বয়ে আনে। শোক থেকে শপথ, শপথ থেকে শক্তি পাওয়ার কথা বলি আমরা। তাঁদের স্বপ্নপূরণ ও আরব্ধ কাজ শেষ করার দায় কাঁধে চাপে আমাদের। এ কথাগুলোই ৪০ বছর ধরে আমরা বলছি, লিখছি। কিন্তু স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি, অসমাপ্ত কাজ শেষ হয়নি। পুরো ব্যাপারটা বাৎসরিক নিয়ম রক্ষার আনুষ্ঠানিকতায় শেষ হয়ে যায়।