Showing posts with label ওমর ফারুক. Show all posts
Showing posts with label ওমর ফারুক. Show all posts

Sunday, February 17, 2019

হলগুলোতে বিন্দুমাত্র সহাবস্থান নেই by ওমর ফারুক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী ১১ই মার্চ। ছাত্রলীগ চাচ্ছে এই নির্বাচন হলগুলোর ভেতরে ভোট কেন্দ্র হোক। ইতিমধ্যে হলে ভোট কেন্দ্র রেখে নির্বাচনের     তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বাকি ১৩টি ছাত্র সংগঠনের দাবি হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে যেন ভোট কেন্দ্র হয়। আর এ দাবি যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে ছাত্র সংগঠনগুলো এক হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর। ঢাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনাকালে মানবজমিনকে তিনি এ হুঁশিয়ারির কথা বলেন।
আন্দোলনের মাধ্যমে সম্ভব কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য এ ডাকসু নির্বাচন। শিক্ষার্থীরা জোরালো দাবি করলে তারা মানতে বাধ্য।
তিনি বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন দেখেছি। নিজের ভোট অন্য জন দিয়ে দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে এমন কারচুপি হলে, ডাকসু তো কোনো ব্যাপারই না। বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষমতাসীনদের দখলে। যার কারণে প্রার্থীদের মধ্যেই এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। এই জন্যই আমরা বলছি, প্রশাসন যদি আমাদের বলেন, হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র করবো এবং ডাকসুকে কার্যকর করো, তাহলে সবার মাঝে একধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকতো। কিন্তু সেই উৎসাহ-উদ্দীপনা ভোটার বা প্রার্থীদের মধ্যে নেই। যার কারণে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আগ্রহের জায়গাটা অনেক কম।
তফসিল নিয়ে কোটা আন্দোলনের এ ছাত্রনেতা বলেন, তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আমরা বাকি ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি নির্বাচনটা হওয়ার দরকার। প্রশাসনের অনেক দুর্বলতার সত্ত্বেও তফসিলকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আমরা চাচ্ছি সকল ছাত্রসংগঠন যেন ক্যাম্পাসে সহাবস্থান করার নিশ্চয়তা গ্রহণ করে প্রশাসন। অবাদে প্রচার-প্রচারণাও যেন চালাতে পারে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন আসছে, প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু এসব নিয়ে তেমন খুশি হওয়ার কারণ নেই। বিষয়টা অনেকটা লোক দেখানো। দুই দিন দেখে সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে বলার কোনো কারণ নাই। দেখতে হবে এই অবস্থানটা কত দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। এর বিপরীত হলগুলোতে বিন্দুমাত্রও সহাবস্থান আছে বলে আমার মনে হয় না। বিজয়-৭১ হল ছাড়া সবগুলো হলেই ছাত্রলীগের দখলে।
হলে ভোটকেন্দ্র না চাওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দশ বছর ধরে ক্ষমতা থাকার সুবাধে হলগুলোতে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য ও দখলদারিত্ব কায়েম হয়েছে। ফলে অনেকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে চাইবেও না, কারণ ভোট দিতে গেলে ঝামেলা হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা যে হলেই থাকুক না কেন তারা একাডেমিক ভবনে আসবেই। সেই জন্য আমরা বলেছি, ভোট কেন্দ্র যেন একাডেমিক ভবনে করা হয়। তাছাড়া হলগুলোতে এখনো অনেক বহিরাগত থাকে। অছাত্র আছে। তারা নির্বাচনের সময় পরিবেশটাকে নষ্ট করার চেষ্টা করবে। কিছুদিন আগে অছাত্রদের বের করতে গিয়ে ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়েছে প্রশাসন। সুতরাং এখনই এই অবস্থা, যদি হলে ভোট কেন্দ্র হয় তাহলে তো তারা টেবিল ছেড়ে দৌড়াবে।
এসব বিষয় নিয়ে নূরু বলেন, আমরা লিখিত দাবি জানিয়েছিলাম, দুঃখজনক হলেও সত্য এর কোনো সাড়া পাইনি। কিন্তু প্রশাসন যদি ছাত্রদের দাবি-দাওয়া একেবারই উড়িয়ে দেয়, তাহলে তো ছাত্রসংগঠনগুলো পাতানো নির্বাচনে অংশ নেবে না। আমরা বলেছিলাম দল নিরপেক্ষ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য কিছু শিক্ষকদের সমন্বয়ে প্রত্যেকটি টিমকে অত্যন্ত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হোক। সেটাও তারা এখন পর্যন্ত করেনি।
প্রচারণা নিয়ে তিনি জানান, বর্তমান গঠনতন্ত্রে বলা আছে ক্লাসে কোনো ধরনের প্রচারণা করা যাবে না। কিন্তু হল তো ছাত্রলীগের দখলে আছে, সেখানে আমরা কীভাবে গিয়ে প্রচারণা করবো। যার কারণে ক্লাসে না যাওয়া ছাড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটা খুব মুশকিলের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। সেটি নিয়েও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে নূরুল হক নূর জানান, আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। যদি সন্তোষজনক না হয়, পাতানো নির্বাচনে ছাত্রসংগঠনগুলো অংশগ্রহণ করবে না। ডাকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম, সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃফূর্তভাবে যদি নিজেরা অংশগ্রহণ না করতে পারে। তাহলে তো এ নির্বাচনের কোনো দরকার নেই।

Thursday, June 25, 2015

গাঁজা সোসাইটির শত কোটি টাকার সম্পদ বেহাতের আশঙ্কা by ওমর ফারুক

নওগাঁর গাঁজা উৎপাদনকারী পুনর্বাসন সমবায় সমিতির (গাঁজা সোসাইটি) কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন সমিতির সদস্যরা। সমিতির সাবেক নেতারা এর সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। আর সমিতির সাবেক নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে এর সম্পদ বেহাত হওয়ার ঝুঁকি দেখছেন জেলা প্রশাসক।
সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, আট বছর ধরে সমিতিতে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। এর ফলে সদস্যরা ভাতাসহ প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অ্যাডহক (অস্থায়ী) কমিটির দু-একজন সদস্য এবং নির্বাহী দায়িত্ব পাওয়া কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব তদন্তে কমিটি গঠিত হলেও দীর্ঘ পাঁচ মাসেও তারা কাজ শুরু করেনি।
লেখক ও গবেষক মো. খোসবর আলী লিখিত নওগাঁ জেলার ইতিহাস এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ শাসসুল আলমের এক প্রবন্ধ (রবীন্দ্র জার্নাল, সংখ্যা-১৫, ২০১৩) থেকে জানা গেছে, প্রধান দপ্তর ভবনসহ এই সমিতির নিজস্ব সম্পত্তির মধ্যে আছে ৪০ একর জমি। আছে ৪০টি দালানকোঠা, একটি হিমাগার, চারটি গোডাউন, একটি সরাইখানা, একটি মিটিং গ্রাউন্ড, তিনটি দাতব্য চিকিৎসালয়, ১১টি উচ্চবিদ্যালয়, তিনটি মসজিদ, একটি মন্দির, সাতটি বড় পুকুর ও একটি লেক। নওগাঁ সদরের বিভিন্ন জায়গায় এসব সম্পদ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তবে সমিতি বা সরকারি অন্য কোনো সূত্র থেকে সম্পদের পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়নি।
আগের কমিটির নেতারা এবং সমিতির সদস্যরা জানান, সমিতির নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় প্রয়াত সদস্যদের উত্তরাধিকারীরা অংশীদারত্বের দাবি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থায় সদস্যদের যথাযথ প্রাপ্য নিশ্চিত করতে গাঁজা সোসাইটি সম্পদ রক্ষা কমিটি গঠন করে আন্দোলনে নেমেছে।
গাঁজা সোসাইটি কী: সংগঠনটির জন্ম ব্রিটিশ আমলে। তখন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নওগাঁয় বাণিজ্যিকভাবে গাঁজার চাষ হতো। প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি ছিল গাঁজা চাষের আওতায়। এতে যুক্ত ছিলেন প্রায় সাত হাজার চাষি। জেলার কীর্তিপুর, বক্তারপুর, বর্ষাইল, হাঁপানিয়া ও তিলকপুর ইউনিয়নে এ মাদকের চাষ হতো। নওগাঁর এই গাঁজাচাষিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯১৭ সালে গড়ে তোলা হয় গাঁজা উৎপাদনকারী পুনর্বাসন সমবায় সমিতি লিমিটেড। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে সরকার গাঁজা উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন বন্ধ করার একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালে নওগাঁয় গাঁজার চাষ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই চাষের ওপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবারগুলোর একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায় তাদের সমবায় সমিতি। সেখান থেকে তারা সামান্য ভাতাও পেত।
অচলাবস্থার শুরু: গাঁজা উৎপাদনকারী পুনর্বাসন সমবায় সমিতি ও জেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বতর্মানে সমিতির সদস্য প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। ২০০৬ সালে সমিতির নির্বাচন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। সমিতির শেয়ারহোল্ডারদের তালিকা হালনাগাদ এবং ডেলিগেট-ব্যবস্থা (৫০ জন সদস্যের একজন প্রতিনিধি) বাতিল করে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন চেয়ে মোফাখখারুল ইসলাম নামের এক সদস্য হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সমবায় মন্ত্রণালয় অ্যাডহক (অস্থায়ী) কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সমিতির অংশীদারদের তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচন করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে সমিতির সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের ভার দিতে বলা হয়। কিন্তু তা করা হয়নি।
বর্তমানে তিন সদস্যের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মেহেদী উল সহিদ। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহসিন উদ্দিন ও জেলা সমবায় কর্মকর্তার প্রতিনিধি আতোয়ার রহমান।
নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর নওগাঁ সদরের সমবায় কর্মকর্তা কে এম সরওয়ার্দ্দীকে অতিরিক্ত জেলা অডিটর (রাজস্ব কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সমিতির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা করা হয়। তাঁর সময়ে সমিতির সম্পদ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গাঁজা সোসাইটি সম্পদ রক্ষা কমিটি সমবায় অধিদপ্তরে অভিযোগ করে। সমবায় মন্ত্রণালয় গত ১৮ জানুয়ারি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কমিটি কাজ শুরু করেনি।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোখলেছার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জানামতে, সেই কমিটি এখনো তদন্তকাজ শুরু করেনি। তদন্ত শুরু হলে আমি স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতাম।’
গত বৃহস্পতিবার থেকে সমিতির নির্বাহী পদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন সিদ্দিক। এর আগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেহেদী উল সহিদ এই পদে ছিলেন। নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কাজের জন্য অ্যাডহক কমিটির কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। তিনি কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।
সদস্যদের দাবি: সমিতির নির্বাচিত সাবেক পরিচালক ইমদাদুল হক বলেন, নির্বাচিত কমিটি থাকা অবস্থায় প্রত্যেক সদস্য প্রতিবছর দু-তিন হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন। সমিতির তহবিল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন স্কুল-কলেজে অনুদান দেওয়া হতো। ছাত্রবৃত্তি দেওয়া হতো। তিনটি দাতব্য চিকিৎসালয় ছিল। একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্র ছিল। এমনকি সমিতির টাকা থেকে রাস্তাঘাট, ব্রিজ পর্যন্ত করা হতো। বর্তমানে শহরের ছোট যমুনা নদীর ওপর নির্মিত লিটন ব্রিজ এই সমিতির টাকায় নির্মিত। কিন্তু এখন এর কোনো কিছুই হচ্ছে না।
নওগাঁ পৌরসভার কীর্তিপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমার মতো চাষিদের কষ্টের টাকায় তিল তিল করে জমানো সম্পদ আমার কোনো কাজে লাগে না। ভাতা তো দূরে থাক, নওগাঁ শহরে গেলে দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত পাই না। একসময় প্রতিবছর সমিতির সাধারণ সদস্যদের নিয়ে মিটিং গ্রাউন্ড (বর্তমানে নওগাঁ টেনিস গ্রাউন্ড) সভা ডাকা হতো। খাওয়া-দাওয়া হতো। তারপর সদস্যদের অংশীদার হিসেবে ভাতা দেওয়া হতো।’
দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ: গাঁজা সোসাইটি সম্পদ রক্ষা কমিটি অভিযোগ করেছে, সমিতির নির্বাহী পদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া রাজস্ব কর্মকর্তা কে এম সরওয়ার্দ্দী যেসব কাজ করেছেন, তা করার এখতিয়ার একমাত্র জেলা প্রশাসকের। পদাধিকারবলে ডিসিই সমিতির সভাপতি।
জানতে চাইলে কে এম সরওয়ার্দ্দী বলেন, ‘আমি অন্যায় কিছুই করিনি। ডিসি সাহেব যদি আমাকে কোনো কাগজে সই করতে বলেন, তাহলে আমি করব না? একসময় গাঁজা সোসাইটি সম্পদ রক্ষা কমিটির লোকজন ডিসির কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন। ডিসি সাহেব তাঁদের বলেছেন, আমি তাঁকে সই করতে বলছি।’
প্রথম আলোকে কে এম সরওয়ার্দ্দী বলেন, ‘একটি মহল সোসাইটির সম্পদ কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। তারাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অত্যন্ত কষ্ট করে সমিতির ২৬ একর জায়গা ধরে রেখেছিলাম।’
কে এম সরওয়ার্দ্দী বর্তমানে জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
সম্পদ রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা ময়নুল হক অভিযোগ করেন, একসময়ের বিভাগীয় সমবায় কর্মকর্তা অমিয় চন্দ্রের সময়ে সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের নির্বাহী ক্ষমতা পরিবর্তন করা হয়। এরপর কিছু অসৎ পরিচালকের যোগসাজশে সমিতির ১০টি বাড়ি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
উপদেষ্টা ময়নুল হক বলেন, ‘কেবল গত বছরই গাঁজা সোসাইটির সম্পদ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এই টাকা সমিতির তহবিলে জমা হওয়ার কথা। এই টাকাগুলো এখন কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।’
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাঁজা সোসাইটির যেসব বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ভাড়া বর্তমানে নওগাঁ শহরে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা করে হবে। অথচ সোসাইটির একটি বিল্ডিং স্কুলকে এবং একটি বিল্ডিং কলেজকে ভাড়া দেওয়া আছে প্রায় চার হাজার টাকা করে। বাকি ভবনগুলোর ভাড়াও তিন হাজার টাকার নিচে বলে জানা গেছে।
সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আবদুল কাদের সিদ্দিক বলেন, ‘প্রয়োজনে নতুন অ্যাডহক কমিটি করে অথবা সোসাইটির সদস্যদের তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। আমরা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। এতে সদস্যরা সমিতির সম্পদ বেহাত হওয়ার আতঙ্কে আছেন।’
জেলা প্রশাসক এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্তের জন্য আমাকে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো জানানো হয়নি। গাঁজা সোসাইটি সম্পদ রক্ষা কমিটি কিছুদিন আগে একটি অনুলিপি দিয়েছে। তবে সোসাইটির এসব নেতার কাছে ক্ষমতা গেলে সোসাইটির সম্পদ ঠিক থাকবে কি না, এ বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে।’

Thursday, November 6, 2014

নিয়োগবাণিজ্য! চট্টগ্রামে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন রেলশ্রমিক লীগের নেতারা by ওমর ফারুক

রেল শ্রমিকলীগের নিয়োগবাণিজ্য ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলেও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিয়োগে রেল শ্রমিকলীগের ৯৮১ নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়োগবাণিজ্যে রেল শ্রমিকলীগের একাংশের নেতারা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগসহ বিভিন্ন জেরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন রেল শ্রমিকলীগের একাংশ ও রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। এ নিয়ে মারামারি, হাতাহাতির মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।
শ্রমিকলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের ভাই ও গুডসের কার্ক সুমনের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় রেলের বিভিন্ন শাখায় চলছে মিছিল-সমাবেশ। সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন দাবির মধ্যে সুমনসহ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুমকিও দিয়েছেন নেতারা। তবে এ বিষয়ে জিএম (পূর্ব) বরাবরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ। এর আগে শ্রমিকলীগ নেতারা নিয়োগে সুযোগ-সুবিধা দিতে রেলভবনের সামনে মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও সেøাগান দিয়েছেন। প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে নিয়োগের অনেক নামের তালিকাও।
রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, অন্যায়ভাবে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ককে মারধর ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। এতে শ্রমিকলীগ নেতা হুমায়ুনের ভাই সুমনসহ দোষীদের শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে জানতে রেলওয়ে শ্রমিকলীগের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত হুমায়ুন কবিরকে ফোনে যোগোযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। তবে নিয়োগবাণিজ্যের সাথে জড়িত নন দাবি করে সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান আখন্দ বলেন, রেলের বর্তমান নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ রেখে দ্রুত নিয়োগ চূড়ান্তের দাবি জানান।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর রেল শ্রমিক লীগের সভাপতি মো: হুমায়ুন কবিরের ভাই পার্শেল কার্ক সুমনের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমানকে লাঞ্ছিত করা হয়। রেলওয়েকে গতিশীল করতে অব্যাহতভাবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নতুন নিয়োগ চলমান রাখতে সংগ্রাম পরিষদ দাবি করে আসছে।
এতে প্রধানমন্ত্রীর রেলওয়েতে আগমনকে স্বাগত জানানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং একজন শ্রমিক নেতার শোকসভায় উপস্থিত হতে সংগ্রাম পরিষদ নেতারা ওই দিন সকাল ৮টায় ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে রিটায়ারিং রুমের ৫ নম্বর কে অবস্থান করছিলেন। এতে পার্শেল কার্ক সুমনসহ ১০-১২ জন লোকসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসী কায়দায় মোখলেছুর রহমানকে তুলে নিয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফরমের পার্শেল অফিসসংলগ্ন স্থানে জীবননাশের হুমকিসহ চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এরপর রাত ১০টায় অজ্ঞাত স্থানে ছেড়ে দিলে পথচারীদের সহায়তায় চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। এরপর থেকেই চলছে রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সঙ্ঘাত।

Thursday, October 23, 2014

চট্টগ্রামে ৩০ বছর পুরনো ব্যবস্থায় চলছে বিদ্যুৎ বিতরণ- বিতরণ লাইনের অবস্থা নাজুক তির মুখে শিল্প খাত by ওমর ফারুক

ত্রিশ বছরের পুরনো বিতরণব্যবস্থা দিয়ে চলছে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা। দীর্ঘ সময় ধরে বিতরণব্যবস্থা উন্নয়নে কোনো প্রকল্প না নেয়ায় ওভারলোডেড হয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের অবস্থা বর্তমানে নাজুক হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ ভালো থাকলেও বিতরণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি তির মুখে পড়ছে শিল্প খাত। গত দশ বছরে চট্টগ্রামে পিডিবির গ্রাহকসংখ্যা সাড়ে তিন লাখ থেকে বেড়ে ছয় লাখ হলেও বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার উন্নয়নে নেয়া হয়নি কোনো প্রকল্প। এ সময়ে চট্টগ্রামে নতুন বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করায় বেড়েছে উৎপাদনও। কিন্তু চট্টগ্রামের আট হাজার ২৮ কিলোমিটার বিতরণব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির তেমন উন্নয়ন হয়নি। এর ফলে ঝড়বৃষ্টিতে তার ছিঁড়ে পড়া, অতিরিক্ত গরমে সরবরাহ লাইন ওভারলোডেড হওয়াসহ নানা কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাট বর্তমানে চট্টগ্রামে নিত্যদিনের ঘটনা।

>>চট্টগ্রামে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিদ্যুৎ ভবন ঘেরাও করেছে মহানগর বিএনপি। এসময় নগরীর আগ্রাবাদস্থ বিদ্যুৎ ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে দলটি। মানববন্ধন শেষে তারা চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ, দক্ষিণাঞ্চল এর প্রধান প্রকৌশলীকে স্মারক লিপি প্রদান করে।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সূত্র জানায়, পুরনো বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ হিসেবে সাড়ে ১২ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু অর্থসংস্থান না হওয়ায় এটির বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের সংস্কার, নতুন লাইন নির্মাণ, ১৮টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নবায়ন এবং ৩৩ ও ১১ কেভির সাতটি নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ফান্ড খোঁজা হচ্ছে।
শিল্প মালিকেরা বলছেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালাতে গিয়ে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে শিল্পমালিকদের। পুরনো বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হচ্ছে তৈরী পোশাক খাত। লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্প কারখানার ইকুইপমেন্টগুলো নষ্ট হচ্ছে, একই সাথে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে তিগ্রস্ত হবে। শিল্প খাতের উন্নয়নের স্বার্থে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থায় সংস্কার অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের কারণে অনেক েেত্র নির্দিষ্ট সময় শিপমেন্ট দিতে না পারায় বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক বিদেশী ক্রেতা এখন ভারত ও ভিয়েতনামে অর্ডার দিচ্ছেন। ফলে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প টিকিয়ে রাখার বিদ্যুৎব্যবস্থার আধুনিকায়ন দরকার।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন না হওয়ায় প্রতিদিনই তার ছিঁড়ে পড়া, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে দুর্ঘটনা, লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেও তার সুফল ভোগ করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিতরণব্যবস্থায় সংস্কার করা না হলে শিল্প উৎপাদন আগামীতে আরো বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

Thursday, October 16, 2014

চট্টগ্রামে শেখ মহিউদ্দিন হত্যার এক বছরে মামলার অগ্রগতি নেই by ওমর ফারুক

গত বছরের ৭ অক্টোবর চরপাথরঘাটায় শেখ মহিউদ্দিনকে (৪৮) প্রকাশ্য কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। অপরাধ ছিল গায়ে ফুটবল পড়া নিয়ে শিশুদের মারধরের প্রতিবাদ ও পরে সালিশি বৈঠকে মাতবরদের দাবি মোতাবেক দুই লাখ টাকা জামানত প্রদানে অস্বীকৃতি। এ কারণে ক্ষুদ্ধ স্থানীয় মহব্বত আলী গং তাকে খুন করে। শত বছর আগে ভিন্ন জেলা থেকে কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটায় বসত গড়ে ছিলেন শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পূর্বপুরুষেরা। মহিউদ্দিন হত্যা এক বছরে মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। নিহতের পরিবার বহিরাগত ও খুনিরা স্থানীয় ইস্যু তৈরি করে মামলায় রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনার আগে ৫ আগস্ট খেলার সময় পথচারীর গায়ে ফুটবল পড়াকে নিয়ে দুই পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার রেশ ধরে হত্যা করা হয় শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে। হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কুখ্যাত সন্ত্রাসী মহব্বত আলীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হলেও স্থানীয় ও বহিরাগত ইস্যুর প্রভাবে কর্ণফুলী থানা পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। এ কারণে বাদি পরিবারের আপত্তিতে মামলাটি তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে; কিন্তু গত এক বছরে অধিকাংশ আসামি রয়ে গেছে অধরা। তবে এলাকাতেই আছেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা। আসামিদের অবস্থানের ব্যাপারে সংবাদ দেয়া হলেও তাদের গ্রেফতারে পুলিশের কোনো সাড়া মিলছে না।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ রাজনৈতিক ও বিত্তবানদের তদবিরে মূল ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করছে। মামলার এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামিকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের সাথে আসামিদের এ সংক্রান্তে গোপন চুক্তি হওয়ার বিষয়ে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে। আর আসামিরা চলাফেরা করছে প্রকাশ্যে। এমনকি তারা রাতে নিজ নিজ বাড়িতেও অবস্থান করছে; কিন্তু পুলিশকে সংবাদ দেয়া হলে পুলিশ বাদি পরিবারকে এ ব্যাপারে নাক না গলানোর এবং তাদের বিরক্ত না করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন বাদি পরিবারের সদস্য ও নিহতের ছোট ভাই শেখ মোহাম্মদ ফয়সল। তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, আসামিদের সাথে পুলিশ আঁতাত করে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক আসামিরাই মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নামে অন্য এক আসামিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ তাকে আদালতে উত্থাপন করেন। আদালতের কাছে ওই আসামি পুলিশের শিখিয়ে দেয়া মোতাবেক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। তাতে মূল পাঁচ-ছয় আসামি এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না বলে আদালতের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানান তিনি। এর মাধ্যমে আসামিদের বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ছাড়া গত এক বছরে আটক তিন আসামির মধ্যে একজনকেও রিমান্ডে না নেয়ার অভিযোগ করা হয়। তারা বলেন, আসল ঘটনা পুলিশ উদঘাটন করেছে বলেই হয়ত আসামিদের রিমান্ডে নেয়নি; কিন্তু এক বছরে মামলার চার্জশিটও দেয়া হয়নি। কিন্তু কেন সময়পেণ করা হচ্ছে তা-ও অজানা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ইছানগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে শিশুরা খেলার সময় বলটি নুরুল আলম নামে এক ব্যক্তির গায়ে পড়ে। এরই সূত্র ধরে শিশুদের মারধরের প্রতিবাদ করায় কয়েক যুবকের সাথে মহব্ববত আলীর অনুসারীদের হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষ হয়। ঘটনার পর থেকে উভয় পরে মধ্যে সালিস মীমাংসার জন্য বৈঠক হয়। সালিসে মহিউদ্দিনের কাছ থেকে সালিসকারীরা দুই লাখ টাকা জামানত দাবি করেন; কিন্তু প্রতিপ মহব্বত আলী থেকে কোনো জামানত চাওয়া হয়নি। এ কারণে দাবিকৃত টাকা মহিউদ্দিন জমা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ুব্ধ হয় প্রতিপ। এর পরে একটি মামলার নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজিরা দিতে সকাল ৯টায় ঘর থেকে বের হয়ে রিকশায় কর্ণফুলী নদীর ঘাটে যাওয়ার পথে প্রকাশ্যে মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে খুনের পর পাশের ড্রেনে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দু’টি গ্র“পে মোট ১৮-২০ সদস্য কিলিং মিশনে অংশ নেয়। ঘটনার দিন সকালে মহিউদ্দিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার গতিবিধির ওপর নজরদারি করা হয়। কর্ণফুলী ডকইয়ার্ড গেটে পৌঁছামাত্র হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্য লামিয়া তাবাচ্ছুম নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনার পর স্থানীয়রা খুনিদের বিচার দাবি করে এলাকায় ব্যাপক পোস্টারিং, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন; কিন্তু তাতেও প্রশানের টকন নড়েনি। নিহতের ভাই শেখ মোহাম্মদ ফয়সল অভিযোগ করেন, আসামিরা মামলা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের হত্যার ভয় দেখাচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে ঘুরছে আর নিহতের পরিবারের সদস্যদের রাস্তাঘাটে দেখলে উসকানিমূলক ও ব্যঙ্গ করে কথাবার্তা বলছে।
এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবাশিষ কোনো মন্তব্য করেননি।

Thursday, October 9, 2014

গ্রাম মেতেছে ঈদের আনন্দে : নগরী ফাঁকা by ওমর ফারুক

‘চিরচেনা সবুজের প্রতিটা বাঁকে, প্রিয়তমা প্রিয়জন সারাণ ডাকে’Ñ প্রিয়তমা আর প্রিয়জনের ডাকে শহরের কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক মানুষেরা ঈদের ছুটিতে ছুটে এসেছেন গ্রামে। মমতাময়ী মা, স্নেহময় বাবা, আদরের ভাই-বোন আর ছোটবেলার খেলার সঙ্গীদের প্রিয় সান্নিধ্যে। প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে তাই বাঁধভাঙা ঈদ আনন্দে মেতেছে গ্রাম। নিখাদ এ আনন্দের ঝলকানিতে রাতের আঁধারেও ফুটেছে রঙিন আলো। জেগে উঠেছে গ্রাম। গ্রামীণ জনপদে লেগেছে আনন্দের ছোঁয়া। স্বজনদের সম্মিলন হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের প্রতিটি গ্রাম। ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামে শহরবাসী কারো কারো স্বল্পকালীন উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট জীবনধারায় এনে দিয়েছে দ্যোতনা। শৈশবের স্মৃতিঋদ্ধ জনপদ স্বল্প সময়ের জন্য এনে দিয়েছে ভিন্ন আমেজ। ভিন্ন চিত্র ছিল চট্টগ্রাম মহানগরীতেও। খোলা ও ফাঁকা নগরীতে প্রাণখুলে চলতে পেরেছে নগরবাসী। কোথাও কোনো যানজট ও জনজট নেই। ছিল না লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। সর্বত্র ছিল মুক্ত হাওয়ার মুক্ত প্রাণের প্রতিধ্বনি।
গতকাল বুধবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে অফিস-আদালত খোলা ছিল; কিন্তু সুমসাম নীরবতা ছিল নগরজুড়ে। অফিস-আদালত খুললেও ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র চাক্তাই, খাতুনগঞ্জসহ পুরো নগরীর সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত হয়ে উঠতে আরো কয়েক দিন লাগতে পারে। ব্যতিক্রম রয়েছে বন্দর পরিস্থিতি। ঈদের ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দরে পুরোদমে কাজ চলেছে। বন্দরের বিভিন্ন জাহাজে আমদানি-রফতানি পণ্যের কনটেইনার ওঠানামা করেছে। বন্দর থেকে ডেলিভারিও পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল। ঈদের টানা চার দিনের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটননগরী কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম। চার দিকে সাজ সাজ রব ও উৎসবের আমেজ।
প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার নানা অনৈক্যের বাতাবরণ ঝেড়ে ফেলে কোরবানির ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামের গ্রামগুলো আনন্দে ছিল উদ্বেল। উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে গ্রামগুলো। স্বজনদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের সহপাঠী ও গ্রামের বন্ধুবান্ধব বহু দিন পর একসাথে হয়ে মেলে ধরেছে স্মৃতির ডালা। ইট-পাথরের গড়া নগরজীবনের নানা ভোগান্তি আর বুকে চাপা সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিয়েছে একে অপরের সাথে।
এ দিকে নগরীর অনেকের দুঃখ এ মুক্ত পরিবেশের স্থায়িত্ব না হওয়া নিয়ে। নগরে বেড়াতে আসা পটিয়ার ফরিদা আকতার ফারিন বললেন, এমন স্বাচ্ছন্দ্যময় নগরী কার না ভালো লাগে? কিন্তু এই নগরী তো আমাদের চেনা জানা পথ নয়। এই চিত্র তো অস্থায়ী। আর ক’দিন পরই তো কোলাহল বেড়ে যাবে নগরীতে। উবে যাবে নগরীর এই মুক্ত হাওয়ার মুক্ত প্রাণ। তবে প্রাণবন্ত আমেজের এই নগরীতে ভোগান্তি, দুর্ভোগ ও কষ্টের কমতি ছিল না। ফাঁকা নগরীতে বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ঈদের দোহাই দিয়ে যেভাবে পারছে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। যাত্রীরাও একপ্রকার বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছে। এবারের কোরবানির ঈদে ভিন্ন চিত্র অবলোকন করা হয়েছে। দেশের অন্য জেলার অনেকেই এবার নিজেদের গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে ঈদ করেছে চট্টগ্রামে। সড়কের বেহাল অবস্থা, ট্্েরনের টিকিট কালোবাজারে চলে যাওয়া, একইভাবে বেসরকারি বাসের টিকিটও ট্্েরনের টিকিটের মতো কালোবাজারি জেঁকে বসা, ঈদে বিআইডব্লিউটিসির লঞ্চের চরম স্বল্পতাসহ নানা কারণে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি। এমনই একজন আশুগঞ্জের সাব্বির আহমদ। তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, ১০ বছর যাবৎ ঈদুল আজহা করেছি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে, এবার সড়কের অবস্থা ভালো না থাকায় চট্টগ্রামেই ঈদ করেছি। আর্থিক অনটনের কারণেও অনেকে বাড়িতে না গিয়ে নগরে থেকে গেছেন বলে জানালেন একটি বেসরকারি অফিসের পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম।
ঈদের একটানা চার দিনের ছুটির আমেজে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এখনো উপচে পড়া ভিড়। টানা ছুটির ফলে ফাঁকা নগরীতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো নির্মল আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শিশুপার্কগুলো শিশু-বুড়ো, তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে একাকার হয়ে গেছে। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে বিনোদন কেন্দ্রগুলো ফিরে পেয়েছে প্রাণ।

Sunday, July 14, 2013

কী হচ্ছে অনুপ চেটিয়ার?এ সপ্তাহেই ভারত ফেরার খবর, ঢাকা নীরব by মেহেদী হাসান ও ওমর ফারুক

বাংলাদেশের কারাগারে আটক ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা (ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম) নেতা অনুপ চেটিয়াকে ফিরিয়ে দেওয়া ইস্যুতে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল।

Thursday, July 11, 2013

নৈতিকতা শিখিয়ে দুর্নীতি রোধ!সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল by আবুল কাশেম ও ওমর ফারুক

আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি রোধের নানা চেষ্টা হয়েছে। তার সবই গেছে বিফলে। এবার তাই সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা শেখানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

Monday, June 10, 2013

সৌদিতেও দৌরাত্ম্য দেশি দালালের by ওমর ফারুক ও হায়দার আলী

দেশে অতীতে যাঁরা পাসপোর্ট করেছেন তাঁদের বেশির ভাগেরই দালালের খপ্পরে পড়ার কমবেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু সে তো দেশের চিত্র। এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর সৌদি আরবেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পড়তে হচ্ছে দালালের খপ্পরে।

সৌদিতেও দৌরাত্ম্য দেশি দালালের by ওমর ফারুক ও হায়দার আলী

দেশে অতীতে যাঁরা পাসপোর্ট করেছেন তাঁদের বেশির ভাগেরই দালালের খপ্পরে পড়ার কমবেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু সে তো দেশের চিত্র। এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর সৌদি আরবেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পড়তে হচ্ছে দালালের খপ্পরে।

Saturday, May 11, 2013

কে এই রেশমা by জাহাঙ্গীর সুমন ও ওমর ফারুক

তিন বছর আগে কাজের সন্ধানে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসেন রেশমা। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেছেন তিনি। স্বামী রাজ্জাকের সঙ্গে একসাথে সাভার বাজার রোডের নুর মোহাম্মদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

Saturday, February 2, 2013

সরকারি উদ্যোগে বেসরকারি 'ছুরি'-ট্যুরিস্ট ও শিক্ষার্থী ভিসায় মালয়েশিয়া পাঠানোর হিড়িক by ওমর ফারুক ও হায়দার আলী

'আমার মোফাজ্জল গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় পৌঁছছে। ফোনে কথা হইছে।' মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদককে এভাবেই বলছিলেন যশোরের মণিরামপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের মা তাছলিমা বেগম।

Saturday, January 19, 2013

হুইপ পেটানোর পুরস্কার! by ওমর ফারুক ও রেজোয়ান বিশ্বাস

বিএনপি নেতা ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পেটানো বর্তমানে লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) পাচ্ছেন। চলতি বছর পুলিশ সপ্তাহে ৬৭ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছে নির্বাচক কমিটি।

Tuesday, January 15, 2013

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড-তদন্তে নতুন মোড় by ওমর ফারুক

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা ঘটনার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। এত দিন ধারণা ছিল, প্রথমে খুন করা হয় মেহেরুন রুনিকে, পরে খুন করা হয় সাগর সরওয়ারকে।

Wednesday, January 2, 2013

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি by সজীব মিয়া ও ওমর ফারুক

শুক্রবার সকাল। ঘন কুয়াশায় ঢাকা বরিশালের প্রকৃতি। শহরের তাপমাত্রা কমে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে জবুথবু অবস্থা। এর মধ্যেই বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের নাসিমুজ্জামান মিলনায়তন চত্বর হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।

Sunday, November 18, 2012

আইনি সহায়তা চান নাফিসের মা-বাবা by ওমর ফারুক

শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টা। ড্রইংরুমে বসে আছেন আমেরিকায় এফবিআইয়ের হাতে আটক বাংলাদেশি নাফিসের মা-বাবা। চোখ তাঁদের টেলিভিশনের পর্দায়। একটি বেসরকারি টিভিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার বক্তব্য দেখাচ্ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মজিনা বলেন, নাফিস কোনো সহযোগিতা চাচ্ছে না।

Sunday, November 11, 2012

আ. লীগে গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না মোবারকের by ওমর ফারুক

ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিয়েও পার পাচ্ছেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোবারক হোসেন। ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সংস্থার সদস্য কয়েক মাস আগেও এলাকায় গিয়ে তদন্ত করে এসেছেন।

Saturday, November 10, 2012

পিলখানা ট্র্যাজেডি-সাজা ভোগকারীরা নজরদারিতে-আজ সেই ভয়াল ২৫ ফেব্রুয়ারি by ওমর ফারুক

সেই ভয়াল ২৫ ফেব্রুয়ারি আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (তৎকালীন বিডিআর) সদর দপ্তরে বিদ্রোহীদের বুলেট কেড়ে নিয়েছিল ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের প্রাণ। আকস্মিক এই ঘটনার শোকে স্তম্ভিত হয়েছিল সারা দেশ। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সকাল সাড়ে ১১টায় পিলখানায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Saturday, September 8, 2012

কারা কর্তাদের সহায়তায় রাজার হালে ওরা by ওমর ফারুক

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বন্দিরা রাজার হালে আছেন কারাগারে। খাবার-দাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তাঁদের নিয়মবহির্ভূতভাবে। ওই বন্দিরা বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। সেই সব কারাগারে তাঁদের ভালোভাবে রাখার জন্য আইজি প্রিজন্স নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন।

Saturday, August 25, 2012

অপরাধীদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে by ওমর ফারুক

কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী, জঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীর 'ডেটাবেইস' তৈরি করছে র‌্যাব। কারাগারে থাকা পাঁচ শতাধিক অপরাধীর ডেটাবেইস এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তথ্যভাণ্ডার তৈরি শেষ করার পর র‌্যাবের দল যাবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে।