Tuesday, November 27, 2018

‘খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের মামলায় দণ্ড স্থগিত চেয়ে বিএনপির পাঁচ নেতার রায়ের পর তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে মাহবুবে আলম বলেন, ‘যারা আবেদন করেছিলেন তারা সবাই দণ্ড প্রাপ্ত এবং দণ্ড থেকে তারা মুক্তি লাভ করেনি এবং তাদের ৫ বছর সময়ও অতিবাহিত হয়নি। এমন অবস্থায় যদি তাদের দণ্ড স্থগিত করে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয় তা হবে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
এ কারণেই আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনও সুযোগ থাকলো না।’ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই, এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। এখানে দুটি শর্তের একটি হলো- কেউ যদি দণ্ডিত হন তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আর মুক্তি লাভের পর ৫ বছরের আগে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এই দুটি প্রতিবন্ধকতাই রয়েছে। এখন কোন আদালত রায় দিয়ে এই সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারে না। কেননা আমাদের আপিল বিভাগ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান দ্বারা তৈরি।
সংবিধানের মাধ্যমে ওই আদালতকে চলতে হয়। কাজেই কোন আদালত সাংবিধানিক বিধি বিধানকে অগ্রাহ্য করতে পারে না।’ আপিল বিভাগ দণ্ড স্থগিত করতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নে মাহবুবে আলম বলেন, ‘এটি আইনগত বিষয়। আপিল বিভাগ কী করবে সেটি আমি বলতে পারি না। আমার বক্তব্য হলো  সংবিধান ওপরে।’ সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, সাবেক মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও বর্তমান মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার আপিল বহাল থাকাবস্থায় নির্বাচন করেছিলেন সেটি কি বেআইনি ছিল কিনা- এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এরশাদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে। তার সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে গিয়েছিল। আর অন্য দুজনের মামলায় একই ধরনের সাবমিশন রাখা হয়েছিল কিনা তা আমি বলতে পারব না। আর সেটি বেআইনি ছিল কিনা সেই ব্যাখ্যাও এখন আমি দিতে পারব না। আদালতে যদি এই প্রসঙ্গ আসে তখন আমি আমার বক্তব্য পেশ করব।’

নতুন সূর্য উদয়ের অপেক্ষায় কিউবা: সমাজতন্ত্র নির্মাণই সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্য by অনিম আরাফাত

গত আগস্ট থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের কমিউনিস্ট রাষ্ট্র কিউবাতে দেখা যাচ্ছে নতুন এক চিত্র। দেশটির অধিবাসীরা একটি বিষয় নিয়ে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণে মেতে আছেন। দ্বীপরাষ্ট্রটির সর্বত্রই সরকার আয়োজিত সভায় জোগ দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল, স্কুল ও পার্কগুলোতে সংবিধানের নতুন খসড়া সমপর্কে আলোচনা করতে জড়ো হচ্ছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এ সংবিধানটি পাস হলে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের গত ৪ দশকের মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে চলেছে এটি। নতুন এ খসড়ায় যা রয়েছে তার মধ্যে সব থেকে আলোচিত হচ্ছে, সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা, ব্যক্তিগত মালিকানার স্বীকৃতি ও সাম্যবাদী দেশ গঠনের ধারণা বর্জন। ইতিমধ্যে জনমতামত নেয়ার পর্যায়টি শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান পরিবর্তনে কাজ শুরু হয়েছে জাতীয় পরিষদে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কিউবার জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে?
কি ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে?
কয়েক দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তন কিউবাকে বাধ্য করেছে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা থেকে কিছুটা বের হয়ে পৃথিবীর অন্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তাল মিলাতে। কিউবার বর্তমান সংবিধানটি সোভিয়েত আমলে প্রণয়ন করা হয়েছিল। গত জুলাই মাসে দেশটির পার্লামেন্ট সংবিধান পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় এবং এর খসড়া তৈরি করে। তারপর থেকে একে দেশের জনগণের রায়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। খসড়া অনুমোদনের সময় কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-ক্যানেল বলেন, কিউবার প্রত্যেক নাগরিক তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে। এই সংবিধানই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে রচনা করবে। ইতিমধ্যে দেশটির কর্মকর্তারা সমগ্র দেশ থেকে মানুষের মতামত হস্তলিখিত নোট আকারে সংগ্রহ করেছে। এখন আইনপ্রণেতারা এই জনরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান পরিবর্তন সমপর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
নতুন এ সংবিধান সংশোধনের ফলে এখন থেকে কোনো প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ দুইবার নির্বাচিত হতে পারবেন। এরমধ্যে, প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময় তাকে অবশ্যই ৬০ বছরের কম বয়স্ক হতে হবে। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে, নতুন এ সংবিধান প্রনয়নের মাধ্যমে মূলত একটি সাম্যবাদী সমাজ তথা কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে ত্যাগ করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এ সংবিধান এক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে পারবে না। প্রথমত ব্যাপক সংস্কার সত্ত্বেও সমাজতন্ত্রের কথা ফেলে না দিয়ে বরং নতুন করে সাজানোর বিষয়টি উঠে এসেছে এখানে। একইসঙ্গে কিউবা পূর্বের মতোই শুধু কমিউনিস্ট পার্টি অব কিউবার শাসনেই থাকছে। একদলীয় রাষ্ট্র হিসেবে কিউবার পরিচয় রাতারাতি মুছে যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই কমিউনিস্ট পার্টিই রাষ্ট্রটির রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। জাতীয় পরিষদের সভাপতি ইস্তেবান লাজো হারনান্দেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, কিউবার নেতৃত্ব সবসময়ই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা দ্বন্দ্বের সমাপ্তি হবে?
কিন্তু নতুন এই পরিবর্তন কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার সমপর্ক উন্নয়নে সাহায্য করবে? ১৯৫৯ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অহি-নকুল সমপর্ক। বিপ্লবী কিংবদন্তি ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় বসার পর থেকেই এই দ্বন্দ্বের শুরু। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বাতিস্তা সরকারকে উৎখাত করে নাকের ডগায় সোভিয়েতপন্থি এ রাষ্ট্রটি তখন মার্কিনিদের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায়। কিউবার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কিউবা ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে সমপর্ক তলানিতে পৌঁছায় ১৯৬১ সালের সিআইএ পরিচালিত বে অব পিগস অপারেশনের পর। সে বছর প্রায় ১৫০০ অত্যন্ত দক্ষ সিআইএ সেনা এই অপারেশনে অংশ নিয়েছিল। এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করে কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানো। সে অভিযানে অংশ নেয়া সিআইএ এজেন্টরা কিউবার সেনাদের হাতে ধরা পড়ে এবং পরে তাদেরকে হত্যা করা হয়। একে ধরা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসের সবথেকে ব্যর্থ গোয়েন্দা অভিযান হিসেবে। এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দেড় হাজারেরও বেশি এজেন্ট নিহত হওয়ার ক্ষতি এখনো পুষিয়ে নিতে পারেনি দেশটি। এরপর ১৯৬২ সালে কিউবার মিসাইল সংকটের সময়ও দেশদু’টির সমপর্কে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
দীর্ঘকাল এমন বৈরী সমপর্ক থাকার পর ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রচেষ্টায় কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু ডনাল্ড ট্রামপ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ সমপর্ক পুনরায় খারাপ হতে শুরু করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কিউবার এ সংবিধান পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমপর্ক স্থাপনে যথেষ্ট হবে না। কিউবায় এখনো কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণে একদলীয় শাসন ব্যবস্থাই থেকে যাবে। তাই যুক্তরাষ্ট্র নিজেও সমপর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হবে না।
কিউবার অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?
১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবার অর্থনীতি ধাক্কা খায়। দেশটি ব্যাপক মাত্রায় সোভিয়েত ইউনিয়নের দেয়া মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সাহায্যের উপর নির্ভর করতো। কিন্তু সোভিয়েত পতনের পর এ সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার অর্থনৈতিক অবরোধও কিউবার অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ২০০৬ সালে ফিদেল ক্যাস্ত্রো তার ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। রাউল ক্যাস্ত্রো তখন দেশটিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক পরিবর্তন সাধন করেন। এর ফলে দেশটিতে স্বল্প মাত্রায় বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যক্তিগত সমপত্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়। মুক্ত বাজার ও ব্যক্তিগত সমপত্তির ধারণাগুলো এর আগে কিউবার কমিউনিস্ট নেতাদের দ্বারা ব্যাপক সমালোচনার শিকার হলেও এখন এই ধারনাগুলোকেই জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে দেশটিতে। তবে এর উদ্দেশ্য সেই সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠাই বলে জানানো হচ্ছে। তবে শুধু অর্থনৈতিক পরিবর্তনই নয়, চীন ও ভিয়েতনামের মতো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মতো নিজের আধুনিকায়নের চেষ্টাও করবে। তবে কিউবার নেতারা এখনো ব্যক্তিগত সমপত্তি ও বৈষম্যমূলক সমাজের বিষয়ে চিন্তিত। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এ সকল পদক্ষেপ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। একই সঙ্গে দেশটি পৃথিবীর অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গেও বাণিজ্যিক সমপর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে এ মাসে প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ ক্যানেল রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও লাওস সফর করেন। এ দেশগুলোকে কিউবায় বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলাই এ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। এছাড়াও রয়েছে দেশটির মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন। সব মিলিয়ে কিউবায় আগামীতে কতখানি পরিবর্তন আসতে চলেছে- তা সময়ই বলে দেবে।

যে তিন কারণে মুনাফা কমছে গার্মেন্টস শিল্পে by শফিকুল ইসলাম

প্রতিনিয়ত উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, সে তুলনায় বাড়ছে না উৎপাদিত তৈরি পোশাকের দাম। সঙ্গে কমছে তৈরি পোশোকের চাহিদাও। এই তিন এ কারণে কমছে আয়। আর এই আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেটাতে না পেরে ক্রমশ বন্ধ হচ্ছে দেশের ছোট ও মাঝারি তৈরি পোশাক কারখানা। এভাবে চলতে থাকলে তৈরি পোশাক খাতে একসময়  অন্ধকার নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশের ছোট ও মাঝারি সাইজের তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। তবে এসব মন্তব্য মানতে নারাজ তৈরি পোশাক খাতের সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, রানা প্লাজা ধসের পর অনেকেই মনে করেছিলেন যে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প আর টিকবে না। কিন্তু এখনও যেহেতু এ খাত টিকে আছে সেহেতু আর কোনও দুঃসংবাদ আসবে না। এ খাতের ভবিষ্যৎ ভালো বলেও জানান তারা।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গত চার বছরে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে ৮ শতাংশ। পণ্য উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দর কমেছে গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ। এই তিন প্রতিকূলতায় বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের মুনাফা কমেছে।
সূত্র জানায়, গার্মেন্টস পণ্যের মুনাফা কমার এই তিন কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পোশাকের রফতানি প্রবৃদ্ধি ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে। গত অর্থবছরে তা আবার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অথচ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের বছরেও রফতানিতে প্রবৃদ্ধি এতটা কম ছিল না। ওই বছরের এপ্রিলের পর জুন পর্যন্ত তিন মাসের খারাপ সময় সত্ত্বেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাকশিল্পে গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৯৬৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। চাকরি হারিয়েছেন কয়েক লাখ শ্রমিক। একই সময়ে সংকুচিত হয়েছে পোশাক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ। রানাপ্লাজা ধসের পর থেকে  কম্প্লায়েন্সসহ নানা ইস্যুতে ছোট ও মাঝারি আকারের এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে পণ্যের দাম।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রানাপ্লাজা ধসের পর বিদেশে বাংলাদেশের পোশাক খাতবিরোধী প্রচারণা, ক্রেতাদের বিভিন্ন শর্তা আরোপ, চুক্তিতে অন্য কারখানায় কাজ করানোর সুযোগ কমে যাওয়া ইত্যাদি কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রমতে, বিজিএমইএর নিবন্ধিত তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা ৬ হাজার ১৯৬টি। এর মধ্যে বিভিন্ন জটিলতায় বিজিএমইএ নিবন্ধন বাতিল করার কারণে ১ হাজার ৭৬৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এই সংখ্যা বাদ দিলে বিজিএমইএ’র নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৩১টি। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়েছে আরও ২০০টি। সর্বোপরি বর্তমানে সক্রিয় কারখানার সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০টি।
সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রামে ২০১৩ সালে ১৪১টি, ২০১৪ সালে ২১২টি, ২০১৫ সালে ১৩৭টি, ২০১৬ সালে ১৩৫টি এবং ২০১৭ সালের চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৫৩টি কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে বিজিএমইএ।
তৈরি পোশাক খাতের অপর একটি সূত্র জানায়, গত ৪ বছর ধরে পোশাক খাতের চলমান সংস্কার চাপে উৎপাদন থেকে ছিটকে পড়েছে তিন হাজারেরও বেশি কারখানা। এসব কারখানা এখন উৎপাদনে নেই। অনেক কারখানাই বন্ধ। এর মধ্যে বিজিএমইএ থেকে বাদ পড়েছে মোট এক হাজার ১৬৩টি কারখানা। বিকেএমইএ থেকে বাদ পড়া এবং সংস্কার চালাতে রাজি না হওয়া- এ দুই কারণে ৮০০ কারখানা এখন আর উৎপাদনে নেই। পোশাক খাতের সংস্কার বিষয়ক ইউরোপের ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড থেকে বাদ পড়েছে ১৪৪টি। অপর ক্রেতাজোট উত্তর আমেরিকার অ্যালায়েন্স থেকে বাদ পড়েছে ১৫৭টি কারখানা। অর্থাৎ সংস্কারে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই জোটের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৩১১টি কারখানা। দুই ক্রেতা জোটের বাইরে অন্য ক্রেতাদের রফতানি আদেশ সরবরাহ করা হয় এ রকম এক হাজার ৮২৭টি কারখানার সংস্কার চলছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) অধীনে।
ছোট ও মাঝারি সাইজের কারখানা বন্ধের পেছনে যেসব কারণ বিদ্যমান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কারখানা সংস্কারে অর্থ সহায়তা হিসেবে আইএফসি, জাইকাসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণদানে পৃথক একটি তহবিল করেছে। তহবিলের সহায়তা উদ্যোক্তাদের হাতে এসে পৌঁছাতে সুদ বেড়ে তা ৯ থেকে ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ কারণে উদ্যোক্তারা ঋণ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে নামেমাত্র অর্থ সহায়তা দিয়েছে অ্যাকর্ড। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কয়েকটি কারখানাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে। এর বাইরে সরাসরি আর কোনও অর্থ সহায়তা দেয়নি ক্রেতারা। তাই কারখানাগুলোকে শর্ত অনুযায়ী সংস্কার করতে পারেনি অনেক কারখানা মালিক। শর্ত অনুযায়ী কারখানা সংস্কার করতে ব্যর্থ হওয়ায় কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।
বিজিএমইএ নেতারা জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে ঠিকই, তবে সার্বিকভাবে দেশে পোশাক কারখানার সংখ্যা কমছে। কারণ যে হারে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, সেই হারে নতুন কারখানা গড়ে উঠছে না। একইভাবে সাভারের রানাপ্লাজা ধসের পর থেকে বিদেশি খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের বড় ক্রেতারা অংশীদারি ভবনে অবস্থিত কারখানা থেকে পোশাক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আগে বড় কারখানাগুলো বিপুল পরিমাণ রফতানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করতে অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানাকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করিয়ে নিতো। এখন ক্রেতারা সাব-কন্ট্রাক্টে চলা এসব কারখানার কর্মপরিবেশও আন্তর্জাতিক মানের কিনা তা যাচাই করছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে তৈরি পোশাক খাতের ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো হয়তো কিছু সমস্যা মোকাবিলা করছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার ভবিষ্যৎ যতো বলা হয় ততোটা খারাপ নয়। বাংলাদেশে ক্রমশই গ্রিন ফ্যাক্টরির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে কমপ্লায়েন্স কারখানা। সেইসঙ্গে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধাও বাড়ছে। যদি পরিস্থিতি খারাপই হতো তাহলে বিশ্বমানের কারখানা বাংলাদেশে এতো বাড়তো না।’ তবে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

১৮ কাশ্মিরি নিহতের প্রতিবাদে সর্বাত্মক বনধ পালিত, জেকেএলএফের বিক্ষোভ

জেকেএলএফের পক্ষ থেকে মোমবাতি ও মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের আহ্বানে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে। বনধকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মিরের সমস্ত লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের প্রধান সাইয়্যেদ আলীশাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক ও মুহাম্মাদ ইয়াসীন মালিকের সমন্বিত যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আজ (সোমবার) বনধের ডাক দেয়া হয়।
যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের এক মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় গত তিন দিনে ১৮ জন কাশ্মিরি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে কাশ্মির উপত্যকায় বনধের ডাক দেয়া হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইয়াসীন মালিক, সাইয়্যেদ আলীশাহ গিলানী ও মীরওয়াইজ ওমর ফারুক
আজ বনধকে কেন্দ্র করে সমস্ত দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গণপরিবহণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মীদের হাজিরায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, কাশ্মিরে গেরিলা ও বেসামরিক মানুষজন নিহত হওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে গতকাল (রোববার) সন্ধ্যায় যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ চত্বরে মোমবাতি জ্বালিয়ে, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডসহ প্রতিবাদ জানানো হয়।
সর্বাত্মক বনধ পালিত
অন্যদিকে, জেকেএলএফের পক্ষ থেকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সন্ধ্যায় মৈসুমার লালচক ও কোকেরবাজারে মোমবাতি ও মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। জেকেএলএফ নেতাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী অবাধে হত্যাকাণ্ড ঘটানোয় কাশ্মির কার্যত বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে।

কলম সৈনিক মঈনুল আলম by মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন

পঞ্চাশ বছর কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন মঈনুল আলম। সাংবাদিক জগতে তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন বললে অত্যুক্তি হবে না। ক্যাম্পেইন  জার্নালিজম এবং একটিভিস্ট জার্নালিজম প্রবর্তন করেছিলেন তিনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি মঈনুল আলম যুক্তরাষ্ট্রের এ রুটগার্স ইউনিভার্সিটি তে ১৯৭৫সালে পোস্ট-গ্রাজুয়েট এবং কলম্বিয়া স্কুল অব জার্নালিজম ইন মিসৌরি  তে ডিজাস্টার রিপোর্টিং বিষয়ে গবেষনা করেছেন। সাংবাদিকতা জগতে  মঈনুল  আলম প্রথমে সাব-এডিটর  হিসেবে চট্টগ্রাম এর দৈনিক ইস্টার্ন এক্সামিনার এ   যোগদান করেন ১৯৫৬ সালে। সেখানে ৪বছর কাজ করার পর চট্টগ্রাম এর একটি দৈনিকে নিউজ এডিটর হিসাবে যোগদান করেন ১৯৬০ সালে।  ১৯৬০ সালে বহুল প্রচারিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় মঈনুল আলম কে চট্টগ্রাম এর সংবাদদাতা এবং বিসনেস রিপ্রেজেনটিভ হিসাবে নিযুক্ত করা হয়।
মঈনুল আলম এর সাংবাদিক জীবনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো তিনি ইউনাইটেড স্টেটস প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এর প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ এর সামিট কভার করেছেন ১৯৮৭সালে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে ময়েইনুল আলম একমাত্র সাংবাদিক ছিলেন।
এই সামিট এর উপর মঈনুল আলম বই লিখেছেন। এই বই লিখবার জন্যে প্রেসিডেন্ট রিগান সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
মঈনুল  আলম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।  মঈনুল আলমের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে। আমি তখন কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা রেডিও পাকিস্তানে চট্টগ্রাম রেডিও অফিসে কর্মরত। মঈনুল আলম ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে নিউজ এডিটিং বিষয়ে ১৯৬৪ সালে ডিপ্লোমা করেন। মঈনুল আলম ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতের আগরতলায় পাড়ি জমান। সেখানে প্রশিক্ষনরত মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতা করেন তিনি।  
জার্মানির বার্লিন শহরে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট থেকে জার্নালিজম ট্রেইনার সংক্রান্ত সার্টিফিকেট লাভ করেন ১৯৭৫ সালে। মঈনুল আলমই সম্ভবত একমাত্র সাংবাদিক যিনি ব্রিটিশ সরকারের নিমন্ত্রণে ইউনাইটেড কিংডম এবং ফিলিপিনো সরকারের নিমন্ত্রনে ম্যানিলা  সফর করেন। ১৯৮৫ সালে ওয়েস্ট জার্মানি সফরের সময় মঈনুল আলম দুই  জার্মানির একত্রিত হওয়ার আসন্ন সম্ভবনা সম্পর্কে লিখেছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের অধীনে চার সদস্যের সাংবাদিক প্রতিনিধি দল আসিয়ান কান্ট্রি সফরে যান ১৯৭৯ সালে। এই দলে মঈনুল আলমও ছিলেন। আমি এ সময়ে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। মঈনুল আলম সাংবাদিকতার পাশাপাশি কনজিউমার ইকোনোমিস্ট নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রেস কমিশনের সদস্য ছিলেন এবং প্রেস কমিশনের সুপারিশ সমূহ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট আয়োজিত সেমিনার এ মফস্বল সংবাদদাতার ভূমিকার উপর বক্তব্য পেশ করেন। মঈনুল আলম শুধু একজন কৃতী সাংবাদিকই ছিলেন না, একজন কৃতী চিত্র শিল্পীও ছিলেন তিনি। ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক পেইন্টিং এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত হয়। মঈনুল আলম সেখানে আমন্ত্রিত হন। তার পিস সংক্রান্ত পেইন্টিং রিকগনিশন লাভ করে এবং ফ্রান্স এর ফার্স্ট লেডি ম্যাডাম  মিথরা মঈনুল আলমের প্রশংসা করেন ।
আমার সাথে মঈনুল আলম এর পরিচয় হয় ১৯৬৩ ডিসেম্বর মাসে। আমি তখন কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা রেডিও পাকিস্তানের  চিটাগাং রেডিও  অফিসে কর্মরত। ডিসেম্বর ১৯৬৪ পাকিস্তান এর প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান চিটাগাং সফরে আসেন। পতেঙ্গা বিমান বন্দরে ছয়জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেম। এর মধ্যে মঈনুল আলম একজন এবং আমি। 
মঈনুল আলম ১৯৯৫ সাল থেকে কানাডার টরন্টো শহরে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রীও একজন শিল্পী। ভালো সীতার বাদক ছিলেন তিনি।
১৮ই জুন মঈনুল আলম ইন্তেকাল করেন। ৯ই অক্টোবর নার্গীসুল আলম আমাকে মৃত্যুর সংবাদ দিলেন। ৮১ বৎসর বয়সে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।
মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানে ফ্লাইট বাড়াবে কাতার এয়ারওয়েজ

তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানে পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে কাতার এয়ারওয়েজ।
কাতারের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এই বিমান পরিবহন সংস্থা গতকাল (সোমবার) এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, তারা আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দোহা ও ইরানের ইস্পাহানের মধ্যে সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এ ছাড়া, জানুয়ারি থেকে শিরাজ ও তেহরানে পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
এয়ারলাইনের প্রধান নির্বাহী আকবার আল-বাকের বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর আগে গতমাসে আল-বাকের ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের ওপর আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করে যাবে কাতার এয়ারওয়েজ।
এয়ারলাইন্সটির প্রধান নির্বাহী আরো বলেন, “বিমান খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া যায় না। ইরানের যেসব শহরে আমাদের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে সেগুলো চলবে।” তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব ইরানে কাতার এয়ারওয়েজের তৎপরতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
চলতি মাসের গোড়ার দিকে ইরানের ওপর আমেরিকার দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ওয়াশিংটন হুমকি দিয়ে বলেছে, যেসব দেশ বা কোম্পানি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ওয়াশিংটনের এই হুমকির মুখে এরইমধ্যে ইরানে পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মতো প্রখ্যাত বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো।

ঐক্য ধরে রাখতে পারলে জনগণের বিজয় নিশ্চিত: ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, অপশাসন দূর করতে জনগণের যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা সুসংহত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই জনগণের বিজয় নিশ্চিত।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দলের এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে সুশাসন, জনগনের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমার দল ও জোট কাজ করছে।যারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার বিরুদ্ধে কথা বলবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী।
ওদিকে, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো দাবি নির্বাচন কমিশন মানেনি, তারপরেও শুধু জনগণের ভোটের অধিকার আদায় করতে তারা নির্বাচনে যাচ্ছেন। এই কমিশনের অধীনে নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে সে নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আজ সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য  করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি উল্লেখ করেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সরকারকে দাবি দিয়েছিলাম, সরকারের সঙ্গে সংলাপ করেছি। নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছি কিন্তু তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরোন্ত তারা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করেছেন। আমরা বারবার বলেছি কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা করা প্রয়োজন তা তারা করতে পারেননি। প্রশাসনে রদবদলের কথা বলেছিলাম। তাও হয়নি। ইভিএম বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। সেটাও করা হচ্ছে না। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই বলেছেন যে, পুলিশ যা করছে তা তার নির্দেশেই করছে। তার মানে এখন সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের যে গ্রেফতার করা হচ্ছে সেট্ও তার নির্দেশেই করা হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন,  প্রধান নির্বাচন কমিশনার  (সিইসি) র বোনের ছেলে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী হয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা পদে নিয়েআগ পেয়ে  সিইসি দেশের বাইরে গেলে  প্রবাসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এর মাধ্যমে সিইসি’র রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। 
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা  আরো বলেন, সিইসি নিজেই যখন নিরপেক্ষ নন তখন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া,  নির্বাচন নিরপেক্ষ হবার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের যে সন্দেহ রয়েছে তা দূর করতে কমিশন কোন পদক্ষেপও নেয়নি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ অবস্থায় জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা, গণজাগরণ সৃষ্টি করা এবং সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন,বর্তমান নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে না ।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে চেতনা বাংলাদেশের উদ্যোগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা আর হিজড়ার কাছে সন্তান আশা করা
আলাল বলেন, নির্বাচন কমিশন  সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মতো  যা খুশি তা করতে পারবে না। কারণ ৩০০ আসনে একই দিনে নির্বাচন হলে প্রতি কেন্দ্রে গড়ে দুজন করে পুলিশ পড়বে। আর নির্বাচনের এজেন্টরা যতই চেষ্টা করুক দু’জন পুলিশ দিয়ে নির্বাচনে দুর্নীতি করতে পারবে না। যদি জাতীয়তাবাদী মানুষেরা সজাগ থাকে।

আয়ারল্যান্ডে কঠিন সঙ্কটে বাংলাদেশী দেলোয়ার দম্পতি

আয়ারল্যান্ডে কঠিন এক সঙ্কটে বাংলাদেশী মোহাম্মদ দেলোয়ার ও তার পরিবার। একদিকে তার অসুস্থ সন্তান। অন্যদিকে ঘরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। এ অবস্থায় তাদেরকে দেখাশোনা করার কেউ নেই। উপায়হীন হয়ে দেলোয়ার বাংলাদেশে অবস্থানকারী তার শাশুড়িকে আয়ারল্যান্ডে নেয়ার চেষ্টা করেন। বার বার তার আবেদন ফেরত দেয় আয়াল্যান্ডের দিল্লি দূতাবাস। এ অবস্থায় কঠিন এক সঙ্কটের মুখে তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আইরিশ টাইমস।
দেশটির কর্ক শহরে বসবাস করেন বাংলাদেশি দ¤পতি মোহাম্মদ দেলোয়ার এবং সুমাইয়া রশিদ সামান্তা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি শাশুড়ি সালমা রশিদের জন্য ভিজিটর ভিসার আবেদন করেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দিল্লিতে অবস্থিত আয়ারল্যান্ডের দূতাবাস তার আবেদন বার বার না-মঞ্জুর করছে। নিরুপায় দেলোয়ার এখন আইরিস সরকারের কাছে ভিসা মঞ্জুরের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আইরিস টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেলোয়ার জানান, তার স্ত্রী সামান্তা গর্ভবতী। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তিনি দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। ডায়াবেটিস বেড়ে যাবার  কারণে সামান্তা মাতৃত্বজনিত নানান  জটিলতায় ভুগছেন। এর ওপর এক বছর বয়সী ছেলের জন্মগত কিডনির সমস্যা থাকায় একই সময়ে তারও অস্ত্রোপচার করা হবে। সব মিলিয়ে এসময় শিশুটিকে দেখাশোনা করার মতো কাউকে প্রয়োজন। এজন্য তারা ভিজিটর ভিসায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার শাশুড়ি সালমা রশিদকে আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যেতে চান। এজন্য অক্টোবরের মাঝামাঝি অবেদনও করেন আয়ারল্যন্ডের দিল্লি দূতাবাসে। সেখানে বাংলাদেশিদের ভিসার আবেদনও তদারক করা হয়। তবে সমস্ত সঠিক তথ্য দেয়া সত্ত্বেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই দ¤পতিকে জানানো হয়, পর্যাপ্ত অর্থের নথি দিতে না পারায় তাদের আবেদনটি না-মঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া ভিসা আবেদন না-মঞ্জুর করার আরেকটি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সালমা রশিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পেশাগত ঘাটতি রয়েছে। 
এরপর দেলোয়ার হোসেন দ¤পতি সালমা রশিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৬ হাজার ইউরো দেখিয়ে পুনরায় আবেদন করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, সালমা রশিদ বিবাহিত জীবনে সুখী এবং  বাংলাদেশে তার ১৫ বছরের একটি  ছেলে রয়েছে। যার কারণে তাকে বাংলাদেশে ফেরত যেতে হবে। দিল্লি দূতাবাসের ভিসা অফিসারকে লেখা এক চিঠিত তিনি বার বার উল্লেখ করেন, আমার ছেলের স্বাস্থ্যগত অসুস্থতা এবং একই সময় আমার স্ত্রীর দ্বিতীয় সন্তান জন্মদানের কারণে আমাদেরকে সহায়তা করতেই মূলত তিনি আয়ারল্যান্ড আসবেন। এছাড়াও ভিসা বাতিল হওয়ায় তার পারিবারিক চিকিৎসকের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ কর হয়। এ বিষয়ে একটি চিঠি এবং কর্ক ইউনিভার্সিটি ম্যাটার্নিটি হাসপাতালের পক্ষ থেকে সামান্তার মাতৃত্বকালীন ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি চিঠি দেন। তিনি আরো বলেন, আমি নিশ্চিত করছি যে, ভিসায় উল্লেখ করা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। তিনি আয়ারল্যান্ডের সরকারি অর্থের ব্যবহার করবেন না।
দেলোয়ারের ওই শিশু সন্তানের অপারেশনের চারদিন আগে গত ১২ই নভেম্বর এই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন ভিসা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যার জন্য আবেদন করা হয়েছে তিনি ভিসার মেয়াদ পরবর্তীতেও আয়ারল্যান্ডে থেকে যাওয়ার বাস্তবিক ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও তার শাশুড়ির ব্যাংক একাউন্টে হঠাৎ করে প্রচুর অর্থের উৎস কি সে স¤পর্কেও পরিষ্কার ধারণা দেয়ার অনুরোধ করেন। এর জবাবে দেলোয়ার আইরিশ টাইমসকে বলেন, এ অর্থ তার নিজের কিছু জমানো অর্থ ও তার শ্বশুরের জমানো অর্থ। গত সপ্তাহে যখন লেডিস চিলড্রেন হাসপাতালে তার সন্তানের অপারেশন চলছিল তখন ফোনে দেয়া সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন দেলোয়ার। টানা ৫ ঘন্টা চলে ওই অপারেশন। 
দেলোয়ার হোসেন জানান, আমার শাশুড়ি এদিন আমাদের পাশে থাকবেন বলে আশা করেছিলাম। পরিবারের দেখাশোনার জন্য আমাকে হয়ত চাকরিটি ছেড়ে দিতে হতে পারে। কিন্তু তারপর কি হবে? আমার স্ত্রী এখন বলছেন, আমাদের আয়ারল্যান্ডে চলে আসাটা বড় ভুল ছিল। রাস্তায় কুকুর নিয়ে যখন মানুষ হেঁটে যায়, তা দেখে আমার স্ত্রী আমাকে বলেন, এখানে আমাদের পরিবারের থেকে এই কুকুরগুলোর সঙ্গেও বেশি ভালো আচরণ করা হয়।
ভারতে অবস্থিত আয়ারল্যান্ডের দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেনকে নতুন করে আবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আয়ারল্যান্ডের বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা কোন ব্যক্তিবিশেষের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করবেন না। তিনি বলেন, ব্যক্তিবিশেষের ‘মেরিটের’ ওপর নির্ভর করে সব ভিসা বিবেচনা করা হয়। স্বল্প মেয়াদের শতকরা ৯০ ভাগ ভিসা সারাবিশ্বের জন্য অনুমোদন করা হয় ২০১৭ সালে।  তিনি আরো বলেন, আইরিস ন্যাচারালাইজেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জরুরি ঘটনাগুলোকে প্রধান্য দেয়। এর ফলে দেলোয়ার হোসেন যদি নতুন করে আবেদন করেন, তাহলে তারা তা অগ্রাধিকার দেবেন।

শীঘ্রই আরব রাষ্ট্রগুলোর মিত্র হতে চলেছে ইসরাইল

আরব রাষ্ট্র বাহরাইনের সঙ্গে স¤পর্ক স্থাপনে আগ্রহী ইসরাইল। ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। ইসরাইলের চ্যানেল টু জানিয়েছে, আরব রাষ্ট্র চাদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এটিই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র চাদের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম ইসরাইল সফর। রোববার প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবি জেরুজালেমে পদার্পন করেন। তার সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের প্রতি আরব রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। এ সময় তিনি গত মাসে তার ওমান সফরের কথা উল্লেখ করেন। সে সফরে নেতানিয়াহুকে ওমানের সুলতান সায়িইদ কাবুস তার রাজ প্রাসাদে আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন।
রোববার নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের জানান, অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোতেও শীঘ্রই একইরকম সফর করতে যাচ্ছেন তিনি। হানি মারযুক নামে একজন মুখপাত্র বলেন, আরব রাষ্ট্রগুলোর ইসরাইলের সঙ্গে স¤পর্কোন্নয়ন প্রমাণ করে আমরা ইতিহাসের ভুল শুধরাতে সঠিক পথেই আছি। এসময় তিনি জানান, আরব রাষ্ট্র বাহরাইন এখন নেতানিয়াহুর পরবর্তী গন্তব্য। ইসরাইল মনে করে আরব বিশ্ব বৃহৎ ও বৈচিত্রময়। তাই আমরা আরব বিশ্বের সঙ্গে স¤পর্কোন্নয়নে আগ্রহী।
এদিকে, ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী এলি কোহেনকে আমন্ত্রন জানিয়েছে বাহরাইন। আগামী বছর সেখানে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। এখনো প্রকাশ্যে শুধুমাত্র মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে ইসরাইলের কুটনৈতিক স¤পর্ক রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে শীঘ্রই স¤পর্ক স্থাপিত হতে চলেছে। অপরদিকে, ইরানকে মোকাবেলা করতে আরব রাষ্ট্রগুলোও ইসরাইলের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

আমি আপনাদের সন্তান, সুযোগ দিন

এ নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার। দেশে এখন বাক স্বাধীনতা নেই। ভোটবিহীন সরকার। ভোটবিহীন মন্ত্রী ও এমপিকে  জনগণ আর দেখতে চায় না। আসন্ন নির্বাচন দেশ, মানুষ ও দেশের সম্পদ বাঁচানোর নির্বাচন। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে এই ভোট যুদ্ধের আন্দোলনে নেমেছি। এই ঈমানী দায়িত্ব পালনের আন্দোলনে আপনারাই আমার শক্তি। আপনারাই আমার সাহস ও অনুপ্রেরণা।
আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদেরই ভাই ভাতিজা ও স্বজন। আমি গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য, চলমান এই দুঃশাসন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য দেশ বরেণ্য রাজনীতিবিদদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। আপনাদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা পেলে আমরা অবশ্যই সফল হব ইনশাআল্লাহ। আমাকে আপনারা সুযোগ দিন। ভোটের মাধ্যমে সহযোগিতা করুন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এই নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের মানুষ ও উন্নয়নের স্বার্থে এই নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এখানে আবেগ তাড়িত হয়ে নিজের মহামূল্যবান ভোট হেলায় ফেললে হবে না। মনে রাখতে হবে একটি ভোটই একটি আন্দোলনের হাতিয়ার। আর এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপনার তীব্র প্রতিবাদ। তাই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্র্থীদের চাইতে ভোটারদেরও দায়িত্বশীল ও সুনাগরিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। গতকাল ঢাকা থেকে ট্রেনে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পৌঁছালে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন সাবেক ডাকসুর ভিপি, এমপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। কোনো আয়োজন ছাড়াই দল মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় জমান। এ সময় বাসা বাড়ির ছাদ ও দোকানের সামনে থেকে ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে হাত নেড়ে স্বাগত  জানান। তাকে স্বাগত জানাতে আসা আগত ভক্ত, সমর্থক, অনুসারী, বিএনপি ও জোট নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, এই সরকার দেশের বারোটা বাজিয়েছে। দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। পিলখানায় ৫৭ জন আর্মি অফিসার নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন এই সরকারের সময়ে। শাপলা চত্বরের নির্মমতা এখনো কেউ ভুলেনি। শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, হলমার্কসহ সব উন্নয়নের উৎস ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই ভোটের মাধ্যমে আপনাদের মহামূল্যবান রায়ের মাধ্যমে এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে না বলতে হবে। বিদায় জানাতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি পেতে হলে সব ভেদাভেদ আর দলাদলি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি স্থানীয় উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমি এমপি থাকাকালে যে উন্নয়ন হয়েছিল আজ প্রায় দুই যুগ পরও সে উন্নয়ন আর কুলাউড়াবাসী দেখেনি। তাই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য আজ থেকে আপনারা একেক জন সুলতান মনসুর হয়ে গ্রামে-গঞ্জে, পাড়ায় মহল্লায় ছড়িয়ে পড়তে হবে।
মানুষকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য বুঝাতে হবে, অনুপ্রাণিত করতে হবে। এখন দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্ন যাচ্ছে। এই দুঃসময় থেকে মুক্তি পেতে দেশ বাঁচাতে, দেশের মানুষ ও সম্পদ বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুলতান বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমি রাজনীতি করছি। উদ্দেশ্য দেশ জাতি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। আমি সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছিলাম। কিন্তু নানাভাবে মিথ্যা অভিযোগে আমাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু আমি রাজনীতির শিক্ষা নিয়েছি। আমি রাজনীতি থেকে মানব কল্যাণের দীক্ষা নিয়েছি। তাই আমি দমবার পাত্র নই। আমাকে দমিয়ে রাখা যাবেও না। আমি আপনাদের সন্তান আপনাদের ভালোবাসাই আমার চলার পথের পাথেয়। আমি মন্ত্রী বা এমপি হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না।
মানুষের সেবাই আমার রাজনীতির লক্ষ্য। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী অনুসারী ও সমর্থকরা ‘আমাদের সুলতান-আমাদের সন্তান, সুলতান তোমার ভয় নাই-আমরা আছি লক্ষ ভাই’ এ রকম নানা স্লোগান দেন। সুলতান মনসুরের কুলাউড়ায় আগমনকে কেন্দ্র করে তার ভক্ত অনুসারী সর্মথক ও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন উজ্জীবিত। গতকাল দুপুরে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আসলে দীর্ঘদিন থেকে বিভক্ত কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির দু’টি অংশই ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে ফুল ও ধানের শীষ দিয়ে স্বাগত জানায়।

আইন সমানভাবে প্রয়োগ না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে -মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নিরপেক্ষভাবে আইনের প্রয়োগ না করলে সে আইন আইন নয়, সেটা কালো আইন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না করলে সে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। নির্বাচন কমিশন কখনো তা চায় না। গতকাল নির্বাচন ভবনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের এক ব্রিফিংয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে এ ব্রিফ করে নির্বাচন কমিশন। ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে মাহবুব তালুকদার বলেন, একটা কথা বলা হচ্ছে, নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে।
এই কথাটা অবশ্যই ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে। কারণ আইনকে নিজস্ব পথে চলতে না দিলে, নির্বাচন কখনো আইনানুগ হতে পারে না। সুতরাং যখনই আমরা বলবো নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে, তখনই তার সঙ্গে এটাও বলতে হবে, আইনকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে।
এটা করার দায়িত্ব আপনাদের। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আরো বলেন, আফ্রিকান একজন রাজা অভিনব কায়দায় বিচার করতেন। একটা গ্লাসে সরবত, একটাতে বিষ আরেকটাতে পানি রাখা হতো। দোষীরা আসতো। বিষ পান করলে মারা যেতো। পানি পান করলে অব্যাহতি পেতো। আর সরবত পান করলে পুরস্কৃত হতো। অনেকে তার বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
উত্তরে রাজা বলেছিলেন, আমি তো রাজা, বিচারক নই। আমি তো বিচারের আইনকানুন কিছু জানি না। যিনি অপরাধী তার বিচার করেন ভাগ্য বিধাতা। আমি পুরোটাই ভাগ্য বিধাতার হাতে ছেড়ে দিয়েছি। কারণ এই বিচারে তিনিই আসল বিচারক। সেই রাজার বিচার ব্যবস্থা এখন আর নেই। এখন বিচারকরাই বিচার করে থাকেন। বিচারকরাই ভাগ্য বিধাতার প্রতিভূ। ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আপনাদের (ম্যাজিস্ট্রেট) দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলার নেই। আপনারা সততা, আন্তরিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। আইনের ব্যবহার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।
মাহবুব তালুকদার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব অপরিসীম। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটদের সমান দায়িত্ব। যারা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন তারা যারাই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আপনারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জ্যেষ্ঠ এ নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমরা শপথ গ্রহণ করলেও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরাও আমাদের নির্বাচনী শপথের অংশীদার। শপথ আমরা গ্রহণ করলেও নির্বাচন আমরা করি না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনারা (ম্যাজিস্ট্রেট)। আপনাদের মধ্যে শপথ সঞ্চালিত হয়ে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অংশগ্রহণমূলক, পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন হবে। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, সব রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।
সারা জাতি এই নির্বাচন নিয়ে উদ্দীপ্ত, উচ্ছ্বসিত। এই উদ্দীপনাকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এতে আপনাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেনাবাহিনীও আপনাদের অধীনে দায়িত্ব পালন করবে। শুধু দেশ নয়, বিশ্ববাসীও আমাদের জাতীয় নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।