Wednesday, October 31, 2018

যেসব কারণে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি এক সমাবেশে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য আমেরিকার প্রস্তাব ও তাদের অশুভ লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
তিনি আমেরিকার আলোচনার প্রস্তাবকে সেকেলে ও পুরানো কৌশল অভিহিত করে বলেন এর কোনো রাজনৈতিক মূল্য নেই। কারণ আমেরিকার একজন কর্মকর্তা বলছেন তারা বিনাশর্তে ইরানের সঙ্গে সংলাপে বসবে আবার আরেকজন পূর্বশর্ত আরোপের কথা বলছেন।  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রথম থেকেই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় না বসার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আলোচনার ব্যাপারে আমেরিকা বিশেষ চালাকি ও কূটকৌশল অবলম্বন করে থাকে এবং তা ধরতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এমন একটি দেশের সঙ্গে সংলাপে বসতে পারে কিনা এমন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, সত্যিকারের আলোচনা হতে হবে উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষার ভিত্তিতে। অর্থাৎ একতরফা হলে চলবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, "আমেরিকা সবসময়ই আলোচনার টেবিলে তার নিজস্ব সামরিক, প্রচার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং এভাবে তারা অন্য দেশের প্রতিরোধকে ব্যর্থ করে দেয়া ও আলোচনায় সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে।" আলোচনার টেবিলে আমেরিকাকে বিশ্বাস না করার বহু কারণ রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা উদাহরণ হিসেবে পরমাণ সমঝোতা কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ও শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার পর পরমাণু সমঝোতা অর্জিত হলেও এবং এর প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজ ও জাতিসংঘের সমর্থন থাকলেও আমেরিকা এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"
এ থেকে বোঝা যায়, আমেরিকাকে কখনো বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেয়। আমেরিকার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক হ্যালি ড্যাগার্স মনে করেন, "ইরানিরা পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনায় বিশ্বাসী। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু কষ্টে অর্জিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রমাণ করেছেন আমেরিকার প্রতি আস্থা রাখা যায় না।"
এ ছাড়া, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রেও আমেরিকার ছলচাতুরী ও কূটকৌশল প্রয়োগের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সবসময়ই প্রত্যাশা করেন প্রতিপক্ষ দ্রুত তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করুক যা কিনা সংলাপের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, "আলোচনার টেবিলে আমেরিকা কেবল মুখে প্রতিশ্রুতি  দেয় কিন্তু তারা প্রতিপক্ষের প্রতিশ্রুতি মানতে রাজি নয় বরং নগদ সুবিধা নিতে চায়।"
আলোচনার সময় আমেরিকা যে কৌশল অবলম্বন করে থাকে তা হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তিমত্ত্বাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এবং নিজের আসল লক্ষ্য উদ্দেশ্যের বিষয়টি পুরো গোপন রাখে। এমন কি আমেরিকা দরকষাকষি করতে কিংবা এককদম পিছু হটতেও রাজি নয়। প্রতিপক্ষরা অনেক সময় আলোচনার সময় কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও চেষ্টা করে যাতে আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা এ ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ হয়ে আছে। পরমাণু আলোচনার সময় আমেরিকা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার একটিও আজ পর্যন্ত পালন করেনি। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তিনি নতুন নতুন এমন কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন যার সঙ্গে পরমাণু আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। এ থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা আলোচনার সময় তাদের উদ্দেশ্যের বিষয়টি গোপন রাখে এবং চুক্তি সইয়ের পরও সুযোগ মতো চুক্তি লঙ্ঘন করে তাদের গোপন উদ্দেশ্যের বিষয়টি প্রকাশ করে। আমেরিকার এসব আচরণ আলোচনার নিয়ম নীতির সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা ছিল কেবলমাত্র ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সম্পর্কিত। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতার সঙ্গে ওই চুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই অপ্রাসঙ্গিক এসব ইস্যু উত্থাপন করেন। কিন্তু ইরান পরমাণু বহির্ভূত এসব অযৌক্তিক দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। আমেরিকা যে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় এ থেকেই তা প্রমাণিত হয়।
প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির একটি অন্যতম কৌশল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে এ কৌশল ব্যবহার করেছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করা এবং সর্বশেষ আমেরিকার ইচ্ছা অনুযায়ী আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ও চুক্তি সইয়ে বাধ্য করা। আমেরিকা সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার কৌশল প্রয়োগ করেছে। তবে উত্তর কোরিয়া ও আমেরিকার শীর্ষ নেতারা সিঙ্গাপুরে বৈঠকে মিলিত হলেও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের অনুরোধের বিরোধিতা করেছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, "উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনার যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল পিয়ংইয়ং তার বিরোধিতা করেছে।" পম্পেরও এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আমেরিকার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার আলোচনা ছিল একতরফা অর্থাৎ এতে কোনো ভারসাম্য ছিল না। কারণ আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো প্রতিশ্রুতি না দিয়েই পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকা যে অন্যায্য আচরণ করেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঠিক এ বিষয়ের উপরই ইঙ্গিত করে বলেছেন, "আমেরিকার কৌশল হচ্ছে নগদ সুবিধা আদায় করা।"
যাইহোক, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার প্রথম দিকে উত্তর কোরিয়া কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠলেও এখন তারা এটা বুঝতে পেরেছে আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকা কেবল নিজের স্বার্থই রক্ষার চেষ্টা করে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, বর্তমান অবস্থায় আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ফল পাওয়ার প্রত্যাশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার কৌশল প্রয়োগ করে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তার রাজনৈতিক বিজয় হয়েছে বলে মনে করছেন। এরপর তিনি ইরানের সঙ্গে বিনা শর্তে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। কিন্তু এ প্রস্তাবের মাত্র কয়েক ঘন্টা পরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য শর্ত বেধে দেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানান। অর্থাৎ এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে বোঝা যায় ইরানের ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ভালো করেই জানেন ইরান উত্তর কোরিয়ার মতো নয় এবং ইরান আমেরিকার ফাঁদে পা দেবে না। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের পরস্পর বিরোধী অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তাদের প্রতি কোনো আস্থা রাখা যায় না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, "বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরণের আলোচনা হবে না।"

Tuesday, October 30, 2018

তিনি নিজেই নাশকতা মামলার আসামি by কাফি কামাল

কিছুটা কৌতূহল রেখেই রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম। দিনটি ছিল ২৮শে অক্টোবর ২০১৫। ঠিক তিন বছর পর ২৭শে অক্টোবর ফের রাজনীতিতে ফিরেছেন। বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসরের সময় তিনি কারণ দেখিয়েছিলেন শারীরিক অসুস্থতা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছিলেন তখন তার আচমকা ওই ঘোষণায় বিস্ময় তৈরি হয়েছিল। রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নীরবে কাটিয়েছেন টানা তিনবছর। চলতি সপ্তাহে ফের রাজনীতির দৃশ্যপটে ফিরেছেন তিনি। তবে, এবার পুরোনো দল বিএনপি নয়, যোগ দিয়েছেন বিকল্পধারায়।
বিএনপিতে সবশেষ তার পদ ছিল ভাইস চেয়ারম্যান এবং তিনি ছিলেন দলটির কূটনীতিক উইংয়ের অঘোষিত প্রধান। বিকল্পধারায় যোগ দেয়ার পরদিনই তিনি পেলেন দলটির অন্যতম নীতিনির্ধারকের আসন।
বিএনপি থেকে পদত্যাগের সময় শারীরিক অসুস্থতার কথা বললেও রাজনীতিতে ফিরে এসে বলছেন ভিন্ন কথা। অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে লেখা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন- ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমি গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলাম। সে কারণে আমাকে বিভিন্ন সময় দেশে বিদেশে নানাবিধ চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে।
আমার বর্তমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে আমি অনতিবিলম্বে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবসর গ্রহণের প্রেক্ষিতে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সকল পদ থেকেও পদত্যাগ করলাম।’ তবে, সে চিঠিতে তিনি রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছিলেন। বলেছিলেন- ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে সামনে রেখে দেশ ও জাতীয় কল্যাণে কাজ করার প্রয়াস আমার চিরকাল থাকবে।’ কিন্তু রাজনীতিতে ফিরে তিনি বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে মতবিরোধ সৃষ্টি ও দলটির নাশকতার রাজনীতির কথা। বিএনপি থেকে পদত্যাগের ব্যাপারে কোনো মতপার্থক্য ছিল কী না- গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে শমসের মবিন বলেছেন, ‘মতবিরোধ কিছুটা তো অবশ্যই ছিল। যেমন সামপ্রদায়িক রাজনীতির প্রশ্নে। আমি আশা করেছিলাম যে, বর্তমান বাংলাদেশের কথা চিন্তা করে বিএনপি তার কাজেকর্মে এবং তার অবস্থানে আরেকটু অসামপ্রদায়িকতার দিকে চলে আসবে। সেসব বিষয়ে আমি বাধা পাচ্ছিলাম। আমার মনের মতো হচ্ছিল না।
দ্বিতীয়ত, নাশকতার রাজনীতিতে আমি মোটেও বিশ্বাস করি না। সেটা সবধরনের নাশকতা। পেট্রোলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে মারা হোক, বা লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মারা হোক।’ রাজনীতিতে ফিরে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক ও নাশকতার রাজনীতির অভিযোগ তুললেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি পররাষ্ট্র সচিব হন। সে হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তিনিই পালন করেছেন ওই সরকারের মুখপাত্রের দায়িত্ব। ২০০৫ সালে জোট সরকারের ক্ষমতার শেষদিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ পান।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরও কিছুদিন তিনি সে দায়িত্ব পালন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুইবছর দায়িত্বপালন শেষে ২০০৭ সালে অবসরে গিয়ে তিনি দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন ২০০৮ সালে। ২০০৯ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং দলটির কূটনীতিক উইংয়ের মুখ্যব্যক্তি হয়ে উঠেন। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির পক্ষেই বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক মহলে তৎপরতা চালিয়েছেন তিনি। সে সময় আন্দোলনমুখী বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়েছে হাজার হাজার। শমসের মবিন চৌধুরী নিজেও একাধিক নাশকতার মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছেন। 
২০১০ সালের ২৭শে জানুয়ারি হরতাল পালন করেছিল বিএনপি। হরতাল পালনের সময় মহাখালী থেকে গ্রেপ্তার করে পরদিন তাকে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছিল গুলশান থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল- হরতালের সময় রাস্তায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার। পরে ২০১০ সালের ২৭শে জুন হরতালের পিকেটিং করার সময় গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের কর্তব্য কাজে ও গাড়ি চলাচলে বাধাদান এবং পুলিশকে গলা টিপে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত এক মামলায় শমসের মবিন চৌধুরীকে আসামি করে গুলশান থানা পুলিশ। ২০১৩ সালের ৩০শে ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বাড়িতে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর শমসের মবিনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ। পরে রাতেই বেইলি রোডের গোয়েন্দা দপ্তর থেকে বাসায় ফেরেন তিনি। একদিন পর ২০১৪ সালের ১লা জানুয়ারি ফাঁস হয় তারেক রহমানের সঙ্গে তার ফোনালাপ।
২০১৪ সালের ২৪শে ডিসেম্বর রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘটেছিল একটি সংঘর্ষের ঘটনা। সে সময় মেডিকেল কলেজের সামনে নেত্রকোনা-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ছবি বিশ্বাসের গাড়িতে হামলা হয়। হামলায় তিনি আহত ও তার গাড়িটি জ্বালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত এক মামলায় শমসের মবিন চৌধুরীকে আসামি করা হয়। ২০১৫ সালের ৮ই জানুয়ারি তাকে মহাখালী ডিওএইচএসের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। শমসের মবিনকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেয়ার ঘটনায় ১১ই জানুয়ারি হরতাল পালন করেছিল সিলেট মহানগর বিএনপি। শাহবাগ থানার মামলায় কারাবন্দি থাকার সময় গাড়ি ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা প্রদানের এক মামলায় ৮ই ফেব্রুয়ারি শমসের মবিনকে চারদিনের রিমান্ডে নিয়েছিল চকবাজার থানা পুলিশ। এখনো তার বিরুদ্ধে চলছে নাশকতার অভিযোগে দায়েরকৃত বেশকিছু মামলার কার্যক্রম। এখন তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে নাশকতার রাজনীতির অভিযোগ করলেও ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিএনপির রাজনীতির পক্ষে সাফাই গাওয়ার তিনিই ছিলেন মূল ব্যক্তি। এখন সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির অভিযোগ করলেও কূটনীতিকদের কাছে দিনের পর দিন বিএনপির অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভাবমূর্তি তুলে ধরেছেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় লেফটেন্যান্ট ছিলেন শমসের মবিন চৌধুরী। যুদ্ধে পাকিস্তানি কমান্ডো বাহিনীর গুলিতে আহত ও আটক হয়ে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন তিনি। যুদ্ধে ভূমিকা রাখায় তাকে বীরবিক্রম উপাধি দিয়েছিল সরকার। যুদ্ধাহত হওয়ায় পরবর্তীতে তার চাকরি ন্যস্ত হয়েছিল পররাষ্ট্র দপ্তরে। যুদ্ধাহত একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ বিএনপির রাজনীতি করতে তার সমস্যা হয়েছিল কী না- পদত্যাগের পর গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে শমসের মবিন চৌধুরী বলেছিলেন- ‘সমস্যা হলে তো আরো আগেই রাজনীতি ছেড়ে দিতাম।’ শমসের মবিন চৌধুরী রাজনীতিতে ফিরে যোগ দিয়েছেন এমন একটি দলে যে দলের মহাসচিবের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধিতার অভিযোগ। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে রাজনীতি গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ অভিযোগটি সামনে এনেছেন।
২০১৫ সালের অক্টোবরে তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসরে গেলেও তার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল আরো আগে। ২০১৩ সালের ৩০শে ডিসেম্বর রাতে গ্রেপ্তারের কয়েকঘণ্টা পর ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়া পাওয়া ও একদিন পর তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে জন্ম দিয়েছিল গুঞ্জন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিএনপির পক্ষে কূটনীতিক মহলে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন শমসের মবিন চৌধুরী। বিএনপিতে একটি গুঞ্জন রয়েছে, সে নির্বাচনকে নিয়মরক্ষার নির্বাচন এবং তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন হবে- বিদেশি কূটনীতিকদের এমন আশ্বাসের ওপর খালেদা জিয়াকে আস্থাশীল করে তুলতেও মূল ভূমিকাটি পালন করেছিলেন তিনি।
পরে ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলা মামলায় সে বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষে কারাগারে যাওয়ার পর মে মাসে মুক্তি পেয়ে বিএনপির কূটনীতিক তৎপরতা থেকে কয়েক মাস নিষ্ক্রিয় ছিলেন শমসের মবিন চৌধুরী। মুক্তি পাওয়ার পর তাকে আর দেখা যায়নি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে। যদিও বিএনপির হয়ে বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন তিনি। ফলে তখন বিএনপি রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল দলটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দুর্বল করতেই শমসের মবিনকে গ্রেপ্তার ও কারামুক্তির পর ক্ষমতাসীন মহলই তাকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। শেষে চাপ থেকেই অবসরে গিয়েছেন তিনি। রাজনীতিতে ফেরার পর তিনি বলেছেন, আগে থেকেই বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ও মতের মিল ছিল। কিন্তু তিনি এমন এক সময়ে রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন এবং বিকল্পধারায় যোগ দিয়েছেন যখন রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা টানাপড়েন। নানাপন্থি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে যখন রাজনীতিতে একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হচ্ছে তখন তিনি ফিরেছেন তার বিপরীতে, ক্ষমতাসীনদের অনুকূলে। তার এই ফেরা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

বার্নিকাটের অনন্য কূটনীতি by মিজানুর রহমান

চলনে একেবারেই সাদামাটা। মিশতে পারেন সবার সঙ্গে, খোলা মনে। কিন্তু ব্যক্তিত্বে তার অবস্থান অনন্য উচ্চতায়। এসব গুণেই ছোট-বড় সব সহকর্মীর মনে জায়গা করে নেন অল্প সময়ে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সম্পর্কে এভাবেই বলছিলেন তার অধঃস্তন এক সহকর্মী।
২০১৫ সালের বসন্তের এক বিকালে দায়িত্ব নিতে বাংলাদেশে আসা রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সম্পর্কে তার সহকর্মী যে বাড়িয়ে বলেননি, তার প্রমাণ মিললো সেগুনবাগিচার এক আড্ডায়। সেখানে ঢাকার এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মূল্যায়ন ছিল এমন- মার্কিন দূত মানেই হাইপ্রোফাইল। এটা প্রতিষ্ঠিত।
কিন্তু বার্নিকাট তার ব্যক্তিত্ব এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে সবাইকে জয় করেছেন। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা যেমন করেছেন অকপটে, তেমনি সমালোচনাতেও ছাড় দেননি। সরকার ও বিরোধী মহলে তার যোগাযোগে একধরনের ভারসাম্য ছিল। এটাই পেশাদারিত্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যেমন গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহিংসতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ- প্রায় সব ইস্যুতেই তিনি সরব ছিলেন। তার অনেক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া সরকার পছন্দ করেনি। বিশেষ করে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তার মন্তব্য, কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তথা কূটনীতিকদের সমর্থন প্রশ্নে সরকারের প্রচ- আপত্তি ছিল। সেই সময় বার্নিকাটকে পররাষ্ট্র দপ্তরে ডেকে মন্ত্রী-সচিব কথাও বলেন। সরকারের অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কিন্তু তাতে বার্নিকাট কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেননি বরং এটাই ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য’ বলে এটি এড়িয়ে যান।
তিনি মার্কিন সরকারের বার্তাগুলো পৌঁছিয়েছেন অত্যন্ত পেশাদারির সঙ্গে। এটাই তার সৌন্দর্য্য। লক্ষণীয় বিষয় ছিল জুলহাস মান্নান এবং তার বন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডে বার্নিকাটের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখেছে বাংলাদেশ। সেই সময়ে অর্ধশত মার্কিন কর্মকর্তা বিভিন্ন টিমে ঢাকা সফর করেছেন। কিন্তু খোদ তার ওপর হামলার পর তিনি পরিস্থিতি বা প্রতিক্রিয়া সামলেছেন নিঃশব্দে। ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে একটুও চিড় ধরতে দেননি। এটা বার্নিকাটের কারণেই সম্ভব হয়েছে- বলছিলেন ওই কর্মকর্তা। তার মতে, সেদিন তিনি বিতর্কে জড়ালে আজ হয়তো তার এমন উজ্জ্বল বিদায় হতো না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশের চরম সংকট রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সমর্থন আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা বন্ধু বার্নিকাটকে যথাযথভাবে বিদায় জানাতে চায় সেগুনবাগিচা। সেই প্রস্তুতিই নেয়া হচ্ছে।
সূত্র মতে, আজ দিনের শুরুতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ হবে তার। সেখান থেকে ফিরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করবেন তিনি। কাল প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন। পরদিন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক তার সম্মানে একটি ভোজের আয়োজন করছেন। মূলত এটিই হবে তার বিদায়ী ভোজ। ২রা নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাবেন। অবশ্য মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছেÑ আজ মধ্যাহ্নে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সূত্র বলছে, সেখানে তিনি তার ঢাকা মিশনের সফলতা ব্যর্থতার খতিয়ান দেবেন। উত্থাপিত সব প্রশ্নের জবাবও দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। অবশ্য সেদিন এক অনুষ্ঠানে বার্নিকাট তার ঢাকা মিশনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
সেখানে তিনি তার কর্মের মূল্যায়নের ভার বাংলাদেশের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। বলেন, এখানে আমি কী করেছি তা বাংলাদেশের মানুষই বলবে। বার্নিকাট বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যা কিছু বলেছি, আর যা কিছু করেছি, তা ভেবে দেখতে আপনাদের আর আপনাদের পাঠক-দর্শককে আহ্বান জানাব। তারপর আপনারাই বিচার করুন। রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে সরকারসহ সর্বমহলে আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা সংলাপকে উৎসাহ দিচ্ছে। এসব নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। সমালোচনা করেন মার্কিন দূত মার্শা বার্নিকাটের। এ নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বার্নিকাট বলেন, দেখুন, আমরা যা কিছু করেছি, ব্যক্তিগতভাবে আমি যা কিছু করেছি, আপনাদের সহযোগী হিসেবেই আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। এ দেশের অংশীদার হয়ে ওঠার চেষ্টায় আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ‘কেন? কারণ একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ শুধু বাংলাদেশিদের নয়, বিশ্বকেও চমৎকার একটি স্থান হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। আমরা এবং অন্যান্য দূতাবাসগুলো এদেশে সার্বিক নীতির কথাই বলি; বাকস্বাধীনতা, সংসদ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ- এসব নিয়েই পরামর্শ দিই আমরা। রাষ্ট্রদূত বলেন, ঢাকায় গত সাড়ে তিন বছর কাজ করছি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যোগাযোগ তথা অংশীদারিকে পোক্ত করাতেই ছিল আমার পূর্ণ মনোনিবেশ।
বার্নিকাটের কাজে স্টেট ডিপার্টমেন্টের স্বীকৃতি: মার্কিন কূটনীতিক হিসেবে বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন বার্নিকাট। এটাই তার শেষ কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্ট। এখান থেকে তিনি অবসরে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার মনোনয়ন দিয়েছিলেন  প্রেসিডেন্ট ওবামা। আর সফলভাবে মিশন শেষ করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে। প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন হলেও তার দায়িত্ব পালনে কোনো তারতম্য হয়নি। পেশাগত জীবনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বিভিন্ন পদে দায়িত্বপালনকারী বার্নিকাট বাংলাদেশে আসার আগে ২০১২ সাল থেকে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবসম্পদ বিভাগের ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট  সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ২০০৮  থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি সেনেগাল ও গিনি-বিসাউয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। জ্যেষ্ঠ ওই কূটনীতিক তার কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। সর্বশেষ তার অর্জন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড বা সম্মান। ঢাকায় এটি গ্রহণ করেই বিদায় নিচ্ছেন বাংলাদেশের ওই উন্নয়ন বন্ধু।
বার্নিকাটের উত্তরসূরি মিলার আসছেন আগামী মাসে: ঢাকায় পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কূটনীতিক আর্ল রবার্ট মিলারের নাম ঘোষণা হয়েছে কয়েক মাস আগে। এই ক’দিনে তার নিয়োগের প্রক্রিয়া তথা আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটের অনুমোদনও সম্পন্ন হয়েছে। মিলার বতসোয়ানায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন শেষে আগামী ১৮ই নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং ইউনাইটেড স্টেটস মেরিন কর্পস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী মিলার বতসোয়ানায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কনসাল জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি মিশনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা এবং নয়া দিল্লি¬, বাগদাদ ও জাকার্তায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মিলার যুক্তরাষ্ট্রের  মেরিন সেনা হিসেবেও তিন বছর কর্মরত ছিলেন। ফরাসি, স্প্যানিশ ও ইন্দোনেশীয় ভাষায় দক্ষ আর্ল রবার্ট মিলার স্টেট ডিপার্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর হিরোইজমসহ সামরিক বাহিনীর একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

সংলাপে সায়

এতদিন নাকচ করে আসলেও জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসছে আওয়ামী লীগ। গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল বিকালে ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের এই সিদ্ধান্তকে জাতির জন্য সুখবর এবং চমক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খুব শিগগির সংলাপের দিন, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এই সংলাপ হবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মানা হবে কিনা এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটি আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক হবে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংলাপের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলো।
অকস্মাৎ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও ক্ষমতাসীন দলের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সংলাপের আহ্বানে সাড়া দেয়ায় রাজনীতিতে বরফ গলার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সংলাপে কী ফল আসে এটিই এখন দেখার বিষয়। এদিকে সংলাপ আহ্বানে ক্ষমতাসীন দলের তরফে সাড়া পাওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট পূর্ব নির্ধারিত একটি কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে। আজ সার্বিক বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের বৈঠক করার কথা ছিল। গতকাল বিকালে ওই কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানানো হয়।
গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার দরজা কারো জন্য বন্ধ হয় না, বন্ধ থাকে না। এর মধ্য দিয়ে আপনারা বুঝতে পারছেন যে, আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসতে সম্মত। আমরা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসবো। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমাকেও একটা চিঠি দিয়েছেন। সেটা অবশ্য গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক দিয়েছেন। সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বরাবর অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে আমাদের সঙ্গে সংলাপের প্রত্যাশায় তারা চিঠি দিয়েছেন। যার সঙ্গে সাত দফা প্রস্তাব এবং ১১টি লক্ষ্য সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সংলাপ করতে চেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা চাপের মুখে নতি স্বীকার করিনি। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা কাউকে সংলাপে ডাকিনি। তবে তারা সংলাপ করতে চান। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সংলাপ বিষয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে চান না, তিনি (শেখ হাসিনা) সেকথা বলেছেন। এ খবরে রাজনীতির মাঠে শান্তির বাতাস বইবে বলে মনে করি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদের নিয়ে একটি অনির্ধারিত বৈঠক করেন। উপস্থিত দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সবার মতামত জানতে চান। অনির্ধারিত এ আলোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দরজা কারো জন্য বন্ধ নয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, আমরা সংলাপে বসতে রাজি। আমরা এবং আমাদের নেত্রী ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবে রাজি এবং তাদের সঙ্গে সংলাপে বসবো।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সংলাপে নেতৃত্ব দিবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। খুব শিগগিরই আমরা সময়, স্থান ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো তাদের জানিয়ে দেবো। এটা অনতিবিলম্বে জানিয়ে দেবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংলাপ তফসিলের আগেই হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার অন্য দাবিগুলো মানা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়, আলোচনা যখন হবে, আলোচনার রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করেন।
সংলাপ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর থেকেই সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে আসছে বিএনপি। এতে সাড়া দেয়নি আওয়ামী লীগ। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেও দলটির পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান ছিল। এ ছাড়া সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সরকার এবং বিরোধী জোটের মধ্যে কার্যকর সংলাপের তাগিদ দিয়ে আসছে। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও সংলাপের আভাস না মিলায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছিল। গত ১৩ই অক্টোবর বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়।
এদিনই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তিসহ সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য তুলে ধরা হয়। সাত দফা দাবিতে সিলেট ও চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ করে ঐক্যফ্রন্ট। একই দাবিতে আগামী ২রা নভেম্বর রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে গতকাল। রোববার সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে দেয়া ঐক্যফ্রন্টের চিঠিতেও সাত দফা ও ১১ লক্ষ্য সংযুক্ত করে দেয়া হয়।

ময়মনসিংহ টু ঢাকা: ১৪ বার পথরোধ এক অ্যাম্বুলেন্সের by পিয়াস সরকার

পরনে সাদা টি-শার্ট সঙ্গে হালকা নীল রংয়ের লুঙ্গি। পোশাকে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। বাম হাতে ও দু’পায়ে ব্যান্ডেজ। সাদা ব্যান্ডেজও ছাপিয়ে গেছে রক্তের দাগে। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন আমিরুল ইসলাম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। ময়মনসিংহ থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে আসেন স্বজনরা। ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে আমিরুলকে ঢাকায় নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক মান্না জানান, সকাল ৬টায় রোগীকে নিয়ে রওনা দেন তারা।
সাধারণত সকাল বেলা ঢাকা আসতে ৪ ঘণ্টার মতো লাগলেও লেগেছে প্রায় ৬ ঘণ্টা। রাস্তায় কোনো যানজট ছিল না। তবে পথে আন্দোলনরত শ্রমিকরা বারবার পথ আটকিয়েছে। পথরোধ করে পরীক্ষা করেছে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী আছে কিনা। অ্যাম্বুলেন্স চালক মান্না গুনে গুনে জানালেন ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা আসতে ১৪ স্থানে তাদের পথ রোধ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দূরত্ব প্রায় ১২১ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রতি ৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার অন্তর অন্তর গতিরোধ হয়েছে। এমন অভিযোগ পাওয়া যায় আরো অনেক অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছ থেকে। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে রোগী নিয়ে আসতেও পড়েছেন ৭ থেকে ৮ বার গতিরোধের মুখে, জানান অ্যাম্বুলেন্স চালক ফিরোজ মাহমুদ।
কথা হয় রোগী আমিরুল ইসলামের ভাই আমজাদ ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, বাড়ির চার তলার কাজ চলছে তাদের। তিন তলার ছাদ থেকে হঠাৎ পড়ে যান তার ভাই। ভেঙে যায় বাম হাত ও দুই পা। ব্যথা পেয়েছেন মাথাতেও। রোববার সকালের সেই ঘটনার পর নিয়ে যান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ভাঙা হাত-পা ও মাথায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন তাদের পরামর্শ মতো।
তিনি বলেন, আজ (গতকাল) সকাল ৬টায় রওনা দিয়েছি। পৌঁছলাম সকাল ১২টায়। রাস্তায় যতবার আটকিয়েছে ততবার নিজেকে অসহায় লেগেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স কেন আটকাবে? তাদের উচিত ছিল দ্রুত রাস্তা ছেড়ে দেয়া। বরং উল্টো অ্যাম্বুলেন্স আটকালো বারবার।
ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগের সামনে রাস্তায় বসে কাঁদছিলেন রাহেলা বেগম (ছদ্মনাম)। সঙ্গে তার স্বামী ও ছোট মেয়ে। সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বামী রফিক মিয়া (ছদ্মনাম)। স্ত্রী শান্ত হবার পর জানার চেষ্টা কান্নার কারণ। রফিক মিয়া জানান, তার শ্বশুরকে হাজত থেকে আজ সকালে ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ে আসা হবে। খবর পেয়ে সকাল ৭টার সময় বের হন তারা। খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের পরিবারটি জানতো না চলছে ধর্মঘট। ঘণ্টাখানেক রাস্তায় বাসের জন্য অপেক্ষার পর জানতে পারেন তারা। এরপর অটোরিকশা ও ভ্যানে করে এসেছেন গাবতলীতে। গাবতলী থেকে হেঁটে মেডিকেলে। পৌঁছানোর পর জানতে পারেন ডাক্তার দেখিয়ে চলে গেছে তার শ্বশুর। ধামরাই থেকে বাসে আসতে সাধারণত সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। তাদের সময় লেগেছে ৪ ঘণ্টা। অনেক ঝামেলা পার করে বাবাকে দেখতে না পারার কারণেই এই কান্না।
গ্লাসের টুকরা দিয়ে পা কেটে গিয়েছে রাইসা হকের। তিনি এশিয়া প্যাসেফিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। মেসমেটদের নিয়ে সকাল ১০টার দিকে এসেছেন অ্যাপভিত্তিক কার সেবা উবারে করে। ব্যান্ডেজ করানোর পর এবার ফেরার পালা। ঢাকা মেডিকেল থেকে বেরিয়ে তিনটি মোবাইল থেকে চেষ্টা করেও মিলছিল না কোনো গাড়ি।
তখন ঘড়িতে সময় সকাল ১২টা। শহীদ মিনারের সামনে উবার কার চালক রাশেদ হোসেন চা ও রুটি দিয়ে সারছিলেন সকালের নাস্তা। পাশেই রাখা তার গাড়ি। তিনি জানান, সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ। ভোরবেলা বের হয়েছি এখন পর্যন্ত দম ফেলার সময় পাইনি। ৫ ঘণ্টায় পেয়েছি ৮টি ট্রিপ। অন্যদিন ট্রিপের জন্য অপেক্ষা করতে হলেও আজ মিলছে সঙ্গে সঙ্গেই। মোবাইল দেখিয়ে বলেন, দেখেন এখনো রয়েছে ৪টি রিকোয়েস্ট।
তবে পাশেই মেলে ভিন্ন চিত্র। অ্যাপভিত্তিক বাইকাররা খুঁজছেন খেপ। উবার, পাঠাও, ওভাই’র চালকরা শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদের পাশ দিয়ে যেতেই ভাই যাবেন। বললাম কাওরান বাজার কত? একজন বললেন ১০০। আরেকজন বললেন ৮০ টাকা। শেষে একজন ৬০ টাকায় যেতে রাজি হলেন। তখন অ্যাপে কাওরান বাজারে ছাড় ছাড়া দেখায় ৭০ টাকা এবং ছাড়সহ ৪০ টাকা।
ইব্রাহীম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখা যায় অন্যান্য দিনের তুলনায় ডাক্তারের কাছে আসা রোগীর সংখ্যা কম। প্রতিমাসে চেকআপ করাতে আসেন মৃণ্ময় সেন। বয়স আনুমানিক ৭০। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে পেয়েছেন বিআরটিসি দোতলা বাস। এখন তারা চিন্তিত যাবেন কীভাবে। একই রকম সমস্যায় পড়েছেন আরো অনেকে। আদাবর ১৪ যাবার জন্য রিকশা খুঁজছিলেন আরেক ব্যক্তি, সঙ্গে  তার স্ত্রী। অনেক রিকশা দাঁড়ানো থাকলেও মিলছে না ভাড়ায়। সাধারণত ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া হলেও সবাই চাইছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালেও দেখা যায় অভিন্ন চিত্র। রোগী ও স্বজনরা আসা যাওয়ায় ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। নীলফামারী জেলার ডোমার থেকে আসা রোগী আসমা খাতুন কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। দীর্ঘ ১৭ দিন হাসপাতালে থেকে ছাড়া পেয়েছেন গতকাল। এতদিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার পরেও যেতে পারছেন না বাড়িতে। তার ছেলে আতিকুর রহমান বলেন, অ্যাতদিন পর যাওয়ার কথা আইল। আর আটকা পড়নো হরতালোত। অ্যাম্বুলেন্সত করি যাইতে ম্যালা ট্যাকা লাগে। এলা হরতাল খুললে বাসত করি যামো।

ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রেখে আরপিও অনুমোদন

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সুযোগ রেখে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল   (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও)-এ সংশোধনী এনে আইনটির খসড়ার নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। খসড়া আইনে ইভিএম অপব্যবহারের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ফিরে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এই আইনটি অর্ডিন্যান্স (অধ্যাদেশ) আকারে জারি হয়ে যাবে।
এখন তো সংসদ আর পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর আমলে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ জারি করা হয়। ওটাকে সংশোধনের জন্য ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৮’ নামে আনা হয়েছে। আইনে যে জিনিসগুলো নতুন আনা হয়েছে, এরমধ্যে মূল বিষয়টি হচ্ছে ইভিএম পদ্ধতি অন্তর্ভুক্তকরণ।
ইভিএমের বিষয়ে একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইভিএম ব্যবস্থা প্রবর্তন, ইভিএম অনুমোদন, ইভিএমের সফটওয়্যার অনুমোদন এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কমিশনের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দেয়ার জন্য বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। অনেকগুলো সেফটি মেজার্স এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে যে একটা ভীতি কাজ করছে- এটার নিরাপত্তা কী হবে, এটা হ্যাকিং হবে কী হবে না, এই শঙ্কাগুলো দূর করার জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলে দেয়া আছে আইনে। নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইভিএমের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
হ্যাকিং করার কোনো সুযোগ এখানে থাকবে না। টেম্পারিং ও ম্যানিপুলেশন প্রতিরোধ সম্পন্ন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা থাকবে। সব ধরনের প্রিকশান ও সফটি মেজার্স এখানে রাখা হয়েছে। যাতে কোনো নাগরিক ভোট দিতে গিয়ে প্রতারিত বা বঞ্চিত না হন। কতটি স্থানে ইভিএম ব্যবহার করতে পারবে, সেটা সংশোধিত আরপিওতে উল্লেখ করা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে কমিশনের উপর এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। ইভিএম কতটুকু কী ব্যবহার করা হবে, সেটা কমিশন নির্ধারণ করবে।
ইভিএম ব্যবহার বাধ্যতামূলক কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা অপশনাল (ঐচ্ছিক)। ইভিএম অপব্যবহারের শাস্তির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কেউ ইভিএমের অপব্যবহার বা নষ্ট করে তবে সর্বনিম্ন ৩ বছর ও সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে। সংশোধিত আরপিও’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় মনোনয়নপত্র দাখিলের সাতদিন আগে খেলাপি ঋণ পরিশোধের বিধান রয়েছে।
প্রস্তাবিত বিধানে মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্ব পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। এটার মাধ্যমে প্রার্থীকে একটু ফ্যাসিলেটেড (সুবিধা) করা হলো। এটা কেন করা হলো- জানতে চাইলে তিনি বলেন, যত সুযোগ বাড়াবেন তত ঋণ খেলাপি কমে যাবে। ক্লিন হয়ে যাবে। আমাদের ঋণ আদায় বেশি হবে। প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদ্যমান ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটাও একটা বাড়তি সুবিধা দেয়া হলো। সাংবাদিকদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, ইভিএম মেশিন যদি কেউ ভাঙচুর করে বা ডিভাইস নষ্ট করে অথবা ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করে তাহলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল ও সর্বনিম্ন তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে। হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, যেসব কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করা হবে, সেসব জায়গায় ইভিএম-এর পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতিও রাখা হবে। যদি ভোটগ্রহণের সময় ইভিএম মেশিনে সমস্যা দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হবে। দেশের কয়টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো এটি চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বে আরপিও সংস্কারের জন্য একটি কমিটি করা হয়। আরপিও সংস্কারের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতামত নেয়া হয়।
মাঠ কর্মকর্তা ও সংলাপে পাওয়া সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই কমিটি সুপারিশ তৈরি করে। এরপর গত ৩০শে আগস্ট নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক সভায় আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ভেটিংয়ের (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলিটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়। ভেটিংয়ের পর এটি গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। চলতি বছর ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের লক্ষ্য থাকলেও বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা এ ব্যবস্থায় সরকার ভোট কারচুপি করবে। এ ছাড়া এর আগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে কমিশনের এ সংক্রান্ত বৈঠক ত্যাগ করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

অসভ্যতা, অমানবিকতা: ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও চরম ভোগান্তি, চালকদের কান ধরে উঠবস, অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়িকেও বাধা

অসভ্যতা আর অমানবিকতার আরো বীভৎস রূপ দেখা গেল পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে। আগের দিনের মবিল সন্ত্রাসের পর গতকাল স্থানে স্থানে গাড়ি চালকদের কান ধরে উঠবস করানো, পথে পথে অ্যাম্বুলেন্সের গতিরোধ করার ঘটনা ঘটেছে। দিনভর যানবাহন না চলায় অনেকটা জিম্মি দশায় ছিল পুরো দেশ। যানবাহন না থাকায় রাজধানীতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। হেঁটে, রিকশা, ভ্যানে করে অনেকে নিজ নিজ গন্তব্যে যান। অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবায়ও বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদের। এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষে ফের ৯৬ ঘণ্টার অবরোধের হুমকি দেয়া হয়েছে। আগামী   ২১ দিনের মধ্যে আট দফা দাবি না মানলে ফের অবরোধ কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনালে মাথার নিচে ব্যাগ রেখে যাত্রী ছাউনিতে শুয়ে ছিলেন শাহরিয়ার ইসলাম।
পাশে যেতেই চোখ খুলে তাকান। তার চোখে-মুখে হতাশা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিটে দ্বিতীয় শিফটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ট্রেনে ঢাকায় ফিরেছেন। ঢাকা থেকে যাবেন বাড়িতে বগুড়ার শেরপুরে। কমলাপুর থেকে সকাল ১০টায় মহাখালী এসে হতাশ হয়েছেন। কোনো গাড়িই ছাড়ছে না। শুধু শাহরিয়ার না, এরকম অনেক যাত্রীকে দেখা গেছে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে। যদি গাড়ি ছাড়ে এই আশায় প্রহর গুনছেন তারা। এই কর্মবিরতির শেষ কোথায় শ্রমিকরাও নিশ্চিত কিছু বলতে পারছেন না। রাজধানীতে দূরপাল্লা ও লোকাল গণপরিবহনের দেখা মিলেনি গতকালও। যে কারণে অনেকের ভরসা ছিল অ্যাপসে চালিত বাইক, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যান। তবে ফকিরাপুল, মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইল, প্রেস ক্লাব, বাংলামোটর, মগবাজার, রামপুরা, ফার্মগেট, তেজগাঁও, মহাখালী এলাকায় অনেককেই দেখা গেছে পায়ে হেঁটে পথ চলতে। এই দুর্ভোগের কারণে জরুরি কাজ ছাড়া বাসার বাইরে বের হননি কেউ।
মিরপুর-১১ থেকে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়েও সিএনজি অটোরিকশা পাননি মোহাম্মদ রকি। হাইকোর্টে জরুরি কাজে যাওয়ার কথা। পরে অ্যাপসের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং কোম্পানির একটি বাইক চালককে কল দেন। কিন্তু তিনি কল রিসিভ করে পরে জানিয়ে দেন অ্যাপসে যাবেন না। অ্যাপস চালু না করে বাংলামোটর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারবেন তিনি। ২৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাংলামোটরে পৌঁছেন রকি। পরে পায়ে হেঁটে শাহবাগ পর্যন্ত যান। সেখান থেকে রিকশায় দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্টে পৌঁছেন। ততক্ষণে সময় ব্যয় হয়েছে অনেক। একইভাবে রোগী নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন অনেকে।
রামপুরা থেকে হাত ভাঙ্গা এক শিশুকে নিয়ে রিকশায় ও পায়ে হেঁটে শেরেবাংলা নগর এলাকার অর্থোপেডিক হাসাপাতালে পৌঁছেন সামিয়া বেগম নামে এক গার্মেন্টকর্মী। সকালে প্রচণ্ড দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন অফিসগামীরা। গণপরিবহন না পেয়ে অ্যাপসে চালিত বাইকের ভরসায় ছিলেন। তাও মিলেনি সবার। রিকশাও পাননি অনেকে। খিলগাঁও থেকে পায়ে হেঁটে মতিঝিলের অফিসে যেতে হয়েছে মমিনুল ইসলামকে। এরকম দৃশ্য দেখা গেছে দিনব্যাপী।
মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন বাসস্ট্যান্ডজুড়ে। আড্ডা দিচ্ছেন। অনেকে ক্যানভাসারের মজমায় সময় কাটাচ্ছেন। কখনও কখনও দু-একজন করে যাত্রী আসছেন। হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ উপায় না পেয়ে বিভিন্ন বাসের কাউন্টারে বসে আছেন। তাদের চোখে-মুখে বিমর্ষতা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এরকম দৃশ্যই দেখা গেছে ওই এলাকায়।
দুপুরে বোরকাপরা এক নারীকে দেখা গেছে একটি বাস কাউন্টারের সামনের বেঞ্চে বসে থাকতে। সঙ্গে ১০-১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু। কথা হয় ওই নারীর সঙ্গে। তার নাম ফাতেমা। গৃহপরিচারিকার কাজ করেন লালমাটিয়া এলাকায়। সেখান থেকেই এসেছেন। উদ্দেশ্য মাকে দেখতে যাবেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির আসমিতা গ্রামে। ফাতেমা জানান, তার মা খুব অসুস্থ, যেতেই হবে। গাড়ি যে একদমই চলে না তা জানতেন না তিনি। ভেবেছিলেন দু-একটি গাড়িতো চলতেই পারে। সকাল ৯টা থেকে বাসস্ট্যান্ডে বসে আছেন। শ্রমিকরাও নিশ্চিত কিছু বলতে পারছেন না।
আসকির নামে এক পরিবহন শ্রমিক জানান, কর্মবিরতি চলছে। যেকোনো সময় কর্মবিরতি শেষও হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত গাড়ি না পেলে ট্রেনে যাবেন বলে জানান ফাতেমা। প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।
বিকাল ৪টায় বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় ১৪ বছরের কিশোর জুবাইদের সঙ্গে। কাঁধে স্কুলব্যাগ জুবাইদ চাকরি করে হাজারীবাগের একটি রেস্টুরেন্টে। ফাতেমার মতো সেও বুঝতে পারেনি গাড়ি একদমই চলছে না। জুবাইদ বলে, এত কঠিন ধর্মঘট বুঝতে পারিনি। নেত্রকোনার কলমাকান্দা নিজেদের বাড়িতে যেতে চেয়েছিল  জুবাইদ। গাড়ি না পেয়ে হতাশ হয়ে কিশোর ছেলেটি  হাজারীবাগে ফিরছে। তাও কোনো বাস নেই। ফিরতে হবে সিএনজি অটোরিকশায়। সিএনজি অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিল জুবাইদ।
বাসস্ট্যান্ডের সামনে পার্কিং করা ১৫-২০টি মোটরসাইকেল। প্রায় সবগুলোই অ্যাপসে ভাড়ায় চালিত। মোটরসাইকেলের যাত্রীরা জানান, অনেকেই এখন অ্যাপসে যাত্রী নিতে চান না। এখন যাত্রী বেশি। অ্যাপসে নিলে লাভ কম। কথা বলে ভাড়া নির্ধারণ করলে বেশি ভাড়া আদায় করা যায়। একইভাবে সিএনজি অটোরিকশার চালকরাও যাত্রীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া আদায় করছেন।
এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, খিলগাঁও, মালিবাগ, মগবাজার, ধানমন্ডি, গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন এলাকায় কোনো বাস চলতে দেখা যায়নি। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূর পাল্লার গাড়িও ছেড়ে যায়নি। বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে পরিবহন শ্রমিকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
প্রথমদিনের মতো যানবাহনে হামলা ও চালকদের শরীরে মবিল লাগানোর তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সকালের দিকে কিছু কিছু এলাকায় প্রাইভেট যানবাহনের চালকদের কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশি বাধায় শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরা এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে। তবে গতকালও গণপরিবহন না পেয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। সকালে সরজমিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী থানা থেকে ১০০ হাত দূরে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। দলবেঁধে তারা সেখানে দাঁড়িয়ে প্রাইভেট কার, মাইক্রো, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের হেনস্তা করা শুরু করে। এ সময় তারা কিছু কিছু যানবাহনে লাথি-ঘুষি দেয়। কয়েকজন চালককে মবিল লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। মুগদা-মানিকনগর এলাকায় সকালে পরিবহন শ্রমিকরা প্রাইভেট যানবাহনের চালকদের ওপর চওড়া হন। কয়েকজন চালককে কানে ধরে উঠবস করাতেও দেখা গেছে। এর পর থেকে সারাদিন শ্রমিকদের আর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
দুপুরের দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে জানা যায় গতকালও কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। তবে দূরপাল্লার যাত্রীরা সকাল থেকেই টার্মিনালে আসেন। অনেক যাত্রীই বাস না পেয়ে নিরাশ হয়ে ঘরে ফিরেন। আল আমিন নামের এক ব্যবসায়ী গত দুু’দিন ধরে আটকা পড়েছেন ঢাকায়। ব্যবসার কাজে গত শনিবার তিনি ঢাকা এসেছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার। মানবজমিনকে তিনি বলেন, শনিবার ঢাকা এসেছিলাম। কাজ শেষ করতে করতে অনেক রাত হয়ে যায়। পরে আর ওইদিন কুমিল্লা যাইনি। রাতের বেলা একটি হোটেলে কাটিয়ে  রোববার সকালের দিকে টার্মিনালে আসি। এসে দেখি কোনো বাস নাই। আমার মতো আরো অনেকে দাঁড়িয়ে আছে। কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। কথা বলে তথ্য নেয়ার মতো কোনো মানুষ পাচ্ছিলাম না। পরে জানতে পারি পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট চলছে। আজও একি অবস্থা দেখছি।
হবিগঞ্জের মাধবপুরের যাত্রী নজরুল ইসলামও জানালেন তার সমস্যার কথা। পারিবারিক কাজে যেতে হবে মাধবপুর। সকাল ১০টায় এসেছেন কিন্তু গত দুই ঘণ্টা ধরে একটি বাসের দেখা মেলেনি। আর না গেলেও হবার নয়। তিনি কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের আশপাশের সড়কে দেখা যায়, একুশে পরিবহন, স্টার লাইন, নিউলাইন, এনা পরিবহন, শ্যামলী, মামুন, আল রিয়াদ, ঢাকা এক্সপ্রেস, বলাকা, জননীসহ আরো একাধিক কোম্পানির বাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। টার্মিনালের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ বাস শ্রমিকরা বাস পরিষ্কারের কাজ করছেন। পুরাতন চাকা খুলে নতুন চাকা লাগাচ্ছেন।
এদিকে গতকাল অফিস, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। গণপরিবহন না থাকায় অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। আবার অনেকেই জরুরি কাজে বের হয়ে আবার ফিরে গেছেন বাসায়। সকাল ১০টার দিকে মালিবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন নুসরাত আরা। তিনি উত্তরার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তিনি বলেন, অনেকক্ষণ ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। একটি বাসও চলাচল করছে না। সিএনজিচালকদের সিগন্যাল দিচ্ছি তারা ৪০০/৫০০ টাকা ভাড়া দাবি করছে। এছাড়া পাঠাও, উবারে রিকুয়েস্ট পাঠাচ্ছি কোনো চালকই তা গ্রহণ করছেন না।
মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় দাঁড়িয়ে সকালে বাসের অপেক্ষা করছিলেন মোহাম্মদ আলী। তিনি যাবেন মিরপুরের বিআরটিএতে। বাস না থাকায় অনেকবার পাঠাওকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে অ্যাপস ছাড়া এক চালককে ঠিক করে তিনি মিরপুর যান। ধানমন্ডির ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাবে) লেখাপড়া করেন আসিফ শাওন। খিলগাঁও থেকে কোনো বাস না পেয়ে তিনি পরে ১৫০ টাকা দিয়ে রিকশা ভাড়া করে ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্য রওনা দেন। শাওন বলেন, বাস নাই এই সুযোগে রিকশাচালকরা সুযোগ পেয়ে গেছে। ৭০/৮০ টাকার ভাড়া তারা ২০০ টাকা চেয়ে বসে আছেন। এছাড়া রাইড শেয়ারিং কোম্পানি পাঠাও-উবারেও আমন্ত্রণ জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি।
পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি সংসদে: ধর্মঘটের নামে পরিবহন শ্রমিকরা সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান। এ বিষয়ে সরকারের পুলিশ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন। সোমবার দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনের শেষদিনের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। পরিবহন ধর্মঘটের প্রসঙ্গ তুলে পীর ফজলুর রহমান বলেন, এই সংসদে পাস করা সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা পরিবর্তনের দাবিতে গত দুইদিন থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করছে। এই অবরোধের নামে শ্রমিকদের কেউ কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।
বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও চালকদের মুখে পোড়া মবিল মেখে দেয়া হয়েছে। একটি অসুস্থ শিশুকে হাসাপাতালে নেয়ার সময় এম্বুলেন্স আটকে দেওয়ায় শিশুটি মারা গেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অবরোধে সারা দেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অবরোধের নামে মানুষের আত্মমর্যাদায় যারা আঘাত করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীরব রয়েছে। এই ঘটনা আমাদের আহত করেছে। আমি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করছি।
রূপগঞ্জে যাত্রীদের ওপর শ্রমিকদের হামলা: আহত ১০
স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ থেকে জানান, সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব বিশ্বরোড ও বরপা এলাকায় লেগুনা ও অটোরিকশা যাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় ১০ যাত্রী আহত হয়।
জানা যায়, শ্রমিক ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব বিশ্বরোড, বরপা, রুপসী, গাউছিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই অবস্থান নেয় পরিবহন শ্রমিকরা। তারা স্থানীয় রুটে চলাচলরত লেগুনা, থ্রি হুইলার, ব্যাটারিত চালিত অটোরিকশা, সিএনজিসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলে বাঁধা দিতে থাকে। সকাল ৯টার দিকে বরপা এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা একটি লেগুনা আটক করে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের উপর হামলা চালিয়ে আমান উল্লাহ, আনোয়ার, বিল্লাল, সিদ্দিকসহ ৫ যাত্রীকে পিটিয়ে আহত করে। অপরদিকে, মহাসড়কের তারাব বিশ্বরোড এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা অটোরিকশার যাত্রী রেহেনা আক্তার, সালাম, আকবর আলী ও শাকিলসহ আরো ৫ যাত্রীকে গণপরিবহনে উঠার দায়ে প্রহার করে।
লাশের গাড়ি আটকে চালককে মারধর করলো শ্রমিকরা
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, প্রিয়জনের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন স্বজনরা। একদিকে কান্নার রোল অন্যদিকে রাস্তায় ভোগান্তি। লাশবাহী এম্বুলেন্স থামিয়ে  চালককে পিটিয়ে আহত করেছে কিছু শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের আউশকান্দি এলাকায়। মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নারায়ণ কর্মকার জানান, আমার বড়ভাই বাদল কর্মকার রোববার সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সোমবার সকালে সিলেট থেকে লাশ নিয়ে এম্বুলেন্সযোগে মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর গ্রামে আসার সময় আউশকান্দি এলাকায় পৌঁছালে ৫/৬ জনের একদল শ্রমিক তাদের লাশবাহী এম্বুলেন্স আটক করে। পরে চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে ব্যাপক মারধর করে তারা। এ সময় এম্বুলেন্সে থাকা তাদের স্বজনরা অনুনয়-বিনয় করে চালককে না মারার অনুরোধ করলেও তাদের মন গলেনি। পরে স্থানীয় কিছু লোকের অনুরোধে শ্রমিকরা এম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেয়। একটি স্বাধীন দেশে লাশ নিয়ে যেতে দেয়া হয় না- এটা কি ভাবা যায়। আমরা কোন দেশে বাস করি। এভাবে কথাগুলো বলে বিচার দাবি করেন জগদীশপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নারায়ণ কর্মকার।

নিশ্চয়ই বাংলার জনগণ নৌকায় ভোট দিবে -সংসদে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নের ছোঁয়া বাংলাদেশের প্রত্যেক ঘরে ঘরে পৌছে গেছে। দেশ ও জনগণের উন্নয়নে আমরা আরো কিছু মেগা প্রকল্প নিয়েছি। সেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে আরো কিছু সময় প্রয়োজন। আর এই সময় দিতে পারে বাংলার জনগণ। আগামী নির্বাচনে বাংলার জনগণ সেই সময় দিবে। নিশ্চয়ই বাংলার জনগণ নৌকায় ভোট দিবে। জনগণের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গতকাল সোমবার রাতে সংসদ অধিবেশনে সমাপণী ভাষণে তিনি একথা বলেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, ’আপনারা আরেকটিবার নৌকায় ভোট দিন, আরেকটি দেশ সেবার সুযোগ দিন- এই বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে, এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মানুষকে আর কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। দেশের জনগণ আমাদের আবারও দেশ সেবার সুযোগ দিলে অবশ্যই দেশকে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলবো। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, ততক্ষণ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাব। 
সমাপনি অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। সমাপনি অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতাও সমাপনি বক্তব্যে রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কাজ আমরা হাতে নিয়েছি, ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশে পরিণত করা। সেই কাজ আমরা করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। এই উন্নয়ন-অগ্রগতি ও বিশ্ব স্বীকৃতি ধরে রাখতে দরকার সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জীবনে কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার বেঁচে থাকাটাই একটা দূর্ঘটনা। আমার ওপর বার বার আঘাত এসেছে। গুলি, বোমা, গ্রেনেড হামলা হয়েছি। আমি জানি যে কোন সময় আমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারি। এটা জেনেই আমি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যতক্ষণ দেশে প্রাণ আছে, ততক্ষণ দেশের জন্য, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করে যাব। মানুষকে সুন্দর জীবন দেব, সেজন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি কার স্বার্থে? কার জন্য? আমার নিজের কোন স্বার্থ নেই, জনগণের স্বার্থে-কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই দেশবাসীর প্রতি আমার আবেদন, আবার নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ সেবা করার সুযোগ দিন, বাংলাদেশ অদ্যম গতিতে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। বঙ্গবন্ধুর উদ্বৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা পাওয়া যেমন কষ্টকর, তা রক্ষা করা আরও কষ্টকর। পাওয়া যত কষ্টকর, তা ধরে রাখা আরও কষ্টকর। দেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আনতে সক্ষম হয়েছি। স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে, কঠোর পরিশ্রম ও সৎ পথে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। সেই পরিশ্রমের ফসল দেশের জনগণ এখন ভোগ করছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করাই আমরা একমাত্র কর্তব্য।
বিরোধী দলের দাবীর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সেজন্য ব্যাংক, বীমা, বেসরকারি টেলিভিশনসহ সবকিছু বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যত কী হবে, জীবনমান কেমন হবে? কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই, সেটাই একমাত্র চিন্তা। টানা ১০ বছরে আমাদের শাসনমালে তরুণ প্রজন্মের সুন্দর জীবন দিতে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি। আজকে আমরা নিজস্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ কোটি সিম ব্যবহার হচ্ছে। এতো সিম ব্যবহার পৃথিবীর কোন দেশে নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে সুনির্দিষ্ট টার্গেট করেছি শুধুমাত্র আইসিটি খাত থেকেই ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবো। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে এখন দ্বিতীয়। ৬ লাখেরও বেশি দেশের তরুণ-তরুণী দেশে ঘরে বসেই আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করছে। মোবাইল ব্যাংকিংও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মোবাইল ব্যাংকে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে, এটাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। কোরবানীর গরুও এখন অনলাইনে বিক্রি হয়। সাড়ে সাত হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আইটি খাতে বিরাজ সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য। ২০২১ সাল নাগাদ ১ হাজার ১৮৭টি ই-সেবা চালু করা হবে। সাইবার ঝুঁকি থেকে দেশকে রক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছি। যারা শুধু ক্রাইম করবে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার হবে, অন্যদের চিন্তা করার কোন কারণ নেই।
সংসদ নেতা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারি, তবে বিশ্ব স্বীকৃতি পাবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় সরকারের ধারাবাহিকতা একান্তভাবে প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, কওমী মাদ্রাসার কোন স্বীকৃতি ছিল না। আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি। ১৪-১৫ লাখ শিক্ষার্থীর উজ্¦ল ভবিষ্যত হবে, চাকুরি পাবে দেশে-বিদেশে। সেই সুযোগ আমরা করে দিয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি স্কুল করে দিচ্ছি। সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। মাদ্রকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতি বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। উন্নয়নের ছোঁয়া বাংলাদেশের মানুষের মনে লেগেছে, নিশ্চয় তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ব্ল-ইকোনমি ঘোষণা করেছি। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পারলে ব্ল-ইকোনমি বাস্তবায়ন করবো। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের সুফল দেশের সকল মানুষ ভোগ করছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগে সংসদের যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, কত নোংরা কথা শুনতে হয়েছে। টিভি ক্যামেরা, ফাইল, চেয়ার, ফোল্ডার কোনকিছুই রেহাই পায়নি। দশম জাতীয় সংসদে বর্বরতা, অসভ্যতা কাউকে শুনতে হয়নি। সংসদ যে জাতি, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে, দশম জাতীয় সংসদ তা প্রমাণ করেছে। গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস বেড়েছে। গণতন্ত্র থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, তাও প্রমাণিত হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কবি সুকান্তের কবিতাটি উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, সুকান্তের ভাষায় বলবো- ’চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ তাই আবার দেশ সেবার সুযোগ পেলে অবশ্যই দেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলবো। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ২০৪১ সালে হয়তো বেঁচে থাকব না। কিন্তু যে কাজ আমরা শুরু করেছি, যারাই ক্ষমতায় আসবে, তারা ওই সময়ের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষও উন্নত সমৃদ্ধ জীবন পাবে।
বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতাসহ জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে চলে এসেছে। এটাই হতে যাচ্ছে চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা-দুর্যোগ না হলে এটিই হবে চলতি সংসদে শেষ অধিবেশন। তবে নির্বাচিত হয়ে আবারো নতুন সংসদের অধিবেশনে ফিরে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Monday, October 29, 2018

যৌনকর্মী বলে আক্রমণ!

টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি রুপোলি পর্দার জনপ্রিয় করিওগ্রাফারও তিনি। ২০১২ সালে হরমিত শেঠিকে বিয়ে করেন শ্বেতা সালভে। হরমিত এবং শ্বেতার আর্য নামে এক সন্তানও রয়েছে। সংসার, সন্তান সামলে কীভাবে কেরিয়ার সামলানো যায়, তা বেশ ভালভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন শ্বেতা। কিন্তু, সেই শ্বেতাকে এবার কীভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হল জানেন?
সম্প্রতি স্বামী হরমিত শেঠির সঙ্গে গোয়ায় ছুটি কাটাতে যান শ্বেতা সালভে। আর সেখানে গিয়ে বেশ কিছু ছবি নিজের সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করেন টেলিভিশনের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। যেখানে কখনও শ্বেতাকে পানীয়ের গ্লাস হাতেনিয়ে ছবি দিতে দেখা যায়, আবার কখনও ধূমপান কর্তেদেখা যায় অভিনেত্রীকে।
আর ওই ছবি সোশ্যাল সাইটে প্রকাশ হতেই জোরদার সমালোচনা করা হয় শ্বেতাকে নিয়ে।
যদিও সমালোচনার মুখে পড়ে বেশ কড়া ভাষাতেই তার পাল্টা জবাব দেন শ্বেতা। তিনি বলেন, হ্যাঁ ধূমপান করেন তিনি। পানীয়র সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অব্যাহত। কিন্তু, তাতে কী হয়েছে?
তিনি তো কখনও সন্তানের উপর তাঁর কর্তব্য অগ্রাহ্য করেন না। সন্তানকে বড় করে তলার পাশাপাশি তিনি যেমন অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন। তেমনি করিওগ্রাফির কাজও করে চলেছেন সমানভাবে। আর যেভাবে তাঁর প্রতিদিনের জীবন চলে, সেই ছবিই এসেছে প্রকাশ্যে। তিনি জীবন নিয়ে অহেতুক অভিনয় করতে পারেন না। তিনি যেমন, সেই ছবিই উঠে এসেছে। তাই তাঁর জীবন এবং ছুটি কাটানো নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাতে তাঁর কিছু এসে যায় না। তিনি তাঁর মত করে সব কাজ করে যাবেন। তাতেও কেউ আপত্তি জানালে তাঁর কিছু করার নেই বলেও স্পষ্ট জানান শ্বেতা সালভে।
শুধু তাই নয়, তাঁকে যেভাবে কখনও 'যৌনকর্মী' আবার কখনও 'বাজে মা' বলে আক্রমণ করা হয়েছে,তাতে তাঁর কিছু এসে যায় না। সমাজের উল্টো স্রোতে গিয়ে কেউ কিছু করলে, যদি তাঁকে নির্দিষ্ট কোনও পেশার মানুষের সঙ্গে তুলনা করা হয়, কিংবা তাঁর গায়ে কোনও অশ্লীল তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়, সেটা সমালোচনাকারীদের চিন্তাভাবনা। আর সেই চিন্তাভাবেনা তিনি কখনও পরিবর্তন করতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট জবাব দেন শ্বেতা সালভে।
তথ্য সূত্র: জিনিউজ ইন্ডিয়া

সংকট সহিংস রক্তপাতে রূপ নিতে পারে: শ্রীলঙ্কার স্পিকারের হুঁশিয়ারি

রাজধানী কলম্বোর সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনা মোতায়েন
শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদের স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সংসদ পুনর্বহাল না করলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সহিংস রক্তপাতে রূপ নিতে পারে এবং লোকজন রাস্তায় নেমে আসতে পারে।  
বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহের অনুগত সংসদ সদস্যরা তাদের সমর্থকদের প্রতি রাজধানী কলম্বোয় সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানোর পর স্পিকার জয়াসুরিয়া এ হুঁশিয়ারি দিলেন। প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপকসেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। এরপর শ্রীলঙ্কায় রজনৈতিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
 
শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদের স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া
প্রেসিডেন্টকে হত্যাপ্রচেষ্টা তদন্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে যথেষ্ট তৎপরতা চালান নি বলে অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তাকে বরখাস্ত করেন এবং রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন। তবে বিক্রমাসিংহে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হন নি। এরইমধ্যে এ সংকটকে কন্দ্রে করে দেশটিতে একজন নিহত হয়েছে।
 
মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা
স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া বিক্রমাসিংহেকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সংসদ বাদ দিয়ে যদি সংকটকে রাস্তায় নিয়ে যায় তাহলে ভয়াবহ রক্তপাত শুরু হবে।”
এদিকে, মন্ত্রী অর্জুনা রানাতুঙ্গার দেহরক্ষীর গুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় রানাতুঙ্গাকে আটকের পর আজ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  চীন বলেছে, তারা শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে। আমেরিকা গতকাল এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ ডাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ডলার সংকটের নেপথ্যে-

বৈদেশিক লেনদেনের অন্যতম মুদ্রা ডলারের সংকটে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে দাম। চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে প্রতি ডলার বিক্রি  হয়েছিল ৮০ টাকা ৫০ পয়সায়, যা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮৬ টাকার ওপরে। সেই হিসাবে গত ৯ মাসে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা। এতে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে টাকা। শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। হঠাৎ করে ডলারের বাজারে এই অস্থিরতার পেছনে বড় কারণ হিসেবে পাচারের বিষয়টিকে সামনে আনছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে অনেকে নিরাপত্তার কথা ভেবে বিদেশে অর্থ পাচার করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশীয় মুদ্রা টাকাকে ডলারে রূপান্তর করে পাচার করেন।
তাদের মতে, বেপরোয়া গতিতে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। অথচ দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে। এটিই রহস্যজনক। মূলত এই আমদানির নাম করে দেশ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা পাচার হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সামপ্রতিক সময়ে দেশের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখানে টাকা পাচারের যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী বছরে টাকা পাচার বাড়ে। কারণ, দেশে টাকা রাখাকে নিরাপদ মনে করেন না সম্পদশালীরা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হলে তাদের জন্য সমস্যা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে টাকা পাচার রোধে তৎপরতা বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
মানি এক্সচেঞ্জ হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বছরের শুরু থেকেই ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ডলারের স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় দাম বাড়ছে। এছাড়া বিদেশি ও বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশে আসার পরিমাণ হ্রাস হওয়ায় ডলার সংকটের একটি কারণ বলে জানান তারা। রাজধানীর বেশ কয়েকটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে কথা বলে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি ব্যয়ের চাপ বেড়ে যাওয়া, তুলনামূলক রপ্তানি ও রেমিটেন্স কমে যাওয়া, অসাধু ব্যবসায়ীদের ডলার আটকে রাখা ও যুক্তরাষ্ট্রের ডলার সংগ্রহ বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে দাম বাড়ছে ডলারের।
বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য মতে, ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম বেড়েই চলেছে। দেশের ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ ডলারের মূল্য সর্বোচ্চ ৮৬ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছে। আর আমদানি পর্যায়ে দায় মেটাতে নিয়েছে ৮৩ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে ৮৩ টাকার ৮৫ পয়সা।
বসুন্ধরা শপিং মলে অবস্থিত মিয়া মানি একচেঞ্জ হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. মহসিন আলী বলেন, আমরা এখন ডলার প্রতি ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা করে রাখছি। আর বিক্রি করছি ৮৬ টাকা ৪০ পয়সা। তার মতে, দেশে বিদেশি আসা কমে গেলে বা প্রবাসীরা কম আসলে ডলারের কিছুটা সংকট দেখা দেয়। তবে ডলারের দাম বাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালোভাবে বলতে পারবেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, কেউ পাসপোর্ট নিয়ে আসলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার দিয়ে টাকা নিতে পারেন।
বসুন্ধরা শপিং মলে ডলার বিক্রি করতে আসা নাসিদ কামাল বলেন, বড় ভাই বিদেশ থেকে এসেছেন। ডলার প্রতি ৮৫.৩০ পয়সা করে পেয়েছি। তার মতে, এক হাজার ডলার বিক্রি করে ৬ মাস আগের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার টাকা বেশি পেয়েছেন বলে জানালেন।
একই রেটের কয়েক পয়সা বেশি রাখছে পলটনস্থ মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ রুপালি মানি এক্সচেঞ্জ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আরিফিন বলেন, ডলারপ্রতি টাকা বেশি পাওয়া গেলে, হুন্ডির ওপর নির্ভরতা কমে যায়। মানুষ তখন বৈধ পথে টাকা পাঠাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এখন সেটাই হচ্ছে।
মানি এক্সচেঞ্জের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ডলার না ছাড়ায় সংকট বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে, সেটি চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া যে পরিমাণ আমদানি এলসি খোলা হয়েছে, সে পরিমাণ ডলার আমাদের হাতে নেই। এজন্য প্রতিদিনই ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট দেখা দিচ্ছে। তবে ডলারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বাজারের পরিস্থিতি ও চাহিদার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে।
মানি এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তারা বলেন, টাকার দাম কমে যাচ্ছে মূলত ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ডলারপ্রতি টাকার দাম আশির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এটা ৭৭ টাকার নিচেও ছিল দীর্ঘদিন। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে এটা বাড়তে শুরু করে। তবে ২০১৮ সালের শুরু থেকেই এটা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ৬ মাসে ডলারপ্রতি টাকা বেড়েছে ৩ টাকার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে আমদানি এলসি খোলা হয়েছিল ১ হাজার ১১৭ কোটি ডলারের। কিন্তু চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারের আমদানি এলসি খোলা হয়েছে। একইভাবে এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের পরিমাণ না বাড়ায় ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট তীব্র হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আমদানি এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে, সে পরিমাণ রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে খোলা এলসিগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। ফলে বাজারে ডলার সংকট আরো তীব্র হবে।

ফিলিস্তিনি যুবকের ছবি যেন দেলাক্রোয়ার পেইন্টিং

এটি এমন এক ছবি যা নিয়ে ইন্টারনেটে বহু শব্দ লেখা হয়েছে। তুলেছেন ফটোসাংবাদিক মুস্তাফা হাসোনা।
খালি গায়ে, উদ্যত ভঙ্গিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক, তার এক হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা, আরেক হাতে পাথর ছোঁড়ার স্লিং।
ছবিটি তোলা হয়েছে সোমবার গাজায়, ইসরায়েল সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের সময়। বিক্ষোভকারীরা এসময় টায়ার পোড়ায়, ইসরায়েলি সৈন্যদের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। জবাবে ইসরায়েলি সৈন্যরা গুলি চালায়, টিয়ারগ্যাসও ছোঁড়ে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এসময় ৩২ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়।
ছবিটি ব্যাপকভাবে শেযার হয়েছে অনলাইনে। অনেকেই একে তুলনা করেছেন বিখ্যাত চিত্রকর ইউজিন দেলাক্রোয়ার আঁকা ফরাসী বিপ্লবভিত্তিক ছবি 'লিবার্টি লিডিং দ্য পিপল'-এর সাথে।
এর পর আলজাজিরা টিভি ছবির এ যুবকটিকে খুঁজে বের করেছে। তার নাম আয়েদ আবু আমরো, বয়েস ২০।
ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীর ছবিটি তুলেছেন ফটোসাংবাদিক মুস্তাফা হাসোনা
"আমি খুবই অবাক হয়েছি দেখে যে আমার একটা ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে' - টিভি চ্যানেলটিকে বলেন আবু আমরো।
তিনি বলেন, "আমি প্রতি সপ্তাহেই বিক্ষোভে যোগ দিই, কখনো কখনো তারও বেশি বার। আমি জানতামও না যে আমার কাছে ফটোগ্রাফার ছিল।"
"এই পতাকাটা আমি যত বিক্ষোভে গেছি সবখানেই সাথে নিয়ে গেছি। আমার বন্ধুরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে - বলে, তোমার এক হাতে পতাকা না থাকলে পাথর ছোঁড়া আরো সহজ হবে। কিন্তু আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।"
লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর লালেহ খলিলি ছবিটা ইউটারে শেয়ার করেন মঙ্গলবার। শুধু তার টুইটই ৩০ হাজারের বেশি বার রি-টুইট হয়েছে। 'লাইক' পেয়েছে ৮০ হাজার।
অবশ্য সব প্রতিক্রিয়াই যে ইতিবাচক হয়েছে তা নয়। অনেকে এর সাথে বিরাটকায় দানব গোলায়াথের সাথে ক্ষুদ্রকার ডেভিডের লড়াইয়ে তুলনা করেছেন।
অনেকে আবার বলেছেন এ ছবিতে সহিংসতাকে মহত্ব দেবার চেষ্টা হয়েছে।
গত মার্চ মাস থেকে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে প্রতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনিদের এই বিক্ষোভ হচ্ছে। এতে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে অন্তত ২১৭ জন। আর ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছে ১ জন।
দেলাক্রোয়ার বিখ্যাত ছবি 'লিবার্টি লিডিং দ্য পিপল'

তামাশার নির্বাচনে বামজোট অংশ নেবে না by কাজল ঘোষ

বাম জোটের সমন্বয়কারী সাইফুল হক। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক। আপাদমস্তক একজন রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। ভাবেন দেশ নিয়ে। দেশের মানুষকে নিয়ে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে দেখছেন তিনি? বলেন, ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন হজম করার পরিস্থিতি বা বাস্তবতা দেশের মানুষের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তামাশার নির্বাচনকে বৈধতা দিতে বামজোট নির্বাচনে অংশ নেবে না। সাইফুল হক বলেন, একটি  তদারকি সরকারই পারে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে।
প্রয়োজনে তদারকি সরকারের কেউ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের জবাবদিহিতা থাকতে পারে।
বাম জোটের এ সমন্বয়ক বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও ক্রান্তিকাল সময় আমরা এখন অতিক্রম করছি। সাতচল্লিশ বছরেও আমরা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা বদলের কোনো গ্রহণযোগ্য উপায় কার্যকর করতে পারিনি। সরকার পরিবর্তনের বিধিবদ্ধ কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। কীভাবে নির্বাচন হবে? ক্ষমতা হস্তান্তরে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার কোনো সমাধান হয়নি। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য যে আইন থাকা দরকার তাও আমাদের এখানে হয়নি।
নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে এডহক ভিত্তিতে। কখনও প্রেসিডেন্ট সার্চ কমিটি গঠন করছেন, কখনও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম চেয়ে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। শাসক শ্রেণির অভ্যন্তরীণ যে অবস্থান, আমাদের এখানে যে লুণ্ঠনকেন্দ্রিক, দলীয়কেন্দ্রিক, একচ্ছত্র শাসনকেন্দ্রিক প্রক্রিয়া চলমান নির্বাচন নিয়ে সংকট তারই বহিঃপ্রকাশ। এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে লুণ্ঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার একটি প্রতিযোগিতা অব্যাহত আছে। ফলে বিত্তশালী হওয়ার জন্য দুর্বৃত্তরা রাজনীতিকে তাদের প্রধান অবলম্বন করে নিয়েছে। আগে বড় ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক দলগুলোকে সমর্থন করতেন, চাঁদা দিতেন।
এখন ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ নিজেরাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে না ওঠায় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিও গড়ে ওঠেনি। লক্ষ্য করার বিষয়, আওয়ামী লীগ একসময় মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য রাজনীতি করত। সেই আওয়ামী লীগেরও এখন মৌলিক চরিত্র বদলেছে। আওয়ামী লীগ কার্যত এখন লুণ্ঠনকেন্দ্রিক সুবিধাভোগীদের দল। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সাম্যের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল তা থেকে রাষ্ট্র এখন অনেক দূরে। রাষ্ট্র এখন অনেক বেশি বর্বর, অনেক বেশি সহিংস, অনেক বেশি স্বৈরতান্ত্রিক। বৃটিশ-পাকিস্তানি আমলে রাষ্ট্রের যে বর্বর চেহারা দেখা যায়নি এখন আমরা তাই দেখছি।
বিচারবহির্ভূত হত্যা, সরকারি জিম্মায় মানুষকে যেভাবে হত্যা, গুম করা হচ্ছে এবং রিমান্ডের নামে যে নির্যাতন করা হচ্ছে এই চরিত্র সে আমলেও দেখা যায়নি। এখন এগুলো সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে। রাষ্ট্রের সঙ্গে মানুষের বিচ্ছেদ তৈরি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের আগে বিএনপিও একই ধারায় ছিল। তারা মনে করেছেন তাদের ভোটে যাওয়া দরকার তাকে একটা বৈধ রূপ দেয়ার জন্য। এটা মুক্তিযুদ্ধের উল্টোদিকে যাত্রা। আমরা এরকম রাষ্ট্র, এরকম আমলাতন্ত্র চাইনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি লুণ্ঠনকেন্দ্রিক গোষ্ঠী। সে কারণে এখানে কেউ নির্বাচনে পরাজিত হতে চায় না। এটা করতে তারা যে ধরনের অপরাধ সংগঠিত করেন, আতঙ্কে থাকেন যে বিরোধী শিবিরে বসলে তাদের মামলা, হয়রানির স্বীকার হতে হবে। ফলে শাসক পক্ষ বিরোধী দলে গেলে নিজেরা টিকতে পারবে এমন কোনো সুযোগ রাখে না। বর্তমান শাসকদল আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলে বসতে হতে পারে এমন কোনো চিন্তা তাদের কথাবার্তায় বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও নেই। যদি সেটা থাকতো তাহলে বিরোধী দলে থাকলে সরকারের কাছ থেকে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা তারা করে। এখন সরকারে বসে সে ধরনের আচরণ করত আওয়ামী লীগ। 
- এবারের নির্বাচন নিয়ে কি ধরনের সংকট হতে পারে?
একটি হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। অন্যটি হচ্ছে শাসনতান্ত্রিক। প্রধানমন্ত্রীর হাতে সকল নির্বাহী ক্ষমতাকেন্দ্রিভূত। ফলে যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক দেখা গেছে এককেন্দ্রিক একটি ক্ষমতা কাঠামো গড়ে উঠেছে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে। কিছু ঐতিহাসিক ঘটনাও আমাদের রাজনৈতিক বিভাজনের পেছনে দায়ী। পঁচাত্তরের মর্মান্তিক হত্যার পরবর্তী পর্যায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা রাজনীতির মধ্যে কিছু ঐতিহাসিক বিভাজন, বিরোধ ও বৈরিতার জন্ম দিয়েছে। মনস্তাত্বিক বিরোধ অব্যাহত আছে।
রাজনীতির ভিতরে কিছু ঘৃৃণা, কিছু বিদ্বেষ এবং প্রতিহিংসারও জন্ম দিয়েছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। যেমন, আওয়ামী লীগ যখন জিয়াউর রহমান বা এ ধরনের ব্যক্তিদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে তখন বিএনপির বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটি গভীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম হয়। আবার বিএনপি যখন জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে (তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে একজন ঘোষক) তখন সত্যের অপলাপ হয়ে থাকে।
অন্যদিকে পনেরই আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন হয়ে থাকলেও সেদিন ঘটা করে জন্মদিন করা একটা সাধারণ রীতিনীতি বা সৌজন্যের মধ্যেও পরে না। এ ছাড়া ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা আমাদের রাজনীতিতে চলমান সংকটের পাশাপাশি একটি গভীর মনস্তাত্বিক বিরোধের জন্ম দেয়। সংঘাত সংঘর্ষের জায়গাটিকে উস্কে দেয়। এসব প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা কোনো দূরদর্শিতার পরিচয় দেননি। বিরোধ বৈরিতা আমাদের সমাজে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে একেবারে নিচু পর্যায়ে একধরনের গৃহযুদ্ধের যে আলামত তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এখন বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চল, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পাড়া, প্রতিটি রাস্তার লেন বিভক্ত। গত দশ বছরে বিএনপির ওপর যে পরিমাণ দমনপীড়ন চালানো হয়েছে বা এর আগে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন আওয়ামী লীগ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে পরিমাণ দমনপীড়ন চলেছে এটা এক ধরনের প্রতিশোধাত্মক জায়গা থেকে করা হয়েছে। এই প্রতিহিংসা বিরোধ বৈরিতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে একজনের বিনাশের ওপর আরেকজনের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা বলেছেন, বাংলার মাটি থেকে যদি বিএনপিকে ধ্বংস করা না যায় তাহলে দেশ গড়া যাবে না। চিন্তা করুন আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন, সেখানে একটি বড় দলকে যারা প্রধান বিরোধীদল তাদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে। তাদের সহাবস্থানের কোনো প্রশ্ন নেই, তাকে গণতান্ত্রিক ধারায় আনার কোনো প্রস্তাবনা নেই। অথচ সরাসরি প্রস্তাবনা হচ্ছে এদের উচ্ছেদ করা, ধ্বংস করা। এটা ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনার কথা নয়।
এর মাধ্যমে সংঘাতকেই আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে; বিরোধকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে; একটা মল্লযুদ্ধকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। বিষয়টি এমন যে, শক্তি পরীক্ষায় আছি পারলে আমাকে ঠেকাও। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যদি একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে আমরা না যেতে পারি তাহলে সমাধান আসবে না। যেমন- কীভাবে আমাদের ভোটাধিকার রক্ষা পাবে, কীভাবে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, মানুষ কীভাবে তার ভোট নিরাপদে দিতে পারবে, নির্বাচন কীভাবে সকলের অংশগ্রহণমূলক হবে? আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যেখানে মানুষ প্রয়োজনে দুবেলা ভাত না খেয়ে থাকতে রাজি আছে কিন্তু ভোটের অধিকার ছাড়তে রাজি নয়। ভোট দিতে না পারার যে যন্ত্রণা, রক্তক্ষরণ, অপমানবোধ এটা এখানকার মানুষ মানতে রাজি নয়। সুতরাং এগুলোর সমাধান না হলে লো ইনটেনসিটি সিভিল ওয়ারের যে লক্ষণ তা দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক শাসক শ্রেণির দলগুলো যেভাবে পরস্পরের মধ্যে প্রতিহিংসা আর এক দল আরেক দলকে ধ্বংস করার মরিয়া তাতে সংঘাত কমবে না আরো বাড়বে। এরকম পরিস্থিতিতে আমার দীর্ঘমেয়াদি সংকটে বলা যায় জ্ঞানত বা অজ্ঞানত একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। এতে দেশে গভীর নৈরাজ্যের জন্ম হবে।
এ ধরনের সংকটময় মুহূর্তগুলো পৃথিবীর বহুদেশে কাজে লাগিয়েছেন বিপ্লবী শক্তি। শাসক শ্রেণি যখন ব্যর্থ হয়, তারা যখন দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত থাকে তখন মানুষের কাছে বিকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে বৈষম্যহীন মানবিক সমাজের জন্য এরকম পরিস্থিতিকে বিপ্লবী বামপন্থিরা কাজে লাগিয়েছেন। বাংলাদেশে এ পরিস্থিতিকে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজে লাগাতে না পারলে জঙ্গিবাদী বা চরমপন্থার উত্থান ঘটবে। সমাজের অভ্যন্তরে চিন্তা-মতাদর্শের দিক থেকে এবং দক্ষিণপন্থি মতাদর্শের যে বাড়ন্ত লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সমাজের অভ্যন্তরে দক্ষিণপন্থি মতাদর্শের শর্তগুলো আরো শক্তিশালী হবে। এটা দেশের শাসকশ্রেণির কোনো অংশের জন্য যেমন ভালো নয়, তেমনি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার জন্য হবে আত্মঘাতী। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আগামী নির্বাচনের আগে বিদ্যমান এই সমস্যাগুলো সুরাহা সম্ভব বলে মনে করি।
সাইফুল হক বলেন, জনগণের বড় অংশ বিশ্বাস করে  বর্তমান সরকারকে রেখে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাহলে সমাধান কোথায়? ছিয়ানব্বই সালে আওয়ামী লীগ যে কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছে সে তুলনায় এখন অবিশ্বাস অনাস্থা আরো বহুগুণ বেশি। ফলে তখন যে কারণে দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে অংশ নিইনি, এখন তা না করার যুক্তি অনেক অনেক বেশি। অনাস্থা, বিরোধ, বৈরিতা, সন্দেহ, অবিশ্বাস এখন আগের চেয়েও মারাত্মক পর্যায়ে। সে জায়গা থেকেই বলতে চাই এখানে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনে আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিয়ে আলাপ আলোচনা করে, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য তদারকি সরকার কায়েম করা জরুরি। সেই তদারকি সরকারে আওয়ামী লীগও থাকতে পারে পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদলসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও থাকতে পারে। সকলে একমত হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে সেই সরকারে যারা থাকবেন তারা প্রয়োজনে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রত্যক্ষ নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন? আমাদের দলীয় অবস্থান হচ্ছে, তদারকি সরকার গঠিত হলে তারা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। এ ধরনের নিয়ম থাকলে এই তিন মাসে তারা যা খুশি করতে পারবে না। তা ছাড়া বিনা ভোটের নির্বাচনে গঠিত বর্তমান সংসদের কোনো ম্যান্ডেট নেই। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর কথা ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের। অথচ তা করা হয়নি। পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলো সরকার। যদি সংসদ থাকে তাহলে এই সংসদের যারা আছেন তাদের সঙ্গেতো প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা প্রার্থীদের কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো না। প্রশ্নহীন নির্বাচন চাইলে সরকারকে সংসদ বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে। নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য সরকারিদলকে ঘোষণা দিতে হবে।
বর্তমানে যে পরিস্থিতি তা অব্যাহত থাকলে আপনাদের জোট নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা?
বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্বাচনে অংশ নেয়া অসম্ভব। কারণ, নির্বাচনকালীন যে সরকারের কথা আলোচনায় আছে সে সরকার আর এ সরকারের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য হবে না। আগেই বলেছি, সকল নির্বাহী ক্ষমতা সরকার প্রধানের হাতে। সুতরাং নির্বাচনকালীন যে সরকার গঠিত হবে সংবিধান অনুযায়ী সেই সরকারের প্রধান অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর হাতেই সকল ক্ষমতা থাকবে। তিনি ক্ষমতা কতটুকু ব্যবহার করবেন সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু সকল ক্ষমতা তো ওনার হাতেই। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব ও মর্যাদা চূড়ান্তভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছে। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন মিলে যা করেছে এতে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি গণঅনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আরপিওর অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল করা, কীভাবে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ করা যায়, কালো টাকার দৌরাত্ম্য কিভাবে বন্ধ করা যায় এ বিষয়ে সংলাপের সময় দেয়া প্রস্তাবনাগুলোর কোনো একটি বিষয়ও কমিশন আমলে নেয়নি। বরং সরকারি দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে তারা ইভিএম চালুর চিন্তা করছে। যদিও মানুষের মনোভাব বুঝতে পেরে তারা কিছুটা পিছু হটেছে। নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে তারা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। যে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোর অধিকাংশই গ্রহণযোগ্য করতে পারেনি সেখানে এরকম একটি কমিশন দিয়ে একটি প্রশ্নহীন জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করা যাবে মানুষ এটা বিশ্বাস করে না।
সকল পরিস্থিতি বিবেচনায় বল সরকারের কোর্টে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক দাবি। কিন্তু সরকারকেও তো সেই জায়গাটি তৈরি করতে হবে। মানুষকে বুঝতে হবে, তার নিজের ভোট সে নিরাপদে দিতে পারবে, তার ভোট কাউন্ট হবে। ভোট দেয়ার পর সে নিরাপদ থাকবে। রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, আমরা এবার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই, মানুষ যাকে সমর্থন করবে তারাই নির্বাচনে বিজয়ী হবে। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব। শেষমুহূর্তে বামজোট আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা নির্ভর করছে সে সময়ের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর, রাজনৈতিক দল এবং জোটগুলোর যে অবস্থান সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন বয়কটও করতে পারি আবার আন্দোলনের অংশ হিসাবে নির্বাচনে অংশও নিতে পারি। ফলে আমরা বর্তমানে নির্বাচন প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনে আছি। তবে একটি কথা খোলাসা করে বলতে চাই, অংশগ্রহণমূলক না হলে তামাশার নির্বাচন বৈধতা দেয়ার জন্য বামজোট অংশ নেবে না।  
- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে। তারা ইতিমধ্যেই সাত দফা দাবি আদায়ে মাঠে নেমেছেন। আপনারাও একটি জোট গঠন করেছেন? সামনের দিনে আপনারা তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন কিনা?
- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানাই। স্বাগত এজন্য যে, অনেক বিলম্বে হলেও তারাও একই কথা বলছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবন করে তারা অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এগিয়ে এসেছেন। এটি যথেষ্ট ইতিবাচক। আমরা দেখতে চাই রাজপথে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে এ দাবিগুলো মানাতে সরব হবেন। কারণ রাজপথের আন্দোলন ছাড়া সরকারকে এই দাবি মানানোর অন্য কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যা বলছে আমরা এই কথাগুলো বলছি অনেক আগ থেকেই। তাদের দেয়া দফা ও লক্ষ্যসমূহের অধিকাংশই আমরা বছর খানেক আগ থেকে রাজপথে বলে এসেছি। তাদের ঘোষিত অনেকগুলো দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি চাপ দিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, একটি অবাধ নির্বাচনের জন্য তারা যে দাবি উত্থাপন করেছেন তার জন্য মাঠে জোরালো আন্দোলন গড়ে ওঠলে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হবে, আস্থার জায়গা তৈরি হবে। মানুষের মধ্যে জাগরণ তৈরি করা, সে জাগরণ গণঅভ্যুত্থান হবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে, একটি গণজাগরণ তৈরি করা সম্ভব। মানুষের গণজাগরণের মধ্য দিয়ে সরকারকে যদি পিছু হটানো না যায় তাহলে ভিন্ন কৌশলে হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের মানুষকে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন হজম করার মতো শক্তি বাংলাদেশের মানুষের নেই। এই পরিস্থিতিতে সমাজের মধ্যে বিভাজন আরো প্রকট হবে, সহিংসতার জন্ম দেবে, আরো নানা ধরনের অপ্রত্যাশিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দেবে। আবার যদি তারা ২০১৪ সালের মতো একই কায়দায় ক্ষমতায় আসতে চায় তাহলে সে সরকারের তো কোনো ম্যান্ডেট থাকবে না। সুতরাং পরবর্তী পাঁচ বছর তারা একইভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন সেটা প্রায় দুরাশার শামিল। সেসময় পুরো রাষ্ট্রের জন্যই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হবে। যা সুস্থ বিবেকসম্পন্ন কোনো মানুষ চাইবে না।
-সমাধানটা কোথায়?
শেষ পর্যন্ত যারা আমরা সমমনা বা একই রকম দাবি নিয়ে মাঠে আছি তারা আন্দোলনের মাধ্যমে; আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলোর যদি একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে না পারি- বিশেষ করে কীভাবে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা পাবে ও নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু ও অবাধ হবে; মানুষ কীভাবে তার ভোট নিরাপদে দিতে পারবে; নির্বাচন কীভাবে সকলের অংশগ্রহণমূলক হবে? আমাদের বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলো তারা যেভাবে পরস্পর পরস্পরকে ধ্বংসের চিন্তা করছেন এবং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাতে সংঘাত বাড়বে। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে সংকট যেভাবে ঘনীভূত হচ্ছে তাতে জ্ঞাত বা অজ্ঞাত দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এতে দেশের গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং নৈরাজ্যে পরিস্থিতি জন্ম দেবে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে জঙ্গিবাদী বা মৌলবাদী গোষ্ঠীর জন্ম হবে এবং ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত বাড়তে থাকবে। অন্যদিকে সমাজের ভেতর থেকেই দক্ষিণপন্থার একটি উত্থানের সম্ভাবনা বাড়বে। এটা শাসক গোষ্ঠীর জন্য যেমন ভালো নয় তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার জন্য আত্মঘাতী হবে।
সকল পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হয়, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখানোর সুযোগ এখনও আছে। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না বর্তমান সরকারকে রেখে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। তাহলে সমাধানটা কোথায়? ’৯৬ সালে যে প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করেছে এখন সে প্রেক্ষিত অনেক অনেক গুণ বেশি। এখনকার অনাস্থা-অবিশ্বাস আগের চেয়ে আরো অনেকগুণ বেশি। তখন যে কারণে দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন করিনি বর্তমানেও তার যুক্তি অনেক অনেকগুণ বেশি। অনাস্থা বিরোধ সন্দেহ-অবিশ্বাস এখন আগের চেয়েও মারাত্মক পর্যায়ে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারকে বলতে চাই, সদিচ্ছা দেখাতে। আমরা ইতিমধ্যেই প্রস্তাব করেছি নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোকে নিয়ে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা একটি তদারকি সরকার গঠন করা। সেই সরকারে আওয়ামী লীগসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর প্রতিনিধি থাকতে পারে। যারা সরকারে অংশ নেবে তারা হতে পারে নির্বাচনে অংশ নেবে না। আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে এই তদারকি সরকার খেয়াল খুশিমতো যা খুশি না করতে পারেন সেজন্য পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

নতুন আইনে মাদকের জন্য কী সাজা

শনিবার পাস হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১৮। রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করায় তা এখন আইন। আইনে বলা আছে, অ্যালকোহল ব্যতীত অন্যান্য মাদকদ্রব্যের উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার হয় এমন কোনো দ্রব্য বা উদ্ভিদের চাষাবাদ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন বা পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। জাতীয় মাদক সরবরাহ, বিপণন, কেনা-বেচা, হস্তান্তর, গ্রহণ-প্রেরণ, লেনদেন, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ ও প্রদর্শন করা যাবে না। সেবন অথবা ব্যবহারও করা যাবে না।
এবার জেনে নেয়া যাক সাজার বিধান
কোথাও পপি ফল বা পপির অঙ্কুরোদ্গম বীজ পাওয়া গেলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে কোথাও ১০টি বা তার কম পপি গাছ অথবা এই গাছের ফল বা বীজ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। গাছের সংখ্যা ১১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং গাছের সংখ্যা ১০০ এর বেশি হলে কমপক্ষে ১০ বছর ও সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদ- দেয়া যাবে।
কোথাও ১০টি বা তার কম কোক গাছ বা কোক গুল্ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে। গাছের সংখ্যা ১১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং গাছের সংখ্যা ১০০ এর বেশি হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের কারাদ- দেয়া যাবে।
আফিম বা আফিম দ্বারা তৈরি নেশাদ্রব্য ১০০ গ্রাম বা তার বেশি হলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে।
একই নেশাদ্রব্যের পরিমাণ ১০০ থেকে ১ হাজার গ্রামের মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং ১ হাজার গ্রামের বেশি হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
৫ গ্রাম পর্যন্ত কোকেন, হেরোইন, মরফিন ও পেথিডিন পাওয়া গেলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। এই মাদকের পরিমাণ ৫ থেকে ২৫ গ্রামের মধ্য হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং মাদকের পরিমাণ ২৫ গ্রাম বা তার বেশি হলে যাবজ্জীবন কারাদ- বা মৃত্যুদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
ইয়াবা বা অ্যামফিটামিনের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন বা পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে১০০ গ্রাম পর্যন্ত ইয়াবা পাওয়া গেলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ১০০ থেকে ২০০ গ্রামের মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ২০০ গ্রাম বা তার বেশি হলে যাবজ্জীবন কারাদ- বা মৃত্যুদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
ইয়াবা সরবরাহ, বিপণন, কেনা-বেচা, হস্তান্তর, গ্রহণ-প্রেরণ, লেনদেন, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত ইয়াবা পাওয়া গেলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ২০০ থেকে ৪০০ গ্রামের মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ৪০০ গ্রাম বা তার বেশি হলে যাবজ্জীবন কারাদ- বা মৃত্যুদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
ইয়াবা সেবনের শাস্তি ৩ মাস থেকে দুই বছরের কারাদ- ও অর্থদ-।
কোথাও ৫০টি বা তার কম গাঁজা বা ভাং গাছ পাওয়া গেলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। গাছের সংখ্যা ৫০ থেকে ৫০০ টির মধ্যে হলে ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং গাছের সংখ্যা ৫০০ টির বেশি হলে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
গাঁজা বা ভাং গাছের শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল ইত্যাদির দ্বারা তৈরি মাদকের পরিমাণ ৫ কেজি বা তার কম হলে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ-, মাদকের পরিমাণ ৫ কেজি থেকে ১৫ কেজির মধ্যে হলে ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং মাদকের পরিমাণ ১৫ কেজির বেশি হলে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।

নারায়ণগঞ্জে কলেজছাত্রীদের গায়ে কালি মেখে দিলো শ্রমিকরা

পরিবহন ধর্মঘটের নামে ‘কালি সন্ত্রাস’ থেকে রক্ষা পায়নি নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীরা। কলেজ বাসে হামলা চালিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা ছাত্রীদের গায়ে কালি (পোড়া মবিল) লেপন করেছে। ভাঙচুর করেছে বাসের গ্লাসও। এসময় ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি পাম্পের কাছে। পরে বাসটি সেখানে থামিয়ে দিয়ে আর যেতে দেয়নি।
ছাত্রীরা জানায়, রোববার দ্বাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষে ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এক সঙ্গে ৩৮ জন ছাত্রীকে কলেজ বাসযোগে পাঠানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রীদের বহনকারী বাসটি সাইনবোর্ড এলাকা পার হওয়ার সময় হঠাৎ শ্রমিকরা থামিয়ে দেয়। এবং বাসের চালক মজিবর ও হেলপার জহিরুলকে বাস থেকে নামিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে পোড়া মবিল মেখে দেয় উচ্ছৃঙ্খল পরিবহন শ্রমিকরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে কয়েকজন ছাত্রীকেও কালি লেপে দেন শ্রমিকরা। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। পরে বাসের কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করে বাস থেকে সবাইকে নামিয়ে দেয়া হয়।
বাসটির চালক মজিবর রহমান বলেন, বাসটিতে ৩৮ জন ছাত্রী ছিল। তারা সবাই সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়নরত। ছাত্রী বহনকারী বাসটি সাইনবোর্ড এলাকায় এলেই হামলা করে বাসের গ্লাস ভাঙচুর করে শ্রমিকরা। পরে ছাত্রীদের গায়েও কালি মাখিয়ে দেয়। নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিবা বলেন, আমাদের বাসের চালক মজিবর আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা বাসের কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করেছে। এবং ছাত্রীদের গায়েও কালি দিয়েছে বলে জানালো। বাসটি ওখানেই রাখা হয়েছে, কলেজে ফিরলে বিস্তারিত জানতে পারবো।
এদিকে মহিলা কলেজের গাড়িতে হামলা ও ছাত্রীদের গায়ে কালি লেপনের ঘটনায় সর্বত্র নিন্দার ঝড় বইছে। এক ছাত্রীর কলেজ ড্রেসে কালির ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার ছবির নিচে নিন্দা আর ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করছে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।
সিদ্ধিরগঞ্জে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শ্রমিকদের: এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল মোড়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় তারা ৮ দফা দাবি আদায়ে বিক্ষোভ করে। তবে কর্মসূচি চলাকালে উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। গাড়ি থামিয়ে গালমন্দ করে চালকের মুখে পোড়া মবিল মেখে দিয়েছে তারা। অনেকে আবার পরিবহন শ্রমিকদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শিমরাইল মোড় পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিপাকে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী। শ্রমিকরা রাস্তায় সব ধরনের পরিবহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
এ থেকে রেহাই পায়নি এম্বুলেন্সও। ছোট যানের মধ্যে রিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকও বাধার মুখে পড়েছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে গণপরিবহন, বিশেষ করে বাসের অপেক্ষায় সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় হাজারো যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা  গেছে। বিভিন্ন এলাকায় অফিসগামী যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অনেকে নিরুপায় হয়ে পায়ে হেটে গন্তব্যে রওনা দিয়েছে। কেউ বেশি ভাড়ায় রিকশা অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাচ্ছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০টি স্পটে অবস্থান নেয় পরিবহন শ্রমিকরা। তারা কোনরকম যানবাহন চলাচল করতে  দেয়নি। অ্যাম্বুলেন্সও চেক করে তারা।
তবে রোগী থাকলে তারা অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু রোগী না থাকলে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। এমনকি মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যানগাড়ি দিয়ে চলাচল করতে  দেয়নি। শ্রমিকরা মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানসহ যেকোন ধরনের পরিবহন দেখলেই ময়লা কাদা বা আলকাতরা ও পোড়া মবিল লাগিয়ে দিচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকদেরও কোনরকম ছবি তুলতে দেয়া হয়নি। এক পর্যায়ে ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
প্রধানমন্ত্রীর পিএসের গাড়িও আটকে দিয়েছে শ্রমিকরা: গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিমরাইল মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর পিএস সাজ্জাদুল হাসানের গাড়ি আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় আধা ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্লা তাসলিম হোসেন শ্রমিকদের  সঙ্গে আলোচনা করে গাড়িটি ছাড়াতে সক্ষম হন।  শুধু তাই নয়, পুলিশের গাড়িও আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা।

সাংবিধানিক সংকটে শ্রীলঙ্কা: বিক্রমাসিংহেকে সমর্থন দিলেন স্পিকার

গভীর এক সাংবিধানিক সংকটে শ্রীলঙ্কা। শনিবার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত করেন। এর আগের দিন তিনি বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে। পুনর্বহাল করেন চীনপন্থি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসেকে। এরপরই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্রীলংকায় নিয়োজিত চীনের দূত চেং সুয়েয়ুন। তবে ঘটনা জট লেগেছে আরো এক জায়গায়। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া রোববার রনিল বিক্রমাসিংহেকে দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বরখাস্ত হওয়ার পর বিক্রমাসিংহেও সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
তাকে বরখাস্তের যে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা দিয়েছেন তা বেআইনি ও অসাংবিধানিক। বিক্রমাসিংহে হলেন শ্রীলঙ্কার ইউএনপি দলের নেতা। তাকে সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার কাছে একটি চিঠি লিখেছেন স্পিকার জয়সুরিয়া। তাতে তিনি আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বলেছেন, এর ফলে দেশকে মারাত্মক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি বিক্রমাসিংহেকে সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমেই পার্লামেন্ট স্থগিত করা উচিত। ওই চিঠিতে বরখাস্ত করা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের নিরাপত্তা প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্পিকার। ফলে এ অবস্থায় ক্ষমতার লড়াইটা শুধু রনিল বিক্রমাসিং ও মাহিন্দ রাজাপাকসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তা এখন পুরো সরকার ব্যবস্থাকে দুটি ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। একপক্ষে চলে গেছেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। অন্যপক্ষে স্পষ্টত অবস্থান করছেন স্পিকার কারু জয়সুরিয়া। রনিল বিক্রমাসিংহেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহাল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে শুক্রবারই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহিন্দ রাজাপাকসেকে শপথ পড়িয়ে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। এর ফলে প্রচণ্ড এক সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
রনিল বিক্রমাসিংহে নিজেকে এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া, আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী রনিল ব্রিকমাসিংহেকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। তার জায়গায় চীনপন্থি হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসেকে বসান তিনি। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে রাজাপাকসের সমর্থকরা। তবে বিক্রমাসিংহের সমর্থকরা এটিকে বিরোধীদের অভ্যুত্থান হিসেবে দেখছে। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত ঘোষণা করেছেন। বলা হচ্ছে, বিক্রমাসিংহে যেন পার্লামেন্টে তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারেন সেজন্যই এ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ক্ষমতাসীন জোট থেকে নিজের দলকে সরিয়ে নেন সিরিসেনা।
এদিকে, বিক্রমাসিংহে বরখাস্ত হওয়ার আগমুহূর্তে তিনি আরো একটি অধিবেশন ডাকার জন্য পার্লামেন্টের স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান। মূলত পার্লামেন্টে নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্যই তিনি এই আহ্বান জানিয়েছিলেন। শনিবার কলম্বোতে বিক্রমাসিংহে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় বলেন, পার্লামেন্টে আমার সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। পার্লামেন্টের অধিবেশন ডেকে এ সংকটের সমাধান করুন। সংবাদ সম্মেলনে সিরিসেনার দল ছাড়া ক্ষমতাসীন জোটের সব দলই উপস্থিত ছিল।
ইতিমধ্যেই বিক্রমাসিংহেকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল সরিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। অস্থায়ীভাবে একজনকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান। এতে বলা হয়, নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের পাশাপাশি মন্ত্রিসভাও ভেঙে দেয়া হয়েছে। বিক্রমাসিংহেকে রোববারের মধ্যে বাসভবন ছাড়তে বলা হয়েছে। তিনি সরকারি ওই বাসভবন ছাড়বেন কিনা তা স্পষ্ট বোঝা যায় নি। বিমল বিরাওয়ানসা নামের একজন পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, স্ব-সম্মানে বাসভবন ত্যাগ করার জন্য বিক্রমাসিংহের হাতে রোববার পর্যন্ত সময় আছে। বিরোধী দলে থেকেও আমরা একটি বড় স্টেডিয়াম মানুষে পরিপূর্ণ করেছি। চিন্তা করেন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে আমরা কি করতে পারি। এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিক্রমাসিংহেকে এক রকম হুমকিই দিয়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিক্রমাসিংহে যদি বাসভবন ত্যাগ না করেন, তাহলে বিক্ষোভকারীরা জোর করে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করবে।
রোববার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার কথা প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার। ধারণা করা হয়, আজ সোমবার মন্ত্রিসভা গঠন করা হতে পারে। শ্রীলঙ্কার সংবিধান অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত নতুন সরকার গঠনের জন্যই প্রেসিডেন্ট এমন ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সংকটের কারণ: সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহের মধ্যকার কলহের জের ধরে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে রাজাপাকসেকে পরাজিত করার জন্য জোট গঠন করেছিল সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহের দল। নির্বাচনে তাদের জোট জয়লাভ করলে সিরিসেনাকে প্রেসিডেণ্ট মনোনীত করা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই অপরিচিত মুখ সিরিসেনা ক্ষমতায় বসে অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দেন। তবে সম্প্রতি বিক্রমাসিংহের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিমত দেখা দেয়। জীবন ধারণের খরচ ও ট্যাক্স বৃদ্ধির কারণে দেশে জন-অসন্তোষ দেখা দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনে রাজাপাকসের দলের কাছে সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহের দল পরাজিত হয়। নিজ দলের বিপুল জনসমর্থন দেখে রাজাপাকসে ঘোষণা দেন, ক্ষমতাসীন জোট দেশ শাসনের ম্যান্ডেট হারিয়েছে। তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি তোলেন। কিন্তু সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এই দাবি প্রত্যাখান করে। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। গণমাধ্যম ও অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সামারাবিরা বলেন, এটা বিশ্বাস করা কষ্ট যে, চার বছর আগে যিনি বিক্রমাসিংয়ের আমন্ত্রণে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসেছেন, তিনি এভাবে উল্টে যাবেন, যে তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তারই বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেবেন। টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। সিরিসেনাকে অভিশংসন করার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে সামারাবিরা বলেন, পার্লামেন্টে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
শনিবার কলোম্বো একই সঙ্গে উদযাপন ও বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের সমর্থকরা আতশবাজি ফুটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে বিক্রমাসিংহের হাজার হাজার সমর্থক তার সরকারি বাসভবনের বাইরে জড়ো হয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, সিরিসেনা বিশ্বাসঘাতক। আমরা তাকে ক্ষমতায় বসানোর পরেও তিনি আমাদেরই নেতাকে সরিয়ে দিয়েছেন। গণমাধ্যম ও অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সামারাবিরা প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার ঘটনাকে গণতন্ত্রবিরোধী অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিক্রমাসিংয়ের দল কলম্বোতে সোমবার সর্বাত্মক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। শুক্রবার সিরিসেনা যখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজাপাকসেকে শপথ পড়াচ্ছিলেন, তখন বিক্রমাসিংহে দেশের দক্ষিণাঞ্চল সফর করছিলেন। শ্রীলঙ্কার সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট পরিচালনা করলেও প্রেসিডেন্টকে নির্বাহী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ: বাসভবন ত্যাগ করার জন্য বিক্রমাসিংহেকে যে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেন নি সিরিসেনা ও রাজাপাকসে। এমন অনিশ্চয়তার মুখে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের সকল ধরনের ছুটি বাতিল করেছেন আইজিপি পুজিত জয়সুন্দরা। কলম্বোর রাজপথে অতিরিক্ত টহল পুলিশ মোতায়েন করেছেন তিনি। এদিকে, শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অভহিত করে নাগরিকদের প্রতি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ শ্রীলঙ্কার সকল দলের প্রতি সংবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সহিংসতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এদিকে, নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।