Wednesday, August 20, 2025
সংসদ, পরিষদ না গণভোট— কোন পথে যাবে দেশ by সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন
যখন কোনো দেশ নতুন করে তার সংবিধান তৈরি করতে চায়, তখন সাধারণত কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বা সাংবিধানিক পরিষদ তৈরি করেই সেটা করা হয়। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধান সংস্কারের জন্যও সাংবিধানিক পরিষদ সৃষ্টি করার উদাহরণ ইতিহাসে অনেক পাওয়া যায়।
২০২২ সালে চিলি তাদের সংবিধান সংস্কারের জন্য যে সাংবিধানিক পরিষদ তৈরি করে, তার নামই রাখা হয় সংবিধান সংস্কার পরিষদ। যদিও সেই পরিষদ যে সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য গণভোটে পেশ করে, সেটা চিলির জনগণ প্রত্যাখ্যান করেন।
ইন্দোনেশিয়া তার প্রথম সংবিধান পায় ১৯৪৫ সালে। ১৯৯৮ সালে একনায়ক সুহার্তোর পতনের পর প্রচলিত সংবিধানে ফেডারেল বা প্রাদেশিক কাঠামো প্রবর্তন, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সীমিতকরণ এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার মতো মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাংবিধানিক পরিষদ নির্বাচিত হয়।
এই পরিষদ ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য তিন বছর ধরে আলোচনা করে ২০০২ সালে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে সক্ষম হয়। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতালি সাংবিধানিক পরিষদ তৈরি করে তাদের সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করার জন্য।
সংবিধান পরিষদ তৈরি না করে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেও সংবিধানের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা যায়। সংসদ সাধারণত সংবিধান সংশোধনের মধ্যে তাদের এখতিয়ার সীমাবদ্ধ রাখলেও ইতিহাসে সংসদের মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার সাধনের উদাহরণ আছে অনেক।
বাংলাদেশের সংসদ দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করে। জার্মানির সংসদের দুই কক্ষ বুন্ডেস্টাগ ও বুন্ডেসরাট মিলে দুই জার্মানি একীভূত করার মতো বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আর দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ-পরবর্তী নতুন সংবিধান তাদের নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই অধিষ্ঠিত করে। যুক্তরাজ্যের কোনো লিখিত সংবিধান না থাকলেও ১৯৪৯ সালে তাদের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স, উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের ক্ষমতা অনেক কমিয়ে ফেলে।
সংসদ তো নির্বাচিত; কিন্তু নির্বাচিত সাংবিধানিক পরিষদ ছাড়াই যে সংবিধানের বড় পরিবর্তন আনা যায়, সেই উদাহরণ খোদ বাংলাদেশেই আছে। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের করা বাকশাল বাতিল করা হয় জিয়াউর রহমানের একক সিদ্ধান্তে। সেই পরিবর্তন নাগরিকদের পক্ষে ছিল বলে সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।
এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হচ্ছে ফ্রান্সের পঞ্চম রিপাবলিক। পঞ্চাশের দশকে ফ্রান্স যখন তাদের সাংবিধানিক পরিষদের তৈরি চতুর্থ রিপাবলিকের সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছে এবং তাদের উপনিবেশ আলজেরিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে ফ্রান্সের সমাজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তখন চার্লস দ্য গলের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়ে গণভোটের মাধ্যমে পঞ্চম রিপাবলিকের সংবিধান গৃহীত হয়। সেই পঞ্চম রিপাবলিক এখনো অটুট।
অনেক সময় অনির্বাচিত সংস্থাও সংবিধানের মৌলিক এবং স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। ১৯৭৩ সালে ভারতের উচ্চ আদালত সংবিধানের মূল কাঠামো নিয়ে তাঁদের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদের সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করেন। ১৯৪৭ সালে দখলদার মার্কিন প্রশাসন জাপানের নির্বাচিত সংসদের সংবিধান প্রস্তাব বাতিল করে দিয়ে সেই সংসদকে দিয়েই নিজেদের প্রস্তাবিত সংবিধান পাস করিয়ে নেয়। জাপান এখনো বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সেই সংবিধান নিয়েই চলছে।
এই দিকে সাংবিধানিক পরিষদের তৈরি করা সংবিধানও অনেক সময় দেশের কোনো কাজে আসে না। চিলির উদাহরণ থেকে আমরা দেখলাম, যেখানে সাংবিধানিক পরিষদের প্রস্তাব চিলির জনগণ প্রত্যাখ্যান করেন। আইসল্যান্ডে আবার দেখা যায়, তাদের জনগণ ১৯১২ সালে তাদের সাংবিধানিক পরিষদ দিয়ে যেই সংবিধান প্রস্তাব গণভোটে পাস করে, সেই সংবিধান তাদের সংসদ নাকচ করে দেয়। বিচিত্র এই পৃথিবী।
অনেক সময় সাংবিধানিক পরিষদের পাস করা সংবিধান নিজেই দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে। সাদ্দাম-পরবর্তী ইরাক ২০০৫ সালে তাদের সরকার হিসেবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সংসদ নির্বাচিত করে, যাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল একটি সংবিধান প্রণয়ন করা। প্রস্তাবিত সংবিধান গণভোটে ৮০ ভাগ সমর্থন পেয়ে পাস হলেও সংখ্যালঘু সুন্নিরা সেই সংবিধান প্রত্যাখ্যান করে এবং ইরাক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। সেই গৃহযুদ্ধ থেকে ইরাক এখনো বের হতে পারেনি।
এত সব উদাহরণ থেকে এটা পরিষ্কার যে বাংলাদেশের জন্য তার সংবিধান সংস্কারের যে সুযোগ এসেছে, সেটা বাস্তবায়নের জন্য তার সামনে অনেকগুলো পথ খোলা আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ, সাংবিধানিক পরিষদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এক নির্বাচনে সাংবিধানিক পরিষদ এবং সংসদ, কেবল সংসদ এবং গণভোট; সব পথেই সংবিধান সংস্কার সম্ভব।
অনেকেই মনে করেন যে সাংবিধানিক পরিষদ সৃষ্টি হলে সংবিধান নতুন করে লেখার চাপ সৃষ্টি হবে এবং দেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। আমরা অন্য দেশের উদাহরণ থেকে দেখলাম যে সংবিধান সংস্কারের জন্যও সাংবিধানিক পরিষদের নির্বাচন করা যায়; সুতরাং সাংবিধানিক পরিষদ সৃষ্টি করলেই চলমান সংবিধান বাতিল হয়ে যায় না। অতএব নতুন সংবিধান তৈরির প্রশ্ন ওঠে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পরিষদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা সংসদ, সব ক্ষেত্রেই ঐকমত্য সনদের ভিত্তিতেই সংস্কার করবে, বিধায় নতুন সংবিধানের আবদার খুব একটা হালে পানি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
বাস্তবায়নের পথে আসল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংস্কার প্রস্তাবনার বিষয়ে কোনো দ্বিধা না রেখে একটা ঐকমত্যে পৌঁছানো। আপত্তি নিষ্পত্তি করে একটা পরিষ্কার প্রস্তাব দাঁড় করাতে পারলে বাকি পথ সহজ হয়ে যাবে। সেই পরিষ্কার করার পথে সংস্কারের পরিসর নিয়ে ঐকমত্যে আসাটা আরও একটা বড় পরীক্ষা। এখন পর্যন্ত যতটুকু বিষয়ে ঐকমত্য পৌঁছানো গেছে, সেটুকুতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই। তার মানে, দলগুলোকে ঐকমত্যে আসা প্রস্তাবের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
যদি সংস্কার নিয়ে কোনো যদি কিন্তু ছাড়া একটা পরিষ্কার প্রস্তাব আনা যায় এবং যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, উচ্চকক্ষ, নারীর অংশগ্রহণ, সাংবিধানিক পদে নিয়োগসহ ক্ষমতাকাঠামোর কিছু মৌলিক সংস্কার সংযুক্ত থাকে, সে ক্ষেত্রে সেই সমঝোতার সনদের পক্ষে অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে সংসদের হাতেই বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করার সুযোগ থাকবে।
আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে, সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলাকালে সরকার পরিচালনা করবে কারা। চলমান মব আর চাঁদাবাজির অস্থিরতায় দেশের অনেকেই নির্বাচিত সরকারের হাতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছেন, সে জন্য অনেক সময় নিয়ে সংবিধান সংস্কার করে তারপর নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসার সুযোগ আর এখন নেই। অতএব সামনের নির্বাচন হতে হবে সংসদ যোগ সাংবিধানিক সভার নির্বাচন, ঠিক সত্তরের নির্বাচন যেমন হয়েছিল, তেমন। সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে পরিষ্কার ঐকমত্যে পৌঁছানো গেলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা খুব কম সময়ের মধ্যেই সংস্কার বাস্তবায়ন করে তাঁদের আইনসভা এবং সরকারি দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারবেন।
এই আলোচনা থেকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে যতই চেষ্টা করি না কেন, পরিপূর্ণভাবে সংস্কার টেকসই নিশ্চিত করার কোনো প্রক্রিয়া দুনিয়াতে নেই। গত ৭৫ বছরে পৃথিবীতে যে ২০০টি দেশ আছে, সেখানে ৬০০ সংবিধান তৈরি হয়েছে। তার মানে, সংবিধানের সংশোধন অবশ্যম্ভাবী। তার ওপর ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে সংবিধান সংস্কারের পথ খোলা না রাখলে সেই রাষ্ট্রে সাংবিধানিক গোলযোগ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। সব দিক বিচারে বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলেই সংস্কার টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়বে।
শেষমেশ নাগরিকেরাই সংবিধানের সবচেয়ে বড় রক্ষাকর্তা। সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পারলে সেটা যেকোনো পদ্ধতিতেই অধিষ্ঠিত হোক না কেন, সেটা টেকসই হতে বাধ্য।
* সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের একজন রাজনৈতিক কর্মী। ই-মেইল hasibh@gmail.com।
- মতামত লেখকের নিজস্ব
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে যেভাবে চাঁদাবাজি হলো by এম গেসেন
মানুষ বলে, সব যুদ্ধ শেষ হয় আলোচনার মাধ্যমে। কিন্তু সাধারণত আক্রমণকারী রাষ্ট্র এমন জমি দাবি করে না যেটা তার দখলে নেই। যুদ্ধের সময় যা দখল হয়েছে, সেটা রাখা হবে নাকি ফেরত দেওয়া হবে, সাধারণত সেটিই আলোচনায় থাকে। কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিন সব সময় এমন ভূখণ্ড দাবি করেছেন, যেটা তাঁর সেনারা সাড়ে তিন বছর ধরে যুদ্ধ করেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। গত শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন সামান্য ছাড় দিয়েছেন বটে; তবে এখনো তিনি দখল করা ভূমির চেয়ে বেশি ভূমি চাইছেন। অবশ্য আগে যা চেয়েছিলেন, তার চেয়ে এবার একটু কম চাইছেন। কিন্তু কম হলেও সেটা এখনো অতিরিক্ত দাবিই থেকে যাচ্ছে।
ভূমি বিনিময় কথাটা শোনাতে যা বোঝায়, পুতিনের প্রস্তাবটি সে ধরনের কিছু নয়। আদতে তিনি ইউক্রেনের একটি অংশ নিতে চান। এর বিনিময়ে তিনি ইউক্রেনের আরও বড় অংশ দখল করার হুমকি থেকে বিরত থাকবেন। এটাকে বিনিময় বলা যায় না। এটাকে বলে চাঁদাবাজি।
আলোচনায় নেতারা বারবার ‘ভূমি’ বা ‘এলাকা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। ট্রাম্প নাকি জেলেনস্কিকে একটা মানচিত্র দিয়েছিলেন আলোচনা সহজ করার জন্য; আর জেলেনস্কিকে একটি কপি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু মনে রাখা দরকার, ভূমি মানে মানচিত্রের দাগ নয়। ওই জমিতে মানুষ থাকে। সেখানকার শহর, গ্রাম, বাজারে এখনো জীবন চলছে। এমনকি যুদ্ধের সম্মুখভাগেও মানুষ তাদের জীবন চালিয়ে যাচ্ছে।
পুতিন যেসব এলাকা চাচ্ছেন, তার মধ্যে ক্রামাতোরস্ক আর স্লোভিয়ানস্ক—এই দুই ইউক্রেনীয় শহর আছে। যুদ্ধ শুরুর আগে সেখানে জনসংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই লাখ ও এক লাখ। এখন কত মানুষ আছে, তার সঠিক সংখ্যা কেউ জানে না। কেউ পালিয়েছে, কেউ দখল হওয়া এলাকা থেকে সেখানে এসেছে, কেউ প্রাণ হারিয়েছে। তবে এখনো হয়তো সেখানে লাখের বেশি মানুষ বসবাস করছে।
যদি ইউক্রেনের জমি রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তাহলে এর মানে দাঁড়ায়, সেখানে বসবাসকারী মানুষদের হয় রাশিয়ার দখলদারি মেনে নিতে হবে, নয়তো জোর করে তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হবে। দুটোই অপরাধ। আর এই অপরাধে ট্রাম্প আসলে জেলেনস্কিকে অংশীদার করতে চাইছেন।
এমন চাঁদাবাজি দিয়ে আলোচনার উদাহরণ নতুন নয়। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের নেতারা মিলেছিলেন ইয়াল্টা সম্মেলনে। সম্মেলনস্থল ছিল তখনকার সোভিয়েত ইউক্রেনের শহর আর এখনকার রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়া। সেখানেই জোসেফ স্তালিন চেয়েছিলেন কুরিল দ্বীপপুঞ্জ। দীপপুঞ্জটি সোভিয়েত কামচাটকা থেকে জাপানের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। রুজভেল্ট আর চার্চিল সোভিয়েতকে কুরিল দ্বীপগুলো দিতে রাজি হয়েছিলেন, যদিও দ্বীপগুলো তাদের নিজের ছিল না, সেগুলো ছিল জাপানের। তবে সোভিয়েত চাইলে জোর করে নিতে পারত। আর তা–ই হলো। ছয় মাস পর সোভিয়েত সেনারা দ্বীপ দখল করল এবং জাপানি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করল।
এই অভিযান শুরু হয়েছিল ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট, ঠিক ৮০ বছর আগে, যেদিন ট্রাম্প আর জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে মিলিত হন। ইতিহাসপ্রেমী পুতিন বহুদিন ধরে দ্বিতীয় ইয়াল্টা সম্মেলনের ধারণা ছড়াচ্ছেন।
সোমবার সকালে রাশিয়ার সরকারি পত্রিকা রসিস্কায়া গেজেতা একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এক সাঁজোয়া যান একসঙ্গে মার্কিন ও রাশিয়ার পতাকা ওড়াচ্ছে। পত্রিকাটিতে দাবি করা হয়, ইউক্রেনীয় সেনাদের হাত থেকে দখল করা এই যান রাশিয়া এখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। ভিডিওটি আসল কি না জানা নেই, কিন্তু এর মাধ্যমে রাশিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার সঙ্গী।
জাপান এখনো রাশিয়ার সঙ্গে কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেনি। কারণ, কুরিল দ্বীপ তারা ছাড়েনি। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি এই দুই দেশের মধ্যে। তাই বলা যায়, সব যুদ্ধ আলোচনায় শেষ হলেও, সব আলোচনা শান্তি আনে না।
১৯৩৮ সালে হিটলার চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতেনল্যান্ড দাবি করেন, যেখানে অনেক জার্মান বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করতেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলিন চেকোস্লোভাকিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়াই সেই জমি হিটলারকে দিয়ে দেন। লক্ষ্য ছিল ইউরোপে শান্তি আনা। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করলেন, আর শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। হিটলার দাবি করেছিলেন যে তিনিও শান্তির জন্য যুদ্ধ করছেন। তাই বাধ্য হয়েই সুদেতেনল্যান্ড দখল করছেন। ২০১৪ সালে যখন পুতিন ক্রিমিয়া দখল করেন, তখনো তিনি প্রায় একই যুক্তি দেন, ‘আমরা শান্তি চাই, তাই আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’
এবার আসি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রসঙ্গে। আগে হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কি যখন এ বিষয় তুলেছিলেন, তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। এবার ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেছেন, পুতিনও এটা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কী ধরনের নিশ্চয়তা? পুতিন বারবার বলেছেন, ইউক্রেন আসলে কোনো দেশ নয়, তাদের আলাদা জাতি বা ভাষা নেই। তাহলে ইউক্রেনকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, যখন পাশেই এমন এক পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র আছে যে বিশ্বাসই করে না ইউক্রেনের অস্তিত্বে?
সবচেয়ে কার্যকর নিশ্চয়তা হতে পারে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ। কিন্তু পুতিন বহুবার বলেছেন, ন্যাটোতে ইউক্রেন যোগ দেবে, এই আশঙ্কাই যুদ্ধ শুরু করার মূল কারণ। তাই ইউক্রেনকে বাস্তব নিরাপত্তা দেওয়া হবে, এমন কোনো চুক্তি পুতিন মেনে নেবেন, সে সম্ভাবনা নেই।
সোমবার ট্রাম্প বারবার বলছিলেন, তিনি নাকি প্রথম সাত মাসে ছয়টি যুদ্ধ থামিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবিমতে, এগুলো হলো কঙ্গো বনাম রুয়ান্ডা, মিসর বনাম ইথিওপিয়া, ভারত বনাম পাকিস্তান, কসোভো বনাম সার্বিয়া, আর্মেনিয়া বনাম আজারবাইজান, কম্বোডিয়া বনাম থাইল্যান্ড, ইসরায়েল বনাম ইরান। তিনি দাবি করেছেন যে বাংকার ধ্বংসকারী বোমা ফেলে তিনি একটি পারমাণবিক যুদ্ধ ঠেকিয়েছেন।
তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসব সংঘাতের কোনোটাই পুরোপুরি থামেনি, কোনোটা কেবল অস্ত্রবিরতিতে গেছে। মানে ট্রাম্পের কথিত ছয়টি সমাধানের মধ্যে আসলে একটিরও প্রকৃত সমাধান হয়নি।
- দ্য নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া
- ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
* এম গেসেন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট।
![]() |
| হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কি ও ইউরোপের নেতারা। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কলকাতার নিউমার্কেট থেকে বলছি by পরিতোষ পাল
সারাদিন নিউমার্কেট ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরেও সেই পুরনো জমজমাট ভিড়ের ছবিটি পাইনি। আগে যেখানে প্রতি একশ’ জনের মধ্যে ৬০-৭০ জন বাংলাদেশির দেখা পাওয়া যেতো, এবার সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন বাংলাদেশির দেখা পেলাম। এরা কেউই পর্যটক নন। মেডিকেল ভিসায় চিকিৎসা করাতে এসেছেন। এরই ফাঁকে নিউমার্কেটে সামান্য কেনাকাটা করছেন। আগের মতো বিশাল বিশাল সুটকেস বা পেটি ভর্তি করার মতো কেউ বাজার করছেন না।
ঢাকার বাসিন্দা আসিফ হোসেনের সঙ্গে দেখা হতেই জানালেন, তিনি মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছেন। বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই নিয়ে পরপর তিনবার এলাম। কিন্তু এবার দেখছি বাংলাদেশিদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। মেডিকেল ভিসার সংখ্যা বাড়ায় কলকাতায় বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়েছে।’
মারকুইস স্ট্রিটের এক নামকরা পরিবহন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথায় উঠে এসেছে নিউমার্কেট অঞ্চলের হতাশার ছবিটি। জানালেন, বাংলাদেশে পরিবর্তনের পর থেকে ভারত সরকার পর্যটক ভিসা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে যে হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রতিদিন কলকাতায় আসতেন তা এখন বন্ধ। আগে থেকে যারা মেডিকেল ভিসা নিয়ে রেখেছিলেন, তারাই শুধু আসছিলেন। মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে ভারত সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার ফলে বাংলাদেশিদের আসা এক রকম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অতি সম্প্রতি মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে উদার মনোভাব নেয়ায় আবার বাংলাদেশিদের কলকাতায় আসা বাড়ছে বলে তিনি জানান।
নিউমার্কেটের একটি শাড়ির দোকানের কর্মী শ্যামল দত্ত জানালেন, গত এক বছর ভীষণ খারাপ অবস্থায় কাটিয়েছি। আগে যেখানে বাংলাদেশি ক্রেতার সংখ্যা নিয়ে আমরা খুশি ছিলাম, সেখানে গত এক বছরে ৫০ জন বাংলাদেশি ক্রেতা পাইনি।
তিনি বলেন, ‘শুধু আমরাই নই, নিউমার্কেট সংলগ্ন সব ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ড আর্থিক কষ্টে কাটিয়েছেন। সবচেয়ে করুণ অবস্থা ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের।’
নিউমার্কেটের উল্টোদিকের ফুটপাথে জাঙ্ক জুয়েলারির ব্যবসা করেন শেখ জামির। তিনি জানালেন, বাংলাদেশি ক্রেতাই ছিল আমাদের বড় ভরসা। কিন্তু গত এক বছরে তারা কেউ না আসায় বিক্রিবাট্টা ৭০ শতাংশ কমে গেছে। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।’
নিউমার্কেট অঞ্চলের শ্রী লেদার্স, খাদিমের মতো জুতার বিপণিগুলোতে এখন স্থানীয় মানুষের ভিড় ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিড় নেই। আগে দোকানের ভেতরে ভিড়ের জন্য প্রবেশ করা যেতো না। কিন্তু এখন একরকম ফাঁকা।
শ্রী লেদার্সের এক কর্মী জানান, বাংলাদেশিরা আমাদের এই অঞ্চলের দোকানগুলোর বড় ক্রেতা ছিলেন। কিন্তু গত এক বছরে তাদের অনুপস্থিতি আমাদেরও আর্থিক সংকটে ফেলেছে। এখন অবশ্য কিছু বাংলাদেশির দেখা পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিমত, গত এক বছরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউমার্কেট অঞ্চলের আর্থিক পরিস্থিতি। মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর ভিত্তি করে এই অঞ্চলের অবকাঠামো তৈরি হয়েছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি পর্যটকের অভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মুদ্রা বিনিময়ের কারবারিরা।
কস্তুরি, ধানসিঁড়ি, প্রিন্স-এর মতো রেস্টুরেন্টগুলোতে ঢুঁ দিয়ে দেখা গেল আগের মতো বসার জায়গার অভাব নেই। বাংলাদেশিদেরও দেখা নেই। কর্তৃপক্ষ জানালেন, বাংলাদেশিদের লক্ষ্য রেখেই আমরা আমাদের খাবারের পদ তৈরি করতাম। কিন্তু এখন রান্নার পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছি। স্থানীয়দের ভরসায় চলছি।
পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখন পেট্রাপোল থেকে প্রতিদিন কয়েকশ’ যাত্রী আসছেন। কলকাতা থেকেও অনেকে বাংলাদেশে যাচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা আবার বাড়ছে। আরএনটেগোর হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কিছুদিন আগের থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। একই মত, টাটা ক্যান্সার, মেডিকা, পিয়ারলেসের মতো হাসপাতালগুলোর।
চিকিৎসা নিতে আসা শামিমা ও তার পরিবার জানালেন, শহর কলকাতা আগের মতোই নিরাপদ আছে। তবে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম এমন রটনা করছে, তাতে কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু এসে দেখতে পাচ্ছি সবকিছু আগের মতোই আছে।
তবে মেডিকেল ভিসায় যে পরিমাণে বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসছেন, তার একটি বড় অংশ আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ বা উত্তর ভারতমুখী হচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশিরা আগের তুলনায় বেশি আসছেন ঠিকই, আর তাতে পরিবহন সংস্থা এবং কলকাতা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালগুলো নতুন করে লাভের মুখ দেখলেও সেভাবে খুশি নন নিউমার্কেট, সদর স্ট্রিট, মারকুইস স্ট্রিটের মানি এক্সচেঞ্জ, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট এবং ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিমত, যতদিন পর্যটক ভিসা স্বাভাবিক না হবে, ততদিন নিউমার্কেটও স্বাভাবিক হবে না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কেন আত্ম-অনুশোচনা নেই by মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সরকারি বাহিনী ও সরকারি দলের হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে; অনেকে গুরুতর আহত হন। এরপরও কেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কারও মধ্যে তেমন কোনো অনুশোচনা নেই—এটা বেশ অনেক দিন ধরেই রাজনৈতিক আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত প্রশ্নগুলোর একটি। তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করাতে পারার ক্ষেত্রে অন্যদের ভূমিকা কী, এমন প্রশ্নও এখন সামনে আসছে। আরও প্রশ্ন উঠছে, অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক, যাঁরা অভ্যুত্থানের সময় নিজ দলের বিপক্ষে চলে গিয়েছিলেন, তাঁরা কেন আবার ‘চরম’ অবস্থানে ফিরে গেলেন?
অনেকেই দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে ধর্মের মতো দেখেন এবং নেতাকে সব ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে মনে করেন; তাই তাঁদের মধ্যে আত্ম-অনুশোচনার বোধ তৈরির চেষ্টা করে লাভ নেই। কিন্তু এই যুক্তি দিয়েই কি সব দায় এড়ানো যাবে? ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যুদ্ধ, বিপ্লব বা অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষের মনোভাব বদলাতে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়; দরকার হয় মানুষের বিবেক নাড়া দেওয়ার মতো পদক্ষেপ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিজয়ী মিত্রশক্তি পরাজিত জার্মানির সেনাসদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের সামনে নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নির্যাতনের ভয়াবহ ভিডিও চিত্র দেখিয়েছিল। ‘ডেথ মিলস’ বা ‘জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্প ফ্যাকটুয়াল সার্ভে’ নামের এসব ফুটেজ মানুষকে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ভিডিও চলাকালে অনেককে দেখা গেছে মাথা নিচু করে, চোখে পানি নিয়ে বসে থাকতে।
অনেকেই হয়তো এমনটা বলবেন, জার্মানির এই উদাহরণ দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার ফল, যা বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। এটা হয়তো ঠিক। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট, প্রতিপক্ষের মানসিকতা বদলাতে হলে শুধু রাজনৈতিক বিজয় যথেষ্ট নয়; দরকার হয় নতুন সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ে তোলা।
আমাদের ক্ষেত্রে সেটি প্রথম থেকেই হওয়া উচিত ছিল; গণ-অভ্যুত্থানের ওপর ভিত্তি করে সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যা প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে মানবিক উপলব্ধির দিকে নিয়ে আসবে। কিন্তু আমরা সেই পথ নিতে পারিনি, বরং শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা ভঙ্গ করে ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারার হিসাব-নিকাশেই ব্যস্ত থেকেছি।
কেউ কেউ বলতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এখনো আওয়ামী লীগ আমলের অনেক নির্মমতা-নৃশংসতার ছবি, ভিডিও, তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। অনেকে সেসব দেখেছেও। তাহলে আবার কেন এসব পদক্ষেপ নিতে হবে? কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, দেখা মানেই বোঝা নয়।
প্রথমত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ভিডিও একটি বিশেষ মুহূর্তের আর এটা প্রায়ই নিজ নিজ দলের পক্ষে ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলে যায়। তাই রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা সাধারণত সেই তথ্যকেই সত্যি ভাবে, যা তাঁর পূর্ববর্তী বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে যায়।
দ্বিতীয়ত, ছবি, ভিডিও, তথ্যপ্রমাণ দেখানো আর ‘গাইডেড রিফ্লেকশন’ এক বিষয় নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এগুলো কেবল দেখানোই হয়নি, ছিল আলোচনা ও মুখোমুখি প্রশ্নোত্তর। এটা মানুষকে নিজের ভূমিকা ও পূর্বের রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ছবি বা ফুটেজে এ রকম কোনো প্রক্রিয়া নেই, বরং অনেক সময় তা মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, আজকের ডিজিটাল দুনিয়া একধরনের ‘ইকো চেম্বার’, যেখানে মানুষ কেবল সেই কনটেন্টই দেখে, অ্যালগরিদম যা তার সামনে আনে। আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা যদি শুধু নিজেদের তৈরি ব্যাখ্যা বা কাটছাঁট করা ভিডিও দেখেন, তবে তাঁরা কখনোই পুরো ঘটনাটা জানতে পারবেন না এবং বিষয়গুলো উপলব্ধি করবেন না। এই চক্র ভাঙতে ‘গাইডেড কাউন্সেলিং’ বা ‘ফ্যাসিলিটেটেড ডায়ালগ’ দরকার হয়, যেখানে সরাসরি প্রমাণ, মানবিক অভিজ্ঞতা আর ভিন্নমতের মানুষের উপস্থিতি থাকে।
অনেক অভিযুক্তের যখন অপরাধ স্বীকার করার কথা, তখন তা না করে তাঁরা বরং সবকিছুর জন্য ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দায়ী করছেন এবং ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’কে সামনে নিয়ে আসছেন। এ রকম বাস্তবতায় আমাদের কথাবার্তা, কার্যক্রম ও কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ, দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রথম শর্ত আত্মসমালোচনা। এ রকম অবস্থায় সৎ সাহস নিয়ে আমাদের প্রধান কিছু ভুল নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা দরকার।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাড়ি ভাঙচুর
শেখ মুজিবুর রহমান সত্যিই স্বাধীনতা চেয়েছিলেন নাকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন—এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার কয়েক বছর পর ১৯৭৫ সালে তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন; অন্যদিক শেখ হাসিনা অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতি, লুটপাট এবং সর্বোপরি স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছেন, যুক্তিসংগতভাবেই এসব সমালোচনা করা যায়। কিন্তু তারপরও ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এখানেই একসময় মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন বিকশিত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ হয়তো এই বাড়িকে নিজেদের ‘রাজনৈতিক সম্পত্তি’ হিসেবে একচেটিয়াভাবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাই বলে এর ঐতিহাসিক মর্যাদা অস্বীকার করা যায় না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড কিংবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পরেও কেউ এই বাড়ি ভাঙার মতো হঠকারী কাজ করেনি।
রাজনীতির বিরোধিতা করা এক জিনিস, কিন্তু প্রতিপক্ষের আবেগের প্রতীক ধ্বংস করে দেওয়া আরেক বিষয়; এ রকম কাজ উল্টো তাদের আরও একতাবদ্ধ করে। ৩২ নম্বরে বাড়িটি ভাঙার সিদ্ধান্ত একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপ ছিল এবং এটি একটি বড় রাজনৈতিক ভুল—এ বিষয়টা এখন স্পষ্ট।
দায় স্বীকার না করার সংস্কৃতি
২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন বা গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল মূলত ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই আন্দোলনকে নিজের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে। বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা হয়েছিল। জামায়াত-শিবিরের সব সদস্য বা সমর্থককে যুদ্ধাপরাধী বা ‘রাজাকার’ বলা যে সঠিক নয়, অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থককে তখন সেটা বোঝানো যায়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকেও বিতর্কিত করেছিল আওয়ামী লীগ। এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আশ্চর্যজনকভাবে পাল্টে যায়। জামায়াত-শিবিরের অনেকেই এখন খোদ মুক্তিযুদ্ধকেই মুসলমানদের জন্য ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দাবি করছেন; এমনকি ‘আত্মস্বীকৃত পাকিস্তানপন্থী’ জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের পক্ষে শাহবাগে স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত-শিবিরের নেতারা এখনো ১৯৭১ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য সরাসরি তাঁদের দায় স্বীকার করেননি। ‘যদি’, ‘কিন্তু’ শব্দ ব্যবহার করে নানা রকম শর্ত সাপেক্ষে কিংবা নানা রকম অযৌক্তিক উদাহরণ দিয়ে তারাঁ কার্যত বিষয়টা অস্বীকারই করেছেন। একইভাবে আওয়ামী লীগও তাদের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করছে না।
দুটি দল প্রায় একই রকম কৌশল অবলম্বন করছে। কখনো কখনো নিজেদের অপরাধ ঢাকতে অপর পক্ষের অপরাধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক মনে করে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান হলো ১৯৭১ সালকে আড়াল করার একটি প্রজেক্ট। জামায়াত যেমন ১৯৭১ সাল থেকে শিক্ষা নেয়নি, তেমনি আওয়ামী লীগও ২০২৪ সাল থেকে শিক্ষা নেবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এভাবে অপরাধের দায় স্বীকারের সংস্কৃতি নষ্ট হয়, নৈতিক জবাবদিহি হারিয়ে যায় এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও বিষাক্ত হয়।
পরিবর্তনের শপথ ভুলে যাওয়া
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তারা একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে অগ্রসর হবে। তারা অতীতের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করবে, এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর দেখা গেল, তারা দ্রুত সরকারের অংশ হয়ে গেল। এই ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্তের পরিণতি হলো, অল্প কয়েক দিনের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। এটা হয়তো তারা স্বীকার করবে না, কিন্তু এ রকম ইঙ্গিত এখন স্পষ্ট।
সরকারের অংশ হওয়ার পর তাদের অনেকের মধ্যে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং উগ্রপন্থীদের কর্মকাণ্ডে পরোক্ষ সমর্থন—এসব প্রবণতা বেড়েছে। রাস্তায় নারীদের হয়রানি বা নিজ দলের ভেতরের নারীনেত্রীদের মৌখিক ও শারীরিক নিপীড়নের ঘটনায় তারা নীরব থেকেছে। একই সঙ্গে তারা ‘ফেক নিউজ’ ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, যা শেখ হাসিনার আমলের তাঁর সমর্থকদের কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, কেউ কেউ গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে ২০২৪ সালকে বারবার ১৯৭১ সালের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। ভুলে গেলে চলবে না, ১৯৭১ ছিল জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আর ২০২৪ ছিল একটি দমনমূলক সরকারকে সরিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ার চেষ্টা। এই মৌলিক পার্থক্য পরিষ্কারভাবে জনগণকে বোঝাতে না পারা এবং বারবার দুটো বিষয়কে মুখোমুখি দাঁড় করানোর ফলে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের সমর্থকদের আরও বেশি এককাট্টা করে তুলছে।
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
৫ আগস্টের পর দেখা গেছে, নানা রাজনৈতিক ট্যাগ ও প্রচারণার মাধ্যমে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় দল বিএনপিকে রাজনীতিতে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদকে ‘ভারতের দালাল’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অথচ মির্জা ফখরুল ইসলাম একজন অভিজ্ঞ ও গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন নেতা। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং বছরের পর বছর ভারতে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এ ধরনের ট্যাগিং হয়তো নেতারা সামলে নেন বা পাত্তা দেন না; কিন্তু বিএনপির সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা এগুলো ভালোভাবে নেন না। আগে বিএনপির কর্মীরা গ্রাম থেকে শহর—সব পর্যায়েই আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে রাজনৈতিক তর্কবিতর্কে সক্রিয় ছিলেন। এই বিতর্কগুলো অনেক সময় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নিয়ে যেত। কিন্তু ‘ভারতের দালাল’ ট্যাগিং একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এগুলোর ধারাবাহিক প্রচারণা বিএনপির কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রেই কোণঠাসা করে ফেলে। এই সুযোগে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার আরও বেশি পরিসর পাচ্ছেন।
‘ভারতবিরোধিতা’ এবং ‘ভারতীয় আধিপত্যের বিরোধিতা’—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। জিয়াউর রহমানকে ভারতবিরোধী বলা যায় না; তিনি ভারতের কর্তৃত্ববাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ছিলেন, আবার দেশের স্বার্থ রক্ষায় ভারতের সঙ্গে কাজও করেছেন। আমাদের কৌশল হওয়া উচিত যারা ভারতের হেজিমনি বা আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়ছে, এ রকম শক্তির সঙ্গে ঐক্য গড়ে তোলা। কিন্তু ইউটিউবার ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ভুল প্রচারণায় বিএনপিকে ‘ভারতের দালাল’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। এই সরলীকৃত ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা আসলে ভারতীয় কর্তৃত্ববাদী শক্তিকে যেমন সুবিধা দিচ্ছে, তেমনি আওয়ামী লীগকেও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে।
শেষ কথা
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতি নতুনভাবে সাজানোর বড় সুযোগ এসেছিল। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সমর্থকদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশকে ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থানে নিয়ে আসতে পারলে রাজনীতিতে একধরনের ভারসাম্য আনা যেত। কিন্তু ভুল কৌশল, অযথা ট্যাগিং দেওয়া, সব দলেরই চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়া—এসব কারণে সেই সুযোগ অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নীরব অস্বস্তি কাজে লাগানো যায়নি; বরং তাঁরা আগের অবস্থানে আরও শক্তভাবে ফিরে গেছেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর যেমন অনেক ত্যাগী মানুষ হতাশ হয়েছিলেন, তেমনি এবারও অনেক আন্দোলনকারী এখন হতাশাগ্রস্ত। এই হতাশার জন্য কার, কতটুকু দায় রয়েছে, ভবিষ্যতে আমাদের সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
* মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার, শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
- মতামত লেখকের নিজস্ব
| জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের উপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ছবি : প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনিদের হাতের মুঠোয় আনতেই কি স্বীকৃতির কথা সামনে আনা হচ্ছে by হাসান ফেরদৌস
হামাসের জায়গায় অঞ্চলটির শাসনভার গ্রহণ করবে মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি, সংক্ষেপে পিএ)। তবে তিনি একা নন, তাঁকে এই কাজে সাহায্য করবে একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী। প্রশাসনিক কাজে সাহায্য করতেও বিদেশি, মুখ্যত আরব, বিশেষজ্ঞেরা যোগ দেবেন।
প্রস্তাবটি খুব নতুন, তা নয়। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রধান মাহমুদ আব্বাস নিজেও মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গাজা থেকে হামাসের সশস্ত্র সদস্যদের সরে যাওয়ার দাবি করেছেন। তবে প্রথমবারের মতো সৌদি আরব ও কাতারের মতো আরব দেশ, যাদের অর্থে হামাস টিকে আছে, তারা নিরস্ত্র করার পাশাপাশি গাজার শাসনব্যবস্থা থেকে হামাসকে সরে যাওয়ার দাবি তুলল। আর কিছু না হোক, এই দুই দেশের সমর্থনের কারণে প্রস্তাবটি এখন নানা মহলে আলোচিত হচ্ছে।
প্রায় দুই বছর হতে চলল গাজায় নির্বিচার গণহত্যা চলছে। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই ১৮ হাজার ৫০০। এত দিন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সংখ্যা সঠিক নয় বলে নানা সাফাই গেয়ে এসেছে।
জাতিসংঘ সম্মেলনের সঙ্গে মিল রেখে চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা গাজায় নিহত সব শিশুর নাম প্রকাশ করেছে। অনেকের ছবি ও মৃত্যুর কাহিনিও তুলে ধরেছে। ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। ফিলিস্তিন প্রশ্নে অধিকাংশ মার্কিন তথ্যমাধ্যমে ইসরায়েল নাখোশ হয়, এমন কথা বলা হয় না। গাজায় কোনো গণহত্যা চলছে না, এ কথাও তারা নানাভাবে জানান দিয়েছে। সেখানে এমন খোলামেলাভাবে গণহত্যার সবচেয়ে নির্মম দিকটির এই সচিত্র পরিবেশনা বিস্ময়কর, তবে এর পেছনে যে গাজায় ইসরায়েলি হামলা প্রশ্নে মার্কিন নাগরিকদের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব রয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই।
গ্যালপের গৃহীত সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ গাজায় ইসরায়েলি ভূমিকা সমর্থন করে, যা গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। একই জরিপ অনুসারে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ইসরায়েলের চলতি নীতি সমর্থন করে না। এই মনোভাব পশ্চিম ইউরোপসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তুলনীয়। পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলের ভূমিকা সমর্থন করে না, এমন পশ্চিম ইউরোপীয়দের সংখ্যা ৬২ শতাংশ।
গাজায় গণহত্যা বন্ধের পক্ষে সারা বিশ্বে জোরদার সমর্থন থাকলেও অবস্থার আদৌ কোনো পরিবর্তন হয়নি, তার একটি প্রধান কারণ ইসরায়েলের সমর্থনে মার্কিন প্রশাসনের অনড় অবস্থান। ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তুষ্ট, এমন একটি গল্প এ দেশের গণমাধ্যমে আজকাল শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মুখে যতই সমালোচনা হোক, ইসরায়েলের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়, এমন কাজ কোনো মার্কিন প্রশাসন কখনোই করবে না, এটা স্বতঃসিদ্ধ।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের আশায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মনগড়া শান্তি প্রস্তাব করতে পারেন বটে, কিন্তু ইসরায়েলে আমেরিকার অর্থ বা অস্ত্র প্রেরণ কোনোটাই বন্ধ হবে না। গত মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমাবর্ষণ থেকেও স্পষ্ট—এই দুই দেশ একে অপরের কোমর কত শক্তভাবে জড়িয়ে আছে।
ঠিক এই বাস্তবতার মুখে আরব দেশগুলোর সমর্থনে হামাসকে গাজা থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তাবটি এসেছে। হামাস নিরস্ত্র হলে ও অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণভার তাদের হাতে না থাকলে গাজায় অব্যাহত হামলা বা অধিগ্রহণের পক্ষে ইসরায়েলের কোনো যুক্তি ধোপে টিকবে না। অন্যদিকে, এই যুদ্ধের কঠোর বাস্তবতা হামাসের প্রতিকূলে। প্রায় দুই বছরের টানা ইসরায়েলি আক্রমণের মুখে অধিকাংশ হামাস যোদ্ধা হয় নিহত হয়েছে, অথবা সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বাকি যে হাজার বারো যোদ্ধা এখনো অবশিষ্ট, তারা ইসরায়েলকে পরাজিত করবে, সে প্রশ্ন ওঠে না।
গাজার অনেক মানুষ তাদের দুর্ভোগের জন্য ইসরায়েলের পাশাপাশি হামাসকেও দায়ী করে। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিক্ষোভও বাড়ছে। এ অবস্থায় বৃহত্তর শান্তি ও নিরাপত্তার খাতিরে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ একটি বাস্তবসম্মত সমাধান বলে সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশ মনে করছে। উল্লেখযোগ্য, আরব লীগের সদস্য ২২টি দেশই নিউইয়র্ক প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।
গত পাঁচ বছরে মার্কিন প্রশাসনের সমর্থনে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক সামাজিকীকরণের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার ফলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্নটি কার্যত চাপা পড়ে গেছে। নিউইয়র্ক সম্মেলনে সেই দাবি নতুন করে উত্থাপিত হলো।
ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ও গাজার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ডজনখানেক প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে গাজা থেকে প্রায় ২২ লাখ ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে সেখানে বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি অতি আধুনিক প্রমোদকানন বানানোর প্রস্তাবও রয়েছে। এই প্রস্তাব করেছেন (হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি চান মিসর ও জর্ডান বাস্তুচ্যুত গাজাবাসীকে জায়গা দিকে। এই দুই দেশ ‘না’ করায় গাজাবাসীকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরায়েল একাধিক আফ্রিকান দেশের সঙ্গে কথা বলেছে।
অবাস্তব বিবেচনা করে মিসর ও অন্যান্য আরব দেশ মিলে একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মোদ্দাকথা, ফিলিস্তিনিদের না তাড়িয়েই গাজায় এক অত্যাধুনিক নগর নির্মাণ সম্ভব। টাকাপয়সা সব আরব দেশগুলোই দেবে। মিসরের একটি কোম্পানি ইতিমধ্যেই নির্মাণ নকশা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। মিসর বলেছে, ট্রাম্প সাহেব, যিনি নিজে একজন সুপরিচিত ‘ডেভেলপার’, তিনিও এই উদ্যোগে শামিল হতে পারেন।
আপাতলোভনীয় এত সব প্রস্তাব সত্ত্বেও গাজায় গণহত্যা থামেনি। থামবেও না, কারণ ইসরায়েল মনে করে গাজার ফিলিস্তিনিদের চিরতরে বহিষ্কার ও অঞ্চলটির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণের এটাই সুবর্ণ সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মন্ত্রিপরিষদে এমন জনা দুই সদস্য রয়েছেন, যাঁরা কোনো শর্তেই গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারে সম্মত নন। তাঁরা মনে করেন, বৃহত্তর ইসরায়েল গঠনের যে স্বপ্ন জায়নবাদীরা দীর্ঘদিন থেকে দেখে আসছে, তার বাস্তবায়নের এই সুযোগ। গাজা কবজায় এলে পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট আরব ভূমি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন কোনো ব্যাপার হবে না। এরপর আর ফিলিস্তিন নামক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণার কেন্দ্রে একটি ‘নিরস্ত্র’ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপদে অবস্থান করবে। নিরস্ত্র বা ‘ডি-মিলিটারাইজড’ ফিলিস্তিনের অর্থ হলো স্বাধীন ও সার্বভৌম হলেও এই রাষ্ট্র কখনো নিজস্ব সামরিক বাহিনী গঠন করতে পারবে না। গাজা হবে এই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রস্তাবে ইসরায়েলকে এই নতুন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তবে সবার আগে অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।
লক্ষণীয়, প্রস্তাবটিতে হামাসকে নিরস্ত্র করার কথা বলা হলেও ইসরায়েলকে একই ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো শর্ত রাখা হয়নি। মিসরীয় ভাষ্যকার আমর আবদেলরাহমান সে কথা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে প্রশ্ন করেছেন, গাজায় ইসরায়েলি সৈন্যদের নিরস্ত্র করার কথা কেউ বলছে না। তাহলে গাজাকে আত্মরক্ষার ও প্রতিরোধের সব সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন?
যুদ্ধোত্তর গাজা পুনর্নির্মাণের একটি পরিকল্পনা এতে সংযুক্ত করা হয়েছে, সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি বহুজাতিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সে পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের কার্যকর অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। সম্মেলনের প্রস্তাবগুলোর একটি অলিখিত লক্ষ্য, আরব দেশগুলো ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির কথা বলা হলেও পরিকল্পনাটির আসল লক্ষ্য, আরব দেশগুলো ও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ। ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরায়েল সে পথে ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়ে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রাইজ সৌদি আরবকে বড়শি দিয়ে টেনে তুলতে হলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মুলোটি ঝোলাতেই হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ভাষ্যকার খালেদ এলজিন্ডি মন্তব্য করেছেন, এটা মোটেই কোনো শান্তি পরিকল্পনা নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের হাতের মুঠোয় আনার পরিকল্পনা। এতে আক্রান্ত ফিলিস্তিনিদের নিরস্ত্র করা হবে, আক্রমণকারী ইসরায়েলকে পুরস্কৃত করা হবে। আর তাকেই নাম দেওয়া হবে পুনর্গঠন।
* হাসান ফেরদৌস, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপ হয়ে যাওয়া গাজা। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1422)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

