Monday, August 17, 2026
‘সমঝোতা চুক্তির’ মেয়াদ শেষ, এখন কী হবে?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।
তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। আরাঘচি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ-চলাচল পথ নির্ধারণের জন্য ইরান ও ওমান আলাদাভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি সম্ভব হবে কেবল একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো গেলে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ঘোষণা দিতে পারে।
কী ছিল সমঝোতা স্মারকে?
ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত হয় সমঝোতা স্মারকটি। পাকিস্তানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিরল উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর এটি স্বাক্ষরিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ওই যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক চলাচল, বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস রপ্তানি, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে আলোচনার জন্য রেখে সমঝোতাটি তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি লেবাননে ইসরাইলের হামলা বন্ধের পথও খুঁজতে চেয়েছিল।
সমঝোতায় বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান “সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা” দেবে। পাশাপাশি একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ওই চূড়ান্ত চুক্তিকে অনুমোদন করবে এবং পারস্পরিক সম্মতিতে সময় বাড়ানোর সুযোগ রেখে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করার কথা ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হতো। চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার পর ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ নিয়ে কাজ শুরু করার কথা ছিল ওয়াশিংটনের।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি তেল রপ্তানির জন্য ছাড় এবং তেহরানকে জব্দ থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
অন্যদিকে, ইরানের দায়িত্ব ছিল হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করা এবং ৬০ দিন ধরে জাহাজগুলোকে “কোনো ধরনের ফি ছাড়াই” চলাচলের সুযোগ দেয়া।
তেহরান আরও পুনর্ব্যক্ত করেছিল যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বসার কথাও ছিল। এসব বিষয়ের বিস্তারিত একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে উল্লেখ করার কথা ছিল, যা জাতিসংঘের সমর্থন পেত।
সমঝোতাটি কি সফল হয়েছিল?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রকাশিত সমঝোতার ভাষ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও, স্বাক্ষরের পর থেকেই মূল বিরোধ দেখা দেয় আরও মৌলিক বিষয় নিয়ে- এটি আদৌ যুদ্ধবিরতি ছিল, নাকি আরও স্থায়ী কোনো চুক্তি; এবং কোন পক্ষের কী কী দায়িত্ব ছিল।
সমঝোতাটি পুরোপুরি কার্যকর ছিল কিনা, তা নিয়েও দ্রুত বিরোধ তৈরি হয়। ২৭ জুনের মধ্যে ট্রাম্প ওই অঞ্চলে ইরানের হামলাকে সমঝোতার “বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেন।
ইরান পাল্টা দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা লঙ্ঘন করেছে।
এনিয়ে গত ৭ জুলাই ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা “শেষ হয়ে গেছে”। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে যায়। তেহরান যেগুলোকে বেসামরিক অবকাঠামো বলে দাবি করেছে, সেগুলোতেও হামলা হয় এবং অন্তত ৫০ জন নিহত হন।
ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব প্রতিশ্রুতি “লঙ্ঘন ও স্থগিত” করেছে। ফলে তেহরানও নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি। এমনকি ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অর্থ দেয়ার বিষয়টিকেও ট্রাম্প উপহাস করেছেন।
বরং তিনি বলেছেন, তেহরানকে গত ৫০ বছরে নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের পাশাপাশি “রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা ও বিভিন্ন সংঘাতে” নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র- দুই পক্ষই এখনো দাবি করে আসছে, প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র গুলি চালিয়েছে। মার্কিন দাবি, জাহাজটি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আরোপ করা নৌ অবরোধ “লঙ্ঘন করেছে”।
তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত মেনে না চলায় যুদ্ধবিরতি বন্ধ হয়ে যায় এবং সমঝোতা অকার্যকর হয়ে পড়ে।
তার মতে, ইরান বিশেষ করে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়েনি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি, নৌ অবরোধ তুলে নেয়নি এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার নিশ্চিত করেনি।
তিনি বলেন, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে, কাগজে-কলমে বলা হচ্ছে যে সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।
এখন কী হতে পারে?
সোমবার সমঝোতার মেয়াদ শেষ হলেও এর প্রকৃত অর্থ কী, তা নির্ভর করছে আপনি কোন পক্ষকে জিজ্ঞেস করছেন তার ওপর।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি শুক্রবার বলেন, ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ছিল “যুদ্ধের অবসান, যুদ্ধবিরতি নয়”।
ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ)-কে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রাখায় “বাড়ানোর মতো কোনো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিই ছিল না।”
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় সাম্প্রতিক রদবদলও ভবিষ্যৎ আলোচনায় তেহরানের আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ইরান সহজে ছাড় দিতে চাইবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও বেসামরিক কার্যক্রমের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
খোশচেশমের মতে, রেজাইয়ের নিয়োগসহ সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনগুলো দেখাচ্ছে যে “ইরান মনে করছে, তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।”
তার ধারণা, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে ইরান আরও বেশি দাবি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবে। এসব দাবির মধ্যে গাজায় যুদ্ধের অবসান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইয়েমেনের ওপর অবরোধ তুলে নেয়া এবং এমনকি ইসরাইলের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবিও থাকতে পারে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি এবং অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বক্তব্য ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, ইরানকে পরাজিত করা শেষ হলে খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব। এ ছাড়া মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও শুক্রবার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে, যা “এর আগে কখনো দেখা যায়নি।”
তবে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে চাইলে ট্রাম্পের হাতে খুব বেশি বিকল্প অবশিষ্ট নেই বলে মনে করেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের বিশিষ্ট ফেলো বারবারা স্লাভিন।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে, কৌশলগত তেলের মজুতও ফুরিয়ে এসেছে এবং বিমানবাহী রণতরীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম পরিকল্পিত সময়ের চেয়ে কয়েক মাস বেশি সমুদ্রে মোতায়েন রাখা হয়েছে। ফলে সামরিকভাবে নতুন করে চাপ সৃষ্টির সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সীমিত।
অর্থনৈতিক চাপের ক্ষেত্রেও ইরান দেখিয়ে দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের যাতায়াত ব্যাহত করে তারাও অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে পারে বলে জানান স্লাভিন। তিনি বলেন, ইরান এখানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা স্পষ্টতই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ, কারণ তাদের দৃষ্টিতে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো যুক্তরাষ্ট্র পূরণ করেনি। তারা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
স্লাভিনের মতে, শেষ পর্যন্ত ইরান সম্ভবত যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ পাবে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করবে। তার ধারণা, এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তির মাধ্যমেই মিটবে- সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর, যখন ওই চুক্তির ভোটের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম থাকবে।
এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শনিবার তেহরানে সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা স্মারকে ইরান যে ছাড়গুলো আদায় করেছে, সেগুলো “গর্ব ও বিজয়ের উৎস”।
তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, সামরিক ও রাজনৈতিক- উভয় দিক থেকেই আমরা এই যুদ্ধে সত্যিকার অর্থে বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে এসেছি।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার ওমানে ব্যাপক বোমা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ব্যাপক বোমা হামলা চালাব।
এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই এই অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। তবে চলমান সংঘাতের সমাধানে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, তিনি কোনো তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রায় ছয় মাস ধরে চললেও এখনো এর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে মন্দিরে ‘পদপিষ্ট’ হয়ে ৭ জনের মৃত্যু
কর্মকর্তারা বলেন, আজ মন্দিরটিতে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে। শ্রাবণ মাসের সোমবারের এ দিনটি সনাতন ধর্মে শুভ দিন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং পুণ্যার্থীরা, বিশেষ করে শিবভক্তরা ব্রত পালন করেন। সাধারণত এদিন শিবমন্দিরগুলোয় বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়।
সাবডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) শিবম কুমার এএনআইকে বলেন, ‘সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছিল। এতে কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ফলে হুড়োহুড়ির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সবকিছু যাচাই করার পর আমরা সঠিক কারণ জানাতে পারব।’
লখিসরাইয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) শৈলেন্দ্র কুমার বলেন, ‘সেখানে নজিরবিহীন ভিড় হয়েছিল। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার দিকে এখানে দুটি ট্রেন আসে, তাতে ভিড় আরও বেড়ে যায়। আমরা ভিড় হবে বলে আগেই ধারণা করেছিলাম এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।’
ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিএম আরও বলেন, ভিড়ের চাপে প্রতিবন্ধকের এক পাশ ভেঙে পড়ে।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় পদপিষ্ট হয়ে বেশ কয়েকজন নিহত হন।
| বিহারের লখিসরাইয়ে অশোকধাম মন্দিরে আজ ভক্তদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। ছবি: পিটিআইয়ের এক্স অ্যাকাউন্টের ভিডিও থেকে নেওয়া |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি, তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ বিজেপি
ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলে চাপ সৃষ্টি করেছে। টানা সাত সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এর পরপরই কয়েকটি উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ থেকে তরুণদের মধ্যে এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। পরে সেটিই ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়। আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ভারতের বিভিন্ন শহরে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।
উপনির্বাচনে ধাক্কা
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে দুটিতে হেরেছে বিজেপি। এর মধ্যে বিহারের ব্যাংকিপুর আসনে দলটির পরাজয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা এই আসন হাতছাড়া হওয়াকে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু উপনির্বাচনের ফল দেখে বিজেপির শক্তি কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না। ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিজেপি এখনো শক্তিশালী এবং নির্বাচনীভাবে অত্যন্ত সংগঠিত দল।
তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা
তরুণদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপিও নতুনভাবে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করেছে। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তরুণদের আকৃষ্ট করতে নতুন ধরনের প্রচারণাও চালাচ্ছে দলটি।
উত্তর প্রদেশে তরুণদের জন্য বিশেষ যোগাযোগ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপির এসব প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে উল্টো সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় বিজেপি যেভাবে নিজের রাজনৈতিক বার্তা সহজে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারত, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সেই প্রভাব এখন আগের মতো নেই। ইনস্টাগ্রামের মতো বিকেন্দ্রীভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির প্রচলিত প্রচারণা কৌশল কার্যকর হচ্ছে না।
পুরোনো কৌশলও কাজ করছে না
বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী, বিদেশি অর্থায়নপুষ্ট বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তুলে ধরার পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল এবার তেমন কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে বিভিন্ন ধর্ম, জাতপাত ও সামাজিক শ্রেণির তরুণরা অংশ নিয়েছেন। এমনকি বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত উচ্চবর্ণের হিন্দু তরুণদেরও আন্দোলনে দেখা গেছে।
ফলে আন্দোলনটিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিজেপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে দুর্বল করেনি, কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে।
বিজেপি এখনো ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, শিক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের একাংশ বলছে, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের লক্ষ্য নয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীবিরোধী রাজনীতিসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার পরিবর্তন চান তারা।
তবে বিজেপি তার হিন্দুত্বভিত্তিক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে—এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বরং আগামী নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয় ও হিন্দুত্বের রাজনীতিকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনার চেষ্টা করতে পারে দলটি।
সব মিলিয়ে, ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতার ভিত ভেঙে দিয়েছে—এ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ যে মোদি সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর
রোববার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত একটি পডকাস্টে সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে বেন-গভির এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যটি পরে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
বেন-গভির বলেন, গাজার মানুষদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তাদের বেঁচে থাকাই উচিত নয়। এমনকি তাদের মানুষও মনে করা উচিত নয়।
গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ নিয়ে বেন-গভিরের এমন বক্তব্য অবশ্য নতুন নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চলে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির আওতায় গাজায় সামরিক হামলা কমানোর সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছেন বেন-গভির। তার মতে, ইসরায়েলের উচিত আবারও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড শুরু করা এবং হামলা শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা।
তবে বেন-গভিরের হাতে সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তিনি অবশ্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য। এই মন্ত্রিসভাই দেশটির যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।
আলাপচারিতায় সাবেক বন্দি ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কাজে নিজে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য তিনি নিজ হাতে কাজটি করতে চান।
জবাবে বেন-গভির তাকে এ সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় বেন-গভির গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার বিষয়েও সমর্থন জানান। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেন। তিনি গাজাকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে দেখেন বলেও মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন, কোনো ভূখণ্ড থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জোর করে বা পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া জাতিগত নির্মূলের আওতায় পড়তে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য বেন-গভির আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত। ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং ইসরায়েলি কারাগারে তাদের পরিস্থিতি আরও কঠোর করার কথা বলার কারণেও তিনি বিতর্কের মুখে পড়েছেন।
তার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ তার অবস্থান বা কর্মকাণ্ডে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
সূত্র: আলজাজিরা
![]() |
| ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: ইপিএ |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা চিন্তাও করিনি, ইরান আমাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেবে: মার্কিন জেনারেল
রোববার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে মুলেন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা একটি প্রচলিত বিষয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মন্তব্য করেন যে বিমানবাহী রণতরীগুলোর মোতায়েন এখনো যথেষ্ট দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়, তখন জবাবে মুলেন বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের মোতায়েন জাহাজের কর্মীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, `আমার মনে হয়, আমরা স্পষ্টতই আশা করিনি এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো- যেখানে আগে আমাদের সেনারা অবস্থান করত- তা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।'
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি মিশনে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এবং এর কর্মীদের আত্মহত্যা সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন সামনে আসার পর, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
‘আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরীতে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য রয়েছে। এর মিশন ২১ নভেম্বর শুরু হয় এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী যুদ্ধকে সমর্থন করার জন্য এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মাইক মুলেন। ছবি: সংগৃহীত। |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বি-২৯ সুপারফোর্ট্রেস: পারমাণবিক বোমার চেয়ে দামি যুদ্ধবিমান
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় বোয়িং এবং এই বিমানের নাম দেয়া হয় বোয়িং বি-২৯ সুপারফোর্ট্রেস বা শুধু বি-২৯। যদিও প্রকল্পটি বিলম্বিত হয়, তবুও সুপারফোর্ট্রেস ১৯৪৪ সালে সার্ভিসে প্রবেশ করে। তখন এটি মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জটিল বিমান প্রকল্প হয়ে ওঠে। এতে বর্তমান মূল্যে ৫৫ বিলিয়নেরও বেশি ডলার খরচ হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ছিল সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির বোমারু বিমান এবং সবচেয়ে দামী অস্ত্র। যা জাপানে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার চেয়ে বেশি খরচে তৈরি হয়। এটি যুদ্ধের ধারাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করে এবং আধুনিক যাত্রীবাহী বিমানগুলোর পথ প্রশস্ত করে। পূর্বের বোমারু বিমানগুলি ২০,০০০ ফুট বা ৬ কিলোমিটার উঁচুতে উড়ত। কিন্তু বি-২৯ বিমানটি ৩০,০০০ ফুট উচ্চতায় ক্রুজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়।
আমেরিকান এয়ার মিউজিয়ামের কিউরেটর হ্যাটি হিয়ান বলেন, এই উচ্চতায় ক্রমাগত অক্সিজেনে থাকতে হয়। অক্সিজেন ছাড়া বিমানচালক মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে অচেতন হতে পারেন। সমাধান ছিল প্রেশারাইজড কেবিন। প্রথমবারের মতো একটি বোমারু বিমানে এমন কেবিন ছিল যা মাটির স্তরের পরিবেশ অনুকরণ করত। ফলে ক্রুরা অক্সিজেন মাস্ক বা ভারী হিটার জ্যাকেট ছাড়াই দীর্ঘ সময় উড়তে পারতেন। স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের জেরেমি কিনি বলেন, হালকা ফ্লাইট স্যুটে কাজ করার সুবিধা, কারণ কেবিন গরম থাকে, ক্রুদের দীর্ঘ মিশন সহজভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। বি-২৯ এছাড়াও এনেছে রিমোট-নিয়ন্ত্রিত গান টারেট, রাডার-সহায়ক টার্গেটিং এবং ট্রাইসাইকেল ল্যান্ডিং গিয়ার। যা পরে বেসামরিক বিমানেও গ্রহণ করা হয়। তবে এটি সমস্যার বাইরে ছিল না। বিশেষত এর আর-৩৩৫০ ডুপ্লেক্স সাইক্লোন ইঞ্জিনের আগুনের কারণে। ১৯৪৩ সালে এক প্রোটোটাইপ বিমান সিয়াটলের কাছে বিধ্বস্ত হলে বোয়িংয়ের প্রধান পরীক্ষক পাইলট এডমন্ড টি. অ্যালেন এবং তার ক্রু নিহত হন।
ভর উৎপাদনও একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। কানসাসের কারখানাগুলো বিমানের জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে। প্রথম বিমানগুলোর মাত্র একটি ছোট অংশই উড়তে সক্ষম হয়ে। যুদ্ধের পরে বি-২৯ কোরিয়াতে ব্যবহার করা হয় এবং নতুন ভূমিকা যেমন এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং-এর জন্য অভিযোজিত হয়। বোয়িংয়ের জন্য বি-২৯-এর শিক্ষা নাগরিক বিমান চলাচলে বিপ্লব সৃষ্টি করে। এর প্রেশারাইজেশন সিস্টেম, দীর্ঘ দূরত্বের সক্ষমতা এবং অল-অ্যালুমিনিয়াম ডিজাইন বোয়িং ৩৭৭ স্ট্র্যাটক্রুজারের ভিত্তি স্থাপন করে। তা ১০০ যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় বিমান। বি-২৯ এছাড়াও অবকাঠামো পরিবর্তনে সহায়ক হয়। এর বিশাল আকারের কারণে এক মাইল পর্যন্ত রানওয়ে প্রয়োজন হয়, যা পরবর্তী যুগের গ্লোবাল এয়ারপোর্ট নেটওয়ার্কের ভিত্তি স্থাপন করে। প্রায় ৪০০০টি বি-২৯-এর মধ্যে এখন মাত্র ২২টি বিমানই ব্যবহারযোগ্য। যার মধ্যে মাত্র দুইটি বিমানই উড়ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করবে তালেবান সরকার
২০২১ সালের আগস্টে তৎকালীন আফগান সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন নামে ও ব্যানারে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী সামনে এসেছে। তারা দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলার দায় স্বীকার করছে। গত কয়েক মাসে ইন্টারনেটে তাদের সরব উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হলো, সশস্ত্র ফ্রন্টের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা কি বিরোধীদের প্রকৃত শক্তি বৃদ্ধির লক্ষণ? নাকি এটি তাদের নেতৃত্বের মধ্যকার বিভক্তি ও অনৈক্যের ফলাফল?
নতুন লড়াই
বাদাখশান প্রদেশের জেবাক এলাকায় তালেবান ও আফগানিস্তান ফ্রিডম ফ্রন্টের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতিসংঘ বলছে, তালেবানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকলেও তারা এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানের নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। তালেবান শাসনের প্রতি বড় কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরির সক্ষমতাও তাদের নেই।
কাবুলের পতনের পর ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (এনআরএফ) নামের একটি সশস্ত্র সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। তখন তালেবানের বিরুদ্ধে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় সশস্ত্র গোষ্ঠী।
তৎকালীন সরকারের পতনের পর সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর শত শত সদস্য অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম নিয়ে কাবুলের উত্তরে পানশির উপত্যকায় জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা সেখানে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তালেবানের বড় অভিযানের মুখে পানশিরের পতন ঘটে। এর পর থেকে লড়াই মূলত বিচ্ছিন্ন সংঘাত ও সীমিত অভিযানে রূপ নেয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক করিম আমিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সাবেক সরকারের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিরা তালেবানকে চাপে ফেলতে সশস্ত্র ফ্রন্ট তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে তাঁরা আবির্ভূত হতে পারেননি।’
এর কারণ হিসেবে আমিনি বলেন, ‘এসব গোষ্ঠীর বেশির ভাগই বিদেশের মাটিতে গঠিত। ফলে আফগানিস্তানের ভেতরে তারা কোনো শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি তৈরি করতে পারছে না।’
এই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘তালেবানের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতের এই পথ এমন এক আফগান সমাজের মুখোমুখি, যারা কয়েক দশকের যুদ্ধে ক্লান্ত। সাধারণ মানুষ আর নতুন কোনো যুদ্ধের চক্রে জড়াতে প্রস্তুত নয়।’
পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থতা
করিম আমিনির মতে, চার দশকের যুদ্ধের পর আফগান সমাজে যে পরিবর্তন এসেছে, তা বুঝতে অনেক বিরোধী শক্তি ব্যর্থ হয়েছে। তারা সশস্ত্র বিরোধিতাকে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তরাধিকার হিসেবে দেখেছে, যা বিদেশ থেকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। কিন্তু তারা আফগানদের অগ্রাধিকার ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
আফগান সমাজ যুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘ফলে এসব (বিদ্রোহী) গোষ্ঠী স্থায়ী উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় স্থানীয় পরিবেশ খুঁজে পাচ্ছে না। যে আন্দোলন আফগানিস্তানের বাস্তবতা ও জনগণের প্রয়োজন থেকে উঠে আসবে না, তাদের পক্ষে দেশের ভেতরে শক্ত অবস্থান তৈরি করা কঠিন।’
করিম আমিনির মতে, এসব গোষ্ঠীর জন্য আসল চ্যালেঞ্জ বিচ্ছিন্ন হামলা চালানো নয়। বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের আস্থা অর্জন করা, সামাজিক ভিত্তি তৈরি করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিকল্পনা সামনে আনা।
সম্প্রতি বাদাখশানের লড়াই বিরোধীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। গত জুলাইয়ে ফ্রিডম ফ্রন্ট দাবি করেছে, তারা জেবাক এলাকায় তালেবানের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকটি ছাউনি দখল করেছে এবং তালেবানের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
তালেবান অবশ্য সেই হামলা প্রতিহত করার ও হামলাকারীদের কয়েকজনকে হত্যার দাবি করেছে। সেখানে বেশ কয়েক দিন ধরে লড়াই চলেছে। সশস্ত্র বিরোধীদের চিরাচরিত চোরাগোপ্তা হামলার তুলনায় এটি ছিল অনেক বেশি ভিন্ন।
আসল পরীক্ষা
আরেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবদুল করিম খান আল–জাজিরাকে বলেন, জেবাকের লড়াই বিরোধীদের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা। তারা চোরাগোপ্তা হামলার বাইরে দীর্ঘ লড়াইয়ের দিকে যেতে পারছে কি না, এখান থেকে সেটা বোঝার বিষয় ছিল। তবে যতক্ষণ না দেশের অন্যান্য প্রান্তে একই ধরনের লড়াই দেখা যাচ্ছে, ততক্ষণ একে ‘কৌশলগত পরিবর্তন’ বলা যাবে না।
আবদুল করিম খান বলেন, ‘কোনো একটি এলাকা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন দখলে রাখা আসল পরীক্ষা নয়। আসল পরীক্ষা হলো সেটি ধরে রাখা, সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা, যোদ্ধাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং তালেবানকে তাদের সামরিক অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করা।’
এরই মধ্যে তালেবানবিরোধী অনেকগুলো গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। সবাই মাঠে না থাকলেও এই তালিকা বেশ দীর্ঘ। এনআরএফ ও ফ্রিডম ফ্রন্ট ছাড়া হোমল্যান্ড আর্মি, ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস মুভমেন্ট, ইউনাইটেড ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান, গ্রিন মুভমেন্ট, ন্যাশনাল ইনডিপেনডেন্স ফ্রন্ট, রিপাবলিকান ফ্রন্ট, পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, ন্যাশনাল গার্ড মুভমেন্ট, ন্যাশনাল রেভোল্যুশনারি ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান, ফ্রিডম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি ফ্রন্ট ও ন্যাশনাল ফ্রন্ট অব লিবারেটরসসহ নানা গোষ্ঠীর নাম শোনা যাচ্ছে।
তবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করলেই যে তারা আক্রমণ করেছে, এমনটা নিশ্চিত নয়। অনেক সময় একই হামলার দায় একাধিক গোষ্ঠী দাবি করছে। আবার কখনো বিদেশের মাটিতে থাকা গোষ্ঠীগুলো এমন হামলার দায় নিচ্ছে, যা অন্য কেউ ঘটিয়েছে।
ডিজিটাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ নুরির মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন দ্বিতীয় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মাঠের লড়াইয়ের মতোই অনলাইনেও তাদের অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘হামলার দাবির সত্যতা যাচাই করতে ছবি, ভিডিও, হামলার স্থান ও স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু বিবৃতি কোনো প্রমাণ নয়।’
আফগান সরকারের প্রতিক্রিয়া
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, তাদের উপস্থিতি মূলত সাইবার জগতে, বাস্তবে নয়। পুরো আফগানিস্তান এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরির সক্ষমতা এই গোষ্ঠীগুলোর নেই।
জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ আরও বলেন, আফগান জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তারা আর পুরোনো ‘যুদ্ধবাজদের’ ফিরে আসা সমর্থন করবে না। তাঁর দাবি, আগের অভিজ্ঞতা থেকে জনগণ নতুনভাবে সশস্ত্র সংঘাত প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধীরা সাইবার জগতে সক্রিয় থাকলেও মাঠের বাস্তবতা পরিবর্তনের শক্তি তাদের নেই।
তালেবান বর্তমানে পুরো আফগানিস্তানের শহর ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে সশস্ত্র বিরোধীদের লক্ষ্য এখন শহর দখল নয়; বরং ছোট ছোট হামলার মাধ্যমে তালেবানকে ব্যতিব্যস্ত রাখা। এর ফলে তালেবানকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনা মোতায়েন রাখতে হচ্ছে এবং চোরাগোপ্তা হামলাকারীদের পেছনে ছুটতে হচ্ছে।
ভিন্ন সমীকরণ
বিশ্লেষক রফিউল্লাহ কাকারের মতে, বিরোধীদের জন্য বড় এলাকা দখল করা এখনই জরুরি নয়। তারা মূলত তালেবানের রসদ ও জনবল ক্ষয় করার কৌশল নিয়েছে।
এই বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেন, ‘শুধু এই ক্ষয় দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে না। এর জন্য সামাজিক ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
আফগানিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণ এখন আগের চেয়ে ভিন্ন। বড় সামরিক সংঘাতের চেয়ে সশস্ত্র বিরোধীরা এখন ছোট ছোট দলের ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে তালেবান চেষ্টা করছে যেকোনো বিদ্রোহ অঙ্কুরেই বিনাশ করতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক খালিদ আহমদী বলেন, বিরোধীরা তাদের সক্ষমতা অনেক সময় বাড়িয়ে বলে। কিন্তু তালেবান–পরবর্তী আফগানিস্তান নিয়ে তাদের কোনো ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে তালেবানের শক্ত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সংকটে রয়েছে। বিরোধীদের সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই নতুন গৃহযুদ্ধ নয়। তবে এটি একটি বিষয় প্রমাণ করে, তা হলো আগের সরকারের পতনের মাধ্যমে আফগানিস্তানে সংঘাতের অবসান ঘটেনি।
![]() |
| ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি (মাঝে)। তেহরানে, ৩ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৩০ ঘণ্টার ভ্রমণ! চঞ্চল বললেন, কাজাখস্তান পৌঁছাতেও দম লাগে...
চঞ্চল চৌধুরী জানালেন, মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি ঢাকা থেকে শারজাহ হয়ে কাজাখস্তান পৌঁছান। এরপর বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত পৌঁছাতে লেগে যায় আরও ৭ ঘণ্টার মতো। চঞ্চল প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমার জীবনে এত লম্বা জার্নি কখনো করিনি। ট্রানজিট ও টানা ভ্রমণে মোটামুটি হাঁপিয়ে উঠি। কী যে ঠান্ডা এখানে, এই মুহূর্তে মাইনাস টু। তবে মাইনাস টু হলেও ফিল লাইক ৭–৮–এর মতো। আমার জীবনে এত ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করিনি। এবার হয়তো অন্য রকম অভিজ্ঞতা হবে।’
কথা প্রসঙ্গে চঞ্চল বললেন, ‘ঠান্ডা জানতাম, কিন্তু এতটা ঠান্ডা হবে বুঝতে পারিনি। আমি যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি, কয়েকটা জামা পরেছি, তারপরও ঠান্ডা মানানো যাচ্ছে না। বিমানবন্দরে নেমে ঠান্ডার তীব্রতা বুঝতে পেরেছি। তবে দিনের আবহাওয়া আবার একটু অন্য রকম।’
‘দম’ ছবিটি পরিচালনা করছেন রেদওয়ান রনি। এই সিনেমার মাধ্যমে বেশ কয়েক বছর পর চলচ্চিত্র পরিচালনায় ফিরছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে সিনেমার কাহিনি, যেখানে থাকবে সারভাইভাল ড্রামা। এটি একজন সাধারণ মানুষের জ্বলে ওঠার গল্প। চরিত্রটির মধ্যে এমন এক শক্তি আছে, যা শুধু আমাকে নয়, দর্শকদের জীবনেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
এরই মধ্যে ‘দম’ ছবির একটি টিম কাজাখস্তানে আগে থেকেই শুটিং করছে, সেই দলে আছেন আফরান নিশো, পূজা চেরী প্রমুখ। কাল থেকে যোগ দেবেন চঞ্চল চৌধুরী। বললেন, ‘কাল থেকে আমার অংশের শুটিং শুরু হবে। হোটেলে বসে শুটিংয়ের প্রস্তুতি চলছে।’
এদিকে কাজাখস্তান পৌঁছার পর ফেসবুকে নিজের স্থিরচিত্র পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘কাজাখস্তান পৌঁছাতেও দম লাগে …। রাস্তা যেন শেষই হয় না! আর পৌঁছানোর পর...এত শীত সইব কেমন করে?’
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ‘দম’ সিনেমার ঘোষণা আসে। তখনই জানা যায়, এতে অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরী। পরে যুক্ত হন আফরান নিশো। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের রোজার ঈদে মুক্তি পাবে ‘দম’। সব মিলিয়ে বলা যায়, কাজাখস্তানের দুর্গম পাহাড়-প্রান্তরে চলছে ‘দম’-এর দম পরীক্ষা।
![]() |
| কাজাখস্তানে চঞ্চল চৌধুরী। ছবি : চঞ্চলের ফেসবুক |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1844)
-
▼
August
(340)
-
▼
Aug 17
(9)
- ‘সমঝোতা চুক্তির’ মেয়াদ শেষ, এখন কী হবে?
- এবার ওমানে ব্যাপক বোমা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
- ভারতে মন্দিরে ‘পদপিষ্ট’ হয়ে ৭ জনের মৃত্যু
- নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি, তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ ...
- গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান ...
- আমরা চিন্তাও করিনি, ইরান আমাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস কর...
- বি-২৯ সুপারফোর্ট্রেস: পারমাণবিক বোমার চেয়ে দামি যু...
- আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা ...
- ৩০ ঘণ্টার ভ্রমণ! চঞ্চল বললেন, কাজাখস্তান পৌঁছাতেও ...
-
▼
Aug 17
(9)
-
▼
August
(340)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



