Wednesday, November 12, 2025

‘জেনারেল উইন্টার’ ঘিরে পুতিনের নতুন কৌশল by সের্গেই মাইডুকভ

শীতকাল যতই জাঁকালো হচ্ছে, ইউক্রেনে ততই উৎকণ্ঠা বাড়ছে। গত মাসে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে গঠিত মিত্রদের তথাকথিত জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ এ ব্যাপারে একমত হয়েছে যে তারা ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য বিপুল পরিমাণ সম্পদ জোগাড় করবে, যাতে বড় শহরগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, ঘরবাড়ি উষ্ণ রাখা যায়। এ উদ্যোগ কিছুটা ফলও দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে! কেননা, এ বছর শীতের মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অল্প কিছুটা দেরিতে (২৮ অক্টোবর) শুরু হয়েছে।

আগামী মাসগুলোয় ইউক্রেনের ঘরবাড়ি উষ্ণ থাকবে, এখন পর্যন্ত সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার সেনারা এখনো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে শীত পুরোপুরি নেমে আসার আগেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া।

‘জেনারেল উইন্টার’ বা শীতকাল ছিল নেপোলিয়ন ও হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত্র মিত্র। সাম্প্রতিক যুদ্ধেও জেনারেল উইন্টার রাশিয়ার হয়ে লড়ছে। আর সেটা শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নয়, ইউরোপের বিরুদ্ধেও।

যুদ্ধে সরাসরি জয়লাভে ব্যর্থ হয়ে এবং আলটিমেটাম দিয়েও কিয়েভকে নতিস্বীকারে ব্যর্থ হওয়ার পর ভ্লাদিমির পুতিন এখন যুদ্ধের ভারকেন্দ্র ইউক্রেনের জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর দিকে স্থানান্তর করেছেন। প্রথম দৃষ্টিতে এবারও গত দুই শীতকালের পুনরাবৃত্তি হবে বলে মনে হতে পারে; কিন্তু এবার কৌশলটা পাল্টেছে।

২০২২ ও ২০২৩ সালে রাশিয়া ইউক্রেনকে ‘ঠান্ডায় জমিয়ে আত্মসমর্পণ করাতে’ চেয়েছিল। এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনীয়দের মনোবল অক্ষুণ্ন ছিল, অন্ধকার পেরিয়ে আলো ফিরে এসেছিল। এবার পুতিনের হিসাব আলাদা। এবার শুধু ইউক্রেনকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং শীত ও অন্ধকারে মানবিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে ইউরোপকেও অস্থিতিশীল করে তোলা তাঁর লক্ষ্য।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হলে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় ট্রেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে ও হেঁটে পশ্চিমে পালিয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ছিল ইউরোপের সবচেয়ে বড় শরণার্থীস্রোত। যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, তাহলে নতুন করে আরও বিধ্বংসী হয়ে শরণার্থীঢেউ ফিরে আসতে পারে। এটাই শীতকালকে অস্ত্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে ক্রেমলিনের সবচেয়ে নৃশংস পরিকল্পনা।

ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমাদের সমস্ত সংহতি থাকা সত্ত্বেও আরেকটি শরণার্থীঢেউ ইউরোপকে ভয়াবহভাবে নাড়া দিতে পারে। সাহায্যের তহবিল যেখানে আগে থেকেই টান ধরেছে, সেখানে ইউরোপের সামনে শুধু অর্থনৈতিক নয়, নৈতিক পরীক্ষাও আসবে। তীব্র শীত থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে আসা অসহায় লোকদের ইউরোপীয়রা সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেবে, নাকি নিজেদের দেশে দেশে বাড়তে থাকা জন–অসন্তোষের মুখে মানবিক দায়িত্ব পালন করবে?

বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৫০ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে জার্মানি ১২ লাখ ও পোল্যান্ড ৯ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। দুটি দেশের নাগরিকেরা শুরু থেকেই ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের প্রতি উদার ছিলেন, কিন্তু যুদ্ধক্লান্তি ধীরে ধীরে জেঁকে বসেছে, জনমতও বদলে যাচ্ছে।

এ বছরের শুরুতে ইউক্রেন যখন তরুণদের জন্য সীমান্ত পার হওয়ার বিধিনিষেধ শিথিল করেছিল, তখন প্রায় এক লাখ ইউক্রেনীয় পুরুষ পোল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই জার্মানিতে চলে যান। এতে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়। অক্টোবরের একটি জরিপে দেখা গেছে, জার্মানদের ৬২ শতাংশ চান, সামরিক বাহিনীতে কাজ করার সক্ষমতা আছে—এমন ইউক্রেনীয় পুরুষদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ৬৬ শতাংশ চান না যে ইউক্রেনীয়রা কোনো সুবিধা পাক। গত বছর জার্মানিতে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য খরচ হয়েছে ছয় বিলিয়ন ইউরো। জার্মানির নতুন রক্ষণশীল সরকার বাজেট কাটছাঁট করার কথা বারবার বলছে।

পোল্যান্ডেও পালিয়ে আসা তরুণ ইউক্রেনীয় পুরুষদের নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, পোল্যান্ডের ২৫ শতাংশ মানুষ ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের ইতিবাচকভাবে দেখছেন, ৩০ শতাংশ নেতিবাচকভাবে এবং ৪১ শতাংশ নিরপেক্ষ। ৫১ শতাংশ মনে করছেন, সরকার তাঁদের জন্য খুব বেশি সহায়তা দিচ্ছে। এক বছর পরও এই নেতিবাচক প্রবণতা সম্ভবত বজায় আছে।

পুতিন এবং তাঁর মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার লুকাশেঙ্কা ভালো করেই জানেন, মরিয়া লোকদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়াটা কার্যকর কৌশল। ২০২১ সালে তাঁরা দুজন এ ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। বেলারুশ তখন মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার আশ্রয়প্রার্থীদের পোল্যান্ড সীমান্তের দিকে ঠেলে পাঠিয়েছিল।

সে সময় এই সীমান্তগুলোয় হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছিলেন। সেটি মানবিক সংকট সৃষ্টি ও মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছিল। এই শীতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো যদি ধ্বংস হয়, তাহলে লাখ লাখ মানুষ পোল্যান্ড কিংবা রোমানিয়া ও হাঙ্গেরির দিকে ছুটতে থাকবেন। সীমান্ত পেরিয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা ড্রোন আক্রমণের মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করতে পারে।

রাশিয়ার সেনারা বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস সংরক্ষণাগার ও রেলওয়ে জংশন বোমা মেরে ধ্বংস করছেন। শুধু অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য নয়, ইউক্রেনের বাসিন্দাদের পশ্চিমে ঠেলে দেওয়ার জন্যও। কেননা, আতঙ্ক নিজেই একটি অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

* সের্গেই মাইডুকভ, ইউক্রেনীয় লেখক
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

ভ্লাদিমির পুতিন
ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি

নিউইয়র্কে মামদানির ঐতিহাসিক জয়: ইহুদি ডেমোক্রেট রাজনীতিতে বিভাজনের ইঙ্গিত

নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির বিজয় শুধু শহরের রাজনীতিতেই নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি ডেমোক্রেটিক ভোটারদের মধ্যেও নতুন এক রাজনৈতিক বিভাজনের রেখা টেনে দিয়েছে। ইসরাইলের বাইরে সর্বাধিক ইহুদি জনসংখ্যার এই শহর এখন এক গভীর আদর্শিক পরিবর্তনের সাক্ষী। ৩৪ বছর বয়সী মুসলিম অভিবাসী ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি সহজেই পরাজিত করেছেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে।  এবারের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতির কারণে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও মামদানি সেই বিতর্কের মাঝেও জয় নিশ্চিত করেছেন।

গাজা সংঘাত ঘিরে ইসরাইলের নীতিতে হতাশ তরুণ ইহুদি ভোটারদের একাংশ মামদানির পক্ষে দাঁড়ান। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ বছরের নিচের মাত্র ৫০ শতাংশ ইহুদি মনে করেন ইসরাইলের যুদ্ধ পরিচালনা গ্রহণযোগ্য। যেখানে ৫০ ঊর্ধ্বদের মধ্যে এই হার ৬৮ শতাংশ। নির্বাচনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি ভোটার মামদানিকে ভোট দিয়েছেন। যা অভ্যস্ত প্রভাবশালী ইহুদি নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিউইয়র্কের ইউজেএ-ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিন্ডি পুপকো বলেন, অনেকেই এক ধরনের অনিশ্চয়তায় আছেন। মেয়র মামদানি মেয়রের পদে বসে কেমন আচরণ করবেন, তা অনেকেইরই অজানা।

মামদানির সমর্থনে হওয়া কিছু বিক্ষোভে উচ্চারিত ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা’ স্লোগান নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। যা কেউ কেউ ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান বলে মনে করেন। যদিও মামদানি ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, তিনি নিজে এই স্লোগান ব্যবহার করবেন না এবং অন্যদেরও নিরুৎসাহিত করেন। তিনি প্রকাশ্যে বিডিএস আন্দোলনের (বয়কট, ডিইভেসমেন্ট, স্যাঙ্কশন) সমর্থক। যা ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়কটের আহ্বান জানায়।

অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল) মামদানির পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণে ‘মামদানি মনিটর’ চালু করেছে এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ জানাতে একটি হটলাইনও খুলেছে। সংগঠনের প্রধান জনাথন গ্রিনব্লাট বলেন, আমাদের কাজ খুবই সহজÑ ইহুদি জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

ডেমোক্রেটদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগ নিতে রিপাবলিকানরা এখন ইহুদি ভোটারদের দিকে ঝুঁকছে। ইসরাইলের ঘটিষ্ঠ মিত্র প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যে ইহুদি মামদানিকে ভোট দিয়েছে, সে বোকা। তবে তার নিজের দলও সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী ইহুদিবিদ্বেষী প্রবণতার অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে টাকার কার্লসনের পডকাস্টে শ্বেত জাতীয়তাবাদী নিক ফুয়েন্টেসকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর এই সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

মামদানির প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসস্থান সংকট নিরসন। যা তরুণ প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এমনকি সমালোচক গ্রিনব্লাটও স্বীকার করেছেন, তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কষ্টের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, সেটিই তার জয়ের চাবিকাঠি।

মামদানির ইহুদি সমর্থকরা বলছেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে ইহুদি ভোট আর এককভাবে ইসরাইলের প্রতিনিধিত্বশীল নয়। ইসরাইলি বংশোদ্ভূত ২৬ বছর বয়সী রনি জাহাভি-ব্রুনার বলেন, আমি মামদানিকে ভোট দিয়েছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা ঝুঁকি নয়, এটি নৈতিক দায়িত্ব। অন্যদিকে ম্যানহাটনের ইহুদি ভোটার অ্যালিসন ডেভলিন বললেন, আমি হতাশ ও উদ্বিগ্ন। আমি প্রকাশ্যে ইহুদি ও জায়নিস্ট। এখন নিউইয়র্ক শহর কতটা নিরাপদ, জানি না। তরুণ প্রজন্মের ইহুদি ভোটার করিন গ্রিনব্লাট মনে করেন, গাজা যুদ্ধ ইহুদি রাজনীতিতে নতুন এক মোড় এনে দিয়েছে। এখন স্পষ্ট, ইহুদি সমাজ একরকম নয়Ñ কেউ ফিলিস্তিনের পক্ষে, কেউ ইসরাইলের, আবার কেউ রাজনীতির বাইরে। মামদানি বারবার বলেছেন তিনি ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে। আমাদের উচিত তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং আন্তঃসম্প্রদায় ঐক্য গড়ে তোলা।

সূত্র: রয়টার্স।

https://mzamin.com/uploads/news/main/188700_Kaium-3.webp

পারমাণবিক সক্ষমতার দিকে নজর মিয়ানমারের

রাশিয়ার সহযোগিতায় পরমাণু কর্মসূচির দিকেই এখন দৃষ্টি দিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। একদিকে দেশজুড়ে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা বাড়ছে, অন্যদিকে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ‘পারমাণবিক উন্নয়ন’কে জাতীয় অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতি জানায়, গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড অ্যাটমিক উইক ফোরাম ২০২৫-এ অংশ নেন মিন অং হ্লাইং।

সেখানে তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার সহায়তায় মিয়ানমার ‘পরমাণু উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জন করেছে। এ সহযোগিতা মূলত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের সঙ্গে করা চুক্তির অংশ।

এর আগে, গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমার সরকার ‘ ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব নিউক্লিয়ার এনার্জি’ গঠন করে। এই কমিটিতে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা রয়েছেন।

রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিয়ানমারে ইতোমধ্যে একটি ‘নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটিতে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। দেশটির সামরিক প্রশাসন দাবি করছে, এই প্রকল্প সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য নেওয়া হচ্ছে।

তবে, ইতিহাস অন্য কথা বলে। মিয়ানমারের জুন্টা সরকার এর আগেও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে গোপন পরমাণু সহযোগিতার চেষ্টা করেছিল। নিজ জনগণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দমননীতি ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ‘শান্তিপূর্ণ’ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং রাশিয়ার পাশাপাশি চীন ও ভারতের সঙ্গেও পারমাণবিক প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন।

তার দাবি, এ সহযোগিতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে।

তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মিয়ানমারের সামরিক শাসক নিজের শাসন টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে পরমাণু কর্মসূচিকে ব্যবহার করবেন।

১৯৬২ সাল থেকে শুরু হওয়া সামরিক শাসনের দীর্ঘ ইতিহাসে মিয়ানমার বহুবার ‘উন্নয়ন’ ও ‘আধুনিকীকরণ’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশটি দারিদ্র্য, গৃহযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার ফাঁদেই আটকে আছে। এবার ‘পরমাণু উন্নয়ন’-এর নাটক সেই পুরোনো প্রচারণারই নতুন সংস্করণ বলে মনে করছেন অনেকে।

বর্তমানে সংঘাত, অর্থনৈতিক পতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চাপে মিয়ানমার যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, তখন সামরিক সরকারের এই পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেশটিকে আরও বিপজ্জনক অজানার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

পারমাণবিক সক্ষমতার দিকে নজর মিয়ানমারের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক চুক্তি চায় ইরান

কয়েক দশকের পুরোনো বিরোধের সমাধান করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ইরান। তবে এ ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদে আজ মঙ্গলবার এ কথা বলেন। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১২তম স্ট্র্যাটেজিক ডিবেটে দেওয়া বক্তব্যে খতিবজাদে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দেশগুলোর মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাঠাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা অভিযোগ করছে, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

খতিবজাদে বলেন, গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান পাঁচ দফা পারমাণবিক আলোচনা চালায়। ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয় এবং ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করার অভিযোগ এনে খতিবজাদে বলেন, জুনের সংঘাতের পর থেকেই পারমাণবিক আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-07-15%2F7bcoz23o%2Fprothomalo-bangla2025-03-108cysmpv0USA-and-Iran-Flag.avif?rect=1%2C0%2C621%2C414&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif