Sunday, September 5, 2010

মাহে রমজান ও আসমানি কিতাব by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

বছরের ১২ মাসের মধ্যে রমজান মাসের গুরুত্ব খুবই বেশি। কারণ, মাহে রমজান মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির দিকদর্শনস্বরূপ সর্বশেষ আসমানি কিতাব ‘আল-কোরআন’ নাজিলের মাস। মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজান মাসের শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত আল্লাহর বাণী আল-কোরআন আল-কারিম। এটি বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর কাছ থেকে জিব্রাইল ফেরেশতা মারফত সুদীর্ঘ ২৩ বছরে অবতীর্ণ হয়। মাহে রমজানে আল-কোরআনকে সর্বকালের, সর্বদেশের, সর্বলোকের জীবনবিধান ও মুক্তিসনদ হিসেবে পাঠিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৫)
মাহে রমজান সিয়াম সাধনার মাস হলেও পবিত্র কোরআনের শিক্ষা—তিলাওয়াত, অধ্যয়ন, অনুশীলন ও অনুসরণ ছাড়া সে পুণ্যময় কার্যক্রম পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। এ মাসে শুধু কোরআন শরিফই নয়, বরং অন্যান্য আসমানি কিতাব এবং বহু সহিফাও নাজিল হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। এ কারণে মাহে রমজানের সঙ্গে আসমানি কিতাবের এক বিশেষ সম্পর্ক আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসের প্রথম রাতে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ওপর সহিফাগুলো নাজিল করা হয়েছিল। রমজান মাসের ৬ তারিখ দিবাগত রাতে হজরত মূসা (আ.)-এর ওপর “তাওরাত” নাজিল করা হয়েছিল। রমজান মাসের ১২ তারিখ হজরত দাউদ (আ.)-এর ওপর “যাবুর” নাজিল করা হয়েছিল এবং এ মাসের ১৩ তারিখ হজরত ঈসা (আ.)-এর ওপর “ইঞ্জিল” নাজিল করা হয়েছিল এবং মাহে রমজানের এক বরকতময় রাতে অর্থাৎ ২৭ তারিখ কদরের রাতে আল-কোরআন নাজিল করা হয়েছিল।’ (মুসনাদে আহমাদ, তাবারানি)
প্রকৃতপক্ষে মাহে রমজানে আল-কোরআন নাজিল হওয়ার কারণে এ মাসের এত বড় মাহাত্ম্য, এত বেশি মর্যাদা। মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন মজিদ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব এবং মুসলমানদের অনুসৃত প্রধান ধর্মগ্রন্থ। সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ আল-কোরআন দুই পর্যায়ে অবতীর্ণ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আল্লাহর আরশে অবস্থিত লওহে মাহফুজ বা রক্ষিত ফলক থেকে সম্পূর্ণ কোরআন একই সঙ্গে রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমান ‘বায়তুল ইজ্জাত’ তথা ‘বায়তুল মামুরে’ অবতীর্ণ হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি এটি (আল-কোরআন) কদরের রাত্রিতে নাজিল করেছি।’ (সূরা আল-কদর, আয়াত-১) দ্বিতীয় পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ওহি হিসেবে আল-কোরআন প্রয়োজনমতো বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নবুওয়াতের ২৩ বছর ধরে ধীরে ধীরে নাজিল হয়।
নবী করিম (সা.)-এর ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে রমজান মাসের ‘লাইলাতুল কদর’-এ হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকাকালে স্বর্গীয় দূত ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.)-এর মারফত আল্লাহর কাছ থেকে প্রত্যক্ষ অহিযোগে তাঁর ওপর সর্বপ্রথম ‘আল-কোরআন’ অবতীর্ণ হয়। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.)-এর প্রতি সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে অহি অবতরণের সূচনা হয়েছিল। অতঃপর তাঁর মধ্যে নির্জনে উপাসনা করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তখন তিনি হেরা গুহায় রজনীর পর রজনী আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। এমতাবস্থায় মাহে রমজানের এক বিশেষ রজনীতে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) কর্তৃক তাঁর কাছে পাঁচটি আয়াত সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়, ‘পড়ো! তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে এঁটে থাকা বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন। পড়ো! আর তোমার প্রতিপালকই সর্বাধিক সম্মানিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১-৫) দশম হিজরিতে বিদায় হজের সময় আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সর্বশেষ অহি হিসেবে অবতীর্ণ হয়, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম পূর্ণাঙ্গ করলাম আর তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত-৩)
মাহে রমজানের রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের জন্য দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক পূতপবিত্রতা অর্জনের বাস্তবধর্মী প্রচেষ্টা আল-কোরআন গবেষণা ও চর্চার মাধ্যমেই করা উচিত। তাহলেই কেবল রোজাদারদের মধ্যে মাহে রমজানের প্রকৃত শিক্ষা জাগ্রত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে পবিত্র কোরআন নিয়ে গবেষণা করতেন এবং মুখস্থ অংশ পুনরায় পড়তেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রমজান শরিফের প্রতি রাতে হজরত জিব্রাইল (আ.) নবী করিম (সা.)-এর খেদমতে হাজির হতেন এবং তাঁরা উভয়ই কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।’ (বুখারি)
রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে রমজান মাসে বেশি বেশি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের আহ্বান করেছেন। মাহে রমজান পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস হওয়ায় এ মাসকে সঠিকভাবে আল-কোরআন তিলাওয়াতের মাস হিসেবে ধরে নিতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যদি কেউ আল্লাহ তাআলার সঙ্গে বাক্যালাপ করার ইচ্ছা করে, তাহলে সে যেন আল-কোরআন তিলাওয়াত করে।’ মহানবী (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পাঠ করে, সে একটি নেকি পায় আর প্রতিটি নেকি ১০টি নেকির সমান।’ (তিরমিজি)
বাস্তবে মাহে রমজান হচ্ছে পবিত্র কোরআন মজিদের শিক্ষা অর্জন ও বিস্তারের মাস। রোজাদার ব্যক্তি রমজান মাসে খুব বেশি কোরআন তিলাওয়াত করেন। তাই রোজা ও কোরআন শরিফ কিয়ামতের দিন তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতি মাসেরই রয়েছে স্বতন্ত্র গৌরব ও মর্যাদা, আর মাহে রমজানের গৌরব ও অলংকার হচ্ছে রোজা ও আল-কোরআন। এ দুয়ের হক আদায়কারীদের জন্য রোজ হাশরে রোজা ও আল-কোরআন আল্লাহর দরবারে শাফায়াত করবে। রোজা বলবে, ‘হে আমার রব! আমি তাকে দিনে পানাহার ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রেখেছি, আমার তরফ থেকে তার জন্য শাফায়াত কবুল করুন।’ আল-কোরআন বলবে, ‘হে আমার রব! আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি, আমার তরফ থেকে তার জন্য শাফায়াত কবুল করুন।’ আল্লাহ তাআলা তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।’ (বায়হাকি, আহমাদ, তাবারানি ও হাকিম)
অতএব, রোজাদাররা যেন রোজা পালন ও পবিত্র কোরআনের মহিমাময় আদর্শের পরিপূর্ণ অনুশীলনের মাধ্যমে মাহে রমজানে প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারেন এবং জীবন-দর্শন হিসেবে আল-কোরআনের আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন করতে পারেন এ জন্য সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে নিজেদের প্রশিক্ষিত করার জন্য মাহে রমজানই উত্তম। পবিত্র কোরআন নাজিলের রমজান মাসে সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে আল-কোরআনের চর্চা ও অনুশীলনে আত্মনিয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। পবিত্র কোরআনের মর্মবাণী উপলব্ধি করে ইসলামের বিধান অনুসারে জীবনযাপন করতে পারলেই মাহে রমজানের যথার্থ হক আদায় হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

‘ধোনির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ’

কী দুর্দান্ত শুরুটাই না হয়েছিল! ব্যাটসম্যান হিসেবে যেমন, তেমনই অধিনায়ক হয়েও মহেন্দ্র সিং ধোনি যা ছুঁইছিলেন, সেটাই সোনা হয়ে যাচ্ছিল। সেই ধোনি এখন বাস্তবতার মুখোমুখি। ব্যাটসম্যান ধোনির সামর্থ্য নিয়ে এখনো প্রশ্ন ওঠেনি, তবে মাঠের ভেতরে-বাইরে মাঝেমধ্যেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে অধিনায়ক ধোনিকে। একাদশ বাছাই, মাঠের কৌশল নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে প্রায়ই, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ঝামেলা তো নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সৌরভ গাঙ্গুলীর ধারণা, সামনে এসবের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন ধোনি, যখন অবসর নেবেন দলের সিনিয়ররা।
অধিনায়কেত্বর শুরুতেই অনভিজ্ঞ এক দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন ধোনি। টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়েই দেশের মাটিতে সিরিজ জিতিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিতেছেন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। তবে এরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠতেই ব্যর্থ হয়েছে ভারত। সৌরভের ধারণা, আরও বড় চ্যালেঞ্জ ধোনির সামনে আসছে, ‘আগামী দু-এক বছরের মধ্যেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে ধোনি, যখন অবসর নেবে টেন্ডুলকার, দ্রাবিড় ও লক্ষ্মণ। আগামী বছর আমাদের পাঁচটি সিরিজ বিদেশের মাটিতে, ধোনি ও তাঁর দলের জন্য এটাও হবে বড় একটা পরীক্ষা। হয়তো অধিনায়ক ধোনির ভবিষ্যৎও ঠিক করে দেবে ওটাই।’
ব্যাটসম্যান ধোনিকে নিয়ে আর সবার মতো কোনো প্রশ্ন নেই সৌরভেরও, বরং পরামর্শ দিয়েছেন ওয়ানডেতে আরও ওপরে ব্যাট করতে। তবে প্রশ্ন আছে ধোনির ‘অপরিণত’ কিছু মন্তব্য নিয়ে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণ বলেছিলেন ধোনি অতিরিক্ত ক্রিকেট খেলা। বর্তমান অধিনায়ককে এমন অজুহাত দেখানো বন্ধ করতে বলেছেন সাবেক অধিনায়ক, ‘ক্রিকেটার হিসেবে ধোনি পরিণত, কিন্তু মাঝেমধ্যেই অপরিণত মন্তব্য করে। ভারত যদি না খেলে, তাহলে অন্য কেউ খেলবে। সময়টাই তো খেলার।’
ভারতকে সবচেয়ে বেশি ৪৯টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে রেকর্ড ২১টিতে জেতানো সৌরভ সন্তুষ্ট দলের টেস্ট পারফরম্যান্স নিয়ে।
তবে ওয়ানডের পারফরম্যান্সকে বলছেন অধারাবাহিক। দেশকে ১৪৬ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক দায়টা চাপিয়েছেন তরুণদের ওপর, ‘দীর্ঘদিন ধরে খেলার পরও যুবরাজ এখন ধারাবাহিক নয়, ওয়ানডেতে শেবাগও তাই। রোহিত শর্মা, রবীন্দ্র জাদেজা, ইউসুফ পাঠানের মতো তরুণদের কাছ থেকেও বেশি কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। ওদের মনে করা হয় ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, কিন্তু এখনো ওরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি।’
সৌরভের নেতৃত্বে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছে ভারত, অনেক বছর পর জিতেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। যোগ্য নেতার মতোই সৌরভ অবশ্য জয়ের বেশির ভাগ কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। আর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই নির্বাচকদের পরামর্শ দিয়েছেন, বয়স বাদ দিয়ে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দল বাছাই করতে।

আবাহনীর আসাম-যাত্রায় সঙ্গী চার বিদেশি

চার বিদেশি ফুটবলারকে নিয়ে আসাম যাচ্ছে আবাহনী। এর মধ্যে ডিফেন্ডার সামাদ ইউসুফ ও স্ট্রাইকার আউডু ইব্রাহিম আকাশি-নীলের পুরোনো খেলোয়াড়। নতুন দুজন হচ্ছেন মিডফিল্ডার ইউসুফ আমিনু ও স্ট্রাইকার থুয়াম ফ্রাঙ্ক। চারজনই ঘানার ফুটবলার।
সামাদ ও ইব্রাহিমের সঙ্গে নতুন দুজন ঢাকায় এসেছেন গত মাসে। নতুন দুই খেলোয়াড়কে ঘরোয়া মৌসুমের জন্য নিবন্ধন করানো হবে কি না, এখনো ঠিক হয়নি। তবে তাঁদের অনুশীলনে দেখে আসামে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব।
আবাহনী কোচ অমলেশ সেন জানালেন, ‘গতবার খেলে যাওয়া ঘানার শেরিফ ও আউয়ালের চেয়ে এই দুজনকে ভালোই মনে হচ্ছে। তবে অনুশীলনে দেখেই সব বোঝা যায় না। ম্যাচ খেলতে হবে। বরদুলইয়ে আমরা তাদের নিচ্ছি, তারপর দেখা যাবে।’ ম্যানেজার সত্যজিৎ দাসও (রুপু) বলছেন একই কথা।
আগের মৌসুমের বেশ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় এবার দল ছেড়ে যাওয়ায় এবার বিদেশিদের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হবে পেশাদার লিগের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নদের। তাই দেখেশুনে বিদেশি কোটা পূরণ করতে চান আবাহনী কর্মকর্তারা। আরও খেলোয়াড় ‘দেখার’ জন্য শিগগিরই আনা হচ্ছে তিনজন নাইজেরিয়ানকে। ক্লাবের নতুন ইরানি কোচ আলী আকবর পোর মুসলিমি আগামী মাসের ২০-২২ তারিখে ঢাকা আসার পর তিনি চাইলে আরও কয়েকজনকে আনা হবে।
এক দিন এগিয়ে আবাহনীর আসাম-যাত্রা ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে। ৫৮তম বরদুলই ট্রফিতে তাদের প্রথম খেলা ৯ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় দল নিয়ে নকআউট পদ্ধতিতে টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। আবাহনী খেলবে সরাসরি গ্রুপ পর্বে। গ্রুপে ম্যাচ থাকছে দুটি। ফাইনাল পর্যন্ত উঠলে ম্যাচ খেলা হবে চারটি।

ফিফার রুনি প্রশস্তি

উত্তেজনা আর এতটুকু অবশিষ্ট নেই। তবে আলোচনায় মাঝেমধ্যেই ফিরে ফিরে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে কোনো তারকার পারফরম্যান্স কেমন ছিল, তার নিখাদ মূল্যায়ন যে এখনো বাকি!
বাকি ছিল বলেই গত দুটি মাস ওয়েইন রুনিকে বয়ে বেড়াতে হলো মিথ্যা গঞ্জনা। তবে আর না, নিন্দা-ধিক্কার শোনার দিন শেষ। রুনির এখন প্রশংসা পাওয়ার পালা। সেই পালায় প্রথমেই রুনির ভাগ্যে জুটল খোদ ফিফার প্রশংসা। ফিফার বিচারে, বিশ্বকাপে রুনি মোটেও ঘুমিয়ে ছিলেন না, মাঠে দলের জন্য কঠিন পরিশ্রম করেছেন, তাঁর টেকনিকও ছিল ভালো!
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ২০০৯-১০ মৌসুমটি অসাধারণ কেটেছিল রুনির। হয়েছিলেন প্রফেশনাল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষসেরা খেলোয়াড়। এই রুনিকে ঘিরেই ইংলিশরা সাজিয়েছিল ৪৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় রুনি এমনই নিষ্প্রভ ছিলেন যে, চার ম্যাচ খেলেও ম্যানইউর গোল-মেশিন রুনি একবারের জন্য খুঁজে পাননি প্রতিপক্ষের জাল। জবাবে ইংলিশ সমর্থকেরাই দিয়েছে দুয়ো-ধিক্কার।
বাজে, নিষ্প্রভ, অলস—এসবই সমর্থকদের মূল্যায়ন। ফিফার ১৬ সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটির গবেষণায় বিশ্বকাপের রুনি ধরা দিয়েছেন এই রূপে ‘কঠোর পরিশ্রমী, উদ্যমী স্ট্রাইকার; যিনি দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন; টেকনিকও ভালো।’ গোলশূন্য এই স্ট্রাইকারকে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা তিন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে মনোনীত করেছে তারা। বাকি দুজন অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড ও ডিফেন্ডার অ্যাশলি কোল।
গবেষণা কমিটির অন্যতম দুই সদস্য ফ্রান্স ও লিভারপুলের সাবেক কোচ জেরার্ড হুলিয়ার ও স্কটল্যান্ডের সাবেক কোচ অ্যান্ডি রক্সবার্গ ইংল্যান্ড দলের প্রশংসাও করেছেন। ফ্যাবিও ক্যাপেলোর দল সম্পর্কে তাদের অভিমত ‘শক্তিশালী, কঠোর পরিশ্রম করা খেলোয়াড়ের দল।’

নেইমার-ম্যাজিক আবারও

ম্যাচের পর ম্যাচে অসাধারণ খেলছেন আর সান্তোসের সঙ্গে নেইমারের বন্ধনটাও যেন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। পরশু আবারও দুর্দান্ত খেলে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সান্তোসকে এনে দিলেন টানা চতুর্থ জয়। নেইমারের সঙ্গে যাঁকে মনে করা হচ্ছে ব্রাজিল ফুটবলের ভবিষ্যৎ, সেই পাওলো হেনরিক গানসো চোটের কারণে খেলতে পারেননি, আভাইয়ের বিপক্ষে তবু ২-১ গোলে জিতেছে সান্তোস। ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ৫২ সেকেন্ড, বক্সের কোনা থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে সান্তোসকে এগিয়ে নেন নেইমার। ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করা মার্সেলের গোলটিও নেইমারের অবদানে। খেলা শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে ব্যবধান কমান ভালবার। এই জয়ে এক ম্যাচ কম খেলে সান্তোস এখন শীর্ষে থাকা ফ্লুমিনেন্সের চেয়ে ৮ পয়েন্ট পেছনে।

এ মাসেই ফিরছেন বেকহাম?

ফুটবলার ডেভিড বেকহাম এক অননুমানযোগ্য চরিত্র।
২০০৬ বিশ্বকাপের পর পর অনেকেই বেকহামের ক্যারিয়ারের কবর দিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু দেখা গেল বাজে অবস্থা কাটিয়ে বেকহাম ফিরেছেন নিজস্ব তেজ নিয়ে। ফ্যাবিও ক্যাপেলো ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁর মতো বয়সী খেলোয়াড়কে ২০১০ বিশ্বকাপের দলে আসতে গেলে ইউরোপের ভালো কোনো লিগে খেলে প্রমাণ দিতে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি থেকে ইতালির ক্লাব এসি মিলানে ধারে খেলে তিনি প্রমাণ দিলেন। বিশ্বকাপের দলে ঢোকাটা যখন শুধু সময়ের ব্যাপার, তখনই ইনজুরি তাঁকে মাঠের বাইরে ঠেলে দিল। খেলতে পারলেন না বিশ্বকাপে। কিন্তু তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ী ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে ঠিকই কোচিং দলের সঙ্গে করে বেকহামকে নিয়ে গেলেন বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে আবার যখন দলে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন, তখনই ক্যাপেলো জানিয়ে দিলেন তাঁর মতো বয়সী খেলোয়াড়ের জায়গা নেই ইংল্যান্ড দলে। বেকহাম হাল ছাড়েননি।
আবার ঘটতে চলেছে এমন একটি ঘটনা। চোট পাওয়ার পর তাঁর পরিচর্যাকারী চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, অক্টোবরের ১ তারিখের আগে মাঠে ফেরা হবে না বেকহামের। সেই অনুমান ভুল প্রমাণ করে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাঠে ফিরেছেন এর আগেই। এ মাসের ১১ তারিখে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে এলএ গ্যালাক্সির ম্যাচ দিয়েই নাকি মাঠে ফিরছেন তিনি।
বেকহামের মাঠে ফেরার খবরটি দিয়েছেন তিনি নিজেই, ‘ডাক্তারদের আসল তারিখ ছিল অক্টোবরেই। কিন্তু আমি বরাবরই বলে এসেছি, এর আগেই ফিরতে পারব।’ এলএ গ্যালাক্সির ওয়েবসাইটে বেকহাম বিস্তারিত জানিয়েছেন তাঁর ফেরাটা কীভাবে হবে সেটা নিয়েও, ‘আমি সম্ভবত কলম্বাসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে অল্প সময়ের জন্য খেলব। বেঞ্চে থাকব, সম্ভবত ১৫-২০ মিনিটের জন্য মাঠে নামব।’
এখনই মাঠে নামার কথা বলে দিয়েছেন ঠিকই। তবে চোট তাঁর পুরো সারেনি। এখনো খুব দ্রুত এক দিক থেকে আরেক দিকে ঘুরতে পারেন না গত মার্চে গোড়ালির চোটে আক্রান্ত হওয়া মিডফিল্ডার। ব্যথা অনুভব করলেও মাঠে ফিরতে চান বেকহাম। কারণটা শুনুন বেকহামের কণ্ঠেই, ‘আমি এটা করতে চাই, কারণ যত দ্রুত সম্ভব ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে চাই।’ বেকহামের ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার এই উদগ্র ইচ্ছা দুটি কারণে। এমএলএসের শুরুটা ভালো করলেও আপাতত বিপদেই তাঁর দল এলএ গ্যালাক্সি। সর্বশেষ ১০ ম্যাচের মাত্র ৩টিতে জিতেছে তারা। দলকে এই বিপদ থেকে পরিত্রাণ দিতে চান। এদিকে ফিটনেস ফিরে না পেলে ক্যাপেলোর ইংল্যান্ড দলেও যে ডাক পাওয়া হবে না তাঁর।
বিশ্বকাপের পরপরই ক্যাপেলো আরেকবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, বেকহাম আর তাঁর পরিকল্পনায় নেই। ক্যাপেলো সেটা বললেই হবে! চোট, তারপর ক্যাপেলোর ঘোষণা; এত কিছুর পরও যে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাননি বেকহাম। নিশ্চয়ই আবার ফিরতে চান দলে। ইংল্যান্ডের আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ভেঙেছেন। এবার ভাঙতে চান গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (১২৫) খেলার রেকর্ড।
আর এটা তো সবারই জানা, বেকহাম যদি চান তাহলে তিনি সেটা করতেও পারেন! আর আপাতত ইংলিশদের সমর্থনটাও পাচ্ছেন ম্যানইউ ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা। বেকহাম পরিকল্পনায় নেই, এই ঘোষণা দেওয়ার পর চারদিক থেকে সমালোচনা হয়েছে ক্যাপেলোর। এরপর ক্যাপেলো বেকহামকে ফোন করেছিলেন। হয়তো দ্রুত ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পরামর্শই দিয়েছেন ক্যাপেলো।
দেখা যাক, কত দ্রুত ফিটনেস ফিরে পেতে পারেন বেকহাম। কত দ্রুত আবার ফিরতে পারেন ইংল্যান্ড দলে।

মেনে নিয়েছেন লাম

আকস্মিক প্রাপ্তিকে স্বেচ্ছায় ফেরত দিতে কে-ই বা চায়! ফিলিপ লামও জার্মানির অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনীটা স্বেচ্ছায় দিতে চাননি। তাই বলে তিনি এই পদটার জন্য ‘লালায়িত’ নন। তাই কোচ জোয়াকিম লো মাইকেল বালাক দলে ফিরলে অধিনায়কত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলাতে তিনি কিছু মনে করেননি। কোনো উচ্চবাচ্য ছাড়াই কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন জার্মানির ডিফেন্ডার।
বিশ্বকাপের আগে মাইকেল বালাকের হঠাৎ চোটই অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরিয়েছিল লামের হাতে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে দলকে যোগ্য নেতৃত্বই দিয়েছেন তিনি। এর চেয়ে বড় কথা হলো অধিনায়কত্বে ‘মজা’ পেয়ে গিয়েছিলেন লাম। তাই বালাক ফিরে এলে কী করবেন প্রশ্নে বারবারই বলে আসছিলেন স্বেচ্ছায় বাহুবন্ধনী খুলে দেবেন না।
লামের এই কথার পথ ধরে এ নিয়ে অনেক দিন চলল আলোচনা। সংবাদমাধ্যমের জন্যও বিষয়টা ভালো এক রসদ হয়েই ছিল। কখনো বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার বালাকের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন, কখনো আবার লামের পাশে দাঁড়িয়ে বিতর্ক উসকে দেন কোচ জোয়াকিম লো। এই লোই আবার কদিন আগে জল ঢেলে দিলেন সব আলোচনায়। সাফ জানিয়ে দিলেন—মাইকেল বালাক চোট সেরে দলে ফিরলে ফিরে পাবেন অধিনায়কের বাহুবন্ধনী।
বালাককে তাঁর বাহুবন্ধনী ফিরিয়ে দিতে হবে, এতে কোনো আক্ষেপ নেই লামের। ব্রাসেলসে ইউরো ২০১২ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তটা মেনে নিতে হবে। এখন আমার কাজ হচ্ছে পরবর্তী দুই ম্যাচে দলকে ভালোভাবে নেতৃত্ব দেওয়া।’
লাম পরের দুই ম্যাচ বলেছেন, কারণ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পরবর্তী দুটি ম্যাচ পরই বালাক দলে ফিরবেন। তবে বালাক ফিরলেও আর বেশি দিন খেলতে পারবেন বলে মনে হয় না। বয়স হয়ে গেছে ৩৪ বছর। ফর্মটাও আগের মতো নেই। আর লামের বয়স এখন ২৬। বালাক অবসর নিলে হয়তো লামের বাহুতেই উঠবে অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী।

ফেদেরার-শারাপোভার দিনে ক্যাপ্রা

২০০৯ ইউএস ওপেনের অন্যতম ঘটনা ছিল মেলানি ওডিনের উত্থান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে টেনিস-দুনিয়া যাঁকে চিনতই না, সেই ওডিন একের পর এক বিস্ময় উপহার দিয়ে পা রাখেন কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ আটের পথে থামিয়ে দেন চার রাশান পাভলিউচেঙ্কোভা, এলেনা দেমেন্তিয়েভা, মারিয়া শারাপোভা, নাদিয়া পেত্রোভাকে। আরেক ওডিনের সন্ধান দিল এবারের ইউএস ওপেন।
ওডিনেরই বন্ধু বিয়াত্রিস ক্যাপ্রা ২০১০-এর ওডিনের ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে পারবেন কি না বলা দুষ্কর। তবে লাইনআপ তৈরি। গত বছর ওডিন তৃতীয় রাউন্ডে হারিয়েছিলেন শারাপোভাকে। এবার ক্যাপ্রাও সেই তৃতীয় রাউন্ডেই শারাপোভার মুখোমুখি। ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে খেলতে নামা ৩৭১তম র্যাঙ্কধারী ক্যাপ্রার এটাই প্রথম ডব্লুটিএ টুর্নামেন্ট। আর তাতে নেমেই পৌঁছে গেছেন তৃতীয় রাউন্ডে।
প্রথম রাউন্ডে ক্যারোলিনা স্প্রিমের পর পরশু দ্বিতীয় রাউন্ডে হারিয়েছেন ১৮তম বাছাই ফ্রান্সের আরাভানে রেজাইকে। ক্যাপ্রার সঙ্গে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন রজার ফেদেরার, নোভাক জোকোভিচ, ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, মারিয়া শারাপোভা, সভেৎলানা কুজনেৎসভাও।
শারাপোভার সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামার আগে ক্যাপ্রা অনুপ্রেরণা খুঁজছেন এক বছর আগে বন্ধু ওডিনের সেই ম্যাচ থেকে। অষ্টাদশী ক্যাপ্রা কোর্টের পারফরম্যান্সে খুই উচ্ছ্বসিত।
খুশি রজার ফেদেরারও। দ্বিতীয় রাউন্ডে ১০৪তম র্যাঙ্কধারী জার্মানির আন্দ্রেয়াস বেককে হারিয়ে ইউএস ওপেনের ষষ্ঠ শিরোপা এবং টানা সপ্তম ফাইনালের পথে ফেদেরার এগিয়ে গেলেন আরেক ধাপ। এক ঘণ্টা ৪১ মিনিটের লড়াইয়ে জিতেছেন সরাসরি ৬-৩, ৬-৪, ৬-৩ গেমে। নিজের পারফরম্যান্সকে ফেদেরার বলছেন ‘নিখুঁত’।
নিজের পারফরম্যান্সকে ‘নিখুঁত’ বলছেন মহিলা এককের শীর্ষ বাছাই ক্যারোলিনা ওজনিয়াকিও। ‘নিখুঁত’ তিনি বলতে পারেন, কারণ প্রথম রাউন্ডে ৬-১, ৬-১ গেমে জয়ের পর দ্বিতীয় রাউন্ডে জিতলেন আরও সহজে। দুই সেটের ম্যাচে তাইওয়ানের প্রতিপক্ষ চ্যাং কাই-চেনকে কোনো গেমই জিততে দেননি প্রথমবারের মতো শীর্ষ বাছাই হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম খেলতে নামা ড্যানিশ-কন্যা। ৪৭ মিনিটেই তুলে নিয়েছেন ৬-০, ৬-০ গেমের জয়।
কষ্টে প্রথম রাউন্ড পেরিয়ে আসা শারাপোভার এবারের জয় অনেকটাই আয়েশি ঢঙে। চেক প্রজাতন্ত্রের আইভেতা বেনেসোভাকে হারিয়েছেন ৬-১, ৬-২ গেমে। জোকোভিচের জয় ঠিক উল্টো পথে, ঘাম ঝরিয়ে। জার্মানির ফিলিপ পেটশনারকে হারিয়েছেন ৭-৫, ৬-৩, ৭-৬ (৮-৬) গেমে, ২০০৪-এর চ্যাম্পিয়ন কুজনেৎসভা লাটভিয়ার আনাস্তাসিয়া সেভাতসোভাকে হারিয়েছেন ৬-২, ৬-৩ গেমে।

আমির আসিফ বাটকে বহিষ্কার

স্পট-ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে একরকম মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেল আইসিসি আর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আগের দিন অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ ও সালমান বাটকে ‘মানসিক নির্যাতন’ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ‘বিশ্রাম’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল পিসিবি। কিন্তু আইসিসি স্বউদ্যোগে তিনজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করল। দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আওতায় এই প্রথম আইসিসি এমন শাস্তি দিল। এদিকে এই ঘটনার পর আইসিসি ও পিসিবির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বরাবরের মতো পাকিস্তান নিরপেক্ষ অবস্থানে না থেকে অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পুরো ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র, এমনকি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর হাত আছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এরই মধ্যে এগিয়ে চলছে তদন্ত।
বলতে পারেন আইসিসি পরশু একরকম ইতিহাসই গড়ল। ‘অথর্ব’, ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’—ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটির নামে দুর্মুখেরা এমন সব অভিযোগ তোলে। সত্যি বলতে কি, ‘অভিভাবক’ হিসেবে আইসিসিকেও আগে কখনোই খুব একটা কড়া ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। কিন্তু ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে সর্বশেষ যে সংকট, তাতে বেশ সক্রিয়ই দেখা যাচ্ছে তাদের। পরশু অভিযুক্ত তিন পাকিস্তান ক্রিকেটারকে তো সাময়িক নিষেধাজ্ঞাই দিল আইসিসি।
সংস্থাটি তার নাতিদীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম এমন কোনো উদ্যোগ নিল, যে উদ্যোগকে ক্রিকইনফো বলছে ‘অভূতপূর্ব’। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী সংশোধিত নীতিমালা অবশ্য গত অক্টোবরে কার্যকর হয়েছিল। তাতে সব সদস্যই ভোট দিয়েছেন। এই নীতিমালায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ আর সালমান বাটকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। এই তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আইসিসি জানিয়েছে, নীতিমালার ২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই তিনজনের বিরুদ্ধে ‘একাধিক অভিযোগ’ আনা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগগুলো কী কী তা জানানো হয়নি।
‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার—ক্রিকেটে কোনো ধরনের দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না। এসব ক্ষেত্রে আমাদের কঠোর হতে হবে। আর অপরাধ যদি প্রমাণিত হয় তা হলে দেওয়া হবে কঠোর শাস্তি, সেটি আজীবন নিষেধাজ্ঞাও হতে পারে’—আইসিসির অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত।
১৪ দিনের মধ্যে এই তিন ক্রিকেটার তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আইসিসিকে জবাব দিতে পারবেন। অবশ্য এরই মধ্যে পাকিস্তান সরব হয়েছে। পরশুই এই তিন ক্রিকেটারকে পাকিস্তান সফরের বাকি সাতটি ম্যাচের দল থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। আইসিসির চাপেই তা করা হয়েছিল বলে খবর এসেছিল। এর পরপরই আইসিসিও নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে তিন ক্রিকেটারকে বহিষ্কার করল।
এটাই পছন্দ হচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। ধারণা করা হচ্ছে, আগের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত লন্ডনে পিসিবি প্রধান ইজাজ বাটের সঙ্গে লরগাতের বৈঠকে পাকিস্তান অনেক চাপাচাপির পর রাজি হয়েছিল তিন ক্রিকেটারকে সিরিজ থেকে সরিয়ে নিতে। আইসিসি যদি তাদের বহিষ্কারই করবে, তা হলে আর তিন ক্রিকেটারকে ‘বিশ্রামের’ কথা বলে সরিয়ে নেওয়ার কোনো দরকার ছিল না।
পিসিবির মুখপাত্র হয়ে ওঠা ব্রিটেনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ওয়াজিদ সামসুল হাসান তো পাকিস্তানকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর কারণে আইসিসির বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন। সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে হাসান বলেছেন, ‘ক্রিকেটাররা আমার কাছে এসে অনুরোধ করেছিল সিরিজের বাকি অংশটুকুতে তাদের যেন আর রাখা না হয়। কারণ তারা আগে এই অভিযোগ থেকে নিজের নাম মুক্ত করতে চায়। আমি সেটি পিসিবির কাছে জানিয়ে ছিলাম। এরই মধ্যে হুট করে আইসিসি এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বসল।’
হাসান ষড়যন্ত্রের আঙুল তুলেছেন আইসিসি সভাপতি শারদ পাওয়ারের দিকেও, ‘লরগাতকে আমি খেলোয়াড়দের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলাম। সেটা শুনে ইসিবি চেয়ারম্যান জাইলস ক্লার্কও সন্তুষ্টির কথা বলেছিলেন। এরই মধ্যে লরগাতকে আমি পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছি। তাঁদের মধ্যে কী কথা হয়েছে জানি না। কিন্তু এরপর তিনি আমার অফিস ছেড়ে চলে যান খেলোয়াড়দের পাঠানোর জন্য পাঁচ পাতার নোটিশ তৈরি করতে। তিনি আমাকে তখনই সামনাসামনি বলতে পারতেন আইসিসি এমন নোটিশ পাঠাতে যাচ্ছে। এখান থেকেই পরিষ্কার আইসিসি কতটা দুর্বল।’
একটা তদন্ত চলার মাঝপথে কোনো শাস্তি দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন হাসান। আইসিসির এই উদ্যোগকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের সামনে মামলা করার বিকল্প থাকল। এবং আমরা গুরুত্বের সঙ্গেই তা বিবেচনা করছি।’ আইসিসি অবশ্য হাসানের এমন দাবি অস্বীকার করে বলেছে, পিসিবি জানত, আইসিসি এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে।
পাল্টাপাল্টি এমন অভিযোগের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের তদন্ত। কাল আরেক দফা ক্রিকেটারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হচ্ছে না। তবে ইংলিশ দৈনিকে ছাপা হয়েছে, সালমান বাটের হোটেল রুম থেকে পুলিশের জব্দ করা ৫০ হাজার পাউন্ডের সঙ্গে নাকি মিলে গেছে ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছ থেকে নেওয়া মাজহার মাজিদের টাকার ক্রমিক নম্বর।

তাজিকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১

তাজিকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে গতকাল শুক্রবার একটি থানায় আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও কমপক্ষে ২৫ পুলিশ আহত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্রে এ কথা জানা যায়।
রাজধানী দুসানবের প্রায় ২১১ মাইল উত্তরে ও উজবেকিস্তান সীমান্তের কাছে খুজান্দ এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়। আফগানিস্তানের সঙ্গে তাজিকিস্তানের ৮৩২ মাইল সীমান্ত রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি উজবেক জঙ্গিগোষ্ঠী এই হামলার পেছনে থাকতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা এই হামলা চালিয়েছে, তারা খুব সম্ভবত ইসলামিস্ট মুভমেন্ট অব উজবেকিস্তানের (আইএমইউ) সদস্য।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ভবনের ভেতরে কিছু লোক রয়েছে এবং ভবনটি এখনো জ্বলছে। সূত্র আরও জানায়, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহে তাজিক প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান বিদেশের ধর্মীয় স্কুল থেকে নিজেদের সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাবা-মায়েদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তা না হলে তারা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে দেশে ফিরতে পারে।
২০০৫ সালের জানুয়ারিতে দেশটিতে প্রথম আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ওই সময় রাজধানী দুসানবেতে এক আত্মঘাতী হামলায় হামলাকারী নিহত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন।
গত মাসে খুজান্দে নিষিদ্ধঘোষিত একটি ইসলামি সংগঠনের ১০ অনুসারীকে তিন থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মেক্সিকোতে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ২৭

মেক্সিকোতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় মাদক চক্রের ২৭ জন সন্দেহভাজন সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে দুজন সেনাসদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তসংলগ্ন তামাউলিপাস অঙ্গরাজ্যে মাদক চোরাকারবারিদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত চিউদাদ মিয়ার শহরে গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক হেলিকপ্টার নিয়ে টহল দেওয়ার সময় একটি ভবনের বাইরে কিছু লোককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সেনাবাহিনীর সন্দেহ হলে তারা ওই ভবনটি ঘিরে ফেলে। তারা ভবনের দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বন্দুকধারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।
কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁদের অভিযানে যে ২৭ জন নিহত হয়েছে তারা সবাই শক্তিশালী মাদক চক্রের সদস্য। ওই ভবন থেকে ২৫টি আধুনিক রাইফেল, চারটি গ্রেনেড, চার হাজারটি গুলি ও ২৩টি যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি যান সেনাবাহিনীর গাড়ির মতো রং করা ছিল। সেনাবাহিনী বলেছে, মাদক পাচারকারী চক্র তিন ব্যক্তিকে অপহরণ করে ওই ভবনে তাদের আটকে রেখেছিল। এ অভিযানে ওই তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, নিহত বন্দুকধারীরা কুখ্যাত জিটাস মাদক চক্রের সদস্য বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে জিটাস গ্রুপ তাদের প্রতিপক্ষ গালফ গ্রুপের সঙ্গে প্রায়ই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে যত মাদক পাচার হয় তার বেশির ভাগই যায় ওই এলাকার সীমান্ত দিয়ে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ ক্যালডেরন ক্ষমতায় আসার পর সেখানকার মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে। ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত মেক্সিকোতে মাদকসংক্রান্ত সংঘর্ষে প্রায় ২৭ হাজার লোক নিহত হয়েছে। সেনা অভিযান এবং চক্রগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এত বিপুলসংখ্যক লোক নিহত হয়।
প্রেসিডেন্ট ফিলিপ ক্যালডেরন বলেছেন, মাদক চক্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ হোতাদের পাকড়াও অথবা হত্যা করার পর তারা ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেছেন, মেক্সিকোকে এসব চক্রের হাত থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বিশেষ বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘ

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ বিশেষ বৈঠক ডেকেছে। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এ কথা জানায়।
সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিস্টোফার ম্যাথিউস জানান, খাদ্য-সংকটের কারণে দুই বছর আগে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা হয়েছে। সে রকম অবস্থা আবার হতে পারে—সদস্য দেশগুলোর এমন আশঙ্কা প্রকাশ করায় এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ইতালির রাজধানী রোমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
রাশিয়া গম রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর গত দুই মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম পাঁচ শতাংশ বেড়েছে । গত সপ্তাহে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়াকে কেন্দ্র করে মোজাম্বিকে ব্যাপক দাঙ্গা হয়েছে। এ ছাড়া মিসর, রাশিয়া ও পাকিস্তানে ব্যাপক গণ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাপান

পরমাণু কমসূচি বন্ধে ইরানকে বাধ্য করতে তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাপান। গত মাসে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাপানের মন্ত্রিপরিষদের প্রধান সচিব ইয়োশিতো সেঙ্গোকু এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধে ও পরমাণু কর্মকাণ্ড থেকে ইরানকে বিরত রাখতে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি।’
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের কয়েকটি ব্যাংক ও সে দেশে জ্বালানি-সংক্রান্ত বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ হবে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির অর্থ জব্দ করার কথা বলা হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞায়।
ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্যতম বড় আমদানিকারক জাপান। কিন্তু নতুন নিষেধাজ্ঞায় তেল রপ্তানির ওপর কোনো বাধানিষেধ আরোপ করা হয়নি।
সচিব আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এ জন্য আমরা চাইছি তারা সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসুক।’
যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের বিশেষত পশ্চিমাদের ধারণা, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, পরমাণু জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যেই তাদের পরমাণু কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ লেবাননের

লেবানন অভিযোগ করেছে, তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং সেক্টরে ইসরায়েল গুপ্তচর নিয়োগ করেছে। জাতিসংঘের কাছে এ অভিযোগ করে ১৪১ জন সন্দেহভাজন গুপ্তচরের একটি তালিকা দিয়েছে লেবানন। একজন কূটনীতিক গতকাল শুক্রবার এ কথা জানান।
ওই কূটনীতিক বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও সেক্টরে বিশেষত জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক নিরাপত্তা এবং টেলিযোগাযোগ নিরাপত্তা সেক্টরে ইসরায়েল গুপ্তচর চক্র নিয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছে লেবানন। তিনি জানান, লেবানন সরকার চাইছে, আগামী মাসে জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে তাদের অভিযোগের বিষয়টি আলোচনায় তোলা হোক।
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে লেবাননে গত এপ্রিল থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে টেলিযোগাযোগ কর্মকর্তা, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেনাসদস্যও রয়েছেন। ২০০৬ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সিনাবাংয়ে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সিনাবাং আগ্নেয়গিরি থেকে গতকাল শুক্রবার ৪০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। কিন্তু অগ্ন্যুৎপাত সত্ত্বেও গ্রামের অনেক মানুষ এখনো আগ্নেয়গিরি এলাকায় অবস্থান করছে।
কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন সুপ্ত থাকার পর গত রোববার আগ্নেয়গিরিটি জেগে ওঠে। গতকাল সেখান থেকে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ আগুস বুদিয়ানতো জানান, ভোর চারটা ৩৮ মিনিটের দিকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়, যার স্থায়িত্ব ছিল ১৩ মিনিট। এ সময় আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গীরিত ছাই প্রায় তিন হাজার মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে যায়। তিনি জানান, এটাই মাউন্ট সিনাবাং থেকে সবচেয়ে বড় উদিগরণের ঘটনা।
আগ্নেয়গিরির আশপাশের ছয় কিলোমিটার বিপজ্জনক এলাকা থেকে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে পুলিশ। কিন্তু কিছু মানুষ এলাকা ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে অগ্নুৎপাতের ভয়াবহতা শেষ হয়ে গেছে—এই ধারণা থেকে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেকে বাড়িতে ফিরে আসে।
সেনিওয়াতি সেমবিরিং (২৫) নামের এক কিষানি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরিবর্তে দুই বছর বয়সী ছেলে ও স্বামীসহ বাড়িতে অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এই কিষানি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে, এতে আমার জীবন হুমকির মুখে পড়বে। আগ্নেয়গিরি থেকে শুধু ছাই উদিগরণ হচ্ছে এবং এতে কোনো বিষাক্ত গ্যাস নেই।’ তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
তবে সেনিওয়াতি সেমবিরিং স্বীকার করেছেন, আগ্নেয়গিরির গর্জনের কারণে তাঁদের নির্ঘুম রাত কেটেছে। তিনি বলেন, ‘রাতের অধিকাংশ সময় আমি জেগে ছিলাম। ভোরে আগ্নেয়গিরির গুড়ুম গুড়ুম শব্দ শোনার পর পরিস্থিতি বোঝার জন্য স্বামীসহ ঘর থেকে বের হই। কিন্তু আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদিগরণ হয়নি।’
এই কিষানির স্বামী সুরিয়া সিতেপু বলেন, পরিস্থিতি বুঝে মোটরসাইকেলে করে পালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কংগ্রেসের সভাপতি হলেন সোনিয়া

ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। গতকাল শুক্রবার তিনি টানা চতুর্থবারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে এক বক্তব্যে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘এটা অনেক বড় দায়িত্ব। আমি কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি, সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করে যাব।’
৬৪ বছর বয়সী সোনিয়া ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের ১২৫ বছরের ইতিহাসে সোনিয়াই একমাত্র নেতা, যিনি টানা চতুর্থবারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন।
১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন সোনিয়া। ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে রাজীব গান্ধীকে বিয়ে করে ভারতে আসেন তিনি। ১৯৯১ সালে তাঁর স্বামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী তামিল গেরিলাদের হাতে নিহত হন। তখন নেতা-কর্মীরা তাঁকে দলের হাল ধরতে অনুরোধ জানালেও তিনি সাড়া দেননি। পরে ১৯৯৭ সালে কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। পরের বছরই তিনি দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বেই কংগ্রেস ২০০৪ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে ভারত শাসন করছে। নির্বাচনে জয়লাভের পর দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রবল আগ্রহ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী হননি সোনিয়া। বিরোধীরা সোনিয়াকে ‘বিদেশি’ বলে রাজনৈতিক সুযোগ নিতে পারে বলে নেতা-কর্মীদের অনুরোধ সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কংগ্রেস তথা ভারতের রাজনীতিতে অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি সোনিয়া গান্ধী।

ভারতে খাদ্যশস্য কম মূল্যে গরিবদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত

সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশের পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্য পচতে না দিয়ে বরং এর মধ্য থেকে ২৫ লাখ টন চাল ও গম গরিবদের কাছে কিলোপ্রতি দুই রুপিতে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়।
সুপ্রিম কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ গত মঙ্গলবার এক নির্দেশে বলেছিলেন, ভারতের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে রক্ষিত খাদ্যশস্য না পচিয়ে বরং তা বিনামূল্যে গরিবদের মধ্যে বিলি করা হোক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়।
একটি জনস্বার্থ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দলবীর ভান্ডারি ও বিচারপতি দীপক ভার্মার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গত ২৭ জুলাই এক নির্দেশে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। খাদ্যগুদামের সংখ্যা বাড়িয়ে খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করতে হবে। কোনোক্রমে খাদ্যশস্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ভারতের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী বিপিএল শ্রেণীভুক্ত গরিব মানুষের মধ্যে খাদ্যশস্য বিলিয়ে দিতে হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভারতে সরকারি খাদ্যগুদামে ছয় কোটি ৮৬ লাখ রুপি মূল্যের ১১ হাজার ৭০০ টনের বেশি খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে এক কোটি ৭৪ লাখ টন চাল ও গম বিভিন্ন রাজ্যে গুদামের অভাবে ত্রিপলে ঢাকা অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে এক কোটি টন খাদ্যশস্য পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শান্তি আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সরাসরি বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ইরান বলেছে, বরাবরের মতো এবারের শান্তি আলোচনাও ভেস্তে যাবে।
শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রতিনিধি জর্জ মিশেল বলেন, দুই নেতার মধ্যে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস উভয়েই দুই সপ্তাহ পরপর মুখোমুখি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন। আলোচনা শুরুর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ওই দুই নেতাকে বলেন, তাঁদের সামনে সংঘাত অবসানের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ভূখণ্ড নির্ধারণ, নিরাপত্তা, জেরুজালেম, শরণার্থী ও বসতি স্থাপনসহ অন্যান্য বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো এ আলোচনার মূল লক্ষ্য।
নেতানিয়াহু বলেন, মতৈক্যে আসা খুব সহজ হবে না। সত্যিকারের একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপ্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হলে উভয় পক্ষকেই বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে। প্রথম দিনের আলোচনায় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি গড়ে তোলা বন্ধ করতে এবং গাজার সীমানা ঘিরে ইসরায়েলের বানানো দেয়াল সরিয়ে ফেলার দাবি তোলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দুই নেতার আলোচনার সূচনা করেন। তিনি উভয় পক্ষকে মতৈক্যে পৌঁছানোর জন্য এক বছর সময় বেঁধে দিয়েছেন।
ফিলিস্তিনিদের মুক্তি সংগ্রামের প্রতি সংহতি পালনের বার্ষিকী ‘আল কুদস্ দিবস’ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেন, যাঁরা (যুক্তরাষ্ট্র) মধ্যপ্রাচ্য সংকট তৈরি করেছে, তাদের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনার মাধ্যমে শান্তি আসতে পারে না। তিনি বলেন, বরাবরের মতো এ বৈঠকও ব্যর্থ হবে।
আহমাদিনেজাদ বলেন, একমাত্র সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ফিলিস্তিনের মুক্তি সম্ভব। এ জন্য সব ফিলিস্তিনিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের আছে। আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘এ অঞ্চলের নেতাদের সাহসে যদি না কুলোয়, তাহলে এখানকার সাধারণ মানুষই ইহুদি রাষ্ট্রটিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

মেক্সিকো উপসাগরে আরেকটি তেল উত্তোলন রিগে বিস্ফোরণ

মেক্সিকো উপসাগরে গতকাল শুক্রবার আরেকটি তেল উত্তোলন রিগে বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল কোম্পানি ম্যারিনার এনার্জির নিয়ন্ত্রণাধীন ওই তেলক্ষেত্রের অবস্থান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) নিয়ন্ত্রণাধীন দুর্ঘটনাকবলিত তেলক্ষেত্রটির কাছে। গতকালের এই বিস্ফোরণে প্রাথমিকভাবে তেল ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই রিগের মালিকানাধীন ম্যারিনার এনার্জি জানায়, বিস্ফোরণের সময় সেখানে অবস্থানকারী ১৩ জন ক্রু সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়ায় তাঁরা বেঁচে গেছেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণের পুরো দায়ভার নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণের পর কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে আগুন জ্বলেছে। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সমালোচকেরা বলছেন, গত এপ্রিলে বিপির তেলক্ষেত্র দুর্ঘটনা থেকে আসলে কেউ শিক্ষা নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে ওই রিগে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর তিনটি অঙ্গরাজ্যথেকে সাতটি হেলিকপ্টার, দুটি উড়োজাহাজ ও তিনটি নৌযান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন পিটার থ্রোয়েডসন বলেন, ‘আগুন নেভানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা কর্মীরা তেল ছড়িয়ে পড়ার কোনো আলামত দেখতে পাননি। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’
ম্যারিনার এনার্জির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থাপনাটিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছিল। বিস্ফোরণের সময় সেখানে তেল বা গ্যাস উত্তোলন বন্ধ ছিল। তেলক্ষেত্রটি থেকে গ্যাস ও তেল উত্তোলন করা হয়।
ব্যয় ৮০০ কোটি ডলার: ব্রিটিশ তেল কোম্পানি (বিপি) জানিয়েছে, মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্র দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত তাদের ৮০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। গতকাল কোম্পানির এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাভাস দিয়েছে, এই দুর্ঘটনা মোকাবিলায় তাদের খরচ শেষ পর্যন্ত তিন হাজার ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক হিসাবে কোম্পানিটির এক হাজার ৬৯০ কোটি ডলার লোকসান গুনতে হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে স্থাপিত একটি বড় ছিপি তাঁরা তুলে নিচ্ছেন। তেলক্ষেত্রটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

ভারতের ৮ রাজ্যে মাওবাদীদের ৪৮ ঘণ্টা বনধের ডাক

ভারতে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় নেতা ও দলের মুখপাত্র চেরুকুরি রাজকুমার ওরফে আজাদ হত্যার প্রতিবাদে আটটি রাজ্যে আবারও ৪৮ ঘণ্টার একটানা বনধ ডেকেছে মাওবাদীরা। ১৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) এ বনধ শুরু হবে, শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর।
জানা গেছে, মাওবাদী অধ্যুষিত ছয়টি রাজ্য এবং মহারাষ্ট্রের তিনটি জেলা ও মধ্য প্রদেশের একটি জেলায় এই বনধ আহ্বান করা হয়েছে। মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্য ছয়টি হলো অন্ধ্র প্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ। আজ শনিবার কিষেনজির পক্ষে মাওবাদী নেতা রাজু টেলিফোনে সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজু অভিযোগ করেছেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই, অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কোন্নিজিতি রোসাইয়া ও পুলিশের মহানির্দেশক গিরীশ কুমার আজাদ হত্যার জন্য দায়ী। আর এই হত্যার রহস্য তদন্তের দাবিতেই আমরা ৪৮ ঘণ্টার বনধ আহ্বান করেছি।’
মাওবাদীরা চিদাম্বরমের ইস্তফা দাবি করেন এবং তিন সাবেক বিচারপতির সমন্বয়ে আজাদের হত্যা রহস্য তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান।