Tuesday, August 16, 2011

বাংলা ঋতু-মাসের নামবিচার by সাইমন জাকারিয়া

বাংলার প্রধান প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ছয় ঋতু আর ১২ মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলার গ্রামীণ মানুষের ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সন্ধানে তাই বারবার এ দেশের ষড়ঋতু ও বাংলা মাসের ওপর নির্ভর থাকতে বাধ্য হয়েছি। সম্ভবত সেই সূত্রেই একদিন আচম্বিতে অন্বেষণ করি বাংলা ঋতু-মাসের নামবিচার। বর্তমান প্রবন্ধে মুখরা তথা মৌখিকভাবে প্রাপ্ত সেই অর্জিত অন্বেষণের সঙ্গে প্রামাণ্য তথা আভিধানিক পাঠের একটি তুলনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করা হলো। প্রথমেই বলা যাক বাংলা ‘ঋতু’ শব্দটি সম্পর্কে। গ্রামীণ মানুষের মুখে শুনেছি, ‘রত’ থেকে ঋতু কথাটির উদ্ভব। তাঁদের মুখেই শুনেছি, ‘দুই দুই মাস নিয়ে এক এক পর্ব রত বলে দুই মাসে এক ঋতু।’ প্রখ্যাত বাংলা অভিধান-প্রণেতা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষ-এ ঋতু শব্দটির অর্থ প্রদান করেছেন এভাবে, ‘পর্য্যায়গামী, বৎসরের ষড়ভাগের মাসদ্বয়াত্মক ভাগ—গ্রীষ্মাদি কাল’।

যেভাবে মায়ের মন জয় করল বাবা by গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস

মার মা ডাঙ্গর হয়েছে নিরানন্দ দুর্দশার মধ্যে। ওর শৈশব ছিল ম্যালেরিয়া জ্বরের উপদ্রবে দিশেহারা। অবশ্য একবার রেহাই পাওয়ার পর সে পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। ওর স্বাস্থ্য কংক্রিট-ঢালাই হয়ে গেল এরপর। নিজের ৯৫তম জন্মদিন যখন সে উদ্যাপন করছে, ওর সঙ্গে তখন নিজের এগারোটি সন্তান, স্বামীর পক্ষের আরও চারজন, নাতি একুনে ৬৬ জন, পুতি ৭৩ জন, পুতির ঘরের ছানা সবে পাঁচ। যাদের কথা কেউ জানে না তাদের হিসাবে ধরা হয়নি। আমার মার নাম ছিল লুইসা সান্তিয়াগো। কলোনেল নিকোলাস মার্কেস ও তার স্ত্রী ইগুআরন কোটসের তৃতীয় কন্যা। ইগুআরনকে আমরা ডাকতাম মিনা। ১৯০৫ সালের ২৫ জুলাই মার জন্ম হলো রানশেরফা নদীর ধারে, কলাম্বিয়ার বারানকাস শহরে। তখন সবে গৃহযুদ্ধের দাপুনি নিভে আসছে।

মানিক পীরের গান by সৈয়দ জামিল আহমেদ

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গকে পৃথক করে চলে যাওয়া সীমান্ত অঞ্চলের চারপাশে মানিক পীরের প্রশংসামূলক পরিবেশনা প্রচলিত আছে। এসব পরিবেশনার বিষয় মূলত মানিক পীরের কেরামতি। তাঁর কেরামতি নানা রকম। প্রজননের স্বাভাবিক নিয়মে তাঁর জন্ম হয়নি, তিনি জন্মেছেন ফুল থেকে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কেরামতি হলো: তিনি অন্ধের চোখে আলো দেন, বন্ধ্যা নারীকে দেন সন্তান, তিনি পশুপাখির প্রাণ ফেরাতে পারেন, মৃত মানুষকে পুনরায় জীবনদানের অলৌকিক ক্ষমতাও তাঁর আছে। সর্বোপরি, তিনি সব রকম বালা-মুসিবত দূর করতে পারেন। নিদানকালে, যখন অন্য সব উপায় নিষ্ফল হয়ে যায়, তখন অগুনতি ভক্ত মানিক পীরের দরবারে মানত করেন।

দরপতনে সপ্তাহ শুরু পুঁজিবাজারে

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস আজ রোববার পুঁজিবাজারে শুরুটা ভালো হলেও শেষটা ভালো হয়নি। চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জে। উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে আজ সূচক ও লেনদেন কমেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর থেকে সূচক কমতে থাকে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪০.৫৬ পয়েন্ট কমে ৬১৭২.৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে আজ ৪৩৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ৯৬ কোটি টাকা কম।
আজ হাতবদল হওয়া ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬০টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১৮৪টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
খাত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আজ ব্যাংকিং খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টির দাম কমেছে। এ ছাড়া প্রকৌশল খাতের ২৩টির মধ্যে ১৬টির, অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২১টির মধ্যে ১৫টির, জ্বালানি খাতের ১৩টির মধ্যে ১১টির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ৩৪টির, বিবিধ খাতের ৯টির মধ্যে আটটির, ওষুধ খাতের ২০টির মধ্যে ১২টির, বস্ত্র খাতের ২৪টির মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে। টেলিযোগাযোগ খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের শেয়ারের দামও আজ কমেছে।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড এয়ার, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এমআই সিমেন্ট, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, গ্রামীণফোন, আরএন স্পিনিং, এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও কেয়া কসমেটিকস।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ৮৯.৮৪ পয়েন্ট কমে ১৭৬৪৭.৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ১৪২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৪৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১১ কোটি টাকা কম।

থমকে আছে ফ্রান্সের অর্থনীতি

ফ্রান্সের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। গত জুনে দেশটির মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) রেকর্ড করা হয়েছে শূন্য শতাংশ। অভ্যন্তরীণ খাতে ফরাসিদের ব্যয় সংকোচনের কারণেই মোট দেশজ উত্পাদনের এই অবস্থা বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৮ভুক্ত ফ্রান্সের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। এ প্রান্তিকে ফ্রান্সে অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমেছে শূন্য দশমিক সাত শতাংশ। অথচ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকেরা অভ্যন্তরীণ ব্যয় বরং শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
ফ্রান্সের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ফ্রান্সকে দুই শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে অর্থবছরের উভয়ার্ধেই অভ্যন্তরীণ ব্যয় খাতকে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে—যেটা এই মুহূর্তে অসম্ভবই বলা চলে।
ব্যাংক অব ফ্রান্স বলছে, এই মুহূর্তে এই খাতে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।
ব্রিটেনভিত্তিক একটি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানের একজন বিশেষজ্ঞ অবশ্য বলেছেন, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ ব্যয় খাতে প্রবৃদ্ধির এই পতন স্বাভাবিক। কারণ, প্রথম দুই প্রান্তিকে দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যয় খাত বাম্পার প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছিল। অর্থনীতির সমীকরণ মেনেই তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। তিনি আরও বলেছেন, তবে এমন পরিস্থিতিতে যে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেটাতে একটু ঘাটতিই লক্ষ করা যাচ্ছে।

শিক্ষক হত্যা

প্রকাশ্যে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক শিক্ষককে। তাঁর ‘অপরাধ’, জনকল্যাণ করা। বর্ষায় বিদ্যালয়ের সামনের কাঁচা রাস্তাটি বাঁচাতে ট্রাক্টর চলাচলে বারণ করেছিলেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মানুষের ভালো করার জন্য যাঁর প্রাণ যায়, তিনি মহৎ। কিন্তু যারা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তারা কেমন নিকৃষ্ট? দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের আর কোনো প্রতিদান হতে পারে না।
বর্ষায় রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিজেই উদ্যোগী হয়ে মাটি ভরাট করে তা সংস্কার করেন শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন। এতে বিদ্যালয়গামী ছেলেমেয়েসহ গ্রামবাসীর দুর্ভোগও কিছুটা কমে। সেই রাস্তাটি আবারও নষ্ট হতে বসেছে অবিরত ট্রাক্টর চলাচলের কারণে। সিরাজ উদ্দিন ট্রাক্টরচালকদের বিরত করতে চেয়েছিলেন। তাদের বলেছিলেন, ট্রাক্টর চালানোর উপযোগী পাকা রাস্তাটি ব্যবহার করতে। কিন্তু চোরে কোনো দিন কি ধর্মের বাণী শুনেছে? তারা শোনেনি। প্রকাশ্যে রড দিয়ে শিক্ষককে পিটিয়ে তারা তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে। এর আগে নারী-উত্ত্যক্তকারীদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন আরেক শিক্ষক। অন্যায়ই কি তাহলে জয়ী হবে? বিবেকবান মানুষ, ন্যায় ও কল্যাণের জন্য উৎসর্গীকৃত মানুষকে কি এভাবেই মেরে ফেলা হবে? এ কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এই দেশে?
এ রকম ঘটনায় কেবল একজন ভালো মানুষের মৃত্যুই ঘটল না, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে গেল। শুভ কাজ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মতো কাজ এত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা থেকে বোঝা যায়, অন্যায় ও অসহিষ্ণুতার দাপটই বেশি শক্তিশালী। এ রকম অবস্থাতেই প্রতিবাদের চেয়ে, শুভ উদ্যোগের চেয়ে চুপ করে থাকা, সয়ে যাওয়াই হয়ে ওঠে নিরাপত্তার শর্ত। এর দায় সরকারেরও। কারণ, অপরাধীরা সরকারি দলের সমর্থনে অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়; তৈরি হয় বিচারহীনতার সংস্কৃতি।
নরসিংদীর শিক্ষক হত্যাকারীদের আটক করা হোক। তাদের বিচার হোক। একই সঙ্গে নিহত শিক্ষকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করাও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব।

রোজা আত্মশুদ্ধির বলিষ্ঠ হাতিয়ার by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা বা রোজাব্রত পালন মানব জীবনকে পূতপবিত্র ও সুন্দরতর করে গড়ে তোলার একটি অত্যন্ত কার্যকরী পন্থা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার পরিহার করে রমজান মাসে মানুষ যে একটানা সংযম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধি লাভ করে, তার চূড়ান্ত ফল মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি ও অপার করুণা দৃষ্টি।
মানুষের আত্মশুদ্ধির একটি বলিষ্ঠ হাতিয়ার সিয়াম পালন বা রোজা। বিশেষত, মাহে রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মানুষ তার পাশবিক প্রবৃত্তিকে সংযত এবং আত্মিক শক্তিকে জাগ্রত ও বিকশিত করে তোলার পরিপূর্ণ সুযোগ লাভ করে। মানুষের মনের মধ্যে যে পশুস্ব্বভাব রয়েছে তা তার আত্মিক উন্নতির পথে বাধার সৃষ্টি করে থাকে। মানুষ যখন তার পশুস্বভাবের ওপর আত্মিক ও বিবেকের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তখনই সে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়। পশুস্ব্বভাব কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও আত্মসংযমের মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।
কুপ্রবৃত্তির হাতিয়ার বা অস্ত্রকে দুর্বল করে বশে আনার লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা সিয়াম সাধনার অপূর্ব সুযোগ দিয়েছেন। মানুষ যাতে কুপ্রবৃত্তি দমন করে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করতে পারে এবং যাবতীয় অকল্যাণকর কাজ থেকে আত্মরক্ষা করে আল্লাহর রহমতের যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। আত্মাকে সংশোধন, রিপুর লোভ-লালসা থেকে পরিমার্জন ও পরিশোধন করার মাধ্যমেই একজন রোজাদার ব্যক্তি সফলকাম হতে পারেন। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘শপথ আত্মার এবং যিনি তা সুঠাম করেছেন তাঁর, অতঃপর তাঁকে পাপাচারের ও ধার্মিকতার পথ শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং সে সফলকাম, যে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। আর সে ব্যর্থ, যে নিজেকে কলুষিত করে।’ (সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৭-১০)
মাহে রমজানের রোজা আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র উন্নয়নের এক বিশেষ প্রক্রিয়া। সিয়াম সাধনায় শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহারের চেয়ে মনের গতি-প্রকৃতি, কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বই অনেক বেশি। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) সিয়ামকে দেহের জাকাত বলে আখ্যায়িত করেছেন। সিয়াম বা রোজা দ্বারা শরীর, মন ও আত্মা বিধৌত হয়। দেহ যখন সংযমের শাসনের অধীন থাকে, আত্মা তখন সবল হয়ে ওঠে। সত্যকে গ্রহণ ও ধারণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। সিয়াম সাধনায় কৃপ্রবৃত্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। মানুষের মধ্যে লুকায়িত পাশবিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।
আত্মা মানুষকে পাপাচারের দিকে পথনির্দেশনা দেয়। রোজাদারদের স্বীয় আত্মাকে সৎপথে পরিচালিত করার দ্বারা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ হবে। অন্তর যদি গুনাহর দিকে আহ্বান করে, তাহলে সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়া যাবে না। মাহে রমজানে সর্বদা হূদয়কে কুচিন্তা-ভাবনা থেকে সংশোধিত রাখতে হবে। মানবাত্মাকে সংশোধন করা হলে ইবাদতে সত্যনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা আসবে। আর এ পরিশুদ্ধিতা লোভ-লালসা, কামনা-বাসনা, রিপুর তাড়না, অপরের সম্পদ আত্মসাৎ, জুলুম-নির্যাতন ও অসামাজিক দুর্বৃত্ততা পরিহার করে ধার্মিকতার পথে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হবে। লৌকিকতা বা প্রদর্শনের ইচ্ছা পরিহার করে আত্মার পরিশুদ্ধি নিয়ে ইবাদতে মনোনিবেশ করা উচিত। জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাকওয়াশীল হওয়া প্রতিটি রোজাদার মুমিন বান্দার জন্যই বাঞ্ছনীয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে সংশোধিত হলো, সে সফলকাম হলো।’ (সূরা আল-আ’লা, আয়াত-১৪)
কুপ্রবৃত্তিগুলো সবল ও সতেজ থাকলে সুপ্রবৃত্তিগুলো মৃতপ্রায় হয়ে যায়। মানুষের ঈমান যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, শয়তান তখন তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে। কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় তখন মানুষ পাপের পথে ধাবিত হয়। তখন পরম দয়ালু আল্লাহ মেহেরবান তাদের আত্মশুদ্ধির দিকনির্দেশনা দেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, বিশুদ্ধ তওবা। হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কর্মগুলো মোচন করে দেবেন।’ (সূরা আত-তাহরিম, আয়াত-৮)
রোজা বা সিয়াম সাধনার চর্চায় মানুষ এক অমিয় সুধা লাভ করে। এতে মানুষ জাগতিক লোভ-লালসা, অতিরিক্ত ধনসম্পদ অর্জনের মারাত্মক ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ পায়। আর অন্তরের বিশুদ্ধতা বা আত্মশুদ্ধির হাতিয়ার রোজা দ্বারাই অর্জিত হয়। মাহে রমজানে আত্মশুদ্ধির বিরাট সুযোগ থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নৈতিক অধঃপতন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক সমস্যা ও গণসচেতনতার অভাব প্রভৃতি সেই আত্মশুদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে সমাজের প্রত্যেক রোজাদার মানুষকে সৎ মনোভাবাপন্ন, নির্লোভ, মহৎ ব্যক্তিত্ববান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
মানুষ যখন কোনো পাপ কাজ বা দোষ-ত্রুটি করে, তখন তার অন্তরে কালিমা বা মরিচা পড়ে। এই পাপের মরিচা থেকে আত্মশুদ্ধি তথা অন্তরকে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার রাখার একমাত্র পন্থা হলো আল্লাহর জিকির। মানুষ যতই আল্লাহর জিকির-আজকার, ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ-রোজা পালন করবে, তার অন্তর থেকে ততই পাপ মুছে যাবে এবং সে পাপমুক্ত হবে। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই (আল্লাহ) তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (সূরা আশ-শূরা, আয়াত-২৫)
মাহে রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে মানবীয় মন্দ স্ব্বভাবগুলো থেকে বিরত থাকা রোজা আদায়ের জন্য শর্তারোপ করা হয়েছে। তাই পবিত্র রমজান মানুষকে এসব মন্দ স্ব্বভাব পরিহার করে সৎ স্ব্বভাব অর্জন করতে শিক্ষা দেয়। রোজাব্রত পালন বা সিয়াম সাধনায় মানুষের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু-সুুন্দর রাখার পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। আর এই কল্ব বা অন্তরের অবস্থানকে পবিত্র, নির্মল তথা পরিশুদ্ধ করার জন্য নামাজের পরই রমজান মাসের রোজার স্থান। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ কাজ করে তা থেকে তওবা করে, সে ব্যক্তি এমনভাবে নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেন সে পাপ কাজ করেনি।’
সুতরাং সিয়াম সাধনায় পাশবিক প্রবৃত্তি যখন দমে যায়, তখন মানবাত্মার তেজ ও প্রাণশক্তি বাড়তে থাকে। রোজার দ্বারা মানুষের আত্মার উন্নতি সাধিত হয়। আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধির কারণে ক্ষুধার জ্বালা রোজাদারকে কাবু করতে পারে না।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

পাকিস্তানে মার্কিন নাগরিক অপহূত

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোরে নিজ বাড়ি থেকে এক মার্কিন নাগরিককে অপহরণ করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।
ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অপহরণের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা শাহজাদা সালিম জানান, অপহূত মার্কিন নাগরিকের নাম জাস্টিন ওয়ার্নার (৬০)। তিনি দেশটির উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় একটি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শাহজাদা সালিম জানান, ওয়ার্নার পাঁচ-ছয় বছর ধরে পাকিস্তানে বাস করছেন। তিনি বেশির ভাগ সময় ইসলামাবাদে থাকলেও সম্প্রতি লাহোর বেড়াতে এসেছিলেন। গতকাল শনিবার ভোররাতে সেহিরর সময় ছয় থেকে আটজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে। পুলিশ বলছে, এ সময় নিরাপত্তারক্ষীরা সেহিরর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন

বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন এবার মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘মুসলিম ভোট ব্যাংক সুরক্ষিত করতে আমায় তো কলকাতা ছাড়া করেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি নির্বাচনে হারলেন কী করে? আশ্চর্য!’
২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর মুসলিম কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। তারপর মাঝেমধ্যে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমতি না মেলায় আর কলকাতায় আসতে পারেননি। এখন স্বেচ্ছা-নির্বাসন কাটাচ্ছেন বিদেশে।
ইসলাম সম্পর্কে বিতর্কিত বই লিখে কট্টপন্থীদের হুমকির মুখে ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তসলিমা বলেছিলেন, পরিবর্তন শুধু শাসকের নামে বা চেহারায় হলে হবে না, আমূল পরিবর্তন আনতে হবে পুরো ব্যবস্থায়। নয়তো পরিবর্তন একটা কথার কথা হিসেবেই রয়ে যাবে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা প্রকাশ দক্ষিণ আফ্রিকার

দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার দেশটির জনগণের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে আগামী বছরের এপ্রিলে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটির ১০টি এলাকায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ১৪ বছরে তা ধাপে ধাপে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যারন মোটসোয়ালেডি বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালুর ক্ষেত্রে প্রথম এই পদক্ষেপ সত্যিই ঐতিহাসিক। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে অসম সমাজের দেশগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকা। এখানে বেসরকারি খাতেই শুধু উন্নত স্বাস্থ্যসেবা মেলে। কিন্তু দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষের বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণের সামর্থ্য নেই। তারা সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভর করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যারন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা (এনএইচআই) ছাড়া চিকিৎসা খরচের চাপ সামলানো সম্ভব নয়। জনগণের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্যই এটা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের ওপর আয় করেন, তাহলে আইনের আওতায় আপনাকে এনএইচআই তহবিলে চাঁদা দিতে হবে। আপনি এই দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।’
গত শুক্রবার এই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করে জনগণের মন্তব্য চাওয়া হয়। আইনে পরিণত হওয়ার আগে পরিকল্পনার খসড়া পার্লামেন্টে তোলা হবে। সেখানে জনগণের মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে সরকারের এই পরিকল্পনায় কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ‘আমি যখন এনএইচআইয়ের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা নেব না, তখন কেন এই তহবিলে চাঁদা দেব?’
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যারন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কাটানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাউথ আফ্রিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নরম্যান মাবাসা বলেন, বেসরকারি চিকিৎসকেরা এনএইচআইয়ের বিরোধিতা করছেন না। কারণ, এটি বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হবে।’
দেশটির ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) প্রাথমিক এক হিসাবে দেখিয়েছে, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় এক হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

সিরিয়ার লাতাকিয়া শহরে ঢুকে পড়েছে সেনাবাহিনী

সিরিয়ার উপকূলীয় লাতাকিয়া শহরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পর সাঁজোয়া যান নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর সেখানে বন্দুকযুদ্ধের শব্দ শোনা গেছে বলে জানায় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ।
ব্রিটেনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, লাতাকিয়া শহরের রামলে এলাকায় প্রায় ২০টি ট্যাংক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী যান পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার সেখানে বিক্ষোভ করে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করলে চারজন নিহত হয়।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদুল রহমান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে।’ শহর থেকে বহু লোক পালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
আবদুল রহমান আরও জানান, লেবনন সীমান্তবর্তী কুসাইর শহরের কাছে বিভিন্ন গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে লোকজনকে আটক করছেন সেনাসদস্যরা। কুসাইর শহরে গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত হয় বলে তিনি জানান।
তবে এসব ঘটনা বা দাবির যথার্থতা নির্ণয়ের তেমন কোনো সুযোগ নেই। কেননা, সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর চরম কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে।

পাকিস্তানে সেনা সদর দপ্তরে হামলার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

২০০৯ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদর দপ্তরে হামলার দায়ে সাবেক এক সেনাসদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন পাকিস্তানের একটি সামরিক আদালত। দোষী সাব্যস্ত ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
২০০৯ সালের অক্টোবরে একদল জঙ্গি রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে হামলা চালায়। ওই সময় জঙ্গিরা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ ৪২ জনকে জিম্মি করে। নয়জন বন্দুকধারী, ১১ জন সেনাসদস্য ও তিনজন জিম্মির নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ওই জিম্মি ঘটনার অবসান হয়।
সেনা সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট এ সামরিক আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সাবেক ওই সেনাসদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে; কারণ তিনি ছিলেন মূল অপরাধী ও জঙ্গি চক্রের নেতা।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক ওই সেনাসদস্যের নাম উসমান। তিনি সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের সদস্য ছিলেন।
২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে ওই হামলার পর বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

নেপালের পোখারায় শ্রেণীকক্ষে মুঠোফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

নেপালের পশ্চিমাঞ্চলীয় পোখারা শহরে স্কুলশিক্ষার্থীদের মিনিস্কার্ট পরা ও মোটরসাইকেলে চড়া এবং শ্রেণীকক্ষে মুঠোফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে শহরের কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, শ্রেণীকক্ষে ও রাস্তায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘শৃঙ্খলা’ ফিরিয়ে আনতেই এই তিন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালায় এবং অতিরিক্ত ফ্যাশনসচেতন এমন শিক্ষার্থীরা ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছে।
পোখারা শহর কর্তৃপক্ষ বলেছে, উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ুয়া ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে মুঠোফোন ব্যবহারের অনুমতি পাবে না। সেই সঙ্গে তারা রাস্তায় মোটরসাইকেলে চড়তে পারবে না।
পোখারায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ‘পাঠদান ও গ্রহণের পরিবেশ’ নির্বিঘ্ন রাখতে শ্রেণীকক্ষে মুঠোফোন ব্যবহার না করার জন্য সরকার স্কুলশিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানায়।
নেপালের অভিভাবকদের একটি সংগঠনের সদস্য হেমরাজ বরাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী হতাহত হয়। এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের মোটরসাইকেলে চড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্মৃতিচারণায় পালিত বার্লিন প্রাচীর নির্মাণের ৫০তম বার্ষিকী

জার্মানির ঐতিহাসিক বার্লিন প্রাচীর নির্মাণের ৫০তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে গতকাল শনিবার। এ উপলক্ষে পূর্ব জার্মানি থেকে দেয়াল পার হয়ে পশ্চিমে যাওয়ার চেষ্টায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে বার্লিন নগরে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।
বার্লিন প্রাচীরের স্থানে নির্মিত একটি গির্জায় এক প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। জার্মান পার্লামেন্টে সব পতাকা রাখা হয় অর্ধনমিত।
রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালে কমিউনিস্টশাসিত পূর্ব জার্মানি ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে বিভক্ত করে রাখে বার্লিন নগরকে। ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট বার্লিন প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছিল পূর্ব জার্মানির সরকার।
দিবসটি উপলক্ষে বার্লিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান ভুল্ফ, চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল ও বার্লিনের মেয়র ক্লাউস ওয়ারাইট। জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয় অনুষ্ঠানটি। নীরবতা পালনের সময় এক মিনিটের জন্য থেমে যায় বাস, ট্রেনসহ বার্লিনের গোটা পরিবহনব্যবস্থা।
প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান ভুল্ফ এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘এই দিনটি স্নায়ুযুদ্ধকালীন সেই অন্ধকার দিনগুলো স্মরণ করার একটি উপলক্ষ। আমরা এখন যেভাবে থাকতে পারছি, তাতে আনন্দিত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। মুক্তির জন্য পূর্ব জার্মানির মানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের প্রতি পশ্চিম জার্মানির মানুষের যে সংহতি ছিল, আমরা তা নিয়ে গর্ব করতে পারি।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পার্লামেন্ট সদস্য জেরি বাজেক বলেন, ‘এ দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইইউকে ধরে রাখতে হবে এবং যেকোনো নতুন বিভক্তি পরিহার করা উচিত।’
এর মাধ্যমে সোভিয়েত অধিকৃত পূর্ব অংশকে মার্কিন, ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনীর অধিকৃত পশ্চিম অংশ থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে পরাজিত জার্মানির বার্লিন এভাবে দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
পশ্চিমি বিশ্বের মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও বহুগুণ আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের আকর্ষণে পূর্ব জার্মানি থেকে বার্লিন প্রাচীর অতিক্রম করতে গিয়ে রক্ষীদের গুলিতে দেয়ালেই অন্তত ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়। সার্বিকভাবে পূর্ব জার্মানির বিভিন্ন স্থান থেকে পালিয়ে পশ্চিম জার্মানিতে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রায় ৭০০ জনের মৃত্যু হয়।
স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘনিয়ে এলে পূর্ব ইউরোপে গণতন্ত্রমুখী অভিযাত্রার মধ্যে ১৯৮৯ সালে ভেঙে ফেলা হয় বার্লিন প্রাচীর। এখন ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সেই প্রাচীরের মাত্র তিন কিলোমিটারের মতো অংশ ইতিহাসের স্মারক হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে।

নানা আয়োজনে ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মদিন পালন

কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো এখন আর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির নেতৃত্বে নেই। এর পরও এই নেতার জন্মদিনে উৎসাহ, উদ্দীপনা আর আনন্দের কমতি ছিল না কিউবায়। গতকাল শনিবার নানা আয়োজনে তাঁর ৮৫তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে।
জন্মদিন সামনে রেখে গত মঙ্গলবার থেকেই মূলত উৎসব শুরু হয়। কনসার্ট, ব্যালে নৃত্য, ফিদেলকে নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন চলতে থাকে জন্মদিনকে ঘিরে। তবে জমজমাট অনুষ্ঠান শুরু হয় শুক্রবার রাত থেকে। জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানী হাভানায় কার্ল মার্কস থিয়েটারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাঁচ হাজার দর্শকের ধারণক্ষমতার এই থিয়েটারে সাবেক এই নেতাকে উৎসর্গ করে ‘সং অব লয়্যালটি’ গাওয়া হয়।
কিউবায় সমকামীরাও এই দিনটিকে বিশেষ দিন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছেন তাঁরা। ফিদেলের জন্মদিনে ঘটা করে বিয়ে করেন সমকামীরা।
ফিদেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগেরই আয়োজক ছিল গুয়াইয়াসামিন ফাউন্ডেশন। ফিদেলের বন্ধু ও ইকুয়েডরের চিত্রশিল্পী ওসওয়াল্ডো গুয়াইয়াসামিনের নামে এ ফাউন্ডেশন গঠিত হয়েছে। গুয়াইয়াসামিন ১৯৯৯ সাল মারা যান।
দীর্ঘদিন ধরেই ফিদেলকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না। গত এপ্রিলে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। ওই সম্মেলনেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফিদেলের উত্তরসূরি হন তাঁর ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রো। এরপর কিছুদিন আগে ভিডিও ফুটেজে তাঁকে দেখা যায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের সঙ্গে। চাভেজ কিউবায় চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন।
ফিদেল কাস্ত্রো ১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে কিউবার ক্ষমতা গ্রহণ করেন তিনি। স্বাস্থ্যগত কারণে ২০০৬ সাল থেকেই জনসম্মুখে আসা কমতে থাকে ফিদেলের। মূলত তখন থেকে রাউল কাস্ত্রোই দেশ চালাচ্ছেন।

প্রাণঘাতী বিষ উৎপাদনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও হামলা চালানোর জন্য আল-কায়েদার একটি শাখা মারাত্মক প্রাণঘাতী বিষ রিসিন উৎপাদনের চেষ্টা করছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। গত শুক্রবার রাতে নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ইয়েমেনে আল-কায়েদার শাখা বিপুল পরিমাণে ক্যাস্টর বিন সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ক্যাস্টর বিন থেকে রিসিন উৎপাদিত হয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, আল-কায়েদা ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে গোপনে ক্যাস্টর বিন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা ক্রমাগত আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন, ইয়েমেনের ক্ষমতায় দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় জঙ্গিরা তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করার সুযোগ পাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের একজন কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় জিঞ্জিবার শহরের বাইরে সেনাবাহিনীর গুলিতে সন্দেহভাজন চারজন আল-কায়েদা সদস্য নিহত হয়েছে। জিঞ্জিবারের অধিকাংশ জায়গা ইসলামি জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ইয়েমেনের আল-কায়েদা জঙ্গিরা রিসিন উৎপাদন ও সেগুলো ছোট ছোট বিস্ফোরক পদার্থের মোড়কে ভরার চেষ্টা করছে। এরপর তারা বিপণিকেন্দ্র, বিমানবন্দর কিংবা পাতালরেল স্টেশনের মতো জনাকীর্ণ স্থানে এগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করবে। রিসিন খুবই বিষাক্ত। এর সামান্য কণা নিঃশ্বাসে মিশে গেলে বা রক্তে প্রবেশ করলে মৃত্যু নিশ্চিত।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জাতীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত তাঁর শীর্ষস্থানীয় সহযোগীরা আল-কায়েদার ওই হুমকির কথা বলেছিলেন এবং এরপর থেকে এ বিষয়ে তাঁরা নিয়মিত তথ্য পেয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, শিগগিরই একটি রিসিন হামলা হতে পারে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্ত্র হিসেবে রিসিনের কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ। কারণ, ইয়েমেনে শুষ্ক আবহাওয়া ও রোদের কারণে রিসিনের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য স্নায়ুর মতো মানুষের ত্বকের অভ্যন্তরে রিসিন সহজে প্রবেশ করতে পারে না।
কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা একটি হুমকির সম্ভাব্যতার বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, ইয়েমেনের আল-কায়েদার হামলার ষড়যন্ত্র করার সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে এমন হামলার ষড়যন্ত্র রয়েছে, যেগুলো শেষ মুহূর্তে নস্যাৎ করা হয়।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ডেট্রয়েটগামী একটি বিমান থেকে শরীরে বোমা বাঁধা অবস্থায় একজন নাইজেরীয়কে আটক করা হয়। এর ১০ মাস পর শিকাগোগামী একটি মালবাহী বিমান থেকে প্রিন্টারের কার্টিজের ভেতর থেকে শক্তিশালী বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

দাঙ্গা দমনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন ক্যামেরন

দাঙ্গা-সংঘাত মোকাবিলায় সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য এক মার্কিন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ওই বিশেষজ্ঞের নাম উইলিয়াম ব্রাট্টন।
রাজপথের অপরাধ দমনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রাট্টন নিউইয়র্কে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘সহিংসতা ও দাঙ্গাবাজদের প্রতিরোধে আমেরিকান অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা এবং এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমাকে নিয়োগ করেছে ব্রিটিশ সরকার।’
এদিকে গত শুক্রবার রাতেও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরের পথে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। সপ্তাহের শেষের দিন মদ পান করে উন্মত্ত লোকজন যাতে আবার দাঙ্গা বাধিয়ে না দিতে পারে, তা সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল পুলিশ। তবে এ রাতে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
নগর পুলিশের উপসহকারী কমিশনার স্টিভ কাভানাঘ জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় লন্ডনের রাস্তায় আড়াই হাজার পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে শুক্রবার রাতে দায়িত্বে ছিলেন ১৬ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা। আগামী দুই দিনও একই অবস্থা থাকবে।
নটিংহাম, বার্মিংহাম, লিভারপুলসহ অন্যান্য শহরেও একই অবস্থা ছিল। ওই সব জায়গায় আরও দু-এক দিন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী একইভাবে প্রস্তুত থাকবে। যদিও তারা আশা করছে, আর তেমন কোনো সহিংসতা বা দাঙ্গার ঘটনা ঘটবে না।
লন্ডনসহ আশপাশের শহরগুলোয় গত সপ্তাহে টানা চার রাতের দাঙ্গায় নিহত হয়েছে পাঁচজন। এ সময় ব্যাপক লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে স্রেফ কিছু সুযোগসন্ধানী দুর্বৃত্তের কাজ বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা ক্ষোভের বিষয় এটি নয়। তবে ঘটনা সামাল দিতে পুলিশ প্রথম দিকে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ক্যামেরন। এরপর তিনি এ বিষয়ে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য নিয়োগ করলেন মার্কিন বিশেষজ্ঞ ব্রাট্টনকে।
ব্রাট্টন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও বোস্টন শহরের পুলিশপ্রধান ছিলেন। এ দাঙ্গা ও রাজপথের সন্ত্রাস দমনে সফলতার জন্য তাঁর সুনাম আছে। বর্তমানে তিনি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ক্রোলের চেয়ারম্যান।
ব্রাট্টন জানিয়েছেন, বড় ধরনের দাঙ্গা মোকাবিলা এবং তা প্রতিরোধের কৌশল প্রণয়নে তিনি ব্রিটিশ সরকারকে সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্রিটিশ সরকার খুবই আগ্রহী। কেননা, সাম্প্রতিক দাঙ্গার পর তারা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন শুক্রবার ব্রাট্টনের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামী শরতেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্রাট্টন একাধিক বৈঠক করবেন। গত ২০ বছরে তিনি অনেকবার ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে কাজ করেছেন।

শেবাগকে সঙ্গী পেলেন জাভেদ

রাজা কে না হতে চায়! কিন্তু আগামী কিছুদিন বীরেন্দর শেবাগের সামনে ‘রাজা’ কিংবা ‘কিং’ এই দুটো শব্দের কোনোটাই উচ্চারণ করলে পাছে চটে যেতে পারেন এই ভারতীয় ওপেনার। কাঁধের চোট থেকে সেরে উঠে মাত্রই যোগ দিয়েছিলেন দলে। এসেছিলেন রাজা হতে, দলকে উদ্ধার করতে। কিন্তু এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও একেবারে প্রথম বলেই ক্যাচ দিলেন উইকেটের পেছনে। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসের বিরল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের পাতায় উঠে গেল তাঁর নাম। ইতিহাসের ১৩তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ‘কিং পেয়ার’ পেলেন!
দুই ইনিংসেই একেবারে প্রথম বলে আউট হওয়ার এই রেকর্ডটি প্রথম করেছিলেন ইংল্যান্ডের উইলিয়াম অ্যাটওয়েল, ১৮৯১-৯২ সিডনি টেস্টে। এই ডানহাতি পেসারের মতো বাকি ১২ জনের বেশির ভাগই বোলার। এত দিন ওপেনার হিসেবে এই রেকর্ড শুধু একজনেরই ছিল—বাংলাদেশের জাভেদ ওমরের। ভারতের বিপক্ষেই ২০০৭ মিরপুর টেস্টে কিং পেয়ারের শিকার হয়েছিলেন জাভেদ। ওই টেস্টেই সময়ের হিসাবে দ্রুততম ফিফটি (২৭ মিনিট) করে জাভেদের ‘কীর্তি’টাকে আড়াল করে দেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে এত দিন পরে এসে খ্যাতিমান এক সঙ্গী পেলেন জাভেদ—বীরেন্দর শেবাগ, যিনি পাঠকের ভোটে ওপেনার হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন আইসিসির সর্বকালের সেরা টেস্ট দলে।
দ্বিতীয় ওপেনার আর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে এই অপমানের তিলক পড়ল শেবাগের কপালে। এর আগে ভগবত চন্দ্রশেখর আর অজিত আগারকার কিং পেয়ার পেয়েছিলেন, দুজনই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্ন টেস্টে দুই ইনিংসেই প্রথম বলে করেছিলেন শূন্য। চন্দ্রশেখর ১৯৭৭-৭৮, আগারকার ১৯৯৯-২০০০ সালে। ভারতের বিপক্ষেও তিনজন কিং পেয়ার পেয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি কিং পেয়ারের শিকার দক্ষিণ আফ্রিকার চার ব্যাটসম্যান।
এঁদের মধ্যে টমি ওয়ার্ড তাঁর অভিষেক টেস্টেই কিং পেয়ার পান। ১৯১২ সালে ত্রিদেশীয় টেস্ট সিরিজের ঘটনা। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ওয়ার্ডকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জিমি ম্যাথুস। দুই ইনিংসেই হ্যাটট্রিকের একমাত্র উদাহরণ, ওয়ার্ডের পেয়ারটা তাই স্মরণীয় হয়ে আছে এদিক দিয়েও।

সাবেলায় উন্নতিই দেখছেন মাচেরানো

ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ঘিরে আর্জেন্টাইনরা দেখেছিল বিশ্বকাপ-স্বপ্ন, সার্জিও বাতিস্তা দেখিয়েছিলেন কোপা-স্বপ্ন। এই দুটি স্বপ্নের একটিও বাস্তবে ধরা দেয়নি। এবার আলেজান্দ্রো সাবেলাকে নিয়েও আর্জেন্টাইনদের স্বপ্ন দেখার পালা। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হাভিয়ের মাচেরানোই জানিয়েছেন সেই স্বপ্নের কথা।
ম্যারাডোনা ও বাতিস্তার ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দুটি আমল শেষে আর্জেন্টিনা দলে স্থিরতা নিয়ে আসবেন সাবেলা—বার্সেলোনা মিডফিল্ডার মাচেরানো বিশ্বাস করেন এমনটাই, ‘আমার আশা, তিনি (সাবেলা) নিজস্ব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করবেন এবং দলকে এমনভাবে চালাবেন, যাতে আমরা উন্নতির দিকে ধাবিত হই।’
বিশ্বকাপ-স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলে ম্যারাডোনার স্থলাভিষিক্ত হন বাতিস্তা। কোপা আমেরিকার ব্যর্থতায় বাতিস্তাকেও সরে যেতে হয় আর্জেন্টিনার কোচের পদ থেকে।
বাতিস্তার চাকরি হারানোটা মাচেরানোর কাছে দুঃখজনক, তবে নতুন কোচকে স্বাগতই জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

এক নম্বরে উঠে গেল ইংল্যান্ড

উৎসব যতটা হতে পারত, ততটা হলো না। দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার পর টেস্ট ক্রিকেটের এক নম্বর দলের মুকুটটি নিশ্চিত করার আনন্দ সতীর্থদের আলিঙ্গনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল। লন্ডনের দাঙ্গার আগুন যে পুরোপুরি নেভেনি, যে আগুনের আঁচ এসে লেগেছিল বার্মিংহামের এজবাস্টনেও।
ম্যাচ শুরুর আগে ইংল্যান্ড দল কথা দিয়েছিল, দাঙ্গায় বিপর্যস্ত মানুষের জন্য কিছু একটা এনে দেবে। অবশেষে ভারতকে ইনিংস ও ২৪২ রানের ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জয় আর র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান—দুটোই নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ভারতের এটি তৃতীয় বৃহত্তম পরাজয়, সব মিলে টেস্ট ইতিহাসের ১৫তম। অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কোনো টেস্ট সিরিজে হারলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
পরাজয়টা যে আসছে, সেটা তৃতীয় দিন শেষেই বোঝা গিয়েছিল। দিনের চতুর্থ ওভারের মধ্যেই আগের দিনের দুই ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে সেটা ত্বরান্বিত করেছে ইংল্যান্ড। ভারতের প্রথম চার ব্যাটসম্যানকেই তুলে নিয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসন। শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেবল শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাটেই যা একটু ঝলক ছিল। কিন্তু ৮ চারে ৬০ বলে ৪০ করা টেন্ডুলকার দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হলে লাঞ্চের মধ্যেই ভারতের গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জাগে।
৬ উইকেটে ১১৬ রান আর ভীষণ অস্বস্তি নিয়ে লাঞ্চ সারা ভারত শেষ পর্যন্ত যে ২৪৪ রান পর্যন্ত করতে পারল, তাতে মূল অবদান অষ্টম উইকেটে ধোনি-প্রাভিন কুমারের ৭৫ রানের জুটিটার। প্রাভিন ১৮ বলে ৪০ রান করে আউট হয়ে গেলেও ধোনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৭৪ রানে।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ধোনির কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে বেশ কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন করেন উপস্থাপক মাইক আথারটন। ইংল্যান্ডকে এক নম্বর হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে ধোনি নিজের দলকে আড়াল করে গেলেন, ‘আমরা ভালো ডেলিভারিগুলোকে সামলে বাজে বলগুলো থেকে রান তোলার কাজটা ঠিকমতো করতে পারছি না। এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। তার পরও আমি দলকে নিয়ে গর্ব করি, কয়েকটা পরাজয়ই সেটা পাল্টে দিতে পারে না।’
টেন্ডুলকার-দ্রাবিড়-লক্ষ্মণের মতো সিনিয়ররা দলের বোঝা কি না, আথারটনের এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘কখনোই নয়। দলে তাঁদের অবদানের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই।’ এই সিরিজের জন্য ভারত যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছে কি না, এমন একটা আলোচনা চলছে। ধোনি চাইলে সেই আলোচনার আড়ালে গিয়ে অজুহাত খুঁজতে পারতেন। কিন্তু দুটো টেস্ট খেলার পর প্রস্তুতির অজুহাতও আর দেওয়া চলে না। ধোনি তাই বললেন, ‘প্রস্তুতিতে আমি যথেষ্টই খুশি। কিন্তু এটা আসলে এমন একটা সিরিজ যেখানে কোনো কিছুই ঠিকমতো কাজ করছে না।’
স্বাভাবিকভাবেই ধোনির ঠিক উল্টো অনুভূতি অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের। পুরো কৃতিত্ব সতীর্থদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বললেন, ‘এক নম্বর হওয়া আমাদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারায় অনেক গর্ব হচ্ছে। আমরা জানি, আমরা দারুণ কিছু করে ফেলেছি। তবে এটাই শেষ নয়। এক নম্বর স্থানটি ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করাটাই আসল।’
স্ট্রাউস চাইলে ভারতকেই উদাহরণ হিসেবে দেখাতে পারতেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে এক নম্বরে ওঠা ভারত এখন তিনে নেমে যাওয়ার শঙ্কায়। মুকুট অর্জনের চেয়ে ধরে রাখাই কঠিন—সাধে তো আর বাক্যটি প্রবাদ হয়নি!