Tuesday, January 27, 2015

অঝোরে কাঁদলেন খালেদা জিয়া

ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে বিদায় জানাতে গিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদলেন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার দুপুরে কোকোর লাশ গুলশান কার্যালয় থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বের করার সময় দরজায় দাঁড়িয়ে তাকে বিদায় জানান খালেদা জিয়া। এসময় তার চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু ঝরছিল। এর আগে বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে কোকোর লাশ বহনকারী মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা লাশ গ্রহণ করেন। পরে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তার লাশ রাখা হয়। সেখানে কোকোর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখেন। গুলশান থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে কোকোর লাশ হয়। সেখানে বাদ আসর তার জানাজা হওয়ার কথা।
এদিকে, আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি সন্মান জানাতে সোমবার থেকে বিএনপির তিন দিনের শোক শুরু হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। নেতাকর্মীরা বুকে কালোব্যাজ ধারণ করেছেন। এ ছাড়া এই তিন দিন সারাদেশের মসজিদে মসজিদে কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিল হবে। গত শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মারা যান। স্ত্রী ও দু কন্যা নিয়ে প্রায় ছয় বছর তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতীয় মসজিদ নাগারায় রোববার দুপুরে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

‘নমস্তে’ জানিয়ে ভারতবাসীকে ওবামার বিদায়

ভারতে তিন দিনের সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্ত্রী মিশেল ওবামাসহ সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে শেষবারের মতো ভারতবাসীকে করজোড়ে ‘নমস্তে’ জানিয়ে ওবামা ভারত ত্যাগ করেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে জানানো হয়, বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে ওবামা ভারত ছেড়ে যান। বিমানবন্দরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে বিদায় জানান ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী পিযুষ গোয়াল ও পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হননি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় ভারতে ওবামার ‘স্মরণীয় সফর’ ও দেশটির জনগণের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।  টুইটারে পাঠানো ফিরতি বার্তায় নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘বিদায়। আপনার সফর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ও নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আপনার নিরাপদ সফর কামনা করছি।’ সৌদি আরবে ওবামার চার ঘণ্টা অবস্থান করার কথা। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশটির নতুন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর নৈশভোজ করার কথা রয়েছে।

কোকোকে অশ্রুসিক্ত মায়ের বিদায় জানিয়েছেন মা খালেদা জিয়া

(ছবি:-১ গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মরদেহ নিয়ে আসার পর শেষবারের মতো ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে ছুঁয়ে দেখছেন মা খালেদা জিয়া। ছবি: বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সৌজন্যে ছবি:-২ আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার শান্তির জন্য মোনাজাত করছেন মা খালেদা জিয়া ও স্বজনেরা। ছবি: সাজিদ হোসেন ছবি:-৩ ছেলের মরদেহ দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। ছবি: বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সৌজন্যে) ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানিয়েছেন মা খালেদা জিয়া। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে কোকোর মরদেহ নেওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কোকোর মরদেহবাহী মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের বিমানটি আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল আটটার দিকে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। এটি বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কোকোর মরদেহ গ্রহণের জন্য বিএনপির নেতা আবদুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ফজলুল হক মিলন, গিয়াস কাদের চৌধুরী, আবদুল মান্নান প্রমুখ বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে বেলা দেড়টার দিকে কোকোর মরদেহ বহনকারী গাড়ি পৌঁছে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে। উত্তর পাশের ফটক দিয়ে গাড়ি ঢোকানো হয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে। নেতা-কর্মীদের ভিড়, ধাক্কাধাক্কিতে ফটক খুলে কয়েক গজ ভেতরে গাড়ি ঢুকাতে সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট। পৌনে দুইটার দিকে কোকোর কফিন কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকানো হয়। কার্যালয়ের ভেতরে দলীয় নেতা-কর্মী বা গণমাধ্যমের কর্মীদের যাওয়ার সুযোগ ছিল না। সকাল থেকে ভেতরে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এর বাইরে তাঁর নিজস্ব কর্মকর্তা এবং মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী ছিলেন। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা একজন প্রথম আলোকে বলেন, কোকোর মরদেহ রাখা হয় কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষে। এ কক্ষে সাধারণত খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন বা এ জাতীয় অনুষ্ঠান করেন।  কক্ষের ভেতর স্থায়ী মঞ্চে রাখা হয় কফিন। কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে আসেন খালেদা জিয়া। প্রথমে কিছুটা নির্বাক ছিলেন। একটু পর ডুকরে কেঁদে ওঠেন তিনি। কফিনে থাকা কোকোর মুখ দুই হাতে ধরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে ছেলের মরদেহের পাশে বসেই তিনি মোনাজাত করেন। পাশের আরেকটি কক্ষে তখন চলছিল কোরআন তিলাওয়াত। সেখানে এ সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও দুই মেয়ে, খালেদা জিয়ার দুই ভাইয়ের স্ত্রী, তারেক রহমানের শাশুড়ি, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ। পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো দেখার পর প্রায় এক ঘণ্টা পর কোকোর মরদেহ বেলা পৌনে তিনটার দিকে গুলশান কার্যালয় থেকে বায়তুল মোকাররমের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মা খালেদা জিয়া অশ্রুসজল নয়নে গুলশান কার্যালয়ের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বিদায় জানান। বিএনপির পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের গুলশান কার্যালয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরও সকাল থেকে সেখানে ভিড় করতে থাকেন শত শত নেতা-কর্মী। তবে কারও ভেতরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় বসে অনেক মহিলা কর্মীকে তসবিহ পড়তে দেখা যায়। কোকো গত শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরদিন কুয়ালালামপুরে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।দুপুর ১২ টার দিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের জানান, বানানীর সামরিক কবরস্থানে কোকোর দাফনের অনুমতি মিলেনি। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনাপ্রধানের সন্তান হিসেবে কোকোকে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা যায়। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এ জন্য অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

‘আলোচনা নয়, সমাধান হবে রাজপথে’ -ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান আলোচনায় হবে না, রাজপথেই হবে। আজ দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত উদ্বোধনী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক ও জঙ্গিবাদী শক্তিকে দূর করতে হবে। এদের সঙ্গে আমাদের কোন মিটমাট হবে না। জঙ্গিবাদ ও অগণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে কোন আপস হবে না। যা হবে রাজপথেই হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালাও পোড়াও নাশকতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই। নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারই যথেষ্ট। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, উনি অস্থির হয়ে আছেন। উনার অস্থিরতার কারণে আমরা গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটে আছি। হাসানুল হক ইনু বলেন, রাজনৈতিক গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা হবে। তবে খালেদা জিয়াকে নাশকতা, সম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ছাড়তে হবে। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। এসব উসকানিমূলক কর্মকা- বন্ধ না হলে উনাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। জাসদ সভাপতি বলেন, দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যেকোন সময় ফাঁসি হয়ে যাবে। উনার ছেলের দুর্নীতির বিচার শুরু হয়ে গেছে। এসব কারণে উনার মাথা ঠিক নেই। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের কাজে উসকানি দিয়ে যাচ্ছেন। ৫ই জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে অবরোধের নামে দেশকে জঙ্গিবাদ বানাতে চাইছেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি শ্যামল সরকার বিএসআরএফ সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এসময় বিএসআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। অন্যান্যের মধ্যে প্রধান তথ্য অফিসার তছির আহমদ, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কোকোর জানাজায় লাখো মানুষ

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত কোকোর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জানাজায় ইমামতি করেন খতিব মাওলানা সালাহউদ্দিন। জানাজা শুরুর আগেই পুরো বায়তুল মোকাররম এলাকা লোকারণ্য হয়ে পড়ে। আশপাশের রাস্তায় বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। মসজিদ কমপ্লেক্স ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণের সড়কে অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। উত্তর গেটে জনস্রোত পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পার হয়ে যায়। দক্ষিণ গেটে মুল সড়কে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে খতিব সংক্ষিপ্ত মোনাজাত পরিচালনা করেন। জানাজা শেষে লাশ দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চে রাখা হয়। সেখান থেকে লাশ নিয়ে যাওয়া হবে বনানী কবরস্থানে। সামরিক কবরস্থানে অনুমতি না পাওয়ায় সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর লাশ দাফন করা হবে। বেলা তিনটার পর গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে আরাফাত রহমান কোকোর লাশবাহী গাড়ি রওনা হয়। গাড়ি বহরের সঙ্গে হেঁটে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বায়তুল মোকাররমের দিকে যান। বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে লাশবাহী গাড়িবহর বায়তুল মোকাররমে পৌঁছে। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কোকোর স্ত্রী, দুই মেয়ে, মামা শামীম এস্কান্দারও একই ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। পরে নেতা-কর্মীদের বেষ্টনির মধ্যে কোকোর মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স গুলশানে নিয়ে যাওয়া হয়। গত শনিবার দুপুরে মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। তিনি সাত বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। দীর্ঘ সময় পর কোকো ফিরেছেন তার জন্মভূমিতে তবে লাশ হয়ে। তার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিএনপি কোকোর মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গায়েবানা জানাজা।

পুলিশ বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ

(রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৫–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্যারেড গ্রাউন্ড পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা) অবরোধ, হরতালের নামে বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, হত্যা, গাড়িতে আগুনসহ বিভিন্ন ঘৃণ্য অপরাধ দমনে পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে ধন্যবাদ জানান তিনি। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠে পুলিশের বার্ষিক কুচকাওয়াজ দেখেন ও সালাম নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। সব স্তরের পুলিশ সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। এ সময় তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, যে পুলিশ বিএনপির নেত্রীকে নিরাপত্তা দিচ্ছে, সেই পুলিশের ওপরই বিএনপি এবং তাঁর দোসর জামায়াত- শিবির হামলা চালাচ্ছে। ২০১৩ সালে তাঁরা ১৭ জন পুলিশকে হত্যা করেছিল ও কয়েক শ জনকে আহত করেছিল বলে জানান তিনি । শেখ হাসিনা বলেন, অবরোধের নামে বোমাবাজির কারণে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমায় লাখো লাখো মুসল্লিকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।  মার্কিন সিনেটরের সই জাল করে ও বিজিবি সভাপতির টেলিফোন আলাপ নিয়ে মিথ্যাচার করে বিএনপি দেশের ভাবমূর্তিকে পদদিলত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কোকোকে অশ্রুসিক্ত মায়ের বিদায়

(গুলশানের কার্যালয়ে আজ আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহের সামনে শোকে মুহ্যমান মা খালেদা জিয়া ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। ছবি: সাজিদ হোসেন) সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ গুলশানে তাঁর মায়ের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে বাদ আসর তাঁর জানাজা হবে। পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো দেখার পর কোকোর মরদেহ আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে গুলশান কার্যালয় থেকে বায়তুল মোকাররমের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মা খালেদা জিয়া অশ্রুসজল নয়নে গুলশান কার্যালয়ের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বিদায় জানান। বাংলাদেশ সময় আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের বিমানে করে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় আনা হয়। কোকোর মরদেহ গ্রহণের জন্য বিএনপির কয়েকজন নেতা বিমানবন্দরে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবদুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ফজলুল হক মিলন, গিয়াস কাদের চৌধুরী, আবদুল মান্নান প্রমুখ। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোকোর মরদেহ গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেওয়া হয়। কোকোর মরদেহবাহী বিমানটি আজ বাংলাদেশ সময় সকাল আটটার দিকে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের বিমানটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস স্পেশালিস্ট মাহমুদুল হাসান হিমেল প্রথম আলোকে বলেন, বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোকোর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। একই বিমানে ঢাকায় এসেছেন কোকোর স্ত্রী, দুই মেয়ে, মামা শামীম এস্কান্দার ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী।
কোকোর মরদেহ আসা উপলক্ষে বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও র‌্যাব। বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হন বিএনপির কয়েক শ কর্মী। তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট থেকে আলিফ মেডিকেল সার্ভিসের একটি অ্যাম্বুলেন্স কোকোর মরদেহ নিয়ে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে সেখানে পৌঁছায় কোকোর মরদেহ।
গতকাল সোমবার রাতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছিলেন, বিমানবন্দর থেকে কোকোর মরদেহ সরাসরি গুলশানে নেওয়া হবে। সেখানে কেবল পরিবারের সদস্যরা থাকবেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সেখানে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আরাফাত রহমান অরাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। তাই রাজনৈতিক দলসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে জানাজায় অংশ নিতে আহ্বান জানান তিনি। আরাফাত রহমান গত শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরদিন কুয়ালালামপুরে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

লাশ হয়ে মায়ের কাছে কোকো, কার্যালয় ঘিরে হাজার হাজার নেতাকর্মী

আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে তার মরদেহ গুলশানে নেওয়া হয়। সেখানে বিএনপির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছেন। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কোকোর স্ত্রী, দুই মেয়ে, মামা শামীম এস্কান্দারও একই ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। পরে নেতা-কর্মীদের বেষ্টনির মধ্যে কোকোর মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স গুলশানে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আরাফাত রহমান কোকোর জানাজা হওয়া কথা রয়েছে। গত শনিবার দুপুরে মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। তিনি সাত বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। দীর্ঘ সময় পর কোকো ফিরেছেন তার জন্মভূমিতে তবে লাশ হয়ে। তার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিএনপি কোকোর মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গায়েবানা জানাজা। এদিকে ঢাকায় সামরিক কবরস্থানে কোকোর লাশ দাফনের আবেদন করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, নিয়ম মেনেই একজন সাবেক সেনা প্রধানের ছেলে হিসেবে কোকোর লাশ সামরিক বকরস্থানে দাফনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানদের সেখানে দাফন করতে আগে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

রবীন্দ্র-মৃণালিনীর স্মৃতিধন্য ভবন- সংস্কারের নামে পুরাকীর্তি নষ্ট by মাসুদ আলম

(খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি। সংস্কারের পর (বাঁয়ে) ও আগে l ছবি: প্রথম আলো) খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীর স্মৃতিবিজড়িত ভবন। এটি বর্তমানে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে, সংস্কারের নামে কালের সাক্ষী এই ভবনটির মৌলিকত্ব ও প্রত্নতাত্ত্বিক সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার একজন কর্মকর্তা জানান, ২০০৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন ভবনটিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে। ২০১০ সালের ২৭ জুলাই ৪০ শতক জমিও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ২০১০-২০১১ এবং ২০১১-২০১২ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সাড়ে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটির সংস্কার-সংরক্ষণ করে। ভবনটির খুব কাছেই কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের গ্রামের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘সবকিছু অবিকৃত রেখেই সংস্কার করতে হবে। মৌল পরিবর্তন করা যাবে না। আগে যেভাবে ভবনটিকে দেখেছি, এখন সেভাবে নেই। আগের রং পরিবর্তন করা হয়েছে। সংস্কারে ভবনটির প্রত্নতাত্ত্বিক মৌলিকত্বের ক্ষতি হয়েছে।’
খুলনার বিএল কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ শফিউল্লাহ সরদার বলেন, ভবনটির প্রত্নতাত্ত্বিক নান্দনিকতা নষ্ট হয়েছে। সাংবাদিক বিধান দাশগুপ্ত বলেন, ‘দেয়ালের কারুকাজ ঠিকমতো করা হয়নি। আগের লাল রং পরিবর্তন করে সাদা রং করা হয়েছে। সিমেন্টের ব্যবহার বেশি করা হয়েছে। এতে ভবনটির কিছুটা বিকৃতি ঘটেছে।’
তবেপ্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক মো. আমিরুজ্জামান বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক কার্যবিধি পুরোপুরি অনুসরণ করে ভবনটি সংস্কার-সংরক্ষণ করা হয়েছে।ভবনটি আগে সাদা রঙের ছিল। সেই রং উঠে লাল রং ধারণ করে। তাই আগের সাদা রঙের নমুনা ধরেই ভবনটিতে রং করা হয়েছে। এ ছাড়া খনন করে একটি সীমানাপ্রাচীর পাওয়া গেছে। সেটি ধরেই তাঁরা একটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছেন।
রবীন্দ্রজীবনীকার প্রশান্ত কুমার পালের রবীন্দ্রজীবনীর বিবরণ অনুযায়ী, ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে মৃণালিনী দেবীর বিয়ে হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বেণীমাধব রায়চৌধুরী দেশভাগেরবহু আগে থেকে কলকাতায় বসবাস করতেন। তাঁর একমাত্র ছেলে নগেন্দ্রনাথ রায়চৌধুরী ওরফে ফেলুবাবু জমিদারি দেখার জন্য মাঝেমধ্যে দক্ষিণডিহিতে আসতেন। ফেলুবাবুর ছেলেরা তখন কেউ দক্ষিণডিহি আবার কেউ কলকাতায় বসবাস করতেন। ১৯৪০ সালে এ পরিবারের সবাই দেশত্যাগ করেন।এর আগে ফেলুবাবু ও তাঁর স্ত্রী বাড়িসহ আশপাশের ৭ দশমিক ৮ একর জমি বাদে সমুদয় সম্পত্তি দক্ষিণডিহির আরেক জমিদার বিজনকৃষ্ণ দাসকে বন্দোবস্ত দেন। বাড়ি ও সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয় নায়েব নবকুমার মুস্তাফিকে। ১৯৬৫ সালে বিজনকৃষ্ণ দাস দেশত্যাগ করেন। পরে নায়েব নবকুমার মুস্তাফীর আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় বেদখল হয়ে যায় বাড়িটি। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে বাড়িটি উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের।

সম্প্রীতি- এক জলেই সব হয় গো শুচি by আনোয়ার হোসেন

(চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বরেন্দ্রা গ্রামে শুতিহার নামের দিঘি l ছবি: প্রথম আলো) চার দশক ধরে একটি গ্রামের হিন্দু-মুসলিম ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে ‘শুতিহার’ দিঘি। দিঘিটিকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গ্রামবাসী। দিঘির আয় থেকে নির্মাণ হয়েছে বিদ্যালয়, মন্দির, মসজিদ, ঈদগাহ, শ্মশান, কবরস্থান এবং রাস্তাঘাট। পাশাপাশি দিঘির আয়ের অর্থ ব্যয় হয়েছে মানুষের আপদ-বিপদে। সরকারি ওই খাস দিঘিটি গ্রামবাসীর হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টাও হয়েছে প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে। গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য জীবনও দিতে হয়েছে গ্রামের একজনকে। কিংবদন্তি বিপ্লবী নেত্রী ইলা মিত্রের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের নেজামপুর ইউনিয়নের বরেন্দ্রা গ্রামে ‘শুতিহার’ দিঘির অবস্থান। হিন্দু-মুসলিম ও আদিবাসী মিলিয়ে গ্রামটিতে দেড় হাজার লোক বাস করেন।
শুরুর কথা: দিঘিটিতে একসময় হাঁটুপানি থাকত। কচুরিপানায় ভর্তি থাকা দিঘিটি তখন ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। ১৯৭৫ সালে গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সোবহান, দিদার বক্স, আবদুল মালেক, যোগেন সর্দার, ভজহরি সর্দার, সুরেশ কর্মকার, মগোচন্দ্র ওঁরাও, আতাউর রহমান, আবদুল কাদের এবং ঝড়ু চন্দ্র পাহান মিলে মানুষের উপকারে দিঘিটিকে ব্যবহার উপযোগী করার পরিকল্পনা করেন। এ লক্ষ্যে গঠন করা হয় বরেন্দ্র স্বনির্ভর পল্লি সমিতি নামের একটি সংগঠন। বর্তমানে ওই উদ্যোক্তাদের মধ্যে জীবিত রয়েছেন আতাউর রহমান, আবদুল কাদের এবং ঝড়ু চন্দ্র পাহান। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংগঠনটি প্রথমে গ্রামের মানুষকে নিয়ে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির সহায়তায় দিঘিটি খনন করে মাছ চাষের উপযোগী করা হয়। প্রথম দিকে দিঘিটি থেকে গ্রামবাসীর মাছের চাহিদা পূরণ হলেও পুঁজির অভাবে খুব একটা লাভের মুখ দেখা যায়নি। তবে আয় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ১৯৮৬ সালে দিঘির আয় থেকে ৭৪ হাজার টাকা খরচ করে গ্রামে গড়ে তোলা হয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে সরকারি)। এরপর ১৫ বছর ধরে দিঘিটি থেকে মোটামুটি আয় হতে থাকে।
দিঘি রক্ষায় আন্দোলন: ২০০২ সালে দিঘিটি দখলের পাঁয়তারা করে তৎকালীন ক্ষমতাসীনেরা। প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তারা দিঘিটির বন্দোবস্ত নেয়। তখন প্রতিবাদী হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। ওই সময়ে আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা ফকির মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি খুন হন। এরপর গ্রামবাসী ফুঁসে ওঠেন। তাঁরা এক হয়ে দিঘিটিকে ভিত্তি করে গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির একটি আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার শপথ নেন। মামলা-মোকদ্দমায় লড়ার পর দিঘিটি পুনরায় গ্রামবাসীর আয়ত্তে আসে। এরপর দিঘির আয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়নের গতি বেড়ে যায়। দিঘিটিকে পাকাপোক্তভাবে গ্রামবাসীর আয়ত্তে রাখতে ২০১২ সালে গঠন করা হয় বরেন্দ্রা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল ইসলাম বলেন, দিঘির আয়ের ৪০-৪২ লাখ টাকা খরচ করে এরই মধ্যে গ্রামের নানা উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদ, ১০-১২ লাখ টাকা ব্যয়ে মন্দির, আট লাখ টাকা ব্যয়ে ঈদগাহ, শ্মশানের জন্য দুই লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে জমি, প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে রাস্তা এবং ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে পানির ট্যাংক। ওই পানির ট্যাংক থেকে প্রতিটি বাড়িতে পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়ে এবং অসুখ-বিসুখসহ নানা বিপদে-আপদে ব্যয় করা হয়েছে ওই দিঘির আয়ের অর্থ। ভবিষ্যতে হাতে নেওয়া হবে মসজিদ সম্প্রসারণের কাজ, শ্মশানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, বাজার নির্মাণ এবং আরও একটি কবরস্থানের জন্য জমি ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ। এ জন্য ব্যয় হবে আরও ৩০-৪০ লাখ টাকা।
গ্রামবাসী জানান, দিঘিটির কারণেই গ্রামের প্রতিটি বাসিন্দা মাছ খাওয়ার সুযোগ পান। ঝড়ু চন্দ্র পাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দিঘিটা হামরাকে এক করে র্যাখ্যাছে। তাই হামরা সবাই মিলে ভালো আছি। হামারঘে একতা কেহু ভাঙতে পারবে না।’

পানি সেচে ‘কালো সোনা’ by এম আর আলম

(দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ডোবা-পুকুর সেচে কয়লার গুঁড়া সংগ্রহের পর তা ছেঁকে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেন স্থানীয়​ লোকজন। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে তাঁদের। শুক্রবার তোলা ছবি l প্রথম আলো) ‘কালো সোনা’ শব্দ দুটির সঙ্গে অনেকেই হয়তো পরিচিত নন। তবে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিসংলগ্ন গ্রামগুলোতে ওই শব্দ দুটি খুবই চেনা। কয়লাখনি থেকে নির্গত পানি সেচে পাওয়া কয়লার গুঁড়াকেই লোকজন কালো সোনা বলেন। কারণ, এই গুঁড়া বিক্রি করে তাঁরা লাখো টাকা উপার্জন করেন। এলাকার মানুষ নিজেদের জমি কেটে ডোবা-পুকুর বানিয়ে তাতে কয়লাখনির পরিশোধিত পানি জমা করেন। পরে তা ছেঁকে বের করেন কয়লার গুঁড়া। প্রতিবছর অন্তত তিন-চারবার এই জমানো কয়লার গুঁড়া বিক্রি করেন তাঁরা। খনি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পের সাহায্যে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার পানি অপসারণ করতে হয়। এসব পানি নালার মাধ্যমে খনির পাশের নিচু জমি কিংবা ডোবা, পুকুরে জমা হয়। কয়লাখনি-সংলগ্ন সাহাগ্রাম, চৌহাটি, দুর্গাপুর, মজিদপুর ও বড়পুকুরিয়া গ্রামে জল সেচে কয়লার গুঁড়া সংগ্রহের কাজ করেন কয়েক শ নারী-পুরুষ। শুক্রবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খনি এলাকার দিনমজুর রফিকুল ইসলাম (৪০) নিজের ডোবায় কয়লার গুঁড়া সংগ্রহ করছেন। এসব গুঁড়া কয়লা কীভাবে ও কোথা থেকে এল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, খনি থেকে বের হয়ে আসা পানি দু-তিন মাস পুকুর বা ডোবায় ধরে রাখলে এর তলানি থেকে পাওয়া যায় কয়লার গুঁড়া। এভাবে খনির পানি ধরে রেখে বছরে তিন-চারবার গুঁড়া কয়লা সংগ্রহ করেন তিনি। হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, খনিমুখ থেকে নির্গত পানি এখন গ্রামের অনেক মানুষের জীবিকার উৎস। গ্রামের কৃষক-দিনমজুরদের হাতে যখন কাজ থাকে না, তখন তাঁরা ঝুঁকে পড়েন এ কাজে। নিজেদের জমিতে ডোবা-পুকুর খুঁড়ে তাতে খনির পানি ধারণ করেন। এভাবেই মেলে কয়লার গুঁড়া। প্রতিটি ডোবা থেকে বছরে কমপক্ষে ৩০ টন কয়লা পাওয়া যায়। এর প্রতি টনের মূল্য দুই থেকে তিন হাজার টাকা। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং অ্যান্ড অপারেশন) হাবিবউদ্দিন আহমেদ জানান, খনি-নির্গত পানি পরিশোধনের পরও কিছু কয়লার ডাস্ট (পরিশিষ্ট) থেকে যায়। এতে খুব সামান্য কয়লার গুঁড়া পাওয়া যায়। তবে এই পানি দীর্ঘদিন জমা রেখে এলাকার গরিব মানুষ উপকার পাচ্ছে। তারা এ থেকে কয়লা সংগ্রহ করে তা খোলা বাজারে, বিশেষ করে ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করছে। খনি এলাকার দিনমজুর বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ খুব অভাবী। আগে অনেক মানুষ বেকার ছিল। কেউ কেউ অন্য এলাকায় গিয়ে কাজের সন্ধান করত। এখন তা করতে হচ্ছে না। কয়লাখনির পানি আমাদের কালো সোনা দিচ্ছে। অনেক অভাবী মানুষ নিজের জমিতে পানি ধরে বছরে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করছে। বাড়তি ওই আয়ের সুযোগ পেয়ে ভালোই আছি আমরা।’

আদিবাসী গ্রামে হামলা- ‘দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে’

(দিনাজপুরে সাঁওতাল আদিবাসীদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে গতকাল জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন l ছবি: প্রথম আলো) দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সাঁওতাল আদিবাসী গ্রামে হামলার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার রাজধানীতে মানববন্ধন এবং দিনাজপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে কয়েকটি আদিবাসী সংগঠন। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা, ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, কাপেং ফাউন্ডেশন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৭ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। সমতলের আদিবাসী লোকজনের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের কথা সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের জন্য আলাদা ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সমতল থেকে পাহাড়ে সংখ্যালঘু জাতিদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে। দিনাজপুরে সংবাদ সম্মেলন: গত শনিবার পার্বতীপুরে আদিবাসীদের সঙ্গে ভূমিদস্যুদের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর ভূমিদস্যুরা সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে আদিবাসীদের গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ চালিয়েছেন। আদিবাসীদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন ওই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, পার্বতীপুর উপজেলার বড়দল সরকারপাড়ায় বিরোধপূর্ণ জমির আসল মালিক আদিবাসীরা। জহুরুল ইসলাম নামের স্থানীয় ভূমিদস্যু অসৎ কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সভাপতি বলেন, চিড়াকুটা গ্রামের একটি পরিবারের সঙ্গে অপর একটি পরিবারের বিেরাধ ছিল। যে যুবক নিহত হয়েছেন, তাঁকেও নিশ্চয়ই গ্রামের সব আদিবাসী মিলে মারেনি। তাহলে কেন পুরো একটি আদিবাসী গ্রামে এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো? সংবাদ সম্মেলনে চিড়াকুটা গ্রামে নিরীহ আদিবাসীদের ওপরে হামলার তীব্র নিন্দা এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো আদিবাসী গ্রামে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তিবিধান, ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, আদিবাসী গ্রামটির নারী-পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন। পার্বতীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ দুদিন ধরে বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে গত শনিবার আদিবাসীদের বাড়িঘর থেকে লুট হয়ে যাওয়া বেশ কিছু গরু, ছাগল ও মালামাল পুলিশ উদ্ধার করে আদিবাসী মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছে। আদিবাসীদের গ্রামে হামলা ও লুটপাটকারীদের তালিকা পুলিশ তৈরি করছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২৪ জানুয়ারি পার্বতীপুর উপজেলার বড়দল সরকারপাড়া গ্রামে সাঁওতাল ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে আদিবাসীদের ছোড়া তিরের আঘাতে শাফিউল ইসলাম (২০) নামের এক তরুণ নিহত হন। এ ঘটনার পর হাজারো নারী-পুরুষ আদিবাসীদের বাড়িঘরে ব্যাপকভাবে অগ্নিসংযোগ করে ও লুটপাট চালায়।

অসময়ে চলে যাওয়া- শোক বই থেকে by কাজী সুমন

মাত্র ৪৫ বছর বয়সে অকাল মৃত্যু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর। তার মৃত্যুতে শোকাহত বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে সমব্যথী হয়েছেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনরা। শোক প্রকাশের জন্য রোববার দুপুর ১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে খোলা হয়েছে দুটি পৃথক শোকবই। বিদেশী কূটনীতিকদের শোক প্রকাশের জন্য কার্যালয়ের ভেতরে শোকবই খোলা হয়েছে। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও সাধারণ মানুষের জন্য কার্যালয়ের মূলফটকের বাইরে একটি টেবিলের ওপর রাখা হয় আরেকটি শোকবই। ওই বইতে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করছেন তারা। গত দুদিনে কয়েকশ’ পৃষ্ঠাজুড়ে কেউ কেউ লিখেছেন তাদের অনুভূতি। এদিকে গত দুদিনে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন অন্তত ২০-২৫ জন বিদেশী কূটনীতিক। রোববার সর্বপ্রথম শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে যান বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন। এর আগে তিনি অনানুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করেন। শোকবইয়ে বৃটিশ হাইকমিশনার লিখেন- ‘অসময়ে আরাফাত রহমান কোকোর চলে যাওয়ার খবর শোনে আমি গভীরভারে মর্মাহত হয়েছি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’ আরাফাত রহমানের বেদনাদায়ক বিদায়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডেভিড মিল শোক জানিয়েছেন। শোকবইতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে লিখেন, ওই বিয়োগান্তুক ক্ষতিতে ঢাকাস্থ  মার্কিন দূতাবাসের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে আমি শোক প্রকাশ করছি। আপনার পরিবারের এই দুঃসময়ে আমাদের সহমর্মিতা থাকবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তী। শোকবইতে তিনি লিখেন, আরাফাত রহমান কোকোর অকাল এবং দুঃখজনক বিদায়ে আমরা আন্তরিকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করছি। শোকাহত পরিবার-পরিজন, কাছের এবং দূরের স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা ওই শোক যেন কেটে ওঠার শক্তি পান- সেজন্য আমি স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করছি। কোকোর অসময়ের ওই চলে যাওয়াকে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ উল্লেখ করে ভারতীয় ওই কূটনীতিক বলেন, ওই শোক সইবার ক্ষমতা যেন তার পরিবার পায় সবসময় আমাদের সেই প্রার্থনাই থাকবে।  আরাফাত রহমান কোকোর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ম্যারি টুলুন্দিমো। কোকোর এই মৃত্যুকে বিয়োগান্তুক আখ্যায়িত করে ওই কূটনীতিক বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর এই দুঃখজনক চলে যাওয়ায় আমি গভীর শোক করছি। রোববার বিদেশী কূটনীতিকদের মধ্যে আরও শোক প্রকাশ করেন- মিশরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ আইজ্জাত,  চীনা রাষ্ট্রদূত লিং চু, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত খালেদ সুলতান আল উতাইরি, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার সামিনা মেহতাব, রেডক্রসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডার্কো জর্ডালোভ, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শায়ের মোহাম্মদ, কাতার, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতরা স্বাক্ষর করেন। এদিকে গতকাল বিদেশী কূটনীতিকদের মধ্যে শোক প্রকাশ করেন স্পেনের রাষ্ট্রদূত লুইস তেজেদা চাকন, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত বেনসেন আবু বান্দালি, কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আল ইবরাহিম, আরব আমিরাত ও নেপালের দূতাবাসের কর্মকর্তা শোকবইতে স্বাক্ষর করেন। ওদিকে বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে শোকবইতে সাক্ষর করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার স্নোহাস্পদ ছোট সন্তান আরাফাত রহমান কোকো মাত্র ৪৫ বছর বয়সে অকাল মৃত্যুতে আমি মর্মাহত হয়েছে। কোকোকে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব স্নেহ করতাম। আল্লাহ তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। জিয়া পরিবারের সবাইকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন।  নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না লিখেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি যে শোকের সাগরে ভাসতে তাতে আমরাও মর্মাহত। আল্লাক যেন তাকে এই শোক সইবার শক্তি দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, ‘আরাফাত রহমান কোকোর আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মরহুমের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং শোকাগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। ’ ইসলামী ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মাওলানা কাশেমী লিখেছেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। জিয়া পরিবারকে আল্লাহ যেন এই শোক কাটিয়ে উঠার শক্তি দেন- এই কামনা করছি।’  এছাড়া রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে- জাতীয় পার্টি (একাংশ) কাজী জাফর আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, বিশিষ্ট বুুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল আজিম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার, হেফাজত ইসলামীর ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক নুর হোসেন কাসেমী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. ওয়াকিল আহমেদ, বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, আকরাম খান, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকসহ সহস্রাধিক মানুষ।

অবরোধে বড় ক্ষতি কৃষকের by ইফতেখার মাহমুদ

(ছবি:-১ স্বাভাবিক দিনে এমন সময় ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকারদের পদভারে মুখর থাকে বগুড়ার মহাস্থান সবজির মোকাম। অবরোধের কারণে এখন ক্রেতা ও পাইকার কম। বেচাকেনাও মন্থর l ছবি: সোয়েল রানা ছবি:-২ ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হওয়ায় ট্রাক ভাড়া করতে পারছেন না প্রান্তিক কৃষকেরা। তাই চলতি ট্রাকে অল্প ভাড়ায় উৎপাদিত পণ্য গন্তব্যে পাঠানোর আশায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অপেক্ষায় দুই কৃষক। ছবিটি গতকাল বিকেলে মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরীগঞ্জ থেকে তোলা l ছবি: মঈনুল ইসলাম) দেশে সারা বছর যে সবজি হয়, তার ৪০ শতাংশ এখন মাঠেই পড়ে আছে। এখন নতুন আলু তোলার সময়। কৃষক মাঠ থেকে তুলতেও শুরু করেছিলেন। এরই মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ আলু মাঠ থেকে উঠেছে। কিন্তু পেট্রলবোমা হামলার ভয়ে প্রায় ২০ লাখ টন আলু ভোক্তার কাছে যেতে পারছে না। ফলে তা এখন হাটে-মাঠে নষ্ট হচ্ছে। পরিবহনের অভাবে চালকলগুলো থেকেও সারা দেশে চাল সরবরাহ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এতে বন্ধ হয়ে গেছে ৮০ শতাংশ চালকল। আমন ধান কেটে কৃষক মাঠে রবি মৌসুমের সবজি ও আলু চাষ করেছিলেন। এরপর শুরু হয় বোরো চাষের প্রস্তুতি। কৃষকেরা এ জন্য মাঠ প্রস্তুতি আর চারা বোনাও শুরু করেছিলেন। মাঠের ফসল বেচে যে টাকা আসে, তা বোরোতে বিনিয়োগ করে থাকেন কৃষক। আমনে কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে এসেছিল বন্যা। সবজি বেচে সেই ক্ষতি পোষানোর চিন্তা ছিল তাঁদের। টানা ২২ দিনের অবরোধে সেই আশাও ভেস্তে যাচ্ছে। দেশে সারা বছর উৎপাদিত ৪০ লাখ টন সবজির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই হয় শীতকালে। আর এর ৪০ শতাংশ কৃষক মাঠ থেকে তোলেন জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে। রাজনৈতিক সংঘাতের কবলে পড়ে মাঠ থেকে সবজি তোলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন কৃষক। হাটে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে টমেটো, বেগুন, শিম, কপি। কোথাও কোথাও তো বিক্রিও হচ্ছে না, মাঠে পচে নষ্ট হচ্ছে। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের নতুন আলু সবে উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু তা ভোক্তাদের কাছে কমই পৌঁছাতে পারছে। জমির পাশে আর হাটে আলুর স্তূপ বাড়ছে। গত মাসেও একেক মণ নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আর এখন তা ২০০ টাকায়ও কেউ কিনছেন না। হাটে-মোকামে ওঠা নতুন আমনের বিক্রিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ থেকে ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘গ্রেইন অ্যান্ড ফিড আপডেট’-এ বলা হয়েছে, বছরের মাঝামাঝি সময়ে আঘাত হানা বন্যার কারণে বাংলাদেশে আমনের উৎপাদন কমবে। আর ওই বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতে অবরোধের কবলে পড়েছেন কৃষক। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুব হোসেনের মতে, চলমান রাজনৈতিক সংঘাত কৃষকের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে আনবে। আমন ধান, সবজি আর আলু বিক্রির সবচেয়ে উপযুক্ত সময় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি। মাঠের ফসল বিক্রি করতে না পারলে কৃষক বোরোতে বিনিয়োগ করতে পারবেন না। এতে আমনের মতো বোরোতেও উৎপাদন কমতে পারে। ফলে দেশ খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল, তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। চাল পরিবহন ও বিক্রি দুই-ই কমে যাওয়ায় হাটে-মোকামে ধান বিক্রিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশের চালকলগুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ অটো-হাসকিং-মেজর মিল মালিক সমিতি। সংগঠনটির হিসাবে দেশে প্রায় ১৭ হাজার চালকল রয়েছে। অবরোধের কারণে ৭০ শতাংশ চালকল বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণত জানুয়ারির দিকে হাটে ধানের দাম বাড়তে থাকে। মার্চ-এপ্রিলে বোরো কাটা শুরু হলে দাম কমে আসে। এবার জানুয়ারিতেই ধান-চালের দাম কমতে শুরু করেছে। প্রতি মণ ধান ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ভোক্তাপর্যায়ে চালের দাম কমেনি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি শীর্ষক প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) হিসাবে গত এক মাসে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম এক টাকা বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন বাজারে চালকলগুলো থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহ হতো—এ কথা জানিয়ে বাংলাদেশ অটো-হাসকিং-মেজর মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী জানিয়েছেন, এখন প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার টন চাল সরবরাহ করতে পারছেন তাঁরা। চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অবরোধের আগে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে একেকটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এখন প্রায় সব এলাকার ট্রাকের ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তাও সব ট্রাক পণ্য পরিবহনে রাজি হচ্ছে না। মাহবুব হোসেনের মতে, অবরোধের কারণে ব্যবসায়ীরা তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলছেন। কিন্তু কৃষকের পক্ষে দেশে শক্তিশালী সংগঠন না থাকায় তাঁরা ক্ষতির কথা রাষ্ট্রের কানে তুলতে পারছেন না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত কৃষকের জন্য সরকার যদি ক্ষতিপূরণ দিতে পারে, তাহলে রাজনৈতিক দুর্যোগের ক্ষতি পোষানোর জন্য কৃষককে সহায়তা দেওয়া উচিত। কেননা, ক্ষতির কারণে কৃষক উৎপাদন কমিয়ে দিলে তার ফলাফল হিসেবে সামগ্রিকভাবে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যের দাম বেড়ে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বেশি দামে খাদ্য আমদানি করতে হবে।

‘যে পোড়ে সেই বোঝে কি যন্ত্রণা’ by সালমান ফরিদ

হাতের আঙুল সামান্য পুড়ে গেলে সেই যন্ত্রণাই অসহ্য হয়ে ওঠে। আর যার সারা শরীর পুড়ে গেছে তার কতটুকু যন্ত্রণা সইতে হচ্ছে তা কেবল সেই বোঝে। অবরোধের আগুনে পুড়ে আমাদের সেই অসহ্য যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এভাবে রাজনীতির বলি বানিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছেন কেউ, আবার কেউ যেতে চাইছেন মসনদে। আমরা রাজনীতি বুঝি না। গরিব, খেটে খাওয়া মানুষ। পরিবার চলে আমাদের আয়-রোজগারে। সেই উৎস বন্ধ হয়ে গেলে উপোস থাকতে হয় পরিবারের সদস্যদের। এ থেকে আমরা মুক্তি চাই। আমরা আর রাজনীতির বলি হতে চাই না।’ দুই হাতের আঙুল থেকে কোনই পর্যন্ত ব্যান্ডেজ করা। মুখের সামনের দিকটা পুড়ে ফুলে গেছে। ডান পাশের কানের অবস্থা আরও বীভৎস। ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছিলেন সামনের দিকে। আর যেন খুঁজছিলেন কাউকে মনের গহিনে থাকা দুঃখগুলো ভাগ করে নেবেন বলে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে এভাবেই একটানা প্রকাশ করলেন মনের ভেতরে থাকা যন্ত্রণাগুলোকে। তার নাম বিল্লাল হোসেন। বয়স ২৮। গুলিস্তানে কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন। বাড়ি ঢাকার রূপগঞ্জের ভুলতায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি। গত ২৪শে জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে অবরোধের আগুনে যে ২৯ জন দগ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তিনি তাদের একজন। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল। তবুও বললেন। প্রত্যাশা একটাই, তার কথাগুলো যেন দুই নেত্রী আর রাজনীতিবিদদের কান পর্যন্ত যায়। বিল্লাল যখন কথা বলে থামলেন, তখন মুখে ছিল শেষ আকুতি- ‘রাজনীতিবিদদের কাছে আমাদের জীবনের হয়তো মূল্য নেই, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের কাছে আমরা একমাত্র অবলম্বন। পরিবারগুলোকে আর পথে বসাবেন না। আগুনে পুড়িয়ে পঙ্গু-অকর্মণ্য বানিয়ে আর নিঃস্ব করবেন না। আমরা করুণা চাই না। দয়া করে নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা দিন।’ শুধু বিল্লাল হোসেন নন। অবরোধ-হরতাল নামক মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের বলি হয়ে বার্ন ইউনিটে যারাই ভর্তি হয়েছেন তারা একই অনুরোধ জানাচ্ছেন। বলছেন, দেশটায় আর কত আগুন জ্বলবে। এবার শান্তি চাই। শান্তি না এলে প্রতিদিন এ রকম আগুনে পোড়া মানুষের সংখ্যা শুধু বাড়তেই থাকবে। অবরোধ ও হরতাল অব্যাহত থাকায় প্রতিদিই পেট্রলবোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে এসে ভর্তি হচ্ছেন অসংখ্য ব্যক্তি। ওয়ার্ডে, বারান্দায় অতিরিক্ত সিটে, ফ্লোরে বিছানায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। হরতাল-অবরোধে আক্রান্ত হলে তাদের ‘অবরোধ ভিকটিম’ ও ‘হরতাল ভিকটিম’ হিসেবে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালের চিত্র এখন ভয়াবহ। চারদিকে কষ্ট ও গোঙানির করুণ সুর। যন্ত্রণায় কাতর নারী-পুরুষ ও শিশুদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি। রোগী, অভিভাবকের আর্তনাদ এখন সবগুলো ওয়ার্ডে। চিকিৎসকরা অবিরাম দিয়ে চলছেন সেবা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দগ্ধদের মনে এতটুকু দুঃখ নেই, যতটুকু ক্ষোভ নিয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন অবরোধ ভিকটিম হয়ে। কোন দগ্ধ রোগীর বিছানার পাশে বসে কাঁদছেন মা। কারও বা স্ত্রী-ভাই। স্বজনের যন্ত্রণায় তাদের কাছে সান্ত্ব্তনার কোন ভাষা নেই। শরীর বুলিয়ে দিচ্ছেন, কেউ বা হাত, মুখ কিংবা মাথা। অসহ্য যন্ত্রণার মাঝে কাছের মানুষের এতটুকু সহানুভূতির মধ্যেই তারা শান্তি খুঁজছেন। খাগড়াছড়ির রামগতিতে ২৪শে জানুয়ারি পেট্রলবোমায় দগ্ধ ট্রাকের হেলপার গিয়াস উদ্দিন রাশেদের (২৬) মা সেলিমা বেগমের চোখেমুখে এখনও ভয়। রাশেদের মুখে হাতে, পিঠে ব্যান্ডেজ। সন্তানের সঙ্গে নিজেই যেন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তার চোখে পানি। কতক্ষণ পরপর বুকের মানিকের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। তাকিয়ে থাকছেন চোখ বন্ধ করে থাকা রাশেদের দিকে। ‘তাদের স্বার্থের জন্য আমার সন্তানকে এমন পরিণতি কেন ভোগ করতে হবে? সহ্য হয় না ছেলের পোড়া মুখ দেখে। কেন এমন হবে? আমরা হরতাল-অবরোধ কি- বুঝি না। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত পেটে দিতে পারলেই খুশি। আমাদের নিয়ে এই নিষ্ঠুর খেলা আর খেলবেন না।’ রাশেদ বলেন, ট্রাক আন-লোড করে নোয়াখালীর দিকে ফিরছিলাম। এ সময় রাস্তার পাশে ১২-১৩ বছরের একটি শিশুকে দেয়াশলাই জ্বালাতে দেখলাম। কিন্তু পরেই দেখি সে আমাদের দিকে ককটেল ছুড়ে মারলো। আমি বাম পাশে থাকায় সেটি এসে আমার গায়ে লাগে। অগ্নিদগ্ধ বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই সোহাগ বলেন, আমাদের পুরো পরিবার তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এখন সেই ভাই বেকার হয়ে গেলে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। রাজনীতির জন্য আমাদের এ অবস্থা। রাজনীতিবিদরা আমার ভাইয়ের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিন। না হলে আমরা না খেয়ে মরবো। এ দেশে জন্ম নিয়ে কি এ অনিশ্চয়তা উপহার পাবো? যাত্রাবাড়ীতে অগ্নিদগ্ধ শহিদুল ইসলাম (৪০) বলেন, আগুন লাগার পর আমি তখনই নেমে যেতে পারতাম। তাহলে হয়তো এখন আমার শরীরের ১০ শতাংশ বার্ন থাকতো না। আমি আরও ৪-৫ জনকে বাঁচাতে গিয়ে পুড়ে যাই। তবে সান্ত্বনা একটাই যে যদিও আমি তাদের উদ্ধার না করতাম তাহলে চোখের সামনে হয়তো তাদের কেউ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেতেন। আমার কাছে মানুষগুলোর জীবন তখন মূল্যবান ছিল। তার শ্যালক সায়মন বলেন, মানুষ যেখানে পেট্রল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারতে চাইছে সেখানে নিজের বিপদ ডেকে এনে অনেকের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমাদের রাজনীতিবিদরা এগুলো দেখেন না। বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দগ্ধ মানুষগুলোকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি হয়তো আর হয় না। কিন্তু সুস্থ করে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দিই। তিনি জানান, এ পর্যন্ত গত ৫ই জানুয়ারি থেকে অবরোধ ও হরতালে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৮৫ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন ৩০ জন। ভর্তি আছেন ৫০ জন। এদের ৯ জনের অবস্থা এখনও গুরুতর। ৬ জন আছেন সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে।

নীল হেলমেটধারীদের ভূমিকায় বড় পরিবর্তন আসন্ন!

৮ বিলিয়ন ডলার খরচায় পরিচালিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুগান্তকারী সংস্কার আনা হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া জাসে রামোস হোর্তার নেতৃত্বাধীন হাই লেভেল প্যানেল আগামী সেপ্টেম্বরের যথেষ্ট আগেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তিনি গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করেন। গত ২০শে জানুয়ারি কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে জোসে হোর্তার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংঘাত পূর্ণ দেশে জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং সংঘাতপূর্ণ কোন দেশে হস্তক্ষেপে সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতির নীতিতে অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারণ কূটনীতিকরা ধারণা করেন যে, সংঘাতে জড়িত থাকা পক্ষগুলোর সম্মতির ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। একটি ওয়াকেবহাল কূটনৈতিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভাষণে শান্তিরক্ষীরা নিজেরা আক্রান্ত না হলে গুলি চালাবে না বলে যে অবস্থান টিকিয়ে রাখার সুপারিশ করেছেন তা ইতিমধ্যেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। কারণ ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১০টি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ সুদানে ৬০০ ও কঙ্গোতে ১শ’ নিরীহ লোক মারা গেছে। গত জুলাইয়ে কঙ্গোতে ৩০ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার সময় মাত্র ৫ মাইল দূরে থাকা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এ নিয়ে শান্তিরক্ষা তহবিলে চাঁদা প্রদানকারী শীর্ষ দেশগুলো কঠিনভাবে প্রশ্ন তুলেছে। তারা মনে করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও সংঘাতপূর্ণ দেশে আক্রান্ত বেসামরিক নাগরিকদের বাঁচাতে হবে। নীল হেলমেটধারীরা প্রাণের ভয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে এই বাহিনী পুষে লাভ কি। অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলো বেতন বাড়ানোর দাবি তুলেছে। তাদের যুক্তি গত এক দশকে বেতন বাড়ানো হয়নি। আশা করা হচ্ছে ১৫-২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে রামোস হোর্তার প্রতিবেদন আলোচনায় আসবে। জাতিসংঘের গাইডলাইন অনুযায়ী বিবদমান পক্ষগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে বিরোধপূর্ণ দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন মোতায়েন করা হয়ে থাকে। তবে নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে বিবদমান পক্ষগুলোর সম্মতি ছাড়াও হস্তক্ষেপ করতে পারে। যদি সেখানকার সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তখন তার নাম হবে পিস এনফোর্সমেন্ট অপারেশন। বেসামরিক নাগরিকের জীবন ব্যাপকভাবে বিপন্ন হলে মানবিক কারণেও তখন হস্তক্ষেপ ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ২০১৫ সালেও বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শীর্ষ ট্রুপস কন্ট্রিবিউটিং কান্ট্রির অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৬টি সংঘাতপূর্ণ দেশ/অঞ্চলে এক লাখের বেশি জাতিসংঘ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এশিয়া প্রশান্ত অঞ্চলই জাতিসংঘ শান্তিমিশনে প্রায় ৪০ ভাগ সৈন্য ও ৩৩ ভাগ পুলিশের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। প্রায় ৪১ হাজার এশিয় শান্তিরক্ষী সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। জাতিসংঘের নীল হেলমেটধারীদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি সেনা রয়েছে। আর এই মিশনগুলোর বার্ষিক বাজেট মেটাচ্ছে মূলত তিনটি দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ফ্রান্স। এই প্রেক্ষাপটে ভারত নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসন চাইছে। ভারতের বিদেশনীতিতে এই মুহূর্তের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসন লাভ করা। বারাক ওবামা ও নরেন্দ্র মোদির অন্তরঙ্গ বৈঠকে ভারত সেই সম্ভবনাকে স্পষ্ট করে তুলছে।
১৯৮৮ সাল থেকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে থাকা বাংলাদেশী। হাইতির ও কঙ্গোর মিশনে বাংলাদেশী নারী পুলিশও সম্পৃক্ত হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিক রক্ষায় নীল হেলমেটধারী শান্তিরক্ষীরা বহুক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৯৪০০ শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ৮০০৩ জন সৈন্য, ৮২ জন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও ১৩১৫ পুলিশ রয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন পূর্ব তিমুরের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জোসে রামোস হোর্তাকে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টাবরে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সংস্কারে হাইলেভেল প্যানেলের সভাপতি নিয়োগ করেন। ২০০০ সালে সর্বশেষ লাখদার ইব্রাহিমির নেতৃত্বাধীন কমিটি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বড় রকমের পরিবর্তন এনেছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ছিল। এ সময় শান্তিরক্ষায় বিরাট সংস্কার আনতে ইব্রাহিমির উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিল। ১৯৪৮ সাল থেকে এপর্যন্ত ৬৯টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কাজ করেছে। বর্তমানে মোতায়েন রয়েছে ১৬টি শান্তিরক্ষা মিশন। উর্দি পরিহিত সদস্য সংখ্যা এক লাখের বেশি। এর মধ্যে সৈন্য ৮৯,৬০৭। পুলিশ ১২৪৩৬। সামরিক পর্যবেক্ষক ১৭৫৫। ১২৮টি দেশ ট্রুপস কন্ট্রিবিউটিং কান্ট্রি। ১৯৯১ সাল থেকে পশ্চিম সাহারায়, ২০১৪ এর এপ্রিল থেকে সেন্ট্রাল অফ্রিকান রিপাবলিক, ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে মালি, ২০০৪ সালের জুন থেকে হাইতি, ২০১০ সালের জুলাই থেকে কঙ্গো, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে দারফুরে, ২০১১ সালের জুন থেকে সুদানের আবেয়িতে, ২০১১ সালের জুলাই থেকে দক্ষিণ সুদানে, ২০০৪ সালের এপ্রিলে আইভোরি কোস্টে, ১৯৯৯ সালের জুন থেকে কসোভোতে, ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লাইবেরিয়ায় নীল হেলমেটধারীরা মোতায়েন রয়েছেন। তবে এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় গত কয়েক দশক ধরে শান্তিরক্ষীরা মোতায়েন রয়েছে। ১৯৭৪ সালের জুন থেকে সিরিয়ায় রয়ে গেছে ইউনাইটেড নেশনস ডিসএনগেঞ্জমেন্ট অবজারভার ফোর্স, ১৯৬৪ সালের মার্চ থেকে সাইপ্রাসে শান্তিরক্ষা মিশন রয়েছে। ১৯৭৮ সালের মার্চ থেকে লেবাননে, ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি থেকে ভারত উপমহাদেশে মোতায়েন রয়েছে ইউনাইটেড নেমনস মিলিটারি অবজারভার গ্রুপ ইন ইন্ডিয়া এন্ড পাকিস্তান। এছাড়া ১৯৪৮ সালের মে থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে জাতিসংঘের ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন।

প্রথা ভাঙার চমক

প্রজাতন্ত্র দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফর নানা কারণে আলোচনা দুনিয়া জুড়ে। একদিকে ওবামা। অন্যদিকে মোদি। দু’জনই প্রথা ভাঙায় চমক দেখাচ্ছেন। দরুণ পালাম বিমানবন্দরের কথা-ই। তাবৎ নিরাপত্তা কর্তারা যখন তটস্থ। ঠিক তখন অকস্মাৎ হাজির মোদি। প্রটোকল সরিয়ে ওবামা দম্পতিকে চমকে দিয়ে শুধু স্বাগতই জানালেন না। করমর্দনেই না থেমে করলেন উষ্ণ আলিঙ্গন। হায়দরাবাদ হাউসের বাগানে হেঁটে এসে আড্ডার ফাঁকে ওবামাকে চা বানিয়ে খাওয়ালেন নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ‘বারাক’ বলে সম্বোধন করে মোদি। যৌথ বিবৃতিতেও তার রেশ থেকেছে। লেখা হলো হিন্দিতে ‘চলিয়ে সাথ সাথ।’ দু’নেতার বক্তৃতাতেও রয়েছে সম্পর্কের গাঢ় উষ্ণতার ছাপ। মোদির উদ্দেশে ওবামা বললেন, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে দেখলাম আপনার জনপ্রিয়তা বলিউড তারকার মতো। মোদিকে লক্ষ্য করে বলে ওঠেন, প্রধানমন্ত্রী বললেন কাল তিন ঘন্টা ঘুমিয়েছেন। শুনে খারাপ লাগলো। আমিতো দিব্যি ঘন্টা পাঁচেক ঘুমিয়েছি। মোদি কুর্তা একটা পরার ইচ্ছা ছিল আমার। মোদিও কম যাননি। বাচন পটিয়সি মোদি বললেন, বারাক আর আমার রসায়নই ভারত আর আমেরিকাকে কাছে এনেছে। আমি বারাককে ফোন করে গপ্পো করি। ক্যামেরা না থাকলে আড্ডা দারুণ জমে! দু’জনের মধ্যে কি কথা হলো তা পর্দে মে রহেনে দো!
চুইংগাম চিবিয়ে আলোচনায় ওবামা
প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথির আসনে উপবিষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। উপভোগ করছেন চৌকস কুচকাওয়াজ। আর মনের আনন্দে চিবিয়ে চলেছেন চুইংগাম। সে দৃশ্য ধরা পড়লো ক্যামেরায়। মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ওবামার চুইংগাম চিবানোর ছবি। এ নিয়ে নানা আলোচনা। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। ছবিতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওবামাকে কিছু একটা বোঝাতে চেষ্টা করছেন আর ওবামা মুখ থেকে চুইংগামটা সরিয়ে ফেলছেন। গুরুত্বপূর্ণ কোন অনুষ্ঠান চলাকালে চুইংগাম চিবুতে ওবামাকে এবারই প্রথম দেখা গেছে তা নয়। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত অ্যাপেক সম্মেলনে চুইংগাম চিবুতে গিয়ে রীতিমতো বিপত্তিতেই পড়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে কঠোর সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। ফ্রান্সে ২য় বিশ্বযুদ্ধ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও চুইংগাম চিবুতে গিয়ে ক্যামেরায় ধরা পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ডাক পাবার আশায় যশোদাবেন
এখনও তিনি অপেক্ষায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে যখন তিনি ভোজনে ব্যস্ত তখন তার একটি ফোনকলের অপেক্ষায় তিনি। আর তিনি হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্ত্রী যশোদাবেন ছিমানলাল মোদি। গতরাতে যখন ওবামা-মিশেলের সঙ্গে মোদি নৈশভোজে মিলিত হন তখন তার পাশে ছিলেন না যশোদাবেন। তিনি কুমারী বধূর মতোই দূর থেকে টেলিভিশনে দেখেছেন সে দৃশ্য। নরেন্দ্র মোদি কিশোর বয়সে বিয়ে করেছিলেন তাকে। এখন মোদির বয়স ৬৪ বছর। গত লোকসভা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি সেই বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন। ততদিনে গঙ্গার পানি গড়িয়েছে বহুদূর। সে পানি সাগরে পৌঁছে হয়তো মেঘ হয়েছে। তা থেকে বৃষ্টি ঝরে আবার গঙ্গায় মিশেছে। কিন্তু যশোদাবেন-মোদির আর মিলন হয় নি। নির্বাচনের আগে বিয়ের কথা স্বীকার করলেও তিনি এখনও কাছে ডেকে নেন নি যশোদাবেনকে। এরই মধ্যে তিনি যশোদাবেন স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গিয়েছেন। এখনও আশা করেন, একদিন মোদি তাকে ফোন করবেন। কাছে ডেকে নেবেন। যশোদাবেন বলেন, যদি তিনি আমাকে কাছে ডাকেন, আমি যাবো। আমি টেলিভিশনে তার সব বক্তব্য শুনি। তাকে কথা বলতে শুনে আমার কাছে খুব ভাল লাগে। তিনি যেন জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণাঙ্গভাবে রাখতে পারেন আমি তা-ই চাই। ঈশ্বরের কাছে এটাই আমার প্রার্থনা।
প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রদর্শনীতে স্থান পায়নি পশ্চিমবঙ্গ
গত বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে সেরা প্রদর্শনীর পুরস্কার পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। আর এবার তাদের প্রদর্শনী স্থান পায়নি ‘রাজপথে’। শেষ মুহূর্তে বাদ দেয়া হয় ‘কন্যা শ্রি’ থিমে প্রস্তুত করা পশ্চিমবঙ্গের প্রদর্শনী। আর এতে বেজায় চটেছেন মমতা ব্যানার্জির সরকার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূলক কংগ্রেসের এক সংসদ সদস্য ডেরেক ও ব্রাইয়েন তার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এক টুইট বার্তায়। তিনি লিখেছেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রজাতন্ত্র দিবসে কন্যা শ্রি  উদ্যোগ তুলে ধরে তৈরি বাংলার প্রদর্শনী প্রদর্শনের সুযোগ দেয়া হয়নি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা খুবই মর্মাহত আর হতাশ। পশ্চিমবঙ্গের কর্মকর্তাদের দাবি তাদের প্রদর্শনী একেবারে শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। জনকল্যাণ কর্মসূচির  ওপর ‘কন্যা শ্রি’ শীর্ষক তাদের প্রদর্শনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রদর্শনীর সাদৃশ্য ছিল বলে তা বাতিল করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সপ্তাহে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পাড়াও’ (আপনার মেয়েকে বাঁচান, আপনার মেয়েকে পড়ান) শীর্ষক একটি স্কিম চালু করেন। তার ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের প্রদর্শনী তৈরি করেছে। বার্ষিক এ কুচকাওয়াজের আয়োজক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গকে জানিয়েছে, কোন রাজ্যের প্রদর্শনীতে ওই রাজ্যের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে হবে; শুধুমাত্র একটি স্কিমকে নয়। বিজেপি শাসিত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিকল্প আরেকটি প্রস্তাব পাঠাতে অস্বীকৃতি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর যেসব রাজ্য প্রদর্শনী থেকে বাদ পড়েছে সেগুলো হলো, বিহার, তামিলনাডু, উড়িষ্যা, কেরালা, পাঞ্জাব, দিল্লি ও নাগাল্যান্ড।
নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইসলামাবাদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসলামাবাদ। নয়াদিল্লি যখন ওবামাকে রাজকীয় আতিথেয়তায় বরণ করে নিয়েছে, তখন পাকিস্তান আশা প্রকাশ করেছে, তার এ সফর দক্ষিণ এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমিত করতে সহায়ক হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আঞ্চলিক প্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশিত লক্ষ্য পাকিস্তান-ভারতের মধ্যকার সুসম্পর্ক ছাড়া অর্জিত হবে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন অভ্যর্থনায় বরণ করা হয়েছে বারাক ওবামাকে। ভারতের দু’বার সফর করা প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনি। তিন দিনের এ সফরে ওবামার কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) কোন প্রকার উস্কানি ছাড়াই ভারতীয় বাহিনীর গুলি ছোড়ার ইস্যুটি উত্থাপন করবেন। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যাশা, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে থমকে যাওয়া শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উৎসাহিত করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে নয়াদিল্লিকে দায়ী করে আসছে ইসলামাবাদ। গত বছরের শুরুতে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ যোগ দেয়ার পর সম্ভাবনাময় এক সূচনা হয়েছিল। কিন্তু, একে অপরকে দায়ী করার অব্যাহত রীতি আর আস্থার ঘাটতি, পারমাণবিক ক্ষমতাধর এ দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে। সারতাজ আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ সফরে তিনি পাকিস্তানের উদ্বেগের বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হন। এর মধ্যে একটি হলো নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতের আগ্রাসন।

ওবামার ভারত সফর- সতর্ক দৃষ্টি চীনের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফরের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে চীন। ওবামার দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরকে উপর-উপর ভালো সম্পর্ক পুনঃস্থাপন বলে মন্তব্য এসেছে চীনের পক্ষ থেকে। এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়া দিল্লিতে ওবামার আগমন চীনের রাষ্ট্রীয় সিসিটিভি চ্যানেলে এক প্রকার ব্রেকিং নিউজের মতোই দেখানো হয়েছে। বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভ্যর্থনা জানানোর দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে চ্যানেলটিতে। এ সফর চীনের ওপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটা কোন মার্কিন কৌশলের অংশ কিনা- সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া এক মন্তব্যে বলেছে, উভয় বড় রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের আলোকে তিন দিনের এ সফর যতটা না ব্যবহারিক ততটা প্রতীকী। আর তাদের মধ্যকার পার্থক্য হতে পারে দু’রাষ্ট্রের মধ্যকার ভৌগোলিক দূরত্বের সমান। হাজার হলেও মাত্র এক বছর আগে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে করা আচরণ নিয়ে জনগণের ব্যাপক ক্ষোভ প্রতিবাদের মধ্যে নয়া দিল্লি থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা হয়। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যিনি সে সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এটাই পুরোটা নয়। উপর-উপর এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপন একটা মধ্যস্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। মতামত কলামে আরও বলা হয়, ভারতকে পাশে পাওয়া ওবামার প্রয়োজন। আর ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক দেশটির বহুমুখী গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর তা আর্থিকভাবে লাভজনক হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব এবং পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা ইস্যুগুলোতে ওবামা ও মোদির কঠোর মতপার্থক্যের আলোকে সত্যিকারের বন্ধু হতে তিন দিন নিশ্চয়ই যথেষ্ট নয়। আর পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি ২০০৮ থেকে জটিল অবস্থানে রয়েছে। মতপার্থক্যের এতো লম্বা তালিকাকে সামনে নিয়ে ভারতীয় বন্ধুদেরকে একই স্থানে সম্মত হিসেবে পেতে ওবামার জন্য কাজটা কঠিন হবে।

পলিনা ভেগা মিস ইউনিভার্স

ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এফআইইউ) অ্যারেনা তখন আলো ঝলমলে। তার ভেতর উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছেন বিশ্ব সুন্দরীরা। সেই সঙ্গে উত্তেজনা বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের মাঝে- কে হচ্ছেন এবারের মিস ইউনিভার্স! সমস্ত আয়োজন শেষে রোববার রাতে যখন এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা তখন উপস্থাপক দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা দিলেন কলম্বিয়া সুন্দরী পলিনা ভেগা’র নাম। তিনিই এবার নির্বাচিত হয়েছেন মিস ইউনিভার্স। এ ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়ুয়া ভেগা যেন অনুভূতি হারিয়ে ফেলেন। তার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যেতে তাকে এক হিম অনুরণন। তিনি বিশ্বের সব সুন্দরীকে পেছনে ফেলে মিস ইউনিভার্স! যেন নিজেকে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। কিন্তু আবেগ তো আর থেমে থাকে না। আবেগে তার চোখের কোণে দেখা মেলে অশ্রু। চারদিকে তখন হর্ষধ্বনি, হাততালি। কেউ বা শিশ বাজাচ্ছেন মুখে। এ এক অন্য দৃশ্য। বিশ্বের ৮৮টি দেশের সুন্দরীদের হারিয়ে ‘মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতে নেন ২২ বছরের এ যুবতী। এতে প্রথম রানার আপ হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগী নিয়া সানচেজ। দ্বিতীয় রানার আপ নির্বাচিত হন মিস ইউক্রেন দিয়ানা হারকুশা।  এবারের মিস ইউনিভার্সকে বিজয়ী মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ইউনিভার্স ভেনিজুয়েলার গাব্রিয়েলা ইসলার। মিস ইউনিভার্স পলিনা ভেগা পাবেন বেতন, নিউ ইয়র্কে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, একটি ওয়ারড্রোব, রূপসজ্জার পণ্য, নিউ ইয়র্ক ফিল্ম একাডেমি থেকে এক বছরের বৃত্তি। তবে তিনি কত বেতন পাবেন তা প্রকাশ করা হয় নি। মিস ইউনিভার্স নির্বাচিত হওয়ার পর ভেগা বলেছেন, নারীদের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। একজন নারী তখনই সত্যিকার সুন্দরী হন যখন তিনি পেশাদারিত্বের প্রতি, বুদ্ধিমত্তা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতি যত্নবান হন। এর সঙ্গে যোগ হয় তার নিজস্ব সৌন্দর্য ও লাবণ্য। এর আগে মিস কলম্বিয়ার মুকুট জিতেছিলেন পলিনা। তার মাথায়ও উঠেছিল মিস ইউএসএ মুকুট। কলম্বিয়ার বারানকিলার এলাকার যুবতী পলিনা বলেন, এটা আমার এগিয়ে চলার পাথেয়। তবে এ ধরনের বিশ্বমঞ্চে এবারই প্রথম উঠলাম এবং এবারই শেষ। আমার মডেলিংয়ের প্রতি কিংবা মিডিয়ার কাজের প্রতি তেমন কোন আগ্রহ নেই বললেই চলে। তাই এ জায়গাটিতে থাকার ইচ্ছা আপাতত নেই। আমি পড়াশোনা করছি। নিজের পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে চাই। আমি জানি, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে অবশ্যই শিক্ষাটা জরুরি। তাই এখন আমি পড়াশোনায় মন দেবো। গ্র্যান্ড ফিনালের আগে পলিনা বলেছিলেন, এত বড় মঞ্চে নারীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার জন্য স্বপ্নের এবং সৌভাগ্যের। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পারিবারিক আবহে বড় হয়েছেন পলিনা। তার দাদা গ্যাস্টন ভেগা একজন বিখ্যাত সংগীত শিল্পী। শুধু তাই নয়, দাদি ইলভিরা সুজানা ক্যাস্টিলো গোমেজ পলিনার মতোই একজন তুমুল পারফরমার ছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি মিস আটলান্টিকো হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

বার্ন ইউনিটে নতুন ১০ চিকিৎসক, দুই রোগী আইসিইউতে- চিকিৎসা শেষে আটজনকে ছুটি

(বিয়ে হয়েছে মাত্র কয়েক দিন। এর মধ্যে স্বামী সালাহউদ্দিন দগ্ধ পেট্রলবোমায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্বামীর পরিচর্যায় ব্যস্ত নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পঁাচরুখী গ্রামের বধূ ঊর্মি আখতার l ছবি: সাহাদাত পারভেজ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রোগীদের চিকিৎসা-সুবিধার জন্য সেখানে সাময়িকভাবে ১০ জন চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা হামলায় দগ্ধ দুজনকে গতকাল নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে অবরোধ চলাকালে আগুনে দগ্ধ আটজনকে চিকিৎসা শেষে ছুটি দেওয়া হয়েছে। যে ১০ জন চিকিৎসককে বার্ন ইউনিটে সাময়িকভাবে দেওয়া হয়েছে তাঁরা সারুলিয়া ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, তেজগাঁও থানা কমপ্লেক্স, মুগদা ও কুর্মিটোলা ৫০০ শয্যার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। গতকাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ীর কাঠের পুল এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলায় দগ্ধ ২৯ যাত্রীর মধ্যে নূরে আলম ও নিরঞ্জনকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ব্রিফিংয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের শিক্ষক সাজ্জাদ খন্দকার আরও জানান, হরতাল-অবরোধের সময় আগুনে দগ্ধ রোগীদের মধ্যে আটজনকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন টিটন, জয়নাল, শহীদুল, মোশাররফ, সালাউদ্দিন, তানভীর ও স্বপ্না। এঁদের মধ্যে চারজন যাত্রাবাড়ীর কাঠের পুলে বাসে দগ্ধ হয়েছিলেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অবৈতনিক উপদেষ্টা সামন্ত লাল সেন পরামর্শ দিয়েছেন, দগ্ধ হওয়ার পর থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত পোড়া জায়গায় পানি ঢালতে হবে। পাশাপাশি তিনি দরিদ্র অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বাস, ট্রাক, অটোরিকশাচালকদের বেশির ভাগেরই হাত পুড়ে গেছে। এঁরা পুরোনো পেশায় ফিরে যেতে পারবেন কি না সংশয় আছে। পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে এঁদের অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিতে বাধ্য হবেন। সংবাদ সম্মেলনে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান ১০ জনের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গতকাল ব্রিফিংয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আওয়ামী লীগের সাংসদ গাজী গোলাম দস্তগীর উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার যাত্রাবাড়ীর কাঠের পুল এলাকায় গুলিস্তান থেকে ভুলতাগামী বাসে যাঁরা দগ্ধ হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই গোলাম দস্তগীর গাজীর নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, আহত ব্যক্তিদের একজন রূপগঞ্জের বিএনপির নেতা কাজী মনিরের কারখানার শ্রমিক। হামলা হয় এমন বাসে আওয়ামী লীগ, বিএনপির সমর্থক এমনকি বোমাবাজের স্বজনও থাকতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যাঁরা স্যুট-টাই পরা রাজনীতি করি, আমরা তো পথে নামি না। টাকা দিয়ে ভাড়াটে লোককে কাজে লাগাই।’
অবরোধে দগ্ধ নতুন কোনো রোগী গতকাল বার্ন ইউনিটে ভর্তি হননি।

যৌথবাহিনী নিষ্ঠুর অপারেশনের প্রতিষ্ঠান -বিএনপি

বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি এখন যৌথবাহিনীর নিষ্ঠুর অপারেশনের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রখ্যাত রাষ্ট্র বিজ্ঞানী হ্যারল্ড লাস্কির এই বহু উদ্ধৃত উক্তিটি হচ্ছে- ‘রাষ্ট্রের চরিত্র কেমন তা বোঝা যায় রাষ্ট্রের কর্মচারীরা কেমন তার ওপর’। লাস্কি’র উক্তিটি যে কতটা কার্যকর তা এখন বাংলাদেশের প্রত্যেকে বুঝতে পারছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি যে এখন বর্বর, নিপীড়ক, দমন-পীড়ন, হত্যা, গুম, খুন ও যৌথবাহিনীর নিষ্ঠুর অপারেশনের প্রতিষ্ঠান তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা যথার্থভাবেই সকলকে টের পাইয়ে দিচ্ছেন। একেকদিন একেকজন কর্মকর্তার বক্তব্য শুনলে মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্ত্র যেন আওয়ামী লীগের তহবিল থেকে কেনা। সুতরাং তারা মনে করেন, এই অস্ত্র ব্যবহারে কোন জবাবদিহিতার দরকার নেই। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগপন্থি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানরা ছাড়পত্র দিয়েছেন তাদের জওয়ানদের। অস্ত্র গোলাবারুদ কেন অকেজো করে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেছেন র‌্যাবের ডিজি। কেন অস্ত্রশস্ত্র খেলার উপকরণ হিসেবে ফেলে রাখা হয়েছে। কেন যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে না। র‌্যাবের মহাপরিচালক আরও বলেছেন- বিচারবহির্ভুত হত্যা বলে নাকি কিছু নেই। রিজভী আহমেদ এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, তাহলে খিলগাঁও ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনিকে কোন বিচারের আওতায় প্রাণদ  দেয়া হয়েছে? কোন আদালতের রায়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়? সপ্তাহ খানেক আগে দলের চারজন কর্মীকে ধরে নিয়ে গিয়ে টার্গেট হত্যা করা হয় কোন বিচারে?  রোববার খুলনায় র‌্যাবের মহাপরিচালকের দেয়া বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দর্শন, চিন্তা, নীতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ধারণ করার অপরাধে জনগণের টাকায় কেনা বুলেট দিয়ে এই বিচার বহির্র্ভূত টার্গেট হত্যা করা হয়। এগুলো যদি বিচার বহির্ভূত হত্যা না হয় তাহলে এগুলো কোন বিচারের অন্তর্ভুক্ত হত্যা? এসব দেশবাসী জানতে চায়। রিজভী বলেন, খাল-বিল, নদী নালায় এত লাশ পড়ে আছে কার বিচারে? আজকেও নরসিংদীর তিন কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে আশেপাশে সাতটি লাশ পাওয়া গেছে। এগুলো কিসের আলামত? দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্র এখন ভয়াল ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারহীন একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারি কর্মচারীদের দলের আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক করা হয়। সেখানে নিরপেক্ষতার ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন করা যায় না। বিএনপি এ নেতা বলেন, বাংলাদেশে চোখের ইশারাও যদি সরকারবিরোধী মনে হয় তাহলেও নিপীড়নের শিকার হতে হবে, সেই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি এখন বাংলাদেশে বিরাজমান। অমানবিক নাশকতার বিভৎস ঘটনা ঘটানো হচ্ছে সারাদেশ জুড়ে। পেট্রল বোমা মেরে মানুষকে দগ্ধ করার বিরামহীন দৃশ্য দেখানো হচ্ছে টেলিভিশনে। বার্ন ইউনিটের অমানবিক দৃশ্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের আন্দোলনের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে হাইপার প্রচারাভিযান। রিজভী বলেন, কয়েকদিন ধরেই জনশ্রুতি ছিল- সরকার নিজেই একটা বড় ধরনের নাশকতা করবে। যেটির বিদেশ থেকে পরিচালিত একটি পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যাতে পুরো দায়টা বিরোধী দলের ওপর চাপানো যায়। ২৩শে জানুয়ারি রাতেই ডেমরায় বাসে আগুন দিয়ে ৩৫ জন বাসআরোহীদের অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটানো হলো। আর পরের দিন শোকে কাতর সন্তানহারা মা খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা দেয়া হলো। সমগ্র ঘটনাটাই একটা মাস্টারপ্ল্যানের অংশ বলে সর্বসাধারণ বিশ্বাস করে। রিজভী আহমেদ বলেন, পেট্রল বোমা, গান পাউডার, গাড়িতে আগুন লাগিয়ে মানুষ পোড়ানো, লগি-বৈঠার তা বে লাশের ওপর নৃত্য ইত্যাদি সর্বনাশা মরণখেলা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। সুতরাং এই সমস্ত নাশকতাকারীদের পৃষ্ঠপোষকরাই জানে কিভাবে নিজেদের স্বার্থে অমানবিক ঘটনা ঘটাতে হয়। তার প্রমাণ হলো- বিএনপি’র শাসনামলে হোটেল শেরাটনের সামনে বাসে গান পাউডার দিয়ে নয়জনকে পুড়িয়ে মারা এবং ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আকরামকে হত্যা করার পর লাশ পোড়ানোর বীভৎস ঘটনা। রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা অব্যাহত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি’র ঘোষিত নীতিমালাই হচ্ছে বহু দল ও মতে বিশ্বাস করা, মানবতা ও মানুষের মানবিক সাম্য ঊর্ধ্বে তুলে ধরা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গুম আর গুপ্তহত্যা যাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি, পেট্রল বোমা ছুড়ে নাশকতার মতো বন্য ও আদিম হিংস্রতার মানবতাবিরোধী কাজ তারাই সংঘটিত করছে যারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

ঢামেকের ক্যান্সার বিভাগে ‘কমিশন’ বাণিজ্য

হাসপাতাল থেকে ক্যান্সারের ওষুধ দেয়া হয় না।  কেমো থেরাপির দামি ওষুধ তাই কিনে আনতে হয় রোগীদেরকেই। কিন্তু রোগীদেরকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে দেন না চিকিৎসকরা। বিশেষ করে বহির্বিভাগের রোগীদের সেই ওষুধ কিনতে হয় ৩টি নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধির কাছ থেকে। আগের দিন স্লিপ দেয়া হয় রোগীদের। সেখানে চিকিৎসক নিজে নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিং প্রমোশন অফিসার-এমপিও’র নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখে দেয়া হয়। রোগীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরদিন সকালে সেই ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তখন নেয়া হয় তার মূল্য। এই দৃশ্যটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-ঢামেকের ক্যান্সার বিভাগের। বিষয়টি আপতত দৃষ্টিতে ইতিবাচক মনে হলেও এর পেছনে জড়িয়ে আছে চিকিৎসকদের স্বার্থ। শুধু বড় দাগে কমিশনের জন্য রোগীদের বাইরের কোন ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে দেন না। কেউ কিনে আনলেও তা ফিরিয়ে দেয়া হয় নানা অজুহাতে। তাদের বাধ্য করা হয় নির্দিষ্ট কোম্পানির লোকদের কাছ থেকে ওষুধ কিনতে। ঢামেক হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের অভিভাবকরাই জানিয়েছেন এ তথ্য। তারা জানান, যখন কেউ কোম্পানির লোকদের কাছ থেকে না কিনে একই ওষুধ বাইরে থেকে আনেন তখন তাদের রীতিমতো ভয় দেখানো হয়। বলা হয়, এগুলো ভাল না। ব্যবহারের পর রোগীর ক্ষতি হলে তার দায়-দায়িত্ব চিকিৎসক নেবে না। এসব কথা বলে রোগীকে তা ফেরত পাঠিয়ে কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি ওষুধ সংগ্রহ করতে বাধ্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানিগুলো প্রতি মাসে এই হাসপাতাল থেকে একটি নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থের ওষুধ বিক্রির টার্গেট করে। বিকন ও টেকনো নামের দু’টি কোম্পানি ৪০ লাখ করে টার্গেট নির্ধারণ করে ওষুধ বিক্রি করে। বোডস নামক অপর কোম্পানিও একটি বড় অর্থের টার্গেট নিয়ে কাজ করে। এর জন্য তারা শতকরা ২০ ভাগ কমিশন দেয় চিকিৎকদের। এর বিনিময়ে কোম্পানিগুলোকে ঢামেকে সুযোগ দেয়া হয়। কোম্পানির এমপিও’রা নিজেদের ওষুধ সরবরাহ করা, টার্গেট ও কমিশনের কথা স্বীকার করলেও তার পরিমাণ বলতে অস্বীকৃতি জানান। ঢামেকে ওষুধ কোম্পানি টেকনোর এমপিও জাহিদ বলেন, ওষুধ দামি এবং সব দোকান রাখেও না। আবার দোকানদাররা বেশি দামে বিক্রি করেন। আমরা কম দামে সরবরাহ করতে পারে। পাশাপাশি রোগীকে দোকানদারের কাছে যেতে হয় না। নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ ওয়ার্ডে পৌঁছে দিই। তিনি জানান, এই সুবিধা দেয়ার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের একটি ডোনেশন দেয়া হয়। তবে ঢাকা মেডিক্যালের পাশের কয়েকটি ফার্মেসির লোকজন জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিরা কখনই আসল দাম দেখান না রোগীকে। ফলে রোগী জানেনই না যে কোন দামে কিনেছেন। তারা দোকানের দামেই ওষুধ সরবরাহ করেন। তাছাড়া যেভাবে ওষুধ সরবরাহ করা হয়, এটা নিয়মের বাইরে। সূত্র জানায়, কেমো থেরাপির জন্য রোগীরা প্রতি ২১ দিন পরপর হসপাতালে আসেন। এজন্য তাদের ভর্তি হয়ে দু’দিন থেকে ইনজেকশন ও অন্য ওষুধ নিতে হয়। তাদের খরচের পরিমাণ এক নয়। ৫০০০ থেকে ২০০০০ টাকার ওষুধ লাগে কারও কারও। রোগের অবস্থা অনুসারে খরচের তারতম্য হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক পরদিন সকালের চিকিৎসার জন্য ওষুধের চাহিদা দেন। একটি নির্দিষ্ট স্লিপ দেয়া হয় রোগীর হাতে। কিন্তু এ সময় একাধিক চিকিৎসক সেখানে কোম্পানির প্রতিনিধির মোবাইল ফোন নম্বর লিখে দেন। বেশির ভাগ সময় এ কাজটি করেন সেলস সহকারী। এটা  কোম্পানির প্রতিনিধিকে ধরিয়ে দিলে তিনিই ব্যবস্থা করেন ওষুধের। পরদিন ক্যানসার বিভাগের নির্দিষ্ট একটি কক্ষ থেকে টাকা দিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়। টাকার স্লিপে লিখা থাকে যে চিকিৎসকের মাধ্যমে চাহিদাপত্র এসেছে এবং যে প্রতিনিধির মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে তার নাম। পাশাপাশি থাকে সেলস সহকারীর কোড নম্বর ও নাম। এখানে ৩ জনেরই আলাদা কোড ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেক কোম্পানির কাছে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সেলস সহকারীর পৃথক কোড থাকে। চিকিৎসকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য নামের পেছনে তার মোবাইল নম্বরের প্রথম কয়েকটি সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। মাস শেষে তাদের সেই কোড দেখে কমিশন বুঝিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের নাম এই প্রতিযোগিতায় আগের সারিতে আলোচিত হচ্ছে। সূত্রের দাবি, বিভাগের সব চিকিৎসক এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নন। তবে কয়েকজন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোগীদের জিম্মি করে এ অনিয়ম করে যাচ্ছেন। বিনিময়ে কমিশন দেয়ার পাশাপাশি ওইসব চিকিৎসক ও এমপিও’কে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ভ্রমণে পাঠানো হচ্ছে দেশের বাইরে।

কী দোষ শিশুটির? চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অস্ত্রের ব্যবহার- গুলিতে আহত শিশু

(ছবি:-১ চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় গতকাল সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করেন বাবুল (ডানে) ও রুবেল l ছবি: সংগৃহীত ছবি:-২ বাকলিয়ায় গতকাল দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে পথচারী ইমন হাসান আহত হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার এ অবস্থা দেখে মা (বাঁয়ে) ও ভাই কান্নায় ভেঙে পড়েন l ছবি: প্রথম আলো) আন্দরকিল্লা এলাকার একটি ছাপাখানায় কাজ করে ১৩ বছরের শিশু ইমন। গতকাল সোমবার সকালে ছাপাখানায় গেলেও শরীর খারাপ হওয়ায় কাজ না করেই বাড়ির পথে রওনা হয় সে। বাকলিয়ায় নিজ এলাকায় পৌঁছার পর দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে শিশুটি ছররা গুলিতে আহত হয়। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্প্লিন্টারে বিদ্ধ ইমন এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাকলিয়ার আফগান মসজিদ এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দিদারুল হক ওরফে কিরিচ বাবুল। এ সময় বাবুল দোনলা বন্দুক ও তার সহযোগী রুবেল কিরিচ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে। তাদের সঙ্গে আরও লোকজন ছিল। অপর পক্ষ জসিম ও আরিফের লোকজন লাঠিসোঁটা ও কিরিচ নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয় বাবুলদের। এ সময় কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে শিশু ইমন গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্র জানায়, বাবুলকে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। ৯ অক্টোবর জামিনে ছাড়া পায়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, জবরদখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন থানায় ২৪টি মামলা রয়েছে। সংঘর্ষের সময় বাবুলের হাতে থাকা দোনলা বন্দুকটির লাইসেন্স রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসিন বলেন, ‘লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি করা যায় না। মানুষকে অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেওয়ার কারণে ২০১০ সালে পুলিশ একবার সন্ত্রাসী বাবুলের বন্দুকটি জব্দ করেছিল। পরে তা আদালতের নির্দেশে ফেরত দেওয়া হয়।’
ওসি জানান, দোনলা বন্দুক থেকেও ছররা গুলি বের হয়। তবে শিশুটি কার গুলিতে আহত হয়েছে, সেটি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি তিনি। অস্ত্র প্রদর্শন ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাবুল, রুবেলসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ওসি জানান। সংঘর্ষের পর বাবুল এবং প্রতিপক্ষ আরিফ ও জসিমের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইমন যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তার মা আয়েশা বেগম ছেলের পাশে কাঁদছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে ইমনের জ্বর ছিল। সকালে কাজে গেলেও খারাপ লাগায় সে ফিরে আসছিল। আসার সময় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে পড়ে।’ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার রাখাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, শিশুটির সারা গায়ে স্প্লিন্টার রয়েছে।

অসহায়- অনড় দু’পক্ষ, বিপর্যস্ত শিল্প খাত

রাজনৈতিক অস্থিরতায় পুড়ছে দেশ। হরতাল-অবরোধে বিপর্যস্ত জনজীবন। নুইয়ে পড়েছে অর্থনীতি। শঙ্কিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। সম্ভাবনাময় দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। টানা অবরোধ ও হরতালে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর প্রভাব পড়েছে পুরো সেবাখাতে। হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবা বিঘ্ন ঘটছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে শিক্ষাসূচি। পরিবহন খাতে স্থবিরতা নেমে আসায় বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ শ্রমিক। অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে সহিংসতা ও দমনপীড়নে বাড়ছে মৃত্যু, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। পেট্রলবোমা ও ককটেলে অগ্নিদগ্ধদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট। দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় ও দমনপীড়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিগৃহীত হচ্ছেন বিরোধী জোটের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর্মসূচিতে দেশ গভীর সঙ্কটে পড়লেও এখনও অনড় দুই রাজনৈতিক জোট। তাদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে শঙ্কা বাড়ছে সর্বত্র। বাড়ছে উদ্বেগ-আতঙ্ক। এমন অবস্থায় ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরে শিল্প ও বণিক সংগঠনগুলো দুই জোটের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার আহবান জানিয়ে আসছে। পোশাক শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সমঝোতার দাবিতে অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট। সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দল ও পক্ষের কাছ থেকে অব্যাহতভাবে সংলাপের আহবান এলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না সরকারের তরফে। এমন অবস্থায় অসহায় সময় পার করছে দেশের মানুষ।
৫ই জানুয়ারি বিরোধী জোটের সমাবেশকে ঘিরে ৪ঠা জানুয়ারি সরকারের দেয়া অঘোষিত অবরোধের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সংঘর্ষে মারা গেছেন ১০ জন। পেট্রলবোমা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মারা গেছেন ১৭ জন। অন্যান্য ঘটনায় মারা গেছেন আরও ৯ জন। এ ক’দিনে সারা দেশের সড়ক মহাসড়কে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সাড়ে সাতশ যানবাহনে। বেশ কয়েক দফায় নাশকতার শিকার হয়েছে রেল। এসব ঘটনায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর হিসেবে হরতাল অবরোধে দৈনিক ক্ষতি আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি হবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৬৯৫ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৩০০ কোটি টাকা, কৃষিখাতে ২৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিন।
মামলা ও গ্রেপ্তার
অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ২০ দল। অবরোধকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্যের ঘটনায় রাজশাহীর চারঘাটে বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতাকর্মীর নামে একটি, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুর ও জেলা জামায়াতের আমীর হাফিজুর রহমানসহ ১৫ জনকে আসামি করে ঝালকাঠিতে একটি এবং বরিশাল বাকেরগঞ্জের সাবেক এমপি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন খানসহ ৩৫ জনকে আসামি করে বরিশালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এদিকে রোববার রাত থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত  বগুড়া জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আদিল শাহরিয়ার গোর্কি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আজম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক, গজারিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি আবুল হোসেন সরকার, গৌরীপুর পৌরসভার বিএনপি দলীয় সাবেক মেয়র খালেক মুন্সী, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা জামায়াতের আমীর ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হক কচি, ফেনী শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান আজিজি, সাভার থানা জামায়াতের সহসম্পাদক লুৎফর রহমানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১১০, রংপুরে ৫৯, যশোরে ৫৬, পাবনায় ৪২, রাজধানীতে অন্তত ৪০, গাইবান্ধায় ২০, বগুড়ায় ২০, চাঁপাই নবাবগঞ্জে ১৫, কুমিল্লায় ১৪, মানিকগঞ্জে ১১, চাঁদপুরে ১০, মেহেরপুরে ৯, দিনাজপুরে ৯, সিরাজগঞ্জে ৬, নোয়াখালীতে ৬, রাজশাহীতে ৩, হবিগঞ্জে ৩ সহ সারা দেশে অন্তত ৫৫০ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ ২০ দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২৮শে জানুয়ারি বুধবার সকাল ৬টা থেকে রাজশাহী বিভাগে ২৪ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি। এদিকে অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে রাজধানীতে মিছিল করেছে ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, হাসানুল বান্না ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমির আমজাদ মুন্নার নেতৃত্বে শাহবাগ, ঢাবি ছাত্রনেতা বাপ্পু সরকার ও শুভ্র দাসের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে উত্তরায় একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওদিকে রাজধানীর তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জামিলকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর আর কোন খোঁজ মিলছে না বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। গতকাল সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এ অভিযোগ করেন।
বিপর্যস্ত শিল্পখাত
টানা অবরোধ আর হরতালে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের শিল্প খাত। দিনের পর দিন পণ্য ও কাঁচামাল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ও বিপণনে। রপ্তানি নির্ভর শিল্পে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। বাতিল হয়ে যাচ্ছে রপ্তানি আদেশ। এতে বিপাকে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিল্পে জড়িত কর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ছাঁটাই আতঙ্কে আছেন কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। শিল্প ও বণিক সংগঠনগুলো হরতাল অবরোধে ক্ষতি পরিমাণ তুলে ধরে জানিয়েছে দিনেই অন্তত ক্ষতি হচ্ছে দুই হাজার কোটি টাকা। সার্বিক বিবেচনায় এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে যে ক্ষতি হচ্ছে তার পরিমাণ সীমাহীন। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের শিল্প বাণিজ্য ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
বিল্লাল হোসেন রবিন, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, টানা অবরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস শিল্পে লোকসানের পাল্লা ভারি হচ্ছে। এতে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু নিট শিল্পে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তার ওপর কমে গেছে নতুন করে অর্ডার। সময় মতো শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে তাকলে ধস নেমে আসবে এই সেক্টরে। এমন আশঙ্কা করছেন নিট গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। এই সংগঠনের নেতৃত্বে শুধু নারায়ণগঞ্জেই ৫ শতাধিক নিট গার্মেন্টস রয়েছে। ওদিকে নারায়ণগঞ্জে দেশের অন্যতম সুতার বাজারেও ধস নেমে এসেছে। লেনদেন নেমে এসেছে অর্ধেকে। এছাড়া ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নেত্বতাধীন ৫০টি সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত শিল্প-কলকারখানা।
শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস রূপসী গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্টিজের নির্বাহী পরিচালক আল আমিন চৌধুরী জানান, নতুন করে তাদের কোন অর্ডার নেই। বর্তমানে তিন জন বায়ারের ১ লাখ ৭০ হাজার পিস গেঞ্জির তিনটি শিপমেন্ট আটকে আছে। ৩১শে জানুয়ারির মধ্যে শিপমেন্ট করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিপমেন্ট করতে না পারলে নিরুপায় হয়ে বিমানে পাঠাতে গেলে কোটি টাকার ওপরে লোকসান গুনতে হবে।
গার্মেন্ট মালিকরা জানিয়েছেন, এমনিতেই রানা প্লাজা ধস, তাজরীন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং গত বছরের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সৃষ্ট সহিংসতায় পোশাক খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনায় বিদেশী ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাক নিয়ে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয় তখন। কিন্তু উদ্যোক্তা, পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টায় আবারও ঘুরে দাঁড়ায় পোশাক খাত। এমনকি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী বাংলাদেশ এবার প্রথম হওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি এমন সংঘাতময় থাকে তবে এ লড়াইয়ে একদিকে যেমন পিছিয়ে যাবে, তেমনি ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বে এ খাতটি। আর এ পরিস্থিতিকে পোশাক খাতের জন্য হুমকি বা অশনি সংকেত বলে তারা মনে করছেন।
গার্মেন্টস মালিকরা আরও জানান, একদিনের হরতালে নারায়ণগঞ্জের নিট শিল্পে উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম হয়। ব্যাহত হয় কাঁচামাল আমদানি। এক ঘণ্টা দেরি হলে তৈরী পোশাক জাহাজীকরণ করা যদি সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে রপ্তানি কার্যক্রমে অতিরিক্ত ঝুঁকি বাড়ে। এ জন্য কয়েকগুণ বেশি ব্যয়ে আকাশপথে ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে হয়। এমনকি অর্ডারও বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিকেএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) জিএম ফারুক জানান, অবরোধের কারণে প্রতিদিন ক্ষতির পরিমাণ ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিট সেক্টরে ক্ষতির হচ্ছে দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি টাকা। আগামী সামারের যে অর্ডার তা বায়াররা দিচ্ছে না। তারা নানা তালবাহানা করছে। যেমন অবরোধের মধ্যে অর্ডার দিলে সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি পাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে তারা। নতুন অর্ডারগুলো আটকিয়ে দিয়েছে। শতভাগ অর্ডার এই মুহূর্তে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) প্লেস হওয়ার কথা। সেইখানে ২০% অর্ডারও আমাদের হয়নি। ছোট-বড় সব ফ্যাক্টরিতেই এই প্রভাব পড়েছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের নিট শিল্পে ব্যাপক আকারে ধস নামবে।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মঞ্জরুল হক জানান, হরতাল অবরোধে কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে বা হয়েছে তা সঠিক ভাবে নিরূপণ করা না গেলেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্প কারখানার মালিকরা, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। জাতীয় পর্যায়ে ৭টিসহ ৫০টি সংগঠন রয়েছে চেম্বারের নেতৃত্ব। এই ৫০টি সংগঠন কয়েকশ’ শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
অবরোধের কারণে দেশের সবচেয়ে বড় সুতার ব্যবসা কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জে ধস নেমেছে। প্রতিদিন যেখানে লেনদেন হতো প্রায় কোটি টাকা। এখন তা নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। বিক্রি করতে না পারায় গুদামে জমে গেছে সুতার চালান। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছেন সুতার মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। নারায়ণগঞ্জে সুতা ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।
নারায়ণগঞ্জের সুতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ন অ্যাসোসিয়েশনের সামনের রাস্তায় অলস সময় পার করছেন কর্মচারী। আগে যেখানে সুতা বোঝাই ট্রাক ও ঠেলাগাড়ির যানজট লেগে থাকতো, এখন সে দৃশ্য উধাও। কাজ নেই তাই লুড়ু খেলে ও আড্ডায় বেকার সময় পার করছেন চালক ও কর্মচারীরা।
মহিউদ্দীন জুয়েল, চট্টগ্রাম থেকে জানান, ১৫ দিনের হরতালে ব্যবসায়ে ক্ষতি ১৭,০০০ কোটি টাকা। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও একের পর এক হরতাল-অবরোধের কারণে ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আহবান জানিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমই এর শীর্ষ নেতারা।
অন্যদিকে সারা দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এভাবে সংঘাতময় পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দীর্ঘ সময়ের জন্য।
বর্তমানে সারা দেশের সব ধরনের পোশাকশিল্প, ভোগ্যপণ্য ও আমদানি-রপ্তানির দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রিত হয় চট্টগ্রাম থেকে। চিটাগাং চেম্বারের নেতারা জানান, উৎপাদন খাতে ১০০ কোটি, পণ্য ও যাত্রী পরিবহন খাতে ৬৮ কোটি, রপ্তানি খাতে ৬৯৫ কোটি টাকাসহ ১৫ দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।
ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে জানান, দেশের চলমান  রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার বিদেশী বায়ার এসেও কারখানায় না গিয়ে ফিরে গেছেন  দেশে। ফলে বাতিল হয়ে গেছে পোশাক রপ্তানির চুক্তি। পাশাপাশি আমেরিকার বায়াররা বাংলাদেশে না এসে কারখানা কর্তৃপক্ষকে ডেকেছেন থাইল্যান্ডে। তাদের মিটিং হবে থাইল্যান্ডে। একের পর এক বাতিল হয়ে যাচ্ছে বিদেশী বায়ারদের সিডিউল। প্রায় সব কারখানার আমদানি-রপ্তানি এবং স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। পরিবহন ভাড়া বেড়েছে দেড় থেকে দ্বিগুণ। যদিও বন্ধ নেই কোন কারখানা। আতঙ্কে আছেন শিল্প মালিকসহ-কর্মকর্তারা।
গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিল্প এলাকার বৃহৎ পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ওই ইসলাম গ্রুপের ডিরেক্টর সাকের আহমদ বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থায় পোশাক শিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে বললেন, আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আর ইমেজ তো নষ্ট হয়েছেই।
গত শনিবার ফ্রান্সের বায়ার আমাদের কোনাবাড়ির কারখানায় আসার কথা ছিল। বায়ার এ দেশেও এসেছিলেন। বিমান বন্দর থেকে হোটেল রেডিশনে। কিন্তু অবরোধ-হরতাল আর পরিস্থিতির কারণে বায়ার কোনাবাড়ির কারখানায় আসেননি। ফিরে গেছেন তার দেশে। মাসে পাঁচ লাখ পিচ টি-শার্ট রপ্তানির চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ওই বায়ারের সঙ্গে। তা আর হলো না, এ জন্যে খুব খারাপ লাগছে। নগরের সাইন বোর্ড এলাকার এলিট গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শহীদুজ্জামান জানালেন, তাদের কারখানায় আমেরিকার বায়ার আসার কথা ছিল এই জানুয়ারিতে। দেশের এই অবস্থার খবর পেয়ে বায়ারগণ তাদের শিডিউল বাতিল করেছে। এখন তাদের ইচ্ছায় আমাদের মিটিং করতে হবে থাইল্যান্ডে গিয়ে। অলমার্কের ঢাকার গুলশানের অফিসের কর্মকর্তারা এখন অফিসে না গিয়ে বাসায় কাজ করছেন। মূলত ইন্টারনেট আর মেইলের মাধ্যমে।
নগরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার নূর ই আলম বললেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা খুবই আতঙ্কে রয়েছি। অনেক সময় রাত কাটাতে হয় কারখানায়। কোনাবাড়ির এই কারখানার গত ১৮ দিনে আমেরিকার বিভিন্ন দেশের বায়ারসহ প্রতিনিধিদের ১১টি ভিসিট বাতিল হয়েছে। নতুন করে সিডিউলও পাওয়া যায়নি। তারা আসতে চাচ্ছেন না। নতুন অর্ডার হচ্ছে না, মূল্যায়ন হচ্ছে না। এছাড়াও সৃষ্টি হচ্ছে বহুমাত্রিক সমস্যা। প্রায় দ্বিগুণ পরিবহন ভাড়ায় শিপমেন্টের জন্য পাঠাতে হচ্ছে চট্টগ্রামে। আবার সেখানে নিয়েও সময়মতো আনলোড করতে পারছে না। জেনারেটরসহ যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা হচ্ছে। এক্সপার্টদের আনতে হচ্ছে এম্বুলেন্সে করে। সবকিছুতেই বিলম্ব হয়ে যাচ্ছে। আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। পণ্য পরিবহন আর উৎপাদনে ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে। গাজীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকার এসএম নিট ওয়্যার কারখানার ডিজিএম আলী হোসেন বললেন, এ মুহূর্তে পরিবহন সটসহ নানা কারণে ব্যয় বেড়েছে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। কারখানায় উৎপাদন চালাতে সুতা আনতে হয় কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকে। সব সময়মতো যানবাহন পাওয়া যায় না। আবার শিপমেন্টের মাল পাঠাতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বেশি ভাড়ায় এসব আনা নেয়া করতে হয়। আবার ভয়ে ভয়ে রাতে পাঠাতে হয়। নির্ধারিত সময়ে অফিসে যোগ দিতে আগের থেকে এক দেড় ঘণ্টা আগে ভয়ে ভয়ে রওনা দিতে হয়। বাড়ি ফেরার পথেও মানসিক চাপ নিয়ে রওনা করতে হয়। এটা তো সুস্থ জীবন হলো না।
নগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার ল্যাভেন্ডার গার্মেন্টস কারখানার ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বললেন, কারখানা পুরোপুরি চালু আছে। কিন্তু উৎপাদনতো স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। আগে যেখানে ১০-১২ হাজার পিস উৎপাদন করা যেতো, এখান সেখানে ৭-৮ হাজার পিস উৎপাদন করা যায়। কেন না ফেব্রিক্স, বাটনসহ এক্সেসরিস আনতে হয় বাইরে থেকে। সেগুলো এখন সময় মতো আনো যাচ্ছে না। হয়তো পোশাক তৈরি হয়ে গেল কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাটনের জন্য কমপ্লিট করা গেল না। এভাবেই উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ওয়ার্কাররা আশ পাশে থাকে সে জন্যে তাদের হয়তো আসতে সমস্যা হচ্ছে না। ম্যানেজম্যানের প্রায় সাবাই তো দূরে থাকেন, তাদের প্রাণটা হাতে নিয়েই আসতে হয়। রওনা না দিয়ে বাসায় না ফেরা পর্যন্ত স্বজনরা সবাই দুচিন্তায় থাকে। লক্ষ্মীপুরা এলাকার জেনেসিস ফ্যাশন কারখানার পিএম আব্দুল লতিফ বললেন, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দারুণভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। কারখানায় পোশাক তৈরি হয়ে গেলেও দেখা যায় অন্য টঙ্গী নিয়ে হয়তো ওয়াস করতে হয়, আবার সাভারে পাঠাতে হয় এম্বডারি করতে। খরচ তো বেড়েছেই, ঝুঁকি নিয়ে মালামাল আনা-নেয়া করতে হয়। সব সময়মতো ভয়ভীতির মাঝে থাকতে হয়। দেশ যেন আফগানিস্তান হয়ে যাচ্ছে। এটা তো আর জীবন হলো না।
হাফিজ উদ্দিন, সাভার থেকে জানান, হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতার কারণে আর্থিক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সাভার-আশুলিয়ার পোশাক শিল্প। ফলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে এ শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ। সময়মতো পণ্যের শিপমেন্ট করতে না পারায় আন্তর্জাতিকভাবে ইমেজ সঙ্কটের মুখে পড়েছে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক এ খাত। এ অবস্থায় অনেক কারখানারই অর্ডার বাতিল করা হচ্ছে।
আবার টানা অবরোধে দেশের মহাসড়কগুলোতেও গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অল্প কিছু যানবাহন পাওয়া গেলেও ভাড়া দাবি করা হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। আবার বেশি ভাড়ায় কাঁচামাল আনা হলেও সময়মতো মাল কারখানায় পৌঁছতে পারছে না। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কয়েক হাজারের বেশি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং লরি চলাচল করে। তবে হরতাল-অবরোধের কারণে তা নেমে এসেছে মাত্র কয়েক শতে। রোববার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়ার বেরন এলাকায় তৈরী পোশাকবাহী একটি কার্ভাড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দিলে আরও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে কারখানা মালিকরা।
একাধিক কারখানা মালিক দাবি করেছেন, দ্রুত রাজনৈতিক এ সহিংসতা বন্ধ না হলে এ শিল্প বন্ধ করে দেয়া ছাড়া তাদের আর কোন পথ থাকবে না।
এদিকে সাভার-আশুলিয়ায় ছোট-বড় ছয় শতাধিক গার্মেন্ট কারখানায় পণ্য উৎপাদনে রয়েছে। কিন্তু এর অধিকাংশরই প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কারখানা বা ব্যাক-আপ লিংকেজ নেই বললেই চলে।
ফ্যাশন ডট কম পোশাক কারখানার পরিচালক আজাহার উদ্দিন বলেন, সময়মতো পণ্য শিপমেন্ট করতে না পারা এবং বাংলাদেশে সামপ্রতিক নাশকতার কারণে বিদেশী ক্রেতারা নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন অর্ডার দেয়ার বিষয়ে।
তিনি বলেন, ব্রাজিল পাঠানোর জন্য শিপমেন্ট রেডি হয়ে রয়েছে গত তিন দিন আগে। কিন্তু অবরোধের কারণে পরিবহন সঙ্কট ও সড়কে নিরাপত্তার কারণে শিপমেন্টের মাল চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। যদিওবা পরিবহন পাওয়া যাচ্ছে সেক্ষেত্রে ভাড়া গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। ফলে আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের ইমেজ সঙ্কটও প্রকট আকার ধারণ করছে। যে কারণে ভবিষ্যতের বুকিংগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে গেছি বলেন তিনি।
হরতাল-অবরোধের ২০তম দিনে তিন শতাধিক গ্রেপ্তার
ককটেল বিস্ফোরণ, ঝটিকা মিছিল-সমাবেশ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০দলীয় জোটের ৩৬ ঘণ্টা হরতালের সঙ্গে অবরোধের ২০তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। হরতাল-অবরোধ চলাকালে গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের তিন শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জোটের সূত্রে দাবি করা হয়। এদিকে গতকাল রাজধানীতে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচল করলেও দূরপাল্লার যানবাহন বরাবরের মতো বন্ধ ছিল। তবে ট্রেন এবং লঞ্চ চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। হরতালের সমর্থনে রাজধানীতে তেমন কোন পিকেটিং দেখা যায়নি। তবে রাজধানীর বাইরের পরিস্থিতি ছিল খানিকটা সরব। হরতাল- অবরোধকারীরা বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ঝটিকা মিছিল-সমাবেশ করেছে। আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে। ওদিকে দেশজুড়ে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শেষ না হতেই আজ ফের রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় ২৪ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে ২০দলীয় জোট।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার ২৯ মাইল নামকস্থানে গাড়িতে পেট্রলবোমা হামলায় চালক নাজমুল ইসলাম অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ-বিজিবি ৮ জনকে আটক করেছে। দগ্ধ নাজমুল কুষ্টিয়া জেলার শিবপুর উপজেলার সাহেবগড় গ্রামের ইউনুস প্রামাণিকের ছেলে। গতকাল সকালে তাকে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে ৩টি লেগুনা ও একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে শিবিরকর্মীরা। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের মুহাম্মদপুর এলাকায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে জানান, পুলিশ সোমবার ভোর রাতে বিএনপি- জামায়াতের ৪ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় ২ জন এবং নাগেশ্বরী উপজেলায় ২ জন।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, রোববার দিনগত রাতে বিএনপি-জামায়াতের ৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, নাশকতা প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের সিংড়ায় হরতালের পক্ষে ও বিপক্ষে মিছিল হয়েছে। বেলা ১১টায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে হরতাল সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়ে কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড পৌঁছালে মিছিল থেকে একটি গাড়িতে ঢিল ছুড়লে ওই গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশের এস আই মাহবুবের নেতৃত্বে মিছিলে বাধা দেয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে এস আই মাহবুব আহত হন।
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, গতকাল সকালে পিকেটাররা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুটি যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়া, নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াত-বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচলের সময় দুটি বাসকে লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায় পিকেটাররা। এসময় হাতবোমা বিস্ফোরণে একটি বাসের দুই যাত্রী আহত হয়।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে হরতালের সমর্থনে সিংড়ায় বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ইটপাটকেল নিক্ষেপে এক এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশ। অপরদিকে একই সময় সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া, হরতালের সমর্থনে রোববার রাতে বড়াইগ্রামে ৮টি ট্রাক ও বাস ভাঙচুর করে পিকেটাররা। এদিকে শহরের মাদরাসা মোড় এলাকায় রাতে দুই ককটেল বিস্ফোরণে মধু নামে কলা বিক্রেতা ও সাইদুর রহমান নামে এক পথচারী আহত হয়েছে।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গত রোববার পুলিশের সঙ্গে যুবদল ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে ২ শ’ ও বুধবারে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রোববারের ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নাশকতার আশঙ্কায় গতকাল  মানিকগঞ্জ  জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আওলাদ হোসেনসহ বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০ দিনের টানা অবরোধে এ পর্যন্ত জেলায় শতাধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। মামলার আসামিও করা হয়েছে কয়েক শ’ নেতাকর্মীকে।
কুলাউড়া থেকে সংবাদদাতা জানান, রোববার রাতে জামায়াত-শিবিরের ৫ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুলাউড়া শহরে গত শনিবার বিকালে ঝটিকা হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের  কোনাগাঁও গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার  ছেলে শাহীন আহমদ, বরমচাল ইউনিয়নের পশ্চিম সিংগুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ইকবাল, মকবুল আহমদের ছেলে নজরুল ইসলাম, সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ছত্রিশ এলাকার মৃত জমির আলীর ছেলে সুয়েজ আহমদ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলসাইন্দ এলাকার মৃত রফিক উদ্দিন ওরফে তোতা মিয়ার ছেলে সুমন আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ বিএনপি’র ৩ কর্মীকে আটক করেছে। এরা হলো-মোমিন আলী, নুরুল আমীন ও সাইফুর রহমান। দুপুর ১টার দিকে যুবদল চুনারুঘাট পৌরশহরের উত্তর বাজার ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রশিবির হরতালের সমর্থনে পিকেটিং শুরু করে। এ সময় ৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। চুনারুঘাট থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মিছিলকারীকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে যুবদল, ছাত্রশিবির ও পুলিশের মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে যুবদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাই নবাবগঞ্জের শান্তিমোড় এলাকায় ট্রাক বহরে হামলা চালিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। সোমবার সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় প্রায় অর্ধশত ট্রাক চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় শহরের শান্তি মোড় এলাকায় কিছু ট্রাক পার হওয়ার পরপরই হামলা চালায় হরতাল সমর্থকরা। এসময় ককটেল ফাটিয়ে অন্তত ১০টি যানবাহনে ভাঙচুর চালায় তারা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় ট্রাকের বহরগুলোকে জেলার শেষ সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক, শৈলকুপা উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদসহ বিএনপির ৭ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঝিনাইদহ পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, হবিগঞ্জে পেট্রলবোমা, ককটেল ও বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ১১টায় পুলিশ শহরের উমেদনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন উমেদনগরের নিম্বর আলীর পুত্র রহমত, কদর আলীর পুত্র শাহাদত ও উমেদনগরস্থ রকি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কর্মচারী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের কালীপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের পুত্র ফয়সল।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের সাবেক জিএস অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম কল্লোলকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে সাদা পোশাকধারী পুলিশের একটি দল শহরের উত্তর চৌকির পাড়ের বাসা থেকে তাকে আটক করেছে। তিনি জোহরের নামাজ শেষে বাসায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, চুনারুঘাট শহরে পিকেটিংকালে ৭টি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন- উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম, উপজেলা জাসাস সভাপতি মুমিন আলী, বিএনপি নেতা নূরুল আমিন ও জামায়াত নেতা সাইদুর রহমান। সোমবার দুপুরে তাদের আটক করা হয়। চুনারুঘাট থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজশাহী বিভাগে আগামীকাল বুধবার সকাল ৬টা  থেকে ২৪ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার শেরপুরে যৌথবাহিনী জামায়াতের ৪ কর্মীকে আটক করেছে। সোমবার  ভোর রাতে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের আব্দুর রশিদের ছেলে, আইয়ুব হোসেন ওরফে সেতু, আব্দুল ওহাবের ছেলে রেজাউল ইসলাম, সামছুল হকের ছেলে মো. সেলিম ও মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে লিটন। পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের ১০ই জানুয়ারি শেরপুরের বিশ্বরোডে গাড়ি পোড়ানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভোররাতে অন্তপুর এলাকার নুরজামাল হকের ছেলে আলমগীর হোসেন ও কুড়িগ্রাম সদরের মোল্লাপাড়া গ্রামের এনছানুল হকের পুত্র আনিছুর রহমানকে বেড়াকুটি বাজার থেকে আটক করা হয়।
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর শহর শাখার উদ্যোগে গতকাল সকালে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের সিএসডি গোডাউন মোড় থেকে শুরু হয়ে রহমতপুর আবাসিক এলাকার সামনে গিয়ে শেষ হয়।