Showing posts with label কামরুল হাসান. Show all posts
Showing posts with label কামরুল হাসান. Show all posts

Tuesday, February 9, 2016

নূর হোসেনের প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে by কামরুল হাসান

সাত খুনের মামলার আসামি র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা
তারেক সাঈদ। গতকাল আদালত প্রাঙ্গণে l প্রথম আলো
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভেতরে পেছনের সারির একটি বেঞ্চে বসে আছেন নিহত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম। আদালতের কার্যক্রম তখনো শুরু হয়নি। বাবা-মেয়ে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁদের ঠিক পেছনে এসে দাঁড়ালেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদলসহ চারজন। মুহূর্তেই সেলিনা ইসলাম চুপ করে গেলেন।
সেলিনা ইসলাম পেছনের ওই চারজনকে দেখিয়ে আদালতকক্ষে থাকা এই প্রতিনিধিকে বললেন, ‘দেখেন কী অবস্থা! এরা সব সময় আমাকে ফলো (অনুসরণ) করে। কোথায় যাচ্ছি, কী করছি—সব। মামলার ধার্য দিনে আদালতের চারপাশে পাহারা বসায়। ভয়ে আমার পরিবারের বাইরের আর কেউ আসে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি না হয় স্বামী হত্যার বিচারের জন্য আসি, সাক্ষীরা এই অবস্থায় কেন আসবে?’
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলায় গতকাল সোমবার ৩৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর মামলার বিচার শুরু হলো। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা থানায় মামলা করেন। এ ছাড়া নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল আরেকটি মামলা করেন। ওই দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র্যা বের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
১৩ মামলার আসামি নূর হোসেন এই মামলায় বিচারের মুখোমুখি হলেও ইতিমধ্যে তিনি একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। একটি মামলায় বাদীর সঙ্গে তিনি আপস করে ফেলেছেন। গতকালই আরও তিনটি মামলায় জামিন পেয়েছেন।
সাত খুনের পর নূর হোসেনকে ধরতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে দফায় দফায় অভিযান চালায়। বাড়ি থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে। নূর হোসেন ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডসহ তাঁর সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ নূর হোসেনের কার্যালয় জ্বালিয়ে দেয়। তাঁর ঘনিষ্ঠ সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ভারতে গিয়ে সে দেশের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন নূর হোসেন। কিন্তু তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর আস্তে আস্তে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। আলোচিত এই মামলার মূল আসামি হলেও তাঁকে এক দিনের জন্যও রিমান্ডে নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি অনুকূল দেখে তাঁর সহযোগীরাও এলাকায় ফিরে আসেন।
অভিযোগ গঠন শেষে আদালতের বাইরে এলে সেলিনা ইসলামের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গেও কথা বলে প্রথম আলো। তিনি বলেন, সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ভারত থেকে দেশে আসার পরে পুরো পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি পেতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় সাত খুন মামলার বাদী আদৌ ন্যায়বিচার পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের জন্য গতকাল র্যা বের সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (অব্যাহতি) মাসুদ রানা ও নূর হোসেনসহ গ্রেপ্তার হওয়া ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এসব আসামিকে আদালতে আনার নিরাপত্তা প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল সকাল থেকেই আদালতের চারপাশের সব ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে বাইরের নিরাপত্তা নিয়ে কড়াকড়ি থাকলেও নূর হোসেনকে তাঁর স্বজন ও সহযোগীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলতে দেখা গেছে। শুনানির সময় আদালত ভবনের বাইরেও অনেক লোক অপেক্ষা করছিলেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সদস্যরা জানিয়েছেন, এঁরা নূর হোসেনের লোকজন। প্রতিবার মামলার ধার্য দিনে তাঁরা আদালতের সামনে এসে জটলা করেন। নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদল, ভাই নুরুজ্জামান (জজ মিয়া), নুরুদ্দিন ও নূর হোসেনের ছোট বোনের স্বামী শাহ আলম এদের জড়ো করেন। যতক্ষণ নূর হোসেন আদালতে থাকেন, ততক্ষণ তাঁরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এঁদের ভয়ে নজরুল ছাড়া নিহত অন্য কারও পরিবারের সদস্যরা আদালতে আসতে সাহস করেন না।
পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, নূর হোসেন কোন রাস্তা দিয়ে আদালতে আসছেন, তা আগেই তাঁর দলের লোকেরা জেনে যান। সর্বশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর তাঁকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জে আনা হয়েছিল ঢাকা-সিলেট সড়কের ভুলতা দিয়ে। সেদিন নূর হোসেনের লোকজন শিমরাইল এলাকায় জড়ো হয়ে নূর হোসেনকে স্বাগত জানান। আসামি বহন করা গাড়ি এ সময় খুব ধীরগতিতে ওই পথ অতিক্রম করে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
নূর হোসেনের আসার খবর কী করে তাঁর লোকজন আগে জানতে পারেন—এ প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এস এম ওয়াজেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আমি জানি না। যদি এ রকম হয়ে থাকে, তাহলে অবশই কারা প্রশাসনকে বলব যাতে তারা ব্যবস্থা নেয়।’
নারায়ণগঞ্জ আদালতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পলাতক থাকার সময় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা ছিল। কিন্তু তিনি দেশে আসার পর এসব মামলা থেকে রেহাই পেতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে সদর থানার টিপু সুলতান হত্যা মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে পুলিশ। নূর হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ওই মামলাটি করা হয়েছিল। সম্প্রতি নূর হোসেনকে বাদ দিয়েই ওই মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
মামলার বাদী কাজী আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ আমাকে কিছু না বলেই নূর হোসেনের নাম বাদ দিয়েছে। এখন মামলার আসামিরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে।’
আদালত সূত্র জানায়, নূর হোসেন ও তাঁর ভাতিজা শাহজালালের বিরুদ্ধে এক অটোরিকশাচালকের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় আপস করা হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে মামলার শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী খোকন সাহা আদালতকে আপসরফার তথ্য জানান। আদালতের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০১৪ সালের ১২ জুন সাইদুল ইসলাম নামে এক অটোরিকশাচালক নূর হোসেন ও তাঁর ভাতিজা শাহজালাল বাদলসহ আটজনের বিরুদ্ধে এই চাঁদাবাজির মামলা করেন।
সর্বশেষ গতকাল মাদক ও অস্ত্র আইনে করা আরও দুটি মামলা থেকে জামিন পেয়েছেন নূর হোসেন। সাত খুনের ঘটনার পর পলাতক থাকার সময় নূর হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি করে পুলিশ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছিল। ওই ঘটনায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছিল।
নিহত নজরুলের স্ত্রীর মতো নারায়ণগঞ্জ আদালতের অনেকেই বলেছেন, নূর হোসেনের আইনজীবী খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আবার মেজর আরিফের আইনজীবী আবদুর রসিদ আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অন্য আইনজীবীরা ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে আদালতপাড়ায় সাত খুনের মামলায় কী ঘটে, তা নিয়ে ঔৎসুক্য আছে।
সব আসামির পক্ষে কেন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা—এ প্রশ্ন করা হলে নূর হোসেনের আইনজীবী খোকন সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যেকোনো দল করতে পারি, এর সঙ্গে আমার পেশা কোনোভাবেই যুক্ত হতে পারে না। পেশাটি পেশাদারির দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা উচিত।’ নূর হোসেনের লোকজন আদালতে পাহারা বসিয়ে রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা নূর হোসেনকেই জিজ্ঞাসা করেন।’
নিহত নজরুলের স্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘পুলিশের অভিযোগপত্রের ব্যাপারে আমি নারাজি দেওয়ার পর আমার বাড়ি থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ফোন নম্বর রাখেন, কিছু হলে ফোন দিয়েন। আমি কি মরার পর তাঁদের ফোন দিব?’

Sunday, August 9, 2015

কক্সবাজারের সব পুলিশ আর্থিকভাবে লাভবান by কামরুল হাসান

মানব পাচারের ঘটনায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের সব কর্মকর্তা ও সদস্য আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। পাচার প্রতিরোধে তাঁরা যেমন অভিযান চালাননি, তেমনি এ-সংক্রান্ত মামলার আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেননি তদন্তকারীদের কেউই। উল্টো পাচারকারীদের পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তা করেছেন। এ ক্ষেত্রে পদস্থ কর্মকর্তারাও কোনো দায়িত্ব পালন করেননি।
এসব কারও অভিযোগ নয়। পুলিশ তদন্ত করে এ তথ্যগুলো পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে আলোচিত মানব পাচার অপরাধের মামলাগুলোর বেহাল অবস্থাও ফুটে উঠেছে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে।
পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি তওফিক মাহবুব চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন গত ২৯ জুলাই পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কেউ অপরাধ করে যাতে পার পেয়ে না যায়, সে জন্য পুলিশ প্রশাসন দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুটি কমিটি গঠন করেছে। এ জন্য পুলিশকে কেউ চাপ দেয়নি। নিজেদের স্বচ্ছতার জন্যই পুলিশ কমিটি করেছে।
মানব পাচার ছাড়াও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে কক্সবাজার জেলার ১২ জন পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের আরেকটি তদন্ত কমিটি। সিআইডির ডিআইজি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ২ আগস্ট পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবেদনে ১২ পুলিশ সদস্য ছাড়াও ইয়াবা-সংক্রান্ত মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার জন্য জেলার পুলিশ সুপারকে কৈফিয়ত তলব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এক সার্কেল অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকনাফ ও উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং এসবি ও ডিবির পরিদর্শককে প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, এটা খুবই বড় অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়ে যাঁরা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাঁদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন।
পুলিশ কীভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, তার ব্যাখ্যা ওই তদন্ত প্রতিবেদনে নেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুরুল হুদা বলেন, এখানে বৈধভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।
গত ১ মে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর মানব পাচারের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে অভিযোগ করা হয়, সমুদ্রপথে হাজার হাজার বাংলাদেশি অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। সমুদ্রপথে পাচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কক্সবাজার উপকূল। পাচারের সঙ্গে কক্সবাজার জেলা পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মানব পাচারের সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কক্সবাজারে। এ কারণে সেখানকার পাচারের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত, তদারকি, জেলা পুলিশের কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে আইজিপির নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ ও ১৫ সালের জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ২৩৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ বছরের জুন পর্যন্ত মামলা হয় ৯৬টি। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ বছরের ৪০টি মামলা বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, ৯৬ মামলার মধ্যে মাত্র ছয়টিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বাকি ৯০টিতে ঠিকমতো তদন্তই হয়নি। স্পর্শকাতর এসব মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদও করেনি পুলিশ। আবার উদ্ধার হওয়া লোকদের কাছ থেকে কোনো জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়নি। কিছু আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও তা করা হয়নি।
বেশি মামলা হয়েছে টেকনাফ থানায়। তদন্তে অবহেলার ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘টেকনাফ থানায় যোগদানের পর থেকে ইয়াবা ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। অনেক মামলা তদন্ত করেছি। কিন্তু এখন কেন এ অভিযোগ, তা জানি না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু নিজেদের মামলা নয়, মানব পাচারের ঘটনায় বিজিবি ও কোস্টগার্ড যেসব আসামিদের ধরে দিয়েছিল, পুলিশ তাদেরও ঠিকমতো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। রহস্য উদ্ঘাটনে কেউ কোনো ধরনের চেষ্টাও করেনি। অনেক মামলায় তদন্তকারীরা নিজেরাও আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কক্সবাজার জেলার কিছু পুলিশ সদস্য ও জেলার অন্যান্য সরকারি সংস্থার কিছু সদস্য মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অজানা কারণে উদাসীন। কমিটি মনে করে, পাচার প্রতিরোধে পুলিশ সেখানে কোনো ভূমিকাই পালনই করেনি, উল্টো পৃষ্ঠপোষকদের পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও পাচারকারীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কমিটি জেলা পুলিশ সুপারসহ চার কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে বলেছে, জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ একটি মামলারও তদারক করেননি। তদন্তের ব্যাপারে তিনি কোনো লিখিত নির্দেশনাও দেননি। গুরুত্বপূর্ণ এসব মামলার ব্যাপারে তিনি ছিলেন উদাসীন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ, উখিয়া সার্কেলের এএসপি জসিম উদ্দিন, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান এবং থানার পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, এ নিয়ে তিনি কিছু বলতে চান না। অবশ্য উখিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, গত ছয় মাসে টেকনাফে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ এবং উখিয়ায় ১০০ জন মানব পাচারকারী ও দালালকে আটক করেছে পুলিশ। তিনিও কয়েকজন পাচারকারীকে ধরেছেন বলে দাবি করেন।
কমিটির সুপারিশ: মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত সব দালালই রোহিঙ্গা। এরা মিয়ানমারের নাগরিক। পাচারে ব্যবহার করা ট্রলারের মালিকও তারা। আবার পাচার শুরু হয় মিয়ানমারের জলসীমা থেকে। এ কারণে পাচার বন্ধে রোহিঙ্গা সমাধান খুব জরুরি। তা ছাড়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-তে কেউ যদি স্বেচ্ছায় বিদেশে পাচার হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নেই। এ কারণে এই আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইয়াবা পাচার: গত ২০ জুন ফেনীর লালপুর এলাকা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এএসআই মাহফুজুর রহমানকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। এই ইয়াবার মধ্যে কক্সবাজার পুলিশের জব্দ করা ১৩টি ইয়াবাও ছিল। তাঁকে আটকের পর র্যাব জানতে পারে, আরও ১০ পুলিশ সদস্য ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, এসব অভিযোগ লিখিতভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের খুঁজে বের করতে সিআইডির ডিআইজি সাইফুল আলমকে প্রধান করে কমিটি করা হয়।
কমিটি তাদের প্রতিবেদনে মাদক মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, ২০১৫ সালে কক্সবাজারে ৬২১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৭টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে এসব মামলার তদন্তেও অনেক ত্রুটি রয়েছে। এর মধ্যে সদর থানার ১ এপ্রিল দায়ের করা একটি মামলার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ওই মামলার দুজন আসামি ধরা পড়েছে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। আসামিদের রিমান্ডেও আনা হয়নি। তদারককারী কর্মকর্তারাও মামলাটির তদন্ত তদারক করেননি। এমন মামলার আরও কয়েকটি উদাহরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তবে এসব পুলিশ সদস্যের বেশির ভাগ ইয়াবার বাহক হিসেবে কাজ করেন। কক্সবাজারে কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা ঘুরে-ফিরে একাধিকবার কক্সবাজারে আসেন। এঁরাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কমিটি তাঁদের প্রতিবেদনে জেলা ডিবির তিনজন ও বিশেষ শাখার দুজনসহ মোট ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন। এঁদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও টেকনাফের বিপুল জনগোষ্ঠী সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

Saturday, August 8, 2015

৫০ লাখ প্রবাসীর হাতে পুরোনো পাসপোর্ট by কামরুল হাসান

আগামী ২৪ নভেম্বরের পর থেকে পৃথিবীর কোথাও হাতে লেখা পাসপোর্ট চলবে না
পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতায় যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) নিয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ, এখনো অন্তত ৫০ লাখ প্রবাসীর হাতে এমআরপি পৌঁছাতে পারেনি সরকার। এদিকে আগামী ২৪ নভেম্বরের পর থেকে পৃথিবীর কোথাও হাতে লেখা পাসপোর্ট চলবে না।
বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এমআরপি প্রকল্প চালুর পর পাঁচ বছরে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১ হাজার ১০০ প্রবাসীর হাতে এই পাসপোর্ট পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রকল্প চালুর পর ২০ লাখ প্রবাসী এমআরপি পেয়েছেন। এই সময়ে আরও ২০ লাখ প্রবাসী দেশেই এমআরপি পেয়েছেন। সরকারের হিসাবে প্রবাসীর সংখ্যা ৯০ লাখ। এই হিসাবে এখনো ৫০ লাখ প্রবাসী এমআরপি পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু এখন পাসপোর্ট দেওয়ার যে ধীরগতি, তা অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট সাড়ে তিন মাসে এত মানুষকে এমআরপি দেওয়া সম্ভব হবে না।
এমআরপি দেওয়ার কাজ পেয়েছে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান আইরিস করপোরেশন। সাবেক প্রবাসীকল্যাণ-মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্রসচিবসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এই প্রতিষ্ঠানের কাজের ব্যাপারে বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সরকার কেন ব্যবস্থা নেয়নি, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, সেটা বড় কথা না। সামনে যে সময়টা আছে, সেই সময়ের মধ্যে কাজটা শেষ করতে চাই এবং সেটা পারব।’
বিভিন্ন সরকারি নথি ও দূতাবাস থেকে পাঠানো কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমআরপি সমস্যা সমাধানে তাঁর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স এবং সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে উপদেষ্টা কমিটি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই কমিটি বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজে গতি আনেনি আইরিস।
সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী এবং বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে আমি বারবার তাগাদা দিয়েছি, চাপ দিয়েছি। কিন্তু আমি তো এখন নেই। আমি তো আর অনধিকার চর্চা করতে পারি না। তবে যা শুনছি, তাতে এমআরপি নিয়ে ভয়াবহ সংকট তৈরি হবে।’
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইরিসকে সৌদি আরবে প্রতিদিন নয় হাজার এবং আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় প্রতিদিন পাঁচ হাজার করে এমআরপি দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা এখনো সৌদি আরবে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৯০০, আরব আমিরাতে ১২৫ এবং মালয়েশিয়ায় মাত্র ৭০টি এমআরপি দিতে পারছে। সর্বশেষ গত ৯ এপ্রিল কাজে গতি আনতে তাদের এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু কাজে গতি আসেনি।
এমন পরিস্থিতিতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রবাসী এমআরপি পাবেন না। এর ফলে বিদেশে হয়রানির শিকার হবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এমআরপি না থাকায় বৈধ আকামা বা কাজের অনুমতিও পাসপোর্টে লাগাতে পারবেন না তাঁরা। এতে তাঁদের অবৈধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এন এম জিয়াউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, সবাই তো আর একসঙ্গে ভ্রমণ করবেন না যে তাঁদের একসঙ্গে এমআরপি লাগবে। তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাসপোর্ট শ্রমিকদের হাতে থাকে না, এটা থাকে তাঁদের নিয়োগকারীদের কাছে। তিনি আশা করছেন, পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (আইসিএও) বাংলাদেশকে এমআরপি চালুর নির্দেশনা দিয়েছিল ১৬ বছর আগে। কিন্তু বাংলাদেশ যথাযথ উদ্যোগ নিতে না পারায় এখন সংকট তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমআরপি প্রকল্প চালু হওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছরে ৯২ লাখ ৯১ হাজার বাংলাদেশি এমআরপি পেয়েছেন। ৩০ জুলাই ৯০ লাখ প্রবাসীর মধ্যে মাত্র ১৯ লাখ ৭৩ হাজার এমআরপি পেয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালকের ভুল সিদ্ধান্ত এবং এমআরপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ঢিলেমির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ কাজটি দ্রুত করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ (আউটসোর্সিং) দিয়েছিল সরকার। তাতে এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো জটিলতা তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি জটিলতা তৈরি হয় সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম ‘এ সমস্যা থেকে বের হওয়ার জন্য একটা বড় উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এটা হলে আমার মনে হয় সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ কী ধরনের বড় উদ্যোগ জানতে চাইলে, তা তিনি বলতে পারেননি।
আউটসোর্সিং ডুবিয়েছে: পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫০ লাখের বেশি প্রবাসী রয়েছেন। এ কারণেই সেখানে এমআরপির তথ্যসংগ্রহ, ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও ডিজিটাল স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজটি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার জন্য ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দরপত্র ডাকা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় ডেটাএজ-আইপিপল কনসোর্টিয়াম। কিন্তু তারা কাজটি শুরুর পর মাসে ১২ থেকে ১৩ হাজার এমআরপি তৈরি করতে শুরু করে। কিন্তু আইরিস সেই কাজটি নেওয়ার পর এখন মাসে দুই হাজার এমআরপিও দিতে পারছে না।
ডেটাএজ-এর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, এমআরপি বই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইরিস চাপের মুখে তাঁদের কাজ নিয়ে নেয়। তবে আইরিস নিজের নামে না নিয়ে ‘বিতারা আবাদি’ নামে আরেকটি কোম্পানি খুলে মালয়েশিয়ায়। আবার বিতারা কাজটি দীপন ইনফো টেক নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেয়। কিছুদিন আগে তারাও মালয়েশিয়ায় এমআরপির কাজ প্রায় বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, ডাটাএজ ও আইরিসের দ্বন্দ্বে মালয়েশিয়ায় আউটসোর্সিং প্রায় বন্ধ। তাদের দ্বন্দ্ব না মেটায় এখন দূতাবাসের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার মতোই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে আমিরাতে। সেখানে অবশ্য দরপত্রের মাধ্যমেই কাজ পেয়েছিল আইরিস করপোরেশন। কিন্তু নিজেরা কাজ না করে সেখানেও তারা দীপন ইনফো টেককে কাজ দেয়। ওই প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফির বদলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি করছে বলে বারবার অভিযোগ ওঠে।
৯ এপ্রিলের এমআরপি-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির কার্যপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হাইকমিশন যেখানে প্রতিদিন সাড়ে সাত শ এমআরপি দিচ্ছে, সেখানে আইরিস দিচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি। সমস্যা সমাধানে আইরিসকে সেখানে ১০০ ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র (মোবাইল ইউনিট) খোলার কথা বলা হয়। কিন্তু তারা সেই কাজটিও করতে পারেনি।
একই ঘটনা ঘটছে সৌদি আরবে। সেখানে আইরিস এক বছরে মাত্র ৪৪ হাজার ৬০০ পাসপোর্ট বিতরণ করে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। সেখানে আইরিসের স্থানীয় অংশীদার কোয়াদ টেলিকম, যাদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। সমস্যা সমাধানে সেখানে ১২০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র ও দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল দিতে বলা হয় আইরিসকে। এ ক্ষেত্রেও তাদের অগ্রগতি নেই।
এর আগে মালয়েশিয়া থেকে আইরিসের ভিন্ন নামে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান বিতারা আবাদি এবং দীপনের বিরুদ্ধে এমআরপি দেওয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহসহ নানা অভিযোগ ওঠে। মালয়েশিয়া থেকে এ ব্যাপারে চিঠিও দেওয়া হয় ঢাকায়। কিন্তু কখনোই আইরিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যোগাযোগ করা হলে আইরিসের স্থানীয় এজেন্ট আসিফ হাসান বলেন, ‘আমি আইরিশের কেউ নই। তবে তাদের আমি চিনি। আমার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়।’ এর আগে আসিফ হাসানকে আইরিসের পক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দেখা গেছে। সরকারি নথিপত্রেও তাঁর নাম আছে। আইরিশের বক্তব্য জানতে তাদের মালয়েশিয়ার দপ্তরে ই-মেইল পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আবদুল মাবুদের বিরুদ্ধে আইরিসকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আছে। কেন আইরিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, জানতে চাইলে এমআরপি প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং বারবার সতর্ক করা হয়েছে।

Tuesday, July 28, 2015

ঘুষের সঙ্গে বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ by কামরুল হাসান

ভয়ানক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ
পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যের বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়া থামছে না। মামলা তদন্তে ঘুষ নেওয়া, গ্রেপ্তার বা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করার পাশাপাশি ছিনতাই-ডাকাতি, মাদক কেনাবেচা, ধর্ষণসহ বড় ধরনের অপরাধে পুলিশের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা খুব কাজে আসছে না।
পুলিশের ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড (ডিএপিএস) শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত সাড়ে তিন বছরে ৩১২ জন পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা এবং বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুতি ছাড়াও অন্য দণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে গুরুদণ্ড হলো পদাবনতি, বার্ষিক প্রণোদনা (ইনক্রিমেন্ট) বাতিল ও বার্ষিক প্রতিবেদনে কালো দাগ। আর লঘুদণ্ড হলো কিছু সময়ের জন্য আটক রাখা, দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা, অতিরিক্ত প্যারেড করানো এবং তিরস্কার ও সতর্ক করা।
‘পুলিশে দলীয়করণের কারণে অপরাধের বেশ কিছু ঘটনা ঘটছে, যা পুলিশের কাছ থেকে কেউ আশা করে না। কিন্তু পুলিশ যদি এভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের দাঁড়ানোর কোনো জায়গা থাকবে না’
যোগাযোগ করা হলে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সংখ্যা দিয়ে এ ধরনের বিষয়ের বিচার করা ঠিক হবে না; বরং এসব ব্যবস্থা নেওয়া থেকে প্রমাণিত হয় যে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতে বিশ্বাস করে। কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করে না। তা ছাড়া আগের বছরগুলোর তুলনায় পুলিশের সদস্যও অনেক বেড়েছে।
তবে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ডিএপিএস শাখায় যেসব অভিযোগ নথিভুক্ত হয়, তা প্রকৃত অপরাধের চেয়ে অনেক কম। কাগজে-কলমে অভিযোগের যে সংখ্যা দেখানো হয়েছে, প্রকৃত অভিযোগ তার চেয়ে অনেক বেশি। অনেক অভিযোগ সদর দপ্তর পর্যন্ত আসে না। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণেই পুলিশ কর্মকর্তারা নিম্নপদের সদস্যদের বারবার সতর্ক করছেন।
পুলিশের মতো র্যাবও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। র্যাব জানায়, গত সাড়ে তিন বছরে ৩৭১ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় সাতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে লোকবল আছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৯, আরও ৫০ হাজার লোকবল নিয়োগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গত বছরের মার্চে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ১০১ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করে বলে, তাঁরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটকের পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন। এ তালিকায় পুলিশ সুপার থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত, এমনকি রাষ্ট্রপতি পদক (পিপিএম) পাওয়া কর্মকর্তারাও ছিলেন। এসব কর্মকর্তা ২২৬ জনকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন। দেশের সাতটি বিভাগের ১৯ জেলায় এ ঘটনা ঘটে। গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরপর গত বছরের ১৮ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী’ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেয়।
ডিএপিএস শাখার কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে সবার ব্যাপারে তথ্য তাঁরা পাননি। তবে অনেক অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ আগে ঘুষ খেত, এখন ইয়াবা ব্যবসা করছে। দেখা যাচ্ছে, এখন শুধু ক্ষেত্র বদল হয়েছে, অপরাধে বৈচিত্র্য এসেছে। তাঁর মতে, পুলিশে পরিবর্তন আনতে হলে এর সংস্কার দরকার।
সম্প্রতি বরিশাল মহানগর পুলিশের ঘুষ আদায়ের তহবিল নিয়ে পুলিশ প্রশাসন বিব্রত। পদোন্নতির জন্য তারা রীতিমতো ব্যাংক হিসাব খুলে ঘুষের জন্য তহবিল করেছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে একজন কমিশনারসহ ১১ জন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই সঙ্গে মহানগর পুলিশ কমিশনারকেও প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। তবে এখনো কমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়নি। পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এভাবে ঘুষ আদায়ের বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধ। তদন্তের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২০ জুন ফেনীর লালপুর এলাকা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এএসআই মাহফুজুর রহমানকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। এই ইয়াবার মধ্যে কক্সবাজার পুলিশের জব্দ করা ১৩ পিস ইয়াবাও ছিল। তাঁকে আটকের পর র্যাব সদস্যরা আরও ১০ পুলিশ সদস্য ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পান।
জানতে চাইলে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, এসব অভিযোগ লিখিতভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের খুঁজে বের করতে সিআইডির ডিআইজি সাইফুল হককে প্রধান করে কমিটি করা হয়েছে। এ ছাড়া মানব পাচার, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য চাঞ্চল্যকর ঘটনা তদন্ত এবং এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে বিশেষ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি তৌফিক মাহবুব চৌধুরীকে প্রধান করে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে।
গত ১৭ জুন এক নারী পুলিশ কনস্টেবলকে ধর্ষণে জড়িত তাঁর সাবেক স্বামী এএসআই কলিমুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই পুলিশ সদস্যকে রিমান্ডেও আনা হয়। ১৪ জুন মোশাররফ হোসেন নামের আরেক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন তাঁর সাবেক স্ত্রী। মোশাররফ এখনো পলাতক।
রাজধানীর খিলগাঁও থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বর্তমানে কারাবন্দী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আবদুল কাদেরকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় আদালত হেলাল উদ্দিনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
দেশের অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের বিরুদ্ধেও ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বেশির ভাগ অভিযোগ এএসআই, এসআই ও পরিদর্শক পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গত ১৭ জুন ঢাকার সব উপকমিশনারকে (ডিসি) চিঠি দিয়ে বলেছেন, মুষ্টিমেয় সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ডিএমপি তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি জনসাধারণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ফলে সমাজে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমছে। পুলিশ সদস্যরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে না জড়ান, সে ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সদস্যরা যাতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন, সে জন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপকমিশনারের নির্দেশ ছাড়া সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কমিশনারের নির্দেশের পরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়ন পাওয়া পুলিশ সদস্যরাই এসব অপরাধ করছেন। এঁরা পদস্থ কর্মকর্তাদের কথাও শোনেন না।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ এস এম শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশে দলীয়করণের কারণে অপরাধের বেশ কিছু ঘটনা ঘটছে, যা পুলিশের কাছ থেকে কেউ আশা করে না। কিন্তু পুলিশ যদি এভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের দাঁড়ানোর কোনো জায়গা থাকবে না। এ জন্য পুলিশের যাঁরা দায়িত্বশীল, তাঁদের তৎপর হতে হবে। কারণ, আইনের শাসন না থাকলে সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়বে।

Friday, July 3, 2015

গুলশান কার্যালয় গুলিয়ে ফেলছে বিএনপিকে by কামরুল হাসান

গুলশান কার্যালয়মুখী আর নয়...। রাজনীতি করতে চাই। কিন্তু অপমান-অপদস্থ হতে চাই না। এমনটাই মনোভাব বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীদের। খুব বেশি দরকার না হলে কিংবা দলের চেয়ারপার্সনের ডাক না পড়লে প্রকাশ্যেই এ কার্যালয় এড়িয়ে চলেন নেতারা। মোসাহেবী, সিন্ডিকেট, দুর্ব্যবহার আর দুর্নীতির সবকিছুই যেন এখানে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চান দলের পোড় খাওয়া নেতারা। পরিবর্তন চান দলের সব স্তরে। তাদের এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শিগগিরই শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে গুলশান কার্যালয় থেকে শুরু করে দলের প্রধান কার্যালয় নয়াপল্টন পর্যন্ত। পরিবর্তনের সুবাতাস বইয়ে দিতে চান মূল দল থেকে অঙ্গ সংগঠনগুলোর ভেতরেও। এর জন্য দলের ভেতর গড়ে তোলা হয়েছে প্রেসার গ্রুপ। সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে এ গ্রুপে অন্তত ২৫ জন সাবেক এমপি মিলে দলের জন্য প্রয়োজনীয় রূপরেখাও তৈরি করছেন বলে জানা গেছে।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ২। এই এলাকার ৮৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ৬ নম্বর বাড়ি। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে এ বাড়িটিতেই চেয়াপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয় করা হয়। এর আগে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বনানীর হাওয়া ভবনে রাজনৈতিক কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। কিন্তু এ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নেতিবাচক বিতর্কের পর রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে এবং অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান এলাকাতে ভাড়ায় এ নতুন কার্যালয় নেয়া হয়। কিন্তু শুরু থেকেই দূরত্বের কারণে নেতাকর্মীরা এ কার্যালয়মুখী হতে চান না। এর সঙ্গে উপদ্রব হিসেবে কার্যালয়ে অবস্থানরত কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের দৌরাত্ম্যে তটস্থ থাকতে হয় দলের সব স্তরের নেতাকর্মীকে।
এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে দলে বহুল প্রচলিত মতবাদ রয়েছে। এছাড়া কার্যালয়ের গোপন তথ্য পাচার, সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত, টাকার বিনিময়ে বাড়তি সুবিধা প্রদানসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তাদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়েছে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। যার কারণে তারা বছরের পর বছর বহাল তবিয়তেই আছেন।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দাবি, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নিরিবিলিতে রাজনৈতিক কাজ পরিচালনার জন্যই এমন জায়গায় তার কার্যালয় নেয়া হয়েছে। তবে এ সঙ্গে তারা এও স্বীকার করেন, এর ফলে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার (খালেদা জিয়া) যোগাযোগ অনেকটা কমে গেছে। এছাড়া একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে যেসব উয়িং সচল রাখার আবশ্যকতা ছিল তাও এখানে অপ্রতুল রয়েছে বলেও তারা অকপটে স্বীকার করেন।
নেতারা বলেন, এই কার্যালয়ে রাজনৈতিক চর্চার জন্য তথ্য ও গবেষণা সেল, আর্কাইভ, শক্তিশালী মিডিয়া সেলসহ আরো অনেক কিছুর অভাব বোধ করা হচ্ছে, যা খুব শিগগিরই পূরণ করা হবে বলেও তারা জানান।
বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, কাগজে-কলমে রাজনৈতিক কার্যালয় হলেও এখানে কর্মরত প্রায় সব অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারী অরাজনৈতিক। ফলে তাদের অরাজনৈতিক আচার আচরণ আর দুর্নীতির কারণে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে শুরু করে তৃণমূল বিএনপি পর্যন্ত ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে তারা একাধিকবার দলীয় ফোরামে আলাপ-আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি বলেও সূত্র জানায়।
তবে এবার দলের মধ্য থেকে সাবেক ছাত্রনেতারা পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করছেন। তারা দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে যেমন দল থেকে মান-অভিমানে আর বহিষ্কারের কারণে দূরে সরে যাওয়া নেতাকর্মীকে আবার দলে পুনর্বাসন করতে চাইছেন তেমনি নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করাতেও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে দলের মৌসুমি নেতাদের কাছ থেকে দলকে রক্ষা করতেও মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এসব নেতা জানান, দলের একটি সুবিধাবাদী গ্রুপের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে বিএনপির অনেক ডাকসাইটে নেতা এখন বাইরে রয়েছেন। এখন সময় এসেছে এই সিন্ডিকেট ভাঙার। তোষামোদির রাজনীতি শেষ করতে না পারলে একসময়ে আমাদেরও নিঃশেষ হয়ে যেতে হবে। যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। আধুনিকতার ছোঁয়া সর্বত্র দিতে না পারলে দেশের সিংহভাগ তরুণ আমাদের দলকে কেন সমর্থন দেবে বলেও তারা প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
তারা অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত দলের একটি কার্যকর ওয়েবসাইট নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীদের আধুনিক ডাটাবেজ সংগৃহীত নেই। তথ্য ও গবেষণা সেল ও তথ্য সংগ্রহশালা নেই। শুধু নেই নেই আর নেই। এভাবে একটি দল চলতে পারে না।
প্রেসার গ্রুপের এক সদস্য জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আমাদের মা। তাকে ভুল বুঝিয়ে, মাঠের প্রকৃত চিত্র আড়াল করে এতদিন অনেকে অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু তার দুর্দিনে তাকে তারা ছেড়েও গেছেন। মাকে ফেলে যারা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন তাদের এবার পাকড়াও করতে হবে তাদের মুখোশ উšে§াচন করতে হবে। এজন্য তারা দলের অনেক তৃণমূল নেতাকর্মীর কাছ থেকে তাদের মতামত নিচ্ছেন, যা লিখিত আকারে দলের চেয়ারপার্সনের নিকট তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।
অপর এক সদস্য জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন এখন সরকারি বা বিরোধী দলের প্রধান না থাকা সত্ত্বেও গুলশান কার্যালয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে যাতে নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ না করতে পারেন। তৃণমূলের অনেক নেতা গুলশান কার্যালয়ে এসে আক্ষেপ করে ফিরে যাওয়ার বহু নজির রয়েছে। দলের চেয়ারপার্সনকে একনজর দেখতে এবং মনের কথাগুলো বলার জন্যই মাঝে-মধ্যে ঢাকায় আসেন তারা। কিন্তু কার্যালয়ের ওইসব প্রভাবশালী কর্মকর্তার পাশাপাশি কিছু সিএসএফ সদস্যের দুর্ব্যবহারের কারণে মনে কষ্ট নিয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়।
তিনি জানান, চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করতে তাদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় ড্রইংরুমে। ওইসব প্রভাবশালী কর্মকর্তাই সর্বক্ষণ বিএনপি প্রধানকে ঘিরে রাখেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকা সত্ত্বেও রাগে-অভিমানে একাধিকবার কার্যালয় ত্যাগ করার কথাও জানান তিনি।
এদিকে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি চেয়ারপার্সনকে অনেকটা জিম্মি করে রেখেছে গুলশান কার্যালয়ের ওইসব প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও স্টাফরা। তাদের বাইরে কোনো নেতাই নিজের মনের কথা বলতে পারেন না। আলাদাভাবে কেউ কথা বললে তার প্রতিও রুষ্ট হন ওই প্রভাবশালীরা। বেগম জিয়াকে ওই জিম্মিদশা থেকে বের করে আনতে না পারলে আগামীতে এই সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনই সফলতার মুখ দেখবে না বলেও জানান তারা।
ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বলছেন, গুলশান কার্যালয়ের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের কারণে তৃণমূল বিএনপির আসল চিত্রও জানতে পারছেন না চেয়ারপার্সন। কমিটি কিংবা আন্দোলনের ক্ষেত্রেও নিতে পারছেন না সঠিক সিদ্ধান্ত। ওইসব কর্মকর্তার সঙ্গে যারা যোগসাজশ করে চলেন, তাদেরই গুলশান কার্যালয়ে কদর বেশি। দলের দুঃসময়ে কিংবা আন্দোলনে না থাকলেও বেগম জিয়ার সঙ্গে এখন তাদেরই বারবার দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে গোপন আঁতাতকারী এসব নেতার বিরুদ্ধে কোনো মামলা পর্যন্ত নেই। এসব কারণেই অভিমানে ক্ষুব্ধ হয়ে ত্যাগী নেতারা গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়া না ডাকলে পারতপক্ষে যাচ্ছেন না।
তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের মিডিয়া সেল বলতে কিছুই নেই। এই সেলের কর্মকর্তা সামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান সংবাদকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংবাদ মাধ্যম থেকে আড়ালেই থাকছেন চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিব। বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের সঙ্গে নিজের নামটি জড়িয়েছেন তার একান্ত সহকারী। গুলশান কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য পাচার যন্ত্রের সঙ্গে তার নামটিও জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ নেতাকর্মীদের। দলের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত সিএসএফকে নিয়েও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তাদের দুর্ব্যবহারের হাত থেকে রেহাই পান না সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে দলের অনেক নেতাকর্মীও। এছাড়া বিগত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে রাজধানীর বাংলামটরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে সরকার সমর্থকদের হামলার ঘটনায় দলের চেয়ারপার্সনকে অরক্ষিত রেখে তারা কাপুরুষের মতো পালিয়ে যায় বলেও নেতাকর্মীরা জানান। এমনকি ওই সময়ে তাদের এক সহকর্মীকেও তারা ফেলে পালিয়ে যান বলে সরকার সমর্থকরা তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এছাড়া খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের রুট সম্পর্কে দলের নেতাকর্মীরা না জানলেও ছাত্রলীগ পূর্ব পরিকল্পনামাফিক এ আক্রমণ করার সুযোগ পায় বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। এ কারণেই গুলশান কার্যালয়ের কে কার এজেন্ট তা নিয়েও মুখরোচক আলোচনা চলছে বিএনপিতে।
গুলশান কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থ-বিপত্তি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নেতাকর্মীরা। তারা জানান, এ কার্যালয়ে কর্মরত অনেকেরই গাড়ি-বাড়ির অভাব নেই। সামান্য অসুস্থ হলে তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশেও পাড়ি জমান। এসব অর্থের উৎস সম্পর্কে তারা গুলশান কার্যালয়কেন্দ্রিক দুর্নীতিকেই দায়ী করছেন।
দলের প্রাণকেন্দ্র গুলশানকেন্দ্রিক এরকম অপতৎপরতা রোধ করার জন্য এবার সাবেক ছাত্রনেতাদের কাজে লাগাতে চাইছেন প্রেসার গ্রুপটি। চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মিডিয়া সেল, তথ্য ও গবেষণা সেল, তথ্য সংগ্রহশালাতে দলের সাবেক ছাত্রনেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে দল যেমন উপকৃত হবে তেমনি তারাও রুটি-রুজির ব্যবস্থা করতে পারবে বলে মনে করছেন নেতারা। এরকম একটি প্রস্তবনা নিয়ে তারা খুব শিগগির দলের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

Friday, June 19, 2015

ধোনির কাণ্ড! by কামরুল হাসান

ধোনির ধাক্কায় এভাবেই ছিটকে পড়েছিলেন মুস্তাফিজুর
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা হতেই মহেন্দ্র সিং ধোনি হাসলেন। যেন জানতেন প্রসঙ্গটা উঠবেই। মুখে সেই হাসিটা রেখেই বললেন, ‘আসলে হয়েছে কী, সংঘর্ষটা এড়াতে হলে হয় আমাকে ডান দিকে যেতে হতো, নয়তো ওকে বাঁ দিকে সরতে হতো। আমরা দুজনেই ভেবেছিলাম হয়তো অন্যজন সরবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা পথ চলতে চলতে কারও সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার মতো হয়ে গেল।’ যাঁর সঙ্গে সেই ধাক্কা নিয়ে এত কথা, সেই মুস্তাফিজুর রহমানও পরে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, আসলে ভুলটা তাঁরই হয়েছিল। বল করার পর তিনিই ভুল জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর সে কারণেই ঘটনাটার জন্য ধোনিকে দুষছেন না বাংলাদেশের তরুণ পেসার।
সংবাদ সম্মেলনে যে ঘটনাটার প্রসঙ্গ বারবার এল, সেটা ভারতীয় ইনিংসের ২৫তম ওভারে। তখন নিজের সপ্তম ওভারটা করছিলেন মুস্তাফিজ। আগের দুই ওভারেই দুই ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন, যার মধ্যে আছে ওয়ানডের সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক রোহিত শর্মার উইকেটটাও। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে রানের জন্য ছুটেছিলেন ধোনি। কিন্তু বলটা করে কিছুটা বেখেয়ালে ধোনির পথে এসে দাঁড়ান মুস্তাফিজ। কনুই মেরে তাঁকে সরিয়ে দেন ভারত অধিনায়ক। সেই কনুইয়ের ধাক্কা এতটাই জোরে লাগে যে, ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মুস্তাফিজকে। পরে অবশ্য আবার মাঠে ফিরেছেন মুস্তাফিজ। শুধু ফেরেনইনি, বল হাতে আরও তিন উইকেট নিয়ে হয়ে গেছেন ম্যাচসেরা!
তাৎক্ষণিকভাবে টিভি রিপ্লেতে দেখে অবশ্য মনে হয়েছে ধোনি চাইলে মুস্তাফিজের সঙ্গে ধাক্কাটা এড়িয়েও যেতে পারতেন। তা না করে ধাক্কা দেওয়ার কারণ? ভারতের ‘ক্যাপ্টেন কুল’ ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘আমি চেয়েছিলাম সবচেয়ে কম দূরত্বের পথটা নিতে। বেশির ভাগ সময় দেখা যায় এসব ক্ষেত্রে ঘুরে যেতে গিয়ে ব্যাটসম্যানই আউট হয়। সেই ঝুঁকিটা তো নিতে পারি না।’ ব্যাপারটা যে খুব বড় করে দেখার কিছু নেই, সেটা বোঝালেন আরও একটা তথ্য দিয়ে। ম্যাচের পরই মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলেই ভুল-বোঝাবুঝিটা মিটমাট করে নিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনেই অভিষেক ম্যাচে মুস্তাফিজের পারফরম্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করলেন।
দায়টা যে নিজেরই বেশি, সেটা ধোনির পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুস্তাফিজও বলেছেন, ‘আমি ভুল পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ ঘটনাটাকে খুব বড় কিছু মনে করছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফিও, ‘ম্যাচে আসলে এ রকম অনেক কিছু হতেই পারে। মুস্তাফিজ তো বলেছেই সে এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছে। এটা খুব বড় কিছু নয়। আমরা এগুলো মনে রাখি না। সব ভুলেই ম্যাচের পর প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলাই। ও রকম বড় কিছু হলে তো মাঠে আম্পায়াররা আছেনই।’
‘আমরা এগুলো মনে রাখি না’—বলে মাশরাফি পরিচয় দিলেন ঔদার্যের। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাঁর ১১ বছর কাটছে, যিনি অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে জিতিয়েছেন দুটি বিশ্বকাপ (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ), সেই মহেন্দ্র সিং ধোনি কিন্তু মাঠে ১৯ বছর বয়সী একজন অভিষিক্ত ক্রিকেটারের সামনে প্রথম সুযোগেই ঔদার্যের পরিচয় দিতে পারেননি। এসব মানুষের মন থেকে সহজেই মুছে যায় না!

Wednesday, May 27, 2015

রানা প্লাজার মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা by কামরুল হাসান

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সাভার উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। তারপরও শুধু নির্বাহী কর্মকর্তার নাম বাদ দিয়ে বাকি পাঁচজনের নামসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এ সপ্তাহেই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ছয়জনের বাকি পাঁচজনের নাম অভিযোগপত্রে যুক্ত করা হলেও সরকারের ‘পূর্ব অনুমতি’ না থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোনো আদালত তা আমলে নিতে পারবেন না। এতে এই পাঁচ আসামি মামলার শুরুতেই অব্যাহতি পাবেন। আর এঁরা যদি অব্যাহতি পান, তাহলে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আর অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হবে না। মামলার কোনো ভিত্তিই থাকবে না।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা অনুসারে, সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সাভারের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির উদ্দিন সরদার ছাড়াও আরও যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার অনুমতি মেলেনি, তাঁরা হলেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. ইউসুফ আলী ও সহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান দপ্তরের যুগ্ম শ্রম পরিচালক এম এ জামশেদুর রহমান, টঙ্গীর শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আইআরআই) প্রকল্পের পরিচালক বেলায়েত হোসেন এবং রাজউকের ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেন।
সিআইডি পুলিশ জানায়, এসব কর্মকর্তার মধ্যে সাভারের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির উদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ভবনে ফাটল দেখার পরও স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফাটলের ব্যাপারে ভুল তথ্য পরিবেশন করে কারখানার মালিককে কারখানা চালু রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি ঘটনার পর থেকে নির্বাহী কর্মকর্তা পলাতক আছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত না করা এবং সময়মতো নজরদারি করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোেসনের বিরুদ্ধে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, ভুয়া নকশার ওপর ভিত্তি করে কারখানার অনুমোদন।
অভিযোগপত্র দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রম আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করার বিষয়ে শুধুমাত্র শ্রম আদালতে মামলা করা যায়। অন্য কোনো আদালতে এ বিষয়ে মামলা রুজু করা যায় না।’
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, অনুমতি না পাওয়া এবং চাপের মুখে শুধু নির্বাহী কর্মকর্তার নাম তাঁরা বাদ দিয়েছেন। কিন্তু অন্য পাঁচজনের ব্যাপারে সরকারি অনুমোদন না পাওয়া গেলেও তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হলে মামলার ভিত্তি নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ ভবন ধসে পড়ার দায় কারও ওপর পড়বে না। রানাসহ সবাই নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। তা ছাড়া, এই পাঁচজনের নাম বাদ দিলে অন্য কারও নামে অভিযোগপত্র দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এ কারণে বাধ্য হয়েই অভিযোগপত্রে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করছে সিআইডি।
দুটি মামলায় এ সপ্তাহের মধ্যে অভিযোগপত্র দেবে সিআইডি, নির্বাহী কর্মকর্তার নাম বাদ, পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের অনুমতি দেয়নি মন্ত্রণালয় এভাবে অভিযোগপত্রে নাম যুক্ত করলে মামলার কী লাভ জানতে চাইলে সিআইডির তদন্তকারী ও সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর বলেন, ‘এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ ও পরিস্থিতি আমরা আদালতকে জানাব। এখন আদালত নির্ধারণ করবেন তাঁদের নাম থাকবে কি থাকবে না। আমরা যেহেতু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি, সে কারণে তাঁদের বাদ দিতে পারি না।’
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, এ মামলার তদন্তে মোট ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এঁদের ১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি সবাই পলাতক আছেন। এ তালিকায় ১৩ জনই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
মামলা তদন্ত: ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ এই শিল্প দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৪ জন নিহত হন। আহত ও পঙ্গু হয়ে যান প্রায় দুই হাজার মানুষ। মর্মান্তিক এ ঘটনা নিয়ে মোট পাঁচটি মামলা হয়। এর মধ্যে গত ২৫ এপ্রিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ১২ ধারায় সাভার থানায় একটি মামলা করেন। একই দিন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ একই থানায় আরও একটি মামলা করেন। পুলিশের করা মামলায় রানা প্লাজার ধসকে অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত করে অভিযোগ আনা হয়। এ দুটি মামলা সিআইডি তদন্ত করছে।
এ ছাড়া পোশাকশ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলী আক্তার বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে রানা প্লাজা ধসকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে আরেকটি মামলা করেন। আদালত এই মামলাটিও তদন্ত করতে সিআইডিকে আদেশ দেন।
সিআইডির তদন্তকারী সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর প্রথম আলোকে বলেন, রাজউক ও পুলিশের করা মামলার তদন্তের সঙ্গে শিউলি আক্তারের অভিযোগেরও তদন্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহিন শাহ পারভেজ ধামরাই থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করেছিলেন। এ দুটি মামলার অভিযোগপত্র আগেই দেওয়া হয়েছে।

Friday, February 13, 2015

ঢাকা কারাগারে বন্দীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ গুণ by কামরুল হাসান ও নজরুল ইসলাম

হরতাল-অবরোধ শুরুর পর ৩৭ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর মামলা হয়েছে সাত শতাধিক। ধরপাকড়ের কারণে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীর সংখ্যা বেড়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এখন বন্দীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ।
কারাগার সূত্র জানিয়েছে, স্বাভাবিক নিয়মে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ বন্দী থাকে। অবরোধ শুরুর পর কারাগারগুলোতে বন্দীর সংখ্যা বেড়েছে ৪ হাজার ১৮৮ জন। এ সময় সাধারণ অপরাধের আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে খুবই কম। এক মাসে যেসব বন্দী কারাগারে এসেছে, তাদের ৮০ শতাংশই রাজনৈতিক মামলার আসামি।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, গত ৩৭ দিনে পেট্রলবোমাসহ নানা উপায়ে ১ হাজার ৪৯টি যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন থানায় লিপিবদ্ধ হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের বাজেটে টান পড়েছে। ঘাটতি মেটাতে আগামী তিন মাসের জন্য ১২৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে পুলিশ। শুকনো খাবার, অতিরিক্ত সময় কাজ করা, আসামির খোরাকি, যানবাহনের তেল ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য এ অর্থ চাওয়া হয়েছে।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় কাজ করতে হচ্ছে। এ জন্য আনুষঙ্গিক কিছু সুবিধা বাড়াতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণেই আছে।
পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, দেশব্যাপী সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশ প্রশাসন। গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত অপরাধবিষয়ক বার্ষিক সম্মেলনে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে এ উদ্বেগের কথা ফুটে ওঠে।
৬ জানুয়ারি টানা অবরোধ শুরুর পর থেকেই সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। এর তিন সপ্তাহ পর বর্ডার গার্ডকে (বিজিবি) সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান শুরু করে পুলিশ। এ সময়ে যে ১৩ হাজার গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবাই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাহায্য নিয়ে থানাগুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপি-জামায়াত ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের নামের তালিকা করা হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী যাকে যেখানে পাওয়া যায়, গ্রেপ্তার করা হয়। তালিকা ধরে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় এঁদের বেশির ভাগ পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা যায়নি। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেন্দ্রীয় থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মীরা আছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে এসব অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে ধরে হয়রানি, মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করার অভিযোগও উঠেছে।
কারা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যে হারে বন্দী কারাগারে আসে, প্রায় একই হারে ছাড়াও পায়। ফলে বন্দীর সংখ্যা সীমার মধ্যে থাকে। কিন্তু এক মাস ধরে যে হারে বন্দী আসছে, তার তুলনায় জামিনে বের হচ্ছে কম। ফলে হাজতি-বন্দীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী অবরোধ শুরু হওয়ার আগে ৪ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ছিল ৬৭ হাজার ৬১৪ জন। ৮ ফেব্রুয়ারি এসব কারাগারে বন্দীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১ হাজার ৮০২। কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৪৬০।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৬৮২। গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি বন্দী ছিল সাড়ে সাত হাজার। ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেশি হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট কারা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে বন্দীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিন গুণের মতো বন্দী থাকায় ঢাকা কারাগারের ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হচ্ছে। শুক্র ও শনিবার কিছু বন্দীকে কাশিমপুর কারাগারে সরিয়ে চাপ সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোয় বন্দী সংখ্যা ঢাকার মতো বাড়েনি।
কত ক্ষতি: পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া হিসাবে দেখা গেছে, ৫ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৪৯টি যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রলবোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৭৯টি বাস ও ট্রাকে। বোমা ছাড়াও অন্য উপায়ে আগুন দেওয়া হয় ৪৫৭টি যানবাহনে। যানবাহন ছাড়া আরও ২২টি স্থাপনায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আর ভাঙচুর হয়েছে ৪০৩টি যানবাহন।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের কাছে যে হিসাব আছে, তা অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়। তবে পুলিশের হিসাবের বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ না হওয়ায় এসব তালিকায় আসেনি।
পুলিশের হিসাবে ৩৭ দিনে মোট ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য। ৫৪ জনের মধ্যে আগুন পুড়ে মারা গেছেন ৩৭ জন। এ সময় ১ হাজার ৫১৫টি ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০৭ জন।
পুলিশের হতাহতের বিবরণ থেকে জানা গেছে, এ সময় দুজন পুলিশ সদস্য নিহত ও ২৭৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে। ওই অঞ্চলে ১০৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তবে পুলিশের হিসাবের সঙ্গে পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের অমিল রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত প্রথম আলোতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ক্রসফায়ারে নিহত ১৯ জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা ৮৭।
আরও বরাদ্দ চায় পুলিশ: মাঠপর্যায়ের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, টানা ৩৭ দিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঢাকার বাইরের পুলিশ সদস্যরা হাঁপিয়ে উঠেছেন। অভিযান কম করে শুধু পাহারা দেওয়ার মধ্যেই তাঁরা দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছেন।
ওই সব কর্মকর্তা বলেন, বেশি সমস্যা হচ্ছে যানবাহনের তেল আর আসামির খোরাকি নিয়ে। থানাগুলোতে সরকারের যে নিয়মিত বরাদ্দ আছে, খরচ তার চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। এ কারণে দেশের সব জেলা থেকেই খোরাকি ও গাড়ির তেলের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে। এ জন্য পুলিশ সদস্যদের জন্য ৯০ দিনের রান্না বা শুকনো খাবারের খরচ বাবদ ৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৫০ টাকা জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের বাড়তি সময় দায়িত্ব পালন (ওভার টাইম), গোয়েন্দা কার্যক্রম ও যানবাহনের জ্বালানি খরচ বাবদ আরও ৮৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পুলিশের চিঠিতে বলা হয়, হরতাল-অবরোধ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীর ৯৪ হাজার ৯৪৯ জন সদস্য দায়িত্বে থাকছেন। এ সময় জনপ্রতি খাবার সরবরাহ বাবদ গড়ে দৈনিক ৭৫ টাকা করে দরকার হচ্ছে। এতে দৈনিক মোট ৭১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ টাকার প্রয়োজন। এ হিসাবে আনুমানিক তিন মাসের জন্য দরকার ৬৪ কোটি ৯ লাখ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে খাবার সরবরাহের জন্য পুলিশের কাছে ২০ কোটি ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা তহবিলে আছে। মোট চাহিদা থেকে এ অর্থ বাদ দিয়ে আরও ৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৫০ টাকা দরকার।
পুলিশের অর্থ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, সব জেলার চাহিদা এক করে আরও ১২৬ কোটি টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ একাই চেয়েছে আট কোটি টাকা।

Sunday, December 7, 2014

ঢাকার রাস্তার ১৫৫ সিসি ক্যামেরা বন্ধ- প্রকল্পের ৬১ কোটি টাকা পানিতে by কামরুল হাসান

রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ৫৯টি সংযোগ ও প্রবেশমুখে ১৫৫টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা আছে। দূর থেকে সম্ভাব্য অপরাধ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য এই ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। কিন্তু চার বছর ধরে এগুলো বন্ধ পড়ে আছে। সার্ক ফোয়ারার মোড়ে গত ২৯ নভেম্বর বাসের ধাক্কায় সাংবাদিক জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরী নিহত হন। এই মোড়েও দুটি সিসি ক্যামেরা আছে। সাধারণ ধারণা ছিল, এই সিসি ক্যামেরার চিত্র (ফুটেজ) থেকে সহজেই কোন বাস তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিল তা শনাক্ত করা যাবে। কিন্তু গত সাত দিনেও বাসটি কেন শনাক্ত করা যায়নি, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেল, শুধু সার্ক ফোয়ারার মোড়ের ক্যামেরা দুটিই নয়, নগরের সব কটি সিসি ক্যামেরা আসলে বন্ধ আছে। মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলার সময় ক্যামেরাগুলো দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে (আন-অফিশিয়ালি) কিছু নজরদারি করা হয়েছে। এর পর থেকে এগুলো বন্ধ আছে। পুলিশ টেলিকম বিভাগ ঠিকাদারের কাছ থেকে সেগুলো বুঝেও নেয়নি। তবে প্রকল্পের ৭০ ভাগ টাকা তারা ঠিকাদারকে পরিশোধ করেছে।
প্রকল্পের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো রাজধানীকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনতে এবং ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সাত বছর আগে ২৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় ৬১ কোটি টাকা। চার বছর আগে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। কিন্তু পুলিশ প্রকল্পটি এখনো বুঝে নেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে তাঁদের মধ্যে ভীতি রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো আইনি ঝামেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাঁরা প্রকল্পটি বুঝে নিতে আগ্রহী নন।
জানতে চাইলে পুলিশ টেলিকমের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নওসের আলী প্রথম আলোকে জানান, প্রকল্পটি বুঝে নেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত দেবে।
বর্তমান ব্যবস্থায় পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ শুধু ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে। পুলিশের এই কাজকে সহজতর ও গতিশীল করতে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (১৯৯৮) ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন কন্ট্রোল রুম আধুনিকায়ন’ নামে এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো ও কেন্দ্রীয়ভাবে অপরাধ ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা, ট্রাফিক ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে রাস্তার যানজট পরিস্থিতি পথ ব্যবহারকারীদের জানানো, পুলিশের বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা এবং ওয়াকিটকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা। প্রকল্পের কাজ পায় ফলেক কমিউনিকেশন্স নামের ব্রুনাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান।
মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে প্রকল্পের জন্য ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও একপর্যায়ে তা এসে দাঁড়ায় ৪১ কোটি টাকায়। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের জন্য খরচ হয় আরও ২০ কোটি টাকা। সব মিলে খরচ দাঁড়ায় ৬১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
প্রকল্প বুঝে না নেওয়ায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ক্যামেরা ও ডিজিটাল বোর্ডগুলো রাস্তায় পড়ে আছে অবহেলায়। এগুলোর বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে এই ৬১ কোটি টাকাই পানিতে যাবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফলেক কমিউনিকশন্সের স্থানীয় প্রতিনিধি কাজী জাকারিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ফলেক থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১০ সালেই প্রকল্পের কাজ শেষ গেছে। এরপর তাদের দুই বছরের বিক্রয়-পরবর্তী সেবা দেওয়ার মেয়াদও শেষ হয়। এখন এ প্রকল্প নিয়ে তারা কোনো দায় নিতে চায় না। কার্যালয় গুটিয়ে চলে যেতে চায় তারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্পটি ‘অনিষ্পন্ন’ রাখার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২৯ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোনো জবাব দেয়নি।
জানতে চাইলে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি উন্নয়ন) গাজী মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিজেও বিস্মিত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও কেন প্রকল্পটি বুঝে নেওয়া হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘গ্রহণ-সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে প্রকল্পটি নিতে কোনো বাধা আছে বলে আমি মনে করি না।’
এই প্রকল্পের আওতায় ১৫৫টি সিসি ক্যামেরা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ৩১টি ট্রাফিক ডিসপ্লে বোর্ড লাগানো হয়। আবদুল গণি রোডে স্থাপন করা হয় (কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন) নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এরপর ওই প্রকল্প থেকেই পুলিশকে দেওয়া হয় এক হাজার ২৩টি আধুনিক টেট্রা সিস্টেম-সংবলিত (টেরিস্ট্রিয়াল ট্রাংকড রেডিও) ওয়াকিটকি বা বেতার যন্ত্র, থানার ৩০টি টহল গাড়িতে স্থাপিত হয় স্বয়ংক্রিয় যান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা। পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় দেড় বছর এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে পুলিশ। এরপর সব বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রকল্পের সঙ্গে সূত্র জানায়, প্রকল্পের চুক্তিপত্র মোতাবেক কাজ হয়েছে িক না, তা দেখতে ১২ সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি করে পুলিশ। সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যেভাবে প্রকল্পের নকশা করা হয়েছিল তা সঠিক ছিল নয়। শুরুতে ভাবা হয়েছিল পুরো ব্যবস্থাকে তারবিহীন (ওয়্যারলেস) করা হবে। ক্যামেরাগুলোতেও কোনো তার থাকবে না, চলবে বেতার তরঙ্গে। কিন্তু প্রকল্প শেষ করে দেখা গেল, উঁচু ভবনের কারণে বেতার তরঙ্গ বাধা পাচ্ছে। ফলে অনেকগুলো ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে, ওয়্যারলেসও কাজ করছে না ঠিকমতো।
চলতি বছরের প্রথমদিকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রকল্পটি চালু করতে হলে তারের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। সেই অনুযায়ী, অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপনের জন্য বিটিআরসির সঙ্গে চুক্তি করে পুলিশ। চুক্তি অনুযায়ী সব ক্যামেরা ও ডিসপ্লে বোর্ড সংযুক্ত করতে অপটিক্যাল ফাইবার বসানোর জন্য পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয় বিটিআরসিকে। এ বছরের মার্চ মাসে বিটিআরসি অপটিক্যাল ফাইবারের কাজ শেষ করে। এবার সবকিছু ঠিকমতো কাজ করছে িক না, তা দেখার জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি গত ১৮ মার্চ তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে সবকিছু সচল আছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর শুরু হয় প্রকল্প গ্রহণ করা নিয়ে চিঠি চালাচালি।
এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শহরের কিছু স্থানে নিজের মতো করে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে। কিন্তু সে ক্যামেরা ব্যবহার করে কী সুফল পাওয়া গেছে, তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ জানাতে পারেনি।
পুলিশের গণসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কাজ চালানোর জন্য কিছু ক্যামেরা বসিয়েছি।’
যোগাযোগ করা হলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) এএসএম শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, যে উদ্দেশ্যে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলো, পুলিশের সমন্বয়হীনতার কারণে তার সুফল পেল না নগরবাসী। আর জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরীর মতো অনেক মৃত্যু, দুর্ঘটনার বা গুরুতর আইন অমান্যের তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার সুযোগও থাকল না। এর জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Sunday, August 17, 2014

সাংসদের দপ্তরে ‘আদালত’ by কামরুল হাসান

সালিসের নামে প্রচলিত আইনের বাইরে বিশেষ একধরনের বিচারব্যবস্থা চালু করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদার। বিচার করার জন্য তিনি গঠন করেছেন পাঁচ সদস্যের কমিটি। প্রতি শনিবার এই কমিটি বৈঠকে বসে শুনানি করে। কথিত আদালতের নাম ‘সামাজিক বিচার কমিটি’। এলাকার মানুষের লিখিত অভিযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ পাঠিয়ে ভয় দেখিয়ে হাজির হতে বলা হয়। হাজির না হলে একতরফা রায় দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। রায় মানতেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পুলিশ অস্বস্তিতে রয়েছে। পুলিশ এই সালিসি আদালতের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সাংসদ কামাল মজুমদার অবশ্য পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন যে তাদের ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ কমে যাওয়ায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
রাজধানীর পল্লবীতে সাংসদের ব্যক্তিগত কার্যালয় মোহনায় বিচার কমিটির দপ্তর। স্থানীয় মানুষ এটাকে ‘আদালত’ বলেন। কমিটির সদস্যরা দাবি করেছেন, ২০০৯ সাল থেকে তাঁরা প্রায় ২৫০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন।
এভাবে ‘আদালত’ বসিয়ে বিচার করা সাংসদের কাজ কি না, জানতে চাইলে আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে সাংসদদের কোনো বিচারিক ও নির্বাহী ক্ষমতা নেই। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে তাঁরা পারিবারিক বা সামাজিক কোনো বিরোধ মীমাংসা করতে পারেন কিন্তু এর বাইরে গিয়ে কাউকে হাজির করার নোটিশ দেওয়া, ভয় দেখানো বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না।
এ বিষয়ে কথা হয় সাংসদ কামাল মজুমদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার দুই পক্ষ মারামারি করবে, আর আমি এমপি হয়ে বসে বসে তামাশা দেখব! আমার এলাকার লোকদের বিচার-সালিস করার ক্ষমতা আমার আছে, আমি সেটাই করি।’
সামাজিক বিচার কমিটির কার্যক্রম দেখতে ১৯ জুলাই আমি হাজির হই কামাল মজুমদারের কার্যালয় মোহনাতে। মোহনার নিচের তলায় ‘সাংসদের রাজনৈতিক কার্যালয়’ লেখা কক্ষে চলছিল বিচার কমিটির কাজ। প্রবেশ করতেই দেখা গেল জনা বিশেক লোক বসে আছেন। প্রায় সবার হাতেই দলিল-দস্তাবেজ। কমিটির নোটিশে তাঁরা হাজির হয়েছেন।
পাঁচ সদস্যের কমিটির দুজন তখনো আসেননি, তিনজন বসে আছেন। একজন এগিয়ে এসে জানতে চান, কী ধরনের অভিযোগ। আবেদনপত্রে সাংসদের সুপারিশ আছে কি না। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে কামাল মজুমদারের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এগিয়ে আসেন। তাঁর মাধ্যমে কমিটির দুই সদস্য প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা জানান, সামাজিক বিচার কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। তখন কমিটি ছিল সাত সদস্যের। ২০১৩ সালে সেই কমিটি বিলুপ্ত হয়। ২০১৪ সালে নতুন পাঁচ সদস্যের কমিটি হয়। এর আহ্বায়ক হলেন সাংসদের ঘনিষ্ঠ আবদুল ওহাব। অন্য চারজন হলেন: মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি ও সাবেক সরকারি চাকুরে আবুল খায়ের ভুইয়া, কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল আলী চৌধুরী, আওয়ামী লীগের নেতা সিরাজউদ্দিন আহমেদ ও কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর।
প্রথম আলো প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের সামনে মধ্যবয়স্ক এক নারী বসে ছিলেন। কমিটির এক সদস্য তাঁর হাতে ৫০০ টাকার একটি স্ট্যাম্প ধরিয়ে তাতে সই দিতে বলেন। এ সময় কমিটির সদস্য আবুল খায়ের ভুইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বর্ণালী হাউজিংয়ের সঙ্গে ওনার একটু ঝামেলা হয়েছিল। এখন দুই পক্ষ সমঝোতায় এসেছে।’ পাশে একটি লোককে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘উনি কোম্পানির এমডি।’ এরপর লোকটির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি সই দেন।’ এমডি পরিচয় দেওয়া লোকটি মুখ কালো করে স্ট্যাম্পে সই করলেন।
কী হয়েছিল আবাসন কোম্পানির সঙ্গে? জানতে চাইলে আবুল খায়ের ভুইয়া বলেন, ‘সে এক লম্বা কথা ভাই। ম্যালা ঝামেলা। এত শুনে কী করবেন। অনেক দিন আলোচনা হলো। এই দ্যাখেন কত মোটা ফাইল। একেবারে আদালতের মতো, প্রতিদিনের প্রসিডিং লেখা আছে।’ অবশ্য এমডি পরিচয় দেওয়া লোকটি এ নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাইলেন না।
এ আদালতে কী ধরনের বিচার হয়? প্রশ্ন করতেই মুখের কথা কেড়ে নিয়ে কমিটির আহ্বায়ক আবদুল ওহাব বলেন, ‘এটাকে আদালত বলছেন কেন, এটা তো সালিস কমিটি। এমপি সাহেব চিঠি দিয়ে কমিটি করেছেন। কোনো ফৌজদারি বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করি না। শুধু জমি বা অ্যাপার্টমেন্ট-সংক্রান্ত ঝামেলা হলে আমরা শুনানি করি। বলতে পারেন, দেওয়ানি বিষয় নিয়ে বিরোধ হলে আমরা তা নিষ্পত্তি করি। রায় ঘোষণা করি। তবে কাউকে জোর করি না।’
আবার মুখ খোলেন আবুল খায়ের ভুইয়া—‘আপনি নিয়মটা ভালো করে শোনেন আগে। লোকজন এমপি সাহেবের কাছে আবেদন করেন। তিনি সেই আবেদন কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর আমরা বিবাদীকে নোটিশ করি। দুই পক্ষ রাজি হলে তবেই সমঝোতা। ৫০০ টাকার স্ট্যাম্পে সই নিয়ে তা থানা ও অন্যান্য স্থানে পাঠানো হয়। আপসের ব্যাপারে কাউকে জোর করা হয় না।’
আবুল খায়ের এ দাবি করলেও কমিটির পাঠানো নোটিশ দেখে তার সত্যতা মেলেনি। এমন কয়েকটি নোটিশের অনুলিপি প্রথম আলো প্রতিনিধির হাতে রয়েছে। এতে দেখা গেছে, মিরপুরের মুক্তি হাউজিংয়ে এক ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি মুক্তি হাউজিংয়ের বাসিন্দা লুৎফর নেছা নাহারকে নোটিশ দিয়ে হাজির হতে বলেন। কিন্তু ওই নারী হাজির না হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর কমিটির সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে পরপর তিনটি চিঠি দেন। এর একটি চিঠিতে বলেন, ‘আপনি অত্র কার্যালয়ে হাজির না হয়ে থানায় জিডি করেছেন। এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে অজুহাত সৃষ্টি করেছেন, সালিস কমিটিতে হাজির না হয়ে উদ্দেশ্যমূলক আচরণ করেছেন। সংসদ সদস্য কর্তৃক গঠিত কমিটিকে আমলে না নিয়ে অপমানিত করেছেন।’
এভাবে হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা হুমকি দেব কেন? তাঁকে আসতে বলা হয়েছে। তিনি আমাদের কথা না শুনে আদালতে যাবেন, সেটা তাঁর ইচ্ছে।’ ওই দিন সামাজিক বিচার কমিটির সামনে এ অভিযোগের আবেদনকারীও বসেছিলেন। শফিউদ্দিন আহমেদ নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই আওয়ামী লীগের নেতা বলেন, প্রতিবেশী দেয়াল তুলে দেওয়ায় তিনি বাড়ির ভেতরে গাড়ি ঢোকাতে পারেন না। এর প্রতিকার চাইতে কমিটির কাছে এসেছেন।
জানতে চাইলে মিরপুর পুলিশের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই কমিটির আইনগত কোনো বৈধতা নেই। তারা আদালতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কথায় কথায় লোকজনকে হাজির হতে নোটিশ দিচ্ছে। আবার নিজের খেয়ালখুশিমতো রায় দিচ্ছে।
মিরপুর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের সাবেক পরিচালক এ বি এম বারেকের মুক্তি হাউজিংয়ের বাসার সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়ার জন্য কমিটি তাঁকে চাপ দেয়। এরপর তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ এতে হস্তক্ষেপ করার কারণে তিনি রক্ষা পান। কমিটির নির্দেশে মিরপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানার সীমানাপ্রাচীরও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আছে।
এ ব্যাপরে জানতে চাইলে কামাল মজুমদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে পুলিশ এসব কথা রটাচ্ছে। আসলে সামাজিক বিচার কমিটির কারণে পুলিশের মামলা কমে গেছে। তারা টাকাপয়সা কামাতে পারছে না। এ কারণে এসব কথা বলছে।’ সামাজিক বিচার কমিটির বিচার নিয়ে ৯০ শতাংশ মানুষই খুশি বলে জানান সাংসদ।
স্থানীয় লোকজন জানান, মিরপুরে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা অনেক বেশি। এ কারণে বিচার কমিটি শুধু জমিজমা-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিচার করে। তারা রায় দেয় খেয়ালখুশিমতো । কিন্তু কামাল মজুমদার ও তাঁর লোকদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না।
তার পরও কয়েকজন সামাজিক বিচার কমিটির কার্যক্রম নিয়ে থানা-পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন ও পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ জিয়াউজ্জামান এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

Friday, May 23, 2014

শামীমের সহায়তায় পালান নূর হোসেন? by কামরুল হাসান

নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সরকারি দলের সাংসদ শামীম ওসমান। তদন্তসংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে৷

Thursday, May 8, 2014

লাশ ডোবাতে ব্যবহার করা হয় রেশনের বস্তা? সেদিন যা ঘটেছিল by কামরুল হাসান

বন্দর গুদারাঘাট থেকে হঠাৎ উধাও নৌকা দুটি। প্রায় চার বছর ধরে এগুলো এ ঘাটেই বাঁধা ছিল। গতকাল বুধবার সকালে সেখানে এগুলো আর দেখা যায়নি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে এ নৌকাগুলো ছিল আতঙ্কের। মাঝেমধ্যে রাতের বেলা চোখবাঁধা লোককে তোলা হতো এসব নৌকায়।

Tuesday, November 5, 2013

সেনা অভিযান হয়নি যে কারণে by কামরুল হাসান ও গোলাম মর্তুজা

বিডিআর বিদ্রোহের দিন পিলখানার ভেতরের অবস্থা বোঝা না যাওয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড- by কামরুল হাসান, শেখ সাবিহা আলম ও গোলাম মর্তুজা ও কুন্তল রায়

পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

Monday, July 22, 2013

১৬টি অপ্রীতিকর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সরকারের কাছে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের চিঠি র‌্যাবে বাহিনীগুলোর দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে by কামরুল হাসান ও গোলাম মর্তুজা

সশস্ত্র বাহিনী থেকে পুলিশের বিশেষ ব্যাটালিয়ন র‌্যাবে প্রেষণে আসা সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত সদস্যদের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়েই চলেছে। কর্মস্থলে দুই বাহিনীর সদস্যরা পরস্পরকে সহ্য করতে পারছেন না। একে অপরের কাজে বাধা দিচ্ছেন, কোথাও কোথাও হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে।

Thursday, July 11, 2013

সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়: পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা দমন-পীড়ন, হত্যা-গুমের জবাব এসেছে ব্যালটে by কামরুল হাসান

বিরোধী দলের প্রতি দমন-পীড়ন, কথায় কথায় মামলা, দলীয়করণ, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, গুম-হত্যা ইত্যাদি ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে বিতর্কিত করে তুলেছে। সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এ বিষয়গুলো প্রভাব ফেলেছে।

Saturday, June 22, 2013

ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের উদ্যোগ গুরুতর অপরাধেও আপস করার বিধান আসছে by কামরুল হাসান

চাঁদা আদায়, মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, চুরি, ব্যাংক জালিয়াতি, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে বা অবহেলাজনিত মৃত্যু, হত্যার উদ্দেশ্যে জখম করার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে প্রচলিত আদালতের বাইরেও আপস-মীমাংসা করা যাবে।

Monday, February 11, 2013

নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি ॥ সঙ্কটে গ্রীস by কামরুল হাসান

গ্রীস নিজেদের চলমান আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলায় অতিসম্প্রতি কিছু বন্ড ইস্যু করে। আর্থিক সঙ্কট নিরসন এবং ইউরো মুদ্রার মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় এই বন্ড কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে দেশটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন।

Saturday, February 9, 2013

সীমানার প্রাচীর ডিঙিয়ে by কামরুল হাসান

তুমি আমায় জাগিয়েছো অননত্ম স্বপ্নের মাঝপথে যখন সত্যের পথ রম্নদ্ধ ছিল অন্ধকার এই জীবনে সত্যের খোঁজে সীমানার প্রাচীর ডিঙিয়ে দেখিয়েছো উন্মুক্ত জানালা যে পথ ধরে তুমি হেঁটেছো তোমার জীবনের পথ চলা।

Saturday, January 26, 2013

অপ্রতিরোধ্য প্রবৃদ্ধির পথে চীন by কামরুল হাসান

একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম অর্থনীতিক পরাশক্তি চীন মন্দার সুনামি সামলে আবারও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। মন্দার কবলে পরে চীনের দুই অঙ্কের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময়ের পর বাধাগ্রসত্ম হলেও সম্প্রতি দেশটি আবার ফিরে এসেছে তাদের ডবল ডিজিট প্রবৃদ্ধিতে।