Sunday, January 14, 2018

আশা-নিরাশার দোলাচলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন by মিজানুর রহমান

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপানসহ মানবাধিকার সংবেদনশীল সংস্থা ও রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ-আশঙ্কার মধ্যেই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে  ফেরানোর আয়োজন চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। আগামীকাল নেপি’ডতে প্রত্যাবাসন বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক এবং এ সংক্রান্ত ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট বা মাঠপর্যায়ের কাজের (চূড়ান্ত) চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। মিয়ানমার সরকার আগেই জানিয়েছে, আসন্ন ২২শে জানুয়ারি বাস্তুচ্যুত ৪৫০ হিন্দু শরণার্থীকে গ্রহণের মধ্যদিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে চায় তারা। বাংলাদেশও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তির (বাইলেটারাল অ্যারেঞ্জমেন্ট) বাধ্যবাধকতা মানতে চায়। কর্মকর্তারা বলছে, গত ২৩শে নভেম্বর সই হওয়া ওই চুক্তি মতে, দুই মাসের মধ্যেই (২২শে জানুয়ারি) বাস্তুুচ্যুতদের রাখাইনে ফেরানোর কাজ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে ঢাকার। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে বাস্তুচ্যুত হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজনকে গ্রহণে মিয়ানমারের আগাম ঘোষণা নতুন জটিলতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গত কয়েক মাস ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যেসব বৈঠকাদি হয়েছে তার কোথাও আলাদাভাবে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজনকে ফিরিয়ে নেয়ার আলোচনা হয়নি। বরং ২০১৬ সালের পর বাস্তুচ্যুত রাখাইনের হিন্দু-মুসলিম সব নারী-পুরুষ ও শিশুদের ফেরানোর আলোচনাই হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা সম্প্রতি মানবজমিনকে বলেন, ২০১৬ সালের পর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাছাড়া আগে থেকে এখানে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ মিয়ানমার নাগরিক। এ পর্যন্ত ৯ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্ভব হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এর মধ্য থেকে ২০১৬ সালের পরে আসা ১ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দেয়া হবে নেপি’ডকে। তবে গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই ১ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে মর্মে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উদূ্ভত পরিস্থিতিতে ওই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারাই নির্ধারিত ডেটলাইনের মধ্যে প্রত্যাবাসন কাজ শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাছাড়া নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে রাখাইন এখনও প্রস্তুত না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ রয়েছে ঢাকা এবং আন্তর্জাতিক মহলের। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনগুলোর রিপোর্ট মতে, এখনও রাখাইনে আগুন জ্বলছে। প্রাণে বাঁচতে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাস্তুচ্যুতরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। রোহিঙ্গা স্রোত কমলেও তাদের সীমান্ত পাড়ি দেয়া থেমে নেই। তাছাড়া রাখাইনে ফেলে আসা রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৮শ’ গ্রামের অর্ধেকের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৮ গ্রাম একেবারে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়েছে। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো রাখাইন পরিস্থিতি মিয়ানমার কখনও স্বীকার করে না। তারা এ নিয়ে বরাবরই ব্লেমগেম করছে। ক’দিন আগে রাখাইন থেকে ‘রহস্যজনক’ একটি সন্ত্রাসী হামলার খবর বেরিয়েছে। অবশ্য আশার দিক হচ্ছে মিয়ানমার সেনা প্রধান রাখাইনে গণহত্যার স্বীকারোক্তি দিতে দিতে শুরু করেছেন। আর দেশটির কার্যকর নেতা অং সান সু চি আরও এ ধাপ এগিয়ে সেই স্বীকারোক্তিকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। গত শুক্রবার নেপি’ড সফরকারী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সুচি এসব কথা বলেন। সুচির সঙ্গে বৈঠকে জাপানের মন্ত্রী নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সেটি নিশ্চিত করতে সুচি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা এবং তাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে ফেরাতে হবে জানিয়ে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রক্রিয়ায় তার দেশের তরফে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়ারও অঙ্গীকার করেছেন। যখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আশা-নিরাশার দোলাচলে দোল খাচ্ছে তখনই দেশটি সফরে গেছেন এ সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশ পক্ষের সদস্যরা। গতকাল বিকালে ইয়াংগুন পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের নেতৃত্বাধীন ওই দলের ১৪ সদস্য। সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এরপর আগামীদিনে নেপি’ডতে দেশটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বাংলাদেশ দল। সেখানেই চূড়ান্ত হবে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর মাঠ পর্যাযের কার্যক্রমের ফর্মুলা। উল্লেখ্য, রেডিও ফ্রি এশিয়া সমপ্রতি এক রিপোর্টে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছে এবং এ নিয়ে মিয়ানমারের এক মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ঢাকাকে ‘দোষারোপ’ করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে- মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়া জানিয়েছেন, ২২শে জানুয়ারি বাস্তুচ্যুত রাখাইনের বাসিন্দাদের গ্রহণে প্রস্তুত মিয়ানমার। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে তারা বাংলাদেশের কাছে অনেক আগেই যাচাই-বাছাইয়ের ফরম পাঠিয়েছেন। কাগজপত্রহীন লোকজন ওই ফরম পূরণ করবে, যা মিয়ানমার সরকার তার নিজস্ব ভেরিফিকেশন সিস্টেমে যাচাই-বাছাই করবে। কিন্তু এখনও পূরণ হওয়া কোনো ফরম তারা ফেরত পায়নি। রিপোর্টে আরও বলা হয়- মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বা এর পরিকল্পনায় কোনো সমস্যা নেই। মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণপত্র দেখালেই তাদের গ্রহণ করা হবে। যাদের কাগজপত্র নেই তারা মিয়ানমার সরকার নির্ধারিত ফরম পূরণ করবে, সেখানে তাদের ছবি, নাম, জন্ম-তারিখ এবং পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা দিতে হবে। ওই তথ্যগুলো দিয়ে পূর্ণ করা ফরম ধরেই তাদের যাচাই-বাছাই হবে। বাংলাদেশ সরকার সেই ফরমগুলো ফেরত পাঠালেই যাচাই-বাছাই শুরু করবে মিয়ানমার। ঢাকার কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, বাস্তুচ্যুতদের নিজ ভূমে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে পুনর্বাসনে জোর দিচ্ছেন তারা। রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান সব সময় চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। কোনো প্রতীকী বা যেনতেন উপায়ে প্রত্যাবাসন নয়। আর এ কারণেই মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক চাপ হালকার জন্য প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তড়িঘড়ি বা হিন্দুদের আগে ফেরানোর কৌশল নিয়েছে কিনা? সেটি নিশ্চিত হতে চায় ঢাকা। দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জোর দিয়েই বলছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনটি টেকসই করতেই তাদের সব প্রচেষ্টা। বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুপারিশগুলোও বিবেচনায় রেখেই দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। এতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি দেরি হলেও এটি স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে চায় বাংলাদেশ। তাছাড়া পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ইউএনএইচসিআরকেও সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা রয়েছে ঢাকার।

‘সংবিধানের ধারার ব্যাখ্যা প্রয়োজন’

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিদ্যমান সংবিধানে যে ধারা রয়েছে তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন আইন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিষয়টি সরকারই পরিষ্কার করতে পারে। এ নিয়ে প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। সংবিধানের বিদ্যমান ধারার আলোকে সরকার ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার করতে পারে। অথবা সংবিধান সংশোধন করে এ ধারার ব্যাখ্যা সংযোজন করতে পারে। তারা বলছেন সরকার চাইলে এটি কঠিন বিষয় নয়।
সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেন, সরকার পক্ষের লোকজন নিজেরাই বলছেন, যে সরকার আছে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। যিনি প্রধানমন্ত্রী আছেন তিনিই নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হবেন। এই বিষয়টির ব্যাখ্যা করতে হবে। যে সরকার আছে সেই সরকার নির্বাচনকালীন সরকার না-কী ভিন্ন কিছু হবে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে নিরপেক্ষ সরকার অপরিহার্য। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন উভয়কে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণের জন্য যে ধরনের বিধান প্রয়োজন সেটা দরকার। কেননা নির্বাচন একটি প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান। কোনো প্রতিযোগিতার মধ্যে যারা দায়িত্বে থাকবে তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে যে বিধান আছে সেটা নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারবে কী না? প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন পাঁচ মিনিটের বিষয়। এজন্য অবশ্যই রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অবশ্য মনে করেন, নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য কোনো সরকার গঠন ও কোনো ব্যবস্থা বর্তমান সংবিধানে নেই। ভোটের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। কেননা, সংবিধানে নিরপেক্ষ সরকার বলে যেমন কিছু নেই, তেমনি নির্বাচনকালীন সরকার বলেও কিছু নেই। জাতিকে বিভ্রান্ত করতে এটা বলা হচ্ছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সবার প্রত্যাশা ছিল কীভাবে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা প্রত্যাশা করি, সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের যে ইচ্ছা তার প্রতিফলন ঘটাবেন। কিন্তু সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি। প্রধানমন্ত্রী আসলে তার বক্তব্যের কথাই বলেছেন। অর্থাৎ এই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেটাই তিনি বলার চেষ্টা করেছেন।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তিনি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের কথা বলেছেন। বিষটি সংবিধানেও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে, কারা থাকবেন, মন্ত্রিসভার কাজ কী হবে এটি স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলেছেন, হয়তো উনার কাছে এর ব্যাখ্যা আছে। অথবা এ বিষয়ে জনগণের মতামত বা প্রতিক্রিয়া জানার জন্যও হয়তো সরকারের পক্ষ থেকে এটি বলা হচ্ছে। জনগণের আলোচনার মধ্য থেকে হয়তো সরকার কোনো আইডিয়া নিতে পারে। তবে আমাদের পরামর্শ হলো, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সুন্দর নির্বাচন চাই। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে করা যায় তা আলোচনা করে বের করতে হবে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার যে আলাদা সেটি মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যদি উদ্যোগ নেন তাহলে ভালো। সংবিধানের ধারায় নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলা আছে। তবে তা কেমন হবে, ক্ষমতা কেমন হবে তা স্পষ্ট নয়। এটি স্পষ্ট করার জন্য সংবিধানে ছোট আকারে একটি সংশোধনী আনতে হবে। নির্বাচনকালে নির্বাচনকালীন সরকার যা ইচ্ছা করতে পারবে না। তারা শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাহী বিভাগকে যে নির্দেশ দেবে তা কার্যকর করবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ থাকতে হবে। সংবিধান সংশোধন করে এটি স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে বলা প্রয়োজন নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা সেই পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করছি। এইযে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হচ্ছে। এখানে প্রার্থীদের এক লাখ টাকা জামানত দিতে হচ্ছে। এই নির্বাচনে নির্বাচন করার যোগ্য হলেও শুধুমাত্র জামানত দেয়ার সামর্থ্যের কারণে প্রার্থী হতে পারবে না। এখানে কোনো সাধারণ মানুষের অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। যার টাকা নেই সে নির্বাচন করতে পারে না। এই টাকার খেলা থেকে নির্বাচন ব্যবস্থাকে মুক্ত করতে হবে।

লন্ডনের হ্যারডস থেকে সরানো হচ্ছে প্রিন্সেস ডায়ানা আর ডোডি আল-ফায়েদের মূর্তি

লন্ডনের অভিজাত ডিপার্টমেন্ট স্টোর হ্যারডসে প্রিন্সেস ডায়ানা আর ডোডি আল-ফায়েদের যে ব্রোঞ্জের মূর্তি ছিল - তা সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
প্রিন্সেস ডায়ানা ও তার বন্ধু ডোডি ১৯৯৭ সালে প্যারিসে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যাবার পর হ্যারডসের তৎকালীন মালিক এবং ডোডির পিতা মোহাম্মদ আল-ফায়েদ এই যুগল ভাস্কর্য স্থাপন করেছিলেন।
এখন ২০০৫ সালে স্থাপিত মূর্তিটিকে মি. আল-ফায়েদের কাছেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
মি. আল-ফায়েদ ২০১০ সালে কাতারি রাজপরিবারের কাছে হ্যারডস বিক্রি করে দেন ১৫০ কোটি পাউন্ড দামে।
মূর্তিটির নাম দেয়া হয়েছিল 'ইনোসেন্ট ভিকটিমস' বা 'নির্দোষ শিকার' - এবং এতে একটি ডানা মেলে দেয়া পাখির নিচে ওই যুগলকে নৃত্যের ভঙ্গিমায় তুলে ধরা হয়েছে। ।
হ্যারডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল ওয়ার্ড বলেছেন, মূর্তিটি মে. আল-ফায়েদের কাছে ফিরিয়ে দেবার এটাই উপযুক্ত সময়, কারণ সাধারণ লোকেরা এখন কেনসিংটন প্রাসাদে যে নতুন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হবে সেখানে গিয়ে সম্মান দেখাতে পারবেন।
মিশরে জন্ম নেয়া ধনকুবের মি. আল-ফায়েদ বরাবরই প্রিন্সেস ডায়ানা ও ডোডির মৃত্যু 'দুর্ঘটনা ছিল না' বলে দাবি করে আসছিলেন, কিন্তু সরকারি এক তদন্তে সেরকম কোন কিছু ঘটেনি বলে জানানো হয়।
মি আল-ফায়েদের পরিবার কাতার হোল্ডিংসকে এতদিন মূর্তিটি রাখার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছে।
মি. আল ফায়েদ ২০১১ সালে তার তৎকালীন মালিকানাধীন ফুলহ্যাম ফুটবল ক্লাবের সামনে পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসেনর একটি মূর্তি বসিয়েছিলেন।
পরে ফুলহ্যাম প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে যাবার পর তিনি বলেছিলেন, নতুন মালিক ওই মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার কারণেই ক্লাব রেলিগেশনের শিকার হয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুমকি ইরানের

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি-লারিজানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র একটি চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে। তবে পাল্টা জবাব হিসেবে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়। এ ছাড়াও, বিশ্বে ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কোনো পরিবর্তনও মেনে নেবে না দেশটি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, আয়াতুল্লাহ আমোলি-লারিজানি ইরানের কারাগারে বন্দিদের অঙ্গচ্ছেদসহ অমানবিক নির্যাতন, নির্মম শাস্তির জন্য দায়ী।
তিনি সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালনোর আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশের ২০১৫ সালে সম্পাদিত চুক্তির সমর্থন করেন না। এই চুক্তি মেনে চলায় ইরানের উপর থেকে উঠিয়ে নেয়া হয় অনেকগুলো নিষেধাজ্ঞা। তবে ট্রাম্প শুক্রবার জানান, তিনি শেষবারের মতো চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ওসব নিষেধাজ্ঞার পরিমাণ বৃদ্ধি করবেন। একই দিনে ইরানের ১৪ ব্যক্তি ও সত্ত্বার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলেন, তিনি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের সম্পাদিত পরমাণু চুক্তিতে থাকা ভয়ঙ্কর ভুলগুলো শুধরানোর একটি শেষ সুযোগ দিচ্ছেন। তিনি চান যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করুক। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে চান ট্রাম্প।

যে মেয়ে শিশুটির ধর্ষণ ও হত্যায় উত্তাল পাকিস্তান

পাকিস্তানে জয়নব আনসারী নামে ৬ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সারা দেশ জুড়ে। এ নিয়ে দাঙ্গা-সহিংসতায় দু জন নিহতও হয়েছে।
কিন্তু পুলিশের নথিপত্র থেকেই এখন জানা যাচ্ছে, শুধু পাঞ্জাবের কসুর শহরেই ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১০টি।
গত ৪ঠা জানুয়ারি কোরান শিক্ষার ক্লাসে যাবার পথে নিখোঁজ হয় জয়নব আনসারি। কয়েক দিন পর তার মৃতদেহ পাওয়া যায় শহরের একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায়। বলা হয়, তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের ওই দিনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে জয়নবকে শেষবার জীবিত অবস্থায় দেখা গেছে। তাতে দেখা যায় একজন অচেনা লোকের হাত ধরে জয়নব হেঁটে যাচ্ছে।
বিবিসির সিকান্দার কিরমানি কসুর থেকে জানাচ্ছেন, তদন্তকারীরা গত এক বছরের মধ্যে ঠিক এই রকম ১০টি ঘটনা চিহ্নিত করেছেন।
এর মধ্যে ৬টি নিহত মেয়ের দেহে একই ব্যক্তির ডিএনএ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয় লোকেরা সন্দেহ করছেন, আক্রমণকারী একই ব্যক্তি এবং সে কাছাকাছি এলাকাতেই থাকে। এই নিহতরা সবাই অল্পবয়েসী মেয়ে, এবং তারা সবাই তাদের বাড়ির খুব কাছাকাছি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়।
ছয় জন মেয়ের সবার মৃতদেহই একই ভাবে আবর্জনার স্তুপ, বা পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে দেয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। সব ক্ষেত্রেই তাদের পরিবারের বাস দু'মাইল এলাকার ভেতরে।
প্রথম দিকে ধর্ষিত ও নিহতদের একজন পাঁচ বছরের আয়েশা বিবি। সে নিখোঁজ হয় ২০১৭-র জানুয়ারির ৭ তারিখ। সেদিন ছিল তার পিতা আসিফ বাবার জন্মদিন। তিনি মেয়েকে সেদিন যে টেডি বেয়ার উপহার দিয়েছিলেন, সেটি এবং তার অন্য পুতুল ও স্বুলে যাবার পোশাক এখনো রেখে দিয়েছেন।
আসিফ বলছেন,"আমার বাড়ি এখন কবরখানা হয়ে গেছে। আর জয়নবের ঘটনাটি জানার পর আমার মনে হচ্ছে আমিই যেন আরেকবার আমার মেয়েকে হারিয়েছি। অন্য আরো কয়েকটি মেয়ে - যাদের একইভাবে মারা হয়েছে - তাদের সময়ও আমার একই রকম লেগেছিল। আমার অনুভুতি বর্ণনা করার জন্য ক্রোধ শব্দটি যথেষ্ট নয়।"
তিনি জানাচ্ছেন, পুরো কসুর শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
"বাচ্চারা এখন বাথরুমে যেতেও ভয় পায়, দরজা বন্ধ করে না। মা-কে বলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে" - বলছিলেন আসিফ বাবা। একই ভাবে নভেম্বর সাসে নিখোঁজ হয় ৬ বছর বয়েসের কাইনাত। সে তার বাড়ির কাছেই দোকান থেকে দই কিনতে গিয়েছিল।
তার চাচা ইরফান আলি বিবিসিকে জানান, এর পর নিকটবর্তী একটি কবরখানায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সে তখনও বেঁচে ছিল।
এসব ঘটনা থেকে একমাত্র কাইনাতই বেঁচে ফিরতে পেরেছে। তবে সে এখনো হাসপাতালে, তবে সে এখন সম্পূর্ণ পঙ্গু, কথা বলতে পারে না, কাউকে চিনতে পারে না। ইরফান আলি বলেন, তিনি নিশ্চিত যে এই আক্রমণকারী স্থানীয় কোন লোক।
তবে এতগুলো ঘটনা সত্বেও জয়নবের ধর্ষণ ও হত্যা কেন এতটা জনরোষ তৈরি করেছে - তা খুব একটা স্পষ্ট নয়।
কাইনাতের চাচা বিবিসিকে বলছিলেন, জয়নবের পরিবার বড়লোক, এবং তাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ আছে। বাকিরা সবাই গরিব, তাদেরকাছে কোন রাজনীতিবিদ আসে না। তাদের কি হলো তাতে কারো কিছু আসে যায় না।বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, মনে হয় বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এ ঘটনাটিকে নওয়াজ শরিফের মুসলিমে লিগের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন, কারণ তাদের ঘাঁটি হচ্ছে এই পাঞ্জাব প্রদেশ - কসুর যার অংশ।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ - তিনি নওয়াজ শরিফের ভাই এবং যাকে মনে করা হয় ভাবী প্রধানমন্ত্রী - তিনি জয়নবের বাবার সাথে দেখা করে আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এতে জয়নবের হাসিমাথা মুখের ছবি, এবং আবর্জনার স্তুপে পড়ে থাকা তার মৃতদেহের ছবি অনলাইনে 'ভাইরাল' হয়, এবং জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টিতে বিরাট ভুমিকা রেখেছে। আরো একটি বড় কারণ হলো গত এক বছরে এতগুলো হুবহু একই রকম ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু পুলিশ কিছুই করতে পারে নি, খুনিকে ধরতে পারে নি।
আসিফ বাবা বলছিলেন, পুলিশ কয়েকবার বিভিন্ লোককে ধরে এনে বলেছে এরাই খুনি, ওই লোকেরাও স্বীকার করেছে। কিন্তু আমরা এসব কথা বিশ্বাস করি না।
"কারণ পুলিশের হাতে আক্রমণকারীর ডিএনএ আছে। ডিএনএ রিপোর্ট পাবার পর দেখা গেছে তাদের সাথে এগুলো মিলছে না"। মি. বাবা বলছিলেন, পুলিশ এরকম শত শত লোককে আটক করেছে, কিন্তু তাদের সন্দেহ পুলিশ আসল খুনিকে ধরার পরিবর্তে ঘুষ নেবার ব্যাপারেই বেশি আগ্রহী।
তবে এখন পুলিশ বলছে, তারা খুনিকে থরার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন।
কাইনাতের চাচা বলছিলেন, আমরা চাই না আরো একটি মেয়ের ভাগ্যে এমনটা ঘটুক।
সূত্রঃ বিবিসি

ভারতে স্কুলগুলোয় 'মুসলিম বাচ্চারা হয়রানির শিকার' - একটি বইয়ের তথ্য

ভারতে বিভিন্ন অভিজাত স্কুলেও মুসলিম ছেলেমেয়েরা তাদের ধর্মের কারণে ক্রমবর্ধমান হয়রানির লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, বলা্ হয়েছে একটি বইয়ে।
বইটির লেখক নাজিয়া ইরাম - যিনি ভা্রতের ১২টি শহরে ১৪৫টি পরিবার, এবং রাজধানী দিল্লির ২৫টি অভিজাত স্কুলের ১০০ জন ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা বলেছেন - বলছেন, এমনকি পাঁচ বছরের শিশুও এসব হয়রানির লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
ভারত এবং সারা বিশ্ব জুড়েই ইসলাম-ভীতি ক্রমণ বাড়তে থাকার পটভূমিতেই এটা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিবিসিকে নাজিয়া ইরাম বলেন, তিনি তার গবেষণায় যা পেয়েছেন তা তাকে স্তম্ভিত করেছে।
"যখন পাঁচ-ছয় বছরের বাচ্চারা বলে তাদেরকে 'পাকিস্তানি' বা 'সন্ত্রাসী' বলে ডাকা হয়েছে - আপনি তার কি জবাব দেবেন? সেই স্কুলের কাছেই বা কি অভিযোগ করবেন।"
"এর অনেকগুলোই হয়তো মজা করে বলা হয়েছে, মনে হতে পারে এটা নির্দোষ ঠাট্টা। কিন্তু আসলে তা নয়, এটা উৎপীড়ন।"
তার বইতে নাজিয়া ইরাম যে সব বাচ্চার সাক্ষাতকার নিয়েছেন, তারা বলেছে এমন কিছু প্রশ্ন বা মন্তব্য আছে যা প্রায়ই তাদের দিকে ছুঁড়ে দেয়া হয়। যেমন:
'তুমি কি একজন মুসলিম? আমি মুসলিমদের ঘৃণা করি।'
'তোমার বাবা-মা কি বাড়িতে বোমা বানায়?'
'তোমার বাবা কি তালিবানের অংশ?'
'সে একজন পাকিস্তানি।'
'সে একজন সন্ত্রাসী।'
'ওই মেয়েটাকে জ্বালিও না, সে তোমাকে বোমা মেরে দেবে।'এই বইটি বের হবার পর থেকেই স্কুলগুলোতে ধর্মীয় ঘৃণা এবং বিরূপ ধারণা কতটা আছে তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
টুইটারে মাদারিংএমুসলিম নামে একটি হ্যাশট্যাগে অনেকেই তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ননা করছেন।
ভারতে জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু এবং মুসলিমরা প্রায় ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এই দুই সম্প্রদায় অধিকাংশ সময় শান্তিতে বসবাস করলেও ১৯৪৭এর ভারত ভাগ এবং ১৯৯০-এর দশকে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর এ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বৈরি মনোভাব আরো বেড়েছে।
লেখক নাজিয়া ইরাম নিজেই বলছেন, তার প্রথম কন্যা সন্তান জন্মের পরই তিনি প্রথম ভয় পেলেন। তিনি তাকে কোন পরিচিত মুসলিম নাম দেয়া নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন।
এর পর থেকে তার 'মুসলিম' পরিচয় ছাড়া অন্য সব পরিচয়ই যেন গৌণ হয়ে গেছে, বলেন মিজ ইরাম।
ভারতে নরেন্দ্র মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই মুসলিমদের আগ্রাসনকারী, জাতীয়তাবিরোধী, এবং জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি বলে চিত্রিত করা হতে থাকে।
টেলিভিশনে নানা তর্কবিতর্কে এই বিভেদ আরো গভীর হয়। আর এখন তা বড়দের থেকে ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
মিজ ইরাম বলছেন, "স্কুলে, খেলার মাঠে, ক্লাসরুমে, স্কুলবাসে একজন মুসলিম বাচ্চাকে লক্ষ্য করে 'পাকিস্তানি', 'আইএস', 'বাগদাদি', 'সন্ত্রাসী' - এসব বলা হয়।
নাজিয়া ইরামের বইটিতে এমন গল্প আছে যেখানে একটি পাঁচবছরের মেয়ে বলছে, "মুসলিমরা আসছে, ওরা আমাদের মেরে ফেলবে" - কিন্তু মেয়েটি নিজেই মুসলিম।
ইউরোপে এক সন্ত্রাসী আক্রমণের পর ১০ বছরের একটি ছেলেকে তার সহপাঠী বলছে "তুমি এটা কি করলে?"আরেকটি গল্প: ১৭ বছরের একটি ছেলেকে একজন 'সন্ত্রাসী' বলেছে, তার মা গালি দেয়া ছেলেটির মার কাছে অভিযোগ করেছেন। সেই মা বলছেন, "কিন্তু আপনার ছেলে যে আমার ছেলেকে বলেছে 'মোটা'!"
সারা বিশ্বেই এমন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবার পর বর্ণ-জাতি-ধর্ম নিয়ে এমন ঘটনা ঘটলে একে বলা হচ্ছে 'ট্রাম্প এফেক্ট'। তাহলে ভারতে যা ঘটছে তাকে কি 'মোদি এফেক্ট' বলা যায়?
মিজ ইরাম বলছেন, সব পার্টিই এরকম ভাষা ব্যবহার করছে, ইসলামী পার্টিগুলোও করছে।
তিনি আরো বলেন, স্কুলগুলো তাদের ক্যাম্পাসে এরকম ধর্মীয় উৎপীড়নের ঘটনা ঘটার কথা স্বীকার করতে অস্বীকার করেছে।
কিন্তু মিজ ইরামের মতো এর সমাধান করতে গেলে প্রথম এটা স্বীকার করতে হবে, তা না হলে এই ঘৃণাছড়াতে ছড়াতে এক সময় আমাদের সবাইকে গিলে ফেলবে।
সূত্রঃ বিবিসি

ভারত-পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধের হুমকি

তবে কি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ লেগেই যাবে! দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদানে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত পাকিস্তানের পরমাণু সক্ষমতা এবং শক্তি নিয়ে প্রশ্ন জাগানিয়া এক মন্তব্য করেন। তার মন্তব্যে ছিল যুদ্ধংদেহী মনোভাবের আভাস। ওই মন্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পাকিস্তান। দিয়েছে পাল্টা হুমকি। এ খবর দিয়েছে জি নিউজ।
শুক্রবার ভারতের সেনাপ্রধান বলেন, যদি সত্যিই পাকিস্তানিদের মুখোমুখি হতে হয়, তবে আমরা দেখবো তাদের পারমাণবিক বাগাড়ম্বর কতখানি সত্যি। এমন নয় যে তাদের কাছে পরমাণু অস্ত্র আছে- সেই ভয়ে আমরা সীমান্ত আক্রমণ করবো না। আমরা তাদের পরমাণু ধোঁকাবাজির মাত্রা (সক্ষমতা) কতটুকু তা দেখে নেবো। ভারতের সেনা প্রধানের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর। পাল্টা এক হুমকিতে তিনি বলেন, যদি তারা (ভারত) আসলেই আমাদের পরমাণু সক্ষমতা পরখ করে দেখতে চায়, তবে তারা চেষ্টা করে দেখতে পারে। আমাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রশ্নাতীত। যে কোন হুমকি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত। এ প্রসঙ্গে উষ্মা প্রকাশ করে টুইট করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মোহাম্মাদ আসিফ। তিনি লেখেন, ভারতের সেনাপ্রধানের এমন মন্তব্য একদমই কা-জ্ঞানহীন। এমন মন্তব্য তাকে মানায় না। তার মন্তব্যে পারমাণবিক যুদ্ধের উস্কানি রয়েছে। তবে তারা যদি যুদ্ধই চায়, তবে আমাদের পরমাণবিক সক্ষমতার মাপ যাচাইয়ে তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাই। তখন আমাদের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ মুহূর্তেই উবে যাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন টুইটের পরে তাকে অনুসরণ করে শনিবার দু’টি টুইট করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডক্টর মোহাম্মাদ ফয়সাল। প্রথম টুইটে তিনি লেখেন, ভারতের সেনাপ্রধানের দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং হুমকিপূর্ণ মন্তব্যে এটাই প্রমাণ হয় যে, একটি অশুভ শক্তি তাদের চিন্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। তবে, পাকিস্তানেরও সর্বজনবিদিত প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। দ্বিতীয় টুইটে বলেন, এ ধরণের ঘটনাকে হালকা ভাবে নেয়ার কিছু নেই। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে রোমাঞ্চকর চিন্তাভাবনার কোন অবকাশ নেই। পাকিস্তানের নিজে রক্ষা করার পূর্ণ শক্তি রয়েছে। উল্লেখ্য, গত কিছুদিন ধরে পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। সম্প্রতি, সন্ত্রাসবাদ আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে পাকিস্তানে সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে পাকিস্তানের পরমাণু ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের এমন বাগাড়ম্বরপূর্ণ মন্তব্যে যে পাকিস্তানের উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে তা স্পষ্টই দৃশ্যমান।

যেভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র by জোনা ব্ল্যাংক ও শেলি কালবার্স্টন

গেল বছরের আগস্ট নাগাদ মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১০ লাখ। কিন্তু, তারপর থেকে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সামরিক বাহিনীর নিধন অভিযান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামরিক বাহিনীর এই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে বর্ণনা করেছেন। নভেম্বরের শেষের দিকে মিয়ানমার এসব শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে, কিন্তু তাদের নিজগৃহে নয়। এছাড়া, ফেরত নেয়ার এই প্রক্রিয়া এত ধীরগতির যে, সব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নিয়ে যেতে এক প্রজন্ম লেগে যেতে পারে। মিয়ানমারের এই প্রস্তাব উদযাপন করার মতো কিছু নয়।
কেননা, রোহিঙ্গারা যে সহিংসতার কারণে পালিয়েছে সে সহিংসতার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার নারাজ।
বিশ্ব সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এক্ষেত্রে একটি দ্বিমুখী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত। নভেম্বরের ওই সমঝোতাকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি সন্ধিক্ষণে পরিণত করতে, নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করতে পারে দেশটি। যাতে করে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া নিরাপদ ও স্বেচ্ছাধীন হয়। পাশাপাশি, যেসব রোহিঙ্গা ফেরত যাবে না, বাংলাদেশ যেন তাদের দেখভাল সুষ্ঠুভাবে করতে পারে সেজন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে।
মিয়ানমার সরকার দেশটির শতাধিক সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের দেয়নি। ‘রোহিঙ্গা’ শব্দের মাধ্যমে সাধারণত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়। বহু (সম্ভবত বেশিরভাগ) রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমার রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছে। তবুও, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য থাকার বিষয়টি টেনে এনে মিয়ানমার সরকার তাদের ‘বাঙালি’ বলে চিহ্নিত করে রেখেছে। তাদের দেখা হয় অবৈধ অভিবাসী হিসেবে। এমনকি তাদের নাগরিক অধিকার পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না দেয়া বা যে সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গারা পালাতে বাধ্য হয়েছে, তা নিয়ে পরিষ্কার আলোচনা না করে শুধু তাদের ফেরত নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, বিদ্যমান সংকট নিরশনে কোনো স্থায়ী সমাধান বের করা সম্ভব নয়। উপরন্তু, এই সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনীতিবিদদের ভূমিকা বিবেচনায় নিলে, মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় জাগাই স্বাভাবিক। রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগ গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের ফেরত নেয়ার পর শিবিরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি। পরবর্তীকালে ওইসব শিবির কার্যত বন্দিশালায় পরিণত হতে পারে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের একটি স্থায়ী সমাধান নির্ভর করে তাদের নিজগৃহে ফিরে যাওয়ার ওপর। আইনের আওতায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে ফেরত গিয়ে তারা যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো সহিংসতার সম্মুখীন না হয়, এটাও নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে রাখাইনের জাতিগোষ্ঠীগুলোর সম্পর্ক স্থাপনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জাতিসংঘ ও মিয়ানমার সরকার উপরোক্ত কয়েকটি ইস্যুর সমাধান করতে একটি কমিশন গঠন করেছে। কিন্তু, মিয়ানমার সরকার নিজেই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালায় বা চালানোর সুযোগ করে দেয়। সেক্ষেত্রে এই পরিস্থিতির সমাধান সহজ হবে না। পাশাপাশি, এটিও মনে রাখতে হবে, এমন নির্যাতন প্রত্যক্ষ করার পর অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাদের নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানো হবে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির লঙ্ঘন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে মিয়ানমার। এর মাধ্যমে দেশটি বিশ্ব সম্প্রদায়কে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বাধ্য করার একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারকে তাদের স্বেচ্ছা-আরোপিত নির্বাসন থেকে বেরিয়ে আসতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন। ২০১২ সালে ২০ বছর পর দেশটিতে প্রথম স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওবামা পুনরায় দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সালে তিনি দেশটির ওপর থাকা বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেন। হয়তো এ জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র বেশি তড়িঘড়ি করে ফেলেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মিয়ানমারকে এ বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেয়া যে, তাদের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই তুরুপের তাস আছে বলেই, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সীমিত পর্যায়ে গণতন্ত্র মেনে নিতে সম্মত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মিয়ানমারের প্রবেশে সহায়তাও করতে পারে, আবার তা জটিলও করে তুলতে পারে। এই ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আবার ব্যবহারের হুমকি দেওয়া উচিত।
ওবামা মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ওপর থেকে যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন তা পুনরায় আরোপ করা যেতে পারে। কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা প্রেসিডেন্ট একাই আরোপ করতে পারেন। আর কয়েকটিতে কংগ্রেসের সহায়তা প্রয়োজন হবে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরিধি বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এতে একই সঙ্গে দেশটিতে বেসামরিক নেতৃত্বের প্রভাবও বৃদ্ধি পাবে। মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অস্ত্র পাঠায় না। কিন্তু এর কিছু মিত্রদেশ, যেমন- ইসরাইল, জার্মানি, ফ্রান্স ও ভারত পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশকে মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে চাপ দিতে পারে। কিছু বিশ্লেষকের ভাষ্য, মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী হচ্ছে চীন। কিন্তু মিয়ানমার ইতিমধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা চীনের হাতের পুতুল হতে চায় না।
মিয়ানমারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি শুধু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার পর অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মতো তাদের সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপন করা উচিত। আর এই বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অন্যান্য বড় খেলুড়ে দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেয়া। আর তা না হলে, ১০ লাখ মানুষকে চিরতরে গৃহহীন করে দেয়া হবে। সেটা বাংলাদেশেও হতে পারে, মিয়ানমারেও হতে পারে। আর তা থেকে উৎপত্তি ঘটতে পারে চরমপন্থার ও অস্থিতিশীলতার।
রুয়ান্ডার টুতসিতে ১৯৯৪ সালের গণহত্যার পর বিশ্ব সম্প্রদায় বলেছিল: নেভার এগেইন (আর কখনো নয়)। সাবেক যুগোস্লোভিয়া রিপাবলিকস অব বসনিয়া, সার্বিয়াতে ১৯৯২-৯৫ এর জাতিগত নিধন এবং ২০০৩ থেকে পরবর্তী সাত বছরজুড়ে সুদানের দারফুর অঞ্চলের জাতিগত নিধনের পরেও একই কথা শোনা গেছে। আর বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অপেক্ষা করছে দেখার জন্য যে, আদৌ বিশ্ব সম্প্রদায়ের এসব প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য আছে কিনা! কয়েক সপ্তাহ আগে মিয়ানমার সরকার দুনিয়াকে ফের আরেকটি ট্র্যাজেডি এড়ানোর সুযোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের উচিত এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।
(যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত থিংকট্যাংক র‌্যান্ড করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ রাজনীতি বিজ্ঞানী জোনা ব্ল্যাংক ও জ্যেষ্ঠ পলিসি গবেষক শেলি কালবার্স্টনের লেখাটি ফরেইন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি অনুবাদ করেছেন মাহমুদ ফেরদৌস।)

অতিরিক্ত মদপানে কলেজছাত্রীর মৃত্যু

রাজশাহীতে রিতু খাতুন নামে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে নগরীর ডাশমারি এলাকার একটি বাড়ি থেকে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত মদপানে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমরা ও রেজাউল নামে রিতুর দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নিহত রিতুর পরিবারের বরাত দিয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রিতু নেশাগ্রস্ত ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে মির্জাপুর কিন্ডার গার্টেন স্কুলের দ্বিতীয় তলায় বান্ধবী সুরমা খাতুনের বাসায় মদপান করে রিতু।
শনিবার সকালে অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পর রিতু মারা যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তিনি জানান, রিতুর শরীর থেকে মদের গন্ধ বের হচ্ছিল। এছাড়া সুরমার বাড়ির যে ঘরে রিতু ছিল সেখানেও মদের বোতল পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়লো বিমান

অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেন পেগাসাস এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের ক্রুসহ ১৬৮ জন যাত্রী। তুরস্কের কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শহর ত্রাবজোনের বিমান বন্দরে অবতরণের পর যাত্রীবাহী ওই বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে সাগরের পাড়ে। খবর ডেইলি মেইল।

ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটি সাগরের খাড়া কর্দমাক্ত তীরের ওপর পড়ে আছে, আর এর সম্মুখভাগ সাগরের পানির মাত্র কয়েক মিটার ওপরে।

তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদলু ফাতিমা গরদু নামে এক যাত্রীকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘আমরা সবাই বিমানটির একপাশে গিয়ে পড়েছিলাম। প্রচণ্ড ভীতি তৈরি হয়েছিল। সবাই চিৎকার করছিলো।’

স্থানীয় গভর্নর ইউসেল ইয়াভুজ জানিয়েছেন, কেউ আহত হননি। কেন এ ধরনের দুর্ঘটনা হলো তা তদন্ত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কয়েকঘণ্টার জন্য বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়।

পর্নো তারকাকে মুখ বন্ধ রাখতে ১৩০০০০ ডলার দিয়েছিলেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাসখানেক আগে স্টেফানি ক্লিফোর্ড নামের এক পর্নো তারকাকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামেপর আইনজীবী। ২০০৬ সালে ট্রামপ ও ক্লিফোর্ডের মধ্যে ঘটা এক শারীরিক সমপর্কের বিষয়ে চুপ থাকার জন্য তাকে ওই অর্থ পরিশোধ করেন মাইকেল কোহেন। শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দ্য হারেৎস।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রামপ অর্গানাইজেশনের হয়ে কাজ করা আইনজীবী মাইকেল কোহেন ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একমাস আগে ক্লিফোর্ডের সঙ্গে একটি ‘নন-ডিসক্লোজার’ চুক্তি করেন। চুক্তি অনুসারে, ক্লিফোর্ড ট্রামেপর সঙ্গে তার শারীরিক সমপর্কের বিষয়ে চুপ থাকতে ও জনসম্মুখে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছিলেন। জার্নালের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, স্টেফানি ক্লিফোর্ড তার সাবেক কর্মজগতে স্টোর্মি ড্যানিয়েলস নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম ট্রামেপর সংসপর্শে আসেন ২০০৬ সালের জুলাই মাসে- যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েরা নাভাদা’র লেক তাহোয়ে’তে অনুষ্ঠিত এক গলফ প্রতিযোগিতায়।
উল্লেখ্য, এর এক বছর পরেই মেলানিয়ার সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন ট্রামপ। প্রাথমিকভাবে মুখ বন্ধ রাখতে সম্মত হলেও, ক্লিফোর্ড তার প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে অর্থ না পাওয়ায় চুক্তি নিয়ে অভিযোগ করেন ও বিষয়টি ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে তার আইনজীবী কেইথ ডেভিডসনের মাধ্যমে অবশ্য তিনি পুরো অর্থই পান। সে অর্থ লস অ্যানজেলেসের সিটি ন্যাশনাল ব্যাংকে একটি তহবিলে জমা রাখা হয়। সমপ্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের অপর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন ৩৮ বছর বয়সী পর্নো তারকা দুই বছর আগে ট্রামপকে নিয়ে কথা বলতে মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি’র অনুষ্ঠান, গুড মর্নিং আমেরিকা’য় আসার জন্য আলোচনা করেছিলেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ক্লিফোর্ড এই প্রতিবেদনগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে ডেভিডসন স্বীকার করেন যে, তিনি পূর্বে ‘স্টোর্মি ড্যানিয়েলস’-এর আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু আইনজীবী-মক্কেল বিশেষাধিকারের কারণে তিনি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে পারবেন না।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় ট্রামেপর আইনজীবী কোহেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রামপ আরো একবার ড্যানিয়েলসের তীব্রভাবে এরকম কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করছেন। এমনকি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ব্যাপকভাবে তিরস্কার করেন। তিনি বলেন, এই বার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আপনারা আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। আপনারা এক বছর ধরে এই মিথ্যা অভিযোগগুলো চিরস্থায়ী করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ সব পক্ষই ২০১১ সাল থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক নামহীন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, অভিযোগগুলো মূলত পুরনো প্রতিবেদন যেগুলো নতুন করে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি এগুলো জোরালোভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আর নির্বাচনের আগ থেকেই এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের নেতাদের ঐক্য চায় শেখ হাসিনা: ওবায়দুল কাদের

প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবর্তমানে সভানেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের কাছে ঐক্য চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  একই সাথে মহিউদ্দিনের আত্মাও চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের কাছে একই আহ্বান জানাচ্ছে, এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

রোববার বিকেলে নগরীর লালদীঘি ময়দানে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এই শোকসভার আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি নেতাকর্মীদের কাছে একটি কথা বলব।  আজ সকালে নেত্রীকে যখন বলেছি আমরা চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন ভাইয়ের স্মরণসভায় এসেছি, তখন নেত্রী আমাকে বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে গিয়ে শুধু একটা কথা বলবে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর ‍অবর্তমানে আমি চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য চাই। ’
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নেত্রী ঐক্য চান।   আপনারা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে যদি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চান, তাহলে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। দু:সময়ে, দুর্দিনে মহিউদ্দিন চৌধুরী যেমন চট্টগ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতেন, তেমনি শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দুর্ভেদ্য ঘাঁটি এই চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অগ্রযাত্রা প্রত্যাশা করেছেন।
এসময় নেতাকর্মীদের হাত তুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওয়াদা করান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ওবায়দুল কাদের।  তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোন শক্তি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের বিজয় ঠেকাতে পারবে না।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম ও মহিউদ্দিনের সন্তান মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন।

সংসদ সদস্যদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা.আফছারুল আমিন, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, দিদারুল আলম, দিদারুল আলম ও ওয়াসিকা আয়শা খান বক্তব্য রাখেন।

শোকসভায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সহ-সভাপতি নঈমউদ্দিন চৌধুরী ও খোরশেদ আলম সুজন বক্তব্য রাখেন।

আরো ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে- এ পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর ধারবাহিকতায় দেশে সরকারি উদ্যোগে আরো ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে। বললেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম, আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলের জন্য উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করতে এ উদ্যোগ নেয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রমের আওতায় সরকারের বর্তমান মেয়াদে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

নাহিদ বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ইতোমধ্যে মহান জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭ জাতীয় সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়া ‘হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ’, ‘লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এভিয়েশন এন্ড এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা’, ‘হাজী আসমত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ’, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর’ এবং ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,’ নামে আরও ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে।

ঢাকায় প্রণব মুখার্জি,চট্টগ্রামে আসবে মঙ্গলবার

একটি সাহিত্য সম্মেলনের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের ব্যক্তিগত সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।

আজ রোববার বিকাল ৪টায় জেট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। আগামী ১৮ জানুয়ারি তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

এসময় তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।

এই সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রণব মুখার্জি ঢাকায় অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তিনি ঢাকায় সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখবেন। সেখানে তাকে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় শহীদ সূর্যসেনের বাড়ি পরিদর্শন করবেন বলেও সফর সূচিতে রয়েছে।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে এসেছেন। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি।

উল্লেখ্য, ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি গত বছর জুলাইয়ে অবসরে যান।

দ্যাটস অল রাবিশ... রাবিশ... রাবিশ


বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আজ রোববার সচিবালয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশের উন্নয়নে স্বাধীন পর্যালোচনা শিরোনামে বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৮-২০১৯ প্রথম অন্তর্বর্তী পর্যালোচনা বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে সিপিডি।

ওই সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য  বলেন, ২০১৭ সালটা ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সার্বিকভাবে ২০১৭ সালে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চাপের মধ্যে ছিল। ব্যাংক অস্থিতিশীলতা নিরসনে কোনো পদক্ষেপ ২০১৮ তে হবে সেটার কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না। আমরা দেখছি অপরিশোধিত ঋণ বেড়ে গেছে। করের টাকা দিয়ে পুনরায় তফসিলি করা হয়েছে।

“বিভিন্ন ব্যক্তি খাতের ব্যাংকে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মালিকানা বদল হয়েছে। নতুন যে ব্যক্তি খাতের ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হয়েছে সেগুলো কার্যকর হতে পারেনি। আমরা দেখছি ব্যক্তি খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনাও ঘটছে। ব্যাংকিং খাত দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায় সরকার এখন সংস্কারে আগ্রহী নয়।”

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি উল্টো একই পরিবারের দুই জনের পরিবর্তে চারজনকে ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগের সুযোগ দিয়েছে সরকার। এতে ব্যাংক হয়ে উঠছে পরিবারকেন্দ্রিক।

ওই পর্যালোচনায় কোন বিষয়টি আপত্তিকর সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দ্যাটস অল রাবিশ.. রাবিশ... রাবিশ’।

নাচের ক্লাসে আমির-ক্যাট একসঙ্গে কেন?

‘ধুম থ্রি’ সিনেমায় ক্যাটরিনা-আমিরের নাচের ছন্দে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শক। আমির খান নিজেও প্রশংসা করেছিলেন ক্যাটরিনার নাচের। সেই জুটি আবারো একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন। এবার শুধু ক্যাটরিনা নন, নাচ শিখছেন আমির খানও।

তবে কি একসঙ্গে কোনো স্টেজ পারফরম্যান্স, নাকি সিনেমার গান? স্টেজ পারফরম্যান্সের অবকাশ নেই আমির খানের। এই বলিউড স্টার সে সবের ধারে-কাছেও ঘেঁষেন না। তবে কিসের জন্য নাচের ক্লাসে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আমির-ক্যাট?


ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তাদের প্রস্তুতির কারণ আমির খান ও ক্যাটরিনা কাইফের নতুন সিনেমা ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’। নয়াদিল্লির একটি স্টুডিওতে প্রভু দেবার কাছে নাচ শিখছেন এই দুই তারকা। সিনেমাটির একটি গানের জন্যই এই প্রস্তুতি।

‘ধুম থ্রি’র পর আবারো আমির-ক্যাট জুটির একটি নাচের দৃশ্য রয়েছে ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’ চলচ্চিত্রে। প্রথমবারের মতো ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’ সিনেমার মাধ্যমে এক পর্দায় দেখা যাবে আমির খান ও অমিতাভ বচ্চনকে।

এছাড়া আমির-ক্যাটরিনা জুটির দ্বিতীয় সিনেমা ও ‘দঙ্গল’ কন্যা ফাতিমা সানা শেখের উপস্থিতির কারণে এ মুহূর্তে দর্শক-আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে বিজয় কৃষ্ণ আচার্য’র নির্মিতব্য এই সিনেমাটি।

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’র দৃশ্যধারণের কাজ। ২০১৮ এর দিওয়ালিতে ছবিটি মুক্তি পাবার কথা রয়েছে।

আবারো সিনেমায় শাহরুখ-কাজল

বলিউডে তুমুল জনপ্রিয় জুটি শাহরুখ খান ও কাজল। বড় পর্দায় তাদের মতো রোমান্টিক জুটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কমই এসেছে। ‘রাজ-সিমরন’ থেকে ‘রাহুল-অঞ্জলি’ চরিত্রগুলো এখনো দর্শকের মনে জায়গা দখল করে আছে।

মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ মারাঠা মন্দিরে প্রায় ২০ বছর ধরে চলেছে শাহরুখ-কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমাটি। নব্বই দশকের সেই পর্দা কাঁপানো জুটি আবারো হাজির হচ্ছেন সিনেমার পর্দায়। চলতি বছরের বড়দিনে একসঙ্গে দেখা এই জুটিকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পরিচালক আনন্দ এল রায় পরিচালিত ‘জিরো’ সিনেমায় বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে কাজলকে। থাকবেন রানী মুখার্জীও। পরিচালক আনন্দ এল রায় বলেন, শাহরুখ-কাজল মানেই পর্দায় ভিন্ন চমক।  

‘জিরো’ সিনেমায় শাহরুখ, আনুশকা, ক্যাটরিনা অভিনয় করবেন এই খবর আগেই সবাই জেনেছেন। এবার সিনেমাতে যোগ দিলেন কাজল, রানী। সব মিলিয়ে নতুন বছরের তারকানির্ভর সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘জিরো’।

রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারের আনন্দ এল রায় পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর।

এদিকে সাইফ আলী খান ও অমৃতা সিংয়ের মেয়ে সারা আলী খানের সিনেমায় অভিষেক হতে যাচ্ছে এবছরের শেষের দিকে। সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে ‘কেদারনাথ’ সিনেমায় অভিনয় করছেন সারা।

অভিষেক কাপুর পরিচালিত সিনেমাটি ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে। নির্মাতা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘোষণা দিয়েছেন। একই দিনে শাহরুখ খানের সিনেমা মুক্তির ঘোষণায় চাপে পড়েছেন সারা আলী খান।

আখেরি মোনাজাতে প্রধানমন্ত্রী

তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাসভবন গণভবন থেকে তিনি এ মোনাজাতে অংশ নেন। খবর বাসস'র।

এ সময় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলীসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোনাজাতে শরিক হন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রেস সচিব এহসানুল করিম, বিশেষ সহকারি আব্দুস সোবহান গোলাপসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন।


আজ রোববার বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের। ১১টা ১৫ মিনিটে মোনাজাত শেষ হয়।

আখেরি মোনাজাতের আগে হেদায়তি বয়ানও বাংলায় করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। এবার আখেরি মোনাজাত ও হেদায়তি বয়ান দুটোই হয় বাংলায়।

প্রতি ১০ মিনিটে একই কথা বলেন ট্রাম্প!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন মার্কিন সাংবাদিক মাইকেল উলফ। এরপরই নতুন করে এ বিতর্কের পালে হাওয়া লাগে। উলফ তার বইয়ে লিখেন, ট্রাম্পের মারাত্মক মানসিক সমস্যা রয়েছে। তিনি ১০ মিনিটের মধ্যে একই কথা অন্তত তিনবার বলেন।

অবশ্য হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক রনি জ্যাকসন বলেছেন, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য অত্যন্ত চমৎকার আছে। তবে শুক্রবারের ওই শারীরিক পরীক্ষার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানসিক ফিটনেসের বিষয়টি রাখা হয়নি।

এদিকে কয়েকডজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জ্যাকসনকে একটি চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার আহ্বান জানানো হয়।

চিঠিতে তারা লিখেছেন, প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে আমেরিকানদের জীবনযাপন ও জাতির নিরাপত্তা।

অতীতে পাঁচ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিবেদনে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সামান্য বিবরণ পাওয়া যায়। তবে মানসিক পরীক্ষা করা হয় কি না তার কোনো উল্লেখ থাকে না।

এদিকে ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ৬৬ বছর কিংবা তার চেয়ে বয়স্ক রোগীর শারীরিক পরীক্ষার সময় মানসিক মূল্যায়নও করা হয়। ট্রাম্পের বর্তমান বয়স ৭১ বছর।

তবে ট্রাম্পের মানসিক সমস্যা কোনো সমস্যার বিষয়টি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউজ। তারা এ ধরনের অভিযোগকে লজ্জাজনক ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছে।

প্রেসিডেন্টের আশপাশে সবাই বিশ্বাস করেন, তিনি হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব পালনে সক্ষম নন। সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইকেল উলফ এ কথা বলেছেন।

হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্প মার্কিন সাংবাদিকের এ বইকে আবর্জনার সঙ্গে তুলনা করেছে। এমনকি বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করলেও বাজারে আসার পর পর তা শেষ হয়ে যায়। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বইয়ের তালিকায় বেস্ট সেলার হয় ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি।

হঠাৎ কেন চড়া?

গত সপ্তাহে কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে এসেছিলেন শামসুদ্দিন আহমেদ। শীতের সবজির আকর্ষণ মটরশুঁটি আর শিমের বিচি কেনাই ছিল উদ্দেশ্য। বিক্রেতা ১২০ টাকা কেজি চাওয়ায় ভেবেছিলেন পরের সপ্তাহে দাম কমে আসবে। তখনই পাল্লা ধরে কিনে ফেলবেন। তবে আজ শনিবার সকালে বাজারে এসে দেখেন, সেই দাম তো কমেইনি, বরং গত সপ্তাহে কম দামে কেনা অন্যান্য সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আজ রোববার স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, হঠাৎ সবজির দাম চড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। আর বিক্রেতারা বলছেন, ঘন কুয়াশার কারণে সবজি পরিবহন কম হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় তাঁদের বেশি টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ কারণে তাঁরাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার বিভিন্ন বাজারে সবজির দামে হেরফের হচ্ছে অনেক বেশি। এদিকে শীতের সবজির দাম আরও কিছুদিন চড়া থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বগুড়া, যশোর ও রাজশাহী থেকে সবচেয়ে বেশি সবজি রাজধানীসহ সারা দেশে সরবরাহ হয়। এর বাইরে প্রতিটি অঞ্চলের আশপাশেও সবজির উৎপাদন হয়। শীত সামনে রেখে সাধারণত শীতের সবজিগুলোর উৎপাদন আগে থেকে শুরু হয়। শুরুতে দাম বেশি থাকলেও পরে ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। দেখা যায়, এই সময়টার দিকে দাম কমে যায়। তবে এবার বৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন শুরু করতেই দেরি হয়েছে। তাই কম দামে সবজি কিনতে ক্রেতাদের অন্তত আরও দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে দাম কমে আসতে পারে। আজ সকালে রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব সবজির দাম গত কয়েক দিনের তুলনায় বেড়েছে। সবজি বিক্রেতা আমিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আকৃতি অনুসারে ফুলকপি প্রতিটি ২০ থেকে ৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ফুলকপি ১৫ টাকা করেও বিক্রি করেছেন।
আজ বাঁধাকপি প্রতিটি ২৫ টাকা, পেঁয়াজপাতা কেজিপ্রতি ২০ টাকা, গোল আলু ৩০ টাকা কেজি, শসা ৩০, ৩৫ ও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামের হেরফের হয়েছে শাকের ক্ষেত্রে। গত সপ্তাহের তুলনায় আজ প্রায় দ্বিগুণ দামে লালশাক ও পালংশাক বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা করে। কারওয়ান বাজারে আবদুস সাত্তারের দোকান থেকে সবজি কিনছিলেন তিতুমীর কলেজের ছাত্র আহনাফ আফজাল ও মো. সুলতান। আহনাফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনে বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে এখান থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে শিম কিনেছিলাম। আজ সেটাই কিনলাম ৬০ টাকা দরে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. সুলতান বলেন, ‘আমার এলাকায় দাম বেশি বলে কারওয়ান বাজার থেকে কিনি। এখানেও দাম বাড়ছে। এক কেজি বেগুন কিনলাম ৫০ টাকা দিয়ে। গত সপ্তাহে কিনেছি ৪০ টাকা কেজি দরে। তবে আমার এলাকায় আরও বেশি দাম। সেখানে ৬০ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে।’ বিক্রেতা আবদুস সাত্তার জানান, আজ কেজিপ্রতি মটরশুঁটি ১১০ টাকা, শিমের বিচি ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা এবং টমেটো ৫০ টাকা করে বিক্রি করছেন। অপর বিক্রেতা মো. সজীব জানান, গত সপ্তাহে তিনি ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি করেছিলেন। আজ দাম রাখছেন ৫০ টাকা। নরসিংদীর শিম বিক্রি করেছিলেন প্রতি কেজি ৩০ টাকা। আজ রাখছেন ৫০ টাকা। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা শালগম ৩০ টাকা, ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করা সরু বেগুন ৪০ টাকা, ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাল ও সাদা মুলা ১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে কাঁচামরিচের দাম একই আছে। প্রতি কেজি ৮০ টাকা। শীতের সবজির আরেক আকর্ষণ লাউও অনেক বেশি দামে আজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাম বাড়ার কথা স্বীকার করে লাউ বিক্রেতা আবুল হাশেম বলেন, ‘আজ ৯০ টাকা করে একেকটা লাউ বিক্রি করছি। পাইকারি দরে আমি কিনেছি ৭০ টাকা করে। ১০-১২ দিন আগেও এই লাউ ৫০ টাকা করে বিক্রি করেছিলাম।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (উপকরণ) কাজী মো. সাইফুল ইসলাম আজ প্রথম আলোকে বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় ঘাটতি হচ্ছে। একদিকে শীতের কারণে মাঠে সবজির সঠিক পরিচর্যা করা যাচ্ছে না, মাঠেই অনেক সবজি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঘন কুয়াশার কারণে পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় দাম বাড়ার ঘটনা ঘটছে। এই কর্মকর্তা বলেন, এবার টানা দীর্ঘ সময় ধরে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি চলছে। এটা বেশ অস্বাভাবিক বলা যেতে পারে। সবজি স্থানীয় পর্যায় থেকে সহজে পরিবহন করা যাচ্ছে না। তাই বাজারগুলোয় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে, অর্থাৎ যেখান থেকে সবজি সরবরাহ হচ্ছে, সেসব জেলায় দাম কম যাওয়ার কথা।

গেল বছরটি ছিল ব্যাংক কেলেঙ্কারির

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়েছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশের অর্থনীতির যে সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিল, তা পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়নি। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বড় প্রকাশ হিসেবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের বড় ঘাটতিকে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ঘাটতি তিন জায়গায়। যেমন সংস্কারের উদ্যমের অভাব, সমন্বয় করতে না পারা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় দুর্বলতা। তিনি বলেন, ২০১৭ সাল দেশে ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। চলতি ২০১৮ সালেও ব্যাংক খাতের সমস্যাগুলোর কোনো নিরসন হবে বলে মনে হচ্ছে না। ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি দিয়ে বোঝা যায় সংস্কারের বিষয়ে সরকারের মনোভাব কেমন ছিল। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনায় সিপিডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। সাধারণত নতুন বছরের শুরুতে দেশের অর্থনীতি নিয়ে সিপিডি নিয়মিত পর্যালোচনা করে থাকে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিপিডির পক্ষে পর্যালোচনা তুলে ধরেন সংস্থাটির গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। উপস্থাপনা শেষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
দুর্বলতা অর্থ মন্ত্রণালয়ের
এবারের পর্যালোচনায় তিনটি বিশেষ দিকে সিপিডির নজর ছিল, যার মধ্যে একটি ব্যাংক খাত। অন্য দুটি হলো রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া ও বন্যা। ব্যাংক খাত ও অন্যান্য সংস্কার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় নীতিগত সংস্কারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের চাপ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যম দেখাতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মতো অর্থনীতি-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। যদিও আগে এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দিত। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্বল ছিল। আমরা দেখেছি, অর্থনীতি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতা অর্থ মন্ত্রণালয় দেখাতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে ওপর থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে, যা অর্থনীতির জন্য যুক্তিযুক্ত না হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় সেগুলোকে কার্যকর করেছে।’ এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন ছিল, সিপিডি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছে কি না। এর জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যক্তির পরিবর্তনের কথা তিনি বলেননি। এটা সমাধানও নয়। ব্যবস্থাপনা ও নীতি উদ্যোগের মনোভঙ্গি এবং সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া পরিবর্তন না হলে ব্যক্তির পরিবর্তন বড় বিষয় নয়। এর আগে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ব্যাংক খাত, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, বৈষম্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন। ২০১৭ সালে ব্যাংক খাতে কী কী হয়েছে, তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংকে অপরিশোধিত ঋণ বেড়েছে, সঞ্চিতির ঘাটতি বেড়েছে, অপরিশোধিত ঋণে গুটিকয়েকের প্রাধান্য তৈরি হয়েছে, জনগণের করের টাকায় রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি খাতের ব্যাংকে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মালিকানার বদল হয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া নতুন ব্যাংক কার্যকর হতে পারেনি এবং এখন দেখা যাচ্ছে ব্যক্তি খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, এগুলোর ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষেধক ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার উল্টো ব্যাংকিং আইন সংশোধন করে পরিবারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে।
চাপের মুখে অর্থনীতি
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ কিছুটা দুর্বল হয়ে গেছে। চাপের মুখে পড়েছে। এটা সামাল দিতে আমরা যে সংস্কারের কথা বলেছিলাম, তা সামনের দিকে এগোয়নি, বরং পেছনের দিকে গেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ ব্যাংকিং খাত।’ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে একটি শোভন প্রবৃদ্ধির হার রক্ষা করতে পেরেছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির পেছনে যে অন্ধকার রয়েছে, সেটি হলো দেশে সেই তুলনায় কর্মসংস্থান হচ্ছে না। সেই হারে দারিদ্র্য কমছে না, বরং দারিদ্র্য কমার হার কমেছে। সবচেয়ে বড় হলো বৈষম্য বেড়েছে। এই বৈষম্য শুধু আয় ও ভোগের নয়, সবচেয়ে বেশি বৈষম্য বেড়েছে সম্পদের মালিকানার ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, এটার কারণও স্পষ্ট। সেটা হলো ব্যাংকের ঋণের টাকা ফেরত না আসা, বড় বড় প্রকল্পের ভেতর থেকে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ ভিন্ন দিকে পরিচালন করা এবং দেশের ভেতরে যে ধরনের প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়া হচ্ছে, তার মাধ্যমেও বৈষম্য বাড়ছে। দেবপ্রিয় বলেন, ‘আমরা আগে প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে চিন্তিত থাকতাম। এখন গুণমান নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। প্রবৃদ্ধির হার যে পরিমাণ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে নিয়ে আসার কথা, তা হচ্ছে না। এটা নিয়ে চিন্তা এ জন্য যে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বলে বৈষম্য বাড়লে তা একসময় প্রবৃদ্ধির হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’ অনুষ্ঠানে সিপিডির লিখিত বিশ্লেষণে একটি অনুচ্ছেদ ছিল ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্যে নতুন প্রবণতা’। এতে খানা আয়-ব্যয় জরিপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখানো হয়, দেশের জনসংখ্যার একেবারে দরিদ্র ৫ শতাংশের মধ্যে একটি খানার মাসিক গড় আয় ২০০৫ সালে ছিল ১ হাজার ১০৯ টাকা, যা ২০১৬ সালে কমে ৭৩৩ টাকায় নেমেছে। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশের আয় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। সিপিডি বলছে, এ প্রবণতার মানে হলো ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। অন্যদিকে দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হচ্ছে। বিশ্লেষণ তুলে ধরে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ধনীদের আয় বেশি হারে বাড়লে সম্পদবৈষম্যও বেড়ে যায়।
অর্থনীতির যত চ্যালেঞ্জ
সিপিডির পর্যালোচনায় অর্থনীতির বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, আয়কর বদলে আমদানি শুল্ক আদায়ে নির্ভরতা, সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি ঋণ নেওয়া, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও তার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা, চালসহ কিছু পণ্যের চড়া দাম, সরকারের খাদ্য মজুত কম থাকা, আমদানিতে বাড়তি চাপ, অপর্যাপ্ত প্রবাসী আয়, আমদানি বৃদ্ধি ইত্যাদি। সিপিডি বলছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চাপের মুখে পড়েছে। সামগ্রিক বিষয়ে সিপিডির পরামর্শ হলো, কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধিতে নজর দেওয়া, ধনীদের কাছ থেকে আরও কর আদায়, কর ও শুল্ক ফাঁকি রোধ করা, দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, ব্যাংকের রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদের হার বাড়ানো, খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতির হার বাড়ানো, ভোগ্য ও বিলাসী পণ্যের ঋণপত্রের মার্জিন বাড়িয়ে দেওয়া, ঋণপত্রের বিপরীতে অর্থ ফেরতের সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া, মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা ইত্যাদি।
নির্বাচনের বছর রক্ষণশীল থাকুন
সিপিডি মনে করছে, নির্বাচনের বছর আর্থিক খাতে সংস্কারের বিষয়গুলো খুব এগোবে না। তবে তারা চায়, আগামী নির্বাচনের ইশতেহারে এ বিষয় উঠে আসুক। পাশাপাশি সিপিডির পক্ষ থেকে নির্বাচনের বছর রক্ষণশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার আগের চেয়ে দুর্বলতর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হবে। সরকারের উচিত নির্বাচনের আগে ঋণের প্রবাহকে কিছুটা হলেও স্তিমিত করা, টাকার বিনিময় হার সক্রিয় ব্যবস্থাপনায় রাখা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, আয়করের মতো প্রত্যক্ষ করের প্রবাহ বাড়ানো। লক্ষ রাখতে হবে বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি যেন বেড়ে না যায়। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনীতির যে স্থিতিশীলতা ছিল, সেখানে ২০১৭ সালের শেষে কিছু দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের বছর সরকারের জনতুষ্টিমূলক প্রকল্প নেওয়ার প্রবণতা থাকে। সংস্কারের উদ্যোগ থাকে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে অর্থনীতির ওপর চাপ পড়ে। তিনি বলেন, দুর্বলতা ও নির্বাচনকেন্দ্রিক ঝুঁকিগুলো মিলে গেলে তা অর্থনীতির অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেবে। তাই সংযত থাকাই ভালো।

ফোর জি: নিলাম প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বাধা ‘নেই’

ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ নিলামের আবেদন চেয়ে বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তি আটকে দেওয়া হাই কোর্টের আদেশ স্থগিতই রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ওই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে হাই কোর্ট যে রুল দিয়েছিল তা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ।

বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা হাই কোর্ট বৃহস্পতিবার স্থগিত করার পর বিটিআরসির আবেদনে চেম্বার আদালত তা আটকে দিয়েছিল।

এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি রোববার আপিল বিভাগে এলে সর্বোচ্চ আদালত হাই কোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রেখে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।

এর ফলে বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ নিলামের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আপাতত কোনো আইনি বাধা থাকল না বলে জানান এ মামলার আইনজীবীরা।

বিটিআরসির পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।  আর রিটকারী বাংলালায়ন কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও রমজান আলী শিকদার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর টেলিযোগাযোগের ফোরজি সেবার লাইসেন্স ও তরঙ্গ নিলামের নীতিমালা গত ২৯ নভেম্বর হাতে পায় টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এরপর ৪ ডিসেম্বর ফোরজি লাইসেন্সের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তরঙ্গ নিলামের জন্য সেখানে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিন রেখে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে আগ্রহীদের আবেদন জমা দিতে বলা হয়।

অনুমোদিত নীতিমালায় বলা হয়, ফোরজি লাইসেন্সের জন্য নিলাম হবে না। আবেদন করে নির্দিষ্ট অর্থ জমা দিয়ে লাইসেন্স নেওয়া যাবে। আর ফোর জি তরঙ্গ বরাদ্দ পেতে অংশ নিতে হবে নিলামে।

বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি ২০০৮ সালের ব্রডব্যান্ড গাইডলাইন্সের সঙ্গে সাংঘর্ষিক- এমন যুক্তি দিয়ে বাংলালায়ন কমিউনিকেশন্স লিমিটেড বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে  রিট আবেদন করে।

এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে দেয়।

সেই সঙ্গে বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি কেন ২০০৮ সালের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ৪.০২, ৪.০৬(৩) দফা এবং ২০১৭ সালের ফোরজি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাই কোর্ট।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ও যুগ্ম সচিব, বিটিআরসি, বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং ডিভিশনের মহা পরিচালক, পরিচালক ও বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম ডিভিশনের পারিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়।

ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ৪.০২ নীতিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি তিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি এক প্রতিষ্ঠানকে ফোরজি লাইসেন্স দেওয়া যাবে।

আবার ৪.৬ (৩) নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল অপারেটর এ লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবে না।

রিটকারীপক্ষের আইনজীবী রমজান আলী শিকদার সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, “বিটিআরসি ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ওই দুই নীতি উপেক্ষা করে ২০১৭ সালে আরেকটি নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং তার ভিত্তিতে ফোরজি লাইসেন্সের জন্য দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিটিআরসির এই পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ করে এই রিট করা হয়।”

হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সেদিনই চেম্বার আদালতে যায় বিটিআরসি। তাদের আবেদন শুনে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি রোববার আপিল বিভাগে আসে।

হয়রানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা

ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কর কর্মকর্তাদের হয়রানিকে বড় সমস্যা মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, পণ্য আমদানি, পরিবহন, কর প্রদানসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজেদের নানা ধরনের হয়রানির কথা তুলে ধরেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাভিত্তিক ২৫টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। তাঁদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কর কর্মকর্তাদের হয়রানিসহ ব্যবসার নানা সমস্যা দূর করা গেলে ব্যবসা করার পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সমস্যা শুনতেই মূলত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এফবিসিসিআই। সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ইআরপি (এনগেজ, রিফ্লেক্ট, প্ল্যান অব অ্যাকশন) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে একেকটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের তিন মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তাতে সংগঠনের নেতারা খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সমস্যা তুলে ধরেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়রানি নিয়ে এক ব্যবসায়ী কথা বলতে গেলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখানে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা আছেন। তাই কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে না বলে সার্বিক সমস্যা নিয়ে মোটা দাগে কথা বলেন। এরপর ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সংযত হয়ে যান।
বাংলাদেশ অ্যাডহেসিভ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ঢাকায় পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা প্রায়ই পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। একই অভিযোগ করেন পান রপ্তানিকারক সমিতির এক নেতা। এনবিআরের হয়রানির কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ অ্যাসিড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা। এ সময় তিনি আরও বলেন, সালফিউরিক অ্যাসিড আমদানিতে সব মিলিয়ে ১৩৭ শতাংশ কর দিতে হয়। রাসায়নিক আমদানির বর্তমান নীতিমালা ব্যবসাবান্ধব নয়, এ নীতিমালার সংস্কার দরকার। বিভিন্ন সংগঠনের নেতার বক্তব্যের একপর্যায়ে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে যাতে সম্পর্কের ব্যবধান তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। নকর আদায়ের নামে হয়রানি করা কাম্য নয়। বাংলাদেশ অ্যাকিউমুলেটর অ্যান্ড ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাটারি আমদানির কাঁচামাল সিসা বিদেশ থেকে উচ্চ করে আমদানি করতে হয়। কিন্তু এই সিসা গলিয়ে পুনরায় ব্যবহারের আগে তা চোরাই পথে ভারতে পাচার হচ্ছে। এটি বন্ধ না হলে এ শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হবে। বিউটি পারলার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকার বেশির ভাগ পারলারের উদ্যোক্তা ও সেবাগ্রহীতা হলেন নারী। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কর আদায়ে এসব পারলারে এনবিআরের পুরুষ কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়, এতে অনেক সমস্যা হয়।

অসুস্থ্য রমা চৌধুরীর শয্যাপাশে ওবায়দুল কাদের


চট্টগ্রাম  নগরীর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন 'একাত্তরের জননী' খ্যাত, লেখিকা রমা চৌধুরীকে দেখতে এসেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
 
রোববার  বেলা দেড়টায় জিইসির মেডিকেল সেন্টারে আসেন মন্ত্রী। এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, বিএমএ সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, মেডিকেল সেন্টারের ডা. হাসানুল বান্না, রমা চৌধুরীর ছেলে জহর লাল চৌধুরী, প্রকাশক আলাউদ্দিন খোকন, সুমন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
মন্ত্রী সিভিল সার্জন ও মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তারদের কাছে রমা চৌধুরীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। কিছু সময় শয্যা পাশে অবস্থান করেন।
 
সিভিল সার্জন মন্ত্রীকে জানান, ডায়াবেটিস, গলব্লাডারের ব্যথা, ইনফেকশন, জ্বর, রক্তচাপ ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছেন। মেডিকেল বোর্ড বসানো হয়েছে। রমা চৌধুরী অপারেশনে রাজি নন।
 
পরে রমা চৌধুরীর কেবিনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, একাত্তরের জননী হিসেবে পরিচিত রমা চৌধুরী বার্ধক্যজনিক কারণে অসুস্থ। দেশের কাছে, জাতির কাছে, বিশেষ করে আজ মুক্তিযুদ্ধের সরকার শেখ হাসিনার সরকারের কাছে তার আত্মসম্মানবোধ প্রবল। আমি শুনেছি তিনি খালি পায়ে হেঁটে নিজের লেখা বই বিক্রি করে চলতেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করব। ডিসি সাহেব যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটি সরকারের উদ্যোগেরই অংশ। তিনি স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হলে সব ধরনের সাপোর্ট আমরা দেব।
 
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রমা চৌধুরীর চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে বেশি টাকা চিকিৎসা করাতে হচ্ছে যা তার পরিবারের সাধ্যের বাইরে। সাংবাদিকদের এমন কথার পর মন্ত্রী বলেন, আমি জেনেছি আজ পর্যন্ত মেডিকেল সেন্টারে কোনো টাকা জমা দেওয়া হয়নি। আমি আজই এক লাখ টাকা জমা করে দেব। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। জানি না তিনি অবহিত কিনা।
 
বিকেলে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মেডিকেল সেন্টারে রমা চৌধুরীর চিকিৎসার বিল হিসেবে দুই লাখ টাকা জমা করে দিয়েছেন।

নারকেলের ছোবড়ার বিদেশযাত্রা

বেশ কিছুদিন ধরেই নারকেলের ছোবড়া আর ফেলনা নয়। সেই ছোবড়ার আঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে যন্ত্রে তৈরি তোশকের (ম্যাট্রেস) ভেতরের অংশ, যা কয়ার ফেল্ট নামে পরিচিত। এখন নারকেলের ছোবড়ার পাশাপাশি ছোবড়ার গুঁড়াও মূল্যবান হয়ে উঠেছে। এ গুঁড়াকে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। শুরুতেই এগুলোর বাজার পাওয়া গেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়া প্রক্রিয়াজাত করার কাজটি করছে ন্যাচারাল ফাইবার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বাগেরহাটের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরীতে তাদের কারখানা। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সাল থেকে ‘কয়ার ফেল্ট’ (ম্যাট্রেস তৈরির কাঁচামাল) তৈরি করে আসছে। সোয়ান, আখতার, পারটেক্স, টাইগারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ম্যাট্রেস উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে এগুলো। এটি মূলত নারকেলের ফেলে দেওয়া ছোবড়ার আঁশ দিয়ে তৈরি হয়। মানভেদে প্রতি ঘনফুট কয়ার ফেল্টের দাম ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা। নারকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ ছাড়াতে গেলে প্রচুর পরিমাণে গুঁড়া বের হয়। সেই গুঁড়া রোদে শুকিয়ে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে চাপ দিয়ে ব্লকের মতো প্রস্তুত করা হয়। সেই ব্লক ‘কয়ার পিট’ নামে পরিচিত। দেশের বাজারে কয়ার ফেল্টের চাহিদা মেটানোর পর এখন নতুন পণ্য কয়ার পিট প্লাস্টিকে মুড়ে রপ্তানি করা হবে। বিভিন্ন দেশে গবাদি পশুপালন ফার্মে ও কৃষিকাজে মাটির বিকল্প হিসেবে কয়ার পিটের ব্যাপক চাহিদা।
ছোবড়া থেকে তোশক
অপ্রচলিত এই পণ্য রপ্তানির পেছনে আছে লম্বা গল্প। নিজের কারখানায় বসে গত রোববার সেটি শোনালেন ন্যাচারাল ফাইবারের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজ আহমেদ। ১৯৮৪ সালে আইএসসি পাস করে ব্যবসায় নেমে পড়েন তিনি। প্রথম জীবনে নারকেল তেলের কারখানা ছিল তাঁর। তখন ছোবড়া জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তবে বর্ষায় ছোবড়া শুকাতে অসুবিধা হতো বলে তা ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। ফলে ফেলনা ছোবড়া কাজে লাগানোর কৌশল মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। এদিকে দাম পড়ে যাওয়ায় হঠাৎ করেই তেলের ব্যবসায় ভাটা পড়ে। কী করা যায়, ভাবতে ভাবতে মোস্তাফিজ মনস্থির করলেন, নারকেলের ছোবড়া দিয়ে ম্যাট্রেসের ভেতরের অংশ তৈরি করবেন। নারকেলের ছোবড়া দিয়ে পণ্য তৈরিতে ভারত বরাবরই সিদ্ধহস্ত। তাই ভারতের হরিয়ানা, দিল্লি, কেরালা, তামিলনাড়ু ও ওডিশা চষে বেড়ালেন মোস্তাফিজ আহমেদ। সেখানকার কারখানায় ছোবড়া দিয়ে কয়ার ফেল্ট তৈরির কৌশল দেখলেন। যন্ত্রপাতি কিনতে গিয়ে দেখেন দাম নাগালের বাইরে। শেষে পশ্চিমবঙ্গের এক কারখানার সঙ্গে চুক্তি হয়। সেই কারখানা থেকে কয়ার ফেল্ট তৈরি করে নিয়ে আসতে থাকলেন। পরে কয়েকজন শ্রমিককে নিয়ে যান এবং কাজ শিখিয়ে আনেন বাগেরহাটের এই উদ্যোক্তা। ২০০২ সালে দেশে ফিরে নিজের চেষ্টায় এবং স্থানীয় উপকরণ ও মিস্ত্রি দিয়ে কয়ার ফেল্টের যন্ত্রপাতি তৈরি করে ফেলেন মোস্তাফিজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘উৎপাদন শুরু করতে আমাদের প্রায় তিন বছর লেগে যায়। তবে এর আগেই কয়েকটি ম্যাট্রেসের কারখানা আমাদের ক্রয়াদেশ দিয়ে দেয়। পরে সেটি বাড়তেই থাকে। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে আমাদের উৎপাদনক্ষমতা অনেক কম। তাই ক্রয়াদেশ ফিরিয়ে দিতে হয়।’,ছোবড়ার আঁশের সঙ্গে রেজিন বা তরল রাবার মিশিয়ে প্রথমে পাতলা শিট তৈরি করা হয়। পরে ম্যাট্রেস কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী কয়েকটি শিটকে তাপ ও চাপ দিয়ে এক ইঞ্চি থেকে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি পুরুত্বের কয়ার ফেল্ট প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন আকারের হলেও দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৭২ ও ৮০ ইঞ্চি কয়ার ফেল্ট করে থাকে তারা। বিসিকের কারখানাটিতে কাজ করেন ৩৫ জন শ্রমিক। দেশে বর্তমানে কয়ার ফেল্টের চাহিদা মাসে প্রায় ৩০ হাজার ঘণফুট। ৫ থেকে ৬ হাজার ঘণফুট উৎপাদন হয় ন্যাচারাল ফাইবার ফ্যাক্টরিতে।
ছোবড়ার পর ছোবড়ার গুঁড়া
ন্যাচারাল ফাইবার প্রতিষ্ঠানটিকে নারকেলের ছোবড়ার আঁশ সরবরাহ দিতে আশপাশে ছোট ছোট কিছু কারখানা গড়ে ওঠে। কিন্তু পণ্যটির চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় এ ছোট কারখানাগুলোর সরবরাহে চাহিদা মিটছিল না। এ কারণে গত বছর বাগেরহাটের সদর উপজেলার কররী গ্রামে ছোবড়া থেকে আঁশ তৈরির কারখানা স্থাপন করে ন্যাচারাল ফাইবার। এই কারখানা করতে গিয়ে নতুন পরিকল্পনা পেয়ে বসে মোস্তাফিজ আহমেদকে। এক হাজার নারকেলের ছোবড়ায় ৮০ কেজি আঁশ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ফেলনা উপজাত হিসেবে বের হয় ১৬০ কেজির মতো গুঁড়া। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউএসএআইডির এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইন (এভিসি) প্রজেক্টের আওতায় জার্মানের ফ্রাঙ্কফুর্ট ফেয়ারে অংশ নেন মোস্তাফিজ। সেখানে তিনি গিয়েছিলাম মূলত কয়ার ফেল্টের ক্রেতা খুঁজতে। সেখানেই প্রথম বিশ্ববাজারে কয়ার পিটের চাহিদার বিষয়ে জানতে পারেন তিনি। মোস্তাফিজ আহমেদ বললেন, ‘ছোবড়ার গুঁড়া দিয়ে আমরা কয়ার পিট তৈরির চিন্তাভাবনা করলাম। কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই কয়ার পিটের ব্যাপক চাহিদা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করেছি। উৎপাদন হচ্ছে। শিগগিরই দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬০ হাজার ডলারের কয়ার পিট রপ্তানি হবে। কার্যাদেশ চলে এসেছে।’ গত রোববার দুপুরে কররী গ্রামে ন্যাচারাল ফাইবারের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল কারখানা চত্বরে ধান শুকানোর মতো করে নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়া শুকানোর কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। এর চারপাশে কয়েক হাজার মণ গুঁড়া স্তূপ আকারে রয়েছে। মূল কারখানা ভবনে কম্প্রেসর যন্ত্রে চাপ দিয়ে তৈরি হচ্ছে কয়ার পিট। এর আগে ছোট ও বড় দানার শুকনো গুঁড়া যন্ত্রে আলাদা করা হয়। কারখানাটির দেখাশোনা করছিলেন মোস্তাফিজের ছোট ভাই মোজাহিদ আহমেদ। তিনি বললেন, ‘কয়ার পিট আমরা উৎপাদন শুরু করলাম। তবে ইন্টারনেট ঘেঁটেও ক্রেতা পাচ্ছিলাম না। পরে ১৪-১৫টি দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে ই-মেইল করলাম। দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের সহযোগিতায় গত অক্টোবরে একজন ক্রেতার সন্ধান পাওয়া গেছে।
তিনি আমাদের কারখানা পরিদর্শন করেছেন। পণ্য পছন্দ হওয়ায় ক্রয়াদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পণ্যের মান উন্নত করতে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন।’ সেই ক্রেতার নাম মিন সুক কিম। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ডায়াপিট নামের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। গত রোববার তিনি বাগেরহাটের কারখানাতেই ছিলেন। শ্রমিকদের সঙ্গে কাজও করছিলেন কিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কয়ার পিটের চাহিদা প্রচুর। পণ্যটির পানি শোষণক্ষমতা ব্যাপক, তাই শূকর ও গরু পালনের খামারের মেঝেতে ব্যবহৃত হয়, যাতে মলমূত্র শুষে নিতে পারে। পরে ব্যবহৃত কয়ার পিট জৈব সার হিসেবে কৃষিকাজে ব্যবহার করা হয়। তা ছাড়া ফসলের চারা উৎপাদনেও এটি ব্যবহার করা হয়।’ ভারতের জাতীয় কয়ার বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, সারা বিশ্বে নারকেলের আঁশের উৎপাদন বছরে সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন। এর ৯০ ভাগই জোগান দেয় ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ভারত বছরে নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৪ কোটি ডলারের। আর শ্রীলঙ্কার বার্ষিক রপ্তানি আয় ৬-৭ কোটি ডলার। প্রচলিত পদ্ধতিতে গুঁড়া শুকাতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ছে ন্যাচারাল ফাইবার। তাই নিজেরাই ড্রায়ার তৈরি করছে। শিগগিরই কারখানায় যন্ত্রটি সংযোজিত হবে। মোস্তাফিজ আহমেদ বললেন, কয়ার পিট নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে যে পরিমাণ নারকেলের ছোবড়া হয়, তাতে ৫০টির মতো কারখানা করা সম্ভব। নারকেলের ছোবড়ার আরও কিছু পণ্য তৈরির পরিকল্পনা করছেন মোস্তাফিজ আহমেদ। তবে এখনই সেসব পণ্যের তথ্য জানাতে রাজি নন তিনি।

৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন তাঁরা

জমি কেনা, বাড়ি তৈরি বা বাড়ি সংস্কারের জন্য সরকারি বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কর্মচারীরা ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। ঋণ পাওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে আইসিবিতে স্থায়ী চাকরি থাকতে হবে। অর্থাৎ যোগ দেওয়ার পর অন্তত তিন বছর পার হতে হবে। ঋণের বিপরীতে সুদ দিতে হবে ব্যাংক হারে। গত ৩১ ডিসেম্বর জারি হওয়া আইসিবি (কর্মচারী) গৃহনির্মাণ অগ্রিম প্রবিধানমালায় এ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এতে সই করেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ছানাউল হক। মূল আইসিবির কর্মচারীদের জন্যই এই প্রবিধানমালা প্রযোজ্য। আইসিবির সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানিগুলোর কর্মচারীরা এই সুবিধা পাবেন না। আইসিবিতে স্বামী-স্ত্রী চাকরি করলে একই জমির বিপরীতে ঋণ পাবেন একজন। তবে আলাদা জমির বিপরীতে আলাদা ঋণ মঞ্জুর করার সুযোগও রাখা হয়েছে। সংস্থাটিতে চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা কোনো ঋণ পাবেন না। মেট্রোপলিটন ও সব সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য সরকারি বেতনকাঠামোর ১ থেকে ৫ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীরা ঋণ পাবেন ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত। জেলা শহর বা পৌর এলাকার জন্য ঋণের সীমা ৮০ লাখ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ের জন্য ৭০ লাখ টাকা। বেতনকাঠামোর ৬ থেকে ৯ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ঋণ পাবেন মেট্রোপলিটনে ৮৫ লাখ টাকা,
জেলায় ৭৫ লাখ টাকা ও উপজেলায় ৬৬ লাখ টাকা। এভাবে তিন পর্যায়ে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৭০, ৬২ ও ৫৫ লাখ টাকা; ১১ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৬২, ৫৫ ও ৪৮ লাখ টাকা; ১২ ও ১৩ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৫৫, ৫০ ও ৪৫ লাখ টাকা; ১৪ থেকে ১৭ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৫০, ৪৫ ও ৪০ লাখ টাকা এবং ১৮ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৪৫, ৪০ ও ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ঢাকা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় জমি কিনতে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীদের প্রথম কিস্তিতে অগ্রিম ঋণ দেওয়া হবে সীমার ৬০ শতাংশ। আর জেলা পর্যায়ের জন্য ৫০ শতাংশ এবং উপজেলা পর্যায়ের জন্য ৪০ শতাংশ ঋণ দেওয়া হবে। ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীদের দেওয়া হবে ৬০ শতাংশ। প্রথম কিস্তির পর বাকি ঋণ দেওয়া হবে তিনটি সমান কিস্তিতে। গ্রুপভিত্তিক ঋণেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং গ্রুপ হতে হবে ২ থেকে ১০ জনের মধ্যে। গ্রুপের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকলেও ঋণ দেওয়া হবে না। ঋণ দেওয়ার এক বছর পর থেকে কিস্তি নেওয়া শুরু হবে। তবে তৈরি ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে শুরু হবে ছয় মাস পর থেকে। প্রবিধানে বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী চাকরিতে থাকা অবস্থায় মারা গেলে পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে সুদ মওকুফের প্রস্তাব করতে পারবে আইসিবির পরিচালনা পর্ষদ। বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৬৮ কোটি কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে। আগের বারের মুনাফা ছিল ৩১৩ কোটি টাকা এবং তার আগের বারের মুনাফা ছিল ৪০৬ কোটি টাকা।

সংকটে গলদার পোনা উৎপাদন

দেশে গলদা চিংড়ির পোনা সরবরাহের জন্য নিয়োজিত হ্যাচারির উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। অনেক হ্যাচারির উৎপাদন দুই থেকে তিন বছর ধরে বন্ধ। সরকারের হ্যাচারির উৎপাদনও একেবারেই কম। ফলে গলদার পোনার চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বিরাট ফারাক তৈরি হয়েছে। চাহিদা মেটাতে প্রাকৃতিক উৎস ও ভারত থেকে বেআইনিভাবে আসা পোনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন চাষিরা। এসব পোনায় নানা রকম ভেজাল থাকে। সঠিক সময়ে পাওয়াও যায় না। সব মিলিয়ে রপ্তানিমুখী গলদা চাষের গোড়াতেই বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। সমস্যা সমাধান না হলে গলদা চাষ হুমকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। খুলনার মৎস্য কর্মকর্তা ও হ্যাচারির মালিকেরা জানান, দেশে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে গলদার চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ২৫ হাজার পোনা (পিএল বা পোস্ট লার্ভা) ছাড়তে হয়। ফলে বছরে একবার চাষেই কমপক্ষে ১৩০ কোটি পোনা দরকার। বছরে অন্তত দুই দফায় চাষ করলেও পোনার চাহিদা ২৬০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। মানভেদে প্রতিটি পোনার দাম ২ থেকে ৪ টাকা। সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, ২০১৬ সালে ১৭টি সরকারি হ্যাচারিতে ৫৫ লাখ গলদা পোনা উৎপাদিত হয়েছে। সে বছর বেসরকারি ১৯টি হ্যাচারি ৪ কোটি ১০ লাখ পোনা উৎপাদন করেছে। গত বছরের হিসাব তাদের কাছে নেই। অবশ্য বেসরকারি সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সেফটি প্রকল্পের জরিপ অনুযায়ী, গলদা পোনা উৎপাদনের ৮০টি হ্যাচারির মধ্যে ৩৭টিই খুলনা বিভাগে। ১৭টি চট্টগ্রাম বিভাগে। গত বছর খুলনার ৩টি হ্যাচারি উৎপাদনে গেলেও শেষ পর্যন্ত কেউ সফল হয়নি। তবে বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনার ৬ টি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ২ টি, গোপালগঞ্জের ১টি ও বগুড়ার ১টি হ্যাচারি ২ কোটি ৬৭ লাখ পোনা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। জানতে চাইলে বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘হ্যাচারিগুলো গলদার পোনা উৎপাদনে কেন ব্যর্থ হচ্ছে সেটি খুঁজতে আমরা তিন বছর ধরে গবেষণা করছি। তবে এখনো সমস্যার মূলে পৌঁছাতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে নিয়েছি এবং সরকারের ওপর মহলে জানিয়েছি।’ সাধারণত শীতের শেষ দিকে হ্যাচারিগুলোতে গলদা পোনা উৎপাদন শুরু হয়। জানুয়ারিতে হ্যাচারিগুলোয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ধুম লেগে যায়।
তবে খুলনা-বাগেরহাট সড়কের পাশে দেড় একর জমির ওপর বাগেরহাট গলদা চিংড়ি হ্যাচারি নামের প্রতিষ্ঠানে গত ৬ জানুয়ারি গিয়ে দেখা গেল কোনো প্রস্তুতি নেই। সুনসান নীরবতা। ভেতরের চৌবাচ্চায় ধুলাবালি জমেছে। হ্যাচারির কর্মকর্তা স্বরূপ দাস বললেন, তিন বছর ধরে পোনা উৎপাদন হচ্ছে না। পোনা উৎপাদনের সব ব্যবস্থা করার পরও দেখা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই সব পোনা মারা যাচ্ছে। গতবার হ্যাচারির ২৮ ট্যাংকের মধ্যে ১৪ টিতে পোনা উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তবে পোনা না হওয়ায় ৬-৭ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১০ থেকে ১২ লাখ পোনা উৎপাদন হয়েছিল। তারপর কেন হচ্ছে না কিছুই বুঝতে পারছি না।’ বাগেরহাটের শ্রীঘাটের ফুলবাড়ী এলাকায় ব্র্যাকের গলদা চিংড়ি হ্যাচারি-২-এ গিয়ে একই চিত্র দেখা গেল। চলতি মৌসুমে তারা গলদার পোনা উৎপাদনে যাবে না। কারণ গত বছর ৩৫ দিন চেষ্টা করে তাদের ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। ২০১৬ সালে ৩৫ লাখ গলদার পোনা উৎপাদন করা হয়েছিল। বর্তমানে লোকসান কমাতে হ্যাচারির পাশের পুকুরে তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। মূল হ্যাচারি অলস পড়ে আছে। জানতে চাইলে ব্র্যাক ফিশারিজের বাগেরহাটের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কেন গলদার পোনা উৎপাদন হচ্ছে না, সেটি আমরা আবিষ্কার করতে পারিনি। সরকারের বিষয়টি শিগগিরই খুঁজে বের করা দরকার। কারণ নদীর পোনার ওপর ভরসা করা যায় না। কোনো এক বছর পোনা না পাওয়া গেলে চিংড়ি চাষের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।’ খুলনার ডুমুরিয়ায় অবস্থিত খুলনা গলদা চিংড়ি হ্যাচারিতে বর্তমানে তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদন ও মুরগি পালন হচ্ছে। কারণ তিন বছর ধরে গলদার পোনা হচ্ছে না। হ্যাচারির উদ্যোক্তা বিমল মিত্র বলেন, পোনা উৎপাদন না হওয়ায় প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। কারণ প্রক্রিয়াটি শুরু করতে গেলেই মা চিংড়ি কিনতে হয়। অন্য জায়গা থেকে লবণ পানি আনতে হয়। ট্যাংকের পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও অক্সিজেনের জন্য মেশিন চালাতে হয়। খাবারের পেছনেও প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। বাগেরহাটের ফকিরহাটের হিটলার গোলদার এক যুগের বেশি সময় ধরে গলদা চিংড়ি চাষ করছেন। তিনি বললেন, ‘পোনার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। নদীর পোনাই আমাদের ভরসা। তবে সব বছর সময়মতো পোনা পাওয়া যায় না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বাজারে গলদার দামও পড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে পাততাড়ি গোটাতে হবে।’ জানতে চাইলে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের গলদা বিশেষজ্ঞ সুকুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ২০১১ সাল থেকে হ্যাচারিতে লার্ভা মারা যাওয়া উপসর্গের প্রাদুর্ভাব ঘটে। হ্যাচারিগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হয়। গত দুই-তিন বছরে সেটি মারাত্মক আকার নিয়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা বিদেশি বিশেষজ্ঞ এনে পরীক্ষা করিয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লার্ভা ও মা চিংড়ি পরীক্ষা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ভাইরাসের কারণে লার্ভা মারা যাচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কিছু রোগজীবাণুমুক্ত (এসপিএফ) বাগদা চিংড়ির পোনার জন্য কক্সবাজারে একটি হ্যাচারি হয়েছে। এতে ভালো ফল মিলছে। খুলনায় আরেকটি নির্মাণাধীন আছে। একইভাবে গলদার জন্য এসপিএফ হ্যাচারির অনুমোদন দিতে পারে সরকার। এ জন্য থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন সুকুমার বিশ্বাস। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, পোনা উৎপাদনের জন্য রোগমুক্ত মা গলদা প্রয়োজন। তবে হ্যাচারিগুলো নদী থেকে মা গলদা সংগ্রহ করে। আর নদীগুলো দূষণের কারণে মা গলদা রোগাক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এসপিএফ পদ্ধতিতে পোনা উৎপাদনের একটি নীতিমালা আছে। কোনো হ্যাচারি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নীতিমালা মেনে আবেদন করে তাহলে অনুমতি না দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

‘নো নো নো, অল রাবিশ’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাংলাদেশকে টেনে নামানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ রোববার সচিবালয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। সাংবাদিকেরা অর্থমন্ত্রীর কাছে এ মন্তব্যের বিষয়ে বিশদভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নো নো নো, অল রাবিশ।’ গতকাল শনিবার ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০১৭-২০১৮: প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সিপিডি। সেখানে সিপিডি জানায়, ২০১৭ সাল ছিল ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারির বছর। সিপিডির এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কই, অত বড় কেলেঙ্কারি (হলমার্ক) হয়ে গেল, তখন তো তারা কিছু বলেনি।’ সিপিডি বলেছে, ব্যাংক খাতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নজর দারির ঘাটতি আছে—এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আই হ্যাভ নো কমেন্ট। বাংলাদেশ যে এত সব অর্জন করেছে, এই ব্যাপারে কখনোই সিপিডি কোনো রিকগনাইজ করেনি।’ এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবিরের নেতৃত্বে একটি দল আজ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

কঠোর অবস্থানে রিপাবলিকানরা, বাতিল হতে পারে ডিভি লটারি!

আমেরিকার অভিবাসন নীতি নিয়ে সংকট কাটছেই না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এ বিষয়ে দ্বিদলীয় আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করলেও প্রতিনিধি পরিষদের প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতারা ১০ জানুয়ারি কঠোর অভিবাসন প্রস্তাব নিয়েই সামনে হাজির হয়েছেন। এই প্রস্তাবের কারণে কংগ্রেসের এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেকটা কঠিন হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচার ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এতে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও জোরদার অভিযান পরিচালনাসহ বৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমানোর কথাও বলা হয়েছে। অথচ ঠিক এক দিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সভা করে দ্বিদলীয় আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি মীমাংসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবটি আলোচনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনিশ্চয়তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। অথচ দ্বিদলীয় আলোচনার ভিত্তিতে অভিবাসন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য কংগ্রেসের সামনে খুবই অল্প সময় রয়েছে। ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারলে সরকারি ব্যয়ের তহবিল রুদ্ধ হয়ে যাবে। মুখোমুখি হতে হবে ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউনের’। ৯ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত দ্বিদলীয় সভায় উপস্থিত ছিলেন আইডাহর রিপাবলিকান প্রতিনিধি রাউল আর ল্যাব্রাডোর। ওই সভা নিয়ে আশাবাদী ল্যাব্রাডোর নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘এটিই একমাত্র বিষয়, যা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। আর এর মাধ্যমেই আমরা অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে পৌঁছাতে পারব।’ ট্রাম্পের আহ্বানে হোয়াইট হাউসের এই সভাটি মূলত অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসীদের ভাগ্য নির্ধারণের লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল।
ওই সভায় প্রেসিডেন্টসহ উপস্থিত আইনপ্রণেতারা অভিবাসন বিষয়ে দ্বিদলীয় আলোচনার জন্য চারটি ক্ষেত্রকে নির্দিষ্ট করেন। এগুলো হচ্ছে, ড্রিমার নামে খ্যাত অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসীদের সুরক্ষা, পারিবারিক অভিবাসন বা চেইন অভিবাসন সীমিতকরণ, ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি বাতিল ও সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার। কিন্তু এই একই বিষয়ে প্রতিনিধি পরিষদে দুই রিপাবলিকান নেতা যে প্রস্তাবটি উত্থাপন হয়েছে তা আরও বড় পরিসরের। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন প্রতিনিধি পরিষদে বিচার বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধি রবার্ট ডব্লিউ গুডলেট ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান ও টেক্সাসের প্রতিনিধি মাইকেল ম্যাককোল। এতে চাকরিদাতাদের ই-ভেরিফাই নামের একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো কর্মী নিয়োগের আগেই ইন্টারনেটভিত্তিক এই বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বৈধতা পরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের জন্য অভয়াশ্রম খ্যাত শহরগুলোর জন্য বিশেষ ফেডারেল বরাদ্দ বাতিলের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবে সীমান্তে মা-বাবার সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে কোনো শিশু ধরা পড়লে তাকেও আটক এবং বিতাড়নের পর ফিরে এসে কোনো অপরাধে জড়ালে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের দুই নেতার প্রস্তাবে ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী প্রাধান্য পেয়েছে ডিভি লটারি প্রকল্প বাতিলের বিষয়টি। একই সঙ্গে সন্তান ও সঙ্গী ছাড়া সব ধরনের পারিবারিক ভিসা বন্ধের প্রস্তাবও করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া খোদ রিপাবলিকান দলেই ড্রিমারদের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও এই দুই নেতা তাদের জন্য নাগরিকত্বের বদলে তিন বছরের কাজের অনুমোদন (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে অভিবাসন সম্পর্কিত দ্বিদলীয় সমঝোতার বিষয়টি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। এদিকে এই বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান সদা পরিবর্তনশীল। আর দুই দলেই এ নিয়ে রয়েছে বিভাজন। বিষয়টি নিয়ে জোরদার লড়াইয়ে নামার পরিকল্পনা করছেন কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা। আবার একই দলের কিছু নেতা ভুগছেন রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কায়। একই অবস্থা রিপাবলিকান দলেও। দলটির কিছু নেতা যখন সমঝোতায় আগ্রহী, তখন আরেকটি বড় অংশ কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্তে অনড়। অভিবাসন নীতি সম্পর্কিত প্রচার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের পরিচালক লরেলা প্রায়েলি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবটিতে বেশ কিছু কঠোর অবস্থান ঘোষিত হয়েছে, যা দ্বিদলীয় সমঝোতাকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে থমকে দেওয়ার লক্ষ্যেই আনা হয়েছে।’ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে যাবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষত ৯ জানুয়ারি ট্রাম্প আহুত সভায় অভিবাসন ইস্যুতে দ্বিদলীয় আলোচনার জন্য চারটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত হওয়ায় এখনো সম্ভাবনা রয়ে গেছে। আর শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি ভোটে উঠলেও সিনেটে এর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ সিনেটে অভিবাসন বিষয়ে কোনো আইন পাস হতে অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন হবে, যা শুধু রিপাবলিকান ভোটে সম্ভব নয়। এদিকে অভিবাসন নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ৯ জানুয়ারি ড্রিমারদের জন্য ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডিএসিএ) প্রকল্প চালু রাখার বিষয়ে আদালতের দেওয়া আদেশের কারণে। ওই দিন সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল বিচারক সুস্পষ্টভাবে আদেশ দিয়েছেন যে, ‘পুরো দেশে ডিএসিএ বহাল রাখতে হবে প্রশাসনকে।’ ট্রাম্পও দেরি না করে একহাত নিয়েছেন বিচার বিভাগের ওপর। আগের মতোই তিনি আদালতকে ‘ভঙ্গুর ও অন্যায্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নিজের টুইটার পোস্টে। এই পাল্টা বক্তব্যে অবশ্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় বিভ্রান্ত হচ্ছে না। তারা জানিয়েছে, আদালতের আদেশই তারা মেনে চলবে। তবে একই সঙ্গে বিচার বিভাগ এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে বলেও তাঁরা জানান। তবে এই আদেশের কারণে আরেকটি সংকটের সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যারিজোনার রিপাবলিকান সিনেটর জেফ ফ্লেক। নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘এই আদেশের কারণে অনেকে ভাবতে পারেন যে, হাতে এখন অনেক সময়। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হতে পারে।’ এদিকে অভিবাসন নিয়ে সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণের জন্য নিয়মিত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, এই আদেশ কোনোভাবেই এ বিষয়ক দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তাকে খাটো করছে না। বিলম্ব তারাই চায়, যারা আসলে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ারই পক্ষে।’ চাক শুমারের ইঙ্গিতটি সুস্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটরা ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই অভিবাসন বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায়। আর ১৯ জানুয়ারিতেই শেষ হচ্ছে সরকারি ব্যয় তহবিলের মেয়াদ। ফলে এই সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে পরবর্তী তহবিল আটকে দিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। আর সে ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের মধ্যেই গভর্নমেন্ট শাটডাউনের মুখোমুখি হতে হবে প্রশাসনকে।