Thursday, December 7, 2017

জেরুজালেম নিয়ে এত বিরোধ কেন? by মাহমুদ ফেরদৌস

ঠিক ১০০ বছর আগের কথা। ১৯১৭ সালের ডিসেম্বর মাস। অটোম্যান তুর্কিদের কাছ থেকে এই দিনেই বৃটিশ জেনারেল এডমান্ড অ্যালেনবি জেরুজালেমের দখল নিয়ে নেন। সেদিন জেনারেল অ্যালেনবি শহরের পবিত্রতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন খালি পায়ে। এরপর গত ১০০ বছর ধরে, জেরুজালেম নিয়ে নানা রকম লড়াই হয়েছে। শুধু ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলমানই নয়, বহিঃশক্তিও এসেছে সমীকরণে।
আধুনিক যুগে ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি লড়াই তার অন্যতম।
নবী ইব্রাহিম (আ.) থেকে উদ্ভূত বড় তিন ধর্মের (ইসলাম, খ্রিস্ট, ইহুদি ধর্ম) কাছেই জেরুজালেম ভীষণ পবিত্র জায়গা। ইহুদীরা মনে করেন, এখানেই তাদের আদি নিবাস। এখানেই তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় টেম্পল বা উপাসনালয় স্থাপিত হয়েছিল। অপরদিকে ইসলাম ধর্ম মতে, জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদ-উল-আকসা থেকে নবী মোহাম্মদ (সা.) মেরাজে গিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন। খ্রিস্টান ধর্মমতে, ‘এখানেই যিশুখ্রিস্টের মৃত্যু হয়েছিল। তার সমাধিস্থলও এখানে।’
জেরুজালেম নিয়ে সংঘাত মূলত হাজার বছরের। রোমান সাম্রাজ্য ও ক্রুসেডস - সব কিছুর সাথে জড়িয়ে আছে এই শহরের নাম। কিন্তু এই শহর নিয়ে এখন যে সমস্যা চলছে, সেটি একেবারে নতুন ও স্বতন্ত্র। এখনকার সংঘাতের সঙ্গে ধর্ম যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে উপনিবেশবাদ, জাতীয়তাবাদের সংশ্লিষ্টতাও কম নয়।
ইসরাইলের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূগোলবিদ্যার অধ্যাপক ইয়েশুয়া বেন-আরিয়েহ মনে করেন, বৃটিশদের কারণেই জেরুজালেম এত গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। তারাই জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইহুদীদের প্রথম বা দ্বিতীয় মন্দির নির্মাণের সময় থেকে জেরুজালেম কখনই কারো রাজধানী ছিল না।
জেনারেল অ্যালেনবি জেরুজালেম দখলে নেওয়ার পর তিন দশক বৃটিশরা এখানে শাসন করে। তখনই যায়নবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু ইহুদী সেটেলার শহরটিতে পাড়ি জমাতে থাকে তৎকালীন বৃটিশ প্যালেস্টাইনে। স্থানীয় আরব জনগোষ্ঠীর কাছে তখন অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতা মেনে নেওয়া বৈ কোনো উপায় ছিল না। অটোম্যানরা ১৫১৭ সাল থেকে ১৯১৭ পর্যন্ত জেরুজালেম শাসন করেছে।
জেরুজালেম ইন্সটিটিউট ফর পলিসি রিসার্চ নামে একটি থিংক ট্যাংকের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যামনন র‌্যামন বলেন, ‘মজার বিষয় হলো, প্রাথমিকভাবে যায়নবাদী চিন্তকরা কিন্তু জেরুজালেম, বিশেষ করে পবিত্র ওল্ড সিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন। প্রথম কারণ হলো জেরুজালেমকে মনে করা হতো ইসরাইলের বাইরে বসবাসরত ইহুদীদের প্রতীক। দ্বিতীয়ত, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থাপনা থাকায় এই শহরকে রাজধানী করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করায় জটিলতা ছিল।’
প্রথম দিককার বহু যায়নবাদী চিন্তক ছিলেন সেকুলার ও সমাজতন্ত্রী। ধর্মের চেয়ে বরং ইহুদী জাতীয়তাবাদ, আত্ম-নিয়ন্ত্রনাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতন থেকে রেহাই পাওয়াই ছিল তাদের ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা। ইংল্যান্ডের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বিদ্যার অধ্যাপক মাইকেল ডাম্পার বলেন, ‘জেরুজালেম ছিল তখন নিশ্চলতার প্রতীক। এটিকে দেখা হতো ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে পশ্চাদপসরণের প্রতীক হিসেবে। তেল আবিব বরং তখন ছিল নতুন শহর। আধুনিকতার পুণ্যভূমি।’
তিনি আরও বলেন, আরবদের কাছে অটোম্যান সাম্রাজ্যের অধীনস্থ না থাকাটাই একটা বিরাট ব্যাপার ছিল। তারা নতুন করে সমাজকে বাঁধছিলেন নতুন বাস্তবতায়। স্থানীয় ফিলিস্তিনি অভিজাতরা ও জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি বনেদী পরিবারগুলো থেকেই পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতারা উঠে আসেন। তখন হুট করেই ইহুদী অভিবাসনের হুমকি টের পেতে থাকে ফিলিস্তিন।
এই অভিবাসন রোখার চেষ্টা করতে গিয়ে ফিলিস্তিনি ও ইহুদীদের মধ্যে দাঙ্গাও বেধেছিল। ইহুদীরা প্রায়ই বৃটিশদের খেপিয়ে তুলতো। ১৯৩৯ সালের দিকে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসন সীমিত করা হয়। কিন্তু ওই সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। ফলে অনেক ইহুদীই হিটলারের ইহুদী-নিধন বা হলোকাস্ট থেকে পালিয়ে আসতে চাচ্ছিল ফিলিস্তিনে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাতিসংঘ ফিলিস্তিন দু’ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। একটি হবে ইহুদীদের রাষ্ট্র, অপরটি আরব ফিলিস্তিনিদের। ওই সিদ্ধান্ত মতে, জেরুজালেম শাসিত হওয়ার কথা একটি আন্তর্জাতিক বিশেষ কাঠামো অনুযায়ী। আরবরা ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে।
ইসরাইল ১৯৪৮ সালে তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তার একদিন পরই আরব প্রতিবেশী দেশগুলো আক্রমণ করে ইসরাইলকে। কিন্তু আরবরা পরাজিত হয়। উভয় পক্ষের মিলিশিয়ারা সে সময় সহিংসতায় লিপ্ত ছিল। তখন বিপুল সংখ্যক আরব বাস্তুচ্যুত হয়।
যুদ্ধের পর জেরুজালেম দ্বিখণ্ডিত হয়। পশ্চিম অংশ দখলে নেয় ইসরাইল। ১৯৫০ সালে এক নতুন আইন অনুযায়ী এই পশ্চিম জেরুজালেম হয়ে উঠে ইসরাইলের রাজধানী। অপরদিকে পূর্ব জেরুজালেম, যেখানে পবিত্র ওল্ড সিটি ছিল, তা ছিল জর্দানের দখলে।
অধ্যাপক ডাম্পার বলেন, এই শহর নিয়ে তখন দুই দেশের চিন্তা ছিল না। ইসরাইল তখন তার উপকূলীয় অঞ্চল, অর্থাৎ হাইফা, তেল আবিব ও আশকেলনকে বাণিজ্যিক অঞ্চলে রূপান্তর করছিল। আর জর্দানের বাদশাহ প্রথম আবদুল্লাহ ছিলেন তার রাজধানী আম্মানের উন্নয়নে নিবিষ্ট।
ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ইসাম নাসারের মতে, জাতিসংঘ ও ইউরোপিয়ান শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর কারণে প্রথম দিককার ইসরাইল রাষ্ট্র জেরুজালেম নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে ইচ্ছুক ছিল না। জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রণের ধারণা মেনে নিয়ে প্রথম দিককার ইসরাইলি নেতৃত্ব অন্যত্র দেশের রাজধানী স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। এক্ষেত্রে হার্জলিয়া বা অন্য শহর তাদের পছন্দ ছিল। ড. র‌্যামন বলেন, ইসরাইলি নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছিল জেরুজালেমের পবিত্র স্থাপনা তাদের হাতে না থাকলে লাভই বেশি।
তবে পশ্চিম জেরুজালেম দখলের পরের দুই দশকে ইসরাইল ধীরে ধীরে অনেক সরকারী স্থাপনাই শহরটিতে গড়ে তোলে। কিন্তু বিদেশী সরকারগুলো জেরুজালেমকে এড়িয়েই গেছে। জাতিসংঘের প্রস্তাবনার সমর্থনে তারা দূতাবাস স্থাপন করে তেল আবিবে।
এরপর এলো ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ এত প্রলয়ঙ্করী ছিল যে, জেরুজালেমকে নিয়ে আধুনিক বিরোধকে এর চেয়ে কোনো ঘটনাই বেশি প্রভাবিত করেনি। মাত্র ৬ দিনের মধ্যে ইসরাইল শুধুমাত্র আরব দেশগুলোকে পরাজিতই করেনি, তারা মিশরের কাছ থেকে গাজা তীর ও সিনাই উপত্যকা দখলে নিয়ে নেয়। জর্দানের কাছ থেকে নিয়ে নেয় পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম। সিরিয়ার কাছ থেকে নেয় গোলান উপত্যকা।
ইসরাইলের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অধ্যাপক মেনাচেম ক্লেইনের মতে, ১৯৬৭ সালের ওই যুদ্ধ ইতিহাসের বাক পরিবর্তন করে দেয় দুই ভাবে। প্রথম, এই যুদ্ধের বিশাল বিজয়! যুদ্ধের আগে সবসময় আতঙ্কে থাকতো ইসরাইল। কিন্তু যুদ্ধের পর দেশটি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, পবিত্র ওল্ড সিটি দখলে নেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তো ছিলই।
ওল্ড সিটি দখলে নেওয়ার পর ইহুদীদের পবিত্র ওয়েস্টার্ন ওয়ালে (আল আকসা মসজিদের বাইরের একটি দেওয়াল) ইসরাইলি সেনাদের প্রার্থনার ছবি দেশটির জাতীয় মননে ভীষণ প্রভাব ফেলে। জর্দানের শাসনাধীন থাকার সময় এখানে আসতে পারতো না ইহুদীরা।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক আরব বিদ্যার অধ্যাপক রশিদ খালিদি বলেন, ‘জেরুজালেম হয়ে যায় কাল্টের মতো আরাধনার স্থান। এই স্থানের প্রতি এমন অনুরাগ আগে কখনই ছিল না। আর বর্তমানে এই অনুরাগ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইসরাইলি রাজনীতিতে এখন চরম উগ্রপন্থী ধর্মীয় জাতীয়তাবাদীদের আধিপত্য। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুই এখন ওয়েস্টার্ন ওয়াল।’
১৯৭৭ সালে ডানপন্থী লিকুদ পার্টি ইসরাইলের ক্ষমতায় আসে মেনাচিম বেগিনের নেতৃত্বে। এরপরই ইসরাইলি জাতি-পরিচয়ের সঙ্গে জেরুজালেমের সম্পর্ককে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হালে পানি পেতে থাকে। ইসরাইলের রাজনীতিতে ধর্মীয় সেটেলাররা আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। সেই থেকে এই প্রভাব আর কখনও কমেনি। পুরনো ধাঁচের সমাজতন্ত্রী যাদের শেকড় রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে তারা হাল ছেড়ে দেয়। ইসরাইলের ক্ষমতা কুক্ষিগত হয় রক্ষণশীল ইহুদীদের হাতে যারা মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত।
এই পরিবর্তনের কারণে জেরুজালেমের প্রতীকী গুরুত্ব ইসরাইলে বেড়ে যায়। ইহুদী ইতিহাসে জেরুজালেমের ভূমিকা সামরিক কুচকাওয়াজ, পাঠ্যক্রমে গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ইসরাইলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্কুলছাত্রদের জেরুজালেম সফরে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়।
এই জেরুজালেমকরণ তুঙ্গে উঠে ১৯৮০ সালে, যখন ইসরাইলি আইনপ্রণেতারা একটি বিল পাশ করেন, যাতে বলা হয়, ‘পূর্ণাঙ্গ ও ঐক্যবদ্ধ জেরুজালেমই ইসরাইলের রাজধানী।’ দখলে থাকলেও, ইসরাইল আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় পূর্ব জেরুজালেম আত্মসাৎ (অ্যানেক্স) করা বা নিজ ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করা থেকে বিরত থাকে।
১৯৯৩ সালে ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের মধ্যে অসলো চুক্তি আরেক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি)। যাদের হাতে পশ্চিম তীর ও গাজা তীর শাসনের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। তবে তখন সীমান্ত, ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও জেরুজালেমের মর্যাদার প্রশ্নে কোনো সমঝোতায় আসা যায়নি। কিন্তু তার পরের প্রায় ২৫ বছর দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমেছে।
২০০০ সালে ডানপন্থী রাজনীতিবিদ অ্যারিয়েল শ্যারন সফর করেন পবিত্র তীর্থস্থান (নোবল স্যাঙ্কচুয়ারি) বা আল হারাম আল কুদসি আল শরিফে। এখানেই মুসলমানদের পবিত্র আল আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রক অবস্থিত। ইহুদীদের কাছে এটি সেকেন্ড টেম্পল বা দ্বিতীয় মন্দিরস্থল হিসেবে পরিগণিত। অ্যারিয়েল শ্যারনের ওই সফরের কারণে জেরুজালেমে তীব্র সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সৃষ্ট হয় দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা। ৫ বছর ধরে চলমান এই সংঘাতে নিহত হয় প্রায় ৩ হাজার ফিলিস্তিনি ও ১ হাজার ইসরাইলি।
ফিলিস্তিনিরা বলছেন, ইহুদী সেটেলাররা পূর্ব জেরুজালেম ধীরে ধীরে দখলে নিচ্ছে। আর ইসরাইল পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের আবাসিক সনদ স্থগিত করার মাধ্যমে।
অধ্যাপক খালিদি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ নিয়ে একমত যে, ১৯৬৭ সালের পর পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবৈধ। এ কারণেই তারা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা যদি এখন বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি চুক্তি বা দীর্ঘস্থায়ী আরব-ইসরাইল সম্পর্ক কখনও স্বাভাবিক হবে, তা বলা মুশকিল।
অধ্যাপক বেন-আরিয়েহ মনে করেন, এই শহরকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও অনেকদিন থাকবে। তিনি বলেন, ‘আরব-ইহুদী সংঘাত এখন জাতীয়তাবাদী সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দু হলো জেরুজালেম।’
এই অধ্যাপকের ভাষ্য, ‘জেরুজালেম শহর ছিল তিন ধর্মের কাছে পবিত্র। কিন্তু যখনই সেখানে দুই জাতি তথা আরব ও ইহুদী জাতির উপস্থিতি নিশ্চিত হলো, তখন উভয়েই জেরুজালেমকে নিজের করে পেতে চাইলো। জেরুজালেমের যতটা তাদের প্রয়োজন, তার চেয়েও তাদের বেশি জেরুজালেমকে প্রয়োজন।’
(নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে)

ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইনতিফাদা’র ঘোষণা হামাসের, শুক্রবার ক্ষোভ দিবস পালনের আহ্বান

জেরুজালেমকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে অভ্যুত্থান ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি শক্তিশালী সংগঠন হামাস। হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়েহ গাজায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, ইহুদিবাদী শত্রুদের বিরুদ্ধে আরেকটি ইনটিফাদার আহ্বান জানাই আমরা এবং তা চালুর জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। মে মাসে হামাসের প্রধান নির্বাচিত হন ইসমাইল হানিয়ে। তিনি ফিলিস্তিনি, মুসলিম ও আরবদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, শুক্রবার দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে র‌্যালি করুন আপনারা।
এ দিনটিকে তিনি ‘ক্ষোভ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণায় বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে ৮ই ডিসেম্বর হোক আমাদের ইনটিফাদা’র প্রথম দিন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে থাকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে না হামাস। এ সংগঠনের আত্মঘাতী বোমারুরা ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শেষ ইনটিফাদা’য় সহায়তা করেছিল। ইসমাইল হানিয়ে বলেন, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের জন্য হুমকি এমন কৌশলগত কোনো বিপদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য সব হামাস সদস্য ও এর শাখা প্রশাখাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে নতুন নির্দেশনার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকা ও ইসরাইল দখলীকৃত পশ্চিম তীরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একীভূত জেরুজালেম হলো আরব ও মুসলিমদের। এটা হলো ফিলিস্তিনি, সব ফিলিস্তিনির রাজধানী। এ সময় তিনি পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানান ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে। আহ্বান জানান ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্জনের। ইসমাইল হানিয়ে বলেন, এটা ঘোষণা করা যেতে পারে যে, তথাকথিত শান্তি চুক্তির কবর রচনা হয়েছে। শান্তিচুক্তিতে অংশীদার ফিলিস্তিনি বলে আর কিছুই নেই।
আরব লীগের জরুরি বৈঠক আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ায় আরব লীগের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে জর্ডান ও ফিলিস্তিন। বুধবারই তারা এমন আহ্বান জানায়। এতে বলা হয়, জেরুজালেমে অবস্থিত আল কুদস-এর বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা আলোচনা হবে ওই বৈঠকে। কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সৌদি গেজেট বলেছে, শনিবার ওই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান ১৩ই ডিসেম্বর ইস্তাম্বুলে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। এ কথা জানিয়েছেন তার মুখপাত্র ইব্রাহিম কলিন।
তিনি আঙ্কারা থেকে সাংবাদিকদের বলেন, জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে যে স্পর্শকাতরতা সৃষ্টি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ওআইসির নেতাদের ওই বৈঠক আহ্বান করেছেন। এতে ইসলামিক দেশগুলো যৌথভাবে কি করণীয় তা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ওআইসির চেয়ারম্যান তুরস্ক। ওদিকে জেরুজালেমের বিষয়ে আরব ও ইসলামিক মনোভাবাপন্নদের সহযোগিতার বিষয়ে রোববার ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ব্যতিক্রমী বৈঠক আহ্বান করেছে জর্ডান সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার আগে তাকে কড়া সতর্কতা দিয়েছিলেন এরদোগান। তিনি মঙ্গলবার বলেন, জেরুজালেমের মর্যাদা মুসলিমদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা। এর ফলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নও করতে পারে তুরস্ক। তবে জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘ যে রেজুলেশন নিয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখাতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রাঁসিস।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের আহ্বান অগ্রাহ্য করে ট্রাম্পের ঘোষণা: ‘জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহবান অগ্রাহ্য করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সময় এসেছে। অনেক আগেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ১:০০ টায়(বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা) বিতর্কিত ও সমালোচিত এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের কাজ শুরু করতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।
এদিকে, ট্রাম্পের এ ঘোষণার আগ থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে ফিলিস্তিন।
প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে হাজারো ফিলিস্তিনি। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি করবে বলে আগে থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্থ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। হোয়াইট হাউজের ডিপ্লোমেটিক রিসেপশন রুম থেকে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সময় এসেছে । তিনি বলেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে চেষ্টা করেও আমরা ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে কোন স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আজ আমি (আমার প্রতিশ্রুতি) পূরণ করছি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশকের মার্কিন নীতি পাল্টে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন ট্রাম্প। বক্তব্য দেয়ার সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা মাথায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প দা্বি করেন, এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আর এটা বাস্তবতার স্বীকৃতি দেয়া বৈ কিছুই না। সকল পক্ষকে তিনি জেরুজালেমের পবিত্র ভূমিতে স্ট্যাটাস কো বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তার ঘোষণার প্রশংসা করে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, জেরুজালেম যদি ইসরাইলের রাজধানী না হয় তাহলে কোন শান্তি আসবে না। তিনি আরো বলেন, যেসব রাষ্ট্র শান্তি চায় আমি সেসব দেশকে আহবান জানাই যে তারা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিক। পাশাপাশি তাদের দূতাবাস এখানে স্থানান্তর করুক।
এদিকে, ফিলিস্তিনি এক কূটনীতিক বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। হামাস বলেছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে নরকের দরজা খুলে দেবে। দলটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘এতে করে এ বাস্তবতা পাল্টাবেনা যে জেরুজালেম আরব মুসলিমদের ভূখণ্ড। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে আগে থেকেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন অনেক বিশ্বনেতা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তার সঙ্গে এক ফোনালাপে ওই অঞ্চলের আরব নেতারা ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেন ও তাকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহবান জানিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তার এই পদক্ষেপে অঞ্চলটিতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের কারণ হলো তাদের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা। আর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, এই পদক্ষেপ হলো ফিলিস্তিনকে জবরদখল করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে উৎখাত করার অপরাধের চুড়ান্ত অধ্যায়। পোপ ফ্রান্সিসও সতর্ক করে বলেন, জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে বিদ্যমান স্ট্যাটাস কো’র প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। কিন্তু, ট্রাম্প সেসব গায়ে মাখেন নি।

‘আগুন নিয়ে খেলছেন ট্রাম্প’

আগুন নিয়ে খেলছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এমন মন্তব্য করেছেন ইরাইলের পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি একজন এমপি। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প উসকে দিয়েছেন বিপদের সমূহ আশঙ্কা। এর প্রতিবাদে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, ওই ঘোষণার পর নানা রকম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন ফিলিস্তিনের নেতৃবৃন্দ।
ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের নেতৃত্ব ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ধ্বংসাত্মক। তেল আবিব থেকে দুতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাবার ইচ্ছা পোষণ করে  ট্রাম্পের পূর্বের দেয়া এক বিবৃতির জবাবে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের শাশ্বত রাজধানী উল্লেখ করেন আব্বাস। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি আলোচনাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। এ স্বীকৃতিকে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উপঢৌকন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। আরো বলেছেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের ভূমি দখলে ইসরাইলের আগ্রাসনকে আরো উৎসাহিত করবে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিন দিনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছেন ফিলিস্তিনের নেতারা। কয়েক দশক ধরে জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।  ১৯৪৮ সাল থেকে জেরুজালেমের পশ্চিম অংশ দখল করে রেখেছে ইসরাইল। ১৯৬৭ সালে সিরিয়া, মিশর এবং জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় তারা। এর ফলে জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে জেরুজালেমে ইসরাইলের দখলদারিত্বের এবং কর্তৃত্বের কোন ধরণের স্বীকৃতি দেয় নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। প্রসঙ্গত, পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাজধানী হিসেবে দাবি করে ফিলিস্তিন। ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণাতে জেরুজালেমের বাস্তবতা এবং বৈধতার কোন পরিবর্তন হবে না। আমরা জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করবো- বলে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেন তিনি। অন্যদিকে, ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এর সেক্রেটারি-জেনারেল সাইব ইরেকাত বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প শান্তির সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিয়েছেন। তিনি পুরো অঞ্চলে অসহিষ্ণুতা ডেকে আনছেন। এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে পিএলও-এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সভা ডাকা হবে। গ্রহণ করা হবে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ইরেকাত আরো বলেন, রাজধানী জেরুজালেম ছাড়া ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কথা ভাবা অর্থহীন। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে- যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন প্রেসিডেন্টের নেয়া সবচেয়ে ভয়ানক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন ইরেকাত। এছাড়াও, ইসরাইলি পার্লামেন্টের ফিলিস্তিনি সদস্য জামাল জাহালকা বলেছেন, ট্রাম্প আগুন নিয়ে খেলছেন। যারা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পক্ষ নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন, তারা আসলে শান্তি ব্যাহত করে বিবাদ উসকে দিচ্ছেন। আল জাজিরার জ্যোষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেছেন, ট্রাম্প জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়া বক্তব্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বুলি তোতাপাখির মতো হুবহু আওড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের বিষয়ে ইসরাইলের যে মনোভাব, ট্রাম্প তার বক্তব্যে অবিকল তা-ই বলেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে শান্তি এবং সৌজন্যতার আড়ালে কিছু নাটকীয় ব্যাপার রয়েছে। তিনি বস্তুত ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং তাদের অধিকারের ওপর যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। যুদ্ধ ঘোষণা করলেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দ্বিপাক্ষিক বিরোধ নিস্পত্তিতে প্রণীত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিও।

নয়া বিশ্বব্যবস্থার পদধ্বনি : নেতৃত্বে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরান

 ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, নয়া বিশ্ব ব্যবস্থায় আবারও রাশিয়া ও ইরানের আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে। তুরস্ক থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাবাহ লিখেছে, বার্লিনের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সম্মেলনে গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, নয়া যে বিশ্ব ব্যবস্থা আসছে, সেখানে বৃহৎ শক্তি হিসেবে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রভাব বিশ্ববাসী দেখতে পাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে গ্যাব্রিয়েল বলেন, ওয়াশিংটন তাদের নেতৃত্ব ত্যাগ করেছে। বাদবাকি শক্তিগুলো অচিরেই আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্বের সেই শূন্যতা পূরণ করবে। আফ্রিকায় চীনের প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও বলেন গ্যাব্রিয়েল। তিনি বলেন, পশ্চিমাদের জেনে রাখা উচিত প্রতিদ্বন্দ্বীরা স্বপ্নের রাজ্যে বাস করে না। সিরিয়া সংকট সমাধানের লক্ষ্যে রাশিয়ার সুচি শহরে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার বৈঠকের কথা তুলে ধরে গ্যাব্রিয়েল বলেন, এই বৈঠক-তাঁর ভাষায়-প্রাচীন সাম্রাজ্যগুলোর পুনরাবির্ভাবের লক্ষণ।

সন্ধ্যায় চীনা প্রতিনিধিদলের সাথে খালেদার বৈঠক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানে বেগম জিয়ার কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন খালোদা জিয়া। চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন ওয়াং ইয়াজুন। এ ছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তা চাওয়ায় ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

রাজশাহী ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ ঘটনায় পাঁচজন ছাত্রী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ছাড়তেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হামলায় আহত ছাত্রীরা হলেন- ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের রূপা খাতুন, একই বর্ষের নাজনিন আক্তার, তৃতীয় বর্ষের মিম আক্তার এবং ল্যাব বিভাগের প্রথম বর্ষের মোহনা খাতুন ও আফরিন শারমিন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রীদের ওপর হামলার এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ ও বহিরাগতসহ অর্ধশতাধিক তরুণ এ হামলা চালায় বলে ছাত্রীদের অভিযোগ। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া আহত ছাত্রীদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইএইচটির ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের ভেতরেই তাদের হোস্টেল। এ হোস্টেলে যখন তখন ঢোকার চেষ্টা করেন ছাত্রলীগ নেতারা। হোস্টেলের বাইরে থেকে তাদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল কথাবার্তা এবং গালিগালাজও করা হয়। এসবের প্রতিবাদে তারা বুধবার সকালে অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। স্মারকলিপি দিয়ে তারা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়েই অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে তারা হোস্টেলে ফিরছিলেন। এ সময় তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। হামলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বহিরাগতরাও ছিলেন বলে অভিযোগ ছাত্রীদের। ছাত্রীরা বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং অনেকের চুল ধরে টানাটানি করেন। চড়-থাপ্পড় এমনকি কিল-ঘুষিও মারা হয় ছাত্রীদের। এর ফলে বেশ কয়েকজন ছাত্রী আহত হন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ছাড়েন। তবে ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইএইচটি ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ বানোয়াট। তাদের ওপর হামলার প্রশ্নই ওঠে না। ছাত্রীদের সঙ্গে পাঁচজন ছাত্রদল নেতা ছিলেন।
তারা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিচ্ছিলেন। নেতাকর্মীরা তাদেরকেই ধাওয়া দিয়েছেন। এ সময় দৌড়ে পালাতে গিয়ে পড়ে দু’জন ছাত্রী আহত হন। ছাত্রীদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলে জাহিদ বলেন, ছাত্রী হোস্টেলে সন্ধ্যা ৬টার আগে সবার ঢুকে যাওয়ার কথা। কিন্তু রাত ১০টা পর্যন্ত তারা বাইরে থাকেন। এর ফলে ক্যাম্পাসের বদনাম হয়। তাই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে কয়েক দিন আগে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই অধ্যক্ষর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই ছাত্রীরা তাদের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে পাল্টা অভিযোগ করতে যান। আর তাদের ইন্ধন দেন ছাত্রদলের নেতারা। রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামও ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনা ঘটেনি। ছোট দরজা দিয়ে সবাই একসঙ্গে দৌড়ে বের হতে গিয়ে কয়েকজন পড়ে আহত হয়েছে। অধ্যক্ষ জানান, ঘটনার পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়। তাই হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রদের বেলা ১টা এবং ছাত্রীদের বেলা ৩টার মধ্যে হোস্টেল ছাড়ার জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকবে বলেও জানান অধ্যক্ষ। নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, হামলার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় আইএইচটির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

রসিক নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: সিইসি

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি নাকচ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, রসিক নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। নির্বাচনের পরিবেশ উৎসবমুখর আছে। নির্বাচন ভালো হবে, সুষ্ঠু হবে। বৃহস্পতিবার রংপুরের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিইসি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যা প্রয়োজন, সেটিই করা হবে। এ জন্য বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে চারস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ২২ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। শুক্রবার থেকে ৩৩ জনের নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে বা টাকা ছড়ানোর বিষয় নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান সিইসি। রসিক নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে বলে জানান নুরুল হুদা। তবে ভোটাররা চাইলে ইভিএম ব্যবহার করতে পারবেন এবং না চাইলে ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. হাসান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ, রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।

নদীতে নামলেই কঙ্কাল!

নদীতে নামবেন? সাবধান! নদীতে নামলেই আপনি কঙ্কাল হয়ে যেতে পারেন। এটি কত ভয়ঙ্কর, ভাবা যায় কী? রিও টিনটো নদীতে ডুব দিয়ে ভেসে উঠার পর শরীরে শুধু হাড়গুলো ছাড়া কিছুই থাকবে না! স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদীটি মাইন খননের সময় উৎপন্ন হয়েছে। আর নদীটির উৎস স্পেনের আন্দালুসিয়া পর্বতে। রিও টিনটো নামে এ নদীর পানি অত্যন্ত আম্লিক (অ্যাসিডিক) (পিএইচ-১.৭-২.৫) এবং ভারী ধাতুসমৃদ্ধ। নদীর পানিতে রয়েছে প্রচুর ফেরিক আয়রন। জানা গেছে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে এখান থেকে কপার তোলা হয়েছে। এই মাইনটির ব্যাপ্তি এতটাই ব্যাপক যে, এর আশপাশের গ্রামগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। এমনকি নদীটি বেশ কয়েকটি আস্ত পাহাড়কেও গ্রাস করেছে।

নাইকোর সঙ্গে চুক্তি অবৈধ : শুনানি ১১ জানুয়ারি

বাপেক্সের সঙ্গে কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক কোম্পানি নাইকো ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে নাইকোর গ্যাস সরবরাহ  চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শুনানি ফের মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দীন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে ১০ নভেম্বর বাপেক্সের সঙ্গে করা চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিতের জন্য কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর করা আবেদন আজ ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সঙ্গে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক কোম্পানি নাইকো ও পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহ চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে ২৪ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। এ রায়ের বিষয়ে আপিল করে নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটিড। হাইকোর্টের রায়ে পেট্রোবাংলার নাইকোর গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার চুক্তি বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশে নাইকোর সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়। নিম্নআদালতে নাইকোর বিরুদ্ধে বিচারাধীন দুর্নীতি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দুটি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাইকোকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা যাবে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টের জারি করা রুলের ওপর শুনানি করে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ মে হাইকোর্ট বাপেক্সের সঙ্গে নাইকোর করা চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন। রিট আবেদনটি করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম। বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে দুটি চুক্তি করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা। এর একটি ছিল বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে (জয়েন্টভেঞ্চার) কাজের চুক্তি। অন্য চুক্তিটি হয়েছিল গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে।

ডিনসহ দুই শিক্ষক পরীক্ষার কার্যক্রমে ১০ বছর বহিষ্কার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ধর্মীয় উসকানিমূলক দুটি প্রশ্ন রাখার দায়ে অনুষদের ডিনসহ দুই শিক্ষককে ১০ বছরের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনগত বাধা না থাকলে ডিনকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৪৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। বহিষ্কৃত শিক্ষকরা হলেন- চারুকলা অনুষদের ডিন ও ‘গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস’ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ‘চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র’ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান। এর মধ্যে প্রশ্ন প্রণয়নকারী হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ায় মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তা হল- নিয়মানুযায়ী তিনি যখন ‘সহকারী অধ্যাপক’ থেকে সহযোগী অধ্যাপকে উন্নীত হতে আবেদন করতে পারবেন, তখন তাকে আরও পাঁচ বছর পর ‘সহযোগী অধ্যাপক’ হতে আবেদন করতে হবে। রাবির সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আখতার ফারুক ও কেবিএম মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘আই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের নাম কী?’ এবং ‘মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর মায়েনমারের (মিয়ানমার) সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে?’, এমন দুটি প্রশ্ন রাখা হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য গত ২৮ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে ওই কমিটি সুপারিশসহ সিন্ডিকেটে বিষয়টি উত্থাপন করে। তার ওপর ভিত্তি করে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। আইনগত বাধা না থাকলে ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। আর চারুকলার প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটির অন্য সদস্যদের সতর্কমূলক চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তারা। এদিকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইন্টার্নশিপ পেপারে স্বাক্ষর করানো নিয়ে ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক মোহা. হাছানাত আলীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত আবু নাহিদ মোহাম্মদ হায়দার নামে  এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। অধ্যাপক আখতার ফারুক ও কেবিএম মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, আবু নাহিদ আইবিএর এমবিএ (দিবা) ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে অধ্যাপক হাছানাত আলীকেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রসিক নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি বিএনপির

রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানাচ্ছি। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পেছনের দরজা দিয়ে জেতানোর কোনো চেষ্টা করলে জনগণ সেটির উপযুক্ত জবাব দেবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের মানসিকতা স্বাধীন না হলে কমিশনের আইনি স্বাধীনতা কোনো কাজে আসে না বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩টিই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। রংপুর সিটি নির্বাচনে ইসি এখনও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি বলে অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বারবার আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও ইসি তার বিরদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা গোটা এলাকায় ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে শুরু থেকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে তাও নজিরবিহীন। রিজভী বলেন, বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির বিষয়টি জনসম্মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা জড়িত থাকায় দুদক বরাবরই সেটি এড়িয়ে গেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৭টি মামলা হলেও মূলহোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সারা দেশে নিখোঁজ অর্থাৎ গুম আতঙ্ক থামছে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজধানী থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এ ঘটনায় তার মেয়ে ধানমণ্ডি থানায় ডায়েরি করলেও এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি মারুফ জামানের।

মহিলা আ’লীগ নেত্রীকে কুপিয়ে জখম

রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ঝরনা খীসাকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার ভোররাতে শহরের ট্রাইবেল আদম এলাকায় নিজ বাড়িতে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আহত ঝরনা চাকমাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি  কোপায় দুর্বৃত্তরা। রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, এ ঘটনায় এখনও মামলা দেয়া হয়নি।

মোমিন হত্যা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

রাজধানীর কাফরুলে কলেজছাত্র মোমিন হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ছয়জনকে যাবজ্জীবন সাজাও বহাল রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া। তবে তারা পলাতক রয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উঁচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। এর আগে বুধবার হাইকোর্টের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এদিন ঠিক করেন। মামলার অন্যতম আসামি মতিঝিল থানার সাবেক ওসি একেএম রফিকুল ইসলাম কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান। পরে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। মামলাটি বহুল আলোচিত। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর খুন হন কলেজছাত্র মোমিন। ওই দিনই নিহতের বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। বাদীর নারাজির পর মামলাটি ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়।
পরে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। শেষ পর্যন্ত ওসি রফিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল ৩-এ অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল ৪-এ স্থানান্তর করা হয়। শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই দেয়া রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ১২ নভেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। ওসি রফিক মারা যাওয়ায় মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিই রয়েছেন দুজন। তবে তারা পলাতক।

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

‘গৌরীপুরে চাকরিপ্রার্থীর আবেদন কুড়িয়ে পাওয়া গেল মহাসড়কে!’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মর্জিনা আক্তার। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সংবাদ প্রকাশের পর সকালে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ময়মনসিংহ জেলায় প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ জন ও সহজ কোরআন শিক্ষায় ২২০ শিক্ষক পদে নিযোগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে গৌরীপুর উপজেলা থেকে যারা আবেদন করেছিলেন তাদের মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে এ উপজেলা থেকে কতগুলো আবেদন জমা পড়েছিল তা জানা যায়নি। ইউএনও মর্জিনা আক্তার জানান, আবেদন রাস্তায় পড়ে থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আপত্তি রয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কের তারাকান্দা উপজেলার চরফরিদপুর এলাকায় গৌরীপুর উপজেলার ১৯টি ও ময়মনসিংহের একটি আবেদন পড়ে থাকতে দেখেন মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি কুড়িয়ে পাওয়া এসব আবেদন গৌরীপুর চুড়ালী জজবাড়ি জামে মসজিদের চাকরিপ্রার্থী মৃত আমজাদ আলীর ছেলে মো. আবদুল হালিমের কাছে জমা দেন। হালিম জানান, বুধবার সকালে কুড়িয়ে পাওয়া আবেদন বিভাগীয় কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। তবে কতজন আবেদন করেছিল, রাস্তায় কতজনের আবেদন পড়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি গৌরীপুরের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. হাবিবুর রহমান। যেসব আবেদন কুড়িয়ে পাওয়া গেছে, সে বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেননি।
তবে মহাসড়কে পড়ে থাকা আবেদনপত্রগুলো বুধবার ১১টার দিকে আবদুল হালিম নামে একজন বিভাগীয় কার্যালয়ে জমা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, গৌরীপুরের সুপারভাইজার মো. হাবিবুর রহমান আবেদনপত্রগুলো আনা-নেয়ার পথে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল। শুকরিয়া, সেগুলো পাওয়া গেছে। যাছাই-বাচাই কমিটির আরেক সদস্য ময়মনসিংহের ফিল্ড অফিসার কাজী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, চাকরিপ্রার্থীদের সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে যাবে। নির্ধারিত সংখ্যা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, নিজস্ব লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য শুরুতেই মানা হয়নি চাকরির নিয়োগবিধি। বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনের জন্য কমপক্ষে ১৫ দিনের ডিউরেশন ও দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্থানীয় একটি জাতীয় পত্রিকায় সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ২৪ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, যেহেতু ব্যাংক ড্রাফট, পেঅর্ডার দিতে হয় না। তাই একটি পত্রিকায় প্রকাশের পর সব উপজেলায় প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। জেলায় প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ জন ও সহজ কোরআন শিক্ষায় ২২০ শিক্ষক পদে আবেদন পড়েছে ২ হাজারের ওপরে। এতে প্রমাণ হয়, ব্যাপক প্রচার হয়েছে। অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীরা জানান, নির্ধারিত বক্সে জমা দেয়া আবেদন কীভাবে রাস্তায় পাওয়া গেল তা তদন্ত করতে হবে।

লাভ জিহাদের অভিযোগে পুড়িয়ে মারা হল যুবককে

লাভ জিহাদের নামে এক যুবককে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অমানবিক এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে দুর্বৃত্তরা নিজেই। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজস্থানের রাসমন্ড শহরে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দগ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ বলছেন নিহতের নাম মোহাম্মদ ভট্ট শেখ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সৌম্যনাথ নামে এক ব্যক্তি মোহাম্মদ ভট্ট শেখ নামে ওই ব্যক্তিকে পেছন থেকে প্রথমে আঘাত করে আহত করে। এর পর তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, ভিডিওটিতে সৌম্যনাথ হুমকি দেয় যারা ‘লাভ জিহাদ’ করছে, তাদের সবারই এমন পরিণতি হবে। ভারতের ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ছেলেমেয়ের মধ্যে প্রেম ও বিয়েকে কট্টরপন্থি হিন্দুরা ‘লাভ জিহাদ’ নামে অভিহিত করেছে৷ শুরুতে এর নাম দেয়া হয় ‘রোমিও জিহাদ’৷ কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের মতে, এটি ধর্মান্তর ছাড়া আর কিছুই নয়৷ এমন অভিযোগে হিন্দু-মুসলিম দম্পতির বাড়িতে গিয়ে চড়াও হচ্ছে বিজেপি ও সমমনা কট্টরপন্থি দলগুলো।

মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবা নেওয়ায় নারীরা পিছিয়ে

মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবা (এমএফএস) নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশ পিছিয়ে আছেন। দেশে ৫৩ শতাংশ পুরুষ যেখানে এমএফএসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেন, সেখানে মাত্র ২৭ শতাংশ নারী এই সেবা নেন। আবার এসব নারীর মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশের এমএফএস নিবন্ধিত হিসাব আছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ১৯ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এক যৌথ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি পরিচালনায় সহযোগিতা করেছে ‘বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আমব্রেলা ফ্যাসিলিটি ফর ইকুয়ালিটি’ কর্মসূচি। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বুধবার ‘ক্লোজিং দ্য জেন্ডার গ্যাপ ইন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালের অক্টোবরে ৬ শতাংশ পুরুষের নিবন্ধিত এমএফএস হিসাব ছিল। সেটি বেড়ে পরের বছরের আগস্টে ৮ শতাংশ ও ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১৩ শতাংশে উন্নীত হয়। অন্যদিকে ২০১৩ সালের অক্টোবরে ১ শতাংশ নারীর নিবন্ধিত এমএফএস হিসাব ছিল, যা পরের বছরের আগস্টে ২ শতাংশে উন্নীত হয়। তার পরের এক বছরে তা দ্বিগুণ হয়। বর্তমানে ৬ শতাংশ নারীর নিবন্ধিত এমএফএস হিসাব আছে। সেবাটি সম্পর্কে নারীদের জ্ঞানের অভাব আছে। ১০ জনের মধ্যে ৯ জন নারী জানেন না কীভাবে এমএফএস হিসাবের পিন পরিবর্তন করা যায়। আবার ১০ জনের ৮ জনই সেবাটির খরচ ও ফি সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে এমএফএস ব্যবহারের প্রবণতা কম হওয়ার কারণগুলো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে সেবাটির প্রয়োজন না থাকা, সচেতনতার অভাব, এই সেবা ব্যবহারের পদ্ধতি না জানা, উচ্চ ফি, সেবার ওপর আস্থা না থাকা অন্যতম। এ ছাড়া পল্লি এলাকায় এজেন্ট দূর-দূরান্তে থাকার কারণে মোবাইলে আর্থিক সেবা নিতে নারীরা সমস্যায় পড়েন। তবে নারীদের এমএফএস ব্যবহারের হার যেভাবে বাড়ছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সাল নাগাদ দেশের ৩৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী সেবাটি নেবেন। শহর ও গ্রামের ৪ হাজার নারীর ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার নারী এমএফএস নিয়ে থাকেন। বাকিরা সেবাটি নেন না।
এ ছাড়া ৩০ জন নারী এমএফএস এজেন্টের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। ২১টি দলগত আলোচনাও করা হয়, যাতে ১৫৫ জন নারী ও পুরুষ অংশ নেন। জরিপে অংশ নেওয়া যেসব নারী এমএফএস ব্যবহার করেন, তাঁরা জানিয়েছেন কী কী কাজে সেবাটি নেন। ৯৫ শতাংশ নারী টাকা গ্রহণে সেবাটি নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া ৮১ শতাংশ নারী টাকা পাঠাতে, ১৩ শতাংশ নারী মোবাইল রিচার্জ, ৯ শতাংশ নারী সঞ্চয়, ৩ শতাংশ নারী গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, ২ শতাংশ নারী ক্ষুদ্র ঋণের লেনদেন এমএফএসের মাধ্যমে করে থাকেন বলে জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, ঢাকায় নিযুক্ত রয়েল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত সিসেল ব্লেকেন। প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অর্থনৈতিক খাতে ডিজিটাল বিবর্তনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ড ওয়ার্নার বলেন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ফলে সম্পদে নারীর অধিগমন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে।

কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশ কমেছে

বাংলাদেশে শিল্প ও সেবা খাতের চাকরিতে নারীর অংশ গত তিন বছরে কমেছে। ২০১৩ সালে সার্বিকভাবে দেশের ১০০টি কর্মসংস্থানের মধ্যে ৩৩টি ছিল নারীর দখলে, ২০১৬ সালে তা কমে ২৮টিতে দাঁড়িয়েছে। নারীর কর্মসংস্থান নিয়ে ‘শ্রমবাজার পরিস্থিতি ২০০৬ থেকে ২০১৬’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ গবেষণাটি করেছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ইকবাল হোসেন। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে গতকাল বুধবার শুরু হওয়া ‘বিআইডিএস রিসার্চ অ্যালমানাক’ শীর্ষক সম্মেলনে এ গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। এতে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান এবং উপজাতি জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে আরও দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষক মিনহাজ মাহমুদ ও কাজী আলী তৌফিক। নারীর কর্মসংস্থানবিষয়ক গবেষণায় বলা হয়, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিভিন্ন খাতে নারীর কর্মসংস্থান কমেছে। যেমন ২০১৩ সালে শিল্প খাতে নারীর কর্মসংস্থান ছিল ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা কমে ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। সেবা খাতে ২০১৩ সালে নারীর অংশ ছিল ২৩ শতাংশ, তিন বছর পর তা কমে ২১ শতাংশ হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশ কমে যাওয়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ঠিকা কাজ করা অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নারীর কাজের সুযোগ কমে গেছে। আবার মানুষের আয় বাড়ায় অনেক নারী এখন ঘরের বাইরে কাজ করতে চান না। তবে আশার খবর হচ্ছে, আগামী কয়েক বছরে তৈরি পোশাক, চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, খেলনার মতো কয়েকটি খাতে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ আছে। তবে এ জন্য বিশেষ দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানবিষয়ক গবেষণায় বলা হয়, এ জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই যেকোনো একটি কাজে নিয়োজিত থাকার পরও অর্ধেকের বেশি দরিদ্র। এর কারণ হলো আদিবাসীরা অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতার ও কম উৎপাদনশীল কাজ বেশি করে। তাদের দক্ষতা বাড়লে দারিদ্র্য কমিয়ে আনা সম্ভব। সম্মেলনের প্রথম দিনের শেষ কর্ম অধিবেশনের বিষয়বস্তু ছিল আর্থিক বাজার ও অন্তর্ভুক্তি। এই অধিবেশনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও মুনাফা নিয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের দারিদ্র্য কমাতে ব্যাংক ও মোবাইল ফোনের ভূমিকা নিয়ে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বিএটিবিসির

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের (বিএটিবিসি) অস্বাভাবিক শেয়ার দর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক দর বাড়ার পেছনে কারণ জানতে চাইলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এমনটাই জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই)। ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বাড়ার পেছনে কারণ জানতে চেয়ে গতকাল বুধবার নোটিশ পাঠায় ডিএসই। এর জবাবে কোম্পানিটি জানায়, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ার দর বাড়ছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১২ নভেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর টানা বেড়ে চলেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারটির দর ৩ হাজার ১০১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে সর্বশেষ ৩ হাজার ৫০৯ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। আর শেয়ারটির এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সূচকের পতনে লেনদেন হচ্ছে ডিএসইতে। ডিএসইএক্স সূচক দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ কমেছে ১৪ পয়েন্ট। লেনদেনের গতিও বেশ কম। এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে ২১৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ১১৭টির ও অপরিবর্তিত আছে ৫৪টির দর। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে আছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বিডি থাই, ফাসফিন্যান্স, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, সিএমসি কামাল, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, শমরিতা, বারাকা পাওয়ার, এএমসিএল ও ফুয়াং ফুড। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সূচক কমেছে ৩৩ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি টাকা।

এবার ট্রাম্পের জবাবের পালা

যৌন হয়রানির অভিযোগে ইতিমধ্যে একজন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন, আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর নাকে খত দিয়ে বলেছেন, এমন ভুল আর হবে না। টেলিভিশনের অত্যন্ত শক্তিশালী তিনজন ‘তারকা’ একই অভিযোগে চাকরি খুইয়েছেন। হলিউডের ‘মোগল’ বলে পরিচিত একজন প্রযোজক যৌন হয়রানির অভিযোগে নিজের কোম্পানি থেকে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। একমাত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েননি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রায় এক ডজন নারী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। ট্রাম্প সব অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তথাকথিত ‘এক্সেস হলিউড’ ভিডিও টেপে নিজের মুখে যৌন আগ্রাসনের কথা স্বীকার করেও সহজেই নির্বাচনী বৈতরণি পেরিয়ে গেছেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের পর এসব নারীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন। ট্রাম্প তেমন কোনো ব্যবস্থা না নিলেও এখন নিউইয়র্কের একটি আদালতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক নারীর অভিযোগ নিয়ে মামলা শুরু হয়েছে। বিচারক এই মামলা চলতে দিতে সম্মত হলে ট্রাম্পকেও অভিযোগের জবাব দিতে হতে পারে। সামার জেরভেস নামের এক নারী অভিযোগ করেছেন, ২০০৭ সালে ট্রাম্পের টিভি শো ‘দি এপ্রেনটিসে’ অংশগ্রহণের সময় এই অনুষ্ঠানের পরিচালক ও মুখ্য তারকা ট্রাম্প তাঁর অনুমতি ছাড়া চুমু খান এবং অশালীন ব্যবহার করেন। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে এই নিয়ে শুনানির সময় ট্রাম্পের আইনজীবী যুক্তি দেখান, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া এই মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়ার মতো সময় তাঁর এই মুহূর্তে নেই। তাঁর অন্য যুক্তি ছিল, প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে কোনো মামলা গ্রহণের এখতিয়ার অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কোনো আদালতের নেই। ট্রাম্প ইতিমধ্যে এই অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন, পুরো ব্যাপারটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেরভেসের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দেখান, কেউই এমনকি প্রেসিডেন্টও আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রেসিডেন্টের যদি সময় না হয় তাহলে তাঁরা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের অবসর নিবাসে গিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে প্রস্তুত। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক এই মামলা গৃহীত হবে কি না এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দেশ জারি করেননি। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে তিনি অস্বীকার করলে শুধু জেরভেস নন, বাকি যে আট বা নয়জন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন, তাঁদের পক্ষেও মামলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে বিচারক যদি এই মামলা গ্রহণ করেন, তাহলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ উত্থাপিত হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, সরাসরি সওয়াল-জবাবের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। অন্যান্য নারীও একই অভিযোগ নিয়ে মামলা করতে পারেন। মামলার শুনানিতে ট্রাম্প পুনরায় যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করতে পারেন, কিন্তু ‘শপথ’ নিয়ে বক্তব্য পেশের সময় মিথ্যা বললে তা আইনত দণ্ডনীয়, সেই বিপদও তাঁকে মাথায় রাখতে হবে। ১৯৯১ সালে একই রকম অভিযোগে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ কর্তৃক অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টি নিয়ন্ত্রিত সিনেট তাঁকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল।

৩ বছরের মধ্যে সমাধানে জোর দিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ

তিন বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যার সামগ্রিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিন বছর, অর্থাৎ ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর মানবাধিকার কমিশনারকে ওই পরিষদের সামনে রোহিঙ্গাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মৌখিক প্রতিবেদন দিতে হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। গত মঙ্গলবার রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার পরিষদে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। চীন ভোটাভুটির আহ্বান জানালে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়নি। ভোটাভুটিতে ৩৩ জন সদস্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন এবং ৩ জন ‘না’ ভোট দেন। পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক, নির্দিষ্টভাবে ও ইচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের বেসামরিক জনগণের একটি অংশ সহায়তা দিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে আছে শিশুসহ অন্যদের আইনবহির্ভূতভাবে হত্যা, ধর্ষণসহ যৌন নিপীড়ন, নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও ভূমিমাইন স্থাপন, গুম, নির্যাতন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ইত্যাদি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি নির্দিষ্ট সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান থাকে না। মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণের ফলে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগামী তিন বছর হারিয়ে যাবে না। এই প্রস্তাবে পরিষদের সদস্যরা মানবাধিকার কমিশনারকে রোহিঙ্গা বিষয়ে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, ওই প্রতিবেদনে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন এবং জাতিসংঘের অন্য সংস্থাগুলোকে মিয়ানমার সহযোগিতা করছে কি না, এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ আরও অনেক বিষয় থাকবে। মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ চলতি বছরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রস্তাব গ্রহণের কারণে মিয়ানমারকে আগামী তিন বছর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব
প্রস্তাবে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে তাদের যেন পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়া হয়, যাতে তারা অন্য নাগরিকদের সমান সুবিধা ভোগ করতে পারে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত থাকে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারা যেন মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যাচাই প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে তাদের আদি বাসস্থানে পুনর্বাসিত করতে হবে।
বিচারপ্রক্রিয়া
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাখাইনে ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থানে বেসরকারি সম্পত্তি ইত্যাদি ধ্বংস করা হয়েছে। গণধর্ষণের মতো যৌন নির্যাতনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মিয়ানমার সরকারকে যেকোনো সম্পত্তি ধ্বংস বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, যারা নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত সম্পন্ন করে সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

একটি অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি

তিন মাসের মধ্যে চট্টগ্রামে আলোচিত দুটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া সাড়ে চার বছর আগে নগরের সিআরবি (রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর) এলাকায় রেলওয়ের কোটি টাকার দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের হদিস এখনো পায়নি পুলিশ। প্রথম দুটি খুনের কারণ কী তাও বের করা যায়নি। খুনের ঘটনায় ব্যবহার করা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হত্যা মামলায় অপরাধ প্রমাণের জন্য আলামত উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ। যে অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা বা আতঙ্ক ছড়ানো হয় তা উদ্ধার করতে না পারলে প্রকৃত আসামিরা পার পেয়ে যেতে পারে। আবার তদন্তে ঘটনার নেপথ্যের ব্যক্তিরা শনাক্ত না হলে অপরাধ বেড়ে যায়। সিআরবির জোড়া খুনের চার বছর পরও অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা বড় ব্যর্থতা। ২০১৩ সালের ২৪ জুন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী ওরফে বাবর এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সহসম্পাদক সাইফুল আলম ওরফে লিমনের অনুসারী নেতা-কর্মীদের মধ্যে নগরের সিআরবি এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন যুবলীগের কর্মী সাজু পালিত এবং শিশু মো. আরমান। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর খোঁজ এখন পর্যন্ত পাননি তাঁরা। এই মামলার তদন্ত চার বছরেও শেষ হয়নি। আসামিদের প্রায় সবাই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা-কর্মী হওয়ায় নিহত দুজনের স্বজনেরাও বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৬২ আসামির সবাই জামিনে বেরিয়ে গেছেন। নিহত সাজু পালিতের মা মিনতি পালিত বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। গত ৬ অক্টোবর নগরের নালাপাড়ায় চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। চলে যাওয়ার সময় হত্যাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে ৩০ জন অংশ নেন। তাঁরা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা করে নগরের লালখান বাজার এলাকা থেকে নালাপাড়ায় যান। তাঁদের কয়েকজনের কোমরে গোঁজা ছিল অস্ত্র। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে দুজন আদালতে জবানবন্দিতে তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে সেদিন অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, যাঁদের সঙ্গে অস্ত্র ছিল তাঁদের শনাক্ত করতে পেরেছেন তাঁরা।
অস্ত্র উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে। নিহত সুদীপ্তের বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস বলেন, এতগুলো লোক তাঁর ছেলেকে হত্যার পর গুলি ছুড়ে পালিয়ে গেল। আর পুলিশ কিছুই করতে পারছে না। সবশেষ গত রোববার কদমতলী এলাকায় পরিবহন ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদকে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধানও পায়নি পুলিশ। হারুন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর চাচা চট্টগ্রাম নগর বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক দস্তগীর চৌধুরী। মামলার বাদী নিহত ব্যক্তির বড় ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ঘটনায় জড়িত কাউকে ধরতে পারেনি। উদ্ধার করতে পারেনি অস্ত্রও। সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের শনাক্ত করা গেছে কিনা প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখনো বলার সময় হয়নি। এ ছাড়া গত ১২ জুলাই চট্টগ্রাম কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে প্রকাশে৵ অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করেন এক যুবক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেই ছবি ছাপা হয়। কিন্তু পাঁচ মাস পার হলেও সেই যুবককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হয়নি অস্ত্রটি। অস্ত্র উদ্ধারের পুলিশের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অপরাধীরা ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকার কারণে পুলিশ অনেক সময় নীরব থাকে। যে কারণে হত্যায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে অপরাধ বাড়বে। মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করবে।

বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ

নীলফামারীতে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মাল্টা চাষ। ডোমার উপজেলার ভোগডাবুরী ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামে ওই মাল্টার চাষ করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা এস এম আবদুল্লাহ। ওই গ্রামে প্রায় ৫০ বিঘা জমি নিয়ে ১৮ বছর আগে ‘পঞ্চনীল নার্সারি’ নামের নানা জাতের ফুল ও ফলের একটি বাগান করেন এস এম আবদুল্লাহ। আট বছর আগে এখানে তিনি মাল্টার চাষ শুরু করেন। বর্তমানে এখানে মাল্টা ছাড়া আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কমলা, চালতা, আমড়া, হরীতকী, বয়রা সবই আছে। আছে নানা জাতের ফুলের নার্সারিও। এখন ওই বাগান দেখতে দূর-দূরান্তের অনেকে আসছেন ও মুগ্ধ হচ্ছেন পরিবেশবান্ধব এ বাগান দেখে। সম্প্রতি ওই বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে মাল্টা, পেঁপে, চালতাসহ নানা জাতের ফল। এ সময় ওই মাল্টা বাজারজাত করতে গাছ থেকে সংগ্রহ করছিলেন বাগানে কর্মরত দুই ব্যক্তি। এ সময় তাঁদের সঙ্গে চলে নানা বিষয় নিয়ে কথা। তবে বাগানের ব্যবস্থাপক (নার্সারি) ওমর ফারুক বলেন, ‘পরিমাণে কম হলেও কিছুদিন ধরে আমরা মাল্টা বিক্রি করছি। এখন বাগানে ৫০টি গাছে মাল্টা ধরছে। তবে নতুন করে বাগানে আরও ৭০০ চারা রোপণ করা হয়েছে। এখানে বারি ১, পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান, মরক্কো ও ইরানি জাতের মাল্টা গাছ রয়েছে।’ বাগানের ভেতর সারি করে পলিথিনের ছোট ছোট ব্যাগে চারা গজিয়েছে। জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, ‘এগুলো জাম্বুরার চারা। ওই চারা তিন ফুট হলে সেটিতে মাল্টার কলম করা হবে। প্রায় দুই বছর ধরে এ পদ্ধতিতে গ্রাফটিং করে প্রায় ছয় হাজার চারা বিক্রি করা হয়েছে। এই চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যে গাছে মাল্টা ধরা শুরু করে। এখান থেকে চারা সংগ্রহ করে এ অঞ্চলের অনেকে বাড়ি বাড়ি মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের টোকরা ভাষা গ্রামের মাহফুজ রেজা এ বছর ১০০ চারা নিয়ে বাগান করেছেন। ওই বাগানে সপরিবার ঘুরতে আসেন ব্র্যাকের নীলফামারী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘লোকমুখে শুনে এখানে এসেছি। দেখে খুবই ভালো লাগছে।’ বাগানের সার্বিক দায়িত্বে থাকা রনজু মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাগানে মানবদেহে ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশক বা সার ব্যবহার করি না। জৈবসার ও আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে পোকামাকড় দমন করি। শুকনা মরিচের গুঁড়া ও হুইল পাউডার মিশ্রণে কীটনাশক তৈরি করা হয়। এ বছর ১০০ টাকা কেজি দরে এখন পর্যন্ত ১০ মণ মাল্টা বিক্রি করেছি।’
এস এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘প্রায় ১৮ বছর আগে এখানে আমি নার্সারি ও বাগান করি। প্রায় আট বছর আগে আমি এখানে মাল্টার চারা রোপণ করি। মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষে উপযোগী হওয়ায় প্রায় পাঁচ বছর থেকে মাল্টা ফল দিচ্ছে। এখন ৫০টি গাছের মাল্টা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। রোপণের দুই বছরের মধ্যে গাছে মাল্টা ধরে। মাল্টার ফলন ভালো ও লাভজনক। তাই মাল্টার চারার চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া আমার বাগানের মাল্টার চাহিদা থাকায় দূর-দূরান্তের ফল বিক্রেতারা এসে বাগান থেকে মাল্টা সংগ্রহ করছেন। মাল্টা মৌসুমে একবার আসে কিন্তু চারা বিক্রি হয় সারা বছর।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহসীন রেজা বলেন, নীলফামারীর মাটি বেলে দোআঁশ ও আবহাওয়া শীতপ্রধান হওয়ায় মাল্টা চাষের জন্য এটি সম্ভাবনাময় জেলা। আগে মানুষ মনে করতেন, মাল্টা বিদেশি ফল। কিন্তু এখন মানুষের ধারণা পাল্টেয়েছে, তাই মাল্টা চাষে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আবদুল্লাহর বাগানটি মিশ্র ফলবাগান। ওই বাগান দেখে অনেকে ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. আবুল কাশেম আযাদ বলেন, এ বছর রাজস্ব খাতের প্রদর্শনী থেকে জেলায় ১০০ জন কৃষককে ১০০টি বাগান করতে বারি ১ জাতের ৬০টি করে মাল্টার চারা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকে ২০ শতাংশ করে জমিতে মাল্টার চাষ করছেন। সিলেট থেকে এ চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে তাঁরা বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা সংগ্রহ করতে শুরু করবেন।

‘ভেজাল সুলতান’

যেখানেই জমির মালিকানা নিয়ে ভেজাল, সেখানেই হাজির সুলতান আহমেদ মৃধা। প্রতিবেশীর বসতবাড়ি, অন্যের কেনা জমি, কৃষকের ধানি জমি, সরকারের খাসজমি—কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে ঢুকে পড়েন সুলতান। আবার ভুয়া দলিল তৈরি করেও হাজির হন তিনি। এই সুলতান পটুয়াখালীর নারী সাংসদ লুৎফুন নেছার স্বামী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ২০১৪ সালে লুৎফুন নেছা পটুয়াখালীর সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ হন। ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, কার্যত এরপর থেকেই এলাকায় সুলতান মৃধার জবরদখল বাড়তে থাকে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী-পুত্রসহ সুলতান মৃধার নামে-বেনামে প্রায় ২০০ একর সম্পত্তি আছে। এর কিছু একাধিক ব্যক্তি নিয়ে কেনা, কিছু বায়না করা, কিছু সরাসরি জবরদখল করা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতান আহমেদ মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ভেজালের কোনো রেকর্ড নেই। বরং আমরা কিনলে অন্যরা ভেজাল করার চেষ্টা করে। পারিবারিকভাবে আমরা ব্যবসায়ী। ১৯৮০ সাল থেকে আমাদের হাজী অ্যান্ড সন্স ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর স্থানীয় এজেন্ট। পটুয়াখালীতে আমরা দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে বসবাস করছি।’ সরকারের একটি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আপনি আনুমানিক ২০০ একর জমির মালিক হয়েছেন।’ এ তথ্য শুনেই সুলতান মৃধা বললেন, ‘তারা মাইপ্পা বুঝায়া দিক। আমার ব্যক্তিগত জমি ২০ একরও হবে না।’ যদিও সংসদ নির্বাচনের সময় স্ত্রী লুৎফুন নেছা হলফনামায় তথ্য দিয়েছিলেন যে স্বামী সুলতান আহমেদ মৃধার নামে কৃষিজমি আছে ৭ একর ৫০ শতাংশ এবং অকৃষিজমি আছে ৭ শতাংশ। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে অন্তত ১০টি জায়গার ঠিকানা মিলেছে, নামে-বেনামে যেগুলোর মালিক সুলতান মৃধা। পটুয়াখালী শহর থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত এলাকায় এই জায়গাগুলোর অবস্থান। যেখানে সুলতান, তাঁর সাংসদ স্ত্রী, ছেলে ও ব্যবসায়িক বন্ধুবান্ধবের নামে সাইনবোর্ড ঝোলানো আছে। সুলতান পটুয়াখালী পৌরসভা ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। একসময় বিএনপির রাজনীতিও করেছেন। এলাকায় তিনি খুবই প্রতাপশালী। তবে সুলতান মৃধা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন। দলীয় একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শাহজাহান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘তার (সুলতান মৃধা) জমি দখল কয়টার কথা বলমু। সে যুধিষ্ঠির সাহার জায়গা দখল করে বিল্ডিং করেছে। কারও বাড়ি দখল, কারও জমি দখল করছে। হিন্দু-মুসলমান বলে কথা নেই। কিন্তু কেউ যে কিছু বলবে, সেই সাহস নেই। কারণ তাদের পেছনে বাহিনী আছে। পুরান বাজারের মানুষ তো জিম্মি।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে সুলতান মৃধা লোকজন দিয়ে ভেজাল জমি খোঁজেন। এরপর পরিকল্পনামাফিক তাতে নিজেকে জড়ান। তারপর কখনো ‘ক্রয়সূত্রে’ আবার কখনো ‘বায়নাসূত্রে’ মালিকানা দাবি করে দলবল নিয়ে সাইনবোর্ড টাঙান।
দখলে আমমোক্তারনামা ব্যবহার
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে স্ত্রী লুৎফুন নেছা সাংসদ হওয়ার মাসকয়েকের মাথায় সুলতান মৃধা দখল করেন পটুয়াখালী  শহরের কলেজ রোডের ভেটেরিনারি হাসপাতাল-সংলগ্ন সাজ্জাদুর রহমান খান ও হাফিজ আল আসাদের (দুই ভাই) ১৪ শতাংশ জমি। পরের বছরের ডিসেম্বরে তাঁদের বাবা সামসুর রহমান খানের ‘নকশী’ বাড়িতে সাইনবোর্ড টাঙান তিনি। সেখানে জমির পরিমাণ ১০ শতাংশ। দলিলপত্রে দেখা যায়, সাজ্জাদুর ও হাফিজ ২০১২ সালে ৬০ লাখ টাকা মূল্যে সাব-কবলায় এই জমি কেনেন। আর ‘নকশী’ বাড়িটি কেনাবেচা হয় ২০১১ সালে। নগদ ৩৮ লাখ টাকায় এই বাড়ি বায়না রেজিস্ট্রি হয় সামসুর রহমানের নামে। নকশীর বিক্রেতা শহরের বাসিন্দা জামাল আফরোজ আর পাশের ১৪ শতাংশ জমির বিক্রেতা ইকবাল আফরোজ ও জামাল আফরোজ। তাঁরা দুই ভাই। ২০১২ সালে কেনা সাজ্জাদদের জমিটি সুলতান মৃধা দখল করেন ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর। সাইনবোর্ড ঝোলান তাঁর স্ত্রী সাংসদ লুৎফুন নেছার নামে। কাগজপত্রে দেখা যায়, এই দখলদারির জন্য ইকবাল ও জামালের আরেক ভাই কামাল আফরোজের কাছ থেকে সুলতান মৃধা একটি আমমোক্তারনামা নেন। বায়না রেজিস্ট্রির চার বছর পর করা এই আমমোক্তারনামা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। আবার ওই মোক্তারনামার অন্যতম সাক্ষী তাঁর স্ত্রী লুৎফুন নেছা। বায়না রেজিস্ট্রি দলিল ও এ-সম্পর্কিত নথিপত্রে দেখা যায়, ‘নকশী’ নামের একটি পুরোনো দালানঘরসহ ১০ শতাংশ জমির দর ঠিক হয় ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বায়না রেজিস্ট্রির দিন ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেন সামসুর রহমান। বাকি থাকে ৮ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে সামসুর রহমান খবর পান, এই জমির অনুকূলে মালিক জামাল আফরোজ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (এইচবিএফসি) থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যা সুদে-আসলে ৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হয়েছে। ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করায় এইচবিএফসি জমির মূল দলিলের জন্য জামালকে নোটিশ দেয়। জমি রক্ষায় ক্রেতা সামসুর রহমান এইচবিএফসির চাহিদামতো ৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও সামসুর রহমানকে জমির মূল দলিল বুঝিয়ে দেননি জামাল আফরোজ। এই পর্যায়ে আইনজীবীর পরামর্শে সামসুর রহমান আরও ৮ লাখ টাকা আদালতে জামাল আফরোজের অনুকূলে জমা দেন। এই নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। দুই পক্ষের মামলা-মোকদ্দমার ভেতরে ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সুলতান মৃধা দলবল নিয়ে ‘নকশী’ ভবনসহ জমির দখল নিতে প্রথমে ‘ক্রয়সূত্রে মালিক’ ও পরে ‘বায়নাসূত্রে মালিক’ দাবি করে সাইনবোর্ড টাঙান। এ নিয়ে মামলা হলে সুলতান আদালতে একটি আমমোক্তারনামা দেন। তাতে দেখা যায়, বায়না রেজিস্ট্রির চার বছর পর ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জামাল আফরোজ এই জমির আমমোক্তারনামা দেন সুলতান মৃধাকে। পরে এই জমি গত বছরের ১৯ অক্টোবর স্ত্রী লুৎফুন নেছার নামে দলিল করে দেন সুলতান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতান মৃধা বলেন, ‘ওরা তো বিএনপি করে। তাই আমার বিরুদ্ধে জমি দখলের এই অপপ্রচার। জমি নিয়ে মামলা চলছে। আমি নিশ্চিত ওরা ঠকবো। এরপরও আমাদের আইনজীবী সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু ওরা রাজি না। এখন ওরা যদি কোর্টে পায়, আমার কোনো আপত্তি নেই।’ সামসুর রহমান খানের স্ত্রী সালেহা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী তাঁর উপার্জনের সবটুকু দিয়ে জায়গাটি কিনেছেন। আমার দুই ছেলে দেশের সেবা ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত। কোনো দিন ভাবিনি এমন অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হব।’
যুধিষ্ঠির সাহার জমিতে ভবন নির্মাণ
পটুয়াখালী শহরের লোহালিয়া নদীর পাড়ঘেঁষা পুরান বাজার এলাকায় ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে সরকারের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা যুধিষ্ঠির চন্দ্র সাহার মামলা চলছে। ২০১৫ সালে হঠাৎ যুধিষ্ঠিরের বসতঘরের সামনের ওই জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর দেন সুলতান মৃধা। অথচ সরকারের সঙ্গে লড়ে হাইকোর্টের রায়ে যুধিষ্ঠির সাহা জায়গার মালিকানা পান। সরেজমিনে দেখা যায়, ওই জায়গায় সুলতানের ডুপ্লেক্স বাড়ির নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যুধিষ্ঠির সাহা জে এল মৌজার ৬৯ শতাংশ জমির পৈতৃকসূত্রে মালিক। যুধিষ্ঠিরের বাড়ির সরু গলির ওপাশে সুলতান মৃধার বাড়ি। কথা বলে জানা গেছে, একসময় ভাঙনে যুধিষ্ঠির সাহার জমির বেশ কিছু নদীতে চলে যায়। পরে চর জাগলে যুধিষ্ঠির তা দখলে নেন। সরকারের ভূমি অফিস ওই জমি খাস বলে দাবি করে মামলা করে। ২০০১ সালে পটুয়াখালীর জেলা জজকোর্টের রায়ে যুধিষ্ঠির হেরে যান। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান তিনি। ২০১৪ সালে হাইকোর্ট যুধিষ্ঠির সাহার পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে জমির ওপর স্থিতাবস্থার আবেদন করে সরকারপক্ষ, যা শুনানির অপেক্ষায় আছে। যুধিষ্ঠির বনাম সরকারের মধ্যকার মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সুলতান মৃধা কী করে এলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুধিষ্ঠির সাহার পরিবারের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, রাস্তায় ছিনতাই, ডাকাতি হয় কীভাবে? এই জমি দখলেও ঠিক তাই হয়েছে, বুকে পিস্তল ধরা হয়েছে। সুলতান মৃধা এই অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওইটা আমার জমির মুখসা (সামনে)। আমাদের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। এই জমি নিয়ে আমার বিরুদ্ধে তো তাদের কোনো কমপ্লেইন নাই।’ এই দখলি জমির পাশে লোহালিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে আরেকটি দোতলা ভবন করেছেন সুলতান মৃধা। এটিও করেছেন সরকারি ২০ শতাংশ জমি দখল করে। শহরের পালবাড়ির দরজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গা দখলেরও অভিযোগ আছে সুলতানের বিরুদ্ধে।
ইটভাটায় জমি দখল
‘এমএল কোং ব্রিকস’ নামে শহরের টাউন জৈনকাঠি এলাকায় ইটভাটা করেছেন সুলতান মৃধা। স্ত্রী লুৎফুন নেছার নামে এই ইটখোলা শুরুর সময় জমি ছিল ৩০০ শতাংশ, এখন তা বেড়ে ৫৫০ শতাংশ হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ইটখোলার আকার বাড়াতে দখল হয়ে গেছে জৈনকাঠির সৈয়দ মহসীন, সৈয়দ মকসুদ, সৈয়দ হানিফ, দুলাল হাওলাদার, আলী আকবর, সুলতান খন্দকার, রহমান গাজী, জয়নাল আবেদীন মাস্টার, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন মাস্টার, শাহিদা বেগমসহ অনেকের জমি। ইটভাটায় চাপা পড়েছে কারও ২০ শতাংশ, কারও ৬০ শতাংশ। কারও ১২ কাঠা, কারও ১৭ কাঠা জমি। কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খুলতে চান না। জানতে চাইলে সুলতান মৃধা বলেন, ‘এসব কথা কোত্থেকে আসে? মানুষ আমাকে ভয় করে না, ভালোবাসে। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম, পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। কখনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীদের একজন প্রথম আলোকে বলেন, ইটভাটায় তাঁর ১২ কাঠা জমি আছে। এর পরিবর্তে সুলতান মৃধা তাঁকে আরেক জায়গায় ৭ কাঠা জমি দিয়েছেন। আরেক ভুক্তভোগী পাভেল বলেন, ইটভাটার জন্য তাঁর ছোট মা শাহিদা বেগমের কাছ থেকে ১৭ কাঠা জমি নেন সুলতান। এর দাম ধরেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে জমি দখলে নেন। বাকি টাকার খবর নেই। সুলতান মৃধা বলেন, ‘কেউ তো কোনো দিন কমপ্লেইন করেনি। কমপ্লেইন থাকলে এত দিনে দুই-তিনটা মামলা হতো না? আপনি এলাকায় যাইয়া যদি প্রমাণ পান, তাহলে লেইখ্যা দেন।’ একবার পৌর এলাকা থেকে ইটভাটা সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় ইটভাটা সরাতে লোহালিয়ার শৌলা গ্রামের শামসুল হক, আবদুল খালেক ও শাহজাহানের কাছ থেকে দেড় একর করে সাড়ে চার একর জমি নেন সুলতান মৃধা। দাম ধরেন ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে শাহজাহানকে ৩ লাখ টাকা, আবদুল খালেককে ২ লাখ এবং শামসুল হককে ১ লাখ টাকা দিয়ে জমি দখলে নেন। বকেয়া টাকা আর দিচ্ছেন না। জানতে চাইলে সুলতান মৃধা বলেন, ‘শৌলার জমির দখল তারাই দিয়েছে। এসব জমির কাগজপত্র ঠিক নেই। আমি বলেছি, যদি কাগজপত্র ঠিক করে দিতে না পারো, আমার টাকা দিয়ে দেবা। আর তোমরা জমি নিতে চাইলে দিয়ে দেব।’
মাদ্রাসার ৫০ বছরের পুরোনো জমি দখল
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া মৌজায় ১৪ একর ২ শতাংশ জমির মালিক স্থানীয় জলিশা-জাটরা হাসানীয়া সিনিয়র দ্বিমুখী মাদ্রাসা। ১৯৬৩ সালে এই জমি মাদ্রাসার নামে কবলা করে দেয় কলাপাড়ার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক মুন্সী গং। ৪৭ বছর পর ২০০৯ সালে জমির দখল হারায় মাদ্রাসা। সেখানেও আছে সুলতান মৃধার নাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং দলিলপত্রে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের গত আমলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী আসনের সাংসদ মাহবুবুর রহমান ওই জমির মধ্য থেকে ৮ একর জমির দলিল (নম্বর ৪৭৮০) করেন। ২০০৯ সালের ১০ জুলাই এই দলিল সম্পাদিত হয়। বাকি ৬ একরের মধ্যে কলাপাড়া ভূমি অফিসের তৎকালীন নাজির রফিকুল ইসলাম ১ একর ৬২ শতাংশ এবং টিয়াখালীর গাজী আব্বাস উদ্দিন ও প্রতিমন্ত্রীর ভাগনি জামাই আবু সালেহ ৪ একর ৩৬ শতাংশ জমি নেন। দলিলে চিনথাউ নামের এক ব্যক্তিকে মালিক দেখানো হয়। পরে আব্বাস উদ্দিনের কাছ থেকে ২ একর ৭০ শতাংশ জমির দলিল করেন সুলতান মৃধা। কাগজপত্রে দেখা যায়, এই জমির কিছু অংশ নিজের ও মেয়ে সামিমা নাসরিনের নামে রেখে বাকি অংশ শামীম হাসনাইন নামের এক ব্যক্তি এবং কিছু অংশ বরিশালের বিএনপি-সমর্থিত মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে মো. কামরুল আহসানের নামে দলিল করেন। এই জমিতে তিনি প্রথমে নিজের নামে সাইনবোর্ড টাঙান। সম্প্রতি সাইনবোর্ড পাল্টিয়ে আবুল হোসেন রনির নাম দেওয়া হয়। জমি বেদখল হওয়ার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলী আজম নুরুদ্দীন ও শিক্ষক আবুল কালাম মুন্সী পটুয়াখালীর সহকারী জজ আদালতে আবু সালেহ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত ২০১৫ সালে মাদ্রাসার পক্ষে রায় দিয়ে জমির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। আবু সালেহরা জজকোর্টে আপিল করেন। আদালত ২০১৬ সালে তাঁদের আপিল খারিজ করে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। এরপরও বিবাদীরা জমি জবরদখল করে চাষাবাদ করছেন। জানতে চাইলে ইটবাড়িয়া মৌজায় ২ একর ৭০ শতাংশ জমির এক-চতুর্থাংশ নিজের নামে থাকার কথা স্বীকার করেন সুলতান মৃধা। তাঁর দাবি, এই জমি তিনি কাগজপত্র অনুসারে কিনেছেন। মিউটেশনের পরে এই জমির দলিল হয়েছে। বিএনপির নেতা আহসান হাবিব কামালের ছেলের নামে জমির দলিল করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করি বলে কি বিএনপিতে আমাদের বন্ধুবান্ধব-শুভাকাঙ্ক্ষী থাকতে পারে না?’
সওজের জায়গায় ফিলিং স্টেশন
পটুয়াখালীর রজপাড়ায় ছেলের নামে ‘পলাশ ফিলিং স্টেশন’ করছেন সুলতান মৃধা। এই ফিলিং স্টেশনের অধিকাংশ জমি সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বলে জানা গেছে। এর পাশেই আছে সুলতানের ৬২ শতাংশ জমি। এটি নিয়েছেন খুকুমণি নামে একজনের কাছ থেকে। জানতে চাইলে ফিলিং স্টেশনে সওজের কিছু জায়গায় থাকার কথা স্বীকার করেন সুলতান মৃধা। তবে তিনি দাবি করেন, সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের জায়গা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। এটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। পায়রা বন্দর এলাকায়ও সুলতান মৃধা জমি নিয়েছেন। বন্দরের সীমানা লাগোয়া একটি সাইনবোর্ডে সুলতান আহমেদ মৃধাসহ আটজনের নাম আছে। এটি টিয়াখালী মৌজায়। এই সাইনবোর্ডে জমির পরিমাণ ১০ একর বলে উল্লেখ আছে। কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উপজেলার ইটবাড়িয়া মৌজায় তাদের ৫১ একর ৬২ শতাংশ এবং টিয়াখালী মৌজায় ৩০ একর ৯ শতাংশ জমি আছে। পায়রা বন্দরের পাশে টিয়াখালী মৌজায় ঠিকাদার মহিউদ্দিন ও সুলতান মৃধাদের দখলে পাউবোর জমিও আছে। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের রজপাড়ায়ও সুলতান মৃধার জমি আছে। সেখানে একটি সাইনবোর্ডে সুলতানসহ তিনজনের নামে ৮ একর জমির তথ্য রয়েছে। এতে রজপাড়ার শাহজাহান মিয়ারও ১৫৬ শতাংশ জমি আছে। গত বছর তিনি এই জমি বিক্রি করেন। বর্তমানে এই জমির বাজারদর দেড় কোটি টাকার ওপরে। জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাহজাহান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ও তো (সুলতান মৃধা) একটা ডাকাত। আমাকে মাত্র ১৫ লাখ টাকা দিয়ে জমির দলিল নিয়ে গেছে। আমি তাঁকে জমির জমাখারিজ পর্যন্ত করে দিয়েছি। এখন আর তাঁকে পাই না।’ অবশ্য সুলতার মৃধার দাবি, শাহজাহান মিয়া আর ২ লাখ টাকা পাবেন। তাঁর জমি কম আছে। জমি বুঝিয়ে দিলে টাকা দিয়ে দেবেন।
কাঠপট্টিতে সরকারি জমি দখল
পটুয়াখালী শহরের পুরান বাজারের কাঠপট্টিতে সরকারি জমি দখল করে একটি টিনের ঘর করেছেন সুলতান মৃধা। এটি দেখভাল করেন আবুল বাশার নামে তাঁর কাছের এক ব্যক্তি। এই টিনের ঘরের পাশে পৌরসভার ড্রেন, তার পাশে জিন্নাত আলী গাজী জামে মসজিদ। গত বছর মসজিদের সীমানায় সুলতান মৃধার নামে সাইনবোর্ড টাঙানো হলে এলাকায় প্রতিক্রিয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসন সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করে। সুলতান মৃধা বলেন, ‘ওইটা আমার নলেজে নেই। সাইনবোর্ড কে দিয়েছে, তা-ও আমি জানি না।’ স্বামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ লুৎফুন নেছা প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনীতি করতে গেলে পেছনে শত্রু থাকে। আমার সাহেব ভালো মানুষ। নেত্রী আমাকে এমপি করেছেন, মানুষ খুশি হয়েছে। আমি তার মর্যাদা রাখছি।’ অবশ্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘যাঁর বিরুদ্ধে (সুলতান মৃধা) দুর্নীতির সাতটি মামলা আছে। সব মামলায় চার্জশিটও হয়েছে। যিনি বিএনপি করেছেন, তাঁর বউকে কেন, কী কারণে নেত্রী এমপি বানাইছেন আমি জানি না। তাঁকে কেউ জীবনে কোনো দিন রাস্তায় মিছিল-মিটিংয়ে দেখেছে?’

জেরুসালেম প্রশ্নে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শুক্রবার

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার জেরুসলেম প্রশ্নে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। বুধবার পরিষদের নেতা বৈঠকের এ ঘোষণা দেন। পর্যায়ক্রমে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা দেশ জাপান জানায়, আটটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আহবান করা এ আলোচনা শুক্রবার সকাল ১০টায় (গ্রিনিচ মান সময় ১৫০০টা) শুরু হবে। এ বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে আরো অনেক বিষয় রয়েছে। বলিভিয়া, ব্রিটেন, মিশর, ফ্রান্স, ইতালি, সেনেগাল, সুইডেন ও উরুগুয়ের অনুরোধে এ বৈঠক আহবান করা হয়। তারা বৈঠকের শুরুতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসকে বক্তব্য দেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর গুতেরেস বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই কেবলমাত্র জেরুসালেমের বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে পারে। এক্ষেত্রে তিনি একতরফা কোনো পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের ক্ষেত্রে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।’ বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত সাচে সার্জিও লরেন্টি সোলিজ ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী ও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বিরোধী। এ দূত আরো বলেন, ট্রাম্পের এ স্বীকৃতি ‘কেবলমাত্র শান্তি প্রক্রিয়ার জন্যই হুমকি নয়, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও চরম হুমকি।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সরকার এ ধরণের পদক্ষেপের বিষয়ে ভোটাভুটি থেকে বিরত থেকেছে।

যুক্তরাষ্ট্র নয় পাকিস্তানের নতুন মিত্র চীন-রাশিয়া

পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার সম্পর্ক পর্যালোচনা করা এবং চীন ও রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করার এখনই উপযুক্ত সময়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ মঙ্গলবার এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র যখন পাকিস্তানকে উপেক্ষা করে ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এই মন্তব্য করলেন খাজা আসিফ। তার এ মন্তব্যে প্রাচ্যের দেশ দু’টির সাথে পাকিস্তানের মিত্রতা গড়ে তোলার আভাস ফুটে উঠেছে। সাবেক মিত্র দুই দেশের মধ্যে গভীরতম অবিশ্বাসের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ইসলামাবাদে সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে বৈঠকের মাত্র এক দিন পর মঙ্গলবার আসিফ এ কথা বলেন। ইসলামাবাদে আয়োজিত একটি সেমিনারে আসিফ বলেন, ‘চীন আমাদের পাশে এবং আমাদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রাচীর রয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়াও আমাদের অনেক ভালো বন্ধু হতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ করছে যে, আফগান তালেবানকে সমর্থন করছে পাকিস্তান।
ওই দেশটিতে আগ্রাসন চালানোর পর দেড় দশক ধরে তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে মার্কিন ও তাদের সমর্থিত সরকারি বাহিনী। ওয়াশিংটন বলছে, পাকিস্তানের বৈরী দেশ ভারত আফগানিস্তান পাকিস্তানের চেয়ে ভালো ভূমিকা পালন করতে পারবে ভারত। তালেবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্কের যোদ্ধাদের সমর্থন দেয়ার কথা অস্বীকার করছে পাকিস্তান। উল্টো তারা অভিযোগ করছে, আফগানভিত্তিক সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের বেসামরিক নাগারিক এবং নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলা চালালেও কাবুল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বেইজিংয়ের ওয়ান বেল্ট প্রকল্পের অংশ হিসেবে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে বেইজিং ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এটি মূলত এক সড়ক প্রকল্প যা সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে পাকিস্তান হয়ে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। সম্প্রতি পাকিস্তান রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তি করেছে যার মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। ইসলামের নবী কাউকে আঘাত করেননি : মমতা
পার্স টুডে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ইসলামের নবী কখনো কাউকে আঘাত করেননি। তিনি এসেছিলেন মানুষের মুক্তির জন্য। গতকাল বুধবার কলকাতায় যুব তৃণমূলের আয়োজনে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম বার্ষিকীতে ‘সংহতি দিবস’ পালনের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মমতা বলেন, ‘বিশ্বনবী (সা:) দিবস পালিত হলো ক’দিন আগে। তিনি কী বলেছেন? তাঁকে যখন আহত করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, আমাকে আঘাত করেছে বলে আমি কাউকে আঘাত করব না। আমি অভিশাপ দিতে পৃথিবীতে আসিনি। আমি মানুষকে মুক্তি দিতে এসেছি। আমি মানুষকে রা করতে এসেছি। আমি মানুষকে রা করতে এসেছি। এটি আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। মমতা বলেন, ‘আমি সব ধর্মকে ভালোবাসী ও বিশ্বাস করি। যতণ জীবন থাকবে সব ধর্মের জন্য লড়াই করে যাব।’ ‘সব ধর্মের মানুষের জন্য লড়াই করাই আমার জীবনের সংগ্রাম, শুরু ও শেষ। এটিই আমার ভাষা এবং প্রত্যাশা।’ মমতা বলেন, ‘ভারতে বৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে ঐক্য। ‘নানা ভাষা, নানা মতের মধ্যেই মহান ঐক্য নিয়ে আমরা বাঁচব। এটাই আমাদের শপথ, এটিই আমাদের অঙ্গীকার।’ মমতা মতাসীন কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিভিন্ন পদপে ও চলমান অসহিষ্ণুতার তীব্র সমালোচনা করেন। বিজেপিকে কটা করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার তার নিজ চেয়ারের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ, তারা নাকি বাংলাকে পথ দেখাবে! তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ওরা জানে না, বাংলা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ সমর্থন করে না।’ মমতা বলেন, ‘কে কী খাবেন তা কি ওরা ঠিক করে দেবেন? পাঞ্জাবিরা কী খাবেন তা কি ওরা ঠিক করে দেবেন? মুসলিম ভাইবোনেরা কী খাবেন তা কি ওরা ঠিক করে দেবেন? হিন্দু ভাইবোনেরা কী খাবেন তা কি ওরা ঠিক করে দেবেন? যার যা ইচ্ছা তা খাবেন।’

ঈশ্বরগঞ্জে অতিথি পাখিতে মুখরিত নদী অববাহিকা

প্রতিবছর শীত এলেই নদী-নালা, জলাশয়, বিল, হাওড়-বাওড়, ডোবা কিংবা বড় পুকুরে সকাল সন্ধ্যায় ছুটোছুটি আর ডানা ঝাপটায় নানা রংবেরঙের নাম না জানা অসংখ্য পাখি। সেগুলো আমাদের কাছে অতিথি পাখি হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে হাজির হয় নিজেদের জীবন বাঁচাতে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও বিল গুলোতে আগমন ঘটেছে অতিথি পাখির। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা মিলে অতিথি পাখির। এর মধ্যে উপজেলা সদর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাঁচামাটিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে, উচাখিলা ও রাজিবপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায়, তারুন্দিয়া ইউনিয়নের কেইলা বিল, মাইজবাগ ইউনিয়নের কাতলা বিলে অতিথি পাখির আগমন ঘটে বেশি। জানা যায়, পৃথিবীতে প্রায় ৫ লাখ প্রজাতির পাখি আছে। এসব পাখিদের মধ্যে অনেক প্রজাতিই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অন্য দেশে চলে যায়। শুধু ইউরোপ আর এশিয়ায় আছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির পাখি। কিছু কিছু পাখি তাই প্রতিবছর ২২ হাজার মাইল পথ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে চলে যায় দূরদেশে। উত্তর মেরু অঞ্চলের এক জাতীয় সামুদ্রিক শঙ্খচিল প্রতিবছর এই দূরত্ব অতিক্রম করে দক্ষিণ দিকে চলে আসে। আমাদের দেশে অতিথি পাখিরা অতটা পথ পাড়ি না দিলেও তারাও অনেক দূর থেকেই আসে। বরফ শুভ্র হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশির ভাগ অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এসব পাখিরা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তিব্বতের লাদাখ থেকে সেন্ট্রাল এশিয়ান ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে প্রবেশ করে। এ ছাড়া ইউরোপ, সূদুর সাইবেরিয়া থেকেও এসব পাখি আসে। এরা কিছু সময় পর আবার ফিরে যায় নিজ দেশে। এসব পাখিদের মধ্যে এ অঞ্চলে বেশ পরিচিত অতিথি পাখি বালি হাঁস। এছাড়া ও ধূসর ও গোলাপি রাজহাঁস, বুনো হাঁস, পাতিহাঁস, বুটিহাঁস, কালোহাঁস, খয়রা চকাচকি, ছোট সারস পাখি, বড় সারস পাখি, হেরন, নিশাচর হেরন, কার্লিউ, ডুবুরি পাখি, গায়ক রেন পাখি, কাদাখোঁচা, রাজসরালি, নর্দান পিনটেইল, পাতিকুট, বিলুপ্ত প্রায় প্যালাস ফিস ঈগল , গ্যাডওয়াল, পিনটেইল, নরদাম সুবেলার, কমন পোচার্ড ,লেঞ্জা, চিতি, সরালি, বৈকাল, নীলশীর পিয়াং, পান্তামুখি, রাঙামুড়ি, পেড়িভুতি, গিরিয়া, খঞ্জনা, পাতারি, পাতিবাটান, পানি মুরগি, নর্থ গিরিয়া, কমনচিল, কটনচিল, ও জলপিপি উল্লেখযোগ্য। শীতপ্রধান এলাকায় এ সময়টাতে তাপমাত্রা অধিকাংশ সময় শূন্যেরও বেশ নিচে থাকে । ফলে শীত এলে এরা সহ্য করতে না পেরে যে সব দেশে শীত অপেক্ষাকৃত কম সেখানে চলে যায়। এছাড়া শীতপ্রধান এলাকায় এ সময়টাতে খাবারের মারাত্মক সংকট দেখা দেয়। এরপরও মরার উপর খরার ঘা হয়ে দেখা দেয় তুষারপাত। ফলে শীত এলেই হিমালয়ের আশপাশের কিছু অঞ্চলসহ এশিয়ার কিছু অঞ্চল, ইউরোপ, সাইবেরিয়া ও উত্তর মেরুর অঞ্চলের পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে চলে আসে অপেক্ষাকৃত কম শীত প্রধান অঞ্চল গুলোতে। মার্চ-এপ্রিলের দিকে শীতপ্রধান অঞ্চলের বরফ গলতে শুরুহলে অতিথি পাখিরা নিজ দেশে ফিরে যায়।

ব্যথিত হৃদয়ে ইন্দোনেশিয়া ফিরে যাচ্ছেন সেই তরুণী

সুদূর ইন্দোনেশিয়া থেকে বাউফলে চলে আসা নিকি উল ফিয়ার নামের সেই তরুণী ব্যথিত হৃদয়ে স্বদেশে ফিরে যাচ্ছেন! প্রেমিকের বিয়ের বয়স হয়নি। যুবকের প্রেমের টানে বিমানের টিকিটের জন্য ইতোমধ্যে তিনি ট্রাভেল এজেন্সির সাথে কথা বলেছেন। ওই তরুণীর প্রেমিক ইমরানের বয়স ২১ বছর না হওয়ায় আইনি প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি হলে তিনি স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ইমরানের বিয়ের বয়স না হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন। জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো: ইমরান হোসেনের (১৯) সাথে এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম তরুণী নিকি উল ফিয়ার (২৪) পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। নিকি উল ফিয়া ইন্দোনেশিয়ার সুরা বায়া বিভাগের জাওয়া গ্রামের ইউ লি আন থোর মেয়ে। তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। গত ১ ডিসেম্বর নিকি উল ফিয়া ভালোবাসার টানে সুদূর ইন্দোনেশিয়া থেকে ঢাকা চলে আসেন। সেখান থেকে ৩ ডিসেম্বর প্রেমিক ইমরানের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের বাড়িতে আসেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এখানে এসে নিকি যখন জানলেন, আইন অনুযায়ী প্রেমিক ইমরানের বিয়ের বয়স ২১ বছর হয়নি। তখন তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তার হাস্যোজ্জ্বল মুখ মলিন হয়ে যায়। নীরবে চোখের পানি ফেলেছেন। নিকি উল বলেন, খবরটি জানার পর আমি ব্যথিত হয়েছি। দু-এক দিনের মধ্যে আমি দেশে চলে যাবো। বিমানের টিকিটের জন্য ট্রাভেল এজেন্সির সাথে কথা বলেছি। ইমরান ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারে আমি মুগ্ধ। আমি ইমরানের বিয়ের বয়স না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব।

চান্দিনায় নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার চান্দিনায় নিখোঁজের একদিন পর সুবর্ণা আক্তার মীম (৭) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় কেরনখাল ইউনিয়নের থানগাঁও ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু মীম চান্দিনা পৌরসভাধীন বেলাশহর এলাকার সাবেক পুলিশ সদস্য কোরবান আলীর মেয়ে। সে চান্দিনা ইক্রা মহিলা মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণীতে অধ্যয়ণরত।
নিহতের চাচি জেসমিন আক্তার জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার পর থেকে শিশু মীমকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সারাদিন সম্ভব্য সকল স্থানে খোঁজ-খবর নিয়ে কোথাও না পেয়ে বিকেলে মাইকিং করা হয়। নিহতের পিতা কোরবার আলী জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তি ১০লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করার পর আমি বিষয়টি চান্দিনা থানা পুলিশকে জানাই। শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন আমার মেয়ের মরদেহ দেখে আমাদের খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং আমার মেয়ের মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেই। এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সহকারি পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিলুপ্তির পথে ইউনেস্কো স্বীকৃত সিলেটের শীতলপাটি

বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত পেল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি। গতকাল বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে ইউনেসকোর ‘ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ (আইসিএইচ) কমিটির ১২তম অধিবেশনে বিশ্বের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ২০১৭ (দি ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউমানিটি) হিসেবে শীতল পাটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ২০১৬ সালে শীতল পাটিকে ইউনেসকোর ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব দি ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর ১২তম অধিবেশনে বিশ্বের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রস্তাবনা উত্থাপন করে। রঙিন বেতের বুননে তৈরি শীতলপাটি আবহমান বাংলার লোকশিল্পের এক অনন্য ঐতিহ্য। গ্রামবাংলার কারও ঘরে অতিথি এলে শীতলপাটি বিছিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ বহুকালের। তবে সম্প্রতি এ ঐতিহ্যে ছেদ পড়েছে। বাজারজাতকরণ, মূলধনের অভাব, ন্যায্যমূল্য ও মুর্তা বেতের অভাবে বিলুপ্তির পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প। আধুনিকতা, বাজারজাতকরণ, মূলধন, নায্যমূল্য ও মুর্তা বেতের অভাবে বিলুপ্তির পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি শিল্প। জেলার বড়লেখা ও রাজনগর উপজেলার হস্তশিল্পের কারিগররা কয়েক যুগ ধরে শীতলপাটি বুনে চলেছেন, যা দেশ এবং বিদেশে সমানভাবে সমাদৃত। কিন্তু ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং মুর্তা বেতের অভাবে এখন আর আগের মতো পাটি বুনতে পারেন না শিল্পীরা। তাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে যেতে হচ্ছে তাদেরকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও রাজনগর উপজেলা শীতলপাটির জন্য বিখ্যাত। দু’টি উপজেলার হস্তশিল্পের কারিগররা কয়েক যুগ ধরে শীতলপাটি বুনে আসছেন। একটা সময় ছিলো যখন এ অঞ্চলের ঘরে ঘরে শীতলপাটি বোনা হতো। অনেক মানুষের কাছে এ কুঠির শিল্পই ছিলো আয়ের একটি বড়ো উৎস। জেলার বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ও তালিমপুর ইউনিয়নের শীতলপাটি শিল্পের ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। বাজারজাতকরণের সমস্যা, মূলধন ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বংশপরম্পরায় এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই চলে গেছেন অন্য পেশায়।
সম্প্রতি উপজেলার দাসেরবাজার ইউপি’র দক্ষিণ লঘাটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গুটিকয়েক বাড়িতে পাটি বুননের ব্যস্ততা। ঘরের বারান্দায় পাটির সুনিপুণ নির্মাণ চলছে বিরামহীনভাবে। নানা আকৃতির পাটি সূক্ষ্ম বুননে পাচ্ছে নান্দনিক শিল্পরূপ। তবে নেই আগের সেই জৌলুস। দক্ষিণ লঘাটি গ্রামের চল্লিশোর্ধ্ব লাল মোহন দাস জানালেন, আগে পাটি বানাইয়া (তৈরি করে) সংসার চলতো। এখন আর চলে না। জিনিসপত্রের দাম বেশি। আমরা যে কয়জন পাটি বানাই, তারা আর কোনো কাম (কাজ) করতাম পারি না এর লাগি কষ্ট করে আছি। ৪-৫ হাত একটা পাটি বানাইতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। রোজ (দৈনিক শ্রম) ও দামের হিসেবে লাভ অয় না। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য পাইছি না। সরকারি সহযোগিতা পাইলে আমরা ভালোভাবে এই পেশারে চালাইয়া নিতাম পারতাম। একই গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব মিন্টু দাস ক্ষোভের সাথে জানালেন, অনেকবার আইয়া ছবি উঠাইয়া লইয়া যাইন। সরকারি লোক পরিচয় দেইন। কিন্তু কোনো সাহায্য পাই না। ৮০ টেকা (টাকা) দাম (দর) থাকিয়া পাটি বেচি (বিক্রি করি)। আগে পাটির দাম কম ছিলো। বিক্রিও বেশি হতো। তাই চলা যাইতো। এখন দাম বেশি হলেও বিক্রি কম। বাপ-দাদার পেশা। তাই ছাড়তেও পারি না। আমরারে দেখার কেউ নাই। পাটি শিল্পের সাথে জড়িতরা জানিয়েছেন, উপজেলার দাসেরবাজার ও তালিমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ও দক্ষিণ লঘাটি, ইউনিয়নের পানিসাওয়া, গুলুয়া, গোবিন্দপুর, বাগিরপার, টুকা, মহানারী, কান্দিগ্রাম, মালিশ্রী, গগড়া, বড়ময়দান, দ্বিতীয়ারদেহীসহ অধিকাংশ গ্রামের হিন্দু পরিবার এই শিল্পের সাথে জড়িত ছিলেন। সময়ের বিবর্তনে এখন বেশিরভাগ পাটিশিল্পীর ব্যবসার প্রতি অনীহা দেখা দিয়েছে। একসময় এই এলাকাগুলোতে তৈরি হতো নানা ধরণের পাটি। তবে নানা সংকট সত্ত্বেও প্রাণের টানে কিছু পাটিশিল্পী বাঁচিয়ে রেখেছেন পূর্বপুরুষের এ শিল্পটি। এককালে এ অঞ্চলের অনেকেরই প্রধান পেশাও ছিলো পাটি তৈরি করে বিক্রি করা। কিন্তু বাজারজাতকরণে সমস্যা, প্রকৃত মূল্য না পাওয়া এবং মূলধন সংকটের কারণে এ শিল্পের প্রতি অনীহা দেখা দিয়েছে। যেভাবে তৈরি হয় পাটি : মুর্তা নামক এক প্রকার সরু গাছের ছাল দিয়ে এই পাটি তৈরি করা হয়। গাছ কেটে ধারালো দা বা বটি দিয়ে গাছটিকে লম্বাভাবে ৪/৫ টুকরো করে গাছের ছাল বা বেত বের করা হয়। অতঃপর এক ঘণ্টা বেতগুলো টিনের পাত্রে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরে সেদ্ধ করার পর তুলে এনে রোদে শুকিয়ে পুনরায় ঠা-া ও পরিষ্কার পানিতে ১০/১৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে তোলা হয়। এরপরই মুর্তা বেত পাটি তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হয়। বেতে রং দিয়ে পাটিকে নানা চিত্রে সাজিয়ে আরও আকর্ষণীয় করা হয়। পাটির ব্যবহার : সাধারণত মুর্তা বেতের তৈরি শীতলপাটি কিংবা অন্যান্য জাতের সকল প্রকার পাটি গরমের দিনে বিছানার ওপর ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান-যেমন বিয়ে, অন্নপ্রাসন, শ্রাদ্ধে নতুন পাটির ব্যবহার অপরিহার্য।
বিবাহে কন্যাদানের সময়ও পিতা-মাতা অন্যান্য নানা সামগ্রির সাথে একখানা শীতলপাটি বা নকশি করা রঙ্গিন পাটি উপহার দিয়ে থাকেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও নামাজ পড়া কিংবা অন্যান্য পারিবারিক কাজে পাটি ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও রঙিন কাজ ছাড়াই কিছু পাটি তৈরি করা হয় নিত্যকাজে ব্যবহারের জন্যে। পাটিশিল্পীরা জানান, একসময় দাসেরবাজারের তৈরি রূপালি বেতের শীতলপাটি নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ স¤্রাট আওরঙ্গজেবকে উপহার দিয়েছিলেন। এসব পাটি ধনি-গরিব সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব। বর্তমান আধুনিক প্লাস্টিকের তৈরি মাদুর স্বাস্থ্যসম্মত না হলেও পাটির বিকল্প হিসেবে বাজারে এটি সয়লাব হয়েছে। পাটির নাম, তৈরির সময়কাল ও দাম : মুর্তা বেতের পাটি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন-শীতলপাটি, রঙ্গিন বেতের পাটি, সরু বেতের পাটি, প্রার্থনা কিংবা উপাসনার জন্য কমল-কোষ পাটি ইত্যাদি। সাড়ে ৩ হাত ও পৌনে ৫ হাত মাপের একটি সাধারণ পাটি তৈরি করতে ৭-৮ দিন সময় লাগে। বিক্রি হয় ১ হাাজার থেকে ১২০০ টাকায়। ৪ থেকে ৫ হাত একটি পাটি তৈরি করতে সময় লাগে ৮-১০ দিন। দাম পাওয়া যায় ২ হাজার টাকা থেকে ২৫০০ টাকা।
পাটির হাট : বিভিন্ন বাড়ি থেকে তৈরি পাটি পুরুষ সদস্যরা বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। উপজেলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দাসেরবাজারে নানা জাতের পাটির বিশাল হাট বসে প্রতি বৃহস্পতিবার ও রোববার। একসময় এ বাজারে সাপ্তাহিক হাটের ২ দিনে পাইকারি ও খুচরা মিলে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার পাটি বিক্রি হতো। এখন সেই পরিমাণ বিক্রি হয় না। দাসেরবাজার ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ফেরি করে বিচ্ছিন্নভাবে পাটি বিক্রি করেন অনেকেই। এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুহেল মাহমুদ বুধবার রাতে জানালেন, সরকার শিল্পবান্ধব। এই শিল্প একটি হস্তশিল্প। এটির বাজারজাতকরণ একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা সেটি করতে পারলে এখানে বিশাল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এদের সরকারি ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এনে পাটিশিল্পের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ধুনিজুড়া; ফতেহপুর ইউনিয়নের বিলবাড়ি, তুলাপুর, আবদুল্লাপুর, জাহিদপুর; মুন্সিবাজার ইউনিয়নের মেদিনীমহল, জুগিকোণা, মুনিয়ারপাড়সহ বিভিন্ন গ্রামের শত শত পরিবার এ পেশায় যুক্ত ছিলেন। কিন্তু উপযুক্ত মূল্যের অভাব, বাজারজাতকরণের সমস্যা, মূলধনের ঘাটতি এবং মুর্তা বেতের অভাবে এখন আর আগের মতো পাটি বুনেন না এখানকার শিল্পীরা। তাই বাধ্য হয়েই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন তারা। আমরা এই পেশা ছেড়ে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে বর্তমানে শ্রমিকের কাজ করছি।
শীতলপাটির জন্য বিখ্যাত রাজনগর উপজেলার ধুনিজুড়ার শীতলপাটির কারিগর হরেন্দ্র দাশ জানান, আমি ২০১৩ সালে সরকারিভাবে জাপান থেকে শীতলপাটি তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছি। একসময় গ্রামের শতাধিক পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস ছিলো এ পাটি বুনন। বর্তমানে আমাদের গ্রামে হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার কোনোভাবে টিকিয়ে রেখেছে এ ঐতিহ্যকে। তিনি আরও জানান, আমার পূর্বপুরুষরা এ কাজ করে গেছেন, তাই পেশা টিকিয়ে রাখতে আমাকেও এ কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু পরিশ্রম অনুযায়ী বাজারে উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় এ কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন কারিগররা। তাছাড়া আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে মূলধনও বিনিয়োগ করতে পারেন না অনেকে। এমনকি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায় না। ফলে এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশার দিকে জড়াচ্ছেন অনেকেই। ধুনিজুড়া গ্রামের মিনতি দাশ জানান, বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের প্রায় সবাই এ কাজ করতেন। তাদের কাছ থেকে আমিও শিখেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন কাজ না করায় এখন প্রায় ভুলতে বসেছি পাটির বুনন। একই গ্রামের অরুণ দাশ জানালেন, ছেলেমেয়েরা এখন স্কুল-কলেজে পড়ছে। এটা শেখার প্রতি তাদেরও তেমন কোনো আগ্রহ নেই। শীতলপাটির জন্য এ গ্রামের সুনাম বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশের কাছেই অজানা। তাই এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয় পাটিশিল্পীরা জানালেন, মুর্তা বেত দিয়ে তৈরি শীতলপাটির কদর ছিলো সব জায়গায়। একসময় সিলেট অঞ্চলের বিয়েতে সব সরঞ্জামের সঙ্গে একটি নকশি শীতলপাটি দেওয়ার রেওয়াজ ছিলো। বর্তমানে এ রেওয়াজটি আর নেই। রঙিন মিহি বেতে তৈরি পাটিতে মসজিদ-মন্দির, হাঁস-মুরগি, পাখি, বিড়াল, বক, হরিণের ছবিসহ বিভিন্ন শৈল্পিক নকশা তোলা হতো। কারিগররা আরও জানান, একটি সাধারণ পাটি বুনতে সময় লাগে ১০-১৫ দিন। পাটি বিক্রি করতে হয় ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়। আর উন্নত মানের পাটি বুনতে সময় লাগে দেড়মাস। এটি বিক্রি করতে হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায়। শীতলপাটি শিল্প পরিষদের সভাপতি বেনু ভূষণ দাশ জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে এ পাটির তেমন চাহিদা নেই।
তবে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার আসে। সে অনুযায়ী পাটি বুনে তাদের কাছে পাঠাই। মূলধন ও প্রশিক্ষণের অভাবে আমরা এ শিল্পকে বিকশিত করতে পারছি না। সরকারি উদ্যোগে ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে অথবা সুদবিহীন ঋণ দেয়া হলে এ শিল্প দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তোহিদুজ্জামান পাবেল জানান, এখানকার পাটিশিল্পীদের সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া এখানকার ঐতিহ্যও ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেয়া হবে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন বিসিক মৌলভীবাজারের উপ-ব্যবস্থাপক এএইচএম হামিদুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ পণ্যকে ধরে রাখতে হলে এর গুণগত মান আরও বৃদ্ধি করতে হবে। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করারও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ প্রদান, সঠিক বাজারমূল্য নির্ধারণ ও মুর্তা চাষ বাড়ানো হলে এ শিল্পকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন এ শিল্পের সাথে জড়িতরা।