Friday, March 9, 2018

জিরো লাইনে দুর্দশায় রোহিঙ্গারা by দীন ইসলাম

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের অধিবাসীদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখলো উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। জিরো লাইনের রোহিঙ্গাদের খাবারসহ বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান। মিয়ানমারের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জিরো লাইনে অবস্থানরতদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল শূন্য রেখায় যাওয়ার সময় দেখেছে, যাত্রাপথের উভয়পাশে অনেকগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর। এনিয়ে  মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের কোনো বক্তব্য নেই। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এমন চিত্র দেখে আসে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যৌথ আলোচনা বিষয়ক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জিরো লাইনে ছয় হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ওই সব মিয়ানমার অধিবাসীদের নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যেতে উৎসাহ দিতে গত মাসের প্রথমদিকে দুই দেশ আলাদা আলাদা প্রতিনিধি দল তৈরি করে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিল ১৪ জন ও মিয়ানমার প্রতিনিধি দলে ছিল ১২ জন। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের ঘুমঘুমস্থ মৈত্রী সেতুর কাছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল যায়। মিয়ানমারের মংডুর ডিস্ট্রিক্ট কমিশনারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের দল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানায়। এরপর এ দুই প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে টং পিউ লেটউই-এর সরকারি অফিসে আলোচনায় মিলিত হন। আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল পাঁচটি বিষয়ে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল মিয়ানমারকে জানায়, কোনাপাড়া সংলগ্ন শূন্য রেখায় অবস্থানরত মিয়ানমার অধিবাসীরা মিয়ানমার অংশে অবস্থান করছে এবং বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করেনি। অনেক দিন ধরে তারা জিরো লাইনে অবস্থান করায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে তারা। এ বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন। তারা প্রায়ই এসব স্থান পরিদর্শন করছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জিরো লাইনে অবস্থানরতদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হলে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের স্বেচ্ছামূলক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের বক্তব্যের বিপরীতে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল জানায়, গেল বছরের ২৩শে নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তির আলোকে মংডুর টং পিয়ো লেটওই এবং নাগা খু ইয়া নামক স্থানে দুইটি রিসেপশন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া একটি বড় ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে। ট্রানজিট ক্যাম্পে ৩০ হাজার লোককে সাময়িকভাবে রাখা যাবে। বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী আট হাজার ৩২ জন মিয়ানমার অধিবাসীর তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে জিরো লাইনে বসবাসকারীদের নামও রয়েছে। বৈঠকে মংডু জেলার ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার বলেন, জিরো লাইনে বসবাসকারীদের বাংলাদেশ থেকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে জিরো লাইনে অবস্থানরতরা মিয়ানমারে ফিরে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তাই তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে চাইলে তারা সাড়া দিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জিরো লাইনে অবস্থানরতদের সঙ্গে যৌথভাবে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়। এর ভিত্তিতে দুপুর পৌনে একটায় জিরো লাইনে যায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রতিনিধি দল। যাত্রাপথে অনেকগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর দেখে বাংলাদেশ প্রতিনিধি। এ সময় তারা আরিফ ও দিল মোহাম্মদসহ কয়েক জনের সঙ্গে আলাপ করেন। আলাপকালে তারা তাদের ওপর সংঘটিত অত্যাচারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, বংশানুক্রমিকভাবে আমরা মিয়ানমারের অধিবাসী। তাই আমাদের বসতবাড়িতে মান-সম্মান নিয়ে থাকতে চাই। মিয়ানমার প্রতিনিধি দল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানায়। এরপর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলটি মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে ফিরে আসে।

বর্মী সেনা রিপোর্টেও গণহত্যার স্বীকৃতি!

বৃটিশ সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে গিয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর থলের বিড়াল অবশেষে বেরিয়ে পড়েছে। হাউস অব কমন্সের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এমপি তাদের বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন এবং ইইউকে লেখা চিঠিতে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিকে নাকচ করতে গিয়ে মিয়ানমারের আর্মি প্রথমবারের মতো আরাকানের গণহত্যার বিষয়ে তাদের করা ‘গোপন তদন্ত রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে। আর তাতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে গণহত্যা যে ঘটেছে, সেটা তারা স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি হলো, এই জেনোসাইড ও এথনিক ক্লিনজিং’ মিলিটারি করেনি, করেছে আরসা। ৭ই মার্চে বৃটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওই চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে।  
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মতে, এমপিরা প্রকৃত পরিস্থিতির দিকে অন্ধ ও একচোখা নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তারা বলেছেন যে, সম্প্রতি বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন থেকে লেখা এক চিঠিতে কয়েক ডজন বৃটিশ সংসদ সদস্য দাবি করেছেন যে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে এবং সেটা বন্ধ করতে তাদেরকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। কিন্তু এটা সত্যের অপলাপ মনে করে বর্মী আর্মি।
গার্ডিয়ান বলেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নারীরা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তারা ব্যাপকভিত্তিক নির্বিচার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে সেখানে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
বৃটিশ এমপিদের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতে গিয়ে তারা তাদের তথাকথিত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে নাকচ করা হয়নি যে,  বড় ধরনের সহিংসতা ও গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস করার ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি হলো, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী করেনি। করেছে তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীরা। এজন্য তারা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসাকে দায়ী করেছে।
ওই তদন্ত রিপোর্টের কথায়, ‘ব্যাপকভিত্তিক গণহত্যা এবং এথনিক ক্লিনজিং হয়েছে। বুথিডং-মংডু অঞ্চলের একটি জাতিগত সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও এথনিক ক্লিনজিং চলেছে।’ তারা দাবি করেছে, এই সংখ্যালঘু হলো বুদ্ধরা।  আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসা, তাদের মতে, এজন্য দায়ী। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ‘হার্ড এভিডেন্স’ সংগ্রহ করেছে। তারা আরো দাবি করেছে যে গত বছরের আগস্টে ১০০০০ থেকে ২০০০০ রোহিঙ্গার একটি দল ব্যাপকভিত্তিতে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে। তাতে আরো দাবি করা হয়েছে যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা ব্যাপকভিত্তিক ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। বরং এ সবই করেছে আরসা।
তারা তাদের ডকুমেন্টে আরো হাস্যকর দাবি করেছে যে, উগ্রপন্থি বাঙালি সন্ত্রাসীরা বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। আর সে কারণেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তারা তাদেরকে হুমকি, মারধর, অকথ্য নির্যাতন এবং গ্রামের পর গ্রাম আক্রমণ চালিয়েছে। বাংলাদেশ তাদেরকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।’ এমনটাই আজগুবি হলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনের বক্তব্য।
গার্ডিয়ান লিখেছে, মিলিটারির বিরুদ্ধে যখন পর্বতপ্রমাণ অভিযোগ রয়েছে, যখন তারা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ব্যাপক ভিত্তিক গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী দ্বারা অভিযুক্ত, তখন তারা বলছে যে, এসব তারা করেনি। বরং এই মুহূর্তে মিয়ানমারে রয়টার্সের দুজন সাংবাদিক বিচারের সম্মুখীন। তারা গণকবরের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
গত সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী সচিব এন্ডু্র গিলমার বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এথনিক ক্লিনজিং এখনো পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশীয় ডেপুটি পরিচালক ফিল রবার্টসন বলছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্লজ্জ মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত। তাদের কোনো লজ্জা নেই এবং তারা গত কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন চালিয়েছে তা তারা গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছিল। তার কথায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যে বিবৃতি দিয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হিলাংসহ অন্যান্য বর্মী সামরিক বাহিনীর অধিনায়কদের অবিলম্বে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়  করানো। তাদের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনতে হবে। এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর যুক্তরাজ্যের পরিচালক কেট অ্যালেন বলেছেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করেনি, বরং রোহিঙ্গারা করেছে বলে যে দাবি করেছে, সেটা ডাহা মিথ্যা।

সিরিজ শ্লীলতাহানির ঘটনায় তোলপাড় by শুভ্র দেব

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন স্থানে নারীদের হেনস্থা ও লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বাংলামোটর, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা, কাকরাইল, খামারবাড়ি ও কলাবাগানে এসব ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ফেসবুকে এ ধরনের তথ্য প্রকাশের পর এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। হেনস্থার শিকার কয়েক নারীর স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভিটিও ফুটেজ সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারাও। বাংলামোটরে এক কলেজছাত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসে নি। যদি তারা অভিযোগ না করে তবে আমরা তাকে আইনি সহায়তা কীভাবে দেব? এ ছাড়া সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ওই শিক্ষার্থীর সহযোগিতা দরকার। কাজী মাইনুল আরো বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করেও আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। তদন্তে যদি লাঞ্ছিত হওয়ার কোনো প্রমাণ ও লাঞ্ছনাকারীদের শনাক্ত করা যায় তবে নিরপেক্ষভাবেই তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বাংলামোটরে লাঞ্ছিত হওয়া শিক্ষার্থী বুধবার ঘটনার পরপরই এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘শান্তিনগর মোড়ে এক ঘণ্টা দাঁড়ায়ে থেকেও কোনো বাস  পাইলাম না। হেঁটে গেলাম বাংলামোটর। বাংলামোটর যাইতেই মিছিলের হাতে পড়লাম। প্রায় ১৫-২০ জন আমাকে ঘিরে দাঁড়াইলো। ব্যস! যা হওয়ার থাকে তাই। কলেজ ড্রেস পরা একটা মেয়েকে হ্যারাস করতেছে, এটা কেউ কেউ ভিডিও করার চেষ্টা করতেছে। কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করতেছে। আমার কলেজ ড্রেসের বোতাম ছিঁড়ে গেছে। ওড়নার জায়গাটা খুলে ঝুলতেছে। ওরা আমাকে থাপড়াইসে। আমার শরীরে হাত দিছে। আমার দুইটা হাত এতগুলা হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাঁচাইতে পারে নাই। একটা পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং চক্রে ঢুকে আমাকে বের করে এন্ড একটা বাস থামায়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফ্লি আসছি।’ পরে অবশ্য আর স্ট্যাটাসটি দেখা যায়নি। রাতে ওই শিক্ষার্থী আরো লিখেছেন, ‘ভালো আছি, সুস্থ আছি। পোস্টটা অনলি মি করেছি, কারণ পোস্টটা রাজনৈতিক উস্কানিমূলকভাবে শেয়ার করা হচ্ছিল। আমি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশে পোস্টটা  দেইনি। প্লাস আমার কলেজকে জড়ানো হচ্ছিল এ ব্যাপারে। ব্যাপারটার সঙ্গে আমার কলেজের কোনো সম্পর্ক নাই।’  এই শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত হওয়ার পরে তার দেয়া স্ট্যাটাসটি কয়েক ঘণ্টার ভেতরেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরকম অভিযোগ ওঠার পর থেকে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী রমনা মডেল থানায় অনেকেই যোগাযোগ করেন। আইডিটি সঠিক কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন উঠে। এবিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করার জন্য ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিট কাজ করছে। ইউনিটের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, বাংলামোটরের ঘটনায় লাঞ্ছিত হয়েছে এমন অভিযোগে দেয়া স্ট্যাটাসের আইডিটি আমরা খতিয়ে দেখেছি। আইডিটি ভুয়া নয়। অরিজিনাল আইডি। আইডিতে তার ব্যক্তিগত সকল তথ্যই দেয়া আছে। আমরা তার সঙ্গে কথাও বলেছি।
আরেক নারী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘খুব মজা সমাবেশ করতে যেতে আসতে, রাস্তায় গ্রুপ হয়ে মেয়েদের হ্যারাস করা!!! এক মুরব্বি বলেছেন, ঠিকই আছে, বের হইছো কেন বাসা থেকে জানো না আজকে রাস্তায় বেশি ছেলে থাকবে!? তিনি আরো লিখেছেন, ‘আল্লাহ কেন মেয়েদের মাত্র দুটি হাত দিলো, দুটো হাত দিয়ে এতগুলো হাত থেকে বুক পেট বাঁচাবো নাকি কোমর পিঠ বাঁচাবো, ওড়না ধরে রাখবো নাকি তাদের হাতগুলো সরাবো।
শহীদ মিনার ও চারু কলার সামনে লাঞ্ছিত হওয়া এক নারী লিখেছেন,  হল থেকে বের হয়ে কোনো রিকশা পাইনি, কেউ শাহবাগ যাবে না, হেঁটে শহীদ মিনার পর্যন্ত আসতে হয়েছে, আর পুরোটা রাস্তাজুড়ে ৭ই মার্চ পালন করা দেশভক্ত সোনার ছেলেরা একা মেয়ে পেয়ে ইচ্ছে মতো টিজ করছে, নোংরা কথা থেকে শুরু করে যেভাবে পারছে টিজ করছে। বহু হয়রানির পর রিকশা নিয়ে শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ আসছি। এতেও রক্ষা নাই। চারু কলার সামনে একদল ছেলে পানির বোতল থেকে পানি ছিটাইছে গায়ে, প্রায় আধা ভিজা করে দিছে। যখন রাগ হচ্ছিলাম তখন তো একজন রিকশার পেছন থেকে চুল টেনে দৌড় দিছে। সিরিয়াসলি!!! রিকশা থেকে নামতে চাইছিলাম জুতাবো ওইটাকে তাই। পাশের রিকশার ভদ্রলোক খুব ভদ্রভাবে না করলো তাই নামিনি। গৌরবময় ৭ই মার্চ সোনার ছেলেরা এত ভালোভাবেই পালন করছে যে নিজের ক্যাম্পাসেই হ্যারাস হতে হয়।’ তিনি আরো লিখেছেন, ও হ্যাঁ কেউ যেন আবার বলতে আসবেন না, জানেনই তো আজ ঝামেলা হবে বের হতে গিয়েছেন কেন!!!
অপর এক নারী লিখেছেন, আজকের রাস্তা যে কি ছিল তা টের পাইছি ফার্মগেট থেকে শাহবাগ, শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে। শাহবাগ গিয়ে দেশের সোনার ছেলেদের টিজিংতো ছিলই। সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত একা হেঁটে এসেছি আর পুরো রাস্তা ৭ই মার্চ পালন করতে আসা ছেলেদের শুধু অসাধারণ সব নোংরা কথা ও শিসের আওয়াজ শুনেছি। তিনি লিখেছেন, পারিবারিকভাবে আমি লীগের সমর্থক। শেখ হাসিনাকে মনেপ্রাণে নেত্রী মানি। কিন্তু এইসব ছেলেরা লীগের মান-ইজ্জত ডুবাচ্ছে, কিছুদিন পর আর লীগ সমর্থক পরিচয় দিতে লজ্জা লাগবে।  বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তার ঐতিহাসিক ভাষণের দিনে এই করুণ অবস্থা দেখে কতটা কষ্ট পাবেন ভাবলেই কষ্ট লাগে। হোমপেজে এসে দেখি আমি একা নই, আরো মেয়েদের একই কাহিনী। বরং আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি কেউ আমার গায়ে হাত দেইনি।) আবার কালকে নারী দিবস। শুনবো শুধু যে নারীদের হেন অধিকার, তেন অধিকার কত কি! নারী স্বাধীনতা ব্লা ব্লা ব্লা!!! স্বাধীন দেশের পরাধীন নাগরিক আমরা।
অপর এক নারী বলেছেন, গাড়ি চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে খামারবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সামনে দুই তিনটা ট্রাক ভর্তি ছেলে স্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছিল। রাস্তা ফাঁকা কিন্তু তাদের ট্রাক চলছিল ধীরগতিতে এবং আমার গাড়িকে কোনোভাবেই সাইড দিচ্ছে না। এক  দুইবার আমার গাড়ি তাদের পাশ কাটিয়ে যেতে চেষ্টা করতেই গাড়ির দিকে বোতল ছুড়ে মারতে থাকে তারা। আমার চালক জানালার কাচ নামানোর সঙ্গে সঙ্গে অশ্রাব্য গালি। তাদের বক্তব্য আমার গাড়ি তাদের পেছন পেছন যেতে হবে।
নারী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে অনেকে তাদের নিজেদের ফেসবুকের দেয়ালে লিখছেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন লিখেছেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের অনুষ্ঠানকে বিতর্কিত করতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা গল্পের কথা শোনা যাচ্ছে। সত্য মিথ্যা কতটুকু জানি না। হয়তো শিগগিরই তা উদঘাটিত হবে। উল্লিখিত ঘটনার আশেপাশে সবখানে সিসি ক্যামেরা আছে। ঘটনা ঘটলে কারা কারা দায়ী ও তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কি তাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন কিছু হবে না। না ঘটলেও হয়তো রটনার রহস্য উদঘাটিত হবে। উত্তেজিত না হয়ে এখনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে অপেক্ষা করাই ভালো।
ঘটনার বিষয়ে নারী অধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট এলিনা খান মানবজমিনকে বলেন, স্বাধীনতার এতটি বছর পার হয়েছে। প্রতিটা সেক্টরে নারীদের বিচরণ বেড়েছে। কিন্তু এখনো মুক্তি মিলেনি। কারণ আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এমনটাই হচ্ছে। আমরা লেখাপড়া করে পাস করে চাকরি করে টাকা আয় করা, খাওয়া-দাওয়া, ফুর্তি এসবই চিনি। কিন্তু সমাজের কার সঙ্গে কি আচরণ করতে হবে তা শিখিনি।  তিনি বলেন, বার বার আমরা মেয়েদের প্রতি সহিংসতা কমানোর কথা বলছি। কিন্তু কই, বেড়েই চলছে নারীর প্রতি সহিংসতা। পহেলা বৈশাখেও এধরনের ঘটনা ঘটেছে। নারীদের টিজ করার  জন্য মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্টে অনেকের শাস্তি হচ্ছে। তারপরও বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাই স্কুল-কলেজ, পরিবার সর্বত্রই আমাদের নৈতিকতার শিক্ষা নিতে এবং দিতে। আর এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবা দরকার।

রাশিয়ার দিকে পারমাণবিক বোমা ছোড়া হলে পৃথিবী ধ্বংস করে দেব

পৃথিবীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বলেছেন, যদি রাশিয়ার দিকে পারমাণবিক অস্ত্র ছোড়া হয় তাহলে পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। সেটা হবে ভয়াবহ এক বিপর্যয়। রাশিয়ার ছোড়া পারমাণবিক অস্ত্রের আঘাতে মুছে যাবে সব কিছু। রাশিয়া যদি টিকে না থাকে, তাহলে তেমন পৃথিবী আমাদের প্রয়োজন নেই। রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন পুতিন। এ উপলক্ষে এক টিভি প্রামাণ্যচিত্রে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন। কিন্তু কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এমন রণহুঙ্কার দিলেন তিনি তা স্পষ্ট নয়। তবে কিছু ঘটনা এখানে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এক. বৃটেনে অবস্থানরত রাশিয়ান গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। সন্দেহের আঙুল তোলা হচ্ছে রাশিয়ার দিকে। কারণ, স্ক্রিপাল বৃটেনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেছিলেন। এর আগেও রাশিয়ান নাগরিক এক গুপ্তচর আলেকজান্দার লিতভিনেনকোকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল ওই বৃটেনেই। লিতভিনেনকোর শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছিল তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম। তার বিষক্রিয়ায় তিনি মারা যান। এ দুটি ঘটনা কাকতালীয়ভাবে খুব কাছাকাছি। স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে এখন হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। খোদ বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন হাউস অব কমন্সে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, যারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক তাদেরকে জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে না। এবং সেই জবাব হবে কঠোর। ওদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট  বাশার আল আসাদের সঙ্গে মিশে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে রাশিয়া। এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তার রয়েছে বিরোধ। উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে রাশিয়া জাতিসংঘের অবরোধ লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ আছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গত মাসেই উত্তর কোরিয়াকে জ্বালানি সরবরাহ দিয়েছে। এসব নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পুতিনের বিরোধ। ফলে কোন ইস্যুকে লক্ষ্য করে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন তা স্পষ্ট নয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ সপ্তাহে প্রচারণাকালে ভক্ত নারীদের জড়িয়ে ধরে তাদেরকে চুমু খেয়েছেন। এ ছবি প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, যদি পারমাণবিক অস্ত্রের আঘাত লাগে রাশিয়ার বুকে, যদি রাশিয়াকে মুছে দেয়ার চেষ্টা করা হয় সেদিন পৃথিবী টিকে থাকার কোনো অর্থই থাকবে না। টেলিভিশনের এক প্রামাণ্যচিত্রে তিনি বলেছেন, আমি যা বলছি এটা আপনাদের জন্য এবং সারা বিশ্বের জন্য। পুতিন বলেন, আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আমি মনে করি তা কখনো ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। তথাকথিত প্রতিশোধ বা পাল্টা হামলায় এগুলো ব্যবহারের তাত্ত্বিক পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। যদি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সতর্ক ব্যবস্থায় শুধু কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা রেকর্ড হয় তাহলেই শুধু নয়, একই সঙ্গে যদি ক্ষেপণাস্ত্রের উড়ে যাওয়া প্রকৃত পূর্বাভাস দেয়, কোনো যুদ্ধাস্ত্র রাশিয়ার মাটিতে পড়ে তাহলেই আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তিনি বলেন, একে বলা হয় প্রতিশোধ বা পাল্টা হামলা। যখনই আমরা আইনগত সাড়া পাবো তখনই এ প্রতিশোধ নেয়া হবে। তিনি বলেন, হ্যাঁ, এটা হবে বিশ্বজুড়ে মানবজাতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয়। এটা হবে বিশ্বের জন্য এক ভয়াবহ বিনাশ। রাশিয়ার একজন নাগরিক হয়ে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আমি জানতে চাই রাশিয়ার অস্তিত্ব ছাড়া কোনো বিশ্ব টিকে থাকার প্রয়োজন আছে কি? উল্লেখ্য, এ সপ্তাহে একজন নারী ভক্ত প্রেসিডেন্ট পুুতিনের সঙ্গে একটি সেলফি তুলতে গেলে তিনি তাকে চুমু দেন। এ ঘটনা ধরা পড়ে ক্যামেরায়। সবাই তা দেখে বিস্মিত হয়ে যান। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে ওই নারী লারিসা সারগুখিনাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খান ৬৫ বছর বয়সী এই রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট। সেখানে এক কনসার্ট হচ্ছিল। কনসার্টের পর এ ঘটনা ঘটে। গত ৩রা মার্চ ওই কনসার্ট হয় সেখানে।

সুচির পদক বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্রের জাদুঘর

অং সান সুচিকে দেয়া সর্বোচ্চ সম্মাননা এবার বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাদুঘর। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থামাতে ব্যর্থ হওয়া ও এর নিন্দা জানাতে তার ব্যর্থতার কারণে ওই সম্মাননা কেড়ে নেয় ইউএস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম। বুধবার ওই জাদুঘর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, অং সান সুচিকে ‘ইলি উইসেল অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছিল ওয়াশিংটনের ওই জাদুঘর। কিন্তু তা বাতিল করেছে বা কেড়ে নিয়েছে জাদুঘরটি। এটাই প্রথম নয়, সুচিকে দেয়া এমন আরো অনেক পদক, সম্মাননা কেড়ে নিয়েছে বৃটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি কাউন্সিল। এর মধ্যে গত বছরের ২৫শে নভেম্বর ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরের সিটি কাউন্সিলররা রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব থাকায় সুচির কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন ফ্রিডম অফ দ্য সিটি পুরস্কার। গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল ২০০৯ সালে সুচিকে পুরস্কৃত করতে চেয়েছিল ‘ফ্রিডম অফ গ্লাসগো’ পুরস্কারে। তবে  ৩রা নভেম্বর গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নেয়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধীন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কলেজ সেইন্ট হিউ’র ‘জুনিয়র কমন রুম’ থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়। এছাড়া, অন্যান্য আরো সম্মাননা কেড়ে নেয়া হয়েছে। তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে।
এসবের পেছনে কারণ ছিল, তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতায় নিন্দা পর্যন্ত জানান নি। তিনি পক্ষ নিয়েছেন তার দেশের নিষ্পেষণকারী সেনাদের। যাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রে নৃশংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা নির্বিচারে নারী ও বালিকাদের ধর্ষণ করেছে। গণহারে হত্যা করেছে। পুড়িয়ে দিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এসব ঘটনা প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপরও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করে। আর তাদের সঙ্গে সুর মিলান সুচি। ওদিকে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অং সান সুচি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি। এর ফলে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা, ঘৃণা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব এলাকায় নৃশংসতা হয়েছে, নির্যাতন হয়েছে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া   হয় নি। নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে অং সান সুচির প্রতি এসব কথা লিখেছে ওয়াশিটনের ওই জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। ৬ই মার্চ পোস্ট করা ওই চিঠিতে বলা হয়, আমরা পুরস্কার কেড়ে নিচ্ছি এটা বেদনার। আমরা সহজে এমন সিদ্ধান্ত নিই না। ওদিকে ওয়াশিংটনে অবস্থিত মিয়ানমার দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাওয়া যায় নি।

ইরানে হিজাব খোলার দায়ে এক নারীর জেল, রাজধানীতে বিক্ষোভ

জনসমক্ষে হিজাব খুলে উড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে বুধবার ৩৪ বছরের এক নারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় ইরানের এক আদালত। তার মুক্তির দাবিতে রাজধানী তেহরানজুড়ে বিক্ষোভ করছেন অনেক নারী। যে নারীকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে গ্রেপ্তারকৃতের নাম তিনি নার্গিস হুসেইনি। তাকে এ বছরের শুরুতে তেহরানে আটক করা হয়েছিল।  এ খবর দিয়েছে ডয়েচে ভেলে।
খবরে বলা হয়, নারী বৃহঃপতিবার নারী দিবসে গ্রেপ্তারকৃত ওই নারীকে মুক্তির দাবি জানিয়ে তেহরানের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকে। এক আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচার চলাকালীন আসামী তার কৃতকর্মের জন্য কোনোরকম অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। বরং বিচারককে তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন যে জোর করে হিজাব পরানো উচিত নয়। তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্বাস জাফর দোলাতাবাদী বলেছেন, ‘দেশের আইনে যা বলা আছে, তা মেনেই এ রায় দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের আইন অনুযায়ী, মহিলাদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। আইন অনুসারে, মেয়েদের মাথার চুল থেকে শুরু করে শরীরের সমস্ত অংশ ঢেকে রাখতে হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর বিরুদ্ধে  প্রতিবাদ শুরু করেছেন অনেকে। গত কয়েক মাস ধরে ইরানের মহিলারা প্রকাশ্যে হিজাব খুলে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচির ছবি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
ডিসেম্বর থেকে ইরানি নারীদের এই আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করেছে। জনসমক্ষে নারীরা তাদের হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কেউ কেউ সেটা লাঠিতে উড়িয়ে ব্যানার বানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এরকম ৩০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গত এক দশক আগে দেশটির নারীরা হিজাবের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদেরও মত বদলেছে। ইরানের বেশিরভাগ মহিলা আর হিজাবের আড়ালে থাকতে চান না। তাদের বক্তব্য, হিজাব পরা বা না-পরা একেবারেই ব্যক্তিগত পছন্দ।
আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে গত বছর। ইরানের বিখ্যাত সাংবাদিক মিসাহ আলিনেজাদ প্রথম ‘হ্যাশট্যাগ হোয়াইটওয়েডনেসডেজ’ আন্দোলন চালু করেন। নিজের হিজাব খুলে লাঠির গোড়ায় বেধে সেটি উড়িয়েছিলেন তিনি। পুরো ঘটনার ভিডিও করেসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন। কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখনো তিনি বন্দী রয়েছেন।

দুর্বৃত্তের আগুনে জ্বলছে পাহাড়

টেকনাফে দুর্বৃত্তের আগুনে একশত একর সামাজিক বনায়ন ও পশু খাদ্য বাগান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা সংলগ্ন নুর আহমদ ঘোনা, নাইট্যংপাড়া ও বিজিবি সংলগ্ন পাহাড়সহ অন্তত ৪০টি পয়েন্টে ৮ই মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আগুনের এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন মুহূর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। আগুনে লাখ লাখ চারাগাছ, বন্য প্রাণীসহ শত শত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা ও রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন পাহাড়ে ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ভিলেজার, সামাজিক বনায়নের অংশীদার ও দমদমিয়া ন্যাচার পার্ক বন পাহারা দলের সদস্যদের দিয়ে চেষ্টা করছেন। বিকাল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, হঠাৎ করে সকালের দিকে দুর্বৃত্তরা পাহাড়ের ৪০টি পয়েন্টে আগুন দিয়েছে। এতে ২০১৫-১৬ সালে সৃজিত সামাজিক বনায়নের ৭৫ একর ও ২৫ একর পশু খাদ্য বাগানসহ প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা হাজার চারাগাছ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্য পশু-পাখি ও উপকার ভোগীরা। কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্ত্বের আগুন প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা গাছ পালা পুড়ে গেছে। পাশাপাশি সৃজিত বাগান ও পশু-পাখিদের  আভাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাতাসে তীব্রতা বেশি থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে বনকর্মীদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যারা পাহাড়ে আগুন ধরিয়েছে তাদের খোঁজ নিয়ে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। 
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসতি রয়েছে। আগুনের কবল থেকে এসব ঘরবাড়ি রক্ষা এবং মানুষের জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেহেতু আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তা নিভানো মুশকিল। নিয়ন্ত্রণে রাখতে বনকর্মীদের সতর্কাবস্থা এবং কারা আগুন লাগিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর ধরে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা আবদুল হাকিম ডাকাত গহিন পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে এলাকায় ডাকাতি, খুন-গুম ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে নির্র্মূলে গত এক মাস ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এমনকি উপজেলা পরিষদ ঘেঁষে পুরান পল্লান পাড়ায় ওই হাকিম ডাকাতের বসতবাড়িতে এলাকাবাসী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হাকিম ডাকাতকে তাড়াতে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক আরোপ, বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্কতা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর বিতর্কিত শুল্ক আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে সম্ভাবনার তোয়াক্কা না করে স্থানীয় সময় বৃহ¯পতিবার ই¯পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করে একটি আদেশপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই আদেশ কার্যকর হতে চলেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেশকিছু দেশ। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ঘোষণার চেয়ে কিছুটা নরম মনোভাব দেখিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এক্ষেত্রে কানাডকা এ মেক্সিকোকে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র  অন্যায্য বাণিজ্যের শিকার। আর এই শুল্ক আরোপ, দেশটির শিল্পের উন্নতি ঘটাবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশে প্রচুর ই¯পাত আসুক। তবে আমরা এটাও চাই যে, সেগুলো ন্যায্য উপায়ে আসুক। আমরা আমাদের শ্রমিকদের সুরক্ষিত রাখতে চাই।’ আন্তর্জাতিক পরিম-ল তার এমন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। আদেশপত্রে স্বাক্ষর করার আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কানাডা, মেক্সিকো ও আরো কিছু দেশ ট্রাম্পের এমন পরিকল্পনার পরিণতি সম্বন্ধে সতর্ক করেছে ও পাল্টা জবাবের হুমকিও দিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল মনেটারি ফান্ড, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা’র মতন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৃহ¯পতিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ন্যায়সঙ্গত জবাব দেয়া হবে। তবে তিনি এও বলেছেন যে, এমন যুদ্ধে সকল পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি কি আদতেই এমনটা করতে চলেছেন কি না তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ  ট্রাম্পের নিজ দলের অনেকেও এই শুল্ক আরোপ পরিকল্পনার বিরোধীতা করেছেন। রিপাবলিকান সিনেটর জেফ ফ্লেক ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে জানান, তিনি  এই শুল্ক আইন বাতিল করার জন্য একটি একটি আইন তৈরি করছেন। হাউজ ¯িপকার পল রায়ান জানান, তিনিও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরোধী। এদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ), চীন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ কোরিয়া।  ইইউ’র কিছু সদস্য দেশ- যেমন জার্মানি- যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ই¯পাত রপ্তানি করে। অন্যদিকে, এই শুল্ক আরোপের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া এখন প্রতি বছর গড়ে ১১০ কোটি ডলার ক্ষতির শিকার হবে।
ইইউ’র বাণিজ্য বিষয়ক কমিশনার সেসিলিয়া ম্যালমস্ট্রোয়েম এক টুইটে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ইইউ’কে শুল্ক ছাড় দেয়া উচিত। প্রসঙ্গত, ইইউ পূর্বে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের জবাবে ইইউ’তে আমদানিকৃত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল।  ফরাসি অর্থমন্ত্রী ব্রুনো ল্য মারি বলেন্স, বাণিজ্য যুদ্ধে সবাই হারে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় ফ্রান্স খুশি নয়। এদিকে, বৃটিশ সরকার জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে তাদের ইইউ মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেবে।

নারী দিবসে রাজপথে স্পেনের নারী কর্মীরা

‘আমরা বন্ধ করলেই-সবাই বন্ধ করবে’ স্লোগানে মুখর স্পেন। দেশটির নারী শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক নারী দিবসে লিঙ্গ বৈষম্য এবং অসমতার বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী আন্দোলনে নেমেছেন। বৃহস্পতিবার তারা কাজে যোগ দেবেন না। আন্দোলনটির আয়োজন করেছে এইট মার্চ কমিশন। সমর্থন জানিয়েছে আরো ১০টি ইউনিয়ন ও স্থানীয় শীর্ষ নারী রাজনীতিবিদরা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নারীরা কর্মক্ষেত্রে যোগ দেবেন না, কোনো অর্থ খরচ করবেন না। এমনকি গৃহস্থালী কাজকর্ম থেকেও বিরত থাকবেন। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্দোলনের কারণে বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০০ ট্রেন বন্ধ রয়েছে মাদ্রিদজুড়ে। এ ছাড়া, পাতাল পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটেছে। পুরো দেশজুড়ে মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, বিলবাও, ভ্যালেনসিয়াসহ প্রায় দু’শতাধিক স্থানজুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন নারীরা। আন্দোলনকারীদের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সমাজ হবে যৌন সহিংসতা, শোষণ এবং নিপীড়ন মুক্ত’। এর পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা দাবি তুলছেন ‘তারা নিম্নমানের পরিবেশে কাজ করব না। এমনকি পুরুষদের তুলনায় কম বেতনেও না’।
স্থানীয় পত্রিকা এল পাইস এক প্রতিবেদনে বলেছে, আন্দোলনের কারণে অধিকাংশ খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পত্রিকাটির এক জরিপে অংশ নেয়া ১ হাজার ৫০০ ব্যক্তির ৮২ শতাংশই এই আন্দোলন সমর্থন করেছেন। এ ছাড়া, ৭৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, স্পেনে নারীদের জীবন পুরুষদের তুলনায় কঠিন।
 নারীবাদী সংগঠনগুলো চায় নারীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাক। যাতে করে কর্মক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানো যায়। প্রসঙ্গত, স্পেনে একক-লিঙ্গ ভিত্তিক আন্দোলন আইনবহির্ভূত। তবে, এ ধরনের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালে আইন লঙ্ঘন হয় না।
অনেকে অবশ্য আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। মধ্য-ডানপন্থি রাজনৈতিক দল পারটিডো পপুলার (পিপি) বলেছে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র অভিজাত নারীবাদীদের জন্য। এতে সব শ্রেণির নারীদের প্রাত্যহিক সমস্যার কথা বলা হচ্ছে না। তবে, দেশটির রক্ষণশীল সরকারের পাঁচ জন নারীমন্ত্রীর মধ্যে দুই জন-কৃষি বিষয়ক মন্ত্রী ইসাবেল গারসিয়া তেজিরিনা এবং মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা সিফুয়েন্টাস জানিয়েছেন, তারাও আন্দোলনকারীদের মতো একদিন কাজে যোগ দেবেন না। এ ছাড়া, অভিনেত্রী পেনেলোপি ক্রুজ তার পূর্ব পরিকল্পিত অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন তিনি তার নিজ শহরে ফিরে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবেন। মাদ্রিদ মেয়র ম্যানুয়েল কারমেন এবং বার্সেলোনা মেয়র অ্যাডা কোলাও আন্দোলনে সমর্থন প্রকাশ করেছেন।