Monday, January 13, 2025
টিউলিপ যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতি যা হবার এরই মধ্যে হয়ে গেছে -স্কাই নিউজের খবর
এমন অবস্থায় যদি টিউলিপ এখন পদত্যাগও করেন, তবু বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের যেটুকু ক্ষতি হওয়ার তা এরই মধ্যে হয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক রব পাওয়েল। তিনি লিখেছেন, বেশির ভাগ রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির মধ্যে এমন একটি পয়েন্ট আছে, যার পরে পদত্যাগ আরও বেশি প্রশ্নের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। ফলে টিউলিপ সিদ্দিকের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একই রকম বিপদ প্রধানমন্ত্রীরও। যদি টিউলিপ এখন পদত্যাগ করেন, তাহলে অসংখ্য মানুষ বিস্মিত হবেন যে, এটা কেন আরও আগে হলো না। কেন ডাউনিং স্ট্রিট এই কাহিনীকে এতটা পথ আসতে দিল। এতে আরও ক্ষতি হবে।
বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম স্কাই নিউজে এসব কথা বলা হয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক প্রতিনিধি জন ক্রেইগ লিখেছেন, টিউলিপ বাংলাদেশে তার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও তার খালা শেখ হাসিনার থেকে দূরত্ব রক্ষার চেষ্টা করেছেন। দাবি করেছেন, তারা কখনোই রাজনীতি নিয়ে কথা বলেননি
কিন্তু স্কাই নিউজ উদঘাটন করেছে যে, নতুন সিটি মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক একটি ব্লগ লিখেছিলেন। তাতে শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি রাজনৈতিকভাবে কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন তা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন এবং তাদের একসাথে ছবি প্রকাশ করেছেন। ২০০৮ সালের শেষের দিকে এবং ২০০৯ সালের শুরুর দিকে টিউলিপ সিদ্দিক তখন লেবার পার্টির একজন কর্মী। তখন লেখা পোস্টে তার খালা শেখ হাসিনার জাতীয় নির্বাচনে তার জন্য যে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং কিভাবে তার বিজয় উদযাপন করেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন।
জন ক্রেইগ আরও লিখেছেন, আমাদের অনুসন্ধান দ্য টাইমসের নতুন রিপোর্টের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে মিলে যাচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিভাবে এখন এসব অভিযোগের সঙ্গে লড়াইরত লেবার পার্টির এমপির উড়োজাহাজ ঢাকায় একটি প্রাসাদে পাওয়া গিয়েছিল, যা ছিল তার খালার দখলে। গত বছর জনঅভ্যুত্থানে তার পতন হয়েছে। এখন টিউলিপ তার খালা থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। বলছেন, রাজনীতি নিয়ে তারা কখনো কোনো কথা বলেননি। কিন্তু তিনি যেসব প্রোপার্টি উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে ক্রমবর্ধমান চাপে আছেন।
ওদিকে ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টারের চ্যান্সেলর প্যাট ম্যাকফ্যাডেন বলেছেন, এথিকস পর্যবেক্ষক বা ওয়াচডগের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করবে লেবার পার্টি। রিপোর্ট পাওয়ার পরই টিউলিপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগ আছে, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি হয় রাশিয়ার সঙ্গে। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার যোগাযোগ ও ওই চুক্তিতে টিউলিপ সিদ্দিক মধ্যস্থতা করেছিলেন।
বৃটেনে দুর্নীতি বিরোধী মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও ওই চুক্তি থেকে টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ হাসিনা, তাদের পরিবারের সদস্যরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের একজন লন্ডন প্রবাসী ডেভেলপার আবদুল মোতালিফ একটি ফ্ল্যাট টিউলিপকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। কিন্তু টিউলিপ তা গোপন করেছেন। অথচ ওই ফ্ল্যাটে তিনি বসবাস করেছেন। এছাড়া মঈন গণি নামে একজন আইনজীবীও টিউলিপের বোন আজমিন সিদ্দিক রূপন্তিকে একটি ফ্ল্যাট দেন উপহার হিসেবে। তাতেও বসবাস করেন টিউলিপ। সরকারি নথিতে একাধিকবার তিনি ঠিকানা হিসেবে ওই ফ্ল্যাটের ঠিকানা লিখেছেন। এসব নিয়ে তোলপাড় চলছে বৃটিশ রাজনীতিতে। এরপরই মিনিস্টারিয়েল স্ট্যান্ডার্ড বিষয়ক নিরপেক্ষ উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন টিউলিপ।
তার রিপোর্টের জন্য লেবার পার্টি অপেক্ষা করবে কিনা? এমন প্রশ্ন করা হলে ম্যাকফাডেন বলেন, টিউলিপ এই ব্যক্তির কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। তিনি একটি রিপোর্ট দেবেন। তাতে দেখা হবে টিউলিপ মন্ত্রিত্বের বিধি বা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘন করেছেন কিনা। এটাই সঠিক পথ।ম্যাকফ্যাডেন বলেন, পর্যবেক্ষকের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে সঠিক কাজ করেছেন টিউলিপ।
ওদিকে রোববার বৃটেনের বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কিলিও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যদি টিউলিপ দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে সরকারি দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।
টিউলিপকে নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী -মর্নিং স্টারের রিপোর্ট
টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করে তার পদে অন্য কাউকে নিয়োগ দেয়ার ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। টিউলিপের খালা বাংলাদেশে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার রাজনীতি সংশ্লিষ্ট প্রোপার্টি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছেন টিউলিপ। এ অভিযোগ তদন্ত করছে বৃটিশ পার্লামেন্টের পর্যবেক্ষক স্যার লরি ম্যাগনাস।
অভিযোগ আছে আব্দুল মোতালিফ নামে একজন ডেভেলপার টিউলিপকে উপহার হিসেবে একটি ফ্ল্যাট দিয়েছেন। ওই ফ্ল্যাট ব্যবহার করেছেন টিউলিপ। কিন্তু এ তথ্য গোপন ছিল। খবরটি সামনে আসায় জানা যায়, আব্দুল মোতালিফ হলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মিত্র। তার সঙ্গে মোতালিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। এ খবর বাসি হওয়ার আগেই আরেক খবর সামনে আসে। তাতে বলা হয়, মঈন গণি নামে একজন আইনজীবী টিউলিপের বোন আজমিন সিদ্দিক রূপন্তিকে একটি ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন। পরে সেই ফ্ল্যাট টিউলিপকে ব্যবহার করতে দিয়েছেন রূপন্তি। এই ফ্ল্যাটকে নিজের ঠিকানা হিসেবে সরকারি নথিতে উল্লেখ করেছেন টিউলিপ। আইনজীবী মঈন গণিও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ। শেখ হাসিনার সঙ্গে মোতালিফ ও গণির ছবি আছে।
এসব অভিযোগ ওঠার পর গত সোমবার নিরপেক্ষ উপদেষ্টা বা মিনিস্টারিয়াল স্ট্যান্ডার্ডস স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে গিয়ে গত সপ্তাহের সোমবার ধরা দেন টিউলিপ। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। এক চিঠিতে স্যার লরিকে বলা হয়, তদন্ত উন্মুক্ত। তিনি কোনো অন্যায় করেননি।
ওদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উত্থাপিত অভিযোগের জন্য টিউলিপকে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। ওদিকে কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোচ এক আবেদনে স্যার কিয়ের স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিস সিদ্দিককে বরখাস্ত করতে। একই কথার প্রতিধ্বনি করেছেন ছায়া চ্যান্সেলর মেল স্ট্রাইড। বলেছেন, টিউলিপের পক্ষে তার দায়িত্ব পালন এখন অসম্ভব। তিনি বলেছেন, টিউলিপ যেহেতু দুর্নীতি বিরোধী মন্ত্রী এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাকে ঘিরে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটের অধীনে তার দায়িত্ব পালন বাস্তবিকই অসম্ভব। এজন্য তার পদত্যাগ করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীকে এই জট থেকে মুক্তি পাওয়া উচিত। তবে এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন, স্যার লরির কাছে টিউলিপের আত্মপক্ষ সমর্থন যথার্থ। তিনি টিউলিপের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। আবার বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কিলি বলেছেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে টিউলিপ সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
টিউলিপের ব্যবহৃত সেই ফ্ল্যাট কেনা হয়েছিল অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে -দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদন
বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের যে ফ্ল্যাটে কয়েক বছর বসবাস করেন সেই ফ্ল্যাট একটি অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত ওই কোম্পানির নাম পেডরক ভেঞ্চারস। এই কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের দুজন ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড এলাকার ওই ফ্ল্যাটটি ২০০০ সালে ২ লাখ ৪৩ হাজার পাউন্ড দিয়ে পেডরক ভেঞ্চারস কেনে।
২০১৬ সালে ফাঁস হওয়া পানামা পেপারস এবং ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) সরবরাহ করা নথিতে দেখা যায়, পেডরক ভেঞ্চারস কিনে নেয় হারবার্টন এস এ নামে একটি অফশোর কোম্পানি। এরপর বন্ধ হয়ে যায় পেডরক ভেঞ্চারস।
তথ্য অনুযায়ী, নাসিম আলী ও মাসুদ আলী নামের দুইজন বাংলাদেশি পেডরক ভেঞ্চারস প্রতিষ্ঠানটির মালিক দুজন। ১৯৮৩ সালে ঢাকায় নিবন্ধিত শ্যামলিমা লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির যৌথ মালিক তারা। ওই প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোকে লোকবল সরবরাহ ছাড়াও
বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা।
১৯৭০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান নাসিম আলী (৭০)। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, তার ভাই অর্থাৎ মাসুদ আলী যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ব্যবসায়ের অংশীদার শহীদ ইনাম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে তারা শুধু পেডরক বা হারবার্টন এস এ নয়, বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি শ্যামলিমা লিমিটেড।
২০০৫ সালের জানুয়ারিতে নাসিম আলী ও মাসুদ আলী হারবার্টন এস এ বন্ধ করে দিতে বলেন। এর ২৪ ঘণ্টার কম সময় পরে হ্যাম্পস্টিডের সেই ফ্ল্যাটের মালিকানা মঈন গনি নামের এক ব্যক্তিকে উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা হয়। মঈন গনি একজন বাংলাদেশি আইনজীবী। সেই সময় তার বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। পরে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ছবিও আছে। আন্তর্জাতিক একটি প্যানেলে শেখ হাসিনাই তাকে ভূমিকা রাখতে বলেছিলেন উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন, এটা তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।
ঢাকার একটি সূত্র বলেছে, মঈন গনির বাবা–মায়ের সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা একবার একটা রেস্তোরাঁ দিয়েছিলেন, যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা প্রায়ই যেতেন।
২০০৯ সালের মার্চে সেই ফ্ল্যাট টিউলিপের বোন আজমিনাকে উপহার দেন মঈন গনি। সেময় আজমিনার বয়স ছিল ১৮ বছর। তখন তার কোনো আয়রোজগার ছিল না।
অনেক বছর ও ফ্ল্যাটের সঙ্গে নাসিম আলীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে আজমিনা সিদ্দিককে ফ্ল্যাটটি হস্তান্তরের সময় ভূমি নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিতে নাসিম আলীর স্বাক্ষরের সঙ্গে তার সঙ্গে পানামা পেপার্সে থাকা স্বাক্ষরের মিল রয়েছে।
বেশ কয়েক বছর ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। ২০১২ ও ২০১৪ সালে নিজের ঠিকানা হিসেবে ওই ফ্ল্যাট উল্লেখ করেছিলেন তিনি। টিউলিপের স্বামী ক্রিশ্চিয়ান পারসিও ২০১৬ সালে তার ঠিকানা হিসেবে ওই ফ্ল্যাটের উল্লেখ করেছিলেন। পরের বছর যুক্তরাজ্যের টিউলিপ এমপি নির্বাচিত হন। পরে তার বোন আজমিনা সিদ্দিক ওই ফ্ল্যাট ৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি করেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গর্বিত টিউলিপ সিদ্দিক
কিন্তু স্কাই নিউজ প্রকাশ করেছে যে, বৃটেনের নগর মন্ত্রীর লেখা একটি ব্লগে তিনি রাজনৈতিকভাবে হাসিনার কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন তা নিয়ে গর্ব করেছেন এবং তাদের একসঙ্গে ছবিও প্রকাশ করেছেন। ২০০৮ সালের শেষের দিকে এবং ২০০৯ সালের প্রথম দিকে লেখা পোস্টগুলোতে যখন তিনি একজন লেবার কর্মী ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে তার খালার সঙ্গে প্রচারণা চালানো এবং তার বিজয় উদযাপনের বর্ণনা দিয়েছেন।
স্কাই নিউজের প্রতিবেদনটি টাইমস-এর একটি নতুন প্রতিবেদনের সাথে মিলে যায় যেখানে বলা হয়েছে, টিউলিপের লেবার পার্টির সদস্যদের ঢাকার প্রাসাদে দেখা গিয়েছিল। গত বছর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে এই প্রাসাদেই থাকতেন তার খালা শেখ হাসিনা।
২০০৯ সালের ১১ জানুয়ারি ‘টিউলিপ সিদ্দিক, ব্লুমসবারি এবং কিংস ক্রসের লেবার পার্টি অ্যাকশন টিমের সদস্য’ শিরোনামের ব্লগটিতে সমর্থকদের উদ্দেশে টিউলিপ লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশে সত্যিই ব্যস্ত ছিলাম....আমি ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনার নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের ছবি তুলেছি। আমার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান ছিল শেখ হাসিনার বক্তব্য। যিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে দেশের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটা কোনও গোপন বিষয় নয় যে, অতীতের সরকারগুলো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে একসঙ্গে কাজ করেনি এবং আমাদের এই ধারা পরিবর্তন করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছিলেন যে, আওয়ামী লীগ ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ সমর্থন করে না। আশা করি যে এই বছর একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হবে।'
সেইসঙ্গে টিউলিপ যোগ করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেস কনফারেন্সে আমার একটি অ্যাকশন শট রয়েছে। আমি কী বলছিলাম তা মনে নেই, সম্ভবত এটি ততটা আকর্ষণীয় ছিল না।’
২০০৯ সালের ২১শে জানুয়ারি একটি পোস্টে যুক্তরাজ্যের নগর মন্ত্রী(টিউলিপ সিদ্দিক) লিখেছিলেন, ‘নির্বাচনের দিনে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার গাড়িতে ভ্রমণ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী!) ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় যান। গাড়ি থেকে নেমে সংসদীয় প্রার্থী এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন।’
তার খালার গাড়িতে ভ্রমণের বর্ণনা দিয়ে টিউলিপ লিখেছেন, ‘আপনি এখানে নির্বাচনের দিন থেকে আমার সমস্ত ছবি দেখতে পাবেন... কিছু ছবির খারাপ মানের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি তার গাড়ির ভেতর থেকে ছবি তুলছিলাম যা আসলে বেশ কঠিন কাজ ! আপনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ছবিও দেখতে পাবেন। আমি ছবিটি তুলেছিলাম কারণ শেখ হাসিনা আমাকে বলেছিলেন যে, এই কারাগারটিতে তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে। কার্যত এটি ছিল তার দ্বিতীয় বাসা। কারণ তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহু বছর ধরে এই কারাগারে আটক ছিলেন। প্রতি সপ্তাহান্তে পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে খালা তাকে দেখতে আসতেন, তাই এটি একটি খুব পরিচিত ল্যান্ডমার্ক ছিল।’
এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘বিজয়!’ শিরোনামে সিদ্দিক লিখেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জিতেছে! শেখ হাসিনা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী! আমি আনন্দিত! আমি সারাদিন শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রচারণায় ছিলাম তাই বেশি কিছু লেখার শক্তি আমার নেই, কিন্তু আগামীকাল আমি লিখবো। তবে, আমি কয়েকটি ছবি আপলোড করা থেকে নিজেকে থামাতে পারছি না’।
একটি ছবির ক্যাপশনে লেখা- ‘এটি হলো শেখ হাসিনার মুখ, ফলাফল শোনার ঠিক আগে। ওই আসনে আওয়ামী লীগের কঠোর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে শুনে তিনি এখানে এসেছেন।’
দ্য টাইমস রিপোর্ট করেছে যে, স্যার কিয়ের স্টারমারের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের প্রথম রাজনৈতিক জীবনের খণ্ডচিত্র ঢাকায় সুরক্ষিত প্রাসাদে ধুলো ও ধ্বংসাবশেষের মধ্যে চাপা পড়ে গেছে। একটি সিঁড়ির ওপরে হ্যাম্পস্টেড এবং কিলবার্নের এমপি হিসাবে তার নির্বাচনের পর স্থানীয় লেবার পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে লেখা সিদ্দিকের একটি ধন্যবাদ নোট ছিল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লন্ডনে টিউলিপের ব্যবহৃত সেই ফ্ল্যাট কেনা হয় অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে
২০০০ সালে ২ লাখ ৪৩ হাজার পাউন্ড দিয়ে পেডরক ভেঞ্চারস ফ্ল্যাটটি কেনে। ২০১৬ সালে ফাঁস হওয়া পানামা পেপারস এবং ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) সরবরাহ করা নথিতে দেখা যায়, হারবার্টন এস এ নামে একটি অফশোর কোম্পানি পেডরক ভেঞ্চারস কিনে নেয়। এরপর পেডরক ভেঞ্চারস বন্ধ হয়ে যায়।
করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা কর ফাঁকি দিতে বিভিন্ন অফশোর কোম্পানি খুলে তাতে বিনিয়োগ করেন। অর্থ দেশে রাখলে যে হারে কর দিতে হয়, বিভিন্ন ট্যাক্স হেভেন বা কর স্বর্গ হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে (যেমন ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস) বিনিয়োগ করলে তার চেয়ে অনেক কম হারে কর দিলেই চলে। সে কারণে ধনীরা অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পেডরক ভেঞ্চারস প্রতিষ্ঠানটির মালিক দুজন। তাঁরা হলেন নাসিম আলী ও মাসুদ আলী নামের দুই। দুজনই বাংলাদেশি। ১৯৮৩ সালে ঢাকায় নিবন্ধিত শ্যামলিমা লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির যৌথ মালিক তাঁরা। বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে, এমন বিদেশি জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোকে লোকবল সরবরাহ ছাড়া আরও বেশ কিছু সেবা দিয়ে থাকে এই প্রতিষ্ঠান।
শ্যামলিমা লিমিটেডের পরিচয় দিতে গিয়ে একে ‘বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ‘দীর্ঘ অভিজ্ঞতা’। পাশাপাশি এ–ও বলা হয়েছে যে তাদের ‘প্রকল্পে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মীর কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ ও পূর্ণ সহযোগিতা’ পাওয়া যায়, যা এ কাজে ‘বড় ধরনের সাহায্য’ করে থাকে। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে শেভরন, শেল ও চীনের রাষ্ট্রমালিকানাধীন একাধিক তেল কোম্পানি। এই দুই ব্যক্তির এলএনজি ও সৌরশক্তির পৃথক ব্যবসাও রয়েছে।
১৯৭০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান নাসিম আলী (৭০)। সেখানে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী একজন শিল্পী। তাঁদের সন্তানেরা উত্তর লন্ডনের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়েন। তিনি মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, তাঁর ভাই অর্থাৎ মাসুদ আলী যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ব্যবসায়ের অংশীদার শহীদ ইনাম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে তাঁরা শুধু পেডরক বা হারবার্টন এস এ নয়, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি শ্যামলিমা লিমিটেড।
২০০৫ সালের জানুয়ারিতে এসে নাসিম আলী ও মাসুদ আলী হারবার্টন এস এ বন্ধ করে দিতে বলেন। এর ২৪ ঘণ্টার কম সময় পরে হ্যাম্পস্টিডের সেই ফ্ল্যাটের মালিকানা মঈন গনি নামের এক ব্যক্তিকে উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা হয়। মঈন গনি একজন বাংলাদেশি আইনজীবী (ব্যারিস্টার)। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। পরে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ছবিও আছে। আন্তর্জাতিক একটি প্যানেলে ভূমিকা রাখতে শেখ হাসিনাই তাঁকে বলেছিলেন উল্লেখ করে মঈন গনি লিখেছিলেন, এটা তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।
ঢাকার একটি সূত্র বলেছে, মঈন গনির বাবা–মায়ের সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একবার একটা রেস্তোরাঁ দিয়েছিলেন, যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা প্রায়ই যেতেন। এসব বিষয়ে বক্তব্যের জন্য নাসিম আলী ও মাসুদ আলী এবং মঈন গনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।
২০০৯ সালের মার্চে সেই ফ্ল্যাট টিউলিপের বোন আজমিনাকে উপহার দেন মঈন গনি। আজমিনার বয়স তখন ১৮ বছর। সে সময় তাঁর কোনো আয়রোজগার ছিল না।
অনেক বছর এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে নাসিম আলীর কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে আজমিনা সিদ্দিককে ফ্ল্যাটটি হস্তান্তরের সময় ভূমি নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিতে নাসিম আলী যে স্বাক্ষর করেছিলেন, তার সঙ্গে পানামা পেপার্সে থাকা স্বাক্ষরের মিল রয়েছে।
টিউলিপ সিদ্দিক বেশ কয়েক বছর ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন। ২০১২ ও ২০১৪ সালে নিজের ঠিকানা হিসেবে তিনি এই ফ্ল্যাটের উল্লেখ করেছিলেন। টিউলিপের স্বামী ক্রিশ্চিয়ান পারসিও ২০১৬ সালে তাঁর ঠিকানা হিসেবে ওই ফ্ল্যাটের উল্লেখ করেছিলেন। এর এক বছর পর যুক্তরাজ্যের এমপি নির্বাচিত হন টিউলিপ। পরে এই ফ্ল্যাট ৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি করেন তাঁর বোন আজমিনা সিদ্দিক।
নাসিম আলী ও মাসুদ আলীর দুই প্রতিষ্ঠানের ঢাকা কার্যালয়ের কর্মীরা জানান, দুই পরিচালক কোথায় আছেন, এ বিষয়ে তাঁরা কিছু জানাতে পারবেন না। মুঠোফোনেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারবেন না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত, এমন একটি সূত্র পরে জানায়, পরিচালকেরা এ বিষয়ে জানতেন না। ঢাকায় মঈন গনির কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও একই ধরনের সাড়া পাওয়া যায়। তাঁর কার্যালয়ের কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর থেকে মঈন গনি লন্ডনে আছেন। উত্তর–পশ্চিম লন্ডনের সার্কেলউড এলাকায় নাসিম আলীর বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
টিউলিপ সিদ্দিক ইতিমধ্যে বলেছেন, এই ফ্ল্যাটটি তাঁর বোন আজমিনার নামে। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গেও কথা বলা উচিত। তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে আজমিনা সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
![]() |
| টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক ঘণ্টায় এভালন এভিয়েশন দখল করেন তারিক সিদ্দিক by শরিফ রুবেল
এভালন সূত্রে জানা গেছে, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেটের অ্যাপ্রোন এরিয়ার ৮১০ বর্গফুট ও বোডিং ব্রিজের নিচে ১২০ বর্গফুট জায়গা ইজারা পায় এভালন এভিয়েশন। বাংলাদেশে তারাই প্রথম বিদেশি এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স এন্ড সার্ভিসিং সেবা চালু করে। অনুমোদন পাওয়ার পরে ২০০৯ সালের এপ্রিল থেকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বিদেশি বিমানের মেইনটেন্যান্স সেবা দিতো প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকার উপরে। প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ প্রকৌশলী ছিলেন বিদেশি। মেইনটেন্যান্স প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশও বিদেশে থেকে আমদানি করা হতো। মূলত এভালন এভিয়েশনের কাজ ছিল বিমানবন্দরে আসা বিভিন্ন দেশের পরিবহন ও যাত্রীবাহী বিমানের কারিগরি ত্রুটি পরীক্ষা- নিরীক্ষা করা। বিমান অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই এভালনের কর্মীরা এয়ারক্রাপ্টের ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি, ফুয়েল, ককপিট, ওয়াশরুম পর্যবেক্ষণ করে ছাড়পত্র দিতেন। প্রতিটি এয়ারক্রাফটের উড্ডয়নের আগে সব ধরনের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও মেরামত কাজ করেছে এভালন।
জানতে চাওয়া হলে এভালনের এডমিন অফিসার মাহমুদ হোসেন রাজু মানবজমিনকে বলেন, ঘটনার দিন তারিক সিদ্দিকির বন্ধু আলমগীর হোসেন নিজেই হ্যাঙ্গার গেটে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি ট্যাগ দিয়েই ৫০ থেকে ৬০ জন লোক এসে ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারি ১ ঘণ্টার মধ্যে এভালন এভিয়েশন দখল করে নেয়। সেদিন বহিরাগত বিপুলসংখ্যক লোক নিয়ে এভালনের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। মারধর করে বিমানবন্দর থেকে বের করে দেয়া হয়। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে এভালন অফিসে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুর করে। এর একটু পরে আমরা জানতে পারি তারা তারিক সিদ্দিকির বন্ধু বিএস টেকনিক্যাল সার্ভিসের ভাড়া করা লোকজন। পরে এভালনের অফিসে কোনো নোটিশ ছাড়াই তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। আমরা আমাদের মালামাল উদ্ধার ও যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বেবিচকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েও পাইনি। তারা জবাবে বলেছে উপরের নির্দেশ আছে। আমরা কিছু করতে পারবো না। উপর থেকে আদেশ এলে মালামাল ফেরত দেয়া হবে। তবে ৮ বছরে কিছু জানানো হয়নি।
এভালন বলছে, তাদের প্রতিষ্ঠান দখলের পরে ২ ঘণ্টার মধ্যে বিএস টেকনিক্যাল সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ওই জায়গার ইজারা দেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক তারিক সিদ্দিকির বন্ধু গ্রুপ ক্যাপ্টেন আলমগীর হোসেন। বিএস টেকনিক্যাল সার্ভিস মূলত তখন থেকেই এভালন এভিয়েশনের অফিস, গাড়ি, প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ ব্যবহার শুরু করেন। তারা উড়ে এসে রেডিমেট অফিসে বসে পড়ে। কোনো বিনিয়োগ করতে হয়নি বলে দাবি করেছেন এভালনের জেনারেল ম্যানেজার ওমর ফারুক। তাদের নতুন করে কিছু করতে হয়নি। শুধু বেবিচকের ছাড়পত্র নিয়ে দখল করা মালামাল দিয়েই তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ওখানে শুধুমাত্র এভালনের নামটি মুছে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি সবকিছুই বিএস টেকনিক্যাল ব্যবহার করেছে। এভালনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়ার সময় তারা তাদের কোনো মালামাল আনতে পারেনি। মালামাল ও যন্ত্রপাতির অনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এমনকি স্টাফদের ব্যবহৃত দুটি মাইক্রোবাসও ছিনতাই করে নেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক সাবেক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আলমগীরকে ২০০১ সালে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে বরখাস্ত করেছিল বিএনপি সরকার। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে তিনি আবারো চাকরি ফিরে পান। মূলত তারিক আহমেদ সিদ্দিক তাকে আবার বিমান বাহিনীতে ফিরিয়ে আনেন এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন বানান। আলমগীর হোসেন ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক দু’জনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আলমগীর তারিক সিদ্দিকীর সঙ্গে দেশ বিদেশ ভ্রমণ করেন। আর এভিয়েশন ও বিমান খাতের এমন কেউ নেই যে তাদের বন্ধুত্বের বিষয়ে জানেন না। এজন্য আলমগীর বিমানবন্দরে একচ্ছত্র ক্ষমতা খাটান। কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পান না। বিমান কর্তৃপক্ষও এই আলমগীরের কাছে অসহায় ছিলেন।
দখলের বিষয়ে এভালন এভিয়েশনের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ ওমর ফারুক মানবজমিনকে বলেন, আসলে ওরা প্ল্যান মাফিক কাজ করেছে। প্রথমে আমাদের ইজারা বাতিল করিয়েছে। পরে আমাদের ফরেন পার্টনারকেও ওরা বুঝিয়ে নিয়ে গেছে। তখন গাজীপুরের সাবেক এসপি হারুন অর রশিদ আমাদের সবচেয়ে বেশি হয়রানি করে। আমাকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। আমাকে নাশকতার পেন্ডিং মামলায় বাসা থেকে তুলে আনে পুলিশ। পরে থানায় এনে তৎকালীন জয়দেবপুর থানার ওসি মাহমুদুল হাসান ঘুষ দাবি করেন। ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। ২ থেকে ৩ দিন আমাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটক করে রেখে পরিবারের সদস্যদের চাপ দেয়া হয়। এটা ২০১৭ সালের জুন-জুলাই মাসে হবে। পরে ওসিকে আমার পরিবার ১ কোটি ১১ লাখ টাকা দেয়। পরদিন চোখ বন্ধ অবস্থায় আমাকে মাওনা ফেলে রেখে যায় পুলিশ। ওসি মাহমুদুলের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো। মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার শর্তে টাকা নিলেও পরে তা মানেনি। আরও কয়েকটি মামলা দিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে এই এভালনকে কেন্দ্র করেই করেছে। গাড়ি পোড়ানো, রাজনৈতিক মামলা। আমার নামে ৭টি মামলা ছিল। আমি কখনো রাজনীতি করিনি কিন্তু তারপরেও আমাকে এমন করা হয়েছে। আমি সহ এভালনের আরও ৩ জনের সঙ্গে এই কাজ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ ওমর ফারুক আরও বলেন, এভালন এভিয়েশন লিমিটেডের এমডি এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি বিএনপি নেতা গাজীপুর সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের পুত্র। প্রতিষ্ঠান মালিকের রাজনৈতিক পরিচয়ই তারিক সিদ্দিকির ভালো লাগেনি। এজন্য তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে দিয়ে নানা সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। এভালন বন্ধ করতে এমন কোনো কাজ নেই যা তারিক সিদ্দিক করেননি। আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নাশকতার পেন্ডিং মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তবুও আমরা বিমানবন্দর ছেড়ে আসিনি। পরে তারেক সিদ্দিকির নির্দেশনায় তার ব্যবসায়িক পার্টনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) আলমগীর হোসাইন ও সিভিল এভিয়েশনের তৎকালীন তাদের দোসর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮নং হ্যাঙ্গার গেটস্থ এভালন এভিয়েশন লিমিটেডের আসবাবপত্র, মেরামত কাজে ব্যবহৃত টুলস অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ও ২টি গাড়িসহ পুরো প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিয়ে নেন। তারা আমোদের মারধর করে বের করে দেন।
এভিয়েশন দখলের পরে নির্যাতন থামেনি উল্লেখ করে ওমর ফারুক বলেন, ডিবি প্রধান হারুনকে দিয়ে বারিধারাস্থ অফিস থেকে আমাকে গ্রেপ্তার পূর্বক শারীরিক নির্যাতন করে। তখন আমাদের অফিস তছনছ করা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বর্তমানে আমরা এই দখল বাণিজ্যে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
অভিযোগের বিষয়ে তারিক সিদ্দিকির বন্ধু বিএস টেকনিক্যাল সার্ভিসের মালিক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আলমগীর হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে তার বনানীর বাসা বাড়ি নং-৯৫, রোড নং-৬, ব্লক সি’তে গেলে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন তাও কেউ বলতে পারেনি। তার মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
মানা হয়নি উচ্চ আদালতের আদেশ: দখলের পরের মাসেই বাংলাদেশ বেসমামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এভালন এভিয়েশনের ইজারা বাতিল করে এভালন কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগ হতে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আপনারা অত্র কর্তৃপক্ষের অনুমতি এএমও, এমআরও নীতিমালা অনুসরণ না করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য এফএসআর বিভাগের অনুমতিপত্র ছাড়া ইজারা নবায়ন করা যাচ্ছে না। পরে এফএসআর বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এভালন কর্তৃপক্ষ তাদের ইজারা ফেরত পাননি। সেইসঙ্গে তাদের দখল হওয়া মালামালও ফেরত পায়নি। পরে ওই বছরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বেআইনি কর্মকাণ্ড ও দখল হওয়া মালামাল ফেরত চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়। পিটিশন নম্বর ৫৬৯/১৭। পরে শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ দখল হওয়া এভালন এভিয়েশনের জায়গায় উপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এবং ওই জমি অন্য কাউকে ইজারা না দিতে আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশ মানা হয়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্পষ্ট ডাকাতি অন্য কিছু নয়, টিউলিপ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস
টিউলিপের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তের জোরালো আবেদন জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ওই অর্থনীতিবিদ। বলেছেন, টিউলিপের মালিকানাধীন সকল বাড়ির তদন্ত করা হোক। টিউলিপকে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস। এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের কাছে টিউলিপকে বরখাস্ত করার আবেদন জানিয়েছেন বৃটেনের অন্যতম বিরোধী দল কনজারভেটিভ দলের নেতা কেমি ব্যাডেনোচ। বলেছেন, টিউলিপের নিজের তদন্তের আহ্বানকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছেন স্টারমার। নিজ মন্ত্রীর ওপর স্টারমারের দুর্বলতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কেমি। তিনি বলেন, টিউলিপের দুর্বল নেতৃত্ব থেকে বোঝা যায় তিনি সততার বিষয়ে ততটা চিন্তিত নন, যতটা তিনি দাবি করছেন।
ড. ইউনূসের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনো মন্তব্য করেনি দশ নং ডাউনিং স্ট্রিট। এ বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন লেবার পার্টির এমপিরা। কেন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে এত সময় নিলেন স্টারমার- এমন প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ। সমালোচকরা সাবেক পরিবহনমন্ত্রী লুইস হাইয়ের সঙ্গে একটি বৈপরীত্য তুলে ধরেন। যিনি খুব সামান্য দোষী সাব্যস্ত হয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন। স্টারমার এবং টিউলিপ একে-অপরের বন্ধু। তাদের নির্বাচনী এলাকা একদম পাশাপাশি। সমপ্রতি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের বৃটেন শাখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্য বেশ সমালোচিত হয়েছেন স্টারমার।
সানডে টাইমসের তদন্তে দেখা গেছে, পানামা পেপার্সে নাম থাকা অফশোর কোম্পানির কেনা হ্যাম্পস্টেডের একটি ফ্ল্যাটে বছরের পর বছর ধরে বাস করেছেন টিউলিপ। দুই বাংলাদেশি আবাসন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। রাশিয়ার কোম্পানি পরিচালিত রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে হাসিনা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ৪২ বছর বয়সী টিউলিপের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেটের এমপি। টিউলিপ এবং তার পরিবারের নামে লন্ডনে আরও পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে যেগুলোর প্রতিটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে সানডে টাইমসের সঙ্গে কথা বলার সময় ড. ইউনূস বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ হওয়াটা একধরনের ‘বিদ্রূপ’। একদিকে তিনি দুর্নীতি দমন মন্ত্রী আবার অন্যদিকে তিনি লন্ডনে নিজ সম্পত্তির বিষয়ে নিজেকে রক্ষা করছেন। টিউলিপকে উদ্দেশ্য করে ড. ইউনূস বলেন, ‘প্রথমে হয়তো আপনি এটা বুঝতে পারেননি, এখন বুঝতে পারছেন। তখন আপনি বলবেন- দুঃখিত, আমি তখন জানতাম না। এখন জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি এবং এটা করার জন্য পদত্যাগ করছি।’ দোষ স্বীকার না করে টিউলিপ এখন নিজেকে রক্ষা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তবে টিউলিপকে পদত্যাগ করতে বলা তার কাজ নয় বলে স্বীকার করেছেন ড. ইউনূস।
সমপ্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকা পাচার করে একটি গোষ্ঠী। পাচারকৃত এসব অর্থের মাধ্যমেই তারা দেশের বাইরে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। ড. ইউনূস বলেন, এ বিষয়ে বলা হয় যে, তারা চুরি করেছে। আসলে এটা চুরি নয়। এটা সুস্পষ্ট ডাকাতি। তার যুক্তি হচ্ছে- চুরি করলে মানুষ তা লুকিয়ে রাখেন।
লন্ডনে শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে তার ওই মন্তব্য প্রযোজ্য কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ওই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘অবশ্যই, এটা স্পষ্ট ডাকাতি। অন্য কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি বৃটেনের কোনো মন্ত্রী এভাবে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে এটি অবশ্যই একটি বড় বিষয়। আগের শাসন ব্যবস্থা সবকিছু কেড়ে নিতে অভ্যস্ত ছিল। তবে এখন স্বস্তি পাচ্ছি আপনারা এ বিষয়গুলো বিশ্বের নজরে আনছেন।’
৮৪ বছর বয়সী ড. ইউনূসের আনুষ্ঠানিক পদবি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি এ বছর বা আগামী বছর নির্বাচনের পর পদত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দুর্নীতি বাংলাদেশকে ‘দূষিত’ করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দুর্নীতির মাত্রা সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, ‘দূষিত শব্দটি খুব হালকা শব্দ। বলা চলে দেশটি পুরো ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসিনার আমলে সততা কী এ বিষয়ে কোনো ধারণাই ছিল না। আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে দুর্নীতিকেই পেয়েছি।’
টিউলিপের সম্পত্তি দুদকের তদন্ত করা উচিত কিনা তা জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, অবশ্যই। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা উচিত। ড. ইউনূস আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্য কীভাবে সেসব অবৈধ সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। তিনি মনে করেন আওয়ামী ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদ ফেরত দেয়া উচিত। কেননা এগুলো সাধারণ মানুষের অর্থ। বৃটেনের মাটিতে এমন ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন ড. ইউনূস। টিউলিপের বিরুদ্ধে এবারই প্রথম মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। এতে মন্ত্রীর পদ থেকে টিউলিপের ওপর পদত্যাগের চাপ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে উল্লেখ করেছে সানডে টাইমস।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকায় ভারত বেড়া নির্মাণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে
কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের ভেতরে একটা আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিজিবি শক্ত অবস্থান নেয়ায় ভারত এই জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখানে একটা বড় সমস্যা হচ্ছে- আগের সরকার যেহেতু কিছু কিছু জায়গায় লিখিত দিয়ে গেছে। এই জায়গায় এটা করতে পারবে, ওই জায়গায় ওইটা করতে পারবে। যেগুলো তাদের দেয়া উচিত হয়নি। উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিজিবির সঙ্গে আমাদের জনগণ খুব শক্ত অবস্থান নেয়ায় অন্য জায়গাগুলোতে তারা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তাদের এ শক্ত অবস্থানের জন্য বিজিবি এবং বাংলাদেশের জনগণকে আমি অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। স্থানীয় সাংবাদিকরা আমাদের এক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দু’একদিনের মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে বসতে পারে, এটার ব্যাপারে কী করবেন সে বিষয়ে। সীমান্তে এখন কি অবস্থা- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, কাজ বন্ধ আছে। যে কয়টা জায়গায় কাজ শুরু হয়েছিল সব জায়গায় বন্ধ আছে। আমরা এই কাজগুলো করতে দেবো না।
লালমনিরহাটের তিন বিঘা করিডোরে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭৪ সালে যখন বেরুবাড়ী চুক্তি হয়েছে। তখন আমরা বেরুবাড়ী দিয়ে দিয়েছি। আমাদের সংসদ সেটা অনুসমর্থন করেছে। কিন্তু তিন বিঘা করিডোরে যাওয়ার জন্য আমাদের প্যাসেজটা দেয়ার কথা ছিল ভারতের। এটা সারা জীবনের জন্য তারা আমাদের দিয়ে দেবে। আমরা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারা সংসদে অনুসমর্থন করেননি। জায়গাটা আমাদের দেয়নি।
একঘণ্টা খুলে আবর একঘণ্টা বন্ধ রাখতো। ৬ ঘণ্টা খুলতো, ৬ ঘণ্টা বন্ধ রাখতো। রাতে পুরোটাই বন্ধ থাকতো। ২০১০ সালে একটি চুক্তি হয়, সেখানে বলা হয় করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। আমরা ব্যবহার করতে পারবো। তার পরিবর্তে একটা বিরাট ঝামেলা করেছে যে, আঙ্গরপোতা-দহগ্রামে আমাদের যে জায়গাটি সেখানে জিরো লাইনের ওপরে তারা কাঁটাতারের বেড়া দিতে পারবে। যেখানে বলা আছে ১৫০ গজের মধ্যে করতে পারবে না। এজন্য সেখানে বড় ধরনের একটি সমস্যা হচ্ছে। তারা সেখানে বেড়া নির্মাণ করতে গেলে আমরা বাধা দেই। কিন্তু আইনগতভাবে বাধা দেয়ার এখতিয়ার নেই। যেহেতু আমরা ইতিমধ্যে সাইন করেছি। আমরা যদি সেখানে বেশি কঠোর হই তারা আবার প্রবেশের ক্ষেত্রে ঝামেলা করবে। এ বিষয়ে আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারিতে বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক আছে। এগুলো নিয়ে আলোচনা হবে যাতে কাজগুলো বন্ধ করা যায়। সীমান্তে আমরা শক্তি বাড়াচ্ছি কিনা- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বর্ডারে আমাদের প্রচুর শক্তি আছে। জনগণ হলো আমার বড় শক্তি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। আমাদের জায়গা দেবো না আমরা তো কঠোরই। তারা তো বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা করার চেষ্টা করবে। আমরা যেভাবেই হোক কৌশলে সেই সমস্যার সমাধান করবো। গত সরকার কিছু সুবিধা দিয়ে ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি করেছে সেই সুবিধাগুলো বাতিল করা হবে কিনা- এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এজন্যই তো আমাদের বিজিবি মহাপরিচালক ফেব্রুয়ারি মাসে যাচ্ছেন। আমরা তাদের একটি চিঠিও দেবো। যে অসম চুক্তিগুলো হয়েছে সেগুলো যাতে বাদ দেয়া যায়। এই সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাবাদী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এলিফ্যান্ট রোডে একজন ব্যবসায়ীকে কোপানো হয়েছে। এসব ঘটনা ছড়িয়ে পড়ছে- দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মাঝে মাঝে ঘটনা ঘটছে। আগে এত মিডিয়া ছিল না, এখন একটা আওয়াজ হলে আপনারা জেনে যান। আগে এত জানাজানি হতো না। আপনারা এসব জানাচ্ছেন বলে আমরা উপকৃত হচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি। যদি আপনারা না জানাতেন হয়তো আরও বেড়ে যেতো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাত্র-জনতার ওপর নানা ভঙ্গিমায় টার্গেট করে গুলি চালায় সুজন
সূত্র জানায়, উত্তরা থেকে পুলিশ কনস্টেবল সুজনকে ৫ই আগস্ট চানখাঁরপুলে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার ওপর খুব ঠাণ্ডা মাথায় গুলি চালায়। খুব আরাম-আয়েশ করে, ভাবভঙ্গি নিয়ে গুলি করার কারণে সাতজন মারা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চানখাঁরপুলে বোরহানউদ্দিন কলেজের পাশে সুজন হোসেনকে কখনো দাঁড়িয়ে বা কখনো শুয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করতে দেখা গেছে, যা ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ওই এলাকার মানুষকে নিশানা করে গুলি করছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। তাদের মধ্যে এপিবিএন-১৩ সদস্য কনস্টেবল সুজন অন্যতম ভঙ্গিমায় গুলি চালায়। তৎকালীন রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আখতার হোসেনকে পাশে থেকে নির্দেশনা দিতে দেখা যায়।
গতকাল চানখাঁরপুলে সাতজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গণহত্যার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য মো. সুজন হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখায় এবং ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিডিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন- চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। পরে ট্রাইব্যুনালের সামনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-জনতার কর্মসূচি চলাকালে ৫ই আগস্ট চানখাঁরপুলে খুব আয়েশ ভাবভঙ্গি নিয়ে গুলি চালিয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল সুজন হোসেন। এ সময় তাকে খুবই ঠাণ্ডা মাথায় গুলি চালাতে দেখা যায়। এ সময় তার গুলিতে সাতজন নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, এটাকে তিনি পারসোনালি নিয়েছিলেন। প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ বলেন, রাজধানীর চানখাঁরপুলে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ সুজন হোসেনকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টমূলে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন শুনানি শেষে আসামি সুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইভিএম প্রকল্পে গচ্চা চার হাজার কোটি by মো. আল-আমিন
এর আগে ত্রয়োদশ নির্বাচন যে কেবলই ব্যালট পেপারের মাধ্যমে হবে তাও স্পষ্ট করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গত শনিবার সিলেটে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে হবে না, এটা পরিষ্কার। আগামী জাতীয় নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও। কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার করা হবে না।
ইভিএম প্রকল্প যেভাবে নেয়া হয়: ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন দেশের ভোট ব্যবস্থায় ইভিএমের ব্যবহার শুরু করে। সে সময় তারা বুয়েট থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে যন্ত্র তৈরি করে নেয়। ওই কমিশনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশনও ভোট যন্ত্রটি ব্যবহার করে। তবে ২০১৫ সালে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে একটি মেশিন অচল হয়ে পড়ায় তা আর ব্যবহার উপযোগী করতে পারেনি রকিব কমিশন। পরবর্তী সময়ে তারা বুয়েটের তৈরি স্বল্প মূল্যের ওই মেশিনগুলো পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত দিয়ে উন্নতমানের ইভিএম তৈরির পরিকল্পনা রেখে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে কেএম নূরুল হুদার কমিশন এসে বুয়েটের তৈরি ইভিএমের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি দামে মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কাছ থেকে মেশিনপ্রতি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকায় দেড় লাখের মতো ইভিএম ক্রয় করে। কিন্তু পাঁচ বছর পার না হতেই ৯০ ভাগ ইভিএম অকেজো হয়ে পড়ে।
ইভিএমকেন্দ্রিক লুটপাট থেকে পিছিয়ে থাকতে চায়নি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পদত্যাগ করা কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনও। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে শুরুতে দেড়শ আসনে ইভিএমে ভোট করার পরিকল্পনা নেয় তারা। সেজন্য নির্বাচন সামনে রেখে অকেজো মেশিন মেরামত, সংরক্ষণ প্রভৃতির জন্য তারা ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দেয় সরকারের কাছে। তবে ওই সময় চরম অর্থনৈতিক সংকট থাকায় সরকার সেটি নাকচ করে দিতে বাধ্য হয়। তবে বড় প্রকল্প বাতিল হয়ে গেলেও বসে থাকেনি কমিশন। ফলে হাতে থাকা পুরোনো ইভিএমগুলো সচল রাখতে আবারো ১ হাজার ২৫৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার চাহিদাপত্র দেয় আউয়াল কমিশন। ইভিএম মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি চালাচালি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পরও ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে চরম হতাশ হয় সংস্থাটি। আর ৭ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কোনো আসনেই ইভিএমে ভোট গ্রহণ না করে সব আসনেই ব্যালটে ভোট নেয়া হয়। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ইভিএমগুলো বর্তমানে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘৫ মাসেও সরকার চমক দেখাতে পারেন নাই’ জুলাই ঘোষণা নিয়ে মাঠে ছাত্ররা, দ্বিধায় সরকার
এ ছাড়া জটিলতা নিরসন করে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে আহত ও নিহতদের পরিবারকে দ্রুত সহায়তা প্রদান করতে হবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে, গণঅভ্যুত্থানের জন্য সম্পূর্র্ণ পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে এবং সকল দাবিগুলো সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের আহত শিক্ষার্থী মো. তৌফিক শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাজমুল হাসানসহ আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যরা।
জুলাই ঘোষণা নিয়ে মাঠে ছাত্ররা, দ্বিধায় সরকার
ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের চার মাস পর আন্দোলনকারীরা জুলাই বিপ্লবের ঘোষণার বিষয়টি সামনে আনেন। শুরুতে সরকার থেকে বলা হয়, এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটিকে যেন একটি বেসরকারি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর ৩০শে ডিসেম্বর সরকার জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা প্রস্তুতের কথা জানায়। ছাত্ররা সরকারে আস্থা রেখে বিপ্লবের ঘোষণা থেকে সরে আসে। কিন্তু এর জন্য সরকারকে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ছাত্রদের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হচ্ছে আগামী পরশু। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সরকার জুলাই বিপ্লব ঘোষণা করবে না তারা কেবল সহায়তা করবে। এরপর নতুন করে আলোচনা সরকার আসলে কী করতে চাইছে। সরকার জুলাই বিপ্লব নিয়ে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কারও সঙ্গে বসা হয়নি। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা নিয়ে জনমত তৈরি করতে মাঠে নেমেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। আর বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রেখেছে। সবমিলিয়ে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা নিয়ে অস্পষ্টতা কাটেনি।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন শনিবার বলেন, সরকারের আশ্বাসে গত ৩১শে ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র পাঠ স্থগিত রাখা হয়। সরকারের তরফ থেকে আগের রাতে আশ্বস্ত করা হয় যে সরকার সব রাজনৈতিক পক্ষ ও অন্যদের সঙ্গে বসে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র জারি করবে। পরদিন সরকারকে ১৫ই জানুয়ারির মধ্যে ঘোষণাপত্র জারির কাজটি শেষ করতে আহ্বান জানানো হয়। তবে সরকার এখন পর্যন্ত তেমন কিছু জানায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল ১৫ই জানুয়ারির মধ্যে ঘোষণাপত্র তৈরি করা। তবে এই সময় কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করা হবে। সরকার কোনো ঘোষণাপত্র দেবে না। এটি আসবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবনা এবং সব রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এজন্য শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু হবে। তিনি বলেন, সরকার যখন অনুভব করলো বিষয়টি শুধু ছাত্রদের দিক থেকে গেলে সেটি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ফলে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করা হবে। অন্যদিকে সরকারের সময় নেয়ার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করার আহ্বান জানাই। আর যদি অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর সবাই মিলে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠন আব্দুল হান্নান মাসুদ দাবি করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র যাতে না হয়, সেজন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৫ই জানুয়ারির মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশে আমাদের পক্ষ থেকে সরকারকে একটা আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। তার আলোকে আমরা মাঠে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা মানুষের কাছ থেকে মেসেজ নিতে এসেছি, তারা আগামীর বাংলাদেশ কেমন দেখতে চাচ্ছেন? আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাদের স্বপ্ন কী, সেটা জানতে এসেছি। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই বাংলাদেশে তারা কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে চাচ্ছেন, সেটা আমরা জানতে এসেছি। তাদের চাওয়াটা যাতে আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, সেজন্য আমরা তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন মেসেজ নিয়ে যাচ্ছি। যে মানুষগুলো আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন, তাদের আগামীতেও আমরা পাশে চাচ্ছি, যাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতিতে কেউ বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। ১০ই জানুয়ারি ভোলায় জনসংযোগকালে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠন সারজিস আলম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ যেন কয়েকজনের কথা না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এই ঘোষণাপত্রে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার শ্রমিক, মেহনতি মানুষের আত্মত্যাগের কথা উঠিয়ে আনতে হবে। এটি যেন কয়েকজনের কথা না হয়। তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের জনগণ একটি নজিরবিহীন ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়া শাসনের অধীন চরম জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছে। বাংলার মানুষ হাতে হাত রেখে বাংলার মাটিতে লড়াই করে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে বিদায় করেছে। সেজন্য বাংলার জনগণ সরকারের কাছে অবিলম্বে ২৪’র অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে সবার আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিচার দেখতে চায়।
অন্যদিকে জুলাই বিপ্লব নিয়ে সরকার আসলে কী করছে তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলা হলেও সেটি এখনো দৃশ্যমান নয়। কবে নাগাদ হবে তাও অজানা সবার কাছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ বিষয়ে কথা বলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি সরকার কী করছে তাও প্রকাশ করা হচ্ছে না। গতকাল এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে নতুন করে কিছু অ্যাড করার নেই। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা যা বলেছেন সেটিই সরকারের বক্তব্য।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
January
(191)
-
▼
Jan 13
(9)
- টিউলিপ যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী...
- শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গর্বিত টিউলিপ সিদ্দিক
- লন্ডনে টিউলিপের ব্যবহৃত সেই ফ্ল্যাট কেনা হয় অফশোর ...
- এক ঘণ্টায় এভালন এভিয়েশন দখল করেন তারিক সিদ্দিক by ...
- স্পষ্ট ডাকাতি অন্য কিছু নয়, টিউলিপ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস
- বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকায় ভারত বেড়া নির্মাণ বন্ধ ...
- ছাত্র-জনতার ওপর নানা ভঙ্গিমায় টার্গেট করে গুলি চাল...
- ইভিএম প্রকল্পে গচ্চা চার হাজার কোটি by মো. আল-আমিন
- ‘৫ মাসেও সরকার চমক দেখাতে পারেন নাই’ জুলাই ঘোষণা ন...
-
▼
Jan 13
(9)
-
▼
January
(191)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
