Wednesday, January 5, 2011

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি by এম হাফিজউদ্দিন খান

শুরু হলো নতুন বছর। শেষ হলো ২০১০ সাল। আর দুই দিন পর বর্তমান সরকারের দুই বছর পূর্ণ হবে। এই দুই বছরের সালতামামি করলে দেখা যাবে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের বেশ কিছু অর্জন রয়েছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় ব্যর্থতাও রয়ে গেছে। অর্জনের মধ্যে আমরা অবশ্যই বলতে পারি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচার শেষ হয়েছে এবং বিচারের রায় আংশিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। যাঁদের ধরা সম্ভব হয়েছে, তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। অন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে বলে আমরা শুনেছি। আমরা চাই, তাঁদের ফিরিয়ে এনে সবার শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আরেকটা হলো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছিল, সেটা এখন বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা এরও সাফল্য কামনা করি। শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় কাজ হয়েছে। নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেটা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সমস্যা রয়েছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, রেমিট্যান্স আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। মানবসম্পদ রপ্তানির হার তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে। আমাদের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো পোশাক খাত, যেখানে অস্থিরতা ছিল, আছে এবং মনে হচ্ছে, আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ব্যালান্স অব পেমেন্টে কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ রয়ে গেছে, উল্লেযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার হার কমেনি, যা ছিল তাই-ই রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভালো, কিন্তু সমস্যাও আছে। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আশাব্যঞ্জক নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য দেশি-বিদেশি যে পরিমাণ অর্থ লগ্নি করা প্রয়োজন, তার পুরোটা জোগানও সম্ভব হয়নি। গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যাও চরমে। হয়তো পাইপলাইনে অনেক প্রকল্প রয়েছে, কিন্তু তার বেশির ভাগই ভাড়ায়, যা নিয়ে বিতর্ক আছে। ছোটখাটো বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যতটা উন্নতি হয়েছে, চাহিদা তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি। আমার ধারণা, বিদ্যুতের চাহিদা সম্পর্কে সঠিক কোনো হিসাব আমাদের দেশে করা হয়নি। এখন তো সব ধরনের সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে, যার মধ্য দিয়ে চাহিদাকেও আটকে রাখা হয়েছে। কয়লা-গ্যাস উত্তোলনের জন্য একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এসব সমস্যা থেকে কীভাবে উত্তরণ সম্ভব, সেটা ভেবে দেখা দরকার।
অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণ মানুষ যে কষ্টে রয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা সফল হয়নি। সিন্ডিকেট ভাঙার কথা শুনে আসছি বহু আগে থেকে, কিন্তু ভাঙার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা দায়ী; পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা দায়ী। সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে অনেক কিছু বলা হচ্ছে, কিন্তু তা ভোক্তাদের কোনো উপকারে আসছে না, বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ, তাদের কষ্ট রয়েই গেছে।
সালতামামিতে যে কথাটা গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই, সেটা হলো—সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার, বিশেষ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে পাঁচটি অঙ্গীকারকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। প্রতিদিনই বাড়ছে এই সমস্যা।
দুর্নীতিবিরোধী অনেক কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু গত দুই বছরে এ নিয়ে তেমন কোনো কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। বরং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে অঘোষিতভাবে স্থবির করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের পূর্ববর্তী স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া রাঘববোয়াল বলে যাঁরা পরিচিত, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগও নেই। দুদকে যেকোনো মামলায় শাস্তি হলে সেটা হাইকোর্ট বা অ্যাপিলেট ডিভিশন পর্যন্ত গড়ায়। সেখানে অনেক দীর্ঘসূত্রতা থাকে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা না হলে দুদককে কার্যকর করা যাবে না। এ কথা অবশ্য দুদকের চেয়ারম্যান নিজেও বলেছেন। সুতরাং দুদককে কার্যকর করতে হলে সংস্কার জরুরি। এর সঙ্গে কিছু আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যবস্থা দরকার। যেমন—সংবিধানের ৭৭ ধারায় ন্যায়পালের কথা বলা হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। কর ন্যায়পাল আলোর মুখ দেখলেও কদিন পর তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। কেন এমন করা হলো, তা জানা গেল না। দ্রুততম সময়ে সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন ভালো দিক, যার মধ্যে কয়েকটি বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এসব কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দেখভালের জন্য মনিটরিং-ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। অনেকগুলো অডিট রিপোর্টের বাস্তবায়ন ঘটেনি, যা করা জরুরি। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের যে অঙ্গীকার ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে আসে আইনের শাসন। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি, আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচার বিভাগের কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে হবে। বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের পৃথক্করণ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে অনেক অভিযোগ উঠেছে। জনমত জরিপও তাদের বিপক্ষে গেছে। র‌্যাব সম্পর্কে বিদেশি সংস্থাগুলো থেকেও অনেক কথা বলা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অনেক হয়েছে। এর পরও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যদি উন্নতি হতো, তাহলেও জনগণকে কিছু একটা বলা যেত। রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় সন্ত্রাস হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন।সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়ের মধ্যে ৫.২-তে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। এটি করতে গেলে একটা জিনিস অত্যন্ত জরুরি, সেটা হলো উচ্চতর আদালতের নিয়োগ-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী যে প্রক্রিয়া রয়েছে, অর্থাৎ বিচার বিভাগে চাকরিতে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা ১০ বছর ওকালতি করার অভিজ্ঞতা। এই যোগ্যতা থাকলে কোনো ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হন। অথচ ১০ বছর চাকরি করে সরকারের অন্যত্র ডেপুটি সেক্রেটারিও হওয়া যায় না। ১০ বছরের অভিজ্ঞতা কী ধরনের, সেটাও পরিষ্কার নয়। আইনজীবী হিসেবে তাঁর দক্ষতা-সততা দেখার ব্যবস্থা নেই। এখানে বরাবরই দলীয় রাজনৈতিক আনুগত্য প্রাধান্য পেয়ে আসছে। তাই বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়নি।
এরপর ৫.৩-এ উল্লেখ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা, সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কদিন আগে অবশ্য মাননীয় প্রধান বিচারপতি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর সম্পদের পরিমাণ ও আয়ের উৎসের বিবরণ মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছেন। সেই পদাঙ্ক যদি অন্যরা অনুসরণ করেন, তাহলে ভালো হয়। শুধু মন্ত্রী এমপি নন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ যাঁরা আছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই এই প্রক্রিয়ার মধ্যে নেওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা হবে বলে ইশতেহারে বলা থাকলেও বাস্তবতা হলো, দলীয়করণ আরও বেড়েছে। প্রশাসনের সর্বত্র দলীয়করণ করা হয়েছে। অনেক ভালো, সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি—এগুলোকে একটি স্বচ্ছ নীতিমালার ওপর দাঁড় করাতে হবে। সরকার নিজেই বলছে প্রশাসন স্থবির। কিন্তু তার কারণ কেউ খুঁজে দেখছেন না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কার নিয়ে ইউএনডিপির সহায়তায় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সেটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না, আমরা কিছুই জানি না। যদি না হয়, তা জনগণকে জানাতে হবে। এখানে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দূর করতে হবে। অন্যথায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না।
সুশাসনে আরও একটি অন্তরায় হলো, এখন দেশের প্রশাসন পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত হয়েছে রাজধানীতে। এভাবে একটি দেশের গণতান্ত্রিক সরকার চলতে পারে না। গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো স্থানীয় সরকার, যা খুবই দুর্বল। উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।
ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ অনেক দিন আগে পার হলেও সেখানে নির্বাচন হচ্ছে না। সম্প্রতি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পৌরসভা নির্বাচনের, তা-ও মেয়াদ পূরণের চার বছর পর। ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন কবে নাগাদ হবে, তা জানা যাচ্ছে না। সরকারের তরফ থেকেও এ সম্পর্কে কিছুই বলা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার না থাকলে দেশে গণতন্ত্র থাকে না, নেতৃত্বের বিকাশও ঘটে না। সংবিধানে জেলা পরিষদের বিধান থাকলেও তা ৪০ বছরে কার্যকর হয়নি। সবকিছু আইনে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়িত হচ্ছে না। উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাংসদদের মধ্যে তীব্র বিরোধ মেটানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর মধ্য দিয়ে আমরা সংবিধানকে উপেক্ষা করছি।
আরেকটি জায়গায় আমাদের অবনতি লক্ষণীয়—গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন হলেই গণতন্ত্র রক্ষা পায় না। একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি উপাদান মাত্র। আমাদের সংসদকে সব সময়ই অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। বিরোধী দল সংসদে যাচ্ছে না। এর পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে এমনও নয়। বিরূপ পরিস্থিতি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকেও আন্তরিক কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও মনে হয় না। বিরোধী দলের সদস্যরা যদি মনে করেন, তাঁরা সংসদে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না, তাহলে তাঁদের উচিত হবে সংসদ থেকে পদত্যাগ করা। সংসদে যাবও না, আবার পদত্যাগও করব না—এটা কোনোভাবেই যৌক্তিক কথা নয়।
সন্দেহ নেই, বিরোধী দলের ওপর কিছু নির্যাতন-নিপীড়নও হচ্ছে। রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা কমে যাচ্ছে, বাড়ছে সংঘাত। একের বিরুদ্ধে অপরের অপপ্রচার, কুৎসা, কুরুচিকর বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা পুরোমাত্রায় রয়ে গেছে। যেমন—ইদানীং বলা হচ্ছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের অনুচর ছিলেন। তাঁকে নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষকের বিতর্ক অপসৃত হয়েছে। আমরাও আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু এ কথা সত্যি, জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা। বীর উত্তম উপাধি তাঁকে জাতির জনকই দিয়েছেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন জাতির জনকের কাছ থেকেই। তিনি যদি পাকিস্তানের অনুচর হয়ে থাকেন, তাহলে সেটা প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণযোগ্য দালিলিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে। অথচ মন্ত্রিসভার সদস্যদের মুখ থেকেই এ ধরনের কথা উচ্চারিত হয়, যা কোনোভাবেই শোভনীয় নয়।আরেকটি জিনিস দেখা যাচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এক-এগারো থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। রাজনীতিতে যে রকম গুণগত পরিবর্তন আমরা আশা করেছিলাম, তার কিছুই হয়নি। নির্বাচন কমিশন কিছু কিছু ভালো কাজ করেছিল। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বেশ কিছু ভালো সংস্কার করা হয়েছিল, তা-ও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। যেমন—সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন হতে হবে একেবারে তৃণমূল থেকে। নির্বাচনী ব্যয় জমা দেওয়া এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি। জনসাধারণের মতামতের প্রতিফলন যেমন ঘটে না, তেমনই সব দলের সমান অংশগ্রহণ ও মতামত নেওয়ার ব্যাপারটি আজও দুরাশা রয়ে গেছে।
এম হাফিজউদ্দিন খান: চেয়ারম্যান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি); তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

সমৃদ্ধি বাড়াতে চাই সুশাসন ও সক্ষমতা by মামুন রশীদ

কিছুদিন আগে আমেরিকা সফরকালে আমার ছোটবেলার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। অন্য অনেক প্রবাসীর মতো আমার এই বন্ধুও আধুনিক ইন্টারনেট বা অনলাইন-সুবিধার বদৌলতে দেশের সব খোঁজখবরই রাখেন। সে জন্যই হয়তো দেশের প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁকে বেশ উত্তেজিত দেখাল। ইভ টিজিংয়ের জের ধরে হত্যা-খুন, ঈদ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের শহর থেকে গ্রামের বাড়ি কিংবা এক শহর থেকে আরেক শহরে যাওয়ার সময় পরিবহন-সংকটজনিত তীব্র ভোগান্তির শিকার হওয়া, অহর্নিশ সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবেশদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি প্রভৃতিসহ সাম্প্রতিক কালের আরও অনেক নেতিবাচক খবরের কারণেই মূলত আমার বন্ধু উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন। এ ধরনের নেতিবাচক খবর জেনে তাঁর হয়তো মনে হয়ে থাকতে পারে, দেশে প্রিয়জনেরা যেন এক দুঃস্বপ্নের মধ্যেই বসবাস করছেন। তা সত্ত্বেও আমি জানালাম, আমি বাংলাদেশকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী। বন্ধু তখন অভিযোগের সুরে তাঁর শেষ প্রশ্নটি ছুড়ে দিল, ‘এত সব নেতিবাচক খবরের মধ্যেও বাংলাদেশ সম্পর্কে তুমি কীভাবে আশাবাদী থাকো?’ জবাবে আমি নরম গলায় তাঁকে জানালাম, পর্যটনবিষয়ক খ্যাতনামা জার্নাল লোনলি প্ল্যানেট ২০১১ সালের সেরা ১০ ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকায় বাংলাদেশকে রীতিমতো পুরোভাগেই রেখেছে। জার্নালটি বাংলাদেশের মানুষের আতিথ্যপরায়ণতার প্রশংসার পাশাপাশি একেবারে নতুন নতুন কিছু পর্যটনকেন্দ্রের নামও তুলে ধরেছে।আবারও বলছি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। যদিও এখানে অনেক সমস্যাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের প্রায়ই বলা একটি কথা মনে পড়ছে, ‘এক লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি দেশে ১৬ কোটি মানুষকে ম্যানেজ করা বা পরিচালনা করাটাই একটা চ্যালেঞ্জ।’ আমাদের প্রিয় দেশটি হাজারো চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষক, পোশাকশ্রমিক ও প্রবাসে কর্মরত নাগরিকেরা, যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে।শিল্পোদ্যোগের চেতনা: বাংলাদেশের মতো একটি বিকাশমান অর্থনীতিতে শিল্প স্থাপনে যুব সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা খুবই জরুরি। কারণ, বাংলাদেশে তরুণ-যুবাদের সংখ্যা বিশাল, যাঁদের গড় বয়স ২৩ বছর। বৃহত্তর এই যুবসমাজকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পুঁজির জোগান দিয়ে এবং দক্ষতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে, যাতে দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।এটি বেশ আনন্দের যে দেশে এখন এমন তরুণ-যুবাও আছেন, যাঁরা উচ্চ বেতনে বহুজাতিক কোম্পানিতে যোগ না দিয়ে বাপ-দাদার স্বপ্নের প্রকল্প বা কোম্পানির সঙ্গে জড়িত হচ্ছেন। নারীরাও অধিক হারে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছেন। এতে সংসারে নারী-পুরুষের যৌথ আয়-উপার্জনের প্রবণতা বাড়ছে। বর্তমান সময়ে জীবনসঙ্গিনীর আয়-উপার্জনের সুবাদে কিছুটা আর্থিক সমর্থন পেলে পুরুষদের পক্ষেও এগিয়ে যাওয়া সহজতর হয়। দেশে শ্রমশক্তি তথা যুবসমাজের একটি অংশ কিন্তু এখন দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা, কঠোর অধ্যবসায়, প্রবল নিয়মানুবর্তিতা, নিরন্তর প্রচেষ্টা ও দক্ষতা অর্জনের সুবাদে তরতর করে ওপরে উঠে যাচ্ছে। ভাগ্যবদলে এ ধরনের ইতিবাচক প্রবণতার প্রশংসা করি।নিজের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকেই একটি নেতিবাচক ধারণা নিয়েই বাংলাদেশে আসেন। মূলত কিছু আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পরিবেশিত নেতিবাচক খবর পড়েই তাঁদের এমন ধারণা হয়। কিন্তু ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তাঁরা শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ও উচ্ছ্বসিত ধারণা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ফিরে যান। তরুণ উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী, অর্থনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে ও মেলামেশা করেই তাঁদের ধারণা পাল্টে যায়।
সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসমূহ: বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি খাতের ওপর প্রভাব ফেললেও গত তিন বছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হারে একটি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রবণতা আমরা লক্ষ করেছি। ২০১০ অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে ৬৮৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা চার বছর আগেও ছিল মাত্র ৪৪৭ ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিদেশ থেকে শ্রমিকদের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী-আয়ের মোট পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯০ কোটি ডলার, যা জিডিপির ১০ শতাংশ এবং ১০ বছর আগে দেশে যে পরিমাণ প্রবাসী-আয় আসত, তা ছিল এখনকার পাঁচ ভাগের এক ভাগ। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার পরিস্থিতিতে ২০০৯-১০ অর্থবছরে যে ১২টি দেশ রপ্তানি-আয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, তাতে বাংলাদেশও রয়েছে। এই বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি-আয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬২০ কোটি ডলার। চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৮২৭ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, যা আলোচ্য পাঁচ মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে পোশাক রপ্তানি ভালোভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসা খাতের বিকাশের ফলে বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ কমে জিডিপির মাত্র ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আশির দশকে ছিল জিডিপির ৬ শতাংশ। তবে দেশে এখনো মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রকেরা নীতিমালার প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সফলতার সঙ্গেই মূল্যস্ফীতিকে সিঙ্গেল ডিজিট বা ১০ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি জোরদারকরণ, বিকল্প জ্বালানিসহ উৎপাদনশীল খাতগুলোতে পুঁজি প্রবাহিতকরণ এবং গ্রামের জনগণকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশে চাল ও গমের উৎপাদন বেড়ে তিন কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে, যা আশির দশকের ১১ লাখ মেট্রিক টনের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। আমরা বর্তমানে প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠার পর্যায়ে রয়েছি।
অতীতে বিশ্বব্যাপী গতিশীল পরিবর্তনের পরিস্থিতিতে দেশে রক্ষণশীল নীতিমালা গ্রহণের কারণে আমরা অনেক সময়ই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা নীতিনির্ধারকদের সমালোচনা করেছি। কিন্তু কোনো কোনো রক্ষণশীল নীতিও পরবর্তীকালে দেশের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। অতিরিক্ত উদারীকরণের কারণে সাম্প্রতিক কালে ভিয়েতনাম এবং গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বিপাকে পড়েছে। সেই তুলনায় রক্ষণশীল নীতিমালার ফলে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও বহিস্থ অভিঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা মোটামুটি অগ্রগতি অর্জন করেছি। যেমন—দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১৫ বছরে ৫৬ থেকে কমে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুমৃত্যু প্রতি হাজারে ১৪৬ থেকে কমে ৬৭তে নেমেছে। নবজাতকের মৃত্যুহারও প্রতি হাজারে ৯২ থেকে কমে ৪৫তে নেমে গেছে। সন্তান প্রসবকালে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ৫৭৪ থেকে কমে ৩৮৪তে নেমে এসেছে। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে বর্তমানে ৯১ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়, যা আগে ছিল ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ।
মিডিয়া: দেশে মিডিয়া বা গণমাধ্যম এখন কমবেশি স্বাধীনতা উপভোগ করছে। সমাজের কোনো কোনো রাঘববোয়াল ও আইন অমান্যকারী ব্যবসায়ী মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে নাখোশ রয়েছেন। আমরা আশা করি, মিডিয়া আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে, যা প্রকারান্তরে দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ত্বরান্বিত করবে।সংস্কার: দেশে সংস্কারের এজেন্ডা এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি এখনো ধীর। বিগত সময়ে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল প্রলম্বিত হওয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও সাময়িকভাবে বিচ্যুত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের জন্য এটিই হলো প্রকৃষ্ট পন্থা।সবশেষে বলব, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত হতে হবে। ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবার জন্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে আইনের শাসন। সমাজে যেমন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে বা পদে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও নীতি-নৈতিকতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া সর্বস্তরে সহিষ্ণুতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সুশাসন প্রভৃতি নিশ্চিত হতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা বহির্বিশ্বের কাছ থেকে সম্মান-সমীহ পাওয়া জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাব।
মামুন রশীদ: ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক।

ক্যাপিটল ভবনের দিকে উড়োজাহাজ, আতঙ্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেস ভবন ইউএস ক্যাপিটলের দিকে উড়ে আসছে উড়োজাহাজ। ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। দ্রুত খালি করা হয় ভবন। উড়োজাহাজটি লক্ষ্য করে ছুটে যায় জঙ্গি বিমান। গত শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
কর্মকর্তারা জানান, পাইলটের ভুলের কারণে একটি উড়োজাহাজ ভুল গতিপথে উড়ে ইউএস ক্যাপিটল ভবনের দিকে যাচ্ছিল। ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পাইলট বিমানবন্দরের সঙ্গে বেতার যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প সময়ের জন্য ভবনটি খালি করে ফেলা হয়। এ সময় একাধিক যুদ্ধ বিমানও ওই বিমানটির সন্ধানে বের হয়।

চীন পরমাণু জ্বালানি ব্যবহারে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে

পরমাণু জ্বালানি পুনরায় প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। এর ফলে পরমাণু জ্বালানির মূল উপকরণ ইউরেনিয়ামের সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে তার অবসান হবে। চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে গতকাল সোমবার এ কথা বলা হয়েছে।
টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশনের বিজ্ঞানীরা নতুন এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এ প্রযুক্তির সাহায্যে পরমাণু জ্বালানির তেজস্ক্রিয় অংশ পুনরায় ব্যবহার করা যাবে।
চীনে বর্তমানে ইউরেনিয়ামের যে প্রমাণিত মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে দেশটি আর মাত্র ৫০ থেকে ৭০ বছর চলতে পারবে। কিন্তু নতুন ওই প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় এ ইউরেনিয়াম দিয়ে আগামী তিন হাজার বছর পর্যন্ত চলা সম্ভব হবে।
পরিবেশদূষণ হ্রাস ও জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলার জন্য চীন যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়নে এ প্রযুক্তি বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
চায়না ডেইলির খবরে বলা হয়েছে, চীন বর্তমানে প্রতিবছর ৭৫০ টন ইউরেনিয়াম উৎপাদন করে। দেশে যেভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে তাতে ২০২০ সাল নাগাদ চীনে প্রতিবছর ইউরেনিয়াম লাগবে ২০ হাজার টন।

৫০ কোটি ডলারে টুইটারকে কিনতে চেয়েছিল ফেসবুক

৫০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট টুইটার কিনতে চেয়েছিল ফেসবুক। সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে এ ঘটনা ঘটে। গত রোববার ব্রিটিশ পত্রিকা ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিজ স্টোনের এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানা যায়।
বিজ স্টোন বলেন, টুইটার কেবল একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হতে চায়নি, অন্য কোম্পানির করতলে না থেকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও টিকে থাকতে চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কিছু সৃষ্টি করেছি, যা থেকে মানুষ লাভবান হচ্ছে।’ পত্রিকাটি জানায়, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ টুইটার কেনার জন্য ৫০ কোটি ডলার দিতে চেয়েছিলেন।

জরুরি সেবা দিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা স্বাস্থ্যসেবা পাবেন

বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী জরুরি সেবা দিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পাস হওয়া একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর ফলে টুইন টাওয়ারে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে যেসব দমকলকর্মী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকর্মী আহত হয়েছেন, তাঁরা বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। শুধু তাই নয়, টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে গিয়ে যাঁরা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরাও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।মার্কিন কংগ্রেস গত বছরের ২২ ডিসেম্বর বিলটি অনুমোদন করে। গত রোববার প্রেসিডেন্ট ওবামা বিলটিতে সই করায় এটি আইনে পরিণত হলো। ১০ বছর মেয়াদি এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে মোট ব্যয় হবে ৪০০ কোটি ডলার।হোয়াইট হাউস সূত্রে বলা হয়েছে, বিলটি সই করার পর ওবামা বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেদিন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও দমকলকর্মী হামলার শিকার হওয়া মানুষের জীবন রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাঁদের এ নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের কথা কখনোই ভুলব না।’২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা টুইন টাওয়ারে হামলা চালায়। এতে প্রায় তিন হাজার লোকের প্রাণহানি হয়। হামলার পর উদ্ধার-তৎপরতা চালাতে গিয়ে শতাধিক পুলিশ ও দমকলকর্মী নিহত হন; আহত হন অনেকে। তাঁদের অনেকে এখন পঙ্গু অবস্থায় জীবন যাপন করছেন।

আসামের স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে এসেছে উলফা?

প্রায় তিন দশক ধরে যে দাবিতে সশস্ত্র সংঘাত চালিয়ে আসছিল, সেই দাবি থেকেই সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)। নয়াদিল্লির সঙ্গে আসন্ন আলোচনায় সহিংস আন্দোলন পরিহার করার ব্যাপারে তারা নমনীয় বলে জানিয়েছে।
উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়াকে ২০০৯ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শনিবার জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে। মুক্তির পরদিন তিনি বলেন, এই প্রথমবারের মতো তাঁর সংগঠন কোনো শর্ত ছাড়াই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। আসামের স্বাধীনতার দাবিতে এর আগে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসার শর্তে অনড় ছিল উলফা। দিল্লি তা প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।১৯৭৯ সালে উলফা প্রতিষ্ঠা করা হয়। আসামের স্বাধীনতার দাবিতে প্রায় তিন দশক ধরে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছিল উলফা। একই দাবিতে ওই রাজ্যের আরও কয়েকটি বিচ্ছিনতাবাদী সংগঠন লড়াই চালিয়ে আসছে। তবে এসব সংগঠনের মধ্যে উলফাই সব চেয়ে শক্তিশালী। এর পর থেকে এই সময়ের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়।

ওবামার বিরুদ্ধে লড়ার ইঙ্গিত হান্টসম্যানের

২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন হান্টসম্যান। নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আভাস দেন।
ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর জন হান্টসম্যানকে রিপাবলিকান দলের উদারপন্থী অংশের উদীয়মান তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৯ সালে তাঁকে বেইজিংয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এই সিদ্ধান্ত দলনিরপেক্ষ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অনেকে এটাকে সম্ভাব্য বিরোধীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার পন্থা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
নিউজউইক-এর সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হান্টসম্যান (৫০) জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হান্টসম্যান বলেন, ‘আপনি জানেন, বর্তমান অবস্থান থেকে আমরা যা করছি, এখন আমার মনোযোগ সে দিকেই।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা এটা আজীবন করব না।’
হান্টসম্যানের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বরে দেশে গিয়ে সম্ভাব্য প্রচারণা সম্পর্কে আলোচনার জন্য কয়েকজন সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টার সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন।
২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতিদ্বন্দ্বী জন ম্যাককেইনের জাতীয় প্রচারাভিযানের কো-চেয়ারম্যান ছিলেন হান্টসম্যান।চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন না ওবামা: এদিকে ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজ দলের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন না বলে মনে করা হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির প্রধান এ কথা বলেছেন।২০০৮ সালের নভেম্বরে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন ম্যাককেইনকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান টিম কেইন বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা অসম্ভব যে প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে কোনো ধরনের জোরালো প্রাথমিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।’
সাধারণত কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট যদি দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত মেয়াদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে তিনি নিজ দলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন না।
তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০১২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে সম্পর্কে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি।

আইভরি কোস্টের সংকট নিরসনে আফ্রিকান নেতাদের জোর চেষ্টা

আইভরি কোস্টে বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য আফ্রিকার নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আফ্রিকার চার নেতা সিয়েরা লিওয়নের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট করোমা, বেনিনের প্রেসিডেন্ট বোনি ইউয়েয়ি, কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পিরেস ও কেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওদিঙ্গা বাগবোর সঙ্গে এ বৈঠক করেন। তাঁরা বাগবোকে শান্তিপূর্ণভাবে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে পদত্যাগ করলে বাগবোকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে এবং নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
গৃহযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সশস্ত্র অভিযান এড়ানোর জন্য আফ্রিকান ইউনিয়ন যে শান্তি মিশন শুরু করেছে, তারই অংশ হিসেবে আফ্রিকার নেতারা আইভরি কোস্টে যান।
এদিকে নির্বাচনে বিজয়ী আলাসেন ওয়েতাহার ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট বাগবো। গতকাল তাঁর যুবমন্ত্রী চার্লস ব্লি গোদে আফ্রিকার কয়েকটি টেলিভিশনকে বলেছেন, আবিদজানের গলফ হোটেলে হামলা চালানোর জন্য তাঁদের মিলিশিয়াদের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বিভিন্ন দলের অনুরোধে তা স্থগিত করা হয়েছে। আলাসানে বর্তমানে ওই হোটেলে অবস্থান করছেন।
১৫ জাতির পশ্চিম আফ্রিকান দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোটের প্রধান ও নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথনের সঙ্গে রোববার আবুজায় বৈঠক শেষে ওদিঙ্গা সোমবার আবিদজানে পৌঁছান। এখানে আসার আগে ওদিঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, আমি কাল (সোমবার) আবিদজানে যাব। সেখানে প্রেসিডেন্ট বাগবো ও আলাসানের সঙ্গে বৈঠক করব। এরপর বৈঠকের ফলাফল প্রেসিডেন্ট গুডলাককে জানানোর জন্য ওই দিন বিকেলেই আবুজায় ফিরব।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামরিক অভিযান এড়ানোর জন্য ওদিঙ্গা এর আগে বাগবোকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। এ জন্য তাঁর এ শান্তি মিশন সফল হয় কি না, তা নিয়েও বেশ সংশয় আছে।
গত সপ্তাহে পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলের সামরিক-প্রধান আলোচনায় কাজ না হলে বাগবোকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দেন। এর পরই তাঁরা বাগবোকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বাগবোর যুবমন্ত্রী ব্লি গোদে বলেছেন, চলমান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের একটা সুযোগ তাঁরা করে দিতে চান। আর এ জন্যই কয়েকটি রাজনৈতিক দলের অনুরোধে তাঁরা আলাসানের হোটেলে হামলা চালানোর পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত স্থগিত করেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য চীন

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি মোকাবিলায় ভারত সে দেশের সেনাবাহিনীর পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনায় (লং টার্ম ইন্টিগ্রেটেড প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান—এলটিআইপিপি) পরিবর্তন আনতে পারে। পাকিস্তানকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে প্রতিবেশী চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকে গুরুত্ব দিতে পারে দেশটি।ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরবর্তী এলটিআইপিপির সময়সীমা হলো ২০১২ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, সেনাবাহিনী ২০২০ সাল নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মাউন্টেইন স্ট্রাইক কোর’ বাহিনী তৈরি করতে চাইছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়, ভারতের সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়নের সুপারিশ করেছে সেনাবাহিনী। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় যাতে দ্রুত আরও সেনা মোতায়েন এবং কার্যকরভাবে অভিযান চালানো যায়, সে জন্যই এই সুপারিশ করা হয়। উল্লেখ্য, চীনের সঙ্গে ভারতের চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত রয়েছে।সেনাবাহিনী চাইছে, সরকার ভারত-চীন সীমান্ত পর্যন্ত এমন রাস্তাঘাট নির্মাণ করুক, যাতে পার্বত্য এলাকায় বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও সেখানে সহজে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ, উত্তরাঞ্চল ও হিমাচল প্রদেশের পর্বত চূড়ায় গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনেরও সুপারিশ করা হয়।যেভাবেই হোক, এলটিআইপিপি এরই মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০১১ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সেনাবাহিনী উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুটি মাউন্টেন ডিভিশন গঠনের কাজ সম্পন্ন করবে। এটা সম্পন্ন হলে এসব ডিভিশন পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় যোগ দেবে এবং শক্তি বাড়াবে।চীন সীমান্ত বরাবর এলাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৭৫টির বেশি সড়ক বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। সেনাবাহিনী চাইছে, এসব সড়ক যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলাচলের উপযোগী করা হোক। সীমান্তে পর্যাপ্ত সেনা মোতায়েনে তাদের সামর্থ্য বাড়াতে সেনাবাহিনী এসব সড়কের দ্রুত নির্মাণ চাইছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গাবি আশকিনাজি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলকে বলেছিলেন, তাঁর দেশ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হামাস কিংবা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সংঘটিত হতে পারে।
আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রকাশিত গোপন নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত রোববার অসলোভিত্তিক দৈনিক আফটেনপোস্টেন-এ প্রকাশিত ওই নথিতে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে আশকিনাজি এ কথা বলেন।
তেল আবিবের মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো ওই কূটনৈতিক বার্তায় ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমি বড় ধরনের যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করছি।’
গোপন নথিতে দেখা গেছে, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য আইক স্কেলটনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলকে আশকিনাজি বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রকেট হামলার হুমকি বেড়েছে। এ কারণে ইসরায়েল রকেট প্রতিরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইরানের অন্তত ৩০০ শিহাব রকেট রয়েছে, যা ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম। ইসরায়েলি সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের হামলার শিকার হলে ইসরায়েল এর জবাব দিতে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট সময় নেবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গাজাভিত্তিক হামাস ও লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহর কাছ থেকেই ইসরায়েল সবচেয়ে বেশি হুমকি মোকাবিলা করছে।প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর ৪০ হাজারেরও বেশি রকেট রয়েছে। এসব রকেটের বেশির ভাগই ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই রকেটের সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি।২০০৬ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে এক হাজার ২০০ লেবাননি ও ১৬০ জন ইসরায়েলি নিহত হয়। লেবাননে নিহতের বেশির ভাগই ছিল বেসামরিক। আর ইসরায়েলিরা অধিকাংশ সেনাসদস্য।
ইসরায়েল ২০০৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর গাজা ভূখণ্ডে হামলা চালায়। এই হামলার এক বছর পর আশকিনাজি মার্কিন প্রতিনিধিদলকে এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েল সংঘর্ষে লিপ্ত। তেল আবিবে হামাসের বোমা হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে।এদিকে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনতে না পারায় মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডারের কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, এই ব্যর্থতার দায়ে এরিক হোল্ডারকে পদত্যাগ করতে হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান নেতা ড্যারেল ইসা গত রোববার ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘গোপন মার্কিন নথি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব সম্প্রদায় আমাদের নিয়ে উপহাস করছে। অথচ অ্যাটর্নি হোল্ডার এখনো পর্যন্ত অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনতে পারেননি।’ তিনি বলেন, ‘হোল্ডার মার্কিন প্রশাসনকে আহত করছেন। কেউ প্রশাসনকে আহত করলে তাঁর উচিত হবে পদত্যাগ করা।’ এএফপি।

অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে পন্টিংকে

স্কোয়াডে না থাকলেও দলের সঙ্গে ড্রেসিংরুমেই আছেন তিনি। ২৪ বছর পর দেশের মাটিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে সিরিজ পরাজয় ঠেকানোর লড়াইয়ে সতীর্থদের সাহস দিতে চান পাশে থেকে। তবে শুধু সিডনি টেস্ট নয়, বিশ্বকাপ নিয়েও রিকি পন্টিংয়ের দুর্ভাবনা কম নয়। আজই বাঁ হাতের চিড় ধরা কনিষ্ঠায় অস্ত্রোপচার, এর পরই শুরু হবে বিশ্বকাপের আগে ফিট হওয়ার লড়াই।চিড় ধরা আঙুলে কাল আবার এক্স-রে দেখা গেছে আরও বিস্তৃত হয়েছে চিড়। দেরি না করে আজই তাই করে ফেলা হচ্ছে অস্ত্রোপচার। ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তাই নিশ্চিতভাবেই খেলতে পারছেন না অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। তবে জাতীয় দলের ফিজিও অ্যালেক্স কন্টুরির আশা, বিশ্বকাপের আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন পন্টিং, খেলতে পারবেন ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটোতেও। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা তাই টিকে থাকছে পন্টিংয়ের।

আবার ব্রাজিল ডাকছে আদ্রিয়ানোকে

ব্রাজিল থেকে ইতালি, ইতালি থেকে ব্রাজিল; এটাই কি চলতে থাকবে আদ্রিয়ানোর? আবার যে নাড়ির টান অনুভব করছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার! এএস রোমা ছেড়ে চলে যেতে চান আবার ব্রাজিলে। শৈশবের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর ডাক শুনতে পাচ্ছেন তিনি!গতকাল ও দিয়া পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন ইন্টার মিলানের সাবেক স্ট্রাইকার, ‘আমার হূদয়ের একটা অংশ এখনো ব্রাজিলে। কিন্তু আমি আবার আমার দায়বদ্ধতাকে শ্রদ্ধা করি।’আদ্রিয়ানোর মনে গোল বাধিয়েছে আসলে বড়দিনের ছুটি। বড়দিনের ছুটিতে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়েই বাড়ির বড্ড প্রেমে পড়ে গেছেন। তবে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার আবার এও বোঝেন পেশাদারির কাছে এসব কিছু নয়, ‘আমি যেহেতু পেশাদার, এখন আমি ইতালি যাচ্ছি। তবে আবার জুনে ফিরে আসব।’এর আগে ইন্টার মিলানে থাকতে গৃহকাতরতা পেয়ে বসেছিল আদ্রিয়ানোকে। ২০০৯ সালে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে গিয়ে আর ফেরেননি ইন্টারে। পরে ফ্ল্যামেঙ্গোতে খেলেছেন। সেখান থেকেই আবার গত বছর যোগ দিয়েছেন রোমায়। ইতালির এ ক্লাবটির সঙ্গে আড়াই বছরের চুক্তি আদ্রিয়ানোর। কে জানে আর কত দিন থাকবেন তিনি!

কলিংউডের শেষ টেস্ট সিডনিতেই?

৬ বছর আগের ব্রায়ান লারাকে মনে করিয়ে দিলেন পল কলিংউড। ২০০৪ সালে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ড্র হওয়ার পর লারা বলেছিলেন, ‘পরের টেস্ট জিততে না পারলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেব।’ গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কলিংউডের অধিনায়কত্ব ছাড়ার কারণ নেই। তবে কলিংউড চ্যালেঞ্জ কলেছেন টেস্ট ব্যাটসম্যান কলিংউডকে। বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। তবে রান-খরায় ভুগতে থাকা ব্যাটসম্যান নিজেই নিজেকে দিয়েছেন আল্টিমেটাম, ‘সিডনিতে রান করতে না পারলে বিদায় বলে দেব টেস্ট ক্রিকেটকে।’৫৭৭, ৪৪৫, ৩২৪, ২৪৭, ২১৪—চলতি অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের পাঁচজনেরই রানই যখন এমন হূষ্টপুষ্ট, কলিংউডের রান সেখানে ১৪ গড়ে ৭০। সর্বোচ্চ ৪২। বাইরে বসে আছেন এউইন মরগানের মতো ব্যাটসম্যান। টানা ব্যর্থতায় নিজের ওপরই চরম বিরক্ত ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘চলতি সিরিজে আমার ফর্ম এবং মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টের ব্যর্থতার পর আগে হোক বা পরে, আমার টেস্ট ভবিষ্যতের প্রসঙ্গটা উঠতই। কোনো সন্দেহ নেই, নিজের ব্যাটিং নিয়ে আমি খুবই হতাশ।’ক্যারিয়ারজুড়ে যাঁর পরিচিতি ‘লড়াকু’ হিসেবে, তিনি বরাবরের মতোই লড়ার আগে হাল ছাড়তে রাজি নন। তবে ৩৫ ছুঁইছুই বয়সে এসে বুঝতে পারছেন বাস্তবতাও, ‘লড়াই করার ইচ্ছা এখনো আমার মধ্যে ভালোই আছে। এখনো আমি যেকোনো সময়ের মতোই ফিট, টেস্ট ক্রিকেটটা দারুণ উপভোগও করছি। সিডনি টেস্টটা আমার জন্য বড় একটা পরীক্ষা, এখানে আমি সেঞ্চুরি করতে চাই। কিন্তু সব বাস্তবতাই আমি বুঝি, জানি অনেকেই আমার জায়গা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমার বয়সে এসে রান করতে না পারলে দলে জায়গাটা প্রাপ্য নয়।’লারা পেরেছিলেন, কলিংউড কি পারবেন?

বৃষ্টি আর ইংল্যান্ডের দিন

ড্রেসিংরুমে প্রায় পুরোটা সময় বসে ছিলেন রিকি পন্টিংয়ের পাশে। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ব্যাট করতে নামার সময় ঘরের ছেলেকে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানাল সিডনির গ্যালারি। হাত-পা শক্ত হয়ে আসা, পেটে প্রজাপ্রতির নাচন—কোথায় কী? প্রথম বলেই লেগ সাইডে ঠেলে ২ রান, পরের বলে দুর্দান্ত এক পুলে বল সীমানা ছাড়া। ১২০ মিনিট পর যখন আউট হয়ে ফিরছেন, তখন আরেকবার পেলেন ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশান।’এমন কিছু করেননি উসমান খাজা। বল খেলেছেন ৯৫টি, রান মাত্র ৩৭। তবে এর মাঝেই রেখেছেন প্রতিশ্রুতির ছাপ। সিডনির প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র প্রাপ্তি ওই ‘এক টুকরো ভবিষ্যৎ।’ আবারও সেট হয়ে ফিল হিউজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসা, আরও একবার পঞ্চাশের আশপাশে বলি শেন ওয়াটসন, মাইকেল ক্লার্কের রান-খরা ও আবারও মাইকেল হাসির দিকে তাকিয়ে থাকা—অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সেই পুরোনো চেহারাই। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় দফা চূড়ান্তভাবে দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার রান ৪ উইকেটে ১৩৪। ধারণামতোই মাইকেল বিয়ারের হাতে ব্যাগি গ্রিন তুলে দিয়েছেন শেন ওয়ার্ন, ২২ বছর আগে এই মাঠেই অভিষিক্ত মার্ক টেলর উসমান খাজার হাতে। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও টেস্ট অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের শুরুটা ছিল দারুণ, প্রথম টসটাই জিতেছেন। সিরিজে এর আগে যে তিনবার প্রথম ইনিংসে ব্যাট করেছে অস্ট্রেলিয়া, প্রথম ৩ উইকেট হারিয়েছে ২, ২৮ ও ৩৭ রানে। এ জন্যই হয়তো কাল অতিসতর্ক ছিলেন এমনিতে আক্রমণাত্মক দুই ব্যাটসম্যান হিউজ ও ওয়াটসন। প্রথম ১২ ওভারে তাই চার ছিল মাত্র ১টি, উদ্বোধনী জুটির ৫০ আসে ২২তম ওভারে। সকালজুড়ে যে বলগুলো ছেড়েছেন, লাঞ্চের আগের শেষ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে তেমনই এক বলে ব্যাট ছুঁয়ে আউট হন হিউজ।
ঝিমিয়ে থাকা ইনিংসটাকে জাগিয়ে তোলেন খাজা, প্রথম ৮ বলে করেন ১৫। অভিষিক্ত সতীর্থকে দেখে জেগে ওঠেন লাঞ্চের আগে ৮৫ বলে ১৯ রান করা ওয়াটসনও। ব্রেসনানের আউট সুইঙ্গারে ওয়াটসনের আউটে ভাঙে ৫০ রানের জুটি, অস্ট্রেলিয়া এরপর দ্রুত হারায় আরও দুই উইকেট। দিনের একমাত্র প্রাপ্তির মতো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় আফসোসও খাজা, আউট হলেন যে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগের বলটিতেই, তাও একেবারে পাতা ফাঁদে পা দিয়েই!

পন্টিংকে ছুঁয়ে ফেললেন ক্যালিস

লড়াইটা ছিল একসময় শচীন টেন্ডুলকার ও রিকি পন্টিংয়ের। টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারে অনন্য নবজাগরণ আর পন্টিংয়ের উল্টো যাত্রায় সেই লড়াই অনেক দিন ধরেই ছিল একতরফা। এবার বোধ হয় টেন্ডুলকার-ক্যালিস লড়াই বলার সময় এল। পন্টিংয়ের ৩৯ টেস্ট সেঞ্চুরি ছুঁয়ে জ্যাক ক্যালিস এখন আক্ষরিক অর্থেই টেন্ডুলকারের পেছনে, এটা একটা কারণ। আরেকটা কারণ, যত বয়স বাড়ছে দুজনেই যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছেন নিজেদের।গত বছর টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারে কতগুলো প্রথম যোগ হয়েছে, এটা তো জানেনই। এবার ক্যালিসের সাম্প্রতিক ফর্মটা দেখুন, সর্বশেষ সাত ইনিংসে চতুর্থ সেঞ্চুরি, সর্বশেষ সাত টেস্টে ৫টি। এই সিরিজেই ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন, কাল করলেন ঘরের মাঠ কেপটাউনে সপ্তম সেঞ্চুরি। এক মাঠে এর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে টেস্টে কেবল আর দুজনের, মাহেলা জয়াবর্ধনের ১০ (কলম্বোর এসএসসিতে) ও ডন ব্র্যাডম্যানের ৯ (মেলবোর্নে)। কালই ঢুকে গেছেন এক মাঠে সবচেয়ে বেশি রান করাদের তালিকার পাঁচে। টেন্ডুলকার অবশ্য এখনো ধরাছোঁয়ার বেশ বাইরে। ব্যবধানটা বাড়িয়ে নেওয়ার পথেই রয়েছেন। কাল দিন শেষে তিনি অপরাজিত ৪৯ রানে, ৬৫ রানে অপরাজিত চোট কাটিয়ে ফেরা গৌতম গম্ভীর। ভারতের রান ২ উইকেটে ১৪২। দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৬২ রানের জবাবে শুরুতেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলা ভারতের স্কোরে বড় অবদান টেন্ডুলকার-গম্ভীরের ১১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস পুরোটাই দাঁড়িয়ে ক্যালিসের এক অসাধারণ ইনিংসের ওপর। আদর্শ পরিবেশে ভারতীয়দের সুইং বোলিংয়ের সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ম্যাচের প্রথম দিন। কাল দ্বিতীয় নতুন বলে আবার যখন টালমাটাল দক্ষিণ আফ্রিকা, বলতে গেলে একাই টেনে নিলেন দলকে। দ্বিতীয় নতুন বলে শ্রীশান্তের তাণ্ডবে ২৮৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলা স্বাগতিকেরা যখন তিন শর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়, শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ক্যালিস যোগ করলেন আরও ৭৯। লনওয়াবো তোতসোবের সঙ্গে শেষ উইকেট জুটিতেই ৫২!কাল পুরোনো বলের ৬ ওভার ভালোভাবেই সামলেছেন ক্যালিসের সঙ্গে দিন শুরু করা অ্যাশওয়েল প্রিন্স। ৮০ ওভার হতেই নতুন বল নিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। নতুন বলে নিজের প্রথম ওভারেই পরপর অসাধারণ দুটি বলে শ্রীশান্ত ফিরিয়েছেন প্রিন্স ও চূড়ান্ত রান-খরায় থাকা মার্ক বাউচারকে। শ্রীশান্তকেই পরের ওভারে টানা দুটো চার দিয়ে ৯১ থেকে ৯৯-এ যান ক্যালিস, পরের ওভারেই ছুঁয়ে ফেলেন সেঞ্চুরি। মরনে মরকেলকে আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দ্বিতীয় আর ক্যারিয়ারের তৃতীয় ৫ উইকেট নিয়েছেন শ্রীশান্ত। তবে ক্যালিসকে থামানো যায়নি। জহিরের বলে ক্লান্ত এক শটে শেষ পর্যন্ত ১৬১ রানে আউট হয়েছেন ক্যালিস, ততক্ষণে দল পেয়ে গেছে শক্ত জমি। তবে স্বাগতিকদের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে ক্যালিসের চোট। ডান পাঁজরে চোট পাওয়ায় এই টেস্টে আর বোলিং ও ফিল্ডিং করতে পারবেন না ক্যালিস। দলের খুব প্রয়োজন না হলে ব্যাটিংও নয়। সূত্র: টেন ক্রিকেট।
নতুন উচ্চতায়
এক ইনিংস বাকি থাকতেই ৩ টেস্টের সিরিজে নিজের ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ৩৮৯ রান হয়ে গেছে ক্যালিসের

জয় দিয়ে বছর শুরু রিয়ালেরও

বার্সেলোনার মতো রিয়াল মাদ্রিদও নতুন বছর শুরু করল জয় দিয়েই। কিংস কাপে লাভেন্তের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে গত বছরটা শেষ করেছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। নতুন বছরটাও যে প্রচণ্ড গোলক্ষুধা নিয়েই শুরু করেছেন, সেটাও গতকাল বুঝিয়ে দিলেন জোড়া গোল করে। তাঁর এ জোড়া গোলে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী গেটাফের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্য গোলটি করেছেন মেসুত ওজিল।
নতুন বছরের শুরুতে আরও একটি বড় সুখবর অপেক্ষা করছে রিয়াল সমর্থকদের জন্য। দীর্ঘদিন পর ইনজুরি কাটিয়ে আবার মাঠে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাকা। অবশ্য এখনই তাঁকে প্রথম একাদশের সঙ্গে মাঠে নামাননি মরিনহো। মাঠে নেমেছিলেন দ্বিতীয়ার্ধের ৭৩ মিনিটে করিম বেনজেমার বদলি হিসেবে। শেষ সময়টুকুতে আর কোনো গোল করতে না পারলেও তাঁর উপস্থিতিটা যে রিয়ালকে অনেকখানিই বদলে দিতে পারবে—এর কিছুটা আভাস তিনি ওই অল্প সময়েই দিয়েছেন।প্রথমার্ধের ১১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি করেছেন রোনালদো। আট মিনিট পরেই অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। ২৯ মিনিটে একটি গোল শোধ করেন গেটাফে মিডফিল্ডার ডানিয়েল পারেজো। ২-১-এ এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে আবার ব্যবধান বাড়িয়ে দেন রোনালদো। করিম বেনজেমার পাস থেকে বল জড়িয়ে দেন গেটাফের জালে। খেলার শেষ মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের দুর্বল রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে আবার একটি গোল শোধ করেন গেটাফে স্ট্রাইকার জুয়ান আবিন।

মোহামেডানকে জেতালেন রনি

বাংলাদেশে তো আর ইউরোপের মতো শীত পড়ে না। সুতরাং কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ওভারকোটে মোড়া কোচ, কিংবা হাতে দস্তানা পরা খেলোয়াড়দের দেখা পাওয়াটা বাড়াবাড়ি। যে শ-চারেক দর্শকের দেখা মিলল গ্যালারিতে, তারা শীতে কুঁকড়ে ছিল। তবে ম্যাচটাও ছিল শীতার্ত। গ্রামীণফোন বাংলাদেশ লিগে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে রনির একমাত্র গোলে জিতল ঢাকা মোহামেডান।
অখ্যাত তরুণ আর বিদেশিদের নিয়ে গড়া নতুন মোহামেডান আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষেও জিতেছিল ন্যূনতম ব্যবধানে। কালও ৩ পয়েন্ট পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বিখ্যাত সাদা-কালো শিবির।
মোহামেডান আসলে প্রথমার্ধেই যা খেলেছে। বিদেশিনির্ভর আক্রমণভাগে একটু ম্লানই ছিলেন এমেকা, ইসমাইলরা। গত ম্যাচের জয়ের নায়ক রুয়ান্ডার ইসমাইলকে কাল খুঁজেই পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে মোহামেডান নিজেদের গোলবার রক্ষা করতে পেরেছে ভাগ্যগুণে। নিজেরা চারবারের সুযোগে গোল করতে পেরেছে একটি। ১৪ মিনিটে এমেকার ক্রস থেকে রনি বক্সের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেও গোল করতে পারেননি। শুধু বলটা পায়ে ছোঁয়ালেই হতো। তবে ৪২ মিনিটে আর সুযোগটা হাতছাড়া করেননি ফরাশগঞ্জ থেকে আসা স্ট্রাইকার। এমেকার স্কয়ার পাসে বক্সের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় কোনাকুনি শটে গোল করেন রনি (১-০)। মোহামেডান গ্যালারি সরব ভুভুজেলার শব্দে। মোহামেডানকে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে চেপে ধরে ফরাশগঞ্জ। তারা এ সময় গোল পায়নি শুধু ভালো একজন ফিনিশারের অভাবে। দুই স্ট্রাইকার আতিক ও সোহেল সারা মাঠ দৌড়েছেন। কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। কোচ কামাল বাবুও ম্যাচ শেষে সেটাই বললেন, ‘স্ট্রাইকিং সমস্যার কারণে হেরেছি।’ কালকের ম্যাচে রেফারিংয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি।
তবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পাওয়া জয়েই খুশি কোচ শফিকুল ইসলাম, ‘খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে খুশি না হলেও ৩ পয়েন্ট পেয়েছি এতেই খুশি।’ তবে জ্বরের কারণে এই ম্যাচে খেলতে না পারা স্ট্রাইকার রিদনের অভাবটা টের পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মোহামেডান কোচ।
মোহামেডান: এমেকা, লাকি, আমিনি, ইসমাইল, শরীফ, রনি, টিটু, কবির (বিপুল), ইয়াসিন, আরাফাত, রমজান।
ফরাশগঞ্জ: মোজেস, রনি, মোকলেসুর, মলয় (জুয়েল), সোহেল, খোকন, সুজন, আতিকুল (শান্ত), সানি (সৈকত), হামিদ, বিপ্লব।
শেখ রাসেল ৩: ০ চট্ট. মোহামেডান
প্রথম সাফ মহিলা ফুটবলে প্রতিটি ম্যাচে দর্শকভর্তি গ্যালারি ছিল কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামে। তবে বাংলাদেশ লিগে চট্টগ্রাম মোহামেডানের হোম ভেন্যু হিসেবে অভিষিক্ত এই স্টেডিয়ামে কাল আশানুরূপ দর্শক হয়নি। শেষ ১৭ মিনিট ১০ জনের দল হয়ে পড়া চট্টগ্রাম মোহামেডানের নিজেদের মাঠে শেখ রাসেলের কাছে ৩-০ গোলে হারাটা ছিল আরও হতাশার। ১১ মিনিটে মরোক্কান স্ট্রাইকার আব্বাস ইনুসাহর গোলে এগিয়ে যায় শেখ রাসেল। এর ৮ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান স্বদেশি সামির ওমারি। ৫২ মিনিটে জয় নিশ্চিত করা গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা ওয়াহেদ। ৭৩ মিনিটে চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিপ্লব দাশ দেখেন লাল কার্ড। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফরাশগঞ্জকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল শেখ রাসেল।

আলোচনা- পানি সংকট পানি বাণিজ্য by প্রকৌশলী সরদার আমিন

ঢাকা ওয়াসা যে পরিমাণ পানি সরবরাহ করে ৫ টাকায় তা বেসরকারি জারে বিক্রি হয় ২৫০০ টাকা, আর তা বোতলজাত হলে বিক্রি হয় ২০,০০০ টাকা। সুতরাং পানি সংকট ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ব্যর্থতা পানি বাণিজ্যকে বিশাল করে তোলে। সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'অন্ন' মানুষের মৌলিক অধিকার যার মধ্যে পানি আছে। আমাদের পাশের দেশ ভারতে প্রতিটি রেল স্টেশন তা যত প্রত্যন্ত অঞ্চলেই হোক,

অর্থনীতি- ২০১০ সালের অর্থনীতি কেমন গেল by ড. আরএম দেবনাথ

০১০ সাল শেষ হতে চলেছে। আমি লিখছি ২৭ ডিসেম্বর রাতে। আর মাত্র তিনদিন বাদে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকটি শেষ হয়ে যাবে। কেমন কাটল এই সালটি অর্থনৈতিকভাবে এ প্রশ্ন অনেকেই বিবেচনা করবেন। একজন সাধারণ পাঠকের কাছে দ্রব্যমূল্যই সূচক অর্থনৈতিক পারফরমেন্সের। এর নিরিখে বিচার করলে ২০১০ সালটি হবে হতাশার। কারণ মূল্যস্ফীতির হার বাড়তির দিকে। ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতির হার ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ছিল সাড়ে পাঁচ শতাংশ।