Wednesday, September 4, 2024

পুতিন কি অমরত্ব চাইছেন? গবেষকদের অ্যান্টি-এজিং ওষুধ তৈরির নির্দেশ ক্রেমলিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের বয়স ধরে রাখতে চাইছেন। আর তাই দেশের গবেষক ও চিকিৎসকদের অ্যান্টি-এজিং ওষুধ তৈরির জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছ থেকে কড়া নির্দেশ পাওয়ার পরই সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে গত জুনে একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখানের চিকিৎসক ও গবেষকদের এমন ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করতে বলা হয়েছে যা মানুষের বয়স বা বার্ধক্য রুখে দেবে।

এক মেডিকেল গবেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আমাদের সবচেয়ে বড় একটি কাজ দেয়া হয়েছে এবং কর্মকর্তারা প্রতিটি সম্ভাব্য উপায়ে এটি বাস্তবায়নের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। আমাদেরকে জরুরিভাবে গবেষণার সমস্ত অগ্রগতি পাঠাতে বলা হয়েছিল। গবেষকরা ক্রেমলিনের আধিকারিকদের দাবিতে হতবাক, কারণ এই জাতীয় ওষুধ তৈরি করতে কয়েক বছর এবং বিলিয়ন পুঁজির প্রয়োজন হতে পারে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, কোষের ক্ষয় কমাতে তাদের ‘গবেষণাপত্র’ জমা দিতে বলা হয়েছে। উপরন্তু, গবেষকদের জ্ঞানীয় এবং সংবেদনশীল বৈকল্য প্রতিরোধকারী নতুন প্রযুক্তি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে বলা হয়েছে, সেইসাথে ইমিউন সিস্টেম সংশোধন করার পদ্ধতিগুলিও নিয়ে ভাবতে বলা হয়েছে । যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিজেদের গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যেতে ওপর মহল থেকে নির্দেশ এসেছে।

রাশিয়ান সিনেটের স্পিকার ভ্যালেন্টিনা মাতভিয়েনকো (৭৫), পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ (৭৪), এফএসবি সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধান আলেকজান্ডার বোর্টনিকভ (৭২) এবং এসভিআর স্পাই প্রধান সের্গেই নারিশকিন (৬৯) এর মতো মিত্ররা ঘিরে আছেন পুতিনকে। তাদের বয়সের ঘড়িও থামিয়ে দিতে চান পুতিন। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট গত বছর নির্বাচনে জিতেছিলেন যা তাকে কমপক্ষে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার অধিকার প্রদান করে। যার অর্থ তার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় তিনি ৮০ বছরের দোরগোড়ায় থাকবেন। আর তাই বয়স কমাতে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে ২০১৬ সালে পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে বায়োক্যাড প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছিলেন যারা অ্যান্টি-এজিং পিল নিয়ে কাজ করছে। সেইসময় তার বয়স ছিল ৬৪ বছর। গত বছর পুতিনের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ক্রেমলিন এই খবরটিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। অনেকে অনুমান করেছিলেন যে পুতিনের শরীর ভালো যাচ্ছে না এবং মস্কো খবরটি চাপা দিতে চাইছে যাতে তার নেতাকে বিশ্বের সামনে দুর্বল না দেখায়।

সূত্র: wionews

সমুদ্রপথে ফ্রান্স থেকে বৃটেন যাওয়ার পথে ১২ অভিবাসীর মৃত্যু

ফ্রান্স থেকে সমুদ্রপথে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বৃটেনে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে এ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এটি। এ দুর্ঘটনায় এখনও দুজন অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল ডারমানি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ফরাসি উপকূলের বুলন-সুর-মে শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে উইমেরু শহরে কয়েক ডজন যাত্রী নিয়ে তাদের নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দেশটির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা জরুরি পরিষেবা চালু করেছে এবং আহতদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নিহতদের মধ্যে তিনজন নাবালকও রয়েছে। এটি এ বছরের সবচেয়ে মারাত্মক বিপর্যয় যেখানে ইতিমধ্যে ২৫ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত বছর ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

ফরাসি ও বৃটিশ সরকার বছরের পর বছর ধরে অভিবাসীদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। অভিবাসীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডে যাওয়ার জন্য দালালদের জনপ্রতি হাজার হাজার ইউরো প্রদান করে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার মঙ্গলবারের মৃত্যুকে ভয়ংকর ও গভীর দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মানুষের জীবন নিয়ে এই ভয়াবহ এবং নির্দয় বাণিজ্যের পেছনে জড়িত চক্রগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, তারা তাদের মুনাফা ছাড়া অন্য কিছুর পরোয়া করে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন এই গ্রীষ্মের শুরুতে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু সোমবারই ৩৫১ জন অভিবাসী ছোট ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। এ বছর ২১ হাজার ৬১৫ জন অভিবাসী এভাবে যাত্রা করেছেন। এভাবে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে ২৭ জন অভিবাসী মারা গিয়েছিলেন। তাদের নৌকাটি মারাত্মকভাবে ডুবে যায়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের পানিতে নামতে বাধা দিতে চায়, কিন্তু তারা সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করার পর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে উদ্ধার করা ছাড়া অন্যকোনো হস্তক্ষেপ করে না।
সূত্র- ভয়েস অব আমেরিকা।


অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ফিলিপাইনের সাবেক মেয়র ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তার

অর্থ কেলেঙ্কারি এবং চীনা অপরাধী সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ফিলিপাইনের সাবেক মেয়র অ্যালিস গুওকে গ্রেপ্তার করেছে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে দেশ থেকে পালিয়ে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পালিয়ে যান। অ্যালিসের চীনা নাগরিকত্ব রয়েছে বলেও প্রমাণ পেয়েছে ফিলিপাইনের গোয়েন্দারা। চীনা পরিচয় পত্রে তিনি গুও হুয়া পিং নামে পরিচিত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, অ্যালিসের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। ফিলিপাইন তার অপরাধের বিচার করতে ইন্দোনেশিয়ার কাছে তাকে ফেরত চেয়েছে। অ্যালিসের দাবি তিনি জন্মসূত্রে ফিলিপাইনের নাগরিক। তিনি তার বিরুদ্ধে তোলা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্টো তিনি অভিযোগকারীদের ‘দূষিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ইন্দোনেশিয়া তাদেরকে নিশ্চিত করেছে যে অ্যালিস গুও বর্তমানে দেশটির পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এ মামলাটি সামনে এল। এ অঞ্চল নিয়ে চীনের সঙ্গেও ফিলিপাইনের সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত। অ্যালিসকে বুধবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার টাঙ্গেরং শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেছেন, ‘আইনের হাত লম্বা এবং তা অপরাধীর কাছে পৌঁছাবেই। ন্যায়বিচার থেকে পালানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে বলে অ্যালিসকে সতর্ক করেছেন তিনি। এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমাদের দুই সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এই গ্রেপ্তারকে সম্ভব করেছে। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যালিস গুওকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করবো। ফিলিপাইনের জাতীয় তদন্ত ব্যুরোর পরিচালক জেইম সান্তিয়াগো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাকে (অ্যালিস গুও) ফিরিয়ে আনার পর প্রথমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে তাকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনও অ্যালিসের আইনজীবী স্টিফেন ডেভিড কোনো মন্তব্য করেননি। ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) এবং দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গত মাসে যৌথভাবে অ্যালিস এবং অন্য ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগে একাধিক অর্থ পাচারের অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগ পত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন পেসোর বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। অ্যালিস নিজেকে ফিলিপাইনের নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, তার আঙ্গুলের ছাপের সাথে চীনা নাগরিক গুও হুয়া পিংয়ের আঙ্গুলের ছাপের হুবহু মিল রয়েছে। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে অ্যালিস এবং গুও হুয়া পিং একই ব্যক্তি। তিনি ফিলিপাইনের টারলাক প্রদেশের বামবান শহরের মেয়র পদে ছিলেন। অর্থ পাচারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পদ থেকে অ্যালিসকে অপসারণ করা হয়। পরে গত জুলাই মাসে তিনি পরিচয় গোপন করে দেশ থেকে পালিয়ে যান। আগস্টে জাকার্তায় পৌঁছানোর আগে তিনি প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছিলেন।

ব্রুনাই পৌঁছলেন মোদি, বিলাসিতায় আরব রাষ্ট্রনায়কদের টেক্কা দিতে পারেন ব্রুনাইয়ের সুলতান

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার তেলসমৃদ্ধ দেশ ব্রুনাইয়ের উদ্দেশে মঙ্গলবার সকালেই রওনা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিকেলেই তার বিমান নামে বান্দের সেরি বাগাওয়ান বিমানবন্দরে।

রওনা হওয়ার আগে মোদিকে বলতে শোনা যায়, আমাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পালিত হচ্ছে। হাজী হাসানাল বলকিহা ও রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের দিকে আমি তাকিয়ে আছি। আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

ইসলামিক রীতি মেনে সুলতান হওয়ার পাশাপাশি হাসানাল ব্রুনাইয়ের প্রধানমন্ত্রীও বটে। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রকেরও দায়িত্বে । অর্থ, বিদেশ, প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্য মন্ত্রকেরও দায়িত্ব সামলান তিনি। এক দিকে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, অন্য দিকে সশস্ত্র বাহিনীরও প্রধান হাসানল। ছোট্ট এই দেশটি আয়তনে সিকিম বা ত্রিপুরার থেকেও ছোট।

সুলতানের বিপুল সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রা গোটা বিশ্বের কাছেই আকর্ষণীয়। ব্রুনেইয়ের সুলতানের রাজপ্রাসাদটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রাসাদ। ২০ লাখ বর্গ ফুট এলাকায় বিস্তৃত ১৭০০ কক্ষ বিশিষ্ট প্রাসাদটির অন্যতম আকর্ষণ ২২ ক্যারেট স্বর্ণখচিত গম্বুজ।

১৯৮৪ সালে বৃটিশদের হাত থেকে মুক্ত হয় ব্রুনাই। সেই বছরেই সোনা দিয়ে প্রাসাদ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। প্রাসাদের নাম ইস্তানা নুরুল ইমান। গিনেস বুকে নামও রয়েছে এই প্রাসাদের। এই নামের অর্থ ‘বিশ্বাসের আলোর প্রাসাদ’। সেখানেই তার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন মোদি।

ব্রুনাইয়ের সুলতানের সম্পত্তির পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সুলতানের শখ প্রচুর। দুনিয়ার সেরা গাড়ির কালেকশন রয়েছে তার কাছে। তার সংগ্রহে রয়েছে গোল্ড প্লেটেড রোলস রয়েজ। রয়েছে ৪৫০ ফেরারি ও ৩৮০ বেন্টলি । ওইসব গাড়ি ছাড়াও সুলতানের কাছে রয়েছে বিরল লেম্বরগিনি উরাকো, ফেরারি ৪৫৬ জিটি, পোরসে ৯৫৯ অক্যুপাইয়ের মতো গাড়ি। ফেরারি ৪৫৬ জিটি গাড়িটি দুনিয়ায় মাত্র ৭টি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে আরও অন্য গাড়ি। ওইসব গাড়ি রাখার জন্য রয়েছে ২০০ গ্যারাজ। সুলতানের রয়েছে নিজস্ব চিড়িয়াখানা। সেখানে তিনি রেখেছেন ৩০টি বাঘ। রয়েছে ঘোড়া রাখার জন্য এয়ার কন্ডিশন আস্তাবল। তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদই ব্রুনাইয়ের সুলতানের আয়ের উৎস।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৫১

ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে কমপক্ষে ৫১ জন নিহত এবং ২৭১ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ইউক্রেনের পোলতাভা অঞ্চলে এ ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পোলতাভা অঞ্চলের একটি সামরিক একাডেমি এবং একটি হাসপাতালের ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলায় বেশ কয়েকজন ইউক্রেনীয় সামরিক সেনাও নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির সামরিক বাহিনী। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, হামলা শুরুর পর সেখান থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার কোনো সময় তারা পায়নি। তারা সতর্ক সাইরেন বাজালেও ঘটনাস্থল থেকে লোকজন নিজেদের আত্মরক্ষার কোনো সময় পাইনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, মস্কোকে এর জন্য চড়ামূল্য দিতে হবে। পরবর্তীতে আকাশ পথে এমন হামলা হলে তা ইউক্রেন নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করেই প্রতিহত করবে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তবে এখনও এই হামলার বিষয়ে মুখ খোলেনি মস্কো। স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর তাদের দালানের জানালাগুলো কেঁপে উঠেছিল।

বিবিসি নিকিতা পেট্রোভ নামের প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলেছেন। তিনি একজন ক্যাডেট। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তিনি পোলতাভা মিলিটারি কমিউনিকেশনস ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন। ২৬ বছর বয়সী এই ক্যাডেট বলেছেন, ‘মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এই হামলা করা হয়েছে। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের মাত্র তিন সেকেন্ডের মধ্যেই দ্বিতীয়টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ভয়ার্ত ওই শব্দ শুনে আমি দৌড়ে বাহিরে বের হয়ে আসি। দেখলাম আমাদের ইনস্টিটিউটের চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে। অনেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিল এবং মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকজন মারা গেল।’ অস্ত্রের এমন দুর্বিষহ হামলা স্বচক্ষে দেখে মানসিকভাবে অসুস্থবোধ করছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী এই ক্যাডেট। তিনি বলেছেন, সেখানে অনেক রক্ত আর অনেক মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সকাল ৯টা ৮ মিনিটে সতর্ক সাইরেন বাজানো হয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে শুরু করে। কয়েকদিন আগে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জেলেনস্কির পাঠানো একটি দল। তারা ওয়াশিংটনের বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের কাছে তাদের দেয়া সকল অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন চেয়েছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে এই বৈঠকের পরই ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এমন ভয়াবহ হামলা চালালো রাশিয়া। উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলো কিয়েভকে ভারী অস্ত্র দিলেও সকল অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন করেনি। এতে বেশ বিচলিত মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

ঢাকা আসছেন ডোনাল্ড লু by মিজানুর রহমান

ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদার করার পথ ও পন্থা নিয়ে জরুরি আলোচনায় ঢাকা আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডোনাল্ড লু। যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে আসছেন তিনি। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব ও অর্থ দপ্তরের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিনিয়র ডিরেক্টর লিন্ডসে ফোর্ড। গত মে মাসে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন দক্ষিণ এশিয়ায় বহুল আলোচিত মার্কিন কূটনীতিক লু। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডোনাল্ড লু তথা যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রতিনিধি দলের এটাই হতে যাচ্ছে প্রথম বাংলাদেশ সফর।

দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র রাতে মানবজমিনকে জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা ছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক চেয়েছে। মধ্যরাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলো ঠিক হয়নি।

সূত্র মতে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোতে অগ্রাধিকার থাকলেও সার্বিক সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। বিদ্যমান শ্রম আইন সংশোধনের অগ্রগতি জানতে চাইতে পারে প্রতিনিধি দলটি।  কারণ আগামী দিনে ডিএফসি ফান্ড প্রাপ্তি সহ বাংলাদেশকে যে কোনো অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমমানকে অগ্রাধিকারে রাখবে। বিশেষত: আর্থিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে শ্রম মানের উন্নতি।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তথা ডেমোক্রেটিক শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির ফোকাস হচ্ছে বিশ্বময় গণতন্ত্রের চর্চা। বাংলাদেশে ১৬ বছরের স্বৈরশাসনে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে।

এটা যুক্তরাষ্ট্রসহ মানবাধিকার সংবেদনশীল রাষ্ট্রগুলোর অজানা নয়। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের আলোচনায় উপরুল্লিখিত বিষয়গুলো আসবেই- এমনটা জানিয়ে সেগুনবাগিচার এক কর্মকর্তা বলেন, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে গত এক যুগের বেশি সময়জুড়ে বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে সমালোচনা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে গুমবিরোধী সনদে সই করেছে। গুমের ঘটনাগুলোর বিচারে তদন্ত কমিশনও গঠন করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে।

এই মুরগির দাম ৭ লাখ টাকা, একেকটি ডিমের দাম ২ হাজার টাকা by জাহিদ হোসাইন খান

কৃষ্ণবর্ণের আয়াম সেমানি বিরল প্রজাতির মুরগি। এর পালক, চামড়া, মাংস, এমনকি হাড়ও কালো। ইন্দোনেশিয়ার এই মুরগিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মূল্যবান পোষা প্রাণী হিসেবেই বিবেচনা করেন। আয়াম সেমানিকে বলা হয় ‘মুরগির দুনিয়ার ল্যাম্বরগিনি’।

কেন এত বিখ্যাত

জাভানি ভাষায় সেমানি অর্থ পুরোপুরি কালো। আয়াম মানে মুরগি। আয়াম সেমানি মুরগি অন্য এক প্রজাতি কেদু মুরগি থেকে এসেছে। কেদু মুরগি জাভার কেদু অঞ্চলের একটি স্থানীয় জাত। এই জাতের মুরগিটি কেবল তার কালো পালকের কারণেই নয়, কালো ত্বক, হাড়, পেশি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কৃষ্ণবর্ণের কারণে আলোচিত।

ফাইব্রোমেলানোসিস নামের জেনেটিক মিউটেশনের কারণে এদের শরীরে মেলানিনের অত্যধিক উৎপাদন হয়। ফাইব্রোমেলানোসিসের কারণে এসব মুরগির মেলানিন থাকে সাধারণ মুরগির তুলনায় ১০ গুণ। সবচেয়ে গভীর রঞ্জকওয়ালা প্রাণী হিসেবে এই মুরগির পালক থেকে শুরু করে ঠোঁট, জিব, চোখ, নখ, মাংস ও শরীর কালো হয়। ডিমও কালো হয়।

একটি উচ্চমানের আয়াম সেমানির দাম ৬ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। একেকটি ডিম বিক্রি হয় ১৬ ডলার বা প্রায় ২ হাজার টাকায়।

যাঁরা ইউরোপের কালো রঙের সংস্কৃতি, যেমন মেকআপ, পোশাক ধারণ করেন, তাঁদেরকে বলে ‘গথিক’। গথিক সংস্কৃতিধারীদের বলে ‘গথ’। কালো রঙের বলে এই মুরগিকে গথ মুরগিও বলা হয়। আর স্টার ওয়ার্স কাল্পনিক দুনিয়ার এক সম্প্রদায়ের নাম সিথ। তাদের স্মরণে এই মুরগিকে সিথ লর্ড পাখিও বলা হয়।

সত্যিই সৌভাগ্য আনে এই মুরগি?

এই মুরগির জাত ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ থেকে উদ্ভূত। ধারণা করা হয়, ১২ শতক থেকে এই মুরগি ভিন্ন রঙের কারণে ধর্মীয় ও রহস্যময় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডাচ ঔপনিবেশিক বসতি স্থাপনকারীরা পরে এটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। জ্যান স্টিভেরিং নামের একজন ডাচ খামারি ১৯৯৮ সালে এই মুরগি প্রথম ইউরোপে আমদানি করেন। এর ফলে চেক প্রজাতন্ত্রের মানুষদের আয়াম সেমানি চোখে দেখা ও চেখে দেখার সুযোগ হয়।

জাভানিজ সংস্কৃতিতে আয়াম সেমানিকে ‘পবিত্র পাখি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মুরগি রহস্যময় ক্ষমতার অধিকারী বলে তাঁদের বিশ্বাস। প্রায়ই আচার ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে এই মুরগির ব্যবহার দেখা যায়। বলা হয়, এই মুরগি সৌভাগ্য আনে, খারাপ আত্মা থেকে রক্ষা করে ও আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। জাভা অঞ্চলে এখনো অনেকে আয়াম সেমানি মুরগিকে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বাড়িতে রাখে মানুষ। সত্যিই কতটা সৌভাগ্য আনে, তা অবশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

আলোচিত রেসিপি

আয়াম সেমানি দিয়ে রান্না করা পদেরও বেশ খ্যাতি আছে। এই মুরগির মাংস অন্যান্য জাতের তুলনায় চর্বিহীন ও স্বাদে বেশ মজাদার। কালো রঙের বলে অনেকে অবশ্য এই মুরগির মাংস খেতে চান না। আয়াম সেমানির মাংসে তৈরি বিখ্যাত খাবারের মধ্যে একটি আয়াম সেমানি স্যুপ। একটি ঐতিহ্যবাহী ইন্দোনেশীয় খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। এই স্যুপ সাধারণত হলুদ, আদা, রসুন ও লেমন গ্রাসের মতো বিভিন্ন ভেষজ এবং মসলা দিয়ে রান্না করা হয়। আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হলো আয়াম সেমানি রেনদাং। এই রেসিপিতে মুরগিকে নারকেল দুধ ও মসলার মিশ্রণে ধীরে ধীরে রান্না করা হয়।

আয়াম সেমানিকে বলা হয় ‘মুরগির দুনিয়ার ল্যাম্বরগিনি

 

গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে থেকে দুর্নীতিতে মাতেন জোবায়ের: পেতেন শেখ রেহানার আশকারা

বিএনপি আমলে নিজেকে গাজীপুরের কাপাসিয়ার ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হয়ে যান মাদারীপুরের। সর্বোচ্চ পর্যায়ের আশীর্বাদে বাগিয়ে নিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার আশকারা পেয়ে দিনে দিনে হয়ে উঠেছিলেন ভয়ংকর। অর্থের বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া কিংবা জমি ও বাড়ি দখলে দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করতেন। বড় অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদবির, এমনকি ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের নামে অভিযানের নাটক সাজিয়ে মানি এক্সচেঞ্জ থেকে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নির্বাচনী তহবিল গঠনের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করতেন।

বেপরোয়া এই ব্যক্তির নাম মেজর জেনারেল (অব.) টি এম জোবায়ের ওরফে বিজু। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠন সর্বহারা পার্টির নেতা মৃত রউফ তালুকদারের ছেলে তিনি। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিজ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও তিনটি দেশে বাড়ি এবং অন্তত চারটি দেশে অর্থ পাচারের তথ্য দিয়ে জোবায়েরের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

যাচাই-বাছাইয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এরই মধ্যে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

জানা গেছে, নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েছেন সাবেক এই গোয়েন্দাপ্রধান। অবৈধ টাকায় রাজধানীর অভিজাতপাড়ায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রংপুর এবং ভোলায় বিস্তৃত ফসলি জমি, মাদারীপুরে অঢেল সম্পদ গড়েছেন। গাজীপুরের শ্রীপুরে রিসোর্ট, সদরে বহুতল বাড়ি, গ্রামের বাড়িতেও রয়েছে আলিশান বাড়ি। এ ছাড়া অন্তত চারটি দেশে অর্থ পাচার এবং স্ত্রী ও ভায়রার নামে লন্ডন, তুরস্কে একাধিক বাড়ি গড়েছেন। অঢেল সম্পদ গড়েছেন শ্বশুরবাড়ি এলাকায়ও।

জানা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় ওই গোয়েন্দা সংস্থাটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়। আওয়ামী লীগ আমলে জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার কাজেই এই সংস্থাকে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থেকে শুরু করে দলীয় পদপদবি বণ্টনের ক্ষেত্রেও তথ্য সংগ্রহে এই সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে তাদের রিপোর্টের ওপর বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় মনোনয়ন নির্ভরশীল ছিল। এ কারণে সংস্থার প্রধান হিসেবে প্রচণ্ড প্রভাবশালী ছিলেন জোবায়ের। এ ছাড়াও তার মাথার ওপর ছিল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার ছায়া। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, প্রতারণা, অর্থ পাচার, হয়রানি, নির্যাতন এবং সংস্থার নিরীহ কর্মকর্তা- কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা ও বিভিন্ন দণ্ড প্রদানসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তাকে নিয়ে নিজ সংস্থার ভেতরেই ছিল ক্ষোভ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের নামে বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া নির্বাচনী তহবিলের নামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদাবাজি করেন। একই কাজ করেন ২০২৪-এর জাতীয় নির্বাচনের সময়ও। দুটি নির্বাচনের আগে জোবায়ের কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার অফিসের আসবাবপত্র কেনার জন্য প্রতি বছর সরকারের বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেন মোটা অঙ্কের কমিশন। ২০২১ সালে একটি আবাসন কোম্পানির এমডির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা নেন। এ ছাড়াও নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে ওয়াসার এমডি তাকসিমসহ দেশের বিভিন্ন সমালোচিত ব্যক্তির গদি টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত সুপারিশ করতেন প্রধানমন্ত্রীর দরবারে। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনএম নামে রাজনৈতিক দল তৈরির পেছেনে কলকাঠি নেড়ে সরকারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া বিএনপিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার মিশন নিয়েও সরকারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের তহবিল নিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রধান।

জানা গেছে, জুবায়ের দায়িত্বে থাকাকালে সংস্থাটিতে তিনবার জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালের সেসব নিয়োগে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতান জোবায়ের। কোনো ধরনের নিয়মকানুন না মেনে নিজের চাচাতো ভাই জহিরের সুপারিশে জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা করে নিয়ে অন্তত ৫০ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। জোবায়েরের ভায়রা কাইয়ুম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সালমান এফ রহমান, পরিবহন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রধান এনায়েত উল্ল্যাহ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক প্রধান বেনজীর আহমেদসহ অনেকের সঙ্গে গভীর সখ্য ছিল টিএম জোবায়েরের।

জানা গেছে, গুলশান ২ নম্বরের ৮৪ নম্বর রোডে গোয়েন্দা সংস্থাটির একটি কার্যালয় শেখ রেহানাকে দেওয়ার কথা বলে দখলে নিয়েছিলেন জোবায়ের। এরপর সেই বাড়ি গণপূর্তের মাধ্যমে তনিজের এক আত্মীয়ের নামে বরাদ্দ দেন। নানা অনিয়মের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। এসব টাকা লন্ডন, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে পাচার করেছেন। লন্ডনসহ অন্তত ৩টি দেশে তার বাড়িও রয়েছে। দেশে থাকা সম্পদের মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় রিসোর্ট ও গাজীপুর সদরে বহুতল বাড়ি। রাজধানী ঢাকার উত্তরা ৭নং সেক্টরে নিজের ও বোনের নামে ফ্ল্যাট, উত্তরা রাজলক্ষ্মী মার্কেটে একাধিক দোকান, রংপুরে বিস্তৃত ফসলি জমি দখল, ঢাকার পূর্বাচল ও বসুন্ধরা প্লট, ঢাকার সেগুনবাগিচায় ফ্ল্যাট, ধানমন্ডি

৭/এ-তে ফ্ল্যাট ও সাভার ডিওএইসএসে ১০ তলা বাড়ি। এ ছাড়াও নিজের গ্রামে গড়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি। নিজের এলাকায় দখলদারিত্ব চালাতেন চাচাচো ভাই জহিরের মাধ্যমে। প্রভাব খাটিয়ে ৬ একর জমি দখল করে জুবায়েরের বাবার নামে বানিয়েছেন আব্দুর রব তালুকদার ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা গৌরনদীর পালরদী নদীসংলগ্ন সরকারি খাস এবং ব্যক্তিমালিকানা জমি দখল করে বানিয়েছেন ‘দক্ষিণ রমজানপুর তালুকদার লঞ্চ টার্মিনাল’। স্থানীয় চুন্নু তালুকদার নামে এক চাচাতো ভাইয়ের ৩ একর জায়গা দখল করে বানিয়েছেন ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। হাসপাতালে রাস্তা করতে স্থানীয় এক গরিব মহিলার ৩ বিঘা ফসলি জমি দখল করা হয়েছে। পাশেই চুন্নু তালুকদারের একটি গাছের বাগান কেটে সেখানে পুলিশ ফাঁড়ি বানানোর পরিকল্পনা করেছেন। দখলের প্রতিবাদ করায় চুন্নু তালুকদারের ছেলে জিয়াউল তালুকদারকে ধরিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় হত্যা মামলা। এরপর মেহেদী নামে আরও এক ছেলের বিরুদ্ধেও দেওয়া হয় হত্যা মামলা।

যোগাযোগ করা হলে মেহেদী তালুকদার কালবেলাকে বলেন, ‘বিজু (জোবায়ের) তো আমার চাচা। তবে সে খারাপ লোক। আমরা তার পরিচয় দিই না। কেউ জিজ্ঞেস করলে হয়তো বলি। তার নির্দেশে আমার ভাই জিয়াকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আমাদের দুই ভাইয়ের নামে হত্যা মামলা দিয়েছে। এই কাজটা তারা ঠিক করে নাই।’

জোবায়েরের জমি দখল প্রক্রিয়ায় জড়িত এক ব্যক্তি কালবেলাকে বলেন, ‘এলাকায় জোবায়ের সব জমি কিনেছে চাচাতো ভাই জহিরের মাধ্যমে। জমির দাম কাঠাপ্রতি ২ লাখ টাকার ওপরে। তারা কাউকে ১ লাখ ৩৫ হাজার, কাউকে ৮৫ করে দিয়ে দলিল করে নিয়ে গেছে। জুবায়ের বেশিরভাগ সম্পত্তি তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা ভোলায়। এ ছাড়াও তার চাচাতো ভাই জহিরের নামেও অনেক সম্পদ রয়েছে।’

ভোলার একাধিক ব্যক্তি কালবেলোকে জানিয়েছেন, ভোলা শহরের অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জমি রয়েছে সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের। এ ছাড়া সেখানে শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন আত্মীয়ের নামেও জমি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে।

সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতেও বিদেশে জোবায়েরের সম্পদের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, জোবায়ের লন্ডন, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে বিপুল পরিমাণে অর্থ পাচার করেছেন। হ্যাম্পশায়ার শহরে গড়ে তুলেছেন কয়েকটি রেস্টুরেন্ট এবং বাড়ি। এ ছাড়া ২৯ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড বা বাংলাদেশি অর্থে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লন্ডনে একটি বিলাশবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন। লন্ডনের বেক্সলি এলাকার হেথ কর্ফট ওয়ানশান্ট সড়কের ৭ নম্বর বাড়িটির মালিক সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান। কয়েকটি দেশে পাচারকৃত অর্থে তৈরি করেছেন বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করার জন্য নিজের অনুগত কর্মকর্তাদের এসব বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মেজর জেনারেল (অব.) টি এম জুবায়েরের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি। প্রশ্ন লিখে তার ব্যক্তিগত নম্বরে মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

হাসিনাকে নিয়ে দ্বিধায় দিল্লি! -বিবিসির প্রতিবেদন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের তোপে ক্ষমতা ছাড়ার প্রায় এক মাস হতে চলেছে। এখন তিনি দিল্লিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। ৫ই আগস্ট হাসিনার নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা হারানোর পর তিনি একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি দিল্লিতে অবতরণের পর গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছিল হাসিনা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয়ের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দেশগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাদের দেশে হাসিনার জায়গা হবেনা। এই পরিস্থিতিতে তার সামনে অপশন মাত্র দুটো। হয়ত তিনি ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে থাকবেন, নাহয় তাকে দেশে ফিরে আসতে হবে। এখানে দেখার বিষয় ভারত হাসিনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যদি হাসিনা স্থায়ীভাবে ভারতে অবস্থানের সুযোগ পান তাহলে তা দিল্লিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সাথে সম্পর্ক গড়তে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। যদি এমনটাই ঘটে তাহলে দিল্লির কূটনীতি মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

কেননা ভারতের কাছে বাংলাদেশ শুধুমাত্র প্রতিবেশী দেশই নয়। দিল্লির কৌশলগত অংশীদার হচ্ছে বাংলাদেশ। এছাড়া ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠ মিত্র হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে ভারতের জন্য বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, দুই দেশের মোট সীমান্ত ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে যদি কখনও বিদ্রোহ দেখা দেয় তাহলে তা বাংলাদেশের সাহায্য ছাড়া মোকাবিলা করা দিল্লির জন্য কঠিন। কেননা রাজ্যগুলোর গোষ্ঠীগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করা তুলনামূলকভাবে সহজ। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতিগত বিদ্রোহীদের দমন করতে ভারতের তেমন বেগ পোহাতে হয়নি। কেননা হাসিনা ভারতের সাথে বেশ কয়েকটি সীমান্ত বিরোধও বন্ধুত্বপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করেছিলেন। সীমান্ত নিরাপত্তা মূলে থাকলেও আর্থিক দিকও এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের বিকাশ ঘটে। ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের সড়ক, নদী এবং রেল পথ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ভারত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশকে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ দিয়েছে। তবে হাসিনার এমন আকস্মিক ক্ষমতা হারানোয় পুনরায় বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা দিল্লির জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন,‘এটি এই অর্থে একটি ধাক্কা যে আমাদের আশেপাশে যেকোনো অশান্তি সবসময়ই অবাঞ্ছিত।’ তবে সাবেক এই কূটনীতিক জোর দিয়েছিলেন যে, দিল্লি ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে কাজ করবে। কেননা এর কোন বিকল্প নেই এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে যা করবে তা ভারত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সময় ক্ষেপণ করেনি। যাইহোক, গত ১৫ বছর ধরে হাসিনা এবং তার আওয়ামী লীগের প্রতি অটল সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভারত বিরোধীতার জন্ম নিয়েছে তা লাঘবে দিল্লির আরও সময় লাগবে। শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে তার স্বচ্ছতা নিয়ে বেশ উদ্বেগ রয়েছে জনগণের। তবে জনগণের এমন উদ্বেগকে উপেক্ষা করে ক্রমাগতভাবে হাসিনাকে সমর্থন করায় দিল্লির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে আক্রোশ বেড়েছে তা বিগত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। হাসিনার পতনের সাথে দিল্লির ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতিটি আরেকবার ধাক্কা খেল। কেননা বাংলাদেশ ভারতের আধিপত্য বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে মালদ্বীপ এবং নেপালের পথেই হাঁটবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লি যদি একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে তার মর্যাদা রক্ষা করতে চায় তবে অন্য প্রতিবেশী দেশে তার প্রভাব বজায় রাখতে হবে। যেহেতু ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীনও এই অঞ্চলে প্রভাবের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত বছর ভারতের চোখের সামনেই ভারত-বিরোধীতা করে মালদ্বীপের ক্ষমতায় এসেছে মোহাম্মদ মুইজ্জু। ঢাকার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ভারতের জন্য তার আঞ্চলিক নীতি সম্পর্কে কিছু আত্মসমালোচনা করার সময় এসেছে। তিনি বলেছেন, দিল্লিকে দেখতে হবে তার আঞ্চলিক অংশীদাররা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি যথাযথভাবে গ্রহণ করেছে কিনা। এক্ষেত্রে দেবপ্রিয় শুধু বাংলাদেশকেই উদ্দেশ্য করেননি, তিনি এই অঞ্চলের সব দেশের কথাই বুঝাতে চেয়েছেন। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে ভারত যদি আওয়ামী লীগের বিকল্প কাউকে তাদের কাছে টানতে না পারে তাহলে তাদের জন্য বিষয়টি খুব জটিলই বটে। বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির এক নেতা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারে তাহলে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপির সাথে ভারতের সম্পর্ক কতটা জোরালো। যেহেতু অতীতে তাদের সুসম্পর্কের কোনো নজির নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজেদের সম্পর্ক জোরালো করতে চীনও বেশ জোরালো উপস্থিতি জানান দেয়ার চেষ্টা করছে। কেননা ভারতের সাথে আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াইয়ে বেইজিং বাংলাদেশে তার পদচিহ্ন প্রসারিত করতে আগ্রহী। নির্বাচনে জয়ের পর মুইজ্জুর জন্য চীন লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছিল। সুতরাং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই পরিণতি এড়াতে চাইবে দিল্লি। ভারতীয় পণ্য ও বাণিজ্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা ও কূটনৈতিক কৌশল তৈরি করার চেষ্টা করবে।

এক্ষেত্রে হাসিনার উপস্থিতিকে ঘিরে দিল্লিকে সাবধানে পা ফেলতে হবে। বিশেষ করে যদি অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত দেয়ার অনুরোধ করে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ভারতে হাসিনাকে কীভাবে আতিথেয়তা করবে তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু দিল্লি থেকে হাসিনা কীভাবে দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেন তা বাংলাদেশিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাহলে তা বৈরী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বিবিসি থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত।

সম্পর্ক পুনরুদ্ধারই দিল্লির জন্য কঠিন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের তোপে ক্ষমতা ছাড়ার প্রায় এক মাস হতে চলেছে। এখন তিনি দিল্লিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। ৫ই আগস্ট হাসিনার নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা হারানোর পর তিনি একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি দিল্লিতে অবতরণের পর গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছিল হাসিনা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয়ের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দেশগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাদের দেশে হাসিনার জায়গা হবে না। এই পরিস্থিতিতে তার সামনে অপশন মাত্র দুটো। হয়তো তিনি ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে থাকবেন, না হয় তাকে দেশে ফিরে আসতে হবে। এখানে দেখার বিষয় ভারত হাসিনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যদি হাসিনা স্থায়ীভাবে ভারতে অবস্থানের সুযোগ পান তাহলে তা দিল্লিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। যদি এমনটাই ঘটে তাহলে দিল্লির কূটনীতি মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

কেননা, ভারতের কাছে বাংলাদেশ শুধুমাত্র প্রতিবেশী দেশই নয়। একটিতে বাংলাদেশ ভারতের কৌশলগত অংশীদার অন্যদিকে দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠ মিত্র হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে ভারতের জন্য বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, দুই দেশের মোট সীমান্ত ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে যদি কখনো বিদ্রোহ দেখা দেয় তাহলে তা বাংলাদেশের সাহায্য ছাড়া মোকাবিলা করা দিল্লির জন্য কঠিন। কেননা, রাজ্যগুলোর গোষ্ঠীগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করা তুলনামূলকভাবে সহজ। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতিগত বিদ্রোহীদের দমন করতে ভারতের তেমন বেগ পোহাতে হয়নি। কেননা, হাসিনা ভারতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সীমান্ত বিরোধও বন্ধুত্বপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করেছিলেন। সীমান্ত নিরাপত্তা মূলে থাকলেও আর্থিক দিকও এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের বিকাশ ঘটে। ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের সড়ক, নদী এবং রেলপথ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ভারত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশকে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ দিয়েছে। তবে হাসিনার এমন আকস্মিক ক্ষমতা হারানোয় পুনরায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা দিল্লির জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘এটি এই অর্থে একটি ধাক্কা যে, আমাদের আশপাশে যেকোনো অশান্তি সবসময়ই অবাঞ্ছিত।’ তবে সাবেক এই কূটনীতিক জোর দিয়েছিলেন যে, দিল্লি ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। কেননা, এর কোনো বিকল্প নেই এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে যা করবে তা ভারত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সময়ক্ষেপণ করেনি। যাই হোক, গত ১৫ বছর ধরে হাসিনা এবং তার আওয়ামী লীগের প্রতি অটল সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভারত বিরোধিতার জন্ম নিয়েছে তা লাঘবে দিল্লির আরও সময় লাগবে। শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে তার স্বচ্ছতা নিয়ে বেশ উদ্বেগ রয়েছে জনগণের। তবে জনগণের এমন উদ্বেগকে উপেক্ষা করে ক্রমাগতভাবে হাসিনাকে সমর্থন করায় দিল্লির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে আক্রোশ বেড়েছে তা বিগত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। হাসিনার পতনের সঙ্গে দিল্লির ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতিটি আরেকবার ধাক্কা খেলো। কেননা, বাংলাদেশ ভারতের আধিপত্য বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে মালদ্বীপ এবং নেপালের পথেই হাঁটবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লি যদি একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তার মর্যাদা রক্ষা করতে চায় তবে অন্য প্রতিবেশী দেশে তার প্রভাব বজায় রাখতে হবে। যেহেতু ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীনও এই অঞ্চলে প্রভাবের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত বছর ভারতের চোখের সামনেই ভারত-বিরোধিতা করে মালদ্বীপের ক্ষমতায় এসেছে মোহাম্মদ মুইজ্জু। ঢাকার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ভারতের জন্য তার আঞ্চলিক নীতি সম্পর্কে কিছু আত্মসমালোচনা করার সময় এসেছে। তিনি বলেছেন, দিল্লিকে দেখতে হবে তার আঞ্চলিক অংশীদাররা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি যথাযথভাবে গ্রহণ করেছে কিনা। এক্ষেত্রে দেবপ্রিয় শুধু বাংলাদেশকেই উদ্দেশ্য করেননি, তিনি এই অঞ্চলের সব দেশের কথাই বুঝাতে চেয়েছেন। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

হাসিনার পতনের মধ্যদিয়ে এটি স্পষ্ট বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে ভারত যদি আওয়ামী লীগের বিকল্প কাউকে তাদের কাছে টানতে না পারে তাহলে তাদের জন্য বিষয়টি খুবই জটিল বটে। বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির এক নেতা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারে তাহলে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি’র সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কতোটা জোরালো। যেহেতু অতীতে তাদের সুসম্পর্কের কোনো নজির নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজেদের সম্পর্ক জোরালো করতে চীনও বেশ জোরালো উপস্থিতি জানান দেয়ার চেষ্টা করছে। কেননা, ভারতের সঙ্গে আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াইয়ে বেইজিং বাংলাদেশে তার পদচিহ্ন প্রসারিত করতে আগ্রহী। নির্বাচনে জয়ের পর মুইজ্জুর জন্য চীন লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছিল। সুতরাং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই পরিণতি এড়াতে চাইবে দিল্লি। ভারতীয় পণ্য ও বাণিজ্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা ও কূটনৈতিক কৌশল তৈরি করার চেষ্টা করবে।

এক্ষেত্রে হাসিনার উপস্থিতিকে ঘিরে দিল্লিকে সাবধানে পা ফেলতে হবে। বিশেষ করে যদি অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত দেয়ার অনুরোধ করে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ভারত হাসিনাকে কীভাবে আতিথেয়তা করবে তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু দিল্লি থেকে হাসিনা কীভাবে দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেন তা বাংলাদেশিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাহলে তা বৈরী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

(বিবিসি থেকে নেয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত)।

‘আয়নাঘরে’ থাকার যে বর্ণনা দিলেন আমান আযমী

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী আট বছর গোপন স্থানে বন্দি থাকার বর্ণনা দিয়েছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মুক্তি পাওয়া আযমী গতকাল গণমাধ্যমের সামনে আসেন। কথিত আয়না ঘরে থাকার বর্ণনা দেন। বলেন, বন্দি অবস্থায় পৃথিবীর কোনো আলো দেখিনি। প্রতি রাতেই ক্রসফায়ারের ভয় থাকতো। তারা আমার সঙ্গে খুব দুর্ব্যবহার করতো।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হন আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে। ২০১৬ সালের ২২শে আগস্ট রাতে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে গুম করা হয় বলে পরিবার জানায়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বার বার মনে হতো, তারা হয়তো আমাকে ক্রসফায়ার করে হত্যা করবে। আমি তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে শুধু কান্না করতাম। আমার লাশটা যেন আমার পরিবারের কাছে যায়।

তিনি বলেন, দেশে যে বিপ্লব হয়েছে সেটি আমি জানতাম না। আগস্টের ৫ তারিখে রাত সাড়ে দশটার সময় এসে আমাকে বলা হলো আপনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বললাম, আমি তো ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাই। যদি দুইটার দিকে আসেন তবে সুবিধা হয়। কয়েকদিন আগেই ডাক্তার দেখে গেছেন, রক্ত পরীক্ষা করলেন। এখন আবার কোথায় নিয়ে যাবেন। পরে আমাকে মুখোশ পরিয়ে আশপাশের আরেকটি রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। আমি বললাম, আট বছর ধরে আপনাদের বলেছি আমার দাঁত ভেঙে গেছে। আমার কানের সমস্যা হচ্ছে। এতদিন আপনাদেরকে বলেছি আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান, আপনারা নিয়ে যান না। আর এখন বলছেন হাসপাতালে যেতে হবে এটা কেমন কথা। পরে আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, যাচ্ছে, তার শেষ নাই। আমি বললাম ঢাকা শহরের কোনো হাসপাতাল তো এত দূরে না। আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? কেউ কোনো জবাব দিলো না। রাস্তা ভাঙাচোরা। আমি জানতে চাইলাম, ঢাকা শহরের কোনো রাস্তা তো এতো ভাঙাচোরা না। আপনারা কি আমাকে কোনো গ্রামের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন নাকি? তারা কোনো জবাব দিলো না। পরে আমাকে আরেকটি বন্দিশালায় নিয়ে গেল। এখন আমি যেটা অনুমান করতে পারি, রাস্তায় ছাত্র-জনতা যেভাবে গাড়ি চেক করছিল এজন্য তারা আমাকে গ্রামের রাস্তা দিয়ে নিয়ে গেছেন। পরে তারা বললেন, আপনি এখানে থাকেন। আমি বললাম, আপনারা না আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন এটা কোথায় নিয়ে আসলেন? বলা হলো, আপনাকে পরে জানানো হবে। ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৬ই আগস্ট আমাকে একজন জানালেন, আজ আমাকে মুক্তি দেয়া হতে পারে। একজন বললেন, আপনার কাপড়ের সাইজ বলেন। আমি বললাম, আমি তো গার্মেন্টসের কাপড় পরি না, সাইজ বলতে পারবো না। পরে একটা কাপড় নিয়ে আসা হলো। যেটা আপনারা দেখেছেন মুক্তির পরে প্যান্ট-শার্ট। ওটা পরে দেখলাম ঠিক আছে। বাইরে কি হচ্ছে সে খবরই তো নাই আমার কাছে। পরে সোয়া ৯টার দিকে আমাকে নিয়ে তারা রওনা হলো। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা সড়কের পাশে আমাকে নিয়ে তারা ছেড়ে দিলেন। বলা হলো, গাড়ি আসবে গাড়িতে উঠে আপনি চলে যাবেন। তখন রাত পৌনে বারোটা বাজে। পরে তারা আমাকে টাকা দিলো। আমি জানতে চাইলাম ঢাকায় যাওয়ার ভাড়া কতো? তারা বললেন, ঠিক জানি না। জানতে চাইলাম এখানে কতো টাকা আছে। তারা বললেন, পাঁচ হাজার টাকা। আমি বললাম, আমি আপনাদের টাকার মুখাপেক্ষী নই। এখান থেকে ঢাকার ভাড়া যতটুকু ততটুকু টাকা দেন। তারা বললেন, আপনি যা করেন, দান করেন, কিছু টাকা আপনাকে নিতে হবে। তাদের সঙ্গে এক সেকেন্ড কথা বলার আমার রুচি ছিল না। এরপর তারা আমাকে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। আমি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলাম না। এরপর দেখলাম একটা গাড়ি আসছে। তখন আমি ঝাঁপিয়ে পড়ে বাসের মধ্যে উঠি। কীভাবে যে আমি ১০০ মিটারের মতো রাস্তায় দৌড়ে বাসে উঠেছি এখনো কল্পনা করতে পারি না। পরে বাসে উঠলাম। আমার স্ত্রী এবং চাচাতো ভাইয়ের ফোন নম্বর আমার মনে ছিল। একজনের থেকে ফোন নিয়ে তাদের ফোন করে বললাম। বাস আমাকে টেকনিক্যাল মোড়ে নামিয়ে দিলো। এরপর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে ৮ তারিখ ভোরে বাসায় পৌঁছালাম।

গুম হওয়ার আগের ঘটনা বর্ণনা করে আবদুল্লাহিল আমান আযমী আরও বলেন, যখন আমার বাসায় তারা এলো, তখন তাদের কাছে আমি জানতে চেয়েছিলাম, আপনারা কারা, পরিচয় কী, পরিচয়পত্র দেখান। আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো ওয়ারেন্ট আছে কিনা, তা জানতে চেয়েছিলাম। তারা আমার কথার জবাব দেয়নি। তিনি বলেন, একপর্যায়ে আমাকে নিয়ে গাড়িতে ওঠায়। আমার চোখমুখ বাঁধা অবস্থায় একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ফেলে রাখা হয়, অন্ধকার এক ঘরে। টয়লেট যেতে চাইলে চোখ হাত বেঁধে নিয়ে যেত।

আযমী বলেন, আমার দিনগুলো কেমন কেটেছে মনে হলে বুক ফেটে যায়। একদিন আমাকে এসে বলা হলো, আপনার লিখিত দিতে হবে। সেখানে আপনি লিখবেন, আমি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবো না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বিদেশে সুখে শান্তিতে থাকতে চাই। আমি বিদেশে চলে যাবো, তখন আমি বলেছি, আমি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। আপনারা আমাকে অবৈধভাবে অপহরণ করেছেন। আটক করে রেখেছেন, আমাকে নির্যাতন করছেন। আমি এটার প্রতিবাদে মিছিল মিটিং করতে পারছি না। তাই মৌন প্রতিবাদ হিসেবে বড় চুল রেখেছি। আমি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা আমি রাজনীতি করবো কি করবো না, আমি এ দেশে থাকবো কি থাকবো না। আল্লাহ আমাকে সেই সৎ সাহসটুকু দিয়েছিলেন। আমি এটা দৃঢ়ভাবেই বলেছি।

কটিয়াদী পাকুন্দিয়ায় সুলতানের সাম্রাজ্য by আশরাফুল ইসলাম

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এডভোকেট মো. সোহ্‌রাব উদ্দিনের একমাত্র ছেলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম তৌফিকুল হাসান সাগর। কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার মানুষের কাছে তিনি ‘সুলতান’ নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘদিন আগে তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি ভয়ঙ্কর সশস্ত্র বাহিনী, যার নাম সুলতান বাহিনী। আস্থাভাজন ৩০-৪০ জন তরুণ-যুবকদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় এই বাহিনী। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে বিনা ভোটে এমপি হন তার বাবা এডভোকেট সোহ্‌রাব উদ্দিন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে বঞ্চিত হন সোহ্‌রাব। নূর মোহাম্মদ এমপি থাকার সময়ে বেশ কয়েকবার তার লোকজনের সঙ্গে পাকুন্দিয়ায় সুলতান বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সুলতান বাহিনী এতটাই ভয়ঙ্কর ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত থাকতো যে, এমপি নূর মোহাম্মদ সমর্থক এবং পুলিশকে তারা মাঠেই দাঁড়াতে দিতো না। এই বাহিনীর উপর ভর করেই বিগত ৭ই জানুয়ারির নির্বাচনে কেন্দ্রের পর কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন সোহ্‌রাব।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের পর আরও ভয়ঙ্কররূপে আবির্ভূত হয় সুলতান বাহিনী। এই বাহিনী হয়ে ওঠে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক। এমপি বাবাকে সামনে রেখে দুই উপজেলার সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন সুলতান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ম্যানেজিং কমিটি, কালিয়াচাপড়া সুগার মিলের যন্ত্রাংশ ও মালামাল পাচার, বালুমহাল, টিসিবি ডিলারসহ সবকিছুই হতো সুলতানের হাতের ইশারায়। সুলতান নিজেই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ দখল করেন। মাত্র ৭ মাসেই এসব খাত থেকে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন সুলতান। এ ছাড়া তার নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলা জুড়ে গড়ে ওঠে ভারতীয় চোরাই চিনির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। চোরাই এসব চিনি যেতো রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে। চিনি চোরাচালান থেকে সুলতান বিপুল অঙ্কের টাকা কামালেও সংসদ সদস্য বাবার সুবাদে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান তিনি। গত ৮ই মে অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এমপি’র সমর্থনের জন্য তৎকালীন পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক জুটনের কাছ থেকে সুলতান ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। সে সময় বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়। সুলতানকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এমপি’র সমর্থন লাভের পরপরই মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৬ই এপ্রিল এমদাদুল হক জুটন ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। নির্বাচনের দিন সুলতান বাহিনী তার পক্ষে ভোটে ব্যাপক অনিয়মসহ একাধিক কেন্দ্র দখলে ভূমিকা রাখে। এরপর ফলাফল ঘোষণার সময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে এমদাদুল হক জুটনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। এ ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে ভোটভর্তি ব্যালটবাক্স আদালতের জিম্মায় রাখা হয়। সর্বশেষ ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ঠা আগস্ট সোহ্‌রাব ও তার ছেলে সাগরের নেতৃত্বে পাকুন্দিয়া থানার ওসি আসাদুজ্জামান টিটুসহ থানা পুলিশ ও সুলতান বাহিনী মিলে পাকুন্দিয়া সদরে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। ৫ই আগস্ট পটপরিবর্তনের পর সুলতান বাহিনী উপজেলার দরগা বাজারে সোহ্‌রাবের বাসভবনকে ঘিরে শক্ত অবস্থান নেয়। সুলতান বাহিনীর পাহারায় গত ১২ই আগস্ট সেখানে একটি সভাও হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গত আগস্ট পিতা-পুত্র পাকুন্দিয়া ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০১৪ সালের পর সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতসহ ব্যাপক টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি ছিল সুলতান বাহিনীর নিত্যনৈমত্তিক কাজ। এমপির ক্ষমতার প্রভাবে মামলার জালে ঘায়েল করা হতো প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের। এমপিকে প্রধান অতিথি করা ছাড়া এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান করা যেতো না। রাজনৈতিক, ক্রীড়া, সামাজিক প্রতিটি অনুষ্ঠানে সোহ্‌রাবকে প্রধান অতিথি করতে হতো। এর ব্যত্যয় হলে সে অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করে দেয়া হতো। এ ছাড়া সোহ্‌রাবের সেই মেয়াদে সড়কবাতি প্রকল্পের টেন্ডার বাগিয়ে নিয়ে তার ছেলে সাগর কয়েক কোটি টাকা কামাই করেন। ২০১৯ সালের মে মাসে সাগর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শোভন-রাব্বানী কমিটিতে টাকার বিনিময়ে সহ-সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। সে সময় এ নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়। এর প্রেক্ষিতে সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন সাগর। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৪ই নভেম্বর প্রকাশিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবে স্থান পান তিনি। যুবলীগের এই পদকে পুঁজি করে সাগর তার সুলতান বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখেন। ৫ বছর বিরতির পর সোহ্‌রাবের সর্বশেষ এমপির মেয়াদে মাত্র ৭ মাসেরও কম সময়ে অন্তত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার ছেলে সাগর। এর মধ্যে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া এই দুই উপজেলার বালু খাত থেকেই আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। পিতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পরই নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে সাগর জানিয়ে দেন, ‘টাকা খরচ করে আমরা এমপি হয়েছি, এখন আমি সুদে-আসলে সে টাকা তুলবো। এ নিয়ে যেন কারও কোন কথা না শুনি।’ এরপরই শুরু হয় সুলতানের টাকা কামানোর মিশন। এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য সোমবার বিকাল ৫টা ৩৬ মিনিটে এসএম তৌফিকুল হাসান সাগর এর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


আইসিসি’র পরোয়ানা উপেক্ষা করে মঙ্গোলিয়ায় পুতিন

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উপেক্ষা করেছে মঙ্গোলিয়া। তারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নির্বিঘ্নে উলানবাটোর ভ্রমণের নিশ্চয়তা দিয়েছে। ফলে আইসিসি’র গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে তোয়াক্কা করেননি পুতিন। তিনি সরকারি সফরে পৌঁছে গেছেন মঙ্গোলিয়ায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার  সেখানে পৌঁছালে পুতিনকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। কিন্তু মঙ্গোলিয়া আইসিসি’র সদস্য দেশ। ইউক্রেনের শিশুদেরকে জোর করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন রকম যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত বছর পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এর ফলে সদস্য দেশগুলো আইসিসি’র ওই রায় মানতে বাধ্য। তা উপেক্ষা করে পুতিনকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

পাঁচ বছরের মধ্যে এটাই প্রতিবেশী কোনো দেশে পুতিনের সফর। এদিন রাজধানী উলানবাটোরে চেঙ্গিস খান স্কোয়ারকে মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার বিশাল পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। আগেরদিন মঙ্গোলিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সফরের প্রতিবাদে ছোটখাটো বিক্ষোভ হয়েছে। তাদের হাতে ছিল ব্যানার। তাতে লেখা- যুদ্ধাপরাধী পুতিনকে এখান থেকে বের করে দাও। ওদিকে পুতিনকে গ্রেপ্তার করে হেগে অবস্থিত আইসিসি’র কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানায় ইউক্রেন। অভিযোগ আছে, ইউক্রেনের শিশুদেরকে জোর করে পুতিন বেআইনিভাবে তার দেশে নিয়ে গিয়েছেন। সেখানে বিভিন্ন পরিবারের কাছে রাখা হয়েছে তাদের। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসী হামলা চালানোর পর থেকেই এই কাজ করে আসছে মস্কো। এর প্রতিবাদ বা নিন্দা জানানো থেকে বিরত থাকে মঙ্গোলিয়া। এই যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে ভোটের সময়ও তারা ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। সোমবার এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গোলিয়ার নির্বাহী পরিচালক আলতানতুয়া বাতদোরজ বলেন, ন্যায়বিচার থেকে একজন পলাতক প্রেসিডেন্ট পুতিন। আইসিসিভুক্ত সদস্য দেশগুলোতে সফরের ক্ষেত্রে যদি তাকে গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে তাতে পুতিনের বর্তমান কর্মকাণ্ড আরও উৎসাহিত হবে। এতে আইসিসি’র কর্মকাণ্ডকে কৌশলগতভাবে হেয় করা হবে। যদি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় তাহলে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে বাধ্য সদস্য দেশটি। তবে  জোরপূর্বক কোনো মেকানিজম প্রয়োগ করার কিছু নেই। ভ্লাদিমির পুতিনের একজন মুখপাত্র গত সপ্তাহে বলেছেন, সফরের সময় প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।
রাশিয়া ও চীনের মধ্যবর্তী অংশে মঙ্গোলিয়ার অবস্থান। তারা জ্বালানি এবং বিদ্যুতের জন্য খুব বেশি নির্ভরশীল রাশিয়ার ওপর। আর দেশের খনিজ শিল্পে বিনিয়োগের জন্য তারা বেশি নির্ভরশীল চীনের ওপর। সোভিয়েত আমলে এটা ছিল মস্কোর অধীনে। ১৯৯১ সালে ভেঙে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। তারপর থেকেই তারা ক্রেমলিন এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। জাপানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সোভিয়েত এবং মঙ্গোলিয়ান সেনারা ১৯৩৯ সালে যে বিজয় অর্জন করেছিল তার স্মরণ অনুষ্ঠানে মঙ্গলবারই যোগ দেয়ার কথা পুতিন ও খুরেলসুখের। তার আগে মঙ্গোলিয়ার পত্রিকা উন্নুদুর’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে আছে চীন ও রাশিয়াকে যুক্ত করে ত্রিদেশীয় গ্যাস পাইপলাইনের (ট্রান্স-মঙ্গোলিয়ান গ্যাস পাইপলাইন) নির্মাণকাজ।

সিলেটে নেতা পাচারে সীমান্তে সক্রিয় ওরা by মুফিজুর রহমান

বয়স খুব বেশি নয়। এরইমধ্যে চোরাচালানে নাম সীমান্ত জুড়েই আলোচিত। রায়হান হত্যার পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক এসআই আকবর থেকে শুরু করে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সবখানেই তাদের নাম। ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের পাচারের ঘটনায় সম্প্রতি সময়ে বেশি করে আলোচিত হচ্ছে তাদের নাম। নাম আসার পর গা ঢাকা দিয়েছে তারা। বলা হচ্ছে; ওরাও আত্মগোপনে চলে গেছে। সীমান্ত এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কানাইঘাট সীমান্তের একাধিক দুর্গম এলাকা দিয়ে চোরাকারবারি ও দালালদের মাধ্যমে নিরাপদে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে সিলেটের অনেক নেতা ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের অবস্থা খারাপ থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র টহল জোরদার কয়েকদিন না থাকার কারণে ৭ ও ৮ই আগস্ট ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনের মাধ্যমে চোরাকারবারি দালালদের মাধ্যমে কানাইঘাটের ডোনা ও সুরইঘাট সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে নিরাপদে চলে যান বলে সীমান্ত এলাকার অনেকে বলেছেন। বিশেষ করে গত ২৩শে আগস্ট কানাইঘাট ডোনা মিকিরপাড়া ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তর থেকে দেশের আলোচিত সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আটক করা হয়।

প্রভাবশালী একটি চক্রের মাধ্যমে শামসুদ্দিন মানিক কানাইঘাটে আসেন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। এই চক্রের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা করার পর বিচারপতি মানিককে ভারতের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়ার জন্য ২১শে আগস্ট দনা সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বড়চাতল গ্রামের মৃত ফারুক আহমদের পুত্র রাজু আহমদ, খাচারীপাড়া গ্রামের মৃত লেদু মিয়ার পুত্র সিরাজ উদ্দিন, একই গ্রামের খলিল মিয়ার পুত্র ছাব্বির আহমদ, রফিকুল ইসলামের পুত্র সাদ্দাম, তোতা মিয়ার পুত্র আব্দুল কাইয়ুমকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়। ওইদিন রাতেই চোরাকারবারি রাজু, সিরাজ, সাদ্দাম ও কাইয়ুম মিলে সীমান্তবর্তী মিকিরপাড়া এলাকায় ভারতের পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের নিচ দিয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিককে ভারতে নিয়ে যায়। বিষয়টি দনা বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তারা জানার পর যারা শামসুদ্দিনকে ভারতে নিয়ে গেছে তাদের পরিবারের কয়েক সদস্যকে ডোনা ক্যাম্পে নিয়ে আসেন বিজিবি সদস্যরা। তারা ভারতে নিয়ে যাওয়া ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেশে আনার জন্য পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করলে বিচারপতি মানিককে একদিন ভারতের দুর্গম এলাকায় কলা পাতার  বিছানা করে রাখা হয়। বিচারপতি মানিক আটক হওয়ার একদিন পর ২৪শে আগস্ট রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা ইছহাক আলী খান পান্না’র লাশ কানাইঘাট সীমান্তের ওপারে পড়ে রয়েছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আলোচনায় চলে আসে কানাইঘাটের সীমান্ত এলাকার নাম। এ ছাড়াও সুরাইঘাটের সোনাতনপুঞ্জি সীমান্ত এলাকার কয়েকজন জানিয়েছেন সরকার পতনের পর থেকে একাধিক ব্যক্তি সোনাতনপুঞ্জি সীমান্ত দিয়ে দালালদের মাধ্যমে ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। ওই চক্রের সদস্যরা স্থানীয় চোরকারবারিদের টাকার বিনিময়ে মানুষদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন, দনা রাতাছড়ার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে আলতাফ হোসেন, দনা বাঙালি পাড়ার ময়না মিয়ার ছেলে আলী হোসেন, রাজু আহমদ, দনা ৯ নম্বরের আব্দুল মুতাল্লিমের ছেলে মাজহারুল, আব্দুল করিমের ছেলে লোকমান আহমদ, রাতাছড়ার মুজাম্মিলের ছেলে আব্দুল আহাদ, দনা পাতিছড়ার আলাউদ্দিনের ছেলে আছুম, মিকিরপাড়ার আব্দুল খালিকের ছেলে আব্দুস শহীদ, একই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে সুমন আলী, দনা খাছারিপাড়ার লেদু মিয়ার ছেলে সিরাজ উদ্দিন, খসরু মিয়ার ছেলে রাজ, দনা পাতিছড়ার আলাই মিয়ার ছেলে মাসুম, একই গ্রামের রফিকুল হকের ছেলে সাদ্দাম, দনা বাজারের পাশের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ও জুবায়ের আহমদ, সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের ফয়জুল হকের ছেলে জাকারিয়াসহ আরও অনেকে।


কসবার ‘দ্বিতীয় মন্ত্রী’ by জাবেদ রহিম বিজন

ইদ্রিস মিয়া কতোটা ক্ষমতাধর ছিলেন তা জানা আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মানুষের। আর হবেই না কেন- সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের ছোট ভাই বলে কথা। মন্ত্রী সবার কাছে এই পরিচয়েই তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। অগাধ ক্ষমতার কারণে ‘দ্বিতীয় মন্ত্রী’ বলেও পরিচয় রয়েছে তার এলাকার মানুষের কাছে। মূল পরিচয় তিনি কসবার পানিয়ারূপে মন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির কেয়ারটেকার। স্থানীয়রা বলেন- ‘বছইরা মুনি’। অর্থাৎ বাৎসরিক বেতনভুক্ত কামলা। তবে এটি প্রকাশ্যে বলার সাহস ছিল না কারও। সরকার পতনের পর বিলের জমি দিয়ে হাঁটু পানি  মাড়িয়ে পালিয়েছেন ইদ্রিস। তার ছেলে আলাউদ্দিন বাবু ছিলেন মন্ত্রীর পিএ (পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট)।

বাপ-ছেলের চাকরি, বদলি বাণিজ্য, মাদকসহ অন্যান্য মালামালের চোরাচালান সিন্ডিকেট পরিচালনা, একের পর এক পাহাড় কেটে বিনাশ, মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করাসহ তাদের হাজারো অপকর্ম এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।

চাকরির জন্য লাখ লাখ টাকা নেয়ার রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসছে। কতো শত কোটি টাকার মালিক ইদ্রিস আর তার ছেলে সেই হিসাব করছেন এই এলাকার মানুষ।
মন্ত্রী আর পিএ ছেলের বদৌলতে ফকফকা হয়েছে ইদ্রিসের মেয়ের জামাই স্কুলশিক্ষক আমজাদ হোসেন, বাবুর শ্বশুর দলিল লেখক ফরিদ মিয়ার জীবন। কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমজাদ হোসেন পালিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে ২ মাসের ছুটি নিয়েছেন বিদ্যালয় থেকে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম জানান, ২ মাসের মেডিকেল ছুটিতে আছেন তিনি। কোথায় আছেন জানি না। ২০১৮ সালে এই স্কুলে যোগদানের পর মাঝেমধ্যে স্কুলে আসতেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন আমজাদ। টেন্ডারবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, পাহাড় কাটা, খাল ভরাট করা, হামলা-মামলাসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই- যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এই স্কুলশিক্ষক। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও মাস শেষে ভুয়া উপস্থিতি স্বাক্ষর করে তুলে নিয়েছেন সরকারি বেতন-ভাতা। আলোচনা আছে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন আমজাদ। কসবা পৌর এলাকার ইমাম পাড়ায় আমজাদের রয়েছে চার কোটি টাকায় নির্মিত এক সুরম্য অট্টালিকা। ধজনগর ও পানিয়ারূপ বিলে রয়েছে শতাধিক বিঘা জমিজমা। উপজেলার মধুপুর, পাথারিয়াদ্বার, সোনামুড়া, মাণিক্যমুড়াসহ পূর্বাঞ্চলের পরিবেশবান্ধব পাহাড়গুলোকে কেটে শেষ করে দিয়েছেন আমজাদ মাস্টার ও তার ভাই মুক্তার।

অন্যদিকে কয়েক বছর ধরেই কসবা দলিল লেখক সমিতির সভাপতির পদ ফরিদ মিয়ার দখলে। ফরিদ গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ত্রুটিপূর্ণ, রেজিস্ট্রিযোগ্য নয় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এমন দলিল করাই ছিল তার কাজ। ২০১৯ সাল থেকে সরকারের পতন পর্যন্ত দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ছিলেন ফরিদ মিয়া। সাব-রেজিস্ট্রার রেহেনা বেগমের কাছে ফরিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফরিদ সাহেব’ আমাদের সভাপতি। দলিল স্বচ্ছতার সঙ্গে করেছেন বলেও তার দাবি।

মোট কথা ইদ্রিস-বাবুর আত্মীয়স্বজন হিসেবে থানার দালালি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা জাল বিছিয়ে টাকা কামানো হয়ে উঠেছিল এদের কাজ। তাদের কাছে জিম্মি  হয়ে পড়েছিলেন কসবার মানুষ।
২০১৯ থেকে একবছর কসবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছিলেন মো. জাকির হোসাইন। আলোচনা আছে ইদ্রিস মিয়ার খামারের গরু দেখতে গিয়ে তিনি তাকে সম্মান করে কথা বলেননি। এই অপরাধে ২০২০ সালে জাকির হোসেনকে মন্ত্রীকে দিয়ে তাৎক্ষণিক বদলি করান ইদ্রিস। বর্তমানে চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় কর্মরত মো. জাকির হোসেন বলেন- ইদ্রিস আমাকে ষড়যন্ত্র করে বদলি করিয়েছে। প্রাণিসম্পদে আমি কসবাকে আলোকিত করেছি। আমি এক টাকা কারও কাছ থেকে ঘুষ নেইনি।
পানিয়ারূপ গ্রামের আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন-ইদ্রিসের ক্ষমতা বলে শেষ করা যাবে না। ওসি-দারোগা তার কাছে কোনো কিছুই ছিল না। তার ডরে মুখ খুলতে সাহস পায়নি কেউ। মন্ত্রী বলছে, আপন ছোট ভাই। ওপেন মিটিংয়ে বলছে।
পানিয়ারূপে মন্ত্রীর বাড়ি থেকে ৫ শ’ গজ দূরে আনোয়ারের বাড়ি। তিনি জানান, মন্ত্রীর পৈতৃক ঘরেই থাকতো ইদ্রিস। মন্ত্রী সফরে এসে কখনো বাড়িতে রাতযাপন করলে ওই রাতে শুধু ইদ্রিস অন্য ঘরে থাকতো। ইদ্রিস আর তার ছেলেদের হাতেই ছিল যেন বাংলাদেশ। বদলি-নিয়োগে বস্তা বস্তা টাকা কামিয়েছে তারা। পানিয়ারূপে ইদ্রিসের এক ভাই আনসার সদস্য মিজান কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ডুপ্লেক্স বাড়ি বানিয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রীর এই প্রতিবেশী।
আনোয়ারের ছেলে মো. আজমল হোসেন জানান, ইদ্রিস ও বাবু চাকরির জন্য অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তারা মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছে। মাদকের সাম্রাজ্যে পরিণত করেছিল এলাকাকে। পাহাড় কেটে শেষ করেছে। তাদের ভয়ে কথা বলতে পারেনি কেউ।

কে এই ইদ্রিস: কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা কাজিয়াতলা গ্রামে বাড়ি ইদ্রিস মিয়ার। তার পিতার নাম আবু ভূঁইয়া। যদিও আদি বাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মতিনগর থানার ধনছড়ি গ্রামে। ইদ্রিসের নানার বাড়ি কসবার পানিয়ারূপে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের গ্রামে। স্থানীয় খোঁজখবরে জানা যায়, ১৯৮৪ সালের দিকে চুরি করার দায়ে ইদ্রিসের বিরুদ্ধে গ্রামে সালিশ বসে। এতে তৎকালীন ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রখ্যাত সালিশকারক আবুল খায়ের মেম্বার ইদ্রিসকে এলাকা ছাড়ার রায় দেন। এরপরই পানিয়ারূপ নানার বাড়িতে আশ্রিত হন ইদ্রিস। তার নানা-মামা ইদ্রিসকে এডভোকেট সিরাজুল হকের (আইনমন্ত্রীর প্রয়াত পিতা) বাড়িতে কাজের ছেলে হিসেবে নিযুক্ত করে দেন। বাড়ির গৃহস্থালি কাজকর্ম করার পাশাপাশি আইনমন্ত্রীর বৃদ্ধা দাদির সেবা করতেন ইদ্রিস। পরে আইনমন্ত্রীর প্রয়াত মা জাহানারা হকের  সেবায় নিয়োজিত হন। তিনি তাকে স্বামীর গ্রামের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে স্থায়ী করে দেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান চৌধুরী

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীকে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ এর ধারা অনুযায়ী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরীকে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী তার যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ২০শে আগস্ট গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম সাইফুল মজিদের নিয়োগ চুক্তি বাতিল করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এরপর থেকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ছিল। সাইফুল মজিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক। তাকে ২০২০ সালের ১৬ই মার্চ প্রথম এই পদে নিয়োগ দেয় সরকার। প্রথমে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেয়ার পর তাকে দুই বছর করে আরও দুইবার পুনর্নিয়োগ দেয়া হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সর্বশেষ গত এপ্রিলে তাকে পুনর্নিয়োগ দেয়।

গত রোববার সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ফেরদৌসীকে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের নিয়োগ বাতিল করা হয়।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত ধরে ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

দারিদ্র্যবিমোচনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস নোবেল পুরস্কার পান। পরবর্তী সময়ে বয়সসীমা অতিক্রম করে গেছে-এই যুক্তিতে ২০১১ সালে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন মামলা করে। চলতি বছরের ২রা জানুয়ারি শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ (গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান হিসেবে) চারজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে সবাইকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যদিও মুহাম্মদ ইউনূসকে কারাগারে যেতে হয়নি। এরপর গত ৭ই আগস্ট শ্রম আদালতের দেয়া কারাদণ্ড থেকে খালাস পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গ্রামীণ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, ব্যাংকের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক ইকবাল মাহমুদ। এরপর যথাক্রমে মো. কায়সার হোসেন, মো. হারুনুর রশিদ, আকবর আলি খান, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, মো. তবারক হোসেন, খন্দকার মোজাম্মেল হক এবং এ কে এম সাইফুল মজিদ এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে খন্দকার মোজাম্মেল হক ২০১১ সালের ২৭শে জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৭ই আগস্ট পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০১১ সালের ১১ই মে পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তাকে সরানোর পর নুরজাহান বেগম, মো. শাহজাহান, এ এস এম মহিউদ্দিন, রতন কুমার নাগ, বাবুল সাহা, আবুল খায়ের মো. মনিরুল হক, জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার, মো. আব্দুর রহিম খান এবং মো. মোসলেম উদ্দিন এই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন নূর মোহাম্মদ।

রানা জানান দিলেন আমি আসছি

২০০৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের বাইরে প্রথম সিরিজ জয়। এরপর কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। অবশেষে পাকিস্তানের মাটিতে ধরা দিলো সেই সাফল্য। পাকিস্তানকে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এ জয়ে নায়কদের অন্যতম একজন নাহিদ রানা। পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে দ্রুতগতির বল করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এ টাইগার পেসার। প্রতি ঘণ্টায় ১৫২ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন তিনি। যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৫০ এর কোটা ছুঁতে পারেননি কোনো বাংলাদেশি বোলার। সর্বোচ্চ ১৪৯.৫ কিলোমিটার গতিতে বল করার রেকর্ড করেছিলেন রুবেল হোসেন।

শুধু গতিতে থেমে থাকেননি এই পেসার। দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে বল হাতে ৪ উইকেট শিকার করেছেন। শান মাসু, বাবর আজম, সউদ শাকিল ও আবরার আহমেদের উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচকে এনে দিয়েছেন হাতের মুঠোয়।
২১ বছর বয়সী পেসারের ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় টেস্ট। চলতি বছরের মার্চে সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল তার। শুরুতেই নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন তিনি। গতিতে মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ২ উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টটি ছিল তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ওই ম্যাচে তিনি নেন ১ উইকেট। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নেয়ার আগে প্রথম ইনিংসে নিয়েছেন ১ উইকেট। সবমিলিয়ে ৩ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার শিকার ১১ উইকেট। অথচ বছর খানেক আগেও তাকে চিনতো না কেউ। সবশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএলে) খুলনা টাইগার্সের জার্সিতে ঘণ্টায় ১৪৯.৭ কিলোমিটার গতিতে সাকিব আল হাসানকে একটি বল করেছিলেন নাহিদ রানা। ওই বোলিং দিয়েই দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে নিজেকে জানান দেন এই পেসার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উঠে আসা এ পেসার জানিয়েছিলেন ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার ইচ্ছার কথা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে গতিময় বোলার শোয়েব আক্তার। ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করে রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছেন পাকিস্তানের এই ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’। শোয়েব আকতারের শহরে রানা গতির ঝড় তুলে জানান দিলেন আমি আসছি। তবে রানার ছোট্ট ক্যারিয়ারে আফসোস হয়ে রইলো এই টেস্ট। তৃতীয় টেস্টেই ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের আনন্দ পেতে পারতেন তিনি। সেটি না হলেও ৪৪ রানে ৪ শিকার ধরে ম্যাচটি যে বাংলাদেশের মুঠোয় এনে দিয়েছেন তার আনন্দই বা কম কীসে। সঙ্গে দেশের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথম পেসাররা মিলে কোনো ইনিংসে সবগুলো উইকেট পেলেন। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট ও নাহিদের ৪ শিকারের পর বাকি উইকেটটি নেন তাসকিন আহমেদ। ইউনিট হিসেবে পেসারদের এমন দাপটের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ নাহিদ রানা।  ৩ টেস্ট শেষে ১১ উইকেট নিয়ে দৌলত উজ-জামান, জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা, গোলাম নওশের প্রিন্স, হাসিবুল হোসেন শান্ত, মাশরাফি বিন মুর্তজাদের উত্তরসূরি হিসেবে নিজের আগমনী বার্তাটিও জানিয়ে রাখলেন চাঁপাই এক্সপ্রেস।

ঝিনাইদহ আইএইচটি’র শতাধিক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন, পালালেন চার অভিযুক্ত

যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আই,এইচ,টি) ডেন্টাল ইন্সট্রাক্টর কার্তিক গোপাল বিশ্বাসসহ তার তিন সহযোগী পালিয়ে গেছেন। এ নিয়ে আইএইচটি’র শত শত শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে গঠিত হয় তদন্ত টিম। মঙ্গলবার একটি তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ খবর নিশ্চিত করেছেন আইএইচটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. রেজিনা আহম্মেদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের একাধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, মেয়েদের পর্দার বিরুদ্ধে অবস্থান ও ছাত্রলীগ দ্বারা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ দেয় আইএইচটি’র বর্তমান ও প্রাক্তন প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে দেখা যায় তাদের সব অভিযোগই সত্য। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ডেন্টাল ইন্সট্রাক্টর কার্তিক গোপাল বিশ্বাস ডেন্টালের ছাত্রীদের শহরের ব্যাপারীপাড়াস্থ তার চেম্বারে ডেকে এনে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের নামে যৌন নির্যাতন চালাতেন। যৌন কর্মে লিপ্ত না হলে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল ও লিখিত পরীক্ষায় কম মার্ক দেয়ার কথা বলে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। তদন্ত টিম যৌন নির্যাতনের শিকার এমন শতাধিক নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্ত টিম। তাছাড়া কার্তিক গোপাল ক্লাসে নারী শিক্ষার্থীদের পর্দা করার বিষয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে মানহানিকর বক্তব্য দিতেন।

নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কার্তিকের এই অপকর্মে সহায়তা করতেন, আইএইচটির রেডিওগ্রাফার আলমডাঙ্গা উপজেলার সরফরাজ খান সোহাগ। সোহাগ আইএইচটির ক্যাম্পাসে মাদকের স্বর্গ রাজ্য গড়ে তোলেন। এতে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। এদিকে গেস্ট লেকচারারের কোনো পদ না থাকার পরও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চাকলাপাড়ার তারিক মোড়ের মাহমুদুল ইসলাম লিওন ক্লাস নেয়ার নামে নারী শিক্ষার্থীদের কু-প্রস্তাব দিতেন। আউট সোর্সিংয়ে কর্মরত ঝিনাইদহ শহরের হামদহ দাস পাড়ার সূর্য্য দাস লিওনের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কার্তিক গোপাল বিশ্বাসের দ্বৈত নাগরিক রয়েছে। ভারতের নাগরিক হওয়ায় তিনি কাউকে পরোয়া করতেন না। ফলে হাসিনা সরকারের গোটা সময় ধরে তিনি নানা অপকর্ম করে পার পেয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ আইএইচটিতে ৫টি ডিপার্টমেন্টে বর্তমানে ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর ১২ বছরে শিক্ষা জীবন শেষ করে ৭টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চলে গেছেন। ২০১২ সালে মাত্র ২৫ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি।

ঐতিহাসিক সিরিজ জয় by সৌরভ কুমার দাস

ইতিহাস থেকে তখন ১০ রান দূরে বাংলাদেশ, রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের বক্সে বেজে উঠলো ‘জিতেগা ভাই জিতেগা!’ স্বয়ং ডিজেই বললেন সেটা, সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারি থেকেও ভেসে আসলো ‘বাংলাদেশ জিতেগা!’ ৫৬তম ওভারে আবরার আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরে বল কাভার দিয়ে চার হাঁকান সাকিব। সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের সাউন্ডবক্সে বেজে উঠলো, ‘লাল সবুজের বিজয় নিশান হাতে হাতে ছড়িয়ে দাও...’ স্টাম্প মাইকে শোনা গেল মুশফিকুর রহীমের বজ্র হুঙ্কার! ড্রেসিংরুম থেকে ছুটতে ছুটতে গলা ফাটিয়ে উল্লাস করছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। বাকিরাও মাঠের দিকে ছুটলেন বিদ্যুৎ গতিতে! এমন ঐতিহাসিক জয়ে উদ্‌যাপনটা তো বাঁধনহারাই হবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়। ঐতিহাসিকই তো বটে।

গতকাল রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম টেস্টে একই মাঠে ১০ উইকেটে জিতেছিল টাইগাররা। সেটি ছিল প্রথমবার পাকিস্তানের মাটিতে জয় আর গতকালেরটা স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়। সব মিলিয়ে পাকিস্তানে ২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ফল প্রতিবারই পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়া। এই টেস্ট সিরিজের আগে পাকিস্তানের মাটিতে এটাই ছিল বাংলাদেশের পরিসংখ্যান।

আর টেস্টে তো পৃথিবীর কোথাও জয় ছিল না পাকিস্তানের বিপক্ষে। সর্বোচ্চ সাফল্য ২০১৫ সালে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে করা ড্র। সিরিজ শুরুর আগে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় অধিনায়ক শান্তকে। উত্তরে তিনি বলেন, আমি মনে করি, এটি (পাকিস্তান ২০-০ বাংলাদেশ) শুধুই রেকর্ড। রেকর্ড বদলাতেই পারে। কাজটা সহজ হবে না। তবে যেটা বললাম, আমাদের দল খুব ভারসাম্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এবার বিশেষ কিছু করতে পারবো।’ সেই বিশ্বাস নিয়েই এবার পাকিস্তানে ইতিহাস গড়লো শান্তর দল। দেশের বাইরে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় সিরিজ জয় এটি। তবে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২-০ ব্যবধানে জিতলেও সেবার চুক্তি সংক্রান্ত ঝামেলায় খেলেননি শীর্ষ ক্রিকেটারদের কেউ। বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছিল দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে। ফলে এবারের জয় তাই অনেক বেশি স্পেশাল, আর স্মরণীয়। এর জন্য আরও একটি কারণ আছে। ঘরের মাঠে এর আগে একবারই টেস্টে ধবলধোলাই হয়েছে পাকিস্তান, ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দ্বিতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ এবার শান মাসুদ-বাবর আজমদের এই তেতো স্বাদ দিলো।

ইতিহাস গড়ার মিশনে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশকে তাড়া করতে হতো ১৮৫ রান। চতুর্থদিন বিকালে জাকির হাসান আগ্রাসী খেলেই মোমেন্টাম তৈরি করেন। নতুন বলে তার এমন আক্রমণে এলোমেলো হয় পাকিস্তানের বোলারদের সব পরিকল্পনা। মাত্র ৭ ওভারে খেলা হয় সেদিন বিকালে। এরপর আলোক স্বল্পতায় আর খেলা হয়নি। তবে তার মধ্যেই ৪২ রান তুলে পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি।

গতকাল পঞ্চম দিনের শুরুতেই সাদমান ও জাকিরের ওপেনিং জুটিতে পূর্ণ হয় ৫০ রান। তবে এরপর জাকির ও সাদমান দ্রুত বিদায় নেন। পাকিস্তানি পেসার মীর হামজার দুর্দান্ত ডেলিভারি জাকির হাসানের ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে ভেঙে দেয় স্টাম্প। আগের দিন ২৩ বলে ৩১ রান করা ওপেনার আউট হন ৩৯ বলে ৪০ রান করে। কিছুক্ষণ পরই ফাঁদে পা দেন সাদমান। বারবার তাকে ড্রাইভ করতে প্রলুব্ধ করছিলেন পাকিস্তানি বোলাররা। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ড্রাইভ খেলেই মিড অফে সহজ ক্যাচ দেন তিনি। তার আগে করেন ২৪ রান।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত চলতি সিরিজের আগের ২ (এক ইনিংসে ব্যাটিং প্রয়োজন হয়নি) ইনিংসে রান পাননি। অধিনায়ক হিসেবে ঐতিহাসিক মুহূর্তে যেন নিজের দায়িত্বটা বুঝতে পারলেন। মুমিনুল হক সৌরভকে নিয়ে আঁকড়ে থাকেন উইকেটে। শুরুতে কিছু আলগা শট খেললেও আস্তে আস্তে দু’জনই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। লাঞ্চের আগেই তাদের জুটিতে ৫০ আর দলের রান ১০০ পার হয়। তবে লাঞ্চের পর আর সেটা বেশিক্ষণ টেকেনি। পাকিস্তানি স্পিনার সালমানকে রিভার্স সুইপে চার মারার পরের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক (৮২ বলে ৩৮)। টানা ৯ ইনিংসে ফিফটির দেখা পেলেন না তিনি। এতে ভাঙে মুমিনুলের সঙ্গে তার ৫৭ রানের জুটি। এর কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ আবরার আহমেদকে উড়িয়ে মারতে যান মুমিনুল। ঠিকমতো টাইমিং না হওয়ায় বল উঠে যায় শর্ট মিড উইকেটে। আউট হওয়ার আগে করেন ৩৪ রান। জয়ের জন্য তখনো ৩৪ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের। আকাশে তখন মেঘ, মাঠকর্মীরা কাভার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মাঠে। তবে এগুলোতেও তাড়াহুড়ো করেননি সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহীম। বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়ে সতর্কভাবে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তাদের ৩৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি আসে ১২ ওভারে। সাকিব শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২১ রানে, মুশফিক ২২ রানে।

এর আগে এই ম্যাচের প্রথম দিন বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও দ্বিতীয় দিন মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ উইকেটের সৌজন্যে টস হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। তবে এরপর নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় দিন বিকালটা স্বস্তি নিয়ে কাটালেও তৃতীয় দিন সকালেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। ওই মুহূর্তে যখন ধুঁকছিল বাংলাদেশ, মান বাঁচানোই যখন মনে হচ্ছিলো বড় দায় তখন প্রতিরোধ গড়েন লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুতে আক্রমণ করে চাপ দূর করেন মিরাজ, পরে লিটন খেলেন অনবদ্য ১৩৮ রানের ইনিংস। মিরাজ ৭৮ রানে ফেরেন, যদি জুটির সিংহভাগ কৃতিত্ব মিরাজকেই দেন লিটন। সেখান থেকে ২৬২ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

এই পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জয় রূপকথার মতোই। সেখান থেকে এভাবে ম্যাচ জয় তো রূপকথার মতোই। প্রথম ইনিংসে এত কম রানে ৬ উইকেট হারিয়েও জয় টেস্ট ক্রিকেটে দেখা গেল ১৩৭ বছর পর! সেই ১৮৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ও পরে ৪৫ রানে অলআউট হয়েও শেষ পর্যন্ত ১৩ রানে ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এবার বাংলাদেশও এই রেকর্ডে তাদের সঙ্গী হলো।
১২ রানের লিড পেলেও বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে দ্বিতীয় ইনিংসেও সুবিধা করতে পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটাররা। স্বাগতিকরা ১৭২ রানে গুটিয়ে দেয় টাইগাররা। বাংলাদেশের হয়ে পেসার হাসান মাহমুদ নেন ৫ উইকেট, নাহিদ রানা ৪ উইকেট। বাকি উইকেটটি নেন তাসকিন আহমেদ। এবারই প্রথম টেস্টের কোনো ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররা মিলে ১০ উইকেট নেন।

বিজয় অনেক দূরে, এখন আত্মতুষ্টির সময় নয়: তারেক রহমান

সফলতার পথ অনেক দীর্ঘ মন্তব্য করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিজয় এখনো অনেক দূরে, আমরা গত ১৭ বছর বিরোধী দলে ছিলাম, আজও আছি। এখন আত্মতুষ্টির সময় নয়, বরাবরের মতো তৃণমূল নেতাকর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো অতীতে যেমন সংকটকালে দলের পাশে ছিলেন আগামীতেও বাংলাদেশের জনমানুষের প্রত্যাশার ভাষা বুঝে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করলে বিএনপি দেশের মানুষকে একটা নতুন এবং পরিবর্তিত বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কেউ মসজিদে যাই, কেউ মন্দিরে বা প্যাগোডায় কিংবা গির্জায়- তেমনি কারও উৎসব ঈদুল ফিতর, কারও বা দুর্গাপূজা কিংবা বড়দিন অথবা বৈসাবি পূর্ণিমা, সেটাও আমার আপনার সবার অভিন্ন পরিচয় নয়। বাংলাদেশের মানচিত্রে আপনার ঠিকানা হতে পারে পাহাড়ে, কারও আবার সমতলে, কেউ বা থাকেন হাওরে আবার কেউ ছোট্ট দ্বীপে, নয়তো উপকূলের প্লাবন ভূমিতে কিংবা সুন্দরবনের পাশে- সকল ক্ষেত্রে পরিচয় আমাদের একটাই, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এমনকি যারা এই পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেষ্টা করেন তারাও জনরোষ এড়িয়ে পালানোর সময় যে পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন সেখানেও তাকে এই বাংলাদেশি পরিচয়টিই ব্যবহার করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এই পরিচয় আমার আপনার যোগ্যতার মূল্যায়নের সময় যেমন নিরপেক্ষভাবে ব্যবহার করতে হবে, ঠিক তেমনি আমাদের অপরাধের ক্ষেত্রেও থাকবে একই মাপকাঠি। আর সংখ্যালঘুর কার্ড দিয়ে অনেক খেলা হয়েছে- সেটা দেশেও যেমন হয়েছে, দেশের বাইরেও কম হয়নি। নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে আর দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে যুগ যুগ ধরে এই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর স্পর্শকাতর বিষয়, আর নির্যাতনের কল্পকাহিনী ফেঁদে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার অপচেষ্টা দেশে-বিদেশে বার বার কারা করেছে- সেটাও আমরা সবাই জানি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের এই পুরনো খেলার পুনরাবৃত্তি এদেশে আর করতে দেয়া হবে না। আসুন আমরা এগুলোকে হয় কবর দিয়ে নিশ্চিহ্ন করি, নয়তো চিতায় পুড়িয়ে ভস্ম করে দিই।

তারেক রহমান বলেন, এদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে এক ধর্মের উপাসনালয় আরেক ধর্ম অনুসারীরা ঐতিহ্যগতভাবে সুরক্ষিত রেখেছে যুগ যুগ ধরে, বার বার প্রমাণ করেছে এদেশে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই, আমাদের সবারই এক ও অভিন্ন পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। শুধু কথায় নয় কাজেও এটার প্রমাণ দিতে হবে যখনই প্রয়োজন হবে।  
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ আর শত সহস্র নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি জনগণের আস্থা আর বিশ্বাসের যে জায়গায় পৌঁছেছে, কতিপয় বিপথগামীর হঠকারিতায় সেটা বিনষ্ট হতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে দল আপসহীন, তিনি দলের কতো শীর্ষে অবস্থান করেন সেটা বিবেচ্য নয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে দল সেটার প্রমাণ রেখেছে।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস আর অনুশাসনকে পুঁজি করে যারা ধর্মীয় স্থাপনায় রাজনীতি করবে, বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা ধর্ম-বর্ণের বিভক্তিকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে, নিজ নিজ এলাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে  রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে।

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো আর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছে, যেটা সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য এখনো উন্মুক্ত। যারা যে সংস্কারের প্রস্তাবনাই আনুন আমাদের সংস্কার প্রস্তাবে সেগুলোর সবই অন্তর্ভুক্ত আছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান প্রমুখ।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সম্পাদকদের বৈঠক: সংস্কারের রূপরেখা দ্রুত উপস্থাপনের তাগিদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকরা। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংস্কারের রূপরেখা, সরকারের মেয়াদ, মুক্ত গণমাধ্যম বিরোধী আইনের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ ছাড়া সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে  বৈঠকের বিষয় অবহিত করা হয়। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের এজেন্ডা বা সংস্কারের রূপরেখাকে দ্রুত জনগণের সামনে উপস্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন বেশির ভাগ সম্পাদক। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভা প্রসঙ্গে পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘সবাই বলেছেন যে, মিনিমাম দুই বছর বা দুই বছরের একটু কম যাতে এ গভর্নমেন্টের মেয়াদ হয়। বাট বেশির ভাগই যৌক্তিক সময় নিয়েও বলতে চাননি। তারা বলেছেন, যে এজেন্ডা বা যে কাজটা তারা করবেন সেই কাজটাই আসলে ডিটারমাইন করবে তারা কতোদিন থাকবেন।’

এ বিষয়টি সম্পাদক পরিষদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ সম্পর্কে সংগঠনটির বক্তব্য হলো আজকের (গতকাল) সভায় উপস্থিত সম্পাদকদের বেশির ভাগই সম্পাদক পরিষদের সদস্য। উপস্থিত সম্পাদকদের মধ্যে কেউ কেউ প্রধান উপদেষ্টার জানতে চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে সরকারের মেয়াদ নিয়ে কথা বলেছেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বেশির ভাগ সম্পাদকই সরকারের মেয়াদ নিয়ে কিছু বলেননি। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জনমানুষ ও কারখানার নিরাপত্তা এবং এ সরকারের এজেন্ডা বা রূপরেখাকে দ্রুত জনগণের সামনে উপস্থাপনের বিষয়ে বেশি তাগাদা দিয়েছেন।

সরকার মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে: প্রধান উপদেষ্টা
ওদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান সরকার মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে এবং দেশে একটি গতিশীল ও প্রাণবন্ত গণমাধ্যম দেখতে চায়। সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীরও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে শফিকুল আলম বলেন, সরকার দেশে একটা গতিশীল গণমাধ্যম দেখতে চায়। এর জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবটুকু করা হবে। একইসঙ্গে তিনি সরকার দেশে মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। মতবিনিময় সভায় সম্পাদকগণ সাংবাদিকদের জন্য যেসব কালাকানুন আছে সেগুলো বাতিল বা সংশোধন করার প্রস্তাব করেন।

সরকারের পক্ষ থেকে মিডিয়ার ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম মজুমদার বলেন, ‘একটি প্রাণবন্ত ও মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য মিডিয়া কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই কমিশন আমাদের দেশে মিডিয়া কীভাবে চলবে তা ঠিক করবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কেউ যেন বিপত্তির মুখে না পড়েন, বাধার সম্মুখীন না হন তা নিশ্চিতে এই কমিশন গঠনের প্রস্তাব এসেছে। সরকার এই কমিশন গঠনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার সম্পর্কে প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সমপ্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং রাজনৈতিক নেতারা অধ্যাপক ইউনূসকে ‘যৌক্তিক সময়সীমার’ মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করতে বলেছেন। সম্পাদকরা সংবিধান সংস্কার এবং আইন কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সংস্কার নিয়েও কথা বলেছেন। সম্পাদকরা উপদেষ্টা পরিষদ আরও সক্রিয় করার এবং ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, তারা দেশের সংবিধান পুনর্লিখনের জন্য একটি সাংবিধানিক সভা করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।

প্রেস সচিব জানান, মোট ২২ জন সম্পাদককে মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে দু’জন বিদেশে থাকায় আসতে পারেননি।
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সম্পাদক ইনাম আহমেদ, আমাদের সময় সম্পাদক আবুল মোমেন, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ সভায় অংশ নেন।

সব কালাকানুন বাতিলের দাবি: মতবিনিময় শেষে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, বিটিভি, বিএসএস এবং রেডিও’র মতো যেসব সংবাদমাধ্যম সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে স্বায়ত্তশাসন দেয়ার দাবি তিনি মতবিনিময়ে জানিয়েছেন।

মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা কতোগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আশা করছি। সেই সংস্কারের মধ্যে সংবিধান পরিবর্তন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা, বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো, এন্টি করাপশন কমিশন, হিউম্যান রাইটস কমিশন, নির্বাচন কমিশন এগুলোকে সংস্কার করা।
তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে গণমুখী সংস্থা আমরা চাই। নির্বাচন কমিশন যাতে ভবিষ্যতে ভোটারদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটান, এরকম একটা সংস্থা চাই। আমরা এমন দুর্নীতি দমন কমিশন চাই, যেন তারা স্বাধীনভাবে দেশের দুর্নীতি দমন করতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরোধী সব কালাকানুন বাতিলের দাবি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, সাইবার সিকিউরিটি আইনের মধ্যে সাংবাদিক নিপীড়নের যে অধ্যায়গুলো আছে, সেগুলো কার্যকর হবে না এমনটা যাতে ঘোষণা করা হয়। এটা সংস্কারের জন্য উনারা সময় নিয়ে করতে পারেন।

পুনঃতদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পুনঃতদন্তে আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হৃদয়বিদারক, এ ঘটনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ঘটেছে। পুনঃতদন্তে এই ঘটনার  রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কয়েকজন অফিসার মিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলাম, আমাদের সৃষ্ট এই সেনাবাহিনী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেছিলো, প্রত্যেকটি আন্দোলনে-সংগ্রামে জনগণের সাথী হয়ে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছিলো। কিন্তু সেই সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার জন্যই প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো এই বিডিআর হত্যাকাণ্ড। আমরা আশা করবো, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্মোহভাবে নিরপেক্ষভাবে এই ঘটনার তদন্ত করবেন এবং বিচারের কাজ দ্রুত শুরু করবেন।

তিনি বলেন, ওই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে দণ্ডিত করা হয়েছে, অনেক দোষী ব্যক্তি শাস্তির আওতার বাইরে চলে গিয়েছে। তবুও আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তারা বিএনপি’র অনুরোধে এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য যে সকল দেশ এবং প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দালাল হিসেবে অপকর্মে লিপ্ত ছিল তাদের সকলের চেহারা উন্মোচিত হোক জনগণের স্বার্থে। আমরা একটা নতুন যাত্রা শুরু করতে চাই। আমাদের দল থেকে ইতিমধ্যে বলা হয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করবো।
মেজর হাফিজ বলেন, আমরা অতিঅল্প সময়ের মধ্যে এই নারকীয় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের একটা সুষ্ঠু পরিণতি দেখতে চাই, বিচার চাই যাতে করে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহ তাদের যাতে অন্তর শান্ত হয়।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেভাবে পুনঃতদন্ত ও পুনঃবিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে- এটি যাতে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে আমরা বিএনপি’র তরফ থেকে তাদেরকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবো।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে এবং সাধারণ নাগরিকরাও বর্তমান সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড ক্লোজড মনিটরিং করছি। এখন পর্যন্ত যে সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে শেষ মুহূর্তে দ্রুত সরকার থেকে বাইরে নিক্ষেপ করার জন্য এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান এবং সেনাবাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর সকল সদস্যদের আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও চার মামলার প্রস্তুতি ছিল দুদকে by মারুফ কিবরিয়া

গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অন্য মামলাগুলো যেখানে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে সেখানে এই মামলাটির কার্যক্রম চলে অনেকটা বিদ্যুৎগতিতে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। শুরু হয়ে যায় বিচারকার্যও। কিন্তু হঠাৎ গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ৮ই আগস্ট প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ১১ই আগস্ট প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ৫ই আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় দুদকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছিল। এসব মামলায় প্রফেসর ইউনূসের পরিবারের সদস্যদের জড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় ওইসব মামলার ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যায়।

দুদক সূত্র জানায়, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা আগের মামলাটিও আওয়ামী লীগ সরকারের প্রেসক্রিপশনে করেছিল দুদক। মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকেই মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে। এমনকি অতিদ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশও দেয়া হতো বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও দাবি করেছে, একটি মামলা দিয়ে ইউনূসকে আটকানো যাচ্ছিল না বলে আরও চারটি মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়। যেখানে ড. ইউনূসের পরিবারের সদস্যদের আসামি করার পরিকল্পনা করা হয়। আর এই কাজে সক্রিয় ছিলেন দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ও  তার দুই কমিশনার।

দুদকের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, চলতি বছরের জুন মাসে গ্রামীণ ব্যাংকের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে একটি অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। সেই অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে খুব দ্রুত অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেয় কমিশন। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে যে অনুসন্ধান দলটি আগের মামলার কাজ করেছিল সেই দলকেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, একটি অভিযোগের আদলে একাধিক মামলার ছক করা হয়েছিল যেখানে ড. ইউনূসের পুরো পরিবারের সদস্যদের আসামি করার পরিকল্পনা করা হয়। গত ২৬শে জুন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি দায়েরের প্রথম সপ্তাহেই অনুসন্ধানের জন্য অনুমোদন দেয় দুদক। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন,  আসলে অভিযোগটি গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে করা হলেও মূলত তার নেপথ্যে কাজ করে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। শেখ হাসিনার নির্দেশেই এ অভিযোগ তৃতীয়পক্ষকে দিয়ে করানো হয়।
দুদকের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার ৭ থেকে ৮ জন কর্মকর্তা প্রতিদিন দুদকে আসতেন। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার তারাই সব সাজিয়ে দেন।  এমনকি একজন আইনজীবীও সঙ্গে নিয়ে আসতেন যিনি আইন সংক্রান্ত নানা পরামর্শ দিতেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশনায় দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ও দুই কমিশনার মো. জহুরুল হক (তদন্ত) এবং মোসা. আছিয়া খাতুন (অনুসন্ধান) ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। যখন যে বিষয়ে ওহী আসতো তা নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিতেন কমিশনের কর্মকর্তাদের। ড. ইউনূসের মামলার বেলাতেও একই অবস্থা হয়েছিল বলে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আরেক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য সিদ্ধান্ত হয়।  সব কার্যক্রম শেষও হয়েছিল। অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রায় শেষ। এর মধ্যেই ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। ছাত্র আন্দোলনের মাঝামাঝি সময়ে কমিশনের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নিতে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে সে অভিযোগ পরিসমাপ্তি করতে বলা হয়। এমন কি আগের মামলা থেকেও সরে আসে কমিশন।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, পুরোটা ঠিক নয়। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন ঘোলা পানিতে অনেকেই মাছ শিকার করতে চাইবে। এরকম কিছু ঘটেনি। সার্বিক বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করতে চাইলে মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হককে দুই বার কল করা হয়। কিন্তু তিনি তা রিসিভ করেননি। দুদকের সচিব খোরশেদা ইয়াসমীনকে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

পিতার কবর সিলেটে আনতে চান হারিছ তনয়া সামিরা চৌধুরী by ওয়েছ খছরু

প্রয়াত পিতা হারিছ চৌধুরীর কবর সিলেটে স্থানান্তর করতে চান কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। এ লড়াই তার এখনকার নয়। এটি তিনি ২০২১ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর পিতার মৃত্যুর সময়  করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। সে আক্ষেপে এখনো পুড়ছেন সামিরা চৌধুরী। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আর দেরি করেননি সামিরা চৌধুরী। সামনে পিতার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে তিনি ১৮ই আগস্ট বাংলাদেশে এসেছেন। এখন আর শেখ হাসিনার সরকার নেই। কঠিন মুহূর্তও নেই। পিতা বেঁচে থাকলে হয়তো অন্যরকম অনুভূতি হতো। সেই অনুভূতি এখন কঠিন বাস্তবতা। এজন্য নিজের উদ্যোগে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। এতে উপস্থিতি ছিলেন সিলেট ও কানাইঘাট বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। সামিরা চৌধুরী নিজেও উপস্থিত ছিলেন। দোয়ায় অংশ নিয়েছেন, শিরনি বিতরণ করেছেন, কিছুটা মানসিক শান্তিও পেয়েছেন মনে। কিন্তু এখনো পিতা আবুল হারিছ চৌধুরীর শেষইচ্ছা পূর্ণ হয়নি। এটির জন্য তার সামনে অনেক কাজ। সেই কাজে হাত দিচ্ছেন তিনি। আবুল হারিছ চৌধুরী সিলেটের সন্তান। একজন মুক্তিযোদ্ধা। রাজনীতিবিদও। সিলেটের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। সিলেটের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে যখন দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল তখন থেকেই তিনি আত্মগোপনে। দীর্ঘ ১৫ বছর ছদ্মবেশে রাজধানী ঢাকার পান্থপথেই কাটিয়েছেন। অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়েছেন বার বার। একমাত্র পরিবারই জানতো তার আত্মগোপনের খবর। শেষবার ২০২১ সালের আগস্টে যখন তিনি গুরুতর অসুস্থ হন ছদ্মবেশেই তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালে ৩রা সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী। মৃত্যুর পর চেয়েছিলেন পিতার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সিলেটের মাটিতে লাশ দাফন করতে। পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। স্বজনরাও পাশ থেকে সরে যান। অনেকটা অসহায় হয়ে ঢাকার সাভারের একটি মাদ্রাসায় গোপনেই দাফন করা হয় হারিছ চৌধুরীর মরদেহ। হারিছ চৌধুরীর আত্মগোপন, মৃত্যু ও দাফনের খবর মানবজমিন অনুসন্ধান করে প্রকাশ করেছিল। পিতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে সিলেটে আসা মেয়ে সামিরা চৌধুরীর সঙ্গে সিলেট সার্কিট হাউসে কথা হয় মানবজমিনের এ প্রতিবেদকের। ক্ষোভ ঝাড়েন সামিরা। বললেন, আর মাত্র দু’টা বছর সময় পেলে বাবাকে হয়তো এভাবে মৃত্যুবরণ করতে হতো না। তখন সময় ভিন্ন ছিল। কিছুই করতে পারিনি। বলেন, আমার বাবা মারা গেলেন, তখন স্বেরাচারী সরকারের গোয়েন্দারা নাটক মঞ্চস্থ করেছে। তার মৃত্যুকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। আমাদের আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালানো হয়েছে। একজন মানুষকে বেঁচে থাকতে তার চরিত্র হনন। মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করা সবই করা হয়েছে। তার জীবনের বড় একটা সময় অত্যাচার ও নিপীড়নের মধ্যদিয়ে থাকতে হয়েছে। তার পরিবার বঞ্চিত ছিল। সব ধরনের মানবিক অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। সামিরা জানান, আমার পিতার শেষ ইচ্ছে ছিল সিলেটে যেনো তার দাফন হয়। আমি এখন এটিই চাই। এজন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আশা করছি সফল হবো এবং অনুমতি পেলে সিলেটে এনে দাফন করা হবে। সিলেটে কোথায় দাফন করা হবে- এ প্রশ্নের জবাবে সামিরা জানান, এখনো জানি না। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কানাইঘাটে বাড়ি কিংবা অন্য কোথাও হতে পারে। সেটি নির্ভর করবে সিদ্ধান্তের ওপর। জানান, বিগত শেখ হাসিনার সরকার ব্যক্তিগতভাবে আব্বুর প্রতি প্রচণ্ড হিংসাপরায়ণ ছিল। আওয়ামী লীগের দুর্নীতিগুলো আব্বু প্রচার করেছিলেন। এ কারণে তার প্রতি এত হিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছিল। অথচ তিনি ছিলেন একজন মেধাবী রাজনীতিবিদ। কখনো কারও প্রতি তিনি অবিচার করেননি। তার বিনয়, আচরণ ভালো ছিল। সামিরা বলেন, আমার পিতার জীবদ্দশায় ইন্টারপোল থেকে নাম সরানোর জন্য আবেদন করেছি। রাজনৈতিক কারণে তার নাম ইন্টারপোলে দেয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার খুবই দুঃখজনক, খুবই নিকৃষ্ট। আমার বাবার মৃত্যুর পর মায়ের এনআইডি করতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বাবা যে মারা গেছেন তার প্রমাণ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পর্যন্ত চেয়েছিল। সামিরা জানান, একজন সন্তান হিসেবে বলছি; আমার বাবা মারা গেছেন। আজকে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সবাই আনন্দ করছে। কিন্তু আমরা আনন্দ করছি না। যদি বাবা আর দুইটা বছর বেঁচে থাকতেন তাহলে দেশের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারতেন। নিজের ইচ্ছের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সামিরা জানান, আমার নিজের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। আমি চাই, আমার বাবার মানসম্মান আবার পুনর্বহাল হবে। মানুষ জানবে কী রাজনীতি তিনি করে গিয়েছেন সেটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে। মানুষ জানবে তিনি আসলে কী ছিলেন। সেসব বিষয় এখন মানুষকে জানানোই আমার কাজ।