Wednesday, July 15, 2026
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে: নাহিদ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘স্মরণগাথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম এ কথাগুলো বলেন। এই আলোচনা সভার আয়োজন করে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আলোচনা সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার মামলার রায় যখন হয়েছে, আপিল করার সুযোগ ছিল ৩০ দিন। সেই ৩০ দিনে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কেউ আপিল করে নাই। ফলে শেখ হাসিনার মামলার রায়ে কোনো আপিলের সুযোগ নাই।’
আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার দেখেছি, যেখানে বলেছেন ডিসেম্বরে দেশে আসবেন, আত্মসমর্পণ করবেন। আমরা জানি, ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের মাস; ডিসেম্বরেই সবাই আত্মসমর্পণ করে। তো শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসবেন কি না, কবে আসবেন—এটা বাংলাদেশ সরকারকে নির্ধারণ করতে হবে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, গতকাল সরকারের জায়গা থেকেও স্পষ্ট করা হয়েছে, যে শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের আসলে কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) আসবেন এবং তাঁকে আসা মাত্রই এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং তাঁর রায় কার্যকর করা হবে।’
এ বিষয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলার সময় উনার স্বভাবসুলভ একটা নোক্তা রেখেছেন, একটা ফাঁক রেখেছেন। সেটা হলো আপিল করা যাবে কি না, সেটা আইন দেখবে। তিনি বলেন, আপিল করা যাবে না।
এ সময় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ওই দিনের হামলাকারীদের তালিকা প্রকাশ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষক ওই হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
‘অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করেছে সরকার’
সংস্কার প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁর অভিযোগ, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমবিরোধী অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়সহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে। নতুন সংবিধান বা সাংবিধানিক পুনর্গঠনের দাবিকেও সংশোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে রাজনীতি হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘জুলাই নিয়ে অবশ্যই রাজনীতি করতে হবে। কারণ, নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে জুলাইয়ের রাজনীতি। আমরা আর স্বৈরতন্ত্রে ফেরত যাব না, আমরা গণতন্ত্রের দিকে যাব। আমরা বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ চাই; স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ চাই।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিশুদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
![]() |
| ‘স্মরণগাথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ১৫ জুলাই ২০২৬ ছবি: নোমান ছিদ্দিক |
ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি আজ শিক্ষামন্ত্রী -সোনারগাঁয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি
একটি পরীক্ষায় আপনি দুইটা সৃজনশীল ভুল দিয়ে রেখেছেন। পরীক্ষার্থী যখন পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে উত্তর মেলাতে চেষ্টা করে সে যখন উত্তর মেলাতে পারে না, তখন তাদের কী ধরনের মানসিক অবস্থা হয়, বুঝতে পারেন?
এ ঘটনায় আপনি একবারও দুঃখ প্রকাশের প্রয়োজন মনে করলেন না। বরং এ শিক্ষার্থীদের আপনি বললেন মাদকাসক্ত। শিক্ষামন্ত্রী আপনি আজ যাদের ফার্মের মুরগী বলছেন। এ ফার্মের মুরগীরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি আজ শিক্ষামন্ত্রী হতে পেরেছেন। এ ফার্মের মুরগীরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন।
এ ফার্মের মুরগীরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আজ লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পথযাত্রা নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে বলব শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয়। তাদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন। কিছুদিন পর পর আপনাদের ইচ্ছা হয় আর সেটাই শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেন। আপনাদের সন্তানরা দেশে পড়াশুনা করে না। তাদের বিদেশে রেখে পড়াশুনা করান।
পরের সন্তানকে রাস্তায় নিয়ে রাজনীতি করবেন, এক্সপিরিমেন্ট করবেন- এ বাংলায় আর এসব হতে দেওয়া হবে না। ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করার অনুরোধ করছি, তা না হলে তারা রাস্তায় নামলে আপনাদের অস্থিত্ব থাকবে না। আপনাদের পাটাতন যে কত দুর্বল তা শিক্ষার্থীদের অর্ধবেলার আন্দোলনেই বুঝা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখানে বাপ হচ্ছে এমপি আর তার ছেলে করে চাঁদাবাজি। থানায় গিয়ে দিতে হয় মুচলেকা। আমরা সারা দেশে দেখি গ্যাসের হাহাকার আর সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবৈধ সংযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকা সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।
চুনা কারখানাগুলো কোটি টাকার অবৈধ গ্যাস পোড়াচ্ছে। সোনারগাঁয়ের নদী ও খালগুলো রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দখল করে ফেলেছে। চব্বিশ পরবর্তী এ বাংলাদেশ আমরা চাইনি। ব্যবসায়ীরা, হকাররা ও রিকশাচালকরা হাহাকারের মধ্যে রয়েছে। দুইশত টাকা ইনকাম করলে পঞ্চাশ টাকা ছাত্রদল যুবদলকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। স্থানীয় এমপিদেরকেও চাঁদা দিতে হয়। এ চাঁদাবাজি বাংলাদেশ আর চলবে না।
আপনারা এভাবে চাঁদাবাজি করে বেশি দিন আর খেতে পারবেন না। আবার যদি জুলাই হয় পালানোর জায়গা পাবেন না। হাসিনার জন্য ইন্ডিয়া ছিল। আপনারা বলেন আপনারা বাংলাদেশপন্থি। আপনাদের কিন্তু ভারতে জায়গা হবে না। পাকিস্তানেও জায়গা হবে না। আমাদেরকে এদেশেই থাকতে হবে, সুতরাং মানুষের আকাঙ্খার বাইরে গেলে জনগণ রাস্তায় বিচার করবে।
তিনি বলেন, আমরা হাসিনা ব্যবস্থার পরির্বতন চেয়েছি কেবল হাসিনার পরিবর্তন চাইনি। বর্তমান সরকার জন আকাঙ্খার বিপক্ষে গিয়ে, গণভোটের বিপক্ষে গিয়ে এমন অবস্থান নিয়েছেন যা সরাসরি আমাদের আকাঙ্খার পরিপন্থি।
তিনি চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, বন্যা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের এক প্রতিমন্ত্রী হজ্ব করতে চলে গেছেন। একই সময় দেখেছি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ বন্যায় কষ্ট পাচ্ছে আর প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সফর করছেন।
চট্টগ্রাম থেকে এ বছর নব্বই হাজার কোটি টাকার বেশি জাতীয় রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছে। পরিতাপের বিষয় এ সংকটকালে বন্যার জন্য চট্টগ্রামে জনপ্রতি ত্রিশটারও কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেছেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি নাকি সংবিধানে নাই। যদি এটি সংবিধানে না থেকে থাকে তাহলে ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনও কোনো সংবিধানে নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। আপনার থাকার কথা ছিল শিলংয়ে, প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা ছিল লন্ডনে, আপনার নেতাকর্মীর থাকার কথা ছিল ধানক্ষেতে, আপনার নেতাকর্মীর ঢাকা শহরে চালানোর কথা ছিল রিকশা।
এ সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, ছাত্রজনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আপনাদের পায়ের তলায় কিন্তু মাটি নেই।
পরে হাসনাত আব্দুল্লাহ জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি তুৃহিন মাহমুদকে আসন্ন সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি তুৃহিন মাহমুদের সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন ও জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তরিকুল ইসলামসহ উপজেলা এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
![]() |
| ছবি: আমার দেশ |
Thursday, February 19, 2026
বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার সাহস পেত না: নাহিদ
এবারের নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একধরনের যোগসাজশ হয়েছে বলে মনে করছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে দলীয় পর্যালোচনা জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল এনসিপি।
বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে প্রশাসনিকভাবে সেই কার্যালয় বন্ধ করায় যদি তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দেব। সেটার জন্য এই সরকারকেও আমরা কাঠগড়ায় দাঁড় করাব ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের দায়ে।’ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে প্রচার করায় কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বেসরকারি এখন টিভির দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দলীয় গণমাধ্যম চাই না। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে সেই প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। আমরা আশা করব, এই মুহূর্ত থেকে এটা বন্ধ হবে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে।’
দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, একটি ভুল ব্যাখ্যা ও সংবিধানের দোহাই দেওয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যপদে শপথ না নিয়ে একধরনের প্রতারণা করা হয়েছে, গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। সংসদকে কার্যকর করতে একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হোক। সংস্কার পরিষদ ছাড়া এই জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য নেই।
আইনের শাসন নিশ্চিত করা, পুলিশে দলীয়করণ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, রাস্তাঘাটে চলাফেরায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সংস্কৃতি বন্ধ করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মাজার ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার, বিরোধী দলের ওপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় দমন-পীড়ন বন্ধ করা এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের নাগালে রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‘নতুন মন্ত্রিসভা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা’
বিএনপি সরকারের ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় কোনো নতুনত্ব দেখছেন না বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রিসভা দেখে আমাদের কাছে কোনোভাবে মনে হয়নি, এটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং এখানে পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। মন্ত্রিসভায় নারী, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ যথেষ্ট পরিমাণ হয়নি। সার্বিকভাবে এটা প্রতিনিধিত্বমূলক বা অন্তর্ভুক্তিমূলক মন্ত্রিসভা হয়নি।’
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের গড় বয়স প্রায় ৬০ বছর বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় কিছু তরুণকে সুযোগ দেওয়া হলেও এতে তারুণ্যের বাংলাদেশের প্রতিফলন হয়নি। সবচেয়ে ‘অ্যালার্মিং’ (উদ্বেগের) বিষয় হলো, এই মন্ত্রিসভায় প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি হচ্ছে ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়াটা অপরাধ নয়, কিন্তু মন্ত্রিসভায় যে রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থাকা উচিত, সেটা হয়নি।
বিএনপির মন্ত্রিসভায় ব্যাপক আর্থিক অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির অভিযোগে অভিযুক্ত, হত্যা মামলার আসামি—এ ধরনের লোককে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এমন একজনকে দেওয়া হলো, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি।...নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলছেন। কিন্তু তাঁর নিজের মন্ত্রিসভা ও দলীয় সংসদ সদস্যরা ঋণ কবে পরিশোধ করবেন, দেশের মানুষ সেটা জানতে চায়।
কিছু ভালো ও অভিজ্ঞ লোকও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন উল্লেখ করে সেটিকে সাধুবাদও দেন নাহিদ। তিনি বলেন, তবে সার্বিকভাবে পরিবর্তন বা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এই মন্ত্রিসভা যাচ্ছে না। একদিকে তাঁরা (বিএনপির নেতারা) বলছেন, প্লট নেবেন না, গাড়ি নেবেন না। কিন্তু তাঁরা ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে গেলেন, মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বড় বাজেটের মন্ত্রণালয় দেওয়া হলো।
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক।
‘গণভোট বাতিল হলে সরকারেরও বৈধতা থাকবে না’
গণভোটের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে রিট হয়েছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আদালত গণভোট বা জনগণের পক্ষেই রায়টা দেবেন। কারণ, যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে এই সংসদ নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। গণভোট বাতিল হলে এই সরকারেরও বৈধতা থাকবে না।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) কারও বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যদি না থাকে, তাহলে সেই সেটআপ পরিবর্তন না করার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়ানো যায়।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহউদ্দিন সিফাত, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ছবি: প্রথম আলো |
পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় নতুন মন্ত্রিসভা: নাহিদ
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। দেশের প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়নি, যা স্পষ্ট আঞ্চলিক বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি; নারীর অংশগ্রহণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও পর্যাপ্ত নয়।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে তারুণ্য দেশের রাজনৈতিক পথ দেখিয়েছে, সেই তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। যদিও কিছু তরুণকে সুযোগ দেয়া হয়েছে, তবু মন্ত্রিসভার গড় বয়স তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যের প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত।’ ব্যবসায়ী হওয়া অপরাধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন ছিল। অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী হলে তারা ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী হবে, জনগণের স্বার্থ নয়। এসব ব্যবসায়ীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।’
টিআইবির একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির সংসদের প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্যের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট ঋণ কবে পরিশোধ করা হবে—এ প্রশ্ন জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে—দল ও মন্ত্রিসভা থেকে।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞদের আনা হয়েছিল জাতীয় স্বার্থে। ভবিষ্যতেও তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’
এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘জুলাই গণআন্দোলনের পর জনগণ একটি সম্পূর্ণ নতুন ও দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রিসভা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ঘোষিত মন্ত্রিসভা সেই পরিবর্তন বা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি।’

Monday, February 16, 2026
জেন-জি অভ্যুত্থানপরবর্তী নির্বাচন: বাংলাদেশে তরুণ শক্তির দৌড় কি রাজপথেই সীমাবদ্ধ
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভোটাররা দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে বিপুলভাবে জয়ী করেছেন। দলটি এর আগেও তিনবার দেশ শাসন করেছে। সবশেষ ২০০১–০৬ মেয়াদে দলটি ক্ষমতায় ছিল।
অন্যদিকে ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের হাত ধরে গড়ে ওঠা দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি জোটের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তেমন সুবিধা করতে পারেনি।
জোট গঠন নিয়ে সমর্থকদের অসন্তোষ
এনসিপির অনেক সমর্থক বলেছেন, দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গত ডিসেম্বরে নির্বাচনী জোটে যাওয়াই এনসিপির জন্য কাল হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে তারা কার্যত মূল লড়াই থেকে ছিটকে গেছে।
শুরুতে প্রায় সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও এনসিপি শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩০টি আসনে লড়েছে। দলটির নেতাদের দাবি, ঢাকায় আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য খুন হওয়ার পর নিরাপত্তার খাতিরে বড় একটি দলের ছত্রচ্ছায়ায় যাওয়া প্রয়োজন ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত জনসমর্থন তৈরিতেও ব্যর্থ হয়েছে এনসিপি।
২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষের যে স্বপ্ন ছিল, তারা তা পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট করাটা বিশ্বাসঘাতকতা বলেই মনে হয়েছে। এ কারণে আমাদের মতো তরুণ ভোটাররা তাদের সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
এনসিপির বিজয়ী ৬ প্রার্থীর একজন আবদুল্লাহ আল আমিন (৩২)। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি বলেন, আরও অনেক আসনে তাঁর দলের জয়ের প্রত্যাশা ছিল। কিছু আসনে তারা সামান্য ব্যবধানে হেরেছেন।
আল আমিন আরও বলেন, ‘আমাদের যাত্রা সবে শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথে বাংলাদেশকে পরিবর্তনের যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চাই।’
নজর স্থানীয় নির্বাচনে
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় তাঁদের জন্য ছয় আসনে জেতা সহজ হয়েছে।
তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, এই জোট সেসব তরুণ ভোটারদের দূরে ঠেলে দিয়েছে, যারা হাসিনার পতনের পর একটি নতুন ধারার রাজনীতি চেয়েছিলেন।
শাকিল আহমেদ আরও বলেন, অনেক মনে করছেন, দলটি পুরোনো রাজনৈতিক ধারাকে ভেঙে দেওয়ার বদলে সেই ধারাতেই ফিরে গেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার এই সিদ্ধান্তে তরুণদের ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিজেকে আরও সুসংগঠিত ও শাসনক্ষমতার যোগ্য হিসেবে প্রমাণের সুযোগ পেয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁরা বিরোধী দলে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবেন এবং এক বছরের মধ্যে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোযোগ দেবেন।
এর আগে গত ডিসেম্বরে দলটির প্রধান নাহিদ ইসলাম রয়টার্সকে বলেছিলেন, দল গোছানোর জন্য তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় তহবিল স্বল্পতা এবং নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অস্পষ্ট অবস্থানের কারণে তাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন।
অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, এনসিপি যদি নতুন করে নিজেদের স্বকীয়তা তৈরি করতে না পারে এবং এই জোট থেকে দূরত্ব বজায় না রাখে, তবে তারা জনসমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। সে ক্ষেত্রে তারা একটি বড় রাজনৈতিক শক্তির বদলে কেবল একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হয়েই থেকে যেতে পারে।
পরাজিত তরুণ প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের প্রতিবাদে ডিসেম্বরে এনসিপি ছেড়ে ঢাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন। তিনি ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা দেখিয়েছি, পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করা যায়। সীমাবদ্ধতাগুলোও স্পষ্ট হয়েছে। তবে স্বচ্ছ রাজনীতির ধারাকে টিকিয়ে রাখতে হলে আরও দৃঢ় হতে হবে। ভয়ভীতি মোকাবিলায় সক্ষম আমাদের এমন একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
নির্বাচনে নিজের পাওয়া ভোটের সংখ্যা তুলে ধরে তাসিনম জারা আরও বলেন, ব্রিটেনে চিকিৎসাপেশায় ফিরে না গিয়ে তিনি দেশেই রাজনীতি চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সেরা সময় এখনো সামনে।’
![]() |
| জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে নিজের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন নাহিদ ইসলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
জাতীয় পার্টি নিয়ে মানুষের আর ‘ওই আবেগ নাই’ by জহির রায়হান
ভোটের ফলাফলে বিস্মিত সবুজ আলী বলেন, ‘ভোটের আগে মনে হচ্ছিল এবার রংপুরে জাতীয় পার্টি হারবে। কিন্তু এ রকম শোচনীয়ভাবে হারবে, এটা চিন্তা ছিল না।’
কথার ফাঁকে সত্তরোর্ধ্ব সবুজ আলী নিজেকে জাতীয় পার্টির একজন কর্মী পরিচয় দেন। বলেন, ‘এরশাদ যখন জেলে, সেই ’৯১ সালে, তখন থেকে লাঙ্গলকে ভোট দেই। এবারও দিছি। কিন্তু জাতীয় পার্টিক নিয়া রংপুরের মানুষের আর ওই আবেগ নাই। মানুষ এবার মুখ ফিরি দিছে।’
সবুজ আলীর এই বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যায় গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে। জাতীয় পার্টির ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগে কোনো আসন পায়নি জাতীয় পার্টি। এমনকি রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনেও দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের হেরেছেন।
বিভাগের ৮ জেলায় সংসদীয় আসন ৩৩টি। এর মধ্যে ১৮টি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা। জামায়াতের প্রার্থীরা ১৬টিতে এবং ২টিতে জয় পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা। বিএনপি পেয়েছে ১৪টি আসন। একটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী।
জাপার প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরের মানুষ। শহরে তাঁর পুরোনো বাড়ি রয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি জেল থেকে প্রার্থী হয়ে পাঁচটি আসনে দাঁড়িয়ে সব কটিতেই জিতেছিলেন। সেই নির্বাচনে রংপুর বিভাগে ১৭টি আসন জিতে জাপা। ১৯৯১ সালের পর আরও তিনটি নির্বাচনে রংপুর বিভাগে ভালো ফল করে জাপা। ১৯৯৬ সালে ২১টি, ২০০১ সালে ১৪টি এবং ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩টি আসন পেয়েছিল জাপা।
রংপুর-৪ আসনের জয় পাওয়া এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রংপুরের ৬টি আসনে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যেমন আওয়ামী লীগ নাই হয়ে গেছে, তেমনি জাতীয় পার্টিকেও রংপুরের মানুষ প্রত্যাখান করেছেন।
জামায়াতের এমন বিজয়ে বিস্ময়
এবার বিভাগে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতের আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে মাত্র একটিতে করে জয়লাভ করেছিল। ২০০১ সালে বিভাগে জামায়াতের আসন বেড়ে চারটি হলেও ২০০৮ সালে এসে একটি আসনও পায়নি জামায়াত। ১৮ বছর পর এই অঞ্চলে জামায়াতের এমন বিজয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি ফখরুল আনাম প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিকাশ নেই। তারা কী করতে চায়, তার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। তারা রংপুর অঞ্চলের মানুষের ইমোশন (আবেগ) নিয়ে রাজনীতি করেছে। কিন্তু মানুষ এবার ‘হামার ছওয়াল ইমোশনে’ সাড়া দেয়নি। জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাখান করা ‘সংক্ষুব্ধ’ ভোটারদের জামায়াত কাজে লাগাতে পেরেছে বলেই মনে করেন তিনি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি, সুন্দরগঞ্জ, রংপুরের মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলায় ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হয়ে আসছিল জামায়াত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব আসনে ঘিরে জোরালো তৎপরতা শুরু করে দলটি। ভোঠের মাঠে তাদের এমন সাংগঠনিক দক্ষতা ও কৌশল এবার ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এ টি এম আজম খান প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে এই এলাকায় জামায়াত-বিএনপির প্রভাব ছিল না। যার কারণে মানুষ নতুনটাকে বেছে নিয়েছে।
আগামী দিনে ভালো করতে চায় বিএনপি
অতীতের তুলনায় এবার রংপুরে বিএনপির আসনও বেড়েছে। ১৯৯১ সালে বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ১টি ও ১৯৯৬ সালে ৩টি আসন পায় বিএনপি। ২০০১ সালে বিএনপি ৯টি আসন পেলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলটিকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিহাটের ১৪টি আসন পায়। দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ধরলে এই ৪ জেলার ১৫টি আসনেই তাদের দখলে। কিন্তু বিভাগীয় শহর রংপুরসহ কুড়িগ্রাম, নীলফামারীতে কোনো আসন পায়নি বিএনপি। গাইবান্ধার ৫টি আসনের মধ্যে শুধু গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামীম কায়সার জয়লাভ করেন।
বিএনপি রংপুর, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে রংপুর বিভাগে বিএনপির আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। কিন্তু নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, তৃণমূল কর্মীদের অবম্যূল্যায়ন না করার কারণে সেই সুযোগ ঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়নি।
রংপুরের একজন বিএনপি নেতা প্রথম আলোকে বলেন, রংপুর বিভাগীয় শহর হলেও বিএনপি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রংপুরকে নেতৃত্ব দেওয়ার লোক নগন্য। আবার যাঁরা আছেন, তাঁরাও রংপুর থেকে ভোট করেননি। স্থানীয় নেতাদের ওপর ভোটারদের আস্থার সংকট ছিল। যে সংকট ঠাকুরগাঁও বা লালমনিরহাটে ছিল না।
তবে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আবদুল খালেক প্রথম আলো বলেন, ‘প্রতিটি জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। অনেক জায়গায় বিএনপি-জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ভোট কাটাকাটি করেছেন, মাঝখান দিয়ে জামায়াত প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তবে বিএনপির যাঁরা হেরেছেন, খুব অল্প ভোটে হেরেছেন। এটা কোনো সমস্যা নয়। সাংগঠনিকভাবে কাজ করলে আগামী দিনে এগুলো ভালো হবে।’
ভুলত্রুটি খুঁজছে জাতীয় পার্টি
রংপুর বিভাগে নীলফামারী সদর আসন বাদ দিয়ে ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। কোনোটিতে জাতীয় পার্টি জিতেনি। দলের সাধারণ সম্পাদক গাইবান্ধার দুটি আসনে ভোট করলেও একটিতে তৃতীয় হয়েছেন, আরেকটিতে জামানত হারান।
রংপুরে জাপা নেতা-কর্মীদের ধারণা ছিল, দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের অন্তত তাঁর আসনে জিতবেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন এ আসন ধরে রাখার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে। এর পর থেকে রংপুরের মানুষের আলোচনায় জি এম কাদের।
জাপা নেতারা অবশ্য দলের চেয়ারম্যানের হারকে মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা এটিকে ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ হিসেবে দেখছেন। জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গণসংযোগ করেছি। প্রতিটা বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। সবাই স্বতঃস্ফূর্ত জাতীয় পার্টির পক্ষে সাড়া দিছে। এখানে জাতীয় পার্টির এই ধরনের রেজাল্ট হওয়ার কথা না। এটা “সূক্ষ্ম কারচুপি” ছাড়া আর কিছু হয়নি।’
জাপা চেয়ারম্যানের গতকাল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের বিফ্রিং করার কথা থাকলেও করেননি। সারা দিন তাঁর রংপুরের বাসভবন দ্য স্কাই ভিউতে ছিলেন।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল থেকে জাতীয় পার্টি রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারীসহ বিভিন্ন এলাকার নেতা–কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। বেলা দুইটার পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে চলে যান। জি এম কাদের ভোট নিয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন কি না, তা জানতে চাইলে মিলন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বলেছেন, সবাই মিলে সংগঠন ঠিক করো। ভুলক্রটি কোথায়, কী কারণে এমন হলো।
| জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিচ্ছেন একজন ভোটার। গত বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর নগরের কেল্লাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ছবি: মঈনুল ইসলাম |
Friday, February 13, 2026
এনসিপির কোন প্রার্থী কোন আসনে জয়ী হলেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দল এনসিপি। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, দলটির যে ছয় প্রার্থী হয়েছেন, তাঁরা হলে—নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আবদুল্লাহ আল আমিন ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। আজ দুপুর ১২টা নাগাদ পাওয়া তথ্যে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ও তার মিত্ররা ১৮২টি আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে। জামায়াত ও তার মিত্ররা জয়ী ৬৯টি আসনে। এর মধ্যে এনসিপি জয়ী ৬টি আসনে।
ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম
ঢাকা-১১ আসনের বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই আসনে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। অর্থাৎ নাহিদ ইসলাম ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। ভোটের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৫১৭টি। সেই হিসাবে বৈধ ভোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫৩টি।
রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন
রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ ভোটারের এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৬৪টি। ভোট পরার শতকরা হার ৬৪ দশমিক ৩৫।
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ
কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ জয়ী হয়েছেন। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন। তিনি ট্রাক প্রতীকে ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়েছেন।
নোয়াখালী-৬ আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ
নোয়াখালী-৬ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আব্দুল্লাহ আল আমিন
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী। তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট।
কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মোজাহিদ
কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মোজাহিদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট।
![]() |
| (ওপরে বাঁ থেকে) নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ; (নিচে বাঁ থেকে) আবদুল হান্নান মাসউদ, আবদুল্লাহ আল আমিন ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ। কোলাজ |
Tuesday, January 27, 2026
তাহাজ্জুদের পরেই তারা সিল মারার পরিকল্পনা করছে: নাহিদ ইসলাম
সোমবার রাত ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যাতে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য ১১–দলীয় জোটের নেতা–কর্মীরা ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবেন। যারা ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করবে কিংবা নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড একটি প্রতারণার প্যাকেজ। বাংলাদেশের সংকট এখন ফ্যামিলি কার্ড নয়। দেশের প্রকৃত সংকট হলো অর্থনীতিকে চাঙা করা, ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। আমরা এসব বিষয় সামনে রেখে পরিকল্পনা ও ইশতেহার নিয়ে কথা বলছি।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলছে। নির্বাচনের সময় ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন এবং ভোটের দিন সবাইকে কেন্দ্রে আনার জন্য নেতা–কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের নয়; এটি রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, গণতন্ত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলমের পক্ষে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চান। মাহবুব আলম সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই। তিনি রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ইছাপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানের ছেলে।
সমাবেশ শেষে নাহিদ ইসলাম দলীয় প্রার্থী মাহবুব আলমকে শাপলাকলি প্রতীক হাতে তুলে দিয়ে উপস্থিত জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী। বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া, কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমসহ অন্যরা।
![]() |
| লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রাতে। ছবি: প্রথম আলো |
Thursday, January 8, 2026
একপাক্ষিক নির্বাচনের শঙ্কা জামায়াত- এনসিপির, কী বলছে ইসি? by সজল দাস
মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তে আরও বেশ কয়েকটি জেলার রিটার্নিং অফিসারের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, এবি পার্টিসহ বেশ কিছু দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
যাদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, সামান্য ভুলের জন্য তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হলেও প্রশাসনের 'পছন্দের' প্রার্থীদের একই ভুল এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দিতে প্রশাসন একপক্ষীয় আচরণ করছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ দিয়ে এসেছে এনসিপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
যদিও মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, স্থগিত কিংবা বাতিল করার ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় হচ্ছে না বলে দাবি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের। বরং, নির্বাচনের আগে প্রশাসনকে চাপে রাখতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেই মনে করেন তাদের কেউ কেউ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসি সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, প্রশাসনের কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, মনোনয়ন বাতিল হওয়া সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। এরপরও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যদিও প্রার্থী ও ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে কমিশনকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া উচিত–– বলছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩০০ আসনে মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এক হাজার ৮৪২টি মনোনয়ন।
বাতিল হওয়া ৭২৩ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টির অন্তত ৫০ জন, বিএনপির ২৫ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১০ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির তিন জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৯ জন রয়েছেন। বাতিলদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীই বেশি।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন?
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সিলেটের তিনটি আসনে বিএনপি, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম।
জানা গেছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পুনরায় যাচাই-বাছাই করে সিলেট- ৩ সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ মালেক এবং সিলেট- ৬ সংসদীয় আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও বাতিল হয় যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও সিলেট-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী এহতেশামুল হকের মনোনয়নপত্র।
সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম বলছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রয়োজনীয় কাগজ জমা না দেওয়ায় এনসিপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, ডুয়েল সিটিজেনশিপ বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি এমপি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। এক্ষেত্রে তাকে দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিল করতে হয় এবং তিনি যে এটি বাতিল করেছেন তার কাগজপত্র কমিশনে জমা দিতে হয়।
"যেহেতু নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ, এই কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে ওই দেশের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন তার রিসিট বা ডকুমেন্ট মনোনয়নের সঙ্গে জমা দিলেই ধরে নেওয়া হয় যে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন," বলেন তিনি।
মি. আলম জানান, সিলেটে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে যে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে স্থগিত করা হয়েছিল তাদের মধ্যে দুই জন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন।
কিন্তু "একজন প্রার্থী এনসিপির তিনি কোনো ডকুমেন্ট জমা দিতে পারেননি। তিনি যে সাবমিট করেছেন এমন কোনো কিছুও তিনি দিতে পারেননি। এ কারণেই তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে," মি. আলম বলেন।
নাগরিকত্ব বাতিলের এই বিষয়টি ওই দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমেও যাচাই করা হয়, এক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তকেই পক্ষপাতিত্বমূলক বলে অভিযোগ তুলেছেন এনসিপি প্রার্থী এহতেশামুল হক। তার দাবি, একই পরিস্থিতিতে প্রার্থী ভেদে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রয়োজনীয় কাগজ জমা না দেওয়ায় তার সঙ্গে বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর মনোনয়নও স্থগিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বাকি দুজনেরটা বৈধ হলেও তার মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
তিনি দাবি করেন, ক্রিসমাস উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বন্ধ থাকায় কেউই সেখানকার কাগজ আনতে পারেনি।
মি. হক বলেন, "প্রোপার কাগজ দিতে পারিনি, উনি (রিটার্নিং কর্মকর্তা) আমার মনোনয়ন বাতিল করলেন এটা ঠিক আছে। কিন্তু ঠিক একই ইস্যুতে (দ্বৈত নাগরিকত্ব) বিএনপি প্রার্থীর ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা বললেন যেহেতু যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বন্ধ, যেহেতু আজকে লাস্ট ডেইট সেহেতু আমি কন্ডিশনালি ওনাকে দিচ্ছি।"
"আমি নাগরিক হিসেবে কেন এই কনসিডারেশন পেলাম না, আমার জন্যও তো যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বন্ধ। এটা দ্বিচারিতা," বলেন তিনি।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে, মনগড়াভাবে মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ তুলেছেন কুড়িগ্রাম- ৩ সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীও।
তার দাবি, বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করেছেন।
যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, "আমি বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি, তার নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র কোনোকিছুই ছিল না। সংক্ষুব্ধ হলে উনারা নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ নিতে পারেন।"
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন অভিযোগ প্রশাসনকে চাপে রাখার কৌশল হতে পারে বলেও মনে করেন মিজ দেবনাথ।
নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রসঙ্গও সামনে আনছেন তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা।
প্রশাসনের একতরফা আচরণের অন্তত একশটি উদাহরণ রয়েছে বলে দাবি করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি'র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলছেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি প্রশাসন পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করছে দাবি করে তিনি বলেন, "সম্প্রতি একটি দলের চেয়ারপার্সন দেশে আসার পর বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানগণ একটি পার্টি অফিসের দিকে তাদের কেবলা ঠিক করে ফেলেছেন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ"।
প্রশাসনের এমন আচরণের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অতীতের মতো পক্ষপাতিত্ব এবং একতরফা হওয়ার শঙ্কা মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনিয়ম চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মাঠের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
একই দিনে, কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি জানায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নির্বাচনের সামগ্রিক আলোচনা থেকে গণভোটের বিষয়টি হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
ইসলামী আন্দোলনের যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিল ও প্রশাসনের একপক্ষীয় আচরণের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন তারা।
বুধবার ইসির সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াত অভিযোগ করেছে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, "গত কয়েক দিনের সরকারের আচরণে এবং প্রটেকশনের নামে যে বাড়াবাড়িটা চলছে সেসব আচরণে এই আশঙ্কা তো শুধু আমাদের মনেই তো নয়, আপনাদের মনেও এটা স্বাভাবিকভাবে জাগার কথা যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটা নাই।"
দেশের অনেক জায়গায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনেকের প্রার্থিতা বাতিল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "বৈষম্য হয়েছে ওই সমস্ত জায়গার ডিসিদের মানসিকতার কারণে। যারা একটা পলিটিক্যাল পার্টিকে বিলং করে এবং অন্য কাউকে পছন্দ করতে চায় না, তারা চেষ্টা করছে এটা করার জন্য," বলেন মি. তাহের।
ডিসি-এসপিদের ভেতরে বৈষম্যমূলক আচরণ হচ্ছে এবং তাদের বিষয়ে তালিকা তৈরি করবেন বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা।
অভিযোগ নিয়ে কমিশন যা বলছে
নির্বাচনের আগে প্রশাসনের 'বিতর্কিত' ভূমিকা ইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলবে বলে মন্তব্য করেছে অভিযোগকারী রাজনৈতিক দলগুলো।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলির মতে, নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের।
অবশ্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের দরজা খোলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, আপিলের পর নির্বাচন কমিশন কী করে সেটাও দেখা জরুরি।
"সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করবে, সেখানেও না হলে আদালত আছে," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনে একাধিক রাজনৈতিক দলের এমন অভিযোগ, প্রশাসনকে চাপে রাখার কৌশল কি না–– এমন প্রশ্নের জবাবে মিজ টুলি বলছেন, "রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক কৌশল থাকে, এটিও তার একটি হতে পারে। কিন্তু যদি কোনো অভিযোগ থাকে নির্বাচন কমিশনের সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।"
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ অবশ্য বলছেন, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল কিছু অভিযোগ দিয়ে গেছেন, "বিষয়গুলো আমরা দেখবো।"
"যদি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের বিষয়টা ঘটে থেকে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রশাসনিকভাবে যেটা আছে। কিন্তু যাচাই বাছাই না করে তো কোনো কমেন্ট করা ঠিক না," বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. আহমেদ।
![]() |
| প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযোগ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিও |
Monday, December 29, 2025
আদর্শিক ঐক্য হয়নি, এটি নির্বাচনী সমঝোতা: নাহিদ ইসলাম
আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। এর আগে বিকেলে জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিপি তাদের সঙ্গে ১০–দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় থাকছে।
এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে সমঝোতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকে বলে এসেছি, আসন্ন নির্বাচনে আমরা এককভাবে অংশ নিতে চাই, ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে চাই। সে অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা চলছিল। সারা দেশ থেকে আমরা আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়ন আহ্বান করেছিলাম। পরে আরও দুটি দলের সঙ্গে (এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন) আমাদের রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল। তখন আমরা বলেছিলাম, তিন দলের গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট একত্রে নির্বাচনে অংশ নেব।’
কিন্তু এরপর শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতবরণ এবং তাঁকে প্রকাশ্যে গুলি করার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অনেক বেশি পরিবর্তন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারছি, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী আগ্রাসনী শক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা যাদের পরাজিত করেছিলাম, তারা এখনো চক্রান্ত করছে নির্বাচন বানচাল, সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য এবং জুলাই প্রজন্মকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য। সেদিন ওসমান হাদির গায়ে গুলি লেগেছে, কালকে আপনার গায়ে, পরশু আমার গায়ে লাগবে। প্রথম ও প্রধান টার্গেট করা হচ্ছে সারা দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী তরুণ, নাগরিক, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের।’
এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার জন্য এবং আধিপত্যবাদী কোনো শক্তি যাতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী অগ্রযাত্রাকে ঠেকাতে না পারে, সে জন্য এনসিপি বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সেই তাগিদ থেকে আমরা জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা আট দলের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপি সম্মত হয়েছে। এনসিপি জামায়াত ও সমমনা আট দলের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের ন্যূনতম কিছু বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। সামগ্রিক বিষয়ে বা আদর্শিক ঐক্য হয়নি। এটা একটা নির্বাচনী সমঝোতা। ন্যূনতম কিছু বিষয়ে আমরা ঐকমত্য পোষণ করেছি, আমরা একত্রে নির্বাচনী সময়টা পার করব। এই সমঝোতা একদিকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য, অন্যদিকে আমাদের সংস্কার, বিচার এবং আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী ন্যূনতম কর্মসূচিও থাকবে।’
আগামীকাল সোমবার দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সমঝোতায় যাঁরা আমাদের প্রার্থী, তাঁরাই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। সারা দেশে একত্রে নির্বাচনে অংশ নেব।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ দাবি করেন, এনসিপি তার অবস্থানেই আছে। তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর ঐক্য করেছি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এনসিপি তার লক্ষ্য-আদর্শ নিয়েই কাজ করবে।’
এনসিপি থেকে দুই নারীনেত্রীর পদত্যাগে দলে ভাঙনের সুর দেখা গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁরা দলের নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ নির্বাচন করবেন কি না বা দলে থাকবেন কি না, এটা তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহমুদা মিতু, দিলশানা পারুল প্রমুখ।
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ছবি: মীর হোসেন |
Thursday, December 25, 2025
নাহিদ ইসলামরা গতকাল রাতে স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়ে এসেছেন -সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের
বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন আব্দুল কাদের। তিনি লেখেন- তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামাতের সাথেই সরাসরি জোট বাঁধছে। সারাদেশে মানুষের, নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে গুটিকয়েক নেতার স্বার্থ হাসিল করতেই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল এই জোটের ঘোষণা আসতে পারে। আর এরইমধ্যে দিয়ে কার্যত এনসিপি জামাতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
১) জামায়াতের থেকে এনসিপি চেয়েছিল ৫০ আসন, ধর কষাকষির সর্বশেষ পর্যায়ে সেটা ৩০ আসনে গিয়ে চূড়ান্ত হয়েছে।
২) জোটের শর্ত অনুযায়ী এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না, সেগুলাতে জামায়াতকে সহযোগিতা করবে এনসিপি।
৩) জামায়াতের পক্ষ থেকে জোটসঙ্গী হিসেবে আসন প্রতি এনসিপিকে নির্বাচনী খরচ দেয়া হবে দেড় কোটি টাকা।
৪) সমঝোতার ৩০ আসনে কারা কারা চূড়ান্ত হবেন সেই দায়িত্ব জামায়াতের পক্ষ থেকে এনসিপির একজনকে ঠিক করে দেয়া হয়েছে। তিনি হচ্ছেন জামায়াতের অন্যতম আস্থাভাজন, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আর জামায়াতের দিক থেকে থাকবেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এই দুইজন মিলেই এনসিপির ৩০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।
৫) ছোটন গং এর সাথে নাহিদ ইসলামের আরো এক ধাপ আগানো সমঝোতা হয়েছে। ছোটন গং জানিয়েছে, পশ্চিমারা প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে জামায়াতকে চায় না। সেই হিসেবে নির্বাচনে জিতলে নাহিদ ইসলাম হবেন প্রধানমন্ত্রী আর বিরোধী দলে গেলে নাহিদ হবে বিরোধী দলীয় নেতা।
এতো এতো তরুণ নিজের গোছানো ক্যারিয়ার, পরিবার পরিজন বাদ দিয়ে দেশের হাল ধরতে এসেছিল, একটা সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, স্বপ্ন দেখেছিল; নাহিদ ইসলাম’রা গতকাল রাতে গিয়ে সেই স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়ে এসেছেন!

Tuesday, December 23, 2025
প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা: সরকারের ভেতরের একটা অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে: নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্লোগানগুলো ব্যবহার করে তারা সেখানে আক্রমণ করেছে এবং সেটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছে। এই ঘটনার পরে আমরা বলেছি যে, সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমাজে এটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল অনেকদিন ধরেই এবং এটার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকআপও আছে। এই তিনটা ঘটনা এক সাথে না ঘটলে এত বড় সাহস সেই রাতে কারও পক্ষে করা সম্ভব হতো না।’
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ ও মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব)। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, সেখানে সংহতি জানাতে আসা সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিবাদ সভা শেষে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন তাঁরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে সংহতি জানাতে আসেন।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়ার পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পিত ছিল বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি তার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে এবং হওয়ার পরে কী কী ঘটনা ঘটানো হবে বাংলাদেশে, এটার একটা চক্রান্ত পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছে।... আমরা মনে করি আমাদের সবারই এটার পেছনে দায় আছে। আমাদের অনেক বেশি দায় আছে, যারা আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনা যারা সেই রাতে ঘটিয়েছে, এটা খুবই স্পষ্ট যে, কারা সেটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছে। কারা সেই রাতে সেখানে গিয়েছে। লেখালেখি করেছে। আমার মনে হয় যে, সেটা সরকারের উচিত হবে...আমাদের সবাই মিলে সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার।’
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সেই রাতে এই ঘটনা ঘটার পরে আমাদের কাছে আরও মনে হয়েছে যে, ঢাকা শহরে ৫০০ মানুষ নাই যে, সেখানে ওই বিল্ডিং দুইটার সামনে গিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করতে পারে--এটা আমাদের জন্য আরও দুর্ভাগ্যজনক মনে হয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবার রাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো। প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে প্রথম আলোর কার্যালয় ভস্মীভূত হয়ে যায়। একই রাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়েও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট করা হয়। সংহতি জানাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গেলে একই রাতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনাকে ‘গণমাধ্যমের জন্য কালো দিন’ আখ্যায়িত করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন অনেকেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই হামলার ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর হামলার শামিল। ওই রাতে ছায়ানট ভবনেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় উদীচী কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
![]() |
| ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব এই সভার আয়োজন করে। ছবি: প্রথম আলো |
Wednesday, December 10, 2025
হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা জেন-জিরা এখন রাজনীতির মাঠে সমর্থন পাওয়ার চ্যালেঞ্জে
ছাত্র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা দশকের পর দশক ধরে চলা স্বজনপ্রীতি এবং দুই দলের আধিপত্য থেকে দেশকে মুক্ত করবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে দলটি।
এনসিপিপ্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সংগঠন দুর্বল; কারণ, আমরা এটিকে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট সময় পাইনি। আমরা এটা জানি। তবে এখনো চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি।’
গত বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাহিদ ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি স্বল্প মেয়াদে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকার একটি বহুতল ভবনে দলীয় কার্যালয় থেকে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন ২৭ বছর বয়সী নাহিদ। ঘরটির একদিকের দেয়ালে আঁকা রয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের শামিল জনতার ছবি।
জরিপে দলটির অবস্থান তৃতীয়
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের সব কটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় এনসিপি। চলতি ডিসেম্বরে একটি জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। জরিপটি বলছে, সমর্থনের দিক থেকে এনসিপি তৃতীয় অবস্থানে আছে। দলটিকে সমর্থন করছে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৩০ শতাংশ জনসমর্থনের অনেকটাই পেছনে।
এ জরিপ অনুযায়ী, কট্টরপন্থী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলমীও এনসিপির চেয়ে এগিয়ে আছে। জনসমর্থনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে (২৬ শতাংশ) আছে দলটি।
গত বছর ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সক্রিয় প্রাপ্তি তাপসী রয়টার্সকে বলেন, ‘তারা যখন যাত্রা শুরু করে, তখন অন্যদের মতো করে আমিও তাদের মধ্যে আশা দেখেছিলাম।’
২৫ বছর বয়সী প্রাপ্তি আশা করেছিলেন নতুনেরা দুই প্রধান দলের বহু বছরের শাসন ভেঙে দেবে। তবে পরে তিনি হতাশ হন।
প্রাপ্তি বলেন, ‘তারা বলে যে তারা মধ্যপন্থী, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তা মেলে না।’
নারীবাদী এই অধিকারকর্মী আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকারই হোক বা নারীর অধিকারের প্রশ্ন হোক, তারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় ভোগে। আর যখন তারা অবস্থান নেয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।’
এনসিপিকে নিয়ে মানুষের হতাশা বাড়ার আরেকটি নমুনা হচ্ছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু)। ওই নির্বাচনে এনসিপি একটি পদেও জিততে পারেনি। এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিল ২৪-এর অভুত্থানের কেন্দ্রবিন্দু।
রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনা
নেতা সীমিত সাংগঠনিক কাঠামো, তহবিলের স্বল্পতা এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে অনিশ্চিত হিসেবে চিহ্নিত অবস্থানের মতো বাধার কথা বলছেন। তাঁঞরা বলছেন, এনসিপি এখন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এনসিপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা ঝুঁকিগুলো আমলে নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা যদি স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি, তাহলে হয়তো একটি আসনও জিততে পারব না।’
এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, জোট গঠন করলে দলটির ‘বিপ্লবী’ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
লেখক ও রাজনীতি-বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘যদি তারা জোট করে, তখন জনগণ আর তাদের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে বিবেচনা করবে না।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এবং একজন এনসিটি নেতা আরেকটি কথাও বললেন। শিক্ষার্থীরা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য স্বল্প সময়ের জন্য দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হলেও তাদের বেশির ভাগই পরে নিজ নিজ দলে ফিরে যায়। এনসিপি গঠনের জন্য হাতে থাকে মাত্র কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী ।
এখন এনসিপিকে এমন সব প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যাদের প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং সুসংগঠিত কাঠামো রয়েছে।
তহবিল সংগ্রহ একটি বড় বাধা
নাহিদ ইসলাম বলেন, অর্থের বিষয়টিও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। কারণ, দলের সদস্যরা মূলত পূর্ণকালীন চাকরির বেতন, ছোট ছোট অনুদান ও ক্রাউডফান্ডিংয়ের ওপর নির্ভর করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কেউ কেউ গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তেমনই একজন ২৮ বছর বয়সী হাসনাত আবদুল্লাহ।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষকে বলি যে আমার টাকাপয়সা নেই। আমি তাঁদের বলেছি, একজন নেতার মূল কাজ ভোটারকে অর্থ দেওয়া নয়, বরং সরকারি তহবিলের সঠিক বণ্টন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা’
তবে কিছু এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় দলের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব পড়ছে। যদিও দলটি নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির দাবি, তারা দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে।
‘নতুন কিছু দেওয়া’
তবু কিছু তরুণ এখনো এনসিপিকে সমর্থন করছেন। কারণ, তাঁরা আশা করছেন, দলটি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অর্থ, শক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক ক্ষমতার সংস্কৃতিতে বদল নিয়ে আসবে এবং সমতা প্রতিষ্ঠা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনজিলা রহমান বলেন, ‘তারা তরুণ, তারা বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিল। আমি আশা করি, তারা পরিবর্তন আনতে পারবে—যদি তারা নিজেরাই স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে না ওঠে।’
এনসিপি গত নভেম্বর মাসে অভিনবভাবে প্রার্থী খোঁজার অভিযান চালায়। দুই দিনের মধ্যে তারা দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্য থেকে ১ হাজারের বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেয়। তরুণ দলীয় নেতারা ঘুরে ঘুরে সম্ভাবনাময় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এর মধ্যে এক রিকশাচালক আছেন, বিক্ষোভের সময় পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আংশিক দৃষ্টিশক্তি হারানো ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীও আছেন।
৩২ বছর বয়সী রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন খান বলেন, ‘কেউ হয়তো ভাবতে পারেন যে রিকশাচালকের তো সংসদে কিছু দেওয়ার নেই। আমাকে একবার সুযোগ দিন, দেখুন আমি দেশে পরিবর্তন আনতে কী করি।’
এ ধরনের একটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা চিকিৎসক তাসনিম জারাকে দলটির প্রতি আকৃষ্ট করেছে। তিনি কেমব্রিজে সফল ক্যারিয়ার ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি দলকে মূল থেকে গড়ে তুলতে চান।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা রাজনীতিকে উন্মুক্ত করতে চাই, শক্তিশালী পরিবারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। ক্ষমতাকে সাধারণ মানুষের হাতে ফিরিয়ে দিতে চাই।’
বিএনপি ও জামায়াত নেতারাও এ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তরুণেরাই ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আধিপত্য করবে, তাই আমরা যদি তাদের সংসদে জায়গা করে দিতে পারি তবে তা ভালো হবে।’
এনসিপি নেতারা বলছেন, তাঁরা আসন্ন ভোট ছাড়াও দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিষ্ঠানগত ও কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে ভাবছেন।
এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘হার-জিত যা–ই হোক, শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই আমরা নতুন কিছু দিচ্ছি।’
![]() |
| জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। মঞ্চে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। পেছনে ডিজিটাল পর্দায় দেখা যায় জমায়েতের একাংশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হয়। ফাইল ছবি |
Saturday, December 6, 2025
বাংলাদেশে তরুণদের রাজনৈতিক লড়াই: ভোটের মাঠে পিছিয়ে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন দল এনসিপি
এনসিপির আহ্বায়ক ও চব্বিশের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকায় থাকা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, যথেষ্ট সময় না পাওয়ায় দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা এখনও দুর্বল। তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি।’ সংগঠনের নবযাত্রা ও স্বল্প অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা রচনায় যাত্রা শুরু করেছেন তারা।
জনমত জরিপে তৃতীয় স্থানে এনসিপি
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইআরআই-এর ডিসেম্বরের এক জরিপে দেখা যায়, সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়া এনসিপি মাত্র ৬ শতাংশ ভোটারদের সমর্থন পেয়েছে। অন্যদিকে শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। যাদের পক্ষে রয়েছে ৩০ শতাংশ ভোটার। আর দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইসলামপন্থী দলটি পেয়েছে ২৬ শতাংশ সমর্থন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক প্রাপ্তি তপশী জানান, এনসিপির প্রতি শুরুতে আশা থাকলেও পরে হতাশ হয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ নিজেদের মধ্যমপন্থী বলে দাবি করলেও সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা যথাসময়ে অবস্থান নেয়নি। সেপ্টেম্বরে হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দলটির ছাত্র সংগঠন একটি আসনও পায়নি। এতে জনমনে হতাশা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জোট আলোচনা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি
দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো, আর্থিক সংকট ও অস্পষ্ট নীতির কারণে এনসিপি বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট করার আলোচনা করছে। দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ালে একটি আসনও না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জোটে গেলে ‘বিপ্লবী’ ভাবমূর্তিই হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, জোটে গেলে জনগণ তাদের আর প্রচলিত তিন দলের বাইরে নতুন শক্তি বলে বিবেচনা করবে না।
অর্থসংকট ও গ্রাম পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ
অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের তুলনায় মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক মজবুতি না থাকায় গ্রামাঞ্চলে ভোটারদের আকৃষ্ট করা এনসিপি’র জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটির প্রধান নাহিদ ইসলাম জানান, সদস্যদের ব্যক্তিগত উপার্জন, ছোট ছোট অনুদান এবং ক্রাউডফান্ডিংয়ের উপরই নির্ভর করতে হয় তাদের। আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমি ভোটারদের বলেছি, আমার কাছে দেওয়ার মতো টাকা নেই। আমার লক্ষ্য হবে সরকারি অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় তা নিশ্চিত করা। এনসিপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে দলটি।
রাজনীতিতে নতুনত্বের আশা
তবুও তরুণদের একটি অংশ এখনো এনসিপিকে পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে দেখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনজিলা রহমান বলেন, তারা তরুণ, তারা আন্দোলন করেছে। শুধু কর্তৃত্ববাদী হয়ে না উঠলেই তারা পরিবর্তন আনতে পারবে। নভেম্বরে দলটি সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়- দুই দিনে এক হাজারের বেশি আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। রিকশাচালক থেকে শুরু করে আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী পর্যন্ত সবাই সেখানে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। ডা. তাসনিম জারা, যিনি চিকিৎসা ক্যারিয়ার ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা রাজনীতিকে ক্ষমতাধর পরিবারগুলোর বাইরে এনে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। বিএনপির নেতারাও স্বীকার করেন, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তরুণদের গুরুত্ব বাড়বে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে জায়গা দিতে পারলে তা দেশের জন্য ভালো হবে। এনসিপি নেতাদের দাবি, এই নির্বাচনে জয়ী হওয়া তাদের লক্ষ্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জয় বা পরাজয় বড় কথা নয়- এই নির্বাচনে অংশ নেওয়াই আমাদের জন্য নতুন সূচনা।

Thursday, December 4, 2025
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর তফসিল চায় এনসিপি
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর তফসিল ঘোষণা করলে তখন কাজটা অনেক সহজ হবে। গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংকটগুলো উত্তরণ করে সুন্দরভাবে তফসিল দেওয়ার জন্য তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছেন।
এ সময় এনসিপি তফসিল পেছাতে চায় কি না, জানতে চাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘না। আমরা কেন তফসিল পেছাতে চাইব? আমরা বলতেছি যে সংকটগুলো সমাধান করে তফসিলটা দেওয়ার জন্য।’
এ প্রশ্নের উত্তরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তফসিল দেওয়ার সময় যাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে এবং প্রতিটা দলেরই যাতে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করার একটা পরিবেশ থাকে, তাদের দলের ভেতরে এবং সার্বিক রাজনৈতিক সে পরিবেশটা যাতে থাকে। সেই সময়টায় যদি তফসিল দেওয়া হয়, তাহলে এটা নির্বাচন কমিশন ও সব রাজনৈতিক দলের জন্য উপকারী হয়।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তফসিল দেওয়ার সময়টাতে রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সেটা রেখে তারা যেকোনো দিন দিতে পারে।
আগামী সপ্তাহেই নির্বাচন কমিশন তফসিল দিতে চাইছে, এ ক্ষেত্রে এনসিপি পরিবেশ স্থিতিশীল মনে করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট পাঠানো এবং নিয়ে আসা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার বলে কমিশন দ্রুত তফসিলটা দিতে চাইছে। তবে এ ক্ষেত্রে এনসিপি রাজনৈতিক সংকটকে বিবেচনায় রাখার জন্য বলেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব কটি পলিটিক্যাল পার্টি কিন্তু এ বিষয়ে অ্যাগ্রিড। এটা নিয়ে কোনো সংকট নেই। আমরা আশা করি যে ইনশা আল্লাহ ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু একটি ইলেকশনের দিকে দেশ এগোচ্ছে।’
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নির্বাচনের শিডিউলে প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘না, এটা প্রভাব পড়বে না।...আমরা মনে করি যে বাংলাদেশে উনি (খালেদা জিয়া) দীর্ঘ সময় লড়াই করেছিলেন। তো গণতন্ত্রের এই জায়গাটায় সরকারও সম্মান প্রদর্শন করছে। আমরাও সম্মান প্রদর্শন করছি। বেগম জিয়ার প্রতি সবার আবেগ–অনুভূতি আছে। এটা বিএনপিকেন্দ্রিক নয়।’
নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তাবনাটি বাতিলের চেষ্টা হচ্ছে
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতিটি দলকে তাদের নিজের দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ প্রস্তাবনাটি বাতিল করতে একটি দলের পক্ষ থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। সেই দলের জোটসঙ্গী আরেকটি দলের পক্ষ থেকে আদালতে এ নিয়ে রিটও হয়েছে। আদালতকে ব্যবহার করে এই সংস্কার প্রস্তাবনাটি বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীর দেওয়া তথ্য কমিশনকে যাচাই–বাছাই করতে বলেছে এনসিপি।
ডিসি–এসপি বদলি, রাজনৈতিক প্রভাব আছে
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন যে ডিসি–এসপি বদলি হচ্ছে, সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব আছে বলে মনে করছে এনসিপি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে তারা।
গণভোটে একটি প্রশ্নের চারটি ভাগ বিভিন্ন দলকে সন্তুষ্ট করার জন্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এটা আরও সুস্পষ্টভাবে করা উচিত ছিল। যদি এই আদেশের ভিত্তিতেই গণভোট হয়, তাহলে এটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা প্রয়োজন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের কাছ থেকে এনসিপির দলীয় নিবন্ধন সনদ ও প্রতীকের ছবি নেন তাঁরা।
![]() |
| প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ৩ ডিসেম্বর। ছবি: প্রথম আলো |
Friday, November 28, 2025
মামদানি পারলেও নাহিদরা কেন পারছেন না? by নুরুল হুদা সাকিব ও ইকরামুল হক রিয়ন
মামদানিকে মোকাবেলা করতে হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ধনকুবের সহযোগীদের বিপরীতমুখী অবস্থান, নেতিবাচক মিডিয়া ন্যারেটিভ আর নানা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিকূলতা। এসবের মাঝে অ্যান্ড্রু কুমোর মতো প্রভাবশালী ও ঝানু রাজনীতিবিদকে হারানোটা ছিল অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো।
নিউইয়র্কের কর্মজীবী বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যা ছিল জীবনযাত্রার খরচ জোগানো। মামদানি তাঁর নির্বাচনী কৌশলের কেন্দ্রে রেখেছিলেন এ সমস্যাটিকে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘোরা ও ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে নাগরিকদের সমস্যা জানা, নির্বাচনী প্রচারণায় সেগুলোকে উল্লেখ করাসহ নিজের ব্যক্তিজীবনের স্বচ্ছতা তুলে ধরে মামদানি এই জয় ছিনিয়ে এনেছেন। তাঁর এই জয় প্রমাণ করে বিদ্যমান ব্যবস্থার বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও জোট করতে পারলে তরুণদের পক্ষে প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জনসমর্থন আদায় করা সম্ভব।
২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলামদের হাত ধরে দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হয়েছে। ১৪০০-এর অধিক শহীদ আর অসংখ্য আহত ব্যক্তির নেতা নাহিদ ইসলামরা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন। আমাদেরও দেখাচ্ছেন। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পার হলেও, বিএনপি ও জামায়াতের দ্বিমেরুর বাইরে তাঁদের তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠা নিয়ে সংশয় দৃশ্যমান। বিভিন্ন সময়ে করা নানান সংস্থার জরিপে তাঁদের কমতে থাকা জনসমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর নাহিদদের সহযোদ্ধাদের হাত ধরে প্রথমে লিয়াজোঁ কমিটি ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এনসিপিকে মনে করা হচ্ছিল আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের স্বপ্নের সারথি। কিন্তু বিভিন্ন সময় এনসিপির কিছু নেতা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁরা সেগুলোকে অস্বীকার করলেও অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেননি। ফলে অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হলেও সেগুলো নাগরিকদের কাছে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। অনেকেই তাঁদের বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মুদ্রার অপর পিঠ বলছেন, যেখানে ক্ষমতা আর দুর্নীতি হাত ধরে চলে।
নাহিদরা শুরু থেকে তাঁদের লক্ষ্য হিসেবে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ এর কথা বললেও সাধারণ নাগরিকরা সেই ধারণার সঙ্গে পরিচিত নন। নাহিদরা তাঁদের এই সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার কোনো রূপরেখাও পরিষ্কার করে উত্থাপন করতে পারেননি। তাঁরা কী চায়, কেন এবং কীভাবে চায়, সেটার স্পষ্ট কোনো ধারণা নাগরিকেরা এখনো পায়নি।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শকে একটি ‘কোর থিম’-হিসেবে নাগরিকদের সামনে উত্থাপন করেছে, নাহিদরা সেখানে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিএনপির বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কিংবা জামায়াতের ইসলামি রাজনীতি মানুষের কাছে যতটা সহজভাবে প্রতীয়মান হয়, নাহিদদের বাংলাদেশপন্থা ততটা হয় না। রাজনীতি তো জনগণের জন্য। জনগণের কাছে আধিপত্যবাদবিরোধী, আদর্শ-উত্তর, সেকেন্ড রিপাবলিকের ধারণা পরিষ্কার না হলে তারা নতুন মেরুকরণেও আগ্রহী হবে না। এ ক্ষেত্রে মামদানি বেশ সফল। তিনি খুবই স্বল্প সময়ে তাঁর ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট আদর্শকে কেবল প্রচারই করেননি, বরং সেটাকে নাগরিকদের কাছে সহজবোধ্য ও জীবনঘনিষ্ঠ করে উত্থাপন করে তাদের সমর্থনও আদায় করে নিয়েছেন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে ৩ জন ছাত্র প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে নাহিদ ইসলাম পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করে এনসিপির হাল ধরেছেন। তিনিসহ বাকি দুজন ছাত্র প্রতিনিধি যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন, সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তা অস্পষ্ট। বিশেষত গণমাধ্যম এবং জনপ্রশাসনে ফ্যাসিবাদী আমলের কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে ছাত্র উপদেষ্টাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁরাও নানা সময় স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার বিষয়ে অভিযোগ তুললেও দায়িত্ব ছাড়েননি। ফলে তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দায়িত্ব ছাড়ার পর নাহিদ ইসলাম তাঁর কার্যক্রম কিংবা সাফল্যের কোনো প্রতিবেদন নাগরিকদের সামনে উত্থাপন করেননি। অন্য দুজন করবেন কি না, তা-ও অনিশ্চিত। এ ক্ষেত্রে মামদানি বেশ ভিন্ন। তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির মেম্বার হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, নাগরিকদের কাছে তা স্পষ্ট করেছেন এবং জনসমর্থন আদায়ে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজেও লাগিয়েছেন।
সামনের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো আসন বণ্টন ও প্রচারণা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জামায়াত প্রায় ৩০০ আসন এবং বিএনপি ২৩৭ আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে। এনসিপি এখানে অনেকখানি পিছিয়ে আছে। তাদের সব নেতার এখনো আসন নির্ধারিত হয়নি। এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুজন ছাত্র প্রতিনিধি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন, আদৌ নির্বাচন করবেন কি না কিংবা করলেও সেটা এনসিপি থেকে করবেন কি না, সেটাও এখনো স্পষ্ট না। এ ছাড়া প্রচারণা শুরু করলেও তাঁদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
মামদানি তাঁর প্রায় ১ লাখো স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে ১০ লাখের বেশি ভোটারের দ্বারে কড়া নেড়েছেন। নতুন আদর্শ প্রচারে এটি অপরিহার্য এবং বেশ কার্যকর। তবে সময় ও লোকবল বিবেচনায় এনসিপি এটা কতটুকু করতে পারবে বলা মুশকিল। বাড়ি বাড়ি না গিয়ে শুধু পথসভা আর জনসংযোগ করে ভোটার আকৃষ্ট করা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কঠিন। এনসিপির কয়েকজন প্রার্থী সে পথে হাঁটলেও বেশির ভাগই এ বিষয়ে এখনো নিষ্ক্রিয়। প্রান্তিক জনতার শক্ত সমর্থন না থাকলে এভাবে প্রচারণা করাও মুশকিল।
এ ক্ষেত্রে তাঁরা মামদানির মতো অনলাইন প্রচারনাকে গুরুত্ব দিতে পারেন। মামদানি ফেসবুক, এক্স, টিকটকের মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল মিডিয়া সাইটগুলো ব্যবহার করে তাঁর ভোটারদের বৃহৎ অংশের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়েছেন। কেবল একটা টিকটক ভিডিও থেকেই তিনি ২ দশমিক ৫ লাখো ডলার তহবিল উত্তোলন করেছেন।
তবে নিউইয়র্কের প্রেক্ষাপটে এই কাজ যতটা সহজ, বাংলাদেশে ততটা সহজ হবে না। পরিবর্তনকামী যে জনগোষ্ঠীকে নাহিদদের ভোটার হিসেবে ধরা হচ্ছে, তাদের একটা বড় অংশ শহুরে এবং জেন-জি। এদের কাছে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু বাংলাদেশে নিউইয়র্কের চেয়ে ডিজিটাল লিটারেসি অনেক কম। জনসংখ্যার বৃহত্তর অংশ ডিজিটাল বলয়ের বাইরে অবস্থান করায় এবং ডিজিটাল মিডিয়াকে রাজনৈতিক সচেতনতার কাজে না লাগানোয় শুধু অনলাইন প্রচারণায় সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
নির্বাচনের খরচ জোগাতেও ভুগতে হতে পারে এনসিপিকে। মামদানি তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের একটা বড় অংশ গণচাঁদা থেকে পেলেও বাংলাদেশে এই পদ্ধতি এখনো জনপ্রিয় না। খরচ জোগাড় করতে গিয়ে তাঁরা কোনো অনৈতিক পন্থা নিচ্ছেন কি না, সেদিকেও সবার কড়া নজর থাকবে। তাঁরা কীভাবে এই খরচ জোগাড় করেন ও ব্যয় করেন, সেটা ভোটারদের অন্যতম আগ্রহের জায়গা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলের সমার্থক হচ্ছে তার প্রতীক। ভোটাররা বিএনপি বা জামায়াতের প্রার্থীকে না চিনলেও ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক চেনে। কিন্তু নাহিদদের নিবন্ধন আর প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা জনসাধারণের কাছে তাদের পরিচিত করার পথে অনেকখানি পিছিয়ে দিয়েছে।
আগামী নির্বাচনে জোটসঙ্গীদের সবাইকে নিজস্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে করতে হবে। ফলে জোট কিংবা একক, যেভাবেই নাহিদরা নির্বাচন করুন না কেন, শাপলা কলি প্রতীককে জনগণের কাছে পরিচিত করানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে এই কাজে যেখানে মামদানি পেয়েছেন বছরের বেশি সময়, নাহিদদের তা করে দেখাতে হবে মাত্র ৪ মাসে।
এ ছাড়া নাহিদরা যাদেরকে নিজেদের মূল ভোটার হিসেবে বিবেচনা করছেন, সেই তরুণ ভোটারদের মাঝেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে কি না, সেটা ভাববার অবকাশ রয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রধান চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা নাহিদদের সহযোদ্ধাদের ছাত্রসংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ’ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের প্যানেলে নির্বাচন করেছে। ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটিতেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সমর্থন না পেয়ে বাকি দুটিতে তারা কোনো প্যালেনও দেয়নি। সম্প্রতি তারা সংগঠনের নামও পরিবর্তন করেছে। তাদের সমর্থন হারানোর এই বাস্তবতা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সংস্থা দ্বারা পরিচালিত জরিপে ফুটে উঠেছে।
এ বছরের জুলাইয়ে সানেম-এর জরিপে যেখানে এনসিপির প্রতি ১৬ শতাংশ জনসমর্থন দেখা গিয়েছিল, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে তা ২-৫ শতাংশে ঠেকেছে। অথচ মার্চে এনসিপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক মোট ভোটের ৩০-৩৫ শতাংশ পেয়ে বিরোধী দলে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন।
এই অবনমনের পেছনে কিছু দৃশ্যমান কারণও রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে নাহিদদের দূরত্ব ক্রমাগত বেড়েছে। এর পেছনে গণ-অভ্যুত্থানের অংশীদারত্ব এককভাবে নিজেদের কাছে রাখার প্রবণতাকে কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এর পেছনে অন্যদের রাজনৈতিক স্বার্থবাদিতা থাকলেও নাহিদরা পুরোপুরি দায় এড়াতে পারেন না। যেই অপরায়ণের রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁদের দৃঢ় অবস্থান ছিল, জাতীয় নাগরিক কমিটি থাকাকালীন তাঁদের বিরুদ্ধে সেই অপরায়ণের অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ভিন্ন আদর্শের কারণে অন্যদের মাইনাস করার এই অভিযোগ তাঁদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে কালিমা লাগিয়েছে।
এ ছাড়া সম্প্রতি নাহিদদের কাছের কয়েকজন গণ-অভ্যুত্থানের নেতাকে অনলাইনে একে অপরের প্রতি বিষোদ্গার করতে দেখা গেছে। একে অপরকে ব্যক্তিগত স্বার্থে দলীয় ক্ষমতা ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য দায়ী করেছেন। দলীয় পরিসরে জবাবদিহি না করে গণপরিসরে পারস্পরিক কাদা-ছোড়াছুড়ি বাংলাদেশের প্রথাগত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু নতুন বন্দোবস্তের উদ্দেশ্য তো ছিল পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভেঙে নতুন সংস্কৃতি নির্মাণ করা। ফলে নতুন মোড়কে পুরোনো রাজনীতি ভোটের মাঠে ফিরছে কি না, ভোটারদের সেটা ভাববার অবকাশ রয়েছে।
* নুরুল হুদা সাকিব, সভাপতি ও অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
* মো. ইকরামুল হক রিয়ন, প্রভাষক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
- মতামত লেখকদের নিজস্ব
![]() |
| নিউইয়র্ক সিটির সদ্য নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির নেতৃবৃন্দ। ছবি: এএফপি ও প্রথম আলো |
Sunday, November 2, 2025
‘শাপলা কলি’ নিচ্ছে এনসিপি, ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা শাপলা কলি নেব। এখন এখানে আপনাদের একটা বিষয় থাকতে পারে, শাপলা নিয়ে কিন্তু আমরা এখনো ব্যাখ্যা পাইনি। নির্বাচন কমিশনের যে স্বেচ্ছাচারী আচরণ, কিন্তু এখন কি তাইলে আমরা প্রতীক নিয়ে পড়ে থাকব? আমরা কি ইলেকশন ফেজে (পর্যায়ে) ঢুকব না? তো সে জন্য আমরা বৃহত্তর স্বার্থটা চিন্তা করেই এই ডিসিশনটা (সিদ্ধান্ত) নিচ্ছি।’
শাপলা কলি প্রতীক নিয়েও দেশজুড়ে এনসিপি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বলে দাবি করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমরা শাপলা কলি নিয়েও কিছু পজিটিভ সাড়া পেয়েছি। এটা শাপলার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে শাপলা কলি হয়েছে। অর্থাৎ শাপলাও আছে, কলিও আছে। সে জায়গায় নির্বাচন কমিশন আমরা যতটুকু চিন্তা করেছি, তারা একধাপ একটু বাড়িয়ে চিন্তা করে সেখানে কলি ও শাপলা যুক্ত করেছে।’
এনসিপি নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী হয়ে তাঁদের অফিসে এলে তাঁরা সেটা বিবেচনা করবেন।
নির্বাচন কমিশন যাতে দ্রুততম সময়ে এনসিপির নিবন্ধনসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে এনসিপির প্রতিনিধি দলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পলিসি ও রিসার্চ লিড খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা উপস্থিত ছিলেন।
আস্থার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশন’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘এখনো নির্বাচন কমিশনকে যদি সংক্ষিপ্ত ওয়ার্ডে বলতে বলেন, আমরা এটাকে নির্বাচন কমিশন বলতে পারি না। এটাকে ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশন বলতে পারি আমরা। এই ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশনে এসেছি আমরা, এখানে অনেক কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে। সো ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশনে আমরা আমাদের ফাইটটা করে যাচ্ছি।’
ভবিষ্যতেও নির্বাচন কমিশন দেশের মানুষের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি কত আসন পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা তো বলেছি যে ৩০০ আসনেই আমরা ইলেকশন করব।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, সকালে একটি রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পারেন, একটি নির্দিষ্ট দলের মনোনয়নের জন্য তাঁর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দেশে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস হচ্ছে।’
নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর যে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ, এই ফ্যাসিবাদের তো আমরা সঙ্গী হতে পারব না। আবার বিএনপির যে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, এটারও সঙ্গী হতে পারব না।’
![]() |
| প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে। ছবি: প্রথম আলো |
Friday, October 17, 2025
কিছু রাজনৈতিক দল ঐকমত্যের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কাগজে সই করছে: নাহিদ ইসলাম
আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেকগুলো কমিশন হয়েছে। শ্রম কমিশন হয়েছে। কিন্তু এই কমিশন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। স্বাস্থ্য কমিশন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। মানুষের জীবনের সঙ্গে যে যে জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান জড়িত, যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জড়িত, তার সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক ছয়টি সংস্কার কমিশন নিয়ে ঐকমত্য কমিশন গঠন হয়েছে।
সেখানেও গণতন্ত্রের জন্য সবার ভালো ইন্টেনশন (উদ্দেশ্য) দেখতে পাননি তাঁরা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ফলে তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লড়াই শুরু করেছেন, এর পাশাপাশি তাঁদের যে অর্থনৈতিক রূপান্তরের লড়াই, যেটাকে তাঁরা বলছেন বৈষম্যবিরোধী সমাজব্যবস্থা, ইনসাফভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সেই ব্যবস্থার জন্য তাঁরা লড়াই করবেন। ছাত্র-শ্রমিকসহ পেশাজীবী সব মানুষ একত্রিত হয়ে এই লড়াই করবেন।
বাংলাদেশের সব উন্নয়নের কেন্দ্রে মানবিক মর্যাদা থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে উন্নয়নের গালগল্প শোনানো হয়েছে, যেই প্রবৃদ্ধির গল্প গল্প শোনানো হয়েছে, সেই কাঠামো থেকে দেশকে বের করতে হবে। বাংলাদেশের সব উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকতে হবে মানবিক মর্যাদা, একটি মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা। এই মর্যাদাপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও একটি দায়-দরদের সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় শ্রমিক শক্তি আজ আত্মপ্রকাশ করছে। রাজপথে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। অন্যদিকে, এই দিনে কিছু রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্যের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি কাগজে সই করছে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা সব সময় জানি, রাজপথের শক্তি জয়ী হয়। ইনশা আল্লাহ, জাতীয় শ্রমিক শক্তিও জয়ী হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি শ্রমিকদের পক্ষে রাজনীতি করবে। শ্রমিকের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এখনো শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। গার্মেন্টসে আগুন লাগছে। বস্তিতে আগুন লাগছে। কলকারখানায় আগুন লাগছে। শ্রমিক মারা গেলে দুই লাখ, তিন লাখ টাকায় জীবনের দাম নির্ধারণ করা হয়। শ্রমিকের জীবনের কোনো মূল্য হয় না। শ্রমিকের শ্রমকে কেবল অর্থনীতি শোষণের কেন্দ্রে ভাবলে চলবে না। বাংলাদেশে যে লুটপাট হয়েছে, যে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেখান থেকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে যেতে হবে।
ফ্যাসিবাদী আমলে যেসব রাঘব ছিল, মাফিয়া অলিগার্ক ছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, এই রাঘব, মাফিয়া অলিগার্কদের ব্যবসা এখনো রক্ষা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে সেই মাফিয়াদের, যারা শ্রমিকদের এতকাল ধরে শোষণ করেছে। তাই তাঁরা সেই অলিগার্কি ব্যবস্থার পরিবর্তন চান।
অনুষ্ঠানে নতুন সংগঠনের নেতাদের নাম ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাজহারুল ইসলাম ফকির। সদস্যসচিব শ্রমিকনেতা রিয়াজ মোর্শেদ। মুখ্য সংগঠক শ্রমিক নেতা আরমান হোসেন।
‘আমাদের অন্তর্ভুক্ত না করে কীভাবে এই সনদে স্বাক্ষর করবে তারা’
'আমাদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। আমাদের অন্তর্ভুক্ত না করে কীভাবে এই সনদে (জুলাই সনদ) স্বাক্ষর করবে তারা। আমাদের আগেও শান্তি ছিল না, এখনো নাই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। '
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অবস্থান নিয়ে এসব কথা বলেন ইমরান মিয়া। তিনি নিজেকে জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভের পর সকালে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা’ ব্যানারে শতাধিক মানুষ সংসদ ভবন এলাকার ১২ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা সংসদ ভবন এলাকার ১২ নম্বর গেট টপকে ভেতরে ঢোকেন। মঞ্চের সামনে অতিথিদের চেয়ারে বসে স্লোগান দিতে থাকেন।
বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অতিথিদের জন্য সাজিয়ে রাখা চেয়ারে তাঁরা বসে আছেন। অনুষ্ঠানমঞ্চ ও অতিথিদের জন্য রাখা এই চেয়ারের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আন্দোলনকারীদের দাবি, জুলাই আন্দোলনে তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন বাস্তবায়ন করতে হবে।
নিজেকে জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচয় দেন জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ জুলাই সনদ মানি না। এই সনদে জুলাই যোদ্ধাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা আন্দোলন করতে গিয়ে পা হারিয়েছি, হাত হারিয়েছি, চোখ হারিয়েছি। অথচ আমাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। আমাদের অনেকে হাসপাতালে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছে। তাই আমাদের দাবি অবিলম্বে জুলাই সনদের সংশোধন করতে হবে।’
যাদের রক্তের ওপর জুলাই অভ্যুত্থান তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। ক্রাচে ভর দিয়ে আসা জিহাদ ইসলাম জানান তিনি জুলাই যোদ্ধা। তিনি বলেন, 'আমাদের এত জোরাজুরি করে ঢুকতে হবে কেন। আমাদের কি ইনভাইট করা উচিত ছিল না? ১৫/২০ হাজার চেয়ার দিতে পারত না?'
জুলাই সনদের সংশোধন বা পরিবর্তন না হলে অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলেন জিহাদ ইসলাম।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যাবেন না বলে জানিয়েছেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিনিধিরা এখানে আসছেন। তাঁদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা হবে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
![]() |
| জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা’ ব্যানারে শতাধিক মানুষ। ছবি: প্রথম আলো |
Sunday, September 14, 2025
সরকার ও উপদেষ্টারা মাহফুজদের যথেচ্ছ ব্যবহার করে এখন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (সোয়াস) ক্যাম্পাসে আয়োজিত একটি সেমিনার থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা করেছেন সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। লন্ডনের কেন্দ্রস্থলের ব্লুমসবারি এলাকায় সোয়াস ক্যাম্পাসে ওই সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ হাইকমিশন।
লন্ডনের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় সোয়াস ক্যাম্পাসের পেছনের রাস্তা দিয়ে হাইকমিশনের গাড়ি বের হলে গাড়ির ওপর ডিম নিক্ষেপ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় হাইকমিশনের কালো রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ার চেষ্টা করেন তাঁদের কয়েকজন। কিন্তু পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলেও তাঁরা গাড়ির ওপর ডিম নিক্ষেপ করেন।
এ বিষয়ে আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন নাহিদ ইসলাম। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর লন্ডনে হামলার চেষ্টা হয়েছে। এর আগে আমেরিকায় হামলা ও অপদস্থ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বারবার মাহফুজ আলমের ওপর আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের হামলা। কারণ, মাহফুজ আলমই টার্গেট। পরবর্তী ধাপে আমরা প্রত্যেকেই টার্গেট হব। আমরা জানি, আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করে আছে। গোপালগঞ্জে ফ্যাসিস্টদের নৃশংসতা আমরা দেখে আসছি।’
নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘মাহফুজ আলমের ওপর হামলার মৌন সম্মতি যারা তৈরি করছে, তারাও ভুগবে। ফ্যাসিবাদ বিভাজনের রাজনীতি করে। মাহফুজ আলম গণ-অভ্যুত্থানের পরে অন্তর্ভুক্তি এবং দায় ও দরদের রাজনীতির কথা বলছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সেই পথে হাঁটে নাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাইছি, ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার নাম করে প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করছে বিভিন্ন গ্রুপ, যা অবশ্যম্ভাবীভাবে ফ্যাসিবাদকে ফিরায়ে আনবে। সময় প্রমাণ করবে, মাহফুজ আলমই সঠিক ছিল, যদি তত দিন উনি বেঁচে থাকার সুযোগ পান।’
নাহিদ ইসলাম আরও লেখেন, ‘মাহফুজ আলমের ওপর হামলার ঘটনায় কোনোবারই অন্তর্বর্তী সরকার কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেয়নি। কোনো শক্ত বার্তা দেয়নি। কোনো উপদেষ্টা বা প্রেস সচিব একটা মন্তব্যও কখনো করেনি। সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরেও মাহফুজ আলমকে অপদস্থ ও হত্যার মৌন সম্মতি তৈরি করা হয়েছে। এই সরকার ও উপদেষ্টারা মাহফুজদের যথেচ্ছ ব্যবহার করে এখন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’ তিনি লেখেন, ‘আমরা এগুলা মনে রাখছি। রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দেওয়া হবে।’
| নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি: প্রথম আলো |
Thursday, September 11, 2025
সংস্কার: সফল বাস্তবায়ন আদৌ কি সম্ভব? by নুসরাতে আজিজ
এই মূল প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংবিধানিক সংস্কার কমিশনের ৭০টি, নির্বাচনী সংস্কার কমিশনের ২৭টি, বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ২৩টি, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২৬টি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের ২০টি প্রস্তাব।
উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্তমান সংবিধানের ধারা ৭০ (সংসদ সদস্যদের ভোটের ক্ষেত্রে ফ্লোর ক্রসিং) সংশোধন, সংসদীয় কমিটির গঠনপদ্ধতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদের বেশি না হওয়া, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন, সংস্কার বাস্তবায়নে এনসিসির তদারকি ও পদ্ধতিগত চেক, নারী আসন ও নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনর্বহাল।
তা ছাড়া সংস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন গঠন, জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪-এর ঘটনাবলির (গণহত্যা/ নির্বাচনী জালিয়াতি/ দুর্নীতি) জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রতিষ্ঠা, বৃহত্তর সিভিল সার্ভিস সংস্কার—আমলাতন্ত্রকে সুবিন্যস্তকরণ, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সাংবিধানিক সংশোধনী এবং সম্পদের প্রকৃত মালিকানার উৎস উন্মোচন করা, যাতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মতো কেউ বিদেশে ২৯৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮২টি সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য টাকা পাচার করতে না পারেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে পুলিশ কমিশনের প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব—একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠা—উল্লেখ করা হলেও, তা কেন যেন মূল সংস্কার প্রস্তাবগুলোর তালিকায় স্থান পায়নি।
তা ছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যা মূল সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আসেনি, তা হলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োগের স্বাধীনতার বিষয়।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? একটি উদাহরণ দিলেই এর গুরুত্ব সহজে অনুধাবন করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আহসান মানসুর বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগে ১৫ বছরে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছিল।
এটি কারও অজানা নয় যে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির ক্ষমতা তৎকালীন সরকার দ্বারা খর্ব হওয়ায় এস আলম গ্রুপ এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করতে পেরেছে।
দুদকের দাখিলকৃত নথি অনুসারে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে বেনামি ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং দেশে ও বিদেশে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির ক্ষমতা সরকার দ্বারা খর্ব হওয়ায় এস আলম গ্রুপ এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করতে পেরেছে। তা ছাড়া শেখ হাসিনা প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় জোরপূর্বক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে রয়েছে।
অথচ বাংলাদেশ ব্যাংককে যদি স্বাধীনভাবে ব্যাংকিং সিস্টেম তদারক করতে দেওয়া হতো, তবে অতি সহজেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই দুর্নীতিকে ধরতে পারত এবং এতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করত। আর এত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হতো না।
এখানে বলে রাখা ভালো যে যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার–১৯৭২-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি কর্তৃত্ব রয়েছে এবং এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজ করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সরকার দ্বারা শক্তভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান।
জুলাইয়ের গণবিপ্লব শুরু হয়েছিল মূলত ‘কোটা নয়, মেধা’ আন্দোলনকে ভিত্তি করে। মেধার সঠিক মূল্যায়নে একটি দলনিরপেক্ষ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে আসেনি। কারোরই ভুলে যাওয়ার কথা নয় যে দেড় দশক ধরে কীভাবে দলীয়ভাবে সরকারি নিয়োগ হয়েছে।
তাই বাংলাদেশের জন্য একটি স্বাধীন পাবলিক সার্ভিস কমিশন অতি প্রয়োজন, যেখানে কমিশনের চেয়ার ও মেম্বাররা দলনিরপেক্ষ হবেন।
পিএসসির চেয়ার ও মেম্বার হিসেবে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি, যাঁরা কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। শুধু তাঁদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবেই তাঁরা মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করবেন। কিন্তু পিএসসির সদস্যরা যদি কোনো দলীয় লোক হন আর আমরা তাঁদের মাধ্যমে মেধাবীদের নিয়োগের আশা করি, তবে সেটি হবে আমগাছ থেকে কাঁঠাল আশা করার মতো, যা কখনো সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা, কিন্তু বাস্তবে এর স্বাধীনতা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বলা হয়, কোনো দল ক্ষমতা ছাড়লে দুদককে খুব সক্রিয় হতে দেখা যায়। যে দল ক্ষমতায় থাকে, দুদক সে দলের কোনো দুর্নীতি দেখতে পায় না।
দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার প্রস্তাবে, দুদক সংস্কার কমিশন প্রকৃতপক্ষে দুদককে আরও কার্যকর, স্বায়ত্তশাসিত এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে অনেকগুলো সুপারিশ পেশ করেছে।
এই কাঠামোগত, আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং পরিচালনাগত সংস্কারগুলো কার্যকর করা দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করা দুর্নীতি মুক্তির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক পদক্ষেপ।
এ ক্ষেত্রে দ্বিমত করা কোনো রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য ভালো হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে কোন কোন দল ঐকমত্য পোষণ করেছে, তা জাতির উদ্দেশে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বর্তমানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের গঠনপ্রণালি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বড় ধরনের মতানৈক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ উভয় কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) চাচ্ছে, কেউ শুধু উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চাচ্ছে, আবার কেউ কোনো কক্ষেই পিআর পদ্ধতি চাচ্ছে না—তারা চাচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধিত্ব।
এখানে উল্লেখ করা দরকার যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা। ক্ষমতার ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ নিশ্চিত করার জন্য এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
যদি দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের প্রতিনিধিত্ব হয়, তবে তা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের মূল উদ্দেশ্যকে (ক্ষমতার চেক অ্যান্ড ব্যালান্স) ব্যাহত করবে।
কারণ, দুই কক্ষেই ক্ষমতাসীন দলই শক্তিশালী থাকবে এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাবে না। আবার দুই কক্ষে পিআর থাকলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেবে।
কারণ, দুই কক্ষেই একই ধরনের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। তা ছাড়া নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের প্রতিনিধিত্ব একটি নির্বাচিত দলকে তার কার্যক্রম, দলীয় মেনিফেস্টো অনুসারে পরিচালনার সুযোগ করে দেবে। তাতে জনগণ ওই দলকে ভালোভাবে যাচাই করার সুযোগ পাবে।
বাস্তবে দুটি পদ্ধতির কিছু ভালো ও কিছু মন্দ দিক পাওয়া যায়। তাই দুই কক্ষে একই পদ্ধতির ব্যবহার বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
দুই কক্ষেই পিআর পদ্ধতির ব্যবহার একধরনের ‘একলাফে গাছের চূড়ায় ওঠার মতো’ হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশে এখনো অপরিণত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশের অনেক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ ও সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করেন না। তাঁরা তাঁদের নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের দায়িত্বের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নন।
আমার এই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য শুধু এটি নয় যে কোন কোন সংস্কার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; বরং তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, যে সংস্কারগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি) গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে, সেগুলোর সফল বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভব হবে কি না।
আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক দলগুলো অনেকগুলো সংস্কারের পক্ষে ঐকমত্য পোষণ করেছে, আবার কোনো কোনো সংস্কারে তাদের মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। কিন্তু ঐকমত্য হলেও অনেকগুলো সম্মত সংস্কারের (যেমন ধারা ৭০, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত, নতুন তত্ত্বাবধান সংস্থা এনসিসির কার্যক্রম অব্যাহত থাকা) জন্য সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন।
বর্তমান সংবিধান অনুসারে, সংশোধনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অসম্ভব। এর মানে, এই মূল সংস্কারগুলোর জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হবে।
রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে এই সংস্কারগুলো আইনে পরিণত করা সম্ভব। জাতীয় নির্বাচনে কোনো একটি দল যদি দু-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সিটে নির্বাচিত হয়, তবে তারা চাইলেও এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।
আবার দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সিট পাওয়া দল ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইলে সংস্কারগুলো পাস না করে সেগুলো এড়িয়ে যেতে পারে, যেমনটা হয়েছিল ২০১১ সালে।
সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে গঠিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা’র অধীনে ২০০৯ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে, দুই-তৃতীয়াংশ সিটের ক্ষমতাবলে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ সংবিধানের মাধ্যমে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে প্রায় দেড় যুগ ধরে কুক্ষিগত করে রেখেছিল।
তাই এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে অথবা ঐকমত্যের সনদ নিশ্চিত করতে হবে। তাতেও পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকারগুলোর কাছ থেকে এগুলো আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হয় অনেকটা ‘অর্থ ও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার’ উপায় হিসেবে। অল্প কিছু ভালো রাজনীতিবিদকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের গতানুগতিক রাজনীতিবিদেরা দেশের উন্নয়নের কথা বলেন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা ক্ষমতায় থাকার জন্য।
দেশের উন্নয়ন বা নাগরিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি তাঁদের আসল উদ্দেশ্য থাকে না। তাই যে দলই ক্ষমতায় গেছে বা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাবে, সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে পারছে না যে তাদের হাতে এই সংস্কারগুলো বাস্তবে রূপ নেবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অরাজনৈতিক সরকার। অধ্যাপক ইউনূসের সরকার এসেছে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে—গণহত্যার বিচার, কলুষিত রাজনীতির সংস্কার এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে। এই সরকার ক্ষমতায় এসেই ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে।
কমিশনগুলো কয়েক মাস সময় নিয়েছে কোন কোন সংস্কার দেশের জন্য জরুরি, তা খুঁজে বের করতে। এখন জাতির কাছে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দৃশ্যমান। প্রতিটি দলীয় সরকারই তাদের দলীয় স্বার্থে অনেকগুলো সংস্কার কার্যকর করতে চাইবে না, সেটি মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। মৌলিক সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সংসদীয় কমিটির’ কোনো কোনোটিতে বিরোধী দলের এমপি সভাপতিত্ব করবেন। কোনো মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব দেখা দিলে বা কোনো দুর্নীতি ধরা পড়লে, সরকারদলীয় সদস্যরা সেই মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন (আর্টিকেল ৭০ সংস্কার)।
প্রশ্ন হলো, কোনো দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করলে তারা কি এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চাইবে? বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস বলে, তারা এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চাইবে না। একই রকম আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এনসিসি প্রস্তাব করেছে, যা বাস্তবে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার বাস্তবায়ন করতে চাইবে না।
তাই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’–এর বাস্তবায়ন হলো এনসিসি সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি কার্যকর ফলাফল। সে জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বা (মূল রাজনৈতিক দলগুলোর) ঐকমত্য সনদ (জুলাই সনদ) প্রকাশের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে—যা হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এত দিনের প্রচেষ্টার একটি প্রতিফলন।
অন্যথায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত এতগুলো কমিশনের এত দিনের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
এটি অনস্বীকার্য যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অর্জন হলো অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত করা। যেকোনো কারণেই হোক, এই সরকার এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি; বরং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের তুলনায় সরকারের অর্জন অনেক কম।
গণহত্যার বিচারেও দৃশ্যমান কোনো অর্জন এখনো নেই। মানুষ জানে, জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। অবশ্য সে ক্ষেত্রে সরকার অন্তত একটি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
যদিও অনেকেই মনে করেন এ ক্ষেত্রে আরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারত। সর্বোপরি এই মুহূর্তে সংস্কার এবং নির্ভরযোগ্য নির্বাচনই হতে পারে এই সরকারের অন্যতম অর্জন—যদি সরকার এ দুটি কাজ সঠিকভাবে আঞ্জাম দিতে সক্ষম হয়।
* ড. নুসরাতে আজীজ, গবেষক ও একাডেমিক

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...













