Sunday, March 25, 2018

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ২২৯ বস্তা ভিজিএফ এর চাল জব্দ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় চেয়ারম্যানের বাসভবনে রাখা ভিজিএফ এর ২২৯ বস্তা চাল জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল শনিবার রাত ১২টায় জেলা প্রশাসক মোঃ সাবিরুল ইসলামের নির্দেশে দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মইন উদ্দিন ইকবাল ও এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদর উপজেলার হারনপুর গ্রামে চেয়ারম্যানের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে এ চাল জব্দ করেন। এসময় তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ তার নিজ বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজ সকালে চোরাই হেফাজতে রাখা চালের বস্তাগুলো উপজেলা খাদ্যগুদামে জমা দেয়ার জন্য চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল কদ্দুছ বলেন, আমি এর আগেও আমার নিজের বাসায় চাল রেখে ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করেছি। গত ১৭ই মার্চ একই উদ্দেশ্যে চালগুলো খাদ্যগুদাম হতে উত্তোলন করে আমার নিজ বাড়িতে রেখেছি। ব্যক্তিগত বাসভবনে সরকারী ভিজিএফ এর চাল জমা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কোন পূর্বানুমতি নিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
ভিজিএফ এর চাল বিতরনের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার রণধীর রায় বলেন, বিনা অনুমতিতে ব্যক্তিগত বাসভবনে সরকারী ভিজিএফ এর চাল অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগে চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ এর বাসভবনে অভিযান চালিয়ে চাল জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মইন উদ্দিন ইকবাল বলেন,এ ঘটনার ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর জব্দকৃত চালের ব্যাপারে সিদ্বান্ত নেয়া হবে।

এমএনপি সেবা নিয়ে পাল্টাপাল্টি by কাজী সোহাগ

নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ (মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি) বা এমএনপি সেবা চালু নিয়ে তৈরি হয়েছে পাল্টাপাল্টি অবস্থা। মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব) সেবাটি চালুর জন্য সময় চেয়েছে দুই মাস। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে এত সময় দেয়া হবে না। এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে সময় চাওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বার্তা পাঠায় এমটব। অন্যদিকে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বিটিআরসি। বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের কেউই এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলোচনায় বসেনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অবস্থায় ঝুলে যেতে পারে এমএনপি সেবার কার্যক্রম। বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমএনপি সেবা বিলম্বিত করার কোনো সুযোগ নেই। অপারেটররা এমএনপি সেবা চালু করা প্রসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০টি বিষয়ের অবতারণা করেন। এগুলোর বেশির ভাগই আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিটিআরসি ও মোবাইল ফোন অপারেটরস (এমএনও) ও এমএনপি অপারেটর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি সেবাটি বাস্তবায়নে চারবার বৈঠকও করেছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেডকে এমএনপি লাইসেন্স দেয়া হয়। তাদের ১৮০ দিনের মধ্যে সেবাটি চালুর জন্য সময় বেঁধে দেয় বিটিআরসি। বিটিআরসির দেয়া এই শর্তে মার্চেই এমএনপি সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছিল ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেক। সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতিও নিয়েছে কোম্পানিটি। ঠিক এ অবস্থায় এমএনপি সেবা চালু করতে আরো দুই মাস সময় চেয়েছে অপারেটররা। যুক্তি তুলে ধরে এমটবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমএনপি একটি জটিল প্রক্রিয়া যাতে গ্রাহকদের লেনদেনের বিষয়টি জড়িত। বাংলাদেশ সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে ৬০টি গেটওয়ে (ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এবং বহু অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস অপারেটর (মোবাইল অপারেটরস, আইপিটিএসপি, বিডব্লিওএ অপারেটর, পিএসটিএন অপারেটর ইত্যাদি) রয়েছে- এ থেকেই বোঝা যায় বিষয়টি কতটা জটিল। এমটব জানিয়েছে, বর্তমান টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের জটিলতা মাথায় রেখে আমাদের চাওয়া এসব স্টেকহোল্ডারের মধ্যে একটি সঠিক সমন্বয়। বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটর ও এমএনপি লাইসেন্স-প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি ওয়ার্কিং কমিটি গ্রাহক-বান্ধব এমএনপি প্রক্রিয়া চালুর জন্য কাজ করছে। একটি কার্যকর এমএনপি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই এমএনপি লাইসেন্স-প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সব স্টেকহোল্ডারের সমন্বয়ে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের পর সেবাটি চালু করবে। সঠিক পরিকল্পনা, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার নকশা ও বাস্তবায়ন, তথ্য প্রযুক্তি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি, এমএনপির প্লাটফর্ম ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য এ সময় প্রয়োজন। এমটব জানিয়েছে, সেবাটি চালু করতে প্রত্যেকটি অপারেটরকে নাম্বার পোর্টিং সংক্রান্ত কারিগরি নির্দেশনা দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় মোবাইল ফোন অপারেটররা এখনও এমন কোন নির্দেশনা পায়নি। যদিও, কার্যকর এমএনপি সেবা চালুর জন্য মোবাইল অপারেটররা সবসময়ই এ বিষয়ে জোর দিয়ে আসছে। টেলিযোগাযোগশিল্প দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, অপারেটরদের মধ্যে একটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে সেবার গুণগত মানের দিকেই জোর দিতে হবে। এর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে এমএনপি সেবা চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওইসময় সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম মানবজমিনকে জানান, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এমএনপি সেবা চালু হবে। এমএনপির নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই সুবিধা দিতে অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিতে পারবে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় আগেই অনুমোদন করেছে। একবার এমএনপি সুবিধা নেয়ার পর গ্রাহক আবার নতুন কোনো অপারেটরে যেতে চাইলে তাকে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ছাড়াও প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানে এমএনপি সেবা চালু রয়েছে। অপারেটর বদলের সুযোগ দিয়ে বিটিআরসি প্রস্তাবনা তৈরির পর ২০১৫ সালের ২রা ডিসেম্বর এমএনপি নীতিমালা অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, নম্বর না বদলে গ্রাহকদের অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ২০১৩ সালের জুনে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। গাইড লাইন না থাকায় অপারেটররা ওই নির্দেশ অনুযায়ী সঠিক সময়ে সেবাটি চালু করতে পারেনি।

তালেবানদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গঠন করতে চান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিমান হামলা, ধরপাকড় ও গ্রেফতার এড়াতে তালেবানদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গঠনে গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের প্রচেষ্টা থেকে বোঝা যায়, তিনি প্রাদেশিক, জাতীয় পরিষদ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার লক্ষ্যে পশতুন জনগোষ্ঠীর সমর্থন লাভের জন্য এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তালেবানদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গঠনের ব্যাপারে গুলবুদ্দিনের বক্তব্য আফগানিস্তানে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আফগান প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আশরাফ গণি ভেবেছিলেন, গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সইয়ের পর পাশতুনদের মধ্যে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবেন যাতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের জেতার সম্ভাবনা তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি আরো আশা করেছিলেন, হেকমতিয়ারের সঙ্গে শান্তি স্থাপন অন্যান্য মিলিশিয়া গ্রুপ বিশেষ করে তালেবানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কিন্তু হেকমতিয়ার কাবুলে প্রবেশের প্রথম থেকেই আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও প্রতিবেশীদের ব্যাপারে নানা বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। আফগানিস্তানের কয়েকটি প্রদেশে পাশতুন জনগোষ্ঠীর বসবাস এবং এসব অঞ্চলে তালেবানদের বেশ প্রভাব রয়েছে।
আফগানিস্তানের হেজবে ইসলামি দলের প্রধান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার নিজেকে দলমত নির্বিশেষে সব কিছু ঊর্ধ্বে বলে দেখানোর চেষ্টা করছেন যাতে শান্তি প্রক্রিয়ায় তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন। রাজনৈতিক বিষয়ক বিশ্লেষক লিয়াকত আলী আমিনি বলেছেন, আফগান সরকারের শান্তি প্রক্রিয়ায় হেকমতিয়ার শামিল হওয়ার পর আশা করা হচ্ছিল তিনি তালেবানদেরকেও সরকারের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শামিল করতে এবং দেশটির নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বরং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ তিনি ভাষা, দলীয় ও গোত্রীয় বিভেদকে আরো বাড়িয়ে তুলেছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হেকমতিয়ার আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানালেও তার দলের বর্তমান কর্মকাণ্ড ও নীতিমালা সন্দেহজনক। কারণ হেজবে ইসলামি দলের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে দেশটির বিচারমন্ত্রণালয়ে দলটির নেতা আব্দুল হাদি আরগান্দিওয়ালের নাম রেকর্ড করা আছে। সুতরাং গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হলে মন্ত্রণালয়ে তার নাম রেকর্ড করতে হবে। যদিও তিনি এ ধরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন কিন্তু আফগান রাজনৈতিক মহল মনে করেন, বিচারমন্ত্রণালয়ের উচিত রাজনৈতিক অঙ্গনে হেকমতিয়ারের কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করা।
যাইহোক, আফগান সরকারের শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালনকারী হেকমতিয়ার তালেবানকে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি প্রক্রিয়ায় শামিল করার জন্য সর্বোচ্চ শান্তি পরিষদকে উৎসাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তার এ প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। কারণ তালেবানরা এখন হেকমতিয়ারকেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মানতে রাজি হচ্ছে না।

স্বাধীনতার ৪৭ বছরে বাংলাদেশের অর্জন এবং বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রম করছে। এ ৪৭ বছরে বাংলাদেশ অনেক কিছু অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতটা এগিয়েছে? মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে? সেসব নিয়ে আজ মূল্যায়ন করছেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, সুশিল সমাজের নের্তৃবৃন্দ,মানবাধিকার সংগঠন এবং শ্রমিক নের্তৃবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরউল্লাহ চৌধুরী রেডিও তেহরানকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে মুল চেতনা একটি বৈষম্যহীন সমাজ সেটা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দেশের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায় বিচার ও আইনের শাষন আজ সুদূর পরাহত।
সুশিল সমাজের নেতা এবং সুজন সম্পাদক ড.বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা একটি পতাকা পেয়েছি, একটি দেশ পেয়ছি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে এটা ঠিক তবে মানুষের মৌলিক অধিকার সুশাসন ও ন্যায় বিচার! মুক্তিযুদ্ধের এসব আকাংখা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
একই রকম হতাশার কথা ব্যক্ত করে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জনাব নুর খান রেডিও তেহরানকে বলেন, দেশে অনেক দৃশ্যমান উন্নতি ঘটলেও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এখানে আইন শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এখন নিয়মিতই অভিযোগ তুলছে গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যার সাথে তাদের সংশ্লিষ্ঠতা নিয়ে ।
টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন রেডিও তেহরানকে বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরে শ্রমজীবি মানুষের ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। মুক্তবাজার অর্থনীতির যাতা কলে পিষ্ঠ শ্রমিকরা। এমনকি বেঁচে থাকার জন্য ন্যুনতম মুজুরী পেতে আজও তাদের লড়াই করতে হচ্ছে।
হিল ওমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরুপমা চাকমা রেডিও তেহরানকে বলেন, সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদে নারীদের অবস্থান থাকলেও সমাজে নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। নারী ও শিশুদের প্রতি নির্যাতন আগের চেয়ে বেশি ঘটছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অবস্থা আরো করুণ। মক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের মানুষ পাক সেনাদের অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণ এসব সহ্য করেছে। আর পার্বত্য চট্টগ্রামে সে অবস্থা এখনও বিরাজ করছে।



কলকাতার মেয়রের প্রেম নিয়ে রসালো আলোচনা

কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিত্যনতুন তোলা অভিযোগ নিয়ে দু’সপ্তাহ ধরে রসালো আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, মেয়রের ব্যক্তিগত জীবন এখন মেগা সিরিয়ালের থেকে বেশি টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। আলোচনা চলছে রাজনীতির অঙ্গনেও। সরস সেই আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যোগ দিয়েছেন। শোভনকে মমতা আদর করে ডাক নাম কানন বলেই ডাকেন। সেই কাননের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে যে আলোচনা চলছে তাতে তিনি অখুশি। মেয়রকে তাই শোধরাতে ভালো করে কাজ করার ব্যাপারে মনোযোগী হতে বলেছেন। তবে মমতা তার প্রিয় কাননের প্রেম নিয়ে কৌতূহল চেপে রাখতে পারেননি। তাই শুক্রবার বিধানসভায় শোভনকে দেখে মমতা বলেছেন, ‘শুধুই প্রেম করছিস, নাকি কাজও করছিস।’ তখন মেয়র বলেছেন, ‘আমি ও সব করি নাকি!’ এবার মমতাও পাল্টা বলেন, ‘ঠিক আছে, সবার সামনে ভোট হোক। দেখি কতজন তোর পক্ষে।’ আসলে শোভন চট্টোপাধ্যায় শুধু কলকাতার মেয়রই নন। দু’দুটি মন্ত্রকের মন্ত্রী। দলের হয়ে একটি জেলার দায়িত্বও তার কাঁধে ছিল। মমতাকে মা বলে ডাকেন মেয়র। তার মোবাইলে মমতার নম্বরটি মা বলেই সেভ করা। এহেন শোভনের ব্যক্তিগত জীবনের কাদা ছোড়াছুড়িতে বিরক্ত দলের নেত্রী থেকে সবাই। কিছুদিন আগেই স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ডিভোর্সের নোটিশ দিয়েছেন মেয়র। তার শুনানি চলছে। রত্না সমঝোতার পক্ষে হলেও মেয়র শোভন তাতে রাজি নন। আসলে তৃতীয় এক নারীর উপস্থিতি মেয়রের ব্যক্তিগত জীবনে নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে। কলকাতার একটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজকাল মেয়রের পাশে পাশে দেখা গেছে। বৈশাখীকে বন্ধু বলে পরিচয় দিলেও মেয়র এক কাপড়ে পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে আলাদা একটি ফ্ল্যাটে বাস করার পর থেকে এই বৈশাখীই তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সহায়তা করে আসছেন। এমনকি প্রতিদিন খাবারও পৌঁছে দিচ্ছেন। বৈশাখী নিজেকে মেয়রের পারিবারিক বন্ধু বলে পরিচয় দিলেও মেয়রের স্ত্রী তা মানতে রাজি নন। বরং মেয়রের শ্বশুর পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন মেয়রের বাসস্থান থেকে রাত তিনটেয় বৈশাখীর বের হয়ে আসা নিয়ে। বৈশাখীর স্বামী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালযের ইংরেজির অধ্যাপক মানস মণ্ডল অবশ্য স্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে মেয়র শোভন যেভাবে বুক বাজিয়ে বলেছেন এমন বন্ধুত্ব তিনি ‘বুক’ দিয়ে আগলে রাখতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না, তাতে দুই বিবাহিত নর-নারীর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার বৈশাখী কোনোরকম লুকোছাপা না করে মিডিয়ার কাছে নিয়মিত মেয়রের হয়ে পারিবারিক ব্যাপারেও মন্তব্য করছেন। বৈশাখী বলেছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় তাকে বলেন, বিয়ে না করে দল করলেই তার ভালো হতো। এখন তার মনে হয় বিয়ে করেই তিনি ভুল করেছেন এবং সেই জন্যই এত সমস্যা তাকে সইতে হচ্ছে। বৈশাখী এও জানিয়েছেন, তার জন্য এমন ‘অকারণে’ মেয়রকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে দেখে তিনি নিজেও খুব দুঃখিত। বৈশাখী অবশ্য বলেছেন, আমি তো সম্পর্কের কথা অস্বীকার করিনি। কিন্তু সম্পর্কটা কী রকম, সেটা তো বুঝতে হবে। শোভনদার সঙ্গে আমার অত্যন্ত ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। শোভনদা আমার অত্যন্ত কাছের জন। সেই সম্পর্ক জীবনের শেষদিন পর্যন্ত থাকবে। অবশ্য তার ও মেয়রের মধ্যেকার সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে যে মুচমুচে আলোচনা চলছে সে সম্পর্কে বৈশাখীর সাফ জবাব, এই গোটা পর্বটা আমার কাছে একটা অপ্রাপ্তমনস্ক সমাজের প্রতিফলন। সম্পর্ক কত রকমের হয়, তার কত রকম রং হয়, নির্যাস হয়, আমাদের সমাজ সেটা এখনও ঠিকমতো বোঝে না।

‘তুমি আমার কাছে স্পেশাল’

কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্লেবয়ের সাবেক মডেল কারেন ম্যাকডুগাল। তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ১০ মাসের যৌন সম্পর্ক ছিল। প্রথমবার কারেনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন ট্রাম্প। এরপরই তিনি তাকে অর্থ প্রস্তাব করেন। কারেন বলেন, তখন ভীষণভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম আমি। ট্রাম্পকে আমি ভীষণ ভালোবাসতাম। বিশ্বাস করতাম তিনিও আমাকে ভালোবাসেন। এক সময় আমাকে বিয়ে করবেন। যদিও তখন তার স্ত্রী মেলানিয়া ঘরে। তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি ছেলে। যুক্তরাষ্ট্রের সিএনএন টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বর্ণনা দিয়েছেন কারেন ম্যাকডুগাল। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে অনেক নারী যৌন সম্পর্ক বা যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন। তারা বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তিনি ওই সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। তাদের মধ্যে কারেন ম্যাকডুগাল অন্যতম। এসব নারীর ভেতর থেকে তিনিই প্রথম সাক্ষাৎকার দিলেন এবং বললেন বিস্তারিত কাহিনী। তার কথামতো, এখন থেকে এক যুগেরও বেশি সময় আগে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ওই যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ১৯৮৮ সালে প্লেবয় প্লেমেট অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন কারেন ম্যাকডুগাল। তার আনা এসব অভিযোগ বার বারই জোর দিয়ে অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, কারেন ম্যাকডুগালের সঙ্গে তার কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না। তবে এ নিয়ে মিস ম্যাকডুগাল তার কাহিনী বলেছিলেন একটি ম্যাগাজিনকে। কিন্তু তা প্রকাশিত হয় নি কখনো। এবার তিনি সব খুলে বলেছেন সিএনএনকে। তিনি বলেছেন, একবার লস অ্যানজেলেসে প্লেবয় মাস্টার হিউ হেফনারের প্লেবয় ম্যানশনে টেলিভিশন সিরিজ ‘সেলিব্রেটি অ্যাপ্রেন্টিস’-এর একটি অংশের শুটিং করছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় কারেন ম্যাকডুগালের। এ সময় পুলের পাশে একটি পার্টি হচ্ছে এমন দৃশ্যে গ্লামার ছড়াতে কিছু প্লেবয় মডেলকে ভাড়া করা হয়। তখন ম্যাকডুগাল ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এবং অবিবাহিত। আর ট্রাম্প ছিলেন ৬০ বছরের। ওই অনুষ্ঠানে ডেকে নেয়া হয়েছিল ম্যাকডুগালকেও। এর এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে মেলানিয়া ট্রাম্পকে বিয়ে করেছেন ট্রাম্প। আর মেলানিয়া ওই প্লেবয় ম্যানশনের এই ঘটনার তিন মাস আগে পুত্র ব্যারনের জন্ম দিয়েছেন। প্লেবয় ম্যানশনে রাতের অন্ধকার নামতে থাকে। এ সময় কারেন ম্যাকডুগাল ও অন্যরা নিশ্চিত হয়ে যান, তার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। কারেন বলেন, আমি তার দিকে তাকিয়ে হাসলাম। মনে হয়েছিল এটা খুব মহা একটা বিষয়। আনন্দের। ট্রাম্প ছিলেন ব্রিলিয়ান্ট আর খুব স্মার্ট। আমি এমন পুরুষকে পছন্দ করি।
এরপর তারা দু’জনে আড্ডা মারতে থাকেন। গল্প চলতে থাকে রাতের আঁধারের সঙ্গে সঙ্গে। শেষ রাতের দিকে তারা দু’জন দু’জনের ফোন নাম্বার একে অন্যকে দিলেন। তবে ট্রাম্পের ফোন নম্বর কখনো কারেন ম্যাকডুগালের ফোনে দেখা যেতো না। কারণ, ট্রাম্প তার পরিচয় গোপন করেছিলেন। তারপরের সপ্তাহ তারা নিয়মিত ফোনে কথা বলতে লাগলেন। ২০০৬ সালের জুনে লস অ্যানজেলেসে গেলেন ট্রাম্প। সেখানে তাদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা হলো। প্রথম ওই ডেটিংয়ে ম্যাকডুগালকে ট্রাম্প বললেন, তার দেহরক্ষী কিথ শিলার তাকে তুলে নেবেন। রাতের খাবারের জন্য পৌঁছে দেবেন বেভারলি হিলস হোটেলে। এতে বিস্মিত হন ম্যাকডুগাল। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ওই হোটেলে। সেখানে তারা একসঙ্গে নৈশভোজ সারেন। এই রাতেই তারা অন্তরঙ্গ সম্পর্কে লিপ্ত হন। ম্যাকডুগাল বলেন, তার প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলাম। দেখতে তিনি একজন চমৎকার মানুষ। তার মধ্যে ক্যারিশমা আছে। আছে মহৎ এক অভিব্যক্তি। এ ঘটনার পর তিনি আমাকে অর্থ দিতে চাইলেন। আমি বুঝতে পারি নি কীভাবে আমি এর বিনিময়ে ওই অর্থ নেবো। এটা এক লজ্জার বিষয়। আমি তার দিকে তাকালাম। বললাম, আমার অর্থের প্রয়োজন নেই। আমি ওই রকম মেয়ে নই। তিনি আমার এ কথায় বললেন- তুমি আমার কাছে স্পেশাল। জবাবে আমি বললাম, ধন্যবাদ।
এরপর ট্রাম্পের দেহরক্ষী গাড়িতে করে নিয়ে তাকে তার বাড়ি পৌঁছে দেন। সাক্ষাৎকারে এ কথা বলতে বলতে কারেন ম্যাকডুগাল কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, আমি এতটাই খারাপ ছিলাম। এটা আমাকে আহত করে। কিন্তু সত্যি হলো আমি সেখানে গিয়েছিলাম।
এরপরে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি আর সাক্ষাৎ করতে চান নি। কিন্তু তার কথামতে, ট্রাম্পই তাকে বার বার ফোন করতেন। এভাবেই তাদের মধ্যে ১০ মাসের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মোবাইলে কমছে আয়ু! by হাফিজ মুহাম্মদ

হাতের মুঠোয় বিশ্ব। ছোট্ট একটি যন্ত্র। সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকেও টেনে আনছে কথা। দু’পাশের দুটি যন্ত্রের মাধ্যমে একে অপরকে পারছেন দেখতে। যেন একই টেবিলে বসা দু’জন। সময় এবং দূরত্ব দুটোই এখন ঠুনকো। এটি মোবাইল ফোন। এগার ডিজিটের একটি নাম্বারই বদলে দিয়েছে জীবন চিত্র আর হয়ে উঠেছে জীবনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এ অপরিহার্য হয়ে উঠা যন্ত্রটির রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয়তা মানবদেহের নানা ক্ষতি ডেকে আনে। যার অন্যতম একটি হলো- মানুষের আয়ু কমে যাওয়া। শুধু তাই নয়, এর ক্ষতিকর প্রভাবে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ধ্বংসেও রাখছে নেতিবাচক ভূমিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফোনের তেজস্ক্রিয়তায় গর্ভবতীদের জন্য ডেকে আনছে বিপদ। মারাত্মক ক্ষতি করছে শিশুদের। তাদের কোমল মন আর দেহ বিকলাঙ্গ হয়ে যাচ্ছে অজান্তেই। এত কিছুর পরও বিজ্ঞানের যুগে দিন দিন মানুষ আঁকড়ে ধরছে যন্ত্রকে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোনের সক্রিয় সংযোগ বা সিম সংখ্যা ১৪ কোটি ৭ লাখ। একই সময় মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটি ৯২ লাখ। মোবাইল ফোনের উপকারিতা আর অপকারিতা নানা সময়ে হয়েছে বাকযুদ্ধ। তার মধ্যে অপকারিতার আলোচনা কমই আসে। মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে গবেষণা হয়েছে দেশে দেশে। নানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে এ যন্ত্রের ব্যবহারকারী ও অংশীদারিদের। তেজস্ক্রিয়তা কমিয়ে আনতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। বিভিন্ন সময় তাদের সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে। মানব দেহে ক্ষতি করে যন্ত্রটি থেকে নির্গত বিকিরণ। আর পরিবেশের ক্ষতি করে সিগন্যাল টাওয়ারের আল্টাভায়োলেট রশ্মি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রেডিয়েশন নিয়মিত পরিমাপ এবং মনিটর করা হলেও বাংলাদেশে এমনটা করা হয়নি কখনো। এমনকি আমাদের দেশে কত শতাংশ রেডিয়েশন প্রবাহিত হয় তাও জানা নেই। যে যার মতো করে মোবাইল টাওয়ার বসাচ্ছে। নিজেরাই আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। ফলাফল কেউ কখনো জানতে পায় না। বাংলাদেশ টেলিকমিনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) পরিবেশ ও মানব দেহের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচতে অপারেটর সংস্থাগুলোকে ক্ষতিকর বিকিরণ বা ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য কমিয়ে আনতে বলেছে। সেই সঙ্গে মোবাইল ফোনের সকল ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানির সময় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ব্যাপারটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এসব কেউ মানছে না। মোবাইল ফোনের বিকিরণের নেতিবাচক প্রভাবে আমাদের চার পাশ যে ভয়ঙ্কর ক্ষতিতে পড়তে হচ্ছে তা উঠে এসেছে বিভিন্ন দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায়।
সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনে মোবাইল ফোনের বিকিরণ প্রবাহ নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ একটি গাইড লাইন প্রকাশ করেছে। যেখানে মোবাইল ফোন থেকে কখন সবচেয়ে বেশি তেজস্ক্রিয়ায় ক্ষতি হয় এবং কিভাবে এ ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় তা বলা হয়েছে।
এ গাইডলাইনে ক্যালিফোর্নিয়ার জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার কোরেন স্মিথের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ঘুমানোর সময় মাথার কাছে মোবাইল ফোন রাখা খুবই বিপজ্জনক। এ সময় মাথা থেকে অন্তত এক হাত দূরে মোবাইল ফোন রাখার কথা বলা হয়েছে। গাইডলাইনে বলা হয়, যখন মোবাইল ফোনের সিগন্যাল দুর্বল দেখতে পাচ্ছেন, তখনই এটা মানব দেহের সব থেকে বেশি ক্ষতি করে। আর এ সময় ফোন ব্যবহার বিপজ্জনক। অডিও এবং ভিডিও ডাউনলোড কমিয়ে আনতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাহলে এসব ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এ গাইড লাইনে তিনি রাতে ঘুমানোর সময় এ যন্ত্রটি ব্যবহারে বারণ করেছেন। শুধু ফোনের রেডিয়েশনই নয় অন্ধকারে ফোনের আলো চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। আর কথা বলতে গিয়ে যেন কখনো হেডফোন খুলতে ভুল না হয় সে বিষয়টিও বলা হয়েছে। এ গবেষণার প্রেক্ষিতে ডাক্তাররা বলেছেন, স্মার্টফোন বেশি ব্যবহার করলে ব্রেন টিউমার হতে পারে। পুরুষদের বীর্যের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত হানতে পারে। যার প্রভাবে মাথাব্যথা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং শ্রবণ শক্তি হারাতে পারেন ব্যবহারকারীরা।
একাধারে কয়েক ঘণ্টা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে চোখের জ্যোতি কমছে। যুক্তরাজ্যের একদল চক্ষু বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে দৃষ্টি বৈকল্য হতে পারে। এত করে ‘মাযোপিয়া’ বা ক্ষীণ দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত ৩০ সেন্টিমিটার দূরত্বে রেখে ব্যবহার করা হয় ফোন। অনেকের ক্ষেত্রে তা ১৮ সেন্টিমিটারেরও কম। চোখের কাছে রেখে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে জিনগত সমস্যা হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা মুঠোফোন দীর্ঘক্ষণ ধরে চোখে না রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। আর এ যন্ত্রটি ব্যবহারে বয়সের বিষয়টিও তারা বিবেচনায় রেখেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব পড়েছে তরুণ থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। যার ফলে তাদের চোখের জ্যোতি হ্রাস পাচ্ছে বলে মনে করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বরাতে মুঠোফোনে রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি নিবন্ধন প্রকাশ করেছে। সেখানে আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ বলেছে, তারা ইঁদুরের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। গবেষণার ফলাফলে পুরুষ এবং মহিলা ইঁদুরের ক্ষতির দিকটা তুলে ধরেছেন। একইভাবে মানুষের শরীরেও এমন ক্ষতি করে বলে তারা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এ পরীক্ষায় মুঠোফোনের রেডিও তরঙ্গ এবং তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতি চিহ্নিত করতে পেরেছেন বলেও তারা জানান। জাতীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক এ গবেষণার ফলাফলে প্রাণীর ওপর কয়েকটি ক্ষতিকর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এ গবেষণা টিমের সিনিয়র বিজ্ঞানী জন বাউচার বলেছেন, রেডিয়েশনে ব্রেইন টিউমারের উচ্চ মাত্রায় ঝুঁকি রয়েছে, ডিএনএ টিস্যুর ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং একটা গ্রুপের ওজন কমে যায়। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য স্পষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব।
এ ছাড়াও এ গবেষণায় মানুষের মস্তিষ্কে রেডিয়েশন ঝুঁকি দেখায়। আর ক্যানসার গবেষণার আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির ক্ষেত্র হিসেবে ‘মানুষের কার্সিনোজেনিক’ উল্লেখ করেছেন। এনআইএইচের নতুন গবেষণায় আরো দেখানো হয়েছে, তারা যে প্রাণীর উপর গবেষণা চালিয়েছে তাদের লিভার, মস্তিষ্ক, প্রোস্টেট এবং অগ্ন্যাশয় সমস্যা দেখেছেন। তবে এটা রেডিয়েশন সমস্যা কিনা তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
এফডিএর সেন্টার ফর ডিভাইসস অ্যান্ড রেডিয়োলজিক্যাল হেলথের পরিচালক জাফরি ??শুরিন উল্লেখ করেছেন, গবেষণায় অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেছে এবং তাদের দল তাদের মূল্যায়ন অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তিনি যা বলেছেন সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে। তবে এজেন্সি বিশ্বাস করে না মুঠোফোন বিকিরণ দ্বারা সৃষ্ট মানুষের মধ্যে প্রতিকূল স্বাস্থ্যে যে প্রভাব রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) চিহ্নিত করেছে দীর্ঘসময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রভাবে ব্রেইন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তারা ৩১ জন স্বাস্থ্য সচেতন নারীর ওপর জরিপ পরিচালনা করেছে। তারা এ সময় দেখেছে এ নারীরা থ্রি-জি মোবাইল ব্যবহার করে একটানা ১৫ মিনিট ধরে কথা বলেছে। এ সময় তাদের ব্রেইন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক কর্ম থেকে পরিবর্তন ঘটেছে। আর এটার কারণ একমাত্র রেডিয়েশন। এটা ছিল স্বাভাবিক কথা বলার প্রক্রিয়া থেকে বেশি। এটা শুধু মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে নয়। এটা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, টাওয়ার ও গ্রিড স্টেশনও একই ধরনের ক্ষতি করে।
ভারতের উঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওম গান্ধী বলেছেন, মোবাইল তেজস্ক্রিয়তা বিভিন্ন বয়সের মানুষের ওপর বিভিন্নভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তিনি একটি চার্টে দেখিয়েছেন পাঁচ বছর বয়সের শিশুদের সব থেকে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাপরে ১০ বছরের শিশুর, সর্বশেষ বয়স্কদের ওপর এ ক্ষতিটা তুলনামূলক কম হয়।
বিভিন্ন দেশের একাধিক গবেষণার তাৎপর্য পর্যালোচনা করে ডাক্তাররা দেখেছেন, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে বিকিরণ রশ্মির তেজস্ক্রিয়তার ফলে বিভিন্ন রোগ-ভোগে মানুষের আয়ু কমে এসেছে। আগের থেকে কম দীর্ঘায়ু হচ্ছেন মানুষ।
সম্প্রতি ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা মোবাইল রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাবের ওপর একটি নিবন্ধনে বলেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে শিশুদের মস্তিষ্কে মোবাইল রেডিয়েশন প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি ক্ষতি করে। তাদের মানুষিক ক্ষতির তালিকাটিও বেশ চিন্তার। বেশি সময় ধরে মোবাইলে গেইম খেলা, চ্যাটিং করা ও ভিডিও দেখার ফলে বাচ্চারা কথা বলাও ভুলে যাচ্ছে। তাদের বন্ধু তৈরি হচ্ছে না। অনেক লোকের মাঝে থেকেও বলার জন্য কথা খুঁজে পাচ্ছে না।
আনন্দবাজারের আরেকটি খবরে বলা হয়েছে, ভারতের টেলিকম মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু মোবাইল নয়, জনবসতির মধ্যে বসানো টাওয়ারগুলো যে পরিমাণ বিকিরণ ছড়াচ্ছে তার কুপ্রভাব পড়েছে মানুষের মস্তিষ্কে ও হৃদযন্ত্রে। অবসাদ, ঘুমের ব্যাঘাত, ঝিমুনি ভাব বেড়ে যাওয়া, কাজে মনোসংযোগে সমস্যা, স্মৃতিশক্তি লোপ, হজমের ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমনকি মোবাইল ব্যবহার না করেও বিকিরণের শিকার হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ এবং গর্ভবতীরা। জীব জগৎও এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকছে না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিকাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন পরিমাপের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছিল। বিটিআরসি তখন একটি কমিটি করে দিয়েছিল। কিন্তু সে কমিটি আজ পর্যন্ত আর রিপোর্ট দেয়নি। গত তিনবছর আগে রিট হলেও তাদের কাজের আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। কমিটি কয়েকটি মিটিং করেই চুপসে গেছে। একটি টাওয়ারের বিটিএসে কয়টি অ্যান্টিনা বসাতে পারবে আমাদের দেশে তার কোনো নির্দেশনা নেই। এমনকি তারা এ টাওয়ার থেকে কত রেডিয়েশন প্রবাহিত করে তা মাপা হয় না। বিশ্বের অনেক দেশে মোবাইল টাওয়ারে কি পরিমাণ রেডিয়েশন প্রবাহিত হয় তা নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। বছরে দুই থেকে তিনবার এটা করা হয়। আর আমাদের দেশে একবারও করা হয় না। এ পর্যন্ত দেখাই হয়নি যে মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার থেকে কি পরিমাণ রেডিয়েশন নির্গত হচ্ছে। আমাদের মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিগুলো নাকি নিজেরাই পরীক্ষা করে। তারা পরীক্ষা করলে তো তাদের ব্যবসার কথাই বিবেচনা করবে। কিন্তু এ থেকে কত রেডিয়েশন নির্গত হয় তা তারা প্রকাশ করে না। প্রত্যেকটা বিটিএস মাপা উচিত এবং স্টান্ডার্ড মান অনুযায়ী তাদের সনদ দেয়া দরকার তিনি মনে করেন। আর এজন্য কোনো  নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে তাদের সনদ নিয়েই বিটিএস বসাতে হতো অপারেটর কোম্পানিকে।
বুয়েটের এ অধ্যাপক আরো বলেন, মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর রেডিয়েশন পরীক্ষা করে তা প্রবাহের একটা স্টান্ডার্ড মাত্রা বেঁধে দিতে হবে। তা না হলে এমন ক্ষতি তারা করেই যাবে। আমরা দেখতে পাই একটি টাওয়ারে বিটিএসে যেখানে দুইটা কিংবা তিনটা অ্যান্টিনা বসানোর কথা সেখানে দ্বিগুণ বা তিনগুণ অ্যান্টিনা বসিয়ে মাত্রাতিরিক্ত রেডিয়েশন প্রবাহিত করা হচ্ছে। আগে যেখানে দুইটা অ্যান্টিনা ছিল সে একই টাওয়ারে আরো দুই তিনটি বসানো হচ্ছে। এতে করে একই স্থানে ভয়ানক রেডিয়েশন প্রবাহিত হচ্ছে। অথচ এগুলো কিছুদূর পরে পরে টাওয়ার বসিয়ে করতে পারতো। কোম্পানিগুলো ব্যয় সংকোচন করে মানুষ এবং পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি করেছে। মোবাইলের অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার ফলে মানুষের বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। প্রথমে স্কিনে সমস্যা দেখা দেয় তারপরে তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। রেডিয়েশন সব থেকে বেশি ক্ষতি করে গর্ভবতী মায়ের এবং শিশুদের। এ সমস্যা দীর্ঘদিন পরেও দেখা দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের ক্ষতিটা দীর্ঘমেয়াদি। আমরা এটা বুঝতে চাই না। একটা বাচ্চার যখন বয়স ৫/৭ বছর তখন সে রেডিয়েশনের প্রভাবে আক্রান্ত হলেও এটার লক্ষণ ২৫/৩০ বছরে গিয়ে দেখা দিবে। এজন্য এটা নিয়ে আমরা চিন্তা করি না। বিশ্বের সব বিখ্যাত মেডিকেল জার্নালে রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেছে। মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনে মানুষ বিভিন্ন রোগভোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। যার ফলে মানুষের আয়ুর ওপর একটা বিশাল প্রভাব পড়ছে বলেও তিনি জানান। সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে একই জায়গায় একাধিক কোম্পানির টাওয়ার বসানো। যেখানে একটি টাওয়ারে অতিরিক্ত অ্যান্টিনা বসানো হয় সেখানে একাধিক টাওয়ার থেকে কত মাত্রায় রেডিয়েশন নির্গত তা হয় ভাবাও কঠিন। এটা বন্ধ করে একটি টাওয়ারে তাদেরকে নিয়ে আসতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. এনায়েত করিম বলেন, মোবাইল রেডিয়েশনের কারণে মানবদেহে নানা ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিয়েছে। ব্রেইন ক্যানসার, ক্যানসার, টিউমার, দৃষ্টি বৈকল্যসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবে এটা আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। কিন্তু এর মারাত্মক প্রভাব আমাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উঠে এসেছে। এজন্য রেডিয়েশনের প্রবাহের একটা সঠিক মাত্রা নিরূপণ করতে হবে। আমাদের দেশে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো যেভাবে এক জায়গায় একাধিক টাওয়ার বসিয়ে রেডিয়েশন প্রবাহ করেছে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।

যেভাবে শিশু মৃত্যুহার রোধ করেছে বাংলাদেশ -ইকোনমিস্ট

দুঃসাহসিক ভ্রমণকারীদের জন্য ডায়রিয়া কেবলই একটা লজ্জাকর উপদ্রব হলেও দরিদ্র জনগণের জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর কলেরা ও আমাশয়ের মতন আন্ত্রিক রোগে প্রায় ৫ লাখ শিশু মারা যায়। বারবার সংক্রমণের দরুন তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন নিউমোনিয়ার মতন প্রাণঘাতী রোগে মারা যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। ডায়রিয়া এমনকি ব্যক্তির শারীরিক গঠনেও পরিবর্তন আনতে পারে। ভারতীয় শিশুরা একই ধরনের পরিবারে বেড়ে ওঠা সাব-সাহারান আফ্রিকার শিশুদের চেয়ে খাটো হয়। কারণ, তারা প্রায়শই অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আর তাই এটা রিপোর্ট করতে পারা আনন্দের বিষয় যে, এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটি- বাংলাদেশ এই রোগ মোকাবিলায় ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে। ভালো তথ্য পাওয়া যায়, দেশের একটি বিশেষ অংশে ডায়রিয়া ও অন্যান্য আন্ত্রিক রোগের ফলে মৃত্যুর  হার গত দুই দশকে ৯০ শতাংশ কমে এসেছে। শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিস্তৃত টিকাদান প্রোগ্রামের পাশাপাশি সুস্থিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার ছিল পুরো বিশ্বের গড় শিশু মৃত্যুহারের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বেশি। আর এখন তা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম। ১৬ কোটির বেশি মানুষের এই দেশের জন্য এটা মানব দুর্ভোগ লাঘবের ক্ষেত্রে বিশাল সফলতা। আর বাংলাদেশের এই সফলতা থেকে একই ধরনের রোগের কবল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে এমন অন্যান্য দরিদ্র দেশগুলো শিক্ষা নিতে পারে। এক্ষেত্রে প্রথম শিক্ষা হচ্ছে সস্তা, সহজ, অপূর্ণ সমাধানই প্রায় সময় যথেষ্ট।
অসীম নগদ অর্থ ও বৈশ্বিক সুষ্ঠু শাসন সমপন্ন কোনো আদর্শ দুনিয়ায় সবাই ট্যাপ থেকে বের হওয়া ক্লোরিনযুক্ত পানি পান করতো আর ড্রেনের ময়লা পানি পাইপের মধ্য দিয়ে কোনো পরিশোধন প্রকল্পে পাঠিয়ে দিত। বাস্তব জীবনে অবশ্য, আপনি আধা-ব্যবস্থায়ই অনেক দূর যেতে পারবেন। বাংলাদেশের গ্রামগুলো ছোট ছোট স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও নলকূপ দিয়ে ভর্তি। এগুলোর বেশির ভাগই বাড়ির গৃহস্থদের নিজেদের হাতে তৈরি। অথবা তাদের নিজেদের অর্থে ভাড়া করা শ্রমিক দিয়ে তৈরি। যদিও বেশির ভাগ  ক্ষেত্রেই ল্যাট্রিন আর নলকূপের দূরত্ব আশঙ্কাজনকভাবে কম। তবে তাতে সমস্যা নেই। গবেষকরা বের করেছেন যে, মাটির নিচে জীবাণু বেশিদূর ভ্রমণ করতে পারে না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে, এই ল্যাট্রিনগুলো যতটা সুবিধাজনক, মানুষজন তত বেশি এগুলো ব্যবহার করবে।
দ্বিতীয় শিক্ষা হচ্ছে, শুধুমাত্র হার্ডওয়ার যথেষ্ট নয়। তার সঙ্গে সফটওয়ার বা মানুষের আচরণও সমান গুরুতপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত ভর্তুকি দিয়ে বহু ল্যাট্রিন নির্মাণ করেছে। তবে সে চেষ্টা সত্ত্বেও (আর যদিও মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত দ্বিগুণ ধনী রাষ্ট্র) অনেক ভারতীয়ই এখনো খোলা জায়গায়ই প্রাকৃতিক কাজকর্ম সেরে থাকেন।  বাংলাদেশ সরকার ও দাতব্য সংস্থাগুলোও ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দিয়েছে। কিন্তু তারা খোলা জায়গায় মলত্যাগ রোধ করার দিকে বেশি জোর দিয়েছেন। প্রায়ই তারা দরিদ্রদের জন্য ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দিয়ে ধনীদেরকে দরিদ্রদের অনুসরণ করতে উসকে দেয়। একটি নতুন, অবাক করা আবিষ্কার হচ্ছে, সমাজে নিজের চেয়ে উঁচু শ্রেণির মানুষদের অনুসরণ করার যে প্রত্যাশা থাকে তার চেয়ে এই পদ্ধতি আরো বেশি কার্যকরী।
বাবা-মায়ের সাধারণ একটা কাজে অনেক জীবন বেঁচে গেছে। ’৬০ এর দশকের শুরুর দিকে আমেরিকান সামরিক চিকিৎসক ও গবেষকরা ঢাকায় তীব্র ডায়রিয়ার জন্য একটি থেরাপি আবিষ্কার করেন- একটি মিষ্টি, লবণাক্ত মৌখিক রি-হাইড্রেশন সমাধান (ওরস্যালাইন)। এটা এখন অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য। শেষ সমীক্ষা অনুসারে, ৮৪ শতাংশ বাংলাদেশি বাবা-মা তাদের সন্তানকে এটাই খাওয়ান। এর মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশ ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকের কাছে যান। আফ্রিকার জনবহুল দেশগুলোতে এই সস্তা ওরস্যালাইন পেতেও হিমশিম খাচ্ছে। একটি আশাপ্রদ আইডিয়া হচ্ছে, কোকা-কোলার সঙ্গে এর একটি করে ব্যাগ বণ্টন করে দেয়া। কেননা কোকা-কোলা দুনিয়ার সবখানে যায়।
ন্যূনতম মান একেবারে সহজ বার্তাটি হচ্ছে মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব সম্বন্ধে। মানুষের হাতে প্রায়ই ব্যাক্টোরিয়া থাকে। তা খাবারে কয়েকগুণ বেশি পরিমাণে  ছড়িয়ে পড়ে। কোন গরিব দেশে, যেখানে কোনো মা খালি হাতে তার বাচ্চাকে খাইয়ে দেয়, তখন সে তার বাচ্চার ভেতর এত পরিমাণ জীবাণু ঢুকিয়ে দিতে পারে যতটা তার বাচ্চা কোনো ট্যাপ থেকে পানি খেলেও ঢুকতো না। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে নিয়ন্ত্রিত প্রশিক্ষণ থেকে দেখা যায় যে, মায়েদের হাত ধোয়ার শিক্ষা ও খাবার ধুয়ে খাওয়ানোর শিক্ষা দিলে তা বেশির ভাগ জীবাণু মুছে ফেলে। এই প্রশিক্ষণ সস্তা। কিন্তু রোগ এড়াতে ও জীবন বাঁচাতে এর উপকার ব্যাপক।
(দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ)

১৮ রুটে পাচার হচ্ছে নারী ও শিশু by রুদ্র মিজান

আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের নজর বাংলাদেশে। গরিব, অসহায়, ভাগ্যবিড়ম্বিত নারী ও শিশুদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। পরে তাদের বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন যৌনপল্লীতে। মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন বাসায় যৌন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের। সবচেয়ে বেশি পাচার হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। এ ছাড়াও রয়েছে সৌদি আরব, দুবাই, জর্ডান, লেবানন, মালয়েশিয়া। সম্প্রতি চীনেও পাচার হচ্ছে নারী। মহিলা আইনজীবী পরিষদ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।
সূত্রমতে, নারী ও শিশু পাচারে অন্তত ১৮টি রুট ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। প্রতিবছরই ২০ থেকে  ২৫ হাজার নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি নারী-শিশু পাচার হচ্ছে ভারতে। যদিও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের তথ্যানুসারে বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে বিভিন্ন দেশে ৪০ থেকে ৫০ হাজার নারী ও শিশু পাচার হয়। ভারতের প্রায় প্রতিটি যৌন পল্লীতে রয়েছে বাংলাদেশি নারী। পাচারের পর থেকে শুরু তাদের বন্দি জীবন। স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ। যৌনপল্লী ঘিরে সার্বক্ষণিক পাহারাদার। বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। পাচারকারীরা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত পার করে নিয়ে যায় ভারতে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই পাচারকালে সীমান্তে আটক হচ্ছে নারী ও শিশু। অনেক ক্ষেত্রেই পাচারকারী থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত মাসে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে ১৫২ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। গত বছরে পাচারকালে ২৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৫২ জন নারী ৮৯ জন শিশু। কিন্তু পাচারকারীদের আটক করা সম্ভব হয়নি। কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বই, গোয়া, পুনে, কেরালা, দামান ও তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন প্রদেশের যৌনপল্লীতে বাংলাদেশি নারী ও শিশুদের বিক্রি করে দিচ্ছে চক্র। ভারত থেকে ফেরা নির্যাতিত এক নারী জানান, তিনি স্বামী পরিত্যক্তা। থাকতেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী। সেখানেই পরিচয় মিরাজ হোসেন কবির নামক যুবকের সঙ্গে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কবির তাকে ভারতে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। হায়দরাবাদের নেরেডমিটের শ্রী কলোনির ১৩৫ নম্বর বাড়িতে বন্দি রাখা হয়েছিল তাকে। মারধর করে যৌনকাজে বাধ্য করা হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশি এক খদ্দেরের সহযোগিতায় গত বছরের শেষের দিকে পালিয়ে এসেছেন এই নারী। ওই চক্রের হাতেই অর্ধশত বাংলাদেশি নারী বন্দি আছেন বলে দাবি করেন তিনি।
যশোরের বেনাপোল, সাতক্ষীরার শাঁকারা, ভোমরা, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ, কক্সবাজার, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জের ছয়টি রুটসহ অন্তত ১৮টি রুট দিয়ে আশঙ্কাজনক হারে পাচার হচ্ছে নারী শিশু। সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুদের নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। সীমান্তে টাকার বিনিময়ে নারী পাচারকারীদের সহযোগিতা করে এক শ্রেণির দালাল। বিজিবির অতিরিক্ত মহা-পরিচালক (অপারেশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুজিবুর রহমান বলেন, ৪০ থেকে ৫০ হাজার নারী ও শিশু পাচারের তথ্যটি সঠিক না। তবে পাচার হচ্ছে। পাচার ঠেকাতে বিজিবি অত্যন্ত তৎপর। প্রায়ই পাচারকালে নারী ও শিশুদের উদ্ধার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সূত্রমতে, ঢাকায় শতাধিক এজেন্সি রয়েছে বিদেশে বৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানি করার নামে মূলত নারীদের পাচার করে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে মামলা।
সূত্রমতে, পাচারকারীদের মূল হোতারা থাকে দেশের বাইরে। দেশীয় দালাল ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমেই পাচার করা হয় নারীদের। আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারীদের সমন্বয়কদের একজন মানিকগঞ্জের হাজীনগরের কোহিনূর আলম। সৌদি আরব, দুবাই, জর্ডান, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে কোহিনূর। দেশে রয়েছে তার শতাধিক দালাল। জর্ডানের আম্মানে আল রাইস রাবিয়া নামে একটি ট্রাস্ট রয়েছে। এর মাধ্যমে সিরিয়া ও লেবাননে পাঠানো হয় নারীদের। সিরিয়ার দামেস্কে আলমাহমুদ ও মজিদ, লেবাননের বৈরুতে ওমর ও আমিরসহ অনেক পাচারকারী রয়েছে। যারা নারীদের বিমানবন্দর থেকে নিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে বন্দি করে রাখে। পরবর্তীতে মারধর করে, জোর করে যৌনকাজে বাধ্য করা হয়।
নারী পাচারে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে চীনের নাম। ভিন্ন কৌশলে চীনে পাচার হচ্ছে বাংলাদেশি নারী। এক্ষত্রে সাধারণত টার্গেট করা হচ্ছে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে। পাহাড়ি নারীদের সঙ্গে চীনের নারীদের বেশ মিল থাকার কারণেই তাদের টার্গেট করা হয়। এ  নারীদের উন্নত জীবন-যাপনের প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করা হয়। চীনে ধানাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয় তাদের। কলগার্ল হিসেবে কাজ করানো হয়। নাইটক্লাব, হোটেল ও বাসা তাদের কর্মস্থল। কোনো কোনো নারীকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিচ্ছেন চীনারা। এরকম চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে গোয়েন্দাদের কাছ থেকে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও চীন এবং কোরিয়ার কিছু দালালের মাধ্যমে চক্র গড়ে উঠেছে ঢাকায়। চক্রের হোতাদের অন্যতম জোয়ান নামক কোরিয়ান নাগরিক। মাসে একাধিকবার ব্যবসার নামে বাংলাদেশ, চীন, কোরিয়া, জাপান, ভারতসত বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে জোয়ান। প্রায়ই অবস্থান করে ঢাকার উত্তরায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিটি দেশেই রয়েছে এই চক্রের সদস্যরা। ঢাকায় রয়েছে অফিস ও ফ্ল্যাটবাসা। এখান থেকেই সারা দেশে কার্যক্রম চালানো হয়। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িতে রয়েছে কমিশনভিত্তিক এজেন্ট। এজেন্টদের বেশির ভাগই নারী। তাদের মধ্যে একজন লিপি বেগম। উত্তরার-১৪ নম্বর সেক্টরের বাসায় থাকতেন পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই নারী। কোরিয়ান নাগরিক জোয়ানের অন্যতম সহযোগী লিপিকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লিপি জানিয়েছে, পাচার হওয়া নারীদের মধ্যে অন্তত সাত জন রয়েছে চীনের বেইজিংয়ে। তাদের বেশি বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিযে চীনে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় দালালরা। পরবর্তীতে জোয়ানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। জোয়ান তাদের বিভিন্ন এঙ্গেলের ছবি ও প্রোফাইল সংগ্রহ করে চীনে পাঠায়। প্রোফাইলে তাদের উচ্চতা, গায়ের রং থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করা থাকে। সাধারণত সুন্দরী কম বয়সী নারীদের বাছাই করা হয়। বাছাইকৃত নারীকে ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় উত্তরার ওই বাসায়।
চীনে বৈধভাবে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয় তাদের। বিয়েটা শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে জানিয়ে এতে রাজি করানো হয়। এই চক্রেরই সদস্য চীনা নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা প্রস্তুত করা হয়। এসব বিষয়ে ওই নারীর পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে পরিচয় হওয়া থেকে দূরে থাকেন হোতারা। এমনকি নিজের প্রকৃত নাম, পরিচয়ও গোপন রাখতেন স্থানীয় দালালদের কাছে। বাছাইকৃত নারীদের চীনে নিয়ে যাওয়ার পরই শুরু হয় অন্য জীবন। লিপির কথানাসুারে, চীনে নিয়ে কৌশলে তাদের যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করানো হয়। কেউ এতে রাজি না হলে খাবার বন্ধ রেখে শাস্তি দেয়া হয়। মারধর করা হয়। ধর্ষণ করা হয়। এভাবেই একসময় এ মেয়েরা যৌনকর্মে জড়িত হতে বাধ্য হয়।
লিপির দেয়া তথ্যানুসারে, ঢাকার বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও বিউটি পার্লারে কর্মরত  ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের টার্গেট করে এগুচ্ছিল তারা। চীনে ভালো চাকরির প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল বেশ কয়েক জনকে। এর মধ্যেই অভিযান চালায় ডিবি। প্রতিজন নারী সংগ্রহের জন্য কমিশন হিসেবে অর্ধলক্ষ টাকা দেয়া হতো দালালদের। উত্তরা থেকে এই চক্রের সদস্য জোয়ান, আসাফুন নাহার লিপি ও আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। উদ্ধার করা হয়েছে সুর্বণ চাকমা নামে এক নারীকে। এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী ও মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, পাচার হওয়া নারীদের ৮০ ভাগই নানা ঝুঁকিতে থাকে। তারা দরিদ্র, অপ্রাপ্ত বয়স্ক, বাল্যবিবাহের শিকার। এসব দুর্বলতার সুযোগে আন্তর্জাতিক চক্রের নজর বাংলাদেশে। নানা ভুল তথ্য, প্রলোভন দেখিয়ে অসচেতনতার সুযোগে পাচার করা হচ্ছে নারী ও শিশুদের। স্থলপথে অন্তত ১৮টি রুটে নারী ও শিশুদের পাচার করা হয়। পাচারের পরিসংখ্যান জানা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তবে নারী ও শিশু উদ্ধারসহ নানা আলামত থেকে ধারণা করছি বছরে ২০-২৫ হাজার নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বৈধপথে গিয়ে পাচারের শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন এই মানবাধিকারকর্মী।

ধর্ষিতার আকুতি: ‘মা, আমাকে বিষ এনে দাও’ by মো. আনোয়ার হোসেন

দেড় মাস আগেও সহপাঠীদের সঙ্গে মাদরাসায় যেত শরণখোলা সোনাতলা গ্রামের কিশোরীটি। কিন্তু স্থানীয় ৩ লম্পটের লালসার শিকার হওয়ায় মাদরাসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সে। ঘটনার পর ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে শরণখোলা থানা পুলিশের কাছে যান কিশোরীর মা। কিন্তু পুলিশ অপরাধীদের বাঁচিয়ে মামলা গ্রহণ করে। অথচ ধর্ষকরা এলাকায় বুক ফুলিয়ে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে ৩ বখাটে তাকে ইভটিজিং শুরু করে। ওই সময় অচেনা এক পথচারী যুবক তার প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মধ্য সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস হাওলাদারের ছেলে মোটরসাইকেল চালক বখাটে আইউব হাওলাদার (২২), আঃ রহমানের ছেলে নান্না মিয়া (২৫) ও সোহরাব মাতুব্বরের ছেলে মিজান মাতুব্বর (২৩) ওই ছাত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এসময় ওই যুবককেও আটক করে তারা। এরপর ওই কিশোরীর সঙ্গে তার কথিত প্রেমের অভিযোগ তুলে বিচারের নামে উভয়কে মধ্য মাঠের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ওই যুবককে মারধর করে গাছে বেঁধে রেখে কিশোরীকে আইউব, মিজান ও নান্না পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে এ নিয়ে মুখ খুললে উভয়কে হত্যার হুমকি দেয় ধর্ষকরা। খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যান মা। এ সময় বখাটেরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, আপনার মেয়ের চরিত্র ভালো না, সে রাতে মাঝ মাঠে অচেনা এ যুবকের সঙ্গে কি করছে? মা হয়ে তো তার কোনো খোঁজখবর রাখেন না। তখন তিনি মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে ওই কিশোরী তার মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলে মা- আমি তোমার মেয়ে, আমি খারাপ না। বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওরা আমাকে বেঁধে মধ্য মাঠে নিয়ে জোর করে আমার সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। আমি আর বাঁচতে চাই না, ভাতের বদলে আমাকে একটু বিষ এনে দাও। তাহলে তুমি-আমি উভয়েই মুক্তি পাবো। তিনি নরপশুদের বিরুদ্ধে ১৬ই ফেব্রুয়ারি থানা পুলিশের কাছে মামলা করতে যান। কিন্তু পড়ালেখা না জানায় অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ধর্ষণ মামলার পরিবর্তে রুজু করে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা। আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশ ওই ছাত্রীর পোশাক গ্রহণ করলেও অজ্ঞাত কারণে তার কোনো ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি। উল্টো ওই কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে আদালতে জবানবন্দিতে পুলিশের শেখানো কথা বলতে বাধ্য করা হয়। অপরদিকে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ বলছেন, ‘তুই বিধবা মানুষ, মামলা চালাবি টাকা পাবি কই? তার চেয়ে মেয়েটার ডাক্তার দেখাতে ২০/২৫ হাজার টাকা নিয়ে আপোষ-মীমাংসা করে ফ্যাল। এক গ্রামে থেকে ওদের সঙ্গে বিবাদ করে লাভ কি? এছাড়া থানায় মামলা ও আদালতে এফিডেভিট করায় বখাটেদের হুমকি-ধমকি সহ প্রভাবশালীদের চাপের মুখে এখন অসহায় অবস্থায় ওই পরিবারটি। তবে সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যশোর মণিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা ইসমাইল দফাদারের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক শিমুল দফাদার (২২) বলেন, ওই মেয়েটির সঙ্গে তার কোনো পরিচয় নেই। তবে ওই দিন বাজারে যাওয়ার পথে ৩ বখাটে ওই মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করছিল। আমি তার প্রতিবাদ করায় আমাকে সহ মেয়েটিকে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে বখাটেরা আমাকে ব্যাপক মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে ধর্ষক সাজিয়ে এলাকাবাসীর হাতে তুলে দিয়ে শটকে পড়ে আসল ধর্ষকরা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নান্নার পিতা আঃ রহমান হাওলাদার দাবি করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। এ ঘটনার বিষয়ে সাউথখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আবু রাজ্জাক আকন ও যুবলীগ নেতা তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ওই আইউব, মিজান ও নান্নারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
অপরদিকে, শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তার ব্যর্থতার দায় পুলিশ বহন করবে না।

জাপার মহাসমাবেশে এরশাদের সেই পুরনো প্রস্তাব

বর্তমান এমপিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বলেছেন, নির্বাচনের ব্যাপারে এই অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তারা শুধু রুটিনমাফিক রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনা করবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশে এরশাদ এ প্রস্তাব দেন। এর আগেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন জাপা চেয়ারম্যান।
তিন যুগ আগে ২৪শে মার্চ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারকে পদত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন সে সময়ের সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর ক্ষমতা দখলের ৩৬তম বার্ষিকীতে গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করলেন তিনি। সম্মিলিত জাতীয় জোটের উদ্যোগে সমাবেশ করার ঘোষণা থাকলে মূলত এটি ছিল জাতীয় পার্টির নির্বাচনী শোডাউন। হাতে গোনা কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল এতে অংশ নেয়। সমাবেশে এরশাদ বলেন, অনেকেই আমার কাছে জানতে চান, আগামী নির্বাচন কেমন হবে, নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কী? উত্তরে আমি বলতে চাই, আমরা জাতীয় পার্টি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। আমরা সাধারণ কাজকর্ম করব। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবে এবং একে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। ইনশাআল্লাহ, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য থাকবে। জাতীয় পার্টি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার মতো শক্তি অর্জন করেছে বলেও এরশাদ করেন। এবার জাতীয় পার্টি আত্মবিশ্বাসী জানিয়ে এরশাদ বলেন, আজকের সমাবেশ শুধু সমাবেশ নয়। এ যেন গণসমুদ্র, মহাসমুদ্র। আমার মন ভরে গেছে আজ, কানায় কানায় পূর্ণ। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জাতীয় পার্টি আজ প্রস্তুত। আজকের সমাবেশে আমরা তা প্রমাণ করেছি। এরশাদ বলেন, মানুষ আমার কাছে বার্তা চায়। প্রথম বার্তা হচ্ছে, আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করব। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করব। এ আমার বার্তা। আমরা প্রস্তুত। দেশ প্রস্তুত। ২৫-৩০ বছর আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না। দুই দল ক্ষমতায় ছিল। তারা জনগণকে কী দিয়েছে? অন্যায়-অবিচার। নারীদের লাঞ্ছনা, বেকারত্ব। জনগণকে তারা কিছু দিতে পারে নাই। শুধু লম্বা লম্বা কথা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ বলেন, কাল উন্নয়নশীল দেশ হলো। অনেক চাকচিক্য। অনেক লাইট। অনেক বাজি পোড়ানো হলো। ঢাকার বাইরে গিয়ে দেখুন, দেশের মানুষের কী অবস্থা। তখন বুঝবেন, কতটুকু উন্নতি করেছেন, উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। খবরের কাগজ খুললেই খুন, নারী ধর্ষণ ও শিশু হত্যা। শুধু হত্যা আর রক্ত। কোথাও শান্তি নেই। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। শান্তি শুধু ঢাকায়। ঢাকার বাইরে শান্তি নেই। আমরা ক্ষমতায় আসলে প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ইউনিয়নে মানুষকে শান্তি দেব। এরশাদ বলেন, শিক্ষার কথা বলি। শিক্ষা গোল্লায় গেছে, পচন ধরেছে। আগে পাস করা কঠিন ছিল এখন ফেল করা কঠিন। যেখানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সহনশীল পর্যায়ে ঘুষ নেবেন। এ শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া মহাসমাবেশে এরশাদের আগে বক্তব্য দেন জাপার কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। বক্তব্য শেষ করে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে এরশাদকে কাছে আসার আহ্বান জানান। এসময় মঞ্চে রওশনের হাত ধরে এরশাদ বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়বো মোরা। নতুন করে আজ শপথ নিলাম। রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে বলেন, আজকের এ মহাসমাবেশে মনে হচ্ছে, আমরা আগামীতে আর কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবো না। জাতীয় পার্টি যথেষ্ট শক্তিশালী দল। শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে স্বাধীন করেছেন। এরশাদ জনগণকে স্বাধীনতার স্বাদ দিয়েছিলেন। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এর জন্য জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আসতে হবে। জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, দেশের রাজনৈতিক গন্তব্য নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে এই অস্থিরতা। গত ৫-৬ বছর ধরে রাজনীতিতে স্বাভাবিকত্ব হ্রাস পেয়েছে। রাজপথে অস্থিরতা, সহিংসতা। মানুষের ভেতরে অস্থিরতা কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, বিনিয়োগ নেই। দেশের কোটির ওপর মানুষ বেকার। এই বেকার সমস্যা সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করছে। মানুষ ইয়াবাসহ মাদকে আসক্ত হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। জিএম কাদের বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে কতগুলো দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সেটা না। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে- কত মানুষ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারছে। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা ২৭ বছর পরীক্ষা দিয়েছি। ক্ষমতায় গেলে অনেকের মামলা উঠে যায়। কিন্তু আমাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনো মামলা চলছে। তাকে কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে। দুটি দল ক্ষমতায় ছিল এতদিন। তাদের শাসনে গুম, খুন, ব্যাংক লুটপাট হয়েছে। দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এরশাদকে আবার ক্ষমতায় নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। মহাসমাবেশ উপলক্ষে সারা দেশ থেকে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দীতে জড়ো হতে থাকেন লোকজন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলটির কর্মী, ভক্ত ও সমর্থকরা সকাল ৮টা থেকে আসতে শুরু করে সমাবেশস্থলে। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সাহিদুর রহমান টেপা, এসএম ফয়সাল চিশতী, সুনীল শুভরায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খালেদ আখতার, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিক নেতা এম এ মতিন, আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক প্রমুখ।

২৬টি সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে খুন: পরিবার নাম দিলেও অজ্ঞাতদের নিয়ে তদন্তে পুলিশ by মারুফ কিবরিয়া

রাজধানীর মহাখালী দক্ষিণপাড়া মসজিদ এলাকায় খুন হওয়া ঠিকাদার নাসির কাজীর হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ২৮টি দিন কেটে গেছে। নিহত নাসির কাজীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করছে না পুলিশ। এমনকি তাদের দেয়া কোনো ক্লু পুলিশ আমলে নিচ্ছে না। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তার জড়িত থাকার কথাও বলছেন খুন হওয়া নাসিরের মেয়ে নার্গিস আক্তার নিপু। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে নিপু বলেন, প্রশাসন আমাদের কোনো সাহায্য করছে না। বাবা খুন হওয়ার ২৮ দিন কেটে যাওয়ার পরও খুনিকে ধরতে পারেনি পুলিশ। আমি মামলায় নাম উল্লেখ করলেও সেখান থেকে তা বাদ দিয়ে পুলিশ মনগড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি গ্রহণ করে। গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি সকালে মহাখালী দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের পাশে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে নাসির কাজীকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের আগে ওই এলাকায় থাকা ২৬টি সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয় খুনিরা।
ঘটনার সময় নাসিরের বুক, পেট, হাত-পাসহ দেহের বিভিন্ন অংশে নয়টি গুলি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দিনই বনানী থানায় একটি মামলা করেন নিহতের মেয়ে। খুনের ঘটনার প্রমাণ না পাওয়ার জন্য হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা ২৬টি সিসি ক্যামেরার সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন নিপু। নিপু বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে বিভিন্ন সময় আমাদের বলেছেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও দেশের বাইরে থাকা ব্যবসায়ী মিন্টু সরদার তাকে খুন করতে পারে। ২০০৪ সালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাবা শরীয়তপুরের ইদুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বি এম আবদুল খালেক খুন হন। ওই খুনের মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি ছিলেন আমার বাবা। তিনি অভিযোগ করেন, আবদুল খালেক বেঁচে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দুদক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন অফিসে অভিযোগ করেছিলেন আমার বাবা। এতে খালেকের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। খালেক খুন হলে বাবাকে রাজসাক্ষী করতে চাইলে এতে তিনি রাজি হননি। তখন বাবাকে ওই মামলার ১০ জন আসামির মধ্যে নয় নম্বর আসামি করা হয়। পরে তাকে এক নম্বর আসামি দেখিয়ে ওই মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। ১৪ মাস জেলে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি আসা শুরু হয়। শুধু তাই নয়। শরীয়তপুরে বাবা বাড়িতে গেলে একদিন তার ওপর হামলার ছকও আঁকা হয়। পরে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি নাসির কাজী খুন হন। নিপু আরো বলেন, বাবা হত্যাকাণ্ডের ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে ডিবির লোকেরা আসে। মিন্টো রোড থেকে এত অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে ডিবির সদস্যরা চলে আসতে পারলো, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে এই খুনের মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে জানিয়ে বাদী বলেন, আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে মামলাটি হঠাৎ করে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। যেখানে ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত, যিনি বাবাকে হত্যার মূলনায়ক, সেখানে এই মামলা স্থানান্তর করে ন্যায় বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিপু বলেন, ঘটনার দিন সকাল থেকে সিসি ক্যামেরাগুলো বন্ধ ছিল। কিন্তু ক্যামেরা এমনভাবে সেট করা যেন সামনেরটা বন্ধ করতে গেলে পেছনের দিক থেকে কে বন্ধ করছে তা ধরা পড়ে যাবে। তার মানে সিসি ক্যামেরা যেখান থেকে অপারেট করা হয় সে দোকান থেকেই বন্ধ করা হয়েছে। আমরা পুলিশকে এই ক্লুও দিয়েছি। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। পুলিশ সিসি ক্যামেরার দায়িত্বে যে দোকানদার রয়েছে তাকে ধরে নিলেই সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে। কিন্তু সেটাও করছে না।
নাসির কাজীর স্ত্রী সেলিনা আক্তার বলেন, আমরা অনেক অসহায়। আমাদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না। পুলিশের কাছ থেকে মামলা চলে গেল ডিবিতে। এটা নিয়ে নাটক চলছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। পুলিশ যদি আমাদের সাহায্য না করে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও যাবো।
এ বিষয়ে বনানী থানায় মামলা থাকাকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা সায়হান ওলিউল্লাহ জানান, মামলাটি এখন আর বনানী থানায় নেই। সেটি ডিবি তদন্ত করছে। নাসির কাজী হত্যার বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমি বেশ কিছুদিন ট্রেনিংয়ে ছিলাম। এখনো ডিবিতে যাইনি। গেলে এ মামলার বিষয়ে কথা বলতে পারবো।

নতুন আদলে আতিয়া মহল by ওয়েছ খছরু

নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা হয়েছে আতিয়া মহলকে। সবকিছু পরিপাটি করে সাজানো। বিধ্বস্ত অবস্থার কোনো চিহ্ন নেই। ভাড়াটিয়াদের পদচারণায় মুখরিত গোটা বাসা। তদারকি করছেন মালিক হাজী উস্তার আলী নিজেই। কারও কোনো অভিযোগ নেই। সাংবাদিকদের দেখে স্ব-হাস্যে এগিয়ে আসছেন সবাই। কোনো আতঙ্ক কিংবা উদ্বেগ নেই। সবাই হাসিখুশি। সামনে যেন ভালো কাটে- এই প্রত্যাশা ভাড়াটিয়াসহ এলাকার মানুষেরও। এক বছর পর আতিয়া মহলে গতকাল গিয়ে দেখা গেল এমন পরিবেশ। সিলেট নগরীর পূর্বদিকের এলাকা শিববাড়ী। একাংশ পাঠানপাড়া। কোলাহলমুখোর এলাকা। সব সময় মানুষের আনাগোনা শিববাড়ীতে। বাজারকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা জনাকীর্ণ। একবছর আগে ওই শিববাড়ীর আতিয়া মহলে হয়েছিল সিলেটের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জঙ্গি অভিযান। টানা এক সপ্তাহ থমকে দাঁড়িয়েছিল জনজীবন। উদ্বেগ-আতঙ্ক ঘিরে ফেলেছিল মানুষকে। এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল মানুষ। গতকাল গিয়ে দেখা গেল সেই পরিবেশ আর নেই। সবকিছু স্বাভাবিক। সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের শিববাড়ী পয়েন্ট দিয়ে পাঠানপাড়া গলিতে ঢুকতেই ডানে আতিয়া মহল। বাসার সামনে গিয়েই দেখা মিলল মালিক হাজী উস্তার আলীর। টিভি মিডিয়ার সাংবাদিকরা গেছেন আতিয়া মহলে। তাদের সঙ্গ দিতে ব্যস্ত তিনি। নতুন করে রঙ দেয়া হয়েছে আতিয়া মহলে। চিক চিক করছে রঙ। উস্তার আলীর মুখে হাসি। বললেন- সেই আতিয়া মহল এখন আর নেই। বদলে ফেলেছি সবকিছু। আবার সরব হয়েছে আতিয়া মহল। অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরপরও আতিয়া মহল যে জেগে উঠেছে সেটিই বড় স্বার্থকতা। উস্তার আলীকে সিলেটে এক নামেই চিনেন অনেকে। সিলেটের একজন ব্যবসায়ীও তিনি। পরিচিত মুখ। সামাজিকভাবেও বেশ প্রতিষ্ঠিত। জঙ্গি অভিযানের সময় মুষড়ে যাননি তিনি। হা-হুতাশ করেছেন। মানবজমিনকে জানালেন- অভিযানের পর র‌্যাব’র কাছে আতিয়া মহল হস্তান্তর করা হয়েছিল। র‌্যাব ক্লিনিং অপারেশন চালায়। এরপর তারা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। অভিযানের প্রায় দুই সপ্তাহ পর তিনি সমঝে পেয়েছিলেন। তখন আতিয়া মহল এখনকার মতো ছিল না। ৫ তলাবিশিষ্ট ওই ভবনটি তিনি পেয়েছিলেন বিধ্বস্ত অবস্থায়। টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল আতিয়া মহলের দেয়াল। অভিযানে ক্ষত-বিক্ষত হয় পুরো ভবন। সমঝে পাওয়ার পর তিনি প্রথমে ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে সমীক্ষা চালান। কী কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানতে চান। কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার তার এই সমীক্ষায় অংশ নেন। কয়েকদিন সীমক্ষা চালিয়ে জানান- ভবন ভাঙতে হবে না। রিপেয়ারিং করলেই সেরে যাবে। কিছুটা স্বস্তি পান হাজী উস্তার আলী। ভবনের মূল পিলারগুলো ছিল অক্ষত। তিনি জানান- ইঞ্জিনিয়ারদের কথামতো তিনি ফের কাজ শুরু করেন। শ্রমিক লাগিয়ে আতিয়া মহলকে সাজানোর কাজ চালান। বিধ্বস্ত এই ভবনকে নতুন করে সাজাতে তার সময় লেগেছে প্রায় ৬ মাস। এই সময়ে তিনি পুরাতন সব চিহ্ন মুছে নতুন করে গড়ে তোলেন। এরপর বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও স্যানেটারি লাইন স্বাভাবিক করেন। গেল বছরের ডিসেম্বর থেকে আতিয়া মহলে ভাড়াটে উঠা শুরু হয়। একে একে প্রায় সব ফ্ল্যাটেই উঠেছেন ভাড়াটিয়া। বাকি ছিল নিচতলার ওই জঙ্গি ফ্ল্যাট। সেখানে কোনো ভাড়াটে উঠছিলেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটেও উঠছেন নতুন ভাড়াটিয়া। সিলেটের একটি প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা প্রায় দুই মাস আগে ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। উস্তার আলী জানালেন- ওই ফ্ল্যাটে যারা বাস করছেন তাদের অতীত ঘটনা জানিয়েছি। সবকিছু জেনে-শুনেই তারা এই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন। এখন আতিয়া মহলে র‌্যাব, পুলিশসহ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তারা ভাড়াটিয়া হিসেবে রয়েছেন। তাদের সব সময় দেখভাল করছেন তিনি নিজেই। আতিয়া মহলের ঘটনার সময়ের ৪ ভাড়াটে পরিবারও এসে উঠেছেন নতুন করে সাজানো বাড়িতে। তারা জানালেন- ঘটনার সময় তাদের পরিবারের সদস্যরাও আতিয়া মহলের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। দুইদিন তারা যেন ছিলেন মৃত্যুর গুহায়। কখন কী হয়- সেই আতঙ্ক তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। অবশেষে সেনা সদস্যরাই তাদের জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করেন। বাসার মালিক জানালেন- আতিয়া মহলকে নতুন করে গড়ে তুলতে তার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যতদিন ভাড়াটিয়ারা ছিলেন না ততদিন তিনি নিজ থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। পাশাপাশি অভিযানকালীন সময়ে ভাড়াটিয়াদের মালপত্রের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু তারাও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে আতিয়া মহল থেকে চলে গেছেন। আতিয়া মহলের পাশেই রয়েছেন আতিয়া মহল-১ নামে আরো একটি বহুতল বাসা। সেই বাসার মালিকও উস্তার আলী। উঠানো ছিল কয়েকটি টিনশেডের ঘর। সেই ঘরগুলো অভিযানের সময় ভেঙে ফেলা হয়েছিল। সেগুলো আর তোলেননি। এখন ভাড়াটিয়াদের যাচাই করে তিনি ফ্ল্যাট ভাড়া দিচ্ছেন। আর ভাড়াটিয়াদের সব পরিচিতি তিনি স্থানীয় মোগলাবাজার থানায় জমা দিয়েছেন। শুধু উস্তার আলীই নন, আশপাশের লোকজনও ভাড়াটিয়া সম্পর্কে সচেতন। সবাই থানায় ভাড়াটিয়াদের তথ্য প্রদান করেছেন। নিজ উদ্যোগে বাসার মালিকরা সেটি করছেন। অভিযানের পর থেকে রাতের বেলা অনেকটা নিরাপদ আতিয়া মহল ও আশপাশের এলাকা। একবছর ধরে প্রতিনিয়তই পুলিশ এলাকায় পাহারা দিচ্ছে। রাত হলে পুলিশের টহল আরো জোরদার করা হয়। স্থানীয় গলি ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- তারা আর সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করতে চান না। যা ঘটেছে তা কেবল অতীত। সামনে যেন ভালো যায়- সেই প্রত্যাশা তাদের।

গাজী রাকায়াতের বিরুদ্ধে তদন্তে সাইবার টিম

এক নারীর করা পর্নোগ্রাফি মামলায় অভিনেতা, নির্মাতা গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও মিলেছে। গভীর রাতে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে অশ্লীল, অনৈতিক এবং ধর্মীয় অনুভূতি পরিপন্থী বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে এক নারী গাজী রাকায়েতের (ফেসবুক আইডি) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর আগে গাজী রাকায়েতের মেসেঞ্জার থেকে নেয়া কয়েকটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন এই নির্মাতা। প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করে গাজী রাকায়েত বলেন, তার ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড কাজের ছেলের কাছে আছে। সে হয়তো এই কাজ করেছে। পরে তিনি আবার বলেন, তার আইডিটি হ্যাক হয়েছে। এছাড়া ওই নারী ও তার বন্ধুকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য গাজী রাকায়েত চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন। রাজধানীর শ্যামপুর থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করছেন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা। এর আগে এই ঘটনায় শ্যামপুর থানায় ওই নারী একটি জিডি করেছিলেন। এছাড়া তিনি ডিএমপি’র ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনে’ অভিযোগ দায়ের করেন। শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা মামলার প্রাথমিক তদন্ত করছি। যেহেতু ফেসবুক সংক্রান্ত বিষয় তাই বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করবে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা। সাইবার ক্রাইম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, যে আইডি থেকে ওই নারীকে আপত্তিকর লেখা পাঠানো হয়েছে সেই আইডির মালিক গাজী রাকায়েত। প্রাথমিক তদন্তে ফেসবুক আইডির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে আইডিটি গাজী রাকায়েত নিজে ব্যবহার করেন নাকি অন্য কেউ করেছে এবং ওই রাতে ওই নারীকে পাঠানো লেখা কে লেখেছে তা গাজী রাকায়েতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করা হবে। ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, মামলাটি আমাদের কাছে এসেছে। তবে এখনো আমরা টেকনিক্যাল কাজ শুরু করিনি।
মামলার এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেছেন, ‘গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি রাতে ‘গাজী রাকায়েত কুটু’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার মেসেঞ্জারে কথা বলার সময় বিভিন্ন অশ্লীল, অনৈতিক এবং ধর্মীয় অনুভূতি পরিপন্থী বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ প্রস্তাব দেন। ওই সব আলাপ বন্ধ করতে বলার পরও তিনি জঘন্য রকম যৌন উত্তেজক কথা বলে তাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন, উত্ত্যক্ত করেন।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘গাজী রাকায়েত একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তার আইডি থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসায় তিনি খুবই মর্মাহত হন। মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট তিনি একটি ক্লোজ গ্রুপে পোস্ট দেন। এরপর ৬ই মার্চ গাজী রাকায়েত তার ফেসবুক পোস্টে নিজের দুটি ফেসবুক আইডি থাকার কথা স্বীকার করেন, যা হ্যাক হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তার ওই পোস্টের নিচে হ্যাক হওয়ার তারিখ জানতে চাইলেও তিনি কিছুই জানাননি। ৯ই মার্চ ওই নারীর এক বন্ধু মেসেঞ্জারের ওই স্ক্রিনশট দিয়ে তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন। তখন তিনি (গাজী রাকায়েত) পুনরায় বিষয়টি তার ছাত্রদের ওপরে চাপিয়ে দেন।’ এজাহারে মামলার বাদী আরো উল্লেখ করেন, ‘এ বিষয়ে গত ১০ই মার্চ তার ওই বন্ধুকে ডিরেক্টরস গিল্ড, টেলিভিশন প্রযোজক সমিতি এবং শিল্পী সমিতির নিকেতন অফিসে ডেকে নিয়ে জানানো হয় ওই তিন সংগঠনই বিষয়টি তদন্ত করবে। তদন্ত চলাকালীন তার বন্ধুর ফেসবুক আইডির ওই স্ক্রিনশটের পোস্টটি হাইড করে রাখতে বলেন তারা। এরপর পোস্টটি হাইড (অনলি মি) করে রাখা হয়।’
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী আরো অভিযোগ করেন, গত ১৬ই মার্চ তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে ও তার শুভানুধ্যায়ীদের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। মেসেঞ্জারে সেই অশ্লীল, অনৈতিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিপন্থী, যৌন হয়রানিমূলক প্রস্তাবের পর থেকেই এই নারী সামাজিক ও মানসিকভাবেও অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার দাম্পত্য জীবন এখন সংকটজনক অবস্থায় আছে। তাই তিনি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী গাজী রাকায়েত, যার একটি ফেসবুক আইডির নাম ‘গাজী রাকায়েত কুটু’, যে অপরাধ করেছে, তা তদন্ত করে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
মামলা প্রসঙ্গে গাজী রাকায়েত মানবজমিনকে বলেন, আমি প্রথম থেকে বলে আসছি কয়েকজন কাছের মানুষের কাছে আমার ফেসবুক পাসওয়ার্ড রয়েছে। তাদের কেউ হয়তো এই কাজটি করেছে। এটি নিশ্চত হওয়ার জন্য আমি সময় নিয়েছি। কিন্তু তারা আমার বক্তব্যকে ভুল ভাবে প্রকাশ করেছে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটে। আমি নাকি বলেছি কাজের ছেলের কাছে আমার পাসওয়ার্ড আছে। কোনো সুস্থ মানুষ এটি বলতে পারে? আমার আইডি হ্যাক হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর গেল ১২ তারিখে আমি একটি জিডি করেছি। এরপরেও আমাকে নিয়ে তারা বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার করছে। ফলে আমি বাধ্য হয়ে ১৫ই মার্চ রাত সাড়ে বারোটায় মামলা করেছি। তারা আমাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। আমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সমাধান করবো।

উন্নয়নশীল কাতারে দেশ: পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ

উন্নয়নশীল দেশের পুরো যোগ্যতা অর্জনের পর বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্প। সফলভাবে এই চ্যালেঞ্জ উত্তরণ করতে পারলে এই খাতকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর সম্ভাবনাও দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। রানা প্লাজায় ধস, হলি আর্টিজানে হামলার পর অনেকটা সংকটে পড়া পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে উৎপাদন খরচ বাড়া ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় নতুন সংকটে ভোগার কথা বলছেন শিল্পমালিকরা। নানা সমস্যা এ খাতে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধিও কমেছে। এমন অবস্থায় সামনে উন্নয়নশীল দেশের পুরো যোগ্যতা অর্জন হলে ২০২৭ সাল থেকে জিএসপি সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ওই সময় থেকে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ওই সুবিধা পেতে ২৭টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রম অধিকার, শ্রম পরিবেশ ও সুশাসন। চলমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত বাস্তবায়নও কঠিন বিষয় বলে মনে করছেন পোশাক শিল্পমালিকরা। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগই আসে পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক খাতের বড় বাজার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় জিএসপি সুবিধা স্থগিত হলে রপ্তানি আয়ে পোশাক শিল্পের ওপর চরম আঘাত আসবে।
বিশ্লেষকরা জানান, বর্তমানে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ এশিয়া-আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিনা শুল্কে রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশের ৩৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের ২৭ বিলিয়ন ডলারই আসে এসব দেশ থেকে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে কম সুদে বা বিনা সুদে ঋণ সহায়তা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে চড়া সুদে ঋণ নিতে হবে। ২০২৭ সালের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুবিধা কমে যাবে। রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা সংকুচিত হতে পারে। বিশেষ করে দেশের রপ্তানি আয়ের বড় খাত পোশাকশিল্পের রপ্তানি আয় কমে যাবে বলে মনে করছেন তারা। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, উন্নয়নশীল দেশের পুরো মর্যাদা পেলে বাংলাদেশ ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে আঘাত আসতে পারে। তার মতে, এর বড় প্রভাব পড়বে পোশাকশিল্পে।
পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, বিদেশে বাংলাদেশের তৈরিপোশাকের দাম একদিকে যেমন কমছে, তেমনি উৎপাদন খরচও প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ফলে পোশাক খাতকে নানাবিধ সংকট মোকাবিলা করেই টিকে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী পোশাককর্মীদের বেতন-ভাতা বাড়াতে হচ্ছে। কিন্তু সে অনুপাতে পোশাকের দাম বাড়ছে না। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশগুলোর সরকার সুযোগ-সুবিধার দেয়ার কারণে তাদের সক্ষমতাও অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমাদের যে চ্যালেঞ্জ সেটা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে।
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পায়। নতুন স্বীকৃতির ফলে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে পাওয়া সেসব সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে জিএসপি বা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবো। এর পর আমাদের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে কাজ করতে হবে। ওইটাই হবে আমাদের পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বতর্মানে যেসব সুবিধা পাচ্ছি সেসব সুবিধাগুলো পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবেই। চ্যালেঞ্জ ছাড়া সামনে যাওয়া যাবে না। এলডিসি থেকে বের হচ্ছি এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকাটাই স্বাভাবিক। চ্যালেঞ্জ উত্তরণ করতে পারলে পোশাক শিল্প একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।
বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর মতে, পোশাক খাতে সব সময় চ্যালেঞ্জ ছিল আগামীতেও থাকবে। বাংলাদেশ উন্নয়শীল দেশের স্বীকৃতি পাওয়ায় চ্যালেঞ্জ আরো বাড়লো বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমাদের সব চ্যালেঞ্জ পরিকল্পিতভাবে মোকবিলা করতে হবে। সেজন্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দেরি না করে এখন থেকেই কৌশল নির্ধারণ শুরু করতে হবে। এর মধ্যে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে এখনোই কাজ শুরু করে দিতে হবে। এছাড়া বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ জিএসপি প্লাস সুবিধা পেয়ে আসছে। ২০২৭ সালের পর আমরাও পাবো। তবে সেটা পাওয়ার জন্য আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। যদি না পাই তাহলে আমাদের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। সালাম মুর্শেদী বলেন, জিএসপি প্লাস সুবিধার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক জোনগুলো পুরোপুরি সচল করতে হবে। রপ্তানি আয় বাড়াতে নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। সর্বোপরি দেশের কারখানাগুলোতে জ্বালানি সহায়তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে। মোটামুটি এগুলো করতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ’ শীর্ষক সেমিনারে ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনসিয়া তিরিঙ্ক বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এরপর শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, পরিবেশ এবং সুশাসন বিষয়ে ২৭টি কনভেনশন বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে সেটি পরীক্ষিত হতে হবে। তাহলে ইইউতে শুল্কমুক্ত বাজার পাবে বাংলাদেশ।
বিজিএমইএ’র সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি করা সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, গত দুই বছরে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে গার্মেন্টস সেক্টরে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ। গত চার বছরে প্রায় ১২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করতে হবে।
উল্লেখ্য, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৮.৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গেল অর্থবছরে (২০১৬-১৭) প্রাথমিক ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩৪.৬৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৩৭.৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য পূরণে প্রথম আট মাসেই ২৪.৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে রপ্তানি হয়েছে ২৪.৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.০২ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তৈরিপোশাকের ওভেন খাতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এলেও নিটওয়্যার খাতে এসেছে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

কবিরকে নেয়া হচ্ছে সিঙ্গাপুর

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আহত কবির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া হবে। ১৪ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল এক ব্রিফিংয়ে বোর্ড মিটিংয়ে গৃহীত এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ও মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, কবির হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার পরিবারের সম্মতিক্রমে এবং ইউএস-বাংলার তত্ত্বাবধানে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, সম্ভব হলে রোববার অথবা সোমবারই তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হবে। ঢামেকে তার চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি হয়নি বলেও জানান এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ব্রিফিংয়ে বোর্ড সদস্য ঢামেকের অধ্যক্ষ ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, আহত কবিরের ফুসফুস ও লিভারে আঘাতের কারণে তার কার্যক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে। শ্বাসনালি ঠিকমতো কাজ করছে না। এছাড়া তার শরীরে ফ্র্যাকচার রয়েছে। এ কারণে এখনো তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। ঢামেকে আনার আগে তার নিউমোনিয়া ও জন্ডিসের যে সমস্যা ছিল সেগুলো বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি। অপর আহতদের ব্যাপারে তিনি জানান, শাহিন ব্যাপারীর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো, তাকে এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহত অপর রোগীরা ভালো রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আহত সাতজনের মধ্যে শাহরিন, কবির ও শাহিনের শ্বাসনালিতে সমস্যা রয়েছে। শাহিন ও শাহরিনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে গত বুধবার। তারা এখন আইসিইউতে রয়েছেন।
সব হারানো মাহি চাচার বাসায়: বাবার লাশ দাফনের চারদিনের মাথায় শুক্রবার মাকেও দাফন করলো তানজিদ বিন সুলতান মাহি। দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম স্বামীর শোকে অসুস্থ হয়ে শুক্রবার মারা যান। বাবা-মাকে হারিয়ে একা হয়ে যাওয়া মাহি চাচা প্রফেসর ডা. খোরশেদ মামুদ বাবুর বাসায় আছে।
মাহির চাচা প্রফেসর ডা. খোরশেদ মামুদ বাবু শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে কর্মরত। থাকেন পল্লবীতে। ডা. খোরশেদ মামুদ বাবুর বন্ধু মো. হাসানুজ্জামান আকন্দ স্বপন গতকাল মানবজমিনকে বলেন, তানজিদ কিশোর বয়সেই একা হয়ে গেল। সে তার চাচার সঙ্গে থাকবে। তার চাচারও এক মেয়ে। তবে সামনে তানজীদের ও লেভেলের পরীক্ষা। পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করতে চায়। অন্তত এক সপ্তাহ চাচার বাসায় থাকার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাকে ক্লাস ও কোচিংয়ের জন্য উত্তরায় আনা-নেয়া করা হবে, না তার পড়াশুনা-পরীক্ষার জন্য চাচী উত্তরার বাসায় এসে থাকবেন। তবে সবাই তাকে এই শোক থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে। আজ বিকালে তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছে বাবু। আগামী শুক্রবার বাদ আসর মহাখালীর একটি ক্লাবে তার মায়ের চেহলাম অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

‘গর্দান নামায়ে দেবো’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ বিদায় হজ শুনছে। কিন্তু মানে বোঝে নাই। আরবি পড়ছে কিন্তু বোঝে নাই। আধুনিক বাচ্চারা যারা বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়ামে পড়তেছে, ইউনিভার্সিটিতে পড়তেছে তাদের থেকেই জঙ্গি হয়, মাদরাসা থেকে হয় না। কারণ সে কোরআন জানেই না ভালো করে। সে ভুল শিক্ষা নিতেছে।
শহরের জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাঁও মাঠে শুক্রবার রাতে দারুল ইসলাহ মাদরাসার হাফেজ ছাত্রদের দস্তারবন্দি উপলক্ষে বার্ষিক ওয়াজ ও মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইসলাম নিয়া কথা বলার দুই তরিকার মানুষ আছেন। একটায় ইসলাম কয়, আরেকটায় কি কয় কিছুই জানে না। সুশীল কিছু আছে। হাতাকাটা জামা পইরা নারী স্বাধীনতা চায়। ইসলামে যতো নারী স্বাধীনতা আছে, কোন ধর্মে তা নাই। তাই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আসেন সকলকে সহীহ কোরআন, সহীহ হাদিস শিক্ষা দেই। আল্লাহর রাসুল বলেছেন, প্রত্যেক নর ও নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ। কারণ জ্ঞান মানুষকে উন্নত করে। জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে দামি।
শামীম ওসমান দুটি পত্রিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তারা কি লেখে তাতে আমার কিছু আসে-যায় না। আমি পড়িও না। এ সময় তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা সব ঈমানদার লোক। প্রতিবাদ করেন কি করেন না, আমি জানি না। কিন্তু আমি প্রতিবাদ করছি। সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছি। বাংলাদেশে এতো বড় বড় আলেম আছে, তারপরেও ওই পত্রিকা বাংলাদেশে চলে। যারা আল্লাহ-রাসুলকে নিয়া ব্যঙ্গচিত্র আঁকে, কার্টুন আঁকে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এতো বড় বড় আলেম কিছু বলেন নাই। কেন বলেন না, জানি না। আমি শামীম ওসমান সবচেয়ে পাপিষ্ঠ মুসলমান হয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি। আমি শামীম ওসমান তাদের পত্রিকা পয়সা দিয়ে কিনি না। আমি তাদের সঙ্গে আপোস করবো না। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় আর আমার ধর্ম আমার জায়গায়। কোন ধর্মের উপর আঘাত করবো না, কাউকে আঘাত করতেও দেবো না। কিন্তু আমার ধর্ম মানো না, মাইনো না। তুমি আমার আল্লাহর রাসুলকে নিয়া যদি কোন কটূক্তি করো তাহলে আমি শামীম ওসমান এমপিগিরি ছাইড়া দিমু, গলা থেকে গর্দান নামায়ে দেবো। কোন ছাড় হবে না।
মহানবীর উদ্ধৃতি দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, নবীজী বলেছেন, যে মুরব্বিদের সম্মান আর ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমার উম্মত নন। আমি ওয়াজে যাই একটি মাত্র কারণে। কিছু নির্দিষ্ট ব্যাপার আলোচনা করার জন্য। আমার কথা শুনে যদি একটা ছেলে, একটা যুবক ইসলামের পথে আসে তাহলে আমি সার্থক। আমি হজ করি, জাকাত দেই, নামাজ পড়ি, কিন্তু আমার দ্বারা যদি কেউ কষ্ট পায় তাহলে আমার এসবে কোনো লাভ নেই। যাদের মা-বাবা বেঁচে থাকেন তাহলে তার হজ করা কোনো ব্যাপারই না। কোনো সন্তান যদি তার মায়ের দিকে ভালোবাসার চোখে শুধু তাকাইয়া থাকে সেই সন্তান একটা কবুল হজের সওয়াব পায়। আমি মক্কা মদিনায় বহুবার গেছি। যুবক ভাইয়েরা আপনাদের বলছি, বাবা-মার প্রতি ভালোবাসা দেখান, তাহলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ আপনার কাছে ব্যাপার না। যে মা-বাবার প্রতি সদয় না হবেন সে কখনো উন্নতি করতে পারবেন না।
ইসলাম বলেছে, শ্রমিকের ঘাম মাটিতে পড়ার আগে তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো। নবীজীর সময় জমির আইল ছিল, দলিল ছিল না। তিনি বলেছেন, যদি কোনো সম্পদ কেউ সম্মতিতে তোমাকে না দেয় তাহলে ওই জমি তোমার জন্য হালাল নয়, হারাম। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় পেতে বলেন নাই। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, আমাকে যে ভালোবাসে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট।
শামীম ওসমান আরো বলেন, আমি জানি আমারে মারার জন্য বহু মানুষ ঘোরে। ২০০১ এর ১৬ জুন বোম ব্লাস্ট করছে। আশেপাশে কেউ নাই। আমি পাশেই দাঁড়ানো। দেওয়াল ছিদ্র হয়ে পাশের রুমের তিনজন মারা গেছে। কে আমারে বাঁচাইছে? আল্লাহ। দোয়া করবেন আমি যেন আল্লাহর পথে থাইকা মরতে পারি।
শামীম ওসমান বলেন, আগে রাজনীতি করতাম নিজের জন্য, এখন করি আল্লাহর জন্য। আমরা ব্যভিচার, অনাচার কইরা দুনিয়াটা ধ্বংস করে দিচ্ছি। ইসলামের নামে একগুচ্ছ লোক দুই নম্বরী ছড়ায়ে দিতেছে। আসেন আমরা ইসলামের পথে চলি। আল্লাহর রাসুলের দেখানো পথ চলি।
বার্ষিক ওয়াজ ও মাহফিলের প্রধান বক্তা ছিলেন আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব। বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আল্লামা জোবায়ের আহমাদ আনসারী, ঢাকার আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী। বার্ষিক ওয়াজ ও মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন আলীরটেক মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ হাফেজ আব্দুস সাত্তার।

ভারত থেকে পোশাক ও পণ্যবাহী ট্রেন ২৭শে মার্চ বাংলাদেশে আসছে: ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু অতিক্রম

ভারতীয় পোশাক ও ভোগ্যপণ্য নিয়ে প্রথম ভারতীয় পরীক্ষামূলক পণ্যবাহী ট্রেন আগামী ২৭শে মার্চ বাংলাদেশে আসবে। আগামী দু’মাসের মধ্যেই নিয়মিতভাবে দু’দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। মাত্র চব্বিশ ঘণ্টায় ভারত থেকে ট্রেন পৌঁছে যাবে বঙ্গবন্ধু সেতুতে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জেওসিডটকমের এক রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা হবে সস্তা ও দ্রুত। এটা ট্রাকনির্ভর হবে না। প্রতি টিইইউ (টুয়েন্টি-ফুট ইক্যুয়েভেলান্ট ইউনিট) পরিমাণ পণ্য বিদ্যমান ট্রাকনির্ভর ব্যবস্থায় খরচ পড়ছে ৮০০ ডলার। এটা প্রায় ৭০ ডলার কমে যাবে। ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা টিইইউ প্রতি ৭৩০ মার্কিন ডলারে পণ্য পাঠাতে পারবেন। কন্টেইনার করপোরেশন ইন্ডিয়া লিমিটেড (কনকর) উদ্বোধনী ট্রেনে ৬০ টিইইউ পোশাক ও ভোগ্যপণ্য পাঠাবে।
আশা করা হচ্ছে দুই সপ্তাহ সময় ধরে ট্রাকযোগে পণ্য আমদানির দিন ফুরাতে বসেছে। এখন এর পরিবর্তে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা থেকে পণ্যবাহী ট্রেন বঙ্গবন্ধু সেতু অতিক্রম করে যাবে। বিজিএমইএ’র বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন- ট্রেন সার্ভিস চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপরে চাপ কমবে। কারণ সড়কপথে পণ্য পরিবহনে অনেক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সমস্যা দূর করে দেবে পণ্যবাহী ট্রেন।
শেখ মাহফুজ হামিদ কনকরের স্থানীয় এজেন্ট এবং গালফ অরিয়েন্ট সিওয়েজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত থেকে ট্রেন যমুনা সেতুতে পৌঁছাবে। তিনি বলেছেন, আমরা যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি পেলে ট্রেন সরাসরি যমুনা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসতে পারবো।
হামিদ বলেছেন প্রতি টিইইউ ভারত থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ৪৫০ ডলার এবং সেখান থেকে গাজীপুর বা ঢাকায় আনতে খরচ পড়বে আরো ২৫০ ডলার। সব মিলিয়ে ৭৩০ মার্কিন ডলার খরচ হবে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই পণ্য পরিবহনে সময় লাগছে ২২ থেকে ২৫ দিন। হামিদ বলেছেন- ফিরতি ট্রেনে কিছু পণ্য বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্টারচেঞ্জ ট্রাফিকের সহকারী পরিচালক কালীকান্ত ঘোষ বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২টি ট্রেন কলকাতা থেকে বাংলাদেশে আসবে। আমদানি ও রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে আমরা প্রচণ্ড সাড়া পাচ্ছি।
বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এতে ট্রেন সার্ভিসের সমর্থন দরকার। তার কথায় দু’দেশের মধ্যে যদি এরকম ট্রেন চলাচল সার্ভিস চলতে থাকে তাহলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি আরো বিস্তার লাভ করবে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জার্মান প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

পাঁচ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রেখে দেয়া জার্মান প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনকে ষড়যন্ত্রমূলক মনে করছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, আজ যখন আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যোগ্যতার স্বীকৃতি পেলাম তখন সেসব শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী এদেশের বিরোধিতা শুরু করলো। তাদের চ্যালেঞ্জ আমরা ভেঙে দিয়েছি বলেই আজ বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের দুর্নাম রটাচ্ছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে, যা আজও চলমান। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বলছেন তারা ক্ষমতায় থাকলে নাকি আরও ১০ বছর আগে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করতো। কিন্তু তাদের ক্ষমতাকালীন অর্জন অনুসারে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকতো নইলে একেবারে ধ্বংস হয়ে যেতো।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) আয়োজিত অগ্নিঝরা মার্চ ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দুবার ক্ষমতায় থেকে তারা পদ্মা ব্রিজ, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, উন্নতমানের ফ্লাইওভারসহ কোনোটার ব্যাপারেই তো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি, বাস্তবায়ন তো দূরের কথা।
বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা হত্যা করেনি; বাংলাদেশের মীর জাফররা হত্যা করেছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের বিরোধিতা করেছিল যারা, সপ্তম নৌবহর পাঠানোর ব্যাপারে মদদদাতা ছিল তারাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বাঙালি ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। বঙ্গবন্ধু সবসময় দেশের মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করে গেছেন। সে আন্দোলনগুলোর কথা আমরা সবাই সবসময় মনে রাখি না।
জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ খালেক, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নজরুল মজিদ বেলাল, জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, ডা. মোস্তাক হোসেন, কামরুল আহসানসহ প্রমুখ।

ভয়ঙ্কর সেই কাল রাত আজ

ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার ভয়াল স্মৃতির কাল রাত ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস আজ। নির্মম, নৃশংস ও ভয়াবহ এক হত্যাযজ্ঞের মর্মন্তুদ দিন। ১৯৭১ সালের এই রাতে মুক্তিকামী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় রক্তপিপাসু হিংস্র পাকিস্তানি হানাদার দল। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে পুরো ঢাকা শহরকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষদের ওপর চালায় গণহত্যা ও বর্বর নির্যাতন। তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, নারী, শিশু, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একটি মুক্তিকামী জাতির স্বাধীনতা ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে হায়েনার হিংস্র নখরে ক্ষতবিক্ষত হয় মানবতা। এবার দ্বিতীয়বারের মতো গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে দিনটি। দিবসটি উপলক্ষে আজ রাতে এক মিনিটের জন্য সারা দেশে আলো নিভিয়ে স্মরণ করা হবে কালো রাতে নৃশংসতার শিকার শহীদদের। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে আলোচনার নামে গোপনে সামরিক প্রস্তুতি নিতে থাকে। কিন্তু ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার মানুষ। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান) স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনামূলক ঐতিহাসিক এক ভাষণ দেন। যা প্রকৃতপক্ষে ছিল বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের মূলমন্ত্র। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে অসহযোগ আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় এই রাতে নৃশংস এক হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করে হানাদার বাহিনী। এ রাতে ইয়াহিয়ার লেলিয়ে দেয়া বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, শিক্ষক কলোনি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস) ব্যারাকসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং বস্তিবাসী, ঘুমন্ত মানুষের ওপর আক্রমণ চালিয়ে শুরু করেছিল বিশ্ব ইতিহাসের এক নজিরবিহীন গণহত্যা, নিপীড়ন ও অত্যাচার।
২৫শে মার্চ রাতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় হানাদার বাহিনীর অগ্নিসংযোগে চারদিকে আগুন জ্বলতে থাকে। চতুর্দিকে বিরামহীন গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে বিনিদ্র রাত কাটায় নগরবাসী। হঠাৎ করে হানাদার বাহিনীর আক্রমণ ও রাস্তায় রাস্তায় তাদের সশস্ত্র টহলে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ ঘরের কোণে আশ্রয় নিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেনি। স্বাধীনতাকামী বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহা চিরতরে মুছে দেয়ার জন্য ঢাকার বাইরেও চলেছে গণহত্যা। এ হত্যাযজ্ঞে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল বিশ্ববিবেক। তবে, বর্বরতার বিপরীতে প্রতিরোধে জেগে ওঠতে বেশি সময় নেয়নি অদম্য বাঙালি। বাঙালি জাতির এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করতে হানাদার বাহিনী এ হত্যাযজ্ঞ শুরু করলেও নির্যাতিত মানুষের প্রতিরোধ স্পৃহার স্ফূলিঙ্গ এ রাত থেকেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রতিরোধে এগিয়ে আসে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বাঙালি সদস্যরা। শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত হয় স্বপ্ন সাধের স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালো লাল-সবুজের স্বাধীন ভূখণ্ড, স্বাধীন বাংলাদেশ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী অপারেশন সার্চলাইট শুরুর জন্য রাত সাড়ে ১১টায় ছাউনি থেকে বেরিয়ে আসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ফার্মগেটের মুখে হানাদার বাহিনী প্রথম প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়। সেখানেই তারা চিৎকার করে পুরো ঢাকায় কারফিউ ঘোষণা করে। ছাত্র-জনতা বাধা দিলে পাখিরমতো গুলি করে হত্যা করে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। ডিনামাইটের মাধ্যমে ব্যারিকেড উড়িয়ে দিয়ে শহরে প্রবেশ করে সেনারা। রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয় ব্যারিকেড। প্রতিরোধকারী বাঙালি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ট্যাংক, মর্টার, রকেট ব্যবহার করে সেনাবাহিনী। শুরু হয় চারদিকে গোলাগুলির বিস্ফোরণ, মানুষের আর্তচিৎকার। এরই মধ্যে হানাদাররা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে হানা দেয়। বাসভবনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। রাতেই বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। অবশ্য গ্রেপ্তারের আগেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ও সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের ঘোষণা দেন। মধ্যরাতে সেনাবাহিনী পিলখানা, রাজারবাগ ও নীলক্ষেত আক্রমণ করে। হানাদার বাহিনী পিলখানা ও নীলক্ষেতে প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়। পাকিস্তানি সেনারা ট্যাংক, মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল করে ফেলে। প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর পিলখানার ইপিআর ব্যারাকের পতন হয়। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরোধযুদ্ধে নিহত হন অসংখ্য পুলিশ সদস্য। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলায় আগুনের লেলিহান শিখায় একদিকে নগরীর রাত হয়ে ওঠে বিভীষিকাময়। অন্যদিকে এ রাতের বিসর্জিত রক্তের ওপর দিয়েই পরদিন সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় নতুন প্রতিজ্ঞার ইতিহাস, শুরু হয় মুক্তির জন্য যুদ্ধ। নয় মাস বাঙালির মরণপণ যুদ্ধে অর্জিত হয় রক্তের পতাকা। স্বাধীনতাকামী মানুষের রক্তভেজা ২৫শে মার্চ তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ একটি ক্ষণ। এ দিনে শুরু হওয়া রক্তের স্রোতে ভেসেই জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।
দিবসটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন হচ্ছে গত বছর থেকে। গত বছরের ১১ই মার্চ জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাব পাস হবার পর ২০শে মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সভা, সমাবেশ, র‌্যালি, প্রদীপ প্রজ্বলন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি।
কালোরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করে গণহত্যা দিবসে আজ রাতে এক মিনিট অন্ধকারে (ব্ল্যাক-আউট) থাকবে সারা দেশ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার স্মরণে রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশ অন্ধকার থাকবে। গত ১১ই মার্চ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এদিকে গণহত্যা দিবসে এক মিনিট বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখাসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং সব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে গণহত্যা দিবসে এক মিনিট ব্ল্যাক আউট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বৈরতন্ত্রের তকমা দেশের জন্য লজ্জার

জার্মানের একটি সংস্থার বিচারে বাংলাদেশকে স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করাকে দেশের জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এ জন্য জাতি হিসেবে আমি লজ্জিতবোধ করছি। যুদ্ধ করে যারা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করেছেন, তারা অত্যন্ত লজ্জাবোধ করছেন। দলের যৌথসভা শেষে গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, বিশ্বের ১২৯টি দেশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জার্মান সংস্থা ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটং’র স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার খবরটি শুক্রবার প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ ওই পাঁচটি দেশ গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করছে না। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মৌলবাদীদের হামলা সংঘটিত হতে দেখা গেছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে কথাগুলো আমরা বলে আসছিলাম, তা আজকে বিশ্বস্বীকৃৃত হয়েছে এবং এটার প্রতিফলন ঘটেছে জার্মান সংস্থাটির ওই প্রতিবেদনে। সরকার স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে আজকে এই অবস্থায় নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জার্মান প্রতিষ্ঠানটির গবেষণার ভিত্তিতে বিবিসি অনলাইন একটি নিউজ প্রকাশ করেছে, যেটা আজ সব পত্রিকায় এসেছে। পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নিম্নের দিকের পাঁচটি দেশের অন্যতম একটি। যেখানে গণতন্ত্র বিদায় নিয়েছে এবং স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২৪শে মার্চ গণতন্ত্র হত্যা দিবস। এদিনে এরশাদ একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছিল। সেই ব্যক্তির দলকে একই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার সুযোগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল, সেই বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি দেয়া হয়নি। মির্জা আলমগীর বলেন, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী ২৯শে মার্চ সভার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি নিয়ে যাবেন বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ বিষয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধী দলকে কর্মসূচি পালন করতে দেয়ার অনুরোধ করা হবে। সেই প্রতিনিধি দলে থাকবেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ও এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। মির্জা আলমগীর বলেন, কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনসহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত শুনতে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ৩৭টি দল গঠন করেছে বিএনপি। তারা আগামী ২০শে এপ্রিলের মধ্যে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা সফর করবেন। এ রাজনৈতিক সফরসূচির উদ্দেশ্য শুধু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও আগামী দিনের করণীয় নিয়ে তারা আলোচনা করবেন। এসব টিম সাংগঠনিক জেলাগুলোতে সভা-সমাবেশ ও কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। তবে, সভা-সমাবেশ জেলাগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। এ ছাড়া যৌথসভায় বিএনপি নেতারা চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তার জামিন স্থগিতের নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে সভা থেকে দলের চেয়ারপারসনসহ সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৩ দিনের কর্মসূচি বিএনপির
স্বাধীনতা দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা অর্পণ, স্বাধীনতা শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকালের যৌথসভায় এ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। যৌথসভার শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসকে বরাবরের মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এবারই প্রথম সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দলের চেয়ারপারসন গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকতে পারছেন না। সেই কারণে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাসহ সিনিয়র নেতারা সমবেতভাবে সকাল ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন। স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দেবেন বিএনপি নেতারা। এ ছাড়া ২৬শে মার্চ ভোরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ জেলা-উপজেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে বিএনপি। বিকালে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা- জাসাসের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পরদিন ২৭শে মার্চ ঢাকায় স্বাধীনতা শোভাযাত্রা এবং ৩১শে মার্চ রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা করবে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব জেলা কার্যালয় আলোকসজ্জা করা হবে। এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে যৌথসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আবদুস সালাম, মনিরুল হক চৌধুরী, কবীর মুরাদ, আবদুল কাইয়ুম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শামা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিন, মাহবুবুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, হারুনুর রশীদ, মোস্তাক মিয়া, আবদুল আউয়াল খান, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আকন কুদ্দুসুুর রহমান, সহযোগী সংগঠনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, নুরুল ইসলাম নাসিম, হেলাল খান, শাহ নেসারুল হক ও এবিএম আবদুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।