Tuesday, July 7, 2026
ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে
উত্তর প্রদেশের আগ্রা আদালত অতীতে তাজমহল জরিপের উদ্দেশ্যে এই সৌধের স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফির জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগে অনুমতি দেননি। অর্থাৎ তাজমহল জরিপ করার যে আবেদন এক আইনজীবী ২০১৫ সালে করেছিলেন, সেই আবেদন অতীতে খারিজ করে দিয়েছিলেন আগ্রা আদালত।
সম্প্রতি সেই মামলার শুনানি করেই সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, কেন তাজমহলের নিচে মন্দিরের অস্তিত্ব খুঁজতে জরিপ করা যাবে না।
আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের বক্তব্য শোনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ জানতে চান, কেন সৌধের জরিপ করা যাবে না। আবেদনকারী আইনজীবী জৈনের দাবি, বিশ্বখ্যাত এই স্মৃতিসৌধটি আসলে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির, যার নাম ‘তেজো মহালয়া’। এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে উৎসর্গী করা হয়েছিল।
হিন্দু দেবতা মহাদেবকে মামলাটির মূল পক্ষ করা হয়েছে, যেমন সাধারণ মানুষকে করা হয়। মহাদেবকে মূল পক্ষ করে তাঁর ‘পরম বন্ধু’ আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন এবং আরও বেশ কয়েকজন ভক্তের মাধ্যমে এই পিটিশন করা হয়েছে।
বিতর্কিত রামমন্দির-বাবরি মসজিদ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বছর কয়েক আগে হিন্দুত্ববাদী হরিশঙ্কর জৈনের ছেলে আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, যেসব সৌধের নিচে হিন্দুদের কথিত পবিত্র স্থান রয়েছে, একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করেছেন তাঁরা। এই তালিকা দীর্ঘ।
বিষ্ণুশঙ্কর বলেছিলেন, এসব স্থান বেছে বেছে বের করে মামলা করা হবে। বর্তমানে সেই কাজই করছেন পিতা–পুত্রের এই দল। বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, তারা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত।
কেন তাজমহলকে হিন্দু মন্দির বলা হচ্ছে
এলাহাবাদ হাইকোর্টের মামলায় বাদীপক্ষ (আবেদনকারী) একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে, যার মূল বক্তব্য হলো—এই স্মৃতিসৌধটি একটি হিন্দু মন্দির। তাই বাদীপক্ষ তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের তাজমহল প্রাঙ্গণের ভেতরে পূজা করার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।
বাদীপক্ষের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সরকার ও এসআই–এর কাছে জানতে চেয়েছেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য কেন জরিপ করা হবে না।
বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তিতে এই এলাহাবাদ হাইকোর্টই অন্যতম কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চ ২:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দিয়েছিলেন, অযোধ্যার বিবদমান ২ দশমিক ৭৭ একর জমি হিন্দু দেবতা রাম লালা, রক্ষণাবেক্ষণকারী নির্মোহী আখড়া এবং সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ডের মধ্যে সমান তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে।
তাজমহলের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সৌধের ভেতরে ‘দর্শন’ ও ‘পূজা’ করার মৌলিক অধিকার হিন্দুদের রয়েছে। এরপর ২০১৯ সালে তাজমহলে জরিপ করতে একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল।
তবে ওই সময় আগ্রার অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক (সিনিয়র ডিভিশন) ওই আবেদন খারিজ করেছিলেন। আদালত যুক্তি দিয়েছিলেন, বাদীপক্ষ তাজমহলে সুনির্দিষ্ট জায়গা (দাগ নম্বর) নিশ্চিত করার জন্য কোনো রাজস্ব নথি (যেমন খতিয়ান বা খসড়া) দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্পত্তির বর্ণিত সীমানা ও আয়তন (৭৭ বিঘা) বিবাদীপক্ষের নথির সঙ্গে মেলেনি।
এই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে একটি রিভিশন পিটিশন (সংশোধনী আবেদন) রক্ষণাবেক্ষণের অযোগ্য বলে গণ্য করেন আগ্রার অতিরিক্ত জেলা জজ। এই দুটি আদেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাদীপক্ষ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
আবেদনে বাদীপক্ষ মূল মামলায় করা নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যসংক্রান্ত দাবিগুলো উল্লেখ করে বলেছে, কথিত প্রাচীন তেজো মহালয় মন্দিরটি (তাজমহল), যেখানে দেবতা আগ্রেশ্বর মহাদেব বিরাজ করছেন, সেটি ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব নির্মাণ করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, ইউনেস্কো তাজমহলকে একটি ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বিষয়টি ভারত সরকারের পর্যটনবিষয়ক ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে।
সেই ওয়েবসাইটেই বলা হয়েছে, এটি তৈরি করেছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহান, তাঁর পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে। ওয়েবসাইটে মমতাজ মহল ও শাহজাহানের ছবিও (হাতে বা কম্পিউটারে করা পেন্টিং) রয়েছে।
ইতিহাসবিদদের বক্তব্য, তাজমহল বানানোর কাজ শুরু হয় ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে এবং শেষ হয় ১৬৫৩ সালে বা তার আশপাশে। বছর দশেক আগে হিসাব করে দেখা যায়, এই স্মৃতিসৌধটির বাজার মূল্য ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এটি ভারতের মুখ্য পর্যটনকেন্দ্র।
হিন্দুত্ববাদীরা ইতিহাস মানতে নারাজ
আবেদনকারী হিন্দুত্ববাদী আইনজীবীরা অবশ্য এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্মৃতিসৌধটি রাজা মানসিংহের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানায় আসে এবং পরবর্তী সময়ে ১৭ শতকে জয়পুরের রাজা জয়সিংহ এই স্থানে অর্থাৎ তাজমহলে অভিষিক্ত হন।
এরপর মোগল শাসক শাহজাহান রাজা জয়সিংহের কাছ থেকে কথিত ‘তেজো মহালয়া’ প্রাসাদটি জোরপূর্বক দখল করেন এবং তাঁর মৃত রানির স্মৃতিসৌধে পরিণত করেন। এই রূপান্তরের জন্য বিতর্কিত সৌধটির কিছু অংশ পরিবর্তন করে ইসলামিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছিল।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আরও দাবি করেন, অন্তত ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে, এই সম্পত্তিটি একটি হিন্দু মন্দির।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এএসআই ‘বেআইনিভাবে’ মুসলিমদেরকে গত শুক্রবারে তেজো মহালয়া বা তাজমহলে ‘নামাজ’ পড়ার অনুমতি দিয়েছে। এ কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ভবন চত্বরের বেশ কয়েকটি তলা তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, হিন্দু ‘পূজা’ ও দেবতার আরাধনা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই সম্পত্তির ব্যবহার বেআইনি।
আবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত সম্পত্তির পরিচয় নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। কারণ, এটি একটি সর্বজনবিদিত প্রাচীন স্মৃতিসৌধ। তা ছাড়া আবেদনকারীদের যুক্তি, সৌধটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং তালাবদ্ধ অংশগুলো ‘কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে কার্যকরভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়’।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, এএসআই-নিয়ন্ত্রিত এই সৌধটিতে তাদের অবাধ প্রবেশের অধিকার নেই, যার ফলে কার্যকর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের নিযুক্ত একজন ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য।
এই পটভূমিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, হাইকোর্ট যেন আগ্রা আদালতের আদেশ বাতিল করেন এবং ট্রায়াল কোর্টকে (নিম্ন আদালত) গুণাগুণের ভিত্তিতে অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন একটি স্থগিতাদেশের আবেদনে অনুরোধ করা হয়েছে, হাইকোর্ট যেন এএসআইয়ের পরিচালককে নির্দেশ দেন, আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে ভবনের ভেতর ও বাইরের ছবি তোলা হয় এবং তা বর্তমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় দাখিল করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে অবগত আইনজীবীরা মনে করছেন, তাজমহল নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল এবং যা ৬ জুলাই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল, তা একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। একইভাবে ভারতে নতুন এক বিতর্কের সূচনা হয়েছিল তিন দশক আগে বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে, যা ২০১৯ সালে ভারতে রামমন্দির বলে আদালত চিহ্নিত করেছিলেন। তাজমহলের কপালে কী লেখা আছে, তা বোঝা যাবে আর কয়েক বছরের মধ্যেই।
![]() |
| তাজমহল। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কে হতে পারে ইসরায়েলের পরবর্তী শত্রু by জসিম আল-আজাবি
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ইহুদি সংগঠনগুলোর প্রেসিডেন্টদের সম্মেলনে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, ‘তুরস্কই হলো নতুন ইরান।’ আগামী নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বেনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সেদিন আরও এক ধাপ এগিয়ে বেনেট অভিযোগ করেন, আঙ্কারা (তুরস্ক) মূলত ‘সৌদি আরবকে আমাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে এবং পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে একটি বৈরী সুন্নি অক্ষ গড়ে তুলছে।’
এর মাত্র পাঁচ দিন পর নেতানিয়াহুও প্রায় একই সুর ধরেন। তিনি ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসকে নিয়ে একটি ‘ষড়্ভুজ জোট’ গঠনের ঘোষণা দেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, ইসরায়েল ইতিমধ্যে যে শিয়া অক্ষকে ভেঙে দিয়েছে, তার বিপরীতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা এই সুন্নি ব্লকের মোকাবিলা করতেই এই জোট।
সহজ কথায়, ইসরায়েলের এই দুই শীর্ষ নেতা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। আর তা হলো, দেশটির পরবর্তী কৌশলগত লড়াই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের মতো হবে না। ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু এবারের প্রতিপক্ষ অনেক বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এক শক্তি এবং প্রচলিত সামরিক ক্ষমতার বিচারে তারা অনেক বেশি সুসজ্জিত।
তুরস্ককে এই সম্ভাব্য অক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্য মনে করা হচ্ছে। খাতা-কলমে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী রয়েছে তাদেরই। প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার সক্রিয় সেনাসদস্যের এই বাহিনীর পেছনে বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট ২৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
দেশটির নিজস্ব অস্ত্রশিল্প তুরস্ককে বিশ্বের শীর্ষ মানববিহীন আকাশযান বা ইউএভি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছে। তাদের তৈরি সর্বাধুনিক জেটচালিত যুদ্ধ ড্রোন ‘কিজিল এলমা’ ইতিমধ্যে পরীক্ষার সময় রাডার-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। চলতি বছরই তুর্কি সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য এটি এখন গণ-উত্পাদনে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আঙ্কারার ‘ব্লু হোমল্যান্ড’ মতবাদের অধীনে দেশটির নৌবাহিনী এখন পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিশাল এলাকাজুড়ে সক্রিয় রয়েছে, যা ইসরায়েলের সমুদ্রবর্তী গ্যাসক্ষেত্রগুলোর খুব বেশি দূরে নয়।
এরপরে রয়েছে মিসর। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো মাঝেমধ্যে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের উদাহরণ টানেন, যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিসরের বিমানবাহিনীকে মাটিতেই ধ্বংস করে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সামরিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে সেই তুলনা আর টিকবে না।
২০২৬ সালে মিসরের নিয়মিত সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ, আর রিজার্ভ সেনা রয়েছে আরও ৮ লাখ। প্রতিরক্ষায় বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ করা মিসর এখন মার্কিন আব্রামস ট্যাংক, ফরাসি রাফাল জেট, রুশ সু-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং জার্মানিতে তৈরি সাবমেরিনের এক মিশ্র ও শক্তিশালী অস্ত্রাগার গড়ে তুলেছে।
খোদ নেতানিয়াহুও এই পরিবর্তনটি টের পেয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির এক রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে তিনি বলেছিলেন, ‘মিসরীয় সেনাবাহিনী শক্তিশালী হচ্ছে এবং আমাদের এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।’
সুতরাং ২০২৬ সালের মিসর আর ১৯৬৭ সালের মিসর এক নয়, তা এখন ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করতে শুরু করেছেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরব। টাইফুন ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে গড়ে ওঠা তাদের বিমানবাহিনী আকারে ছোট হলেও বেশ সক্ষম। একই সঙ্গে রিয়াদ এখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের বাইরেও নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্ক বহুমুখী করার কাজে হাত দিয়েছে।
তবে ইসরায়েলি পরিকল্পনাবিদদের সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে পাকিস্তান। কর্মকর্তাদের মতে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানের কাছেই কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রাগার এবং তা বহনের উপযোগী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তা ছাড়া দেশটির বিমানবাহিনীও সম্প্রতি বাস্তব যুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করেছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে চীন পাকিস্তানকে ৩৬টি জে-১০সি ফাইটার জেট সরবরাহ করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, গত বছর ভারতের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ে এই বিমানগুলো থেকে দূরপাল্লার পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়, যার মধ্যে অন্তত একটি রাফাল জেটও ছিল।
গত এপ্রিলে পাকিস্তান তাদের এই ধরনের ডজন দুয়েক যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল ইসলামাবাদ সফর শেষে ইরানি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
তবে এই সবকিছু মিলে আসলেই কোনো সুসংগঠিত বা সমন্বিত হুমকি তৈরি করছে কি না—সেটি এখনো একটি বড় প্রশ্ন।
খোদ ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার ভেতরেই এ নিয়ে তীব্র মতভেদ রয়েছে। আঙ্কারা, কায়রো, রিয়াদ ও ইসলামাবাদকে এক সুতায় বাঁধার মতো কোনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই; এমনকি এই চার দেশের সরকার সামরিক কোনো পরিকল্পনা একসঙ্গে করছে—এমন কোনো প্রমাণও মেলেনি।
ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্ত বেনেটের চেয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি কেবল লিখেছেন, তুরস্ক ‘এখন আর প্রান্তিক কোনো অংশীদার নয়’, বরং তারা নিজেদের একটি বড় আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। এটি মূলত তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বর্ণনা, কোনো আসন্ন সংঘাতের ইঙ্গিত নয়।
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ের পণ্ডিত আন্দ্রিয়াস ক্রিগ নেতানিয়াহুর ‘ষড়্ভুজ জোট’কে স্রেফ পূর্বের সম্পর্কগুলোর একটি নতুন ব্র্যান্ডিং বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে চ্যাথাম হাউসের ইয়োসি মেকেলবার্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিনকাস প্রকাশ্যে যুক্তি দেখিয়েছেন যে বেনেট ও নেতানিয়াহু—উভয়েরই নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। সামনে নির্বাচন কিংবা বর্তমান সরকারি জোট টিকিয়ে রাখার জন্য একটি ‘বাহ্যিক হুমকি’ জিইয়ে রাখা তাঁদের প্রয়োজন।
তাঁরা সতর্ক করে বলেন, আঙ্কারাকে দ্বিতীয় তেহরান হিসেবে গণ্য করতে গিয়ে ইসরায়েল হয়তো নিজেই নিজের এমন এক শত্রু তৈরি করে ফেলবে, যার অস্তিত্ব বাস্তবে নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বৈরিতা গড়ে উঠেছিল চার দশক ধরে একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের তেমন কোনো যৌথ আদর্শ বা যৌথ কমান্ড নেই। বিশেষ করে কায়রো ও রিয়াদের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের শান্তিচুক্তি এবং পর্দার আড়ালের নিরাপত্তা সমঝোতা রয়েছে, যা বাতিলের কোনো ইঙ্গিত এই দুই দেশের সরকার দেয়নি।
এখন পর্যন্ত এই দেশগুলোকে যদি কোনো কিছু এক করে থাকে, তবে তা হলো ইসরায়েলের ওপর ক্ষোভ ও শঙ্কা। যে ইসরায়েল মাত্র এক বছরে অঞ্চলের ছয়টি দেশে আঘাত হেনেছে এবং এখন খোলাখুলিভাবে একটি ‘উত্থিত কট্টরপন্থী সুন্নি অক্ষ’ নিয়ে কথা বলছে। এই শঙ্কা বেনেটের সতর্কবাণী অনুযায়ী কোনো বাস্তব সামরিক জোটে রূপ নেবে কি না, তা আঙ্কারা, কায়রো, রিয়াদ বা ইসলামাবাদের সিদ্ধান্তের চেয়ে জেরুজালেম আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই বেশি নির্ভর করছে।
* জসিম আল-আজাবি, সাংবাদিক ও লেখক। মিডল ইস্ট মনিটর থেকে অনূদিত।
![]() |
| ট্যাংকে ভরার জন্য গোলা নিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি এক সেনা। ইসরায়েল ও হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায়। ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের আগে ন্যাটোর বড় অস্ত্র চুক্তি
সম্মেলনের চমক হিসেবে চুক্তির বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন কোম্পানি নর্থরপ গ্রুম্যানের কাছ থেকে নজরদারি ড্রোন এবং ন্যাটো জোট সুইডেনের কোম্পানি ‘সাব’–এর কাছ থেকে উড়োজাহাজ কিনবে। এ ছাড়া ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে যৌথভাবে উৎপাদনের বিষয়ে জার্মানি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন–বিধ্বংসী সক্ষমতা বাড়াতে মিত্ররা ৪ হাজার কোটি (৪০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে বলেও ন্যাটো মহাসচিব নিশ্চিত করেছেন।
স্নায়ুযুদ্ধের শুরু থেকে ন্যাটো জোট ইউরোপকে রক্ষা করে এলেও ট্রাম্প প্রায়ই প্রতিরক্ষায় ইউরোপের অপর্যাপ্ত অবদানের সমালোচনা করেন। মার্ক রুতে জানান, রুশ হুমকির ভয় ও ট্রাম্পের জোরালো চাপের কারণে ইউরোপীয়রা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ‘বিস্ময়করভাবে’ বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ন্যাটোর ইউরোপীয় দেশগুলো ও কানাডা প্রতিরক্ষায় আরও ৯ হাজার কোটি ডলার বেশি ব্যয় করেছে। সব মিলিয়ে এ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার কোটি ডলারে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা
শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। সূত্র বলছে, ট্রাম্প হয়তো তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর ন্যাটোর অভ্যন্তরে উত্তেজনা বেড়েছে। ওই সংঘাতে সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প ন্যাটো সদস্যদের কড়া সমালোচনা করেন। তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না হলেও তাঁরা আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। ওই যুদ্ধ ইউরোপের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছে। এর মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব ইউরোপের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
শীর্ষ সম্মেলনে ন্যাটো সদস্যরা এ বছর ইউক্রেনের জন্য সাত হাজার কোটি ইউরো (আট হাজার কোটি ডলার) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন। এর মধ্যেই সোমবার কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন, যা ইউক্রেনে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রকট সংকটের বিষয়টিই নতুন করে সামনে এনেছে।
![]() |
| ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত ‘ন্যাটো সামিট ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরাম’-এ বক্তব্য দিচ্ছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতে। আঙ্কারা, তুরস্ক। ৭ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অযোধ্যা লুট: রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে মোদিকে by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
ট্রাস্টের মোট সদস্যসংখ্যা ১৫। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, দুজন পদত্যাগ করেছেন। শূন্য পদে নতুন নিযুক্তি হবে ট্রাস্টের পরবর্তী বৈঠকে। ২২ জুলাই সেই বৈঠক হবে। তার আগেই বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) রিপোর্ট পেশ হওয়ার কথা। চম্পত রাই ছিলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক, অনিল মিশ্র সদস্য। আরও এক অভিযুক্ত গোপাল রাও ছিলেন বিশেষ আমন্ত্রিতদের অন্যতম। তাঁকেও অপসারণ করা হয়েছে। তাঁরা তিনজনেই ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতৃস্থানীয়। তাঁদের কারণেই ভিএইচপি এত দিন মন্দির পরিচালনায় ছড়ি ঘোরাত। এবার থেকে সেই দায়িত্ব সরাসরি হাতে তুলে নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)। কৃষ্ণ মোহন আরএসএস সদস্য।
ট্রাস্টের বৈঠকের পর কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ গিরি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মন্দিরের লুট গভীর বেদনার ও লজ্জার। ওই ঘটনা আমাদের প্রত্যেককে আহত করেছে। এই ঘটনায় ট্রাস্টের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। সেই ভাবমূর্তি ফেরত আনাই হবে আমাদের প্রথম কাজ।’
গতকালের বৈঠকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্দিরে দানের পরিমাণ ও খরচের কথা জানানো হয়। বলা হয়, ওই সময়ের মধ্যে ভক্তরা দান করেছেন ৫৮২ কোটি রুপি, মন্দির চালাতে খরচ হয়েছে ৩১৯ কোটি। বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। এই হিসাব নিয়েও অবশ্য প্রশ্ন উঠছে—মন্দিরের দৈনন্দিন খরচ চালাতে ৩১৯ কোটি রুপি কীভাবে খরচ হলো, সেই হিসাব না দেওয়ায়।
বৈঠকে জানানো হয়, মন্দিরের অছি পরিষদ গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ২৪৬ কোটি রুপি দান এসেছে। তার মধ্যে মন্দির তৈরিতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৩৭০ কোটি রুপি।
রাজ্য সরকারের গঠিত ‘সিট’ তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী কী তথ্য প্রকাশিত হবে, তা নিয়ে চলছে চূড়ান্ত জল্পনা। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, দানপাত্র থেকে যেসব সোনা–রুপার গয়না চুরি হতো, তা অযোধ্যা, ফৈজাবাদ বা লক্ষ্ণৌয়ের স্বর্ণকারদের কাছে না পাঠিয়ে ট্রেনে করে পাঠানো হতো বেঙ্গালুরু। সেখানে তা গলিয়ে সোনা–রুপার বাট তৈরি করা হতো। চালানের হিসাবে গরমিল থাকত। যেমন কুড়ি কেজি সোনার গয়না পাঠানো হলে চালানে কম দেখানো হতো। বাড়তি সোনা চলে যেত চোরেদের জিম্মায়।
সি–ভোটারের সমীক্ষা উদ্বেগজনক
রামমন্দিরের লুট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো নীরব। একটি শব্দও এখন পর্যন্ত তিনি উচ্চারণ করেননি। এই চুরি ও প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা হিন্দুত্ববাদী ভোটারের সমর্থনে প্রভাব ফেলছে। সি–ভোটার সংস্থা এনিয়ে এক সমীক্ষা চালিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ৮৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন অভিযোগ ‘গুরুতর’, ৬৩ শতাংশ মনে করছেন অভিযোগ ‘অত্যন্ত গুরুতর’। এই চুরি ৫৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এনডিএ সমর্থকের বিশ্বাস নড়িয়ে দিয়েছে। এই মহল বরাবর বিজেপিকে ভোট দিয়ে আসছে। সমীক্ষা বলছে, সেই সমর্থকেরা মনে করছেন, এই চুরি শুধু একটা অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, চোরেরা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। হিন্দুধর্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এর ফলে বিজেপির বিশ্বস্ত ভোটব্যাংকে চিড় ধরতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরব। গোটা বিষয় থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার এক চেষ্টা তিনি করছেন। বোঝাতে চাইছেন, এই অপকর্মের দায় তাঁর নয়। কিন্তু সি–ভোটারের সমীক্ষায় যা উঠে আসছে, তা বিজেপি ও মোদির পক্ষে উদ্বেগজনক। যেমন ৬৬ শতাংশ এনডিএ ও ৬৩ শতাংশ বিরোধী ভোটার মনে করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের এক–তৃতীয়াংশ মনে করেন, যা কিছু হয়েছে, তার জন্য ট্রাস্টই দায়ী। সেই দায় তারা অস্বীকার করতে পারে না।
বিজেপির পক্ষে সমীক্ষায় সবচেয়ে চিন্তাজনক হলো, প্রায় ৫০ শতাংশ বয়স্ক মানুষ মনে করছেন, এই চুরি উত্তর প্রদেশ বিধানসভার আগামী নির্বাচনে যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে যেতে পারে। ৩৩ শতাংশ জনতা মনে করেন, চুরির দায় ট্রাস্টের, সেই ট্রাস্ট, যা নাকি প্রধানমন্ত্রী মোদিই গঠন করেছিলেন। ১০ শতাংশ স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করছেন, ১৭ শতাংশের মতে দায়ী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে পরিস্থিতি যথেষ্টই উদ্বেগের। কারণ, এত দিন ধরে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ দুর্নীতি ও অপরাধের কথা বলে এসেছেন। সমীক্ষা দেখাচ্ছে, ১৮ থেকে ২৪ বছরের ভোটারের ৫৮ শতাংশ মনে করছেন, ভোটে এর প্রভাব পড়বে এবং তা যোগী প্রশাসনের বিরুদ্ধে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী দায় এড়াতে পারেন না
দ্য ওয়্যার এক নিবন্ধে বলেছে, ৬টি কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি এই দায় থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রাখতে পারেন না। প্রথম কারণ হলো রামমন্দির নির্মাণ নিছক কোনো ধর্মীয় কাঠামো তৈরি নয়, এটা ছিল বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদীদের রাজনৈতিক আন্দোলন। এই আন্দোলন বিজেপিকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং ক্ষমতা লাভের পর মোদিই হয়ে দাঁড়িয়েছেন মন্দির নির্মাণের কেন্দ্রীয় চরিত্র বা প্রধান মুখ। যাবতীয় কৃতিত্ব তিনিই দাবি করে এসেছেন এত দিন ধরে।
দ্বিতীয় কারণ, মোদি এ ঘটনাকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না। তিনিই ট্রাস্ট গঠন করেছেন। ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জন তাঁরই সুপারিশে পদে এসেছেন। ২০২০ সালে লোকসভায় তিনিই এই ট্রাস্ট গঠনের কথা জনিয়েছিলেন। দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
তৃতীয় যে কারণ, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই সরাসরি বিজেপি–আরএসএস ইকোসিস্টেমের অঙ্গ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহসভাপতি। মোদির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা সবার জানা। নইলে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি থাকতেই পারতেন না। মোদিই তাঁকে নিয়োগ করেছেন। চুরির দায়ে যাঁকে ধরা হয়েছে, তিনি ছিলেন চম্পতের গাড়িচালক। বিজেপির নেতা বিনয় কাটিয়ার পর্যন্ত চম্পতকে ‘যত নষ্টের গোড়া’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
চতুর্থ কারণ, যেসব বিষয়ের বড়াই মোদি এত দিন ধরে করে এসেছেন, এ ঘটনা তা নস্যাৎ করে দিয়েছে। মোদি বরাবর নিজেকে হিন্দুত্বের ধারক ও অভিভাবক হিসেবে খাড়া করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে জানিয়েছেন, ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’। অর্থাৎ চুরি করব না, কাউকে চুরি করতেও দেব না। এ ঘটনা সেই দাবিকে পরিহাস করছে। তিনি এত দিন ধরে জাতীয়তাবাদী ধ্বজা উড়িয়ে এসেছেন। এ ঘটনায় প্রতিটি দাবিই ধুলুণ্ঠিত। অযোধ্যার মতো এক পবিত্র শহরের মন্দির পরিচালনা কীভাবে কলুষিত হতে পারে, এ ঘটনা তার জ্বলন্ত নিদর্শন হয়ে থাকছে। পরিচ্ছন্ন প্রশাসনের দাবি পরিহাস করছে।
পাঁচ নম্বর কারণ হলো, এটা কোনো নিছক চুরির ঘটনা নয়। ২০০ জনের একটা দল সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে এই কাজ করে চলেছে। এসব অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই।
সর্বশেষ ও ষষ্ঠ কারণ, সব বিরোধী দল মোদির নীরবতাকে কটাক্ষ করছে। বলছে, দুর্নীতিকে ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক স্বার্থে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে বিজেপি সচেষ্ট। অথচ মোদি তার বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করছেন না। তাঁর নীরবতাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই অপরাধের সঙ্গে তিনিও জড়িত। এর দায় মোদিরই। তাঁকেই এর জবাব দিতে হবে। নীরবতা উত্তর হতে পারে না।
এ অপরাধ কয়েকজনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বিলীন হওয়ার নয়; এর ব্যাপ্তি বিশাল। নীরবতা এ থেকে পরিত্রাণের পথ নয়।
![]() |
| ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ফল ভোগ করতেই হবে -ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ
বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘এ দেশের শহীদদের, বিশেষ করে শহীদ উম্মাহর ইমামের হত্যাকারীরা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে। চূড়ান্ত প্রতিশোধের পদক্ষেপ পবিত্র কুদস (জেরুজালেম) মুক্তির মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করবে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে বাগের গালিবাফের বার্তার বিবরণ প্রকাশ করেছে।
বাগের গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের নেতাকে হারানোর বেদনা এবং দেশের রাজধানীতে তার পবিত্র, আহত দেহের শেষ উপস্থিতির দিনটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আপনাদের নতুন জাগরণের মাধ্যমে এটি মহাকাব্য ও সচেতনতায় রূপ নিয়েছে। এটি ইসলামি ইরান এবং সমগ্র ইসলামি বিশ্বের নিশ্চিত বিজয়ের পথকে আরো ত্বরান্বিত করেছে।’
বার্তায় বলা হয়, যে জাতি ৪৭ বছর ধরে বিপ্লবের অগ্রসেনা হিসেবে ভূমিকা পালন করছে, তারা গত চার মাসে প্রতি রাতে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ ধ্বনি দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা শহীদ ইমামের হত্যাকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছে এবং প্রতিশোধের দাবি জানিয়েছে।
স্পিকার বলেন, আল্লাহর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত। ইরানের ভূমিতে আগ্রাসনকারীরা এবং দেশের শহীদদের হত্যাকারীরা তাদের কর্মের উপযুক্ত শাস্তি পাবে। অত্যাচারী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধের পদক্ষেপ পবিত্র কুদস মুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরো বলেন, এই জাগ্রত জাতি তাদের নেতাকে বিদায় জানিয়েছে। গত চার মাসের মতোই তারা প্রজ্ঞাবান ধর্মীয় নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হুসেইনি খামেনির প্রতি আনুগত্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, কারণ তারা ইমাম ও শহীদদের আলোকিত পথ থেকে সামান্যতম পিছপা হয়নি। আজ বিশ্ব বুঝেছে যে ইসলামী বিপ্লব ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান স্থায়ী ও চিরঞ্জীব। জনগণের সমর্থন থাকলে কোনো অচলাবস্থা বা পরাজয় নেই।
বাগের গালিবাফ বলেন, এই জাতি ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শিক্ষার অনুসারী। শহীদ বিপ্লবী নেতার ৩৭ বছরের নেতৃত্বের সময় তারা শুধু জিহাদ ও সংগ্রামের চেতনা ধরে রাখেনি, বরং বিশ্বের আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সুসংগঠিতভাবে দাঁড়িয়েছে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের মর্যাদা উপলব্ধি করতে হবে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো প্রচেষ্টায় কমতি রাখা যাবে না। তা হোক ইরানকে রক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে, কিংবা কূটনীতি ও আলোচনার ক্ষেত্রে। অথবা জনগণের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে সেবার ক্ষেত্রেই হোক। শহীদ নেতা ও ইসলামী বিপ্লবের নেতার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে জনগণের জন্য নিরলস ও কার্যকর কাজ করার বিষয়টি কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
![]() |
| ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। ফাইল ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শত ফিলিস্তিনিকে নিজ দেশে নিলো স্পেন
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে আসা এসব শিশু এখন স্পেনের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবে। তিনি বলেন, তারা ভয় নিয়ে এসেছে, তবে তাদের সঙ্গে নতুন আশাও আছে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কোনো শিশুরই গাজার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে এসব শিশুর নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই স্পেন ইসরায়েলের সমালোচনামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে, তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেছে।
২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে স্পেন ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানকে রাতারাতি শক্তিশালী করতে ২০টি সুখোই-৩৫ দিচ্ছে রাশিয়া
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো রাশিয়ার কোমসোমলস্ক-অন-আমুর অ্যাভিয়েশন প্ল্যান্টে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো রাশিয়াতেই রয়েছে এবং চূড়ান্ত হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।
সুখোই-৩৫ রাশিয়ার অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার কমব্যাট রেডিয়াসের এই ফাইটার জেট শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম। পাশাপাশি অস্থায়ী বা স্বল্প দৈর্ঘ্যের রানওয়ে থেকেও উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা বাড়ায়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এফ-৩৫-এর মতো পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান না হলেও সুখোই-৩৫ এখনো বিশ্বের অন্যতম কার্যকর ও যুদ্ধ-পরীক্ষিত ফাইটার জেট। আধুনিক আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে বিমানটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে সুখোই-৩৫ পরিচালনার জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। এ উদ্দেশ্যে আগে থেকেই রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুখোই-৩৫ অন্তর্ভুক্ত হলে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো এফ-১৪, এফ-৪ ও এফ-৫ যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে দূরপাল্লার আকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশলগত শক্তি রাতারাতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাশিয়ার কাছে মোট ৪৮টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে ইরান। ভবিষ্যতে আরও সুখোই-৩০এসএম২ এবং পঞ্চম প্রজন্মের সুখোই-৫৭ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও তেহরানের আগ্রহ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২০ শিশুসহ ১০০ ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য আশ্রয় দিল স্পেন
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, এসব শিশু নৃশংসতাকে পেছনে ফেলে আমাদের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে এসেছে।
তিনি বলেন, তারা ভয় নিয়ে এসেছে, তবে সঙ্গে আশা নিয়েও এসেছে এবং তাদের আগমনকে জাতীয় গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশুরই গাজায় চলমান বিভীষিকার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
তিনি জানান, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ২০ শিশুসহ মোট ১০০ জন ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দিয়েছে স্পেন। তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মূলত গাজায় চলমান যুদ্ধের বিরোধিতার অংশ হিসেবেই স্পেনের এই উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান, তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই মাদ্রিদ ও তেল আবিবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ আরও গভীর হয়।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
![]() |
| ফিলিস্তিনি শিশু। ছবি : সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খামেনির শেষ বিদায়ে দেখা গেল আহমাদিনেজাদকে
সোমবার তেহরানে খামেনির শেষ বিদায়ে ও শোক মিছিলে লাখো মানুষের সঙ্গে অংশ নেন আহমাদিনেজাদ। কালো পোশাক ও মুখে মাস্ক ঝুলিয়ে তাকে শোকযাত্রায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের কয়েকটি রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহমাদিনেজাদও নিহত হয়েছেন। তবে সে সময় সরকারিভাবে তার মৃত্যু বা জীবিত থাকার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এরপর কয়েক মাস তিনি জনসমক্ষে না আসায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।
এদিকে তেহরানে অনুষ্ঠিত এই রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই শোকযাত্রায় প্রায় দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন।
তবে দেশটির সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি এবং হাসান রুহানি শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন না। সমালোচকদের দাবি, তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী ব্যানার ও পোস্টার দেখা যায়। অনেকেই খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও জানান।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি ৭১ ব্রিটিশ এমপির
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব ইভেত কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিভিন্ন দলের অন্তত ৭১ জন সংসদ সদস্য (এমপি) ও হাউস অব লর্ডসের সদস্য (পিয়ার) এই স্বাক্ষর করেছেন। স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত ও সুপ্রমাণিত নির্যাতনের দায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ ইসরাইল সরকারের ওপরই বর্তায়।’
চিঠিতে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি এবং সাতজন লর্ডস সদস্য স্বাক্ষর করেছেন।
আইনপ্রণেতারা ইসরাইলে ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান’ ঘটাতে নেতানিয়াহু এবং দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী, বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ইয়ারিভ লেভিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য কুপারকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ডানপন্থি ইসরাইলি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘স্বাগত জানানোর মতো’ ছিল। তবে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তা খুব সামান্যই ভূমিকা রেখেছে। বরং এর পর থেকে প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সুবিধা নিয়ে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
চিঠিতে জাতিসংঘের গত ফেব্রুয়ারির একটি প্রতিবেদনের বরাত দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘হেফাজতে নির্যাতন, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, গণহত্যা, বঞ্চনা এবং জীবনধারণের সব মাধ্যম ধ্বংস করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুদের ওপর আধিপত্য বিস্তার ও শাস্তি দেওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে নির্যাতন।’
ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহার
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস আগে ইসরাইলি সেনাদের দ্বারা এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে ধর্ষণ মামলার অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করেছিলেন নেতানিয়াহু। এছাড়া দুই মাস আগে গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ মানবিক সহায়তা বহর আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিকদের আটকে রাখার বিষয়টিও সংসদ সদস্যরা মনে করিয়ে দেন।
গ্রিন পার্টি, প্লেইড কামরি, সিন ফেইন, এসডিএলপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এবং কনজারভেটিভ পার্টির একজন এমপির এই চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের (এফসিডিও) একজন মুখপাত্র স্কাই নিউজকে বলেন, ‘ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বন্দিদের প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং আমরা ইসরাইল সরকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছি।’
মুখপাত্র আরো বলেন, সব বন্দির সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে এবং নির্যাতনের যেকোনো অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে (আইসিআরসি) অবিলম্বে এবং অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাজ্য। শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মাসের পর মাস ইসরাইলি হেফাজতে আটকে রাখার বিষয়টিকেও সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ গত মার্চে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি কারাগার ব্যবস্থা একটি সুপরিকল্পিত নিষ্ঠুরতার গবেষণাগারে পরিণত হয়েছে। সেখানে বোতল, লোহার রড ও ছুরি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে।‘
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হেফাজতে ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
![]() |
| ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আইনমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন। ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পর এবার লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান
দুটি পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। পূর্বে অপ্রকাশিত পাকিস্তানের এই উদ্যোগ সফল হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির কূটনৈতিক ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে।
২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া পূর্ব ও পশ্চিম—এ দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের এই বিভক্তি দূর করতে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের এই সম্পৃক্ততার খবর সামনে এলো।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পৃথক মধ্যস্থতায় পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনও বারবার পাকিস্তানের এই ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
একটি পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, লিবিয়ায় ইসলামাবাদের এই ভূমিকা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণ অবগত এবং এতে জড়িত’ রয়েছে।
উদ্যোগটিতে সৌদি আরব সমর্থন দিচ্ছে বলে উভয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। গত বছর ইসলামাবাদের সঙ্গে সৌদি আরবের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। সৌদি আরবও দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে।
উভয় পাকিস্তানি সূত্র জানায়, গত বছরের শেষের দিকে এই প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং লিবিয়ার উভয় পক্ষই পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা অনুরোধ করেছিল।
অবশ্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সামরিক গণমাধ্যম শাখা, লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় কর্মকর্তা এবং কাতার, তুরস্ক, সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
ঐক্য পরিকল্পনা
বিশ্লেষকেরা বলছেন, লিবিয়াকে পুনরেকত্রীকরণের যেকোনো সফল পরিকল্পনার জন্য বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি পদ, নির্বাচনী নিয়ম এবং তেল রাজস্ব নিয়ে বিরোধের সমাধান করতে হবে, যা অতীতের প্রচেষ্টাগুলোকে ব্যর্থ করেছিল।
সম্পাদকীয়পরিষেবা
ব্রিটেনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট থিঙ্ক ট্যাঙ্কের গবেষক জালেল হারশাউই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ায় কঠোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তারা যে কাঠামোটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তা এখনো শিথিল ও অস্পষ্ট।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি প্রস্তাবিত ‘লিবিয়া পুনরেকত্রীকরণ পরিকল্পনা’র সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল কনসেনসাস অ্যান্ড প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ নামক একটি সংস্থার অধীনে ৩৬ মাসের একটি অন্তর্বর্তী ক্ষমতা অংশীদারত্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতিসংঘ স্বীকৃত ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক লিবিয়ান গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটির আবদুলহামিদ দ্বীবাহ প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলভিত্তিক লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) ডেপুটি কমান্ডার সাদ্দাম হাফতার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন।
তবে একটি পাকিস্তানি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, এই প্রস্তাবের বিস্তারিত নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
সাদ্দাম হাফতারের বাবা এবং এলএনএ-র কমান্ডার-ইন-চিফ খলিফা হাফতারের গোষ্ঠীটি লিবিয়ার অনেক বড় বড় তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় তাকে বাজেটের ওপর কর্তৃত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
একটি পাকিস্তানি সূত্র জানায়, এই পুরো ব্যবস্থাটি যেন কার্যকর থাকে, তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ‘সক্রিয় ভূমিকা’ পালন করবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
গত মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর কয়েক দিন পর সাদ্দাম হাফতার ওয়াশিংটন সফর করেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তখন এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, রুবিও লিবিয়ার নেতাদের বিভেদ দূর করার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং লিবিয়ার ঐক্যের প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকেরা লিবিয়ায় পাকিস্তানকে একটি গৌণ পক্ষ হিসেবে দেখেন। কারণ সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউএই, তুরস্ক ও মিসর বছরের পর বছর ধরে প্রভাব বিস্তারের লড়াই করছে।
তবে লিবিয়ার উভয় পক্ষের সঙ্গেই ইসলামাবাদের এমন সম্পর্ক রয়েছে, যা অন্য আঞ্চলিক শক্তির হয়তো নেই।
রয়টার্সের গত ডিসেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা পূর্বাঞ্চলীয় এলএনএ-র সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের চেষ্টা চালিয়েছেন। এর মধ্যে জেএফ-১৭ ফাইটার জেট এবং সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান বিক্রির সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, রয়টার্সের দেখা একটি অপ্রকাশিত নথি অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী পশ্চিমাঞ্চলীয় জিএনইউ-ও সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত দুটি পাকিস্তানি সূত্র জানায়, কাতার এবং জিএনইউ-এর অন্যতম বড় সমর্থক তুরস্কও পাকিস্তানকে এই মধ্যস্থতায় জড়াতে উৎসাহিত করেছিল।
তবে ভূরাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনফর্মমি-র পরিচালক তারেক মেগেরিসি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো চুক্তি সই হলেই যে তা টিকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি গত বছর রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নেতাদের মধ্যে হওয়া চুক্তির উদাহরণ দেন, যা কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল।
![]() |
| ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ছবি: সংগৃহীত ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিষ্টি হাসির একটা মেয়ে দরকার, এভাবেই শুরু... by মনজুরুল আলম
নীহা জানালেন, জুটি হয়ে শুধু লাভ সেমিস্টার নয়, আশিকি, হৃদয়ে হৃদয়, লাভ লাইনসহ ১১টির মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তাঁরা। এর মধ্যে আটটি নাটকের ভিউ কোটির বেশি। প্রথম নাটকের ভিউ ৩ কোটি পূর্ণ হয়েছে; লাভ লাইন-এর ভিউ ৪ কোটির কাছাকাছি।
প্রবীর রায় জানান, তিন বছর আগে লাভ সেমিস্টার নাটকের জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন। এ জন্য বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর অডিশনও নেন। কিন্তু গল্পের প্রয়োজনে দরকার ছিল মিষ্টি হাসির একজন অভিনেত্রী। কাউকে পাচ্ছিলেন না। অনেক খোঁজার পর অবশেষে মিষ্টি হাসির একটি মেয়েকে খুঁজে পেলেন। এই মেয়েটিই নীহা। হাসি দিয়েই প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি।
নাটকটি অল্প সময়েই দর্শকদের পছন্দের তালিকায় চলে আসে। এক দিনেই রেকর্ড ভিউ হয়। শুধু দর্শকই নন, জোভান–নীহা জুটি পরবর্তী সময়ে অন্য পরিচালকের কাছেও পছন্দের জুটি হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার এই অভিনেত্রী প্রথম আলোকে জানান, জুটি হয়ে অভিনয় করতে গিয়ে সব সময়ই একটা আতঙ্ক বা ঝুঁকি থাকে। কারণ, কোনো কাজ ভালো না হলে সেটা দর্শক গ্রহণ করবে না।
নীহা বলেন, ‘আমাকে আর জোভান ভাইকে দর্শক পছন্দ করেন, এটা আশীর্বাদ মনে করি। দর্শকদের এই ভালোবাসা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। কখনোই যেন দর্শকেরা একঘেয়েমিতে না ভোগেন, সে চেষ্টা করি। গল্প, লুক, পটভূমিতে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে চাই। আর আমি মনে করি, ভালো কাজ করলে দর্শক এমনিতেই জায়গা করে দেবে। জুটিতে সেটাই কাজে লাগাতে চাই। প্রতিটা চরিত্র দিয়েই মন জয় করতে চাই।’
এখন জুটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও শুরুর সেই দিনগুলো এখনো নীহার মনে আছে, ‘প্রথম দিন বসে বসে শুটিং দেখেছি। এভাবে ভয় কাটিয়েছি। আমি খুব আস্তে আস্তে কথা বলতাম। এটা নিয়েও অনেক মজা হতো। শুরু থেকে এখনো জোভান ভাইয়া আমাকে অনেক সহায়তা করেন। আমরা একসঙ্গে নিয়মিত কাজ করছি। দর্শক যত দিন আমাদের কাজ পছন্দ করবে, তত দিন আমরা কাজ করে যাব।’
আগেও একাধিক অভিনেত্রীর সঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন ফারহান আহমেদ জোভান। কেয়া পায়েল, তানজিম সাইয়ারা তটিনীসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁকে দেখা গেছে। তবে চলতি বছর দর্শকদের মধ্যে নীহাকে ঘিরে নাটকগুলোই বেশি আলোচনায়। জুটি হয়ে কাজ করা নিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতার কথাও জানালেন জোভান। ‘ইন্ডাস্ট্রিতে সব সময়ই জুটি প্রথাকে গুরুত্বও দেওয়া হয়েছে। একসময় দেখেছি, এ ওর সঙ্গে কাজ করবে, ও ওর সঙ্গে কাজ করবে। জুটির বাইরে অন্য কেউ শিডিউলই পাবে না। যে কারণে একসময় অনেক সহশিল্পীর শিডিউল পাইনি। জুটি নিয়ে এমন কিছু হোক, সেটা চাই না; আলাদা করে ভাবিও না।’
জোভান জানিয়ে রাখলেন, দর্শকদের জন্যই কাজ করেন। জুটির এই ভালোবাসা ধরে রাখতে চান। ‘আমার আর নীহার কাজ কম হয়। এটাই আমাদের বিশেষত্ব। একসঙ্গে বেশি কাজ করতে চাই না। আমাদের বিরতি দিয়ে দেখলেই হয়তো দর্শক পছন্দ করেন,’ বলেন জোভান।
জোভান ও নীহা জুটিকে পর্দায় নিয়ে আসা পরিচালক প্রবীর রায় মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এই জুটির সাফল্য নিয়ে শুরু থেকেই আশাবাদী ছিলাম। এই জুটিটা সব সময়ই বিশেষ ছিল। শুরু থেকেই তাদের বলেছি বিশেষত্ব বজায় রাখতে একসঙ্গে কম কাজ করতে। তাহলে দর্শকদের একটা বাড়তি আগ্রহ থাকবে। নীহা কিন্তু সেটাই চেষ্টা করছে। এ কারণে সামনে ওদের সিনেমাতেও জুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো কাজ করলে বড় পর্দাতেও তারা টিকে থাকবে।’
![]() |
| জোভান নীহার ‘আশিকি।’ ছবি: ফেসবুক থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাত্র ১৩ পর্বেই ইতিহাস, ৮.৯ রেটিং পাওয়া ‘মোল্লা নাসিরুদ্দিন’–এর কথা মনে আছে
১৩ পর্বেই ইতিহাস
আলোচিত সেই টিভি শোটি হলো ‘মোল্লা নাসিরুদ্দিন’, যা প্রথম প্রচারিত হয়েছিল ১৯৯০ সালে। প্রধান চরিত্রে ছিলেন রঘুবীর যাদব, যিনি চমৎকার অভিনয়ে প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন জ্ঞানী অথচ বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুকপ্রিয় নাসিরুদ্দিনকে। লোকগাথা অবলম্বনে তৈরি এ ধারাবাহিকে নাসিরুদ্দিনকে দেখা যায় দৈনন্দিন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে, আর প্রতিটি গল্প শেষ হয় রসিকতার আড়ালে মানুষের আচরণ, দুর্বলতা আর বোকামি তুলে ধরে।
কেন এত জনপ্রিয় হয়েছিল
ধারাবাহিকটির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার সরলতা। জোর করে হাসানো বা বাড়াবাড়ি অভিনয়—কোনোটাই ছিল না। নাসিরুদ্দিনের হাস্যরস ছিল চিরায়ত, আবার সমসাময়িকও। রঘুবীর যাদবের অভিনয় চরিত্রটিকে বাস্তব আর হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছিল। সহ–অভিনেতাদের উপস্থিতিও ছিল মনে রাখার মতো, যা গল্পগুলোকে আরও জীবন্ত করেছে। মাত্র ১৩ পর্ব—তবু প্রতিটি পর্বে ছিল প্রজ্ঞা, সামাজিক ব্যঙ্গ আর হাস্যরসের দারুণ সমন্বয়। এমন সিরিজ খুব কমই আছে, যা একই সঙ্গে হাসায় ও ভাবায়।
এখনো জনপ্রিয়
এক মৌসুমে শেষ হলেও ‘মোল্লা নাসিরুদ্দিন’–এর সংলাপের ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যখন টিভিতে কিছুটা হালকা মেজাজের কমেডি ছিল প্রচলিত, তখন সিরিজটি দেখিয়ে দিয়েছিল বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরসও দর্শককে টানতে পারে। পুরো সিরিজ এখন ইউটিউবে বিনা মূল্যে দেখা যায়। ফলে নতুন দর্শকেরাও এটি দেখতে পাচ্ছেন; আগের দর্শকেরাও নস্টালজিক হয়ে পড়ছেন।
আইএমডিবিতে দুর্দান্ত সাফল্য
ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ বা আইএমডিবিতে সিরিজটির রেটিং ৮.৯, যা সিরিজটির তুমুল জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। আলোচিত এই টিভি শো পরিচালনা করেছিলেন আমল আল্লানা। রঘুবীর যাদবের পাশাপাশি আরও ছিলেন জোহরা সেহগাল, মনোহর সিং ও সাওরভ শুক্লা।
ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে
![]() |
| ‘মোল্লা নাসিরুদ্দিন’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1432)
-
▼
July
(235)
-
▼
Jul 07
(13)
- ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে
- কে হতে পারে ইসরায়েলের পরবর্তী শত্রু by জসিম আল-আজাবি
- ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের আগে ন্যাটোর বড় অস্ত্র...
- অযোধ্যা লুট: রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে মোদিকে ...
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ফল ভোগ করতেই হবে -ইরানের স...
- শত ফিলিস্তিনিকে নিজ দেশে নিলো স্পেন
- ইরানকে রাতারাতি শক্তিশালী করতে ২০টি সুখোই-৩৫ দিচ্ছ...
- ২০ শিশুসহ ১০০ ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য আশ্রয় দিল...
- খামেনির শেষ বিদায়ে দেখা গেল আহমাদিনেজাদকে
- নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি ৭১ ব্রিটিশ এমপির
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পর এবার লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ বন্ধে...
- মিষ্টি হাসির একটা মেয়ে দরকার, এভাবেই শুরু... by মন...
- মাত্র ১৩ পর্বেই ইতিহাস, ৮.৯ রেটিং পাওয়া ‘মোল্লা না...
-
▼
Jul 07
(13)
-
▼
July
(235)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...












