Saturday, June 9, 2018
লেবুর গ্রাম বালিয়াখোড়া by রিপন আনসারী

সরজমিন বালিয়াখোড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, বাড়ির আঙ্গিনা ও তার চার পাশে চোখ জুড়ানো লেবু বাগান। এমন কোন বাড়ি নেই যেখানে লেবুগাছ নেই। প্রায় ৩০০ পরিবার এ গ্রামে লেবু চাষ করে আসছে। লেবুর ভরা মওসুমে বাগান থেকে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা লেবু তোলা হচ্ছে। আর এই এখানকার লেবুর বড় চালান যাচ্ছে ঢাকার কাওরান বাজারে। শুধু কাওরান বারই নয় প্রতিদিন পাইকার ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে লেবু ক্রয় করে ট্রাক ভর্তি নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এলাচি, কাগজি ও কলম্বো জাতের লেবু এখানে বেশি উৎপাদন করা হয়। তবে সারা বছরের চাইতে রমজান মাসে এখানকার লেবুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।
এছাড়া বালিয়াখোড়া গ্রামের লেবু শুধু দেশেই নয় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সৌদি আরব, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি করা হয়। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ টন লেবু রপ্তানি করা হয়েছে বিভিন্ন দেশে। কথা হয় বালিয়াখোড়া গ্রামের বেশ কয়েকজন লেবু চাষির সঙ্গে।
গ্রামের প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক নারয়ণ চন্দ্র বলেন, আমাদের গ্রামটি লেবু চাষের জন্য বিখ্যাত। এলাকার এমন কোনো বাসাবাড়ি নেই যেখানে লেবু চাষ হয় না। আমি নিজেই ১৫০ শতাংশ জমির ওপর চারটি লেবুর বাগান করেছি। প্রথম আমার পিতা পার্শ্ববর্তী গ্রামের আলী হোসেনের বাড়ি থেকে ১০টি লেবুর চারা নিয়ে লেবু চাষ শুরু করেন। পিতার মৃত্যুর বাবার সখের লেবু বাগানগুলো পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছি। আমার বাগানগুলোতে এলাচি, কাগজি ও কলম্বো- এই তিন জাতের লেবুর চাষ করছি। লেবু চাষ করে আমার প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে। বালিয়াখোড়া গ্রামের ব্যাংকার কামরুল হাসান জনি বলেন, আমার বাবা চাচারা প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে লেবু চাষ করে আসছেন। এক সময় এ গ্রামের আমরা ৩-৪ পরিবার লেবু বাগান করেছি। তা বেড়ে এখন ২৫০ থেকে ৩০০ পরিবার লেবু চাষ করে আসছে। আমাদের চার বিঘা বাগানে শুধু কলম্ব জাতের লেবু চাষ করেছি। আগে দাম ভালো পাওয়া গেলেও এখন বাজার একটু মন্দা। প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকায় বাগান বিক্রি করে দেই। এলাকার যুবক আতাউর রহমান তোহা বলেন, বালিয়াখোড়া গ্রামটিকে আমরা লেবুর গ্রাম হিসেবে চিনি। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনা, রাস্তার ধার ও তার আশপাশে দেখা যায় শুধু লেবু আর লেবুর বাগান। বাগানের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে কাঁচা লেবুর গন্ধে ম’ম’ করে। লেবু চাষি মফিজুল ইসলাম দীপন বলেন, আমার বাবা প্রয়াত ৩৫ বছর আগে লেবুর বাগান করেন। বাবার মৃত্যুর পর আমরা ভাইয়েরা মিলে এই লেবুর চাষ করে আসছি। বর্তমানে আমার ২৪০ শতাংশ জমিতে লেবুর চাষ হচ্ছে। লেবু চাষ করেই আজ আমরা মোটামুটি স্বাবলম্বী। আমাদের বাগানের লেবু ঢাকার কাওরান বাজার, শ্যামবাজার, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বড় বড় আড়তে পাইকাররা নিয়ে বিক্রি করেন। রমজান মাসের প্রথম দিকে লেবুর দাম অনেক ভালো পেয়েছি। বর্তমানে দাম একটু কম। তারপরও ভালোই লাভ পাচ্ছি।
লেবু চাষি বিলু মিয়া জানান, এখন লেবুর ভরা মওসুম। ঢাকার পাইকাররা আমাদের বাগান থেকে কম দামে লেবু কিনে সেখানে চড়া দামে বিক্রি করেন। শুধু তাই নয়, আমাদের গ্রামের লেবু বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বর্তমানে ১শ’ লেবু ২৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার প্রথম দিকে এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা পর্যন্ত।
বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল খান বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে লেবু চাষ করে আসছি। এখন আমার প্রায় ৮ বিঘা জমিতে লেবু আবাদ হচ্ছে। লেবু চাষ অত্যন্ত লাভজনক বলেই সেই বাবার আমল থেকে চাষ করে আসছি। বছরে বেশ ভালোই লাভ পাচ্ছি। আমার গ্রামে ছোট বড় প্রায় ১৫০টি লেবু বাগান রয়েছে। এলাকার প্রত্যেক বাড়িতেই কমবেশি লেবুর বাগান রয়েছে। অনেক পরিবার লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। আবার অনেকেই সারা বছর লেবু চাষ করেই সংসার চালাচ্ছেন। এক কথায় আমার ইউনিয়নটি লেবু চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানকার লেবু দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করছে পাইকাররা।
বিদেশে বিভিন্ন সবজিজাত পণ্য রপ্তানিকারক ঢাকার ব্যবসায়ী মো. ফারুক খান বলেন, চলতি মৌসুমে সৌদি আরব, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৫ টন লেবু রপ্তানি করা হয়েছে। বেশিরভাগ লেবুই তিনি সংগ্রহ করেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া গ্রাম থেকে।
ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ উজ্জামান খান জানান, ঘিওরের বালিয়াখোড়া ও সোদঘাটা গ্রামের লেবু চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক চাষি। এ অঞ্চলের লেবুর কদর রয়েছে সারা দেশে। শুধু তাই নয়, বিদেশেও যাচ্ছে এখানকার লেবু। কৃষি বিভাগ থেকে ওই এলাকার লেবুচাষিদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ইসরাইল একটি ক্যান্সার, মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হলে ফিলিস্তিন পুনরুদ্ধার সম্ভব’
![]() |
| ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেড় মাসে সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন অপেক্ষায় এক ডজন by নূর মোহাম্মদ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গত বছর কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়নি সরকার। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ‘আনোয়ার খান মর্ডান ইউনিভার্সিটি’র অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তখন ঢাকায় আর কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন না দেয়ার ব্যাপারে সরকারের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। তা লঙ্ঘন করে গত ২৯শে জানুয়ারি ‘জেড এন আর এফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গুলশানে এটি স্থাপন করা হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ড. এম জুবায়দুর রহমান। এছাড়া গত ২৫শে এপ্রিল রাজশাহী ও বান্দরবানে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যথাক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি হলো- ‘শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনির্ভাসিটি’ ও ‘বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়’। গত ১৬ই এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ‘খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়’ ও ‘আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’র অনুমোদন দিয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় দুটি যথাক্রমে খুলনা ও রাজশাহীতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয় দুটির উদ্যোক্তা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম। এর আগে তিনি ‘আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র অনুমোদন নিয়ে পরিচালনা করছেন। ইউজিসির এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপি ও রাজনৈতিক নেতারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি আবেদন করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গ্রিন সিগন্যাল আসায় ইতিমধ্যে ইউজিসি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে বিরোধীদলীয় নেতার নামে ‘রওশন এরশাদ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ উদ্যোক্তা আবুল হোসেন নামে একজন শিক্ষা ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিলে সনদ ব্যাণিজ্যের আশঙ্কা থাকায় ইউজিসি নেতিবাচক পরিদর্শন প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফের প্রতিবেদন পাঠাতে গত মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে। এটিও যেকোনো সময় অনুমোদন পেতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কানাডায় বাংলাদেশি ডলির জয়

ডলি বেগম স্কারবোরোতে ‘কমিউনিটি ওয়ার্কার’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। তার এই পরিচিতি নির্বাচনে জয়লাভ করতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি স্থানীয় ‘হাইড্রো পাবলিক ক্যাম্পেইন’ এর কো-অর্ডিনেটর। পাশাপাশি স্কারবোরো হেলথ কোয়ালিশনের কো-চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ডেন উডস কমিউনিটি সেন্টারের ভাইস-চেয়ারম্যান। বাল্যকালেই তিনি বাংলাদেশ থেকে কানাডায় পাড়ি জমান। সেখানে উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। যোগ দেন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টিতে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ডলির জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়। ১১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি কানাডায় যান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাত বছরে মাদকের মামলা ৭২ হাজার, নিষ্পত্তি ২০ হাজার by আমানুর রহমান রনি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে সারাদেশে এই প্রতিষ্ঠানটি ৮ হাজার ৭৪৯টি মামলা দায়ের করে। একই বছর আদালতের মাধ্যমে অধিদফতরের দায়ের করা মামলার মাত্র ২ হাজার ৩৩৫টি নিষ্পত্তি হয়। ২০১২ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি মামলা দায়ের করে ১০ হাজার ১৪টি, ওই বছর আদালতে তাদের মামলা নিষ্পত্তি হয় ৩ হাজার ৪৯৪টি। একইভাবে ২০১৩ সালে তারা মামলা করে ১০ হাজার ১১১টি আর আদালতে তাদের পুরনো মামলা নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ৬৬টি। ২০১৪ সালে দায়ের হওয়া ১১ হাজার ৭২৩টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৬৮৯টির। ২০১৫ সালে দায়ের করা মামলার সংখ্যা হচ্ছে ১০ হাজার ৫৪৮টি, এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৮৭৩টির। ২০১৬ সালে মামলা হয় ৯ হাজার ৭৭৩টি, এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৫ হাজার ৩৪৮টি। ২০১৭ সালে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে মোট ১১ হাজার ৬১২টি এবং গত বছর তাদের পুরনো মামলা নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ৫৩৯টি।
অর্থাৎ ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ৭২ হাজার ৫৩০টি মাদকসংক্রান্ত মামলা করেছে। তবে এই সাত বছরে দেশের আদালতে এই প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা পুরনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজার ৩৪৯টি। আবার নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ৯ হাজার ৯৫২টি মামলার ১১ হাজার ৬৩৪ জন আসামি খালাস পেয়েছে, যা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মোট মামলার ৫২ ভাগ আসামি।
গত বছরের ডিসেম্বরে পুলিশ সদর দফতরের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে পুলিশের দায়ের করা মাদকসংক্রান্ত মামলার প্রায় ৬৪ ভাগ আসামি খালাস পেয়েছে।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণ বিষয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একজন উপপরিচালক বলেন, ‘মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় নির্দিষ্ট সময়েই। তবে সাক্ষী হাজির করতে না পারায় মামলার কার্যক্রমে ধীরগতি আসে।’
তিনি বলেন, ‘মাদক মামলার জন্য স্পেশাল কোর্ট না হলে মাদক মামলা কমবে না, বাড়তেই থাকবে। দ্রুত আলাদা কোর্ট করে মামলা নিষ্পত্তি করা গেলে এই হাজার হাজার মামলা কমে আসবে।
জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। প্রতিবছরই মাদকের মামলা বাড়ছে। নিষ্পত্তিও হচ্ছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে অনেক কিছু সম্পৃক্ত, তদন্ত, সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করা এবং মাদকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এসব কারণে হয়তো মামলাগুলোর রায় হতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে নিষ্পত্তি হচ্ছে।’
মামলার বিচারের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে আইনজীবী আরিফুর রহমান আরিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে হতে হলে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ উভয়কেই দায়িত্বশীল হতে হবে। তাহলে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমাদের আদালতে সবক্ষেত্রে এই সহযোগিতা থাকে না। কখনও কখনও অকারণেই সময় চেয়ে আবেদন, নিয়মিত সাক্ষী না আসা, প্রতিবেদন দাখিলে দেরি ইত্যাদি কারণে মামলা বিচারিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আদালতে মামলার জটের কারণেও একেকটি মামলার তারিখ ধার্য হয় অনেক দিন পরপর। এতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটের পথের দুঃখ: টাকা উড়ে রেকারে by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চালানো, রুট পারমিট না থাকা, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা বা গাড়ির ফিটনেস না থাকাসহ নানা কারণে রেকারিং করা হয়ে থাকে। তবে সিলেটে সবচেয়ে বেশি রেকারিং হয় ‘রং পার্কিং’এর অভিযোগে। কারণ এর জন্য খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় না ট্রাফিক সদস্যদের। সিলেট নগরীতে পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। তাই যেকোনো জায়গায় গাড়ি রাখলেই রং পার্কিংয়ের দোহাই দিতে পারেন ট্রাফিক সদস্যরা। রেকারে তোলার বিল হিসেবে বাড়তি জরিমানা নেয়া হলেও কোনো গাড়িই রেকারে তোলেন না। ট্রাফিকের একজন কনস্টেবলকে সঙ্গে দিয়ে গাড়িচালককে দিয়েই গাড়ি পাঠানো হয় ট্রাফিক অফিসে। আর রেকারটি পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকে শোভা হিসেবে, আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য।
গাড়িচালকদের জন্য আতঙ্কের কারণ হলেও সিলেটে রেকারিং ট্রাফিক বিভাগের টাকা আয়ের বড় একটি উৎস হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন রেকার বাবদ বিশাল অঙ্কের টাকা জমা হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগে। অভিযোগ রয়েছে, এ টাকার কোনো অংশই সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। পুরোটাই ভাগাভাগি হয়ে যায় নিজেদের মাঝে। রেকার ব্যবসা জমজমাট হওয়ায় দ্রুতই ফুরিয়ে যায় রেকার বিলের রশিদ বইও। সামাল দিতে তাই স্থানীয়ভাবেই ছাপানো হয় বইগুলো। সরকারি ছাপাখানা (বিজি প্রেস) থেকে এ ধরনের রশিদ বই ছাপিয়ে আনার কথা থাকলেও একটি সূত্রে জানা গেছে নগরীর লামাবাজারের একটি প্রেস থেকেই ছাপানো হচ্ছে রশিদ বই। রেকারিংয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন যানবাহনের জন্য হার নির্ধারিত থাকলেও এক্ষেত্রেও কোনো নিয়মনীতিই মানা হচ্ছে না।
এসএমপির ট্রাফিক বিভাগসূত্রে জানা গেছে, তিন চাকার অটো রিকশার জন্য রেকার বিলের হার হচ্ছে ৬শ’ টাকা, টেম্পো বা হিউম্যান হলারের জন্য বিল হচ্ছে ৯শ’ টাকা, মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রোবাস, পিকআপের জন্য বিল হচ্ছে ১২শ’ টাকা, ট্রাকের জন্য ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তা না হলে গাড়ি আটকে রাখা হয় দিনের পর দিন।
প্রাইভেট কার বা বড় গাড়ি সাধারণত রেকারিংয়ের (রেকারের আওতায় আনা) শিকার হয় না। কারণ এ সকল গাড়ির মালিকরা প্রায়ই প্রভাবশালী হয়ে থাকেন। এদের ছুঁয়ে ঝামেলা বাড়াতে চান না রেকারের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা। তাই যা ঝড় যায়, তা তিন চাকার অটোরিকশার উপর দিয়েই যায়। প্রতিদিনই পয়েন্টে পয়েন্টে রেকারিং নিয়ে ঝামেলা হয় ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে দরিদ্র অটোরিকশাচালকদের। রেকারিং থেকে বাঁচতে তারা হাতে-পায়েও ধরেন ট্রাফিক সদস্যদের। কিন্তু কাজ হয় না কিছুতেই। কান্নাকাটি করেও মন গলাতে পারেন না। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশাল অঙ্কের এক বাণিজ্যের সুতো। তাই ছাড় দেয়ার উপায় থাকে না রাস্তায় দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সদস্যদের। উপর থেকেই তাদের কাছে রেকারিংয়ের নির্দেশনা রয়েছে। অলিখিত একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে প্রতিদিন নগরীতে অন্তত ৫০টি গাড়ি রেকারে তুলতেই হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টের জন্য সর্বনিম্ন টার্গেটও বেঁধে দেয়া আছে। নগরী বন্দরবাজারে অন্তত ১০টি, আম্বরখানায় ১০টি, হুমায়ূন রশীদ স্কয়ারে ৪টি, চণ্ডিপুলে ৪টি, রিকাবীবাজারে ২টি সুবিদবাজারে ২টি, টিলাগড়ে ২টি গাড়িকে রেকারিং করতে হয়। রাস্তায় দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবেই এ টার্গেট পূরণ করতে হয়। রেকারিংয়ের চাপ সইতে না পেরে অনেক ট্রাফিক সার্জেন্টই ইতোমধ্যে সিলেটে ছেড়ে বদলি নিয়ে চলে গেছেন। এমনই এক ট্রাফিক সার্জেন্ট বললেন, উপরের নির্দেশে রেকারিং করতে গেলে কোনো মানবিক গুণই বাঁচানো সম্ভব নয়। সিলেট থেকে সরে গিয়ে বেঁচেছেন বলে মনে করেন এ সার্জেন্ট।
এসএমপিতে সব মিলিয়ে রেকার আছে ৩টি। এর মধ্যে একটির মালিকানা নিজেদের হলেও বাকি দুটো ভাড়ায় এনে কাজ সারা হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ভাড়ায় আনা দুটো রেকারই মাঠে সক্রিয় রয়েছে। কভাড়ার হিসেবটাও কোনো নিয়মনীতির আওতায় নেই। এখানেও রয়েছে ভাগাভাগির হিসাব। একটি সূত্রে জানা গেছে, রেকার বিল হিসেবে যা আদায় হয় তা ভাগাভাগি হয় ‘ফিফটি-ফিফটি’ হিসেবে।
রেকারিং নিয়ে নানা অভিযোগের বিপরীতে কথা হয় এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) নিকুলিন চাকমার সঙ্গে। রশিদ বই ছাপানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে নিজস্ব ইউনিট থেকে রশিদ ছাপাতে সমস্যা নেই। রেকারিং বাবদ আদায়কৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আদায়কৃত টাকা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। প্রায় চার বছর ধরে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব সামলালেও অনেক প্রশ্নেরই জবাব দিতে পারেননি পুলিশের এ কর্মকর্তা। অনেক তথ্যই জানা নেই বলে, উপকমিশনারের (ট্রাফিক) কাছ থেকে জেনে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। নিকুলিন চাকমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো গত ৬ মাসে বা এক মাসে কতটা গাড়ি রেকারিং করা হয়। রেকারিং বাবদ গড়ে মাসে কত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়-এমন প্রশ্নে তিনি উপকমিশনারকেই দেখিয়ে দেন। নিকুলিন চাকমার দেখানো পথে তথ্য পাওয়ার আপাতত সুযোগ নেই। কারণ ট্রাফিক বিভাগের মূল দায়িত্ব যিনি সামলাচ্ছেন তিনি বর্তমানে অন্যের উপস্থিতিতে শুধু রুটিন কাজই করছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার তোফায়েল আহমদ প্রশিক্ষণের জন্য গত ২২শে মে চীনে গেছেন। ফিরবেন আরো দিন দশেক পর।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে জোগাড় ও ব্যয় হবে বাজেটের টাকা
টাকা জোগাড় হবে যেভাবে:
![]() |
| যেভাবে জোগাড় হবে বাজেটের টাকা |
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন কর বাবদ আদায় করা হবে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর বাইরের বিভিন্ন খাত থেকে কর বাবদ আদায় হবে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। কর ছাড়া অন্য খাত থেকে রাজস্ব আদায় হবে ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এভাবে মোট রাজস্ব আয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী,বাজেটে ঘাটতি থাকা ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা জোগাড় করা হবে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে। এরমধ্যে বৈদেশিক নিট ঋণ বাবদ নেওয়া হবে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ পাওয়া যাবে ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ ঋণ অর্থাৎ ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হবে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হবে ১০ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা।
টাকা ব্যয় হবে যেভাবে:
![]() |
| যেভাবে ব্যয় হবে বাজেটের টাকা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জমে উঠেছে ফুটপাথে ঈদ কেনাকাটা by মরিয়ম চম্পা

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর ফুটপাথ যেন একেকটি হাট। যদিও এখানে ক্রেতা আকর্ষণে নেই র্যাফেল ড্রর ব্যবস্থা। তবে তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা এই অস্থায়ী দোকানগুলো। অপেক্ষাকৃত কম দামে ভালো জিনিস কিনতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, গৃহিণী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষেরা আসছেন এসব দোকানে। রাজধানীর নিউমার্কেট, ফার্মগেট, মতিঝিল, পল্টন, বায়তুল মোকাররম, মালিবাগ মৌচাক, গুলিস্তানসহ রাজধানীর বেশকিছু এলাকা ঘুরে ফুটপাথের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় দেখা যায়, ফার্মভিউ সুপার মার্কেটের সামনে থেকে শুরু করে তেজগাঁও কলেজ গলির শেষ মাথা পর্যন্ত ফুটপাথের দোকানগুলোতে ভিড়। ওয়ান পিস, থ্রিপিস, ওড়না, স্যালোয়ার, এ্যান্টিকের অর্নামেন্টের দোকান, ব্যাগ, জুতা, কসমেটিকস থেকে শুরু করে নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পসরা বসেছে ফুটপাথে। সর্বত্রই মানুষের উপচেপড়া ভিড়। নারায়ণগঞ্জ থেকে পুরো পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছেন চাঁদনী রহমান ও তার স্বামী মো. সাগর হোসেন। চাঁদনী বলেন, এ বছর আমরা নতুন বিয়ে করেছি। শ্বশুরবাড়িতে আমার প্রথম ঈদ। আমার স্বামীর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই ঈদের আগে শপিং করার আর সময় পাবো না। তাছাড়া যাত্রাবাড়ী হয়ে নারায়ণগঞ্জ যেতে কয়েক ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে হবে। তাই খুব সকালে কেনাকাটা করতে এসেছি। তিনি জানান, রাজধানীর একটি নামকরা শপিং কমপ্লেক্স থেকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করলেও আরো কিছু কেনার জন্য ফুটপাথে চলে এসছেন। চাঁদনী বলেন, ফুটপাথের দোকানগুলোতে সবই সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়।
প্রতি বছরের মতো এবছর নিউমার্কেটের ফুটপাথ হকারশূন্য হলেও ইডেন কলেজের সামনে রীতিমতো ঈদের হাট বসেছে। জুতা সেলাই থেকে শুরু করে সব উপকরণই আছে এখানে। ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা মজা করে এই এলাকার নাম দিয়েছেন ‘ইডেন প্লাজা’। এখানে ইডেন কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যামফোর্ড, ইউল্যাব, সিটি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেনাকাটা করতে আসেন। মেয়েদের পোশাকসামগ্রী শাড়ি, থ্রি-পিস, শিশুদের পোশাক, থান কাপড়ের দোকান, জুয়েলারি শপ, ব্যাগ, স্যান্ডেল-জুতা, শিশুদের খেলনাসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য পণ্যের সমাহার। ইডেন প্লাজার দোকানিরা জানান, এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে জর্জেটের ওপর কাজ করা থ্রি-পিস, হাতাকাটা লং গাউন, হাতাওয়ালা ফ্লোর টাচ গাউন, ভারতীয় বুটিকস আইটেমের থ্রি-পিস, লন, ভয়েল থ্রি-পিস। এ ছাড়া দেশীয় থ্রি পিসের কাপড়ের মধ্যে প্রিন্টের থ্রি-পিস, ব্লক ও বাটিকের বিভিন্ন ডিজাইন করা থ্রি পিস। পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কার, গহনা, স্যান্ডেল ও ব্যাগ, সেই সাথে প্রসাধনীও বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটের দুই নং গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দোকানের সামনের ফুটপাথের দোকানগুলোতে জুতা থেকে শুরু করে শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস, কী নেই এখানে! বরাবরই নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাথগুলো থাকে লোকে লোকারণ্য। ঈদ উপলক্ষে তা আরো অনেক বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাথ ঘুরে দেখা গেছে, ছেলেদের শার্ট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা করে, জিনস প্যান্ট ৩৫০ থেকে শুরু ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, এছাড়া টি-শার্ট ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ৪৫০ থেকে ১৫০০ টাকা, শাড়ি ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা, শিশুদের জিনস প্যান্ট ৩০০ টাকা, গেঞ্জির সেট ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
June
(201)
-
▼
Jun 09
(8)
- লেবুর গ্রাম বালিয়াখোড়া by রিপন আনসারী
- ‘ইসরাইল একটি ক্যান্সার, মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হলে ফিল...
- দেড় মাসে সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন অপেক্ষায় এক ড...
- কানাডায় বাংলাদেশি ডলির জয়
- সাত বছরে মাদকের মামলা ৭২ হাজার, নিষ্পত্তি ২০ হাজার...
- সিলেটের পথের দুঃখ: টাকা উড়ে রেকারে by চৌধুরী মুমতা...
- যেভাবে জোগাড় ও ব্যয় হবে বাজেটের টাকা
- জমে উঠেছে ফুটপাথে ঈদ কেনাকাটা by মরিয়ম চম্পা
-
▼
Jun 09
(8)
-
▼
June
(201)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


