Monday, July 24, 2017

আঙুলবিহীন হাতেই এইচএসসি জয়

সেই ছোট বেলায় আগুনে পুড়ে দু’হাতের সবক’টি আঙুল হারায় শাহ আলম। কিন্তু মনোবল হারায়নি কখনোই। তাই শিক্ষা অর্জনের বাসনায় আঙুলবিহীন হাত নিয়েই স্থানীয় এক ব্র্যাক স্কুলে ভর্তি হয়। তবে পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে পরিবারের লোকজনও ভেবেছিলেন, পড়তে গেলে লিখতেও হয়। যেহেতু তার দু’হাতের একটিও আঙুল নেই, সেহেতু পড়ালেখায় খুব বেশি এগোতে পারবে না এ শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু সবার জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দু’হাতের কব্জির সাহায্যেই অ-আ, ১-২ লিখতে থাকে সে। একপর্যায়ে সেই লেখা হয়ে ওঠে আর দশজন শিক্ষার্থীর মতোই সুন্দর। আর তাই প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে জেএসসি ও এসএসসি জয়ের পর এবার সেই শাহ আলমই অভাবনীয় সাফল্য এনেছে এইচএসসির ফলেও। রোববার প্রকাশিত ফলে যেখানে অনেক কলেজেরই কম-বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। সেখানে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার অদম্য মেধাবী শাহ আলমের আঙুলবিহীন হাতের এ সাফল্য সত্যিই গর্বিত করে তুলেছে পরিবারসহ পাড়া-প্রতিবেশীদেরও। তার বাড়ি উপজেলার পূর্ব বিছনদই গ্রামে। হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে এইচএসসি বাণিজ্য বিভাগ থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। শাহ আলমের কয়েকজন বন্ধু জানিয়েছে, আঙুলবিহীন হাতে খুব দ্রুত লিখতে পারে শাহ আলম। এতে তার লেখা আর দশজন শিক্ষার্থীর চেয়েও অনেক সুন্দর। শুধু তাই নয়, শাহ আলম তার দু’হাতের কব্জি ও পায়ের সাহায্যে জ্যামিতি আঁকতে বেশ পারদর্শী। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় বেশ আগ্রহ তার। আঙুল না থাকলেও কব্জির সাহায্যেই যেমন ক্রিকেটের বল করতে পারে, তেমনি ব্যাট ধরেও ভালো রান তুলতে পারে বলে জানায় শাহ আলমের সহপাঠীরা। জানা যায়, উপজেলার পূর্ব বিছনদই গ্রামের একরামুল-মরিয়ম দম্পতির ছেলে শাহ আলম। বাবা বর্গাচাষী। মা গৃহিণী। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে সে চতুর্থ। শিশুকালে তার দু’হাতের কবজি পর্যন্ত আগুনে পুড়ে যায়। দরিদ্র বাবা-মা চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত দুই হাতের সবগুলো আঙুলই হারাতে হয় শাহ আলমকে। কিন্তু ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা ছিল তার।
স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলে লেখাপড়া শুরু। এরপর সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফল করায় পড়ালেখার সেই ইচ্ছে শক্তি আরও বেড়ে যায়। তবে পরিবারের অভাব-অনটন প্রায় সময় বাদ সাধলেও থেমে যায়নি শাহ আলম। খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে ভালো ফল করে এবার এইচএসসিতে ৩.৪২ পেয়ে বেশ কৃত্বিতের সঙ্গে পাস করেছে। শাহ আলম জানায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার চেয়েও সংসারের অভাব-অনটনই তার পড়ালেখায় সবচেয়ে বেশি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সব বাধা পেরিয়ে ভবিষ্যতে ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে অদম্য মেধাবী শাহ আলম। জানতে চাইলে শাহ আলমের মা মরিয়ম বেগম বলেন, এক বছর বয়সে হঠাৎ একদিন হামাগুড়ি দেয়ার সময় উঠানের ভুসির আগুনে পড়েছিল শাহ আলম। টাকার অভাবে ওই সময় ভালো চিকিৎসা করতে না পারায় তার সবগুলো আঙুল হারাতে হয়। তবে ৫ বছর বয়সে দু’হাতের আঙুল হারানো শাহ আলম পড়ালেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। তাই সন্তানের ইচ্ছা মেটাতেই বাধ্য হয়ে স্কুলে ভর্তি করে দেই। আজ সেই ছেলে আমার এইচএসসি পাস করেছে। এতে আমার কি যে ভালো লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না বলে জানান মা মরিয়ম বেগম। বাবা একরামুল বলেন, তার ছেলে আগুনে দুটো হাতের সবগুলো আঙুল হারালেও মনোবল হারায়নি কখনও। আর তাই সে এখন লেখাপড়া করে ব্যাংকে চাকরি করবে বলে স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সাত সদস্যের অভাব-অনটনের সংসারে চাহিদা মেটাতে গিয়ে ছেলের সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হবে কিনা- এমন শঙ্কা বাবা একরামুলের। হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান যুগান্তরকে বলেন, শারীরিক আর সাংসারিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেই শাহ আলম কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেছে। সমাজের বিত্তবানরা তার পাশে দাঁড়ালে ভবিষ্যতে শাহ আলম আরও ভালো করবে বলে জানান তিনি।

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কৃষককে হত্যা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় খলিল নামে এক কৃষককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সকালে উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বিশ্রামপুর গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত কৃষক খলিল উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের আগাটলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব জানান, খলিলকে মোবাইলফোনে ডেকে নিয়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ভুট্টাক্ষেতের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহতের লাশ একটি ভুট্টাক্ষেতে দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীরা পুলিশে খবর দেয়। সোমবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ফেল করায় এইচএসসি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে অন্তর দাস (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজের ছাত্র। শারীরিক প্রতিবন্ধী অন্তর দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার ভোলাচং দাস পাড়ার গুরুদাসের ছেলে। সে দ্বিতীয় বারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ফেল করায় আত্মহত্যা করেছে বলে জানায় এলাকাবাসী। জানা যায়, অন্তর দাস নবীনগর সরকারি কলেজ থেকে গতবছর মানবিক শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এক বিষরে অকৃতকার্য হয়। এবার সেই বিষয়টিতে পরীক্ষা দেয়। রোববার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে এবারও সে অকৃতকার্য হয়। এই অভিমানে রাতে কীটনাশক ঔষধ পান করে। পরিবারের লোকজন তাকে নবীনগর সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কতর্ব্যরত চিকিৎসক ডা. হিমেল খান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের জেল সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, টঙ্গী থানায় ২০১৩ সালে হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রমজান ওরফে মকবুল প্রায় এক বছর ধরে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি ছিলেন। রোববার রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে কারা হাসপাতাল নেয়া হয়। পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওই হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জেল সুপার আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, ৪ জেলে নিখোঁজ

ভোলার মনপুরায় চরনিজাম তিন চর সংলগ্ন সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ট্রলারের ১১ মাঝিকে উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চারজন। রোববার রাতে উপজেলার চরনিজাম তিন চর সংলগ্ন সাগরে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। নিখোঁজ জেলেরা হলেন- কামাল মাঝি (৫৮), বাচ্চু (৪৫), আকাশ (৩৫), সাইফুল (২৮)।
এদের সবার বাড়ি চরফ্যাসন উপজেলার চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ এলাকায়। চরনিজাম পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে জানান, চরনিজামের আবু মাঝির গদির কামাল মাঝির ট্রলার তিন চর সংলগ্ন সাগরে মাছ ধরা অবস্থায় ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এতে কামাল মাঝিসহ অপর চার জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ জানায়, রাতেই নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে চর নিজাম থেকে ৮টি ট্রলার সাগরে গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি চরফ্যাসনের ঢাল চর সংলগ্ন সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারে যাওয়া ট্রলারগুলো এখনও ফিরে আসেনি। মনপুরা থানার ওসি শাহীন খান যুগান্তরকে জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুরে অপহৃত সেরেস্তাদার উদ্ধার, নারী গ্রেফতার

মুক্তিপণের দাবিতে গাজীপুর জেলা জজ আদালতের অপহৃত সেরেস্তাদার আব্দুর রহিমকে রোববার মধ্যরাতে টঙ্গী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গাজীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গাজীপুর জেলা জজ আদালতের অপহৃত সেরেস্তাদার আব্দুর রহিমের মুক্তিপণের টাকা নিতে গিয়ে ঢাকা থেকে রোববার বিকালে এক নারীকে আটক করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যমতে রাতে উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ভিক্টিমকে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের গাড়ি অনুসরন করতে থাকে এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী এলাকা পর্যন্ত যায়। এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভিক্টিমবহনকারী গাড়িটি টঙ্গীর স্টেশনরোড এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে পুলিশ অপহৃত সেরেস্তাদার আব্দুর রহিমকে উদ্ধার করে। পুলিশ ও অপহৃতের সহকর্মী শাহীন আলম এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তরুবিথী এলাকায় স্বপরিবারে থাকেন গাজীপুর জেলা জজ আদালতের সেরেস্তাদার (প্রধান তুলনাকারী) আব্দুর রহিম। শনিবার গাজীপুর জেলা জজ আদালতের নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব পালন শেষে আব্দুর রহিম বিকাল ৫টার দিকে অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পথে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে অপরহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে রাত সাতটার দিকে আব্দুর রহিমের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ফোন করে তিনি নিজেই তার সহকর্মী শাহীন আলমকে অপহরণের কথা জানান। কথা বলার সময় অপহরণকারীরা তাকে মারধর করছিল। এসময় অপহরণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য অপহরণকারীরা রহিমের পরিবারকে ৬টি মোবাইল বিকাশ নম্বর প্রদান করে। অপহরণকারীদের কথা অনুযায়ী অপহৃতের স্বজনরা ওই ৬টি মোবাইল নম্বরে মুক্তিপণ বাবদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু অপহরণকারীরা আব্দুর রহিমকে মুক্তি না দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ ৫ লাখ টাকা দাবি করে। এসময় মুক্তিপণের টাকা না দিলে অপহৃত আব্দুর রহিমকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়া হয়। এরপর থেকে আব্দুর রহিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকে।

মেয়ের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার

গোপালগঞ্জে মেয়ের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত  কাজী মাহাবুব হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত বাবা কাজী মাহাবুব হোসেন শহরের পাবলিক হল রোড মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি হরিদাসপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন। সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে দলিল বেচাকেনা ও লেখার কাজ করতেন তিনি। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, কাজী মাহবুবের মেয়েকে (অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী) আকাশ নামের স্থানীয় এক কিশোর প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত।
তাকে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েও সে শোনেনি। পরে এ বিষয়ে মাহবুব পুলিশে অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সম্প্রতি আকাশকে ধরে নিয়ে যায়। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায় আকাশ। এর জের ধরে গত ১৫ জুলাই আকাশ ও তার বন্ধুরা বাড়ির সামনে মাহবুবকে ছুরিকাঘাত করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৭ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়। ওসি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

তৈরি পোশাকসহ নয় খাতে দক্ষ কর্মীর সংকট

দেশে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে পৌনে দু’লাখ দক্ষ শ্রমিকের সংকট রয়েছে পোশাক শিল্পে। নির্মাণ খাতে রয়েছে ২ লাখ অভিজ্ঞ কর্মীর অভাব। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নার্সিং ও মেডিকেল টেকনিশিয়ান মিলে দক্ষ কর্মীর ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে পৌনে দু’লাখ। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্টটি হস্তান্তর করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক কেএস মুর্শেদী। ২৬৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কৃষিজাত পণ্য খাতসহ নয়টি খাতের দক্ষ কর্মীর সংকটের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৮৮ হাজার, হালকা প্রকৌশল খাতে প্রায় ৩৬ শতাংশ দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। এছাড়া কৃষিজাত পণ্যে সার্বিকভাবে ৭৬ শতাংশ দক্ষ কর্মীর সংকট রয়েছে। এর মধ্যে পুরোপুরি দক্ষ কর্মীর সংকট হচ্ছে ৭৭ শতাংশ, আধাদক্ষ ৭৫ শতাংশ এবং অদক্ষ ৭৫ শতাংশ। হসপিটালিটি ও পর্যটন খাতে আধাদক্ষ ৬২ হাজার, অদক্ষ ১ লাখ ২৬ হাজার এবং দক্ষ ৩৭ হাজার কর্মীর অভাব রয়েছে। আগামীতে তৈরি পোশাকসহ ৯টি খাতে কর্মী ও দক্ষ কর্মীর চাহিদা, বর্তমান অবস্থাসহ নানা বিষয় নিয়ে গবেষণার পর ‘স্কিল গ্যাপ এনালিসিস ইন ডিফরান্ট সেক্টর’ নামের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বাকি খাতগুলো হল- কৃষিজাত পণ্য, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল, চামড়া ও জাহাজ শিল্প। ২০২০ সালে দেশের তৈরি পোশাকসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ৭ কোটি ৩০ লাখ কর্মীর প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬০ লাখ কর্মীর প্রয়োজন হবে পোশাক খাতে।
পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য খাতে কর্মীর প্রয়োজন হবে ২৯ লাখ। কিন্তু বর্তমানে এসব খাতে বড় ধরনের দক্ষ কর্মীর সংকট রয়েছে। সংকট মেটাতে ২০২১ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ লাখ কর্মীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। এটা করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখা সম্ভব হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগ নেই। এজন্য কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থানের পরিমাণ আরও বাড়বে। দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘দক্ষ কর্মীর অভাব আগে থেকেই ছিল। প্রতিটি বাজেট বক্তব্যে আমি এ বিষয়টি আনার চেষ্টা করেছি। আজকের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, কৃষিজাত পণ্যে উৎপাদনে দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে। জাহাজ শিল্পে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার ৫ লাখ কর্মী প্রশিক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন। কারণ যে পরিমাণ উন্নয়ন হচ্ছে এর জন্য দক্ষ শ্রমিক খুবই প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, শুধু বিদেশে দক্ষ শ্রমিক রফতানির জন্য নয়, অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে এর প্রয়োজন রয়েছে। বিআইডিএসের মহাপরিচালক কেএস মুশের্দী অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনসহ মন্ত্রণালয় ও বিআইডিএসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২৬৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কৃষিজাত পণ্য খাতসহ নয়টি খাতের দক্ষ কর্মীর সংকটের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, কৃষিজাত পণ্যে সার্বিকভাবে ৭৬ শতাংশ দক্ষ কর্মীর সংকট রয়েছে। এর মধ্যে পুরোপুরি দক্ষ কর্মীর সংকট হচ্ছে ৭৭ শতাংশ, আধা দক্ষ ৭৫ শতাংশ এবং অদক্ষ ৭৫ শতাংশ। নির্মাণ খাতে ২ লাখ অভিজ্ঞ কর্মীর সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে নার্সিং পেশায় ৯৬ হাজার এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ান ৮২ হাজার কর্মী কম আছে। হসপিটালিটি ও পর্যটন খাতে আধা দক্ষ ৬২ হাজার, অদক্ষ ১ লাখ ২৬ হাজার এবং দক্ষ ৩৭ হাজার কর্মীর অভাব রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, তৈরি পোশাক শিল্পে এ মুহূর্তে পৌনে ২ লাখ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৮৮ হাজার, হালকা প্রকৌশল খাতে প্রায় ৩৬ শতাংশ দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। বিআইডিএসের গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘আগামী ২০২০ সাল নাগাদ কৃষিজাত পণ্য খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে ২৯ লাখ। একই সময়ে পোশাক শিল্পে প্রয়োজন হবে ৬০ লাখ। স্বাস্থ্য সেবা খাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার, চামড়া খাতে ১৮ হাজার, আইটি খাতে ২০ হাজার, নির্মাণ খাতে ৪৪ লাখ, হালকা প্রকৌশল খাতে ৬৮ হাজার, জাহাজ শিল্প খাতে ৭ হাজার দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। এ সংকট পূরণে ২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পে ১৫ লাখ কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বাকি ৮টি খাতে আরও ৪০ লাখ কর্মীকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতে নার্সিং ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানের প্রকৃত ঘাটতির ব্যাপারে নীতিগত স্বীকৃতি দিয়ে তা পূরণে দ্রুত গুণগত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। একইভাবে কৃষিজাত পণ্য খাতে গুণগত মান নিশ্চিত করতে ফুড টেকনোলজিস্ট এবং ফুড প্রকৌশলী গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পোশাক শিল্পে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মী গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।

চার্টার্ড ক্রেডিটের বিরুদ্ধে ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

চার হাজার গ্রাহকের প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত চার্টার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে পুলিশি রিমান্ডে নেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের দুই সদস্যকে। ১২ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পরিষদের অন্য সদস্যরা এখন পলাতক। কারণ তারা সবাই অর্থ আত্মসাৎ মামলার আসামি। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। পুলিশ এবং সমবায় অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সমবায় অধিদফতরের থানা সমবায় কর্মকর্তা (রমনা-মতিঝিল) তাজুল ইসলাম জানান, চার্টার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেশ আগের। অধিদফতরের হস্তক্ষেপে এতদিন আমানতকারী বা গ্রাহকদের জমানো টাকা কিছু কিছু ফেরত দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা একেবারেই টাকা ফেরত দিচ্ছে না। অনেককে টাকার বিপরীতে ব্যাংক চেক দেয়া হলেও সেসব চেক ডিজঅনার হয়। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি আমানতকারীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে সেই পরিমাণ সম্পদ ওই প্রতিষ্ঠানের নেই। তাই ধারণা করা হচ্ছে, পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা পারস্পরিক যোগসাজশে গ্রাহক বা আমানতকারীদের অর্থ পাচার করেছেন। সমবায় কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি আমানতকারী তানজিয়া খান, তানিম খান, তাহমিদা হোসেন, শাহানা হোসেন, ওমর আসাদ, রওশন আরা বেগম, আজিজুল হক এবং মাহমুদা খানম ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, তাদের আমানতের তিন কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না চার্টার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ লিমিটেড। সরেজমিন ওই অফিসে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২০ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য খান মো. ফিরোজ কবির (৬৫) এবং আজিজুর রহমানকে (৭৪) আটক করে মতিঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই আমি বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করি।’ তিনি জানান, দু’জনকে গ্রেফতারের পর অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সরিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করতে সমবায় অধিদফতরের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান। মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রব্বানী যুগান্তরকে জানান, যাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠান মূলত মাইক্রো ক্রেডিটভিত্তিক। কিন্তু তারা নিয়ম-নীতি অমান্য করে আমানতকারীদের অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ সংগ্রহ করেছে। প্রথমদিকে লভ্যাংশ দিলেও পরে লভ্যাংশ দিতে গড়িমসি শুরু করে। তিনি জানান, পরিচালনা পরিষদের আরও যেসব সদস্যকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে তারা হল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাজী মফিজুল ইসলাম (৬৫), সহসভাপতি উম্মে হাবিবা (৫৫), সদস্য মিসেস শৈলী (৫৫), শামীমা বেগম (৫৫), রুমাইশা শবনম (৩৫), রুমাইশা মরিয়ম (৪০), সাবিরা বানু (৫০), এসএ মতিন (৮০), রবিউল ইসলাম (৬৫) এবং রেজওয়ানা কবীর (৩৫)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলাম আকন্দ যুগান্তরকে জানান, গ্রেফতারকৃতরা খুবই ধূর্ত প্রকৃতির। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রথমদিকে কৌশলে অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যায়। এসআই জানান, বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতারের পর শুত্রবার আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। কিন্তু আদালত তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু এ ধরনের আসামিদের কাছ থেকে তথ্য বের করার জন্য একদিনের রিমান্ড যথেষ্ট নয়। তাই রোববার ফের আদালতে হাজির করে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। মামলার এজাহারে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে চার্টার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ লিমিটেড তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মামলায় আটজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ওই সাক্ষীরা ২০০৩ সালের আগস্ট থেকে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে তিন কোটি টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে জমা দেয়। এখনও তাদের ওই অর্থ ফেরত দেয়া হয়নি।