Wednesday, February 25, 2026

ইরান নিয়ে যে কারণে ট্রাম্পের হিসাব মিলছে না by রঞ্জন সলোমন

বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করেছে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উপসাগরে নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক ভাষ্যে ইরানকে এমন এক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেটি অর্থনৈতিক চাপে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবে। ধারণা ছিল, দীর্ঘমেয়াদি চাপ ইরানের ভেতরের স্থিতিশীলতা ভেঙে দেবে এবং ইরানকে শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করবে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবে পূরণ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে হিসাব ছিল স্পষ্ট। কঠোর অর্থনৈতিক চাপ হয় ইরানের ভেতরের ঐক্য ভেঙে দেবে, নয়তো ওয়াশিংটনের শর্তে তাকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করবে।

কিন্তু ইরান ভিন্ন পথ বেছে নেয়। তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচিকে কৌশলগত সম্পদে পরিণত করে। পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করে। অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ কাঠামো শক্তিশালী করে। নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের ওপর গভীর কষ্ট চাপিয়ে দিয়েছে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু রাষ্ট্র ভেঙে পড়েনি। সরকার নতি স্বীকার করেনি।

অর্থনৈতিক যুদ্ধ দীর্ঘদিন চালালে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া রাষ্ট্র তখন বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করে। আর্থিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সব ক্ষেত্রেই নতুন পথ তৈরি হয়। এতে নিষেধাজ্ঞা যে কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেটিই বদলে যেতে থাকে।

পশ্চিমা নিরাপত্তা আলোচনায় ইরানের সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে প্রায়ই ‘প্রক্সি’ বলা হয়। এই শব্দ তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক সত্তাকে আড়াল করে। অথচ হামাস, হিজবুল্লাহ বা আনসার-আল্লাহ নিজেদের সমাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে। দখল, আগ্রাসন, অবরোধ ও রাজনৈতিক বঞ্চনার ইতিহাস তাদের উঠে আসার পেছনে কাজ করেছে। তাদের সব কৌশলের সঙ্গে কেউ একমত হবেন কি না, সেটি প্রশ্ন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, এসব শক্তির সামাজিক ভিত্তি রয়েছে। তাদের বৈধতা ওয়াশিংটন বা ব্রাসেলসে নির্ধারিত হয় না।

ইতিহাসে শক্তিশালী রাষ্ট্র বা প্রভাবশালী পক্ষই সাধারণত ঠিক করে দেয়, কোন প্রতিপক্ষকে কী নামে ডাকা হবে। তারা কোনো গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী’, ‘উগ্রপন্থী’ বা ‘প্রক্সি’ বললে সেই পরিচয়ই আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু শুধু একটি শব্দ ব্যবহার করলেই নৈতিক উচ্চতা বা নৈতিক সঠিকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

ইরান এসব শক্তির সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে। এর ফলে প্রতিরোধের ক্ষেত্র বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে যায়। সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি প্রচলিত যুদ্ধ নয়। এটি ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও সামাজিক শিকড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক নেটওয়ার্কভিত্তিক প্রতিরোধ কৌশল।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আলোচনায় এখনো বিমানবাহী রণতরি, নজরদারি ব্যবস্থা ও জোট কাঠামোকে শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এগুলো নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। কিন্তু সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখিয়েছে, প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব সব সময় স্থায়ী রাজনৈতিক ফল দেয় না। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাকে বিপুল সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু কাগজে-কলমে ‘বিজয়’ দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি।

পশ্চিমা নীতিনির্ধারকেরা ন্যাটোকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘায়িত পরিস্থিতিতে জোটের ভেতরের চাপ ও মতভেদও প্রকাশ পেয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও জ্বালানি উদ্বেগ সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করে তুলেছে। কাগজে জোট আছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক আগ্রহ এখন আর আগের মতো শক্তিশালী নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডলার এখনো বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার কেন্দ্র। তবে ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে নিষেধাজ্ঞার পুনরাবৃত্ত ব্যবহার অনেক দেশকে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করেছে। স্থানীয় মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়েছে। ব্রিকসের মতো প্ল্যাটফর্মে বিকল্প লেনদেন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। কয়েকটি নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত দেশ সোনা মজুত বাড়িয়েছে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায়। এটি ডলারের আকস্মিক পতন নয়। বরং ধীরে ধীরে পুনর্বিন্যাস। আর্থিক ক্ষমতা এখনো শক্তিশালী, কিন্তু আর প্রশ্নাতীত নয়। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র বানালে বিকল্প পথ তৈরি হবেই।

ইরান জানে, তার ভূগোল ও সম্পদ তাকে আলোচনায় কিছু কাঠামোগত শক্তি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রও জানে, বৈশ্বিক বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল অস্থিতিশীল হলে তার প্রভাব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের নিরাপত্তাকাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সহায়তা প্যাকেজ, কূটনৈতিক সমর্থন ও গোয়েন্দা সহযোগিতা তার কৌশলগত ভিত্তির অংশ। ফলে আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশেও এই সম্পর্ক প্রভাব ফেলে।

গাজায় সামরিক অভিযানে বিপুল ধ্বংসক্ষমতা দেখা গেছে। কিন্তু শক্তি প্রয়োগ চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমাধান এনে দেয়নি। বোমাবর্ষণে প্রতিরোধ মুছে যায়নি। ধ্বংস সব সময় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। এই বাস্তবতা অঞ্চলে এমন ধারণা জোরদার করেছে যে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সামরিক প্রাধান্য কেবল চক্রকে দীর্ঘায়িত করে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো শক্তিশালী রাষ্ট্র। তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জোটব্যবস্থা বিস্তৃত। ইরান অর্থনৈতিকভাবে সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে টিকে আছে। কেউই পূর্ণ আধিপত্যের অবস্থানে নেই।

পরিবর্তন এসেছে একতরফা পদক্ষেপের সীমায়। চূড়ান্ত বিজয় ছাড়া চাপ প্রয়োগ নিজের সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করে। যখন সামরিক, আর্থিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকি একসঙ্গে বাড়ে, তখন আলোচনা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ইরান চায় স্থিতিশীলতা, যাতে অর্থনীতি পুনর্গঠন ও অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলা করা যায়। যুদ্ধ তার স্বার্থে নয়। যুক্তরাষ্ট্রও চায় নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আরেকটি সংঘাতে জড়িয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয় মেনে নিতে চায় না।

বর্তমান আলোচনা উভয় পক্ষের সীমাবদ্ধতার স্বীকৃতি। একসময় যে ধারণা ছিল, ওয়াশিংটন পরিণতি ছাড়াই শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে, সেটি ক্ষীণ হয়েছে। তার জায়গায় এসেছে এমন এক বাস্তবতা, যেখানে শক্তি ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন হাতে এবং সমাধানের পথ হয়ে উঠছে আলোচনা।

* রঞ্জন সলোমন, গোয়াভিত্তিক রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও মানবাধিকারকর্মী
- মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, ইংরেজিতে থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

গত বছরের জুন মাসে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের ঘোষণা  দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত বছরের জুন মাসে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স

আপেল–কমলার দাম বেশি, চাপে ক্রেতা by সুজয় চৌধুরী

প্রকাশ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ ইফতারের টেবিলে ফল যেন অনিবার্য। সারা দিন রোজা রাখার পর এক টুকরা আপেল, কয়েক কোয়া কমলা বা একমুঠো আঙুর; অনেকের কাছে তা শুধু খাবার নয়, স্বস্তির অংশ। কিন্তু পবিত্র রমজানের শুরুতেই চট্টগ্রামের বাজারে এসব পরিচিত ফল হাতে নিতে গিয়েই হোঁচট খাচ্ছেন ক্রেতারা। পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়েই দাম বেড়েছে।

নগরের স্টেশন রোডের ফলমন্ডির পাইকারি বাজারে গতকাল শুক্রবার দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার আপেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৪০ টাকা। চীনের কমলা ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮০ টাকা। আঙুরের দাম আরও বেশি। চীনের লাল আঙুর ৪২০ টাকা, কালো ৫৫০ টাকা ও সাদা ২৫০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি জাতেই ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিসরের মাল্টা ২৬০ টাকা ও চীনের মাল্টা ২২৪ টাকা কেজি।

পাইকারি ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, রোজার শুরুতে দাম কিছুটা বাড়তি থাকে। গত কয়েক বছরও একই চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে সম্প্রতি কর্মবিরতি চলেছে। এতে পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। বিদেশি ফলের অনেক জাহাজ আটকে ছিল। এখন প্রতিদিন খালাস হচ্ছে। শিগগিরই দাম কমে যাবে।

পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের ব্যবধান ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। নগরের ২ নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়, হামজারবাগ, কর্নেলহাট ও স্টেশন রোড ঘুরে দেখা গেছে, কমলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা, আপেল ৩৮০ টাকা, কালো আঙুর ৬৫০ টাকা, লাল আঙুর ৫০০ টাকা ও মাল্টা ৩৩০ থেকে ৩৮০ টাকায়।

হামজারবাগে ফল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোজায় বাচ্চারা ফল চায়। কিন্তু এক কেজি ভালো আঙুর কিনতে গেলেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লাগে। সব ফল একসঙ্গে কেনা যায় না। তাই কম কিনছি।’

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, দোকানের ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও পচনশীল পণ্যের ঝুঁকি যুক্ত হয়। কর্নেলহাটের ফল ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বলেন, ‘ফল বেশি দিন রাখা যায় না। নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কিছুটা বেশি রাখতে হয়। পাইকারির সঙ্গে ১০০ টাকা ব্যবধান মানেই, পুরোটা লাভ নয়। লাভ সীমিত।’

অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি নেই। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, রোজায় চাহিদা বাড়ে বলেই দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে প্রতিদিন ফলের চালান আসছে। কয়েক দিনের মধ্যে দাম কিছুটা সমন্বয় হতে পারে।

আমদানি ব্যয় বাড়তি

দেশে ৩৮ ধরনের ফল আমদানি হয়। এর প্রায় ৯৫ শতাংশই আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙুর ও আনার। বাকি অংশে রয়েছে নাশপাতি, কিউই, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটানসহ নানা ফল।

বিদেশি ফলের দাম বাড়তে শুরু করে ২০২২ সালের জুন–জুলাই থেকে। ডলার–সংকটের সময় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক–কর বাড়ানো হয়। একই সময়ে ডলারের বিনিময় হারও বেড়ে যায়। আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়ায় প্রভাব পড়ে বাজারে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর, ডলারের বিনিময় হার ও শুল্ক–কর কাঠামো—এই তিন বিষয় আমদানি করা ফলের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফল অনেক দিন ধরেই বিলাস পণ্য। শুল্ক–কর প্রায় ১২৩ শতাংশ। অর্থাৎ এখন এক কেজি আপেলে প্রায় ১২০ টাকা শুল্ক–কর দিতে হয়। এটি কমানো গেলে বাজারদরও কমতে পারে।

তদারকির দাবি

খুচরা বাজারে পাইকারির তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে ফল বিক্রির বিষয়টি স্বাভাবিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোক্তা অধিকারকর্মীরা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, মৌসুমি চাহিদাকে কেন্দ্র করে অযৌক্তিক মুনাফার প্রবণতা তৈরি হয়। বাজার স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর তদারকি দরকার। এবারও ফলের দাম বেড়ে গেছে। ফলে পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান বেশি হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিক্রির জন্য ফলের পসরা সাজিয়েছেন এক বিক্রেতা। গতকাল বেলা দুইটায় চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি বাজারে
বিক্রির জন্য ফলের পসরা সাজিয়েছেন এক বিক্রেতা। গতকাল বেলা দুইটায় চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি বাজারে। ছবি: প্রথম আলো

পবিত্র রমজানে পশ্চিম তীরের মসজিদে আগুন দিল অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা

পবিত্র রমজান মাসেও ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। গতকাল সোমবার তারা মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে আগুন দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে সাররা ও তাল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে এ হামলা চালানো হয়।

এপির খবর অনুযায়ী, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধোঁয়া ও আগুনের চিহ্ন দেখতে পান।

মসজিদের পাশেই মুনির রামদানের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘আমি দরজা খুলে স্তম্ভিত হয়ে যাই। সেখানে আগুন জ্বলছিল, কাচ ও দরজা ভাঙা ছিল।’

মুনির আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি পেট্রোল ও স্প্রে পেইন্ট নিয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে।

হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং ‘প্রতিশোধ’ ও ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দগুলো লিখে রেখে যায়। গাজা উপত্যকার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা অব্যাহত সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এসব কর্মকাণ্ড ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছর পশ্চিম তীরে মোট ৪৫টি মসজিদে হামলা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের পশ্চিমে তাল গ্রামের কাছে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে অগ্নিসংযোগের পর এটির ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশদ্বার পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের পশ্চিমে তাল গ্রামের কাছে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে অগ্নিসংযোগের পর এটির ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশদ্বার পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছবি: এএফপি