Friday, August 20, 2010

মোহামেডানে পালাবদল

বড় কোনো শিরোপা জয়ের পরও মোহামেডান ক্লাব চত্বরে এত ভিড় দেখা যায়নি অনেক দিন।
ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি যেন নতুন যাত্রা শুরু করল গতকাল। ক্লাব আঙিনায় অচেনা অনেক সমর্থকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল। অনেক দিন ক্লাবের খোঁজখবর না রাখা সাদা-কালো অন্তঃপ্রাণ সমর্থকও হাজির। সংবাদমাধ্যমের গিজগিজে উপস্থিতিতে মোহামেডানের কালকের বিকেলটা সত্যিই অন্যরকম হয়ে উঠেছিল।
উপলক্ষ্য—১৭ বছর পর ক্লাবের শীর্ষ পদ থেকে ১২ আগস্ট মোসাদ্দেক আলীর (ফালু) পদত্যাগের পর নতুন আহ্বায়ক বেছে নেওয়া। কাল ক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সভায় নতুন আহ্বায়ক মনোনীত হলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব, মোহামেডানের সাবেক সহসভাপতি, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি এবং ক্লাবের বিতর্কিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কুতুবউদ্দিন আহমেদ। এই পদে তাঁর মেয়াদ তিন মাস, এরপর নির্বাচন হওয়ার কথা।
বেশ কিছুদিন ধরে মোহামেডানের সাংগঠনিক অবস্থা ভঙ্গুর। এ অবস্থায় নতুন আহ্বায়ক তিনটি প্রধান কাজ ঠিক করে ফেলেছেন—ক্লাবকে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও আর্থিক স্বচ্ছতা রাখা, গতবারের সব ফুটবলার দল ছেড়ে যাওয়ায় এখন যতটা সম্ভব ‘ভালো’ ফুটবল দল গঠন এবং ক্লাবকে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত করা।
নতুন আহ্বায়ক মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের আভাস ছিল, যা ফুটে ওঠে আগের সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্যসচিব লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার একটা অভিযোগে। কুতুবউদ্দিনের বিরোধিতা না করা এবং ক্লাবের ফুটবল কোচ হিসেবে শফিকুল ইসলামকে (মানিক) নিয়োগ দেওয়ার জন্য মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে দাবি করে মতিঝিল থানায় জিডি করেন লোকমান।
কালকের সভা সূত্রের খবর, কুতুবউদ্দিনের আহ্বায়ক পদে মনোনয়ন চাননি কেউ কেউ। উচ্চকিত ছিলেন সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা কামরুন্নাহার ডানা ও তাঁর ব্যাডমিন্টন তারকা স্বামী আবুল হাশেম। নতুন আহ্বায়ক হিসেবে ডানা প্রস্তাব করেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহতাবউদ্দিন আহমেদের নাম। কিন্তু মাহতাব তাতে রাজি হননি।
কেউ কেউ পদত্যাগী আহ্বায়ককে ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সেটি নাকচ করে দিলেও মোসাদ্দেক আলীর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন সবাই। ক্লাব ভবনের বর্তমান জমি স্থায়ীকরণ, গাজীপুরে স্টেডিয়াম করার জন্য সরকার থেকে জমি পাওয়া মোসাদ্দেক আলী যুগের ফসল।
কুতুবউদ্দিনের নামটা একক প্রার্থীই ছিল শেষ পর্যন্ত। লুৎফর রহমান বাদলের প্রস্তাব সমর্থন করেন বাদল রায়, মিজানুর রহমান, মাহবুবুল আনাম, সালাম মুর্শেদী, আনোয়ারুল হক (হেলাল), মোস্তাকুর রহমান প্রমুখ। ছিল লোকমান হোসেনের সমর্থনও। ৪৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির দু-তিনজন ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন এই সভায়। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।
মোহামেডানকে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত করার উদ্যোগের পরই বিরোধ শুরু ক্লাবে। মোসাদ্দেক আলীর পদত্যাগপত্রে সেটার ইঙ্গিত ছিল। কিছু সদস্যের অসহযোগিতা, ক্লাব আঙিনার পৌনে ৫ বিঘা জায়গায় বহুতল ভবন করতে কমিশন-বাণিজ্য, ভবন নির্মাণে পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ প্রভৃতি নিয়ে অনেকেই তৎপর ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর।
গত বছরের ৬ জুন ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় গৃহীত হয়েছিল মোহামেডানকে লিমিটেড করার প্রস্তাব। তখন নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক হন মোসাদ্দেক আলী। লিমিটেড কোম্পানি করার অন্যতম শর্ত ঢাকা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধন করতে গিয়েই সমস্যা বাধে। গত ২৯ ডিসেম্বর নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হলে ব্যাপারটা থমকে যায়। আহ্বায়ক কমিটির আবেদনে হাইকোর্ট জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে শোকজ করে জানতে চেয়েছেন—কেন মোহামেডানকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না।
গেরো খুলতে এবং ক্লাবের ভিত্তি শক্তিশালী করতে কুতুবউদ্দিনকে আনা হলো শীর্ষ পদে। বাদল রায় যেমন বললেন, ‘যোগ্য লোক দায়িত্ব নিয়েছেন। সাংগঠনিক কাজে এখন গতি আসবে।’ খোন্দকার জামিলউদ্দিনের কথা, ‘খুব ভালো একটা কাজ হয়েছে।’ সাবেক ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বিরও খুশি, ‘যোগ্য লোকের হাতে দায়িত্ব পড়েছে।’
এর আগে মোহামেডানের সভাপতি ছিলেন খাজা আজমল, গুল মোহাম্মদ আদমজী, মইনুল ইসলাম, মহিউদ্দিন আহমেদ খান, আবদুল মোনেম, মোসাদ্দেক আলী। ‘নতুন নেতা’ কুতুবউদ্দিন আহমেদ কতটা এগিয়ে নিতে পারেন ক্লাবকে, সেটিই দেখার।

সাকিব ৩২ বলে ৩৪

ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় কিছু করতে পারলেন না সাকিব আল হাসান। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ২২ বলে ১৮ রান। আর কাল দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২ বলে ৩৪। সারের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচের তৃতীয় দিন চা-বিরতি পর্যন্ত সাকিবের দল উস্টারশায়ার করেছে ৮ উইকেটে ২৯৪ রান।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩০৮ রানে অলআউট হয়েছিল উস্টারশায়ার। সারে তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৫৯ রানে। এর মধ্যে ৬০ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব

ক্রিকেট চলবে না

বিশ্বকাপ ফুটবলের স্টেডিয়ামগুলো যাতে ‘শ্বেতহস্তী’ না হয়ে ওঠে, সে জন্য চেষ্টার কমতি নেই দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাকে (সিএসএ) সরকারের ক্রীড়াবিষয়ক কমিটি প্রস্তাব দিয়েছিল, কয়েকটি স্টেডিয়াম ব্যবহার করার জন্য। সিএসএ প্রস্তাবটাকে সুযোগ হিসেবেই নিয়েছিল। কারণ এর মধ্যে অন্তত তিনটি ভেন্যু—পোলকওয়ানে, রাস্টেনবার্গ ও নেলসপ্রুইটে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল তারা। কিন্তু ব্যাটে-বলে হলো না। সিএসএর প্রধান নির্বাহী জেরার্ড মাজোলা বলছেন, বিশ্বকাপের বেশির ভাগ স্টেডিয়ামই ক্রিকেট মাঠের চেয়ে আকারে ছোট। তার পরও ডারবানের মোজেস মাভিদা স্টেডিয়ামে আগামী জানুয়ারি মাসে ভারতের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এটা করতে গিয়েও সিএসএকে আইসিসির কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়েছে। কারণ উইকেটের আড়াআড়ি দিকে এই মাঠটিও ২২ মিটার ছোট!

হেরে গেছে টটেনহাম

গত মৌসুমটা স্বপ্নের মতোই কেটেছে টটেনহাম হটস্পারের। চতুর্থ স্থানে থেকে লিগ শেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে হ্যারি রেডন্যাপের ক্লাব। পরশু এই প্লে-অফেই একটু ধাক্কা খেল তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন। সুইজারল্যান্ডের অখ্যাত ক্লাব ইয়ং বয়েজের কাছে ২-৩ গোলে হেরে গেছে স্পারসরা।
ন্যূনতম ব্যবধানের এই হারটিকেও অবশ্য ভাগ্য বলে মানতে পারেন টটেনহাম কোচ রেডন্যাপ। ম্যাচের ২৮ মিনিটেই যে ০-৩ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তাঁর দল। ৪ মিনিটে লুলির গোলে প্রথম এগিয়ে যায় ইয়ং বয়েজ। বিয়েনভেন্যু ১৩ মিনিটে দ্বিগুণ করেন ব্যবধান। ২৮ মিনিটে হচস্ট্রাসার করেন ৩-০। ৪২ মিনিটে অবশ্য বাসংয়ের মাধ্যমে একটি গোল ফিরিয়ে দেয় টটেনহাম।
এভাবে পিছিয়ে পড়ে একেবারেই মন ভেঙে গিয়েছিল টটেনহাম কোচ-খেলোয়াড়দের। ম্যাচ শেষে কোচ রেডন্যাপ নিজেই করেছেন এই স্বীকারোক্তি, ‘দেখলাম আমার খেলোয়াড়দের কেউ বুটের সমস্যার কথা বলছে, কেউ আবার মাঠের সমস্যার কথা বলছিল। এই ম্যাচ নিয়ে আমি ভয়াবহ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।’
তবে কোচকে কি আর ভেঙে পড়লে চলে? তাই প্রথমার্ধ শেষে হতাশা গোপন করে খেলোয়াড়দের দিয়েছেন উজ্জীবনী মন্ত্র, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, আমাদের এখন মরণপণ লড়াই। সেই লড়াই করে দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল ফিরিয়েও দিয়েছি আমরা।’ ৮২ মিনিটে দ্বিতীয়ার্ধে ফিরিয়ে দেওয়া গোলটি করেছেন রুশ তারকা পাভলিউচেঙ্কো।
আগামী বুধবার দ্বিতীয় লেগটা অবশ্য নিজেদের মাঠে খেলবে টটেনহাম। দুটি গোল ফিরিয়ে দিতে পারায় কাজটা একটু সহজই হয়ে গেছে তাদের জন্য। নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে জিতলেই উঠে যাবে তারা গ্রুপ পর্বে।

অস্ট্রেলিয়া যাবেন তামিম

ব্যাটিং করতে গেলে এখনো ব্যথা হচ্ছে বাঁ হাতের উল্টো পিঠে। জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবালকে তাই চেকআপের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভিসা হয়ে গেলে সহসাই অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাবেন তামিম।
কাল রাতে তামিমও জানিয়েছেন একই কথা, ‘অস্ত্রোপচার লাগবেই এমন কোনো কথা নেই। তবে বোর্ড থেকে বলা হয়েছে, মানসিক স্বস্তির জন্য হলেও তারা আমাকে যত দ্রুত সম্ভব অস্ট্রেলিয়া পাঠাবে চেকআপ করাতে। ফিজিওর সঙ্গে কথা বলেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তামিমের হাতের পুরোনো ইনজুরি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল গত ইংল্যান্ড সফরেও। ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তখন বলেছিলেন, খেলতে গিয়ে যদি আবার ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে অস্ত্রোপচার লাগলেও লাগতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বোঝা যাবে, অস্ত্রোপচার কতটা জরুরি।

রিয়ালের ‘মেসি’ ওজিল

রিয়ালের চোখে তো পড়েছিলেনই। উদগ্রীব ছিলেন মেসুত ওজিল নিজেও। ইচ্ছাপূরণ হওয়ায় খুবই উচ্ছ্বসিত জার্মানির ২১ বছর বয়সী বিশ্বকাপ তারকা। রিয়ালের যাত্রাটাকে তরুণ এই মিডফিল্ডার দেখছেন নিজের ক্যারিয়ারের অগ্রযাত্রা হিসেবে। ‘এটা আমার ক্যারিয়ারের সামনের ধাপ।’ জার্মানি স্কাইকে বলেছেন তিনি।
রিয়ালে এসে খুশি। তবে ছেড়ে আসা ভেরডার ব্রেমেনকেও শ্রদ্ধা জানাতে ভুল করেননি। শালকে জিরো ফোর থেকে ব্রেমেনে নাম লেখান ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে। তার পর থেকেই সবকিছু ঘটতে থাকে নাটকীয়ভাবে। ওজিল নিজেও মানছেন, ব্রেমেনেই আজকের ওজিল হয়েছেন তিনি।
আগের দিনই নিশ্চিত হয়েছে ব্রেমেন ছেড়ে তাঁর রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়া। স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর গতকালই সেরে ফেলা হয়েছে ছয় বছরের চুক্তি। মানে ২০১৬ পর্যন্ত ওজিল হয়ে গেলেন রিয়ালের। গতকালই রিয়ালের জার্সিও পেয়েছেন, যদিও নম্বরটা ঠিক হয়নি।
ব্রেমেন অতীত, ওজিলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—দুটোই এখন রিয়াল। ওজিল ঠিকানা বদলেছেন ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর চুক্তিতে। অজানা নয় এখন রিয়ালের প্রতি ওজিলের অত্যুৎসাহী হওয়ার কারণটাও। জার্মানির এই তরুণ তারকা বলেছেন, কোচ মরিনহোর কারণেই তিনি রিয়ালে গেছেন, ‘কোচ (মরিনহো) আমাকে চাইলেন। রিয়াল শক্তিশালী দল। কিন্তু আমার ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’
রিয়ালের প্রধান প্রতিপক্ষ বার্সেলোনার প্রাণভোমরা ফিফার বর্তমান বর্ষসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। ব্রেমেনে ওজিলকে ডাকা হতো ‘জার্মানির মেসি’ বলে। দুই মৌসুম ধরে সাফল্যখরা ঘোচাতে রিয়ালের চাই একজন মেসি। ব্রেমেনে হয়েছিলেন ‘জার্মানির মেসি’। এবার রিয়ালে এসে তাঁর ‘রিয়ালের মেসি’ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। মরিনহো তো বলে দিয়েছেন আগামী এক দশক স্প্যানিশ ফুটবলে রাজত্ব করবেন ওজিল! রিয়ালেও জার্মান সঙ্গটা পাবেন তিনি। কারণ তাঁর আগেই স্টুটগার্ট ছেড়ে রিয়ালে নাম লিখিয়েছেন জার্মানির আরেক বিশ্বকাপ তারকা সামি খেদিরা।

ওভালে ওয়াহাবের দিন

১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম ঘটল ঘটনাটা। ওভালে কোনো টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের সব টিকিট বিক্রি হলো না। পাকিস্তান-ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের ৫ হাজার এবং তৃতীয় দিনেরও ২ হাজার টিকিট কাল পর্যন্ত অবিক্রীত!
সব টিকিট বিক্রি না হওয়ার কারণ কয়েকটি। অন্যতম অবশ্যই চার টেস্টের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই ইংল্যান্ডের সিরিজটাকে একপেশে করে তোলা। কিন্তু কাল থেকে শুরু ওভাল টেস্ট যে সিরিজের রংটাই বদলে দেওয়ার উপক্রম করবে, সেটা কে জানত?
আসলে সিরিজের রং বদলে দিচ্ছিল কি ওভাল টেস্ট, নাকি পাকিস্তানের ২৫ বছর বয়সী তরুণ পেসার ওয়াহাব রিয়াজ? অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই তো নিজেদের মাঠে অসহায় করে দিলেন ইংল্যান্ডকে! ২৩৩ রানে থেমে গেছে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪৮।
গত ঘরোয়া মৌসুমে সাকল্যে উইকেট পেয়েছেন ১৪টি, কোনো ইনিংসেই দুটির বেশি উইকেট নেই। উস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ বৃষ্টিবিঘ্নিত হওয়ায় ইংল্যান্ডে এসে ম্যাচ প্র্যাকটিসও সেভাবে হয়নি। সেই রিয়াজই তাঁর প্রথম টেস্টে টুঁটি চেপে ধরলেন ইংল্যান্ডের। কাল লাঞ্চ পর্যন্ত স্বাগতিকদের স্কোর যে ৫ উইকেটে মাত্র ৭০ রান ছিল, সেটা রিয়াজের বোলিং-বিষেই। উইকেটগুলোও আবার কী—ওপেনার অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, জোনাথন ট্রট আর কেভিন পিটারসেন! লাঞ্চের পরও সুইং আর গতি ধরে রেখে তুলে নিলেন এউইন মরগান ও স্টুয়ার্ট ব্রডের উইকেট দুটি। পাকিস্তানের নবম বোলার হিসেবে প্রথম টেস্টেই ৫ উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদের তরুণ স্মরণীয় করে রাখলেন তাঁর অভিষেক টেস্ট।
এর আগে অ্যালিস্টার কুককে দলীয় ৯ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে শুরুটা করেছিলেন আরেক পেসার মোহাম্মদ আসিফ। ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনিও। তবে লাঞ্চ পর্যন্তই ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরকে কাঁপিয়ে দেওয়ার মূল নায়ক রিয়াজ। তিনি অবশ্য কৃতজ্ঞ থাকতে পারেন উইকেটকিপার কামরান আকমলের কাছে। লাঞ্চের পর নেওয়া এউইন মরগানের চতুর্থ উইকেটটিসহ তাঁর ৫ উইকেটের ৩টিই কট বিহাইন্ড। এর আগে কুকের উইকেটটিসহ উইকেটের পেছনে চারটি ক্যাচ নিয়েছেন কামরান।
ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে ১৭৫ বানিয়ে চা-বিরতি পর্যন্ত টেস্টটা ‘রিয়াজ শো’ হলেও দিনের শেষ সেশনে ম্যাট প্রিয়র আর স্টুয়ার্ট ব্রড মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন কিছুটা। ৯৪ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর অষ্টম উইকেটে ১১৯ রানের জুটি গড়ে প্রথম দিনে তাঁরাই ইংল্যান্ডকে বাঁচিয়েছেন আরও বড় বিপর্যয় থেকে। ৮৪ রানে অপরাজিত প্রিয়র বাকি দুই ব্যাটসম্যান অ্যান্ডারসন ও ফিনকে নিয়ে যেতে পারেননি বেশি দূর।
১৮ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পাওয়া পাকিস্তানের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। কিন্তু দিনের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে ২০০৭ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলা অতিসাবধানী (৫৫ বলে ১১ রান) ইমরান ফারহাতকে বোল্ড করে পাকিস্তানের ভালো শুরুতে ছেদ ফেলেছেন অ্যান্ডারসন। ইয়াসির হামিদ ৩৬ ও তাঁর সঙ্গী নাইটওয়াচম্যান ওয়াহাব উইকেটে আছেন ০ রানে।

মানছেন না ফেদেরার

একথা-ওকথা বলার আগে নিন্দুকদের মনে রাখা উচিত তাঁর নাম রজার ফেদেরার। বাইরের কথায় মুষড়ে পড়ার পাত্র তিনি নন। বরং খারাপ সময় পেছনে ফেলে নিন্দুকদের পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা আছে বলেই তিনি ফেদেরার।
ক্যারিয়ারে রেকর্ড ১৬টি গ্র্যান্ড স্লামসহ ৬২টি শিরোপা—ফেদেরারের সামর্থ্য নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। সেই জানুয়ারিতে জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। এরপর একের পর এক টুর্নামেন্টে ফেরা খালি হাতে। সর্বশেষ রজার্স ওপেনের ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর সেই পুরোনো কথাটাই আবার নতুন করে শুনলেন—ফেদেরারের সময় শেষ!
এই সমালোচকদের উদ্দেশে ফেদেরারের জবাব, ‘গত গ্রীষ্ম দুর্দান্ত কেটেছিল। ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন জিতেছিলাম। এ বছর সেটা হয়নি। কিন্তু গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নাদালের কাছে হেরে যাওয়ার পর লোকজন বলতে শুরু করল, আমি বড় সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি। অস্ট্রেলিয়া ওপেনে কোর্টে কেঁদেছিলাম। অনেকের কাছে সেটা মনে হয়েছিল ট্র্যাজেডি। কেউ বিশ্বাসই করতে চাইল না, আমি ফিরে আসব। কিন্তু আমি আবার দুটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতলাম, ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠলাম। এবং এ বছর অস্ট্রেলিয়া ওপেন জিতলাম। সবকিছু বদলেও গেল। কিন্তু ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন না জিততেই আবার শুরু হলো কথা।’
মুখে বলে লাভ নেই। ফেদেরার জানেন জবাবটা দিতে হতে কোর্টেই, ‘আমি এ বছরে ইতিমধ্যেই একটা গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছি। দ্বিতীয়টি জেতার সুযোগও আছে (ইউএস ওপেনে)। সম্ভবত বছরের শেষ চ্যাম্পিয়নশিপটা।’ শীর্ষস্থান হারিয়ে চলে গিয়েছিলেন তিনে। কিন্তু টরন্টো মাস্টার্সের ফাইনালে উঠে আবার ফিরেছেন দুইয়ে। ফেদেরার দৃঢ়বিশ্বাসী, শীর্ষস্থানটাও আবার ফিরে পাবেন। তবে এও স্বীকার করেছেন, নতুন খেলোয়াড়েরা উঠে আসায় কোর্টে লড়াইটা এখন আগের চেয়ে কঠিন হয়ে গেছে।
বাইরের লোকের মুখ না হয় বন্ধ রাখলেন ফেদেরার। কিন্তু কোর্টে প্রতিপক্ষদের মুখে তালা দেবেন কীভাবে? রজার্স কাপের ফাইনালে যাঁর কাছে হেরেছেন, সেই অ্যান্ডি মারেও যে বলছেন, আগের ঔজ্জ্বল্য কিছুটা হারিয়ে ফেলেছেন ফেদেরার।

চাপ কমাচ্ছেন স্মিথ

হাসিমুখেই টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন স্মিথ
নয় বছরের ক্যারিয়ারে আট বছরই অধিনায়ক তিনি। গ্রায়েম স্মিথ মনে করলেন আরও অন্তত পাঁচ-ছয় বছর খেলা চালিয়ে যেতে হলে দায়িত্বের বোঝা কিছু হালকা করা দরকার। জোহানেসবার্গে কাল এক সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ জানিয়ে দিলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আর অধিনায়ত্ব করবেন না। ওয়ানডেতেও দায়িত্বটা ছেড়ে দেবেন ২০১১ বিশ্বকাপের পর। তবে চালিয়ে যাবেন টেস্ট অধিনায়কত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্মিথ বলেছেন, ‘ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার নয় বছর চলছে, যার আট বছরই আমি অধিনায়ক ছিলাম। ইচ্ছা আছে আরও পাঁচ-ছয় বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার এবং আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান দায়িত্বের কিছু ছেড়ে দিলেই কেবল আমি সেটা পারব।’ টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডের নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেও স্মিথ জানিয়েছেন, তিন ধরনের ক্রিকেটেই খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর।
স্মিথ শুধু যে নিজের কথা ভেবে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নয়। তিনি বিশ্বাসই করেন, দলে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্যতা এখন অনেকেরই আছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেরা দল বানানোই শুধু নয়, আমি সব সময়ই চেয়েছি আমাদের খেলোয়াড়েরা একই সঙ্গে ক্রিকেটার এবং মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক। দলের উঠতি খেলোয়াড়দের অনেকের মধ্যেই নেতৃত্বের গুণাবলি আছে। আমার বিশ্বাস, আমরা এখন সে জায়গায় পৌঁছে গেছি।’
ওয়ানডের অধিনায়কত্ব ছাড়বেন ২০১১ বিশ্বকাপের পর, তা সেই ঘোষণাটা এখনই কেন? স্মিথ নিজেই দিয়েছেন ব্যাখ্যা। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাকে নতুন অধিনায়ক বেছে নিতে পর্যাপ্ত সময় দিতেই ঘোষণাটা আগেভাগেই দিয়েছেন তিনি। স্মিথের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী জেরাল্ড মাজোলা, ‘এক দশক ধরে গ্রায়েমকে (স্মিথ) একজন ক্রিকেটার হিসেবে বেড়ে উঠতে দেখেছি আমি। সে আজ যেখানে এসেছে, তাতে আমিও গর্বিত। তরুণ বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নেতৃত্ব নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে ও, সেসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রমও করেছে।’
২০০৩ সালে বাংলাদেশ সফরে যখন স্মিথ দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২২। তাঁর নেতৃত্বেই টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। স্মিথ নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ইয়োহান বোথা। স্মিথ বা এবি ডি ভিলিয়ার্সের অনুপস্থিতিতে এর আগেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

ভারতে মাওবাদীদের নতুন শর্ত

ভারতীয় মাওবাদীদের জ্যেষ্ঠ নেতা কোতেস্বরা রাও ওরফে কিষেনজি বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকের আগে মাওবাদীদের সঙ্গে ভারতীয় সরকারকেও যুগপৎ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করতে হবে। আর সরকারের জন্য এটাই শান্তি প্রতিষ্ঠার সর্বশেষ সুযোগ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও মাওবাদীদের বিদ্রোহকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এর আগে সরকার বৈঠকের জন্য মাওবাদীদের একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার আহ্বান জানায়।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, শান্তিপ্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যে মাওবাদীদের ৭২ ঘণ্টার জন্য সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তবেই কেন্দ্রীয় সরকার আক্রান্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করে শান্তি আলোচনায় মাওবাদীদের আহ্বান জানাবে। ঘোষিত ওই সময়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবাহিনী কোনো অভিযান চালাবে না।
তবে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সামরিক শাখার প্রধান কিষেনজি চিদাম্বরমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দুই পক্ষকে অবশ্যই যুগপৎভাবে বৈরিতা বন্ধ করতে হবে। খোলামেলা আলোচনার পরই সরকারকে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের নাম চূড়ান্ত করতে হবে।

লেবাননে ফিলিস্তিনিদের কাজের অনুমতি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের কাজের অনুমতি দিয়ে আইন পাস করেছেন লেবাননের আদালত। এ আইন সার্বিকভাবে তাদের জীবন পরিবর্তনে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। কারণ, লেবাননে সরকারি কোনো কাজে ফিলিস্তিনিরা যোগ দিতে পারবে না। এ ছাড়া তারা সেদেশে সম্পত্তি কেনারও অধিকার পায়নি।
লেবাননে বর্তমানে প্রায় চার লাখ ফিলিস্তিনি বাস করছে। তাদের অনেকেই এখনো শরণার্থী শিবিরে বাস করছে, যেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত দুর্বিষহ।
নতুন আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিরা বেসরকারি খাতে কাজের অনুমতি পেয়েছে। তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল থাকবে। কাজ করার সময় দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ কিংবা অবসরকালীন ভাতাও পাবে তারা।
ফিলিস্তিনিরা বেসরকারি খাতে কাজ করতে পারলেও চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতে পারবে না। কারণ, এ পেশাগুলোতে লেবাননী সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক।
কর্তৃপক্ষের অগোচরে অনেক ফিলিস্তিনিই আগে ক্যাম্পের বাইরে কাজ করত। এখন এ কাজ বৈধতা পেল। তবে অনেকে আবার আগের অবস্থাকেই ভালো মনে করছে।

ভারতে বিদ্যালয় ভবন ধসে ১৭ শিশু নিহত

ভারতের উত্তরাখন্ডে ভারী বৃষ্টিপাতে গতকাল বুধবার একটি বিদ্যালয়ের ভবন ধসে ১৭ শিশু নিহত হয়েছে। ছয়টি শিশুকে উদ্ধার করা গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক শিশুসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকা পড়ে আছেন। একজন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এ কথা জানান।
উত্তরাখন্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান পিউস রাউতেলা বলেন, ‘আমরা ১৭টি শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি। এখন আটকে পড়া অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
কর্মকর্তারা জানান, উত্তরাখন্ডের প্রত্যন্ত সুমঘর গ্রামের ওই স্কুল ভবন ধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান চলছে। গত সপ্তাহ থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সেখানকার মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

কারজাই-জারদারিকে নিয়ে রাশিয়ায় সম্মেলন

আফগানিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমন্বয়ের লক্ষ্যে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেছে রাশিয়া।
রাশিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তিন দেশেরই পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপারে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এরপরও এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাশিয়া এটাই দেখাতে চায়, আফগানিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতিতে তারা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। ওই অঞ্চলে একসময় রাশিয়ার জোরালো প্রভাব ছিল।
সোভিয়েত আমলে আফগানিস্তানে যুদ্ধের ভয়াবহ সেই স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেনি রাশিয়া। ওই যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে প্রাণহানি ঘটেছিল ১৩ হাজারের বেশি লোকের। শেষ পর্যন্ত ১৯৮৯ সালে পরাজয় মেনে নিতে হয়। আফগানিস্তানে বর্তমানে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর দুরবস্থার প্রতি দূর থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে রাশিয়া।
কৃষ্ণসাগরের উপকূলে অবস্থিত সোচি অবকাশযাপন কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন শুরুর আগে কারজাই এবং জারদারির সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। সম্মেলনে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রাখমনও যোগ দেন।
মেদভেদেভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় জারদারি বলেন, ‘আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। রাশিয়ার মতো মহান ও বন্ধু দেশের সমর্থন আফগানিস্তানের প্রয়োজন।’
মেদভেদেভ জানান, তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান সরকারকে রাশিয় সমর্থন দিয়ে এসেছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরিতেও রাশিয়া প্রস্তুত।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের বসবাস একই অঞ্চলে। কাজেই আমাদের সমস্যা ও সম্ভাবনাও অভিন্ন। এই সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য কারজাই এবং জারদারিকে মুখোমুখি করা। আফগানিস্তান অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা তালেবান বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে।’
গত জুলাইয়ে কারজাই অভিযোগ করেন, তালেবান জঙ্গিদের অভয়াশ্রম, আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আফগানিস্তানের বাইরে অবস্থিত। আফগানিস্তানের বাইরে বলে তিনি কার্যত পাকিস্তানকেই ইঙ্গিত করেন। এমন অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান।
কারজাইয়ের মুখপাত্র সাদিক সিদ্দিকী জানান, গতকাল দিনের প্রথমভাগেই জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেছেন কারজাই। এ বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
মেদভেদেভের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা সার্গেই প্রিখোদকো সম্মেলন শুরুর আগে জানান, আফগানিস্তানকে হেলিকপ্টার সরবরাহ করতে চায় রাশিয়া। তিনি বলেন, ‘আফগান পক্ষ থেকে বিষয়টি তোলা হলে বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে।’

ঘাঁটি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অসাংবিধানিক

কলম্বিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত একটি চুক্তিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন দেশটির আদালত। কলম্বিয়ার সাংবিধানিক আদালত বলেছেন, পুনরায় চুক্তির খসড়া করে তা আন্তর্জাতিক চুক্তি হিসেবে সম্পাদন করতে হবে। একই সঙ্গে কলম্বিয়ার কংগ্রেসেও তা অনুমোদিত হতে হবে।
২০০৯ সালে সম্পাদিত এ চুক্তিতে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহযোগিতার ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাদের কলম্বিয়ার সাতটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু এ চুক্তির বিরোধিতা করেছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্য শক্তিগুলো। তারা বলেছে, কলম্বিয়ার ঘাঁটি ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে।
কলম্বিয়া সরকার ২০০০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা পেয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার আরেক দেশ ইকুয়েডর তাদের ঘাঁটি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর পর কলম্বিয়া এ সুযোগ পেয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলভারো ইউরিব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি এ চুক্তি করেন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে সম্পাদিত এ চুক্তির আওতায় কলম্বিয়ার ভূখণ্ডে সর্বোচ্চ ৮০০ সেনা ও ৬০০ বেসামরিক প্রতিরক্ষা সদস্য মোতায়েন করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া এ অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের কথা ওই চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় গোয়েন্দা স্যাটেলাইটগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কথাও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার সাংবিধানিক আদালত চুক্তিটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও এর বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি।

বড় মতপার্থক্য ছাড়াই ব্রিটেনের জোট সরকারের ১০০ দিন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনে গঠিত প্রথম জোট সরকার গতকাল বুধবার ক্ষমতা গ্রহণের শততম দিন পার করেছে।
তেমন বড় ধরনের কোনো মতপার্থক্য ছাড়াই ক্ষমতায় থাকার শততম দিনটি উদ্যাপন করেছে তারা। তবে
সরকারের এই মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের উপনেতা সাইমন হিউজেস বলেছেন, পছন্দ নয় সরকারের এমন নীতির বাস্তবায়ন ঠেকাতে তাঁর দলের নেতাদের ভেটো ক্ষমতা থাকা উচিত।
গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের জোট সরকার ব্রিটেনে ক্ষমতা গ্রহণের সময় অনেক বিশ্লেষকই ধারণা করেছিলেন আদর্শিক পার্থক্যের কারণে খুব দ্রুত এই সরকারের পতন হতে পারে। কিন্তু তেমনটি হয়নি।
লিব ডেম নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ বর্তমান জোট সরকারকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে দলের উপনেতা সাইমন হিউজেস বলেছেন, লিব ডেম ও লেবার পার্টির মধ্যে জোট গঠনের সুযোগ এখনো রয়ে গেছে।
ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক মন্দা ও বিপুল বাজেট ঘাটতিসহ বড় ধরনের বেশ কয়েকটি সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনাদের ফিরিয়ে আনার সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে তারা। বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে ইতিমধ্যেই বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ক্যামেরন ও ক্লেগকে।
অবজারভার পত্রিকায় নিক ক্লেগ লিখেছেন, ‘যা ধারণা করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ১০০টি দিন পার করেছি আমরা।’ ক্লেগ স্বীকার করেন, ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়ে ব্রিটেনের ভোটারেরা খানিকটা ক্ষুব্ধ। ডেইলি মেইল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ব্রিটিশ সরকারের কার্যক্রম হতাশাজনক হিসেবে অভিহিত করেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোও সরকারের ব্যয় কমানোর নীতির বিরোধিতা করছে।
আগামী মাসে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের বার্ষিক সম্মেলন হওয়ার কথা। জানা গেছে, দলটির অনেক সদস্যই সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির ব্যাপারে নাখোশ। পাশাপাশি সরকার গঠনের জন্য জোট করতে গিয়ে দলীয় নীতিতে যে ছাড় দিতে হয়েছে, তা নিয়েও অসন্তুষ্ট তারা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ দলের জনপ্রিয়তাও কিছুটা কমে গেছে। লিব ডেম উপনেতা হিউজেস বলেন, ‘এই জোট সংসদীয় ভোটাভুটি কার্যকর করতে চাইলে সবাইকেই এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে হবে।’

মার্কিন সামরিক প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ চীনের

চীন তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা ওই প্রতিবেদনে পেন্টাগন বলেছে, চীন দ্রুতগতিতে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে।
এদিকে চীনের কাছাকাছি থাকা এশীয় দেশগুলো জানিয়েছে, বিশাল এই প্রতিবেশীর সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি তারা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে।
চীন বলছে, পেন্টাগনের প্রতিবেদন চীন-মার্কিন সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মঙ্গলজনক হবে না। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মার্কিন প্রতিবেদনকে ‘আক্রমণাত্মক’ ও অতিরঞ্জিত বলে আখ্যায়িত করেছে।
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং ইয়েনসেং দাবি করেছেন, তাঁর দেশ শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথেই রয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের উন্নতি ও বিকাশের ক্ষেত্রে এই প্রতিবেদন মঙ্গলজনক হবে না।
আইনসভায় পেশ করা পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞরা জাপানের মূল ভূখণ্ড, ফিলিপাইন ও মার্কিন দ্বীপ গুয়ামে আঘাত হানার সামর্থ্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছেন।
গত সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ডুবোজাহাজ, জঙ্গি বিমানবাহী রণতরী, সাইবার যুদ্ধসহ সামরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সামর্থ্য বাড়াতে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ বিনিয়োগ করছে চীন।
পেন্টাগনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইওয়ান। দেশটি তাদের কাছে উন্নত অস্ত্র বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আবার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাপানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তারা বলেছে, চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়ে তারা তীক্ষ দৃষ্টি রাখছে। ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশ তাইওয়ানকে চীন তার বিদ্রোহী প্রদেশ বলেই মনে করে।
চীন বলছে, এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরত থাকা উচিত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং বলেন, ‘চীন কঠোরভাবে একটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষানীতি মেনে চলে। আমরা কোনো রকম সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাই না এবং কোনো দেশের জন্য হুমকিও নই।’
জেং আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা বলব, দুই দেশের সেনাবাহিনী এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক নয় এমন মন্তব্য ও আচরণ থেকে তারা যেন বিরত থাকে।’
পেন্টাগনের প্রতিবেদনকে আক্রমণাত্মক হিসেবে অভিহিত করেছেন চীনা বিশেষজ্ঞরা। ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেং জিয়াংকিং গ্লোব টাইমস পত্রিকাকে বলেন, পেন্টাগনের প্রতিবেদনে অন্যের ব্যাপারে হস্তক্ষেপের চরিত্র অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। চীন তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে এ ধরনের অতিরঞ্জনে নিশ্চয় অসন্তুষ্ট।
মার্কিন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাইওয়ানের চীনপন্থী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকা সত্ত্বেও চীন দ্বীপটিকে লক্ষ্য করে তাদের সামরিক অবস্থান জোরদার করা অব্যাহত রেখেছে।

ব্ল্যাক হোল রহস্যের সমাধান খুঁজে পাওয়ার দাবি

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘ম্যাগনেটর’ বা ‘চুম্বকীয় নক্ষত্র’-বিষয়ক নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। একটি নতুন ম্যাগনেটর খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমে তাঁরা কৃষ্ণগহ্বর-সম্পর্কিত রহস্যের সমাধান খুঁজে পাওয়ার দাবি করছেন। যুক্তরাজ্যের ওপেন ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. বেন রিচির নেতৃত্বে এক দল গবেষক নতুন এই তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।
সম্প্রতি অ্যাস্ট্রোনমি ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্স সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ম্যাগনেটর নক্ষত্রগুলো বিশেষ ধরনের নিউট্রন নক্ষত্র। মাধ্যাকর্ষণজনিত শক্তির কারণে মূল নক্ষত্রের পতন বা মৃত্যু ঘটলে এ ধরনের নক্ষত্রের উদ্ভব ঘটে এবং তা একটি ‘ক্যাটাস্ট্রফিক সুপারনোভা’ বা এক ধরনের প্রচণ্ড বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন অতিকায় নক্ষত্রে রূপান্তরিত হয়। তবে এ ধরনের নক্ষত্র সৃষ্টির ক্ষেত্রে আদি নক্ষত্রটির ভর অবশ্যই সূর্যের চেয়ে কমপক্ষে ৪০ গুণ বেশি হতে হবে।
গবেষক দলের সদস্যরা একটি বিশেষ ধরনের নক্ষত্রগুচ্ছের মধ্যে ওয়েস্টারলুন্ড ওয়ান নামের নতুন ওই ম্যাগনেটর খুঁজে পান। এটি পৃথিবী থেকে ১৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ওই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক অতিকায় নক্ষত্র রয়েছে।
গবেষণাপত্রের লেখকদের অন্যতম স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব আলিকান্তের ড. নেগুয়েরুয়েলা বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া কৃষ্ণগহ্বর-সম্পর্কিত রহস্যের ব্যাখ্যাটি এমন হতে পারে—যদি অতিকায় আদি নক্ষত্রটি সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই তার মোট ভরের ১০ ভাগের ৯ ভাগ হারায়, সে ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে।’

বন্যার্তদের জন্য সহায়তা জঙ্গিদের হাতে যাবে না

পাকিস্তানের বন্যার্ত মানুষের জন্য দেওয়া আন্তর্জাতিক সাহায্য কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে যাবে না বলে দাতাদের আবারও আশ্বস্ত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক। তিনি বলেন, এই সহায়তা থেকে কোনোভাবেই তালেবানকে সুবিধা নিতে দেওয়া হবে না।
জাতিসংঘ বলছে, দেশটিতে ভয়াবহ বন্যায় প্রাথমিক ত্রাণ-সহায়তার জন্য চার কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন। চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত এর অর্ধেক পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত দুই কোটি মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। দেশটির কিছু কিছু এলাকায় বন্যার ব্যাপারে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, বন্যাকবলিত ৬০ লাখ মানুষের জরুরি ত্রাণ-সহায়তা প্রয়োজন। এখনো হাজার হাজার গ্রাম পানিতে ডুবে আছে। বন্যাকবলিত অনেকেই আশ্রয়, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে না। তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বন্যাকবলিত মানুষ সরকারের সমালোচনা করছে। প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ সরবরাহ অনেক কম বলে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেন, প্রাথমিক ত্রাণ-সহায়তায় সরকারের ভূমিকায় তিনি সন্তুষ্ট। তবে ভয়াবহ এই দুর্যোগে সরকারও অনেকটা হতবিহ্বল। তিনি বলেন, বন্যাপরিস্থিতি এত ভয়াবহ হবে সরকার তা আশঙ্কা করেনি। এই উপমহাদেশের ইতিহাসে এত বড় ভয়াবহ দুর্যোগের ঘটনা আগে ঘটেনি।
রেহমান মালিক বলেন, বন্যাদুর্গতদের সহায়তা দিয়ে জনগণের মন জয়ের চেষ্টা করতে পারে তালেবান। তারা যাতে এই সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি সচেতন আছেন বলে জানান।
বন্যার্ত মানুষকে সহায়তা দিয়ে তালেবান সাধারণ জনগণের মন জয় করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যান পিটারসন। তিনি বলেন, এমন কিছু বন্যাদুর্গত এলাকা আছে, যেখানে শুধু তালেবান গোষ্ঠীই ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ বলছে, পাকিস্তানে বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে সংস্থাটি হিমশিম খাচ্ছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র মাউরিজিও জিউলিয়ানো বলেন, অর্থ সংগ্রহের কাজে উন্নতি হচ্ছে। তবে ভয়াবহ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সত্যিই কঠিন। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ জরুরি সহায়তার জন্য দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ত্রাণসহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গতকাল পাকিস্তানে আরও তিন কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এতে সব মিলিয়ে বন্যার্ত মানুষের জন্য ইইউর সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে নয় কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। ইইউর মানবিক সহায়তাবিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টালিনা জিওর্জিভা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
পুলিশ ফাঁড়িতে জঙ্গি হামলা: ভয়াবহ বন্যার মধ্যেও পেশোয়ারে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। এ ছাড়া দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে।
পেশোয়ারের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী খান গতকাল জানান, পেশোয়ারের আদেজাই এলাকায় মঙ্গলবার রাতে নামাজ আদায়ে যাওয়ার পথে দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ওই দুই ব্যক্তি তালেবানবিরোধী বলে পরিচিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পেশোয়ারের সারবান্দ এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ সময় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়। তবে কোনো পুলিশ হতাহত হয়নি।

মুন্সিগঞ্জে নৌবন্দর স্থাপনে আইআইডিএফসির সঙ্গে সেমকরের ঋণচুক্তি

ঢাকা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে বেসরকারি উদ্যোগে একটি অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন বন্দর হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেমকর ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্র্যাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (আইআইডিএফসি) লিমিটেডের মধ্যে সম্প্রতি একটি ঋণচুক্তি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী আইআইডিএফসি লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে প্রকল্পটির জন্য ১৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার সিন্ডিকেটেড ঋণ সংগ্রহ করবে।
সেমকরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ জে রিজভী এবং আইআইডিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইআইডিএফসির চেয়ারম্যান এম মতিউল ইসলাম, স্ট্রাকচারড ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান খন্দকার শফিকুর রহমান ও একই বিভাগের পরিচালন প্রধান এ এস এম আরিফ এবং সেমকরের অর্থ পরিচালক সৈয়দ ফজলুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসের রিজভী ও মহাব্যবস্থাপক সাফি ওমরসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই নৌপরিবহন বন্দর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২৩৬ কোটি টাকা। এটির পরিবহন ধারণক্ষমতা হবে এক লাখ ২০ হাজার টিইউ (টোয়েন্টি ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট)।
বন্দরটি স্থাপিত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্য বহনকারী কনটেইনার লোডিং এবং আনলোডিংয়ের (পণ্য ওঠানো-নামানো) ব্যয় ও লিড টাইম কমবে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১১ সাল।

অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবাহ ১৭.৯% বেড়েছে

গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবাহ আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের জুন শেষে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪০ হাজার ১৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকায়। আর ২০০৯ সালের জুন শেষে এই স্থিতি ছিল দুই লাখ ৮৮ হাজার ৫৫২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
এর মানে হলো, গত অর্থবছরে দেশে অভ্যন্তরীণ ঋণের মোট প্রবাহ ছিল ৫১ হাজার ৬২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের মোট প্রবাহ ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতিতে গত অর্থবছর শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। দেখা যাচ্ছে, বছর শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের বৃদ্ধির হার সেই লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও জানা যায়, গত অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রকৃত পরিমাণ নেতিবাচক হয়ে গেছে। মানে সরকার যা ঋণ নিয়েছে, এই সময়কালে তার চেয়ে বেশি বকেয়া ঋণ ফেরত দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১০ সালের জুন শেষে সরকারের প্রকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। আর ২০০৯ সালের জুন শেষে এই স্থিতি ছিল ৫৮ হাজার ১৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।
অর্থাৎ এই সময়কালে ঋণ পরিশোধ করার পরও সরকারের হাতে তিন হাজার ৭৯২ কোটি ২৯ লাখ টাকা রয়ে গেছে। সুতরাং সরকার প্রকৃত ঋণ নিয়েছে সাড়ে ছয় শতাংশ।
তবে বেসরকারি খাত—ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে সোয়া ২৪ শতাংশ। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতিতে এই ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির হার ২১ দশমিক ১০ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭০ হাজার ৭৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছর শেষে এই স্থিতি ছিল দুই লাখ ১৭ হাজার ৯২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অর্থাৎ গত অর্থবছর বেসরকারি খাত, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ৫২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। তার আগের অর্থবছর ঋণ নিয়েছিল ২৭ হাজার ৭৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধ আইন সংশোধন হচ্ছে

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সরকার মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ (এন্টি-মানি লন্ডারিং বা এএমএল) আইন এবং সন্ত্রাসে-অর্থায়ন প্রতিরোধ (এন্টি-টেররিজম ফাইন্যান্স) আইনে সংশোধন আনবে।
জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এসব আইনের সংশোধনী সংবলিত বিল উপস্থাপন করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছেন। সচিবালয়ে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমের কাছে এসব তথ্য দেন। খবর ইউএনবির।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি। এখন আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছি।’
অর্থমন্ত্রী জানান, দুটি আইনের সংশোধনী সংবলিত খসড়া আগে মন্ত্রিপরিষদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংকিং ও আর্থিক বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) এক প্রতিনিধিদলও বৈঠকে যোগ দেয়। এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন এপিজির ডেভিড শ্যানন, অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশের ক্রিস উডস, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের রবার্ট এইচ গিরার্ডি, নাজরানা ইমাম প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বলেন, সরকার ইতিমধ্যে অর্থ পাচার ও অবৈধ ব্যবহার রোধে একটি কৌশল গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত এ বিষয়ে একটি নীতি বিবৃতি প্রকাশ করবে। তিনি বলেন, প্রথম দিকে বিষয়টি অর্থনৈতিক থাকলেও এটি এখন রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দুটো দিক থেকে দেখতে হবে। একটি হলো অর্থনৈতিক লোকসান, অন্যটি রাজনৈতিক সমস্যা।
মুহিত বলেন, ‘এসব দিক মোকাবিলা করে আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনা বিশ্বের সামনে অক্টোবর মাসে তুলে ধরব। তার আগে সেপ্টেম্বরে সিডনিতে এপিজির বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে টাকা যে পাচার হয়েছে, অবশ্যই তার কিছু প্রমাণ আছে। কোকো (আরাফাত রহমান) টাকা পাচার করায় যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘আমাদের কাছে আরও তথ্য আছে। কিন্তু মামলা দায়ের না করা পর্যন্ত আমরা তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পারছি না।’
সংশোধনী প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানের প্রচলিত আইনে সরকার বিদেশে পাচারকৃত অর্থ জব্দ করতে পারে না। সংশোধনীর পর তা সম্ভব হবে।
আইনগুলোয় সংশোধন না আনলে কী হতে পারে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বহির্বিশ্বের সামনে এমন একটা ধারণা তৈরি হবে যে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ তেমন সক্রিয় হচ্ছে না।
মুহিত জানান, গত বছর অক্টোবরে এপিজি যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেখানে এসব আইনে কিছু সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এবারও এপিজির প্রতিনিধিরা মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে সরেজমিন এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে এসেছেন।
উল্লেখ্য, মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইন, ২০০৯ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন, ২০০৯—এ দুটিতে সংশোধনী আনতে সরকার চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ১২ সদস্যের জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করে।
অর্থমন্ত্রী এই কমিটির আহ্বায়ক। সদস্যরা হলেন: দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সচিবেরা (অর্থ, ব্যাংকিং, আইন, সংসদ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র বিভাগ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানরা।

লক্ষ্য মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া



২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়া, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার আট শতাংশে উন্নীত করা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যমাত্রাকে প্রাধান্য দিয়ে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম অংশের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উন্নয়নের বহুমাত্রিক কৌশল থাকবে এই ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১০-১৫)। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আলোচনার জন্য তা পাঠানো হবে জাতীয় সংসদে।
গতকাল বুধবার পরিকল্পনা কমিশনে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রথম অংশের খসড়ার ওপর অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন।
অর্থমন্ত্রী এও বলেছেন, ‘কোনো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাই পূর্ণাঙ্গ দলিল নয়। এটি মূলত কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও তাই।’
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তবে মূল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের প্রধান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, পরিকল্পনাসচিব হাবিবউল্লাহ মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রীর মতে, পরিকল্পনা কমিশন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। একাধিক সভার পর সম্প্রতি এর খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। আজ বুধবার এর ওপর সবাই মতামত দিয়েছেন। কিছুদিন পর তা মন্ত্রিসভায় যাবে। তারপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে জাতীয় সংসদে।
দ্বিতীয় অংশের খসড়া আরও কিছুদিন পর চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘রূপকল্প ২০২১’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া। তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে একে আরও নতুন করে সাজানো হবে।
রূপকল্প-২০২১ দুটি পর্যায়ে বাস্তবানের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পর আরও একটি পরিকল্পনা থাকবে। ষষ্ঠটির মেয়াদ থাকবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত।
এ এম এ মুহিত বলেন, ‘অর্থনীতিতে আমরা একটা গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। পাশাপাশি চাই জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে। সে জন্যই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক ভালো দিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া জাগানো কিছু কাজও করেছে বাংলাদেশ। এটি আসলে এক অদ্ভুত দেশ।
উদাহরণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধির নিম্ন হারের পাশাপাশি দেশটি ঠাসা দরিদ্র মানুষে। তার পরও অসাধারণ কিছু কাজ কিন্তু হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, স্যানিটেশন, শিক্ষায় সাফল্য উল্লেখ করার মতো।
২০ মাস পার হওয়ায় বর্তমান সরকারের মেয়াদ আছে আর তিন বছরের কিছু বেশি। সেখানে রূপকল্প ২০২১-এর পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা এমনভাবে করা হবে, জাতীয় দিক বিবেচনা করলে একে বদলানো মুশকিল হবে। যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক অজনপ্রিয় ছিল। লোকে অনেক গালাগালি করেছে। তারপরও তাদের কিছু বিষয় কিন্তু বাদ দেওয়া হয়নি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আসলে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। বলতে চাই, সরকার একটি চলমান সংস্থা, প্রক্রিয়া বা প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে যে সরকারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাক না কেন, জাতির প্রয়োজনে নীতি ও দিকনির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
জানা গেছে, সামষ্টিক অর্থনীতি নীতিবিষয়ক অধ্যায়টি আটটি বিষয় নিয়ে সাজানোর জন্য একমত পোষণ করেছেন সদস্যরা। এগুলো হলো আগের অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনা করা; প্রবৃদ্ধির কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ; সামষ্টিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও আয়বৈষম্য কমিয়ে আনার কৌশল গ্রহণ; প্রতিবছর সামষ্টিক অর্থনীতির পরিকল্পনা গ্রহণ; সামাজিক সম্পদ ও কৌশল গ্রহণ; দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, বাংলাদেশ অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উদাহরণ তৈরি করেছে। ঝড়-ঝঞ্ঝা, সিডর, আইলার মতো দুর্যোগও কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা দেখিয়েছে দেশটি। আর মুক্তিযুদ্ধ তো আছেই। অনেকে ভেবেছিল, দেশটি বুঝি আর দাঁড়াতে পারবে না। তাদের আশঙ্কা গুঁড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ঠিকই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।
তবে এখনকার চ্যালেঞ্জ হলো মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ওই বিবেচনা থেকেই করা হচ্ছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

ডিএসইর বাজার মূলধন তিন লাখ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়াল

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার হিসেবে পরিচিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বা তালিকাভুক্ত সব শেয়ারের সম্মিলিত বাজার মূলধন তিন লাখ কোটি টাকার নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
গতকাল বুধবার স্টক এক্সচেঞ্জটিতে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ সিকিউরিটিজের দাম বাড়ায় বাজার মূলধনের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বাজার মূলধনের নতুন এ পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বছর দেড়েক আগেও যা মাত্র ১৮ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ, দুই বছরেরও কম সময়ে ডিএসইর বাজার মূলধন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে বাজারমূল্যে দেশের জিডিপির পরিমাণ গণনা করা হয়েছে ছয় লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) বাজার মূলধন জিডিপির ১১১ দশমিক ৩৬ শতাংশের মতো। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন সে দেশের জিডিপির মাত্র ৩২ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের মন্দার কারণে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে বাজারে নগদ অর্থ বা তারল্য প্রবাহ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী শেয়ারের সরবরাহ না বাড়ায় তালিকাভুক্ত বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। মূলত এরই প্রভাবে বেড়েছে বাজার মূলধন।
তাঁরা এও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে বেশ কয়েকটি বড় মূলধনের কোম্পানি তালিকাভুক্তিও বাজার মূলধন বাড়াতে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে পারেনি। তাই বলা যায়, শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধিজনিত কারণে নয়, বরং দাম বাড়ার কারণেই বাজার মূলধন বাড়ছে।
তাঁদের মতে, দাম বাড়ার প্রভাবে বাজার মূলধন বাড়তে থাকলে তা বাজারের ঝুঁকিই বাড়াবে।
বাজার পরিস্থিতি: সপ্তাহের শুরুতে বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। কিন্তু গত দুই-তিন দিনে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচক ও লেনদেনে আবারও চাঙাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৭১৯ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। স্টক এক্সচেঞ্জটির ইতিহাসে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সূচকের নজির।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচকও ২৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৯৮৮ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই গতকাল তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এভাবে দাম বাড়ার কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গড় পিই বা শেয়ারের আয় অনুপাতে দাম প্রায় ২৫ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বাজারের চেয়ে যা অনেক বেশি। এ অবস্থায় বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকেরা আরও বলেন, বাজারের অতি মূল্যায়িত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) একজন বিনিয়োগকারীকে ১০ কোটি টাকার ওপরে ঋণ-সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের কোনো গ্রাহককে এর বেশি ঋণ দিচ্ছে না। এতে বিনিয়োগকারী স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলোর দিকে বেশি করে ঝুঁকে পড়েছে।
কারণ, স্বল্প মূলধনের কোম্পানির শেয়ারে অপেক্ষাকৃত কম টাকা নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে সহজেই দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে অনেক মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির পিই কম হওয়ার পরও কেবল বড় মূলধনের কারণে বিনিয়োগকারীদের সেদিকে আগ্রহ কম।

আর্চারিতে আশা ধরে রেখেছেন ইমদাদুল

গত বছর নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যুব অলিম্পিকের বাছাইপর্বে সোনা জিতেছিলেন। সরাসরি যুব অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাওয়া ইমদাদুল হক (মিলন) সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে ব্যক্ত করে গেছেন সোনা জয়ের প্রত্যাশা। সেই লক্ষ্যপূরণের প্রথম সিঁড়ি পেরোলেন কাল। পুরুষ এককের এলিমিনেশন রাউন্ড পেরিয়ে উঠে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। এই রাউন্ডে তিনি ৬-২ পয়েন্টে হারিয়েছেন কানাডার টিমন পার্ককে।
চার সেটে ইমদাদুলের স্কোর (৯+৯+৯), (১০+৯+৯), (১০+৯+৯), (৯+৯+৯)। সব মিলিয়ে ১১০। বিপরীতে ১০৫ স্কোর করেন পার্ক। ৩২ জনের মধ্যে ইমদাদুল হয়েছেন ১২তম। মিশ্র দ্বৈতেও ভালো ফলাফল করেছে বাংলাদেশ। বিউটি রায়ের সঙ্গে জুটি গড়া ইমদাদুল এখানেও উঠে গেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে মেয়েদের এককে হেরে গেছেন বিউটি রায়। এলিমিনেশন রাউন্ডে মেক্সিকোর মারিয়ানা আভিতিয়ার কাছে হেরে ৩২ জনের মধ্যে ২৯তম হয়েছেন তিনি।
আগের দিন হিটেই বাদ পড়েছিলেন বাংলাদেশের সাঁতারুরা। তবে কাল ছেলেদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিলেন জুয়েল আহমেদ। নিজের এই ইভেন্টে ২৮.১৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৮ জনের মধ্যে হয়েছেন সপ্তম।

মোহামেডানে পালাবদল

বড় কোনো শিরোপা জয়ের পরও মোহামেডান ক্লাব চত্বরে এত ভিড় দেখা যায়নি অনেক দিন।
ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি যেন নতুন যাত্রা শুরু করল গতকাল। ক্লাব আঙিনায় অচেনা অনেক সমর্থকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল। অনেক দিন ক্লাবের খোঁজখবর না রাখা সাদা-কালো অন্তঃপ্রাণ সমর্থকও হাজির। সংবাদমাধ্যমের গিজগিজে উপস্থিতিতে মোহামেডানের কালকের বিকেলটা সত্যিই অন্যরকম হয়ে উঠেছিল।
উপলক্ষ্য—১৭ বছর পর ক্লাবের শীর্ষ পদ থেকে ১২ আগস্ট মোসাদ্দেক আলীর (ফালু) পদত্যাগের পর নতুন আহ্বায়ক বেছে নেওয়া। কাল ক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সভায় নতুন আহ্বায়ক মনোনীত হলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব, মোহামেডানের সাবেক সহসভাপতি, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি এবং ক্লাবের বিতর্কিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কুতুবউদ্দিন আহমেদ। এই পদে তাঁর মেয়াদ তিন মাস, এরপর নির্বাচন হওয়ার কথা।
বেশ কিছুদিন ধরে মোহামেডানের সাংগঠনিক অবস্থা ভঙ্গুর। এ অবস্থায় নতুন আহ্বায়ক তিনটি প্রধান কাজ ঠিক করে ফেলেছেন—ক্লাবকে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও আর্থিক স্বচ্ছতা রাখা, গতবারের সব ফুটবলার দল ছেড়ে যাওয়ায় এখন যতটা সম্ভব ‘ভালো’ ফুটবল দল গঠন এবং ক্লাবকে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত করা।
নতুন আহ্বায়ক মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের আভাস ছিল, যা ফুটে ওঠে আগের সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্যসচিব লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার একটা অভিযোগে। কুতুবউদ্দিনের বিরোধিতা না করা এবং ক্লাবের ফুটবল কোচ হিসেবে শফিকুল ইসলামকে (মানিক) নিয়োগ দেওয়ার জন্য মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে দাবি করে মতিঝিল থানায় জিডি করেন লোকমান।
কালকের সভা সূত্রের খবর, কুতুবউদ্দিনের আহ্বায়ক পদে মনোনয়ন চাননি কেউ কেউ। উচ্চকিত ছিলেন সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা কামরুন্নাহার ডানা ও তাঁর ব্যাডমিন্টন তারকা স্বামী আবুল হাশেম। নতুন আহ্বায়ক হিসেবে ডানা প্রস্তাব করেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহতাবউদ্দিন আহমেদের নাম। কিন্তু মাহতাব তাতে রাজি হননি।
কেউ কেউ পদত্যাগী আহ্বায়ককে ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সেটি নাকচ করে দিলেও মোসাদ্দেক আলীর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন সবাই। ক্লাব ভবনের বর্তমান জমি স্থায়ীকরণ, গাজীপুরে স্টেডিয়াম করার জন্য সরকার থেকে জমি পাওয়া মোসাদ্দেক আলী যুগের ফসল।
কুতুবউদ্দিনের নামটা একক প্রার্থীই ছিল শেষ পর্যন্ত। লুৎফর রহমান বাদলের প্রস্তাব সমর্থন করেন বাদল রায়, মিজানুর রহমান, মাহবুবুল আনাম, সালাম মুর্শেদী, আনোয়ারুল হক (হেলাল), মোস্তাকুর রহমান প্রমুখ। ছিল লোকমান হোসেনের সমর্থনও। ৪৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির দু-তিনজন ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন এই সভায়। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।
মোহামেডানকে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত করার উদ্যোগের পরই বিরোধ শুরু ক্লাবে। মোসাদ্দেক আলীর পদত্যাগপত্রে সেটার ইঙ্গিত ছিল। কিছু সদস্যের অসহযোগিতা, ক্লাব আঙিনার পৌনে ৫ বিঘা জায়গায় বহুতল ভবন করতে কমিশন-বাণিজ্য, ভবন নির্মাণে পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ প্রভৃতি নিয়ে অনেকেই তৎপর ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর।
গত বছরের ৬ জুন ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় গৃহীত হয়েছিল মোহামেডানকে লিমিটেড করার প্রস্তাব। তখন নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক হন মোসাদ্দেক আলী। লিমিটেড কোম্পানি করার অন্যতম শর্ত ঢাকা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধন করতে গিয়েই সমস্যা বাধে। গত ২৯ ডিসেম্বর নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হলে ব্যাপারটা থমকে যায়। আহ্বায়ক কমিটির আবেদনে হাইকোর্ট জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে শোকজ করে জানতে চেয়েছেন—কেন মোহামেডানকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না।
গেরো খুলতে এবং ক্লাবের ভিত্তি শক্তিশালী করতে কুতুবউদ্দিনকে আনা হলো শীর্ষ পদে। বাদল রায় যেমন বললেন, ‘যোগ্য লোক দায়িত্ব নিয়েছেন। সাংগঠনিক কাজে এখন গতি আসবে।’ খোন্দকার জামিলউদ্দিনের কথা, ‘খুব ভালো একটা কাজ হয়েছে।’ সাবেক ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বিরও খুশি, ‘যোগ্য লোকের হাতে দায়িত্ব পড়েছে।’
এর আগে মোহামেডানের সভাপতি ছিলেন খাজা আজমল, গুল মোহাম্মদ আদমজী, মইনুল ইসলাম, মহিউদ্দিন আহমেদ খান, আবদুল মোনেম, মোসাদ্দেক আলী। ‘নতুন নেতা’ কুতুবউদ্দিন আহমেদ কতটা এগিয়ে নিতে পারেন ক্লাবকে, সেটিই দেখার।

এক ম্যাচ নিষিদ্ধ রণদিভ

নাম রণদিভ। কিন্তু রণে ভঙ্গ দিয়ে সুরাজ রণদিভ গত ম্যাচে যা করেছেন, তা একটা ক্রিকেট-কলঙ্ক। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) এই কলঙ্ক মোছার উপায় খুঁজতে কাল জরুরি বৈঠক করেছে। ছয় সদস্যের বিশেষ কমিটির কাছে মনে হয়েছে, রণদিভ ক্রিকেটের চেতনাবিরোধী কাজই করেছেন। আর তাই এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাঁকে। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হচ্ছে না এই স্পিনারের। পুরো ম্যাচ ফিও কেটে নেওয়া হয়েছে তাঁর।
ম্যাচ ফি কেটে নেওয়া হয়েছে তিলকরত্নে দিলশানেরও। এই মারকুটে ব্যাটসম্যানের অপরাধ, রণদিভকে নো বল করতে প্ররোচিত করা। সেদিনের ম্যাচের ওই সময়টার ভিডিও ফুটেজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে এসএলসির বিশেষ কমিটি। সেখানেই ধরা পড়েছে, দিলশান তাঁর দিল্লি ডেয়ারডেভিল-সতীর্থ শেবাগের সেঞ্চুরি আটকাতে প্ররোচিত করেছেন রণদিভকে। ওই সময় কভার পয়েন্টে ফিল্ডিং করছিলেন দিলশান। সেখান থেকেই তিনি সিংহলিজ ভাষায় চিৎকারে করে রণদিভকে নাকি বলেছেন, ‘তুই চাইলে নো বল করতে পারিস।’ এর পরের ছবিটা তো সবার জানা। দাগের প্রায় এক ফুট সামনে পা ফেলে বল ডেলিভারি করেছেন। এত সামনে পা ফেলে এর আগে কেউ কখনো নো বল করেছে কি না—ভারতীয় মিডিয়া তুলছে এই প্রশ্নটাও।
বিশেষ কমিটিই সাঙ্গাকারাকে কোনো জরিমানা করেনি। তবে অধিনায়ককে এই বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। কাল বোর্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তার দল আর দলের অর্জন নিয়ে গর্বই করে এসেছে এত দিন। তবে ভদ্রলোকের খেলাটিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও খুবই জরুরি, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা যেখানে টানা দুই বছর আইসিসির স্পিরিট অব দ্য গেম পুরস্কার জিতেছে।’
এসএলসি নিজ উদ্যোগে বিষয়টি তদন্ত করে দেখায় সাধুবাদ জানিয়েছে আইসিসি। তবে এটি পরিষ্কার নয়, এসএলসির পর আইসিসিও আলাদা রণদিভকে কোনো শাস্তি দেবে কিনা। এর আগে আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত বলেছিলেন, ‘এই নো বলটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। এরপর আইসিসির কোড অব কন্ডাক্ট অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’
প্রথম প্রথম রণদিভের পক্ষে দাঁড়ানো সাঙ্গাকারাও কাল সুর পাল্টে পুরো দায় নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছেন। এসএলসি শাস্তি ঘোষণার আগেই শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক বলছেন, ‘যে খেলোয়াড় এটি করেছে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। কারণ এটা ক্রিকেটের চেতনাবিরোধী।’
এসব ঘটনার ঘনঘটার মধ্যেই আজ আবার মাঠে নামতে হচ্ছে সাঙ্গাকারার দলকে। বিতর্কের একটা চাপ তো আছেই, পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানও চাপে রেখেছে শ্রীলঙ্কাকে। তিন দলের প্রত্যেকেই একটি করে ম্যাচ জিতেছে, একটি হেরেছে। কিন্তু শুধু শ্রীলঙ্কাই কোনো বোনাস পয়েন্ট পায়নি। ফলে নিউজিল্যান্ড-ভারতের পয়েন্ট ৫ হলেও, শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৩।
রণদিভকে দলের বাইরে রেখে মাঠে নামার পরিকল্পনা করা শ্রীলঙ্কা আপাতত খেলাতেই মনোযোগ দিতে চায়। সাঙ্গাকারা সেই বার্তা দিয়েছেন দলকে। আজ যে তাদের অনেকটা বাঁচামরার লড়াই।

সাকিব ৩২ বলে ৩৪

ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় কিছু করতে পারলেন না সাকিব আল হাসান। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ২২ বলে ১৮ রান। আর কাল দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২ বলে ৩৪। সারের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচের তৃতীয় দিন চা-বিরতি পর্যন্ত সাকিবের দল উস্টারশায়ার করেছে ৮ উইকেটে ২৯৪ রান।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩০৮ রানে অলআউট হয়েছিল উস্টারশায়ার। সারে তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৫৯ রানে। এর মধ্যে ৬০ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব।

ফিদে রেটিং দাবা শুরু

জয়পুরহাট থেকে এসেছেন শহীদুল ইসলাম। ঢাকার খিলগাঁও থেকে সিয়াম হোসেন। ঢাকার ফেডারেশন কার্যালয়ে গতকাল থেকে শুরু হওয়া ফিদে রেটিং দাবায় অংশ নিচ্ছেন তাঁদের মতো ১২২ জন দাবাড়ু।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ফেডারেশনের সভাপতি এবং বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদের। ৯ রাউন্ড সুইস পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে কাল জিতেছেন ৫৮ জন। বিজয়ীদের জন্য মোট ৫০ হাজার টাকার অর্থপুরস্কার আছে টুর্নামেন্টে।