Saturday, February 13, 2010

রক্তাক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্বরতার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত দেখা গেল গত সোমবার রাতভর ছাত্রলীগ ও পুলিশের সঙ্গে তাদের সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায়। ফারুক হোসেন নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া, আরও তিন কর্মীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া, পুলিশের সঙ্গে তাদের রাতভর গুলিবিনিময়, ছাত্রাবাসগুলোর ফটক ভাঙা, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর কক্ষ ভাঙচুর, কয়েকটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া—এসবের বিবরণ ছাপা হয়েছে বুধবারের জাতীয় দৈনিকগুলোতে। চিত্রটি এমন, যেন ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রদের সংগঠন নয়, বরং প্রশিক্ষিত, সশস্ত্র, সংঘবদ্ধ একটি দুর্বৃত্ত বাহিনী; যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তত্পর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আবু বকর সিদ্দিক নামের এক সাধারণ ছাত্রের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেনের মৃত্যু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতির লক্ষণ। রাজশাহীর ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বিস্ময়ের সঙ্গে মন্তব্য করেছেন: সব তো ঠিকভাবেই চলছিল, হঠাত্ করে কেন এসব শুরু হলো? তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব সহিংসতার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেটা করা খুবই জরুরি; তবে সাধারণভাবে দেখা যায়, কিছু বোঝাও যায় যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহিংসতার আশঙ্কা সব সময়ই রয়েছে। কোন মুহূর্তে তা শুরু হচ্ছে, সেটা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর।
শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো যদি পড়াশোনার পরিবর্তে ক্যাম্পাসের ভেতর, আবাসিক হলগুলোতে ও সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ, দখলদারি এবং সেসবের সঙ্গে আনুষঙ্গিক বৈষয়িক প্রাপ্তির বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে তাদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ অনিবার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে দ্বন্দ্ব ছাত্রলীগের ভেতরই বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে, রাজশাহীতে তা ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে। দ্বন্দ্বটা আধিপত্যের। ছাত্রলীগের এক কর্মীর একটি আবাসিক হলে প্রবেশের চেষ্টা এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের তাতে বাধা দেওয়ার ঘটনা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিরাট সংঘর্ষ ঘটে গেল, তা থেকেই আধিপত্যের লড়াইটা খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তথাকথিত ছাত্রসংগঠনগুলোর আধিপত্যের লড়াইকে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারগুলো প্রশ্রয় দেয়। যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, তার অনুসারী ছাত্রসংগঠন সেই লড়াইয়ে সরকারি সহযোগিতা পায়। সেখানে দেশের প্রচলিত আইন কাজ করে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে, সেই সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও সংগঠনটি একই রকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ নিকটবর্তী এলাকার সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের প্রভাব ও আধিপত্য এতটাই বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে যে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তারা এমনকি সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও রীতিমতো যুদ্ধ চালাতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দৌরাত্ম্য মাত্রা ছাড়িয়েছে; তাদের ঘাঁটি উচ্ছেদ করতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আইনি উদ্যোগ নিতে হবে।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যদি মনে করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের আধিপত্য অপসারিত হবে ছাত্রলীগের দ্বারা, তাহলে সংঘর্ষ, রক্তপাত, প্রাণহানি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা-বিপর্যয় বন্ধ হবে না। বকর ও ফারুকের মতো সম্ভাবনাময় তরুণদের অকালে ঝরে পড়া থামবে না। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিক্ষাঙ্গনকে সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার। এই ধারার ছাত্ররাজনীতিও আর চলতে দেওয়া উচিত কি না, তা গভীরভাবে ভেবে দেখার সময় হয়েছে।

তরবারি গিলে বিশ্ব রেকর্ড

কসঙ্গে ১৮টি তরবারি গলাধঃকরণের মাধ্যমে চাইনে হাল্টগরেন নামের অস্ট্রেলীয় এক শিল্পী নতুন করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবার তাঁর নাম উঠেছে। এর মাধ্যমে স্পস কাউবয় নামে পরিচিত হাল্টগরেন ২০০৮ সালে নিজের স্থাপন করা রেকর্ডটি ভেঙেছেন। গত রোববার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি একসঙ্গে ওই তরবারিগুলো মুখ দিয়ে গলায় প্রবেশ করান। তরবারিগুলোর প্রতিটি ছিল ৭২ সেন্টিমিটার দীর্ঘ।
অনুভূতি জানাতে গিয়ে ৩১ বছরের হাল্টগরেন বলেন, ‘আমি পেরেছি। খুবই ভালো লাগছে। আপনাদের ধন্যবাদ।’ তিনি জানান, ১৬ বছর বয়স থেকে তিনি তরবারি নিয়ে এই কসরত শুরু করেন। এটি রপ্ত করতে তিনি প্রতিদিনই অনেক ঘণ্টা অনুশীলন করেছেন। তরবারিগুলো একসঙ্গে গলায় পুরতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে তাঁকে।

সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির বিরোধিতায় গ্রিসে ধর্মঘট

বিপুল বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় গ্রিস সরকারের নেওয়া পরিকল্পনার বিরোধিতা করে সে দেশের সরকারি খাতের কর্মীরা গতকাল বুধবার ধর্মঘট করেন। আর এতে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। আর হাসপাতালগুলো শুধু জরুরি সেবা চালু রেখেছে। সরকারি কর্মীদের বেতন স্থগিত করা, অবসরভাতার কাঠামো সংস্কার ও কর আদায় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণার পর ওই ধর্মঘট শুরু করেন কর্মীরা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে একটি সম্মেলনে গ্রিসের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। গ্রিসের পরিস্থিতি ইউরোর গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানড্রেউসের সরকার গত মঙ্গলবার ঘোষণা করে, অবসরভাতার ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে কর্মীদের অবসরের গড় বয়সসীমা বাড়ানো হবে। এ ছাড়া সরকারি কর্মীদের বেতন স্থগিত করার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলের (পেট্রল) দামও বাড়িয়েছে সরকার।
প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেছেন ধর্মঘটী কর্মী ও অবসরভাতাভোগীরা। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েক শ সরকারি কর্মী ও অবসরভাতাভোগী রাজধানী এথেন্সের কেন্দ্রস্থলে এক বিক্ষোভ সমাবেশে জড়ো হন।
বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, একটি স্থানে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দমাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। তবে এই বিশৃঙ্খলা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গ্রিসের শ্রমিক সংঘগুলো দাবি করেছে, সরকারের এই কৃচ্ছ্রসাধনের পরিকল্পনা শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।
এথেন্সের সমাবেশে গ্রিসের কমিউনিস্ট পার্টির সহযোগী শ্রমিক সংঘের সদস্য ক্রিস্তোস কািসওতিস বলেন, ‘এটা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। আমরাও যুদ্ধের মাধ্যমে এর জবাব দেব। সরকার এই নীতি পরিবর্তন না করা পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।’
তবে এথেন্সের অনেকেই মনে করেন, সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাঁদের মতে, সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী কাতেরিনা বলেন, ‘আমাদের কৃচ্ছ্রসাধনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে, তা না হলে দেশ সংকট থেকে বের হয়ে আসতে পারবে না। অতীতের ভুলের জন্য আমাদের মাশুল দিতে হবে।

ভিসার মেয়াদ বাড়াতে তসলিমা নয়াদিল্লিতে

বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন রোববার নয়াদিল্লিতে এসেছেন তাঁর ভিসার মেয়াদ বাড়াতে। ১৬ ফেব্রুয়ারি তসলিমার ভারতে অবস্থানের ছয় মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্যই তসলিমা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নয়াদিল্লি এসেছেন।
এর আগে তসলিমা ভিসার মেয়াদ বাড়াতে সর্বশেষ দিল্লি এসেছিলেন গত বছরের আগস্ট মাসে। সেবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় সরকার তসলিমাকে রেখেছে এক অজ্ঞাত স্থানে। আগস্ট মাসে তসলিমার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সময় ভারত সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, তাঁর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হলেও তিনি ভারতে আসতে পারবেন না। যেতে পারবেন না ভারতের কোথাও। এমনকি মুখোমুখি হতে পারবেন না সংবাদমাধ্যমের। এ শর্তে রাজি হওয়ায় তসলিমার ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এবার নয়াদিল্লিতে এসে তাই তসলিমা রয়েছেন অজ্ঞাত স্থানে। দেখাও করতে পারছেন না কারও সঙ্গে। তবে তসলিমার বরাত দিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, কলকাতায় যেতে না পারাই তাঁর জন্য কষ্টের কারণ।

৪৮টি বাঘের সঙ্গে ৭২ ঘণ্টা!

৪৮টি বাঘের সঙ্গে থাকতে হবে ৭২ ঘণ্টা। নিঃসন্দেহে দুঃসাহসিক কাজ। তবে শুধু খাঁচার ভেতরে থাকলেই চলবে না, পর্যবেক্ষণ করতে হবে বাঘের জীবনযাপন। দুঃসাহসিক ওই কাজ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যাও ছিল অবিশ্বাস্য রকমের। তিনটি পদের জন্য প্রার্থী ছিলেন ৬৬৭ জন। চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিযুদ্ধের চেয়েও ওই কাজ পাওয়ার লড়াই ছিল অনেক কঠিন।
যাচাই-বাছাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তিনজনকে নিয়োগ দিয়েছে চীনের একটি সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ তিনজনকে ১০ বর্গমিটারের একটি খাঁচায় করে বাঘের একটি বড় খাঁচায় রেখে দেওয়া হবে, যেখানে থাকবে ৪৮টি বাঘ। সেখানে তাঁরা তিন দিন অবস্থান করে বাঘের জীবনযাপন-প্রণালির প্রতিটি দিক রেকর্ড করবেন।
শানজি প্রদেশের জিয়ান শহরে কুইনলিং ওয়াইল্ড অ্যানিমেল সাফারির মুখপাত্র কু হোংটাও বলেন, ‘আমরা বন্য প্রাণী রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে লোকজনের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে চাই। তাই এ ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
কু হোংটাও বলেন, বাঘের খাঁচায় থাকতে আগ্রহী ৬৬৭ জন সাহসী মানুষের আবেদনপত্র পেয়েছেন তাঁরা। এতে তাঁরা বিস্মিত। তিনি আরও বলেন, তাঁদের শুধু তিনজন প্রয়োজন ছিল। চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টার চেয়েও বাঘের খাঁচায় প্রবেশের ওই চাকরির প্রতিযোগিতা ছিল কঠিন।
চায়না নিউজ নেটওয়ার্ক জানায়, ওই কর্মসূচির জন্য শেষ পর্যন্ত তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মনোনীত হন। তাঁরা হলেন লি হাং, গান জিয়াওটিয়ান ও মেং জিহুই।
দিন-রাত ৪৮টি বাঘের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার জন্য তাঁদের ক্যামেরা, ল্যাপটপ কম্পিউটার ও নোটবুক দেওয়া হয়েছে।
জায়গা ও সঙ্গী দখলের জন্য বাঘের লড়াই রেকর্ড করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাঁদের। বাঘের খাদ্যাভ্যাস ও বসবাসের অভ্যাসের বিষয়টিও রেকর্ড করতে বলা হয়েছে।
তিন সদস্যের ওই দলের একমাত্র নারী সদস্য পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্রী মেং জিহুই বলেন, ‘বাঘ কথা বলতে পারে না, কিংবা ভোট দিতে পারে না। আমাদের অবশ্যই তাদের জন্য ভাবতে হবে।

আফিয়া সিদ্দিকীর মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান ব্রিটিশ এমপিদের

পাকিস্তানের স্নায়ুবিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হত্যাচেষ্টার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্যরা তাকে ত্রুটিপূর্ণ অভিহত করে মামলাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আফিয়াকে পাকিস্তানে প্রত্যাবাসনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি নিউইয়র্কের একটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে আফিয়াকে আফগানিস্তানে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
আফিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনাকে ‘সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আদালত ব্যর্থ হয়েছেন’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের একাংশ। লর্ড নাজির আহমেদ বলেছেন, নিউইয়র্কে আফিয়ার বিচার ছিল ত্রুটিপূর্ণ। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আফিয়াকে পাকিস্তানে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য একটি চিঠি দেবেন।
লর্ড নাজির আহেমদ আরও বলেন, বিষয়টি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তোলা হবে। আফিয়াকে ব্রিটিশ সরকার কীভাবে সাহায্য করতে পারে, সে ব্যাপারে আলোচনা করা হবে।
লর্ড নাজিরের পাশাপাশি এ ব্যাপারে আরও কথা বলেন লর্ড আলতাফ শেখ, পার্লামেন্ট সদস্য মুহাম্মাদ সারওয়ার, মুহাম্মাদ সগির, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের ব্রিটেন শাখার রাবিয়া জিয়া, সাংবাদিক ইয়োনি রিডলি ও ব্যারিস্টার আবিদ হুসাইন।

শিশুদের মুটিয়ে যাওয়া ঠেকাতে মিশেল ওবামার প্রচারণা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজন শিশুর একজন শৈশবেই মোটা হওয়ার প্রবণতায় আক্রান্ত। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মোটা হওয়ার প্রবণতা এখন একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই মহামারি থেকে মার্কিন শিশুদের রক্ষার জন্য প্রচারে নেমেছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে আয়োজিত প্রচারণা কর্মসূচি ‘লেটস মুভ’-এর মধ্যাহ্নভোজ সভায় মিশেল বলেন, ‘শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য অন্যতম বড় ঝুঁকি শৈশবে মোটা হওয়ার মহামারি ঠেকাতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
খেলোয়াড়, কৃষক, চিকিত্সক, খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এ প্রচারণা কর্মসূচি শুরু করেছেন এই ফার্স্ট লেডি। সভায় তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শৈশবে মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা সমাধান করতে পরিবার, স্কুল, সম্প্রদায়, নগর পরিকল্পনাবিদ ও রাজনীতিকদের সমবেত করা হবে, যাতে জনগণ এ সম্পর্কে সচেতন হয় এবং আজকের জন্ম নেওয়া শিশুটি পরিণত বয়সে একজন স্বাস্থ্যবান মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করতে পারে।
মিশেল ওবামা বলেন, ৩০ বছর আগের তুলনায় এখন যুক্তরাষ্ট্রে তিন গুণ বেশি শিশু শৈশবেই মোটা হওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত। মার্কিনদের প্রতি তিনি এখনই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক মার্কিন ফুটবল তারকা ও টেলিভিশনব্যক্তিত্ব টিকি বারবার বলেন, মোটা হওয়ার কারণে অনেক রোগের সংক্রমণ ও স্থায়িত্ব বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মার্কিন শিশুদের এই প্রজন্মটিই সম্ভবত প্রথম প্রজন্ম হতে যাচ্ছে, যাদের আয়ুষ্কাল বাবা-মায়ের চেয়ে কম হবে।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট জুডিথ পালফ্রে এই মুটিয়ে যাওয়ার জন্য শরীরচর্চা কমিয়ে দেওয়া এবং খাদ্যতালিকায় অনেক বেশি চর্বি ও শর্করাজাতীয় খাবারের অন্তর্ভুক্তিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, উন্নত বিশ্বে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মোটা শিশু রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সংখ্যা অন্য দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। ছয় থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতায় আক্রান্ত।
মিশেল ওবামা বলেন, ‘আমাদের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীতে চাকরির ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে সাধারণ অযোগ্যতাটি হচ্ছে মোটা হওয়া।’
শৈশবে মোটা হওয়া থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ জরুরি। এ ব্যাপারে নিজেই উদাহরণ তৈরি করেছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি। স্থানীয় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তিনি হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে একটি সবজিবাগান করেছেন।

মিয়ানমারে মার্কিন নাগরিকের তিন বছরের কারাদণ্ড

মিয়ানমারের একটি আদালত প্রতারণা ও জালিয়াতির দায়ে এক মার্কিন নাগরিককে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তাঁর মুক্তির জন্য ৫০ জন মার্কিন আইনজীবীর আহ্বান সত্ত্বেও আদালত গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন।
দণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম কিয়াও জ লুইন। তিনি নি নি অং নামেও পরিচিত। তাঁর আইনজীবী বলেন, মানবাধিকার কর্মী লুইনকে (৪০) তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিচয়পত্র জালিয়াতির জন্য এক বছর, শুল্ক বিভাগে বৈদেশিক মুদ্রার কথা প্রকাশ না করার জন্য এক বছর এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নি নি অংয়ের আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠানের নিয়ান উইন বলেন, একটির সাজা শেষ হওয়ার পর তাঁকে আরেকটি সাজা ভোগ করতে হবে। অর্থাত্ মোট তিন বছর সাজা ভোগ করতে হবে তাঁকে। আইনজীবী বলেন, আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।
ওই আইনজীবী একই সঙ্গে মিয়ানমারের বিরোধী দলের গৃহবন্দী নেত্রী অং সান সুচির পক্ষেও আইনি লড়াই লড়ছেন।
নি নি অংকে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথম দিকে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়। পরে জান্তা সরকার নি নি অংয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির তিনটি অভিযোগ আনে। নি নি অং সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত মাসের শেষের দিকে কিনের মামলার রায় দেওয়ার কথা থাকলেও আদালত দেরি করতে থাকেন। গতকাল মিয়ানমারের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে নি নি অংয়ের বিচার হয়। এক বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনে তিন বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন।
বার্মা নামে পরিচিত থাকার সময় নি নি অং তরুণ বয়সে ছাত্রদের সংগঠিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৮৮ সালের আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। পরে তিনি পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চলে যান। সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করেন মেরিল্যান্ডে।
গত সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারে তাঁর ফিরে আসার বিষয়টি পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করার দায়ে ৬৫ বছর দণ্ড পাওয়া মা ও বোনকে দেখতে নি নি অং মিয়ানমার যান।
গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ জনের বেশি আইন প্রণেতা মিয়ানমানের জান্তা-প্রধান থান শুয়ের কাছে মিয়ানমারের বংশোদ্ভূত নি নি অংয়ের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তাঁরা। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাও নি নি অংয়ের মুক্তির আবেদন জানিয়েছে।
নি নি অংয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, সরকার তার মক্কেলকে খাবার, ঘুম ও চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত করছে

ফনসেকার গ্রেপ্তারকে চ্যালেঞ্জ করবে শ্রীলঙ্কার বিরোধী দল

শ্রীলঙ্কার সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী জেনারেল শরত্ ফনসেকার গ্রেপ্তারকে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। গতকাল ফনসেকার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাঁর হাজার হাজার সমর্থক রাজধানীতে বিক্ষোভ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে অনেকে আহত হয়।
দেশের সেনাবাহিনী গত সোমবার ফনসেকাকে তাঁর কলম্বোর অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে গোপন সামরিক স্থাপনায় নিয়ে যায়। তাঁকে এখন সামরিক আইনে বিচারের কথা বলছে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের সরকার।
ফনসেকার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে সেনা অভ্যুত্থান ঘটানো ও রাজাপক্ষেকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তবে ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করেছে ফনসেকার পরিবার। তাঁর পরিবার ফনসেকার জীবন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন জেনারেল ফনসেকার স্ত্রী অ্যানোমা ফনসেকা। একই দিন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। আগেভাগে দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচন করতেই রাজাপক্ষে ওই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আগামী ৮ এপ্রিল ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
জেনারেল ফনসেকার গ্রেপ্তার ও চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। তারা এতে বলেছে, সামরিক গোপন স্থাপনায়ই জেনারেল শরত্ ফনসেকাকে হত্যা করা হতে পারে। কারণ এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে যেভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো, তাতে ওই গ্রেপ্তার অবস্থায় তাঁকে এখন মেরেও ফেলা হতে পারে।
বিরোধী রাজনীতিকেরা ফনসেকার গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিরোধী রাজনীতিকদের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা রউফ হাকীম বলেন, ‘আমরা জেনারেল ফনসেকার বিষয়টি আদালতে তুলব। বিষয়টি আমরা দেশের জনগণ, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও তুলে ধরব।’
মঙ্গলবার রাতে স্বামীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান ফনসেকার স্ত্রী অ্যানোমা। সরকারের পক্ষে সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্রাসাদ সমরসিঙ্গে বলেন, জেনারেল ফনসেকাকে কোনো কারাকক্ষে রাখা হয়নি। তাঁর জন্য থাকার ভালো ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ও আইনজীবীও দেখা করেছেন।
অ্যানোমা সেখানে স্বামীর সঙ্গে তিন ঘণ্টা সময় কাটান। তিনি স্বামীর জন্য বাড়ি থেকে খাবারও নিয়ে গিয়েছিলেন।
ফনসেকার বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রতারণা ও অন্যান্য সামরিক অপরাধের অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছে সেনাবাহিনী। তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক বিধি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ আনা হতে পারে। একই অভিযোগে ফনসেকার প্রচার ব্যবস্থাপক সেনাকা ডি সিলভাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তারের আগে ফনসেকা তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, গত বছরের যুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে যেকোনো আন্তর্জাতিক তদন্তের মুখোমুখি হতে রাজি তিনি। ফনসেকার গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছরের মে মাসে তামিল বিদ্রোহীদের যুদ্ধে পরাজিত করে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ তিন দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। ওই যুদ্ধে রণাঙ্গনে সরকারি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন ফনসেকা। কিন্তু যুদ্ধ শেষে এর সাফল্যের দাবি নিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে তাঁর। ওই যুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে জাতিসংঘ। একপর্যায়ে ফনসেকা সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন।

নাইজেরিয়ায় অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট নিয়োগ

নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
জাতীয় পরিষদ তাঁর মনোনয়ন অনুমোদন করেছে। গত নভেম্বরে চিকিত্সার জন্য সৌদি আরব যাওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট উমারু ইয়ার’আদুয়াকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি।
প্রেসিডেন্টের অব্যাহত অনুপস্থিতিতে নানা সংকটের সৃষ্টি হয়। মন্ত্রিসভা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্ট ইয়ার’আদুয়ার অনুপস্থিতিতে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়। তেলসমৃদ্ধ নাইজার ডেল্টায় অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সরকারি প্রচেষ্টার অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়ে।
গত মঙ্গলবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে গুডলাক জোনাথন বলেন, ‘আমার ওপর যে বিশ্বাস স্থাপন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন। আমি সব নাইজেরীয়কে আশ্বস্ত করতে চাই, এটা একটা পবিত্র দায়িত্ব। সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আমি সে দায়িত্ব পালন করব।

বসরায় ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ হচ্ছে

ইরাকে মার্চে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসরা নগরে ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে বসরার রাস্তাঘাটে ভিক্ষুক নিষিদ্ধ করা হবে। রয়টার্স অনলাইন।
২০০৮ সালে শিয়া বিদ্রোহীদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে অন্য শহরগুলোর মতো বসরায় নিরাপত্তাব্যবস্থারও উন্নতি হয়েছে। তবে ৭ মার্চের নির্বাচনের আগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাদেশিক পরিষদের নিরাপত্তা কমিটির প্রধান আলী গনিম আল মালিকি বলেন, বেশ কয়েকটি কারণে রাস্তাঘাটে ভিক্ষুক নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ভিক্ষাবৃত্তি সভ্য কাজ নয় এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা ভিক্ষুকদের হামলার কাজে ব্যবহার করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে বসরায় সামাজিক জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
মালিকি আরও বলেন, সুযোগসন্ধানী মানুষ বসরায় লোকজনদের কাজে লাগিয়ে রাস্তার পাশে বোমা পুঁতে রাখা বা এ ধরনের অন্য কোনো পরিকল্পনা করতে পারে। কেননা, বোরকা পরা থাকায় এরা পুরুষ না নারী, তা কেউ শনাক্ত করতে পারে না।

ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত মাওবাদীরা

ভারতের মাওবাদী বিদ্রোহীদের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। তবে এ জন্য তিনি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। শর্ত হচ্ছে, তাঁদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে মুক্তি দিতে হবে।
মাওবাদী নেতা কোতেসওয়ারা রাও বিবিসিকে বলেন, আলোচনা শুরুর জন্য তাঁদের অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে।
ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মাওবাদী বিদ্রোহীরা। ২০ বছর ধরে চলা এই লড়াইয়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
গত নভেম্বরে কোতেসওয়ারা রাও বলেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযান স্থগিত করা হলে তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তবে এবার তিনি বলেন, তাঁদের কারাবন্দী চারজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে মুক্তি দিতে হবে, যাতে তাঁরা সরকারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
ওই চারজন নেতা হলেন কোবাদ গান্ধী, অমিতাভ বাগচি, নারায়ণ সান্যাল ও সুশীল রায়। কোতেসওয়ারা রাও বলেন, ‘ওই চারজন নেতা আমাদের প্রতিনিধিদলে থাকবেন, যাঁরা ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন।’ তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে বেশ কয়েকটি রাজ্যের গরিব ও আদিবাসী লোকজন নিদারুণ দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কোতেসওয়ারা রাও বলেন, ‘মাথায় বন্দুক তাক করে আপনি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না।’

হাইতিতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিপণিকেন্দ্র বিধ্বস্ত

হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিপণিকেন্দ্র গত মঙ্গলবার ধসে পড়েছে। এতে বিপণিকেন্দ্রের ভেতর বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা তাদের বের করে আনার চেষ্টা করছে। ওই বিপণিকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ও উদ্ধারকর্মীরা এ কথা জানান।
বিপণিকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মাইর ভাকনিন বলেন, ‘এ ভবনের ভেতর লুটেরারা রয়েছে। আমি তাদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। এ ভবন ধসে পড়ার সময় তাদের কয়েকজন ভেতরে ছিল। মাইর ভাকনিনের ধারণা, এ সময় ভবনের ভেতর পাঁচ থেকে আটজন ছিল এবং কমপক্ষে একজন জীবিত রয়েছে।’
মেক্সিকোর উদ্ধারকর্মী কার্লোস মেন্দাজ জানান, তারা এ পর্যন্ত দুজনকে উদ্ধার করেছে। তারা জীবিত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তা জানার চেষ্টা করছি।’ পাঁচ তলাবিশিষ্ট এ ভবন হাইতির বিত্তবানদের কাছে জনপ্রিয় এবং রাজধানীর বৃহত্তম সুপার মার্কেট ছিল।
উল্লেখ্য, ১২ জানুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপণিকেন্দ্রের পাঁচতলা ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর কিছু অংশ অক্ষত ছিল। ওই ভূমিকম্পে দুই লাখেরও বেশি লোক প্রাণ হারায়। ভাকনিন জানান, মঙ্গলবার একটি গুদামঘর ওই ভবনের ওপর ধসে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী পাকিস্তান

আফগানিস্তানে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর উপায় হিসেবে সেখানকার তালেবান জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর জানায়।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, পাকিস্তান পরিষ্কারভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, আফগানিস্তানে চলমান যুদ্ধ থামাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিতে চায় তারা। আর এ জন্য তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার আগ্রহী প্রকাশ করেছে পাকিস্তানিরা।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ‘গত মাসের শেষ দিকে ন্যাটোর সদর দপ্তরে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি পরিষ্কারভাবেই তাঁদের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।’ পাকিস্তানের এই আগ্রহ এটাই নিশ্চিত করেছে, আফগানিস্তানে স্থিতিশীল পরিস্থিতি আনতে দেশটির ওপর প্রভাব রাখতে চায় এমন প্রতিবেশী চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
আফগানিস্তানে ন্যাটো ও মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর হামলা পরিচালনাকারী জালালউদ্দিন ও সিরাজ হাক্কানির নেতৃত্বাধীন তালেবান গোষ্ঠীর ওপর পাকিস্তানের প্রভাব রয়েছে। তাই পাকিস্তান এ ব্যাপারে জোট বাহিনীকে সাহায্য করতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, ‘হাক্কানিদের লাগাম টেনে ধরার বিনিময়ে পাকিস্তান একটি বন্ধুপ্রতিম আফগানিস্তান চায়। পাশাপাশি সেখানে বেড়ে চলা ভারতীয় প্রভাবে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ আনার আশা করছে।’
পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তান থেকে হাক্কানিদের নেতৃত্বাধীন তালেবান জঙ্গিরা আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। হাক্কানিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন চাপ থাকলেও জেনারেল কায়ানি বলেছেন, তাঁরা এই মুহূর্তে সেখানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত নন।

ইরানের ওপর চাপ বাড়ালেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎপর্যপূণ অবরোধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের অসদাচরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।
গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইরান অস্বীকার করলেও এটা পরিষ্কার যে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য কাজ করছে।
চিকিৎসা গবেষণা চুল্লিতে ব্যবহারের জন্য তেহরান ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করেছে—ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই মন্তব্য করলেন।
ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী যে এ ক্ষেত্রে ইরানের অসদাচরণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ।
ওবামা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য নতুন প্রচেষ্টা ন্যায়সংগতভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁদের ওই চেষ্টা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে বলেও ওবামা উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তেহরানের সর্বশেষ ওই পদক্ষেপ রাশিয়া অনুমোদন না করায় তিনি খুশি। তবে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা অবরোধ আরোপের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া নতুন চেষ্টার প্রতি চীন কীভাবে সাড়া দেবে, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের অবসানে আরও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র চীন।
ওবামা বলেন, পরমাণু শক্তি শুধু বেসামরিক কাজে ব্যবহার করা হবে—তেহরান এমন দাবি করলেও তারা আসলে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে পারে, তাহলে তারা পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯৩ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
এদিকে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান নিকোলাই পাট্রুশেভ বলেছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না—তেহরানের ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করায় তাদের ওই দাবির ব্যাপারে এই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টায় আগামী সপ্তাহে ইরান সফরে যাচ্ছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুটোগলু। ইরান ও পশ্চিমা বিশ্ব উভয়ের সঙ্গেই তুরস্কের সুসম্পর্ক রয়েছে।

নিত্যপণ্যে ২৫% নিয়ন্ত্রণ চায় টিসিবি

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ সরবরাহ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় সরকারি বিক্রয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ জন্য বিদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে গণখাতে ক্রয়বিধি (পিপিআর) পরিপালনের শর্ত থেকেও সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি চায় সংস্থাটি।
একই সঙ্গে দেশের বরিশাল, সিলেট ও নবগঠিত রংপুর বিভাগীয় শহরে সংস্থাটি শাখা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে টিসিবি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গতকাল বুধবার দ্রব্যমূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখতে টিসিবির পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করাসংক্রান্ত এক বৈঠকে টিসিবির পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন, টিসিবির চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও টিসিবির কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, টিসিবি দ্রব্যমূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখতে স্বল্প ও দীর্ঘ দুই মেয়াদেই কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। সংস্থাটি মনে করে, কার্যকর কিছু করতে হলে টিসিবির জনবল কমপক্ষে তিন গুণ বাড়াতে হবে। বর্তমানে টিসিবিতে মোট জনবল ১৫৬। এ সংখ্যা কমপক্ষে ৪৭৮ জনে উন্নীত করতে হবে। আর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বর্তমানের দুজন থেকে বাড়িয়ে করতে হবে চারজন। একজন চেয়ারম্যান ও বাকি তিনজন হবেন পরিচালক।
এ ছাড়া বছরব্যাপী খাদ্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত আমদানি করে যেতে হবে। পণ্যের উত্পাদন মৌসুমেই রপ্তানিকারক দেশ থেকে পণ্য আমদানির ব্যবস্থা নিতে হবে। তা ছাড়া গুদাম ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ করতে হবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় আট হাজার ৫০০ টন পণ্য রাখা যায়, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় টিসিবির শাখা থাকলেও বরিশাল, সিলেট ও নবগঠিত রংপুর বিভাগেও আঞ্চলিক শাখা গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে টিসিবি।
সূত্র জানায়, বৈঠকে টিসিবিকে শিগগিরই একটি অ্যাকশন প্ল্যান জমা দিতে বলেছেন ভারপ্রাপ্ত বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন।
যোগাযোগ করলে টিসিবি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সংস্থাটি অল্প কয়েকটি পণ্যের কিছু পরিমাণ আমদানি ও সংরক্ষণ করে। বাজারে এসব পণ্যের যে সরবরাহ রয়েছে, তার মাত্র পাঁচ শতাংশ হলো টিসিবির। দ্রব্যমূল্য সহনশীল পর্যায়ে নিতে যা মোটেই কোনো ভূমিকা রাখে না। সহনশীল রাখতে ২৫ শতাংশ অংশীদারি টিসিবির থাকা দরকার।

অর্থবছরের পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়কালে দেশে পণ্য বাণিজ্যে ১৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রস্তুতকৃত লেনদেনের ভারসাম্য সারণি অনুসারে এই সময়কালে পণ্য রপ্তানি থেকে ৬১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয়ের বিপরীতে পণ্য আমদানি বাবদ ৮০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ব্যয় হওয়ায় এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ২৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অর্থাত্ পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি আগের অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের ১৬২ কোটি ১০ লাখ ডলারের চেয়ে কমে হয়েছে ১০৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
লেনদেনে ভারসাম্য সারণি থেকে এও দেখা যায়, পাঁচ মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ১৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে।
২০০৮-০৯ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়কালে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে সাত কোটি ৯০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল।
সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাওয়া এবং প্রবাসী-আয়ের উচ্চ-প্রবাহ চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত অবস্থা ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
চলতি হিসাবে মূলত কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব প্রতিফলিত হয়। নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত মানে নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরের পর আর কোনো অর্থবছরেই বাংলাদেশকে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয়নি, বরং প্রতিবছরই উদ্বৃত্তাবস্থা বেড়েছে।
সর্বশেষ গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে রেকর্ড ২৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়। এটি ছিল আগের অর্থবছরের (২০০৭-০৮) ৬৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ উদ্বৃত্তের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আর্থিক হিসাবে ৮৫ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ অবশ্য ছিল ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে গেছে।
গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে যেখানে ৫০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল, সেখানে এ বছর এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে লেনদেনের ভারসাম্যে ২১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আলোচ্য সময়কালে দেশে বিদেশি সাহায্য বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়কালে দেশে বিদেশি সাহায্যের মোট প্রবাহ ছিল ১১৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।
অবশ্য ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের মূল পরিশোধ বাবদ সরকারকে ব্যয় করতে হয়েছে ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ফলে নিট বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ কোটি ১৫ লাখ ডলার।
অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়কালে বিদেশি ঋণের আসল বাবদ সরকার ২৫ কোটি ৬৪ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। ফলে নিট বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার।
লেনদেনের ভারসাম্য সারণিতে পাঁচ মাসে বিদেশি সাহায্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
এতে দেখা যায়, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসেবে এই পাঁচ মাসে ১১২ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

কুমিল্লায় ঢাকা ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় মোড়ে ঢাকা ব্যাংকের একটি শাখা খোলা হয়েছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোন্দকার ফজলে রশীদ গত রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে শাখাটির উদ্বোধন করেন।
এ সময় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর রহিম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হাইকাল হাসমীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খোন্দকার ফজলে রশীদ বলেন, সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা ব্যাংক সবসময় গ্রাহকদের পাশে থাকবে। তিনি ঢাকা ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতা চান।

স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে গত সোমবার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের জেবি বোদা রিইন্স্যুরেন্স ব্রোকার ও প্যারামাউন্ট হেলথ গ্রুপের সহায়তায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
বিআইএর চেয়ারম্যান এ কে এম রফিকুল ইসলাম সেমিনারটি উদ্বোধন করেন। দেশের জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা কোম্পানির ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিমা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা বিমা জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, যা গরিব জনগোষ্ঠীর স্বল্প প্রিমিয়ামের মাধ্যমে বিমা পলিসির আওতায় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করবে।

ঢাকায় বিসিক ভবনে মধু প্রদর্শনী চলছে

রাজধানীর ১৩৭-১৩৮ মতিঝিলের বিসিক ভবনে সম্প্রতি পাঁচ দিনব্যাপী এক মধু প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌচাষিরা ২০টি স্টলে সরিষা, লিচু, বরই, কালোজিরা ও সুন্দরবনের মধু প্রদর্শন করছেন।
বি-কিপিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিসিকের চেয়ারম্যান আশরাফ মোহাম্মদ ইকবাল।
অনুষ্ঠানে বিসিকের পরিকল্পনা পরিচালক মো. খায়রুল আনাম, বিপণন পরিচালক মো. মনসুর রাজা চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে মৌচাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে উত্পাদিত মধুর পরিচিত বাড়ানো ও বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এটি আজ বৃহস্পতিবার শেষ হবে।

গ্রামীণফোনের ব্যাখ্যা চেয়েছে এসইসি

চতুর্থ প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা নিয়ে পুঁজিবাজারের আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে। আর এ অভিযোগ সম্পর্কে কোম্পানিটির অবস্থান জানতে চেয়ে গত মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
গ্রামীণফোন গত মঙ্গলবার ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে সমাপ্ত চতুর্থ প্রান্তিক বা শেষ তিন মাসের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশ করে, যা দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে উপস্থাপন করা হয়।
প্রকাশিত এ হিসাব অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে কোম্পানিটি ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মুনাফা করেছে। এ হিসেবে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী বার্ষিক (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) প্রকৃত আয় দেখানো হয়েছে এক হাজার ৪৯৬ কোটি ৮১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং শেয়ার-প্রতি আয় বা ইপিএস দেখানো হয়েছে ১২ টাকা আট পয়সা।
আর আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির প্রকৃত মুনাফা ও ইপিএস ছিল যথাক্রমে ২৯৮ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও দুই টাকা ৪৬ পয়সা।
কিন্তু এসইসি বলছে, এভাবে পুরো বছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা ১৯৮৭ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বিধির ১২(৩এ) ধারার লঙ্ঘন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এসইসির সদস্য মনসুর আলম বলেন, পুঁজিবাজারের নিয়মানুযায়ী প্রথম প্রান্তিক, অর্ধবার্ষিক ও তৃতীয় প্রান্তিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু চতুর্থ বা শেষ প্রান্তিক বলে কোনো বিধান নেই। গ্রামীণফোন চতুর্থ প্রান্তিক বলে যেভাবে বছরের মোট মুনাফা প্রকাশ করেছে, তা কেবল বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশ করা হয়। আর আইনানুযায়ী বার্ষিক আর্থিক বিবরণীকে অবশ্যই নিরীক্ষিত হতে হবে। কিন্তু গ্রামীণফোন তা না করে অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে আইন ভঙ্গ করেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওডভার হেশজেডাল ই-মেইলে জানান, গ্রামীণফোনের কাছে চতুর্থ প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করার জন্য ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার) চিঠির মাধ্যমে এবং এসইসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আর্থিক বিবরণী প্রকাশের আগে গ্রামীণফোন এসইসির যে বিধিবিধান ও দিকনির্দেশনা পেয়েছিল, এ ক্ষেত্রে তা পরিপালন করা হয়েছে।
জানা গেছে, এসইসির চিঠি পাওয়ার পর গতকাল গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওডভার হেশজেডাল এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় চিঠির প্রসঙ্গসহ সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণফোনের প্রকাশিত বিভিন্ন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ও শেয়ারের লেনদেনের ধরন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসইসি গ্রামীণফোনের আর্থিক বিবরণী ওয়েবসাইটে প্রকাশ করায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জকেও চিঠি দিয়েছে। পুঁজিবাজারের নিয়ম জানা থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণফোনের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী কেন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলো, তার কারণ জানতেই এ চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে এসইসি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে গতকাল থেকে গ্রামীণফোনের শেয়ারের বিপরীতে আর্থিক সমন্বয় সুবিধা বা নেটিং-সুবিধা বন্ধ করার নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। ফলে কোনো বিনিয়োগকারী অন্য কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে সমপরিমাণ টাকায় গ্রামীণফোনের শেয়ার কেনার সুযোগ পায়নি।
গতকাল যেসব বিনিয়োগকারী কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন, তাঁদের নগদ টাকায় তা কিনতে হয়েছে। আর এ কারণে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের কিছুটা দরপতন ঘটেছে। দিন শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম আগের দিনের চেয়ে তিন টাকা ৫০ পয়সার মতো কমে দাঁড়িয়েছে ৩১০ টাকা ১০ পয়সায়। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমে ৫১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এর আগের দিনেও গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেন হয়েছিল ১৮৩ কোটি টাকার।

পদকজয়ী অ্যাথলেটদের সংবর্ধনা ও অভিনন্দন

দক্ষিণ এশীয় গেমস শেষ। শুরু হয়েছে পদকজয়ী অ্যাথলেটদের সংবর্ধনার পালা। কাল খিলগাঁও আনসার সদর দপ্তরে পদকজয়ী অ্যাথলেটদের সংবর্ধনা দিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এবারের এসএ গেমসে ১৮টি সোনার মধ্যে ১১টিই জিতেছেন আনসার-ভিডিপির খেলোয়াড়েরা। সংবর্ধনার পাশাপাশি সোনাজয়ীদের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে ২২ হাজার টাকা। রুপাজয়ী প্রত্যেক অ্যাথলেট পেয়েছেন ১৮ হাজার টাকা এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা পেয়েছেন ১৫ হাজার টাকা করে। এসএ গেমস সফলভাবে শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার ও বিওএর মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ।

নাটের গুরু তাহলে মালিক

সবার সমর্থন পাচ্ছেন না বলে স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন ইউনুস খান। অস্ট্রেলিয়া সফরে পারফরম্যান্স-ভরাডুবির পর দলে অনৈক্যের কথা বলে প্রকারান্তরে একই অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদ ইউসুফও। তবে দলে ‘অনৈক্য’র দায়টা সবার ওপর নয়, ইউসুফ চাপাচ্ছেন একজনের ওপরই, ‘কোনো সন্দেহ নেই, কেবল একজনই দলের ঐক্য নষ্ট করছে। অন্য খেলোয়াড়দের বিভ্রান্ত করছে। এ নিয়ে কোচ ইন্তিখাব আলম ও টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরাও আমার সঙ্গে একমত।’
কে সেই নাটের গুরু? নামটা মুখে উচ্চারণ করেননি ইউসুফ, ‘বোর্ড চেয়ারম্যান ইজাজ বাটের কাছেই শুধু নামটা প্রকাশ করব আমি।’ ইউসুফ না বললেও, তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে সেই ‘খলনায়ক’কে আবিষ্কার করে ফেলেছে পাকিস্তানি মিডিয়া। যাঁর আচরণে তিতিবিরক্ত হয়ে জাতীয় দল ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন বিদ্রোহী ক্রিকেট লিগ আইসিএলে, সেই শোয়েব মালিকের দিকেই ইঙ্গিত ইউসুফের। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এও জানাচ্ছে, মালিকের বিপক্ষে দলের ড্রেসিংরুমের সংহতি নষ্টের অভিযোগ অন্য ক্রিকেটারদেরও।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মাঝপথেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে নতুন অধিনায়ক পাবে দল। বোর্ডের এই অবস্থান জানার পর অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউসুফ। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি দলের কিছু ক্রিকেটার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন এবং এর প্রভাব দলের পারফরম্যান্সে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে ইউসুফ স্বীকার করে নিচ্ছেন, নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত গুণ তাঁর মধ্যে নেই, ‘হাজারে একজন সহজাত অধিনায়ক খুঁজে পেতে পারেন আপনি। নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত গুণ আমার মধ্যে নেই। কিন্তু আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সেটা পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি। রিকি পন্টিং অনেক অভিজ্ঞ অধিনায়ক। তার সঙ্গে আমার তুলনা করলে সেটা অন্যায় হবে।’
অস্ট্রেলিয়ায় দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে তদন্ত কমিটির জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে ইউসুফকে। অস্ট্রেলিয়া-বিপর্যয় খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত ছয় সদস্যের কমিটি ইউসুফ ছাড়াও তলব করেছে কোচ ইন্তিখাব আলম ও পার্থে বল ট্যাম্পারিং করে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়া শহীদ আফ্রিদিকে।
এদিকে নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছে পিসিবি। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল, দক্ষিণ আফ্রিকার রিচার্ড পাইবাসের নামও জানিয়েছিল তারা। তবে পিসিবির প্রস্তাবে ‘না’ করে দিয়েছেন ভারতের সাবেক অস্ট্রেলীয় কোচ গ্রেগ চ্যাপেল। সেন্টার অব এক্সেলেন্সের প্রধান কোচ হিসেবে কর্মরত চ্যাপেল পিসিবির প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, ‘ওয়াসিম বারী গতকাল ফোন করেছিল আমাকে। এতে আমি খুশি হয়েছি এবং সম্মানিত বোধ করছি। কিন্তু আমি অপারগতার কথাও জানিয়ে দিয়েছি তাকে।

রোনালদিনহোর স্বপ্নে দুঙ্গার ধাক্কা

রোনালদিনহোর বিশ্বকাপ খেলার আশা বড় এক ধাক্কাই খেয়েছে গত পরশু। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দল ঘোষণা করেছেন কোচ কার্লোস দুঙ্গা। সেই দলে নেই ব্রাজিলের এই প্লে-মেকার। লন্ডনে আয়ারল্যান্ড-ব্রাজিল ম্যাচটি হবে ২ মার্চ।
রোনালদিনহো ব্রাজিলের জার্সি পরে সর্বশেষ খেলেছেন গত বছরের এপ্রিলে। এর পর থেকেই বাজে ফর্মের কারণে দুঙ্গার চোখে ব্রাত্য হয়ে ছিলেন। তবে সম্প্রতি এসি মিলানে তিনি ফিরে পেতে শুরু করেছেন পুরোনো সেই ঝলক। আশাটা এ কারণেই ঔজ্জ্বল্য পেয়েছিল। সে কারণেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়াটা বড় ধাক্কা তাঁর জন্য। দুঙ্গা অবশ্য রোনালদিনহোকে বার্তা দিয়ে রেখেছেন হতাশ না হতেই, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই দলে জায়গা পাওয়ার সুযোগ আছে।’
রোনালদিনহো দলে না থাকলেও কিছুদিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খোঁজা রবিনহোকে ঠিকই দলে রেখেছেন দুঙ্গা

আফগানিস্তানের কাছে হেরে গেল আয়ারল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্রথম দিনটি ছিল অঘটনের। ফেবারিট আয়ারল্যান্ডকে ১৩ রানে হারিয়ে দিয়েছে আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র জিতেছে ৬ উইকেটে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে কেনিয়া হেরেছে ১৫ রানে।
যুক্তরাষ্ট্র আর আরব আমিরাত তবু বেশ কয়েক বছর ধরে ক্রিকেট খেলে। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ক্রিকেটে একেবারেই নতুন। আর এসেই তারা ভর করেছে আইরিশদের ঘাড়ে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সম্প্রতি এটি আফগানিস্তানের তৃতীয় জয়। এর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৫০ ওভারের ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। এর পর আইসিসি ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপে জিতেছে চার দিনের প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে। এবার জেতা হয়ে গেল টি-টোয়েন্টিতেও। আফগানিস্তানের পাকিস্তানি কোচ কবির খান দলের এই সাফল্যে ভীষণই খুশি, ‘আয়ারল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে জেতা দারুণ ব্যাপার। আমরা যে খুব দ্রুত শিখছি, সেটাই প্রমাণিত হলো এতে।

এনামুল বাদ, ফিরলেন কাঞ্চন

সাফ ফুটবলে খেলা জাতীয় ফুটবল দলের ১০ জন খেলোয়াড়ই নেই কাল ঘোষিত এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের দলে। দক্ষিণ এশীয় গেমসে (এসএ গেমস) সোনাজয়ী দলের ৫ জনকেও আপাতত বিদায় নিতে হয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল দলে আসা-যাওয়ার মিছিল চলছেই।
এসএ গেমসের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের স্ট্রাইকার এনামুল, ইউসুফ, ডিফেন্ডার আরিফ, মিডফিল্ডার জাহেদ পারভেজ ও গোলরক্ষক হিমেল জায়গা পাননি চ্যালেঞ্জ কাপের জাতীয় দলে। গেমস দলের বাকি ১৫ জনের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে ৫ জনকে—গোলরক্ষক বিপ্লব, স্ট্রাইকার রোকনুজ্জামান কাঞ্চন, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মোবারক হোসেন ও মিডফিল্ডার শেখ আলমগীর কবির ওরফে রানা।
কাঞ্চন সর্বশেষ ২০০৬ সালে আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির সময় জাতীয় দলে খেলেছেন। প্রায় চার বছর পর দলে ফিরে আসতে পারলেন তিনি। জোরান জর্জেভিচ কোচ হয়ে আসার পর কাঞ্চনকে একটা ম্যাচে দেখেই প্রাথমিক দলে ডেকেছেন। তার পর অনুশীলনে দেখে তাঁর মনে ধরে গেছে। এ বছর কাঞ্চন মুক্তিযোদ্ধার হয়ে খেলছেন এবং দলটির অধিনায়কও তিনি। হারিয়ে যেতে বসা এই স্ট্রাইকার এ মৌসুমে বাংলাদেশ লিগে ৪ ম্যাচে গোল করেছেন একটি।
‘মুক্তিযোদ্ধায় ছিলাম কয়েক বছর। সবকিছু মিলিয়েই হয়তো এত দিন ডাক পাইনি। আবার ফিরে আসতে পেরে জায়গা ধরে রাখতে চাইব’—বলছিলেন কাঞ্চন।
সাফ ফুটবলে দুই বিদেশির সঙ্গে ৪ গোল করে যৌথভাবে গোলদাতার শীর্ষে। ওই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হলেও এনামুল ছাড়া বাংলাদেশ দল ভাবাই যেত না তখন। আমিনুল আর ওয়ালি ফয়সালের সঙ্গে এসএ গেমসের দলে তৃতীয় সিনিয়র হিসেবে তাঁকে জায়গা দেওয়া হলো। গেমস ফুটবলে এমিলি গোল পাননি, বাংলাদেশের ১৩ গোলের দুটি এনামুলের।
বাদ পড়ার খবরে কিছুটা হতাশ এনামুল। ‘চ্যালেঞ্জ কাপ, সাফ ফুটবল, লিগ, এসএ গেমসে ধারাবাহিকভাবে গোল করেছি। কোচ কী কারণে বাদ দিয়েছেন সেটা বুঝতে পারছি না’—এই হলো এনামুলের প্রতিক্রিয়া।
নাসিরউদ্দিন নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারেন। একসময় সেনাবাহিনীতে খেলতেন, এবার এসেছেন ঢাকা মোহামেডানে। সাইড লাইনে কাটছিল সময়। নাইজেরীয় স্ট্রাইকার বুকোলা ওলালেকান জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় এক ম্যাচ মাঠের বাইরে, একাদশে সুযোগ পাওয়া নাসির গোল করলেন ওই ম্যাচে। ঘটনাক্রমে জর্জেভিচের সহকারীরা তাঁকে দেখেছেন এবং পছন্দ করে ফেলেছেন।
শেখ রাসেলের মোবারক, ইমতিয়াজ সুলতান ওরফে জিতু, মোহামেডানের আলমগীর কবির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় একটা সুযোগই পেয়ে গেলেন জাতীয় দলে ঠাঁই পেয়ে। সাফ, এসএ গেমস দলে ছিলেন না তাঁরা। ছিলেন না এসএস গেমসের দলেও। আবার এসএ গেমসে জায়গা পাওয়ার পর এবারই প্রথম জাতীয় দলের স্কোয়াডে এলেন ডিফেন্ডার মিন্টু শেখ, রেজাউল, স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম ওরফে সবুজ। এসএ গেমসে ভালো খেলারই পুরস্কার এল তাঁদের হাতে।
দুর্ভাগ্য স্ট্রাইকার ইউসুফের। এসএ গেমসে মোটামুটি ভালো খেললেও কাঁধের ইনজুরির কারণে জাতীয় দলের স্কোয়াডে সুযোগ পেলেন না। জাহিদ পারভেজও কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় বিবেচনায় আসেননি বলে জানানো হয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিট হলেও তাঁকে আরও সময় দেওয়া হচ্ছে। তাই চ্যালেঞ্জ কাপের দলে নেই আরিফ। গোলরক্ষক হিমেল মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলেছেন, সিনিয়র দলে বিপ্লবকেই আমিনুলের সঙ্গে রাখায় হিমেলের জায়গা মেলে জাতীয় দলে।
কলম্বোয় ১৬, ১৮ ও ২০ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে তাজিকিস্তান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গ্রুপ ম্যাচ বাংলাদেশের। আজ বেলা ১১টায় বাফুফে ভবনে খেলোয়াড়দের রিপোর্টিং। কলম্বো যাওয়ার আগে দুই-তিন দিন ঢাকাতেই অনুশীলন চলবে।

বেঁকে বসেছেন জর্জেভিচ

জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে কোচ জোরান জর্জেভিচের কলম্বো যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এসএ গেমসে সোনা এনে দেওয়ার পর সার্বিয়ান কোচ বেঁকে বসেছেন বলে দাবি বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায়ের, ‘কোচ এখন চার বছরের চুক্তি চান এবং তা গত ডিসেম্বর থেকে। এটা না হলে তিনি কলম্বো যাবেন না বলেছেন। আমরা তাঁকে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু হঠাত্ করে চার বছরের চুক্তি চাইলেও করে ফেলা সম্ভব নয়। এখন দেখা যাক কী হয়।’
দুই দিন পরই এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে খেলতে বাংলাদেশ ফুটবল দল কলম্বো যাবে। জর্জেভিচ আসার পর জানানো হয়েছিল, এএস গেমস ও চ্যালেঞ্জ কাপ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি। সেই চুক্তির কপিও কাল সাংবাদিকদের কাছে দিয়েছে বাফুফে। কিন্তু এসএ গেমসে সোনা জয়ের পর পরই জর্জেভিচ বলেন, ‘আমার চুক্তি শেষ হয়ে গেছে ১ ফেব্রুয়ারি।’
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন লন্ডন থেকে পরশু ফোনে জানান, ‘চ্যালেঞ্জ কাপ পর্যন্তই কোচের থাকার কথা। সেভাবেই সবকিছু হয়েছে। এখন আমি দেশে ফিরলে বিষয়টা দেখব।’
বাদল রায়ও সালাউদ্দিনের কথারই প্রতিধ্বনি করলেন, ‘সভাপতি না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। কোচ কলম্বো না গেলে কিছু তো আর করার নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে চ্যালেঞ্জ কাপের দল নির্বাচন করেছেন জর্জেভিচই।’