Sunday, May 3, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো শান্তি পরিকল্পনায় প্রধান তিন ধাপে কী বলছে ইরান

পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে মোটা দাগে তিনটি ধাপ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধবিরতিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানে রূপান্তর করা। এই প্রস্তাবে ইসরায়েলকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো—যাতে মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো যুদ্ধ ফিরে না আসে এবং পুরো অঞ্চলে লড়াইয়ের অবসান ঘটে।

পরিকল্পনার প্রথম ধাপে পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রে পেতে রাখা মাইনগুলো অপসারণের দায়িত্ব তেহরান নিজে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাবের দ্বিতীয় ধাপে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ইরান পুনরায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে। তবে এটি করা হবে ‘জিরো-স্টোরেজ’ বা মজুত না রাখার নীতি মেনে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো হামলা চালাবে না। বিনিময়ে ইরানও তাদের ওপর সব ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকবে।ইরানের পরমাণু অবকাঠামো ভেঙে ফেলা বা কোনো স্থাপনা ধ্বংস করার দাবি এই প্রস্তাবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব অর্থ পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় ধাপে তেহরান তাদের আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সূত্র: আল–জাজিরা।

ইরানের পতাকাবাহী একটি জ্বালানি ট্যাংকার
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ এড়িয়ে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলে পৌঁছেছে ইরানের একটি বিশাল তেলের ট্যাংকার। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকম’ এ তথ্য জানিয়েছে।ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির (এনআইটিসি) মালিকানাধীন এই বিশাল জাহাজটির নাম ‘হিউজ’। জাহাজটি প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ডলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ট্যাংকারট্র্যাকারস জানায়, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে জাহাজটিকে সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা উপকূলে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালি হয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দর অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার সময় ‘হিউজ’ ইরানের জলসীমায় ছিল। এর আগে গত ২০ মার্চ জাহাজটি মালাক্কা প্রণালি থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকে সেটির ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ বা এআইএস বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। গত ২৯ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করে, তাদের অন্তত ৫২টি জাহাজ সফলভাবে মার্কিন অবরোধ ভেঙেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা ইরান-সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪১টি নৌযানকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অবরোধ কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং এর ফলে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের বন্দরসমূহ অবরোধের কারণে দেশটি তেল রপ্তানি করতে পারছে না এবং মজুত রাখার জায়গা শেষ হয়ে গেলে তারা তেল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে। তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও ডন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজের তৎপরতা অস্বাভাবিক বেড়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব উড়োজাহাজের বড় অংশই মূলত পরিবহন ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (এরিয়াল রিফুয়েলিং) উড়োজাহাজ।

উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ বলেছে, গতকাল শনিবার ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বাভাবিক সংখ্যক সামরিক উড়োজাহাজ উড়ে যেতে দেখা গেছে।

এই অঞ্চলে পাঠানো উড়োজাহাজগুলোর বেশিরভাগই ‘সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার–৩’ মডেলের সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ। এ ধরনের প্রতিটি উড়োজাহাজ প্রায় ৭৭ টন সরঞ্জাম এবং ১০০ জন সেনাসদস্য বহনে সক্ষম।

খবরে বলা হয়েছে, অন্তত ১২টি পরিবহন উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের পথে ছিল, যার কয়েকটি জার্মানি থেকে রওনা হয়।

এ ছাড়া বোয়িং ‘কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কার’ মডেলের জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজকেও ওই অঞ্চলের দিকে যেতে দেখা গেছে। ইসরায়েল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় এ ধরনের অন্তত চারটি উড়োজাহাজ সক্রিয় রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

হিজবুল্লাহর প্রচারমাধ্যমের প্রকাশ করা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গোষ্ঠীটির এক যোদ্ধা একটি এফপিভি (ফার্স্ট পারসন ভিউ) ড্রোনে পিজি-৭ ওয়ারহেড (গোলা) যুক্ত করছেন। তবে কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে ছবিটি তোলা হয়েছে
হিজবুল্লাহর প্রচারমাধ্যমের প্রকাশ করা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গোষ্ঠীটির এক যোদ্ধা একটি এফপিভি (ফার্স্ট পারসন ভিউ) ড্রোনে পিজি-৭ ওয়ারহেড (গোলা) যুক্ত করছেন। তবে কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে ছবিটি তোলা হয়েছে। ছবি: সামাজিক মাধ্যম

জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে গেল জনপ্রিয় এয়ারলাইনস ‘স্পিরিট’

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিজেদের ব্যবসা পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইনস স্পিরিট।

গতকাল শনিবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্রমাগত লোকসান ও ঋণের দায়ে তারা আর কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারছে না।

এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল থেকেই তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তাঁদের বিকল্প অন্য কোনো এয়ারলাইনসে টিকিট বুক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুবার দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে ব্যবসা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়েছিল স্পিরিট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

ফ্লোরিডাভিত্তিক এ এয়ারলাইনসকে বাঁচাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৫০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ঋণের শর্ত ও কোম্পানি পুনর্গঠন নিয়ে পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্তির পথে হাঁটল।

কম খরচে আকাশপথের ভ্রমণের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত এ এয়ারলাইনস ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করেছিল।

তথ্যসূত্র: টাইম

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় এয়ারলাইনসগুলোর একটি স্পিরিট তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় এয়ারলাইনসগুলোর একটি স্পিরিট তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ছবি: রয়টার্স

বইয়ের বোঝায় চাপা পড়া শৈশব অথবা একালের ‘তোতাকাহিনী’ by মেহেদি রাসেল

ফল দেখে বৃক্ষের পরিচয় জানা গেলেও ফলাফল দেখে বাংলাদেশের শিক্ষার বর্তমান হাল বোঝা বেশ জটিল। প্রায় শতভাগ পাস আর জিপিএ–৫–এর ছড়াছড়িতে এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘উচ্চফলনশীল’ মনে হলেও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। শিক্ষার মান নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল নলেজ ইনডেক্সের (জিকেআই) ২০২২ সালের তালিকায় ১৩২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। এমনকি জিকেআইয়ের বৈশ্বিক গড় স্কোরেরও (৪৬.৫) বেশ নিচে বাংলাদেশের স্কোর (৩৬.৮)। সুতরাং হরেদরে জিপিএ-৫ দেখে যাঁরা ভাবছেন, আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাট বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছি, তাঁরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখতে পারেন। শুধু শিক্ষার মান পরিমাপক আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং নয়, দেশীয় মানে পরিচালিত এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে ভর্তি পরীক্ষা, সেখানকার ফলাফলেও জিপিএ-৫–ধারীদের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। গত কয়েক বছরে উচ্চ জিপিএ অর্জনকারী অনেক শিক্ষার্থী ওই পরীক্ষাগুলোতে ‘পাস’ মার্ক পর্যন্ত তুলতে পারেনি।

দেশে যে–সংখ্যক শিক্ষার্থী, সে তুলনায় সরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কম। ফলে বেসরকারি উদ্যোগে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসবের মধে৵ কতগুলো প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্যে আর কতগুলো স্রেফ ব্যবসার জন্য, সে ব্যাপারে আলাপ হওয়া দরকার। আমাদের দেশের অন্য সব ব্যবসায়ীর মতো ‘শিক্ষা ব্যবসায়ী’রাও ব্যবসার প্রকৃত নীতিনৈতিকতা মেনে চলেন না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা আসলে উপকৃত হয় না। নামমাত্র সার্টিফিকেট তারা পায় বটে, সঠিক শিক্ষাটা পায় না। দেশের প্রতিটি শহরের অলিগলিতে নানা ধরনের স্কুল দেখতে পাওয়া যায়।

বাংলা, ইংরেজি, আরবি, গান, নাচ, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ইত্যাদির একটি প্যাকেজ মনে হয় এসব বিদ্যালয়কে। শিশুকে যত ধরনের ‘শিক্ষা’ দেওয়া যায়, তারই যেন চূড়ান্ত এগুলো। আমাদের অভিভাবকেরাও ‘একের ভেতরে সব’ পেয়ে ছোটেন বাচ্চাদের এসব স্কুলে ভর্তি করাতে। যে বয়সে শিশুদের শেখার কথা সহযোগিতা, সেই বয়সে তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় প্রতিযোগিতা। খোলা মাঠ নয়, ক্লাসে ফার্স্ট-সেকেন্ড হওয়ার ইঁদুর দৌড়ের মাঠে আচমকা এসে পড়তে হয় তাদের। ফলাফলের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লে আবার শিক্ষার্থীদের মা-বাবার ‘ইজ্জত’ থাকে না।

কোমলমতি বাচ্চারা এখন বড় হয় ‘মা-বাবার ইজ্জত বাঁচানো প্রকল্পের’ বিরাট বোঝা মাথায় নিয়ে। শুধু তাই নয়, মাথার বোঝার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পিঠেও একটা প্রকাণ্ড বোঝা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ওই বোঝার নাম ‘বইয়ের বোঝা’। সে স্কুলে যত বেশি বই, সেই স্কুল তত ভালো—এমন একটা ধ্যানধারণা নিয়ে বেসরকারি স্কুলগুলোতে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক বই বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হয়। দেশে সরকারি একটা পাঠ্যক্রম আছে, শিক্ষাক্ষেত্রের অভিজ্ঞ মানুষদের নিয়ে তা তৈরি হয়, বছর বছর পর্যালোচনা, পরিবর্তন, পরিবর্ধনও করা হয়। সেই সিলেবাসের বই ছাড়া ক্লাসে অন্য বই পড়ানো আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি স্কুল কমিটির লোকজন সেটি থোড়াই কেয়ার করে। তারা তাদের ইচ্ছেমতো বই পড়তে বাধ্য করে শিক্ষার্থীদের। কোনো স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে তিনটি বই, কোনো স্কুলে পড়ানো হয় সাতটি।

বেশি বই পড়ানোতে স্কুলের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির ব্যাপার যেমন থাকে, তেমনি থাকে ব্যবসায়িক ফায়দা লোটার চেষ্টাও। কোনো কোনো স্কুল সরাসরি বই-খাতা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকে, বাকিরা বইয়ের দোকানির সঙ্গে কোনো একটা ‘বন্দোবস্ত’ করে নেয়। অনেক সময় ইচ্ছা না থাকলেও অভিভাবকেরা অতিরিক্ত বই ও খাতা কিনতে বাধ্য হন। কিন্তু এনসিটিবির আইনে বলা আছে, ‘বোর্ড কর্তৃক পাঠ্যপুস্তক প্রণীত ও প্রকাশিত নয় অথবা পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অনুমোদিত নয়, এমন কোনো পুস্তককে কোনো বিদ্যালয়ের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে না। কেবল সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোনো বিদ্যালয় বা কোনো শ্রেণির বিদ্যালয়কে এ ধারার প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ আছে।’

কিন্তু কোনো প্রকার প্রজ্ঞাপন ছাড়া বছরের পর বছর বিদ্যালয়গুলো অতিরিক্ত বই পড়িয়েই যাচ্ছে। শিক্ষাবিষয়ক সব কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে দিনের পর দিন চলছে এসব। আইন আছে প্রয়োগ নেই। কাজির গরুর মতো এসব আইন কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই। কিন্তু এর কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছে আমাদের কোমলমতি শিশুরা। আমরা তাদের কাছ থেকে তাদের শৈশব ছিনিয়ে নিচ্ছি। স্কুল শুরু কিংবা ছুটির সময়ে দেখা যায়, বইয়ের ব্যাগের ভারে নুয়ে পড়া ছোট ছোট শিশু অতি কষ্টে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। যারা একেবারে অপারগ বা যাদের সাহায্যকারী আছে, তাদের ব্যাগ বয়সে বড় কারও পিঠে দেখা যায়। ২০১৬ সালে উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেখানে শিশুর শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বলাই বাহুল্য, সব স্কুল এখনো এই নির্দেশ মানে না।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ঢাকাসহ প্রধান প্রধান শহরের স্কুলগুলোর। গলির মোড়ে মোড়ে চার দেয়ালের মধে৵ গজিয়ে উঠেছে প্রচুর স্কুল। এসব স্কুলে মাঠ তো দূরের কথা, পর্যাপ্ত আলো–বাতাস পর্যন্ত নেই। বাসার চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে স্কুলের চার দেয়াল—এই হলো আমাদের শিশুদের চলাফেরা।

শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই আমাদের নীতিনির্ধারক ব্যক্তিদের। ফলে বিষণ্নতা ও হতাশাপ্রবণতাই এখন তাদের নিত্যসঙ্গী। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আঁচল ফাউন্ডেশন জানাচ্ছে, দেশে গত বছর স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে ৩৭ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তাদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছর। এই শিশুদের মধ্যে একটি অংশের আত্মহত্যার কারণ হলো, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এবং শিক্ষকের দ্বারা অপমানিত হওয়া। এই অচলায়তনের শেষ কোথায়? কত দিন এমন অনিয়মের বোঝা বইতে বাধ্য হবে আমাদের শিশুরা?

মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তোতাকাহিনী’ গল্পের সেই তোতা পাখির কথা। রাজার নির্দেশে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাকে সোনার খাঁচায় বন্দী করা হয়েছিল। পাখির চেয়ে পাখিকে শেখানোর কায়দাটা এত বড় ছিল যে রাজা পাখিটিকে দেখতেই পাননি। পুঁথির পাহাড়ের আড়ালে পাখিকে দেখতে না পেয়ে বরং খুশিই হয়েছিলেন রাজামশাই। পণ্ডিতেরা পাখিটিকে হাঁ করিয়ে জোর করে পুঁথির পৃষ্ঠা তার মুখের মধ্যে পুরে দিত। অতিরিক্ত শিক্ষার ভার সইতে না পেরে একদিন প্রাণ যায় পাখিটির। আমাদের শিশুদেরও কি আমরা এভাবে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি না? প্রাণে না মরলেও তারা যে ‘মনে’ মরে যাচ্ছে দিনে দিনে!

* মেহেদি রাসেল, কবি ও প্রাবন্ধিক
- mehedirasel32@gmail.com

২২ কোটি ডলারের তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়াল ইরানের সুপার ট্যাংকার

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ এড়িয়ে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলে পৌঁছেছে ইরানের একটি বিশাল তেলের ট্যাংকার।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকম’ এ তথ্য জানিয়েছে।ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির (এনআইটিসি) মালিকানাধীন এই বিশাল জাহাজটির নাম ‘হিউজ’।

জাহাজটি প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ডলার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ট্যাংকারট্র্যাকারস জানায়, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে জাহাজটিকে সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা উপকূলে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালি হয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দর অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার সময় ‘হিউজ’ ইরানের জলসীমায় ছিল। এর আগে গত ২০ মার্চ জাহাজটি মালাক্কা প্রণালি থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকে সেটির ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ বা এআইএস বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গত ২৯ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করে, তাদের অন্তত ৫২টি জাহাজ সফলভাবে মার্কিন অবরোধ ভেঙেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা ইরান-সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪১টি নৌযানকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অবরোধ কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং এর ফলে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের বন্দরসমূহ অবরোধের কারণে দেশটি তেল রপ্তানি করতে পারছে না এবং মজুত রাখার জায়গা শেষ হয়ে গেলে তারা তেল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও ডন

ইরানের পতাকাবাহী একটি জ্বালানি ট্যাংকার
ইরানের পতাকাবাহী একটি জ্বালানি ট্যাংকার। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বাসরঘরে অনাহূত অতিথি, এরপর... by লতিফুল হক

বীর পোদ্দার (প্রতীক গান্ধী) পশুচিকিৎসক, কোয়েল চাড্ডা (ইয়ামি গৌতম ধর) সাধারণ তরুণী, অন্তত তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী। পারিবারিক আয়োজনে তাঁদের বিয়ে হয়। এক বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজন করা হয় ফুলশয্যার। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল, এরপরই শুরু হয় ঝামেলা। সে এক মহা গন্ডগোল বটে, বাসরঘরে হাজির হয় অনাহূত দুই অতিথি, বিয়ের রাত পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। এরপর শুরু হয় ছোটা, সেই যে শুরু আর থামাথামি নেই, চলে সিনেমার শেষ পর্যন্ত।

* একনজরে
* সিনেমা: ‘ধুম ধাম’
* ধরন: অ্যাকশন-কমেডি
* পরিচালনা: ঋষভ শেঠ
* অভিনয়: প্রতীক গান্ধী, ইয়ামি গৌতম ধর, আইজাজ খান, পবিত্র সরকার
* স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স
* দৈর্ঘ্য: ১০৮ মিনিট

এ পর্যন্ত শুনে আপনার হয়তো বেশ সিরিয়াস বিষয় মনে হচ্ছে। ঘটনা যে সিরিয়াস, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই; তবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হাস্যরসের মাধ্যমে। মুম্বাইয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় ডাকাতিতে যুক্ত হন পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা। ঘটনাচক্রে পুরো দৃশ্য রেকর্ড হয়ে যায় পাশের এক দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায়। দোকানটি আবার বীরের মামার। তো মামা পুরো বিষয় সিসিটিভি ফুটেজে দেখে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে হাজির হন থানায়।

চেয়ারে বসে আছেন তিনি, পকেটে পেনড্রাইভ; যাতে সেই ঘটনার ফুটেজ আছে। কিন্তু মামা অবাক হয়ে দেখেন, সিসিটিভির ফুটেজে যাঁদের ডাকাতি করতে দেখা গেছে, তাঁরাই এ থানার পুলিশ সদস্য! এরপর কী হয়, তা বলে না দিলেও চলে, মামা রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে শুরু করেন। পিছু নেয় পুলিশ, একপর্যায়ে মামা ধরা পড়েন। কিন্তু পেনড্রাইভ মেলে না! কোথায় গেল মহামূল্য সেই পেনড্রাইভ? সেই পেনড্রাইভের খোঁজেই বীর ও কোয়েলের বাসরঘরে হাজির হয় সেই অনাহূত অতিথি!

এ–ই হলো ‘ধুম ধাম’-এর গল্প। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। সাসপেন্স সিনেমা, তবে পুরোটাই নির্মাতা ফুটিয়ে তুলেছেন কমেডির মোড়কে। তাই এ সিনেমায় টেনশনের চেয়ে কমেডি বেশি। সিনেমাটি মূলত বীর আর কোয়েলের না হওয়া বাসর রাতের গল্প। পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়, কেউই কাউকে চেনেন না। কারও সঙ্গে কারও মিলও নেই। বীর রক্ষণশীল, কোয়েল উল্টো, একটা পর্যায়ে তাঁদের অমিল এতটাই প্রকট হয় যে বিচ্ছেদের কথাও ভাবতে শুরু করেন দুজন। কিন্তু রাত যত বাড়তে থাকে, বীর আর কোয়েলের সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়।

বিনোদনের জন্য ‘ধুম ধাম’ বেশ ভালো, একবার দেখার জন্য তো অবশ্যই। ‘ধুম ধাম’ কমেডি সিনেমা হিসেবেও ভালো। প্রতীক গান্ধী ও ইয়ামি গৌতম ধরের কমিক টাইমিংও দুর্দান্ত। প্রতীক যে কমেডি চরিত্র পেলে বলেকয়ে ছক্কা হাঁকান, সে প্রমাণ আগে রেখেছেন। তবে এ ধরনের সিনেমায় ইয়ামিকে খুব একটা দেখা যায় না, তাঁর প্রশংসা একটু বেশি প্রাপ্য।

তবে ‘ধুম ধাম’ চলনসই থেকে খুব ভালো সিনেমা হয়ে ওঠেনি মোটাদাগে দুটি কারণে। প্রথমত, কমেডি কাজ করলেও এ ছবিতে রোমাঞ্চ ব্যাপারটা একেবারেই নেই। পুরো রাতের জার্নিতে আরও অনেক বেশি রোমাঞ্চ, টেনশন, ঘটনা যোগ করা যেত। এটাও না হয় মানা গেল, কিন্তু সিনেমাটিতে যেভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিয়ে বার্তা দিয়েছেন নির্মাতা, সেটা ‘লেকচার’-এর মতো শুনিয়েছে। আজকাল সিনেমায় কেউ আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিশাল মনোলগ বলে ‘বার্তা’ দেওয়ার চেষ্টা করেন না।

বিনোদননির্ভর এ সিনেমায় জোরপূর্বক এ ‘বার্তা’ দেওয়ার চেষ্টা না করলেও পারতেন পরিচালক। তবে প্রতি সপ্তাহে যেসব একঘেয়ে থ্রিলার মুক্তি পাচ্ছে, সেগুলোর চেয়ে ‘ধুম ধাম’ খারাপ নয়।

ভারতে তুলনামূলকভাবে অ্যাকশন-কমেডি কম হয়েছে, এটা বিবেচনায় নিলে প্রযোজক আদিত্য ধর ও নির্মাতা ঋষভ শেঠকে ধন্যবাদ জানাতে হয়।

তবে দুনিয়াজুড়ে যেসব অ্যাকশন-কমেডি সিনেমা জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সব কটিতেই কিছু না কিছু এক্স ফ্যাক্টর ছিল, ‘ধুম ধাম’-এ সেটা নেই।

‘ধুম ধাম’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ধুম ধাম’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি