Monday, June 8, 2026

ইসরায়েলি ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু’ নিশানা করে হামলা চালানোর কথা জানাল হুতিরা

ইসরায়েলে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুতি গোষ্ঠী। তারা বলেছে, অধিকৃত জাফা অঞ্চলে ইসরায়েলি শত্রুর সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছিল, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করেছে। এই হুমকি প্রতিহত করতে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কাজ করছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ ও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তারা উত্তেজনার জবাব উত্তেজনা দিয়েই দেবে।

হুতি গোষ্ঠী বলেছে, ‘ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকে আমাদের জনগণ এবং জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষের জনগণের ওপর আরোপিত অন্যায্য অবরোধের মুখে আমরা নীরব থাকব না।’

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স

এক হবু সম্রাটের হত্যাই কি ডেকে এনেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ by শামিমা নাসরিন

১১১ বছর আগে রৌদ্রোজ্জ্বল এক সকালে বসনিয়ার সারায়েভোর সড়কগুলোতে সাজ সাজ রব। সস্ত্রীক সফরে আসছেন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ। সড়কপথে ছাদখোলা বিলাসবহুল গাড়িতে আসছেন তাঁরা। তাঁদের দেখতে সড়কের দুপাশে উপচে পড়া মানুষের ভিড়। কে জানত ওই ভিড়েই লুকিয়ে আছেন আততায়ী।

সেদিন ভিড়ের ভেতর থেকে পিস্তল হাতে বেরিয়ে আসেন গ্যাভরিলো প্রিনসিপ নামের এক যুবক। খুব কাছ থেকে দুটি গুলি ছোড়েন তিনি। একটি লাগে আর্চডিউক ফার্দিনান্দের গলায়, আরেকটি তাঁর স্ত্রী সোফির পেটে। দুজন গাড়িতেই নিথর হয়ে পড়েন। মারা যাওয়ার আগে আর্চডিউকের শেষ কথা ছিল, ‘সোফি, সোফি, মরে যেয়ো না…বাচ্চাদের জন্য বেঁচে থাকো।’ সেদিন ছিল তাঁদের বিবাহবার্ষিকী।

গ্যাভরিলো প্রিনসিপ ছিলেন একজন সার্ব জাতীয়তাবাদী। প্রিনসিপ এবং অন্য জাতীয়তাবাদীরা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির শাসনের অবসান ঘটাতে সংগ্রাম করছিলেন। বসনিয়া–হার্জেগোভিনার সামরিক গভর্নর অস্কার পোটিওরেকের অনুরোধে আর্চডিউক ফার্দিনান্দের সারায়েভো সফরে বসনীয় ও সার্ব জাতীয়তাবাদীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তাঁরা এ সফরকে সাম্রাজ্যবাদী দখলের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন।

ভাবী সম্রাটকে হত্যার মাধ্যমে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় শাসনকে ধাক্কা দিয়ে ওই জাতীয়তাবাদীরা স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারেননি, তাঁদের এ কাজ গোটা বিশ্বকে প্রাণঘাতী এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, সূচনা হবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের।

বারুদের গুদামে স্ফুলিঙ্গ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর বহু আগে থেকেই ইউরোপজুড়ে উত্তেজনা দানা বাঁধছিল, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের অশান্ত বলকান অঞ্চলে।

ইউরোপীয় পরাশক্তি, অটোমান সাম্রাজ্য, রাশিয়া ও অন্যান্য পক্ষ বিভিন্ন জোট গঠন করে নিজেদের মধ্যে শান্তি ধরে রাখার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বলকান অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা (বিশেষ করে বসনিয়া, সার্বিয়া ও হার্জেগোভিনায়) এসব চেষ্টাকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি হয়ে উঠেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আর্চডিউক ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ড বারুদের গুদামে স্ফুলিঙ্গের মতো কাজ করে।

অনেক দেশের মতো অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সার্বীয় সরকারকে দায়ী করে এবং এ ঘটনাকে তারা সার্বীয় জাতীয়তাবাদের আন্দোলন চিরতরে মুছে দেওয়ার একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

ফার্দিনান্দ হত্যার পর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এ আশঙ্কায় সার্বিয়া সরকার সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়।

শক্তিশালী রুশ সাম্রাজ্যের সমর্থন যায় সার্বিয়ার দিকে। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি তাকিয়ে ছিল জার্মানির দিকে। জার্মানি গোপনে তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা

২৮ জুলাই ১৯১৪, আর্চডিউক ফার্দিনান্দ হত্যাকাণ্ডের ঠিক এক মাস পর সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি। এতে ইউরোপের পরাশক্তিগুলোর মধ্যে শান্তি টিকিয়ে রাখার নাজুক চুক্তিগুলো দ্রুতই ভেঙে পড়ে।

এক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়ার মিত্র বেলজিয়াম, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য যুদ্ধে সার্বিয়ার পক্ষ নেয়। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও জার্মানির বিরুদ্ধে তারা প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধ দ্রুত ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

রাশিয়া এ যুদ্ধে জড়ায় কারণ, দেশটির সঙ্গে সার্বিয়ার একটি জোট ছিল। জার্মানি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, কারণ জার্মানির সঙ্গে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির জোট ছিল।

যুক্তরাজ্য জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কারণ, জার্মানি নিরপেক্ষ বেলজিয়ামে আক্রমণ করেছিল। আর যুক্তরাজ্য বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে রক্ষা করার চুক্তি করেছিল।

ফার্দিনান্দ হত্যাকাণ্ডের জেরেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল—সরলভাবে এমনটা বলা কঠিন; বরং সে সময়ে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের সম্রাটদের সাম্রাজ্য বিস্তারের লোভ এ যুদ্ধের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রেখেছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও রাশিয়া—সব দেশই ছিল সাম্রাজ্যবাদী। এদের প্রতিটিই বিশ্বের নানা প্রান্তে অনেক দেশ শাসন করত।

এসব শক্তি নিজেদের সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী রাখতে চাইত এবং অন্যরা নতুন ভূখণ্ডের দখল নেয় কি না, তা নিয়ে থাকত উদ্বিগ্ন। অন্যদের নতুন ভূখণ্ডের দখলকে তারা নিজেদের সাম্রাজ্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখত।

ধ্বংসের নেশা

১৯১৪ সালের গ্রীষ্মে যখন মিত্রশক্তি (যার নেতৃত্বে ছিল ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া) এবং কেন্দ্রীয় শক্তির (জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও অটোমান সাম্রাজ্য) মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তখন অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেছিল যে যুদ্ধ বড়দিনের (ক্রিসমাস) আগেই শেষ হয়ে যাবে। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি, সামনে অপেক্ষা করছে মৃত্যু আর ধ্বংসযজ্ঞের দীর্ঘ এক পথ।

মেশিনগান, ভারী কামান, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারে ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র পরিণত হয় এক ভয়ংকর নরকে।

যুদ্ধের প্রথম দিকে জার্মানি একের পর এক সাফল্য লাভ করতে থাকে। প্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত জার্মান সেনাবাহিনী বেলজিয়াম ও উত্তর ফ্রান্স অতিক্রম করে দ্রুত অগ্রসর হয়। তবে ১৯১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মিত্রশক্তির ‘প্রথম মার্নের যুদ্ধ’ জার্মানদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়। ফ্রান্সের মার্নে নদীর তীরে এ যুদ্ধ হয়েছিল।

এই যুদ্ধ এক দীর্ঘ ও নিষ্ঠুর ধ্বংসাত্মক লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করে দেয়। পরের তিন বছর পশ্চিম ফ্রন্ট এক বিভীষিকাময় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। উভয় পক্ষ প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ভাঙার চেষ্টা করে বারবার, কিন্তু সামান্য অগ্রগতি হয়। ভারদাঁ (১৯১৬) ও সোম (১৯১৬)-এর মতো বড় বড় যুদ্ধে লক্ষাধিক সৈন্য নিহত বা আহত হন। অথচ ফ্রন্টলাইনের অবস্থানে খুব সামান্যই পরিবর্তন আসে।

যুদ্ধের সমাপ্তি, ক্ষয়ক্ষতি

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। তাতে জড়িয়ে পড়ে ৩০টির বেশি দেশ। ইউরোপ ও রাশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে যুদ্ধের প্রভাবে তখন সারা বিশ্ব ধুঁকেছে। ১৯১৮ সালের নভেম্বরে হঠাৎ করেই বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে। কারণ, একের পর এক যুদ্ধক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় শক্তির পতন। ৩ নভেম্বর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি মিত্রশক্তির সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে স্বাক্ষর করে, আর ১১ নভেম্বর আত্মসমর্পণ করে জার্মানি।

অস্ত্রবিরতির শর্তগুলো ছিল কঠোর। মিত্রশক্তির ইচ্ছা ছিল জার্মানি যেন আর কখনো শান্তির জন্য হুমকি হতে না পারে। দখল করা সব অঞ্চল থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে, নৌবহর হস্তান্তর করতে, মিত্রশক্তিকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে জার্মানিকে বাধ্য করা হয়েছিল। এ অস্ত্রবিরতি পরে ভার্সাই চুক্তির ভিত্তি তৈরি করে; যা ইউরোপের নতুন সীমানা নির্ধারণ এবং জার্মানির ওপর আরও কঠোর শাস্তিমূলক শর্ত আরোপ করেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ৯০ লাখের বেশি সৈনিক প্রাণ হারান। ২ কোটি ১০ লাখ সৈনিক আহত হন। বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যাও ছিল বেশি, প্রায় ১ কোটি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল জার্মানি ও ফ্রান্স। দুই দেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।

এ বিশ্বযুদ্ধকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তা চারটি প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ সাম্রাজ্যের পতন ডেকে আনে। সেগুলো হলো: জার্মান, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয়, রুশ ও তুর্কি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সমাপ্তির পর ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন বিজয়ী দেশের প্রধানেরা। তবে ‘ন্যায়ভিত্তিক শান্তির’ কথা বলা হলেও বাস্তবে এ চুক্তি ছিল প্রতিশোধপরায়ণ, অসম ও অপূর্ণাঙ্গ।

পরাজিতদের বাদ দিয়ে চুক্তি রচনার ফলে জার্মানি ও রাশিয়ায় জন্ম নেয় চরম অসন্তোষ। এটি পরে নাৎসিবাদের উত্থান ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ সুগম করে।

অর্থনৈতিক সংকট, যুদ্ধের ক্ষত ও চরমপন্থার বিস্তার দেখিয়ে দেয়—শান্তির জন্য শুধু বিজয় নয়, চাই যৌথ অংশগ্রহণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমঝোতা। ইতিহাসবিদদের মতে, যদি ভার্সাই চুক্তি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও ঐক্যমুখী হতো, তবে বিশ শতকের ইতিহাস হয়তো একেবারে ভিন্ন রূপ পেত।

{তথ্যসূত্র: বিবিসি, হিস্ট্রি ডটকম, হিস্ট্রি টুলস}

অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ
অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ। ছবি: মেরি ইভান্স পিকচার লাইব্রেরি

পশ্চিমে বদলাচ্ছে সমীকরণ, সেই সুযোগে বাড়ছে তুরস্কের অস্ত্রের বাজার

টানা দুই দশকের সরকারি বিনিয়োগের ফলে তুরস্ক এখন ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো যখন নতুন করে অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তা জোটগুলো পুনর্গঠিত হচ্ছে, তখন এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক।

এই তুরস্ক একসময় অস্ত্রের জন্য নির্ভরশীল ছিল বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর। এখন তারা উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রায় ৪০টি এবং ইউরোপেরও কিছু দেশে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ক্রেতাদের দৃষ্টিতে, তুরস্কের অস্ত্র তুলনামূলক সস্তা, দ্রুত হাতে পাওয়া যায় এবং সহজেই ব্যবহার করা যায়।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউরোপীয় সরকারগুলো তাদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত নির্ভরতা নতুন করে মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ন্যাটোর অনেক মিত্রদেশ তুরস্ককে এখন কেবল এই সামরিক জোটের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের একটি শক্তিশালী সামরিক দুর্গ হিসেবেই দেখছে না; বরং দেশটিকে সামরিকশিল্পের সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে।

আগামী মাসে তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্য নেতারা অংশ নেবেন। আঙ্কারা আশা করছে, এর ফলে পশ্চিমা বাজারে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের অস্ত্র বিক্রি ও যৌথ উৎপাদন প্রসারিত হবে।

এ ক্ষেত্রে তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে কেবল নির্দিষ্ট সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক বিরোধের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বাধা।

বাণিজ্য পরিসংখ্যান নিয়ে রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে তুরস্কের সমরাস্ত্র রপ্তানি তিন গুণের বেশি বেড়ে গত বছর এক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত আধুনিক সশস্ত্র ড্রোনও রয়েছে। এই সময়ে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রায় চার গুণ বেড়ে ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষাশিল্প কতটা পরিপক্ব হয়েছে। ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাইকার ও টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরকা ডিফেন্স ও কাইলের মতো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সাফল্যের অংশীদার।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ সরবরাহব্যবস্থা এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র তৈরির কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। যেখানে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সীমাবদ্ধতা ও বিপণন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার মতো জটিলতা রয়েছে।

যুদ্ধের হুমকি ও সুযোগ

তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এই খাত থেকে আসা আয়ের মাধ্যমে তারা দেশের ঋণ শোধ করতে ও আরও উন্নয়নমূলক কাজের তহবিল জোগাড় করতে চায়।

উত্তরে ইউক্রেন এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইরান—এই দুই বড় সংঘাতের মাঝে দেশটির অবস্থান। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের ইঞ্জিনের অভাবের কারণে তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যবসা ও প্রযুক্তি চুক্তির মাধ্যমে তারা এই ঘাটতি মেটাতে পারে।

হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো চান কাসাপোলু বলেন, আধুনিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ড্রোন রপ্তানি করে তুরস্কের প্রতিরক্ষাশিল্প ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ অর্জন করেছে।

কাসাপোলু আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধ শুধু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিল্পের সক্ষমতা ও স্থায়িত্বেরও প্রয়োজন আছে। আর এই জায়গায় তুরস্ক বেশ আস্থা অর্জন করেছে।

নজরে ন্যাটো সম্মেলন

বিশ্বে ব্যবহৃত সশস্ত্র ড্রোনের ৬৫ শতাংশই সরবরাহ করে তুরস্ক। পাশাপাশি তারা গোলাবারুদ রপ্তানিতেও অন্যতম শীর্ষ দেশ।

এ ছাড়া তারা যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং সাঁজোয়া যান তৈরি করছে বা তৈরির পরিকল্পনা করছে। ইন্দোনেশিয়া গত বছর জানিয়েছে, তারা তুরস্ক থেকে ৪৮টি যুদ্ধবিমান কিনবে, যেগুলো তৈরির কাজ এখনো চলছে।

তবে তুরস্কের এই বড় লক্ষ্যের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ও সুনামের ঝুঁকিও রয়েছে।

গত মাসে ইস্তাম্বুলের এক প্রদর্শনীতে তুরস্ক নিজেদের তৈরি একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মডেল দেখিয়েছে। এর প্রচারণামূলক ভিডিওতে দেখানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর আমেরিকার দিকে ছোড়া হচ্ছে। এটি নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।

তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা খাতই হবে আলোচনার প্রধান বিষয়।

ন্যাটোপ্রধান মার্ক রাটে বলেছেন, এই সম্মেলনে প্রতিরক্ষাশিল্প নিয়ে যে সংলাপের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা হবে ন্যাটোর ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে সমন্বিত আয়োজন।

ইউরোপীয় বাধা

ন্যাটোর মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জার্মানি থেকে হাজার হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপে তুরস্কের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী রয়েছে তুরস্কের।

গত এপ্রিলে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি একটি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার। তিনি বলেন, ইউরোপের যেসব নিরাপত্তা চুক্তিতে তুরস্কের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের ন্যাটো সদস্যদের রাখা হয়নি, সেসব চুক্তি বাতিল করা উচিত। তাঁর মতে, এ ধরনের নীতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও সক্ষমতার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে সেনা কমালে যতটা ক্ষতি, এই নীতি তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করবে বলে মনে করেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ (সেফ)’ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে একপ্রকার বাদই দেওয়া হয়েছে। যদিও আঞ্চলিক নীতি নিয়ে বিরোধের জেরে কিছু দেশের সরকার তুরস্ককে এড়িয়ে চলছে। তুরস্কের প্রধান বিরোধী দলের ওপর আইনি দমন–পীড়নসহ গণতন্ত্রের অবনতি নিয়ে দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।

এত কিছুর পরও পোল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল ও রোমানিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তি করেছে তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ইতালির ‘পিয়াজ্জো অ্যারোস্পেস’ অধিগ্রহণ করেছে তুরস্কের ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার। এ ছাড়া ড্রোন উৎপাদনের জন্য ইতালীয় কোম্পানি লিওনার্দোর সঙ্গেও তারা অংশীদারত্ব গড়েছে।

বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয়ের হিড়িক

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলার। এই সময়ে শুধু ইউরোপেই সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৭৫ শতাংশ।

একই সময়ে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে নিজেদের অর্থায়নে চলা প্রকল্পের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা। দেশটিতে এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪০০টির বেশি।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আরদা মেভলুতোলু মনে করেন, রাজনৈতিক বাধাগুলো সামলানো গেলে ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। সে ধরনের গভীর সহযোগিতার পরিবেশ এখন তৈরি হয়েছে।

মেভলুতোলু বলেন, ইউরোপের এখন এমন সমাধান দরকার, যা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। তবে এই সহযোগিতাকে একটি স্বাভাবিক ধারায় এগিয়ে নিতে হলে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তাঁর মতে, তুরস্ক এখন ইউরোপ এবং ন্যাটো—উভয়ের সঙ্গেই নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন ও জোরদারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে দেশটির সামরিক সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কারের তৈরি চালকবিহীন যুদ্ধবিমান ‘কিজিলএলমা’। ৮ মে ২০২৬
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে দেশটির সামরিক সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কারের তৈরি চালকবিহীন যুদ্ধবিমান ‘কিজিলএলমা’। ৮ মে ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরানের

ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তারা বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে লেবাননের রাজধানীতে ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানি কর্মকর্তারা।

সোমবার বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে প্রাণঘাতী হামলার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তারা ‘উচ্চ সতর্ক অবস্থায়’ রয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলের অন্যান্য এলাকায় সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানায়, প্রথম ধাপের সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ‘আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ’ করা হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল অভিমুখে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানানোর ঠিক কয়েক মিনিট পর দেশটির কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আজ রাতে তেহরানকে অবশ্যই পুড়তে হবে!’

ইরানের স্বল্প পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের স্বল্প পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এএফপি ফাইল ছবি

ভারতে ৩০ লাখ যৌনকর্মী

প্রায় এক বছর আগে তাকে ছেড়ে গিয়েছিল তার স্বামী। যখন সংসার ছিল, তখন দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ভাড়া এক কুঁড়েঘরে থাকতো সুমনা। কিন্তু এরপর শহরের ব্যস্ততম কেন্দ্রে পাড়ি জমায় সে। ফুলশোভিত সালোয়ার কামিজ পরে আর চোখে কাজল লাগিয়ে সে প্রতিদিন ২ থেকে তিনজন খদ্দেরের আশায় থাকে। বিনিময়ে প্রতিবার ৩০০ রুপির মতো পায়। খদ্দেরদের বেশির ভাগই গাড়িচালক। তবে সুমনার মতে, মাঝেমাঝে কিছু ভদ্র আর সুন্দর পোশাক পরা লোকও যায় তার কাছে। তার পরিবার কিন্তু এসব জানে না। তারা জানে, সে হয়তো কোন অফিসে চাকরি করে। তার লেখাপড়া জানা নেই। তার কিশোর ছেলেটি স্কুল শেষ করা পর্যন্ত সে মুক্ত। এ সময়ে ঘরে যাকে খুশি তাকে নেয়া যায়। যা খুশি তা-ই করা যায়। তাই ছেলে স্কুল থেকে না ফেরা পর্যন্ত সে এ কাজ চালিয়ে যায়। সে জানে ভিক্ষা করা অবৈধ। কিন্তু পতিতাবৃত্তি অবৈধ কিনা সেটা আসলেই অসপষ্ট। কনডম ব্যবহারের সুবিধাটা সে জানে। কিন্তু তার খদ্দেররা সে সব খুব কমই ব্যবহার করে। কোন দালাল নেই সুমনার। আবার তাকে কেউ পাচার করে আনেনি এ পথে। তার মতো একই পরিস্থিতি বীণার। তুলনামূলক কমবয়সী সে। ফোনে যোগাযোগ করে ধনী খদ্দের ধরে সে। কর্মকর্তারা জানান, ভারতে এমন প্রায় ৩০ লাখ যৌনকর্মী রয়েছে। তবে এটা সপষ্ট যে, এদের মধ্যে কিছু আছে টাকার প্রয়োজনে এ পেশায়। কিছু মেয়েকে বাধ্য করা হয়েছে এ পথে আসতে। আবার কিছু আছে স্বেচ্ছায় এ পথে পা বাড়ানো। অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক অব সেক্স ওয়ার্কার্স-এর প্রেসিডেন্ট ভারতী দে যুক্তি দেখালেন, পতিতাবৃতি ঐচ্ছিক বিষয়। তাই যৌনকর্মীদের অন্য মানুষের মতো সমান অধিকার থাকা উচিত। এ শিল্প নারীভিত্তিক। তবে মূলত স্বল্পশিক্ষিত অনেক গরিব অভিবাসী মেয়েই এর মূল ভিত্তি। এরা ভারতের শ্রমবাজারে খুব অল্পবেতন পায়। তাই বাধ্য হয়ে তুলনামূলক বেশি অর্থের জন্য এ পেশায় আসতে হয় তাদের। ভারতীদের মতো অনেকে চান যৌনবৃত্তিকে ছায়া থেকে সরিয়ে নিয়ে আসতে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের সেপশাল র‌্যাপোর্টিয়ার বলেন, ভারতে যৌনকর্মীদের অপরাধী হিসেবে দেখার প্রবণতা বন্ধ হলে তারা আরও শক্ত হবে। পাঁচ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, পতিতাবৃত্তি আইনসিদ্ধ হওয়া উচিত। এরপর ভারতের জাতীয় নারী কমিশন এ সমপর্কে তাদের পূর্বের অবস্থানে পরিবর্তন আনে। এর প্রধান ললিতা কুমারামঙ্গলাম মনে করেন, পাচার করে এ পেশায় আসতে বাধ্য করা ও শিশুদের এ পেশায় নিয়ে আসা থামানো সম্ভব নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে। যৌনকর্মী ও তাদের খদ্দেরদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে এইচআইভি বিস্তার সীমিত করা সম্ভব। এ সমপর্কিত আইনের সংশোধনকল্পে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ প্যানেলের কাছে একথা তিনি জানাবেন। জিবি রোডের পতিতালয়গুলো নিয়ে বই লিখেছেন মায়ানক অস্টেন সুফি। তিনি বলেন, তার জানাশোনা প্রত্যেক যৌনকর্মী বৈধ হতে চায়। এখনও পতিতারা বিভিন্ন কারণে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে দ্বিধা করে। এছাড়া পুলিশি হয়রানি তো আছেই। যৌনবৃত্তিতে আসতে অনেককে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়ের অবসান জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এসবের অবসানে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। মানবপাচার বিরোধী সংগঠন ‘আপনে আপ’ জানিয়েছে, গ্রামের মেয়েদের শহরে নিয়ে যৌনবৃত্তিতে বাধ্য করায় যেসব দালাল, তারা ওই মেয়ের পরিবারকে প্রতিমাসে মাত্র ৪ হাজার রুপি পরিশোধ করে। বিভিন্ন পতিতালয়ে এনজিও ও পুলিশের অভিযান প্রায়শই ব্যর্থ হয়। কেননা, পরিবারটি একই দালালের কাছে আবার মেয়েটিকে ফিরিয়ে দেয়। আবার তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এ কাজে বাধ্য করা হয়। আপনে আপ দাবি করেছে, এক-তৃতীয়াংশ যৌনকর্মীই ১৮ বছরের নিচে। তবে সংস্থাটি এ পেশা বৈধতা দেয়ার বিরোধিতা করেছে। তাদের যুক্তি, এর ফলে যৌনবৃত্তির চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে আরও মানবপাচার বৃদ্ধি পাবে। এর পরিবর্তে আপনে আপ প্রচার চালাচ্ছে, ‘কুল ম্যান ডোন্ট বাই সেক্স’-  অর্থাৎ সত্যিকার পুরুষ কখনও অর্থ দিয়ে যৌনতা কেনে না। অর্থাৎ তারা চাইছে, পতিতাবৃত্তির চাহিদা যাতে সমাজে কমে যায়। তবে এর সফলতা পাবার সম্ভাবনা কম। আবার একে আইনসিদ্ধ করার সম্ভাবনাও কম। কোন  রাজনীতিবিদই এর পক্ষে নন। তাছাড়া রক্ষণশীল দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ আইনকে সমর্থন করবে না বোঝাই যাচ্ছে। ফলে যৌনতার বিক্রিটা ভারতে অন্ধকারের মধ্যেই অব্যাহত থাকবে। এর চাহিদাও কমবে না, আবার এর ব্যাপারে ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখা হবে।
সূত্র দ্য ইকোনমিস্ট