Saturday, October 19, 2024

বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড কারাগার 'আয়নাঘর', ঠিক যেন দুঃস্বপ্নের মতো by মুজিব মাশাল ও শায়েজা ওয়ালিদ

যখন জেলাররা ভোরের আগেই কারাগারে ঢুকে পড়লো, বন্দিটি  ভাবলো তার জীবন এখানেই শেষ। আট বছর ধরে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল একটি আন্ডারগ্রাউন্ড জেলের জানালাহীন প্রকোষ্ঠে। যেখানে অন্ধকার রাতের কোনো শেষ নেই। জেলের  রক্ষীরা তাকে তার প্রার্থনা শেষ করার নির্দেশ দিল। তারপর তার  চোখবন্ধ ও  ধাতব হাতকড়া খুলে ফেলল এবং তার কবজি কাপড় দিয়ে বেঁধে দিল । তারপর তারা সেই বন্দিকে দুজন লোকের  নিচে একটি মিনিভ্যানের মেঝেতে শুইয়ে দিলো যাতে দেখা না যায়। এরপর এক ঘণ্টার যাত্রার উদ্দেশে  রওনা দিলো। কিন্তু বাংলাদেশে আগের অনেক রাজনৈতিক বন্দির মতন, মীর আহমদ কাসেম আরমানকে হত্যা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল না। পরিবর্তে  তাকে রাজধানী ঢাকার প্রান্তে একটি  মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল।

অনেক পরিবর্তন হয়েছে: নতুন হাইওয়ে,  পাতাল রেল । কিন্তু আরমান সর্বশেষ এবং সবথেকে বড় পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি গত ১৫ বছর ধরে লোহার মুষ্টি এবং প্রতিহিংসামূলক দৃষ্টিভঙ্গি   নিয়ে দেশ শাসন করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা তার বাসায় হামলা চালালে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান । ৫ আগস্ট হাসিনার  প্রস্থানের সাথে সাথে  আরমান এবং আরও দুইজন ব্যক্তি যারা গোপন কারাগারে দীর্ঘকাল বন্দি ছিলেন তারা প্রকাশ্যে আসেন । আরমান ২০১৬ সালে আধাসামরিক বাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়ার সময় একজন  স্বচ্ছল আইনজীবী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে  কোনো  ফৌজদারি অভিযোগ না থাকলেও একজন ইসলামপন্থী কর্মী এবং ব্যবসায়িক হিসেবে তার পিতার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য তাকে দায়বদ্ধ করা হয়। বছর খানেক পরে  আরমানকে যখন খোলা মাঠে নামিয়ে দেয়া হলো তখন শরীর শীর্ণকায়, মুখে  দাড়ি। অন্ধকার জীবনে কেবল দুটি জিনিস তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলো, তার স্ত্রী এবং ১১ ও  ১২ বছরের দুই কন্যা। বছর ৪০ এর আরমান বলেন, আমি প্রতিবার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতাম  এই পৃথিবীতে আমার পরিবারের সাথে যদি একসঙ্গে থাকতে না পারি, অন্তত  স্বর্গে  গিয়ে তাদের সাথে যেন আমার দেখা হয়।'

হাসিনার পতন তার ১৭০ মিলিয়ন মানুষের দেশকে নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।  বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অতীতের সবচেয়ে খারাপ অপব্যবহারের উপর থেকে  পর্দা তুলে দিয়েছে। একসময় তার জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার মূর্তপ্রতীক হাসিনা সময়ের সাথে সাথে কর্তৃত্ববাদ এবং দমন-পীড়নের পথ অবলম্বন করেন। সামনে আসা যে কোনো  চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা  করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে হাতিয়ার  করেন। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল জোরপূর্বক গুম। তার নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা অপহরণ করার পর শত শত মানুষ আজ কোনো চিহ্ন ছাড়াই অদৃশ্য হয়ে গেছে, কিছু ক্ষেত্রে ছোটখাটো রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের জন্যও  তাদের টার্গেট করা হয়েছে: যেমন  বিরোধী সমাবেশ সংগঠিত করা, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনো সমালোচনামূলক বার্তা পোস্ট করা। নিহতদের অনেককে হত্যা করে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকিদের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড মিলিটারি ডিটেনশন সেন্টারে দৃষ্টির বাইরে রাখা হয়েছিল, যাতে তারা নিজেরাই উন্মাদ হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে।  সেই কারাগারের কোড-নাম ছিল 'হাউস অফ মিররস' বা 'আয়নাঘর' । দ্য টাইমস আরমান এবং আগস্টে মুক্তি পাওয়া অন্য একজন বন্দিসহ দুই ডজনেরও বেশি লোকের  সাক্ষাৎকার নিয়ে  হাসিনার গোপন ডেরার  গল্প প্রকাশ্যে এনেছে। সেইসঙ্গে বর্তমান এবংসাবেক সরকারি কর্মকর্তারা , নিরাপত্তা প্রধান, কূটনীতিক এবং মানবাধিকার কর্মীরাও মুখ খুলেছেন যাদের একসময় নীরব করে রাখা হয়েছিল।

এটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া পরিবারগুলির একটি গল্প-আগস্টে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন যখন জানতে পারেন যে তাকে মৃত বলে ধরে নিয়ে তার স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করেছে। আরেকজন জানতে পারেন  যে তার বাবা তার নিখোঁজ হওয়ার সূত্র খুঁজতে বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে মৃত্যুকে বরণ করে নেন। কয়েক ডজন যারা নিখোঁজ হয়ে গেছেন তাদের  পরিবার এখনো তাদের অপেক্ষায় রয়েছেন যদি কোনো ঘরের লোকটি ফিরে আসে।  এমনকি সরকারি দমন-পীড়ন এবং ভয় দেখানোর পরেও তারা আশা ছাড়েননি । তারা চান,  হয় তাদের ছেলে, ভাই যারা নিখোঁজ তাদের ফিরিয়ে আনা হোক নতুবা  মনের ক্ষতে প্রলেপ লাগাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।  "কী হয়েছে আমরা সবটা জানতে চাই ?"  বলছেন তাসনিম শিপ্রা। যার চাচা বেলাল হোসেন ২০১৩ সালে নিখোঁজ হয়ে যান।

একটি নির্মম ইতিহাস

বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ ছিল একটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ। যার অনেকটাই কাল্পনিক।  দেশের  পোশাক রপ্তানি শিল্প  লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছিল। অবিচল, শক্তিশালী নেত্রী হিসেবে প্রশংসা অর্জন করেছিলেন হাসিনা।  কিন্তু ৫০ বছরের পুরনো জাতির মর্মান্তিক ইতিহাসের মূলে রয়েছে দুটি রক্তক্ষয়ী বিভাজন— ভারত থেকে পাকিস্তান, তারপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ এবং তখন থেকেই রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার চক্রে জর্জরিত হয়েছে এই দেশ। হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পথ দেখাতে সাহায্য করেছিলেন। যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী  বাঙালিদের বিরুদ্ধে নৃশংস অভিযান পরিচালনা করে লক্ষাধিক মানুষকে হত্যা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে একটি নির্মম আধাসামরিক বাহিনীকে খাড়া করে শেখ মুজিব দেশ পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন । ১৯৭৫ সালে তিনি এবং তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য একটি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। সে সময় বিদেশে থাকায়  হাসিনা রেহাই পান । কয়েক বছর পরে  তিনি ফিরে আসেন দেশে  সামরিক শাসনের অবসান ঘটাতে এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন।

পরের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়ে আট বছরের জন্য ক্ষমতা থেকে দূরে থাকেন । ২০০৪ সালে তিনি একটি হত্যা প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন যেখানে গ্রেনেড নিক্ষেপকারী হামলাকারীরা দুই ডজন লোককে হত্যা করেছিল। পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটের সময় তাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে যখন তিনিক্ষমতায়  ফিরে আসেন তখন তিনি একজন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত নেতা,  বাবার মতো কঠোর হাতে দেশের  নিয়ন্ত্রণ তুলে নেন নিজের হাতে। হাসিনা দমন-পীড়ন অভিযানে বেশ কিছু নিরাপত্তা বাহিনীকে  নিয়োগ দেন। সেইসঙ্গে বিরোধীদের হত্যা ও নির্মূল করতে  তিনি অভিজাত পুলিশ এবং আধাসামরিক ইউনিটকে ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে একটি, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। যেটি  মার্কিন এবং বৃটিশ প্রশিক্ষণ নিয়ে সন্ত্রাসবাদবিরোধী স্কোয়াড্রন হিসাবে কাজ শুরু করেছিল কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর মতে  হাসিনা তাকে রূপান্তরিত করেছিলেন  "ইন-হাউস ডেথ স্কোয়াড" হিসেবে। আদালতের নথি অনুসারে,  হাসিনার দলের একজন কর্মকর্তা প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দিতে ব্যাটালিয়নের সদস্যদের  অর্থ প্রদান করেছিলেন। আদালতের নথি মোতাবেক, যখন তারা দিনের আলোতে লোকটিকে তুলতে গিয়েছিল তখন সাক্ষী মেটাতে  আরো সাতজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে  তারা। মৃতদেহগুলিকে নদীতে  ডুবিয়ে দিতে তাদের পেটে  ছিদ্র  করে দেয়া হয়েছিল এবং দেহের সাথে  ইটের বস্তা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। এক সপ্তাহ পরে মৃতদেহগুলি নদীর ওপর  ভাসতে দেখা যায় যা হাসিনা সরকারের বর্বরতার জ্বলন্ত উদাহরণ।

দীর্ঘমেয়াদী বন্দিদের আটকে রাখার ভার সামরিক গোয়েন্দা শাখার কাছে ন্যস্ত করা হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলির অনুমান অনুসারে, ২০০৯ থেকে এই বছর পর্যন্ত ৭০০ জনেরও বেশি লোককে জোর করে গুম করা হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত অনেক বেশি।  কারণ ঘন ঘন সরকারি হয়রানি তাদের পক্ষে মামলার সম্পূর্ণ তথ্য নথিভুক্ত করার কাজ  কঠিন করে তুলেছিল। পরিচিত নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৪৫০ জন পরে ফিরে আসে। অধিকার গ্রুপগুলির দাবি তাদের নিখোঁজ করার  কয়েক মাস  পরে ছেড়ে দেয়া হয় এবং মুখ বন্ধ রাখার  নির্দেশ দেয়া হয়।  ৮০ টি পরিবার শুধুমাত্র তাদের আপনজনের  মৃতদেহ হাতে পেয়েছিলো , প্রায় ১৫০  ভুক্তভোগীরই হিসাব পাওয়া যায়নি।

সামরিক বাহিনী হাসিনার বর্বরোচিত কাজে সয়াহতা করে এসেছে । কারণ তিনি শক্ত হাতে তাদের নিয়ন্ত্রণ করে এসেছেন।  তিনি তার এক আত্মীয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেলকে সামরিক বিষয়গুলি সমন্বয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি সেনার বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করতে  শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের দরাজ হাতে অর্থ বেলানোর পরামর্শ দিতেন। বন্দিদের আটকে রাখার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ অবদানকারী হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। হাসিনার প্রস্থানের সাথে সাথে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলি ভেঙে যাওয়ার পরে সামরিক বাহিনীই নিজেকে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে খাড়া করেছিল, কঠিন সময়ে  বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আশ্বাস দিয়েছিলো।

আয়নাঘরের ভেতরের গল্প

আবদুল্লাহিল আমান আজমি যে অবিরাম যন্ত্রণা সহ্য করেছেন তা হয়তো ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন।  আজমি একজন সাবেক সেনা জেনারেল যাকে স্পষ্টতই দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কারণ তার বাবা একজন সিনিয়র ইসলামিক নেতা ছিলেন। আগস্টে সামরিক কারাগার থেকে মুক্তি পান আজমি।   আট বছরের  বন্দি জীবনে তাকে  ৪১,০০০ বার চোখ বেঁধে এবং হাতকড়া পরানো হয়েছিল। আজমি বলছেন, আমি সৃষ্টিকর্তার তৈরি আকাশ, সূর্য, চাঁদ,  গাছ দীর্ঘদিন দেখিনি। একবার একটা ছোট ঘুলঘুলি দিয়ে  কিছুটা সূর্যালোক দেখার চেষ্টা করেছিলাম।   কিন্তু  তারা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে জানতে পেরে সেগুলি বন্ধ করে দেয়।"

আয়নাঘরের অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রটি ছিল  কঠোরভাবে পরিচালিত । সেখানে বন্দিদের মেডিকেল চেকআপের পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যবস্থা ছিল।  চার থেকে ছয় মাস অন্তর বন্দিদের  চুল কাটা হতো । আয়নাঘরের  লক্ষ্য ছিল বন্দিদের  শারীরিক অত্যাচার, মানসিক অত্যাচার করা। টাইমসকে প্রাক্তন বন্দীদের মধ্যে তিনজন জানিয়েছেন আয়নাঘরে ছিল লম্বা করিডোর, সেখানে অর্ধডজন কক্ষ থাকলেও একটি অপরের থেকে বেশ খানিকটা দূরে ছিল। প্রতিটি প্রান্তে শৌচাগার ছিল, একটি দাঁড়ানো এবং একটি বসা। প্রতিটি কক্ষে একটি বড় এক্সজস্ট ফ্যান ছিল যাতে আওয়াজ বাইরে না যায়। কাতার এবং ভিয়েতনামে সাবেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ২০১৯ সালে পুনরায় আবির্ভূত হওয়ার আগে কারাগারে ৪৬৭ দিন  কাটিয়েছেন। তিনি গুগল ম্যাপ খোলেন এবং ঢাকার একটি সামরিক গ্যারিসনে জুম ইন করেন, যে অংশটিকে এখন আয়নাঘর  হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কোড নামটি  প্রথম প্রকাশ করেছিল  বাংলাদেশি সংবাদ সংস্থা নেত্র নিউজ, যা প্রবাস থেকে পরিচালিত হয় ।

তিনি এবং অন্যান্য বন্দিরা জানতেন  যে, তারা সামরিক ঘাঁটিতে ছিলেন যেখান থেকে সকালে সেনাদের  প্যারেড শুনতে পাওয়া যেত । তারা জানত যে, অফিসারদের আবাসিক কোয়ার্টার এই আয়নাঘরের কাছাকাছিই  ছিল, যেখানে মানুষ  স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। জামান বলছেন "প্রতি শুক্রবার, আমি শিশুদের গান শুনতে পেতাম। '  হাসিনার কট্টর সমালোচক জামান বলছেন, 'আমাকে ভারতে থাকার বিষয়টি নিয়ে বারবার জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিলো  এবং মুখে বারবার ঘুষি মেরে দুটি দাঁত ভেঙে দেয়া হয়েছিল ।  আমার সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট  এবং ব্লগ মুদ্রণ করে এনে  নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ ধরে ধরে  জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। '

মাইকেল চাকমা, একজন আদিবাসী অধিকারকর্মীকে আগস্টে একটি জঙ্গলে মুক্ত করা হয়েছিল।  চাকমা বলছেন, পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম আমি দিনের আলো দেখলাম।' ২০১৯ সালে ঢাকার একটি ব্যাংকে প্রবেশের সময় তাকে অপহরণ করা হয়। তিনি বাংলাদেশের আদিবাসী পাহাড়ি জনগণের  স্ব-শাসনের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কারাগারের অভ্যন্তরে থেকে  তিনি একটি প্রশ্ন শুধু করেছিলেন কেন তাকে সেখানে আনা হলো।  উত্তর পেয়েছিলেন-  রাজনৈতিক প্রতিহিংসা:হাসিনা যখন তার দলের জন্য একটি সমাবেশ করতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকায় গিয়েছিলেন, তখন  চাকমার দলের ছাত্র সংগঠন আওয়ামী লীগের  রাস্তা অবরোধ করে।  হাসিনা সমাবেশে তার বক্তব্য শেষ করেন হুমকি দিয়ে—যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের তিনি দেখে নেবেন।

সাবেক সামরিক অফিসার আজমি বলছেন  যে, কখনও কখনও তার চোখ -নাক  এতটাই শক্ত করে বাঁধা হতো যে  শ্বাস নিতে কষ্ট হতো । তিনি চোখের ব্যথা, দাঁতের ক্ষয় এবং ত্বকের  ক্ষতে  ভুগছিলেন। তার থেকেও মনে সবসময় ভয় কাজ করতো। এই বুঝি কোনো রাতে তাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হতে পারে ,  হত্যা করে দেহ কোথাও ফেলে দিতে পারেন রক্ষীরা। পরের দিন সকালের সংবাদপত্রে শুধু একটি খবর পাওয়া যাবে তিনি পুলিশের সাথে "ক্রসফায়ারে"  মারা গেছেন। আজমি রক্ষীদের কাছে শুধু একটি প্রার্থনা করেছিলেন: "দয়া করে বিড়াল এবং কুকুরকে আমার মৃতদেহ খেতে দেবেন না, দয়া করে  আমার লাশ আমার পরিবার, প্রিয়জনদের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। এমন কোনও  ভাষা নেই যেখানে আমি আমার অপমান ও যন্ত্রণা বর্ণনা করতে পারবো।'

আরমানকে ২০১৬ সালের আগস্টে তুলে নেয়া হয়েছিল। সেখানে ছিল তার স্ত্রী এবং ৪ বছরের মেয়ে। হাসিনা সরকার ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের অপরাধে  মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলানোর  আগে আরমানকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। মীর কাসেম আলী বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধিতাকারী একটি ইসলামিক  দলের কিশোর ছাত্র নেতা ছিলেন। আলীকে হাসিনার জন্য বিশেষভাবে হুমকি হিসেবে দেখা হয়েছিল কারণ তিনি একটি বৃহৎ এবং লাভজনক ব্যবসা গড়েছিলেন : একটি ব্যাংক, একটি মিডিয়া নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল। আরমান তার বাবার কথা বলতে গিয়ে জানাচ্ছেন - 'আমার  বাবার একটি দিনও জেলে কাটানোর কথা নয়, ফাঁসি তো দূরের কথা। 'বছরের পর বছর যন্ত্রণা এবং অনিশ্চয়তার পর  আরমান হাসপাতাল থেকে ফিরে অবশেষে তার স্ত্রী, কন্যা এবং মায়ের সাথে পুনরায় মিলিত হতে সক্ষম হন । কিন্তু তিনি এখনো সেই মুহূর্তগুলি ভুলতে পারেননি:  বাবার  মৃত্যুদণ্ড, পারিবারিক জীবন থেকে চুরি হয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি বছর, দুর্ব্যবহার- যা হয়তো ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না।

ন্যায়ের জন্য একটি অনুসন্ধান

হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরুষ ও নারীদের  একটি ছোট দল উল্লাসিত জনতার মধ্যে মিশে গিয়ে  দেশের সামরিক সদর দফতরের গেটে পৌঁছে গিয়েছিলো। এদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি  ছিলেন যারা বলপূর্বক গুম থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন । নারীরা  তাদের নিখোঁজ  প্রিয়জনের জন্য বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন দরজায় কড়া নেড়ে গেছে। তাদের একটিই দাবি ছিল -আয়নাঘরের ভিতরে এখনও কোনো বন্দি থাকতে পারে। যদি তারা এখনো কমান্ডিং অফিসারদের চোখে না পড়েন  তাহলে তারা চিরতরে অদৃশ্য  হয়ে যেতে পারেন। মধ্যরাতের কাছাকাছি অফিসাররা শেষ পর্যন্ত তিনজন প্রতিনিধিকে বৈঠকের জন্য অনুমতি দেয়।  বেঁচে ফিরে আসা  ব্যক্তিরা অফিসারদের জানান যে, তারা অন্তত দুজন লোককে এখনো ভেতরে আটকে রেখেছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল যিনি ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে জোরপূর্বক নিখোঁজ ছিলেন তিনি বলেন, 'আমাদের ২৪ ঘণ্টা সময় দিন, আমরা দেখছি। যদি কেউ বাকি থাকে আমরা নিশ্চিত করব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের যেন  মুক্তি দেয়া হয়। ' পরের কয়েক দিনের মধ্যে -  চাকমা ,আরমান, আজমি সকলেই মুক্ত হয়ে যান।

সানজিদা ইসলাম তুলি যার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন ২০১৩  সালে নিখোঁজ হয়েছিলেন, তিনি বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন। সুমনের বৃদ্ধ মা তার নিখোঁজ ছেলের একটি ফ্রেমযুক্ত প্রতিকৃতি জড়িয়ে ড. ইউনূসের পাশে চুপচাপ বসেছিলেন। যা দেখে ইউনূস বলেন, 'যদি দেশের অন্তর্বর্তীকালীন নেতারা তাদের জন্য ন্যায়বিচার করতে না পারেন তাহলে এই সরকারের কোনো অর্থ নেই।"

এর পরের সপ্তাহগুলিতে,  ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলপূর্বক গুমের বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং বাংলাদেশে অপরাধ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্তের জন্য গঠিত একটি বিশেষ আদালত  বিদেশে নির্বাসিত  হাসিনার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। কিন্তু সামনে অনেক  কঠিন কাজ রয়েছে।  ইউনূস যে  ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পূরণ করা এখন লক্ষ্য অন্তর্বর্তী সরকারের। ইউনূস  বলেন, “আপনারা  আশা ছাড়বেন না , তবে ফলাফল কী হবে তা এখনই বলতে পারা  কঠিন।'

মুজিব মাশাল দ্য টাইমসের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যুরো প্রধান। তিনি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ভুটান সহ ভারত এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের কভারেজের নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করেন।

সূত্র- নিউ ইয়র্ক টাইমস

mzamin

হামাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন খালেদ মেশাল

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পর হামাসের অন্তর্বর্তী দায়িত্বে আসছেন আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খালেদ মেশাল। এ খবর দিয়েছে জিউইশপ্রেস। এতে বলা হয়, একটি সূত্র বেসরকারি টিভি চ্যানেল লেবানিজ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল (এলবিসিআই) নামের সংবাদ সংস্থাকে এই খবর নিশ্চিত করেছে। মেশাল এখন জিম্মি এবং বন্দিদের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগের তত্ত্বাবধান করছেন। একই সূত্র এলবিসিআইকে নিশ্চিত করেছে যে, ‘হামাসের নেতৃত্ব তুর্কি, কাতারি এবং মিশরীয় কর্মকর্তাদের তেল আল-সুলতান অপারেশন চলাকালীন তার রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। হামাস জোর দিয়ে বলেছে যে, সিনওয়ারের হত্যার পরে, বন্দি বিনিময় এবং যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য আলোচনা ক্রমবর্ধমান আরও জটিল হয়ে উঠবে।’ ওই সূত্র মারফত আরও জানা গেছে যে, মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিনকেন এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানির কথোপকথনের মাঝেই সিনওয়ারকে হত্যা করা হয়। খালেদ মেশাল ‘আবু আল-ওয়ালিদ’ ১৯৫৬ সালে সিলওয়াদের পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারসহ কুয়েতে চলে যাওয়ার আগে তিনি সেখানেই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। আর কুয়েতে যাওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৯৬ এবং ২০১৭ সালের মধ্যে তিনি হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্ব নেন এবং ২০০৪ সালে শেখ আহমেদ ইয়াসিনের মৃত্যুর পর এর নেতা নিযুক্ত হন। মেশাল ২০২৪ এর ৭ই অক্টোবরে কুয়ালালামপুর ফোরাম ফর থট অ্যান্ড সিভিলাইজেশনে ইসরাইলে হামাসের আক্রমণের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বক্তৃতা দেন। সেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য ইরান, হুতি, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকি  যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ইসরাইলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে মুসলমানদের  তাদের অস্ত্র ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করার আহ্বান জানান তিনি। গাজার জনগণের কষ্ট লাঘব করতে আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেশাল।
mzamin

‘এলিয়েনরা সত্যিই আছে’, নতুন ব্যাখ্যা দিলেন নাসার ফিল্ম নির্মাতা সাইমন হল্যান্ড

এলিয়েন বা ভিনগ্রহীদের নিয়ে  দশকের পর দশক ধরে  গবেষণা চলছে। নানা রকম দাবি-দাওয়াও সামনে এসেছে এযাবৎ। সেই নিয়ে এবার বড় ঘোষণা করলেন নাসার ফিল্ম নির্মাতা সাইমন হল্যান্ড। সাইমন হল‌্যান্ডের দাবি, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে হওয়া একটি কর্মসূচি বিশেষভাবে ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব, প্রমাণসহ অনুসন্ধানের জন‌্যই গৃহীত হয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল মার্ক জুকারবার্গের ‘ব্রেকথ্রু লিসেন প্রোজেক্ট’ও। সেই সূত্র থেকেই খবর মিলেছে যে, ভিনগ্রহীরা সত্যিই রয়েছে। আর তার অকাট্য প্রমাণও মিলেছে। অস্ট্রেলিয়ায় পার্কস টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে ‘এলিয়েন’দের পাঠানো সিগন্যাল। ২০১৯ সালে সেই প্রমাণ বিজ্ঞানীদের হাতে এসেছিল, কিন্তু তখন তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, সেই অনুযায়ী, পৃথিবী থেকে ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে, প্রক্সিমা সেনটরি নক্ষত্র সংলগ্ন অঞ্চল থেকে সিগন্যাল এসে পৌঁছেছে বিজ্ঞানীদের কাছে। ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার পার্কস রেডিও টেলিস্কোপের ব্রেকথ্রু লিসন ক্যান্ডিডেট ১ (BLC-1) ওই সিগন্যাল ধরতে সফল হয়। প্রক্সিমা সেন্টারি সূর্যের পর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র।

সিগন‌্যালের ইলেকট্রোম‌্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সি পরিমাপ করে দেখা গিয়েছে ৯৮২ মেগাহার্জ। এসবই প্রমাণ করে, প্রক্সিমা সেন্টারির গা ঘেঁষে অবস্থিত কোনও ঘূর্ণায়মান গ্রহ থেকে পৃথিবীতে সিগন্যাল পাঠিয়েছে এলিয়েনরা। সেই নিয়ে এতদিন ধরে গবেষণা চলছিল। কোথা থেকে ওই সিগন্যাল এসেছিল, তার উৎস খুঁজছিলেন বিজ্ঞানীরা। ভিনগ্রহীদের কাছ থেকে ওই সিগন্যাল আসেনি বলে ২০২১ সালে একদল বিজ্ঞানী সিদ্ধান্তে উপনীত হন। কিন্তু গবেষণায় যে সমস্ত তথ্য ক্রমশ হাতে এসে পৌঁছায়, তাতে অবস্থান বদলাতে শুরু করেন তারা। সাইমন জানিয়েছেন, BLC-1 যে সিগন্যালটি ধরতে সক্ষম হয়, তা সাধারণ কোনও শব্দ নয়। বরং সবদিক থেকে ওই সিগন্যাল অনন্য। একটিমাত্র উৎস থেকে ওই  সিগন্যাল এসে পৌঁছায় পৃথিবীতে। মানবজাতির ব্যবহার ব্যতীত কোনও প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি পাঠানো হয়েছে।  এর আগে, ২০২২ সালেও ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব নিয়ে এমন শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। চীনা বিজ্ঞানীরা সেবার জানান, Five-Hundred-Metre Aperture Spherical Telecsope (FAST)-এ ভিনগ্রহীদের পাঠানো সিগন্যাল ধরা পড়েছে। পরবর্তীতে সেই মন্তব্য থেকে সরে দাঁড়ান তারা।  তাই সাইমনের ঘোষণায় শোরগোল পড়ে গেলেও এখনই কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চাইছেন না তারা।

সূত্র: এনডিটিভি

mzamin


রাজনীতির লড়াই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় by মনির হোসেন

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনীতি নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশ তো বটেই সারা দুনিয়াতেই এটা চলছে। তবে গেল কয়েক বছরে বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ট্রেন্ড ছিল এক রকম। মূলত বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী নেতা-কর্মীরা সরব ছিলেন বেশি। ৫ই আগস্টের পর চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা এখনও নীরব। তবে কর্মীরা বসে নেই। ফেসবুক, এক্সে নানামুখী প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। ছড়াচ্ছে নানা গুজবও। জবাব দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা। সব মিলিয়ে এক জমজমাট লড়াই চলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক লড়াইসহ আগামী দিনের সব জনমত সৃষ্টিতে অনলাইন প্রচারণা বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় যারা এদিকে নজর কম দেবে তারা পিছিয়ে পড়বে। এ দেশে বড় কয়েকটি আন্দোলনই সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর হয়ে গড়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন এবং ২০২৪ এর কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে সোশ্যাল সাইটের ভূমিকা ছিল বেশ।

শুধু বাংলাদেশ নয়, মি টু, মিটু এর মতো বড় আন্দোলনও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমাগত ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে ফিলিপাইনেও ক্ষমতার মসনদে বসেছেন সাবেক স্বৈরশাসকের ছেলে। কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের আরজি করের ধর্ষণ কাণ্ডও সোশ্যাল সাইটের কারণে অনেক বেশি ছড়িয়েছে। পার্শ্ববর্তী পাকিস্তানেও আন্দোলন যখন তীব্র তখন ইন্টারনেট বন্ধ করতে বাধ্য হয় সরকার। সেখানেও দাবি করা হয় সোশ্যাল সাইট ব্যবহার করে আন্দোলনকারীরা সরকারকে সরাতে চাচ্ছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার আন্দোলন দমাতে সোশ্যাল সাইট বন্ধ করার ওপর বেশি জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সরকারের চালানো নানা হত্যাযজ্ঞের ভিডিও ও স্থির চিত্র যখন সোশ্যাল সাইট খুলে দেয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে তখন আর আটকানো যায়নি আন্দোলন। পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারও বিগত কয়েক বছর ধরে লক্ষাধিক কর্মী নিয়োগ করে সাইবার লড়াইয়ে। সিআরআইয়ের মতো শক্তিশালী গবেষণা প্ল্যাটফর্মও দাঁড় করিয়েছে দলটি। শত শত কোটি টাকা খরচ করেছে অনলাইন ক্যাম্পিংয়ে। নির্বাচন ও সরকারের বিশেষ প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে এসব ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে বিএনপিসহ অন্যান্য দলও ক্রামাগত সোশ্যাল সাইট ব্যবহার করে আসছে পৃথকভাবে। যদিও তাদের দলীয় কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য না।

বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে সতর্ক। সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি রংপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, পরাজিত পতিত ফ্যাসিবাদ রাজপথ থেকে পরাজিত হয়ে এখন অনলাইনে শক্তি প্রদর্শন করছে। ফেসবুকে প্রচুর গুজব রটানো হচ্ছে, ফেক আইডি খুলে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা যেন মিথ্যা তথ্য ও গুজবে বিশ্বাস না করি। জানতে চাইলে সিআরআই-এ কাজ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, সিআরআই মূলত সজীব ওয়াজেদ জয় ও রেদওয়ান মুজিব ববির তত্ত্বাবধানে চলতো। এটার মূল কাজ ছিল তৎকালীন সরকারের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে অনলাইন ক্যাম্পিং করা। এক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক দোষত্রুটি তুলে ধরা হতো। কখনো কখনো রাজনৈতিক পলিসির অংশ হিসেবে কিছু প্রোপাগান্ডাও প্রচার হয়েছে এটা সত্য। প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার অংশ হিসেবেই এটি হতো। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন ক্যাম্পিং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায়।

জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে সবচেয়ে সাড়া জাগানো অনলাইন ক্যাম্পিংয়ের মধ্যে ছিল প্রোফাইল লাল ও কালো করা। ছাত্র-জনতা যখন প্রোফাইল হিসেবে বিপ্লবের রং লাল বেছে নিয়েছে তখন আওয়ামী লীগ ও তার অনুসারীরা আগস্টের কালো রংকে বেছে নেয়। যার মাধ্যমে দেশে দুই ধারা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায় অধিকাংশ মানুষই লালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওই আন্দোলনে যুক্ত রবিউল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ওই ক্যাম্পিং আন্দোলনের পক্ষে বিশাল একটি মত তৈরি করেছিল। যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ যে সমর্থনের দিক দিয়ে সংখ্যালঘু সেটি প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল।

সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে দ্য ডিপ্লোম্যাটের পলিটিক্যাল এনালিস্ট মোবাশ্বর হাসান বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের সব সরকারের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটিপতি ছেলের কৌশলগত ভ্রান্ত তথ্য প্রচার মোকাবিলা করা। ফিলিপাইনেও শেখ হাসিনার মতো পালিয়ে যাওয়া সাবেক স্বৈরশাসক মার্কোসের ছেলে বং বং মার্কোস ক্রমাগত ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হয়েছে। তিনি বলেন, সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে না থাকলেও ক্রমাগত অপতথ্য ছাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সমাজে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে দলটি। যেটি আওয়ামী লীগের জন্য বিজয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে সোশ্যাল সাইটে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে হবে। স্ট্যাটাসে তিনি মিয়ানমারে গণহত্যা, ইউরোপীয় ইউননিয়ন ভেঙে যাওয়া ও মার্কিন ক্যাপিটাল হিলে হামলার পেছনে কৌশলগত অপতথ্য ছড়ানোর উদাহরণ টানেন। তার মতে সংস্কারসহ অন্যান্য কিছুর থেকে সরকারের কাছে বর্তমানে ছড়ানো অপতথ্য প্রতিরোধে একটি জাতীয় কৌশল থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষের প্রোপাগান্ডাকে গুরুত্ব দিতে হয়। সিআরআই ছাড়াও আশরাফুল আলম খোকন, মো. এ আরাফাত এসব কাজ করতেন। আমাদের সংগঠন প্রোপাগান্ডার বিপরীতে মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন করতে চায়। আমরা সুস্থ ও সঠিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ছাত্র-জনতার বিপ্লবে ক্ষমতা হারানোর পর তারা তো রাজনৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে তাই তারা এখন অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তারা তাদের ভেরিফাইড পেইজগুলোতে শতভাগ প্রোপাগান্ডা প্রচার করছে। সিআরআই রিসার্চ করে এসব দেয়া হচ্ছে। আমরা সতর্ক আছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক করবো। যেন শিক্ষার্থীরা পথভ্রষ্ট ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে না পড়ে। একই সঙ্গে আমাদের পেইজগুলোতেও এ নিয়মিত সঠিক তথ্য দিয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে বুম বাংলাদেশের সম্পাদক আমির শাকির বলেন, ৫ই আগস্টের আগে উভয় পক্ষ অনলাইনে জনমত নির্ধারণের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তখন কিছু মিস ইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা ও গুজব ছিল। ৫ই আগস্টের আগেও ছিল পরেও আছে। এখন এক পক্ষ মাঠে নেই, অনলাইনে আছে। তারা বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। যেগুলোর কিছু গুজব, কিছু প্রোপাগান্ডা। আওয়ামী লীগ মাঠে ফেরার আগে এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ থেকে কর্মীদের চাঙা রেখে ইস্যুভিত্তিক মাঠের রাজনীতিতে আসতে চায়। তিনি বলেন, অনলাইনে রাজনৈতিক প্রচার প্রচারণা শুধু বাংলাদেশ না সারা পৃথিবীতেই গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে প্রোপাগান্ডা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চয় করে একদিন তারা মাঠে ফিরবে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় এদের বিশাল একটা অনলাইনকর্মী বাহিনী রয়েছে। সিআরআইয়ের মতো প্ল্যাটফর্ম আছে। এভাবে মাঠে একটি রাজনৈতিক বয়ান হাজির করতে চায়। তারা যদি এর মাধ্যমে এমন কোনো বয়ান হাজির করতে পারে যেটি জনমতের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তখন তারা মাঠের রাজনীতিতে ফিরতে পারে। এক ফ্যাক্ট চেকার বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কালেক্টিভ কোনো ক্যাম্পিং দেখি না, যেটি আওয়ামী লীগের বেলায় দেখি। তারা একটা ইস্যুতে দুই একদিন থাকে এরপর নতুন ক্যাম্পেইন নিয়ে আসে। বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা পৃথকভাবে করছে। তার মতে অনলাইন অ্যাক্টিভিজম ও মাঠের রাজনীতি দুটোই অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। আবার অনলাইনের অ্যাক্টিভিজম আর বাস্তবের রাজনীতি এক না। কিছুদিন আগেও অনলাইনে মনে হতো জামায়াত ক্ষমতায় চলে আসছে। বাস্তবিক অর্থতো ভিন্ন। আমির শাকির বলেন, যেকোনো ইস্যুতে বিভিন্ন গোষ্ঠী আগে সামাজিকমাধ্যমে বয়ান তৈরি করে, এরপর মাঠে আসে। গত এক মাসে মাঠে বড় কোনো গণ্ডগোল হয়নি। তেমন কোনো গোষ্ঠী মাঠে নেই। কিন্তু একটা বয়ান তৈরি হচ্ছে সরকার হিজবুত, ইসলামপন্থি। এ বয়ান ক্রিয়েট করে আন্দোলনবিরোধীরা আস্তে আস্তে মাঠে আসবে বলে মনে হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ পলাশ মাহমুদ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু পজেটিভ দিক আছে। প্রথমত এখানে ব্যয় নেই ডাটা কেনা ছাড়া। কিন্তু যে কোনো কর্মসূচি সশরীরে গিয়ে বাস্তবায়ন করতে গেলে খরচের বিষয় আছে। এ ছাড়া সময় বাঁচা ও প্রাইভেসিও রক্ষা হয়। সিক্রেট গ্রুপ খুলে কাজ করা যায়। একইসঙ্গে যোগাযোগটাও দ্রুত হয়। এসব সুবিধার কারণে মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি ঝুঁকছে। এর ইম্প্যাক্টও আছে। তিনি বলেন, এক লক্ষ মানুষকে সশরীরে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছাতে অনেক সময় ও খরচের ব্যাপার। সেক্ষেত্রে অনলাইন ক্যাম্পিং অনেক বেশি কার্যকর। আওয়ামী লীগসহ সব দলই এটাকে ব্যবহার করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, একটা সময় আন্দোলন-সংগ্রাম ও দাবি-দাওয়া আদায়ের মূলে ছিল রাজপথে নেমে আসা। সমাবেশ, মানববন্ধন করা। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ তৈরি হয়। সময়ের প্রেক্ষাপটে এ উপায়গুলো পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের জীবনে প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। মানুষ একে অপরের সঙ্গে সরাসরি থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছে। প্রযুক্তিকেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থার কারণে মানুষ তার লাইফ স্টাইল সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করার প্রতি নির্ভরশীল হচ্ছে। এর মাধ্যমে মানুষকে কোনো বিষয়ে অবগত করা, সচেতনতা করা সহজ। একইভাবে মানুষ কী ভাবছে, সেটিও জানা সম্ভব। মানুষ লাইক-কমেন্টে কখন কী বলছে, কীভাবে বলছে সেটা ফুটে ওঠে। তখন আন্দোলনটা যাদের কেন্দ্রিক তারা বুঝতে পারে তার করণীয় কী হবে। তার সম্পর্কে মানুষের ভাবনা কী। ড. তৌহিদুল হক বলেন, কেউ যদি সোশ্যাল মিডিয়ার উপকরণ ব্যবহার করে গুজব, প্রোপাগান্ডা ছড়াতে চায় তারও সুযোগ আছে। কারণ অনেক ব্যবহারকারী এগুলো যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস করে। সোশ্যাল মিডিয়ার পজেটিভ দিকের সঙ্গে এর নেতিবাচক দিকও ঘেটে দেখা প্রয়োজন। তাই ব্যবহারকারীরা অন্যের কোনো উদ্দেশ্যের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে কিনা সেটাও মাথায় রাখতে হবে। এখানে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকই আছে। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা রিউমার ছড়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা এবং মানুষকে সঠিক তথ্যের দিকে আকৃষ্ট করার ব্যাপারটা আমাদের এখানে  নেই। যা পায় তা মানুষ বিশ্বাস করে। এ বিশ্বাসের সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শের একটা ব্যাপার আছে। বিভাজনের প্রেক্ষাপটেও মানুষ এগুলো করে থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ও বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব অনেক যেটি ছাত্র আন্দোলনে প্রমাণিত হয়েছে। তাই সবাই এ প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করতে চায় নিজেদের মতো করে। শোনা যায় আওয়ামী লীগ নাকি সম্প্রতি ২০০ কোটি টাকা ইনভেস্ট করেছে এ খাতে। তাই তারা এর কিছু ফল পাচ্ছে এটা ঠিক। যতটুকু জানি যে শেখ হাসিনাকে তার মেয়ে ও বোনের সঙ্গেও দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। উনিতো বাস্তবিক অর্থেই প্রকাশ্যে আসতে পারবেন না। তাই দলটির অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে কিছু মানুষ ইনফ্লুয়েন্স হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। এটির অনেক ইম্প্যাক্ট আছে। এটা সত্য কথা। সরকারকেও সোশ্যাল মিডিয়ার এসব বিষয় মোকাবিলা করতে হবে। কারণ বাংলাদেশে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি থাকে। ছাত্র আন্দোলনের সময়ও এর বিশাল ভূমিকা ছিল। আওয়ামী লীগ এ সুযোগটা নিতে চায়। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ এ গণআন্দোলনকে মোকাবিলা করতে পারবে বলে মনে হয় না। যতই অনলাইনে সক্রিয় থাকুক। কিছু মানুষ হয়তো খুশি বা কিছু মানুষ আতঙ্কিত হবে- তবে অধিকাংশ মানুষ বোঝে এতে কোনো কাজ হবে না। তিনি বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে হবে। এখন যুগটাই এমন। সবাই এখানে অ্যাক্টিভ। কোনো দল যদি এতে গুরুত্ব কম দেয়, তাদের মেনুফেস্টোতে এটি গুরুত্ব না পায় তাহলে তাদের চিন্তিত হতে হবে ভবিষ্যতে। যত বেশি এতে গুরুত্ব দেবে তত বেশি সফল হবে।

mzamin

জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার -সাক্ষাৎকারে এহছানুল হক মিলন by পিয়াস সরকার

সর্বাত্মক চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার ভালো করতে পারছে না। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ না করার কারণে তারা দিনে দিনে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) চেয়ারম্যান ড. আন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন, বিএনপি’র লোকেরা চাঁদাবাজি করছে। বিএনপি  তো তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বহিষ্কার করছে। বিএনপি যদি বহিষ্কার করতে পারে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার কেন সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার কী কোনো সিন্ডিকেটের নির্দেশে নির্দেশিত?

এহছানুল হক মিলন মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি সকল বিপ্লবের সঙ্গে সহযোগিতা করা দল থেকে লোক নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করতো তাহলে খুব ভালো হতো। ১/১১ সরকার ব্যর্থ হওয়ার একমাত্র কারণ ছিল তাদের এডভাইজারি কাউন্সিল ছিল পুরোপুরি নন-পলিটিক্যাল। লংটার্ম গভর্নমেন্ট যদি নন-পলিটিক্যাল হয় তাহলে ব্যর্থতা ছাড়া সফলতা আসা সম্ভব নয়। যে ভুলটা স্বাধীনতার পর পর করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ভেবেছিলেন, তার দল স্বাধীনতায় অবদান রেখেছে তার দলই ক্ষমতায় থাকবে। ১৯৭২ ও ২০০৭ সালে ব্যর্থ হয়েছি, এবার যদি ব্যর্থ হই তাহলে ভাগ্যবিধাতা আমাদের উপর ব্যাপক মনোক্ষুণ্ন্ন হবেন। তবে আমাদের আশার জায়গা হচ্ছে দায়িত্ব নিয়েছেন একজন একাডেমিশিয়ান, বিশ্ববরেণ্য নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নির্ধারণ করা যাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা যার যার সেক্টরে সফল। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসেছেন ছাত্র-জনতার মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু অন্যরা ইউনূসের মতামতের ভিত্তিতে এসেছেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একজনকে পোস্টিং দেয়া হচ্ছে, এরপর সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এসব একটা সমন্বয়হীনতার অভাব। যে যাকে চেনে, জানে, কাছের লোক তাকে টেনে নিয়ে আসছে। এখানে ব্যক্তিগত প্রভাব চলছে। যাচাই-বাছাইয়ের কোনো পদ্ধতি নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে, উপদেষ্টারা নিজেদের অতিরিক্ত উৎপাদনশীল মনে করায় কাজগুলোর গতি স্থবির হয়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূসের নির্দেশনা আরও কঠিন হওয়া উচিত। এই সরকার যাদের নিয়োগ দিচ্ছেন তারা অনেকেই বিগত সরকারের ভিকটিম না। উপদেষ্টাদের অনেকেই বিগত সরকারের আমলে ভালোভাবেই ছিলেন। এজন্য তারা নিরুত্তাপভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এভাবে করলে হবে না। এটা বিল্পবী সরকার। তাদের বিল্পবী হয়ে র‌্যাপিড চেঞ্জ আনতে হবে।

তিনি বলেন, সংস্কার কমিটিগুলোকে সমস্যাগুলো জানতে হবে। এরপর দেখতে হবে সমাধান কোন পথে হবে। এরপর দেখতে হবে আইনত কী কী সমস্যা রয়েছে। সংস্কার করলেই হবে না সেগুলোর আইনগত কাঠামো তৈরি করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সংস্কারের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। আমি মনে করি প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল একটি কমিটি গঠন করতে পারে। তারা সংস্কার প্রস্তাব জমা দিক। ৪৮টি দলের মধ্যে একটি দল পলায়নরত বাকি ৪৭টি দল তাদের সংস্কার প্রস্তাব দিক। এগুলো জনগণের মধ্যে ছেড়ে দেয়া উচিত। জনগণের মতামতও মিলবে তাতে। এরপর সংস্কার কমিটি এগুলো বিবেচনা করে সংস্কার প্রস্তাব করতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই ক্ষমতা দিতে হবে যাতে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে যাতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়। আপাত দৃষ্টিতে বর্তমান সরকার কোনো সুফল বয়ে আনতে পারছে না। তারা প্রতিনিয়ত পিছনের দিকে যাচ্ছে। প্রধান সমস্যা এখন দ্রব্যমূল্য। বাস ভাড়া এক টাকা কমে নাই। এখনতো প্রশ্ন আসতে পারে- কেন আমি আমার সন্তানকে হারালাম? কোথায় পরিবর্তন? এর কারণ অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। যেহেতু তারা জানে না কোথায় কোথায় দুর্নীতি। তাই এই সরকার বেশিদিন চালাতে পারবে না। তারা এখন আমলাদের উপর নির্ভরশীল। আমলারাতো আগের সরকারের সময় ছিল। কিন্তু শুধু রদবদল করা হয়েছে। আদালতে রাজনীতি বিহীন বিচারক নিতে পারতেন। এই সরকারতো বলে নাই রাজনৈতিক মদতপুষ্ট আইন সমিতি, ডাক্তারদের সংগঠন, শিক্ষকদের সংগঠন নিষিদ্ধ হবে। উভয় জায়গা রাজনীতিকরণ রয়েছে। আগে যে প্রক্রিয়া ছিল সেটাই রয়েছে। তাহলে পরিবর্তন আশা করা যায় না। যারা আসনে বসেছেন তারা শুধু নিরপেক্ষ থাকলেই তো হবে না। ২০ জন সদস্য দিয়ে ৪৪টি মন্ত্রণালয় চালাচ্ছেন। বিগত সরকার এক মন্ত্রণালয় একাধিক মন্ত্রীও দিয়েছিল। শুধু তাই নয় তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, জনসম্পৃক্ততা নেই।

সরকার নির্বাচনের সময় আইন করে মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের কথা বলি সরকার নিয়ম চাপিয়ে দিলো ২৫ লাখ টাকা দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। এই টাকা দিয়ে কখনই নির্বাচন করা সম্ভব নয়। নির্বাচনের সময় হলফনামা দিয়ে মিথ্যা বলতে হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা খরচ করেছি। সংসদে যাওয়ার আগেই মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। উপদেষ্টারা কী কী কাজ করবেন সেই রোডম্যাপটাও দিচ্ছেন না। ২৩ জন জাজ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমি বলছি না খারাপ নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া কী ছিল সেটাতো বললেন না।
তিনি বলেন, জনগণের সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ড. ইউনূস। শুধু আমরা ব্যালটে সিল দেইনি। শিশু আর পাগল ছাড়া সকলই ড. ইউনূসকে ভোট দিয়েছেন। যারা নির্বাচনের জন্য ৩ মাস বা ৬ মাসের কথা বলছেন তাদের সঙ্গে আমি একমত নই। উনি ক্ষমতায় থাকার জন্য লোভ করবেন সেটা আমি বিশ্বাস করি না। ড. ইউনূস জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন। এখন তার জনপ্রিয়তা সমান্তরালে যাচ্ছে। যখন তার জনপ্রিয়তা নিচের দিকে নামতে থাকবে তার আগেই নির্বাচন দিয়ে সরে যাওয়া উচিত।
জামায়াতের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়ত একটি সুশৃঙ্খল দল। অতীতে তারা কেয়ারটেকারের জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করছিলেন। এরপর তারা অনেক ভুগেছে, আত্মাহুতিও হয়েছে। এখন তারা সাংগঠনিক কাজগুলো অত্যন্ত ভালোভাবেই করছে। কিন্তু অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে এলাকাভিত্তিক অনেক নিরপেক্ষ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদেরও দলে ভেরাচ্ছে। বিএনপি’র দলীয় কোন্দলের কারণেও জামায়াত এগিয়ে যাচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারেক রহমানের (বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) সঙ্গে আমার সম্প্রতি কথা হয়েছে। ম্যাডামের (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্যগত বিষয়টি দেখতে হচ্ছে। তাকে লন্ডনে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। লন্ডনে নেয়ার পরপরই তারেক রহমানের দেশে আসার বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করবেন। এরমধ্যে আইনগত দিকগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুলে তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন লোক নিয়েছেন যে, তারা বলছেন- ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যাবে না।’ আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই- কী কী অন্যায় করলে একটা দলকে নিষিদ্ধ করা যায়? সেটা আগে বলুন। আর তার কোনটা আওয়ামী লীগ করে নাই তখন বোঝা যাবে। তারা পুলিশ লীগ বানিয়েছে, ডিজিএফআই’কে ব্যবহার করেছে, সেনাবাহিনীর অংশ বিশেষ, বিজিবিকে নষ্ট করেছে। তারা দলকে মাফিয়া গ্রুপ তৈরি করেছে। দলকে নিষিদ্ধ করা না হলে যত মামলা হয়েছে এগুলোতে তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে।

mzamin


আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব: ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা

আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন করাটা হয়তো সম্ভব হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন, আরও অনেক বিষয় আছে, এটা আমার প্রাথমিক ধারণা। বৃহস্পতিবার রাতে মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় চ্যানেল আই’র ‘আজকের সংবাদপত্র’- অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আভাস দেয়ার পর এই প্রথম কোনো উপদেষ্টা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বললেন। তিনি বলেন, সেনাপ্রধান কেন বলেছেন আমি জানি না।

আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য কয়েকটা ধাপ আছে। আমাদের নতুন কমিশন লাগবে। এরপর নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর প্রথম কাজ হবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ। ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুয়া নির্বাচনের পর জিল্লুর ভাই অনেকগুলো কাগজ দিয়েছিল। তারা ভোটার তালিকার নামে কি যে অরাজকতা করেছিল বলে বোঝাতে পারবো না। কিছু দিনের মধ্যেই সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। ভোটার তালিকার পরই নির্বাচন হবে।

আফিস নজরুল প্রশ্নের জবাবে বলেন, সকল উপদেষ্টার যে ক্ষমতা, আমরাও একই ক্ষমতা। ইউনূস স্যার (প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস) আমাকে অনেক দিন ধরে চেনেন। স্যারের যখন মামলাগুলো চলছিল তখন আমি কোর্টেও যেতাম। প্রথমে খুব ঘন ঘন দেখা হতো। এজন্য মানুষের ধারণা আমি ক্ষমতাবান উপদেষ্টা। অনেকেই বলেন- উপদেষ্টা পরিষদ ঠিক করার ক্ষেত্রেও আমার ভূমিকা আছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রথম যে ছয়জন উপদেষ্টা হবেন এটা আমি জানতামই না। বাকিদের বিষয়ে জানতাম কারণ ছাত্ররা আমার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এ কারণে মানুষের মনে অনেক আশা তৈরি হয়, যেটা ঠিক না। বর্তমানে স্যারের সঙ্গে সবথেকে বেশি আলোচনা হয় ছাত্র নেতাদের সঙ্গে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিপ্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। ২০১৩ সালের ২৮শে জানুয়ারি সাক্ষরিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়তো ভাবতেও পারেন নাই এই চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত চাওয়া হবে। এই চুক্তি যদি ভারত সঠিকভাবে পালন করে অবশ্যই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়া উচিত। এই চুক্তির আওতায় কারও বিরুদ্ধে যদি প্রসেডিং শুরু হয় তাকে আরেক দেশ চাইতে পারে। এখানে অবশ্য বলা আছে, পলিটিক্যাল অফেন্স হলে চাওয়া যাবে না। কিন্তু এটাও বলা আছে, মার্ডারারকে পলিটিক্যাল অফেন্স ধরা হবে না। এখানে এই প্রভিশনস আছে, বাংলাদেশ ভারতকে বলতে পারে যাতে ওখানে ওনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতো বড় একটা খুন সংঘটিত হয়েছে। সবার সামনে খুন হয়েছে। ছাত্রলীগের নেত্রীওতো শেখ হাসিনা ছিলেন। ওনাদের মন্ত্রী আরাফাত (বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত) বলেছিলেন, ওনাদের এতো গুলি আছে যে গুলি করলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না। ক্রাশ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে গুলি, পেটানো, হত্যা করেছে। এগুলোর পর যদি ভারত ইন্টারপিটিশন দেয় তাহলে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কড়াভাবে প্রতিবাদ করা হবে। একটা হত্যা হলে বন্দি নিয়ে আসতে পারে আর এখানে এক হাজারের বেশি খুন হয়েছে তারপরও আনা যাবে না- এটা তাহলে তো ঠিক হবে না। যদি ভারত কাউন্টার দেয় আমরাও আর্গুমেন্ট করতে প্রস্তুত আছি। এই চুক্তি যদি অনেস্টলি ইন্টারপ্রেট করে তাহলে অবশ্যই ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে বাধ্য।

সাংবাদিকদের বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সেদিন বলি নাই যে, সাংবাদিকদের বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে। এই বিষয়টি নিয়ে আমি তো বলার কেউ না। এখানে প্রসিকিউটর সাহেব আছেন তিনি বলতে পারবেন। একটা বিষয় বলতে পারি সুবিচার হবে। সাংবাদিকদের বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে কি না এটা সম্পূর্ণ প্রসিকিউশনের বিষয়।

ঢালাও মামলার বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের আমলে গায়েবি মামলা ও এখনকার ঢালাও মামলার পার্থক্য আছে। বিগত সরকারের আমলে গায়েবি মামলা করা হতো সরকারের উদ্যোগে। অনেক ক্ষেত্রে মামলার বাদী ছিল পুলিশ। এখন ঢালাও মামলা করছেন বিগত সরকারের আমলের নির্যাতিতরা। অধিকাংশই তৎকালীন আমলের বিরোধী দলের নেতা। এই সমস্ত মামলা দায়েরের বিষয়ে সরকারের কোনো হাত নেই। আমরা কয়েকজন উপদেষ্টা বসে একটা পরিকল্পনা করেছিলাম যে, মামলার পর পুলিশকে তদন্তের ভার দেয়া যায় কি না। তখন আমাদের আশঙ্কা তৈরি হলো, পুলিশ এই সুযোগে আবার বাণিজ্য করবে। পুলিশকে বলা আছে, এফআইআর করার সঙ্গে গ্রেপ্তার না এবং ক্রেডিবল কোনো তথ্য না মিললে গ্রেপ্তার না। এখন পুলিশের মোরাল পর্যন্ত নাই। আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশকে হত্যাকারী বাহিনী বানিয়েছে। আমরা অনেক সময় সাধারণ কাজ করতে পারি না। এত পরিমাণ ভিজিটর আসে দেখা করতে আমি বলে বোঝাতে পারবো না। আমরা যে প্রতিটি মামলা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবো সেই সময়টা পাচ্ছি না।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্র লীগকে নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে। বিশ্বের কোন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্যাতন বাহিনী বানিয়ে রেখেছে? ওরা যাতে অমানুষে পরিণত হয় এজন্য রাতের বেলা ছেড়ে দেয়া হতো বাইরে। প্লান্‌ড ওয়েতে শেখ হাসিনা সরকার একটা নিপীড়নের যন্ত্র বানিয়ে রেখেছিল। সন্ত্রাসের কারণে অনেক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেইসব দলের সঙ্গে যদি ছাত্রলীগের পার্থক্য দেখেন তাহলে ছাত্রলীগের ১০ বার নিষিদ্ধ হওয়ার কথা। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না। তবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবি একটা জনপ্রিয় দাবিতে পরিণত হচ্ছে। এখন জনগণ যদি এটা চায় ছাত্ররা যদি চায়, যদি জনপ্রত্যাশা তৈরি হয় তাহলে অবশ্যই জনপ্রত্যাশার বাস্তবায়ন করাও এই সরকারের দায়িত্ব।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। বলেন, এতটাই বেড়েছে যে, সবার মনপীড়ার কারণ। কিছুদিন আগে পলাশীর মোড়ে গিয়েছিলাম। যার কাছ থেকে প্রায়ই তরকারি নিতাম সে দোকানদার বললেন, বিক্রি কমে গেছে। ধরেন ডিমের বিষয়টি, বন্যার কারণে ডিমের সাপ্লাই কমে গেছে। বাজারে একটা চক্র কাজ করে। গত সরকারের আমলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট ধরতে গিয়েই এই অবস্থা হয়। ধরেন একটা লোক ৮০ শতাংশ ডাল আনে। আমি তাকে গ্রেপ্তার করতে পারি। গ্রেপ্তারের পর তার মানি ফ্লোরগুলো বন্ধ হয়ে গেল ৮০ শতাংশের জায়গা সে আনবে ৪০ শতাংশ ডাল। তিনি বলেন, বন্যার প্রকোপ কমে যাচ্ছে, শীতকাল আসছে আশা করি সামনে পরিস্থিতি অনেকটা ভালো হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উন্নত হতে শুরু করেছে।

আদালত পাড়ায় বিচারকদের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করছে। এই বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, একজন সিনিয়র বিচারক বলেছিলেন, উনি একজন শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ। একজন বিচারক ভাষণ দিয়ে বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো সরকারকে আনা যাবে না। প্রধান বিচারপতি ছাত্রলীগ থেকে ফুলের তোড়া নিয়েছেন। দেশে এতো গুম, বিচার-বর্হিভূত খুন হলো, তিনটা ভুয়া নির্বাচন হলো, লাখ লাখ কোটি টাকার সম্পদ পাচার হলো, সাবেক চিফ জাস্টিসকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হলো, একজন মেয়র আবার তা গর্ব করে বললেন। উচ্চ আদালতে কোনটার বিচার হয়েছে? ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থায় অনেক বিচারক নির্যাতনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিলেন। অভিজিৎ (ব্লগার ও লেখক) হত্যার পর ওনার স্ত্রী বললেন বিচার চাই না। বিচার যে হয় সেটা মানুষ ভুলেই গেছিল। উচ্চ আদালতে একজন বিচারক যেভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেন, উন্মাদের মতো আচরণ করতেন তাকে আবার প্রমোশন দেয়া হয়েছে। এই বিচার বিভাগের সর্বনাশ করেছেন শেখ হাসিনা। আমাদের ছাত্ররা গিয়ে সংযত আচরণ করেছে। তারা কোনো ভাঙচুর করে নাই। আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের কথা চিন্তা করেন, তারা এজলাসে গিয়ে ভাঙচুর করেছে, চিফ জাস্টিসের এজলাসে লাথি মেরেছে। লাথি যে মেরেছে তাকে আবার আওয়ামী লীগ সরকার জাজ বানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি যখন এসব অন্যায়ের প্রতিবাদে বিবৃতি সংগ্রহ করছিলাম তখন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে কথা বলার কারও সাহস ছিল না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলা যেত কিন্তু বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে কথা বলা যেত না। আমি টকশোতে একটা কথা বলেছি এই কারণে কেন আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না- এজন্য স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রুল জারি করেছে। বিচার বিভাগের কাজ হলো- মানবধিকার রক্ষা করা কিন্তু তারা উল্টো কাজ করেছে। এই পরিস্থিতি কে তৈরি করেছে, এখন বাংলাদেশে যতো সর্বনাশ হচ্ছে সবই ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের বাই-প্রোডাক্ট বা অনিবার্য রিফলেকশন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ এলো- এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। উনি এটা শুনে আশ্চর্য হয়ে বললেন- আমি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছি। এটা লেখা হলো যে- উনি স্বীকার করেছেন। ওনারা কী বিচারক ছিলেন? ড. ইউনূস আদালতে একটা প্রতিকার চাইতে গিয়েছিলেন, বিচারক ইমব্যারেস্ট, আদালত সেটা শুনবেই না।

৭০ দিন হলো উপদেষ্টা হয়েছেন, আপনি কী কোনো ভুল করেছেন? উত্তরে তিনি বলেন, হয়তো অনেক কিছুই ভুল হয়েছে। আমার যোগ্যতা কম, অভিজ্ঞতা তো একেবারেই নেই। কিন্তু জেনে-বুঝে কোনো অন্যায় করিনি। আমার অনেক ভুল অযোগ্যতা থাকতে পারে কিন্তু অসৎ কাজ করিনি। আমার নীতিগত ভুল থাকতে পারে, ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো অন্যায় করিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট পুরোটাই বাতিলকরণের প্রক্রিয়ায় আছি। নারী ও শিশুদের রক্ষার জন্য আমরা হয়তো বিশেষ আইন করবো কিন্তু ডিজিটাল সিকিউরিটি ও সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ইনশাআল্লাহ্‌ থাকবে না। বিশেষ ক্ষমতা আইনের কোনো প্রয়োজন নেই। এটা আওয়ামী লীগ-বিএনপি সকলেই বলেছে কিন্তু কেউ বাতিল করে নাই। এটা বাতিল হবে কি না এটার বিষয়ে আমি গ্যারান্টি দিতে পারছি না।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিষয়ে তিনি বলেন, সাকিবের মতো খেলোয়াড় বাংলাদেশের ইতিহাসে আসে নাই। সাকিব ইতিহাসের সবথেকে জনপ্রিয় হয়ে থাকতে পারতেন। এটাতো শুধু রাজনীতি নয়. আমি বিশ্বাস করতে পারছি না মানুষ মরছে, যখন ঘরে ঘরে ক্ষোভ, কান্না তখন সাকিব পোস্ট দিয়েছে- ইনজয়িং মাই লাইফ। এটা সম্ভব একটা মানুষের পক্ষে। জুয়া, বেটিং, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এটার জন্যও শেখ হাসিনা দায়ী। তিনি এমন একটা রাষ্ট্র গড়েছিলেন তাকে সন্তুষ্ট রাখতে পারলে আর কোনো বিচার হবে না। তার বিরুদ্ধে যখন মানুষ ক্ষোভ দেখায় তখন আমার একটুও অযৌক্তিক লাগে না।

তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে পুলিশ, কাস্টমসের লোকজন প্রবাসীদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করতো। তাদের পাঠানো টাকাতেই আমরা স্বপ্ন দেখি। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই আমরা একটা প্রবাসী লাউঞ্জ বানাচ্ছি। এয়ারপোর্টে পা দেয়া মাত্র তাকে স্কট করা হবে। প্লেনে ওঠা পর্যন্ত সঙ্গে থাকবে। তারা ভিআইপি সুবিধা পাবেন।

আগামী দিনের বাংলাদেশের স্বপ্ন্নের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে অনেক সংস্কারের কথা বলেন। আমি উপদেষ্টা হওয়ার আগেও বলতাম- প্রথম কাজ ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন। নির্বাচন সঠিকভাবে হলে পাঁচ বছর পর ক্ষমতা হারাতে হবে এই কারণেই অন্যায় কম করবে।

mzamin

আকাশের মায়ের আর কেউ রইলো না by ফাহিমা আক্তার সুমি

ইমন হোসেন আকাশ। বাইশ বছরের এ যুবক রাজধানীর মিরপুরে মায়ের সঙ্গে থাকতেন। সংসারের হাল ধরতে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করতেন। অর্থসংকটে মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। আকাশ ও তার মায়ের ছিল ছোট্ট সংসার। গত ৪ঠা আগস্ট  রোববার সন্ধ্যায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মিরপুর-১০ নম্বরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আকাশ। তার মাথার ডান পাশে গুলি লেগে বাম দিক থেকে বেরিয়ে যায়। শিশু বয়সেই বাবা মতিউর তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর থেকে আকাশকে নিয়ে শুরু হয় মায়ের সংগ্রামী জীবন। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলেও মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। এখন সন্তানের স্মৃতি বুকে নিয়ে দেখছেন ঘোর অন্ধকার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকাশের মা বেবী আক্তার মানবজমিনকে বলেন, আমার সন্তান বুকে নেই। কতোটা মাস আমার সন্তান আমাকে মা বলে ডাকে না। আকাশকে ছাড়া এখন দিনও ফুরায় না, রাতও যায় না। অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে বেঁচে আছি। অনেক যুদ্ধ-সংগ্রাম করে সন্তানটিকে বড় করেছি। আমি অভাবে থাকলেও আমার সন্তানকে কখনো কষ্ট বুঝতে দেইনি। ওর শরীরে কোনো আঘাত লাগলে কখনো আমাকে বলতো না কষ্ট পাবো বলে। আমার সেই আদরের সন্তানটিকে গুলি করে মেরেছে। অনেক সভ্য-শান্ত ছিল ছেলেটি। বাবা ছাড়া যে একটা সন্তান এত ভালো হতে পারে কল্পনার বাইরে। ওর বাবা মতিউর রহমান গার্মেন্টসে চাকরি করতো সেখানেই এক নারীকে বিয়ে করে। এক বছরের একটি শিশুকে নিয়ে কাজ করতে যে আমার এত কষ্ট হতো সেটি একমাত্র আমিই জানি। স্বপ্ন ছিল ছেলেটিকে বিয়ে দিয়ে ঘরে বউ তুলবো। কিন্তু সেই স্বপ্ন গত ৪ঠা আগস্ট শেষ হয়ে যায়।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ওইদিন ওর বন্ধুরা মেসেজ পাঠায় মোবাইলে। এরপর আমি জানতে চাই কোথায় যাবে? আকাশ বলে, আমি আন্দোলনে যাবো। তখন আমি বলি, তুমি আমার একমাত্র ছেলে তোমার কিছু হলে আমার কেউ থাকবে না। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সে ছাত্রদের পানি খাওয়াইতো আবার কখনো আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতো। মিরপুর-১১ নম্বরে আমাদের বাসা। সেদিন প্রথমে ইসিবি চত্বর গিয়ে মিরপুর-১০ নম্বরে যায়। কিছুক্ষণ পরে আমি মোবাইলে কল দিয়ে জানতে চাই কোথায় আছো? সে বলে আমি আসতেছি আম্মু তুমি চিন্তা করিও না। আমি তখন তাকে বলি তুমি খেতে আসো বাসায়। আবার দুপুর কল দিলে ও বলে, আম্মু তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে থাকো আমি বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খেয়েছি। বিকাল সাড়ে পাঁচটায় আবার কল দিলে সে রিসিভ করে না। পরে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় ওর বন্ধু কল দিয়ে বলে আন্টি আকাশ মারা গেছে। আমি তখন কান্নাকাটি শুরু করেছি। আমার ভাইয়ের কাছে কল দিয়ে বলি আকাশ নাকি মারা গেছে। সে তখন সব জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে আকাশ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ওর বন্ধুরা মিরপুর-১০ নম্বরে আজমল হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। পরে আমি হাসপাতালে গিয়ে বাসায় নিয়ে আসি। এরপর শরিয়তপুর আমার বাবার বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আকাশের এক বছর বয়স তখন তার বাবা এক নারীকে বিয়ে করে সেখানে চলে যায়। তখন থেকে ছোট্ট আকাশকে আমি বড় করেছি। ও মাধ্যমিক পাস করেছে এরপর আর পড়াতে পারিনি। পরে সংসারের হাল ধরতে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ শুরু করে। বর্তমানে আমার ডায়াবেটিস, হার্টে সমস্যা, প্রেসার হাই। ঠিকমতো কাজ করতে পারি না মাসে পাঁচ হাজার টাকাই আমার মেডিসিনের পেছনে খরচ হয়। আমি ঘরে রান্না করে লোকজনকে খাওয়াতাম। মাসে বাসা ভাড়া ১৫ হাজার টাকা দেয়া লাগতো। আকাশ মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন পেতো। দু’জনের খাওয়া-দাওয়া করে খুব ভালোভাবে কেটে যেতো। এখন আর আমি ঢাকায় থেকে কি করবো? আকাশ আমার একমাত্র সন্তান ছিল তার মুখের দিকে তাকিয়ে সময় চলে যেতো। এখন আমি সন্তান ছাড়া কীভাবে থাকবো। এতদিন সে ছিল তার ভরসায় আমি এই শহরে ছিলাম। এখন আমি বাবার বাড়িতে চলে যাবো। আমি তো একা হয়ে গিয়েছি। বেশকিছু জায়গায় কাগজপত্র জমা দিয়েছি, কেউ কেউ খোঁজখবর নিয়েছে। আমার সন্তান তো আর ফিরে আসবে না। আমার এতটুকু চাওয়া যে মানুষটি দেশের জন্য জীবন দিয়েছে সে যেন যথাযথ সম্মানটুকু পায়।

mzamin

স্বৈরাচারের সুবিধাভোগীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে

মাফিয়া প্রধানের রেখে যাওয়া সুবিধাভোগীরা ঘরে-বাইরে, সরকারে এবং প্রশাসনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল  রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ‘২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা রজতজয়ন্তী উপলক্ষে’- এক আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় জেডআরএফ’র ওভারসিজ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ডা. জুবাইদা রহমানও ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বক্তব্যে রাখেন।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরাচারের বুলেটবিদ্ধ হয়ে হাজারো মানুষ এখনো হাসপাতালের বিছানায়, রাজপথে শহীদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। অথচ পলাতক স্বৈরাচারের সহযোগীদের মধ্যে ন্যূনতম অনুতাপ নেই। বরং মাফিয়া প্রধানের রেখে যাওয়া সুবিধাভোগীরা ইতিমধ্যে ঘরে-বাইরে, সরকারে এবং প্রশাসনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে চাইছে। ষড়যন্ত্রের ডালপালা বিস্তার করতে চাইছে। ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত শুরুতেই উপড়ে ফেলতে না পারলে তাদের বিষাক্ত দংশনে ছাত্র-জনতার শত শহীদের অর্জনে গণতন্ত্র আবারও বিপন্ন হবে।

তিনি বলেন, গণহত্যাকারী পলাতক স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ১৫ বছরের জঞ্জাল দূর করে রাষ্ট্রকে জনগণের প্রত্যাশিত গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে একটি সরকারের জন্য আড়াই মাস হয়তো যথেষ্ট সময় নয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করণীয় নির্ধারণ এবং অগ্রাধিকার ইস্যু ঠিক করার জন্য হয়তো আড়াই মাস কম সময়ও নয়। আমি আগেও বলেছি, সরকার এজেন্ডা সেটিংয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণে ব্যর্থ হলে সেটি প্রত্যাশিত গণতন্ত্র উত্তোরনের পথে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধার কারণ হয়ে উঠতে পারে। গণঅভ্যুত্থান সফলকারী জনগণের সামনে সরকারের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিভিন্ন সময় ভিন্ন রকম বক্তব্যে এসেছে। এমন একটি কাঙ্ক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সরকারের বক্তব্যের গরমিল জনগণের মনে নানা ধরনের সন্দেহ ও সংশয় উদ্বেগ করে। জনগণ সরকারকে আরও দায়িত্বশীল এবং গণমুখী ও কার্যকর দেখতে চায়। কারণ অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ও জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনই বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী জনগণ বর্তমান সরকারকে নিঃস্বার্থ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। জনগণের নিঃস্বার্থ সমর্থনের প্রতি নিঃস্বার্থ মূল্য দেয়া এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র এবং রাজনীতি সঠিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার কার্যক্রম অবশ্যই একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। আমি বরাবর সংস্কারের পক্ষে। তবে সেটি ধারাবাহিক ও চলমান একটি প্রক্রিয়া। কখনো কখনো সেটি সময়সাপেক্ষ। তবে যেকোনো সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশীদারিত্ব সৃষ্টি না হলে সেই সংস্কার শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেয় না বা পাওয়া যায় না।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পলাতক মাফিয়া চক্রের দুঃশাসনের সময়, পলাতক স্বৈরাচারের সমর্থিত নেতাকর্মী সারা দেশে অবৈধভাবে ভিন্নমতের অনেক মানুষের জমি-জায়গা দখল করেছিল। ফ্ল্যাট, দোকান, নদী-নালা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও তারা দখল করেছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জবরদখলকারীদের কাছ থেকে অনেকেই তাদের বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা-জমি-সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে কোথাও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। সুতরাং সেগুলো পুনরুদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে একটি কাযকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুর এবং স্বল্প আয়ের মানুষ, নিম্নমধ্যবিত্ত, এমনকি অনেক মধ্যবিত্ত এবং ক্ষুদে ব্যবসায়ী, বিক্রেতা কিংবা স্বল্প আয়ের মানুষ সবাই এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যে সাধারণ জনগণের অনেকের ক্রয় সীমার বাইরে। জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও জনগণের আয় সেভাবে বাড়েনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরও বাস্তব এবং কঠোর পদক্ষেপ নিন। মানুষকে আধপেটা রেখে কোনো ভালো কথাই গেলানো সম্ভব নয়।

তারেক রহমান বলেন, বছরের পর বছর ধরে মাফিয়া চক্রের তৈরি বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজটি হয়তো একটু কঠিন হলেও কিন্তু অসম্ভব নয়। প্রয়োজনে উপদেষ্টা পরিষদের আকার হয়তো বাড়ানো যেতে পারে। সরকারকে সতর্ক থাকা দরকার। ফ্যাসিস্ট আদর্শ লালনকারী কিংবা মাফিয়া সরকারের সুবিধাভোগীদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে রেখে কোনো উদ্যোগেই সুফল মিলবে না। যেকোনো উপায়ে ঘরে-বাইরে জনগণের প্রতিদিনের দুর্ভোগ কমাতে যদি না পারে সরকার, পলাতক স্বৈরাচারের সহযোগীরা পরিস্থিতির সেই সুযোগ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, গণহত্যা চালিয়ে মাফিয়া চক্রের প্রধান দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর জনগণ বাক এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। মাফিয়া চক্রের দীর্ঘ ১৫ বছর শাসনকালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। জনগণ এখন পলাতক স্বৈরাচারের দুঃশাসনের অভিশাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি চায়। বঞ্চিতরা তাদের হারানো অধিকার ফিরে পেতে চায়। মাফিয়া চক্রের কবল থেকে দেশ এবং জনগণকে মুক্ত করতে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, আজকে স্বাধীন দেশে আমরা আছি। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব হয়েছে। নতুন প্রজন্ম রাজনীতিবিমুখ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে ছাত্র-জনতা কিন্তু মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। তারাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে লড়েছেন। আজকে তারাই রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে তাদের দায়িত্ব বোধ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিচারের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা দেশকে ভালোবাসি।

রজতজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম. শাহীদুজ্জামান, রাষ্ট্রদূত এসএম রাশেদ আহমেদসহ নিহত ও আহত পরিবারের কয়েকজন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সাইফুল আলম নিরব, গোলাম সারওয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, ড. মো. আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ডা. হারুন আল রশিদ, ডা. মো. আব্দুস সালাম, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ডা. শাহাদত হোসেন, ডা. মো. আনোয়ারুল হক, অধ্যাপক এসএম আব্দুল আওয়াল সোহাগ, ড. আব্দুল করিম, ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম, সাংবাদিক আব্দুল হাই শিকদার, কামাল উদ্দিন সবুজ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আতিকুর রহমান রুমন, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, প্রকৌশলী আইয়ুব হোসেন মুকুল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১০জন নিহতের পরিবার এবং ১০ জন আহতকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। নিহতদের পরিচয় তুলে ধরেন ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ডা. পারভেজ রেজা কাকন এবং ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। আহতদের পরিচয় তুলে ধরেন ডা. সাজিদ ইমতিয়াজ উদ্দিন।

mzamin

কারসাজি চক্রে শেয়ারবাজার পতন থামছে না

বিগত সময়ে শেয়ার কারসাজি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং সত্যিকারের পুঁজিবাজার গড়তে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আশা করা হয়েছিল পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু কোনোভাবেই দরপতন থামছে না। গত ১৪ই আগস্ট দরপতন শুরু হওয়ার পর থেকে দুই মাসে বাজার মূলধন কমেছে ৪০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার বেশি। পুঁজি হারিয়ে আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে সম্প্রতি বিনিয়োগকারী নাম দিয়ে কিছু ব্যক্তি বিএসইসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। সংস্থার অফিস গেটে তালা দিয়ে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেছে। এর নেপথ্যে শেয়ারবাজারে কারসাজির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরাসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ইন্ধন রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের ব্যানারে ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিএসইসি’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি’ বিষয়ে অবহিত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে (এফআইডি) বিএসইসি যে চিঠি দিয়েছে, তাতে এমন কারণ জানানো হয়েছে। কমিশন বলেছে, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংস্কার কার্যক্রমের বিরোধী, যারা চায় না কারসাজির হোতাদের শাস্তি হোক এবং যারা ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, তারাই পুঁজিবাজারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, দৃশ্যত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের কার্যক্রম দুরভিসন্ধিমূলক। ‘এজিএম পার্টি’সহ পুঁজিবাজারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি যারা চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও কারসাজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরোধী, তারা এ ধরনের বিক্ষোভে মদত জোগাচ্ছে বলে বিএসইসি’র নিজস্ব অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। বিএসইসি মনে করে, সংঘটিত আন্দোলন কর্মসূচির ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই পুঁজিবাজারের প্রকৃত বিনিয়োগকারী নন।

সূত্রমতে, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঢিলেঢালা নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অভাবে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের কষ্টার্জিত টাকা পুঁজিবাজারে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত শেয়ার ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। ভালো শেয়ার কেনার পরও কমপক্ষে ৪টি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাৎ করায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৭০টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগকারীদের টাকা আংশিক আত্মসাৎ করেছে। সবচেয়ে নিরাপদ মিউচুয়াল ফান্ডও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কারণ বেশ কয়েকটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নজিরবিহীনভাবে মিউচুয়াল ফান্ডের টাকার অপব্যবহার করেছে। যদিও তারা এসব বিনিয়োগ সুরক্ষা ও ভালোভাবে পরিচালনার জন্যই নিযুক্ত হয়েছিল। বিশ্লেষকরা এ অবস্থার পেছনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নজরদারির অভাব ও নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কারসাজির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করেছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বেশ কয়েকটি শেয়ারের মূল্য কারসাজি করায় ২০২২ সালে বিএসইসি মাত্র ২১ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। যেখানে শেয়ার জালিয়াতকারীদের ২৫৩ কোটি টাকা হাতিয়েছিল। ২০২৩ সালে শেয়ারের দাম কারচুপির দায়ে দুই কোটি টাকা জরিমানা হলেও কারচুপিকারীদের মুনাফা হয়েছিল ১৫ কোটি টাকা। গত ১৫ বছর ধরে একই পরিস্থিতি দেখা যায়। শেয়ারের কারসাজিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বছরের পর বছর ধরে বেড়েছে। এটি পুঁজিবাজারের জন্য অশনিসংকেত। ২০২১ সালের আগে দুই-একটি প্রতিষ্ঠান শেয়ারের দাম কারসাজিতে জড়িত ছিল বলে প্রমাণিত হলেও ২০২২ সালে তা ১৫টি প্রতিষ্ঠান ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালে ছয় প্রতিষ্ঠান কারসাজির সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়। যেমন, ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনের (ইউএফএস) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রাথমিক উচ্ছ্বাসে পুঁজিবাজারে দেখা দেয় উত্থান। চার কর্মদিবসে প্রায় ৮০০ পয়েন্ট সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি ৬ থেকে ১৪ই আগস্ট বাড়ে বাজার মূলধন। ১৪ই অগাস্ট বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৭ লাখ ১১ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। তবে পরদিন থেকে শুরু হয় টানা দরপতন। এই দরপতনে শেয়ার দর হারিয়ে বাজার মূলধন দাঁড়ালো ৬ লাখ ৭১ হাজার ২১০ কোটি টাকা, যা ঠিক দুই মাস আগের তুলনায় ৪০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা কম। এরমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অতীতে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিষয়ে তদন্ত কমিটি, শেয়ারদর বৃদ্ধির ঘটনায় কারসাজির অভিযোগে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ না করাসহ নানা কারণে ২৮টি কোম্পানিকে জেড শ্রেণিতে পাঠায়। এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং টানা দরপতন ঘটছে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে সংস্কার নিয়ে রোডম্যাপ তৈরিতে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে ৫ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

গত দেড় মাসে কমিশনের কার্যক্রম: বিগত দিনের অনিয়ম অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন। একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে রেকর্ড জরিমানা। তিন অডিট প্রতিষ্ঠানকে বিএসইসি’র প্যানেল থেকে বাদ। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির নতুন শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব বাতিল। যেসব কোম্পানি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘোষিত লভ্যাংশ দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একাধিক ব্রোকারেজ হাউজের মালিক ও শীর্ষ ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে এবং কিছু পরিচালক ও এমডি’র বিও হিসাব জব্দ করা হয়েছে। বিএসইসি বলেছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে একটি সুষ্ঠু বাজার গড়তে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবু কিছু অযৌক্তিক দাবিকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে কিছু ব্যক্তি।

১৯শে আগস্ট বিএইসি’র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এরপর থেকেই শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হতে দেখা গেছে। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯শে আগস্ট লেনদেন শেষে ডিএসই’র মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। যা গত ৯ই অক্টোবরে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিএসইসি চেয়ারম্যান যোগদানের পর দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে মূলধন কমেছে ২১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। তার মানে কারসাজি চক্র শেয়ারবাজার নিয়ে খেলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ ও সফল পুঁজিবাজার গড়তে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র সঙ্গে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অসঙ্গতিপূর্ণ এবং ব্যবসায় বাধা প্রদানকারী বিদ্যমান আইন কানুন ও নিয়মনীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে কমিশন আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও আশাবাদী।

mzamin

কীভাবে হামাসের শীর্ষ নেতা সিনওয়ারকে হত্যা করলো ইসরাইল

ইসরাইলের অভ্যন্তরে গত ৭ অক্টোবর নজীরবিহীন হামলার পর এক বছর যাবৎ ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কোনো হদিসই পায়নি ইসরাইলের সেনারা। এক বছর ধরে তারা ইসরাইলে হামলার পরিকল্পনাকারী সিনওয়ারকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার তেল আবিবের দাবি অনুযায়ী নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের নেতা। হামাস এ বিষয়ে মুখ না খোলায় সিনওয়ারের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জাল বিস্তার করেছে। প্রশ্ন উঠেছে কীভাবে হামাসের ওই চৌকশ নেতাকে হত্যা করলো ইসরাইল।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, ৬১ বছর বয়সী ইয়াহিয়া সিনওয়ার হামাসের দায়িত্ব পালনকালে বেশির ভাগ সময়ই সুড়ঙ্গে কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে। সার্বক্ষণিক তার চার পাশে থাকতেন নিজস্ব দেহরক্ষী। এছাড়া তার অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য ইসরাইলি জিম্মিদেরও তার পাশে আটক রাখা হয়েছিল। বলা হচ্ছে জিম্মিদের ‘আত্মরক্ষার ঢাল’ হিসেবে রাখা হয়েছিল সিনওয়ারের পাশে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হচ্ছে দক্ষিণ গাজায় সিনওয়ারের অবস্থান চিন্থিত করতে সক্ষম হয়েছিল ইসরাইলি সেনারা। সেখানে তাকে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত করা হয়। তবে কোনো জিম্মিদের পাওয়া যায়নি।

সিনওয়ারের মৃত্যু নিয়ে বিশদ উঠে আসতে সময় লাগবে। তবে এখন পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে তা নিচে তুলে ধরা হল।

রুটিন টহল

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ৮২৮ তম বিগ্রেডের একটি ইউনিট বুধবার রাফাহ অঞ্চলের তাল আল-সুলতানে টহল দিচ্ছিল। সেসময় সেনারা তিন যোদ্ধাকে চিন্থিত করে এবং তাদের হত্যা করে। পরে সেখানে গোলাগুলিতে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেটাকে উল্লেখযোগ্য কিছু মনে না করেই ইসরাইলি সেনারা স্থানটিকে গুরুত্ব দেয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় ইসরাইলের টহল দেয়া সেনারা সেখানে উপস্থিত হন। তখন তারা মৃতদেহগুলো পরিদর্শন করে। মৃতদেহগুলোর একজনকে হামাসের শীর্ষ নেতা সিনওয়ারের মতো দেখাচ্ছিল। সন্দেহ দূর করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মৃতদেহের একটি আঙ্গুল কেটে ইসরাইলে পাঠানো হয়।

পরে এলাকাটি নিরাপদ থাকায় সিনওয়ারের মৃতদেহটি ইসরাইলি পাঠানো হয়। ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) এর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, তার বাহিনী জানত না যে সিনওয়ার সেখানে ছিলেন, তবে তাদের অভিযান অব্যাহত ছিল। হাগারি আরও বলেন, তার সেনারা তিন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছিলেন। সিনওয়ার হিসেবে চিহ্নিত ওই ব্যক্তি ‘একটি ভবনের মধ্যে একাই দৌড়ে গিয়েছিলেন’। পরে ড্রোনের মাধ্যমে তার অবস্থান চিন্থিত করে তাকে হত্যা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে সেখানে ইসরাইলি জিম্মিদের ‘ঢাল হিসেবে’ ব্যবহার করেছিল হামাসের যোদ্ধারা।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, সিনওয়ার পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়েছিলেন। পরে মারধরের সময় মারা গিয়েছেন সিনওয়ার। তিনি একজন কমান্ডার হিসেবে মারা যাননি। ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, আমাদের সকল শত্রুর কাছে এটি আমাদের স্পষ্ট একটি বার্তা যে, সিনওয়ার একজন কমান্ডার হিসেবে মারা যাননি, ধরা পড়ার পর পালানোর চেষ্টাকালে তাকে নিহত করা হয়েছে। তার দাবি, নিজেকে আত্মরক্ষার সময় ধরে পড়ে মারা যান সিনওয়ার।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ড্রোন ফুটেজে সিনওয়ারের নিহত হওয়ার আগের মুহূর্তগুলো দেখানো হয়েছে। বেশিরভাগ ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি ভবনের খোলা জানালা দিয়ে প্রবেশ করে ওই হত্যাকাণ্ডের ফুটেজ সংগ্রহ করেছে ইসরাইলি ড্রোন। ফুটেজে এক লোককে একটি আরামচেয়ারে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। দেখে মনে হচ্ছিল লোকটি আহত অবস্থায় ছিলেন। পরে ড্রোনের দিকে একটি লাঠি ছুড়ে দেন ওই লোকটি। এরপরই ফুটেজটি শেষ হয়।

যেভাবে সিনওয়ারের মৃত্যু নিশ্চিত করলো ইসরাইল

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনওয়ার নিহত হয়েছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসরাইল প্রথমে ঘোষণা করেছিল যে, তারা সম্ভাব্য হত্যার তদন্ত করছে। ঘোষণার কিছু সময়ের মধ্যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিগুলিতে হামাস নেতার সাথে খুব মিল রয়েছে এমন এক ব্যক্তির দেহ দেখা যায়। যার মাথায় ক্ষত ছিল। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন,  তখনও নিহত তিন ব্যক্তির কারো পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি তারা।

এর কিছুক্ষণ পরেই ইসরাইল বিবিসিকে জানিয়েছে যে তারা সিনওয়ারকে হত্যা করেছে। তবে তারা বলেছেন, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে হবে। পরীক্ষা করতে বেশি সময় নেয়নি ইসরাইল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই ইসরাইল ঘোষণা করেছিল যে তারা সিনওয়ারকে হত্যা করেছে।

বড় লক্ষ্য অর্জন কিন্তু এখনও যুদ্ধ শেষ হয়নি

সিনওয়ারকে হত্যা করা ইসরাইলের জন্য একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল, গত ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই তাকে মৃত্যুর জন্য চিহ্নিত করে হয়েছিল। সে লক্ষ্য অর্জিত হলেও এখনও গাজা যুদ্ধ শেষ হয়নি বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, হামাসের হাতে ১০১ জিম্মি উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে। ইসরাইলের প্রধনমন্ত্রী আরও  বলেছেন, ‘মন্দকে’ কঠিন আঘাত দেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহু এবং গাজা যুদ্ধ সমর্থনকারী ইসরাইলিরা সিনওয়ারের হত্যাকে একটি অপ্রতিরোধ্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেননা নেতানিয়াহু বার বার বলেছেন তিনি হামাসকে রাজনৈতিক এবং সামরিকভাবে ধ্বংস করে জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান।

mzamin

‘কেউ অনুতপ্ত হলে তাকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত’, সাকিব ইস্যুতে সালাউদ্দিন

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু রাজনৈতিক ইস্যুতে সাকিবের প্রতি ক্ষুব্ধ জনতা। এ কারণে নিরাপত্তা ইস্যুতে আগামী ২১শে অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া টেস্টে খেলা হচ্ছে না তার। সরকার ও বিসিবির পরামর্শে আপাতত দেশেই ফেরা হচ্ছে না সাকিবের। এই বিষয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ ঝেড়েছেন দেশের জনপ্রিয় কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

সাকিবের ‘মেন্টর’ হিসেবেও দেশের ক্রিকেটে সালাউদ্দিনের পরিচিতি আছে। তবে শুধু সাকিব নয়, ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মুর্তজার নামও নিয়েছেন তিনি। এদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নিয়ে ক্ষোভ, হতাশা, কষ্ট ও অভিমান প্রকাশের সঙ্গে পালটা প্রশ্নও ছোড়েন এই কোচ।

তার লেখায় সাকিবের পাশাপাশি আছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবালের নামও। ঘরোয়া ক্রিকেটের সফল এই কোচের লেখায় মিশে আছে দেশের মানুষের প্রতি । কিছু প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে সালাউদ্দিন লেখেন, ‘দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি কখনই এত রাগ বা কষ্ট লাগে নাই, আজ কেন যেন লাগছে, আমরা মানুষ কি কখনও নিজেরা ভুল করি না? কেউ অনুতপ্ত হলে তাকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু আমরা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছি মানুষ হিসেবে, দয়ামায়া জিনিসটা আমাদের মধ্যে থেকে উঠে গেছে।’

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় সরব না থাকায় মূলত ক্ষোভের মুখে পড়েন সাকিব। তবে কয়েকদিন আগে এ বিষয়ে লম্বা স্ট্যাটাসে পুরো বিষয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। রাজনীতিতে জড়ানোর কারণও ব্যাখা করেন টাইগারদের সাবেক অধিনায়ক। এদিকে আগামী বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে মাশরাফির খেলা নিয়ে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। এ প্রসঙ্গে দেশের ক্রিকেটের প্রতি, সমাজের প্রতি সাকিব-মাশরাফিদের অবদানের কথা তুলে ধরেন সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ দেশের জন্য ১৭টা বছর কিছু না কিছু করেছে, আজ ক্রিকেটবিশ্ব আমাদের একটু সন্মান করে কাদের জন্য? তারা ক্রিকেট মাঠে নামতে পারবে না, এই কান্না তো সবাই দেখবে না। রাজনীতি করেছে বলে এরা খুনি ??? এদের সাথে মিশেছেন? এরা কত মানুষের ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, জানেন আপনি? এরা কত অসহায় মানুষের চিকিৎসা করিয়েছে, সেটা কি জানেন?’

মানুষের মূলত ক্ষোভ আন্দোলনের সময় সাকিব-মাশরাফি স্ট্যাটাস না দেওয়াতে। তবে সালাউদ্দিন মাঠের ক্রিকেটে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘তারা স্ট্যাটাস না দেওয়ার কারণে আজ শত্রু। যখন মাশরাফি ৫টা অপারেশন করে দেশের জন্য লড়াই করেছে, তা কি দেখেছেন? সাকিব যে আঙুলে চিড় নিয়ে বোলিং করে গেছে, তামিম এক হাতে ব্যাটিং করে গেছে, কাদের জন্য? দেশকে সবাই কম-বেশি ভালোবাসে। এদের ভালোবাসাটা হয়তো দেখা যায়ও না। এদেরকে কাছ থেকে দেখেছি। এরা মানুষের উপকার ছাড়া কারও ক্ষতি করেনি, এরা খুনি না।’

মাঠ থেকে দেশের ক্রিকেটের নায়কদের বিদায় দেখতে না পারায় আক্ষেপও করেন সালাউদ্দিন, ‘খুব কষ্ট পাচ্ছি মাঠ থেকে এদের বিদায় দেখতে পাব না। মানুষকে মাফ করুন। আল্লাহ আমাদের অনেক অপরাধ মাফ করে দেবেন। আমরা সবাই কম-বেশি অপরাধী। সম্মান কাউকে দিলে আপনিও সন্মানিত হবেন।’

mzamin

এক্সেলসিওর সিলেটে চোখ রাঙানি, প্রবাসী পরিচালকদের মামলা

সিলেটে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের একটি প্রকল্প হচ্ছে এক্সেলসিওর সিলেট। সিলেটের পরিচিত একটি রিসোর্ট এটি। এই রিসোর্টে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীই হচ্ছেন লন্ডন প্রবাসী। উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রবাসী পরিচালকদের নিয়ে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ এটি পরিচালনা করছিলেন। ৫ই আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে প্রকল্পটি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে চোখ রাঙানির মুখে পড়া প্রবাসীরা দেশে এসে মামলা করলেও স্বস্তি পাচ্ছেন না। সশস্ত্র মহড়া চালিয়ে প্রকল্পের ভেতরে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ঢুকতেও দেয়া হচ্ছে না। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে শাহপরান থানায় মামলা করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে পূর্বের মালিক ডা. মো. জাকারিয়া আহমদের কাছ থেকে এক্সেলসিওর কর্তৃপক্ষ ঋণসহ প্রায় ৩২ কোটি টাকার বিনিময়ে জাকারিয়া সিটি কিনে নেন। এরপর সেটির নাম পরিবর্তন করে তারা এক্সেলসিওর সিলেট করেন। প্রথমে শাহজামাল নুরুল হুদাসহ তিনজন পরিচালক এ প্রকল্প কিনলেও পরবর্তীতে প্রবাসী বিনিয়োগকারীর ন্যায্য হিস্যা দিয়ে ১৯ জনকে ডাইরেক্টর করা হয়। ২০১৮ সালে পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে দুই পরিচালক এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। ২০২১ সাল পর্যন্ত হাইকোর্টের মাধ্যমে পুরো কোম্পানির বিষয় নিয়ে একজন নিরপেক্ষ প্রশাসক দিয়ে ১০ জনকে পরিচালক ও ৯ জনকে শেয়ারহোল্ডার করে আদেশ দেয়া হয়। পরে এ বিষয় নিয়ে সুপ্রীম কোর্টের পূর্ণ বেঞ্চে শুনানি হলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রাখা হয়। ২০২২ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রবাসী বিনিয়োগকারী পরিচালকরা প্রকল্পের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পূর্বের পরিচালক ও বর্তমানে প্রকল্পের বাইরে থাকা ব্যক্তি শাহ জামাল নুরুল হুদা ও তার লোকজনের ভয়ভীতির কারণে ঢুকতে পারেননি। পরবর্তীতে অবশ্য ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রবাসী বিনিয়োগকারী পরিচালকরা ঢুকে সাধারণ সভা করেন। পরিচালকরা জানিয়েছেন, তখন তারা সাধারণ সভা করে প্রবাসী বিনিয়োগকারী জিলু মিয়াকে সভাপতি, মাসুকুর রহমানকে এমডি, আব্দুল বাসিত খান ও মাসুম আহমদকে সহ-সভাপতি করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেন। এরপর থেকে নতুন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে চলছিল অর্ধশত কোটি টাকার এই প্রকল্প। ৫ই আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের দিন একদল সন্ত্রাসী বিকাল ৪টার দিকে প্রকল্পের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে গভীর রাতে তারা হামলা চালিয়ে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মারধর করে তাড়িয়ে দেন। এ ঘটনার পর প্রকল্পের সুপারভাইজার হুসেন আহমদ বাদী হয়ে শাহপরান থানায় প্রকল্প এলাকার পূর্ব দলইরপাড়া গ্রামের আব্দুস শহীদ, আল আমিন ও আব্দুল জলিল লেবু মিয়ার নামে অভিযোগ করেন। আসামিদের মধ্যে দু’জন হচ্ছেন প্রকল্পের শেয়ারহোল্ডার। ওসি মনিরুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দেয়ার পর আমি নিজেই ঘটনাস্থলে যাই। সত্যতা পাওয়ায় মামলা রেকর্ড করে আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হচ্ছে। এক্সেলসিওর সিলেটের এমডি মাসুকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, শেয়ার বিক্রি করে চলে যাওয়া পূর্বের চেয়ারম্যান শাহজামাল নুরুল হুদার ইশারায় ৫ই আগস্ট কিছুসংখ্যক দুর্বৃত্ত প্রকল্পে হামলা, লুটপাট চালায়। তারা নগদ ৭ লাখ টাকা লুট করা ছাড়াও কোটি টাকার ক্ষতি করে। ওই সময় নুরুল হুদা লন্ডনে থাকলেও ৭ই আগস্ট তিনি দেশে ফিরে সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে প্রকল্পে অবস্থান করছেন। প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এখন গোটা প্রকল্প আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে এই অবস্থায় খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম ডালিম তার বাসায় গত মঙ্গলবার নুরুল হুদাসহ প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকে পরিচালক ডা. মো. জাকারিয়া আহমদও উপস্থিত ছিলেন। মাজহারুল ইসলাম ডালিম জানিয়েছেন, সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে প্রবাসীরা পরিচালক হয়ে আইনসম্মত ভাবে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছেন। এসব নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে বিবদমান উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে ওঠার কারণে সমঝোতা বৈঠকে কোনো সূরাহা হয়নি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের আইনজীবী এডভোকেট ইজাজুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, একজন বহিরাগতকে নিয়ে দু’জন স্থানীয় শেয়ার হোল্ডার বেআইনিভাবে এখন প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের প্রতি চোখ রাঙাচ্ছেন। হুমকি দিচ্ছেন। অথচ প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় প্রথম হাইকোর্ট ও পরবর্তীতে সুপ্রীম কোর্টে নিষ্পত্তি হয়ে দিক নির্দেশনা রয়েছে। সেই দিক নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে প্রবাসীদের বিনিয়োগকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। প্রকল্পের চেয়ারম্যান জিলু মিয়া মানবজমিনকে জানিয়েছেন, প্রকল্পের ভেতরে এখন অবৈধ স্পা সেন্টার খুলে অসামাজিক কার্যকলাপ করা হচ্ছে। যেটি আমরা কখনো সহ্য করিনি। এখন সেখানে প্রতিদিনই সশস্ত্র মহড়া দেয়া হচ্ছে।  এ ব্যাপারে শাহ জামাল নুরুল হুদা জানিয়েছেন, তিনি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হলেও এখন প্রকল্পের সঙ্গে নেই। তবে- পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন। যারা পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন সবাইকে নিয়ে বসে এখন একটি ফয়সালা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উভয়পক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছেন বলে জানান তিনি। 
mzamin

হামাস নেতা সিনওয়ারের মৃত্যুতে বিশ্বনেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষনেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সিনওয়ারের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করলেও হামাস এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে বুধবার তারা তিন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে একজন ইয়াহিয়া সিনওয়ার। এ বছরের ৩১ জুলাই ইরানে হামাসের সাবেক শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা করার পর আগস্টে সশস্ত্র সংগঠনটির দায়িত্বে আসেন সিনওয়ার। যার মৃত্যুর বিষয়টি বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে ইসরাইল। তার মৃত্যু সংবাদে গোটা বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়। কেননা গত বছরের ৭ই অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলার পরিকল্পনাকারী সন্দেহভাজন হিসেবে ইসরাইলের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে ছিলেন হামাসের এই নেতা। নিচে সিনওয়ারের মৃত্যুতে বিশ্বনেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো।

অনলাইন আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনওয়ারের মৃত্যুতে প্রথম প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইসরাইল সিনওয়ারের সঙ্গে তার হিস্যা চুকিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ এখানেই শেষ নয়। তিনি সরাসরি সম্প্রচারিত এক বার্তায় বলেছেন, সিনওয়ারের মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি লক্ষ্য অর্জন যার মাধ্যমে অন্ধকারের উপর আলোর বিজয় হয়েছে। গাজায় হামাস কখনই তাদের শাসন চালাতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

হামাসের হাতে ইসরাইলি জিম্মিদের পরিবারের সংগঠনও সিনওয়ারের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার ইসরাইলি সেনাবাহীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, সিনওয়ারের মৃত্যু গাজায় বন্দি জিম্মিদের মুক্তিতে সহায়তা করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সিনওয়ারের মৃত্যু ইসরাইলিদের জন্য স্বস্তির মুহূর্ত হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। এতে করে কোনো গোষ্ঠীগত শক্তি ছাড়াই গাজা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিবৃতিতে বাইডেন আরও বলেছেন, ইয়াহিয়া সিনওয়ার যেসকল লক্ষ্য অর্জনে বাধা ছিলেন এখন আর সেসকল বাধা নেই। কিন্তু সামনে আমাদের এখনও অনেক কাজ বাকি।

ইরান সরাসরি এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও জাতিসংঘে দেশটির মিশন জানিয়েছে, হামাসপ্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ‘শষ মুহূর্তগুলো’ ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের নতুন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। শুক্রবার জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য লিখেছে। সেখানে বলা হয়, মুসলমানরা যখন যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে শহীদ সিনওয়ারের দিকে তাকাবে- যুদ্ধের পোশাকে এবং গোপন আস্তানায় নয়, খোলা জায়গায় শত্রুর মুখোমুখি হবে- প্রতিরোধের চেতনা তখন আরও শক্তিশালী হবে। এতে আরও বলা হয়, তিনি (সিনওয়ার) তরুণ ও শিশুদের জন্য একজন মডেল হয়ে উঠবেন, যারা ফিলিস্তিনের মুক্তির দিকে তার পথকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

২৭ দেশের জোট ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান জোসেপ বোরেল সিনওয়ারকে ‘জরুরি প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতি এবং সমস্ত জিম্মিদের নিঃশর্ত মুক্তির পথে বাধা’ বলে বর্ণনা করেছেন। এক্সের এক বার্তায় তিনি লেখেন, ইয়াহিয়া ইইউ-এর তালিকাভুক্ত একজন ‘সন্ত্রাসী’ ছিলেন। ইসরাইলে ৭ অক্টোবর হামলার জন্য সিনওয়ারকে দায়ী করেছেন ইইউ-এর পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান। তিনি জিম্মিদের মুক্তি এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বন্ধের আহ্বান জানান।
ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যদি তিনি (সিনওয়ার) মারা যান তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে মিস করব না।

mzamin

পান্নুনকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সাবেক ‘র’ অফিসারের দিকে আঙুল তুললো আমেরিকা

বিকাশ যাদবকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তার নামে হুলিয়া জারি করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন। একটি পোস্টারও ছাপিয়েছে তারা। নিউইয়র্কে শিখ নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুন হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ভারতের এই  সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা  বিকাশ যাদবকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমেরিকা সফরের আশপাশে খলিস্তানপন্থী পান্নুনকে হত্যার যে ছক তৈরি করা হয়েছিল, তাতে সামিল ছিলেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং'-র (RAW) সাবেক অফিসার বিকাশ যাদব (৩৯)। তার বিরুদ্ধে খুনের জন্য লোক ভাড়া করা, আর্থিক তছরূপের জন্য চক্রান্ত করার মতো একাধিক  অভিযোগ তোলা হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক ক্রিস্টোফার ওয়ে বলেন, ‘আসামি যাদব একজন ভারতীয় সরকারি কর্মী। তিনি একজন অপরাধীর সহযোগীর সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করেছিলেন এবং আমেরিকার মাটিতে একজন মার্কিন নাগরিককে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সহিংসতা বা অন্যান্য প্রচেষ্টা সহ্য করবে না এফবিআই।’

বৃহস্পতিবারের এই অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ভারত সরকার। তবে এর আগে এই হত্যার ষড়যন্ত্রে একজন সরকারি কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল তারা। আমেরিকার মাটিতেই পান্নুনকে হত্যার ছক করা হয়েছিল বলে যে অভিযোগ তুলেছিল মার্কিন প্রশাসন, তারপরে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য একটি কমিটিও গঠন করেছে ভারত। বৃহস্পতিবারই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, আমেরিকা যে তথ্যপ্রদান করেছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য ভারতের তদন্ত কমিটির দু'জন ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন। ভারতের তদন্ত কমিটির দু'জন সদস্য আমেরিকার এফবিআইয়ের  কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। যে বৈঠক নিয়ে সন্তোষপ্রকাশ করেন আমেরিকার  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। আর সেই বৈঠকের ৪৮ ঘণ্টা পরেই সাবেক ‘র’ অফিসারের বিরুদ্ধে পান্নুনকে খুনের চক্রান্তে সামিল থাকার অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক বি গারল্যান্ড বলেন, 'আজ যে অভিযোগ করা হলো, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আমেরিকানদের টার্গেট করা এবং তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়ার মতো কাজ বরদাস্ত করবে না জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। মার্কিন নাগরিকের অধিকার খর্ব করার মতো কাজ করা হলে সেটাও বরদাস্ত করা হবে না।'

সূত্র : গ্লোবাল নিউজ

mzamin

গাজার রাস্তায় যত্রতত্র মৃতদেহ, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী উদ্ধারকারী দল

গাজার যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলে সর্বত্র  অনাহারের দৃশ্য। কোথাও বহুতল ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া দেহ, কোথাও আবার রাস্তার যত্রতত্র পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। উদ্ধারকারী দল সেই দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে ভয়াবহ এক বর্ণনা দিয়েছে। উদ্ধারকারী দলের প্রধান ফেয়ার্স আফানা সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর কাছে দাবি করেছেন, তাঁরা মূলত উত্তর গাজায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। সেখান থেকে প্রতিদিন দেহ উদ্ধার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে সব জায়গায় পৌঁছাতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে তাঁদের, সেখানে মৃতদেহ পড়ে থেকে পচন ধরে যাচ্ছে। আকাশ, বাতাস কটূ গন্ধে ভরে উঠেছে। এমনকি এমন দৃশ্যও দেখা গিয়েছে যে, রাস্তায়, ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকা দেহগুলি কুকুরেরা ছিঁড়ে খাচ্ছে। উত্তর গাজার জরুরি পরিষেবার প্রধান আফানা ফোনে সিএনএনকে বলেছেন - 'আপনি উত্তর গাজায় গেলে দেখতে পাবেন ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার। ইসরাইলি বাহিনী  জীবনের শেষ চিহ্নটুকু  ধ্বংস করে দিয়েছে। 'আফানা সিএনএনকে বলেছেন যে তিনি এবং তার সহকর্মীরা উত্তর গাজায়  ফিলিস্তিনিদের এমন কিছু  মৃতদেহ দেখতে পেয়েছেন, যেগুলিকে ঠিকমতো শনাক্ত পর্যন্ত করা যাচ্ছে না।  কারও মাথা নেই, কারও হাত-পা, কারও আবার দেহের উপরিভাগ উধাও।  জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে গাজায় সাহায্য পেতে এবং যুদ্ধক্ষেত্র জুড়ে তা বিতরণে বাধার অভিযোগ করেছে, ইসরাইলের প্রতি বাধা এবং অনাচারকে দায়ী করেছে। জাতিসংঘ বলেছে যে ২ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কোন খাদ্য সহায়তা উত্তর গাজায় প্রবেশ করেনি। উত্তর গাজার বেহাল অবস্থা এবং অসহনীয় দুর্ভোগের  প্রেক্ষিতে, মানবিক অ্যাক্সেস সেখানে প্রায় নেই বললেই চলে। বুধবার, ইসরাইলি সামরিক ইউনিট যা গাজায় সাহায্য এবং বাণিজ্যিক চালানের তত্ত্বাবধান করে তারা বলেছে যে জর্ডানের দেওয়া খাদ্য, পানি , চিকিৎসা সরবরাহ এবং আশ্রয়ের সরঞ্জাম বহনকারী ৫০টি ট্রাক উত্তর গাজায় স্থানান্তরিত হয়েছে।১২ অক্টোবর একটি উদ্ধারকারী  দল উত্তর গাজার দুটি হাসপাতালে যাবার সময় নয়বার ইসরাইলি বাহিনীর দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। তারা কোনোমতে এক ডজনেরও বেশি গুরুতর রোগীকে গাজা শহরের আল শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছে। আলজেরিয়ার জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত অমর বেন্দজামা ইসরাইলের মানবিক প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, - 'এটা কিভাবে সম্ভব যে আমরা এই শিশুদের টিকা দিতে পারি কিন্তু আমরা তাদের খাওয়াতে পারবো  না? গাজার মানুষকে অনাহারে রাখা ইসরাইলের কৌশল ।"

সূত্র:  ইকনোমিক টাইমস

mzamin

৩৪ বছর একই কর্মস্থলে মান্নান, ঠেকালেন বদলি by ওয়েছ খছরু

শেষবারও বদলি ঠেকালেন সিলেট সেটেলমেন্টের আলোচিত কর্মচারী আব্দুল মান্নান। গত ১লা সেপ্টেম্বর এক আদেশে তাকে সিলেট থেকে  নিজ এলাকা ময়মনসিংহের ত্রিশালে বদলি করা হয়েছিল। সেখানে দ্রুত যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ আব্দুল মান্নান চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বদলি ঠেকালেন। একটানা ৩৪ বছর সিলেটে কাটিয়ে দিলেন। মূল কর্মস্থল পরিবর্তন করে জেলার এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় দেখিয়ে কাটিয়ে দিলেন। তবে সবসময় তিনি প্রেষনে সিলেট সেটেলমেন্টের বিভাগীয় কার্যালয়ে ছিলেন, এখনো রয়েছেন। সিলেট সেটেলমেন্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুতেই চাকরি জীবনের ইতি টানছেন আব্দুল মান্নান। এ কারণে ভূমি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এক আদেশে তাকে নিজ এলাকা ময়মনসিংহে বদলি করেন। ৮ই আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু নতুন কর্মস্থলে না গিয়ে আব্দুল মান্নান ১২ই আগস্ট বদলি আদেশ বাতিল করিয়ে একই জায়গায় থেকে যান। এ নিয়ে সিলেট সেটেলমেন্টে তোলপাড় চলছে। শুধু এবারই নয় এর আগেও আব্দুল মান্নানকে একাধিকবার সিলেট থেকে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি বদলির আদেশ বাতিল করে নিয়ে আসেন। সিলেট সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মরত কপিস্ট-কাম-বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নান। এখন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এর আগে সেরেস্তা শাখার পেশকার ছিলেন। ঘুষ, দুর্নীতি ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ভূমি অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক ২০১১ সালের ২৫শে জুলাই এক আদেশে মান্নানকে তাৎক্ষণিক বদলি করেন। তখন আব্দুল মান্নান জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারকে ম্যানেজ করে একই অফিসেই পুনরায় বহাল থেকে যান। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারীর নির্দেশও উপেক্ষিত। সিলেট সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে যে ক’জন কর্মচারী অবাধে দুর্নীতি করেছেন তাদের মধ্যে আব্দুল মান্নান অন্যতম। সিলেট অঞ্চলে শেষ হওয়া সেটেলমেন্ট জরিপে দায়িত্বে থাকায় দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি উপার্জন করে গড়েছেন সম্পদও। টাকার বিনিময়ে ভূমি রেকর্ড পরিবর্তন করে তিনি এই আয় করেন। ২০২০ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি তৎকালীন কর্মচারী নেপাল কান্তি চাকমাকে সরিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী হন। আব্দুল মান্নান সিলেট সদর উপজেলার ছালিয়া মৌজার রেকর্ড বহাল রাখার স্বার্থে ভূমি মালিক মাহতাব আহমদ খোকনের নিকট থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নিলেও কাজ করেননি। এ নিয়ে মাহতাব একাধিক অভিযোগ ও সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন করলেও কাজ হয়নি। সেটেলমেন্ট সূত্র জানিয়েছে, আব্দুল মান্নান ১৯৮৮ সালে তৃতীয় শ্রেণির কপিস্ট-কাম-বেঞ্চ সহকারী পদে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্টের কর্মে যোগদান করে এখনো সিলেটে কর্মরত। এরই মধ্যে সিলেট সেটেলমেন্টের একমাত্র ক্যান্সার হিসেবে আব্দুল মান্নান অতি সুপরিচিতি লাভ করেন। সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত পেশকার হিসেবে দায়িত্ব লাভ করায় রাতারাতি কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন একই অফিসে কর্মরত থাকার সুবাদে নিজ এলাকা ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলাধীন দিঘুটিয়া নিজ গ্রামের বাড়িতে, মুক্তাগাছা উপজেলা সদরে, ময়মনসিংহ শহরের আকুয়াপাড়া, সিকদার বাড়ির পেছনে, তার শ্বশুরবাড়ি এলাকায়, মাসকান্দা বারেরা বাইপাসে, খাগডহর ও বাইপাস নামক স্থানে নামে-বেনামে অঢেল ভূ-সম্পত্তি অর্জন করেছেন। সিলেট শহরে তার প্রায় ১০ থেকে ১৫টি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়ায় চলাচল করছে। এ সিএনজি অটোরিকশাগুলোর ভাড়া আদায় ও দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন তারই এলাকার আরেক সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভার মো. বাবুল মিয়া। আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জের বাসিন্দা মো. সুলেমান ফারুক সুনামগঞ্জ স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশনায় সিলেট দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. সোহেল আহমদ, একই জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আব্দুল মমিন, আব্দুস সামাদ এবং সিলেট শহরের বাসিন্দা মো. মাহতাব আহমদ খোকন ও সুজিত কুমার দেসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন পদ্ধনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. সুলেমান ফারুক সুনামগঞ্জ স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা করেন। এ মামলাটিও আদালতের নির্দেশনায় সিলেট দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। এ ব্যাপারে সিলেট সেটেলমেন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, তিনি বদলি ঠেকাননি। এবার বদলির পর দেখা গেল চাকরির আর দু’মাস বাকি রয়েছে এজন্য সংশ্লিষ্টরা আদেশ বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, সিলেটে যেহেতু চাকরি করেছি সে কারণে সিলেট থেকে চাকরিতে অবসরে যেতে চাই। আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।