Sunday, July 14, 2013

হিন্দি চ্যানেলের আগ্রাসন ও অরক্ষিত তারুণ্য by শেখ মাসুদ কামাল

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিমকোর্ট সে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এখন টিভিতে অশ্লীলতা ও হিংসার ছড়াছড়ি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে টিভি উপভোগ করা যায় না। এ অবস্থায় সুপ্রিমকোর্ট উদ্বিগ্ন হয়ে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, আমাদের দেশের সিনেমা হলগুলোতে ঢালাওভাবে বিদেশী সিনেমা প্রদর্শিত হয় না। এ ব্যাপারে অনেকের আক্ষেপ থাকলেও সরকার দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে চলমান রুগ্ন দশা থেকে মুক্তি দেয়ার লক্ষ্যে এ নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু সরকার চলচ্চিত্র শিল্পকে এ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে সমর্থ হলেও আমাদের ড্রয়িংরুম অরক্ষিত হয়ে পড়েছে ডিশ অ্যান্টেনার বদৌলতে। সেখানে হরহামেশা রুচি বিগর্হিত অনুষ্ঠান ঢুকে পড়ছে। তবে বিটিভিতে বিদেশী চলচ্চিত্র দেখানোর ঐতিহ্য চালু রয়েছে। এক্ষেত্রে বিটিভির চলচ্চিত্র যেন আমাদের সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়- এ বিষয়ে নজর দেয়ার বিধান রয়েছে।
আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার পদক্ষেপ গ্রহণের তৎপরতা পরিলক্ষিত হলেও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যাপারে একেবারে নির্লিপ্ত থাকতে দেখা যায়। আর এ খাতের সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে হিন্দি স্যাটেলাইট টেলিভিশন। দেশে বেশ কটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। এ খাতটি ক্রমেই তার আওতা বৃদ্ধি করে চলেছে এবং জনগণের একটি আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা অর্জন করেছে। এখন টেলিভিশন মানেই স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও টেলিভিশন দর্শক মানেই উপগ্রহবান্ধব টেলিভিশনের দর্শক। এসব স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সম্প্রচারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে শিক্ষিত, দক্ষ, রুচিশীল এবং কারিগরি নিপুণতায় প্রশিক্ষিত একদল কর্মীবাহিনী। বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত ব্যক্তির কর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য খাত সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বিদেশী বিশেষত হিন্দি ছবির আগ্রাসনের কারণে এ খাতটি নানা হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। এসব হিন্দি ছবিতে সারাদিন কুরুচিপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, নান্দনিকতা বিবর্জিত এবং যৌন উত্তেজনায় পরিপূর্ণ ছবি দেখানো হয়। এসব অনুষ্ঠান কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বিধায় এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা সব সময়ই বিতর্কিত একটি ব্যাপার। এসব হিন্দি চ্যানেলে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং তাদের প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রকার ছবি আমাদের তরণ প্রজন্মকে রুচিগত দিক থেকে অধঃপতিত ও বিকৃত করছে।
দেশে যখন ডিশ অ্যান্টেনার প্রবেশ ঘটে, তখন এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের সুধী মহলে অনানুষ্ঠানিক একটি বিতর্কের অবতারণা হয়েছিল। বিতর্কটি হচ্ছে- ডিশ সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যকে বিনষ্ট করবে কিনা? একদল এ ভেবে উদ্বিগ্ন ছিল যে, ডিশ সংস্কৃতি আমাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে বিনষ্ট করবে। আরেক দল ছিল মুক্তআকাশ অর্থাৎ ডিশ সংস্কৃতির পক্ষে। কিন্তু ভারতে এ ধরনের কোনো বিতর্ক সূচিত হওয়ার কারণ ঘটেনি। কারণ ভারতে আমাদের দেশের কোনো টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে ভারত সরকার আরোপিত কোনো বিধিনিষেধের কথা আমাদের জানা নেই। ভারতীয় ক্যাবল অপারেটররা স্ব-উদ্যোগে সে দেশে বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সম্প্রচার বা প্রদর্শনী বন্ধ রেখেছে। এমনকি ভারতীয় ক্যাবল অপারেটররা কিছুদিনের জন্য হলেও পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের দেশের টিভি অনুষ্ঠান তাদের দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার করেছিল, এমন তথ্য আমাদের জানা নেই।
১৯৯০ সালের মাঝামাঝি থেকে সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে এবং সে পরিবর্তনটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়ও পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। আর বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমান্তরালে মিডিয়ার ক্ষেত্রেও একটি পরিবর্তন আসে। এ পরিবর্তনকে অনেকে মিডিয়া বিপ্লব নামে আখ্যায়িত করেন। সেই মিডিয়া বিপ্লবের তরঙ্গাভিঘাতে আমরা পিছিয়ে থাকলেও আমাদের প্রতিবেশী দেশে এ বিপ্লবের তরঙ্গ এক মহাজাগরণ তৈরি করে। গড়ে ওঠে বেসরকারি টেলিভিশন খাত এবং ভারতের অপরাপর খাতের মতোই বিশাল অর্থনৈতিক বিনিয়োগের ফলে এটি একটি শক্তিশালী অবকাঠামো হিসেবে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বৃহৎ আয়তনের ও বিশাল জনসংখ্যা অধ্যুষিত ভারতের ডিশ টিভির এক বিশাল এ দেশীয় দর্শক তথা ভোক্তাবাজার তৈরি হয় এবং একই সঙ্গে নিজস্ব প্রস্তুতকৃত পণ্য ও ভারতে বাণিজ্যরত বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির বিজ্ঞাপনের সমবায়ে এ খাতটি ক্রমেই পুষ্টি লাভ করে। কাজেই একদিকে বিশাল ভোক্তা বাজারের আনুকূল্য ও অপরদিকে বিজ্ঞাপনের পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতীয় বেসরকারি টেলিভিশন খাতের এক জ্যামিতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং তাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানের গুণগতমান তেমন উৎকর্ষ লাভ করতে পারেনি। অধিকাংশ ব্যক্তিই এমন অভিমত পোষণ করেন। তবে এখানে একটি বিষয় আমাদের মানতেই হবে যে, ভারতের বাজার খুবই বিস্তৃত এবং সে তুলনায় আমাদের বাজার খুবই সীমিত। তদুপরি ভারতের বিশাল বিনিয়োগের তুলনায় আমাদের বিনিয়োগ খুবই সামান্য। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দুদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে এক অসম প্রতিযোগিতা বিদ্যমান আছে এবং এ অসম প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান হবে পশ্চাৎপদ, এটাই স্বাভাবিক। সরকার দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পসহ অন্যান্য রুগ্ন শিল্পকে রক্ষার জন্য যেমন সুরক্ষা বা প্রতিরক্ষামূলক এক ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, তেমনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে রক্ষার জন্য এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করতে বাধা কোথায়? অথচ এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি ও সময়ের দাবি।
ভারতে বাংলাদেশের টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ কথা আগেই বলেছি। কিন্তু বাংলাদেশের একজন টেলিভিশন দর্শকের দেশীয় অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করার পাশাপাশি ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করারও সুযোগ রয়েছে। ভারতীয় এসব অনুষ্ঠানের আধিক্যই বেশি। ফলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে হিন্দি চ্যানেলের প্রভাব আমাদের ওপর সবচেয়ে বেশি। আর এর ফলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজ তথা জাতির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রজন্ম। অনুকরণপ্রিয়তা এ বয়সের একটি অতি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হওয়ায় তারা তাদের আচার-আচরণ, চলনে-বলনে এবং পোশাক-আশাকে হিন্দি রীতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। এ কাজটি তারা করছে অত্যন্ত উৎসাহে এবং এর পরিণতি সম্পর্কে সম্যক কোনো ধারণা ছাড়াই। হিন্দি চ্যানেলের অনুকরণ ও অনুসরণ আমাদের তরুণ প্রজন্মর কাছে আধুনিকতার সমার্থক হয়ে পড়েছে। এমনকি প্রাত্যহিক জীবনের কথাবার্তায় বাংলা শব্দের সঙ্গে হিন্দি শব্দের মিশেল তথাকথিত স্টাইলে পরিণত হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় বিশাল বিনিয়োগকৃত হিন্দি চ্যানেলগুলোর তুলনায় আমাদের স্বল্প পুঁজির চ্যানেলগুলোর টেকা দায় হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশকে হিন্দি চ্যানেলের আগ্রাসী প্রভাব থেকে মুক্ত করতে ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোকে সুরক্ষা দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন আমাদের দেশীয় ক্যাবল অপারেটররা। ভারতীয় ক্যাবল অপারেটররা সে দেশে বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল না দেখিয়ে যেভাবে তাদের দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, একইভাবে আমাদের ক্যাবল অপারেটররা তরুণ প্রজন্মকে হিন্দি চ্যানেলের আগ্রাসন থেকে বাঁচিয়ে তাদের দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে পারেন। এছাড়া দেশে হিন্দি চ্যানেলের প্রদর্শনী বন্ধ হলে তা আমাদের দেশীয় চ্যানেলগুলোর জন্য আর্থিক মুনাফা লাভের এক সুযোগ তৈরি করবে। কারণ অনেক বহুজাতিক কোম্পানি কেবল হিন্দি চ্যানেলগুলোতেই তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। যেহেতু হিন্দি চ্যানেলের অবাধ প্রদর্শনী বেশ নিশ্চিতভাবেই ঘটে চলেছে, ফলে বাড়তি পয়সা খরচ করে তাদের পণ্যের বিপণন ও ক্রেতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের কোনো চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রয়োজন নেই। সার্বিক দিক বিবেচনায় দেশের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনে বিদেশী চ্যানেল বিশেষত হিন্দি চ্যানেলের অবাধ প্রদর্র্শনীর ব্যাপারে একটি সুস্থ ও সংরক্ষণমূলক নীতিমালা প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।
শেখ মাসুদ কামাল : প্রাবন্ধিক

শাহবাগ আন্দোলন জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৫ ফেব্র“য়ারি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিলে পরদিন কয়েকজন ব্লগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনে মানববন্ধনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করেন। এ প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সূচনালগ্ন থেকে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিলেন, তারা অচিরেই এটিকে গণজাগরণ নামে অভিহিত করতে থাকেন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, গণজাগরণ কী? অন্যায়ের প্রতিবিধানে যখন দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদী কণ্ঠে রাস্তায় নেমে এসে আন্দোলনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণকল্পে দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়, সেটিকে বলা হয় গণজাগরণ। গণজাগরণ সব সময় শাসক শ্রেণীর প্রতিকূলে হয়ে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম বিষয়ে ভারতের গণমাধ্যমে সে দেশের পৃষ্ঠপোষকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় দেশের কতিপয় গণমাধ্যমের বৈরী ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশের এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে হতাশ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা গেছে, গণজাগরণ মঞ্চের অবকাঠামো, নিরাপত্তা, খাদ্য, পানীয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, পয়ঃনিষ্কাশন সেবা প্রভৃতি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নিশ্চিত হয়ে আসছিল।
দেশের সচেতন সাধারণ মানুষের উপলব্ধি- শেয়ারবাজার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, ডেসটিনি প্রভৃতি দুর্নীতি নিয়ে যখন সরকারের জনসমর্থনে ধস নেমেছে, ঠিক তখন মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর এটি একটি অপপ্রয়াস। তাছাড়া জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিকে অবদমিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি অপকৌশল।
গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়ে আসছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নতুন প্রজন্মর এটি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। তাদের দাবিটিকে সঠিক ধরে নিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী ছিল তা জানা প্রয়োজন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসনের বাস্তবায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন, দেশের সমন্বিত ও সুষম উন্নয়ন এবং সব নাগরিকের জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থার জন্য। প্রতিটি আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। শুধু ফাঁসির রায় প্রদান ও কার্যকর করার দাবি নিয়ে আন্দোলন কতটুকু যৌক্তিক? এ ধরনের আন্দোলন সংবিধান স্বীকৃত স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার অন্তরায় নয় কি? এ আন্দোলন দেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তি ও দুর্নীতি এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় কী অবদান ও আবেদন রেখেছে? গণজাগরণ মঞ্চ হতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিষয়ক কোনো বক্তব্য দেয়া হয়েছে কি?
গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কতিপয় ব্লগারের মহান আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদকে (স.) নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পর্কে দেশবাসী অবহিত হওয়ার পর দ্রুত গণজাগরণ মঞ্চের নেপথ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে দেশবাসীর ধারণা পাল্টাতে থাকে। এসব ব্লগারের মন্তব্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছে। সরকার কেন জনবিচ্ছিন্ন এ ব্লগারদের পক্ষ অবলম্বন করে নিজের অবস্থানকে বিতর্কিত করেছে? একজন ঈমানদার মুসলমানের কর্তব্য সম্পর্কে ধর্মীয় অনুশাসন হল - যে কোনো অন্যায় দেখলে তিনি তা শক্তি দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন, যদি শক্তি দিয়ে প্রতিহত করার সুযোগ না থাকে তাহলে মৌখিকভাবে প্রতিবাদ করবেন, আর মৌখিকভাবে প্রতিবাদে অক্ষম হলে মনে মনে অন্যায়কে ঘৃণা করবেন। একজন ঈমানদার মুসলমান মহান আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদকে (স.) নিয়ে অবমাননা ও কটাক্ষ সহ্য করেন না। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার আগের দিন মতিঝিলের সমাবেশ থেকে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘আমরা আগামীকাল ফাঁসির রায় নিয়ে উল্লাস করে বাড়ি ফিরব।’ এ ধরনের বক্তব্য অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই সবার প্রত্যাশা ছিল, বক্তব্য প্রদান-পরবর্তী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দেশবাসী হতাশ হয়েছে।
ব্লগার রাজীব এবং নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের পুত্র ত্বকী হত্যার পর কোনো ধরনের অনুসন্ধান ছাড়াই বলা হল, এগুলো জামায়াত-শিবিরের কাজ। পরবর্তীকালে দেখা গেল, প্রথমোক্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হিজবুত তাহরীর নামক একটি সংগঠন এবং শেষোক্তটির সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একটি বিশেষ পরিবারের সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্যের উদয় হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙা, আগুন দেয়া ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার সঙ্গে জামায়াত-শিবির সম্পৃক্ত বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের বক্তব্য এর বিপরীত। এমনকি সংখ্যালঘু হিন্দুদের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা। দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী মনে করে, নিরপেক্ষ ব্যক্তির সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। অতীতে বহুবার বিভিন্ন ক্ষমতাসীন দল হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন করে দোষ বিরোধীদের ঘাড়ে চাপিয়ে ভারতের সমর্থন ও সহানুভূূতি লাভের চেষ্টা করেছে। ভারত সরকারও অবহিত অতীত ও বর্তমানে কারা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করেছে এবং অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে কারা ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। রামুর ঘটনার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে দেখা যায়, সেখানেও একটি বিশেষ মহল নেপথ্যে থেকে ঘটনা সংগঠনে ইন্ধন যুগিয়েছে এবং এক্ষেত্রেও রাজনৈতিক ফায়দা ছিল মুখ্য। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া শাহবাগের আন্দোলনকারীদের নাস্তিক, নষ্ট ও আওয়ামী ঘরানার আখ্যা দিয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন। দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতা এরশাদও শাহবাগের আন্দোলনকে সমর্থন করেননি এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সেখানে যাবেন না। অপরদিকে শাহবাগ আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের পাশে রয়েছে জনসমর্থহীন কতিপয় নেতাসর্বস্ব বাম ঘরানার দল এবং এসব দলের ছাত্র ও যুব সংগঠন।
শাহবাগ আন্দোলনের মুখপাত্রকে দেখা গেছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, নীরবতা পালন এবং স্কুল-কলেজে কর্মসূচি পালন বিষয়ে মঞ্চ থেকে তিনি যখন যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে ঘোষণা বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট ছিল। দেশবাসী নিশ্চয়ই অবহিত পতাকা উড়ানো বিষয়ে সংবিধান ও আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বিধানাবলী দেয়া আছে। এর ব্যত্যয়ে সরকারিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নন এমন কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে পতাকা উড়ানো বিষয়ে কোনো নির্দেশনা এলে সেটি সংবিধান ও প্রচলিত আইনের লংঘন ও অবমাননা নয় কি? তাছাড়া এ মুখপাত্রের নির্দেশনায় সরকারের মন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাস্তায় নেমে এসে তিন মিনিট নীরবতা পালন এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজে মঞ্চ থেকে ঘোাষিত কর্মসূচি পালন দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান দ্বারা সমর্থিত কি-না তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। আর সমর্থিত না হয়ে থাকলে সরকারের পক্ষ থেকে এ মুখপাত্রের বিরুদ্ধে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার জন্য কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা দেশবাসীর জানা প্রয়োজন।
ভারতের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে, ভারত দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চায় এবং সে লক্ষ্যে কৌশলও নির্ধারণ করেছে। জনআকাক্সক্ষার বিপরীতে কোনো সরকারকে পৃথিবীর কোনো দেশে কোনো বহিঃশক্তি কি ক্ষমতায় রাখতে পেরেছে? তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেই, ক্ষমতায় রাখতে পারবে তখন সেটির স্থায়িত্ব কতদিন হবে? অভিজ্ঞতা বলে, পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের সরকার স্থায়িত্ব পায়নি। প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে বহিঃশক্তির সমর্থন যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে না, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ’৮৬র তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করলেও এবং নির্বাচনী ফলাফলে জনমত পক্ষে থাকা সত্ত্বেও তাদের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।
শাহবাগ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য যদি হয়ে থাকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও এর কার্যকর, সেক্ষেত্রে রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের তালিকা করে নিহত ও জীবিতদের সংখ্যা নিরূপণের কাজটি সমাধা করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে। এ মানবতাবিরোধী অপরাধে চার ধরনের অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যথা- গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণ। দেশের সব শ্রেণী-পেশা ও দলমত নির্বিশেষে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। কিন্তু সে বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, স্বচ্ছ, প্রশ্নাতীত ও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। বঙ্গবন্ধুকে যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, তখন ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রখ্যাত ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়ামকে নিয়োগের বিষয়ে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের মামলার ক্ষেত্রে দেখা যায় বিদেশী আইনজীবী নিয়োগে বিভিন্নভাবে অন্তরায় সৃষ্টি করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, বিদেশী আইনজীবীদের আসামিদের পক্ষে নিয়োগের সুযোগ দেয়া হলে বিচারের আন্তর্জাতিক মান সম্পর্কে কোনো মহল থেকে কোনো ধরনের প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ থাকত না। ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে যে সুযোগ দিয়েছে, স্বাধীন দেশে একই জাতিভুক্ত নাগরিকদের আমরা কেন সে সুযোগ দেব না? শাহবাগের আন্দোলন প্রশ্নে এবং আন্দোলনকারীদের দাবি বিষয়ে জাতি দ্বিধাবিভক্ত। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অবস্থান শাহবাগ আন্দোলনকারীদের পক্ষে না বিপক্ষে ছিল এবং আন্দোলনটি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল কি-না, সেটা নিরূপণের জন্য আন্দোলনস্থল থেকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা যদি বলা হতো, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত তা বলা মুশকিল।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জেলা জজ ও সাবেক রেজিস্ট্রার, সুপ্রিমকোর্ট

যার ঘরে থাকবে তার মনে পড়বে by মোকাম্মেল হোসেন

বাসায় ফিরে দেখি সবাই গোল হয়ে বসে আছে। মাঝখানে জাহিন মিয়া। চুপচাপ। গম্ভীর। তবে তার চোখ দুটো কথা বলছে। আমি কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলাম,
: বিষয় কী!
মনে হল, এই মুহূর্তটির জন্য লবণ বেগম উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সে জাহিন মিয়ার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলল,
: তোমার ছোট ছেলের কথা শোন!
- কী কথা?
: জাহিন, আব্বুকে শোনাও তো!
জাহিন মিয়ার বসার ভঙ্গি ও হাবভাব দেখে তাকে শিষ্য পরিবেষ্টিত কোনো পীর সাহেব বলে মনে হচ্ছে। প্রায় চার বছর বয়সী এই শিশুপীর একবার ব্যাঙ খাওয়ার কথা বলে আমাদের মধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছিল। এবার তার মনে কী উদয় হয়েছে কে জানে! আমি জাহিন মিয়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলাম। তারপর চোখে-মুখে গভীর আগ্রহ ফুটিয়ে তুলে বললাম,
: আব্বা হুজুর, আপনের মা’রেফতের মাইকোষ থেইক্যা কী কথা বাইর হইছে বলেন- শুইন্যা ধন্য হই!
আমার কথা শুনে জাহিন মিয়ার মুখে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। সে চোখ ঘুরিয়ে সবার দিকে একবার তাকিয়ে আবৃত্তির ঢঙ্গে বলে উঠল,
: যার ঘরে থাকবে তার মনে পড়বে।
এটা কোনো ধাঁধা, না ছড়া বুঝতে পারছি না। লবণ বেগমকে জিজ্ঞেস করলাম,
: এই এলেম সে কার কাছ থেইক্যা পাইছে?
- কারও কাছ থেইক্যা পায় নাই!
: তাইলে?
-আরে, ঘটনা তো এইখানেই!
আমি লবণ বেগমের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালাম। দেখে মনে হচ্ছে, ছেলের প্রতিভায় সে মুগ্ধ। কোনো শিশু ‘আ’ বলার সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে আকাশ ভেবে আহ্লাদে আটখানা হয় না- এমন মায়ের সংখ্যা পৃথিবীতে বিরল। লবণ বেগমের মুগ্ধতা পরিমাপ করতে করতে বললাম,
: কী রকম!
- আইজ বিকাল থেইক্যা তার মুখে এই কথাগুলা শুনতেছি!
: এর শানে-নজুল কী?
- সেইটাই তো রহস্য! আমি কোনো কূল-কিনারা পাইতেছি না! তুমি চেষ্টা কইরা দেখ তো, এর মানে বাইর করতে পার কিনা...
শিশুদের মনে ১২ পদের খেয়াল রাজত্ব করে। খেয়াল রাজারা খেয়ালের বশবর্তী হয়ে ১২ রকম কথা বলতেই পারে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমি জাহিন মিয়ার কথায় তেমন গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন মনে করলাম না। আবার ভুলেও গেলাম না।
পরদিন অফিসে চায়ের আড্ডায় কী মনে করে বিষয়টির অবতারণা করলাম। উত্তর দিতে গিয়ে এক সহকর্মী দু’গালে বাতাস জমিয়ে বেলুনের রূপ দিলেন। দম যখন ফুরিয়ে গেল, তখন তিনি ফুছফুছ করে মুখের হাওয়া ত্যাগ করে দুই আঙুলে তুড়ি বাজালেন। আমার এই সহকর্মী বোবা নন। অথচ তিনি যে আচরণ করলেন, তা একজন বাকপ্রতিবন্ধীর অনুরূপ। আমি আশ্চর্য হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
: ভাই সাহেব, আপনি এইরকম ফুছফাছ ও টুসটাসের মাধ্যমে কী বুঝাইতে চাইলেন?
তিনি হেসে বললেন,
: আপনের এই ধাঁধা খুবই সোজা। এর উত্তর হইল সুন্দরী বৌ। যার ঘরে সুন্দরী বৌ আছে, সেই বৌয়ের কথা তার সেকেন্ডে সেকেন্ডে মনে পড়বে- এই ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত।
সুন্দর বা সুন্দরী হচ্ছে সামগ্রিক একটা বিষয়, যেখানে রূপের সঙ্গে গুণসহ অন্যান্য ইতিবাচক দিকের সমন্বয় ঘটে। সহকর্মী সুন্দরী বলতে সম্ভবত রূপবতী নারী বোঝাতে চাচ্ছেন। তার কথার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না। রূপের চমক কয়দিন? স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হচ্ছে আত্মার সঙ্গে আত্মার বন্ধন। স্নেহ-ভালোবাসায়, সম্মান-শ্রদ্ধায় আর বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে এ বন্ধন দৃঢ় না হলে কেবল রূপ দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না। আমাকে মাথা নাড়তে দেখে পাশ থেকে আরেকজন বললেন,
: ভাই, এইটা হবে বিবাহযোগ্যা কন্যা। ঘরে অবিবাহিতা বয়স্ক কন্যা থাকলে কোনো বাপের পক্ষে তার কথা এক মুহূর্তের জন্যও ভুইল্যা থাকার উপায় নাই। টেনশনের বাতি জ্বলে দিবারাত্রি কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মনে...
আরেকজন টেবিলে থাপ্পড় মেরে উত্তেজিত গলায় বলে উঠলেন,
: আরে রাখেন মিয়া বৌ-কন্যা-পোলাপান! মানুষের আসল চিন্তা থাকে ধন-দৌলত লইয়া। কারও ঘরে যদি সোনাদানা, টাকা-পয়সা কিংবা অন্য কোনো মূলবান সামগ্রী থাকে, তবে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়া ঘুম পাড়াইয়া দিলেও চোর-ডাকাতের কথা তার মনের মধ্যে ঘুরপাক খাবে।
আরেক সহকর্মী বললেন,
: মেহমানের কথাও বিবেচনায় রাইখ্যেন! ঘরে মেহমান থাকলে আপনে যতবড় ভোলানাথই হন, তার কথা মনে রাখতে সে আপনেরে বাধ্য করবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মেহমানদের লইয়াই এই ধাঁধাটা রচিত হইছে...
অফিসে চা পান ছাড়া আরও অনেক কাজকর্ম আছে। ফলে বিষয়টা অমীমাংসিতই রয়ে গেল। ফেরার পথে বাসে যেতে যেতে জাহিন মিয়ার কথাগুলো নিয়ে ভাবতে বসলাম। ভাবতে গিয়ে মনের পর্দায় জাহিন মিয়ার মুখটা উঁকি দিতেই আমি আবিষ্কার করলাম, তার কচি-কোমল মুখেই লেখা রয়েছে এ ধাঁধার উত্তর। সন্তান- সে পুত্র হোক বা কন্যা হোক, ছোট হোক বা বড় হোক, তাদের নিয়ে মা-বাবার ভাবনা কখনোই শেষ না। ছোটবেলায় আমাকে নিয়ে আব্বা-আম্মার মধ্যে যে আকুলতা দেখেছি, এখন আমি নিজে একাধিক সন্তানের পিতা হওয়ার পরও তাদের মধ্যে একই আকুলতা লক্ষ্য করি। সন্তান ও মা-বাবার মধ্যকার বাৎসল্যের এই যে রূপ- বিশ্ব সংসারে তার তুলনা মেলা ভার। এই রূপের কথা বলতে গিয়ে এ মুহূর্তে আমার চোখের সামনে এক বৃদ্ধা মায়ের মুখ ভেসে উঠছে। পাশের গ্রামে বসবাসকারী এই বৃদ্ধা মা তার একমাত্র পুত্রের সংসারে ঠাঁই না পেয়ে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পর দেখি, তিনি এক বাটি তরকারি উনার ছেলের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য একজনকে অনুরোধ করছেন! এ দৃশ্য দেখার পর আম্মাকে বললাম,
: আম্মা, এই মহিলার জ্ঞানের নাড়ি তো দেখতেছি খুবই টনটনা!
- কেন, কী হইছে!
ঘটনা শোনার পর আম্মা বললেন,
: বাবা রে! এই বেটি মা হইয়া ঠেকছে! মায়ের মন তো, ভালা-বুড়া কিছু খাইতে গেলেই ছেলের কথা মনে পড়ে। মায়ের মন যে কী জিনিস, তার একটা ঘটনা বলতেছি, শোন-
এক লোক মায়ের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি কইরা তারে বনের মধ্যে রাইখ্যা রওনা হইতেই আকাশে মেঘের গর্জন শোনা গেল। মা তখন মেঘের উদ্দেশে বইল্যা উঠল,
: দেওয়া রে! ডাইক্যা-ডুইক্যা ঘর ল। আমার পুত বাড়িতে যাওয়ার পরে নামিস।
বুঝলা, ওইরকম একটা অবস্থার মধ্যেও মা ছেলের চিন্তায় আকুল হইতেছে। অথচ নিজে যে জঙ্গলের মধ্যে পইড়া বৃষ্টিতে ভিজবে- তারে বাঘে খাবে, না সাপে কাটবে- সেই চিন্তা তার নাই!
এ যুগের আধুনিক মানুষ মা-বাবাকে বনে-জঙ্গলে ফেলে আসে না। কাউকে যাতে বনে-জঙ্গলে দৌড়াতে না হয়, সেজন্য বৃদ্ধাশ্রম, বৃদ্ধনিবাস ইত্যাদির পত্তন হয়েছে। আজকাল অনেক বয়স্ক বাবা-মা’ই এসব স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। মায়ের রক্তে পরিপুষ্ট হয়েছে যে সন্তানের দেহ, বাবার স্নেহের ছায়ায় যার শৈশব-কৈশোরের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে- সেই সন্তান তার মা-বাবাকে কিভাবে কোনো আশ্রমে নির্বাসনে পাঠায়- ভাবতে গেলেই আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার সময় মাঝেমধ্যে পুরান ঢাকার নীরব হোটেলে খেতে যেতাম। একবার খাওয়া শেষ করে রিকশায় ফিরছি- রিকশাওয়ালা একটা ঘটনার কথা বললেন। ঘটনাটা ঘটেছিল নবাব সলিমুল্লাহর আমলে। একদিন নবাব সাহেবের কানে এলো- মহল্লার এক লোক তার মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। তিনি ওই লোকটিকে ডাকালেন। তখন ছিল কাঁঠালের মৌসুম। নবাব সাহেবের হুকুমে বড় সাইজের একটি কাঁঠাল এনে অভিযুক্ত লোকটির তলপেটের সঙ্গে বেঁধে দেয়া হল। এরপর নবাব সাহেব লোকটিকে বললেন, তোমারে পেটে লইয়া তোমার মায়ের চলাফেরা করতে কতটা কষ্ট হইছে- আমি চাই সেইটা তুমি উপলব্ধি কর। এই জন্য তোমার শাস্তি হইল- পেটে কাঁঠাল বান্ধা অবস্থায় আমার ঘরের এই সিঁড়ি দিয়া একতলা থেইক্যা দোতলায় উঠানামা করবা। খবরদার! আমি না বলা পর্যন্ত থামার চেষ্টা করবা না। থামলে বিপদ হবে। কঠিন বিপদ...
বাসায় ফিরে জাহিন মিয়াকে কোলে টেনে নিলাম। বললাম,
: আব্বাজান, আপনের ধাঁধার উত্তর তো আমি পাইয়া গেছি। এইটা হইলেন স্বয়ং আপনে। যেসব মা-বাবার ঘরে আপনের মতো সন্তান আছে, তারা কি সেই সন্তানের কথা ভুইল্যা থাকতে পারবে?
জাহিন মিয়া তার বড় বড় চোখ তুলে আমার দিকে তাকাল। তার সেই চোখ ও ফুলের পাঁপড়িসম মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আমি বললাম,
: তবে একটা কথা। এখন যেমন আপনের কথা আমাদের আহারে-বিহারে, শয়নে-স্বপনে ও নিশি-জাগরণে মনে পড়ে, তেমনি আপনের আম্মা ও আমি যখন আপনের মতো ছোট্ট শিশু হইয়া যাব, তখন আপনেও কিন্তু আমাদের কথা মনে রাখার চেষ্টা করবেন।
জাহিন মিয়া অবাক চোখে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকার পর ভাঙা ভাঙা অক্ষরে বলল,
: আরে! তুমি আর আম্মু তো অনেক বড়! তোমরা আমার মতো ছোট হবা কেমনে?
আমি হেসে বললাম,
: আব্বাজান, ছোট হওয়া কোনো সমস্যা না। আব্বু-আম্মুরা যখন বুড়া হয়, তখন তোমার মতন শিশু হইয়া যায়...
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

ওস্তাদের মার শেষ রাতে by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক

কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর চার সপ্তাহ আগে দেশের চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুরসহ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারদলীয় বা সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা কেউই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি। কেন এই বিপর্যয়? আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তিবর্গ ও বুদ্ধিজীবীরা পত্রিকার কলামে, টেলিভিশনের টকশোগুলোতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিশাল পরাজয়ের বিভিন্ন কারণ বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু তারা একটি বিষয় এড়িয়ে গেছেন, যেটি পত্রিকার কলামেও আসেনি এবং টকশোগুলোতেও কেউ বলেননি। সেটি হচ্ছে- বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে। জনগণ এ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিশাল পরাজয়ই তা প্রমাণ করে। এ কথাগুলো বলার পেছনে কারণ হল- চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবির পর সরকারের সামনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে সরকার তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি প্রমাণ করতে চেয়েছিল। কারণ গোপালগঞ্জের পরেই গাজীপুরকে দ্বিতীয় আওয়ামী ঘাঁটি মনে করা হতো। আর এ কারণে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারি দল সর্বশক্তি নিয়োগ করে। বর্তমান সরকারের সংসদ সদস্যরা সপরিবারে নির্বাচনী এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন জুগিয়েছেন। ঢাকা থেকে উচ্চপদস্থ নেতাকর্মীরাও সেখানে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছেন। বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীরাও জনসমর্থন জুগিয়েছেন। আমি নিজেও ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে সশরীরে বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করেছি। ভোট চেয়েছি। অর্থাৎ উভয় পক্ষই সর্বাত্মক শক্তি নিয়োগ করেছে। সরকার জয় চেয়েছে তাদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করার জন্য। বিরোধী দলও জয় চেয়েছে তাদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করার জন্য। জনগণ বিরোধী শিবিরেই তাদের রায় দিয়েছেন। সুতরাং বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা কোন অবস্থানে আছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর অনেক পত্রিকার শিরোনাম ছিল- ‘প্রার্থীর পরাজয় হয়নি, আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে’। গাজীপুরের ক্ষেত্রেও অনেককেই বলতে শুনেছি যে, আজমত উল্লাহর পরাজয় হয়নি, আওয়ামী লীগেরই পরাজয় হয়েছে। যাই হোক, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন কোনো সহিংসতা হয়নি, এ কথা সত্য। কিন্তু হতে হতে থেমে গেছে এ রকম অনেক ঘটনা রয়েছে। এ নির্বাচনে প্রায় সাড়ে সাতশ’ র‌্যাব সদস্য নিয়োগ করা হয়েছিল। গাজীপুর জেলার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাইরে থেকে আরও পুলিশ সদস্য এনে সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকাটি যদি ১৩০ বর্গকিলোমিটার হয়, তাহলে ওই সংখ্যাকে পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হলে দেখা যাবে প্রতি বর্গকিলোমিটারে কতজন পুলিশ সদস্য রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যে সংখ্যক আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে সে সংখ্যক আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ করা যাবে কি-না? উত্তর হল, যাবে না।
নির্বাচন কমিশনের কাছে বিরোধী শিবির থেকে অনেক অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এ অভিযোগের নির্ভরযোগ্য কোনো জবাব নির্বাচন কমিশন দিতে পারেনি। পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠান করা নির্বাচন কমিশনের জন্য ছিল একটি অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয়। এ অভিজ্ঞতা দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করার মতো ভৌত অবকাঠামো কি নির্বাচন কমিশনের আছে? আমার মূল্যায়নে, নেই। বাংলাদেশের সব মিডিয়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উপস্থিত থেকে সার্বক্ষণিক তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ঠিক অনুরূপভাবে এ মিডিয়াগুলো কি জাতীয় নির্বাচনে দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে পারবে? পারবে না। সুতরাং জাতীয় নির্বাচন যদি দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আইন-শৃংখলার বিষয়টি অবহেলিত হবে। পর্যবেক্ষণ অবহেলিত হবে। মিডিয়ার পক্ষ থেকে মনোযোগ সীমিত হয়ে যাবে। আর এ অবস্থায় ওস্তাদ তার শেষ খেলাটি খেলবেন। অর্থাৎ ওস্তাদের মার শেষ রাতে। কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর সরকার গঠন নির্ভর করবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পড়ি কী মরি যেভাবেই হোক না কেন, ফলাফল সরকারের পক্ষে নিতে চেষ্টা করবেই। কারণ সরকারি দলের মধ্যে একটি আতংক ঢুকে গেছে। তারা মনে করছে, ‘আমরা যদি ক্ষমতাচ্যুত হই তাহলে আমাদের কৃতকর্ম ও ভুল কর্মকাণ্ডের জন্য আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হচ্ছে ক্ষমতায় বহাল থাকা।’ অতএব সরকার যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় বহাল থাকার চেষ্টা করবে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিয়ে কোনোভাবেই সরকার গঠন করা যায় না। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়। সুতরাং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। অতএব জাতীয় নির্বাচনের জন্য অবশ্যই একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন। যে যত কথাই বলুন না কেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই।
সরকার যদি ঢাকা মহানগরীকে অনির্বাচিত ব্যক্তি দিয়ে পরিচালনা করতে পারে, অনির্বাচিত ব্যক্তি দিয়ে সরকার যদি পার্বত্য চট্টগ্রামকে চালাতে পারে, ৬৪ জেলায় প্রশাসন চালাতে পারে অনির্বাচিত ব্যক্তি দিয়ে, তাহলে সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেন বলছেন, বাংলাদেশকে এক ঘণ্টার জন্যও কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তির হাতে দেবেন না? এটা তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গোয়ার্তুমি। অবস্থাদৃষ্টে প্রশ্ন এসে যায়- তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ? তিনি কি কোনো কারণে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সংকল্পবদ্ধ? এ প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই। তিনি যদি উদার হতেন, বাস্তবমুখী হতেন তাহলে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি বিবেচনায় আনতেন। খোদ মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। সুতরাং তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনোভাবেই বাদ দেয়া যাবে না।
১৯৮৬ সালে লালদীঘি ময়দান থেকে উচ্চারণ এসেছিল, এরশাদের পাতানো নির্বাচনে কেউ অংশগ্রহণ করবে না। কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টা পরেই দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল ওয়াদার বরখেলাপ করে ওই পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এতে এরশাদ উপকৃত হন। কিন্তু বিএনপি আপস করেনি। নীতিতে অটল থেকেছে। তার পুরস্কার পেয়েছে। তবে এরশাদের অনেক নীতির সঙ্গে আমি একমত। তার অনেক ভালো কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানাই। তার প্রশাসনিক অনেক প্রস্তাবের সঙ্গেও আমি একমত। এরপরও বলতে হয়, ১৯৮৬ সালের রাজনৈতিক নির্বাচনটি অনুষ্ঠান করা তার জন্য ছিল অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। সেই নির্বাচনটি করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমার মনে হচ্ছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে এরশাদ সেই উপকারের বদলা দেবেন। রাজনৈতিক টানাপোড়েনে দেশ একটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গার্মেন্ট, ব্যাংক, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদেশে কর্মসংস্থান, নির্মাণ শিল্প, আবাসন খাত ইত্যাদি ছাড়াও আরও অনেক বিষয় সংকটের মুখে রয়েছে। এ সংকটে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে। আমাদের এই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর সে জন্য দরকার সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ। সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ যাতে বজায় থাকে সে জন্য সরকারকেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি না আসে, তাহলে ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। ১৮ দলীয় জোট যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে বর্তমান সরকার কাদের নিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করবে তারও একটি খসড়া হয়তো এরই মধ্যে করে রেখেছে। সুতরাং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত দল নিয়ে সরকার সংসদে থাকবে।
দেশের বহু বুদ্ধিজীবী বিভিন্ন টকশোতে বলছেন, সরকারের একগুঁয়েমির কারণে দেশ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার ভয় হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অবস্থা মিসরের মতো না হয়ে যায়। মিসরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে অভ্যুত্থান হয়েছে। দুটি পক্ষের মধ্যে এক পক্ষে আছে সেনাবাহিনী সমর্থিত নাস্তিকতাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা। অপর পক্ষে রয়েছে আস্তিকতাবাদী ও গণতন্ত্রকামীরা, যারা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট মুরসি ব্যর্থ হলে এবং তিনি সুযোগ্য প্রেসিডেন্ট না হলে সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বদলানোর প্রস্তাব দেয়া যেতে পারে। কিন্তু ভোটের রায় বাতিল করা, সংবিধানকে লংঘন করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সদস্য হিসেবে বলতে চাই, আমাদের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের ৪২ বছরের ইতিহাসে যে গৌরব অর্জন করেছে, তার জন্য সশ্রদ্ধ অভিনন্দন। কিন্তু মিসরের সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। তাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের জনগণের পালসস্বরূপ। আমাদের সেনাবাহিনী কোনো দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করেনি। দেশের আপদে-বিপদে মহাদুর্যোগে এ সেনাবাহিনী জনগণের পাশে থেকেছে। সুতরাং এই সেনাবাহিনী সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে আমি মনে করি। কাজেই মিসরের মতো কোনো পরিস্থিতি আমাদের দেশে ঘটবে না এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আমাদের সেনাবাহিনী গণতন্ত্রের পাশে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।
মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক : কলাম লেখক; সভাপতি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

ম্যান্ডেলার স্বাস্থ্য নিয়ে আমার সংশয় কমে গেছে: গ্রাসা

দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল বলেছেন, স্বামীর স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর সংশয় কমে গেছে। কারণ, তাঁর শরীর চিকিৎসায় ‘ইতিবাচকভাবে সাড়া’ দিয়ে যাচ্ছে। সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এসএবিসি) বরাত দিয়ে চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গত শুক্রবার জানায়, গ্রাসা ম্যাশেল তাদের বলেছেন, ‘ম্যান্ডেলা চিকিৎসার প্রতি সাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। আমি এটা বলতে পারি, এক সপ্তাহ আগেও ম্যান্ডেলাকে নিয়ে আমি যে সংশয়ে ছিলাম, আজ সেই সংশয় অনেক কমে গেছে।’ এর আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার পর পর ম্যান্ডেলাকে দেখতে হাসপাতালে যান দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। তিনিও গ্রাসা ম্যাশেলের মতোই জানান, ম্যান্ডেলা চিকিৎসার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। ফুসফুসে নতুন করে সংক্রমণের কারণে গত ৮ জুন প্রিটোরিয়ায় মেডিক্লিনিক হার্ট হাসপাতালে নেওয়া হয় ম্যান্ডেলাকে। এর পর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ৯৪ বছর বয়সী ম্যান্ডেলা। আইএএনএস।

ফ্রান্সে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত ৬

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে গত শুক্রবার এক ট্রেন দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে এটি দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। ত্রুটিপূর্ণ সুইচের কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর। শুক্রবার দুপুরের পর ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে একটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সন্ধানে রাতভর কাজ করেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্ঘটনার কারণ বের করতে তদন্তকারীরা গতকাল শনিবার কাজ শুরু করেন। ফ্রান্সের জাতীয় রেল কোম্পানি এসএনসিএফ গতকাল বলেছে, ট্রেনটি এর সুইচের একটি অংশের ত্রুটির কারণে নির্ধারিত লাইন পরিবর্তন করে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্রতগামী ট্রেন চলাচলের জন্য ফ্রান্সের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এসএনসিএফের অবকাঠামো-বিষয়ক মহাব্যবস্থাপক পিয়ের আইজার্ড বলেন, দুটি রেললাইনের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী সুইচের একটি ক্লিপ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, দেশের রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত এ রকম প্রায় পাঁচ হাজার যন্ত্র পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে পরিবহনমন্ত্রী ফ্রেডেরিক কিউভিলার দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মনুষ্যসৃষ্ট ত্রুটির কথা নাকচ করে বলেন, বরং দুর্ঘটনা তদন্তে ‘রোলিং স্টক, অবকাঠামো ও সূক্ষ্ম সংকেতব্যবস্থার’ ওপর দৃষ্টি দেওয়া হবে। তিনি ট্রেনচালকের দ্রুত সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন। এএফপি।

বিদায় টেলিগ্রাম!

১৮৩৭ সালের পাঁচ কাঁটার একটি টেলিগ্রাফ যন্ত্র
আর আসবে না মা-বাবা বা স্ত্রী-পুত্রের গুরুতর অসুস্থতার খবর জানিয়ে চার শব্দের সেই বিষণ্ন বার্তা: ‘ফাদার সিরিয়াস, কাম শার্প।’ টেলিগ্রামকে চিরদিনের জন্য বিদায় দিচ্ছে ভারত। আগামীকাল সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ১৬৩ বছর ধরে চলে আসা এই সেবা। মুঠোফোন আর ই-মেইলের কল্যাণে চিঠি যায় যায় করছে। তার আগেই বিদায় নিল টেলিগ্রাম। বিশাল ভারতে সুদীর্ঘকাল টেলিগ্রাম ছিল জরুরি খবর পাঠানোর প্রধান মাধ্যম। কেবল দুঃসংবাদ নয়, বড় আনন্দের খবর, শুভেচ্ছা বার্তা এমনকি পত্রিকায় সংবাদ পাঠানোর মাধ্যম ছিল এই টেলিগ্রাম। সেই টেলিগ্রাম হেরে গেল প্রগতির দৌড়ে। আজ রোববার রাত আটটার পর বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে শেষ হবে ভারতের টেলিগ্রাম যুগ। মুম্বাইয়ের কেন্দ্রীয় টেলিগ্রাম অফিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা বৈশালী কুডলেকর সাংবাদিকদের বলেন, এখন মুঠোফোনের যুগে কেউ আর টেলিগ্রাম করেন না বললেই চলে। তা ছাড়া টেলিগ্রামের খরচ মুঠোফোনের চেয়ে অনেক বেশি। এদিকে শেষ টেলিগ্রাম করার সুযোগকে অনেকেই কাজে লাগাচ্ছেন। নিকটজনদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাচ্ছেন টেলিগ্রাম করে। বলিউডের অনেক তারকাও টেলিগ্রামের মারফত শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা হতে পারে

মুনির এ মালিক
পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল মুনির এ মালিক বলেছেন, চাকরিরত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে বাধা নেই। কারণ পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্ট ১৯৫২ এবং পাকিস্তান পেনাল কোড বা ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে এ ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ নেই। অ্যাটর্নি জেনারেল মুনির এ মালিক গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এ কথা বলেন। তবে একে ব্যক্তিগত মত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কোনো সামরিক কর্মকর্তা তাঁর কর্তৃত্বের অপব্যবহার করলে ফৌজদারি মামলা হতেই পারে। তিনি বিভিন্ন রায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, যেসব বিষয়ে চাকরিরত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না, সেই বিষয়গুলোর মধ্যে কর্তৃত্বের অপব্যবহারের বিষয়টির উল্লেখ নেই। বিচারপতি জাওয়াদ এস খাজার নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চের সামনে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন। ওই বেঞ্চে জনৈকা আবিদা মালিকের একটি আবেদনের শুনানি চলছে। আবিদার স্বামী তাসিফ আলী ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর নিখোঁজ হন। তাঁর অভিযোগ, মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের (এমআই) মেজর হায়দার তাসিফ আলীকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। এই শুনানিতে এমআইয়ের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন আইনজীবী মোহাম্মদ ইবরাহিম সাট্টি। অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের আগে ইবরাহিম সাট্টি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সাট্টি বলেন, পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ীই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কিছু বিশেষ সুবিধা ভোগ করে। সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডও সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। ডন।

এডওয়ার্ড স্নোডেনকে নিয়ে পুতিন-ওবামা ফোনালাপ

এডওয়ার্ড স্নোডেন
এডওয়ার্ড স্নোডেনের বিষয় নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে গত শুক্রবারের এ কথোপকথনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। এদিকে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা ও উরুগুয়ে ইউরোপের চারটি দেশ থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট বা এ ধরনের কাগজপত্র না থাকায় মস্কোর শেরেমেয়িতেভো বিমানবন্দরের ট্র্যানজিট এলাকায় আটকা পড়েছেন স্নোডেন। শুক্রবার তিনি আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে সাময়িকভাবে রাশিয়ার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ওই বৈঠকের পর পুতিনকে টেলিফোন করে কথা বলেন ওবামা। তবে স্নোডেনকে নিয়ে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছে, তা জানা যায়নি। হোয়াইট হাউস বলেছে, কয়েক দিন আগেই পুতিনের সঙ্গে ওবামার ফোনে কথা বলার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ীই শুক্রবার কথা বলেন তাঁরা। শুক্রবার আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় স্নোডেন জানান, তিনি লাতিন আমেরিকার কোনো দেশেই আশ্রয় নিতে চান। তবে সেখানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রাশিয়ায় সাময়িকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। এদিকে লাতিন দেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা ও উরুগুয়ের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট মার্কোসার শুক্রবার এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে নিজেদের অধিকারের কথা তুলে ধরেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিটি দেশেরই রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার অধিকার রয়েছে। মার্কোসার জোটের চার দেশ ইউরোপের চার দেশ স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও পর্তুগাল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টের বিমানকে সম্প্রতি আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি ওই চার দেশ। মোরালেস মস্কো থেকে বলিভিয়ায় ফেরার সময় বিমানে স্নোডেন আছেন সন্দেহে দেশগুলো নিজ নিজ আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। উরুগুয়ের রাজধানী মন্টিভিডিওতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মার্কোসার নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা কির্চনার বলেন, এখনো কয়েক শতাব্দী আগের মতোই ঔপনিবেশিকতার চর্চা করা হয়। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ বলেন, ভবিষ্যতে যাতে মোরালেসের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স।

মুরসি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিসহ তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারি তদন্ত কর্মকর্তার দপ্তর থেকে গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা মুরসিসহ মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগের তদন্ত করছে।  বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গুপ্তচরবৃত্তি, বিক্ষোভকারীদের হত্যায় উসকানি দেওয়া, সামরিক ব্যারাকে হামলা এবং অর্থনীতির ক্ষতিসাধন। তবে কে বা কারা অভিযোগ এনেছে, এ ব্যাপারে সরকারি দপ্তর থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, তারা এখন অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় নথি তৈরি করা হবে। এর ফলে মুরসি ও তাঁর সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে। এতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শুরু করা যাবে। উল্লেখ্য, ৩ জুলাই সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে অজ্ঞাত স্থানে তাঁকে আটক করে রেখেছে। তবে দেশটির অন্তর্বর্তী নেতারা জানিয়েছেন, মুরসিকে ‘নিরাপদ স্থানে’ রাখা হয়েছে।  কাল গণবিক্ষোভের ডাক: এদিকে মুরসিকে পুনর্বহালে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তাঁর সমর্থকেরা। কাল সোমবার দেশজুড়ে নতুন গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে মুরসির দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (এফজেপি)। এফজেপির নেতা এসাম আল-ইরিয়ান ফেসবুকে পোস্ট করা এক বার্তায় গতকাল বলেন, সোমবার মিসরের প্রতিটি এলাকায় জনতা ফুঁসে উঠবে। তারা সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ জানাবে। তিনি আরও বলেন, কোনো একজন ব্যক্তি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা সামরিক সংস্থা তাদের সিদ্ধান্তকে মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান: যুক্তরাষ্ট্র মুরসিকে মুক্তি দিতে গত শুক্রবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়। এর আগে জার্মানিও একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছিল। মুরসির মুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত খোলামেলাভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল। তারা কেবল নির্বিচারে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জার্মানি শুক্রবার মুরসিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার পর তারাও অনুরূপ বিবৃতি দিল। গতকাল শনিবারও কায়রোতে মুরসির সমর্থকেরা নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। এর আগে শুক্রবার মুরসির সমর্থক ও বিরোধীরা আলাদা স্থানে সমাবেশ করে। সেদিন পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কারণে সহিংসতার আশঙ্কা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সে রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এএফপি ও বিবিসি।

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি কোন পথে by আলমগীর হোসেন

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মীর ওপর বর্বরোচিত হামলা-মামলা, সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছিল, এমনকি ছেলে রাজনীতি করার কারণে বৃদ্ধ পিতা অথবা ওই পরিবারের স্কুলপড়ূয়া ছাত্র পর্যন্ত এদের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি,

ঢাকায় যদি হতো! by রানা আব্বাস

৮ জুন মেক্সিকো সিটিতে পালিত কর্মসূচিটির খবর যারা দেখেছেন, বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়েছেন! এতে প্রায় ২ হাজার সাইক্লিস্ট অংশগ্রহণ করেন। অভিনব কায়দায় 'ওয়ার্ল্ড ন্যাকেড বাইক রাইড ডে' পালন করেন তারা।

ড্রাগনের করমর্দন :বাংলাদেশ-ভারত প্রস্তুত? by সুবীর ভৌমিক

চীনের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের অগ্রগতির ব্যাপারে দেশটি আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময় ভারত ও চীন এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা বের করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পেঁৗছেছে।

আজ রোববার by সাবিনা ইয়াসমীন

বাঁধাধরা চাকুরেদের জীবনটা বোধহয় মজারই হয়। তারা সপ্তাহ শেষে একটা দিন অন্তত আলাদা করতে পারেন। এখন যেমন সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার। বেশিরভাগ চাকরিজীবী সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো শুক্রবারের জন্য তুলে রাখেন।

গাজীপুরের শিক্ষা by পলাশ আহসান

শুরু করতে চাই বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের কথা থেকে। গাজীপুরের নির্বাচন চলাকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন যদি নূ্যনতম সুষ্ঠু হয় তাহলে বিএনপি প্রার্থী জিতবে ১ থেকে দেড় লাখ ভোটে।

মামলায় ঢালাও আসামি- সব পক্ষই প্রজ্ঞার পরিচয় দিক

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ভাংচুর ও সংঘাতের প্রতিবিধান হিসেবে আবারও 'অজ্ঞাত' অবিধায় ঢালাও আসামি করে মামলা দায়ের হচ্ছে। এবার এর শিকার কোটাবিরোধী আন্দোলনে নামা শিক্ষিত ও মেধাবী তরুণরা। আমরা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।

বিআরটিসি বাসে দুর্নীতি শর্ষের ভূত তাড়াতেই হবে

সরকারি বাস সার্ভিস বিআরটিসিকে এমন ভূতেই পেয়েছে যে, এই ভূত তাড়ানো যেন প্রায় অসম্ভব! স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী এবং পরবর্তীকালেও বিআরটিসি বাসে চালক-কন্ডাক্টরের যোগসাজশে দুর্নীতি হতো,

৩০ ব্যক্তি আহত ফ্রান্সে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত ৬

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে গত শুক্রবার এক ট্রেন দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে এটি দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা।

পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা হতে পারে

পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল মুনির এ মালিক বলেছেন, চাকরিরত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে বাধা নেই। কারণ পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্ট ১৯৫২ এবং পাকিস্তান পেনাল কোড বা ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে এ ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

মুরসি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিসহ তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারি তদন্ত কর্মকর্তার দপ্তর থেকে গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা মুরসিসহ মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগের তদন্ত করছে।

বিদায় টেলিগ্রাম! by অমর সাহা

আর আসবে না মা-বাবা বা স্ত্রী-পুত্রের গুরুতর অসুস্থতার খবর জানিয়ে চার শব্দের সেই বিষণ্ন বার্তা: ‘ফাদার সিরিয়াস, কাম শার্প।’ টেলিগ্রামকে চিরদিনের জন্য বিদায় দিচ্ছে ভারত। আগামীকাল সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ১৬৩ বছর ধরে চলে আসা এই সেবা।

এডওয়ার্ড স্নোডেনকে নিয়ে পুতিন-ওবামা ফোনালাপ

এডওয়ার্ড স্নোডেনের বিষয় নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে গত শুক্রবারের এ কথোপকথনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি ‘সোমালিয়ায় অপহূত সাত নাবিক জীবিত আছেন’

সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি সাত বাংলাদেশি নাবিক জীবিত রয়েছেন। তাঁদের দ্রুত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের জন্য সরকার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

হেফাজতের দাবি আহমদ শফীর বক্তব্য কুরুচিপূর্ণ নয়

নারী, নারী শিক্ষা ও পোশাক কারখানার শ্রমিকদের চাকরি নিয়ে ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর আপত্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে সংগঠনের চার নায়েবে আমির গতকাল শনিবার যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইফতারে আ.লীগের যোগ না দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক

রাজনীতিবিদদের সম্মানে বিএনপির দেওয়া ইফতারে আওয়ামী লীগের যোগ না দেওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজনীতিকদের সম্মানে খালেদা জিয়ার ইফতার

বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ইফতার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়েছেন। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বা ১৪-দলীয় জোটের কোনো নেতা এতে উপস্থিত ছিলেন না।

সংক্ষিপ্ত রাজধানী

মূসক সপ্তাহ
জাতীয় মূসক সপ্তাহ উপলক্ষে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট মিরপুর ও মোহাম্মদপুর বিভাগ ঢাকার (পশ্চিম) যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার সকালে। ‘দেশের চাকা রাখতে সচল, মূসক দিব আমরা সকল’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিএনএ ল্যাবের কর্মবিরতি স্থগিত



ঢাকা মেডিকেল কলেজের ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁদের কর্মবিরতি এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। ডিএনএ ল্যাবরেটরির নির্বাহী বোর্ড কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও ইউজার ফি বণ্টনের

রাজধানীর পথে নতুন ৮৮টি এসি বাস



যাত্রীসেবার মান বাড়াতে নতুন ৮৮টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নামিয়েছে সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি।
রাজধানীর বিভিন্ন রুটে এসব বাস চলাচল করবে।

যানজট কমাতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মহানগরের ফুটপাতের ৯০ শতাংশ ইতিমধ্যে অবৈধ দখলে চলে গেছে। এসব ফুটপাতে আর হাঁটার পরিবেশ নেই। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট।

নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নদনদীর পানি কমতে থাকায় কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

উদ্বোধন নিয়ে দুই সাংসদের দ্বন্দ্বে নীলসাগর এল না চিলাহাটিতে by মীর মাহমুদুল হাসান

আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১০ জুলাই থেকে চিলাহাটি-ঢাকা পথে চলাচলের কথা থাকলেও দুই সাংসদের দ্বন্দ্বের কারণে তা আটকে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খুলনা শহর রক্ষা বাঁধ হুমকিতে

দুই দশক আগে নির্মিত খুলনা শহর রক্ষা বাঁধটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বাঁধের অনেক স্থানে ব্লক সরে গেছে, কোথাও ব্লক দেবে গেছে। অনেক স্থানে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোনো কোনোও স্থানে বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে।

সাতক্ষীরায় ৪৮টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি ৪৮টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৩টি অধিক, ১৭টি মধ্যম এবং আটটি কম ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোর অধিকাংশই একতলা ভবন। বাকিগুলো দোতলা।

এবার ইলেকট্রনিক ত্বক

বিকলাঙ্গ রোগীদের বিকল্প অনুভূতি ফিরিয়ে দিতে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন ইলেকট্রনিক ত্বক। এটি সংবেদী স্পর্শ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার অনুভূতি শনাক্ত করতে পারবে।

যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের জীবন রক্ষাকারী প্রযুক্তি

কৃত্রিম বাহু সংযোজন ও রক্ত জমাটবদ্ধ করা ও ক্ষত সারানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তি সেনাসদস্যদের গুরুতর আঘাত থেকেও সেরে উঠতে সহায়তা করছে।

প্রশ্ন-উত্তর

প্রশ্ন: শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণে মায়ের বুকের দুধ পাচ্ছে কি না তা বোঝার উপায় কী?
উত্তর: শিশু কাঁদলেই যে সে দুধ পাচ্ছে না এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

শিশুর মুখে আঙুল?



মুখে আঙুল চোষা শিশুদের একটি অভ্যাস। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুরা জন্মের আগে থেকেই সাকিং রিফ্লেক্স বা চোষার প্রবণতা অর্জন করে, মুখে আঙুল চোষা সেই প্রবণতারই অংশ। তবে দুই থেকে চার বছর বয়সের মধ্যে এই প্রবণতা বা অভ্যাস আর থাকে না।

রকমারি বিশ্বের বৃহত্তম ভবন

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী শেংদু শহরে নির্মিত বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড় ভবন’ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৪০০ মিটার প্রস্থ ও ১০০ মিটার (৩৩০ ফুট) উচ্চতার এই ভবনের নাম নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টার।

উন্নয়নের নামে পরিবেশের ক্ষতি বন্ধ হোক রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্প

সরকারি ভাষ্যে ‘উন্নয়ন’ শব্দটি এমন এক দায়মুক্তি অর্জন করেছে যে এর নামে যেকোনো অন্যায়কেও চালিয়ে নেওয়া যায়, বৈধতা দেওয়া যায়। আবাসন প্রকল্প যদি উন্নয়ন হয়, তাহলে প্রশ্ন আসবে—সেটা কার উন্নয়ন।

কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য নয় ডিসিসি নির্বাচন-জটিলতা

বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচন নিয়ে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেছেন, সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

ধর্ম রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল হতে শেখায় by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজান ধৈর্যধারণের মাস। মানুষের কথাবার্তায়, কাজেকর্মে ও চলাফেরায় ধৈর্যধারণের মাধ্যমেই সিয়াম সাধনা পরিপূর্ণ হয়। রমজান মাসে রোজাদার ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করে সব ধরনের পাপকাজ, পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকেন।

ক্ষমতার পালাবদল মিসর কি ঐক্য খুঁজে পাবে? by টমাস ফ্রিডম্যান

যাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির খোঁজখবর রাখেন তাঁরা জানেন, মধ্যপ্রাচ্য এমন এক অঞ্চল, যেখানে চরমপন্থীরা খুব তৎপর, আর মধ্যপন্থীরা গা বাঁচিয়ে চলতে চায়। কিন্তু ১৯৯৩ সালের অসলো শান্তি আলোচনা,

রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী by মহিবুল আরিফ



উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মিরসরাইয়ে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে উদ্যাপিত হলো রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী।
৬ জুলাই মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী উদ্যাপিত হয়।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নির্বাচিত গল্প

সারা দেশের তরুণ গল্পকারদের কাছে একটি সুখবর। এবার আপনাদের গল্প পড়বেন এবং বন্ধুসভার পাতায়প্রকাশের জন্য নির্বাচন-বাছাই করবেন লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এ সুযোগ নিশ্চয় হাতছাড়া করা যায়না।

সৈয়দ শামসুলহক নির্বাচিত কবিতা

সারা দেশের তরুণ কবিদের কাছে সুখবরই বটে। এবার আপনাদের কবিতা পড়বেন এবং বন্ধুসভার পাতায়প্রকাশের জন্য নির্বাচন-বাছাই করবেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুলহক। এ সুযোগ নিশ্চয় হাতছাড়া করা যায়না।

নদীর মুগ্ধতা by রবিউল ইসলাম

নদীর প্রথম ডুয়েট অ্যালবাম মুগ্ধতা বের হয়েছে সঙ্গীতার ব্যানারে। তাঁর সঙ্গে গান করেছেন এ এফ এম তারিক।
২ জুলাই অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়েছে।

আমি অপেক্ষায় রইলাম by ডানা মির্জা

আমি যখন ওই হেলে পড়া গাছটার ফাঁকে দেখলাম একটা শাড়ির আঁচল অস্থির বাতাসে উড়ে বেড়াতে, বুঝতে অসুবিধা হলো না কে ওখানে। আমি জানতাম, নাহ্! ভুল বললাম, গত রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি সে আমায় বিদায় দেবে, কিন্তু বিদায় তো দেয় মিলনের আশায়।

ঘুমধুম পাহাড়ে ২৫ একর ভূমিতে গড়ে উঠেছে কুমিরের খামার লোনা পানির কুমির ডিম দিচ্ছে উঁচু পাহাড়ে by আব্দুল কুদ্দুস

লোনা পানির কুমির ডিম দিচ্ছে উঁচু পাহাড়ে। কুমিরের দৌড়ঝাঁপ দেখতে লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে। পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম ঘুমধুম পাহাড়ে প্রায় ২৫ একর ভূমিতে গড়ে ওঠা ‘আকিজ ওয়াইল্ড লাইফ ফার্ম লিমিটেড’ নামের কুমির প্রজননকেন্দ্রে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

ভোক্তাদের আচরণে পরিবর্তন নেই ব্যবসায়ী নেতাদের প্রচারণার সুফল মেলেনি

একসঙ্গে পুরো রোজার বাজার না করতে এবার আগেভাগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী নেতা ও বাজার তদারকি দলের কর্মকর্তারা। এমন প্রচারণার সুফল মেলেনি। রোজার তিন দিন আগে থেকেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল খুচরা বাজারে।

দম ফেলার ফুরসত নেই দরজির দোকানে

নগরের জিইসি মোড়ের বিপণিকেন্দ্র সেন্ট্রাল প্লাজায় প্রধানত নারীদের পোশাক ও প্রসাধনী বিক্রি হয়। প্রায় সারা বছরই কেনাকাটার ব্যস্ততা থাকে এই বিপণিকেন্দ্রে। তবে গত কয়েক দিন ধরে এখানকার প্রতিটি দোকানে উপচে পড়া ভিড়।

এমভি হোপ দুর্ঘটনা: অন্তত লাশের অপেক্ষায় স্বজনেরা ছয় নাবিকের পরিবারে উৎকণ্ঠা-ক্ষোভ by মাসুদ মিলাদ

আন্দামানে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ এমভি হোপের জীবিত উদ্ধার হওয়া নয় নাবিককে কাছে পেয়ে স্বজনেরা খুশিতে আত্মহারা। কিন্তু উল্টো চিত্র ছয় নাবিকের পরিবারে। নিখোঁজ আটজনের মধ্যে দুজনের মরদেহ খুঁজে পেলেও বাকি নাবিকদের এখনো খোঁজ নেই।

আওয়ামী লীগে আপাতত ঐক্য! by মিঠুন চৌধুরী

পাশাপাশি বসে ওয়ার্ড সম্মেলন পরিচালনা করছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন। দলের আরেক নেতা সাংসদ নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিজের নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বাধা পেরিয়ে সফল যারা

তিন ভাইবোনের মধ্যে শান্ত শেখ তৃতীয়। বাবা একজন কৃষক। মা গৃহিণী। বাবার আয়েই চলে সংসার। অভাবের সংসারে ঠিকমতো খাবারই জোটে না তাদের। এমনও দিন গেছে, দুবেলা খেতে পায়নি তারা।

ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াড ২০১৩ বিশ্ব ভরা প্রাণ by হাসান ইমাম

বিশ্বকে বাঁচাতে দরকার পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা। এ লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশের তরুণেরাও। তরুণদের এমনই একটি উদ্যোগ ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াড, যার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভ (বিওয়াইইএল)।

পড়তে চাইলে ভারতে by আফরিনা হোসেন

বিশ্বায়নের যুগে পুরো পৃথিবীটাই আজ যেন পরিণত হয়েছে ‘গ্লোবাল ভিলেজে’। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই বিপুল এই পৃথিবী দিনকে দিন ছোট হয়ে আসছে। আগে যেখানে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা,

মেধাবী মুখ শীর্ষে মনজিমা by জাহিদ হোসাইন খান

ছোটবেলার সেই কার্টুন চরিত্র ক্যাপ্টেন প্ল্যানেটের কথা মনে আছে? সেই যে উড়ন্ত শক্তিশালী মানব তার বন্ধুদের নিয়ে পৃথিবীকে বাঁচাতে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়াত। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পরিবেশরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ত।

সবার আগে আইইএলটিএস by রুহিনা তাসকিন

কিছুদিন আগেও শুধু যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরাই আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নিতেন। তবে ইদানীং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এটি গ্রহণ করছে।

শাহরি রমজান-সৎ পথে উপার্জন প্রশিক্ষণের মাস by মাওলানা শাহ আবদুস সাত্তার

রমজানুল মোবারক আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার শিক্ষায় প্রতিনিয়ত রোজাদারদের উৎসাহিত করে। এ মাসে রোজাদাররা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, বরকত, মাগফিরাত এবং অশেষ নেয়ামত প্রাপ্ত হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক-কোটাবিরোধীদের নামে চারজনের কাজ, শিবিরও আছে! by নূরে আলম দুর্জয়

বিসিএসসহ সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ রবিবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে এবং এ উদ্যোগ নিয়েছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী।

চার কারণে আ. লীগ যায়নি

রাজনীতিকদের সম্মানে বিএনপি চেয়ারপারসন আয়োজিত ইফতারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা পাল্টে ফেলে আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার ওই ইফতার অনুষ্ঠানে যাননি আওয়ামী লীগ নেতারা।

সিদ্ধান্ত নিয়েও খালেদার ইফতারে যায়নি আ. লীগ-অতিথিরা বললেন 'দুঃখজনক'

রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ইফতার করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তৃতীয় রমজানে আয়োজিত এই ইফতার পার্টিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেউ না এলেও মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি অংশ নেয়।

কী হচ্ছে অনুপ চেটিয়ার?এ সপ্তাহেই ভারত ফেরার খবর, ঢাকা নীরব by মেহেদী হাসান ও ওমর ফারুক

বাংলাদেশের কারাগারে আটক ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা (ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম) নেতা অনুপ চেটিয়াকে ফিরিয়ে দেওয়া ইস্যুতে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল।

৪০ জনকে দায়ী করে মামলার সুপারিশ by আবুল কাশেম

যুব কর্মসংস্থান সোসাইটির (যুবক) কাছে গ্রাহকদের পাওনা অর্থের পরিমাণ দুই হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। পাওনাদার তিন লাখ তিন হাজার ৭৩৯ জন। কিন্তু দেশের ৪৯টি তফসিলি ব্যাংকে যুবকের অর্থ রয়েছে মাত্র ৭৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটাবিরোধী বিক্ষোভ ছাত্রলীগের বাধা

পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ (পিএসসি) সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গতকাল শনিবারও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশিষ্টজনদের বিবৃতি-বক্তব্য মানসিক বিকারপ্রসূত

নারীদের সম্পর্কে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর বক্তব্য কুরুচিপূর্ণ ও বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা বলেন, আহমদ শফীর বক্তব্য নারীদের জন্য অবমাননাকর।

আল্লামা শফীর ওয়াজটি জঘন্য : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, 'নারীদের নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীর দেওয়া বক্তব্য জঘন্য। আল্লামা শফীর একটা কথা দু-এক দিন ধরে টেলিভিশনে দেখছি।

এক ওয়াজে বিতর্কের কেন্দ্রে আল্লামা শফী

দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, কর্মজীবী নারীর সংখ্যা এক কোটি ৭০ লাখ। দেশের অর্থনীতিতে নারীরা বড় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। গার্মেন্ট শিল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মীই নারী।

মার্স ভাইরাস সংক্রমণ-হজযাত্রীদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ সৌদি সরকারের

হজের উদ্দেশে যাওয়া পুণ্যার্থীদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সৌদি আরব সরকার। প্রাণঘাতী মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (মার্স) ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে তাঁদের এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্যারিসে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণাঞ্চলে ট্রেন দুর্ঘটনায় ছয়জন মারা গেছে। আহত হয়েছে ৩০ জন। গত শুক্রবার প্যারিস থেকে লিমোজগামী একটি যাত্রাবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সিরিয়ায় ঘাঁটি গেড়েছে পাকিস্তানি তালেবান

পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) নেতা মোহাম্মাদ আমিন জানিয়েছেন, সিরিয়ায় ঘাঁটি গেড়েছেন তাঁরা। সাবেক আফগান যোদ্ধারা তাঁদের এ কাজে সহযোগিতা করেছে।

ইরাকে সহিংসতায় নিহত ৪৭

ইরাকের কয়েকটি স্থানে গত শুক্রবার সহিংসতায় অন্তত ৪৭ জন মারা গেছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুকে একটি ক্যাফেতে আত্মঘাতী হামলায় মারা গেছে কমপক্ষে ৩৮ জন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সফলদের স্বপ্নগাথা ১০০ তে শূন্য পেলাম: হুমায়ূন আহমেদ

আগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সময়ের ঘটনা তিনি লিখেছেন হোটেল গ্রেভার ইন-এ। ওই লেখার নির্বাচিত কিছু অংশ ‘স্বপ্ন নিয়ে’র পাঠকদের জন্য।

সময়চিত্র কোটা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা by আসিফ নজরুল

কোটা নিয়ে প্রথম আলোয় আমি লিখি ২০১০ সালে। লেখার শিরোনাম ছিল কোটা (৫৫) বনাম মেধা (৪৫)। এই লেখার আগে আমার শ্রদ্ধেয় একজন আইনজীবীর সঙ্গে এ বিষয়ে ছোটখাটো একটা মতৈক্য হয়।

সরল গরল সংবিধান নিয়ে পুলিশের মিথ্যা মামলা by মিজানুর রহমান খান

র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনের বিরুদ্ধে র্যাবের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা বিস্মিত যে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তির প্রশ্নে জড়িত এমন একটি মিথ্যা মামলা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুরের মেয়র মাসিক সম্মানীও পাচ্ছেন না তিন মেয়রকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছে না সরকার by শেখ সাবিহা আলম

‘আস্থাভাজন’ না হওয়ায় তিন সিটি করপোরেশনের মেয়রকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছে না সরকার। পদমর্যাদা ঠিক না হওয়ায় তাঁরা কোনো সম্মানীও পাচ্ছেন না। এই তিন মেয়র হলেন নারায়ণগঞ্জের সেলিনা হায়াৎ আইভী, কুমিল্লার মনিরুল হক ও রংপুরের সরফুদ্দীন আহমেদ।

মন্ত্রীদের মনগড়া সিদ্ধান্তের খেসারত দিচ্ছে রেলওয়ে by আনোয়ার হোসেন

‘সৈয়দ আবুল হোসেনের ডেমু’কে যাত্রীরা বলেন ‘অবাস্তব এক্সপ্রেস’। ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কালনী এক্সপ্রেস’ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ওবায়দুল কাদের সময়সূচি বদলানোয় উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী কমে গেছে।

কোটি ডলারের ভবন ধুলায় মেশাবে যুক্তরাষ্ট্র!

ফুটবল মাঠের চেয়ে বড় জায়গাজুড়ে দোতলা একটি ভবন। প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির ভেতরে সারি সারি চেয়ার-টেবিলে সাজানো বিরাট এক অপারেশন সেন্টার, সভাকক্ষ, কর্মকর্তাদের বসার জন্য বড় বড় কক্ষ, শক্তিশালী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক সব আসবাব।

শর্ত মানলে স্নোডেনকে আশ্রয় দেবে রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা- সিআইএর সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। লাতিন আমেরিকার কোনো দেশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রাশিয়ার কাছে অস্থায়ী আশ্রয় চেয়েছেন তিনি।

'ম্যান্ডেলাকে দেখে চেনার উপায় নেই'

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেলসন ম্যান্ডেলাকে দেখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তাঁর সহযোদ্ধা আহমেদ কাতরাদা (৮৩)। গত বুধবার বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ অনুভূতির কথা জানান। তিনি ম্যান্ডেলার শারীরিক অবস্থারও বর্ণনা দেন।

অপেক্ষা শুধু একটি ফোনের

ব্রিটিশ সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারীর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজপরিবার। শুধু রাজপরিবার বললে ভুল হবে, গোটা বিশ্বই অপেক্ষার প্রহর গুনছে। যেকোনো মুহূতেই আসতে পারে কেট-উইলিয়ামের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কাঙ্ক্ষিত খবর।

পাকিস্তানে আগস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন!

পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত হয়তো ক্ষমতায় থাকবেন তিনি। তবে তার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে।

মুরসির মুক্তি চায় ওয়াশিংটন

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মুক্তি দিতে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মুরসির সমর্থকদের ডাকা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে এ আহ্বান জানায় তারা।

ভুটানে পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দল জয়ী

ভুটানে গতকাল শনিবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট নেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষমতাসীন পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি পার্টি (ডিপিটি) অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গেছে। জয় পেয়েছে প্রধান বিরোধী দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি)।

ইফতার রাজনীতি-সুসম্পর্কের সূত্র হতে পারে

রাজনৈতিক দলগুলোর আয়োজনে ইফতার মাহফিলকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবছর। দৃষ্টি থাকে বড় দলগুলোর দিকে বেশি। প্রত্যেকে চান, বড় দুই দলের শীর্ষ নেতাদের একসঙ্গে দেখার সুযোগ তাঁরা পাবেন।

বাজারে অরাজকতা-দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিন

ছুটির দিন থাকায় শুক্রবার বাজারে ক্রেতার ভিড় ছিল বেশি। আর সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এক দিন আগে যে কাঁচা মরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১০০ টাকা, শুক্রবারে তা বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-ফার্নিচার থেকে বিষ

আলোচিত একটি রাসায়নিক বিষের নাম হলো ফরমাল্ডিহাইড। বাসায় ব্যবহৃত যেসব জিনিস থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ফরমাল্ডিহাইড তৈরি হতে পারে, তার মধ্যে মশার কয়েল, সিগারেট, ফার্নিচারে ব্যবহৃত পলিশিং বস্তু, ফল বা সবজিতে ব্যবহৃত ফরমালিন ইত্যাদি অন্যতম।

ভালো থাকুন-রোজায় হৃদরোগ ও রক্তচাপজনিত সমস্যা

হৃদরোগীদের অসুস্থতার তীব্রতা বিবেচনা করে রোজা রাখতে হবে। সেহরি-ইফতারে তেল, চর্বি ও ভাজা-পোড়াজাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। এসব খাবার রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, যা হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর।

ব্যক্তিত্ব-আন্তন চেখভ

আন্তন চেখভ বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম সেরা ছোট গল্পকার হিসেবে বিবেচিত। পাঠক, সমালোচক ও সময়- সবার কাছেই তিনি এখনো সমান জনপ্রিয় ও মর্যাদাবান। ছোটগল্প ছাড়া লিখেছেন নাটকও। চারটি ক্লাসিক নাটক রচনা করেন চেখভ।

পবিত্র কোরআনের আলো-সব নবী-রাসুলরা সৎকর্মশীল ছিলেন

১০১. রাব্বি কাদ আ-তাইতানী মিনাল মুলকি ওয়া আল্লামতানী মিন তা'বীলিল আহা-দীছি ফা-তিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি, আনতা ওয়ালিয়্যী ফিদ দুন্য়া ওয়াল আ-খিরাতি, তাওয়াফ্ফানী মুসলিমান ওয়া আলহিকনী বিস সা-লিহীন।

'বিসিএস পরীক্ষায় কোটা সংস্কার হওয়া উচিত'

সরকারি কর্ম কমিশন পরিচালিত বিসিএস পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি পুনর্নির্ধারণ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসির) সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা'দত হোসাইন।

বিশেষ সাক্ষাৎকার : ইফতেখারুজ্জামান-মানুষ চায় একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা ও শাসন

সম্প্রতি রাজনীতিবিদরা দুর্নীতির শীর্ষে বলে টিআই জরিপ প্রকাশ পেলে তা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সরকারে থাকা রাজনীতিবিদরা এটিকে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সুস্থ বিবেকই শ্রেষ্ঠ আদালত by ডা. মো. ফজলুল হক

একটি বিদেশি চ্যানেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কৃষকদের সর্বস্বান্ত করেছে ধ্বংসাত্মক হরতাল। কারণ কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত না করতে পেরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা।

অনলাইন থেকে-জাতিসংঘে মালালা

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা পাকিস্তানি কিশোরী মালালা জাতিসংঘে বক্তব্য উপস্থাপন করলেন গত শুক্রবার। সেদিন ছিল তাঁর ১৬তম জন্মদিন। মেয়েদের শিক্ষার সমসুযোগ চাইছিলেন বলে মালালা তালেবানের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন; কিন্তু মালালা থেমে যাননি তার পরও।

কোটাব্যবস্থা ও সাংবিধানিক নায্যতা by সুলতান মাহমুদ রানা

বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও রক্ষার দাবিতে পাল্টাপাল্টি আন্দোলন কর্মসূচিতে সারা দেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল। এরই মধ্যে শাহবাগের 'মেধা চত্বরের' আন্দোলনকারীরা নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং পালন করতে শুরু করেছে।

জাতীয় ও সিটি নির্বাচন by এ এম এম শওকত আলী

বহু বছর ধরেই জাতীয় বা সংসদ নির্বাচনই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক বছর ধরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনও মনে হয় হয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সবাই মনে করত যে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীই জয়লাভ করবে।