Wednesday, March 3, 2010

জিদান মরতেও রাজি, কিন্তু...

কঠিন প্রতিজ্ঞা, প্রয়োজনে মরতেও রাজি, কিন্তু কোনোভাবেই এই প্রতিজ্ঞার অন্যথা করবেন না জিনেদিন জিদান। ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে আচমকা মারা সেই ঢুস আর লাল কার্ড দেখে বাইরে চলে যাওয়া, ফরাসি জাদুকরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অধ্যায় নিয়ে এই প্রতিজ্ঞা। স্প্যানিশ পত্রিকা এল পেইসকে তিনবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার বলেছেন, মরে গেলেও মাতেরাজ্জির কাছে ক্ষমা চাইবেন না তিনি, ‘আমি ফুটবল খেলাটার কাছে ক্ষমা চাইতে পারি, চাইতে পারি সমর্থক-ভক্তদের কাছেও, চাইতে পারি দলের কাছে, কিন্তু ওর (মাতেরাজ্জি) কাছে নয়, কখনোই নয়। এটা হবে অসম্মানের...এর চেয়ে বরং আমি মরে যাব।’
ফাইনাল শেষেই নাকি ইতালির ড্রেসিংরুমে গিয়ে ‘স্যরি’ বলে এসেছেন জিদান, তবে শুধু মাতেরাজ্জিকে ছাড়া। বার্লিনের ফাইনালে মাতেরাজ্জি আসলে কী বলেছিলেন, এটা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। সেই রহস্য জিদানও ফাঁস করেননি। ‘মাঠে অনেক কিছু ঘটে, অনেক কথা হয়, আমাকে তো কত কিছুই বলা হতো। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। অজুহাত দেখাচ্ছি না, কিন্তু আমার মা ছিলেন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি। একাধিকবার ওরা আমার মাকে অপমান করেছে, আমি কিছুই বলিনি। কিন্তু মাতেরাজ্জি যা বলেছে...সহ্য করতে পারিনি।

ছয় শূন্যের পরও জিম্বাবুয়ের জয়

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে মাত্র ১০৫ রানে অলআউট। তখন কে ভেবেছিল, এর পরও জিম্বাবুয়ে ২৬ রানে জিতবে! গত পরশু পোর্ট অব স্পেনে সফর-সূচক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ২০ ওভার খেলেও করতে পারল মাত্র ৭৯ রান!
টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোরও কৃতিত্ব আছে জিম্বাবুয়ের। সেই তুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়টা আর এমন কি! তবে জিম্বাবুইয়ানদের এই জয়ের মাহাত্ম্য অন্য। শূন্য রানেই যে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল তারা। তিনটি উইকেটই নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার সুলেমান বেন। ম্যাচের প্রথম বলেই সিবান্দাকে বোল্ড করার পর বেন তাঁর দ্বিতীয় ওভারে ফিরিয়েছেন টাইবু ও মাতসিকেনেরিকে।
পরে শূন্য রানে আউট হয়েছেন জিম্বাবুয়ের আরও তিন ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে ছয় ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে আউট হওয়ার মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা এটি। প্রথমটির ভুক্তভোগী কেনিয়া, ২০০৭ বিশ্বকাপে ডারবানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেবার কেনিয়া ৭৩ রানে অলআউট হলেও এ দিন জিম্বাবুয়ের ইনিংস এক শ ছাড়িয়েছে মাসাকাদজা (৫৭ বলে ৪৪) ও চিগুম্বুরার (১৯ বলে ৩৪) কল্যাণে। ব্যাটে রান পেয়েছেন আর মাত্র দুজন—ল্যাম্ব (১১) ও ক্রেমার (২)। ২৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন ড্যারেন স্যামি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের উমর গুল (৫/৬) এবং কেনিয়ার নেহেমিয়া ওদিয়াম্বোর (৫/২০) পর এটাই সেরা বোলিং। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে বেন নিয়েছেন ৪ উইকেট, টি-টোয়েন্টিতে যা চতুর্থ সেরা বোলিং।
জিম্বাবুয়ে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদের স্পিন-দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে। এই ম্যাচে বিশ্রামে থাকা নিয়মিত অধিনায়ক ক্রিস গেইলের জায়গায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দিনেশ রামদিন। দায়িত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি ২৩ রানে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ৭৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি। টি-টোয়েন্টিতে এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিম্ন স্কোর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭ উইকেটের সব কটিই নিয়েছেন স্পিনাররা—সবচেয়ে বেশি ৩ উইকেট ক্রেমারের। তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে: ১৯.৫ ওভারে ১০৫ (মাসাকাদজা ৪৪, চিগুম্বুরা ৩৪, ল্যাম্ব ১১; স্যামি ৫/২৬, বেন ৪/৬)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ৭৯ (রামদিন ২৩*, চন্দরপল ২০, স্মিথ ১২, বারাথ ৮; ক্রেমার ৩/১১, ল্যাম্ব ২/১৪)। ফল: জিম্বাবুয়ে ২৬ রানে জয়ী।ম্যান অব দ্য ম্যাচ: গ্রায়েম ক্রেমার।

খুদে বক্সারদের চোখে স্বপ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসেছে সোলেমান, আশরাফুল, আইয়ুব হাসান। যশোর থেকে শফিক, আবেদ, সোহান। মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে কাল শুরু হওয়া জাতীয় জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-১৬) ও ইন্টারমিডিয়েট (অনূর্ধ্ব-১৮) বক্সিংয়ে অংশ নিতে এসেছে ঢাকায়। খেলা হবে ১০টি ওজন শ্রেণীতে। ফাইনাল ৫ মার্চ। টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করছে সাউথইস্ট ব্যাংক।
নতুন স্টেডিয়ামের নতুন বক্সিং রিং। গ্যালারিতে লাইন ধরে বসে থাকা কিশোরদের কলকাকলিতে মুখরিত পুরো স্টেডিয়াম। মাইকে বাজছে মৌসুমী ভৌমিকের গান—‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি....স্বপ্ন দেখব বলে।’ গানের মতোই, সারা দেশের ৬৪টি ক্লাব, সার্ভিসেস সংস্থা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার ২০৫ জন খেলোয়াড়ের চোখে-মুখে বক্সার হওয়ার স্বপ্ন। গত মাসে দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনা জেতা আবদুর রহিম ও জুয়েল আহমেদই যে স্বপ্নে আরও রং চড়িয়েছেন।
সোলেমান এসএ গেমসের সুবাদে এদের নাম শুনেছে আগেই। বক্সিংয়ে সোনা জিতলে অনেক টাকা পাওয়া যায়, এই আশাতেই পৌরসভা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সোলেমানের বক্সিংয়ে আগ্রহ। কাল এক ফাঁকে জানাল, ‘আমার বাবা রফিকুল ইসলাম সাইকেলের মেকানিক। আমি বক্সিংয়ে সোনা জিতে বাবাকে বড় দোকান করে দেব।’ বাড়ির পাশের ‘রাজু ওস্তাদ’ই তাকে বুঝিয়েছেন, বক্সিং খেললে টাকাও পাওয়া যায়।
যশোর থেকে আসা খেলোয়াড়দেরও বেশির ভাগই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। এবারের এসএ গেমসে সোনাজয়ী আবদুর রহিমই তাদের সামনে বড় আদর্শ। রহিমের বক্সিংয়ের হাতেখড়ি হয়েছিল মোমিননগর প্রীতি পরিষদ ক্লাব থেকেই। স্বাধীনতার পরপরই প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি নিয়ে বেশ আক্ষেপ কোচ বিল্লাল হোসেনের, ‘দেখুন যে ক্লাব থেকে খেলা শিখেছে সোনাজয়ী বক্সার রহিম ভাই, খুবই জরাজীর্ণ সেই ক্লাবের অবস্থা। টিন খসে পড়ছে ক্লাবের। কোনো অনুদান নেই।’ এই ক্লাবের ছেলেদের নিয়েই তাঁর উচ্চাশা, ‘দেখবেন, একদিন এদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ রহিম ভাইয়ের মতো সোনা জিতবে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল

দলটা যখন ৩০ জনের, তখন তো আর চমকের জায়গাই থাকে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে কোনো চমক নেইও। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে জায়গা হয়েছে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের প্রায় সবারই। দলে যেমন আছেন ফয়সাল হোসেনের মতো দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটার, তেমনি আছেন জহুরুল ইসলাম, আলিয়াস সানির মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত পারফরমাররা। আছেন রনি তালুকদার, আলাউদ্দিন বাবু, রবিউল ইসলাম, নাসির হোসেনের মতো জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন এমন তরুণেরাও। তবে নেই শাহরিয়ার নাফীস ও নাজিমুদ্দিন। টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর শুরু হচ্ছে ৩০ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে।
৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল: সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ আশরাফুল, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিক, মাহমুদউল্লাহ, নাইম ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, সৈয়দ রাসেল, আফতাব আহমেদ, অলক কাপালি, নাজমুল হোসেন, ডলার মাহমুদ, মাহবুবুল আলম, ফয়সাল হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, শামসুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী শুভ, নাজমুল হোসেন (মিলন), জহুরুল ইসলাম, নাসির হোসেন, রনি তালুকদার, রবিউল ইসলাম, ইলিয়াস সানি, আলাউদ্দিন বাবু।