Saturday, September 27, 2014

‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়’

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া কোন দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে সফররত বিএনপির প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল ঝাং সুইই। এসময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আগামীতে ক্ষমতায় এলে চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান  ড. আবদুল মঈন খান। গত দুদিনে চীনের ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠকসহ দুটি সেমিনারে অংশ নেয় বিএনপির প্রতিনিধি দলটি। গত ২৪শে সেপ্টেম্বর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ড. মঈন খানের নেতৃত্বে বিএনপি’র প্রতিনিধি দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। সেমিনারে চীনা প্রতিনিধি দলের পক্ষে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল ঝাং সুইই বক্তব্য রাখেন। মি. সুইই বলেন, আমরা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং এই দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি যা কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে ইতিবাচক পরিণতি দিতে সক্ষম হই। আমাদের সম্পর্ক শুধু ঐতিহাসিক ভিত্তির ওপরই টিকে থাকবে না। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সুইই আশা প্রকাশ করেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপি-এই দুই দলের সম্পর্ক উচ্চ পর্যায়ের মতো বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। এই দুই দল চার দেশীয় ইকোনমিক করিডরসহ অন্যান্য অভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা নিকট প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বাস করি। কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ ও চীন এই দুইটি দেশের মধ্যে কতকগুলো অভূতপূর্ব মিল রয়েছে। যেমন চীনের নাম ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ তেমনি বাংলাদেশেরও নাম ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’। মঈন খান বলেন, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে মিশ্র অর্থনীতি চালু করেছিলেন, যা চীনেও চালু রয়েছে। তিনি বলেন, চীনের দীর্ঘ সংগ্রামের ফল হচ্ছে তাদের আজকের অগ্রগতি। তবে গত ৩০ বছরে চীন যে উন্নয়ন করেছে তা বিস্ময়কর। চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষিতে ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে যে, অচিরেই চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রথমস্থান অধিকার করবে। মঈন খান সহস্রাধিক বছর ধরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আদান-প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও বর্তমানে চার দেশীয় অর্থনৈতিক করিডোর পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতি এবং বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের সামপ্রতিক অবস্থান স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্বে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্য বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,  মহিলা দলে সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ।
২৪শে সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার মি. লি জুনের সঙ্গে তার দপ্তরে বৈঠক করে বিএনপি প্রতিনিধি দল। সভায় ড. মঈন খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া যাতে অস্থিতিশীল না হয় সেজন্য চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হলে চীনকে এখনই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মঈন খান বলেন, আপনার কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সামপ্রতিক সময়ে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এসময় ভাইস লি জুন বলেন, বাংলাদেশ ও বিএনপি’র সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার, তাই রাষ্ট্রদূত থাকাকালে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমি নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। চীন বাংলাদেশে চীনের বিশেষায়িত শিল্প পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে-যার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রশংসা করেছেন।’ মি: লি জুন বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে আমার গভীর আবেগ রয়েছে। সভা শেষে লি জুন বিএনপি’র প্রতিনিধি দলকে ব্যাংকোয়েটে আপ্যায়িত করেন।
২৫শে সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ৩টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলস-এ বিএনপি’র প্রতিনিধি দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি সচিবালয়ে সেক্রেটারি জেনারেল মি: ঝাউ হংঝুর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে মি: হংঝু বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বিএনপিকে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রায় মূল্যায়ন করে এই কারণে যে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও বিএনপি চীনের সঙ্গে একমত হয়েছে, বিশেষভাবে ওয়ান চায়না পলিসিতে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। এর কারণ চীনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ঐক্য। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ মান ও দক্ষতা বজায় রাখার জন্য চীনের অর্থনীতি দ্রুত ক্রমবর্ধমানশীল। আর এভাবেই চীন একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির গৃহীত সামপ্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি গণমুখী রাজনৈতিক দল ছাড়া উন্নয়ন ধরে রাখা যায় না। তাই গত ১৮তম কংগ্রেসের পর দলের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিগত চীন সফরের সময় চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেন।
এসময় মঈন খান বলেন, আমরা কয়েকদিনের চীন সফরে অনেক বিষয় জানতে ও শিখতে পেরেছি। ৭০ দশকের প্রথমার্ধে কিছুদিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চীনের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে চীনের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। মঈন খান বলেন, প্রাচ্যে চীনের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় পাশ্চাত্যের সঙ্গে একটি ভারসাম্যের সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, ‘সিলাপ (পুডং চায়না এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ একাডেমি)-তে অবস্থান করার সময় চীনা অধ্যাপকগণের লেকচার থেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, অর্থনীতি এবং সরকারের বর্তমান গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা বেশকিছু শিক্ষালাভ করেছি। মঈন খান বলেন, ৫০ বছর আগের অবস্থা এখন আর নেই। চীনে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটেছে। তাই চীনের দেশ গড়ার অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছায় বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার আরো বেশী ঘনিষ্ঠভাবে চীনের সাথে থাকবে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার গঠনে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনের জনগণ বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে বলে ড. মঈন খান আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধি দল দশ দিনের সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেন।

‘হাসিনাকে ভোটচুরির কাফফারা দিতে হবে’ by কাফি কামাল

আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ আখ্যায়িত করে ভোট চুরির জন্য শেখ হাসিনাকে কাফফারা দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, আমেরিকায় গিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা নির্বাচনে যাইনি বিদায় কাফফারা দিচ্ছি। আমরা নির্বাচনে না গিয়ে প্রমাণ করেছি, দেশের ৯৫ ভাগ আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা ভুল করিনি। কিন্তু জনগণের ভোটচুরি ও বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির হিসাব যখন দিতে তখন তো আপনাদেরই কাফফারা দিতে হবে। আজ বিকালে জামালপুর জেলা স্কুল মাঠে ২০ দল আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, এই সংসদ অবৈধ, এই সরকার অবৈধ। এই সংসদে যে আইন পাস হচ্ছে সে আইনগুলো অবৈধ। কারণ আপনাদের ভোটে সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়নি। তাদের আইন পাস করার কোন অধিকার নেই।

আওয়ামী লীগ একটি ছেঁচড়া দল
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ একটা সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ছেঁচড়া দল। উপজেলা নির্বাচনে তারা কিভাবে কারচুপি করেছে। তাই শেখ হাসিনার অধীনে কোন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। জনগণ সেই নির্বাচনে যাদের পছন্দ তাদেরকে নির্বাচিত করবে।
বিএনপির সঙ্গেই আলোচনায় বসতে হবে
সরকারকে আবারও আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দল। চোর-চোট্টা নিয়ে বিদেশ গিয়ে লাভ হবে না। ‘৮৬ সালে এরশাদের সঙ্গে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ স্বঘোষিত জাতীয় বেঈমান হয়েছে। আলোচনায় বসতে হলে বিএনপির সঙ্গে বসতে হবে। বিএনপিকে ভয় পায় তাই তারা আলোচনায় বসতে চায় না। বিএনপিকে বাদ দিয়ে  কোন নির্বাচন হবে না। যদিও ষড়যন্ত্র চলছে। যদু-মধুদের দিয়ে কিছু হয় না। বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এর বাইরে কোন নির্বাচন বাংলার মানুষ মানবে না।
র‌্যাবের জিয়াকে গ্রেপ্তার করতে হবে
আবারও র‌্যাব বাতিলের দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা র‌্যাব গঠন করেছিলাম সন্ত্রাস দমনের জন্য। কখনও রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করিনি। কিন্তু র‌্যাব এখন টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করছে। নারায়ণগঞ্জে ১১ জনকে খুন করেছে। বিএনপির ৩১ জনকে খুন ও ৫৬ জনকে গুম করেছে। র‌্যাবের যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের জামাই আদরে রাখা হয়েছে। এখনও র‌্যাবের  অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। অবিলম্বে তাকে চাকুরিচ্যুত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি আমি। গোয়ান্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সব এজেন্সির লোকদের নাম আমি জানি। আপনাদের নাম আমি বলতে চাই না। আমরা ক্ষমতায় থাকতে তাদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করিনি। কিন্তু এখন এজেন্সিগুলো নানা অপকর্ম করছে। আপনাদের যার যা কাজ তা করেন। তা না হলে কিন্তু আপনাদেরকে একদিন আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
টকশোতে যারা তেল মারেন তাদের আসতে বলা হয়
খালেদা জিয়া বলে, এই অবৈধ সরকার একের পর আইন করছে। বাকশাল কায়েম করতে সম্প্রচার নীতিমালা করেছে। ৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানও একইভাবে ৪টি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। এবারও বাকশাল কায়েম করার উদ্দেশে একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করছে সরকার। তিনি বলেন, টকশোগুলো সরকারের ভুল-ত্রুটি নিয়ে সুশীল সমাজের লোকেরা সমালোচনা করেন। যারা সত্য কথা বলেন, সমালোচনা করেন তাদের আসতে দেয়া হয় না। কিন্তু যারা তেল মারতে পারেন তাদের আসতে বলা হয়। 
বিচার বিভাগের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিচার বিভাগ এমনিতেই ঠুঁটো জগন্নাথ। তার ওপর বিচার বিভাগকে নিজের হাতে নেয়ার জন্য অভিশংসন আইন করেছে। এই আইনের মাধ্যমে বিচারকদের ভয় দেখাবে তারা।  এর ফলে বিচারকদের বলবেÑ ওমুককে জেল দিতে হবে, ওমুককে রিমান্ডে নিতে হবে। বিচারকরা আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। সরকার বিচার বিভাগের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।  সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, কোন মানুষ যখন অপরাধ করেন তখন আল্লাহ তাকে বাড়তে বাড়তে দেন। বাড়তে বাড়তে এমন একপর্যায়ে পৌঁছবে তখন আল্লাহ একটান দেবে একেবারে সোজা নিচে পড়ে যাবে। চারদিকে শুধু অন্ধকার দেখবে।  
ঈদের পর আন্দোলন হবে
উপস্থিত জামালপুরবাসীকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা বলেন, আপনারা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত আছেন। ইনশাআল্লাহ ঈদের পর আমরা আন্দোলনে নামবো। এই খুনি, অত্যাচারী সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো।
এর আগে দুপুর সোয়া ২টার সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে জনসভা শুরু হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এলডিপির  চেয়ারম্যান কর্নেল (অ.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহউদ্দীন মতিন, জাগপার সভাপতি সফিউল আলম প্রধান, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব  মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ঈদ-পূজাকে সামনে রেখে বাজারে জাল নোটের ছড়াছড়ি

কোরবানির ঈদ ও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে জাল নোট। বিশেষ করে বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল এবং গরুর হাটে এসব জাল নোট ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে জালিয়াতচক্র। জাল নোট কারবারিরা বিশেষ কায়দায় এক শ’ টাকার নোটকে পাঁচ শ’ ও এক হাজার টাকার নোট বানিয়ে বাজারে ছাড়ছে। এছাড়া নতুন নোটও ছাড়া হচ্ছে বাজারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক অন্তত ১২টি গ্রুপ সারা দেশে জাল নোট ছড়িয়ে দেয়ার মূল কাজটি করছে। সারা দেশে তাদের কয়েক শ’ এজেন্ট রয়েছে। তারা ২০ হাজার টাকায় এক লাখ টাকা কিনে নিয়ে নিজের এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। ঈদ ও পূজাকে কেন্দ্র করে অন্তত ৫০ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, জাল নোট চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর পরপরই তারা জামিনে বেরিয়ে আসে। ঈদকে কেন্দ্র করে জাল নোট কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে জামিনে বেরিয়ে আসা জাল নোট কারবারিদের গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জাল নোট শনাক্ত মেশিন ব্যবহার ও একটু সচেতনতা অবলম্বন করলেই এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচা যায়।

এদিকে শুধু দুই ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় ২২ লাখ টাকার জাল নোট শনাক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত জুন, জুলাই ও আগস্টে এ সব টাকা শনাক্ত করা হয়। এছাড়া গত এক বছরে জাল নোট শনাক্তের পরিমাণ ৯ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এবারের ঈদে জাল নোট শনাক্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সারা দেশে প্রায় ১০০০ জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো দেশে কার্যরত ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে।
সূত্র জানায়, জাল নোট তৈরি করতে দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করছে জাল নোট তৈরির কারিগররা। সিকিউরিটি থ্রেড ও ওয়াশ পদ্ধতিতে তারা জাল নোট তৈরি করছে। জাল নোট তৈরির কারিগররা টাকার সাইজে কাগজ কেটে তাতে আঠা ও সিকিউরিটি থ্রেড বসিয়ে তার ওপর স্ক্যানার ও প্রিন্টিং মেশিনের সহায়তায়  সূক্ষ্মভাবে যে কোন মূল্যমানের টাকার ছাপ বসিয়ে দেয়। এছাড়াও ওয়াশ পদ্ধতিতেও জাল নোট তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে আসল টাকার নোট ওয়াশ করে শুকানো হয়। পরে ওই নোটের ওপর টাকার অঙ্ক বসিয়ে ছাপ দেয়া হয়। এরা ১০০ টাকার নোট ওয়াশ করে সাদা করে তার ওপর ৫০০ ও ১০০০ টাকার অঙ্ক বসিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে সিকিউরিটি সুতা আসল থাকায় সহজেই কেউ ধরতে পারে না।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত কয়েক ধাপে জাল টাকা বাজারে ছাড়া হয়। প্রথম ধাপে পাইকারি হিসেবে এক লাখ জাল টাকার একটি বান্ডিল ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। দ্বিতীয় ধাপে পাইকারি কারবারিরা আবার এসব টাকা খুচরা কারবারির কাছে ৩০-৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তৃতীয় ধাপে খুচরা কারবারিরা এ সব টাকা নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে তা সরাসরি সুকৌশলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বাজার বা শপিং মলে এসব টাকা ছাড়া হয়। যে সব দোকানে সবসময় ভিড় থাকে জাল টাকার কারবারিরা তাদের টার্গেট করে। এছাড়া কোরবানির পশুর এক হাট থেকে জাল টাকা দিয়ে পশু ক্রয় করে আরেক হাটে বিক্রি করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, রাজধানী কেন্দ্রিক অন্তত ১২টি জালিয়াত চক্রের প্রত্যেকের কাছেই জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে। এরা বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরির মেশিন স্থাপন করে। তাদের কাছ থেকে সিন্ডিকেটের সদস্যরা জাল নোট নিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়। জাল টাকার অন্যতম দুই গুরু হলো ছগীর মাস্টার ও দুরুজ্জামান ওরফে নুরুজ্জামান ওরফে জামান বিশ্বাস। তাদের হাত ধরেই জাল টাকার অনেক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবারও আগের ব্যবসায় যুক্ত হয়। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাল নোটের শীর্ষ কারবারিদের মধ্যে অন্যরা হলো মোস্তফা চিশতীর গ্রুপ, মাহবুবের গ্রুপ, জালাল গ্রুপ, মিরপুর এলাকার জাকিরের গ্রুপ, খিলগাঁও-সবুজবাগ ও বাসাবো এলাকায় লোকমানের গ্রুপ, ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকার কাওসারের গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। তাদের সঙ্গে কাজ করে আবদুর রহমান, খালিদুজ্জামান, বাবু মিয়া, সুজন ও মঞ্জুরুল কামাল, শাহ আলম, হুমায়ুন কবির, পলাশ, সাইফুল ইসলাম, সুমন, আলাউদ্দীন, হামিদ ও রাশিদুল। এদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আগের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, জাল টাকার কারাবারিরা প্রথমে একটি গ্রুপের সঙ্গে কাজ করে। পরে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার জন্য নিজেই গ্রুপ তৈরি করে। এসব চক্রের সঙ্গে অনেক নারীও কাজ করে। কারণ মহিলাদের সহজেই কেউ অবিশ্বাস করতে চায় না। ফলে সহজেই জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়া যায়।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত তিন মাসে ১০০০ টাকা মূল্যমানের ১৬২৩টি নোট ১৬২৩০০০ টাকা, ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১১১২টি নোট ৫৫৬০০০ টাকা ও ১০০ টাকা মূল্যমানের ৫৫টি নোট ৫৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে জাল নোট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ২১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে রমজানের চেয়ে কোরবানির ঈদে সব চেয়ে বেশি জাল নোটের আয়োজন চলছে। সে কারণে কোরবানিকে ঘিরে আগস্টে ব্যাপক জালনোটের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শুধু আগস্টে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের ১৫৪০টি জাল নোট শনাক্ত করা হয়েছে। যা রমজানে অর্থাৎ জুনে ছিল ১০৬৭টি নোট।  কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক স্তরে জাল নোট শনাক্ত করা হয়। ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ পুলিশ জাল নোট শনাক্ত করে। এর মধ্যে জাল নোট বেশি ধরে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাল নোট উৎপাদন কেন্দ্র, জাল নোট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা চক্রকে ধরে পুলিশ মামলা দেয়। তার আগে অবশ্যই উদ্ধার করা নোট প্রকৃত বিচারে জাল কিনা তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনের মাধ্যমে যাছাই-বাছাই শেষে সিল মেরে দেয়। তখন থেকে ওই নোট জাল হিসেবে বিবেচিত হয়। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে লেনদেনের সময় কিছু টাকা জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়। অবশ্য এর পরিমাণ বেশি নয়। বেশি আসে পুলিশের মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ১৪৩টি কেস কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার ৪১৩টি নোট। যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৫০ টাকা। খুচরা পর্যায়ের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, জাল নোট হিসেবে শনাক্ত হওয়া নোটের মধ্যে রয়েছে-৫০ টাকার ১৮৭টি নোট ৯ হাজার ৩৫০ টাকা, ১০০ টাকার ৭৫১টি নোট ৭৫ হাজার ১০০ টাকা, ৫০০ টাকার ২ হাজার ৮৪৬টি নোট এক কোটি ৪২ লাখ ৩ হাজার টাকা ও ১০০০ টাকার ৭ হাজার ৬২৯টি নোট ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার টাকা। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানান, ঈদকে সামনে রেখে জাল নোট তৈরি ও সরবরাহ চক্রগুলো খুবই সক্রিয়। যার প্রমাণ ঈদ শুরুর আগের মাসে জাল নোটের কেস অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। নিয়মিত মাসে যেখানে কেস থাকত ১০টি। এখন সেখানে কেস সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৩০টিতে। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কোন কেসের সঠিক বিচার কিংবা নিষ্পত্তি হয় না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বছরের পর বছর এ ধরনের কেস ঝুলে থাকে। প্রকৃত বিচার না হওয়ায় অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে জাল নোটের পরিমাণও।
এদিকে উৎসব এলেই চাহিদা বাড়ে নতুন নোটের। এবারও ঈদুল আজহা ও হিন্দু ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা পাশাপাশি সময়ে থাকায় নতুন টাকার চাহিদা একটু বেশি। উৎসবের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সাড়ে ২৪ কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ পরিস্থিতিতে নতুন নোটকে পুঁজি করে যাতে জাল নোট কারবারিরা সক্রিয় হতে না পারে, সে জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষ করে কোরবানি ঈদের পশুর হাটকে কেন্দ্র করে বাড়ে তাদের তৎপরতা। এটি ঠেকাতে সারা দেশের পশুর-হাটগুলোয় এবার এক হাজারের বেশি জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে সক্রিয় থাকবে ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসার (মহাব্যবস্থাপক) জোয়ার্দার ইসরাইল হোসেন মানবজমিনকে জানান, জাল নোট শনাক্তকারী মেশিনের চাহিদা চাওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে দেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। এছাড়া আসছে ঈদে জাল নোটের তেমন কোন খবর নেই বলে জানান তিনি। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী পশুরহাটগুলোর জন্য নতুন করে ২৭৮টি জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন দেয়া হচ্ছে। গত বছরের কোরবানি ঈদ পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেয়া ৪৯৫টি মেশিন কাজে লাগানো হবে। তারা এসব মেশিন নিয়ে কোরবানির পশুর হাটে বিশেষ টহল দেবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ঢাকার ১৯টি পশুর হাটে অন্তত দু’টি করে এবং ঢাকার বাইরে গুরুত্ব বিবেচনায় বড় পশুর হাটগুলোতে একটি করে ব্যাংকের বুথ থাকবে। প্রতিটি বুথে দু’টি করে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে বিনামূল্যে সেবা দেবে ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে সারাদেশে এবার এক হাজারের বেশি জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন ব্যবহার করা হবে।

মাদকের জালে পুলিশ কনস্টেবল

২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন আফসার হোসেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পুলিশের সদস্য হওয়ায়  ছিলেন সন্দেহের ঊর্ধ্বে। ২ বছর আগে সবুজবাগ থানায় কনস্টেবলের দায়িত্ব পালন করাকালীন জড়িয়ে পড়েন মাদকের ব্যবসায়। চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তে পর সংশোধনতো দূরের কথা তিনি আগের চেয়ে আরও বেশি করে মাদকের ব্যবসা শুরু করেন। পরে মাদক বিক্রি ও সেবন করতে গিয়ে আটক হলেন পুলিশের হাতে।
সোমবার রাত পৌনে ১২টায় খিলগাঁও থানাধীন সি ব্লকের ৫২৭, নম্বর বাসায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। তখন ওই বাসা থেকে পুলিশের সাময়িক বরখাস্তকৃত কনস্টেবল আফসার হোসেন (৩২), মাদক ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান (৪৫) ও সুমিকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ওই বাসা থেকে ২৪৯ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মাদক চোরাচালান আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের পুলিশ আদালতে হাজির করলে আদালত সুমিকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। অপর দু’জনকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
খিলগাঁও থানা পুলিশ ও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ‘কনস্টেবল আফসারের ব্যাচ নম্বর ছিল-১৭। প্রায় ২ বছর আগে সবুজবাগ থানায় কনস্টেবল আফসার উদ্দীন দায়িত্ব পালন করাকালীন স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ের তারা দু’জন মিলে মাদক ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসাও চলছিল রমরমা। আফসার পুলিশের কনস্টেবল হওয়ার কারণে কেউ তাকে সন্দেহ করতো না। কেউ তাকে সন্দেহ করলেও তিনি ম্যানেজ করার ব্যবস্থা করতেন। ২০১২ সালের আগস্ট মাসে রাতের বেলায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আফসারকে আটক করে সবুজবাগ থানা পুলিশ। এরপর তার নামে পুলিশ বাদী হয়ে মাদক আইনে ঢাকা মহানগর আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। সাময়িক বরখাস্তও করা হয় তাকে। ওই মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় আছে। বরখাস্ত হওয়ার পরেই তিনি রাজারবাগের পুলিশ লাইনের ২ নম্বর কোম্পানি (ব্যারাকে) থাকতেন। মাঝে মধ্যে খিলগাঁওয়ের বোনের বাসায় থাকতেন। তবে ব্যারাকে বেশি থাকতেন। চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য আফসার বিভিন্নজনের কাছে তদবির করেন। কিন্তু, তার নামে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় তাকে কর্তৃপক্ষ তাকে  চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ দেননি। তার সাময়িক বরখাস্তের চিঠিতে উল্লেখ করা ছিল, ‘মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ও তার পুলিশের প্রতি আনুগত্যশীলতা দেখে তাকে আবার আগের পদে পুনর্বহাল করা যেতে পারে। কিন্তু, ঘটলো উল্টোটি।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ‘সবুজবাগ থানায় কর্মরত থাকাকালীন যখন পুলিশের কনস্টেবল আফসার মাদকের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তখন আবুল কাসেম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আবুল কাসেম তখন মতিঝিলের ব্যাংকের পাশের গলিতে একটি বাসায় ভাড়া থাকতো। আগে তিনি গাড়ির পার্টসের ব্যবসা করতেন। বাসাটি প্রায় ১ বছর আগে তিনি ছেড়ে দেন। পরে খিলগাঁও সি ব্লকের ৫২৭ নম্বর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসাবে ওঠেন। ওই এলাকায় আবুল কাসেম মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলে। তার ওই এলাকার উঠতি সস্ত্রাসীদের সম্পর্ক আছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।
এদিকে, আফসার পুলিশের কনস্টেবল থেকে বরখাস্ত হওয়ার পরেই তার পুরোনো পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী আবুল কাসেমের যোগসাজসে শুরু করেন আবার মাদক ব্যবসা। আবুল কাসেমের খিলগাঁও বাসায় তিনি যাতায়াত শুরু করেন। ওই বাসায় মাদক বিক্রিসহ মাদকসেবনের আড্ডা বসতো। গত সোমবার রাতের বেলায় আফসার ও তার ব্যবসায়ী সহযোগী আবুল কাসেম ও ফজলুল রহমান ওই বাসায় মাদক ব্যবসার লাভ লোকসানের জন্য একটি বৈঠক করছিলেন। তারা দু’ঘণ্টা আগে একটি মাদক চোরাচালানকারী দলের দুই সদস্য ২৩৯ বোতল ফেনসিডিল তাদের দিয়ে যায়। এসময় ওই বাসায় পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আবুল কাসেম সেখান থেকে আগেই চলে যায়।
পরে পুলিশ ফেনসিডিলসহ আফসার, ফজলুল ও আবুল কাসেমের স্ত্রী সুমিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। খিলগাঁওয়ের সি ব্লকের ৫২৭ নম্বর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলাটি তালা লাগানো। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ওই বাড়িটির একজন গৃহকর্মী জানান, ‘এক বছর হলো আবুল কাসেম নামে এক ব্যক্তি বাসাটি ভাড়া নেয়। ভাড়া নেয়ার পর সেখানে বিভিন্ন লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। আবুল কাসেমের স্ত্রীর আটককৃত সুমির আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। একটি সন্তানও ছিল। তাকে ভাগিয়ে বিয়ে করে মাদক ব্যবসায়ী আবুল কাসেম। সুমির চালচলন ছিল অন্যরকম। ওই বাসায় খিলগাঁও থানা পুলিশের কয়েক সদস্যের যাতাযাত ছিল। তবে তারা সেখানে সিভিল ড্রেসে আসতো। আটককৃত সুমির গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরলের রবিপুর এলাকায়। ফজলুর রমানের পিতার নাম আবদুল ওদুদ। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার নোয়াগাঁও এলাকায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই এ কে এম শামসুল আলম জানান, ‘ফেনসিডিলসহ তিনজনকে আটক করে আদালতে হাজির করলে পুলিশের সাময়িক বরখাস্তকৃত কনস্টেবল আফসার ও ফজলুরকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

কারামুখী রাজনীতি by সাজেদুল হক

রাজনীতি-কূটনীতিতে কমা-সেমিক্লোনই চিরন্তন। পূর্ণচ্ছেদ বলে কিছু নেই। ভারতের  পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বলা এ কথা হয়তো সারা দুনিয়াতেই সমান সত্য। যদিও এটা অস্বীকার করার যো নেই, ৫ই জানুয়ারির পরের বাংলাদেশ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। এতে কার দায় কতটা সে বিতর্ক আলাদা। তবে আট মাসের বেশি সময় ধরে স্থবির থাকার পর রাজনীতি নড়াচড়া শুরু করেছে। হতোদ্যম বিরোধী শক্তিকে নিঃশেষ করার আয়োজন চলছে জোরেশোরে। হরতাল ডেকে বাসায় সময় কাটানো নেতারা এতে বারুদের যোগান দিচ্ছেন ভালো মতোই।
গত কিছু দিনে বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে মামলার গতি বেড়েছে আকস্মিকভাবে। প্রতিদিনই কারও বিরুদ্ধে দেয়া হচ্ছে চার্জশিট। কারও বা শুরু হচ্ছে বিচার। বিরোধী জোটে ভাঙন তৈরির তৎপরতা এরই মধ্যে কিছুটা সফলতার মুখ দেখেছে। জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই কাজ করে আসছে। সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা যিনি বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কর্মরত আছেন পুরো বিষয়টি সমন্বয় করছেন। হেফাজতে ইসলামকে বাগে আনার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিরোধী জোটে ভাঙন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্যই উল্লাস প্রকাশ করেছেন। রোববারই আওয়ামী লীগ নেতা ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির অনেক নেতা রাতের আঁধারে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। শুধু ২০-দলীয় জোট নয়, শিগগিরই আপনারা দেখতে পাবেন বিএনপিতেও ভাঙন দেখা দেবে। জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ও রাজনীতিতে বিপুল চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান সরকার-জামায়াত সমঝোতার গুঞ্জনের পালে হাওয়া দিয়েছে। যদিও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুরো বিষয়টিকে ‘রাবিশ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্য রকমের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে নিয়েও অবশ্য আলোচনা থেমে নেই। একই সঙ্গে সরকার এবং বিরোধী দলে থাকা পৃথিবীর বিরল এ রাজনৈতিক দল প্রতিদিনই কোন না কোন ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। তার কতটা বাস্তব আর কতটা নাটক তা বোঝা দায়। যেদিন রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং মশিউর রহমান রাঙ্গার সমর্থকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন সে একই দিনে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে তাদের দেখা গেল হাস্যমুখে। এরশাদের পা ছুঁয়ে সালামও করেন রাঙ্গা। এরশাদ যতদিন আছেন রাজনীতিতে নাটকীয়তার গ্যারান্টি ততদিন নিশ্চিতভাবেই আছে। রাজনীতির অন্দরমহলে যে মূহর্তে নড়াচড়া চলছে তখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনারসহ সাংবিধানিক পদবিধারীদের অপসারণের ক্ষমতা চলে গেছে সংসদের হাতে।  নানা মহলে প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করা হয়েছে। সম্প্রচার নীতিমালাও প্রণয়ন করেছে সরকার। আরও বেশ কিছু নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রমও চলছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষকরা স্মরণ করেছেন আন্তনিও গ্রামসিকে। তার তত্ত্ব অনুযায়ী যখন কোন দেশে ফ্যাসিজম চালু হয় তখন রাজনৈতিক দল বলে কিছু থাকে না। তখন গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করতে হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম কেউই সে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ২০১৯ সালের আগে কোন ধরনের নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে এলেও কেউ কেউ এরই আগে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। লন্ডনের দি ইকোনমিস্টও একই ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সে নির্বাচন হবে ক্ষমতাসীনদের ছক অনুযায়ী এবং তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্যই। এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক বডিজ ডিজকোয়ালিফিকেশনের আদলে ১৪০ বিরোধী রাজনীতিবিদকে নির্বাচনী রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার একটি প্রক্রিয়া চলছে। একটি প্রভাবশালী সংস্থা এ নিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিরোধী জোটের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদেরই টার্গেট করা হয়েছে। কি প্রক্রিয়ায় তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের একটি নিষেধাজ্ঞার কারণে ১০০’র বেশি রাজনীতিবিদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তাদের বেশির ভাগই ছিলেন বিএনপির। জরুরি আইনে দায়ের করা মামলায় শাস্তির কারণেই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে। ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে নির্বাচনে অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;’।
পশ্চিমা দুনিয়া বাংলাদেশে একটি নতুন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে থাকলেও উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা প্রকাশের বাইরে তারা কিছু করবে এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট নয়। রাশিয়া, চীন, জাপানসহ আন্তর্জাতিক শক্তির একটি বড় অংশ ব্যবসা-বাণিজ্যে আগ্রহী। নরেন্দ্র মোদির ভারত সরকার অনুসরণ করছে ধীরে চলার নীতি। দেশের ভেতরকার নাগরিক সমাজ গত দু’দশকের মধ্যে সবচেয়ে অসহায় অবস্থানে রয়েছে। কর্তৃত্ববাদী আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের নিদারুণ অসহায়তাই প্রকাশ পাচ্ছে। জামায়াত নেতাদের মধ্যে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে সবচেয়ে জনপ্রিয় মনে করা হয়। দলের বাইরেও তার এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তার আমৃত্যু কারাদণ্ডের প্রতিবাদে জামায়াতের দু’দিনের হরতালে তেমন কোন সাড়া মেলেনি। বিএনপি জোটের হরতালও ছিল ম্লান। যথারীতি বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের রাজপথে দেখা মিলেনি। যে স্বল্পসংখ্যক কর্মী রাজপথে নামেন তাদের পুলিশের গুলির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা আলিয়া মাদরাসার বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রয়োজনে উনাকেও জেলে পাঠানো হবে। জিয়া অরফানেজ এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার দিকে দৃষ্টি রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এর আগে আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়ার বাড়ি রক্ষা হয়নি। এবার আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়া এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা কারাগার এড়াতে পারেন কিনা সে প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।

এমপি স্ত্রীর উদার সেলফি

বৃটিশ লেবার পার্টির এমপি সাইমন ডানচুকের স্ত্রী কারেন (৩৭) খোলামেলা সেলফি টুইটারে দেয়ার জন্য সুপরিচিত। সব থেকে সাম্প্রতিক ছবিটি তিনি প্রকাশ করেছেন বিকিনি পরে। ডেইলি মেইল লিখেছে, তার টুইটার সেলফিগুলোতে বিশেষভাবে ফোকাস থাকে তার উদারবক্ষে। আর এ যাবতকালে তিনি যেসব সেলফি দিয়েছেন তার মধ্যে এবারের ছবিতে সব থেকে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। আনন্দের খোরাক যুগিয়েছেন তার অনলাইন ভক্তদের। প্রশস্ত বুকের ভাঁজ অনেকখানি প্রদর্শন করে সমুদ্র সৈকতে তুলেছেন এ ছবি। সেলফির পাশাপাশি টুইটে লিখেছেন, ‘আমাকে কতটা আনন্দিত দেখাচ্ছে? আমায় ভয়কে জয় করে জীবনে প্রথমবারের মতো আমি সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি! এটা দারুণ ছিল।’ এর জবাবে আরেক টুইটার ব্যবহারকারী অ্যালিসটেয়ার র‌্যাটেনবারি লিখেছেন, ‘ভেসে থাকার ভাল সহায়ক দেখা যাচ্ছে।’ আরেকজন টুইটে স্রেফ প্রশ্ন করেছেন ‘ব্রেস্ট স্ট্রোক?’ কারেন দ্রুতই টেলিভিশনের পর্দা মাতাবেন বলে গুজব উঠেছে। চ্যানেল ৪-এর হর্তাকর্তাদের সঙ্গে তার নৈশভোজে যাওয়ার আগে টুইটে তিনি নিজেই ওই দাওয়াতের কথা জানান। এর কিছুক্ষণ বাদেই স্বল্পবসনা হয়ে ছবি পোস্ট করে টুইটারে জানান- তিনি নৈশভোজে যেতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তিনি ৫০টিরও বেশি সেলফি পোস্ট করেছেন। আর টুইটারে ফলোয়ার আকৃষ্ট করতে সমর্থন হয়েছেন ১৩,৩০০ জন। বছরের শুরুর দিকে তিনি তার বুকের ভাঁজের ছবি নিয়ে এক টুইটার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন সাবেক টোরি এমপি লুইস মেনস্ক-এর সঙ্গে। লেবার দলের কাউন্সিলর কারেন গত পরশু তার হাজারো টুইটার ভক্তকে জানিয়েছেন, তিনি ছুটিতে সূর্যস্নান করেছেন টপলেস হয়ে। অনলাইনে তার বুকের ভাঁজের ছবি পোস্ট করে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন মিসেস মেনস্কের এমন অভিযোগের পর তিনি এ কাজ করেন। মিসেস ডানচুকের জোর দাবি টুইটারে তার খোলামেলা ছবি কিন্তু আবেদনময়ী হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।

‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই’

দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরকারের আঁতাতের অভিযোগ নাকচ করেছেন তিনি। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী এখন নিউইয়র্কে আছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নে তার ব্যক্তিগত আগ্রহের কথা তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন। ৪০ বছর আগে বঙ্গবন্ধু পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে যে নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশ এখনো তা মেনে চলছে বলে তিনি জানান। জামায়াতের সঙ্গে আতাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,  সরকারের সঙ্গে জামায়াতের কোন আঁতাত হয়নি। আঁতাত হলে বিচার কী করে হয়? এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। সাঈদীর ফাঁসির রায় তো আমি দিইনি, আদালত দিয়েছে। বিচারটা এত দিন পরে আওয়ামী লীগ করছে বলেই কী এসব প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী দলের সঙ্গে কোন সংলাপ হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেন, দেশে এমন কী পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে, সংলাপে বসার প্রয়োজন। নির্বাচন কে বানচাল করতে চেয়েছিল, তারা রাজনৈতিক ভুল করেছিল। ভুলের মাশুল তাদেরকেই দিতে হবে। এখন আলাপ করে তাদেরকে কি ক্ষমতায় আনতে হবে? তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে আছে। তাদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্য দূর হচ্ছে। এ অবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বা ভাবনার কোন কারণ দেখি না। এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, সুশীল সমাজের লোকজনের অনেকেই অসাংবিধানিক পক্ষের ক্ষমতা গ্রহণে আগ্রহী। এতে নিজেদের জন্য পতাকা, পদ, পদবি নিশ্চিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সমালোচনা করেন, তাদের তো আমার সরকারের প্রশংসা করার কথা। আমিই বেসরকারি টিভি দিয়েছি, টিভি চালু রাখার জন্য বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, ডাক ও  টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম ও মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মোমেন উপস্থিতি ছিলেন।

ইউরোপজুড়ে স্বাধীনতার ডাক by সুমন কায়সার

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিষয়ে সাম্প্রতিক গণভোট বিশ্বজুড়েই স্বাধীনতাকামীদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক চিত্তচাঞ্চল্য। কাশ্মীর থেকে কর্সিকা আবার স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর। এমনকি ‘সুখে থাকতে’ ভূতে কিলাচ্ছে অনেক মার্কিনকেও! তবে ইউরোপজুড়ে যে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আকাঙ্ক্ষার ঢেউ বইছে, তা বোধহয় আর কোথাও নেই। স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সার্বিয়া, আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া কোথায় ওঠেনি কমবেশি স্বাধীনতা আন্দোলনের জোয়ার!

স্পেনের সমস্যা ‘বাস্ক কান্ট্রি’, কাতালোনিয়া আর ভ্যালেন্সিয়া নিয়ে। উত্তরের তিনটি প্রদেশ একত্রে পরিচিত বাস্ক কান্ট্রি হিসেবে। ষাটের দশক থেকে এ প্রদেশগুলোকে স্পেনের অন্য প্রদেশের চেয়ে বেশি স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। বাস্ক ভাষা সরকারিভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার পরও ২০ লাখ বাস্ক স্বাধীনতার দাবি ছাড়ছে না। তারা প্রতিবেশী ফ্রান্সের বাস্ক অধ্যুষিত অংশের সঙ্গে মিলে স্বাধীন দেশ গড়তে চায়। অন্যদিকে কাতালোনিয়ার জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। তারা স্পেনের সবচেয়ে ধনী স্বশাসিত অঞ্চলগুলোর একটি। তাদেরও আছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আরও বেশি ক্ষমতা চায়। তারা চায় কাতালোনিয়া থেকে তোলা করের আরও বড় ভাগ। ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল আর আধুনিক স্থাপত্যের জন্য ‘স্পেনের ক্যালিফোর্নিয়া’ হিসেবে পরিচিত ভ্যালেন্সিয়াকে ২০০৭ সালে অনেক স্বশাসন দেওয়া হয়। তারাও স্বাধীনতা চাইছে।
জনমত জরিপ বলছে, কাতালান ও বাস্কদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই স্বাধীনতার জন্য গণভোট চায়। আর যারা গণভোট চায়, তাদের প্রায় অর্ধেক স্বাধীনতার পক্ষে।
ফ্রান্সও দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আর চরমপন্থী মনোভাবের মোকাবিলা করে আসছে। এর চরম রূপ দেখা যায় ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ কর্সিকায়। এমনিতেই মূল ভূখণ্ড থেকে বেশ দূরের এ দ্বীপে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ আর আইনকানুনের বালাই কম। বাইরের হস্তক্ষেপ মানতে নারাজ স্বাধীনচেতা কর্সিকানরা। জনমত জরিপে দ্বীপের বেশির ভাগ মানুষ বরাবর ফ্রান্সের অংশ থাকার পক্ষে মত দিলেও উগ্র জাতীয়তাবাদীরা পিছু হটছে না। কর্সিকার জনসংখ্যা দুই লাখ ৬০ হাজার। ২০০১ সালে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট স্বশাসন বিল পাস করে কর্সিকাকে দেশের কিছু মূল আইন বদলে নিজেদের প্রয়োজনমতো সংশোধনের সুযোগ দেয়। স্থানীয় সব বিদ্যালয়ের পাঠক্রমে কর্সিকান ভাষা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে কর্সিকা নামে কোনো দেশের অস্বিত্ব স্বীকার না করায় সেখানে সহিংসতা আবার বেড়েছে। ফ্রান্সের বক্তব্য, তা করাটা হবে সংবিধান পরিপন্থী।
ইতালিতে রয়েছে সাউথ তিরল সমস্যা। এ নিয়ে তাদের ঝামেলা অস্ট্রিয়ার সঙ্গে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এলাকাটি নিজের মানচিত্রে যুক্ত করে নেয় ইতালি। ১৯৭০-এর দশকে উত্তর আল্পসের এ সচ্ছল অঞ্চলটিকে বাড়তি স্বশাসন দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত কখনোই মেনে নেয়নি সাউথ তিরেলিওন ফ্রিডম পার্টি। তারা ইতালি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে জুড়তে চায়। এ নিয়ে পারলে আগামী বছরই গণভোট দেওয়ার দাবি তুলছে তারা। সাউথ তিরলের পাঁচ লাখ ১০ হাজার অধিবাসীর দুই-তৃতীয়াংশই জাতিগতভাবে জার্মান। প্রদেশটির গভর্নর অবশ্য মনে করেন, ইতালির মধ্যে স্বশাসন নিয়ে ভালোই আছেন তাঁরা। কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এ রকমই আরেকটি অঞ্চল ভেনেতোয় স্বাধীনতার দাবি করে আসছে লিগা ভেনেতো দলের জাতীয়তাবাদীরা। তারা অনেক আগে একটি রাষ্ট্র ছিলও বটে। গত মার্চে তারা এক অনলাইন গণভোট করে। এতে ৮৯ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয়। স্কটল্যান্ডের আন্দোলনে উৎসাহিত হয়ে গত জুন মাসে ভেনেতোর আঞ্চলিক পরিষদ দুটি বিলও পাস করেছে। এতে গণভোটের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইতালির মূল ভূখণ্ডের ১২০ মাইল দূরের সার্দিনিয়া দ্বীপেও শোনা যাচ্ছে ভাঙনের শব্দ। সার্দিনিয়া রাজ্যের অংশ হিসেবে দ্বীপটি একধরনের স্বাধীনতা ভোগ করেছে অতীতে। ইতালির ১৯৪৮ সালের সংবিধানে একে বিশেষ মর্যাদাও দেওয়া হয়েছিল। বছর দুয়েক আগে সেখানে আঞ্চলিক পরিষদে গণভোটের পক্ষে প্রস্তাব উঠলে মাত্র এক ভোটে হেরে যায় তা। এই ধাক্কার পর তিনটি নতুন স্বাধীনতাপন্থী দল দ্বীপটির বিশেষ মর্যাদা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি তুলেছে। যদিও ধারণা করা হয়, দ্বীপের ৮০ শতাংশ মানুষই বর্তমান আঞ্চলিক স্বশাসনে খুশি আছে।
তুলনামূলক ছোট দেশ বেলজিয়ামে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা। সেখানেও স্বাধীনতার দাবি। উত্তর ফ্ল্যান্ডার্সের মানুষ ডাচ্ ভাষায় কথা বলে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যোগ দিতে চায় তারা। দক্ষিণের ফরাসিভাষীরা চায় স্বাধীন ওয়ালোনিয়া। বেলজিয়ামের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে এ দুই ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব। ওয়ালুন আর ফ্লেমিশ জনগণ নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোট গড়েছিল তখন। স্বাধীনতার জন্য হাত মেলালেও দুই শতাব্দী ধরে বিচ্ছিন্ন হতে চাইছে তারা। কারণটা মূলত অর্থনৈতিক। এমনকি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে একটি টিভি চ্যানেল ভুয়া খবর প্রচার করে যে ফ্ল্যান্ডার্সরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে ফেলেছে। ব্রাসেলসে নিযুক্ত বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূত নিজেদের দেশে ফোন করেন করণীয় জানতে! পরে জানা যায়, ব্যাপারটা নিছক ধাপ্পা। কিন্তু আট বছর পর আজ বিষয়টা আর রগড়ের পর্যায়ে নেই। এ অঞ্চলের প্রধান জাতীয়তাবাদী দল নিউ ফ্লেমিশ অ্যালায়েন্স এখনই স্বাধীনতা চায় না বটে, তবে তারা একটি শিথিল যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা চাইছে, যাতে সর্বোচ্চ স্বশাসন পাওয়া যাবে। তবে বেলজিয়াম ভেঙে দুই ভাগ করাটা সহজ হবে না। ফরাসিভাষী রাজধানী ব্রাসেলেস কার ভাগে পড়বে তা একটা বড় প্রশ্ন। কোনো পক্ষই এর দখল ছাড়তে চাইবে না। রাজধানী শহরের চারদিকে ফ্ল্যান্ডার্সদের বসবাস! আবার ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দা জাতীয় নেতারা যেভাবে সামাল দিয়েছেন, তাতে আঞ্চলিক নেতারা বুঝেছেন অন্তত আপাতত স্বাধীনতার দাবি নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য না করাই ভালো হবে।
বিচ্ছিন্নতাবাদের আওয়াজ উঠেছে অস্ট্রিয়া, আলবেনিয়া এবং নিজেরাই সাম্প্রতিক ভাঙনের ফসল সার্বিয়াতেও। রোমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়াতে তৎপর হয়ে উঠেছে স্বশাসনের দাবি তোলা হাঙ্গেরিয়ান ট্রান্সসিলভানিয়ানরা। তারা কোনো এক সোনালি সকালে হাঙ্গেরিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

ইবোলা ঠেকাতে আরও তিন এলাকা বিচ্ছিন্ন সিয়েরালিওনে

ইবোলা ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে শিশুটির মা-বাবা দুজনকেই। পরে এই
ছোট্ট মেয়েটিকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে এক চিকিৎসাকেন্দ্রে। সেখানে
চিকিৎসাকর্মীদের পাশে বসে কাঁদছে সে। ইবোলায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের
জন্য লাইবেরিয়ার রাজধানী শহর মনরোভিয়ায় খোলা হয়েছে ওই
চিকিৎসাকেন্দ্র। ইবোলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পশ্চিম আফ্রিকার
দেশগুলোর অন্যতম লাইবেরিয়া। গত বুধবার তোলা ছবি। এএফপি
ভয়াবহ ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সিয়েরা লিওনের সরকার দেশের আরও তিনটি এলাকা বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ১২ লাখ মানুষ ‘গৃহবন্দী’ হয়ে পড়বে। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট বাই কোরোমা এই ঘোষণা দেন। খবর এএফপির। বিচ্ছিন্ন হতে যাওয়া নতুন এলাকাগুলো হলো উত্তরাঞ্চলীয় পোর্ট লোকো ও বোমবালি এবং দক্ষিণের মোয়াম্বা। এর আগেই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কেনেমা ও কাইলাহুন এলাকার বাসিন্দাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে এসব স্থানের লোকজনকে অবাধে চলাচল করতে দেওয়া হয় না।
প্রেসিডেন্ট কোরোমা বলেন, এভাবে এলাকাগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার কাজ খুবই কঠিন। কিন্তু প্রত্যেক নাগরিকের জীবন রক্ষার স্বার্থে এতে সরকারকে সহযোগিতা দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে সিয়েরা লিওনসহ পশ্চিম আফ্রিকায় অন্তত ছয় হাজার মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছে। তাদের অর্ধেকের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। শুধু সিয়েরা লিওনে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৮১৩ জন। মারা গেছে ৫৯৩ জন।

নিউইয়র্কে নরেন্দ্র মোদিকে বিপুল সংবর্ধনার প্রস্তুতি

নরেন্দ্র মোদি। এএফপি
খেলাধুলা বা বিনোদন বিষয়ের কোনো আয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠা হাজারো দর্শকের উপস্থিতি সেখানকার চিরচেনা দৃশ্য। তবে বিদেশি কোনো রাজনীতিকের আগমন নিয়ে সে রকম মাতামাতি বিরল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সে রকম ঘটনারই জন্ম দিতে যাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, রক তারকাদের মতো অভ্যর্থনা পাবেন তিনি। ম্যাডিসন স্কয়ারে আগামী রোববার মোদির অনুষ্ঠানে যে মাত্রায় জনসমাগম ঘটবে, তা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোনো বিদেশি নেতার জন্য রেকর্ড। এতে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ যোগ দেবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সব টিকিট এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। আশপাশে জড়ো হবেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। তাঁদের জন্য সেখানে স্থাপন করা হবে বড় আকারের পর্দা।
অথচ, ইনিই হচ্ছেন সেই মোদি, যাঁর বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। ভারতীয় প্রবাসীরা আশা করছেন, মোদির এই সফর কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়; বরং বিশ্বব্যাপী ভারতের গুরুত্বকে তুলে ধরবে। নিউইয়র্কে রোববারের আয়োজনের পুরোভাগে থাকবেন ভারতীয় মার্কিন সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট দুই মুখ। একজন নিনা দাভুলুরি, যিনি এ বছরই ‘মিস আমেরিকা’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। অন্যজন হলেন টেলিভিশন সাংবাদিক হরি শ্রীনিবাসন। বোস্টনের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের শল্যচিকিৎসক দীনেশ প্যাটেল বললেন, ‘ভারতীয় নাগরিকেরা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী ভারতীয়রা আশা করছেন, মোদির প্রশাসন আমলাতন্ত্রের রাশ টেনে ধরবে এবং জনগণের দিকে দৃষ্টি দেবে।’ ৫০ বছরেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো প্যাটেলও মোদির মতোই গুজরাটের বাসিন্দা। প্যাটেল আরও বলেন, ‘নতুন নেতাকে দেখতে লোকজন অধীর আগ্রহে রয়েছেন। আরেক নরেন্দ্র এই দেশে আসছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দেখিয়ে দেবেন, ভারত কী জিনিস।’ প্রথম নরেন্দ্র ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর জন্মগত নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত।
১৯ শতকের এই খ্যাতনামা দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে হিন্দু ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে নানা ইস্যুতে টানাপোড়েন ও অস্বস্তি এখনো রয়ে গেছে। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার সময়কার ভূমিকার কারণে মোদিকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন। ওই দাঙ্গায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিল মুসলিম। তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা মোদি ওই দাঙ্গা ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ আছে। যদিও তিনি বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের এক তদন্তে তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে। মোদি আজ শুক্রবার তাঁর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু করছেন। তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন মোদি। এতে তিনি চা আর লেবুর শরবত ছাড়া কিছুই খাবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, মোদি প্রতিবছর এ সময়ে উপবাস পালন করেন। মঙ্গলবার দুই নেতা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হবেন। সূত্র: এএফপি ও রয়টার্স

রানির কাছে দুঃখ প্রকাশ করবেন ক্যামেরন

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ
স্বাধীনতা বিষয়ে স্কটল্যান্ডের গণভোটের ফল নিয়ে রানির প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে বলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে মঙ্গলবার বলেন, গণভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে টেলিফোনে জানিয়েছিলেন তিনি। আর স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষেই রায় দিয়েছে শুনে রানির কণ্ঠে খুশির আভাস পাওয়া যায়। খবর এএফপির। ক্যামেরন এ কথা বলার সময় ক্যামেরায় ধরা পড়েন। বক্তব্যটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, রানির কাছে গিয়ে সরাসরিও দুঃখ প্রকাশ করবেন। ভোটের আগে বাকিংহাম প্রাসাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল,
রানি এ বিষয়ে কোনো পক্ষেই মতামত দেবেন না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ডেভিড ক্যামেরন নিউইয়র্কে সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গের সঙ্গে আলাপ করছিলেন। এ সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি টেলিফোন করে রানিকে বলেছিলেন, ‘সব ঠিক আছে।’ এর জবাবে রানি সন্তুষ্টিসূচক শব্দ করেন। খবরটি প্রচারিত হওয়ার পর ক্যামেরন বলেন, যা ঘটেছে তাতে আমি ‘অত্যন্ত দুঃখিত’। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নিয়মিত সাপ্তাহিক সভাতেই রানির কাছে দুঃখ প্রকাশ করবেন ক্যামেরন। নিউইয়র্কে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত আলাপচারিতা। আমার এমনটা করা উচিত হয়নি, আর কখনো এমন হবে না।’

এই সর্বনাশা জিপিএ-৫ থামান, এখনই by রফিকুজজামান রুমান

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল বের হলো মঙ্গলবার। পাসের হার শকতরা ৯। প্রতি ১০০ জনে ৯১ জন ফেল করেছে! এর আগে অনুষ্ঠিত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছে শতকরা ২১ জন এবং ‘গ’ ইউনিটে শতকরা ২০ জন। ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৪২ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। ধারণা করা যায়, ফেল করাদের (শতকরা ৯১ জন) প্রায় সবাই এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ বা কাছাকাছি গ্রেড পেয়েছে। জিপিএ ৫ পাওয়া একজন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বরও যখন পায় না, তখন লাখ লাখ জিপিএ ৫ পাওয়ায় তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন, ‘এই জিপিএ ৫ লইয়া আমরা কী করিব?’
শিক্ষামন্ত্রীকে খুব কাছ থেকে একবার দেখার সুযোগ হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এসেই মঞ্চে গেলেন না। দর্শক সারিতে এসে বসে পড়লেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বললেন, পরামর্শ চাইলেন। আমি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। বুঝলাম, তিনি আন্তরিক। একটা কিছু করতে চান। কিন্তু বড় অদ্ভুত এই দেশ! রাজনীতির মারপ্যাঁচে এখানে হারিয়ে যায় সব। শিক্ষা যায়, মনুষ্যত্ব যায়, বিবেক যায়, যায় ইচ্ছাটাও। রাজনীতির নামে এখানে সব কিছু হয়; শুধু রাজনীতিটাই হয় না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে সস্তা আত্মতৃপ্তির লালসায় পাবলিক পরীক্ষায় শত ভাগ পাস করানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় পৃথিবীর কোথায়? পৃথিবীর কোন প্রান্তে পরীক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয় বেশি নম্বর দিয়ে পাসের হার বাড়িয়ে দিতে? এই বিধ্বংসী রাজনীতির কাছে ‘নরম’ মনের শিক্ষামন্ত্রী অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন। তাই তো এমসি কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রবাস দখল-রাজনীতির আগুনে পোড়ানো হলে সেটি দেখে শুধুই কাঁদেন দরদি শিক্ষামন্ত্রী। কোনও প্রতিবাদ তিনি করতে পারেননি। দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তবু মন্ত্রীর কান্না আমাদের একটি বার্তা দিয়েছিল, তিনি চাইলেও কিছু করতে পারছেন না। কোথাও হয়তো তার হাত-পা বাঁধা। কিন্তু না। তিনিও আসলে রাজনীতির ছকে বৃত্তবন্দি। না হলে প্রায় সবগুলো পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তিনি নিজের সাফাই গাইতেন না। স্বীকারই করতে চাইলেন না যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নিলেন না। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীও ‘রাজনৈতিক’ হয়ে গেলেন!
সম্ভবত এরিস্টটল বলেছিলেন, ‘মানুষ রাজনৈতিক জীব।’ এটি খুবই সত্য। মানুষের মধ্যে রাজনীতি আছে। কিন্তু রাজনীতির মধ্যেই তো ‘রাজনীতি’ নেই। দেশকে এগিয়ে নেয়ার রাজনীতি দেশকে শুধুই পেছনে টানছে। পেছনে টানার ব্যাকরণটি বুঝতে হলে উন্নয়নের ফিরিস্তি, তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশ, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, মাথাপিছু আয়ের ঊর্ধ্বগতি, পাসের হারে বিপ্লব- এসব গোলকধাঁধার বাইরে এসে নির্মোহ বিশ্লেষণ করতে পারতে হবে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটিকে যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ প্রায় ধর্মানুভূতি নিয়ে উচ্চারণ করে, সেই দেশে মুক্তিযুদ্ধের মিথ্যা সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দিনের পর দিন চাকরি করেছেন কমপক্ষে পাঁচজন। যুদ্ধে সহায়তা করার জন্য বিদেশী বন্ধুদের কৃতজ্ঞতা জানানোর স্বর্ণদণ্ডে স্বর্ণ উধাও! সেটিকে জায়েজ করবার জন্য সর্বোচ্চ নির্বাহীর ঘোষণা, ‘স্বর্ণকার নিজের মায়ের গয়না থেকেও চুরি করে!’ রাষ্ট্রের টাকায় ১৮২ জনের আমেরিকা-মিছিল! অথচ কত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা হয় না! ফুটপাতে খোলা আকাশের নিচে ঘুমিয়ে থাকে কত ‘ভোটার’! একটি দেশ বিষের উপরে টিকে আছে। মানুষ প্রতিদিন টাকা দিয়ে বিষ কিনছে। এমন খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন, যাতে বিষ নেই। ইবাদতের কুরবানি, ত্যাগের কুরবানি। তাতেও গরু মোটাতাজা করার ‘মহৌষধ’! রোগী মরে গেলেও চিকিৎসার বিল পুরো পরিশোধ করার আগে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয় না এ দেশে। থেমে থাকে না শুধু মহামান্যদের শারীরিক চেক-আপের জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সিঙ্গাপুর/যুক্তরাজ্য গমন।
এগুলোর সঙ্গে একটি দেশের এগিয়ে যাওয়া না-যাওয়ার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই হয়তো। কিন্তু এগুলোই হচ্ছে একটি দেশের সত্যিকারের পাটাতন। এ ভিত্তিভূমির উপরেই গড়ে ওঠে আর আর সব উন্নয়নের অট্টালিকা। আহা, আমরা ঝিনুক পেয়েছি, তার মধ্যে মুক্তো কই!
আমরা কেন বুঝতে পারছি না, লাখ লাখ জিপিএ ৫ দিয়ে একটি রাষ্ট্র গড়ে ওঠে না। মানুষ হিসেবে জিপিএ ৫ পেতে হবে। গড়তে হবে একটি মানবিক সমাজ। যেখানে থাকবে না কোন বৈষম্য, অবিচার।
বৈষম্য! তার কি সাক্ষাৎ প্রমাণই না পাওয়া গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলে! ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় যে ছেলেটি প্রথম হয়েছে সে মাদরাসার ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় আইন করেছে, মাদরাসা থেকে পাস করা ছাত্র প্রথম দিকের ৭-৮টি ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতে পারবে না! আবদুর রহমান মজুমদার, তোমরা কেন এই দেশে জন্মেছো? যে দেশ লাখ লাখ জিপিএ ৫ উৎপাদন করে, কিন্তু সত্যিকারের মেধার স্বীকৃতি দেয় না, সেই দেশে জন্মানো পাপ কিনা আমি জানি না।