Wednesday, November 20, 2024

একাত্তর প্রশ্নে জামায়াত আমীর: ভুল প্রমাণ হলে ক্ষমা চাইব

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের কোনো ভুল যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয় তাহলে দলটি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে বলে জানিয়েছেন আমীর ডা. শফিকুর রহমান। একাত্তরের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেছেন, যারা ভারতে চলে গিয়েছিল তাদের জন্য পরিস্তিতি একরকম ছিল আর যারা দেশে ছিল তাদের জন্য অন্যরকম অবস্থা ছিল। দেশে থাকাদের হয়তো পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হতো না হয় তাদের পক্ষে থাকতে হতো। এমন অবস্থায় যারা সরাসারি যুদ্ধ করেনি তাদের অনেকের অবস্থান পাকিস্তানিদের পক্ষে ছিল। যা আর পরবর্তীতে আলোচনা হয় না। আলোচনা শুধু জামায়াত নিয়ে।

মঙ্গলবার লন্ডনে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর। স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের অবস্থানটা কোথায় ছিল, বর্তমান জামায়াতের অবস্থানটা কী এমন প্রশ্নে জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের অবস্থান ছিল আসলে, আনফরচুনেটলি পাকিস্তানিরা আমাদের উপর একটা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। এটা কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ ইনভাইট করে আনেনি। ভুট্টু সাহেব তার একগুয়েমির কারণে পাকিস্তানকে একটা অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। এবং সেখানে ইয়াহিয়া খান তার কাছে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পন করেছেন। বাংলাদেশের জনগণের জন্য এর বাইরে কিছু করার ছিলও না। তখন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়া ছাড়া।
হ্যাঁ,  যদি সেই সময়  জামায়াতের কোনো নেতা কোনো অপরাধ করে থাকেন তার যদি বিচার হয়, আমার কোনো বক্তব্য নাই, তার বিচার হোক। এবং সেই বিচারে কোনো শাস্তি হয় তাতেও আমার কোনো বক্তব্য নাই।
কিন্তু একজন অপরাধ না করে শুধু রাজনীতির কারণে যদি তিনি ভিক্টিমাইজড হন এটা এর চাইতে বড় অপরাধ । এই নির্দিষ্ট অপরাধ করার জন্য যেটা হতো তার শাস্তি-একজনকে অন্যায়ভাবে ভিক্টিমাইজড করা এর চাইতে বড় অপরাধ। এবং সেইটিই আমরা মনে করি হয়েছে।  এই বিচারের ব্যাপারে অনেকেই আপত্তি তুলেছেন। আমি জাস্ট বৃটেনের কোর্টের একটা বিষয়ে আপনাদের সামনে কোট করবো। 'চৌধুরী মইনুদ্দিনের বিচারের ব্যাপারে এখানকার জাজরা একটা অবজারবেশন দিয়েছেন। ইটস এ জেনোসাইড অফ জাস্টিস। এই বিচারের মাধ্যমে বিচারকে হত্যা করা হয়েছে। বিচারের গণহত্যায়িত হয়েছে। দিজ ইজ রিয়েলিটি। আমরা এই সমস্ত পেইন নিয়ে আছি। ১৫টা বছর আমাদের অফিসে একদিন আমাদের বসতে দেয়নি। কথা বলতে দেয়নি। আমরা এদেশের নাগরিক , একটা বৈধ পার্টি। আমাদের একটা র‍্যালি অর্গানাইজ করতে দেয়া হয়নি। আমাদের কথা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে যেতে পারিনাই। তাদের মাধ্যমে জাতিকে বলতে পারিনি। সাংবাদিকদের মনের কথাগুলো আমরা শুনতে পারিনাই।  তাদের মাধ্যমে জাতির কথা আমাদের কাছে আসবে এটাও পথ বন্ধ ছিল। ফলে আমাদের সকল ইন্টারেকশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ৫ তারিখের পর থেকে আগস্ট মাসে আমরা একটু সামান্য সুযোগ পেয়েছি। এখন যেমন আমাদের কথা বলতে পারছি। আপনাদের কথাগুলো শুনতে পারছি। এভাবে যখন মিউচুয়াল ইন্টারেকশন আমাদের বেশি বেশি করে হবে তখন আমাদের ব্যাপারে মিস প্রোপাগান্ডা এবং মিথ যেগুলো আছে  ইনশাআলাহ, আশা করি দূর হবে।
আর আমরা যদি কোনো ভুল করে থাকি সত্যিই যদি, এটা উইদাউট অ্যানি কোশ্চেন, এটা যদি প্রমাণ হয় সন্দেহাতিতভাবে আমি দায়িত্ব নিচ্ছি- আমি ক্ষমা চাইবো জাতির কাছে ইনশাআল্লাহ। এ ব্যাপারে আমার কোনো দূর্বলতা নাই।
বর্তমান সরকারের সময় শুধুমাত্র সংস্কার কাজেই ব্যয় করা হবে? নাকি রাজনৈতিক অনেক রকমের যোগ-বিয়োগ, অনেক রকমের মেরূকরণ হতে পারে বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রধান উপদেষ্টা চার বছরের মতো একটি সময় উনারা প্রয়োজনে থাকতে পারেন বলে একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন এটা কি শুধু সংস্কারের জন্যেই প্রয়োজন, নাকি আরো কিছু কাজ এখানে হবে। রাজনৈতিক কোনো যোগ-বিয়োগ বা রসায়ন এখানে আছে কিনা। এর উত্তর উনার কাছে সবচেয়ে ভালো আছে। আমি আপনার মতোই পড়েছি। আমি যেটা বলবো, আমরা আসলে সময়টাকে বেশি মনে করছি। এর বেশি আমি বলতে চাই না।

বিএনপির অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান এখানে আছেন, আপনি একটি বৃহত্তর দলের আমির। দেশ গড়ার স্বার্থে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না অথবা আপনাদের মধ্যে কোনো আলাপ হয়েছে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ কথাবার্তা আশা করি হবে। বৈঠকের সুযোগটা এবার হয়নি। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এসেছি (লন্ডনে)। আগামী জানুয়ারিতে আসার (লন্ডনে) একটি সম্ভাবনা আছে। ইনশাল্লাহ আমরা বসবো, পরস্পরকে জানব।
বিএনপির সঙ্গে জোট করে নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা আছে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচন কমিশনটা আগে গঠন হয়ে যাক। যারা নির্বাচনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি তারা আগে হোক। যারা ভুলভালভাবে ভোটার হয়ে একাধিকবার ভোটার হয়েছেন তাদের ছাঁটাই ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হোক। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো একটি ক্ষমতাসীন দল থাকবে, তার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকবে। গণতন্ত্রের দুইটি পাঠ। সামনের একটি টায়ার ও পিছনের একটি টায়ার। যেকোনো যন্ত্র-যান চলতে গেলে মিনিমাম দুটি টায়ার লাগবে। আমরা হয়তবা একসাথেও করতে পারি। আবার আলাদাও করতে পারি। উনারা পাওয়ারে গেল আমরা বিরোধী দলে থাকলাম, কিংবা মানুষ আমাদেরকে পছন্দ করে আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমতায় দিলে আমরা গেলাম। উনারা বিরোধী দলে থাকলো। আমরা একে অন্যের সহায়তা করবো। বিউটি অব ডেমোক্রেসিকে আমরা এভাবে ফুটিয়ে তুলতে চাই।
জামায়াত কি শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকার রাখতে পারবে? অথবা ক্ষমতায় যাওয়ার মতো অবস্থানে আপনারা গেছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, অবশ্যই শক্তিশালী বিরোধী দল হওয়া উচিত। বিরোধী দল দুর্বল হলে দেশও দুর্বল হয়ে যায়। বিরোধী দল শক্তিশালী মানে একটি নেশন শক্তিশালী। সুতরাং আমাদের একটি শক্তিশালী বিরোধী দল দরকার। দুই নাম্বার হলো মাইনাস ওয়ানের কোনো আভাস আমরা পাচ্ছি কিনা, আমার কাছে এরকম কিছু নাই। আমরা যেমন নির্যাতিত মজলুম, তিনিও তেমন নির্যাতিত মজলুম। আমরা চাই সকল মজলুমের সঠিক মূল্যায়ন হোক। তিনি দেশে ফিরে যাবেন, সম্মানের সাথে রাজনীতি করবেন। দেশকে নেতৃত্ব দিবেন। আমরা স্বাগত জানাব।
গত ১৫ বছরে বিচারিকভাবে আপনারা ভিকটিমাইজড হয়েছেন, আপনারা কি এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ। খুব শীঘ্রই নেয়া হবে।
বিএনপি-জামায়াতের আমলে বাংলা ভাইসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বেশি ছিল, বিএনপি-জামায়াত কি জঙ্গি দমনে ব্যর্থ ছিল কি-না? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জঙ্গিদের নিজস্ব একটি গ্রামার আছে। তারা ওই দেশের বিদ্যমান গ্রামার, সংবিধান কিছুই মানে না। তাদের নিজস্ব গ্রামার নিয়েই তারা কাজ করে। এটা শুধু বাংলাদেশ না, সারাবিশ্বের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এটা সারাবিশ্বের ইক্যুয়ালি এটাকে অ্যাড্রেস করার বিষয়। এককভাবে কোনো দেশ এটা করতে পারবে না। এখানে দুটি কাজ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, একটা হলো অ্যাঙ্গেজমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিজ, আরেকটা হলো অ্যাঙ্গেজমেন্ট অব দ্য ডোমেস্টিক কমিউনিটিজ। শুধু বাইরের লোকরা এসে এটা ঠিক করে দিতে পারবে না। আমাদের ভিতরের লোকদেরও এটার বিষয়ে মজবুত অবস্থান লাগবে। আমরা এই দুটিতে বিশ্বাসী। অনেকে ধারণা করে থাকেন, চার দলীয় সরকারের সময় এটার উত্থান ঘটেছে। হ্যাঁ, ওই সময় বড় মাত্রায় ধরা পড়েছে। আবার ওদেরকে কাবুও করা হয়েছে। তাদের সবাইকে কিন্তু আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এবং ওই সময় কারও কারও বিচারও হয়েছে। সুতরাং সরকারের এখনো কোনো দুর্বলতা ছিল না।
জামায়াত ইসলামী সম্প্রতি হিন্দু শাখা করেছে, এটা দ্বারা হিন্দুস্তানকে প্রোমোট করা হচ্ছে কি-না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা সবাই বলি হিন্দু, মুসলমান, বৈদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আমরা সমান। তাহলে কী আমরা সবাই প্রোমোট করছি? না, আমরা করছি না। তিনি বলেন, আমাদের ওইরকম আলাদা কোনো শাখা নাই। এটা রংপুরের পীরগাছার একটি ঘটনা। হ্যাঁ, তাদের অনেকেই আমাদের সহযোগী সদস্য আছেন।
প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এটার বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় আছি। আমরা এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবো।
তিনি বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দিন। এ অভ্যুত্থানে দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ অংশ গ্রহণ করেছিল। এমনকি দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রত্যেকেই যার যার সাধ্য অনুযায়ী আমাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন।” একই সঙ্গে দেশে বিদেশে থেকে যারা এই সংগ্রামী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মোবারকবাদ জানাই।
প্রবাসীরা রেমিটেন্সের মাধ্যমে জন্মভূমি বাংলাদেশকে বিপুল সহায়তা করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, “মনিটারি রেমিটেন্সের পাশাপাশি বাংলাদেশকে ইন্টেলিজেন্স রেমিটেন্স পাঠানোর জন্যেও আমি প্রবাসীদের কাছে আবেদন রাখছি। ইন্টেলিজেন্স রেমিটেন্স বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বিরাটভাবে সহায়ক হবে। এভাবেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীরা অপরিসীম অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।”
বিগত সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে ডা. শফিক বলেন, “যে পরিমাণ উন্নয়ন করা সম্ভব হতো, সেটা আসলে হয়নি। বাংলাদেশে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে যে ব্যয় দেখানো হয়েছে, আমাদের অঞ্চলের অন্যান্য দেশে সে ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প তার তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয়েই সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের দেশে সময় মতো কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়নি, একের পর এক সময় বাড়ানো হয়েছে আর সেই সাথে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে প্রকল্পের ব্যয়। এভাবেই দেশটাকে লুটেপুটে নিঃস্ব করা হয়েছে।”

mzamin


মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে হতাশ আমেরিকানদের ১ ডলারে বাড়ি দিচ্ছে ইতালির একটি গ্রাম

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ কেমন হতে চলেছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে। এই আবহে ইতালীয় দ্বীপ সার্ডিনিয়ার একটি গ্রাম অভিনব সুযোগ এনে দিয়েছে। গ্রামীণ ইতালির অন্যান্য অনেক জায়গার মতো, ওলোলাই তার ভাগ্য পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় নেমেছে। গ্রামের জরাজীর্ণ বাসাগুলি মাত্র এক ডলারে বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। ৫ নভেম্বর ভোটের ফলাফলের পরে তারা আমেরিকান প্রবাসীদের লক্ষ্য করে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে এই আশায় যে,  ফলাফলে যারা বিরক্ত তারা ইতালির গ্রামের এই  সস্তা বাসাগুলি কিনে নতুন করে বসতি স্থাপন করবে। ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে, ‘আপনি কি বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বারা ক্লান্ত ? নতুন  জীবনধারা গ্রহণ করতে চাইছেন? সার্ডিনিয়ার অত্যাশ্চর্য দ্বীপে আপনার স্বপ্ন নির্মাণের সময় এসেছে।’

মেয়র ফ্রান্সেসকো কলম্বু সিএনএনকে বলেছেন যে ওয়েবসাইটটি বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষিতে আমেরিকান ভোটারদের আকর্ষণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন এবং নিশ্চিত যে আমেরিকানরা তার সম্প্রদায়কে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসবে।  ফ্রান্সেসকোর দাবি, ‘আমরা সত্যিই আমেরিকানদের উপর ফোকাস করতে চাই । আমরা অবশ্যই অন্য দেশের লোকদেরও এখানে আসতে আবেদন জানাচ্ছি। তবে আমেরিকানদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। গ্রামকে পুনরুজ্জীবিত করতে আমরা তাদের ওপর আস্থা রাখছি।’

ফ্রান্সেসকো কলম্বু বলেন যে, গ্রামটি এখন তিন স্তরের আবাসন সরবরাহ করছে। বিনামূল্যে অস্থায়ী বাসা, সংস্কার সহ এক-ইউরোর বাসা। কিছু বাসা আছে যার মূল্য  ১ লক্ষ  ইউরো (১লক্ষ ৫ হাজার ডলার)। মেয়র বলেছেন যে, তিনি আগ্রহী ক্রেতাদের ক্রয়ের প্রতিটি ধাপে গাইড করার জন্য একটি বিশেষ দল তৈরি করেছেন।  উপলব্ধ বাসস্থানগুলির জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিগত ট্যুর সংগঠিত করা থেকে শুরু করে ঠিকাদার, নির্মাতা  এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেভিগেট করা। সবেরই ব্যবস্থা থাকছে। উপলব্ধ খালি সম্পত্তির ফটো শীঘ্রই ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। বিগত শতাব্দীতে, ওলোলাইয়ের জনসংখ্যা ২২৫০থেকে ১৩০০এ সঙ্কুচিত হয়েছে যেখানে প্রতি বছর মাত্র কয়েকটি শিশুর জন্ম হয়েছে। অনেক পরিবার কঠিন অর্থনৈতিক সময়ে, কাজ এবং উন্নত জীবনের সন্ধানে গ্রাম ছেড়েছে।

ওয়েবসাইটটি পূর্বশর্ত হিসাবে মার্কিন পাসপোর্ট থাকার কথা উল্লেখ করেনি, তবে মেয়র বলেছেন যে মার্কিন নাগরিকদের অন্যান্য জাতীয়তার সম্ভাব্য আবেদনকারীদের থেকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।মেয়র বলেছেন  বাসাগুলির তথ্যের অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই  ৩৮,০০০ আবেদন জমা পড়েছে, সবকটিই যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

mzamin

ফ্যাসিবাদ বিলোপে ঐক্য চাই -হাসনাত আব্দুল্লাহ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন,  বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। ফ্যাসিবাদ বিলোপে ঐক্য চাই। মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন,  ‘বিগত দেড় দশকের আওয়ামী স্বৈরশাসনের জাঁতাকলে নির্মমভাবে পিষ্ট হয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। আওয়ামী লীগের অন্যায়, অবিচার ও প্রহসনমূলক অপশাসনের দরুণ তারা তাদের বহুসংখ্যক একনিষ্ঠ নেতা-কর্মীকে চিরতরে হারিয়েছে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার হরণসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে বিগত দিনগুলিতে দল হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতের উপর আওয়ামী লীগ চালিয়েছে নির্মমতম অত্যাচারের খড়গ’।

তিনি লেখেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া খেটে খাওয়া দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ শিশু-কিশোররাও শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী স্বৈরশাসনের দুর্দিন পেরিয়ে চব্বিশের সফল গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার চিরতরে বিলোপের স্বার্থেই সব নিপীড়িত দলকে এক মহান ঐক্যের সামনে হাজির করেছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কোনো ঠাঁই নেই। দল হিসেবে যে আওয়ামী লীগ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের আপামর মানুষের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করে গুম-খুন ও অন্যায়-অবিচারের রাজত্ব কায়েম করেছিল, সেই আওয়ামী লীগের আগামীর ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করার বিন্দুমাত্র সুযোগ অবশিষ্ট নেই। দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধকরণ ও বিগত বছরে আওয়ামী অপশাসনের পেছনে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করেছে তাদের বিচারের দাবিই এখন বাংলাদেশের তামাম জনগণের মুখে-মুখে, অন্তরে-অন্তরে’।

তিনি আরও লেখেন, ‘একটি ব্যাপার আমাদের মনে রাখা দরকার, এত রক্ত বিসর্জনের পরে আমরা কেউই আর ৭১ ও ৯০-এর ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা যেমন চাই না আমাদের দেশে নতুন করে কেউ ফ্যাসিস্ট হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক, তেমনই চাই না যে আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে পুনরায় কোন বহিশক্তির আধিপত্য কায়েম হোক। দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থে এই মহৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের সকলের একতা বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত নির্বিশেষে আমরা এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাব একই গন্তব্যের দিকে।

বিএনপি, জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী কোনো দলের সাথেই শিক্ষার্থীদের ভেদাভেদ নেই। তাছাড়া, এই গণঅভ্যুত্থানের পরে একটি ব্যাপার দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে যে বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতি কখনোই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।

সুতরাং আমরা বিভাজনের বদলে ঐক্য চাই। অপশাসনের বদলে সুশাসন চাই।

বাংলাদেশের মানুষ বহুকাল যাবৎ নানাবিধ দুর্দশায় দিনানিপাত করছে; আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই।

পুনরায় বলি, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিতকরণে এই মুহূর্তে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য অপরিহার্য। সুতরাং আমরা পারস্পরিক রেষারেষি, অবিশ্বাস ও দলাদলির বদলে একতা ও ঐক্যের দৃষ্টান্ত কায়েম করব। একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই আগামীতে এক হয়ে কাজ করব।

বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। ফ্যাসিবাদ বিলোপে ঐক্য চাই’।

mzamin

দিল্লিতে ভয়াবহ দূষণ: একদিনের বাতাসে ৪৯টি সিগারেটের সমান ক্ষতি!

ভারতে দিল্লির আকাশে ধোঁয়া আর দূষণের ঘনত্ব এমন এক মাত্রায় পৌঁছেছে, যা ৪৯টি সিগারেট খাওয়ার সমান। এ পরিস্থিতি নগরবাসীর জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীতে বায়ু দূষণের সূচক ছিল ৯৭৮, যা ‘বিপজ্জনক’ স্তরের মধ্যে পড়ে এবং প্রায় ৪৯টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর।

এদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত দিল্লির চারপাশের পরিবেশ ছিল ঘন ধোঁয়ায় ঢাকা, যেখানে মাটির দিকে নেমে আসা ধূলিকণার সঙ্গে মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিশেষভাবে, মুন্ডকা, দ্বারকা সেক্টর ৮ এবং রোহিনীর মতো এলাকা ছিল সবচেয়ে বেশি দূষিত, যেখানে বায়ু দূষণের সূচক যথাক্রমে ১৫৯১, ১৪৯৭ এবং ১৪২৭ রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, দিল্লির পার্শ্ববর্তী হরিয়ানায় বায়ু দূষণের সূচক ছিল ৬৩১, যা প্রায় ৩৩টি সিগারেট খাওয়ার সমান এবং উত্তরপ্রদেশে এই সূচক ছিল ২৭৩, যা ১০টি সিগারেট খাওয়ার সমান। দূষণের কারণে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ২৮টি ট্রেন দেরিতে চলছে এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৬০টির বেশি ফ্লাইট সকাল সাড়ে ৮টার আগেই উড়তে পারেনি।

দিল্লিতে দূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্ট আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের চতুর্থ স্তরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লি সরকারকে এই অবস্থায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দিল্লিতে অতিরিক্ত দূষণ নিয়ন্ত্রণে, সোমবার থেকে প্রশাসন নির্মাণকাজ, মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, স্কুলগুলোতে অনলাইনে ক্লাস চলছে এবং কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এমন ভয়াবহ দূষণের ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিপর্যয়কর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য এটি এক বড় হুমকি। নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এ ধরণের দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

বাতাসে ধোঁয়া আর দূষণের ঘনত্ব প্রতিদিন ৪৯টি সিগারেট খাওয়ার সমান। ছবি : সংগৃহীত
বাতাসে ধোঁয়া আর দূষণের ঘনত্ব প্রতিদিন ৪৯টি সিগারেট খাওয়ার সমান। ছবি : সংগৃহীত


সীমান্তে ‘শব্দ বোমা’ দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কিমের নতুন অস্ত্র

কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা যেন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে এবার এক অভিনব অস্ত্র ব্যবহার করছে উত্তর কোরিয়া। সীমান্তে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল সাউন্ডবক্স, যা অনবরত বিকট শব্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে।

‘শব্দ বোমা’র অত্যাচার

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে বসানো এই শব্দযন্ত্র দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিরক্তিকর শব্দ উৎপাদন করা হচ্ছে। কখনো ভূতুড়ে চিৎকার, কখনো ভেঙে পড়ার বিকট শব্দ, যা স্থানীয়দের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ডাংসান এলাকার বাসিন্দারা একে বলছেন, ‘শব্দ বোমা।’

সীমান্তের গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, দিন-রাত একনাগাড়ে এই সাউন্ডবক্সগুলো চালানো হচ্ছে। ফলে নিদ্রাহীনতা, মাথাব্যথা এবং মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন অনেকে। কেউ কেউ বলছেন, এটি যেন কোনো গোলাবারুদ ছাড়াই আমাদের ওপর বোমা নিক্ষেপের মতো। এর ভয়াবহতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

দুই কোরিয়ার সংঘাতের নতুন অধ্যায়

চলতি বছরের জুলাই থেকে উত্তর কোরিয়া সীমান্তের দিকে লাউডস্পিকার বসিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে এই ‘শব্দ যুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, এটি কিম জং উনের একতরফা উসকানি। এর আগে মে মাসে কিমের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে আবর্জনা ভর্তি বেলুন পাঠিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে লাউডস্পিকার স্থাপন করে কোরীয় পপ গান ও পিয়ংইয়ং-বিরোধী খবর সম্প্রচার শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম এবার সেই কার্যক্রমের পাল্টা জবাব দিতে ‘শব্দ বোমা’ প্রয়োগ করছে।

উত্তেজনা যুদ্ধের দিকে?

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তের এই শব্দযুদ্ধ দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে নিয়ে গেছে। সীমান্তে এমন পরিস্থিতি যেকোনো সময় বড় আকারের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। দুই কোরিয়ার এমন উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের এই দুই প্রতিবেশী দেশ কি এই উত্তেজনা পেরিয়ে নতুন কোনো সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে? না কি বৈশ্বিক কূটনীতির মাধ্যমে শান্তির পথে ফিরে আসবে—এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই বলে দেবে।

সীমান্তে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল সাউন্ডবক্স, যা অনবরত বিকট শব্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
সীমান্তে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল সাউন্ডবক্স, যা অনবরত বিকট শব্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত



এবার পারমাণবিক হামলার অনুমতি দিলেন পুতিন

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) এ-সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার অনুমতির জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন পুতিন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে ডিক্রিতে বলা হয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর কোনো দেশের সমর্থন নিয়ে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে মস্কো।

মঙ্গলবার যুদ্ধের ১ হাজারতম দিবস পার করছে রাশিয়া-ইউক্রেন। আজকের দিনেই পুতিন তার দেশের পরমাণুনীতি হালনাগাদ করে এই ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পুতিনের মুখপাত্র এবং রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ।

নতুন এই ডিক্রিতে বলা হয়েছে, যেসব দেশের পরমাণু অস্ত্র নেই, তাদের যদি তৃতীয় কোনো দেশ বা পক্ষ এ ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র প্রদান করে— সেক্ষেত্রে সেসব দেশের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে রাশিয়া।

মঙ্গলবার মস্কোতে ক্রেমলিন কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে পেসকভ বলেন, পরমাণু অস্ত্র নেই— এমন কোনো আগ্রাসী দেশের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ কোনো দেশ যদি জোটবদ্ধ হয়, তাহলে তা আর একক নয়, বরং যৌথ হামলায় পরিণত হয়। আর এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নীতি অক্ষুণ্ন রেখে যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, আমরা সেটিই নিয়েছি।

পেসকভ আরও বলেন, রাশিয়া সবসময় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করার বিপক্ষে; আমরা শুধু আমাদের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।

এরআগে গত রোববার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার জন্য অনুমতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই অনুমতির দুদিনের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারবিষয়ক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করলেন পুতিন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত


ইউক্রেন যুদ্ধের ১০০০ দিন: রাশিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা, পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কা

রাশিয়ার ব্রিয়ানস্কে গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাত বলা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গতকাল মঙ্গলবার যুদ্ধের সহস্রতম দিনে এই হামলা চালানো হয়। এমন হামলা চালানো হলে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি আগেই দিয়ে রেখেছে মস্কো। তাই গতকাল হামলার পর ইউক্রেন যুদ্ধ আরও সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল জানায়, এদিন বিকেলে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক এলাকায় এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইউক্রেন। সেগুলোর সব কটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ওই এলাকায় একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। এতে কেউ হতাহত হননি।

রুশ মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যের আগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক এলাকায় একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালিয়েছে। এলাকাটি রুশ সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার ভেতরে। হামলার পর ১২টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলায় এটিএসিএমএস ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটা তারা নিশ্চিত করেনি।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাত বলা হচ্ছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা পেয়েছে কিয়েভ। তার মধ্যে ছিল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও। দিন কয়েক আগে এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এই অনুমতিতে যুদ্ধ আরও সংঘাতময় হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তখন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, বাইডেনের এমন সিদ্ধান্ত ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো। এতে চটেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরও। তাঁরা বলছেন, আগামী জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে বসার আগেই ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বাধাতে চাইছে বাইডেন প্রশাসন।

বাইডেনের অনুমতির পর ইউক্রেন যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে, সে আশঙ্কা আগেই করছিল রাশিয়া। গতকালই নিজেদের পরমাণুনীতিতে পরিবর্তন এনেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর কোনো দেশের সমর্থন নিয়ে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে মস্কো। শুধু তা–ই নয়, কোনো জোটের সদস্যদেশ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়, তাহলে পুরো জোটই এই আগ্রাসন চালিয়েছে বলে বিবেচনা করতে পারবে ক্রেমলিন।

আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। এরই মধ্যে এমন সময় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেন হামলা চালাল, যখন শীতকাল সামনে রেখে দেশটিতে হামলা জোরদার করেছে মস্কো। গত রোববারই শুধু ইউক্রেন লক্ষ্য করে দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। এটি ছিল গত তিন মাসের মধ্যে রাশিয়ার চালানো সবচেয়ে বড় হামলা।

জটিল এই পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধের সহস্রতম দিন উপলক্ষে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘কে শেষ পর্যন্ত জিতবে—যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। হয় শত্রুদের হারিয়ে আমরা জিতব, না হয় ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে শত্রুরা জিতবে।’

ইউক্রেনের জন্য দূরপাল্লার এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউক্রেনের জন্য দূরপাল্লার এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিএনপির ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ কিন্তু সফল হয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাঁরা ‘পেছনের দরজা’ দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছেন, তাঁদের একটি বিষয় মনে রাখার জন্য বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন উই আর অলরেডি (আমরা ইতিমধ্যে) শহীদ। পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।’

রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে আজ মঙ্গলবার বেনার নিউজ বাংলা আয়োজিত ‘কী চাই নতুন বাংলাদেশে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

শুধু ভোটের অধিকারের জন্য গণ-অভ্যুত্থান হয়নি উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফার দাবির মধ্যে ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিনের বক্তব্যের সূত্র ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এখন বলা হচ্ছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংস্কারের মূল প্রবক্তা; কিন্তু ২৮ অক্টোবর (২০২৩) কিন্তু সফল হতে দেখা যায়নি। সেখানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ অংশ নেয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি মহাসমাবেশের ডাক দেয়। পুলিশের বাধায় সেই মহাসমাবেশ পণ্ড হয়। সেদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশসহ দুজন নিহত হন। পরে আওয়ামী লীগ গত ৭ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এখন আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার ও দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি করছেন। অন্যদিকে বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচারের পক্ষে, তবে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয়। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচন ও নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ব্যাক ডোর (পেছনের দরজা) দিয়ে সেটেলমেন্টে (সমঝোতা) যাবেন...আপনারা যদি মনে করেন, ব্যাক ডোর চ্যানেল দিয়ে সমঝোতা করবেন, তাদের ব্যবসার অংশ হবেন, তাহলে মনে রাখবেন উই আর অলরেডি (আমরা ইতিমধ্যে) শহীদ। পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। যে রাজনৈতিক দলগুলো এ চিন্তা করছেন আপনারা আমাদের ভুলে যাবেন না।’

অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার মহাখালীতে নিহত জাহিদ হোসেনের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন বক্তব্যের শেষের দিকে বলেন, তিনি দেশের জন্য এক ছেলেকে দিয়েছেন। প্রয়োজনে আরেক ছেলেকেও দেবেন। লাগলে বাবা হিসেবে তিনিও যাবেন।

জাহাঙ্গীর হোসেনের কথার সূত্র ধরে হাসনাত বলেন, বিদ্যমান যে রাজনৈতিক দলগুলো আপনারা সমঝোতার রাজনীতি শুরু করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে যাচ্ছেন। এই বাবার কথা নোট করে রাখবেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে। যারা পেছনের দরজা দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাঁদেরও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ফিরবে কি, ফিরবে না সে আলোচনার সময় এখনো আসেনি উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত যাঁরা তাঁদের পুনর্বাসন নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাঁরা কখনো গণ-অভ্যুত্থানকে হৃদয়ে ধারণ করেননি। আগে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা প্রাসঙ্গিক। আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে কি নেবে না তা অপ্রাসঙ্গিক।

হাসনাত আরও বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো রেখে পরবর্তী সময়ে যতই নির্বাচন দেওয়া হোক না কেন, সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। মূল সংস্কারগুলো আগে হতে হবে। সেই সংস্কারই দেশকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে। নির্বাচন ও সংস্কার যুগপৎভাবে চলবে।

বিগত সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাঁদের যখন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে যে বক্তব্য তাঁরা দিয়েছিলেন, তা গণমাধ্যম প্রচার করেনি; বরং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, সেভাবে প্রচার করা হয়েছে।

২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে গণমাধ্যমের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘গণভবনমুখী হইয়েন না, জনগণমুখী হন। মনে রাখবেন সরকার যেটা শুনতে চায় সেটা প্রেস রিলিজ (বিজ্ঞপ্তি)। আর সরকার যেটা শুনতে চায় না, সেটা নিউজ।’

আলোচনায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, লেখক–গবেষক মোবাশ্বার হাসান, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম, অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ প্রমুখ।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বেনার নিউজ বাংলার প্রধান শরীফুজ্জামান। সভা সঞ্চালনা করেন বেনার নিউজের সিনিয়র কনটেন্ট ম্যানেজার আশীফ এন্তাজ রবি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। ফাইল ছবি

এক মামলায় ৫৩ সাবেক সচিব আসামি: বাদী বললেন ক্ষোভ থেকে মামলা করেছি by শুভ্র দেব

সাবেক ৫৩ সচিবের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচনায় জামাল হোসেন খান রিপন (৫১)। এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের জিএসও ছিলেন। ’৯০-এর আন্দোলনে ছাত্র ঐক্যের নেতা ছিলেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। জিয়া ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পারিবারিক ফার্নিচার ব্যবসার ও ঠিকাদারি করেন। এ ছাড়াও তিনি সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলেও দাবি করেছেন। তার তিন মেয়েও আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামল নিয়ে তার অনেক ক্ষোভ রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাবেক সচিবদের প্রতি তিনি বেশি ক্ষিপ্ত। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তারা মেয়াদ বাড়িয়ে চাকরিতে অবস্থান, দুর্নীতি, বিভিন্ন দেশের এজেন্ট হিসাবে কাজ করাসহ নানা কারণেই এই ক্ষোভ। ক্ষোভ থেকেই মেয়েকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা করেছেন। বলেছেন, কে শাস্তি পাবে জানি না, ক্ষোভ থেকেই মামলা করেছি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন থানায় শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী,  পুলিশ সদস্য, আমলাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা  হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে সাবেক কয়েকজন সচিবকে আসামি করা হয়েছে। তবে এর আগে এক মামলায় ৫৩ জন সাবেক সচিবকে আসামি করা হয়নি। মামলায় কেন তিনি এত সাবেক সচিবকে আসামি করেছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় জামাল হোসেন খান বলেন, এবারের আন্দোলনটি ছিল দীর্ঘ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিগত তিনটি নির্বাচন চোখের পলকে হয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদের একটা শক্তি দেশে দাঁড়িয়েছিল। আমার তিন মেয়ে। সবাই আন্দোলনে ছিল। আমিও ছিলাম।  ছোট মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ৫টি গুলি লেগেছে তার শরীরে। দুইটা গুলি বের করা হয়েছে। তিনটা এখনো আছে। ফ্যাসিবাদ শব্দের সঙ্গে আমরা সেভাবে পরিচিত ছিলাম না। ফ্যাসিবাদের কারণে প্রশাসন, পুলিশ, আইন আদালত, মিডিয়া, স্কুল-কলেজ কিংবা ব্যবসার জায়গাগুলোতে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি বিগত দিনে। আমলাদের চাকরি শেষ তবুও ২/৪ বছর এক্সটেনশন করে চাকরি করেছে। অনেক ক্ষমতাবান তারা। আমলাতান্ত্রিকতার দিকে সরকার ঝুঁকেছে ২০১৪ সাল থেকে। আমরা দেখেছি আমলারা কীভাবে ক্ষমতাবান হয়ে যাচ্ছে। এমপি নির্বাচন করে মন্ত্রী হয়ে যায়। এরকম একটা ট্রেডিশন তৈরি হয়েছিল। এসব থেকে আমার মাঝে ক্ষোভ জন্মায়। তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নাই। আদালত যদি এগুলো আমলে আনে তবে পরবর্তী প্রজন্ম উপকৃত হবে। আর কোনো আমলা যেন দলীয়ভাবে এগ্রেসিভ না হয়। তারা যেন তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজটাই করে।

জামাল বলেন, আমার মেয়ে সামিয়া খান হৃদি। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেজো মেয়ে একই স্কুলের এইচএসসি’র শিক্ষার্থী। আর বড় মেয়ে নাফিসা খান মুন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ তৃতীয় বর্ষে পড়ে। ১৮ তারিখে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয় তখন সন্তানদের আর ঘরে রাখতে পারিনি। তাদের বড় ভাই, আপুরা বা সমবয়সীরা যখন আন্দোলনে যোগ দিয়েছে তখন তারা আর ঘরে থাকেনি। একসময় তো আন্দোলন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রিক হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা যখন ছাত্রলীগের হামলার কারণে আহত হয় তখনই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জোড়ালো ভূমিকা নেয়। আমরা অভিভাবক অথচ তারা আমাদের যেসব কথাবার্তা বলেছে সেসব শুনে আমরাও আন্দোলনে না গিয়ে থাকতে পারিনি। বনশ্রী এলাকায় অনেক টর্চার হয়েছে। না দেখলে বুঝানো যাবে না। এলোপাতাড়ি গুলি করেছে। এসব গুলিতে আমার মেয়ে আহত হয়েছে।  

যেখানে গণহত্যা মামলায় আসামিরা যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য প্রমাণ ও আলামতের অভাবে শাস্তির আওতায় আসবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে, এক্ষেত্রে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সচিবদের আসামি করা হয়েছে। এই মামলার ভবিষ্যত ও আসামিদের শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা টিকবে কিনা এটা আদালতের বিষয় এবং দীর্ঘসূত্রিতা আছে। বিচারের প্রত্যাশা আদালতের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। কারণ আমরা জানি এদেশে বিচারের সংস্কৃতিটা এখনো গড়ে উঠে নাই। তবে যদি হয়! আমরা যেরকমটা স্বপ্ন দেখছি। আমাদের দেশটা ঘুরে দাঁড়াবে। সত্য ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে। স্বাধীনতার এত বছরে আমরা কিছুই পাইনি। প্রশাসনের লোকজন যদি ভালো হয়। রায় কি হবে আর কে শাস্তি পাবে তার চিন্তা করিনি। ডকুমেন্টারি থাকলো যাতে শাস্তির আওতায় আসতে পারে।

মামলায় সাবেক আমলাদের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট কেন বলা হলো এ নিয়ে তিনি বলেন, এটা বলার কারণ হলো সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেগুলো দ্রুত পাসিং হয়ে যায়। রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে আমলারা শক্তিশালী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সরকারের আচরণেও এসব বোঝা যেত। আমাদের সচিবরা পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিং নিচ্ছে। একদিনে হয়নি জুলাই বিপ্লবটা। এটা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন অনিয়ম থেকে জন্ম নেয়।

মামলায় ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছে কিনা এ নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি এরকম না। যারা ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে কাজ করেছে তাদেরকেই আসামি করা হয়েছে। আরও কয়েকজন ছিল তারা বাদ পড়ে গেছে। মিডিয়া সেক্টরের কিছু ব্যক্তির নাম বাদ পড়ে গেছে। তারাও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করেছে।  মেয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বলেন, আমার মেয়ের পায়ের হাড়ের সঙ্গে গুলি লেগে আছে।  মেয়েটা পা ভাঁজ করতে পারে না। দেশের বাইরে কোথাও নিয়ে চিকিৎসা করানোর ইচ্ছা আছে। সিএমএইচ বলেছে, তিন মাস পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে অপারেশনের অবস্থায় আছে কিনা। মামলার তদন্ত নিয়ে জামান বলেন, ঘটনার প্রায় তিন মাস পর তিনি প্রথমে বাড্ডা থানায় মামলা করতে যান। থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর তিনি সিএমএম আদালতে মামলা করেছেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ মামলা তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এখনো তদন্ত শুরু হয়নি। এসপিকে ফোন দিয়েছিলাম। বললেন, তদন্ত কর্মকর্তা কিছুদিন পর যোগাযোগ করবে।

এর আগে ২৯শে অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলা করেন জামান হোসেন খান। মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৯৬ জনকে। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যসহ আরও ২০০/৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় তিনি সাবেক সচিবদের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট, দুর্নীতিবাজ, ফ্যাসিস্টের সহযোগী, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, সাবেক মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, আব্দুস সোবহান সিকদার, তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। সাবেক অন্য সচিবদের মধ্যে রয়েছেন মোজাম্মেল হক খান, জুয়েনা আজিজ, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, হেলালুদ্দীন আহমেদ, ফয়েজ আহমেদ, সাজ্জাদুল হাসান, সালাহ উদ্দিন, লোকমান হোসেন মিয়া, আব্দুল মান্নান, আব্দুল মান্নান হাওলাদার, আবু হেনা মোরশেদ জামান, ওয়াহিদা আক্তার, হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী, মহিবুল হক, উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, জাহাংগীর আলম, এম এ এন সিদ্দিক, শাহজাহান আলী মোল্লা, শ্যামল কান্তি ঘোষ, ইকবাল খান চৌধুরী, মরতুজা আহমেদ, খন্দকার শওকত হোসেন, নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, জাফর আহম্মদ খান, বরুণ দেব মিত্র, এম আসলাম আলম, রফিকুল ইসলাম, চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, সুরাইয়া বেগম, নজরুল ইসলাম খান, শহীদউল্লা খন্দকার, আব্দুল মালেক, জিল্লার রহমান, ইবরাহীম হোসেইন খান, সম্পদ বড়ুয়া, পবন চৌধুরী, অপরূপ চৌধুরী, সামছুদ্দিন আজাদ চৌধুরী, আক্তারী মমতাজ, শাহ কামাল ও প্রশান্ত কুমার রায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন আহম্মেদ। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, সাবেক সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক। ইসি সচিবালয়ের বর্তমান অতিরিক্ত সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি, সাবেক যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম ও মোহাম্মদ আবদুল বাতেন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডি শাখার সাবেক পরিচালক ফরহাদ হোসেন। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি, দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক একজন চেয়ারম্যান, পুলিশের সাবেক আইজিপি, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহ্‌মেদ, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক দুই মেয়র আতিকুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব বিপ্লব বড়ুয়া, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক, পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ কয়েকজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিক নেতাও রয়েছেন। তারা হলেন- ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মোজাম্মেল বাবু ও নঈম নিজাম।

মামলার এজাহারে বাদী জামাল হোসেন খান উল্লেখ করেছেন, তার মেয়ে সামিয়া খান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বনশ্রী শাখার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সামিয়া আফতাবনগরে ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যায়। সেখানে ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল। ছাত্র-জনতার মিছিল চলার সময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করতে থাকে। এ সময় সামিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। তার পায়ে এখনো তিনটি গুলি রয়েছে।

mzamin

কান্না থামছে না রাকিবের পরিবারে by ফাহিমা আক্তার সুমি

রাকিব হোসেন। তেইশ বছরের এই যুবক গত ১৯শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের উপরে গুলিবিদ্ধ হন।  গুলিটি তার পেটে লাগে। পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের সঙ্গে ঢাকার আফতাব নগরে থাকতেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে রাকিব ছিলেন বড়। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সন্তান ছিলেন তিনি। রাকিব আফতাব নগরে পাওয়ার গ্রিডের আউটসোর্সিং-এ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং। তার বাবা চান মিয়া বেশকিছু দিন আগে স্ট্রোক করেন। এরপর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তার মা হাসি আক্তার পাওয়ার গ্রিডের আউটসোর্সিং-এ অফিস অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত। যা আয় হতো সেটি দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করতেন। রাকিব মারা যাওয়ার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও পরিবারে এখনো থামছে না কান্না। সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।

রাকিবের মা হাসি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে মানবজমিনকে বলেন, সন্তান হারানোর কষ্ট তো একমাত্র মা-ই জানে। যার সন্তান যায় সেই বুঝে সন্তান কী। আমি মারা গেলে আমার কবরে কে মাটি দিবে? আমার রাকিব তো একমাত্র ছেলে সন্তান ছিল। এখন বাসা থেকে যখন কাজে বের হই তখন মনে হয় আমার পেছন থেকে মা বলে ডাকছে রাকিব। আমি আর রাকিব একসঙ্গে দু’জন একই অফিসে কাজ করতাম। অফিসে গিয়ে মা-ছেলে মিলে দুপুরে একসঙ্গে ভাত খেতাম। কতো স্মৃতি আছে আমার রাকিবের সঙ্গে। এখনো এক মুহূর্ত ঘুমাতে পারি না সব সময় রাকিবের মুখটি সামনে ভাসে। আমার কাছে এখনো মনে হয় না যে, রাকিব নেই। বাসায় এসে আমাকে না দেখলে ওর বোনকে বলতো, ‘আম্মু কইরে।’ যেদিন মারা যায় তার আগের রাতে একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলাম। আমার বড় মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়েটার বয়স মাত্র ১৪ বছর। সারাক্ষণ ওর ভাইকে নিয়ে থাকতো। ভাই মারা যাওয়ার পর মেয়েটি কেমন যেন চুপ হয়ে গেছে। প্রায়ই ভাইয়ের জন্য কাঁদতে থাকে। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনার দিন সকালে ওর মধ্যে অনেক অস্থিরতা ছিল, কোনোমতে অল্প কিছু ভাত খেয়ে বাইরে দৌড়ে চলে যায়। ওইদিন খাওয়ার সময় আমি রাকিবের মুখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম। এখনো রাকিবের কথা মনে পড়লে, ওর জিনিসপত্র দেখলে বুকের মধ্যে ব্যথা হয়। কী করে ভুলে থাকবো আমার ছেলেটিকে।

তিনি বলেন, আমি আফতাব নগরে পাওয়ার গ্রিডের আউটসোর্সিং-এ অফিস অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করি। আমার রাকিবকেও সেখানে ক্লিনার হিসেবে কাজে দিয়েছিলাম। আমরা ছোটবেলা থেকেই ঢাকাতে থাকি। আমার বাবা ঢাকায় রিকশা চালাতেন। আমার স্বামী বাটা স্কয়ারের ব্যবসা করতো। সে হঠাৎ স্ট্রোক করার পর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে, কাউকে চিনতে পারে না। আমার ছেলে আগে থেকেই আন্দোলনে গিয়েছিল সেটি আমি জানতাম না। বৃহস্পতিবার এদিকের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল। রাকিব আমাকে ফোন দিয়ে বলে মা আপনি বাইরে ও ছাদে যাবেন না- বাইরের অবস্থা খুবই খারাপ। আমিও তাকে অফিস থেকে বের হতে নিষেধ করেছিলাম। রাকিব তো আর ফিরে আসবে না কিন্তু ওকে তো ভুলতে পারছি না। একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে অনেক আশা ছিল। আমার সব শেষ হয়ে গিয়েছে। সংসারের অভাবের কারণে বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেনি। অনেক ছোটবেলা থেকেই ও কাজে যোগ দেয়। ওর অনেক ইচ্ছা ছিল ছোট বোনটিকে লেখাপড়া করাবে। ছোট মেয়েটা মাদ্রাসায় পড়তো রাকিব মারা যাওয়ার পর আর যায় না। আমি আর রাকিব মিলে সংসারের খরচ চালাতাম। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় রাকিবের স্মৃতি।

রাকিবের বোনের স্বামী নূর আলম বলেন, ১৯শে জুলাই শুক্রবার রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১০-১৫ মিনিট আগেও আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল। এর আগে আমি কাজ করে বাসায় ফেরার পথে বৃহস্পতিবার তাকে রামপুরা ব্রিজের উপর থেকে বাসায় নিয়ে আসি। শুক্রবার সকালের দিকে খবর আসে রামপুরা ব্রিজে থাকাকালীন তার গায়ে গুলি লেগেছে। গুলিটি তার পেটে লাগে। প্রথমে আহত অবস্থায় সেখানে থাকা লোকজন উদ্ধার করে তাকে আফতাব নগর নাগরিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আমরা খবর পেয়ে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই। ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পরে ওইদিন তেমন কোনো চিকিৎসা হয়নি। পরের দিন মারা যায়। রাকিবের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকে পরিবারের সঙ্গে। অভাবের কারণে বেশিদূর পড়াশোনা করাতে পারি নি। রাকিবরা তিন ভাই- বোন। ওর বাবা স্ট্রোকের পর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। রাকিবকে হারিয়ে তার মা পাগলপ্রায়।

mzamin

আমার নামের আগে কেউ দেশনায়ক, রাষ্ট্রনায়ক ব্যবহার করবেন না -তারেক রহমান

জনগণকে সচেতন করে যেকোনো মূল্যে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ষড়যন্ত্র এখনো থেমে যায়নি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে  বোঝা যাচ্ছে- দেশের কোথাও কিছু একটা ষড়যন্ত্র চলছে। তাই জনগণকে সচেতন করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে রাখতে হবে, থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণকে নিয়ে আমাদের যে লক্ষ্য, সেই ৩১ দফার প্রত্যেকটি কথা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদেরকে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনপ্রতিনিধিরা জানবে যে তাদেরকে জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে। সেটি ভোটের জন্য হোক কিংবা জবাবদিহিতার জন্য হোক।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বিএনপি’র প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির আয়োজিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’- শীর্ষক ঢাকাবিভাগীয় কর্মশালা লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ৩১ দফা নিয়ে ঢাকা বিভাগের প্রত্যেকটি মহানগর, জেলা, উপজেলা মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা কর্মশালায় অংশ নেন। বিএনপি’র প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির নেতারা দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেন। এ সময় রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন  প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রশিক্ষকরা। এর আগে সকালে কর্মশালা উদ্বোধন করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, অনেকেই অনেক সংস্কারের কথা বলছেন। দেশ ও জাতি নিয়ে বিএনপি দুই বছর আগে ২৭ দফা নিয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে। বিএনপি’র দেয়া ৩১ দফা আমাদেরকে (নেতাকর্মী) মাঠে নিয়ে যেতে হবে। শুধু ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দফায় উল্লেখ থাকা বিষয়গুলো প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। বিএনপি’র মূল দলের নেতৃত্বে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মিলে ভাগে ভাগে গ্রামে থেকে ইউনিয়নে ছোট ছোট উঠান বৈঠকের প্রস্তুতিও নিতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, আমরা যদি দল ও নেতাকর্মীদের ঐক্য বজায় রাখতে পারি, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী চলতে পারি তাহলে বিএনপি সরকার গঠন করবে। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের উপর। অতীতে যেভাবে আমরা ১৯ দফার আলোকে দেশ পরিচালনা করেছি, এর সঙ্গে আরও কিছু ধারা যোগ করে ৩১ দফা দিয়েছি। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমরা দেশ পরিচালনা করতে চাই। প্রথমে ছিল ২৭ দফা, পরবর্তীতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যেসব দল আমাদের সঙ্গে শরিক ছিল তাদের মতামতের ভিত্তিতে ৩১ দফা গঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশে যতগুলো দল আছে তাদের সম্মিলিত চিন্তার ফসলই হচ্ছে ৩১ দফা।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি যদি না হয় তাহলে যে সংস্কারই করি না কেন কোনোটি কাজে লাগবে না। রাজনৈতিক মুক্তি হচ্ছে জনগণের কাছে জবাবদিহি। যার যা ইচ্ছা করে যাবে, সেটি হবে না। সরকারি দল, বিরোধী দল, এমপি, মন্ত্রী যেই হোক, জনগণের কাছে এর জবাব দিতে হবে। আর এটি নিশ্চিত করতে হলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভোটের মাধ্যমেই জবাবদিহিতা তৈরি হবে। যার জন্য আমাদের হাজারো সহকর্মী গুম, খুন হয়েছেন। আমরা যুদ্ধ করেছি ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কাজেই যে কোনো মূল্যে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে।

তিনি বলেন, একটি রাজনীতি রুগ্‌ণ হলে অর্থনীতি রুগ্‌ণ হয়। রাজনীতি ও অর্থনীতি রুগ্‌ণ হলে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সব ব্যবস্থাই রুগ্‌ণ হবে। মানুষ কোনো সুফল পাবে না। কাজেই প্রথম কাজ হচ্ছে- দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, জবাবদিহিতাকে প্রতিষ্ঠিত করা। স্বৈরাচারের সময়ে দেশে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না, যার কারণে মানুষ গুম-খুন হয়েছে, নিশিরাতে ভোট হয়েছে, ডামি নির্বাচন হয়েছে। জবাবদিহিতা ছিল না বলেই প্রশাসনে ও বিচার বিভাগে অবস্থার অবনতি হয়েছে, দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এসব কিছু আমাদেরকে ঠিক করতে হলে অবশ্যই জবাবদিহিতাকে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সেটি সম্ভব সঠিক ভোট প্রয়োগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, একজন সহকর্মী হিসেবে আমার অনুরোধ রইলো, আপনাদের নেতা হিসেবে দয়া করে আমার নামের সঙ্গে আজকের পর থেকে ‘দেশনায়ক, ‘রাষ্ট্রনায়ক, ব্যবহার করবেন না। এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দু’বারের বেশি হতে পারবেন না, তবে সংসদ সদস্যের মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়টি জনগণের ওপর নির্ভরশীল। যদি জনগণ কাউকে বিশ্বাস করে ও ভালোবাসে তাহলে তিনি বারবার সংসদ সদস্য হতে পারবেন। না হলে তা সম্ভব হবে না।

বিএনপি ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুলের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সঞ্চালনা করেন- প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব এবিএম মোশাররফ হোসেন। ৩১ দফা নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রমুখ।

এর আগে সকালে উদ্বোধনী বক্তব্যে মঈন খান বলেন, আজকে আমরা দেখছি, যারা বিখ্যাত লোক, বড় বড় টেলিভিশনে বক্তব্য দিচ্ছেন, বিগত বছরগুলোতে যখন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা পুলিশ, এসবি, ডিবি’র অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে এক লাখ, ৬০ হাজার আসামি করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে ধান ক্ষেত দিয়ে পালিয়ে যেতে হতো তাদের কথা ভাবুন। আজকে যারা সংস্কারের কথা বলেছেন, তাদের অনেককে আন্দোলন ও সংগ্রামে দেখি নাই। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের বিপ্লবের মূল সত্য, এই সত্যকে অস্বীকার করতে পারবে না।

mzamin

সবাইকে নির্বাচনে চায় বিএনপি

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ। তাকে ফেরত আনতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভারত যদি এক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ বিষয়ক চুক্তির রাজনৈতিক ধারা ব্যবহার করে তাহলে আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি করবে না। দ্য হিন্দুকে দেয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই। বিএনপি চায় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অবশ্যই থাকতে হবে। এর মধ্যদিয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তার রায় দিয়ে দিয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, একটি বড় দলের মতামতকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত-বাংলাদেশ প্রসঙ্গ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন। দাবি তুলেছেন সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার। বলেছেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতো একটি ইউনিয়নের। ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ঢাকার যমুনায় তার সরকারি বাসভবনে ওই সাক্ষাৎকার দেন। এ সময় তিনি বলেন, ১০০ দিনে তিনি অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করেছেন। অন্যদিকে হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়টিকে প্রপাগান্ডা বা অপপ্রচার বলে অভিহিত করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভারতীয় ওই সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর একজন দক্ষ এবং দূরদর্শীর মতো দিয়েছেন ড. ইউনূস। যেসব প্রশ্নে তার উত্তেজিত হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ছিল, তার উত্তর দিয়েছেন অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায়। কখনো কখনো ওই সাংবাদিককে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেছেন। দ্য হিন্দুর পক্ষে সাক্ষাৎকারটি নেন সাংবাদিক সুহাসিনী হায়দার। এখানে প্রশ্নোত্তর আকারে তা তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১০০ দিন সম্পন্ন করেছেন আপনি। প্রধান দু’টি ইস্যু আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনীতি নিয়ে আপনার সরকারকে কীভাবে  গ্রেড দেবেন? 
ড. ইউনূস: ভালো কথা। আমরা এখনো আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাচ্ছি। কিন্তু আমি বলবো না যে, আমরা ‘এ’ গ্রেড পেয়েছি। অন্য ইস্যুতে আমি বলবো- এটা ‘এ-প্লাস’। কারণ, উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা বিধ্বস্ত একটি অর্থনীতি পেয়েছি। সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকিং সিস্টেম ধ্বংসের কাছাকাছি চলে এসেছিল। এটা এক ‘ক্রেজি’ ব্যাংকিং সিস্টেম। আছে মন্দ ঋণ, শতকরা ষাট ভাগ পেমেন্ট পরিশোধ করা হয়নি। ব্যাংক জানে না কীভাবে একে অন্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে, কীভাবে কাস্টমারের সঙ্গে ‘ডিল’ করতে হবে এবং আরও অনেক কিছু। ফলে আমরা প্রায় অকার্যকর একটি আর্থিক ব্যবস্থা পেয়েছি। সেখান থেকে আমরা ব্যাংকিং সিস্টেমকে আবার নতুন করে গড়ে তুলে তাদেরকে কার্যকর করেছি। এখনো পারফেক্ট হয়নি, কিন্তু তারা সামনে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা যখন দায়িত্ব নিই তখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু গত ১০০ দিনে মাসের পর মাস তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা পাওনা পরিশোধে সক্ষম হয়েছি। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের ভাবমূর্তি উন্নত করেছি। মুদ্রাস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, আমরা বৈশ্বিক পর্যায় থেকে বিপুল পরিমাণের সাপোর্ট পেয়েছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। তারা মুক্ত বিনিয়োগে আরও সহযোগিতা ও অনেক কিছুর আশ্বাস দিয়েছে। আমি যখন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছি তখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট সহ অনেক দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তারা আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমাদের এমন কর্মকর্তারা আছেন, যারা বিনিয়োগকারীদের সমস্যাকে সমাধানে প্রস্তুত, যাতে তারা বাংলাদেশের ব্যুরোক্রেটিক জটিলতায় না পড়েন। সেটা হলো ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, যেখানে আপনি সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। ফলে আমি বলবো, দেশ খুবই ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। 

প্রশ্ন: সুনির্দিষ্টভাবে খুবই ইতিবাচক চিত্র বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আপনি কী ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন- উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে, তিনি (ট্রাম্প) বাংলাদেশের সমালোচনা করে খুব কড়া বিবৃতি দিয়েছেন? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত থাকার বিষয়ে আপনি কীভাবে আস্থাশীল?
উত্তর: আমি মনে করি না বাংলাদেশ নিয়ে কোনো বিবৃতি দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। 

প্রশ্ন: তিনি সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। 
উত্তর: ভালো কথা। সেটা বাংলাদেশ এবং সংখ্যালঘুদের নিয়ে, হয়তো তাকে সঠিকভাবে তথ্য জানানো হয়নি। এটা একটা প্রপাগান্ডা, যা বিশ্ব জুড়ে চলছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় যখন তিনি আসবেন, তখন তিনি বাংলাদেশ নিয়ে যে কথা বলেছেন তা থেকে পরিস্থিতি কতোটা আলাদা, তা দেখে বিস্মিত হবেন। আমি এটা মনে করি না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট আসা মানে সব কিছু পাল্টে যাওয়া না। প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি এবং দেশের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক সাধারণত পরিবর্তন হয় না। যদি ট্রাম্প ২.০ তে কোনো পরিবর্তন হয়, তাহলে আমাদেরও মনে রাখতে হবে এখন একটি বাংলাদেশ ২.০ আছে, যাকে আমরা নতুন বাংলাদেশ বলি। ফলে আমরা অপেক্ষা করবো এবং দেখবো যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আসেন এবং আমাদের বিষয়ে খতিয়ে দেখেন, এবং আমাদের অর্থনীতি যদি ভালো করতে থাকে, তাহলে তারাও খুব আগ্রহী হবেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরকারি পর্যায়ের ক্রেতা তারা। সুতরাং আমাদের পক্ষ থেকে খুবই ভালো সম্পর্ক থাকবে, যেটা বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আমাদের আশা- এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। 

প্রশ্ন: ট্রাম্পের বক্তব্যকে আপনি প্রপাগান্ডা বলেছেন। কিন্তু তিনি একাই এটা বলেননি। হিন্দু সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে হত্যা করা হচ্ছে, এমনকি সন্দেহজনক ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে এরই মধ্যে ভারত সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে বেশ কিছু বিবৃতি দিয়েছে। এ বিষয়ে আপনার জবাব কি? 
উত্তর: (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার প্রথম ফোনকল হয় (১৬ই আগস্ট)। এ সময়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে এবং আরও অনেক কিছু। জবাবে আমি তাকে খুব পরিষ্কারভাবে বলেছি, এটা একটা প্রপাগান্ডা। অনেক সাংবাদিক এখানে (বাংলাদেশে) এসেছিলেন। উত্তেজনা নিয়ে কিছু রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু মিডিয়ায় যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তেমন নয়। 

প্রশ্ন: তখন এর নেপথ্যে কারা বলে আপনার মনে হয়েছে? 
উত্তর: আমি জানি না। তবে এই অপপ্রচার বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। সব মামলায় একের পর এক খুব সিরিয়াস গ্রুপের একদল মানুষ ঢুকে পড়ছেন।

প্রশ্ন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা ভীতিসন্ত্রস্ত বোধ করছেন। তারা মনে করছেন তাদেরকে টার্গেট করা হয়েছে। ফেসবুকে ভিডিও আছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা আছে যে, বাংলাদেশ হবে একটি মুসলিম দেশ। বর্তমান ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের আমরা বলতে শুনছি সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বদলে দেয়া হবে। আপনার সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশে পরবর্তীতে যা আসছে তা ইসলামের অধিক মাত্রায় উগ্রবাদ। এটা গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে আমরা দেখিনি। এসব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার জন্য আপনার সরকার কি কিছু করতে পারে? 
উত্তর: এটা (ভাবমূর্তি) কি আমাকে মানাবে? অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা প্রতিজন ব্যক্তি এক একজন মানবাধিকারকর্মী। তারা নিজেরা ভুগেছেন। অথবা তাদের কেউ পরিবেশবাদী কর্মী, লিঙ্গগত কর্মী এবং অন্য ধরনের অধিকারকর্মী। সুতরাং তারা সবাই অধিকারবাদী। তাদের সামনে যদি এ কথাগুলো আপনি বলেন, তাহলে তারা আপনার প্রতি চিৎকার করবেন, উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিজন সদস্যের জীবন সম্পর্কে জানুন। 

প্রশ্ন: তার মানে আপনি বলতে চাইছেন যে, আপনার উপদেষ্টা পরিষদের কারোরই ইসলামপন্থি এজেন্ডা নেই? 
উত্তর: তাদের প্রত্যেকের জীবনের গল্পগুলোর দিকে তাকান। তারা উৎসর্গিত মানুষ। তারা নারী অধিকারকর্মী। 

প্রশ্ন: অন্য বিষয়েও উদ্বেগ আছে। মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ অধিকার-এর মতে, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৮৪১ জন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন আটজন। আমরা শুনেছি অনেক সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, আপনার সরকারও অতীতের সরকারের আচরণ অব্যাহত রেখেছে। 
উত্তর: জনগণকে বিচার এবং তুলনা করতে দিন এই সরকার কী (কাজ) করেছে এবং অন্য সরকার কী করেছে। আমি বিতর্কে যাচ্ছি না। আমরা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি। এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। অ্যাক্রিডিটেশন বিষয়ক যে আইন সেটা আমরা তৈরি করিনি। আমরা শুধু সেটা প্রয়োগ করেছি। এটা নিয়ে আপনি বিতর্ক করতে পারেন যে, এটা কি সঠিক প্রয়োগ হয়েছে কিনা। এই আইন পরিবর্তন করতে চাই আমি। ওটা এমন আইন, যা অন্য রকম শাসকগোষ্ঠীর অধীনে ছিল। 

প্রশ্ন: আর একটি উদ্বেগ আছে। তা হলো- বিগত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন ব্যক্তিদেরকে টার্গেট করা হবে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে। এটা হবে না নিশ্চিত করার জন্য আপনি কি কোনো মেকানিজম রাখতে পারেন? 
উত্তর: আমি বলবো আইনের শাসনের জয় হোক। এটাই। 

প্রশ্ন: সংস্কারের জন্য আপনি অনেক কমিশন গঠন করেছেন। সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কোনো কমিশন নেই কেন? 
উত্তর: মানবাধিকার বিষয়ে আমাদের একটি কমিশন আছে। সংখ্যালঘুদের কেন আলাদাভাবে দেখা হবে? আমি (সংখ্যালঘু গ্রুপগুলোকে) বলেছি, আপনারা এ দেশের নাগরিক। সংবিধানে নিশ্চয়তা দেয়া প্রতিটি অধিকার আছে আপনাদের। আমরা চাই সংবিধানে দেয়া সব মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবং সব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। সুতরাং আমাদের সংবিধান বিষয়ক কমিশনে কে আছেন, সেদিকে তাকান। কে এর প্রধান (যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিক্ষাবিদ ড. আলী রীয়াজ) এবং তারপর আপনি যা বলছেন তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করুন। অন্যথায় এর পুরোটাই অপপ্রচার। 

প্রশ্ন: যদি আপনার নিকট প্রতিবেশী ভারতের মতো বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ মনে করে, তখন আপনার সরকার কী এই অপপ্রচারের বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে? 
উত্তর: হতে পারে বিশ্বকে বোঝানোর মতো শক্তি বা আর্থিক শক্তি আমাদের নেই। 

প্রশ্ন: এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আপনি সাক্ষাৎ করেননি, যদিও টেলিফোনে আপনি কথা বলেছেন। 
উত্তর: হ্যাঁ, এখন পর্যন্ত এটা হয়নি। যখন আমি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে গিয়েছি, ততক্ষণ মোদি চলে গেছেন। বাকু’তে জলবায়ু বিষয়ক (কপ) সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না। (থাইল্যান্ডে) বিমসটেক বাতিল করা হয়েছে। কমনওয়েলথ সিএইচওজিএম মিটিংয়ে আমাদের (দু’জনের) কেউই যোগ  দেইনি। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা সাক্ষাৎ করবো না। আমরা শুধু প্রতিবেশীই নই, একই সঙ্গে ইতিহাস আমাদেরকে একত্রিত করেছে। ভূগোল আমাদেরকে একত্রিত করেছে। ভাষাগত সম্পর্ক আমাদেরকে একত্রিত করেছে। সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আমাদেরকে একত্রিত করেছে। ক্ষমতার প্রথম দিন থেকেই সার্ক’কে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। কেন এমন একটি সংগঠন মৃত অবস্থায় থাকবে? আমি এমনও বলেছি, সার্কের সব নেতার নিউ ইয়র্কে অন্তত ৫ মিনিটের জন্য হলেও সাক্ষাৎ করা উচিত এবং এর মধ্যদিয়ে একটি বার্তা দেয়া যে, আমরা এখনো সার্কে আছি। 

প্রশ্ন: বিমসটেক, বিবিআইএন-এ এখনো সহযোগিতা করে ভারত ও বাংলাদেশ। তাহলে কেন সার্ক? 
উত্তর: কেন সার্ক নয়? আমরা যত বন্ধু ও সম্পর্ক গড়তে পারবো, ততই ভালো। 

প্রশ্ন: কারণ হলো সার্কে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অমীমাংসিত বিরোধ দৃশ্যমান। 
উত্তর: সার্ক’কে সামনে এগুতেই হবে। মাত্র দু’টি দেশের সম্পর্কের কারণে একটি পুরো সংগঠন অদৃশ্য হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। আমরা রেজ্যুলুশন পাস করাতে পারি। এজেন্ডা থেকে ভারত-পাকিস্তান বিষয়ক যেকোনো এজেন্ডা বাদ রাখতে পারি। কিন্তু সার্কের ইতি ঘটাতে পারি না। 

প্রশ্ন: সন্ত্রাসবাদের শেষ না হওয়া পর্যন্ত সার্ক’কে স্থগিত রাখায় ভারতকে ২০১৬ সালে সমর্থন দিয়েছিল বাংলাদেশ। এটা কি একটা ভুল ছিল? 
উত্তর: আমরা যদি এমন শর্ত জুড়ে দিই, তাহলে কোনো সম্পর্কই টিকে থাকবে না কখনো। দু’টি সদস্য দেশের মধ্যে সম্পর্কের কারণে কেন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো দুর্ভোগে থাকবে? 

প্রশ্ন: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি যখন আসে, তখন ৫ই আগস্টের ইভেন্টে তা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? এটা কি একটি আঘাত ছিল? 
উত্তর: কেন এটা হবে? বাংলাদেশ যখন এমন একটি শাসন থেকে স্বাধীন হয়েছে, যেখানে মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে, এত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, এত মানুষ গুম হয়েছেন, এত বেশি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে- তখন বাংলাদেশের এই স্বাধীনতাকে একটি বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে উদ্‌যাপন করা উচিত ছিল ভারতের। আমাদের তরুণদের সঙ্গে যোগ দিয়ে একসঙ্গে উদ্‌যাপন করা উচিত ছিল তাদের, যেমনটা অন্য অনেক দেশ করেছে। 

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ৫ই আগস্ট থেকে ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি জটিলতা সৃষ্টি করেছে। 
উত্তর: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসবাস করছেন, ন্যূনতম কিছু সময় ধরে। এটা কোনো সমস্যা নয়। বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলা সমস্যা। তিনি বাংলাদেশি  লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন এবং এটা রাজনীতি। তিনি অব্যাহতভাবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, এটা সমস্যা। 

প্রশ্ন: কীভাবে?
উত্তর: তিনি তাদেরকে (তার লোকজন) ঘর থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। ঢাকা ও অন্য শহরগুলোর রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তার অডিও বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। তাদেরকে (তার লোকজন) তিনি বলছেন- যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবিযুক্ত প্ল্যাকার্ডকে (ঢাল হিসেবে) বহন করতে। এর ফলে যখন পুলিশ তাদেরকে থামাবে, তখন তারা বলবে- বাংলাদেশের (বর্তমান) সরকার যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী। এটা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ। 

প্রশ্ন: তাকে (হাসিনা) ফেরত আনার অনুরোধ জানিয়ে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে আপনার সরকার। কেন আপনারা সরাসরি ভারতের প্রতি অনুরোধ করলো না? এক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় মেকানিজম সক্রিয় করার সুযোগ আছে। 
উত্তর: তাকে (হাসিনা) ফেরত আনতে সব রকম আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করবো আমরা। 

প্রশ্ন: এখন পর্যন্ত আপনার সরকার তাকে ফেরত দেয়ার জন্য প্রকৃতপক্ষে কোনো অনুরোধ জানায়নি। প্রত্যর্পণ বিষয়ক চুক্তি আছে তো। 
উত্তর: আমি মনে করি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ আছে, আমরা সেটার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। কিন্তু এখনো আমরা সেই পর্যায় পর্যন্ত আসতে পারিনি। 

প্রশ্ন: ভারত যদি অনুরোধ না রাখে, যদি (চুক্তিতে থাকা) রাজনৈতিক বিচারের ধারাটি সক্রিয় করে, তখন কী হবে? 
উত্তর: আপনি কি বলছেন, ভারত এই চুক্তি লঙ্ঘন করবে? হ্যাঁ, (চুক্তিতে) এমন ধারা আছে। কিন্তু ভারত সরকার যদি তাকে (হাসিনা) সেখানে রাখার জন্য সেসব ধারা ব্যবহার করে, তাহলে তা আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি করবে না। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অল্প সময়ের। ফলে এই সরকার ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম না-ও হতে পারে। তবে আমাদের পরে যে সরকার আসবে তারা তো এটাকে ভুলে যাবে না।

প্রশ্ন: অন্য ইস্যুগুলোতে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক মসৃণভাবে অগ্রসর হচ্ছে বলে কি আপনি দেখতে পান? সম্প্রতি আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ, বাণিজ্যিক সংযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কিছু উদ্যোগ দেখেছি। 
উত্তর: আমাদের স্বপ্ন হলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (যেখানে চলাচলে স্বাধীনতা  ও বাণিজ্যে স্বাধীনতা আছে) মতো একটি সম্পর্ক কল্পনা করা। আমরা এই দিকেই অগ্রসর হতে চাই। আমরা কোন পথে অগ্রসর হবো এ বিষয়ে আপনি যেটা উল্লেখ করেছেন তা ভালো লক্ষণ এবং নির্দেশনা। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আমরা অর্জন করতে চাই, যেটা হবে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি ইউনিয়ন। আমরা জন্মেছি একত্রিত হওয়ার জন্য। আমরা তো টুইন (বা যমজ)। 

প্রশ্ন: আপনার সরকারের সময় কতোটা সংক্ষিপ্ত? কখন নির্বাচন হবে? 
উত্তর: আমাদেরকে যখন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তখন খুব পরিষ্কার করে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, আমরা শুধুই একটি অন্তর্বর্তী সরকার হবো না। অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে থাকে নির্বাচন করে ক্ষমতা হস্তান্তরের দায়িত্ব। আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, আমাদের বড় দায়িত্ব হলো বাংলাদেশ ২.০-এর জন্য সংস্কার করা। আমরা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে চাই না। আমরা ওইসব ফর্মুলা সঙ্গে নিয়ে এসেছি। প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এটা আলাদা একটি প্রক্রিয়া। সংস্কারের অন্যান্য প্রক্রিয়াও সমান্তরালে চলছে। এখন, আমরা প্রথমেই নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি করেছি। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর প্রক্রিয়ার খসড়া করা হয়েছে। সামনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা এ সম্পর্কে ঘোষণা দিতে পারবো বলে আশা করি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি নিরপেক্ষ এনটিটি গঠন করবেন। কিন্তু অন্য সব সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচন করতে পারবেন না। সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে দ্বিপক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট হবে কিনা, পার্লামেন্টে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কিনা, শর্তাবলী এবং আরও অনেক বিষয়ে। আমি বলবো (নির্বাচনের) ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। এই চলার পথে পথে আমাদেরকে ট্রেন থামাতে হবে। জানতে হবে কোন পথে যেতে হবে এবং এ জন্যই আমাদেরকে সংস্কার কমিশনের কাছে ফিরে যেতে হবে। 

প্রশ্ন: এতে কি কয়েক বছর সময় লাগবে? 
উত্তর: আমার কোনো ধারণা নেই। জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে যাবো। 

প্রশ্ন: নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি দেয়া হবে কিনা?
উত্তর: এরই মধ্যে এ ঘোষণা হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি। বিএনপি সেটা করেছে। তারা বলেছে, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অবশ্যই থাকতে হবে। সুতরাং তারা এরই মধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছেন। দেশের একটি বড় দলের মতামতকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। 

প্রশ্ন: তাহলে আওয়ামী লীগের (নির্বাচনে) অংশগ্রহণ নিয়ে আপনার কোনো আপত্তি নেই? 
উত্তর: আমি কোনো রাজনীতিক নই যে, একটি পার্টি বা অন্য আরেকটি পার্টিকে বেছে নেবো। আমি শুধু রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা পূরণ করছি। 

প্রশ্ন: কয়েক বছর আগে (২০০৭ সালে) আপনি নিজের একটি দল চালু করার চেষ্টা করেছিলেন। 
উত্তর: ওটা ছিল মাত্র ১০ সপ্তাহের। তারপর আমি সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং সব বন্ধ করে দিয়েছি। অনেক মানুষ আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জনগণের জন্য একটি পরিবর্তন প্রয়োজন। এমনকি আমরা পার্টির নামও দিয়েছিলাম এবং এ পর্যন্তই। তার পর থেকে বাকি জীবনভর একটি রাজনৈতিক দল করার জন্য আমাকে অভিযোগ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। 

প্রশ্ন: আপনি নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন না? 
উত্তর: আমি নিজেকে কখনোই একজন রাজনীতিক হিসেবে দেখি না।

mzamin

কামরুল ৮ দিনের রিমান্ডে: নাজিরের কার্যালয় ভাঙচুর

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামকে ৮ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর  রহমানের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এ সময় কামরুল ইসলামের ছেলে তানজির ইসলাম অদিতকে আদালতের এজলাস কক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আইনজীবীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে তিনি বের হয়ে যান। এ ছাড়া রিমান্ড শুনানিতে কামরুল ইসলামের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের অভিযোগে ঢাকা মহানগর আদালতের নাজির শাহ মো. মামুনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শুনানি চলাকালে আদালতে কামরুল ইসলাম বলেন, সব দিন তো একরকম যায় না। এই দিন দিন নয়, সামনে ভালো দিন আসবে।

এদিন সকাল ৯টায় কামরুল ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর নিউমার্কেট থানার ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ। আবেদনে বলা হয়, কামরুল ইসলাম আইন প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহু নিরপরাধ মানুষকে জেল-জুলুমের মাধ্যমে নির্যাতন করতেন। এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম কলঙ্কিত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বহু অপকর্মের ঘনিষ্ঠ সহচর বলে দেশে ও বিদেশে জনশ্রুতি আছে। তার গ্রেপ্তারে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শান্তি ফিরে এসেছে।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কামরুল ইসলামসহ অন্য আসামিদের নির্দেশে গত ১৯শে জুলাই বিকালে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় মাহফুজুর রহমান, নাসির উদ্দিন, শামীম উসমান, মো. আবু মূসা, মাঈনুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, আবির হোসেনসহ অনেক নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা ও সাধারণ পথচারী আহত ও চিরতরে পঙ্গু হয়। আব্দুল ওয়াদুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। প্রাথমিক তদন্তে এ আসামি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়নের বিভিন্ন চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ একজন দলীয় পলিসি মেকার ছিলেন।

শুনানি চলাকালে আদালতে কামরুল ইসলাম বলেন, সব দিন তো একরকম যায় না। এই দিন দিন নয়, সামনে ভালো দিন আসবে। নিউমার্কেট এলাকা আমার অধীনে না। ওই এলাকার এমপি আমি নিজেও না। এ মামলায় আমাকে ৫৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমার নামটি হয়তো শেষ মুহূর্তে ভুলে এজাহারে লিখে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ কামরুল ইসলামের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত তার ৮ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে গত সোমবার রাতে কামরুল ইসলামকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মহানগর নাজিরের কার্যালয় ভাঙচুর: রিমান্ড শুনানিতে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের অভিযোগে ঢাকা মহানগর আদালতের নাজির শাহ মো. মামুনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গতকাল বেলা ১টার পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয়তলায় অবস্থিত এই কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি প্রসিকিউশন বিভাগ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নাজির শাহ মামুনের অনিয়মের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেনকে অবহিত করেন ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা। বিচারক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। এর আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী মারজিয়া হিরা নাজির মামুনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সকালে কামরুল ইসলামের রিমান্ড শুনানিতে তার ছেলে ডা. তানজির ইসলাম অদিত ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতের লাল সালুর ভেতরে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন কামরুল ইসলামকে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করেন মহানগর আদালতের নাজির শাহ মো. মামুন। আসামির ছেলেকে আদালতের ভেতরে প্রবেশে সহযোগিতা করেন। নাজির গত ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আসামি কামরুল ইসলামের নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা করে।

এদিন দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে কিছু ক্ষুব্ধ আইনজীবী এসে নাজির মামুনের অফিসে ভাঙচুর করে। এই বিষয়ে নাজির শাহ্‌ মো. মামুন সাংবাদিকদের বলেন, মহানগর আদালতে কামরুল ইসলাম যখন আসতেন তখন আমার অফিসে বসতেন। এইভাবে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। আজকে সকালে একটি কাজে সিএমএম আদালতে যাই। হঠাৎ সাবেক মন্ত্রী কামরুলের সঙ্গে দেখা হয়। তখন তিনি আমাকে ডেকে বলেন, এই নাজির কেমন আছো? আমি কাজ শেষে চলে এসেছি। কামরুলের ইসলামের ছেলেকে নাজির মামুন চিনে না বলে জানান।

mzamin

যেভাবে বরগুনার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতো এমপিপুত্র সুনাম

বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাধবী দেবনাথের পুত্র এডভোকেট সুনাম দেবনাথ। সুনাম নিজেও ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে, সুনাম মাদকের বিনিময়ে স্থানীয় তরুণদের রাজনীতিতে ব্যবহার করতেন। একটি ফেনসিডিল আর দু’টি ইয়াবার বিনিময়ে তারা ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে নেতাদের নামে প্রচার-অপপ্রচার চালাতো, মিছিলে অংশগ্রহণ করতো। খোদ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক ও সম্পাদক তানভির হোসাইন বরগুনা  প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত অভিযোগ করেন ২৮শে এপ্রিল ২০১৮ সালে।

বরগুনার গডফাদার, তিনিই ছিলেন এখানকার অপরাধ জগতের আসল নায়ক। বরগুনা জেলা জুড়ে বিশাল ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালীও ছিলেন সুনাম দেবনাথ। গত ১৫ বছরে বাবার ছত্রছায়া ও দাপটে সুনাম দেবনাথ হয়ে ওঠেন বেপরোয়া। মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজে গড়ে তুলেন বিশাল সাম্রাজ্য। তার এই সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতো তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন। মাদক বাণিজ্য করে অবৈধভাবে কামাই করে বনে যান শত শত কোটি টাকার মালিক। ক্ষমতার দাপট আর ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পেতো না এলাকাবাসী।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও প্রতি বিপ্লবের ষড়যন্ত্রে শহরে বিশাল মিছিল ও সমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন এই সুনাম দেবনাথ।  জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরের গ্রেপ্তারের পরই গাঢাকা দেন সুনাম।  গোয়েন্দা বিভাগ ও দুদক থেকে শম্ভু এবং সুনামের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানে নামলে বরগুনার এই দোর্দণ্ড প্রতাপশালী পিতা-পুত্র আত্মগোপনে চলে যান। সম্প্রতি পিতা শম্ভু ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়। পুত্র সুনাম দেবনাথ এখনো রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এক যুগ সময় ধরে বরগুনার উপকূল ও নদীপথে মাদকসহ বিভিন্ন চোরাচালানের রুট হিসেবে গড়ে ওঠে। কক্সবাজার, টেকনাফ, চট্টগ্রাম রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি বেড়ে উঠলে নিরাপদ তালতলীর সমুদ্র সৈকত শুভ সন্ধ্যা, টেংরাগিরি সৈকত, মরানিদ্রা, নিদ্রা, ফকিরহাট মৎস্য বন্দর, বরগুনার সোনাতলা, বাবুগঞ্জ, নলী, পালের বালিয়াতলী, ছোনবুনিয়া, চালিতাতলী ও গোলবুনিয়াসহ নদী পাড়ের এলাকাগুলো রুট হিসেবে বেছে নেয় মাদক কারবারি ও চোরাকারবারিরা।

আর এ সুযোগে অপরাধ জগতের সব নিয়ন্ত্রণ নেয় সংসদ সদস্য শম্ভু ও তার পুত্র। মাদক ও চোরাকারবারিদের যুবরাজ সুনাম দেবনাথ কামিয়ে নেন শত শত কোটি টাকা। মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করতেন তার বৌয়ের চাচাতো ভাই শাওন তালুকদার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী অভিজিৎ তালুকদার এবং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সিন্ডিকেটের অন্যতম ডান হাত ছিল। ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে ছিল বৌয়ের আপন ভাই রনি তালুকদার। এ ছাড়া মাদক ব্যবসায় ও কিশোর গ্যাংয়ে ছিল সানি, ড্যাফোডিল প্রিন্স, কবি আসাদ, অয়ন মীর, তারাকান্দার রাজু, মাহাবুব, হিমেল, শিবা, প্রত্যয়, প্রান্ত, চোরা রাজীবের ভাই সোহেল, হাত কাটা জাহাঙ্গীর, শুভ খান, জিন্নাত খান, মনির, রাজা মেম্বার ও জাহিদুল ইসলাম সুমন।

বরগুনার মাদক ও চোরাচালানের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতো সুনাম দেবনাথ। কিশোর গ্যাং ও ছাত্রলীগের একটা অংশ নিয়ন্ত্রণ করতো সে। ২০১৯ সালে চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড ও কিশোর গ্যাং লিডার নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ার ঘটনা ছিল মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। নিহত রিফাত শরীফ ও নয়ন বন্ড মূলত ছিল তার সাম্রাজ্যের অনুসারী। ক্রসফায়ারে নিহত নয়ন বন্ড তার ছত্রছায়ায় থেকেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতো আর রিফাত শরীফ তার ডান হাত মঞ্জুরুল আলম জনের হয়ে কাজ করতো। এ নিয়ে তৎকালীন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রুবাইয়াত আদনান অনিক সুনাম দেবনাথের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে গণমাধ্যমের কাছে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বরগুনায় মাদকটা চালায় কে? মাদকের পেছনে কে জড়িত? নয়ন বন্ড কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এতদূর এসেছে? বরগুনার রাজনীতিতে শম্ভু ও তার পুত্রের প্রভাবশালী হতে তাদের মতাদর্শের বাইরের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে দলের বাইরে ও কর্মকাণ্ডে বিচ্ছিন্ন করে রাখতো।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও তার ছেলের এসব অপরাধের বিচার চেয়েছেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান ইমরান। ইমরান বলেন, বরগুনার সব অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও তার ছেলে সুনাম জড়িত ছিল। তাদের কারণে আওয়ামী লীগ বরগুনায় কলঙ্কিত। বরগুনায় আওয়ামী লীগের দুর্গ হওয়া সত্ত্ব্বেও নৌকা পরাজিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধাচারণ। দুর্নীতি আর লুটপাট করে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়ায় আমাদের মতন সাধারণ নেতাকর্মীদের আড়ালে থাকতে হচ্ছে এদের কারণে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, সুনাম দেবনাথ ছিল মাদকের গডফাদার। তার বাবার ক্ষমতায় বরগুনার যুবসমাজের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে দিয়েছেন। কিশোর গ্যাং সৃষ্টি করে হত্যাকাণ্ডের মতো অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড এই মাদক নিয়েই সংঘটিত হয়েছে। আমরা এ ধরনের সব অপরাধের জন্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও তার ছেলে সুনাম দেবনাথসহ সব অপরাধীর বিচার দেখতে চাই।

mzamin

পার্শ্ববর্তী দেশ উস্কানি দিচ্ছে

চট্টগ্রামে সম্প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নতুন ঐক্যজোট দাবি করেছে সরকার, রাষ্ট্র এবং প্রশাসনের একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ইন্ধন দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী  বলেন, ‘এটার উত্তর আপনারা সবচেয়ে ভালো দিতে পারেন। আপনি এটা লেখেন, আমরা কোনো কিছু কারও ক্ষতি করছি না। আপনারা অনুসন্ধান করে বলেন। আর উস্কানির বিষয় তো আগেই বললাম। পার্শ্ববর্তী দেশ উস্কানি দিচ্ছে।’

গত মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ বলতে কাদেরকে বুঝানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি তিনি। এ সময় আইজিপি ময়নুল ইসলাম, র‌্যাবের ডিজি অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে অনুরোধ মিথ্যা সংবাদ দিবেন না। এতে পার্শ্ববর্তী দেশ সুবিধা পেয়ে যায়। আমাদের দেশের মিডিয়ার যে একটা সুনাম আছে, পার্শ্ববর্তী দেশের মিডিয়ার কিন্তু কোনো সুনাম নেই। তারা মিথ্যাটাই প্রচার করে বেশি। আর এটা কিন্তু কাউন্টার করতে পারেন আপনারা (সাংবাদিক)।’ এ সময় পুলিশের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পুলিশের মনোবল আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাফটা নিচের দিকে নেমে গেলে খারাপ। গ্রাফটা কিন্তু আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠেছে। মনোবল দুইদিনে চেঞ্জ হয় না। একটু সময় লাগে। আপনারা সময় না দিলে এটা সম্ভব না। আমার কাছে জাদুর মতো কিছু নাই যে বললেই সব হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা জয়েন করেনি তারা আমাদের চোখে ক্রিমিনাল। তাদের আইনের আওতায় অবশ্যই আনা হবে। আপনারা খোঁজ দিতে পারলে আমি ধরবো। আপনারা খোঁজ নিয়ে জানান।’
সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে আসা জাহাজ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এই জাহাজটা মিডল ইস্ট থেকে এসেছে। সেখান থেকে এসে একটা দেশে গেছে, সেখান থেকে আমাদের দেশে এসেছে। আমাদের দেশে কোনো দেশের জাহাজ আসা নিষিদ্ধ আছে? আমরা কি কারও কাছে বন্দি যে শুধু তাকেই সেবা করবো? আমার দেশ সবার ওপরে। খেজুর, পিয়াজ, আলু এগুলো সামনের রোজার সময় দরকার। এগুলো কি আমরা আসতে দেবো না? যারা এগুলো রটাচ্ছে তারা আমাদের শত্রু।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো সময় ভালো ছিল? আপনারা বলেন? এই যে একটি পূজা গেল, পূজাটি কতো সুন্দরভাবে হয়ে গেল। আজ আমরা একটি মতবিনিময় সভা করেছি। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কীভাবে আরও উন্নতি করা যায় এ ব্যাপারে আলাপ হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনাদের সাহায্য এবং সহযোগিতা চাই। পরিস্থিতির অবশ্যই উন্নতি হবে। পুলিশের মনোবল আগের চেয়ে বেড়েছে। গ্রাফটা নিচের দিকে নেমে গেলে খারাপ। গ্রাফটা কিন্তু আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠেছে। মনোবল দুইদিনে চেঞ্জ হয় না। একটু সময় লাগে। আপনারা সময় না দিলে এটা সম্ভব না। আমার কাছে জাদুর মতো কিছু নাই যে বললেই সব হয়ে যাবে। যোগদান না করা পুলিশ সদস্যরা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা জয়েন করেনি তারা আমাদের চোখে ক্রিমিনাল। তাদের আইনের আওতায় অবশ্যই আনা হবে।  

তিনি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডে চট্টগ্রামে অন্তত ৫০ জন অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে সিএমপি শুধু একজন এবং র‍্যাব চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি অস্ত্রও উদ্ধার করা যায়নি, সাংবাদিকের দেয়া এমন তথ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশ কমিশনার ও র‌্যাবের অধিনায়ককে তাদের তালিকা করে গ্রেপ্তার করার তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের যে ভুল হয় না, তা না। আমাদের ভুল হলে ধরিয়ে দিন। আপনি বলে দিন যে, স্যার আপনি এই এই জিনিসটা খারাপ করছেন, আপনি পয়সা মারছেন।’

mzamin

‘একজন শিল্পীকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা মানে সংস্কৃতিকেই ধ্বংস করে দেয়া’ by ফয়সাল রাব্বিকীন

দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ১০ই নভেম্বর দেশে ফিরেছেন তিনি। গত সরকারের আমলে গান করতে গিয়ে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন এ শিল্পী। কালো তালিকাভুক্ত করে রাখা হয়েছিল তাকে। গত বুধবার সন্ধ্যায় একান্ত আলাপে মানবজমিনের সঙ্গে নিজের সংগীত ক্যারিয়ার, কালো তালিকাভুক্তি, রাজনৈতিক ভাবনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন এ শিল্পী। কেমন লাগছে নতুন বাংলাদেশে ফিরে? উত্তরে বেবী নাজনীন বলেন, খুব ভালো লাগছে, শান্তি লাগছে। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। দেশের মানুষকে দেখে আনন্দ হচ্ছে। নতুন স্বাধীনতা অনুভব করছি। এই স্বাধীনতা যেন বজায় থাকে সেই লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। গত সরকারের আমলে বিভিন্ন স্থানে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল আপনাকে। সে সময়টা আসলে কেমন ছিল? এ শিল্পী আক্ষেপের সুরে বলেন, হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে কখনই আমাকে স্পেস দেয়া হয়নি। আমাকে ব্ল্যাকলিস্টেড করেছে, অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। একজন শিল্পী যখন প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয় তখন সে তো নিরাপদ নয়। বেঁচে থাকাটাও তো দুর্বিষহ। এ শিল্পী যোগ করে বলেন, আমি কনসার্ট করতে পারিনি সে সময়, কনসার্ট বাতিল করে দেয়া হয়েছে। আমার নাম দেখলেই কনসার্টের অনুমতি বাতিল করা হতো। পারিশ্রমিক ফেরত দিতে হয়েছে। এমনও হয়েছে যে আমাকে ৪০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক ফেরত দিতে হয়েছে। কিন্তু আমার তো টাকা দরকার ছিল। আমার সন্তান পড়াশোনা করছে, আমার মা-বাবা অসুস্থ। একসঙ্গে বাস করি আমরা। কিন্তু এত দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও আমি কাজ করারই সুযোগ পাইনি, আয়ের সুযোগ ছিল না। আমার সন্তান স্কুলে পড়তেও পারবে না। এরকমও ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। এত প্রতিবন্ধকতা ফেস করে কীভাবে টিকে থাকা যায়! এক কথায় গত আমলে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে আমাকে বিপদে ফেলা হয়েছিল। যে দলেরই হোক, একজন শিল্পীকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টিকে কেমন মনে হয় আপনার কাছে? বেবী নাজনীন বলেন, এটা একটা অনৈতিক কাজ। একজন শিল্পীকে কালো তালিকাভুক্ত করার পেছনে কোনো সৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। কারণ শিল্পের কোনো বাউন্ডারি নেই। বিশেষ করে আমরা যারা মিউজিক করি, সেই মিউজিকের কোনো বাউন্ডারি নেই। একজন শিল্পী প্রাণ খুলে গাইবেন। শ্রোতা-দর্শক গান শুনবে মুগ্ধ হয়ে। সেখানে কেন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে! তার মানে হলো, সেই শিল্পীর সামাজিক জীবনকেও দুর্বিষহ করা। একজন শিল্পীকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা মানে সংস্কৃতিকেই ধ্বংস করে দেয়া। তখন আর এখন’র মধ্যে পার্থক্যটা কেমন দেখছেন? এ শিল্পী বলেন, সেটা ছিল একটা কালো ইতিহাস। ওই ইতিহাসের আগে যে বাংলাদেশ ছিল তা ছিল সুন্দর। আনন্দের বালাদেশ। কিন্তু এই ১৬-১৭ বছরে দেশটাকে ধ্বংস করে দেয়া হলো। সেই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আমরা আছি। নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। স্বাধীনতা পেয়েছি। অদূর ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই আবার সেই সুন্দর বাংলাদেশ ফিরবে ইনশাআল্লাহ। সামনে আপনাকে নির্বাচনে দেখা যাবে কিনা? বেবী নাজনীন বলেন, আমি রাজনীতিতে সক্রিয় আছি। যদি আমার দল (বিএনপি) মনে করে, মানুষ চায় তবে করতেও পারি। দেখা যাক কি হয়। নতুন গান প্রসঙ্গে এ গায়িকা বলেন, আমি শুরু থেকেই সময়ের সঙ্গে চলতে ভালোবাসি। তাই এ সময়ের গীতিকার-সুরকারদের মাধ্যমে আমি নতুন গান করতে চাই। আমি নিজেও নতুন গান করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।  
mzamin

১০০০ দিন পার করলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভবিষ্যৎ কী?

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ইউরোপে সর্ববৃহৎ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই ১০০০ দিন পার করেছে। এখনও বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ জারি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী বছরেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেনের এই সংঘাত। এক হাজার দিন পার করা এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সমীকরণ কি হতে পারে তা এখনও অনিশ্চিত। বিদায় বেলায় ইউক্রেনকে মার্কিন নীতির পরিবর্তন করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূর পাল্লার ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর বিপরীতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মস্কো-কিয়েভের সংঘাত কোন পথে আগায় তা এখনই বলা যাচ্ছেনা। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি কোনো যুদ্ধ চাননা। তাহলে এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে কেমন হতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের পরিণতি। এ খবর দিয়েছে ডয়চে ভেলে।

এতে বলা হয়, মঙ্গলবার ইউক্রেন যুদ্ধের এক হাজার দিন পূর্ণ হলো। এক হাজার দিন পরেও বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই করছে রাশিয়া-ইউক্রেন। এখনো কিয়েভে মাঝে মধ্যেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে আবার প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসবেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তার আগে ইউক্রেনকে জো বাইডেন রাশিয়ার ভিতরে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি  দিয়ে দিয়েছেন। আর রাশিয়া হুমকি দিয়েছে, এরকম আক্রমণ হলে তার উপযুক্ত ও কড়া জবাব দেয়া হবে।
তবে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এসে এই নীতির পরিবর্তন করতে পারেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এই পদক্ষেপ নিলে ৩৩ মাস ধরে চলা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতির বদল হবে না। এই যুদ্ধের ফলে ইউক্রেনের হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। লাখ লাখ মানুষ বাইরের দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংঘাত। এর ফলে সামরিক দিক থেকে কার কত ক্ষতি হয়েছে তা গোপন রাখা হয়েছে। গোয়েন্দাদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে পশ্চিমা দেশগুলো যে হিসাব করেছে, তাতে এক দেশের হিসাবের সঙ্গে অন্য দেশের হিসাবের প্রচুর ফারাক রয়েছে।  তবে সব রিপোর্টই বলছে, দুই পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রতিটি অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই যুদ্ধের সময় শোক নেমে এসেছে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করেছেন। ঘুমহীন রাত কাটিয়েছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প আসার পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তিনি এবার এই যুদ্ধ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন?  প্রশ্ন উঠেছে, ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য দেয়ার নীতির, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী হবে? ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে কোনোরকম আলোচনা হয়নি। সম্ভাব্য আলোচনার আগে দুই দেশই তাদের শক্তি বাড়িয়ে নিতে চাইতে পারে। ইউক্রেন ও রাশিয়া চাইবে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের আরো কিছুটা জমি দখল করে নিয়ে আলোচনায় বসতে। রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে ড্রোন পেয়েছে। কুরস্কে উত্তর কোরিয়ার ১১ হাজারের মতো সেনাও যুদ্ধে নেমে পড়েছে। কিয়েভের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া এক লাখ সেনা পাঠাবার ক্ষমতা রাখে।

ইউক্রেন আবার আগস্ট থেকে রাশিয়ার কুরস্কের একটা অংশ দখল করে রেখেছে। সেখানে তারা সবচেয়ে দক্ষ সেনা পাঠিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া সেখানে ৫০ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তাছাড়া তারা পূর্ব ইউক্রেনেও দ্রুত কিছু এলাকা দখল করতে চায়। ক্রমশ শীত আসছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রাশিয়া একদিনে ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯০টি ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করেছে। একই সময়ে রাশিয়ার গভীরে মার্কিন দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে হামলার অনুমতি দেয়া, ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সাহায্য দেয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত দুই বছরে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে মাঝারি বৃদ্ধি হয়েছে। তা সত্ত্বেও যুদ্ধের আগের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে, ইস্পাত শিল্প ও কৃষিক্ষেত্র।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, আগামী বছর কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। তবে যে কোনো আলোচনা শুরুর আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে এবং ইউক্রেনকে উপযুক্ত নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে হবে। অন্যদিকে ক্রেমলিন বলেছে, গত জুনেই প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়ে দিয়েছিলেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেয়ার উচ্চাশা বন্ধ করতে হবে। আর চারটি এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইউক্রেন সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে। গত শুক্রবার জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস প্রায় দুই বছর পর পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তারপরই জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার নেতা একঘরে হয়ে ছিলেন। এই ফোনের ফলে তার সেই দশা কিছুটা হলেও কমলো। জেলেনস্কি সবাইকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত শান্তি দরকার। কিন্তু এই যুদ্ধের এক হাজার দিন পরেও প্রশ্নটা রয়েই গেলো, সেই শান্তি কীভাবে আসবে?

mzamin

গুরুতর অসুস্থ খামেনি, গোপনে দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন করেছে ইরান

৮৫ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গুরুতর অসুস্থ। সে কথা মাথায় রেখে গোপনে দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করেছে  ইরান। তেহরান খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে দেশের পরবর্তী প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করেছে। ইসরায়েলি মিডিয়া ওয়াই নেট নিউজ ইরান ইন্টারন্যাশনালকে উদ্ধৃত করে এখবর জানিয়েছে।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে খামেনি শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন কারণ তিনি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় জর্জরিত।

খামেনির দাবিতে ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টের ৬০ জন সদস্যের বৈঠকের পর ২৬ সেপ্টেম্বর  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং গোপন বৈঠকটি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ডাকা হয়েছিল এবং লক্ষ্য ছিল সর্বোচ্চ নেতা খামেনির উত্তরসূরি নির্ধারণ করা। বৈঠকে আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে মোজতবাকে উত্তরসূরি নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

ওয়াই নেট যোগ করেছে যে, খামেনি এবং তার প্রতিনিধিদের পীড়াপীড়িতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়। জনবিক্ষোভের আশঙ্কায় সভার কার্যক্রম  অত্যন্ত গোপন  রাখা হয়েছিল। সদস্যদের বলা হয়েছিল বৈঠকের কোনো খবর যাতে বাইরে ফাঁস না হয়ে যায় সেদিকে নজর রাখতে। প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে খামেনি একটি মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে তার জীবদ্দশায় মোজতবার হাতে লাগাম হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে  যে কোনও বিরোধিতাকে অগ্রাহ্য করার জন্যও এটি একটি কৌশল। মোজতবার নির্বাচন বিস্ময়কর নয় কারণ তিনি নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত ছিলেন।   সরকারী বৈঠকগুলিতে তাকে  বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করতেও দেখা গেছে।

ইসরায়েলের সাথে বিরোধ এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কঠোর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা পরিকাঠামোতে ইসরায়েলি গুপ্তচররা অনুপ্রবেশ করেছে এমন খবর প্রকাশের পর 'উত্তরসূরি নির্বাচন'  অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে ইরানের কাছে । তেহরানে হিজবুল্লাহ প্রধান নাসরাল্লাহ এবং হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়াহের হত্যাকাণ্ডর পর খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় অনুগতদের তার কাছে যাবার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের মতে, তার ছেলে মোজতবাই একমাত্র ব্যক্তি যাকে তিনি বিশ্বাস করতে পারেন এবং ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে নির্বাচিত  করতে পারেন। বাবা সুপ্রিম লিডার হওয়ায় ইরানের মাটিতে বিপুল ক্ষমতাশালী মোজতবা। ২০০৯ সালে ইরানের গণ বিক্ষোভ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন তিনি। দুই বছর আগে তাকে আয়াতুল্লাহ উপাধি দেওয়া হয়েছিল, যা সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার জন্য সংবিধানের একটি অপরিহার্য শর্ত।

সূত্র : দ্য উইক

mzamin

হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী শীর্ষ নেতাদের কারাদণ্ড দিল আদালত

চীনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ল (এনএসএল) লঙ্ঘনের অপরাধে এক বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী শীর্ষ নেতাদের কারাদণ্ড দিয়েছে সেখানের একটি আদালত। সাজাপ্রাপ্ত নেতারা হচ্ছেন বেনি তাই এবং জোশুয়া ওং। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তারা স্থানীয় নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী বাছাইয়ে বিদ্রোহী দলের কর্মী এবং আইন প্রণেতাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কথিত এই অপরাধে বেনি তাইকে ১০ বছর এবং জোশুয়া ওংকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, বিক্ষোভে অংশ নেয়া গণতন্ত্রপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে চীনের চাপিয়ে দেয়া এনএসএল লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মাত্র দুই জনকে খালাস দিয়েছে আদালত। ২০১৯ সালে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দমনে এনএসএল আইন প্রণয়ন করে চীন।

মূলত হংকংয়ে নিজেদের শাসন বলবৎ করতেই এই আইন করেছে চীন। তবে চীনের চাপিয়ে দেয়া এই আইন থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন করছে গণতন্ত্রকামী নেতারা। তাদের বিক্ষোভে হংকংয়ের রাস্তায় নেমে আসে সেখানের কয়েক হাজার জনগণ। এর মধ্য দিয়ে হংকংয়ের জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক অভিলাষ ফুটে উঠেছে।

আদালতের এই রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, এনএসএল আইনের ভিত্তিতে এই বিচারিক ফলাফল হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে তুলেছে। অন্যদিকে আইনটির মাধ্যমে চীন এই শহরে তাদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করেছে। গণতন্ত্রকামী নেতাদের সাজা দেয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র বলছে এই রায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া বলছে হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী জনগণের বিরুদ্ধে এমন বিচারিক কার্যক্রমে ‘কঠিনভাবে আপত্তিকর’। যদিও বেইজিংয়ের যুক্তি হচ্ছে হংকংয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই তারা জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, নিজেদের শাসন মজবুত করতেই এমন আইন করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের জন্য এই বিচার কঠোর হুঁশিয়ারি হিসেবে কাজ করবে। গণতন্ত্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ল লঙ্ঘনের অভিযোগে যে মামলা হয়েছে তা অনেকের মধ্যেই বেশ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তারা রায়ের সময় আদালতের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মঙ্গলবার অভিযুক্তদের চার থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বেনি তাই সাবেক আইন বিশেষজ্ঞ। গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে তাকে দীর্ঘতম সাজা দেয়া হয়েছে। জোশুয়া ওং দোষ স্বীকার করার পর তার সাজা কমিয়ে চার বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য অভিযুক্তদের দাবি হচ্ছে বিচারকরা ওংকে একজন খারাপ মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে। বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে হংকংয়ের স্থানীয় প্রশাসন। জোশুয়া ওংকে আগেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, হংকং চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। আগে অঞ্চলটি যুক্তরাজ্যের একটি উপনিবেশ ছিল। ১৯৯৭ সালে চুক্তির মাধ্যমে হংকংকে চীনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই চুক্তিতে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। যার দাবিতেই বিক্ষোভ শুরু করেছেন গণতন্ত্রপন্থী এই নেতারা।

mzamin

মণিপুরে ‘অল আউট অ্যাকশনে'যেতে চায় মোদি সরকার

বেলাগাম হিংসায় জর্জরিত ভারতের  উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে জনরোষ। ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে একাধিক জায়গা। রাজ্যের মন্ত্রী বিধায়করাও সেই জনরোষ থেকে বাদ যাচ্ছেন না। সেই হিংসা সামাল দিতে এবার আরো ৫০ কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ান পাঠানো হচ্ছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেখানে অভিযান চালাবে নিরাপত্তাবাহিনী। সোমবার এই ইস্যুতে হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসেছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার পরই প্রকাশ্যে এল এই তথ্য। তিনি সিআরপিএফ ডিজি অনীশ দয়াল সিংকে, যিনি আইপিএস-এর মণিপুর ক্যাডারের অন্তর্গত, একটি গ্রাউন্ড অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট পাঠাতে এবং সেখানকার বাহিনীর সাথে সমন্বয় করতে ইম্ফলে পাঠিয়েছিলেন।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রের তরফে আধাসেনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অল আউট অভিযানে নামার। যে সব বিদ্রোহীরা এখানে সক্রিয় তাঁদের প্রত্যেককে আটক করার এমনকি প্রয়োজনে নিকেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কাছে কী কী অস্ত্র রয়েছে, তাদের ঠিকানা কোথায় সে সব তথ্য জানতে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মায়ানমার সীমান্তের পাশাপাশি জায়গায় জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাবে নিরাপত্তাবাহিনী। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে আধাসেনাকে। প্রয়োজনে নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৭ নভেম্বর থেকে নতুন করে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুর। বিশেষ করে এই অঞ্চলের জিরিবাম জেলা। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এখানে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে গত ১৪ নভেম্বর, নতুন করে লাগু হয়েছে আফস্পা। এমনকি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। এখানে ২০ কোম্পানি আধাসেনা আগে থেকেই মোতায়েন করেছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এবার আরও ৫০ কোম্পানি আধাসেনা অর্থাৎ, ৫ হাজার সিআরপিএফ মোতায়েন করা হল এই রাজ্যে।

মণিপুরের পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ব্যর্থ এমন অভিযোগ তুলে রবিবার বীরেন সিং সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে ঘরে-বাইরে চাপের মুখে সে রাজ্যের বিজেপি সরকার। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং। মণিপুর প্রশাসনের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মূলত দু’টি বিষয় নিয়ে বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিংহভাগ বিধায়ক কুকি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আর্জি জানান। এর পাশাপাশি মেইতেই অধ্যুষিত ইম্ফল উপত্যকার ছ’টি থানায় সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা ‘আফস্পা’ প্রত্যাহারের আর্জি জানান ওই বিধায়কেরা। প্রস্তাব আকারে নিজেদের এই দুই দাবি তুলে ধরার পর এনডিএ-র বিধায়কেরা হুঁশিয়ারির সুরে জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন্দ্র তাদের কথা মেনে না-নিলে জনগণের পরামর্শ নিয়ে তারা ভবিষ্যতের কর্মপন্থা স্থির করবেন।

সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

mzamin

উচ্চ মূল্যস্ফীতি: রাশিয়ার বহু সুপার মার্কেট 'মহার্ঘ' মাখন তুলে রাখছে তালাবন্ধ ক্যাবিনেটে

আমেরিকানরা গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতির অভিযোগ করে আসছে। কিন্তু রাশিয়ায় মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনক। সরকারি তথ্য অনুসারে মাখন, মাংস এবং পেঁয়াজ এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৫% বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। দোকান থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে মাখন। তাই কিছু সুপারমার্কেট তালাবদ্ধ ক্যাবিনেটে মাখন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশিত হারের তুলনায় অনেক বেশি। প্রায় ১০ শতাংশ। সামরিক শিল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন বিনিয়োগ এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ পুরুষকে পাঠানোর জেরে  মজুরির দ্রুত বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। আসলে  লক্ষ লক্ষ রুশ সেনা মোতায়েন যুদ্ধে। যুদ্ধে সেনামৃত্যুর জন্য যে বিপুল আর্থিক সাহায্য (পুতিনের ডেথোনমিস্ক) দিতে হচ্ছে তার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে কর্মী পিছু খরচও বেড়ে যাচ্ছে কর্মীর অপ্রতুলতার জন্য। আর এই পরিস্থিতি চলছে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থা চলারই খেসারত এখন দিতে হচ্ছে রুশ অর্থনীতিকে।

বার্লিনের কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের আলেকজান্দ্রা প্রোকোপেনকো সিএনএনকে বলেন, 'যুদ্ধের কারণে দাম বাড়ছে।  অর্থনীতিতে চাহিদা অনুৎপাদনশীল ব্যয়কে প্রভাবিত করে । মজুরি বৃদ্ধি পায় কারণ নিয়োগকারীদের শ্রমিকদের জোগাড় করতে  হিমশিম খেতে  হয়।”

অন্যান্য অর্থনীতিবিদরা এটাকে উন্নয়ন ছাড়া প্রবৃদ্ধি বলে অভিহিত করেন। জাতীয় আয় বাড়লেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর ব্যাপক কোনো উন্নতি হয়নি। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়াসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অক্টোবরে তার মূল সুদের হার ২১% এর রেকর্ড সর্বোচ্চে উন্নীত করেছে। তবে রাশিয়ান অর্থনীতিবিদদের একটি প্রভাবশালী গ্রুপ এই সপ্তাহে টেলিগ্রামে বলেছে যে, ‘বর্ধিত মুদ্রাস্ফীতির  চাপ কেবল অব্যাহত থাকবে না বরং বাড়তেও পারে।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিন এই মাসের শুরুতে বলেছিলেন, রাশিয়ান অর্থনীতিতে প্রায় ১ মিলিয়ন নতুন শ্রমিকের প্রয়োজন কারণ বেকারত্বের হার মাত্র ২.৪% , কার্যত কোনো বেকারত্ব নেই।

পুতিন রাশিয়ার শ্রম ঘাটতিকে ‘বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান বাধা’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। উচ্চ শ্রম ব্যয় এবং সুদের হার কোম্পানিগুলোকে চাপে রেখেছে । রাশিয়ার আলফা ব্যাংক গত মাসে বলেছিল, কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই কঠিন সময় পার করছে। বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদদের সাথে, আলফা আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হার পরের মাসে ২৩% বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্রেমলিনের ব্যয়। ২০২৫ সালে সামরিক বাজেট প্রায় এক চতুর্থাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা সমস্ত রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের ৬.৩ শতাংশ। অন্যান্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ব্যয় যোগ করলে এটি ফেডারেল বাজেটের ৪০%।

সূত্র : সিএনএন

mzamin

ভূমি সচিবের পরিপত্র: সিলেটে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসনে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটরা বহাল তবিয়তেই রয়েছে। ইউনিয়ন থেকে অধিদপ্তর পর্যন্ত সিন্ডিকেটে থাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চলমান জরিপের  নামে নানা ঘটনা ঘটিয়েই যাচ্ছে। সিলেটে এখন চলছে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া। টালবাহানা করে সংশ্লিষ্টরা গেজেট প্রকাশেও বিলম্ব করছে। এ নিয়ে ভূমির মালিকদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অবস্থায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ ১১ই নভেম্বর একটি পরিপত্র জারি করেছেন। এতে তিনি জানিয়েছেন, যেসব কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে তিন বছর কিংবা অধিককাল ধরে কর্মরত রয়েছেন তাদের যেন অনতিবিলম্বে বদলি করা হয়। তার এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দুর্নীতির শেকড় গেড়ে বসা এসব কর্মকর্তা, কর্মচারীরা নিজেদেরকে বহাল রাখতে নতুন করে করছেন দৌড়ঝাঁপ। পরিপত্রে সিনিয়র ভূমি সচিবের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়; ‘মাঠ পর্যায়ে ভূমি পরিষেবায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাসহ জনবান্ধব ভূমি পরিষেবায় জনদুর্ভোগ ও হয়রানি পরিহারের লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পর্যায়ের ভূমি রাজস্ব প্রশাসন এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের আওতাধীন একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে এক কর্মস্থল হতে অন্যত্র বদলি করা সমীচীন বলে প্রতীয়মান হওয়ায় মাঠপর্যায়ে ভূমি রাজস্ব প্রশাসন এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পর্যায়ক্রমে সকল বিষয়ে কাজ করার সুযোগ দেয়া এবং মাঠপর্যায়ে জনবান্ধব ভূমিসেবা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে জনগণের দুর্ভোগ ও হয়রানি পরিহারের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে যিনি বা যারা একই কর্মস্থলে বা একই শাখায় ৩ বৎসরের অধিককাল কর্মরত আছেন, তাদের কর্মস্থল বা শাখা পরিবর্তন বা অন্যত্র বদলি করার পরিপত্র জনস্বার্থে জারি করা হয় যা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।’ এই আদেশ অভিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট সেটেলমেন্টে যুগের পর যুগ ধরে শেকড় গেড়ে বসা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে এখন তোলপাড় হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে জরিপ কাজ প্রায় শেষ। বর্তমানে গেজেট প্রকাশের কাজ চলছে।

গেজেটের পূর্বে শেষ মূহূর্তেও প্রকৃত মালিকদের বঞ্চিত করে টাকার বিনিময়ে অন্যদের নামে জমির মালিকানা দিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসব করছেন দুর্নীতির শেকড় গেড়ে বসা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অধীনে ১৯৮৭-৮৮ সালে পরিচালিত সিলেট বিভাগে ৩৯টি উপজেলায় ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। সে হিসেবে সিলেট বিভাগকে একটি জোনে বিভক্ত করা হয়। সিলেট জোনে মাঠ জরিপ স্তর থেকে চূড়ান্ত প্রকাশনা স্তর পর্যন্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে বর্তমানে কিছু মৌজার বাঁধাইয়ের কাজ চলছে। উপজেলা পর্যায়ে স্থাপিত সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্যালয়ের নামে দৃশ্যমান আর কোনো অফিসের অস্তিত্ব এখন নেই। সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করার জন্য কাগজপত্রে নিজ নিজ উপজেলার সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নামের সিল ব্যবহার করে তার উপজেলার তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৯৮৭-৮৮ সাল থেকে জরিপ কাজে নিয়োজিত বহুসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত থাকলেও এখন সিলেট জোনে কাজ না থাকায় বেশির ভাগই অন্য জোনে বদলি বা পদায়ন হয়েছেন। বর্তমানে ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা ১৫ জন, ৩য় শ্রেণির কর্মচারী ৩৯ জন ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ৫২ জন কর্মরত থাকলেও তাদের হাতে কোনো কাজ নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে মাসের পর মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত তারা বেতনভাতাদি পাচ্ছেন। অনেকেই গ্রামের বাড়িতে কিংবা সিলেট শহরে ব্যবসা-বাণিজ্য দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন।

রংপুর, বগুড়া, খুলনা, দিনাজপুর ও বরিশাল জোনে জনবল স্বল্পতার কারণে অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে না পারায় বিগত গত বছরের ১লা নভেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা উল্লেখ করে পরিচালক (ভূমি রেকর্ড) মোমিনুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক সরকারি আদেশে সিলেট জোনে কর্মহীন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামের তালিকা প্রেরণ করার জন্য সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করেন। সে হিসেবে ১০৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামের তালিকা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। তালিকা মোতাবেক অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ১০৭ জন থেকে ২৪ জনকে বিভিন্ন জোনে বদলি, পদায়ন করলেও পরবর্তীতে ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা ৫ জন এবং ৩য় শ্রেণির ১৪ জন কর্মচারীর বদলির আদেশ পুনরায় বাতিল করা হয়েছে। সিলেট সেটেলমেন্ট অফিসের কপিস্ট-কাম-বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নান বিগত ৩৪ বছর ধরে প্রেষণে একই অফিসে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার দিঘুটিয়া গ্রামে। একই অফিসে ২০ বছর ধরে প্রেষণে কর্মরত ভারপ্রাপ্ত পেশকার সাধন কুমার চাকমাকে চট্টগ্রাম জোনে তাৎক্ষণিক বদলি করা হলেও তাকে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বদলির আদেশ অধিদপ্তর স্থগিত করে। দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা উপসহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. ফরিদ উদ্দিন, সনৎ কুমার নাথ, আব্দুল কাদের শেখ, দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আবু বকর ছিদ্দিক ও মো. নুরুজ্জামানকে সিলেট থেকে বিভিন্ন জোনে বদলি করা হলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে অধিদপ্তর কর্তৃক পুনরায় সিলেট জোনে বহাল করা হয়েছে। নামের তালিকায় দেখা যায়, আগামী ২০২৫ সালে ১০৭ জন থেকে ৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবসরে যাবেন।