Thursday, July 30, 2009

স্পিনারদের অন্য স্বাদও দিলেন ডাওলিন উত্পল শুভ্র ডমিনিকা থেকে

ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাহলে স্পিন খেলতে শিখে গেল!
টনি কোজিয়ার চারতলায় টিভি কমেন্ট্রি শেষ করেই তিনতলার প্রেসবক্সে এসে ল্যাপটপ নিয়ে বসেন। ৫ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার ৩৩ রান তুলে ফেলার পর তিনিই বললেন, ‘স্পিন এলেই তো সব শেষ!’ পরের ওভারেই এল স্পিন এবং সাকিব আল হাসানের প্রথম বলেই উইকেট। যাক, এই সিরিজ পূর্বনির্ধারিত পাণ্ডুলিপিই অনুসরণ করে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যা একদমই অনুসরণ করল না।
এই সিরিজে বাংলাদেশ দল মনে করিয়ে দিচ্ছিল সত্তর দশকের ভারতের কথা। দলে বিখ্যাত ওই স্পিনার চতুষ্টয় এবং পেস বোলাররা শুধুই পাঁচ-ছয় ওভার বোলিং করতে হয় বলে করে দর্শক হয়ে যেত স্পিনারদের বোলিংয়ের। একবার তো টেস্টে সুনীল গাভাস্কারকে দিয়ে পর্যন্ত বোলিং উদ্বোধন করানো হয়েছিল!
বাংলাদেশও এই সিরিজে পেসারদের ঝামেলা মনে করে আসছিল। মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ের পর তো আরও বেশি। পেসারদের ওপর আস্থাহীনতা একটা কারণ। তার চেয়েও বড় কারণ, স্পিনের ওপর আস্থা। আর সবচেয়ে বড় কারণ, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদের স্পিনকে আশ্চর্য রকম জুজু মনে করা।
ইন্টারনেটের এই যুগেও কোজিয়ারের হাতে সব সময় একটা মোটা খাতা। ইন্টারনেট থেকেই বের করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাম্প্রতিক সব স্কোরকার্ড, রেকর্ড...সব ওই খাতায় আঠা দিয়ে লাগানো। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা কি ঘরোয়া ক্রিকেটে স্পিন খেলে না নাকি—জিজ্ঞেস করতেই ওই খাতাটা খুললেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গত ঘরোয়া মৌসুমের রেকর্ডে গিয়ে দেখালেন, সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া দশ বোলারের আটজনই স্পিনার! ‘এদের বেশির ভাগই কোনো জাতের স্পিনার নয়। ওরাই এত উইকেট পেয়েছে আর বাংলাদেশের স্পিনাররা তো অনেক ভালো’—ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল দলেও শিবনারায়ন চন্দরপল আর রামনরেশ সারওয়ান ছাড়া বাকিদের কেউ স্পিনে খুব স্বচ্ছন্দ নন বলে মন্তব্য কোজিয়ারের।
চন্দরপল-সারওয়ান গায়ানার ব্যাটসম্যান এবং কাল গায়ানারই আরেক ব্যাটসম্যান এই সিরিজে বাংলাদেশের স্পিন-গর্বে বড় একটা থাপ্পড় বসালেন। ট্রাভিস ডাওলিন গ্রেনেডায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি, কাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভুললেন সেই দুঃখ। অন্যরাও ভালোই সংগত করেছেন, তবে তাঁর অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসটিই আসলে বাংলাদেশের কাছে সহজ মনে থাকা সিরিজটাকে হঠাত্ই খুব কঠিন বানিয়ে দিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫০ ওভার যখন শেষ, দেখা গেল জিততে হলে নিজেদের রেকর্ড ভাঙতে হবে বাংলাদেশকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫০-ই পরে ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বেশি রান করে জয়ের রেকর্ড হয়ে ছিল এত দিন, এখানে লক্ষ্য দাঁড়িয়ে গেল ২৭৫।
প্রশ্ন অবশ্য উঠবেই—ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা হঠাত্ স্পিন খেলতে শিখে গেল, নাকি বাংলাদেশের স্পিনারদের জন্যই অবশেষে এল একটা বাজে দিন? ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭৪ বোধহয় দুটি মিলেই। পুরো সিরিজেই বলতে গেলে সেভাবে পাল্টা আক্রমণের মুখে না পড়ে নিশ্চিন্তে নিজেদের বোলিং করে গেছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। কাল পাল্টা আক্রমণ হলো এবং তাতেই এলোমেলো হয়ে গেল সব। সাকিবের অধিনায়কত্বও এই প্রথম বড় চাপের মুখে এবং কিছুটা এলোমেলো তিনিও হলেন। নইলে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী (৮ ওভারে ২৬ রান) নাঈম ইসলামের দুটি ওভার অব্যবহূত থেকে যাবে কেন?
তাঁর নিজের চার ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট। শেষ ৪ ওভারে দিলেন ৩১ রান, শেষ ২ ওভারে ১৮। তার পরও নাঈমের পর তিনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। পেসার দুজন দিয়েছেন ওভারে সাড়ে সাতেরও বেশি।
কালকের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসটা ওরা যেমন চেয়েছিল, ঠিক যেন তা-ই। পার্টনারশিপ হলো, শেষ ১০ ওভার শুরু হলো হাতে ৬ উইকেট নিয়ে। তখনই এল ব্যাটিং পাওয়ার প্লে। ফলাফল—শেষ ১০ ওভারে ৯৮ রান। এখানেও বড় ভূমিকা ডাওলিনের ব্যাটের। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৮৮ বলে, মাত্র ২৯ বলে এল দ্বিতীয় ৫০।
৩২ বছরের গায়ানিজ খুব হাসিখুশি প্রাণবন্ত মানুষ। গত পরশু সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ না জিতলে তো সিরিজ শেষ—বাংলাদেশি সাংবাদিকের মুখে কথাটা শুনে হাত মুঠো করে চমকে দিয়ে বললেন, ‘ইনশাল্লাহ!’ গায়ানায় পাকিস্তানি বন্ধুবান্ধব আছে, তাদের কাছ থেকে শিখেছেন। ক্রিস গেইলরা ধর্মঘটে যাওয়াতেই সুযোগ মিলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও এই পারফরম্যান্সে গেইলরা ফিরলেও তাঁকে বাদ দেওয়াটা কঠিনই হবে। নিজে অবশ্য প্রসঙ্গটা উঠলেই হাসেন, ‘আমি তো টেস্ট-ওয়ানডের আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। খেলেছি তো! এখন যা হওয়ার হবে।’
গেইলদের ফেরা না-ফেরা অবশ্য এখনো গভীর রহস্যে ঢাকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের লোকজন তরুণ খেলোয়াড়দের ক্রিকেটে আকর্ষিত করার নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেললে টাকা-পয়সা কেমন পাওয়া যায়—কৌশলে সেটি জানিয়ে দিচ্ছেন। সেই সূত্রেই জানা যাচ্ছে, ক্রিস গেইল গত বছর পেয়েছেন ১১ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে সাত কোটিরও বেশি)। এ বছর এর চেয়ে বেশিই পেতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনমত তাই ক্রমশই গেইলদের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ উপলক্ষে ডমিনিকায় জাতীয় ছুটির দিনে গ্যালারিতে তাই প্লাকার্ড—গেইল অ্যান্ড কোম্পানি বড় বেশি লোভী!
ম্যাচ জিতুক-হারুক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের নতুন দলের এই উজ্জীবিত ব্যাটিং পারফরম্যান্স না গেইলদের আরও কোণঠাসা করে দেয়। এটা ওদের ব্যাপার, ওরা বুঝুক। দ্বিতীয় ওয়ানডের লাঞ্চ বিরতিতে যখন এই লেখা লিখছি—তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবার মতো অবস্থা নয়। ইতিহাস গড়ার সফরে বাংলাদেশ নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লিখে সিরিজ জিততে পারবে কি না—এই প্রশ্নের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে আর সব।

ইতোকে ছাড়িয়ে যেতে চান ইব্রাহিমোভিচ

বার্সেলোনাকে কী দিয়েছেন স্যামুয়েল ইতো? আর কী দিতে পারবেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ? ইতোর ইন্টার মিলানে যাওয়া এবং ইন্টার মিলান থেকে ইব্রাহিমোভিচের বার্সেলোনায় নাম লেখানোর পর থেকেই ন্যু ক্যাম্পে আলোচনার ঝড় এ নিয়ে। আলোচনাটা ন্যু ক্যাম্পের সীমানা পেরিয়ে এখন পুরো ফুটবল বিশ্বেই।
তিনটি লিগ শিরোপা, দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এবং একটি কোপা ডেল রে। এর মধ্যে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে বার্সা যে ইতিহাস গড়া ট্রেবল জিতল তাতেও অন্যতম ভূমিকা ছিল ইতোর। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে স্প্যানিশ লিগে ১০৮ গোলের ২৫টিই এ মৌসুমে। বার্সা সমর্থকদের মন থেকে ইতোর স্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়া সহজ নয়। ইব্রাহিমোভিচ খুব ভালো করেই এটা জানেন। পরশু বার্সার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তিতে সই করার পরই বললেন, ‘ইতো বার্সেলোনার ফুটবল ইতিহাসের অংশ। সে এখানে সব সময়ই নায়ক হয়ে থাকবে। আমি ইতোর বিকল্প হিসেবে আসিনি।’
বার্সা কিন্তু তাঁকে ইতোর বিকল্প হিসেবেই ভাবছে। ৯ নম্বর জার্সিটিও তুলে দেওয়া হয়েছে ইব্রাহিমোভিচকে। চুক্তি বিশ্লেষণ করলে তাঁর তো ইতোর চেয়েও বেশি কিছু দেওয়ার কথা। তাঁকে পেতে বার্সেলোনা ৬৬ মিলিয়ন ইউরোর নগদ অর্থের পাশাপাশি ইন্টার মিলানকে দিয়েছে ইতো আর আলেক্সান্ডার হ্লেবকে। বার্সা সমর্থকেরা তাঁর কাছ থেকে ইতোর চেয়ে বেশি তো চাইবেই। ইব্রাহিমোভিচও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ‘আমি ইতোর মতো নই, ভিন্ন একজন। কিন্তু ইতো যা অর্জন করেছে, আমিও তা-ই করতে চাইব। হয়তো তার চেয়ে বেশিও পেতে পারি।’
কী দিতে পারেন এই সুইড স্ট্রাইকার? পরিসংখ্যান কী বলে? ২০০৬-০৭ মৌসুমে ইন্টার মিলানে যোগ দিয়েছিলেন। প্রথম মৌসুমে সিরি ‘আ’তে ১৫ গোল। পরের মৌসুমে ১৭। আর গত মৌসুমে করেছেন ২৫ গোল। লিগ পাল্টেছে ঠিক, কিন্তু উন্নতির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করেন তিনি, “প্রতিবছরই উন্নতি করতে চাই। গত বছর সিরি ‘আ’তে ২৫ গোল করেছি। সিরি ‘আ’র সেরা গোলদাতাও হয়েছি। এবার এর চেয়ে বেশি কিছুই করতে চাই।”
ইব্রাহিমোভিচের যেমন ইতোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য, ইতোরও তেমনি ইব্রাহিমোভিচকে ছাড়িয়ে ইন্টার মিলানের ইতিহাসে তাঁর নাম লিখিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়, ‘আমার কাছে চাওয়ার পুরোটাই দিতে চাই আমি ইন্টারকে।’

রেকর্ডের সঙ্গে চলছে পোশাক-বিতর্ক

দুই দিনে রেকর্ড হয়েছে ১১টি। তবুও রোম বিশ্ব সাঁতার প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র কোনো সাঁতারু নয়, সাঁতারের পোশাক ‘সুপার স্যুট’! আধুনিক প্রযুক্তির এই পোশাক সাঁতারুদের বাড়তি গতি দেয়। সাঁতারের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিনা এই পোশাকের বৈধতা দেওয়ার পর বিশ্ব রেকর্ড নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতে উঠেছে প্রতিযোগীরা। অন্যদিকে ফিনার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনাও অব্যাহত আছে। বন্ধু ইয়ান থর্পের সাত বছর পুরোনো রেকর্ড জার্মানির পল বাইডারমান ভেঙে দেওয়ার পর কোরাসে যোগ দিয়েছেন অস্ট্রেলীয় ‘গ্রেট’ গ্রান্ট হ্যাকেট, ‘কথাটা বলতে আমার ভালো লাগছে না, কারণ এটা হয়তো খারাপ খেলোয়াড়ের মতো শোনাবে, কিন্তু এই পোশাক ছাড়া থর্পের রেকর্ড ভাঙত না।’ ফিনার নেতৃত্বের পদত্যাগ পর্যন্ত চেয়েছেন ৮০০ ও ১৫০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের বিশ্ব রেকর্ডধারী হ্যাকেট। আগের পোশাকের রেকর্ডগুলোর মধ্যে কেবল হ্যাকেটের রেকর্ড দুটিই এখনো অক্ষত আছে।
পোশাকের সাহায্য নিয়েই অপ্রতিরোধ্য মাইকেল ফেল্প্সকে হারানোর পরিকল্পনা করছেন মিলোরাড কাভিচ। বেইজিং অলিম্পিকে ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ফেল্পেসর কাছে সেকেন্ডের এক শ ভাগের এক ভাগ ব্যবধানে হারা এই সার্বিয়ান এবার ‘সুপার স্যুট’ পরে নামবেন, অন্যদিকে ফেল্প্স পরবেন অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ‘স্পিডো স্যুট’। ইতিমধ্যে ৫০ মিটার ব্লাটারফ্লাইয়ে সোনা জিতে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস দিয়ে রেখেছেন কাভিচ।
ওদিকে রোমের পুলে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা চলছেই। বদলি হিসেবে রোমে আসা আরিয়ানা কুকরস চমক দেখিয়েই চলছেন। মেয়েদের ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলের সেমিফাইনালে নিজের গড়া ২ মিনিট ০৭.০৩ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড ফাইনালে আবার ভেঙেছেন এই আমেরিকান, এবার সময় নিয়েছেন ২ মিনিট ০৬.১৫ সেকেন্ড। ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং করেও অলিম্পিক সোনাজয়ী অস্ট্রেলিয়ার স্টেফানি রাইস জিতেছেন রুপা। কুকরসের মতোই সেমিফাইনালে গড়া বিশ্ব রেকর্ড ফাইনালে নতুন করে গড়েছেন টিনএজ তারকা সারাহ সস্ট্রোম। সেমিফাইনালে নিজের ৫৬.৪৪ সেকেন্ডের রেকর্ডটিকে ফাইনালে ৫৬.০৬ সেকেন্ডে উন্নীত করেছেন ১৫ বছর বয়সী এই সুইডিশ। ছেলেদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ৫৮.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রেন্টন রিকার্ড। বেইজিং অলিম্পিকে ৫৮.৯১ সেকেন্ডে আগের রেকর্ডটি করেছিলেন জাপানের কোসুকে কিতাজিমা।
সাফল্যের পাশে ব্যর্থতার গল্পও আছে। ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ২০০৩, ২০০৫ ও ২০০৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ২০০৪ ও ২০০৮ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন অ্যারন পিরসল বাদ পড়েছেন সেমিফাইনালেই। তাঁর বাদ পড়ার পেছনে অবশ্য পারফরম্যান্সের চেয়ে খামখেয়ালিপনাই বেশি দায়ী। সেমিফাইনাল বলে একটু আয়েশি ভঙ্গিতে সাঁতরাচ্ছিলেন এই আমেরিকান, খেয়ালই করেননি এই সুযোগে তাঁকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন অনেকে। যখন বুঝতে পারলেন, তখন প্রাণপণ সাঁতরেও চতুর্থের বেশি হতে পারেননি এ মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ট্রায়ালে বিশ্ব রেকর্ড গড়া পিরসল। এমন কাণ্ডে হতাশ তিনি নিজেই, ‘আমি বুঝতেই পারিনি পেছনে পড়ে গিয়েছি। টাইমিং দেখে অদ্ভুত লাগল, আমি বোধ হয় এতটা খারাপ না।’ পিরসল ব্যর্থ হলেও অবশ্য ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের ফাইনালে উঠে গেছেন আরেক আমেরিকান মাইকেল ফেল্প্স।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৭ সোনা, ৫ রুপা ও ৯ ব্রোঞ্জ নিয়ে শীর্ষে আছে চীন। সমান সোনার সঙ্গে ৪ রুপা ও ২ ব্রোঞ্জ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া। ৪ সোনা ও এক রুপা নিয়ে তৃতীয় স্থানে জার্মানি আছে। ওয়েবসাইট।

মেসির সমান বাকি দশ!

ছিয়াশির বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনাকে মনে আছে? কেউই মনে হয় অস্বীকার করবেন না, সেই দলের ডিয়েগো ম্যারাডোনা ছিলেন বাকি দশজনের সমান! ম্যারাডোনার হাত ধরেই বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আর এখনকার আর্জেন্টিনা দল? কোচ ম্যারাডোনার কাছে অন্তত এটা লিওনেল মেসির দল, ‘আমি বলতে পারি, এই দলটি এ রকম—মেসি বাকি দশজনের সমান।’
মেসি সম্পর্কে একটা কথা ফুটবল বিশ্বে খুব প্রচলিত—তিনি যতটা না আর্জেন্টিনার, তার চেয়ে অনেক বেশি বার্সেলোনার। বার্সেলোনাকে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ১৬১ ম্যাচে করেছেন ৮০ গোল, সতীর্থদের দিয়েও করিয়েছেন ৩৮ গোল। অথচ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা ৩৮ ম্যাচে মাত্র ১২ গোল তাঁর। নেই আহামরি কোনো পারফরম্যান্সও। এর পরও মেসিকে আর্জেন্টিনার বাকি দশ খেলোয়াড়ের সমান বলছেন ম্যারাডোনা! কারণ জীবনে অনেক প্রতিভাকে কাছ থেকে দেখা এই কিংবদন্তি মেসির মতো দেহ-মনে ফুটবলকে ধারণ করতে দেখেননি কাউকে, ‘ও বলটাকে তাঁর পায়েই নিয়ে নিয়েছে। অংশ করে নিয়েছে শরীরেরও। এমনটা আমি অন্য কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখিনি।’
মেসির প্রশংসা করতে গিয়ে একটা মজার ঘটনাও বললেন ম্যারাডোনা। মেসিকে কোনো কারণে ফোন করেছিলেন তিনি। কোচের ফোন ধরেননি মেসি, পরে ফোনও করেননি আর। কৌতুক করে ম্যারাডোনা বলেছেন, ‘ওকে তো পাওয়াই যায় না। লিওর (মেসি) চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলা সহজ।’
তা হতে পারে। তবে বাছাইপর্ব উতরে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার জন্য একটু কঠিনই হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে চারটি দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। পঞ্চম দলটি খেলবে প্লে-অফ। বাছাইপর্ব শেষ হতে আরও চার রাউন্ড বাকি আছে। পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনাকে খেলতে হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, পেরু ও উরুগুয়ের বিপক্ষে।
ম্যারডোনা ব্রাজিলের ম্যাচটি নিয়ে চিন্তায় থাকলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন, আর্জেন্টিনাও ছোট দল নয়, ‘ব্রাজিল ভালো খেলে। প্রতিভা আর ভাগ্য দুটোই আছে তাদের। তবে একটা বিষয় ভুললে চলবে না—আমরা আর্জেন্টিনা!’ ওয়েবসাইট।

হাজার বছর ধরে পথে পথে তারা

‘রোমা’ শব্দের অর্থ যাযাবরশ্রেণীর মানুষ। হাজার বছরের ব্যবধানে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে তারা। তাদের কোনো দেশ নেই। ইতিহাসবিদেরা একমত যে, রোমাদের আদি বাস ছিল ভারতের উত্তরাঞ্চলে। তৃতীয় থেকে সপ্তম শতকে কয়েক দফায় তারা স্বদেশ ছেড়ে যায়। তাদের ভবঘুরে হয়ে ওঠার পেছনে ছিল বহু কারণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দাঙ্গা, অস্থিতিশীলতা আর অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবনযাপনের হাতছানি। অষ্টম শতক, পরে দশম থেকে ত্রয়োদশ শতকে উত্তর ভারতে মুসলমানদের আক্রমণের মুখে তারা দলে দলে ঘর ছাড়ে। তারা প্রথমে যায় তেহরান, সেখান থেকে বাগদাদ। পরে কনস্টান্টিনোপল (বর্তমানে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল) হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।
বর্তমানে এক কোটি ইউরোপীয় রোমার মধ্যে অন্তত ৬০ লাখের বাস মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে। রোমানিয়ায় বাস করে অন্তত ২০ লাখ । তাদের নামেই দেশটির নাম। তবে তারা আধুনিক সমাজের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত; প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে নেই। তারা হতদরিদ্র, বৈদ্যুতিক আলো থেকে দূরে। নেই স্থায়ী ঘরবাড়ি, নেই পানির সরবরাহ। তারা গান গেয়ে, লোক-মনোরঞ্জন করে যা আয় করে তা-ই দিয়ে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করে।
রোমা যাযাবরদের পেশা বরাবরই বিচিত্র। অতীতে তাদের কেউ ছিল কৃষক, কেউ বা রাখাল; আবার কেউ ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভাড়াটে কর্মী, সৈনিক বা হিসাবরক্ষক। অন্যরা গানওয়ালা ও বিনোদনকর্মী। তারা ভাগ্য গণনা করে থাকে, নদীতে ডুবুরির মতো খুঁজে বেড়ায় সোনা। বেহালা বাজিয়ে নেচে-গেয়ে, লোক-মনোরঞ্জন করে পাওয়া সামান্য বকশিশ দিয়ে খেয়ে না খেয়ে হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে তারা। তার পরও তারা ধরে রেখেছে তাদের ঐতিহ্য। হাজার বছরের নিপীড়ন-বঞ্চনা সত্ত্বেও হারিয়ে ফেলেনি তাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। অবাক হওয়ার কথাই বটে, তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে সংস্কৃতঘেঁষা ভাষায়। পরে হিন্দি, পাঞ্জাবিসহ নানা দেশের নানা ভাষার মিশেলে তৈরি হয়েছে তাদের নিজস্ব ভাষা।
মধ্যপ্রাচ্যে এই যাযাবরদের ডাকা হতো ‘ডোম’ বলে। ডোম মানে মানুষ। ভারতে ডোম হলো অচ্ছুতশ্রেণীর মানুষ। তারা মড়া পোড়ানোর কাজ করে। ইউরোপে ঢোকার পর ডোমের ‘ডি’র জায়গা দখল করে ‘আর’। ডোম হয়ে যায় রোম। ইউরোপের আজকের রোমা হলো ‘রোম’-এর বহুবচন। রোমা যাযাবরেরা চতুর্দশ শতকের দিকে পৌঁছে যায় বুলগেরিয়া, সাইবেরিয়া, গ্রিস ও রোমানিয়ায়।
রোমানিয়ায় তাদের দাসে পরিণত করা হয়। পরের শতকে তারা যায় ইউক্রেন ও রাশিয়ায়। এখানে এসে তারা নিজেদের তীর্থযাত্রী হিসেবে তুলে ধরে। রাশিয়া কিছুটা সহনশীলতার পরিচয় দেয়। কিন্তু তারা বিপদে পড়ে জার্মানিতে। ১৯৩৩ সালে নািসরা ক্ষমতায় এলে এসব মানুষের ওপর নেমে আসে চরম অত্যাচার। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় যে, রোমা যাযাবরেরা মুসলমানদের গুপ্তচর। বলা হয়, তাদের আচার-আচরণ খ্রিষ্টানসুলভ নয়। একসময় যে মুসলমানদের ভয়ে স্বদেশ ছেড়ে পথে বেরিয়েছিল রোমা যাযাবরেরা, এবার সেই মুসলমানদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলে তাদের দেওয়া হতে থাকে শাস্তি। তারা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ—এ রকম অভিযোগ তুলে জার্মানিতে বসবাসকারী রোমা যাযাবরদের ধরে ধরে বন্দিশিবিরে নেওয়া হতে থাকে। হরণ করা হতে থাকে তাদের সব ধরনের অধিকার ।
জার্মানি ১৯৩৮ সালের ১২ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সময়কে যাযাবরমুক্ত সপ্তাহ হিসেবে ঘোষণা করে। শুরু হয় রোমা নিধনযজ্ঞ। ১৯৪০ সালের জানুয়ারিতে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহারের পর হত্যা করা হয় ২৫০ রোমানি শিশুকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কত রোমাকে হত্যা করা হয়েছিল এর সঠিক পরিসংখ্যান আজও জানা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ‘হলোকাস্ট মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সাল নাগাদ ইউরোপে পাঁচ থেকে ১৫ লাখ রোমাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তাদের কথা কেউ স্মরণে রাখেনি। ভাগ্য বদল হয়নি যাযাবর রোমা জনগোষ্ঠীর। বিবিসি অবলম্বনে মিজান মল্লিক।

পদত্যাগ করার ঘোষণা কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রাজ্যের বিধানসভার একজন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনলে গতকাল মঙ্গলবার তিনি ওই ঘোষণা দেন। বিধানসভার ওই সদস্য তিন বছর আগের একটি যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবদুল্লাহর জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।
কাশ্মীরের বিধানসভার বিরোধীদলীয় সদস্য মুজাফফর বেগের ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেব। এই অভিযোগ শোনার পর আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারব না আমি। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আবদুল্লাহ বলেন, ‘নির্দোষ সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্তি পাব না।’ তবে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা তাঁর এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্তর নাইজেরিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার

নাইজেরিয়া সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গত দুই দিনের সহিংস বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই সহিংসতায় নিহত মানুষের সংখ্যা ১০০ জনের বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ইয়োবে, কানো ও বোর্নোতে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। সেনারা সড়কে পাহারা বসিয়েছেন।
এর আগে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জঙ্গিরা স্থানীয় থানা ও সরকারি দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তারা বন্দুক ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও পুলিশ সদস্যদের হত্যা করেছে।
রাজধানী লাগোস থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, সহিংসতা দমনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নাইজেরিয়ার পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে।
সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বোর্নো প্রদেশের মাইদুগুরি শহরে। বিবিসির একজন সাংবাদিক জানান, স্থানীয় থানার সামনে নাগরিক ও জঙ্গিদের মৃতদেহ স্তূপ হয়ে ছিল। তিনি দেখেছেন, মৃহদেহের সংখ্যা ১০০টির বেশি। পুলিশ ধারণা করছে, হামলাকারী জঙ্গিদের একটি অংশ মাইদুগুরির ধর্মীয় নেতা মোহাম্মেদ ইউসুফের অনুসারী, যারা ‘বোকো হারাম’ নামে পরিচিত। এই মোহাম্মেদ ইউসুফের ফতোয়া হচ্ছে, ‘পশ্চিমা শিক্ষা ইসলামি শিক্ষার বিরোধী।’ নাইজেরিয়ার পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। গত সোমবার রাতেও ওই শহরে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।
মাইদুগুরি ছাড়াও ইয়োবে প্রদেশের পোতিসকুম শহরের থানা ও আশপাশের ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর নাইজেরিয়ার বৃহত্তম শহর কানো থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উদিল এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কয়েকজন নেতার গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে বোকো হারামের সদস্যরা গত রোববার থানায় হামলা শুরু করে। নাইজেরিয়ার মুসলিম জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও তালেবান জঙ্গিদের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চীন-মার্কিন সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার আহ্বান ওবামার

আর কোনো অবিশ্বাস বা দ্বন্দ্ব নয়, এসব দূর করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোয় পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
গত সোমবার ওয়াশিংটনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী চীন-মার্কিন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সংলাপের উদ্বোধনী ভাষণে ওবামা এই আহ্বান জানান। বেইজিং থেকে আসা চীনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সংলাপে অংশ নেন। খবর এএফপির।
সংলাপে বারাক ওবামা ছাড়াও অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও অর্থমন্ত্রী টিমথি গেইথনার। চীনের পক্ষে অংশ নেন উপপ্রধানমন্ত্রী ওয়াং কিশান ও স্টেট কাউন্সিলর ডাই বিঙ্গু।
সংলাপ শুরু হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণ করবে ২১ শতক কেমন যাবে। এ সম্পর্ক যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চেয়ে শক্তিশালী হবে। এ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই আমরা এগিয়ে যাব।’ তবে চীনে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করতে ছাড়েননি ওবামা। তিনি চীনকে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
ওবামা বলেন, ‘আমেরিকানরা চীনের প্রাচীন সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সব ধর্ম ও সংস্কৃতির লোককে শ্রদ্ধা করতে হবে এবং সবাইকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে।’
ওয়াং কিশান বলেন, চীনের অর্থনীতি মার্কিন মন্দা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠলে এ সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যাবে।
প্রথম দিনের সংলাপে জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এ ছাড়া পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

অনির্ধারিত সফরে ইরাকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস গতকাল মঙ্গলবার আকস্মিক সফরে ইরাক গেছেন। ইরাকের শিয়া, সুন্নি ও কুর্দি সম্প্রদায়ের প্রতি অন্তর্দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানাতে তিনি সেখানে গেছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি রবার্ট গেটসের একটি অনির্ধারিত সফর। দক্ষিণ বাগদাদের তাল্লিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘মার্কিন সেনারা ইরাক ছেড়ে যাওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলো মিটিয়ে ফেলার জন্য শিয়া, সুন্নি ও কুর্দি সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রবার্ট গেটস গত সোমবার জর্ডান ও ইসরায়েল সফর করেন।
ইরাকে দুই দিনের সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নূরি-আল-মালিকি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সংস্থাপনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন রবার্ট গেটস। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কুর্দিস্তানও সফরের কথা রয়েছে তাঁর। অঘোষিত এই ইরাক সফরের সময় সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা কীভাবে তাঁদের নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, সেটিও পরিদর্শন করবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
বড় শহরগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পর সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা এখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মিলে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শদানসংক্রান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারেও ইরাকি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন গেটস। আলোচনায় ইরাককে এফ-১৬ জঙ্গি বিমান দেওয়ার বিষয়টিও আনা হবে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। তিনি জানান, ইরাক একটি আধুনিক বিমানবাহিনী গড়ে তুলতে চায়।

ভারতের পারমাণবিক ডুবোজাহাজ নিরাপত্তার প্রতি হুমকি: পাকিস্তান

ভারতের নৌবাহিনীতে দেশে তৈরি পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ডুবোজাহাজের অন্তর্ভূক্তিকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান। ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ রক্ষার জন্য ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চৌধুরী আহমেদ মুখতার গতকাল মঙ্গলবার বলেন, পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে পুরোপুরি সচেতন। এটা মোকাবিলার জন্য তাঁরা সব ক্ষেত্রে প্রস্তুত। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিভাগ পুরোপুরি তৈরি।
ভারতের পারমাণবিক ডুবোজাহাজের উদ্বোধন সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয়, সেটা আমরা জানি।’
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত যেভাবে নতুন প্রাণঘাতী অস্ত্রের অভিষেক অব্যাহত রেখেছে, সেটা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাসিত বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান। তবে তাঁরা অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামবেন না। পাকিস্তান বিশ্বাস করে, এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
পারমাণবিক ডুবোজাহাজের উদ্বোধনকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকিস্তানের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন আবিদ মাজেদ বাট। ডন নিউজ টেলিভিশনকে তিনি বলেন, এটা গোটা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বিপদগ্রস্ত করে তুলবে।
গত রোববার দেশে তৈরি পারমাণবিক ডুবোজাহাজ ‘আইএনএস অরিহন্ত’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এই ডুবোজাহাজ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব। এর উদ্বোধন করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য কারও প্রতি তাঁদের কোনো ধরনের আগ্রাসী অভিপ্রায় নেই।
ভারতসহ মাত্র ছয়টি দেশের কাছে দেশে তৈরি পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ রয়েছে। অন্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও চীন।