Saturday, September 22, 2018

‘ফোরটি’ ও ‘ফোরটিন’ এর পার্থক্য বোঝে না প্রাথমিকের শতভাগ শিক্ষার্থী?

প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক কর্মশালায়
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়কমন্ত্রীসহ অতিথিরা
প্রাথমিকের শতভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ‘ফোরটি’ ও ‘ফোরটিন’ এর পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ।  তিনি আরও দাবি করেন, প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ও বাংলায় নিজের নাম-ঠিকানা লিখতে পারে না।
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে যোগাযোগ ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ’ বিষয়ক কর্মশালায় দেওয়া বক্তব্যে এ দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন,‘সম্প্রতি আমরা বিভিন্ন জেলার ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ওপর নিরীক্ষা চালিয়েছি। নিরীক্ষায় দেখা গেছে,২০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ও বাংলায় নিজের নাম ও ঠিকানা লিখতে পারে না। সবচেয়ে হতাশার জায়গা হলো,শতভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ‘ফোরটি’ ও ‘ফোরটিনের’ পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেনি।
এ কর্মশালায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষকরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন,প্রাথমিকের কারিকুলাম খুব কঠিন, বিশেষ করে ৪র্থ-৫ম শ্রেণির অংক খুব কঠিন। শিক্ষকরাই অনেক কিছু বোঝে না, শিক্ষার্থীদের বোঝাবেন কিভাবে? ফলে এই কারিকুলামটি সহজীকরণ করতে হবে,শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন ধরনের বোনাস ব্যবস্থা চালু,গ্রেডিং পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়ণ,প্রাথমিকের প্রশাসনিক পদগুলোতে শিক্ষা ক্যাডার থেকে নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন তারা।
এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্মশালার প্রধান অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন,‘শিক্ষকদের বৈষম্য,পদোন্নতি ও নিয়োগবিধি সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দ্রুত এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও ভালো শিক্ষাদান সম্ভব, কিন্তু নির্দেশদাতা কর্মকর্তাদের অবহেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না। মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়টি নির্ভর করছে। প্রাথমিকের কারিকুলাম দেখে শিক্ষকরাই ভয় পাচ্ছেন,তাহলে শিক্ষার্থীদের অবস্থা কী হবে? শিক্ষকরাই কেবলমাত্র পারে শিক্ষার্থীদেরকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে।
সভাপতি ডিপিই’র মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন,‘পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম একটি পরিবর্তনশীল বিষয়। এটি নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা করা হয়। তার ভিত্তিতে কারিকুলাম নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ের পর তা পরিবর্তনও করা হয়। তাই কারিকুলাম নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে তা বিবেচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মুনজুর কাদির।

বাংলাদেশে বছরে ৫০ হাজার নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসকের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় ৬টি নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে। বছরের হিসাবে বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর প্রবণতা নিয়ে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগের দেওয়া পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক এই চারটি সংস্থা বৃহস্পতিবার একযোগে নিউইয়র্ক, জেনেভা ও ওয়াশিংটন থেকে বিশ্বে শিশুমৃত্যুর হার ও প্রবণতা নিয়ে নতুন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বিশ্বে ১৫ বছরের কম বয়সী ৬৩ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়। অর্থাৎ প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে বিশ্বে একটি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এসব মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব।
ইউনিসেফের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে প্রতি ১ হাজার শিশুর মধ্যে ৩২টি শিশু মারা যায়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার কমাতে পারলেও নবজাতক বা চার সপ্তাহের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারছে না।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, এক লাখ শিশুর মধ্যে অর্ধেকের কিছু বেশি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বয়স ২৮ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে। সে হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫০ হাজারের বেশি নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে। বাংলাদেশে নবজাতক মৃত্যুর প্রধান কারণ জন্মের সময় শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ এবং কম ওজনজনিত জটিলতা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইন্স-এর প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার রওশন আরা রেডিও তেহরানকে বলেন, অল্প বয়সে সন্তান ধারণ, গর্ভাবস্থায় মাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য না দেয়া এবং  বাড়িতে অনিরাপদ পরিবেশে সন্তান জন্ম দানের কারণে বাংলাদেশে অধিক হারে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান, বাল্য বিবাহ রোধ, গর্ভাবস্থায় মাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানো, হাসপাতালে বা দক্ষ দাইয়ের সাহায্যে সন্তান প্রসব এবং শিশুকে ছ’মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধ পান করানোর অভ্যাস করা গেলে শিশু মৃত্যুর এ হার কমানো সম্ভব।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য) মোহাম্মদ শরিফ গণমাধ্যমকে বলেছেন, চলতি মাসে থেকে জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জন্মের পর নবজাতকের নাভীতে দেওয়ার জন্য ওষুধ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ইউনিয়ন পর্যায়ের সেবাকেন্দ্রে  সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ‘ক্যাঙারু মাদার কেয়ার’ নামের সেবাও দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। জন্মের পর নবজাতক ক্যাঙ্গারু ছানাকে মায়ের শরীরের তাপে রেখে বড় করার যে কৌশল স্নেহময়ী ক্যাঙ্গারু মা করে থাকে শিশু চিকিৎসার ক্ষেত্রে তারই নাম দেয়া হয়েছে 'ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার'।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে ইইউতে প্রচারণা চালাবে স্পেন

ফিলিস্তিনকে যাতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, সেজন্য প্রচারণা চালাবে স্পেন সরকার। এমনকি ইইউ যদি শেষ অবদি স্বীকৃতি না-ও দেয়, তাহলে স্পেন একাই এই স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ বোরেল বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে ইসরাইলের দৈনিক পত্রিকা হারেৎস।
খবরে বলা হয়, অস্ট্রিয়ায় মঙ্গলবার ইইউ নেতাদের এক সম্মেলনে স্প্যানিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইইউ যদি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফিলিস্তিনকে আলাদা আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির বিষয়ে সকল ইইউ সদস্যরাষ্ট্র যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছে সেজন্য তিনি অন্য নেতাদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করবেন।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে প্রায় ১৩৯টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ইইউর মধ্যে এ নিয়ে বিরোধ আছে। ইইউ চায় দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে।
তবে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে স্পেনের বামপন্থী দলগুলো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে চাপ দিচ্ছে। তবে প্রতিপক্ষ দলগুলো বলছে, সেক্ষেত্রে ইসরাইলও পালটা পদক্ষেপ হিসেবে স্পেনের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল কাতালোনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে।

জাতীয় ঐক্য কার্যকরে আন্দোলন শুরুর আহ্বান নাগরিক সমাবেশে রাজনীতিবিদদের by সালমান তারেক শাকিল ও আদিত্য রিমন

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দাবি আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘বৃহত্তর ঐক্য একধাপ এগিয়ে গেছে’ বলে মনে করেন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। তাদের দাবি, আগামী নির্বাচন সু্ষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে ও সেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দাবিতে প্রায় সব দলই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এখন দরকার—এই ঐক্যকে কার্যকর করার মধ্য দিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা। আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে সভা-সমাবেশ কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয় সমাবেশ থেকে। শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টায় রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে খ্যাতিমান আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে আয়োজিত ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশে আসা বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্যে এমন দাবি উঠে আসে। তারা আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে বর্তমান দশম সংসদ ভেঙে দেওয়ারও দাবি জানান। একইসঙ্গে দাবি আদায়ে সারাদেশে জাতীয় ঐক্য কার্যকর করতে কমিটি গঠন করে নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ গণজাগরণ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এই নেতারা।
প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশকে ঘিরে প্রায় মাসখানেক ধরেই চলছিল নানা ধরনের অনিশ্চয়তা। কখনও ভেন্যু নিয়ে, কখনও  সমাবেশ নিয়ে। যদিও সব ধরনের শঙ্কা ও সন্দেহ উজিয়ে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
‘কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন’ শীর্ষক দাবিতে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও সমাবেশের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এ জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন কেউ-কেউ। আমরা প্রকাশ্য সভা করছি। কোনও গোপন বৈঠক করছি না।’ তিনি বলেন, ‘মৌলিক বিষয়ে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। এখন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার সময় এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে। অতীতে জনগণের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারেনি ভবিষ্যতেও পারবে না।’ 
সমাবেশের শেষ দিকে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দররক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ঘোষণাপত্রে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তফসিল ঘোষণার পূর্বে বর্তমান দশম সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ঘোষণাপত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনগত ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন একিউম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন একিউম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আগামী দিনে যেন বর্তমান সরকারের মতো সরকার না আসে, সেজন্য রক্ষাকবচ তৈরি করতে হবে। অনেকে আমাদের কাজে গন্ধ পান, তারাই গন্ধ পান, যাদের নাক পচা। আমরা সংবিধানের বাইরের কোনও প্রসেসে বিশ্বাস করি না।’ ড. কামাল হোসেন ও বিএনপিনেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এখানে কারোই এ ধরনের চিন্তা নেই।’ 
কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে বিএনপির সাবেক মহাসচিব বি চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া আমার চেয়ে ১৫ বছরের ছোট। তিনি অসুস্থ। তিনি কোন চিকিৎসককে দিয়ে তার স্বাস্থ্য দেখাবেন, সে বিষয়ে তার রাইট আছে। তার কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্টে কীভাবে হাত দেন অন্য চিকিৎসকরা?’   
বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে জানিয়ে বি চৌধুরী বলেন, ‘শুধু স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ভারসাম্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য বেগবান হতে পারে। আমরা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করছি। আশা করি, ফলপ্রসূ হবে। আসুন, সবাই ইতিবাচক স্বপ্নে জেগে উঠি। স্বপ্নভঙ্গের অধ্যায় রচনা করার জন্য নয়।’ 
‘জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া’ একধাপ এগিয়ে গেছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজ যদি এই সরকারকে আমরা সরিয়ে দিতে না পারি এবং জনগণের  ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারি,  তাহলে দেশের স্বাধীনতাও থাকবে না। এজন্য কারাগার থেকে খালেদা জিয়া খবর দিয়েছেন, যেকোনও মূল্যে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে।’
4
নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন ড. কামালা হোসেন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজ যেসব দাবি এসেছে, প্রায় সবার দাবিই এক। আমাদের প্রধান শর্ত হচ্ছে—এই সরকারকে পদত্যাগ করাতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে। এ কারণে ইসি পুনর্গঠন করতে হবে।’ ইভিএমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এদেশের মানুষ ইভিএমের সঙ্গে পরিচিত নয়, তাই আগামী নির্বাচনে ইভিএম চলবে না।’ 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই প্ল্যাটফরম থেকে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটাবো। ঐক্যপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করবো।’ 
দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নতুন মাইলফলক ও নতুন যাত্রা শুরু করেছি, এই যাত্রায় আলো আসবেই। মানুষকে সংগঠিত করে এ সরকারকে হটাতে পারবো।’   
জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, ‘বদ্ধ ঘরে থাকতে চাই না। আমরা মাঠে নামবো। আমাদের মাঠে যেতেই হবে।’ 
2
নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক, যুক্তফন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। সবার মুক্তি দাবি করছি। এ মুক্তি দিতে হবে। যদি কেউ মনে করেন জোর করে লাঠি দিয়ে, পুলিশ দিয়ে বন্ধ করবেন, তাহলে এত জোরে কথা বলবো, কেউ টিকবে না।’ 
গণসংহতির প্রধানসমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘একাত্তরের পর থেকে সংবিধানের ক্ষমতা কাঠামো কাজে লাগিয়ে স্বৈরতন্ত্র কার্যকর ছিল। আমরা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আছি, এই ব্যবস্থা কোনও ব্যক্তির নয়, ব্যবস্থাগত স্বৈরতন্ত্রের। সরকার যেভাবে কথা বলছে, এই ভাষা সংঘাতের ভাষা। সরকার যদি সমঝোতা না করে, বুঝতে হবে তারা জনগণকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর তাহলে জনগণই আন্দোলনের মাধ্যমে সমাধান করবে।’ 
শনিবার দুপুর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা তাদের দাবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিলযোগে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। সমাবেশ কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। মিলনায়তনের ভেতরে ছিল সাদা পোশাকের গোয়েন্দা বাহিনী। সমাবেশ শুরুর আগে ও পরে বিদ্যুৎবিভ্রাট ও জেনারেটরে সমস্যা দেখা দেয় বলেও জানান জাতীয় ঐক্যের নেতারা।
কামাল হোসেনের ডাকা সমাবেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবদীন, যুক্তফ্রন্ট নেতা ও জেএসডি সভাপতি আসম রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মুনসুর আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন প্রমুখ।
 ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে সমাবেশে মঞ্চে বসে থাকেন বিজেপি সভাপতি আন্দালিভ রহমান পার্থ, জমিয়ত একাংশের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের প্রমুখ। 
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর বিএনপি জোটের শরিক এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে ফোন করে জানান,  ‘ড. কামালের সমাবেশে এলডিপি, ন্যাপ, কল্যাণ পার্টি যায়নি।’
পরে ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম।’
এদিকে, সমাবেশে বিপুল সংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলো। বক্তাদের বক্তব্যের শুরু ও শেষ দিকে তারা বহুবার খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে স্লোগান দেন।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

টাকার বিনিময়ে ছাত্রদল-শিবির নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি? by হুমায়ুন মাসুদ

ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম কলেজ। কলেজ ছাত্রলীগের এক পক্ষ অভিযোগ করছে, টাকার বিনিময়ে কমিটি করা হয়েছে এবং এই কমিটিতে ছাত্রদল ও শিবিরকে পদায়ন করা হয়েছে। কমিটি বাতিলের দাবিতে কলেজে অস্ত্রসহ বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে ছাত্রলীগের এই অংশের নেতাকর্মীদের। তবে টাকা নিয়ে কমিটি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে নগর ছাত্রলীগ। তারা বলছে, নতুন কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আন্দোলনকারীরা এসব অভিযোগ তুলছে। একটি পক্ষের ইন্ধনে কিছু অছাত্র ও বহিরাগত আন্দোলনের নামে এ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ছাত্রলীগের এই অংশের নেতাদের দাবি, যারা আন্দোলন করছে এবং যাদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে তাদের কেউ চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী নন। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও তাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।
গত সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে মাহমুদুল করিমকে সভাপতি ও সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে নগর ছাত্রলীগ। নতুন কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে সহ-সভাপতিরা হলেন– কমর উদ্দিন, খালেদ মাহমুদ চৌধুরী টুটুল, মনিরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, মো. ওবায়েদুল হক, মোস্তফা কামাল, জাবেদুল ইসলাম জিতু, মোক্তার হোসেন রাজু ও শাজাহান সম্রাট। যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন চৌধুরী, ইউসুফ কবির, স্বরূপ রায় সৌরভ ও উথিলা মারমা। সাংগঠনিক সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম দুর্জয়, হায়দার আলী, মোহাম্মদ বেলাল ও আনন্দ মজুমদার।
চট্টগ্রাম কলেজে অস্ত্রহাতে মহড়া
চট্টগ্রাম কলেজে অস্ত্রহাতে মহড়া
দফতর সম্পাদক আবদুল কাদের হাওলাদার, প্রচার সম্পাদক জামাল উদ্দিন সোহেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আবু নাঈম মো. হাসান, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক তারেকুল ইসলাম খান, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক খন্দকার নায়েবুল আজম, উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক রিফাত হোসেন।
এদের মধ্যে সহ-সভাপতি পদে চারজন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দুজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে একজনসহ মোট ৭ জন পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের সবাই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী। অভিযোগ রয়েছে, এই পক্ষ থেকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে কাউকে না রাখায় এই অংশের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে।
কমিটিতে শিবির ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকা কয়েকজনকে স্থান দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে এই কমিটি বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন পদবঞ্চিতরা। একই দাবিতে বুধবার পদবঞ্চিতরা দ্বিতীয় দফায় ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে ফাঁকা গুলি করতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম কলেজে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
চট্টগ্রাম কলেজে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত নেতারা অভিযোগ করেন, সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমের বিরুদ্ধে ইভটিজিং ও নারী লাঞ্ছনার অভিযোগ রয়েছে। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ আনেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এম কায়সার উদ্দিন বলেন, ‘নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকা খাদেমুল ইসলাম দুর্জয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা পেকুয়া উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে আছেন। একই কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক আবু নাঈম হাসান ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ত্যাগের বিনিময়ে শিবির অধ্যুষিত এই চট্টগ্রাম কলেজকে শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিবিরমুক্ত করেছে সেই প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না। শিগগির এই কমিটি বাতিল করা না হলে একই দাবিতে কঠোর আন্দোলন হবে।’
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করতে জামায়াত-শিবিরের ইন্ধনে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। এই পক্ষের ওপর ভর করে জামায়াত শিবির তাদের ‘মিনি ক্যান্টনমেন্ট’ হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ পুনরায় উদ্ধার করতে এই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যারা আন্দোলন করছে তারা তাদেরই দোসর।"
মাহমুদুল করিম বলেন, ‘যারা কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন আমরা তাদের সবাইকে চিনি। কিন্তু গত দুই দিন যারা কলেজে আন্দোলন করছে তাদের কাউকে ছাত্রলীগের কোনও কর্মসূচিতে এর আগে দেখিনি। এরা বহিরাগত, অছাত্র।’
কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
তিনি আরও বলেন, ‘জীবন বাজি রেখে শিবিরকে এই ক্যাম্পাস থেকে হটিয়েছি। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শিবিরকে বিতাড়িত করে আমরা কলেজে জয়বাংলার পতাকা ওড়াই। তখন থেকেই আমরা কলেজে সক্রিয় রাজনীতি করে আসছি। ছাত্রলীগের কোনও কর্মসূচিতে ছিলাম না এ ধরনের ঘটনা কোনোদিন ঘটেনি। যারা আজ নিজেদের পদবঞ্চিত বলে দাবি করছেন তাদের কাউকে ২০১৫ সালে শিবিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখিনি। যারা আজ সংবাদ সম্মেলন করেছে তাদের কারও ছাত্রত্ব নেই। তারা চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থীও না। কাল যারা ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেছে, মামলার আসামি-ছিনতাইকারীকেও তাদের সঙ্গে দেখা গেছে।’
একই কথা জানিয়েছেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ। সবুজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করেছে তারা কারা? যারা দা, কিরিচ নিয়ে মহড়া দিয়েছে তারা কারা? যারা ককটেল ফাটিয়েছে তারা কারা? তারা কি চট্টগ্রাম কলেজের স্টুডেন্ট? এরা কেউ চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী নয়, তারা সবাই বহিরাগত।’
তিনি বলেন, ‘কলেজ ছাত্রলীগ নিয়ে মাথা খাটানোর জন্য কোনও বুড়া লীগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এই কমিটি দিয়েছেন। তারা অনেক যাছাই-বাছাই করে এ কমিটি দিয়েছেন। এখানে কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি। যারা প্রকৃতপক্ষে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন, তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আন্দোলনকারী অছাত্র, ছাত্রদল ও শিবিরকে পদ দেওয়ার যে অভিযোগ করছেন তার কোনও ভিত্তি নেই। এটি ছাত্রলীগের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু না। দীর্ঘদিন যাছাই-বাছাই করার পর কমিটি প্রদান করা হয়েছে। কমিটিতে ছাত্রদল-শিবির থাকার প্রশ্নই আসে না।'
তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছেন তাদের সংবাদ সম্মেলনের ছবি দেখেছি। ছবিতে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীদের চেয়ে সাবেক নেতাদের বেশি দেখা গেছে।’ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিবির-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে বলে তিনি জানান।
জাকারিয়া দস্তগির বলেন, সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক যাদের করা হয়েছে তারা চট্টগ্রাম কলেজকে শিবিরমুক্ত করার সংগ্রামে সবসময় অগ্রবর্তী থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। খোঁজখবর নিয়েই আমরা তাদেরকে নেতা বানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবারই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এ দুটি পদে তো আর সবাইকে রাখা যাবে না। এরপরও আমরা বলছি যদি কোনও ছাত্রলীগ কর্মীর যৌক্তিক দাবি থাকে আমরা বিবেচনায় নেব।’
নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ বলেন, ‘কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে নাছির ভাইয়ের গ্রুপের কাউকে না রাখায় তারা এই আন্দোলন করছে। এই কারণে তারা কমিটি থেকে পদত্যাগ করে কমিটিকে বির্তকিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বহিরাগতদের নিয়ে ওই পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।’

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার -মানবজমিন
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ঘোষিত কমিটি নিয়ে সংঘাতের সময় প্রতিপক্ষের দিকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরা ছাত্রলীগের সেই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহ¯পতিবার রাত ৮টার পর চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার রাজাপুর লেইন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম মুহাম্মদ সাব্বির সাদেক।
তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. কামরুজ্জামান।
কামরুজ্জামান বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চট্টগ্রাম কলেজের সামনের সড়ক। সংঘর্ষে যোগ দেয় বিপুল সংখ্যক বহিরাগত তরুণ। তাদের কারও কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা ও কিরিচ দেখা যায়।
বেলা পৌনে ১টার দিকে গণি বেকারি মোড়ে কাপড়ে মুখ ঢাকা ১৫ থেকে ২০ জন বহিরাগত যুবক অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় সাদা শার্ট পরিহিত ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাব্বির সাদিককে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পুলিশের নজরে আসে। এরপর তাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তার অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংঘর্ষে অস্ত্রধারী সকলকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অস্ত্রধারী যেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। 
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের ২৫ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। কমিটিতে মাহমুদুল করিমকে সভাপতি এবং সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
মাহমুদুল প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী এবং সবুজ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী। এর প্রতিবাদে মেয়রের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার ও বুধবার দুইদিন ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা ত্রিমুখী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি হয়েছিল। ছাত্র শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হওয়া ছাত্রলীগের প্রায় তিন দশক ধরে কোনো কর্মকাণ্ডই ছিল না ওই কলেজে।
২০১৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ ক্যাম্পাস দখলে নেয়। এরপর থেকে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলে আসছিল। এরমধ্যেও প্রায় সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ছাত্রলীগের বিবদমান তিনটি গ্রুপ। সোমবার কমিটি ঘোষণার পর তা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চট্টগ্রাম কলেজ।

তদন্ত আলোর মুখ দেখে না by শুভ্র দেব

গুম হয়, নিখোঁজ হয়। থানায় জিডি হয়। কেউ ফিরে আসে আবার কেউ ফিরে না। কিন্তু এসব ঘটনার তদন্ত কখনই আলোর মুখ দেখে না। যারা ফিরে আসে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হন না। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে তেমন কোনো রহস্য উদঘাটন হয় না। ফলে গুম-নিখোঁজের রহস্য বরাবরই অজানা থেকে যাচ্ছে। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নেয়া হয়েছে ১৭ জনকে।
তাদের মধ্যে ফিরে এসেছেন ১৪ জন। এখনও ফিরেননি ৩ জন। এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাক আহম্মেদ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান। যারা ফিরেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক উৎপল দাস, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বের হোসেন সিজার, ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়, ব্যাংক কর্মকর্তা শামীম আহমেদসহ আরো অনেকে। তবে ফিরে আসার পর তারা কোথায় ছিলেন, কারা অপহরণ করেছিল, কেন অপহরণ করা হয়েছিল এসব বিষয়ে কোনো কথা বলেন নি।
এ ব্যাপারে মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এলিনা খান মানবজমিনকে বলেন, বেশির ভাগ গুম-খুনের বেলায় উল্লেখ করা হয় অজ্ঞাত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নেয়া হয়েছে। তখন থানা পুলিশ বুঝে যায় কে তুলে নিয়েছে। সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে করা জিডির তদন্ত হয় না। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত হয়ে একটা রিপোর্ট বের করা দরকার। তাহলে প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। তিনি বলেন, আর যারা ফিরে আসে তারা কোনো কথা বলবে না।
কারণ তাদের ছাড়ার সময় থ্রেড করা হয়। এমনকি তাদের পরিবারকে বলে দেয়া হয় কোনো কথা না বলার জন্য।
গত বছরের ২৬শে আগস্ট বন্ধুকে বিদায় দিতে গিয়ে ধানমন্ডি থেকে অপহৃত হন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাক আহমেদ ফাহিম (২০)। এর কয়েক মাস আগে তিনি ছুটিতে ঢাকায় আসেন।
ওইদিন বন্ধুদের নিয়ে বাসার পাশে ধানমন্ডির একটি রেস্তরাঁয় আড্ডাও দেন। রাত ৮টার দিকে বাসায় ফেরার পথে তাকে অপহরণকারীরা তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো  সন্ধান পাওয়া যায়নি। একই বছরের ৪ঠা ডিসেম্বর বেলজিয়াম ফেরত ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এগিয়ে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হোন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। পরে ওই সন্ধ্যায় তিনজন সুঠামদেহী লোক তার ধানমন্ডির বাসায় এসে ল্যাপটপ, সিপিইউ, স্মার্টফোন নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ৫ই ডিসেম্বর দুুপুরে ধানমন্ডি থানায় তার মেয়ে সামিহা জামান একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (যার নং-২১৩)।
ওই দিনই পুলিশ  রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা থেকে মারুফ জামানের ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধার করে। ৮ই আগস্ট পল্লবী থানাধীন মিরপুরের ডিওএইচএস থেকে ডিবি পুলিশের জ্যাকেট পরা একদল লোক সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল হাসিনুর রহমানকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গতকাল হাসিনুর রহমানের স্ত্রী শামীমা আক্তার মানবজমিনকে বলেন, এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। আমরা তার ফেরার অপেক্ষায় রয়েছি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম তারা এখনও সন্ধান পায়নি। তবে একদিন বাসায় এসে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা কিছু ফাইল নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে নিরাপত্তাকর্মীর মোবাইলে ফোন দিয়ে হাসিনুরের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবে বলে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছে কয়েকজন লোক।
কিন্তু তারা কোনো কথা বলাতে পারেনি। পরে আবার পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেছে। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছে ও টাকা পাঠানোর বিকাশ নম্বর পুলিশের কাছে দিয়েছি। কিন্তু কোন অগ্রগতি নাই। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবারের করা জিডি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও আরো কিছু ক্লু নিয়ে কাজ করছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আপডেট নাই। আর মারুফ জামান ও ইশরাকের নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মানবজমিনকে জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাদের খোঁজার জন্য যা যা করণীয় সবই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। কিন্তু এখনো কোনো খোঁজ পাইনি।
অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে গুম বা অপহরণ হচ্ছে সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তার পেছনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কারণ জড়িত। এর মানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একে অপরের কোনো শ্রদ্ধা নাই। আর ব্যবসায়ীদের মধ্যে নীতি ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। অনেক সময় দেখা যায় মিডিয়ার কল্যাণে পুলিশ এসব ঘটনার তদন্ত শুরু করে। কিন্তু রাজনৈতিক কারণ জড়িত থাকার কারণে তদন্তে অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়। যখনই তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয় তখন ঘটনার প্রকৃত রহস্য অজানা থেকে যায়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক যে কারণই জড়িত থাকুক না কেন পুলিশের দায়িত্ব রহস্য উদঘাটন করা। তা না হলে মানুষের মধ্যে একটা অস্থিরতা, ভয় ও আতঙ্ক কাজ করবে। নিজেকে কোনো কাজে জড়াতে নিরুৎসাহিত করবে। তাই এ বিষয়ে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো মানবিক হতে হবে। পুলিশকে জনগণের আইনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা মানবমজমিনকে বলেন, পুলিশ যখনই খবর পায় কেউ গুম বা অপহৃত হয়েছেন তখন সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানা থেকে একটি টিমকে এই রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করতে বলা হয়। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা কাজ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ করলে অনেক সময় থানা পুলিশ জিডি নিতে অনীহা করে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার জানামতে এমন কোনো ঘটনা নাই। আর থানা পুলিশের এ নিয়ে অনাগ্রহ করার কথা না।

জাপানে বিশ্ব পানি মেলা: পানি বিশুদ্ধ করতে আসছে নানা প্রযুক্তি by দীন ইসলাম

সারা দুনিয়াতে ‘নিরাপদ পানি’ দিতে আসছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। বাংলাদেশে যেমন বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেশিন দিয়ে ধান ভাঙানো হয়, তেমনি পানি শোধনাগার মেশিন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পানি বিশুদ্ধ করে দেবে। এটা আর তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়। এখন থেকে বাইসাইকেল দিয়েও পানি শোধনাগার মেশিন চালানো যাবে। এ রকম নানা ধরনের পানি শোধনাগার প্রযুক্তির সমারোহ দেখা যাচ্ছে জাপানের টোকিওতে। বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি পানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টোকিওতে এসেছে। মূলত বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট এলাকায় এসব প্রযুক্তি খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টোকিওর বিগ সাইট এক্সিবিশন সেন্টারে ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার এসোসিয়েশনের (আইডব্লিউএ) আয়োজিত বিশ্ব পানি কংগ্রেস ও মেলায় ১০০টির বেশি দেশ থেকে পানি ও পরিবেশ সংক্রান্ত ৫ হাজার ৫০০ পেশাজীবী, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছেন। মূলত মাটির নিচ দিয়ে নিরাপদ পানি প্রবাহ এবং খাবার পানি বিশুদ্ধকরণ বিষয়ে এই মেলায় বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহারের নানা বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। আইডব্লিউএ’র গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক পাওল বেল মানবজমিনকে বলেন, পৃথিবী এখন প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পানি নিয়েও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বাইসাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রযুক্তি দিয়ে পানি শোধন করে দেয়া যাবে, যাতে করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ নিরাপদ খাবার পানি পায়। এ ছাড়া বড় বড় মোবাইল মেশিন তথা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গাড়িতে করে নেয়া যায় এমন মেশিন দিয়ে দুর্যোগপূর্ণ এলাকার পানি শোধন করা যাবে।
বেল বলেন, আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, নগরে মাটির নিচে পানির লাইনও অত্যাধুনিক হচ্ছে। এতে করে মাটির নিচে পানির পাইপলাইন কোনো কারণে ছিদ্র হয়ে গেলে তা জানা যাবে এবং পানির অপচয় রোধ করা যাবে। সেসব প্রযুক্তি আপনার দেশ বাংলাদেশে এখন প্রয়োজন। কারণ আপনারা অনেক উন্নতি করছেন। আমেরিকার হারভে সিউন পানির বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শনী নিয়ে এই মেলায় এসেছেন। তিনি জানালেন, আমরা নিরাপদ পানির জন্য ১০ ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করেছি, যাকে আমরা বলছি- স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনা। এতে আপনার উন্নতমানের পানির পাইপ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পানি শোধনাগারেও প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে। তবে এখনো এসব প্রযুক্তির তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। নিউ ইয়র্কের একটি ছোট্ট এলাকায় আমরা স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনা করে দিয়েছি, খুবই প্রশংসা পেয়েছি। তবে ব্যয় একটু বেশি হওয়ায় অনেক দেশের আগ্রহ থাকলেও আর্থিক দিক বিবেচনা করে নিতে পারছে না। সময়ের ব্যবধানে এসব প্রযুক্তি আরো সাশ্রয়ী হয়ে যাবে।
গতকাল বিগ সাইট ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, পানি নিয়ে প্রায় একশ’রও বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তি প্রদর্শনী করছেন। তাতে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি শোধন করে খাবার উপযোগী করা থেকে শুরু করে শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত বর্জ্যপানিও বিশুদ্ধকরণের প্রযুক্তি রয়েছে। এসব প্রযুক্তির প্রসারে কোম্পানিগুলো মেলায় তাদের বিভিন্ন অফার তুলে ধরছেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পানি, পরিবেশ ও প্রযুক্তিবিদদের কাছে সেবা বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছেন। আইডব্লিউএ’র ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা বেইথ ফাম মানবজমিনকে বলেন, গ্যাস বা বিদ্যুতে সেবার মতো পানি সেবা নয়। পানির মূল বিষয়টিই হলো বিশুদ্ধ পানি। বিশ্বে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খাবার পানির সংকট। আফ্রিকার অনেক মানুষ ভয়াবহ খাবার পানি সংকটে আছে। বাংলাদেশে না থাকলেও ভারতের বেশকিছু এলাকায় খাবার পানি সংকট রয়েছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং পানির পুনঃব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ভূ-উপরিস্থ তথা নদ-নদী ও পুকুরের পানি খাবারের জন্য ব্যবহার করতে হবে।
বেইথ ফাম বলেন, আমরা এসব মেলা করে নতুন নতুন প্রযুক্তির পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। যাতে করে মানুষ এসব প্রযুক্তি থেকে সুবিধা নিতে পারে। তবে মানুষকে পানি ব্যবহারে আরো সচেতন হতে হবে। আর শিল্পবর্জ্য কোনোভাবেই নদীতে বা পানিতে সরাসরি ফেলা যাবে না। শিল্প থেকে নির্গত বর্জ্য পানিতে ফেলতে হলে তা অবশ্যই শোধন করতে হবে। যে বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এড়িয়ে চলছে। তার জন্য একসময় এসব দেশকে মূল্য দিতে হবে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

নিজের আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে বই লিখে নতুন করে আলোচনায় আসা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ কুমার সিনহার বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রভাব বিস্তার করার অন্তত এক ডজন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি নিজের এবং ভাইয়ের নামে প্লট বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার, প্লটের মূল্য পরিশোধ না করা, ১/১১ এর সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকারের আদায় করা অর্থ পুনরায় ফেরত দিতে উৎকোচ গ্রহণ, জ্ঞাত আয় বর্হিভূত অর্থের সন্ধান, আমেরিকা-কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায় অর্থপাচার, দুদকের তদন্তে বাধা, জজ নিয়োগে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে রাজউকের প্লটের সরকার নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়া ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। গত ২০০৩ সালে ৩ ডিসেম্বর উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর সড়কে তিন কাঠা আয়তনের ১৫ নম্বর প্লটটি বরাদ্দ পান। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যক্তিগতভাবে প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ পাওয়া প্লটটি ২০০৪ সালের ১৩ এপ্রিল ১৫ নম্বর থেকে ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের ৫১ নম্বর প্লটের সঙ্গে বদল করেন। এছাড়া, তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্লটের আয়তন ৩ কাঠার বদলে ৫ কাঠায় পুনর্নির্ধারণ করিয়ে পুনরায় বরাদ্দ করান। কিন্তু অতিরিক্ত দুই কাঠা জমির মূল্যের জন্য রাজউক থেকে দুইবার (১৩ এপ্রিল ২০০৪ এবং ১৩ জুন ২০১৬) নোটিশ দেওয়ার পরও  দাম পরিশোধ করেননি।
সূত্র জানায়, ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ হাজার ২৩১ কোটি ৯৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে। রিটের রায়ে সরকারের আদায় করা অর্থের কিছু অংশ অর্থাৎ ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ৯০ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার আদেশের বিনিময়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন তিনি।
সূত্র বলছে, এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাকালে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত তিন কোটি ১৭ লাখ ৮৫ টাকা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মেয়েদের কাছে পাচার ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করেছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতির আয়কর বিবরণী, অনিরুদ্ধ রায়ের অ্যাকাউন্টস অফিসারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিবরণী, কানাডায় পাঠানো টাকার ব্যাংক কনফারমেশন এসএমএসের স্ক্রিন শর্ট, কানাডায় অবস্থান করা প্রধান বিচারপতির মেয়ে আশা সিনহার দ্বারা অর্থপ্রাপ্তির স্বীকৃতির এসএমএস, অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো অর্থের কনফারমেশন ই-মেইল, ইন্দোনেশিয়ার পেনিন ব্যাংক হতে অস্ট্রেলিয়ায় সূচনা সিনহার অ্যাকাউন্টে পাঠানো অর্থের ডিপোজিট ফর্ম থেকে এসব অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সাবেক প্রধান বিচারপতি ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তারই নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে মামলার তদবির করিয়ে এসব অর্থ উপার্জন করেন। বিশ্বস্ত লোকদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক রণজিৎ, কানাডা প্রবাসী অভিবাসন আইনজীবী মেজর (অব.) সুধীর সাহা। এদের মাধ্যমে তিনি মানি লন্ডারিং করে বিদেশে এসব টাকা পাঠান।
সূত্র জানায়, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুদকের একটি গুরুতর অসদাচরণ সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত করা হচ্ছিল। ওই তদন্তে তিনি বাধার সৃষ্টি করেছিলেন। চিঠি দিয়ে তিনি দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত না করার নির্দেশ দেন। এভাবে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তিনি জাপানে একটি সেমিনারে গিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে বলে বক্তব্য দেন। এছাড়া, তিনি বিগত সংসদে বিনা ভোটে নির্বাচিত ১৫৩ জন সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন। একজন আইনজীবীকে দিয়ে রিট আবেদন করানোর পরিকল্পনা ছিল তার।
সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে মূর্তি অপসারণের বিষয়ে ইতোপূর্বে ইসলামি দলগুলো দাবি জানিয়ে আসলেও মূর্তি অপসারণ করে পুনরায় তা এনেক্স ভবনের সামনে প্রতিস্থাপন করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন এস কে সিনহা। এছাড়া, সরকারই জাতীয় সংসদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না বলে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। ২০১৭ সালের ২৩ মে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে সংসদের হাতে প্রদান করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমেরিকায় বাড়ি কিনেছেন এস কে সিনহা
সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির পেটারসন এলাকার ১৭৯ নম্বর জাসপার স্ট্রিটের একটি বাড়ির বেজমেন্টে থাকতেন। কিছুদিন আগে তিনি ওই বাসার পাশের ১৮০ নম্বরের একটি বাসা দুই লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে কেনেন। তবারক হোসেন নামে সিলেটের একজন আইনজীবী দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এসকে সিনহার জন্য এই টাকার ব্যবস্থা করে দেন এবং সিনহার কনসেপ্ট পেপার বাংলাদেশে নিয়ে আসেন, যা ছিল সরকারকে উৎখাত করার একটা পরিকল্পনা।
অভিযোগ রয়েছে, তবারক ওই অর্থপাচার করেন এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান নাসির এবং সম্ভবত ওই একই ব্যাংকের মালিক ইকবালের সঙ্গে যোগসাজেশে। ইকবাল লন্ডনে থাকেন আর পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেছেন নিউজার্সিভিত্তিক বিএনপি নেতা গোলাম রাব্বানী।
প্রসঙ্গত, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সেসময় সরকারের পক্ষ থেকে অসুস্থতার কথা বলা হলেও ১৩ অক্টেবর বিদেশে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের বিচারপতি সিনহা জানান, তিনি অসুস্থ নন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় বিব্রত হয়ে তিনি বিদেশ যাচ্ছেন । গত বছরের ১১ নভেম্বর তার ছুটির মেয়াদ শেষ হলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচারপতি সিনহা পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। পদত্যাগ করার পর বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, ওইসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন।

‘বঙ্গভবনে পৌছে দেখলাম...’ by প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রকাশ হওয়া ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইটি নিয়ে তোলপাড় সর্বত্র। এই বইতে তার পদত্যাগ থেকে দেশত্যাগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যা যা ঘটেছিল তার সবই তুলে ধরেছেন। এই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১লা জুলাই বঙ্গভবনে এসকে সিনহাকে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল কি বলেছিলেন সেই কথাও পুরোটা তুলে ধরেছেন।
এসকে সিনহা লেখেন, “জুলাই মাসের ১ তারিখ, ২০১৭। সকালবেলা আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে একটা কল আসলো। নিজেকে তিনি প্রেসিডেন্টের মিলিটারি সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে জানালেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করতে হবে। এই ধরণের ফোন পেয়ে আমি কিছুটা অবাক হলাম। কারণ এসব ক্ষেত্রে সবসময় আমার রেজিস্টারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে যে কোন বৈঠকের দিন-ক্ষণ ঠিক করা হয়।
ফোনে কথা শেষ করার একটু পরেই ০১৭৩০০৯০০৯৫ নাম্বার থেকে মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন মিটিং এর রিকনফার্মেশন করে একটি এসএমএস পাঠালেন। আমি উদ্বিগ্ন এবং হতবুদ্ধি হয়ে বসে থাকলাম।
যা-ই হোক, নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ মিনিট আগেই আমি বঙ্গভবনে পৌছালাম। সামনের বারান্দায় মিলিটারি সেক্রেটারি আমাকে রিসিভ করে একটি রুমে নিয়ে গেলেন। আমি শুধু অবাক হচ্ছি। কারণ বঙ্গভবনে আমি অনেকবার এসেছি, সবসময় আমাকে অভ্যর্থনার জন্য নির্দিষ্ট রুমে নিয়ে যাওয়া হতো।
কিন্তু তিনি এদিন আমাকে অফিসারদের একটা রুমে নিয়ে গেলেন। ভাঙাচুরামার্কা এক রুমে তিনি নিজে টেবিলের ওপাশে একটা চেয়ারে বসলেন এবং আমাকে সামনের সোফাতে বসালেন। আমি অপমানবোধ করতে লাগলাম এবং চিন্তা করতে থাকলাম এভাবে বসার চেয়ে বরং ভেগে যাওয়াই ভালো হবে। এইটা একজন প্রধান বিচারপতির প্রাপ্য আচরণ না।
এইসময় তিনি আমার সাথে এই সেই কথাবার্তা বলে সময় কাটাতে চাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমি চা বা কফি খাবো কি না, আমি বললাম নো থ্যাংকস।
এভাবে পয়তাল্লিশ মিনিট সময় পার হয়ে গেলো। তারপর এক সময় তারা আমাকে প্রেসিডেন্টের রুমে নিয়ে গেলো। ওখানে উপস্থিত মানুষদের দেখে তো আমি হতবাক। প্রেসিডেন্টের সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
প্রাথমিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা আর আনিসুল হক মিলে আমাকে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় প্রসঙ্গে চেপে ধরলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্কবিতর্ক হলো। অ্যাটর্নি জেনারেল আমাকে বললেন, এ পর্যন্ত অসংখ্য এক্সট্রাঅর্ডিনারি রায় দিয়ে বিচার বিভাগের মাধ্যমে আমি যে খেদমত করেছি তার জন্য সরকার আমাকে চিরকাল মনে রাখবে। কিন্তু এখন এই একটা রায় প্রসঙ্গে দ্বিমত করে আমি সব বরবাদ করে দিচ্ছি। এই কথা শুনে আমার খুব অপমানবোধ হলো।
যখন তারা বুঝতে পারলেন যে আমাকে আমার মতামত থেকে নড়ানো সম্ভব না, তখন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেগে গেলেন।  তিনি  বললেন, আমার সম্পর্কে সব গোপন খবরাখবর তার ভালো করেই জানা আছে।
তার কথাবার্তা শুনে আমি এবার পুরোপুরি বেকুব হয়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছিলো ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী অন্ধ হয়ে গেছেন। তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করা।
পুরো সময়টাতে প্রেসিডেন্ট নিরব দর্শক হয়ে বসে থাকলেন, মাঝে মধ্যে শুধু ছোটখাটো দু’একটা মন্তব্য করছিলেন। ঐদিন এ মিটিং এতো গোপনভাবে করা হয়েছিলো যে, সে রাতে আমাদের জন্য কোনো খাবারের আয়োজনও করা হয়নি। শেষপর্যন্ত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে কোন সমাধান ছাড়াই মিটিং শেষ হয়ে যায়।
তখন আমার এতো ক্ষুধা লেগেছিলো যে আমি দাঁড়িয়ে ঠিকমতো ব্যালেন্স রাখতে পারছিলাম না। যন্ত্রের মতো টলতে টলতে গাড়িতে এসে উঠি এবং বাসায় পৌছার পর শুধু এক গ্লাস পানি খেয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ি। আমার অবস্থা দেখে আমার স্ত্রী খাবার দাবার নিয়ে সেরাতে আর কোনো কথা বলেনি।’’

আশুরাই ইয়েমেনিদের সাড়ে তিন বছরের সফল প্রতিরোধের রহস্য

আগ্রাসীদের শিক্ষা দেয়ার দৃঢ় শপথ নিয়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও সা'দা শহরে আশুরার মিছিলে অংশ নিয়েছেন লাখ লাখ ইয়েমেনি।
তারা বলেছেন, ইমাম হুসাইন (আ) মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে মহান প্রতিরোধ সংগ্রামের নেতা  এবং ইয়েমেনে জনগণ বীরত্ব, দৃঢ়তা ও কঠিন সংকল্পের প্রেরণা নেয় মহান আশুরা থেকে। 
ইতিহাসের নানা ঘটনা-প্রবাহ থেকে স্পষ্ট কারবালার তথা আশুরার মহাবিপ্লব প্রায় ১৪০০ বছর পরও  মানবজাতির জন্য সংগ্রামের অনুপম ও সর্বজনীন আদর্শ হয়ে বিরাজ করছে। ইমাম হুসাইনের (আ) প্রতি ভালবাসা ও আশুরার সংস্কৃতি মানব-প্রজন্মগুলোর কাছে পেয়েছে চিরস্থায়িত্ব। আশুরার সংস্কৃতি ও বিপ্লবকে আঁকড়ে ধরেই ইয়েমেনের জনগণ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি-নেতৃত্বাধীন ও পশ্চিমা মদদপুষ্ট বহুজাতিক বাহিনীর আগ্রাসন মোকাবেলা করছে। বিশ্ববাসীও ইয়েমেনি জনগণের প্রতিরোধ-আন্দোলনের রহস্য সম্পর্কে বিস্মিত।
যে কোনো আধিপত্যকামিতার মোকাবেলায় স্বাধীনচেতা মনোভাব বা মুক্তিকামিতা ইয়েমেনি জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। আর এরই আলোকে তারা স্বৈরশাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। খাঁটি মুহাম্মাদি ইসলাম বা বিশ্বনবীর (সা) আহলে বাইতপন্থীদের এই আদর্শকে সব সময়ই মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব আধিপত্য বিস্তারের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখে আসছে  পশ্চিমা, মার্কিন ও সৌদি শাসকগোষ্ঠী। তাই এ অঞ্চলের মুক্তিকামী জনগণকে প্রতিরোধের আদর্শ থেকে দূরে রাখার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে এইসব জালিম ও তাগুতি সরকার।
কিন্তু এ অঞ্চলে আশুরার কালজয়ী ত্যাগ-তিতিক্ষা ও প্রতিরোধের সংস্কৃতি দিনকে দিন জোরদার হচ্ছে। এই আদর্শের কল্যাণে স্বাধীনচেতা মুসলমানরা খোদাদ্রোহী ও জালিম শক্তির ব্যাপারে নীরব থাকা বা এইসব শক্তির সহযোগী হওয়াকে লজ্জাজনক বলে মনে করেন। আশুরার বিশ্বজনীন সংস্কৃতির লালনকারীরা মনে করেন সম্মানজনক মৃত্যুই গৌরবময় জীবনের সূচনা করে এবং খোদাদ্রোহী ও জালিম শক্তিগুলোকে দমনের জন্য সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।
এটা স্পষ্ট যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস সৌদি শাসকগোষ্ঠী এবং তার সব সহযোগী বা লেজুড় শক্তিগুলো তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে নির্বিচার হামলা চালানোর পরও রাজনৈতিক, সামরিক ও নৈতিক দিক থেকে হয়েছে পরাজিত। অথচ এইসব শাসকগোষ্ঠী ভেবেছিল খুব দ্রুত ইয়েমেন দখল করে সেখানে জনপ্রিয় আনাসারুল্লাহ আন্দোলনের সমর্থিত বিপ্লবী সরকারকে সরিয়ে দিয়ে তাদের পুতুল হিসেবে সক্রিয় পদত্যাগী ও পলাতক মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় বসাতে পারবে। প্রতিরোধের পাশাপাশি ইয়েমেনিরা সৌদির ভেতরেও প্রায়ই বড় ধরনের আঘাত হানছে।
আসলে ইয়েমেন বিরোধী জোটের আশুরার প্রেরণায় উজ্জীবিত ইয়েমেনি জনগণের ব্যাপক শক্তিকে বুঝতে পারেনি। অর্থ ও সামরিক শক্তির দিক থেকে পশ্চিমা মদদপুষ্ট সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের চেয়ে শত-সহস্র গুণ বেশি সুবিধার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ঈমানের শক্তি না থাকায় তারা ক্রমেই ইয়েমেনের চোরাবালিতে আটকা পড়ছে এবং লজ্জাজনক পরাজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘শুরু থেকেই চাপ ছিল, আমি যেন বলি অসুস্থ’ by প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা

বিতর্ক চলছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সদ্য প্রকাশিত ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’  বই নিয়ে। প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ, অসুস্থতা, দেশত্যাগসহ নানা ইস্যুতে তিনি মুখ খুলেছেন। বইয়ের এক অংশে তিনি লিখেছেন, কেন দেশত্যাগে বাধ্য হলেন। এসকে সিনহা বইতে লিখেছেন, প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিলাম ২০১৭ সালের ১৩ই অক্টোবর দেশ ছাড়বো। কিন্তু যাওয়ার আগে বন্ধু আবদুর রশিদের সঙ্গে একরাতে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হলো এবং তাকে ফোন করলাম। জবাবে তিনি বললেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে, আমার বাসভবনের গেটে প্রচুর বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হবে। তাই আমি যেন গেটে জানিয়ে রাখি যে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি আসবেন।
এই মতো, আমার ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে গেটের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিলাম। এমন খবর জানানো সত্ত্বেও, নিরাপত্তা কর্মীরা গেটের সামনে তার গাড়ি থামিয়ে দেন। তার পরিচয় জানা সত্ত্বেও গাড়ি থেকে তাকে নেমে যেতে হয়। তার ফোন নম্বর লিখে রাখা হয়। কেন সাক্ষাৎ করতে এসেছেন তার কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। তার ছবি তোলার পর তারা তাকে আমার বাসায় প্রবেশ করতে দেয়। এ নিয়ে আমার কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আমাকে বলেন, খবর জানানো সত্ত্বেও তাকে অবমাননাকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এজন্য আমি তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলাম। বললাম, এ পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাকে নিশ্চয়তা দিলাম যে, তার নৈশভোজে আসার খবর আমি নিরাপত্তাকর্মীদের জানিয়েছি। আমাকে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা থেকেই মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক আমার বাসভবনের গেটে জড়ো হয়েছেন।
রাত ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আমার যাওয়ার কথা। আমাকে বলা হলো, পরিস্থিতি অবনতিশীল। তাদের সঙ্গে কথা না বলে বাসা থেকে বের হওয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলবো। এর আগে আমি তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। তা হলো, আমার বক্তব্য মিডিয়ায় ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই শেষ বিকালে আমার সচিব আনিসুর রহমানকে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বলি এবং আমি একটি বিবৃতি প্রিন্ট করি। সেখানে আমি দুটি বিষয় উল্লেখ করি। তা হলো- আমার স্বাস্থ্য ভালো আছে। আগের দিন যেমনটা আইনমন্ত্রী বলেছেন যেটা আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি যে, তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন পাল্টে ফেলতে চান। বিবৃতিতে আমার দ্বিতীয় যে পয়েন্ট ছিল তা হলো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে আমি বুঝতে সক্ষম। এই বিবৃতি দেয়ার আগে যখন আমি গেটে গাড়ি থেকে নামতে চাই তখন মিডিয়াকর্মীদের চাপাচাপিতে আমার গাড়ির পতাকা স্ট্যান্ড ও সাইড মিরর ভেঙে যায়। তাদের কাছে আমার বিবৃতি দিয়ে বিমানবন্দরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি।
একেবারে শুরু থেকেই সারা সময়ে আমার ওপর গোয়েন্দা সংস্থার চাপ ছিল যেন আমি বলি যে, আমি অসুস্থ। তারা আমাকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করাতে ব্যর্থ হলো, তখন তারা চিকিৎসার জন্য আমাকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। পরে তাদের উদ্দেশ্য আমার কাছে পরিষ্কার হয়। এ কৌশল ছিল আইনমন্ত্রীর। তিনি কখনো সংবিধান মোতাবেক চলেননি। অতীতে তিনি শুধু কিছু ক্রিমিনাল বিষয়ে কাজ করেছেন। তাই সংবিধানের ৯৭ নম্বর অনুচ্ছেদ পড়ে তার মনে হয়েছিল, আমি যদি অসুস্থতার জন্য ছুটি নিই বা হাসপাতালে ভর্তি হই তাহলে প্রধান বিচারপতির কাজ চালিয়ে নিতে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে সরকারের দায়িত্ব দেয়া সহজ হবে। অন্যথা হলে, বার ও অন্যান্য বোদ্ধা মহলের সমালোচনা হজম করা খুব কঠিন হবে। বিভিন্ন সময় যখন আমার পূর্বসূরিরা দেশের বাইরে থেকেছেন তখন অনেকবার আমি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছি।
সাধারণত আমি শুধু রুটিন ওয়ার্কগুলো করেছি। বিচার বিভাগের প্রশাসন সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে কাজ করি নি। অফিসিয়াল রেকর্ড আরো বলে যে, প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনকারী বিচারকের কাজে বিচার বিভাগের প্রশাসন সম্পর্কিত কোনো নীতিনির্ধারণের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেননি। এর কারণ, প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে সিনিয়র বিচারক তার দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেননি। প্রেসিডেন্ট পরিচালিত আলাদা একটি অনুষ্ঠানে শপথ নেন প্রধান বিচারপতি। তার কার্যক্রম সম্পর্কে সংবিধানে ও আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।
দীর্ঘ সময় ধরে এই চর্চা চলে আসছে। কিন্তু এই সময়ে সব কিছু ভিন্ন ঘটলো। যেদিনটিতে আমার সরকারি বাসভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লাম সেদিনই বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা এমন আচরণ দেখাতে চাইলেন যেন তিনিই প্রধান বিচারপতি। তিনি সব অফিসারকে একজনের পর একজনকে ডেকে হুমকি দিতে লাগলেন এবং তাদেরকে বললেন যে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। সরকার তাদের আচরণে সন্তুষ্ট নয়।
তিনি সরকারের মুখপাত্র হয়ে উঠলেন এবং সরকারকে, বিশেষ করে আইন মন্ত্রণালয়কে সন্তুষ্ট রাখতে চাইলেন। দুটি ভিন্ন সময়ে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস সন্ধ্যার দিকে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন। এই খবর পেয়ে বিচারপতি রুহুল কুদ্দুসের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। বললেন, বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ আমার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু কেন রুহুল কুদ্দুস আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি যে, সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আমার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। বুঝতে পারি যে, আমি মিডিয়াকে বলেছিলাম আমি অসুস্থ নই। তাই আইনমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবর জেনেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে মুখ খোলার পর ক্ষমতাসীন দলের প্রতি অনুগত একাত্তর টিভি একটি টকশোর আয়োজন করে। এতে আনা হয় সরকারের রাজনৈতিক খেলার পুতুলগুলোকে।
সেখান থেকে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রচারণা শুরু হয়ে থাকে। যখন দৈনিক জনকণ্ঠ ও এর একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল তখনও একই রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তখন ওই টকশোর একটি সিডি চেয়ে বসেন আদালত। কিন্তু আইনমন্ত্রীর অনুরোধে এ বিষয়ে আমি কোনো পদক্ষেপ নিইনি। একটি নৈশভোজে বিচারপতিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রেসিডেন্ট তাদেরকে বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে। আমার ক্ষমতার সময়ে অনেক শক্তিধর ব্যক্তি ও দেশের অনেক ধনী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান, এশিয়ান সিটি, ফ্যান্টাসি কিংডম, চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকদের বিরুদ্ধে, সিলেটের রাগীব আলীর বিরুদ্ধে। গুলশান, বনানী, মতিঝিল, ধানমন্ডি ও মগবাজার এলাকায় মূল্যবান সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টের রায়কে আমি বাতিল করে দিয়েছি।
আর এখন প্রেসিডেন্ট ও সরকারের মদতপুষ্ট মিডিয়া আমাকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। যদি তাদের অভিযোগ সত্যি হয় তাহলে কার কাছ থেকে আমি বেআইনি সুবিধা নিয়েছি? আর এসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে শুধু ষোড়শ সংশোধনীর রায় দেয়ার পরই। ওই রায় দেয়ার পর সরকার আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করছে বেপরোয়াভাবে। এর মধ্য দিয়ে তারা তাদের অন্যায় ও অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তারা কেন এত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন? -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অনেক বড় সম্পাদক, সাংবাদিকরা বলছেন তাদের কন্ঠরোধ হয়েছে। কন্ঠটা রোধ হলো কোথায়? কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মতামত দিয়েছে। কিন্তু সমগ্র দেশের জন্য বিলটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা তাদের মাথায় আসেনি। তারা শুধু তাদের কন্ঠরোধ হলো কি না সেটাই দেখেন। কিন্তু তাদের তো কন্ঠরোধ হয়নি। গত রাতে দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের সমাপনি বক্তব্যে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল  নিরাপত্তা বিল-২০১৮ এটা যে গুরুত্বপূর্ণ? অথচ  এই বিল পাস হওয়ার সাথে সাথে অনেকেই মতামত দিয়েছেন। দু:খ লাগে কেউ কেউ শুধু ব্যক্তি স্বার্থ থেকে বা তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তারা মতামত দিয়েছেন। একবারও চিন্তা করেননি সমগ্র সমাজ, সমগ্র দেশ তার স্বার্থে যে এই বিলটা কত গুরুত্বপূর্ণ, এই বিষয়টা তাদের মাথায় আসেনি। দেখলাম কয়েকজন স্বনামধন্য এডিটর, সাংবাদিক বা সমাজের বিজ্ঞজন তারা এটার বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছেন। তারা শুধু তাদের কণ্ঠরোধ হলো কিনা সেটাই দেখে। কই কণ্ঠ তো তাদের রোধ হয়নি, কণ্ঠ আছে বলেই তো তারা মতামত দিচ্ছেন। কণ্ঠরোধ করলে তো মতামত দেবার মতো ক্ষমতা থাকতো না। আর কণ্ঠরোধটা যে কি সেটা মার্শাল ‘ল’ যখন ছিল তখন বুঝেছে। এদেশে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ছিল অবশ্য যারা তাদের পদলেহন করেছে, তোষামোদি করেছে, তাদের অসুবিধা হয়নি। কিন্তু যারা তাদের অন্যায় কথা বলতে গেছে তাদের অসুবিধা হয়েছে। বেশি দূর যেতে হবে না ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের আমলে কিভাবে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়েছে সেটা তারা ভুলে গেছেন। এখন তারা ডিজিটাল আইন করার পরেই তারা তাদের কণ্ঠরোধের কথা বললেন। কণ্ঠরোধ কোথায়?  এই দেশে একটা টেলিভিশন ছিল। কোন সরকার সাহস পেয়েছে এই টেলিভিশনকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে। কোনো সরকারই সাহস পাইনি। আমরা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন মধ্য রাত পর্যন্ত টিভিতে টক ‘শো’ হয়  সেখানে যা খুশি আলোচনা করতে পারছে। কেউ যেয়ে তো তাদের গলা চেঁপে ধরছে না? কেউ তো তাদের বাঁধা দেইনি। শুধু তাদের সাংবাদিকতার বিষয়টাই তারা দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা হবে গঠণমূলক। সাংবাদিকতা থাকবে দায়িত্বশীল, সমাজের জন্য দেশের জন্য, মানুষের জন্য। নিশ্চয়ই সাংবাদিকতা সংঘাতের জন্য হবে না। সাংবাদিকতা দেশের অকল্যাণের জন্য হবে না। দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের জন্য হবে না। এমন সাংবাদিকতা থাকতে হবে যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস আনবে, মানুষের ভেতরে সন্দেহের সৃষ্টি করবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করবে না। মানুষের মধ্য সংঘাত সৃষ্টি করবে না। একটা সংঘাত পূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদকে উস্কে দেবে না। সেটাই তো হওয়া উচিত। সমাজকে সঠিকভাবে পরিচালনার দিকেই নিয়ে যাবে। আমরা তো সেরকমই সাংবাদিকতাই চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউটিউব, ফেসবুকের ভালো দিক আছে। আবার খারাপ দিকও আছে। খারাপ বিষয়গুলো সমাজের জন্য অশুভ বিষয় বয়ে আনে। অনেক ছেলেমেয়ে এর প্রতি এডিকটেড হয়ে যায়। অপব্যবহার হয়। অপপ্রচার হয়। এমনভাবে অপপ্রচার হয় যে পারিবারিক অসন্তোষ তৈরি হয়। আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। এইসব বিষয়তো আমাদের দেখতে হবে। এ নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,এজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আমাদের একান্ত দরকার। অনেকে এর মধ্যে এত বেশি ডুবে যায় যে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এটা অনেক সময় সমাজের জন্য সংসারের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। চরিত্রহনন শুরু হয়। এই কুপ্রভাবের ফলটা আমাদের সমাজের জন্য মোটেই ভালো নয়। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দিকটাও আছে। এসব মাধ্যম যদি সুস্থভাবে পরিচালিত হয় তাহলে সেটা ভালো হতে পারে। আবার উল্টো হলে সমাজ ও সংসার ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যেতে পারে। সকলের জন্য নিরাপত্তা অত্যন্ত প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। সে লক্ষ্যই নিয়ে কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস হয়েছে। এখানে শুধূ গোষ্ঠী স্বার্থ উদ্ধারের কথা চিন্তা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে তারা কেন এত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন। যেটা করেছি জাতির উদ্দেশ্যে, দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে করেছি। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যে যার মতো লিখছে,কথা বলছে। দেশের এত উন্নয়ন তারা চোখে দেখে না। এমন কিছু পত্রিকা আছে যেগুলো দেখলে মনে হয় এই সরকার খুবই খারাপ কাজ করছে। আমার প্রশ্ন সরকার কি খারাপ কাজ করছে?  প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের মতে দেশে উন্নয়ন বলে কিছুই হয়নি। এটাই তাদের চরিত্র। কিছু মানুষ আছে তাদের কিছুই ভালো লাগে না। তাই তারা কোনকিছুই ভালো চোখে দেখতে পারে না। তাই আমি এসব ভেবে সেগুলো দেখি না। আমি দেশের জন্য কাজ করি, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। আমার আত্মবিশ^াস আছে। কারও লেখা পড়ে, পত্রিকা পড়ে আমাকে শিখতে হবে না। আমি জানি। তবে পত্রিকা দেখে আমি তথ্য সংগ্রহ করি। কেউ কষ্টে থাকলে তাদের লাঘবের করার চেষ্টা করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আছে বলেই আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দিনবদলের সনদ দিয়েছিলাম। মুষ্টিমেয় লোক ছিলো ক্ষমতাশালী। দেশের বড় একটি অংশ অবহেলিত ছিলো। আমরা ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দল হিসেবে যে আর্থিক নীতিমালা করা দরকার তা করেছি। তাই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। অর্থনীতিকে যথেষ্ট শক্তিশালি করেছি। বাজেট বাস্তবায়ন করতে আজ কারও কাছে হাত পাততে হয় না। এই সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি পরিকল্পিতভাবে এগোনোর কারণে। তাই বাংলাদেশ আজ বিশে^র কাছে রোল মডেল। সারা বিশে^ জঙ্গীবাদ একটি সমস্যা। আমরা সন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ নির্মুল করতে পেরেছি। এখন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। আমাদের পরিকল্পনার মুল টার্গেট ছিলো গ্রামীন অর্থণীতি। তৃনমূলের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্য ছিলো। সবকিছুতে বিশে^ একটা নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছি। দেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি। একসময় বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় নিয়ে এসে বিলি করা হতো। এখন কিন্তু আর সেই অবস্থা নেই। সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সেশন আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ১০ দিন সংসদ চলেছে। এর মধ্যে ১৮টি বিল পাস করেছি। প্রতিটি বিলে তারা পুংখানুপুংখ ভাবে পড়েছেন। মতামত দিয়েছেন। এই যে আগ্রহ এটা ভালো। দশম জাতীয় সংসদে কোন অশালীন কথা নেই। এটা গণতেন্ত্রর ভিতকে শক্তিশালি করেছে, মজবুত করেছে। মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এক সময় এই পার্লামেন্ট অনেক নোংরা ভাষা ব্যবহার হয়েছে। একসময় মানুষের কাছে সংসদ নিয়ে আগ্রহ কমে গিয়েছিলো। কিন্তু এবার সংসদের ওপর আস্থা ও বিশ^াস অর্জন হয়েছে। এবার বিলে অনেক বিষয়ের সঙ্গে সামাজিক বিষয় নিয়েও বিল পাস হয়েছে। যৌতুক নিয়ে বিল পাস হয়েছে। সড়ক পরিবহন বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি করা হয়েছে। সকলের সঙ্গে পরামর্শ করা হযেছে। প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর ধরে এ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। অনেকে প্রশংসা করেছেন। কোন খুঁত তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিলো। তারা কিন্তু মেধাবি। কিন্তু তারা কখনও স্বীকৃতি পায়নি। বা তারাও চায়নি। এটাই হলো বাস্তবতা। কর্মক্ষেত্রে যেনো প্রবেশ করতে পারে, জীবনটাকে যেনো উন্নতি করতে পারে সেটা চেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ বছরের শেষ বেলা। পড়ন্ত বেলা। আবার নির্বাচন হবে। যারা জয়লাভ করবে তারা ক্ষমতায় আসবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রর ভীতকে শক্তিশালি করেছি, মজবুত করেছি। যারা এটা দেখেন না তাদের আসলে নড়বড়ে অবস্থা। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার আস্থা আছে,বিশ^াস আছে। সাধারণ জনগণ কিন্তু এসব বোঝে। আবার যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে প্রতিটি গ্রামকে আমি শহরে পরিণত করবো। আমরা সমগ্র দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।  ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত দেশ।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে পাল্টা ব্যবস্থা: যুক্তরাষ্ট্রকে চীন

যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চীন বলেছে, রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনায় দেশটি চীনের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। আর তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রকেও চীনের পক্ষ থেকে নেওয়া পাল্টা পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে। পরিণতি ভোগার জন্য প্রস্তুত থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হুঁশিয়ারির পাশাপাশি চীন একথাও বলেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রুশ যুদ্ধবিমান বিমান কেনার বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিবর্তনে কোনও প্রভাব রাখতে পারবে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীন রাশিয়ার কাছ থেকে সু-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে।
চীনের পক্ষ থেকে নেওয়া পাল্টা পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে। পরিণতি ভোগার জন্য প্রস্তুত থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হুঁশিয়ারির পাশাপাশি চীন একথাও বলেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রুশ যুদ্ধবিমান বিমান কেনার বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিবর্তনে কোনও প্রভাব রাখতে পারবে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীন রাশিয়ার কাছ থেকে সু-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে।
চীনের ইকুইপমেন্ট উন্নয়ন বিভাগ ও এর প্রধান লি সাংফুর বিরুদ্ধেই মূলত এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তাদের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়ে গেছে এবং কোনও মার্কিন নাগরিক তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। এছাড়া মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় কোনও কিছু রফতানিও করতে পারবে না।
মূলত ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রুশ সু-৩৫ এবং এস ৪০০ কেনার মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে চীন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কথা জেনে চীন পরিণতি ভোগার জন্য প্রস্তুত থাকতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জেং শং সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এমন অযৌক্তিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে চীন।’
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে রাশিয়াও। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে বিশেষ তদন্তকারী রবার্ট মুলারের তদন্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যেই ৭২ রুশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ৩৩ ব্যক্তি ও সংস্থা অন্তর্ভুক্ত। কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনও লেনদেন করলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনকারীর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। চীনের ক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, সংশ্লিষ্ট যে আইনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তার নাম ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিস থ্রু স্যাংকশনস অ্যাক্ট’ (ক্যাটসা)। চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্যে দিয়েই এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ক্যাটসার ধারা তৃতীয় কোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করল। ভবিষ্যতে যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে যন্ত্রাংশ কেনার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও এই আইনের ধারা ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

বৃহত্তর ঐক্যের পরীক্ষায় বিএনপি by সালমান তারেক শাকিল ও আদিত্য রিমন

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে প্রথমবারের মতো দৃশ্যমান পরীক্ষায় অবতীর্ণ হচ্ছে বিএনপি। বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের স্বার্থরক্ষা এবং দল ও ২০ দলীয় জোটের স্বার্থ রক্ষা করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বৃহত্তর ঐক্য বাস্তবায়ন করাই এখন দলটির বর্তমান নেতৃত্বের মূল চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ড. কামাল হোসেনের ডাকা নাগরিক সমাবেশে যোগ দেবে বিএনপির প্রতিনিধি। শুক্রবারও (২১ সেপ্টেম্বর) বৃহত্তর ঐক্যকে আরও  বেগবান করতে বিকল্প ধারার সভাপতি বি চৌধুরীর বাসায় গিয়ে ফের ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে এসেছেন দলটির তিন জন নীতি নির্ধারক। একইসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়া হয়েছে একটি চিঠি, যেখানে রয়েছে বিএনপির দাবি ও দফাগুলো।
এদিকে, প্রথমবারের মতো দেশের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন রাজনীতিক শনিবার  সরকারবিরোধী এই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। এদিন বিকালে মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে। ইতোমধ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত হতে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সম্মতি জানিয়েছেন। সমাবেশে অংশ নেবে বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। তবে বামদলগুলো  সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জোটগতভাবে এই সমাবেশে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার। তবে কোনও কোনও বাম দলের এককভাবে সংহতি জানাতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
পরীক্ষায় বিএনপি
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, বিগত প্রায় আট মাস ধরে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করার তাগিদে একটি বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে এর একটি প্রাথমিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শনিবার এই প্রক্রিয়া বৃহত্তর ঐক্যের দিকে যাত্রা শুরু করবে।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সমাবেশ থেকে কোনও কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে না। যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সম্মিলিত ৫ দফা ও ৯ লক্ষ্যকেই সামনে রাখা হবে। এক্ষেত্রে সমাবেশ থেকে আবারও সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার দাবিগুলো বক্তব্যে আসবে।
যুক্তফ্রন্ট সূত্র বলছে, শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সমাবেশের পর একমঞ্চে আসা সবগুলো দলের মধ্যে সমন্বিতভাবে আলোচনা শুরু করে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। ইতোমধ্যে বিএনপির তরফে ড. কামাল হোসেনকে নেতৃত্বে রেখে সামনে আগানোর সিদ্ধান্ত হলেও দলের অধিকাংশ নেতা তা নাকচ করে দিয়েছেন। তারা বলছেন, জোটগত আন্দোলন সুনির্দিষ্ট কোনও নেতার অধীনে হয় না।
যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমেই আপাতত জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা হচ্ছে। নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন রয়েছেন। শনিবারের নাগরিক সমাবেশে তারা যোগ দেবেন। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুশাসনের জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। হয়তো এ মাসেই তা চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।’
বিএনপি নেতারা বলছেন, ঐক্য প্রক্রিয়াকে বৃহত্তর অবয়ব দিতে বিএনপির ছাড় দেওয়ার কোনও বিকল্প নেই। শনিবারের সমাবেশ থেকে সুনির্দিষ্ট যৌথ কর্মসূচি বা দাবি উত্থাপিত না হলেও প্রক্রিয়াটি কার্যকর করতে বিএনপিকেই সর্বোচ্চ ছাড় দিতে হবে। এক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে দলটিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতি মিলেছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর ইচ্ছা বা চাহিদার সঙ্গে দেশি স্বার্থের সম্মিলন ঘটাতে হবে। পাশাপাশি দল ও ২০ দলীয় জোটের স্বার্থ মাথায় রেখেই বৃহত্তর ঐক্য সফল করতে হবে। আর এই লক্ষ্যে শনিবার ড. কামাল হোসেনের ডাকে অনুষ্ঠেয় সমাবেশে যোগ দেবে বিএনপি। এই সমাবেশে আসা ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও তাদের বক্তব্য ব্যাখ্যা করেই সামনের দিনের রূপকল্প তৈরি করবে দলটি।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট যেমন আছে, তেমনি আরেকটি জোট একটি প্রোগ্রাম করবে শনিবার। সে সমাবেশে যাওয়ার জন্য ২০ দলীয় জোটের অনেককেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকে যাবেনও অতিথি হিসেবে। এর মানে এই নয় যে, ওখানে গিয়ে সেই জোটে যোগ দেবে। কিন্তু তাদের যে দাবি, যে লক্ষ্য, তাতে করে আমাদের দাবি ও লক্ষ্যের অনেক মিল আছে। বিএনপির দাবি, যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া বা বাম জোট— সবার দাবি কিন্তু কাছাকাছি ও এক। সংসদ ভেঙে দেওয়া, ইভিএম ব্যবহার না করা, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে ইত্যাদি বিষয়গুলো তো একই। কাজেই সবাই একসঙ্গে আন্দোলন করতে পারবো।’
২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘বহুদিন আগে আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) হোটেল ওয়েস্টিনের সংবাদ সম্মেলনে যে দাবিগুলো বলেছিলেন, সেই দাবিগুলো ও যুক্তিগুলো কিন্তু সবার কণ্ঠেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ফলে, আমরা যা চাই, তার সঙ্গে যদি সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তাদের সঙ্গে মিলে যুগপৎ কাজ করতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু শনিবার কয়েকটা দল মিলে একটি জোট হওয়ার জন্য সম্মেলন করছে। তারা প্রায় সবাইকে দাওয়াত করেছে। যাদের দাওয়াত করেছে তাদের অনেকেই যাবেন, তারা স্বাগত জানাবেন, সংহতি জানাবেন। কিন্তু এই মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর ঐক্য হয়ে গেল, ব্যাপারটা তা না। চিন্তাভাবনায় বৃহত্তর ঐক্যের একটি ধারণা আসবে যে, তারা আগামী দিনে এক সঙ্গে কাজ করবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি শুনেছি, শনিবারের সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা যেতে পারেন।’
শনিবারের সমাবেশে আসার জন্য দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে স্বাধীনতাবিরোধীদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি।’
গণফোরামের তথ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক বলেন, ‘শনিবারের সমাবেশ থেকে কর্মসূচি আসার সম্ভাবনা নেই। সমাবেশে কয়েকটি বিষয়ে কথা বলা হবে। বিশিষ্টজনেরা আলোচনা করবেন, আগামী নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু হবে, একসঙ্গে চলার পথ কী হবে— তা বেরিয়ে আসবে।’
নাগরিক ঐক্যের নেতা ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘শনিবার সমাবেশের পর দ্রুততার সঙ্গে চেষ্টা করা হবে ঐক্যকে একটি বড় পরিসরে সামনে এনে কর্মসূচিতে যাওয়ার।’
যাবেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা
সমাবেশে অংশ নিতে বিএনপির মতো ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে ২০ দলীয় জোটও। জোটের শরিক নেতারা বলছেন, তারা সমাবেশে অংশ নেবেন। এবং সুযোগ পেলে দলীয় ও দেশের জনগণের হয়ে কথা বলবেন। খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘আমি অসুস্থতার কারণে সমাবেশে যাবো না। তবে দলের মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যাবে।’
বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের সমাবেশে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে এই সমাবেশে যাবো।’
জোট নয়, দলীয়ভাবে যেতে পারেন বাম নেতারা
গণতান্ত্রিক বামজোটের নেতারা জানিয়েছেন, তারা জোটগতভাবে ড. কামাল হোসেনের সমাবেশে যাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেন ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও জোটগতভাবে তারা সেখানে যাচ্ছেন না। তবে এককভাবে কয়েকটি দলের এই সমাবেশে অংশগ্রহণ অনেকটাই নিশ্চিত।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ফিরোজ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোটগতভাবে যাবে না বা যাবে—এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি কেউ যায়, তাহলে আলাদা-আলাদাভাবে যাবেন। বাংলাদেশের সংকট-সংঘাত উত্তরণে ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যমত দরকার। তার ভিত্তিতেই হয়তো বামনেতারা যাবেন।’ ফিরোজ আহমেদ এও জানান, ‘তার দলের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সমাবেশে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
বামজোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যাবে না। তবে জোটের কোনও দল চাইলে দলীয় উদ্যোগে যেতে পারে।’
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, ‘আমি এই সমাবেশে যাচ্ছি না। আমাদের জোটেরও না যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।’
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা বিএনপি জোটের সঙ্গে রাজনীতি করবে না বাম গণতান্ত্রিক জোট। এই দুই দলের বাইরে আমাদের রাজনীতি। আমরা যতটুকু জানি ড. কামাল হোসেনের সমাবেশে বিএনপি আসবে। সুতরাং এই সমাবেশে আমরা যাচ্ছি না। এছাড়া, বাম গণতান্ত্রিক জোটের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল (২২ সেপ্টেম্বর) আমাদের বিক্ষোভ সমাবেশে রয়েছে।’
এদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার ড. কামাল হোসেনের ডাকা সমাবেশে আমরা যাচ্ছি না। আমরা তো কোনও জোটে নেই, তাই যাওয়া হবে না।’
বি চৌধুরীর বাসায় ফখরুল-মোশাররফ-মওদুদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় দেখা করে এসেছেন বিএনপির সিনিয়র তিন নেতা। তারা হলেন— মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল পাঁচটার দিকে তারা চৌধুরীর বারিধারার বাসায় যান এবং ফিরে আসেন সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে। বি চৌধুরীর ছেলে বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বি চৌধুরীর বাসায় যান বিএনপির তিন নেতা। তারা একটি খামে করে বিএনপির দফা ও লক্ষ্যগুলোকে বি চৌধুরীর হাতে দেন। ওই সময় বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর অব. মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র আরও জানায়, বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বি চৌধুরীর আলোচনা হয়েছে দুটি বিষয়ে। একটি ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি ও দ্বিতীয়টি জামায়াত প্রসঙ্গে। এ দুটি বিষয়েই আরও আলোচনা হতে পারে,এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দিবস’ পালনের নির্দেশ মানবে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দিবস’ পালন করার যে নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গত (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটা হল বিজেপি’র কর্মসূচি। আসন্ন নির্বাচনের আগে সেই কর্মসূচিকে ‘ইউজিসি’ নামক সংস্থাকে দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। আমাদের দেশমাতৃকা ও সেনাবাহিনীর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। তাদের যারা নিহত হয়েছিলেন সেটা যদি পালন হতো তাহলে বুঝতাম, কিন্তু সার্জিক্যাল কেন?’
তিনি বলেন, ‘শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোটাই তো বড় কথা। এতো শহীদের পিছনে বিজেপি’র পদ্ম! এটা তো ঠিক হচ্ছে না। ভারতীয় রাজনীতিতে সেনাবাহিনী সবসময় বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল। কিন্তু এখন দেখছি সেনাবাহিনীকেও এরা কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। এটা ঠিক নয়। আমরা সমর্থন করি না। এগুলো পালন করার যে নির্দেশ ইউজিসি দেবে, আমরা তা মানবই না। শিক্ষার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যুগ্ম তালিকায় আছে। কিন্তু ওরা এখন তালিকা-ফালিকা কিছুই মানতে চায় না, নিজেদের এজেন্ডা অনুযায়ী কাজ করছে।’
২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়্ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের মধ্যে ভারতীয় সেনার বিশেষ বাহিনী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায়। ওইদিনকে স্মরণ করার জন্য বিভিন্ন রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইউজিসি নির্দেশ দেয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার গতবছর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে বিশেষ উৎসব পালন করে আসছে। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা পীযূষ গোয়েল।

প্রতিবছর ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে তিন লাখ মানুষ

দেশে প্রতি বছর তিন লাখেরও বেশি মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রায় এক লাখ রোগী মারা যাচ্ছে। তামাক, দূষণ, অনিরাপদ খাদ্যাভাসের কারণে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা ও চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর-পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি জানান, ক্যানসার রোগ চিকিৎসার পরিধি বৃদ্ধি, সহজলভ্য ও মানোন্নয়নে সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ক্যানসার চিকিৎসার ওষুধ (কেমোথেরাপি) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনামূল্যে রোগীদের প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে বিশেষ অনুদান দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি চিকিৎসার আধুনিক নতুন মেশিন ইতিমধ্যেই সংযোজন করা   হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে মহিলাদের জরায়ুমুখ ক্যানসার চিকিৎসার জন্য কয়েকটি ব্রাকিথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে ক্যানসার চিকিৎসা আরো আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদ সদস্য বেগম মাহজাবিন খালেদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিদ্যমান ওষুধ আইনকে আরো যুগোপযোগী ও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে প্রস্তাবিত ওষুধ আইন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধির ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ভেজাল, নকল ও মানহীন ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের বিভাগীয় শহরসহ জেলা ও উপজেরা পর্যায়ে মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং সরকার ইতিমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ৩৯৫টি ফার্মেসিকে মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপ হিসেবে অনুমোদন প্রদান করেছে।
মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপ থেকে জনগণ মানসম্মত ওষুধ কেনার পাশাপাশি ওষুধের ব্যবহারবিধি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবে। সারা দেশব্যাপী মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংসদ সদস্য আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের নিমিত্তে বিভিন্ন অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে সরকারিভাবে এবং সরকারি ব্যয়ে ডাক্তারদের বিদেশে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে বেতন-ভাতাদি দেশীয় মুদ্রায় প্রাপ্য হবেন। গত এক বছরে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে ৪৪৭ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য ১৫০০ লার্নিং সেন্টার হচ্ছে by নূর মোহাম্মদ

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য কক্সবাজারে ১৫০০ লার্নিং সেন্টার হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন ও বর্তমানে আনন্দ স্কুলের আদলে এসব সেন্টার স্থাপন হবে। এসব সেন্টারে রোহিঙ্গা শিশুদের রাখাইন ও ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা দেয়া হবে। এজন্য বিশ্বব্যাংক ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছে। পুরো শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালনা করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সের ৬০ হাজার শিশু রয়েছে। লার্নিং সেন্টারে শিশুদের আনন্দ দিতে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সামগ্রী থাকবে। শিশুদের আনন্দের সঙ্গে শিক্ষার মধ্যে নিয়ে আসতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাতে শিশুশ্রমে তারা জড়িত না হতে পারে। শিক্ষক নিয়োগ দেবে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনিসেফ। তবে কোনো ভাবেই রোহিঙ্গা শিশুদের  বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে না। রস্ক প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় এনজিও’র মাধ্যমে স্কুলগুলো পরিচালনা করা হবে। গত ২৯শে আগস্ট প্রকল্পের প্রি একনেক হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চলমান রস্ক (আউট অব স্কুল চিলড্রেন) প্রকল্প মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়েছে। সেখানে বিশ্ব ব্যাংক আরো ২৫ মিলিয়ন ডলার বা সাড়ে ৭শ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে। এ টাকা প্রথমে তারা ঋণ হিসেবে দিতে চেয়েছিল। আমরা রাজি হইনি। কারণ রোহিঙ্গা আসার কারণ কক্সবাজারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। আমরা বলেছি, রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা দিতে হলে অনুদান হিসেবে বরাদ্দ দিতে হবে। অনুদানের অর্ধেক টাকা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায় খরচ করা হবে। বাকি টাকা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিশ্ব ব্যাংক ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে।
এনজিও মনোনয়নের বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তালিকা যাচাই-বাছাই করে এনজিও মনোনয়ন দেয়া হবে। যাতে করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আড়ালে অন্য কিছু না করে। এ ব্যাপারে আমরা কঠোর নজরদারি করবো।
এদিকে পাঁচ বছর মেয়াদি রস্ক প্রকল্পের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির পরেও প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ শতভাগ খরচ করতে পারেনি। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের অদক্ষতাই এর জন্য দায়ী বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। এরপরেও প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে অতিরিক্ত সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকল্পের ২৪ কোটি টাকা খরচ হয়নি। রস্ক প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত স্কুলের শেষ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তাদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে আরো দুই বছর সময় লাগবে। প্রকল্প বন্ধ করে দিলে এসব শিশু কোথায় পড়বে? এ বিবেচনায় প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। অর্থ খরচ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পের শুরুতে স্কুল নির্বাচনে অনেক অনিয়ম হয়েছে। অনেক স্কুল আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এসব স্কুলের জন্য বরাদ্দ অর্থ রয়ে গেছে।

ট্যাক্সির নতুন ফরম্যাট ‘রাইড শেয়ার’! by চৌধুরী আকবর হোসেন

সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রীসেবা ও সড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর ধারণা থেকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা। তবে ব্যক্তিগত রাইড শেয়ারের পরিবর্তে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হওয়ায় দেশে এ ব্যবস্থাটি দিনে দিনে ‘ট্যাক্সি সার্ভিসে’ রূপ নিচ্ছে।
ঢাকায় ২০১৬ সালে শুরু হয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবার। জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ সেবাকে বৈধতা দিতে সরকার এ বছর নীতিমালা করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে রাইড শেয়ার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে উবার, পাঠাও, ওভাই, আমার রাইড,সহজ রাইড, স্যাম- শেয়ার এ মোটরসাইকেল, লেটস গো প্যাসেঞ্জার, মুভ, বাহন, ইজিয়ার, ঢাকা রাইডার্স, সেবা, এক্সওয়াইজেড, বিডিক্যাবস, ঢাকা মটো। এরমধ্যে উবার, পাঠাও, ওভাই বেশি পরিচিত।
রাইড শেয়ারের ধারণায় বলা হয়েছে- কোনও ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেলে যাত্রাপথে আগ্রহী অন্য ব্যক্তিকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিই রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম। এরফলে একজনের ব্যক্তিগত গাড়িতে অন্যজন গন্তব্যে পৌঁছানোয় সড়কে যানবাহনের ওপর চাপ কমতো। সাশ্রয়ী ভাড়া হওয়ায় যাত্রীদেরও খরচ কম হতো। পাশাপাশি যিনি রাইড শেয়ার করছেন তারও বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তবে দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রাইড শেয়ারের কথা বললেও দিন দিন বাড়ছে এর বাণিজ্যিক ব্যবহার। অনেকেই গাড়ি কিনে পরিচালনা করছেন এসব রাইড শেয়ার প্রতিষ্ঠানে। আয়ের সুযোগ হওয়ায় অনেকেই বাইক বা প্রাইভেটকার চালানোর কাজটিকে পেশা হিসেবেই নিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেল কিনতে লোনও দিচ্ছেন। এরমধ্য রাইড শেয়ার প্রতিষ্ঠান ওভাই নিজেরাই মোটরসাইকেল কিনে চালক নিয়োগ দিয়েছে।
ব্যাণিজ্যিকভাবে রাইড শেয়ারের কারণে সিএনজি, রিকশার মতো মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের রাস্তায় পার্কিং করে যাত্রী খোঁজার পরিমাণও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন সড়কে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
রাইড শেয়ারের চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে মোটরবাইক দিয়ে একজন ব্যক্তি দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। ফলে অনেকে একাধিক মোটরসাইকেল কিনে চালক নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা করছেন। শুধু মোটরসাইকেল নয় গাড়ি কিনেও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি গাড়ি থেকে মাসে গড়ে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত আয় সম্ভব।
দীর্ঘদিন ধরে উবারে গাড়ি পরিচালনা করে আসা মাহমুদুল হাসান জানান, তার ১১টি গাড়ি বর্তমানে রাইড শেয়ার করছে। তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটি গাড়ি দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন ১১টি গাড়ি চলছে। গাড়ি চালকদের বেতন, তেল সব খরচ বাদ দিলে সব মিলিয়ে মাসে ৪ লাখ টাকা আয় হয়।’
মোটরবাইকে রাইড শেয়ার করা সাইফুল ইসলাম পাঠাও এবং উবারের সঙ্গে কাজ করেন। তিনি জানান, শুরুতে অফিসে যাওয়া আসার সময় রাইড শেয়ার করতেন। তবে বর্তমানে তিনি চাকরি ছেড়ে এ কাজকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন।
সাইফুল বলেন, ‘আগে যে চাকরি করতাম সেটাতে সব মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা আয় হতো। এখন মোটরসাইকেল চালিয়ে মাসে ২৫-৩০ হাজার পর্যন্ত আয় হচ্ছে। এজন্য চাকরি ছেড়ে বাইকে রাইড শেয়ার করি।’
সার্ভিস নিয়ে পাঠাও’র হেড অব মার্কেটিং সৈয়দা নাবিলা মাহবুব বলেন, পাঠাওয়ের নিজস্ব কোনও গাড়ি নেই, নেই নিয়োগ প্রাপ্ত কোনও চালক। নিয়ম মেনে যে কেউ রাইড শেয়ার করতে পারবেন। যেহেতু স্থায়ীভাবে কোনও গাড়ি ও চালক নেই তাই পাঠাও পুরোপুরি রাইডার শেয়ার প্ল্যাটফর্ম।
এদিকে রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্মের বিকাশে সড়কে বেড়েছে চাপ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম বলেন, মানুষের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে গাড়ির পরিমাণ বেড়েছে। এরমধ্যে কেউ কেউ নিজের গাড়িতে রাইড শেয়ার করছেন, তেমনি বাণিজ্যিক ব্যবহারও আছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। সামনে আরও আলোচনা ও পদেক্ষেপের মাধ্যমে এসবের সমাধান হবে।
বিআরটিএ সচিব মুহাম্মদ শওকত আলী বলেন, এতদিন কোনও নীতিমালা ছিলো না। এখন রাইড শেয়ার নিয়ে একটি নীতিমালা হয়েছে। কেউ যদি নিয়ম না মানে বা অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে বিআরটিএ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

জয়নাব (সা.) ও সাজ্জাদ (আ.)'র অনন্য বীরত্বে ইয়াজিদের আতঙ্ক

আজ হতে ১৩৭৯ বছর আগে অর্থাত ৬১ হিজরির এই দিনে (১২ মহররম) ইয়াজিদ সেনারা নবী পরিবার তথা ইমাম পরিবারের এবং ইমাম শিবিরের সকল নারী ও কন্যা শিশুকে বন্দী করে কুফায় নিয়ে যায়।
এ সময় ইয়াজিদ সেনারা শহীদদের বিচ্ছিন্ন মাথা বর্শায় বিদ্ধ করে নিয়ে আসে তাদের সঙ্গে।এ ছাড়াও কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর আজকের এই দিনে শাহাদত বরণ করেন ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)।
কুফায় বন্দীদেরকে ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে জিয়াদের দরবারে আনা হলে জিয়াদ তাদেরকে উপহাসের চেষ্টা করে এবং ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)-কে হত্যা করতে চায়। কিন্তু ইমামের বোন হযরত জয়নাব (সা.)’র সাহসী বক্তব্য ও বিশেষ করে নবী পরিবারের সদস্যদেরকে ত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ও শাহাদতের মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর প্রশংসাসূচক কথাগুলো জিয়াদকে হতভম্ব বা লা-জওয়াব করে দেয়।
কারবালার অসম যুদ্ধে অশেষ বীরত্ব ও বিক্রম দেখিয়ে এবং ইয়াজিদের বহু সেনাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে শহীদ হয়েছিলেন হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)সহ ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা ৭২ জন মহামানব। তাদের কেউ ছিলেন ইমামের যুবক পুত্র, শিশু পুত্র, সৎ ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, চাচাতো ভাই এবং অন্যরা ছিলেন প্রাণ-উৎসর্গ করতে আসা নিবেদিত-প্রাণ সঙ্গী।
ইমাম হুসাইন (আ.)'র শাহাদতের পর তাঁর বোন হযরত জয়নাব (সা.) ইমামের একমাত্র জীবিত ও অসুস্থ পুত্র হযরত জয়নুল আবেদীনের (আ.) জীবন রক্ষা করেন। অবশ্য এ জন্য তিনি শত্রুদের কাছে দয়া ভিক্ষা করেননি। ভাতিজাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি জল্লাদকে বলেছিলেন, আমার ভাতিজাকে হত্যা করতে হলে আমাকেও হত্যা করতে হবে। এভাবে তিনি একজন নিষ্পাপ ইমামের জীবন রক্ষা করেন নতজানু না হয়েই। দামেস্কেও এই মহান ইমামকে হত্যার চেষ্টা অলৌকিকভাবে ব্যর্থ হয় বলে বর্ণনা রয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনা মতে কারবালায় জয়নুল আবেদীনের শিশু সন্তান ইমাম বাকির (আ.)ও উপস্থিত ছিলেন এবং হত্যাযজ্ঞের পর তিনিও বেঁচে ছিলেন। নবী বংশের কয়েকজন নারী সদস্যও বেঁচে ছিলেন কারবালার হত্যাযজ্ঞের পর।
মহাপাপিষ্ঠ ও নরাধম ইয়াজিদের দরবারে উপনীত হলে তার বেয়াদবিপূর্ণ নানা কথা ও বিদ্রূপের জবাবে হযরত জয়নাব (সা.) এক দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। তেজোদৃপ্ত সেই ভাষণের একাংশে তিনি বলেছিলেন: "আমাদের শাসন-কর্তৃত্ব (তোমার হাতে পড়ায়) তুমি মহিমান্বিত আল্লাহর সেই বাণী ভুলে গিয়েছ: 'কাফেররা যেন মনে না করে যে আমরা তাদের যে অবকাশ দান করি, তা নিজেদের জন্য কল্যাণকর। বরং আমরা তো তাদেরকে এ জন্যই অবকাশ দেই যাতে করে তাদের পাপগুলো বাড়তে থাকে এবং তাদের জন্য অপমানজনক শাস্তি অবধারিত।"
তিনি ইয়াজিদকে 'সে ব্যক্তির পুত্র যাকে বন্দী করার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছিল' বলেও সম্বোধন করেন!(কারণ, আমির মুয়াবিয়া মক্কা বিজয়ের সময় বন্দী হয়েছিল মুসলিম বাহিনীর হাতে, ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়) হযরত জয়নাব (সা.) তাঁর ঐতিহাসিক সেই ভাষণে পবিত্র নবী বংশের, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)'র মর্যাদা তুলে ধরার পাশাপাশি ইয়াজিদ বাহিনীর জুলুম ও নৃশংসতাও তুলে ধরেছিলেন ।
তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)'র সঙ্গে ইয়াজিদের নানা বেয়াদবি এবং নবী বংশের ওপর তার বাহিনীর নৃশংস জুলুম নির্যাতন চালানোসহ হত্যাযজ্ঞের জন্য তাকে খোদায়ী কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে বলে উল্লেখ করেন। হযরত জয়নাব (সা.) এক পর্যায়ে ইয়াজিদের দরবারেই তাকে বলেন, "যদিও ঘটনাচক্রে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি, কিন্তু আমি তোমাকে খুবই তুচ্ছ ও নীচ মনে করি এবং তোমাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করছি ও অনেক বেশি নিন্দা করছি, কিন্তু (আমার ভাইয়ের হত্যার কারণে মুসলমানদের ) দৃষ্টিগুলো অশ্রুসজল আর হৃদয়গুলো কাবাবের মত দগ্ধীভূত।"
বিশ্বনবী (সা.)'র আহলে বাইতের প্রতি উম্মতের ভালবাসা ও তাঁদের স্মরণ যে ইয়াজিদ গোষ্ঠী কখনও বিলুপ্ত করতে পারবে না এবং আহলে বাইতের মর্যাদার ধারে কাছেও যে পৌঁছুতে পারবে না ইয়াজিদ গোষ্ঠী তিনি তাও ভবিষ্যদ্বাণী করেন। জালিমদের ওপর যে আল্লাহর লানত বর্ষিত হবে এবং ইহকালে তাদের পতন ও চরম লাঞ্ছনা এবং পরকালেও আরো কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে হযরত জয়নাব (সা.) তাও উল্লেখ করেন ওই ভাষণে।
তাঁর সেইসব অবিস্মরণীয় ভাষণ ও বক্তব্যগুলো মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচারিত হয়ে দামেস্ক ও কুফাসহ মুসলিম বিশ্বের জনগণের মধ্যে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিল। গোটা আরব উপদ্বীপের চার লাখ মানুষ হুসাইন (আ.) হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অভ্যুত্থান করে। ফলে কুফায় মুখতারের নেতৃত্বে নবী বংশের অবমাননাকারী ও ঘাতকরা লাঞ্ছনাপূর্ণ মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে নির্মূল হয়। আর এ জন্যই নবী(সা.)-নাতনী হযরত জয়নাব (সা.)-কে কারবালা বিপ্লবের অন্যতম সফল সংগঠক ও প্রধান পরিচালক বলা যায়। তাঁর বিপ্লবী তৎপরতা ও উপস্থিতি না থাকলে কারবালাতেই এ বিপ্লবের চির-সমাধি ঘটত এবং বাইরের কেউই এ বিপ্লব ও মহাট্র্যাজেডির খবরও হয়তো জানতো না।
গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় ইবনে জিয়াদের আতঙ্কজিয়াদ নবী (সা.)’র পরিবারের অবমাননার জন্য কুফা শহরের রাস্তায় রাস্তায় বন্দীদেরকে ঘুরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে উদ্যত হলে আবারও স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করেন নবী-নাতনী। তাঁর বাগ্মীতাপূর্ণ ও বিবেক-জাগানো এবং হৃদয়-বিদারক বক্তব্য শুনে কুফার জনগণ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ফলে ইবনে জিয়াদ গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সে বন্দীদের কাফেলাকে দ্রুত দামেস্কে পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং এমন সব পথ দিয়ে তাদেরকে নিয়ে যেতে বলে যাতে জনগণ নবী-পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পেরে ইয়াজিদ সরকারের প্রতি গণ-বিদ্রোহ বা গণ-বিক্ষোভ শুরু করার সুযোগ না পায়।
নতুন ইমাম হযরত জয়নুল আবেদীনের (আ) বীরত্বপূর্ণ ভাষণ
ইবনে জিয়াদ ও ইয়াজিদের দরবারে তেজোদৃপ্ত বক্তব্য রেখেছিলেন হযরত জয়নাব (সা.)। একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন নতুন ইমাম হযরত জয়নুল আবেদীন (আ)। কুফায় ফুফু জয়নাব (সা.) ও বোন ফাতিমার ভাষণ শুনে জনগণ যখন মর্মাহত হয় ও কাঁদতে থাকে তখন তাদের সমাবেশে নতুন এই ইমামও বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: হে মানুষেরা, আমি আলী, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)’র সন্তান। আমি তাঁর সন্তান যার সব কিছু লুট করা হয়েছে, যার পরিবারের সবাইকে বন্দী করে এখানে আনা হয়েছে। আমি তাঁর সন্তান, যে ফোরাতের কিনারায় মর্মান্তিক ও নৃশংসভাবে নিহত হয়েছে। হে লোকেরা! তোমরা কিয়ামতের দিন কিভাবে নবী(সা.)’র সামনে দাঁড়াবে? রাসূল (সা.) যখন তোমাদের বলবেন, “ তোমারা আমার পরিবারবর্গকে এভাবে কতল করেছ আর আমার মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ রাখনি, তাই তোমরা আমার উম্মত নও।”নতুন ইমামের এ বক্তব্য শুনে কুফাবাসী চিৎকার ধ্বনি দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং একে-অপরকে তিরস্কার করে বলতে থাকে : আমরা এতই দুর্ভাগা যে নিজেরা যে ধ্বংস হয়ে গেছি তাও জানি না।
মৃত্যুর ভয়হীন যুবক ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)
ইবনে জিয়াদ নতুন ইমামকে হত্যার নির্দেশ দিলে ফুফু যেইনাব বলেন, তাহলে আমাকেও হত্যা কর্ তাঁর সঙ্গে! নতুন ইমাম বললেন, আপনি ওর সঙ্গে কথা বলবেন না, আমি ওর সঙ্গে কথা বলছি। তিনি জিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন: “ ওহে জিয়াদের ছেলে! আমাকে হত্যার ভয় দেখাচ্ছ? তুমি কি জান না শহীদ হওয়া আমাদের প্রথা ও শাহাদত বরণ আমাদের মর্যাদা....।”
ইয়াজিদের দরবারে নতুন ইমামের ভাষণ:
সিরিয়ায় শহরের অলি-গলি দিয়ে ইমাম ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনকে একই দড়িতে বেঁধে ইয়াজিদের দরবারে আনা হয়। এ সময় ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) বীরত্বের সঙ্গে ইয়াজিদের দিকে তাকিয়ে বলেন: হে ইয়াজিদ! আল্লাহর রাসূলের (সা.) ব্যাপারে কি চিন্তা করেছ, যদি তিনি এভাবে আমাদেরকে দড়ি বাঁধা অবস্থায় দেখেন? ইমামের এ কথা শুনে উপস্থিত সবার মধ্যে কান্নার রোল ওঠে। সিরিয়ায় ইয়াজিদি প্রচারণায় বিভ্রান্ত এক বয়স্ক ব্যক্তি নবী পরিবারের বন্দীদের কাছে এসে বলল: আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে ফিতনা নিভিয়ে দিয়েছেন। সে আরো কিছু আজে-বাজে কথা বলে। নতুন ইমাম (যইনুল আবেদীন-আ.) তাকে বলেন: তুমি কি কুরআন পড়েছ। সে বলে: পড়েছি। ইমাম: এ আয়াতটি পড়েছ কি যেখানে এসেছে- বল হে রাসূল, আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না (ইসলাম প্রচারের বিনিময়ে), শুধু এটা চাই যে তোমরা আমার পরিবারকে ভালবাসবে? (সূরা আশশুরা-২৩)হ্যাঁ, পড়েছি। রাসূলের আহলে বাইত (নবী-পরিবার) যে নিষ্পাপ তার প্রমাণ হিসেবে তিনি সুরা আহজাবের ৩৩ নম্বর আয়াতও তাকে শোনান। এভাবে তিনি নবী পরিবারের সম্মান ও অধিকারের দলিল হিসেবে নাজেল হওয়া আরো কয়েকটি আয়াতের কথা তুলে ধরলে ওই বয়স্ক লোকটি আকাশের দিকে হাত উঁচু করে তিনবার বলেন: হে আল্লাহ, আমি তওবা করেছি। আর তাঁদের হত্যা করাতে আমি অসন্তুষ্ট। আমি এর আগেও কুরআন পড়েছিলাম, কিন্তু এইসব সত্য জানতাম না।
সিরিয়ার জামে মসজিদে নতুন ইমামের ভাষণ:
সিরিয়ার মসজিদে নবী-বংশকে ও হযরত আলী (আ.)-কে গালি-গালাজ করা হত মুয়াবিয়ার আমল থেকেই। কারবালার ঘটনার পর একদিন এই মসজিদে হযরত আলী (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে উদ্দেশ করে অপমানজনক কথা বলে বেতনভোগী খতিব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)। তিনি খতিবকে বললেন: খতিব তুমি ইয়াজিদকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে দোযখে স্থান তৈরি করেছ নিজের জন্য। তিনি ইয়াজিদের দিকে ফিরে বললেন, আমাকেও মিম্বরে যেতে দাও, কিছু কথা বলব যাতে আল্লাহ খুশি হবেন ও উপস্থিত লোকদের সওয়াব হবে। উপস্থিত লোকদের চাপের মুখে ইয়াজিদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হয়। (ইয়াজিদ লোকদের প্রতি বলেছিল, ইনি এমন এক বংশের লোক যারা ছোটবেলায় মায়ের দুধ পানের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানও অর্জন করতে থাকে)
নতুন ইমাম মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসাসূচক কিছু বাক্য বলার পর বলেছিলেন: হে জনতা! আল্লাহ আমাদের ছয়টি গুণ ও সাতটি মর্যাদা দিয়েছেন। জ্ঞান, সহনশীলতা, উদারতা, বাগ্মিতা, সাহস ও বিশ্বাসীদের অন্তরে আমাদের প্রতি ভালবাসা। আমাদের মর্যাদাগুলো হল রাসূল (সা.), আল্লাহর সিংহ ও সত্যবাদী আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.), বেহেশতে দুই পাখার অধিকারী হযরত জাফর আততাইয়ার (রা.), শহীদদের সর্দার হামজা (রা.), রাসূল (সা.)’র দুই নাতী হযরত হাসান ও হুসাইন (আ.) আমাদের থেকেই, আর আমরাও তাঁদের থেকেই। যারা আমাকে জানে তারা তো জানেই, যারা জানে না তাদেরকে জানাচ্ছি আমার বংশ-পরিচয়: হে জনতা! আমি মক্কা ও মিনার সন্তান, আমি যমযম ও সাফা’র সন্তান। আমি তাঁর সন্তান যিনি হজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) তুলেছিলেন তাঁর কম্বলের প্রান্ত ধরে, আমি ওই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সন্তান যিনি কাবা তাওয়াফ করেছেন ও সাই করেছেন (সাফা ও মারওয়ায়) তথা হজ করেছেন। আমি এমন এক ব্যক্তির সন্তান যাকে একরাতেই মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল (রাসূলের মেরাজের ইঙ্গিত)।... আমি হুসাইনের সন্তান যাকে কারবালায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি আলীর সন্তান যিনি মুর্তাজা (অনুমোদনপ্রাপ্ত), আমি মুহাম্মদের সন্তান যিনি বাছাইকৃত, আমি ফাতিমাতুজ জাহরার সন্তান, আমি সিদরাতুল মুনতাহার সন্তান, আমি শাজারাতুল মুবারাকাহ বা বরকতময় গাছের সন্তান, হযরত খাদিজা (সা.)’র সন্তান আমি, আমি এমন একজনের সন্তান যিনি তার নিজের রক্তে ডুবে গেছেন, আমি এমন একজনের সন্তান যার শোকে রাতের আধারে জিনেরা বিলাপ করেছিল, আমি এমন একজনের সন্তান যার জন্য শোক প্রকাশ করেছিল পাখিরা।
ইমামের খোতবা এ পর্যন্ত পৌঁছলে উদ্বেলিত জনতা চিৎকার করে কাঁদতে থাকে ও বিলাপ শুরু করে। ফলে ইয়াজিদ আশঙ্কা করল যে গণ-বিদ্রোহ শুরু হতে পারে। সে মুয়াজ্জিনকে আজান দেয়ার নির্দেশ দিল। ইমাম (আ.) আজানের প্রতিটি বাক্যের জবাবে আল্লাহর প্রশংসাসূচক বাক্য বলছিলেন। যখন মুয়াজ্জিন বলল, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- তখন ইমাম (আ.) মাথা থেকে পাগড়ী নামিয়ে মুয়াজ্জিনের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি এই মুহাম্মাদের (সা) নামে অনুরোধ করছি, এক মুহূর্ত নীরব থাক। এরপর তিনি ইয়াজিদের দিকে তাকিয়ে বললেন: এই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ রাসূল কি আমার প্রপিতামহ না তোমার? যদি বল তোমার তাহলে গোটা পৃথিবী জানে তুমি মিথ্যা বলছ, আর যদি বল আমার তাহলে কেন তুমি আমার বাবাকে জুলুমের মাধ্যমে হত্যা করেছ, তাঁর মালপত্র লুট করেছ ও তাঁর নারী-স্বজনদের বন্দী করেছ? একথা বলে ইমাম(আ.) নিজের জামার কলার ছিঁড়ে ফেললেন এবং কাঁদলেন। এরপর বললেন, আল্লাহর কসম এ পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কেউ নেই যার প্রপিতামহ হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.), কেন এ লোকগুলো আমার পিতাকে জুলুমের মাধ্যমে হত্যা করেছে এবং আমাদেরকে রোমানদের মত বন্দী করেছে?...অভিশাপ তোমার ওপর যেদিন আমার প্রপিতামহ ও পিতা তোমার ওপর ক্রুদ্ধ হবেন।
গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় দিশাহারা ও আতঙ্কিত ইয়াজিদ
অবস্থা বেগতিক দেখে ইয়াজিদ নামাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ জনতার অনেকেই মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। পরিস্থিতির চাপে পড়ে ইয়াজিদ নিজেও ভোল পাল্টে ফেলে ইমাম হুসাইন (আ.) ও নবী পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং এর দায় জিয়াদের ওপর চাপিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।
ইয়াজিদকে হত্যার পরিকল্পনা
ইয়াজিদ ইমাম হুসাইন (আ.)’র বোন হযরত জয়নাব (সা.)’র অনুরোধে কারবালার শহীদদের জন্য শোক অনুষ্ঠান পালনের অনুমতি দেয়। সাত দিন ধরে শোক সমাবেশ হয়। বিপুল সংখ্যক সিরিয় নারী শোক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। সিরিয় পুরুষদের অনেকেই সিদ্ধান্ত নেন যে তারা ঝড়ের গতিতে ইয়াজিদের প্রাসাদে ঢুকে তাকে হত্যা করবে। ইয়াজিদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মারওয়ান এ পরিকল্পনার কথা জেনে ফেলে। সে ইয়াজিদকে পরামর্শ দেয় হুসাইনের পরিবারকে সিরিয়ায় বেশি দিন রাখা ঠিক হবে না। তাঁদেরকে মদীনায় ফেরত পাঠানো জরুরি। ইয়াজিদ নবী-পরিবারকে সফরের রসদপত্র দিয়ে তাঁদেরকে মদীনায় পাঠিয়ে দেয়।
আসলে কারবালা বিপ্লবের ব্যাপারে ইমাম হুসাইন (আ.)’র বোন হযরত জয়নাব (সালামুল্লাহি আলাইহা) ও অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ইমামের পুত্র ইমাম জয়নুল আবেদীনের (আ.) বলিষ্ঠ ভাষণ ও সত্য ঘটনা প্রচারের ফলেই জনগণ আসল ঘটনা বুঝতে পারে। ফলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই উমাইয়াদের বিরুদ্ধে ইরাকে ও হিজাজে (বর্তমান যুগের সৌদি আরব অঞ্চল) বিদ্রোহ দেখা দেয়। কুফায় মুখতারের নেতৃত্বে বিপ্লবী সরকার গঠিত হয় এবং এই সরকার ইমাম হুসাইন (আ.) হত্যাকারী ওমর সাদ ও শিমারসহ ইয়াজিদ বাহিনীর প্রায় সব ঘাতককে হত্যা করে। অনেক ঘাতক অলৌকিকভাবে কঠোর শাস্তি পেয়েছিল।
৩৪ বছর পর এই দিনে নতুন ইমামের শাহাদত
উল্লেখ্য, কারবালার মহাট্র্যাজেডির ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরির এই দিনে (১২ মহররম) ৫৭ বছর বয়সে শাহাদত বরণ করেছিলেন হযরত ইমাম যইনুল আবেদীন। ষষ্ঠ উমাইয়া শাসক ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক বিষ প্রয়োগ করে এই মহান ইমামকে শহীদ করে। ৩৮ হিজরিতে মদীনায় তাঁর জন্ম হয়েছিল। তাঁর মা ছিলেন শেষ ইরানি রাজার কন্যা শাহরবানু।
কারবালার ঘটনার পর তিনি যখনই পানি দেখতেন বাবাসহ কারবালার শহীদদের চরম পিপাসার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। কোনো ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার দৃশ্য দেখলেও কেঁদে আকুল হতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন এই পশুকে জবাইর আগে পানি পান করানো হয়েছে কিনা। পানি দেয়া হয়েছে একথা শোনার পর তিনি বলতেন, কিন্তু আমার (তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত) বাবাকে পানি না দিয়েই জবাই করেছিল ইয়াজিদ-সেনারা। তিনি সব সময় রোজা রাখতেন। ইফতারির সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতেন: রাসূল (সা.)’র সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায়।
ইমাম জয়নুল আবেদীন তাঁর বাবার জন্য ৩৪ বছর ধরে কেঁদেছিলেন
তিনি সব সময় দিনে রোজা রাখতেন ও পুরো রাত জেগে ইবাদত করতেন। রোজা ভাঙ্গার সময় তিনি বাবার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করে এত বেশি কাঁদতেন যে অশ্রুতে খাবার ভিজে যেত এবং খাবার পানিতেও অশ্রু মিশে যেত। জীবনের শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা ছিল তাঁর।একদিন তাঁর খাদেম ইমামের কান্নারত অবস্থায় তাঁকে বলেন: আপনার দুঃখ ও আহাজারি শেষ হয়নি?
উত্তরে তিনি বলেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! ইয়াকুব (আ.) আল্লাহর একজন নবী ছিলেন। তাঁর ১২ জন সন্তান ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁর এক পুত্র ইউসুফকে চোখের আড়ালে রাখায় শোকে, দুঃখে ও অতিরিক্ত কান্নায় তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে পড়েন, চুল পেকে যায় ও পিঠ বাঁকা হয়ে যায়। সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর এ অবস্থা হয়েছিল। আর আমি আমার পিতা, ভাই এবং পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে মাটিতে পড়ে যেতে ও শহীদ হতে দেখেছি; তাই কিভাবে আমার দুঃখ ও অশ্রু থামতে পারে?
গভীর ধার্মিকতা ও আল্লাহর প্রেমে সিজদা-প্রবণ ছিলেন বলে ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)-কে বলা হত 'সাজ্জাদ'।