Showing posts with label গাজীউল হক. Show all posts
Showing posts with label গাজীউল হক. Show all posts

Monday, August 10, 2015

কিসের আবার ভীমরতি ধরল! by গাজীউল হক

‘আপনাকে একজন ভদ্রলোক বলেই জানতাম। ভদ্রলোকের এক কথা। আপনি বলেছিলেন আপনি জীবনে বিয়ে করবেন না। সে জন্যই আমরা আনন্দচিত্তে আপনাকে আমাদের সংগঠনের সদস্য পদ দিয়েছিলাম। একই সঙ্গে কার্যকরী কমিটির দপ্তর সম্পাদকও নির্বাচিত করেছিলাম। আপনি এত বড় পদে থেকে বিয়ে করলেন, আমাদের আর মান ইজ্জত রইল না। ছিলেন তো ভালোই, কীসের আবার ভীমরতি ধরল (সুখে থাকলে ভুতে কিলায়) ? বুঝবেন ঠেলাটা পরে, মনে রাইখেন।...মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে আপনার শপথের কথা ভুলে গেলেন? আমাদের কথা ভুলে গেলেন? আপনার আদর্শের কথা ভুলে গেলেন? যাক ভবিষ্যতে আমাদের সংগঠনের নতুন সদস্য করতে আমরা আরও সাবধানী হব।’
এ কথাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে একটি বহিষ্কারপত্র। আর সেটা দেওয়া হচ্ছে কুমিল্লা চিরকুমার সমিতির দপ্তর সম্পাদক রতন মজুমদারকে (৩৭)। ‘শপথ ভেঙে’ বিয়ে করছেন বলে সংগঠন থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। সমিতির সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল ওরফে বাবলু প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর চিরকুমার সমিতির উপদেষ্টা রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক একই কারণে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিরকুমার সমিতির দপ্তর সম্পাদক রতন মজুমদার বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে চিরকুমার সমিতির সদস্য হই। এরপর ওই সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হই। গত চার বছরে আমার বাবা ও মা গত হয়েছেন। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট। প্রত্যেকে আলাদা হয়ে যাওয়ায় এখন আমার দেখভাল করার কেউ নেই। এ অবস্থায় বিয়ে ছাড়া আমার কোনো গতি নেই। আবেগে পড়ে তখন এ সমিতির সদস্য হয়েছিলাম। এখন বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছি।’
চিরকুমার সমিতি থেকে দপ্তর সম্পাদককে বহিষ্কার করলেও বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন সমিতির সদস্যরা। সোমবার রাত আটটায় বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁরা উপস্থিত থাকবেন। ওই সময়ে তাঁরা রতন মজুমদারকে বহিষ্কারাদেশ পত্র তুলে দেবেন। একই সঙ্গে কনেকেও ওই পত্রের অনুলিপি হস্তান্তর করা হবে।
এ প্রসঙ্গে চিরকুমার সমিতির সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল বলেন, ১৯৯৮ সালে ৬৫ জন সদস্য দিয়ে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে এর নাম ‘কৃষ্ণকলি’ ছিল। পরে নাম পরিবর্তন করে চিরকুমার সমিতি করা হয়। গত কয়েক বছরে সংগঠনের ২৫ জন সদস্য বিয়ে করেছেন। কেউ কেউ মারা গেছেন। আবার কেউ না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তাঁরা কয়েকজন সংগঠনের হাল ধরে আছেন।

Saturday, March 28, 2015

কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা by গাজীউল হক

চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে পৃথক বিভাগ করা যায় কি না, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গত ২৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই মনোভাবের কথা জানার পর কুমিল্লাজুড়ে আনন্দ মিছিল হয়। দীর্ঘদিনের দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখে ফুটে ওঠায় সমতট অঞ্চলের (প্রাচীনকালে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলকে সমতট নামে ডাকা হতো) বাসিন্দারা মহা খুশি।
শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির পাদপীঠ ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের জেলা শহর কুমিল্লা। এটি ব্রিটিশ-ভারতের প্রাচীনতম শহর। আগে এর নাম ছিল ত্রিপুরা জেলা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জনসভা হয়। ১৯৬০ সালে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কুমিল্লা পৃথক জেলার মর্যাদা পায়। গোমতী নদীর তীরে এ শহরের অবস্থান। একে বলা হয় পথিকৃৎ কুমিল্লা। ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন। ১৯৮৯ সালে বৃহত্তর কুমিল্লার কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বৃহত্তর নোয়াখালীর নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ ছয়টি জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি শুরু হয়। কুমিল্লা গণফোরাম নামের একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে ওই দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। পরে সংগঠনের নাম হয় কুমিল্লা গণদাবি পরিষদ।
বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ছয়টি জেলায় প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যা রয়েছে। ওই ছয় জেলার আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। যা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের চেয়ে জনসংখ্যা ও আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। কুমিল্লায় সরকারের প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কুমিল্লায় বিভাগ হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর জনগণের চাপ কমবে। ঢাকা শহরে বাড়তি লোকের চাপ হবে না। সেখানে যানজটও কমে আসবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে কুমিল্লার অবস্থান। একটি পরিপূর্ণ আবাসিক জেলা হিসেবে কুমিল্লার সুনাম রয়েছে। রাজধানী ও বন্দরনগরের ওপর চাপ কমাতে এ শহর বেশ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলার মধ্যবর্তী স্থানেও কুমিল্লার অবস্থান। ভৌগোলিক ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কুমিল্লা খুবই সমৃদ্ধ জনপদ। এ ছয় জেলার মানুষের সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ অত্যন্ত মসৃণ। দাপ্তরিক বেশির ভাগ কাজেই ছয় জেলার মানুষ কুমিল্লায় জড়ো হন। এখানে দিনে এসে দিনে কাজ করে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব। ছয় জেলার মানুষের আঞ্চলিক ভাষাও কাছাকাছি।
গত ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ গত বুধবার মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর নিয়ে তিনটি নতুন বিভাগ করার পক্ষে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বৃহত্তর এই তিনটি জেলার মধ্যে কুমিল্লা সবকিছুতেই অগ্রসরমাণ। কুমিল্লায় সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের অনেকগুলো দপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় এখানে বিদ্যমান রয়েছে। কুমিল্লায় সরকার আইটি ভিলেজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে রয়েছে মনোলোভা নৈসর্গিক লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়। ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লার রাজেশপুরে রয়েছে ইকোপার্ক। শহরের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগর। কুমিল্লাজুড়ে রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার নানা নিদর্শন।
একদা ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর হিসেবে কুমিল্লার খ্যাতি ছিল। কুমিল্লার খাদি, তাঁতশিল্প, কুটিরশিল্প, বিজয়পুরের মৃৎশিল্প, মাতৃভান্ডারের রসমালাই ও ময়নামতির শীতলপাটি পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। কুমিল্লা ইপিজেড, কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর, কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, দিদার সমবায় সমিতি, দাউদকান্দির প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষ এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে আসছে।
কুমিল্লায় রয়েছে অষ্টম শতকে নির্মিত কোটবাড়ীর শালবন বৌদ্ধবিহারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রত্নসম্পদ। রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর। এখানকার কোটবাড়ীতে রয়েছে ড. আখতার হামিদ খানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), ব্রিটিশ আমলের কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস, কুমিল্লা বিমানবন্দর, সুদীর্ঘ রেললাইন। এ শহরের আলো-বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়েছেন নারী জাগরণের অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা করার অন্যতম সহযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। এখানে এসেছেন অহিংসার বাণী নিয়ে মহাত্মা গান্ধী। এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রয়েছে শতবর্ষের ঐতিহ্যে লালিত দেশের একমাত্র সার্ভে প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউট।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান সরকার সামাজিক সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় জনপদ এই কুমিল্লায় বিভাগ বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লাবাসীর সর্বশেষ স্বপ্ন পূরণ হবে।
গাজীউল হক: প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা।
gajiulhoqsohag@gmail.com

Wednesday, February 4, 2015

আর কত মৃত্যু, আর কত পোড়া মুখ- পেট্রলবোমায় পুড়ে অঙ্গার সাতজন by গাজীউল হক

(কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গত সোমবার গভীর রাতে বাসে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমায় ঘটনাস্থলেই সাতজন প্রাণ হারান। মরদেহগুলো উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয় l ছবি: প্রথম আলো) আবারও পেট্রলবোমা, আবারও নিভে গেল তাজা প্রাণ। এবার দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমার আগুন একসঙ্গে কেড়ে নিল নিরীহ সাধারণ সাতজন বাসযাত্রীর প্রাণ। বাসের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন অনেকেই। এর মধ্যেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাবা-মেয়ে, মা-ছেলেসহ ওই সাতজন। আহত হন আরও অন্তত ২৮ বাসযাত্রী। এঁদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জগমোহনপুর এলাকায় গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে যাত্রীবাহী ওই বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। আইকন পরিবহনের বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।
৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ ও মাঝেমধ্যে হরতাল চলছে ২০-দলীয় জোটের ডাকে। এ কর্মসূচির মধ্যে চলছে সহিংসতাও। প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ সাধারণ মানুষ। তবে পেট্রলবোমায় একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা এটাই সর্বোচ্চ।
পেট্রলবোমায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন যশোর শহরের সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা নুরুজ্জামান পপলু ও তাঁর মেয়ে যশোর পুলিশ লাইনস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা তাসনিম; কক্সবাজারের চকরিয়ার আবু তাহের ও আবু ইউসুফ; নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বালুচরপাড়া গ্রামের আসমা বেগম ও তাঁর ছেলে মো. শান্ত এবং ঢাকার কাপ্তানবাজার এলাকার মো. ওয়াসিম।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাসের বেশির ভাগ যাত্রীই ঘুমিয়ে ছিলেন। জগমোহনপুর এলাকায় পৌঁছামাত্র সেখানে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা বাস লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়ে। মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা যান। বাসযাত্রীদের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, সেখানে ১৯ জনকে ভর্তি করা হয়। এঁদের বেশির ভাগই বাস থেকে নামতে গিয়ে মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত পান। কেউ কেউ সামান্য দগ্ধ হন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ হাসপাতালে নয়জনকে নেওয়া হয়। তাঁরা হলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শফিকুল ইসলাম (২৯), মো. জিলফত (২২) ও মো. জিলকদ (২১), মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কমলনগরের ফারুক আহমেদ (৩৪), একই গ্রামের আলী হোসেন (২০), মো. শরিফুল (১৯), কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার প্রহরকান্দা গ্রামের রাশেদুল ইসলাম (৪২), ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়ার আরিফ হোসেন (১৮) ও মো. হানিফ (৩৪)। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শফিকুল, জিলফত ও রাশেদুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য ছয়জন নিজ উদ্যোগে ঢাকায় চলে যান।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক মির্জা মু. তাইয়েবুল ইসলাম জানান, তাঁদের হাসপাতালে নয়জনকে ভর্তি করা হয়েছিল। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। অন্য ছয়জনের শরীরের ৫ শতাংশের মতো করে পুড়ে গেছে।
পেট্রলবোমায় নিহত যশোরের নুরুজ্জামানের স্ত্রী মিতা মাহফুজা (৩৭) বলেন, ‘বেশির ভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে আগুন দেখে চিৎকার দিয়ে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ি। চেতনা ফিরে এলে দেখি, আমি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আমরা চট্টগ্রাম থেকে ওই বাসে উঠেছিলাম। ছেলে, মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিলাম। এ যাত্রাই আমার কাল হলো। স্বামী ও মেয়েকে হারালাম।’
যশোরে নুরুজ্জামানের বাড়িতে বিলাপ করছিলেন তাঁর বোন আফরোজা পারভীন। তাঁর সব ক্ষোভ যেন চলমান রাজনীতির ওপর। ‘পেট্রলবোমা জামায়াত মেরেছে, না আওয়ামী লীগ মেরেছে, তা আমরা জানি না। আমরা কাউকে বিশ্বাস করি না। মানুষের জীবন নিয়ে ওরা নাটক করছে’, বলেন তিনি।
পেট্রলবোমায় মা আসমা ও ভাই শান্তকে হারিয়েছেন মো. মুন্না। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে বাসে উঠি। কাঁচপুর গিয়ে আমাদের নেমে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে।’
চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট নাজিম উদ্দিন বলেন, পেট্রলবোমায় প্রায় পুরো বাস পুড়ে গেছে। যাত্রীরা ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তীসহ মহাসড়ক পুলিশের কর্মকর্তারা গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার জানান, পেট্রলবোমায় ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা গেছেন। লাশগুলো কুমিল্লার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নেওয়া হয়। পরে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এসপি ও চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম চক্রবর্তী গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট দেশব্যাপী অবরোধ ডেকেছে। ওই অবরোধকে কেন্দ্র করেই ঘৃণ্য এ ঘটনা ঘটেছে।
মিয়াবাজার এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, একই রাত তিনটার দিকে মিয়াবাজার এলাকায় একটি লোকাল বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এই ফাঁকে জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী ওই বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। চৌদ্দগ্রাম জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা বলে পরিচিত। তার পরও সেখানে পুলিশি তৎপরতা কম বলে অভিযোগ স্থানীয় লোকজনের। মহাসড়কের নিরাপত্তায় আনসার নামানো হলেও ওই গুরুত্বপূর্ণ স্পটে কোনো আনসার সদস্যের দেখা মেলেনি বলে জানান তাঁরা।
আটক ও তদন্ত কমিটি: চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি জানান, পেট্রলবোমা ছোড়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের ২০ হাজার করে টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ধরিয়ে দিলে পুরস্কার: জগমোহনপুর এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রতিবাদ সভা হয়েছে। এতে বক্তব্য দেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, মহাসড়ক পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার। সভায় রেলপথমন্ত্রী ওই ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবির এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে দায়ী করেন। পুলিশ সুপার পেট্রলবোমা নিক্ষেপকারীদের ধরিয়ে দিলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। প্রতিবাদ সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়াও বিপুলসংখ্যক জনতা উপস্থিত ছিল।

Thursday, January 8, 2015

মনোলোভা শালবন বিহার by গাজীউল হক

(পর্যটকদের পদচারেণ মুখর কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধবিহার। অতি সম্প্রতি ছবিটি তুলেছেন এম সাদেক) কুমিল্লার কোটবাড়ীর ময়নামতি জাদুঘরের কাছেই শালবন বৌদ্ধবিহার। অষ্টম শতকে নির্মিত এই প্রত্নসম্পদের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে শত শত পর্যটক প্রতিদিন ভিড় করেন। শীতের এ মৌসুমে বেড়েছে দর্শনার্থী সমাগম। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানায়, শালবন বিহার থেকে গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২৫ লাখ ৯০ হাজার ১২০ টাকা। শালবন বিহার ছাড়াও কোটবাড়ী ও এর আশপাশের এলাকায় রয়েছে নানা প্রত্নসম্পদ। এসবের মধ্যে রূপবান মুড়া, কোটালিমুড়া, ইটাখলা মুড়া, আনন্দবিহার, ভোজবিহার, রানির বাংলো প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কুমিল্লা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শালবন বৌদ্ধবিহারের আয়তন ৩৭ একর। অমূল্য প্রত্নসম্পদে সমৃদ্ধ স্থানটি আগে শালবন রাজার বাড়ি নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু সেখানে ১৯৫৫ সালে খননের পর ৫৫০ ফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত একটি বৌদ্ধবিহারের ভূমি নকশা উন্মোচিত হয়। এতে ১১৫টি ভিক্ষুকক্ষ রয়েছে। লালমাই পাহাড় এলাকায় বিহারটির আশপাশে একসময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল। তাই বিহারটির নাম দেওয়া হয় শালবন বিহার। শালবন বিহারের মধ্যভাগে একটি মন্দির ও উত্তর বাহুর মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে নান্দনিক ও কারুকার্যময় প্রবেশ তোরণ। খননে প্রাপ্ত একটি পোড়ামাটির নিদর্শন থেকে জানা যায়, দেব বংশের চতুর্থ রাজা শ্রী ভবদেব খ্রিষ্টীয় আট শতকে এ বিহার নির্মাণ করেন। তখন বিহারটির নাম ছিল ভবদেব মহাবিহার। এ বিহার থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ প্রত্নসম্পদ ময়নামতি জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে।
পুরো বৌদ্ধবিহারের মধ্যে রয়েছে হরেক রকমের ফুল—কসমস, ডালিয়া, জিনিয়া, মৌচান্দা, সেলভিয়া, বোতাম, গোলাপ, সিলভিয়া, কেলানডোলা ইত্যাদি। বছরজুড়ে ঋতুভিত্তিক নানা প্রজাতির ফুলের গাছও লাগানো হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রত্নসম্পদে ভরপুর কোটবাড়ী এলাকার শালবন বৌদ্ধবিহারের প্রথম খননকাজ ১৯৫৫ সালে শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত খনন করে শালবন বৌদ্ধবিহারের মূল মন্দিরকে ঘিরে চার পাশে ছোট ছোট নয়টি মন্দির ও ছয়টি স্তূপ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মূল মন্দিরের বাইরে আরও দুটি মন্দির ও চারটি স্তূপ আবিষ্কৃত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর থেকে মূল বৌদ্ধবিহারের (মন্দিরের) উত্তর-পূর্ব কোণে পাঁচ বর্গমিটার আয়তনের ২১টি বর্গাকৃতি স্থানে খননকাজ শুরু করা হয়। গত ৩০ নভেম্বর সেখানকার একটি স্থানে ইট ও কাদামাটির তৈরি কূপের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন গোলাকার কূপটির ব্যাসার্ধ ১১ ফুট চার ইঞ্চি। ৩১ জানুয়ারি খননকাজ চলবে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কুমিল্লার কাস্টোডিয়ান আহমেদ আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, শালবন বৌদ্ধবিহার দেখতে চলতি অর্থবছরের (২০১৪-২০১৫) জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ জন দেশি এবং ৬৭০ জন বিদেশি পর্যটক আসেন। এসব পর্যটকের কাছ থেকে টিকিট বিক্রি বাবদ ৩৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪২০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশনা বিক্রি ও গাড়ি পার্কিং বাবদ আরও ৭৭ হাজার ৫২০ টাকা আয় হয়েছে। এতে দেশি পর্যটকদের প্রবেশ ফি জনপ্রতি ২০ টাকা এবং সার্কভুক্ত আটটি দেশের পর্যটকদের জন্য ১০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের জন্য ২০০ টাকা হারে নির্ধারিত রয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, কুমিল্লার লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়কে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য প্রত্নসম্পদ। এসব প্রত্নসম্পদ পর্যটকদের এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের কথা জানান দিচ্ছে। প্রাচীনকাল থেকে কুমিল্লা অঞ্চল শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, চিত্রকলা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ।

Sunday, November 30, 2014

সংসদ এখন তাঁদের ঘর হয়ে গেছে -খালেদা জিয়া by গাজীউল হক

দেশে এখন এক ব্যক্তির শাসন চলছে। সংসদ এখন জন-প্রতিনিধিদের স্থান নয়, তাঁদের নিজেদের ঘর হয়ে গেছে।  গতকাল শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ২০-দলীয় জোটের জনসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সামনের আন্দোলনে আমরা সামনে থাকব। তাই গুলি করে গদি রক্ষা হবে না। আমাদের আন্দোলন গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়।’
জনসভায় খালেদা জিয়া বরাবরের মতো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচন কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, র্যাব, দমন-পীড়নসহ নানা বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এক ব্যক্তির নির্দেশে সমস্ত দুর্নীতি থেকে সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের মুক্তি দিয়ে দুদক এখন দায়মুক্তি কমিশন হয়েছে। দুদকের নাম এখন দায়মুক্তি কমিশন।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির নেত্রী বলেন, কেউ নির্বাচনে যায়নি। কিন্তু তাদের আজ্ঞাবহ পা-চাটা নির্বাচন কমিশন দুই দিন পর্যন্ত ভোটের হিসাব মেলাতে পারেনি। তিন দিন পর বলছে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অথচ ভোট পড়েছে মাত্র পাঁচ শতাংশ। যেখানে আওয়ামী লীগের লোকজনই ভোটকেন্দ্রে যায়নি, সেখানে এত ভোট কোথা থেকে এল। ভোটকেন্দ্রে কুকুর-ছাগল শুয়ে ছিল। ১৫৪টি সিটে কোনো নির্বাচন হয়নি। এঁরা অনির্বাচিত। এ পার্লামেন্ট সম্পূর্ণ অবৈধ। এই পার্লামেন্ট থেকে কোনো আইন পাস করার ক্ষমতা তাদের নেই।
এইচ টি ইমামের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, এইচ টি ইমাম আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়ক ছিলেন। কীভাবে নির্বাচন ম্যানুপুলেট করেছেন, নিজেদের লোকদের বসিয়েছেন, ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার ঢুকিয়েছেন—সব বলে দিয়েছেন। এত বড় সত্য প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ ও এইচ টি ইমামের বিদায় নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এইচ টি ইমাম মোস্তাকের কেবিনেটের লোক ছিলেন। যত রকমের শয়তানি ও কুবুদ্ধি তাঁর মাথায়। তাই এইচ টি ইমামের পেছনে নামাজ হবে না। এই ইমামের পেছনে না থাকলেই ভালো হয়।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘জাসদের একজন নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল নয়। গণতন্ত্রের পক্ষের দল নয়। যারা গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল নয়, তাদের দিয়ে দেশের কোনো কল্যাণ হবে না। রণাঙ্গনের সব মুক্তিযোদ্ধা আমাদের সঙ্গে আছেন।’
তাঁর সরকারের আমলের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, এখন সারা দেশে উন্নয়ন নেই। উন্নয়নের নামে তারা টাকা বরাদ্দ করে লুটপাট করে নিজেদের পকেটে ভরে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, অর্থনীতিতে স্থবিরতা কাটছে না। কর্মসংস্থান কমেছে প্রতি মাসে ১৯ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ৮২ ভাগ। অর্থমন্ত্রী নিজেই নাখোশ। অর্থমন্ত্রীরও বলার কোনো ক্ষমতা নেই। কারণ ওই দলে (আওয়ামী লীগে) গণতন্ত্র নেই। এক ব্যক্তির শাসন ও শোষণ চলছে।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) নিজেদের মামলা বাদ দিয়ে আমাদের নামে নতুন নতুন মামলা দিচ্ছে। হাসিনার নামেও ১৫টি মামলা ছিল। এগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তার আমলে মিগ-২৯ কেনা হয়েছিল। সেটা ছিল পুরাতন। এটা জালিয়াতি করে কিনেছে। এ মামলাগুলোতে হাসিনার সাজা হতো।’ তিনি বলেন, জজ সাহেবদের হাত-পা বেঁধে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। হাসিনা যা বলবে তাই হবে। যে জজ সাহেব নিরপেক্ষ বিচার করবেন, তাঁদের চাকরি থেকে বহিষ্কার ও বিদায় করে দেওয়া হবে।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কঠোর সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এসব লীগদের কাজ হলো জমি-বাড়ি দখল করা, টেন্ডারবাজি ও ভর্তি বাণিজ্য করা। পুলিশ এগুলো দেখে না। তাদের ধরে না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধরে।’
র্যাবের প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘র্যাব আমরাই প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। সেই র্যাব হয়ে গেছে এখন খুনি। গুম, খুন তাদের কাজ। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় আওয়ামী লীগের গডফাদার, র্যাব ও পুলিশ জড়িত। আসল লোক এখনো পর্দার অন্তরালে। কর্নেল জিয়াকে না ধরা পর্যন্ত র্যাবের গুপ্ত হত্যা বন্ধ করা যাবে না। অবিলম্বে র্যাবকে বাতিল করতে হবে। র্যাব এখন যাকে ইচ্ছে তাকে তুলে নিয়ে যায়। মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে। র্যাব এখন মানুষ খুন করা বাহিনী। তারা এখন ভাড়া খাটে। জিয়াকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। র্যাব লাকসামের হিরু ও পারভেজকে তুলে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের বহু লোককে খুন করেছে।’
সরকারদলীয় সাংসদ আবদুর রহমান ওরফে বদির প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বদি ড্রাগের ব্যবসা করছে। সেই এমপিকে বেল দেওয়া হলো। একজন চোরাকারবারিকে বেল দেওয়া হলো। অথচ আমাদের দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বেল দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের গাড়ি পোড়ানোর মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে।’
বিডিআর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, পিলখানার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী। পিলখানায় রাতের ডিনারে শেখ হাসিনা যাননি। এই প্রথমবারের মতো হাসিনা যাননি। তারা ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করেছিল। পত্রিকায় এসেছে, মইন (জেনারেল মইন উ আহমেদ) স্বীকার করেছেন তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাননি। তাই তিনি সেখানে লোক পাঠাতে পারেননি। হাসিনা তাঁর অফিসে মইনকে বসিয়ে রেখেছিলেন। তাই তিনি লোক পাঠাতে পারেননি। যদি আর্মি পিলখানায় যেত, সব অফিসারকে উদ্ধার করা যেত।
বিদ্যুৎ, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির চক্রান্ত প্রতিরোধ, গুম, খুন, গুপ্ত হত্যা বন্ধ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে গণসংযোগের অংশ হিসেবে এই জনসভা ডাকা হয়।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরী। বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ, জাতীয় পার্টির সভাপতি আন্দালিব রহমান, কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক, সাবেক সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ প্রমুখ।
এর আগে জনসভায় আসার পথে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাগমারা এলাকায় নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ৩০টি বাস ভাঙচুর করা হয়।

Friday, December 28, 2012

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড- তিন বছরে জিপিএ-৫ বেড়েছে ছয় গুণ by গাজীউল হক

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হার বেড়েছে সামান্য। এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে।

Saturday, December 22, 2012

চারদিক- কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সুবর্ণজয়ন্তী by গাজীউল হক

১৯৬২ সালের কথা। তখন ছোট্ট ভাড়া করা ঘরে শিক্ষা বোর্ডের যাত্রা শুরু। ছয় বছর পর নিজ আঙিনায় নিজস্ব ভবন তৈরি হয়। এরপর একে একে গড়ে ওঠে নতুন ভবন ও স্থাপনা। নগরের কান্দিরপাড়ে ৫ দশমিক ৫ একর জায়গার মনোরম আর দৃষ্টিনন্দন এলাকায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান।

Monday, November 5, 2012

শ্রদ্ধাঞ্জলি- মৃত্যুঞ্জয়ী স্বপ্না রায় by গাজীউল হক

শ্রেণীকক্ষে তিনি যখন প্রবেশ করতেন, সব মুগ্ধতা তাঁকে ঘিরেই থাকত আমাদের। তিনি কক্ষে ঢোকার পর যেন আলো এসে পড়ত আমাদের চোখে। তাঁর আলোর বিচ্ছুরণে আমরা হতাম আলোকিত।

Saturday, September 8, 2012

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা- দুই নেতার দ্বন্দ্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে অস্থিরতা by গাজীউল হক

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দুই নেতার অনুসারী হয়ে কাজ করছেন। ওই দুই নেতা হলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ আমিন উর রশিদ এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল হক।

Saturday, August 25, 2012

শ নি বা রে র বিশেষ প্রতিবেদন- চা বেচে বিদ্যালয় by গাজীউল হক

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন! হাঁটেন লাঠিতে ভর দিয়ে। বিদ্যালয়ের বারান্দা ধরে এগোচ্ছেন। বাঁ হাতে চায়ের পেয়ালা। চকিতে নজর বুলিয়ে ঢুকে পড়েন একটি শ্রেণীকক্ষে। তাঁকে দেখে শিক্ষক খানিকটা অপ্রস্তুত; চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান তিনি। ইতস্তত করে বলেন, ‘আপনি আবার কষ্ট করে...।’

Saturday, August 11, 2012

স্মরণ- কিংবদন্তি অধ্যাপক আবদুল ওহাব by গাজীউল হক

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন তাঁর প্রিয় কবি। কবির রূপসী বাংলাকে ভালোবেসে পত্রিকার নামও দিয়েছেন রূপসী বাংলা। ওই পত্রিকা এখন শহর কুমিল্লার অন্যতম প্রধান ও প্রাচীন দৈনিক। সেই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যাপক আবদুল ওহাব। ৪ আগস্ট ছিল তাঁর নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের ৪ আগস্ট প্রথম প্রহরে তিনি গত হন।

Friday, June 15, 2012

চারদিক-ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি by গাজীউল হক

একপাশে হাসপাতালের বর্জ্য, অন্যপাশে নালার পূতিগন্ধযুক্ত কালো পানি। এ দুইয়ের মাঝখানে চৌচালা টিনশেডের একটি বাড়ি। বাড়ির ঘরের ভেতরের প্রথমেই বৈঠকখানা। সেটা পেরিয়ে ভেতরে আরও একটি কক্ষ। তার লাগোয়া আরও ছোট-বড় তিনটি কক্ষ। একেবারেই জরাজীর্ণ। টিনের চালও ফুটো। আর সম্মুখভাগে রয়েছে চায়ের দোকান।

Friday, May 4, 2012

চলতি পথে-লালমাই পাহাড়ে একদিন by গাজীউল হক

বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে,
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।

Thursday, April 19, 2012

চারদিক-শুদ্ধ জাতীয় সংগীত নিয়ে কর্মশালা by গাজীউল হক

আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভুলভাবে, ভুল উচ্চারণে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এ নিয়ে সব মহলেই হতাশার কথা শোনা যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কুমিল্লায় আয়োজন করা হয় এক কর্মশালার। কুমিল্লার সামাজিক সংগঠন অধিকার ফাউন্ডেশন ওই কর্মশালার আয়োজন করে।

Thursday, March 29, 2012

চারদিক-মুক্তিযোদ্ধা চত্বর ঘিরে পুনর্মিলনী by গাজীউল হক

‘সময়টা ছিল ১৯৫৮ সালের আগস্ট মাস। তখন বাবার কর্মসূত্রে কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি হই। ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এরপর আর স্কুলে আসা হয়নি। ৫১ বছর পর নিজ বিদ্যালয়ে এসে ভালো লাগছে। মনে পড়ছে সহপাঠী-বন্ধু মফিজের কথা।

Monday, March 26, 2012

এই দিনে-আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস by গাজীউল হক

চারদিকে সবুজের সমারোহ। দৃষ্টিনন্দন লালমাটির পাহাড়। সুউচ্চ টিলা। প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন। শালবনে ঘেরা প্রকৃতির অদ্ভুত ভালোলাগা আর শান্ত-সরল মানুষের যাপিত জীবন। নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির। লালমাই পাহাড়ের বুকে এখন ধবধবে সাদা রঙের সুউচ্চ দালান। প্রকৃতির এমন মনোলোভা লালমাই পাহাড়েই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

Sunday, March 25, 2012

শ্রদ্ধাঞ্জলি-নজরুলময় কুমিল্লা by গাজীউল হক

শিক্ষা-সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লার সঙ্গে কবি নজরুলের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। নজরুল আর কুমিল্লা যেন এক সূত্রে গাঁথা। এখানকার স্নিগ্ধ, শ্যামল পরিবেশে কবি তারুণ্যকে জয় করেছেন। কবির প্রেম, প্রণয়, লুকোচুরি, পরিণয়, কাব্যচর্চা আর সাহিত্যের বর্ণিল অধ্যায়জুড়ে জড়িয়ে আছে কুমিল্লার নাম। রাজপথের আন্দোলন,

Thursday, March 22, 2012

চারদিক-মুক্তিযোদ্ধা চত্বর ঘিরে পুনর্মিলনী by গাজীউল হক

‘সময়টা ছিল ১৯৫৮ সালের আগস্ট মাস। তখন বাবার কর্মসূত্রে কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি হই। ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এরপর আর স্কুলে আসা হয়নি। ৫১ বছর পর নিজ বিদ্যালয়ে এসে ভালো লাগছে। মনে পড়ছে সহপাঠী-বন্ধু মফিজের কথা।

Tuesday, February 21, 2012

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-আমতলা by গাজীউল হক

২০ তারিখ তিনটার দিকে মধুর রেস্তোরাঁয় বসে আমরা যখন স্বেচ্ছাসেবকের তালিকা তৈরি করছিলাম, তখন মাইকযোগে পূর্ববঙ্গ সরকারের তরফ থেকে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা করা হয়। ১৪৪ ধারা জারি করার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা খুব উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

Friday, February 3, 2012

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন-কুমিল্লাবাসী সৎ ও যোগ্য মেয়র চায় by গাজীউল হক

২০১২ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নবগঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আপিল নিষ্পত্তির শুনানি শেষে গেজেট প্রকাশ হয়ে গেছে। ভোটার তালিকাও তৈরি আছে। নির্বাচন যে দরজায় কড়া নাড়ছে, শহরের বিভিন্ন অলিগলিসহ প্রধান সড়কগুলোতে চোখ রাখলেই তা টের পাওয়া যাচ্ছে।